Brand logo light
মতামত

সাইবার সুরক্ষা আইন: গুজব ঠেকানো নাকি কণ্ঠরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
সাইবার সুরক্ষা আইন..
সাইবার সুরক্ষা আইন..

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও এবং মানহানিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে সরকার। সরকারের যুক্তি, ভুয়া তথ্য এখন শুধু ব্যক্তির সুনামহানি করছে না—কখনও কখনও তা সামাজিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনআস্থার সংকটও তৈরি করছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। গুজব দমনের নামে আইনটি ভিন্নমত, রাজনৈতিক সমালোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তির্যক মন্তব্য, কিংবা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে কিনা।

গুজব প্রতিরোধ বা সাইবার অপরাধ ঠেকাতে করা এই আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, এরপর সাইবার সুরক্ষা আইন—নাম পাল্টেছে একাধিকবার। কিছু ধারা বাতিল হয়েছে, পুরোনো কয়েকটি অপরাধে দায়মুক্তির কথাও এসেছে। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ—আগের বিতর্কিত ধারাগুলোর অনেক বিষয়ই নতুন আইনের অন্য ধারায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। ফলে আইন বদলালেও ভয় পুরোপুরি কাটছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুজব, অপপ্রচার, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার কথাও আলোচনায় এসেছে। সরকারের ভাষ্য, ডিজিটাল পরিসরকে নিরাপদ রাখতে হলে অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতেই হবে।       

তবে আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আছে সচেতন মহলে। কারণ বাংলাদেশে অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলার অসংখ্য নজির রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলার চূড়ান্ত বিচার হওয়ার আগেই গ্রেফতার, রিমান্ড, কারাবাস ও সামাজিক হয়রানি অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে নতুন আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে— গুজব বা অপরাধ দমন হবে, নাকি মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সংকুচিত হবে?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা  বলেন, ‘‘গুজব, পরিকল্পিত অপতথ্য এবং এআইভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দমনে কার্যকর আইন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, আইনটি যেন ভিন্নমত, রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়।’’

 

তার মতে, এ জন্য আইনে অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া, স্বাধীন বিচারিক তদারকি এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও কনটেন্ট অপসারণ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো, আপিলের সুযোগ রাখা এবং নিয়মিত স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনআস্থা বাড়বে।

তিনি বলেন, ‘‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত—ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। তবে একইসঙ্গে সংবিধানসম্মত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষা দিতে হবে। এই দুইয়ের ভারসাম্যই আধুনিক, মানবাধিকার-সম্মত ও জবাবদিহিমূলক সাইবার আইন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।’’

সাইবার সুরক্ষা আইন ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে আছে কয়েকটি ধারা। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৮ ধারার বিষয় নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রায় একইভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বরং নতুনভাবে আরও একটি উপধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, “বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে” এ ধরনের বিস্তৃত ভাষা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি আরও বাড়াতে পারে।

২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ ও প্রকাশের বিষয় ছিল। নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে একই ধরনের অপরাধের বিষয় ২৩ ধারায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে নতুন আইনের ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড আলাদাভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেইলিং ঠেকাতে এ ধরনের বিধান জরুরি হলেও ‘মানহানিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ বা ‘ভীতি প্রদর্শক’ কনটেন্টের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে— তা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ দমনের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে ২৬ নম্বর ধারাটি। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এবং ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৮ ধারার সংশোধিত রূপ হিসেবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৬ ধারা এসেছে। আগের আইনে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত’ করার অভিযোগে মামলা করার সুযোগ ছিল। নতুন আইনে ‘ধর্মীয় অনুভূতি’ শব্দটি না থাকলেও ‘ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশ’ সংক্রান্ত অপরাধের বিধান রাখা হয়েছে। এই ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শব্দ পাল্টালেও ঝুঁকির জায়গা রয়ে গেছে। কারণ কোন বক্তব্য ঘৃণা, কোনটি তীব্র সমালোচনা, কোনটি রাজনৈতিক মতামত আর কোনটি সহিংসতায় উসকানি—এসবের স্পষ্ট সীমারেখা না থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ থেকেই যায়। বিশেষ করে ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, রাষ্ট্র, সরকার বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সমালোচনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যাখ্যাই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়বে।

আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৮ ধারার কথা বলেছে। এই ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সাংবাদিক, ব্লগার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার মামলা করতে পারবে। একইসঙ্গে ১২ ধারায় ২৩ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যার চেয়ারম্যান হবেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের বিধান থাকলেই কি অপব্যবহার বন্ধ হবে? কারণ বাস্তবে একটি মামলার পরপরই গ্রেফতার, ডিভাইস জব্দ, সামাজিক অপবাদ, পেশাগত ক্ষতি এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া একজন নাগরিককে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই শুধু পরবর্তী প্রতিকার নয়, মামলা গ্রহণের আগেই প্রাথমিক যাচাই, স্বাধীন তদন্ত তদারকি, বিচারিক অনুমোদন এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত থাকা জরুরি।

তারা বলছেন, গুজব দমনে সরকার চাইলে কয়েকটি নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রথমত, ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘ভুয়া তথ্য’, ‘মানহানিকর কনটেন্ট’ ও ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’— প্রতিটি শব্দের আইনগত সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা, তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, মতামত, ব্যঙ্গ, কার্টুন ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে অপরাধের বাইরে রাখার সুরক্ষা ধারা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো এবং দ্রুত আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, কতটি কনটেন্ট সরানো হলো, কতটি মামলা হলো, কতজন গ্রেফতার হলো এবং কতটি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে।

গুজব প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে পুলিশ কীভাবে ভূমিকা রাখে—এমন প্রশ্নে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আইনে বিভিন্ন ধারা রয়েছে। সিআইডির সার্বক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে যেসব অভিযোগ আসে, সেগুলো আগে যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর আইন অনুযায়ী যেসব বিষয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে, সেসব ক্ষেত্রেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আইনের বাইরে গিয়ে বা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।”

গত ৮ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণের পাশাপাশি এসবের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে। আইনে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে। বর্তমানে আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে বিটিআরসি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও মেটা দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না বলে জানান মন্ত্রী।

সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা, বিটিআরসি ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। গত ২৭ জুন সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইনের বিল উত্থাপন করা হয়। পরে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিলটি সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া, কিন্তু একইসঙ্গে সংবিধানসম্মত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমানভাবে সুরক্ষা দেওয়া। কারণ গুজব যেমন সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই ভয়ভীতির পরিবেশও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আইন যদি শুধু অপরাধীকে ঠেকায়, সেটি সুরক্ষা। কিন্তু আইন যদি প্রশ্নকারী নাগরিক, সাংবাদিক বা সমালোচককে চুপ করিয়ে দেয়, সেটি সুরক্ষা নয়—সেটি হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণ বা কণ্ঠরোধ।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “গুজব আর অসত্য তথ্য—এ দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। গুজব হলো পরিকল্পিতভাবে কোনও কথা রটিয়ে দেওয়া, যাতে যিনি বা যে গোষ্ঠী সেটি রটাচ্ছেন, তাদের কোনও লাভ হয়। আর অসত্য তথ্য হলো— কেউ হয়তো বিষয়টি জানতেন না, কিন্তু শোনা কথা হিসেবে তা প্রচার করেছেন।

‘‘সুতরাং, গুজব ও অসত্য তথ্যের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকার বলছে গুজবের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু গুজব আর অসত্য তথ্যের পার্থক্য আগে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে গুজবের অভিযোগে মানুষকে এমনভাবে হয়রানি করা হবে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।’’

তিনি বলেন, ‘‘সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রেও যৌক্তিক সমালোচনা ও অযৌক্তিক সমালোচনার পার্থক্য বুঝতে হবে। আমি যদি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিকভাবে সমালোচনা করি, তাহলে সেটির জন্য আমাকে আইনের মুখোমুখি করা হলে, তা হবে আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। কিন্তু কেউ যদি আজগুবি কথাবার্তা বলে সরকারকে হেনস্থা করতে চায়, কিংবা কোনও গোষ্ঠীকে বিপদগ্রস্ত করতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।”

 

স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা কেন জরুরি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজব দমনে কার্যকর আইন প্রয়োজন হলেও কিছু নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘ভুয়া তথ্য’, ‘মানহানিকর কনটেন্ট’ ও ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’-এর স্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ;

  • জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা, তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, মতামত, ব্যঙ্গ, কার্টুন ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে অপরাধের বাইরে রাখার সুরক্ষা ধারা;

  • কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো এবং দ্রুত আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা;

  • কতটি কনটেন্ট সরানো হলো, কতটি মামলা হলো, কতজন গ্রেফতার হলো এবং কতটি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা।

ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

গুজব ও অপতথ্য সমাজের জন্য ক্ষতিকর—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে। তবে একইসঙ্গে ভয়ভীতির পরিবেশও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আইন যদি প্রকৃত অপরাধীকে ঠেকায়, সেটি সুরক্ষা; কিন্তু আইন যদি প্রশ্নকারী নাগরিক, সাংবাদিক বা সমালোচককে চুপ করিয়ে দেয়, তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণ বা কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

সুতরাং বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—ভুয়া তথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তা এবং সংবিধানসম্মত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

মতামত

View more
সাইবার সুরক্ষা আইন..
সাইবার সুরক্ষা আইন: গুজব ঠেকানো নাকি কণ্ঠরোধ

বাংলা ট্রিবিউন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও এবং মানহানিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাইবার আইনে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে সরকার। সরকারের যুক্তি, ভুয়া তথ্য এখন শুধু ব্যক্তির সুনামহানি করছে না—কখনও কখনও তা সামাজিক অস্থিরতা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জনআস্থার সংকটও তৈরি করছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। গুজব দমনের নামে আইনটি ভিন্নমত, রাজনৈতিক সমালোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তির্যক মন্তব্য, কিংবা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে কিনা। গুজব প্রতিরোধ বা সাইবার অপরাধ ঠেকাতে করা এই আইন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন নয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থেকে সাইবার নিরাপত্তা আইন, এরপর সাইবার সুরক্ষা আইন—নাম পাল্টেছে একাধিকবার। কিছু ধারা বাতিল হয়েছে, পুরোনো কয়েকটি অপরাধে দায়মুক্তির কথাও এসেছে। কিন্তু সাংবাদিক, আইনজীবী ও নাগরিক অধিকারকর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ—আগের বিতর্কিত ধারাগুলোর অনেক বিষয়ই নতুন আইনের অন্য ধারায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। ফলে আইন বদলালেও ভয় পুরোপুরি কাটছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুজব, অপপ্রচার, মানহানিকর কনটেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিও ঠেকাতে সাইবার সুরক্ষা আইন আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান যুক্ত করার কথাও আলোচনায় এসেছে। সরকারের ভাষ্য, ডিজিটাল পরিসরকে নিরাপদ রাখতে হলে অনলাইন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতেই হবে।        তবে আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ আছে সচেতন মহলে। কারণ বাংলাদেশে অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে মামলার অসংখ্য নজির রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলার চূড়ান্ত বিচার হওয়ার আগেই গ্রেফতার, রিমান্ড, কারাবাস ও সামাজিক হয়রানি অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে নতুন আইন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে— গুজব বা অপরাধ দমন হবে, নাকি মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সংকুচিত হবে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা  বলেন, ‘‘গুজব, পরিকল্পিত অপতথ্য এবং এআইভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট দমনে কার্যকর আইন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, আইনটি যেন ভিন্নমত, রাজনৈতিক সমালোচনা বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়।’’   তার মতে, এ জন্য আইনে অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া, স্বাধীন বিচারিক তদারকি এবং প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। কোনও কনটেন্ট অপসারণ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো, আপিলের সুযোগ রাখা এবং নিয়মিত স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে আইনের প্রয়োগ নিয়ে জনআস্থা বাড়বে। তিনি বলেন, ‘‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত—ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। তবে একইসঙ্গে সংবিধানসম্মত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সুরক্ষা দিতে হবে। এই দুইয়ের ভারসাম্যই আধুনিক, মানবাধিকার-সম্মত ও জবাবদিহিমূলক সাইবার আইন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।’’ সাইবার সুরক্ষা আইন ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে আছে কয়েকটি ধারা। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৮ ধারার বিষয় নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রায় একইভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বরং নতুনভাবে আরও একটি উপধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, “বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে” এ ধরনের বিস্তৃত ভাষা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিধি আরও বাড়াতে পারে। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ ও প্রকাশের বিষয় ছিল। নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে একই ধরনের অপরাধের বিষয় ২৩ ধারায় প্রতিস্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে নতুন আইনের ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও দণ্ড আলাদাভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেইলিং ঠেকাতে এ ধরনের বিধান জরুরি হলেও ‘মানহানিকর’, ‘আক্রমণাত্মক’ বা ‘ভীতি প্রদর্শক’ কনটেন্টের ব্যাখ্যা অস্পষ্ট থাকলে— তা রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষ দমনের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে ২৬ নম্বর ধারাটি। ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এবং ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’-এর ২৮ ধারার সংশোধিত রূপ হিসেবে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৬ ধারা এসেছে। আগের আইনে ‘ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত’ করার অভিযোগে মামলা করার সুযোগ ছিল। নতুন আইনে ‘ধর্মীয় অনুভূতি’ শব্দটি না থাকলেও ‘ধর্মীয় বা জাতিগত বিষয়ে সহিংসতা, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রকাশ’ সংক্রান্ত অপরাধের বিধান রাখা হয়েছে। এই ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শব্দ পাল্টালেও ঝুঁকির জায়গা রয়ে গেছে। কারণ কোন বক্তব্য ঘৃণা, কোনটি তীব্র সমালোচনা, কোনটি রাজনৈতিক মতামত আর কোনটি সহিংসতায় উসকানি—এসবের স্পষ্ট সীমারেখা না থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ থেকেই যায়। বিশেষ করে ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, রাষ্ট্র, সরকার বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সমালোচনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যাখ্যাই যদি একমাত্র মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়বে। আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে সরকার জাতীয় সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর ২৮ ধারার কথা বলেছে। এই ধারায় মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়েরকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সাংবাদিক, ব্লগার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার মামলা করতে পারবে। একইসঙ্গে ১২ ধারায় ২৩ সদস্যের জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যার চেয়ারম্যান হবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিথ্যা মামলা প্রতিরোধের বিধান থাকলেই কি অপব্যবহার বন্ধ হবে? কারণ বাস্তবে একটি মামলার পরপরই গ্রেফতার, ডিভাইস জব্দ, সামাজিক অপবাদ, পেশাগত ক্ষতি এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া একজন নাগরিককে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই শুধু পরবর্তী প্রতিকার নয়, মামলা গ্রহণের আগেই প্রাথমিক যাচাই, স্বাধীন তদন্ত তদারকি, বিচারিক অনুমোদন এবং গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত থাকা জরুরি। তারা বলছেন, গুজব দমনে সরকার চাইলে কয়েকটি নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রথমত, ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘ভুয়া তথ্য’, ‘মানহানিকর কনটেন্ট’ ও ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’— প্রতিটি শব্দের আইনগত সংজ্ঞা স্পষ্ট করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা, তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, মতামত, ব্যঙ্গ, কার্টুন ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে অপরাধের বাইরে রাখার সুরক্ষা ধারা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো এবং দ্রুত আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, কতটি কনটেন্ট সরানো হলো, কতটি মামলা হলো, কতজন গ্রেফতার হলো এবং কতটি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। গুজব প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে পুলিশ কীভাবে ভূমিকা রাখে—এমন প্রশ্নে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি সানা শামিনুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আইনে বিভিন্ন ধারা রয়েছে। সিআইডির সার্বক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে যেসব অভিযোগ আসে, সেগুলো আগে যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর আইন অনুযায়ী যেসব বিষয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ আছে, সেসব ক্ষেত্রেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আইনের বাইরে গিয়ে বা যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।” গত ৮ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে গুজব, অপতথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণের পাশাপাশি এসবের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে। আইনে মেটাসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে। বর্তমানে আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে বিটিআরসি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধেও মেটা দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না বলে জানান মন্ত্রী। সংশোধনীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাইবার সুরক্ষা সংস্থা, বিটিআরসি ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে কনটেন্ট অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। গত ২৭ জুন সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইনের বিল উত্থাপন করা হয়। পরে ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিলটি সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হওয়া উচিত ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া, কিন্তু একইসঙ্গে সংবিধানসম্মত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমানভাবে সুরক্ষা দেওয়া। কারণ গুজব যেমন সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই ভয়ভীতির পরিবেশও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আইন যদি শুধু অপরাধীকে ঠেকায়, সেটি সুরক্ষা। কিন্তু আইন যদি প্রশ্নকারী নাগরিক, সাংবাদিক বা সমালোচককে চুপ করিয়ে দেয়, সেটি সুরক্ষা নয়—সেটি হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণ বা কণ্ঠরোধ। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, “গুজব আর অসত্য তথ্য—এ দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে। গুজব হলো পরিকল্পিতভাবে কোনও কথা রটিয়ে দেওয়া, যাতে যিনি বা যে গোষ্ঠী সেটি রটাচ্ছেন, তাদের কোনও লাভ হয়। আর অসত্য তথ্য হলো— কেউ হয়তো বিষয়টি জানতেন না, কিন্তু শোনা কথা হিসেবে তা প্রচার করেছেন। ‘‘সুতরাং, গুজব ও অসত্য তথ্যের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকার বলছে গুজবের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু গুজব আর অসত্য তথ্যের পার্থক্য আগে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে গুজবের অভিযোগে মানুষকে এমনভাবে হয়রানি করা হবে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকারের সমালোচনার ক্ষেত্রেও যৌক্তিক সমালোচনা ও অযৌক্তিক সমালোচনার পার্থক্য বুঝতে হবে। আমি যদি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিকভাবে সমালোচনা করি, তাহলে সেটির জন্য আমাকে আইনের মুখোমুখি করা হলে, তা হবে আমার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ। কিন্তু কেউ যদি আজগুবি কথাবার্তা বলে সরকারকে হেনস্থা করতে চায়, কিংবা কোনও গোষ্ঠীকে বিপদগ্রস্ত করতে চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।”   স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা কেন জরুরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজব দমনে কার্যকর আইন প্রয়োজন হলেও কিছু নীতিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। এর মধ্যে রয়েছে: ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘ভুয়া তথ্য’, ‘মানহানিকর কনটেন্ট’ ও ‘ঘৃণামূলক বক্তব্য’-এর স্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ; জনস্বার্থে করা সাংবাদিকতা, তথ্যভিত্তিক সমালোচনা, মতামত, ব্যঙ্গ, কার্টুন ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে অপরাধের বাইরে রাখার সুরক্ষা ধারা; কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে লিখিত কারণ জানানো এবং দ্রুত আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা; কতটি কনটেন্ট সরানো হলো, কতটি মামলা হলো, কতজন গ্রেফতার হলো এবং কতটি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলো—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা। ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ গুজব ও অপতথ্য সমাজের জন্য ক্ষতিকর—এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে। তবে একইসঙ্গে ভয়ভীতির পরিবেশও গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। আইন যদি প্রকৃত অপরাধীকে ঠেকায়, সেটি সুরক্ষা; কিন্তু আইন যদি প্রশ্নকারী নাগরিক, সাংবাদিক বা সমালোচককে চুপ করিয়ে দেয়, তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণ বা কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—ভুয়া তথ্য ও অনলাইন অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তা এবং সংবিধানসম্মত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৯, ২০২৬ 0
বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ

বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ: বিকল্প উৎস তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

খাল খনন: জিয়া থেকে তারেক

ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা

মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে শহীদ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা

মেঘনা গুহ ঠাকুরতা:  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ—বাংলার ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। এই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে চালায় বর্বরোচিত গণহত্যা। তাদের লক্ষ্য ছিল বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া। কিন্তু সেই রক্তাক্ত রাতই উল্টো বাঙালিকে স্বাধীনতার পথে আরও দৃঢ় করে তোলে। সেই রাতের ভয়াবহতার শিকার হন অসংখ্য নিরীহ মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী। তাদেরই একজন ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক  জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা। সেদিন রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন তিনি। সেদিনের ভয়াবহতার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তার একমাত্র মেয়ে অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা। 🔥 গণহত্যার বিভীষিকা ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সেনারা হঠাৎ করেই হামলা চালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায়। জগন্নাথ হল, ইকবাল হল (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)-সহ বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞে শুধু ঢাকাতেই হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বন্ধ করে দেওয়া হয় টেলিফোন, রেডিও ও টেলিগ্রাম ব্যবস্থা। 🏠 ৩৪ নম্বর ভবনের সেই রাত অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা থাকতেন শহীদ মিনার আবাসিক এলাকার ৩৪ নম্বর ভবনে। তার মেয়ে মেঘনা গুহ ঠাকুরতা সেই রাতের স্মৃতি তুলে ধরেন। তার ভাষায়, ২৫ মার্চ রাত প্রায় ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাসায় হানা দেয়। এক কর্মকর্তা ও দুই সৈনিক এসে জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতাকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে শিক্ষক মনিরুজ্জামান এবং তার সঙ্গে থাকা তিনজন তরুণকে টেনে-হিঁচড়ে এনে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। 💔 “আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে” মনিরুজ্জামানের স্ত্রী এসে মেঘনার মাকে জানান—“আপনার হাজবেন্ডকেও হয়তো মেরেছে।” আতঙ্কিত পরিবার দ্রুত বাইরে গিয়ে দেখতে পায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। মেঘনা জানান, সেনারা তার বাবার নাম ও ধর্ম জিজ্ঞেস করার পর গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘরে এনে রাখা হয়, কারণ তখন কারফিউ চলছিল। 🏥 মৃত্যুপুরীতে পরিণত ঢাকা মেডিক্যাল ২৭ মার্চ কারফিউ শিথিল হলে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। মেঘনার ভাষায়, হাসপাতালের করিডর, মেঝে—সব জায়গা লাশ ও আহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। চারদিকে রক্তের গন্ধ, আর্তনাদ আর মৃত্যুর মিছিল। চিকিৎসকরা জানান, তাকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। অবশেষে ৩০ মার্চ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 🕯️ ইতিহাসের এক অমোচনীয় ক্ষত ২৫ মার্চের সেই কালরাত শুধু একটি হত্যাযজ্ঞ নয়—এটি বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এক নির্মম অধ্যায়। এই রাতেই শুরু হয় দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা সহ অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ বাঙালির ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
জুলহাস আলম

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু শিক্ষক নন, অনেকের শিক্ষাগুরু

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

খালি হাতে ত্যাগীরা
নতুন মন্ত্রিসভা: কেন বাদ পড়লেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং সমালোচনা। কারণ, এই মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে এক বড় ধরনের প্রজন্মগত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং খালেদা জিয়ার শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা অনেক প্রবীণ নেতা মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং জোটের তরুণ নেতাদের ওপর আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু মন্ত্রিসভা গঠন নয়—এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নতুন মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তন তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৪৯। এর মধ্যে প্রায় ৪০ জনই নতুন মুখ। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মন্ত্রিসভার বৈশিষ্ট্য হলো— তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য জোটের কিছু নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি টেকনোক্র্যাট নিয়োগ প্রবীণদের আংশিক সাইডলাইন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা বিএনপির ঐতিহ্যগত নেতৃত্ব কাঠামোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। বাদ পড়া হেভিওয়েট নেতারা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের নাম মন্ত্রিসভায় না থাকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ড. আব্দুল মঈন খান এই তিনজনই অতীতে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এবং সেলিমা রহমানও মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রে এই নেতাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসনে এবং খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় দলকে সক্রিয় রাখতে তাদের ভূমিকা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে স্বীকৃত। উপদেষ্টা পদে ‘সমঝোতা’? তবে পুরোপুরি বাদ পড়েননি দলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা। একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, “দলের প্রবীণদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। উপদেষ্টা পদ দিয়ে সেই অসন্তোষ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” মঈন খানের প্রতিক্রিয়া মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়ার বিষয়টি দেখছেন দলের চেয়ারম্যান। এটা নিয়ে আমার মন্তব্য না করা ভালো।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংযত প্রতিক্রিয়া দলীয় শৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়। জোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভায় বিএনপির বাইরের কিছু রাজনৈতিক দল থেকেও নেতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ এই অন্তর্ভুক্তিকে অনেকেই জোট রাজনীতির নতুন বার্তা হিসেবে দেখছেন। যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের ক্ষোভ তবে সব জোটসঙ্গী সন্তুষ্ট নন। যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের অংশীদার কয়েকটি দলের নেতারা মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর নাম আলোচনায় থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমত এটি পুরোটাই বিএনপির সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের দুই-তিনজন থাকছেন। বিএনপি বাস্তবে যুগপৎ সঙ্গীদের বাদ দিয়েই হাঁটছে।” তিনি আরও বলেন, “কঠিন সময়ের সঙ্গীদের বাদ দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে। এর রাজনৈতিক অভিঘাত পরে বোঝা যাবে।” সবচেয়ে বড় চমক: খলিলুর রহমান এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে খলিলুর রহমানকে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপির ভেতরে অনেক নেতাকর্মী তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে দুটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক ছিল— বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা রোহিঙ্গা করিডোর প্রস্তাব তবুও এমপি না হয়েও টেকনোক্র্যাট কোটায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের ভেতরে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। যাদের কপাল খুলল না সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে আরও কয়েকজনের নাম মন্ত্রিসভায় আসতে পারে বলে আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন— মীর নাছির আলতাফ হোসেন চৌধুরী বরকত উল্লাহ বুলু লুৎফুজ্জামান বাবর আমান উল্লাহ আমান কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। এছাড়া দলের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় ছিল। তাকেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে গুঞ্জন ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি। নেতৃত্বের নতুন কৌশল? বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তারেক রহমান তার নিজের রাজনৈতিক কৌশল অনুযায়ী মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার এখতিয়ার।” তিনি আরও বলেন, “মর্নিং শোজ দ্য ডে—এখন দেখার বিষয় এই মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর হয়।” যারা অবস্থান ধরে রেখেছেন তবে সব প্রবীণ নেতা বাদ পড়েননি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সালাহউদ্দিন আহমদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন হাফিজ উদ্দিন খান এদের অন্তর্ভুক্তি দলীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই মন্ত্রিসভা তিনটি বার্তা দেয়। প্রথমত, বিএনপি নেতৃত্বে প্রজন্মগত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট ও জোট রাজনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার একটি প্রচেষ্টা থাকতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। প্রবীণ নেতাদের একটি বড় অংশ যদি নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন, তাহলে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সামনে কী হতে পারে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে এই মন্ত্রিসভার কার্যকারিতা। যদি সরকার সফলভাবে প্রশাসন পরিচালনা করতে পারে, তাহলে তারেক রহমানের এই ‘নতুন নেতৃত্বের পরীক্ষা’ সফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু যদি দলীয় অসন্তোষ বাড়ে, তাহলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একজন বিশ্লেষকের ভাষায়, “এই মন্ত্রিসভা শুধু সরকার গঠনের ঘটনা নয়, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখারও ইঙ্গিত।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
জ্বালানি সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: বাংলাদেশে কি সত্যিই জ্বালানি সংকট?

বিএনপি

বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী আছে

ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি

ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0