Brand logo light

বাংলাদেশ

বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬
বরিশালে ডিবি পুলিশের অভিযান,আটক ৬

 বরিশাল অফিস :    বরিশালে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মানব পাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল গত ১৮ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানার পোর্ট রোড এলাকার আবাসিক হোটেল ‘পপুলার’-এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. জাফর হোসেন (৩৫), মো. আল আমিন বেপারী (৩০), মো. শাওন সিকদার (২১), মোসা. সুমাইয়া ইসলাম (২২), মিঠুন দেবনাথ (২৮) এবং মোসা. রুনা আক্তার (২২)। পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে হোটেলের কাউন্টার ও বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় পতিতাবৃত্তি ও দেহ ব্যবসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও ভবনে গোয়েন্দা বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিএমপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজ
সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুস সালামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের হিজলা উপজেলার সদ্য সরকারিকৃত সরকারি হিজলা ডিগ্রি কলেজে প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কলেজটির অধ্যক্ষ প্রফেসর এইচ এম আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—তিনি কলেজের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে গ্রহণ করছেন। এতে সাধারণ শিক্ষকরা মতপ্রকাশে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একাধিক শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্র বলছে, কলেজ সরকারিকরণের পর একজন বিসিএস ক্যাডার অধ্যক্ষের নেতৃত্বে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটিতে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ বিভাজন, প্রশাসনিক গোপনীয়তা এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ।   ‘বন্ধের দিনে বাসায় বৈঠক’   অভিযোগ রয়েছে, কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অধ্যক্ষ তার বরিশালের বাসভবনে ছুটির দিনে কয়েকজন অশিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে চূড়ান্ত করেন। পরে সেসব সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, কোনো বিষয়ে আপত্তি তুলতে গেলে শিক্ষকদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) কম নম্বর দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ফলে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।   ‘শিক্ষক পরিষদ’ গঠনে প্রশ্ন   সম্প্রতি কলেজে শিক্ষক পরিষদের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, কমিটি গঠনের আগে কোনো গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নির্বাচন, মতামত গ্রহণ বা বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ১৭ মে ডাকা এক সভার শেষ পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুত একটি তালিকা থেকে শিক্ষক পরিষদের পদবী ও নাম ঘোষণা করা হয়। সভায় উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক জানান, কমিটি ঘোষণার আগে অধ্যক্ষ বক্তব্যে এসিআরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় উল্লেখ করে পরোক্ষভাবে সতর্কবার্তা দেন। অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রভাষক আরিফুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তাকে সবার সামনে থামিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে সভায় উপস্থিত শিক্ষকরা বিব্রত ও হতাশ হন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।   একই ব্যক্তিরা ‘নীতি নির্ধারণ’ ও শিক্ষক পরিষদে   অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজ পরিচালনার জন্য একটি ‘নীতি নির্ধারণ কমিটি’ও গোপনে গঠন করা হয়েছে। বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে এই তথ্য যে, ওই কমিটির সদস্যদের অনেকেই আবার শিক্ষক পরিষদের নেতৃত্বেও রয়েছেন। শিক্ষকদের একাংশ বলছেন, এতে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   কমিটিতে বিতর্কিত নিয়োগ নিয়ে আলোচনা   শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে প্রভাষক মো. বেলায়েত হোসেনকে। কলেজসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে প্রভাষক মো. লোকমান হোসেনকে, যাকে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিং ও সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।   ‘পুরোনো প্রভাবের পুনরুত্থান’ নিয়ে প্রশ্ন   ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও সরকারি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগের প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও স্থানীয়দের একটি অংশ। তাদের প্রশ্ন—যে আধিপত্য ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্ত করার দাবি উঠেছিল, তা কি আবারও নতুন রূপে ফিরে আসছে?   অধ্যক্ষের অতীত সংযোগ নিয়েও আলোচনা   প্রফেসর আবদুস সালাম এর আগে সরকারি বিএম কলেজ ও সরকারি হাতেম আলী কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিগত সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   উদ্বেগ শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে   শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের আশঙ্কা—প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তাহলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, এতে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে নিরুৎসাহিত হবেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ বাড়বে এবং অভিভাবকদের আস্থাও কমে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২০, ২০২৬ 0
ডাঃ আশীষ কুমার হালদার
বরিশালে ডাঃ আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যু,তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস : বরিশালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আশীষ কুমার হালদারের অবহেলায় ও ভুল চিকিৎসায় এক চিকিৎসক দম্পতির নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নবজাতকের বাবা বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের মেডিকেল অফিসার এবং মা একজন এমবিবিএস ডাক্তার। ২১ দিন বয়সের  নবজাতকের মৃত্যুর পর তার বাবা নিজের ফেসবুক  আইডিতে এই নির্মম অবহেলা জনিত মৃত্যুর বর্ননা তুলে ধরেন।এ ঘটনায় নেট দুনিয়া সহ বরিশালের সচেতন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দেখেই তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের হাসপাতাল স্টাফ বা কর্তৃপক্ষের কোন অবহেলা আছে কিনা সে বিষয়ে সঠিক তথ্য উদঘাটন ও ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতলের সিইও রিয়াজ হাসান। এদিকে পোস্টের শুরুতেই ডা. ইসতিয়াক অহমেদ রিফাত লিখেছেন, আমার ‘ইজান’ আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। বিনিময়ে আমাকে দেখিয়ে গেছে বরিশালে শিশু চিকিৎসার করুণ অবস্থা। তাছাড়া বেলভিউ হাসপাতালে তেমন কোন চিকিৎসা না পেলেও তারা ১লক্ষ ১১ হাজার টাকা বিল গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর তিনি পুরো ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে লিখেন, ২১ এপ্রিল রাত এগারটায় জরুরী ভিত্তিতে সিজারিয়ান এর মাধ্যমে মমতা হাসপাতালে আমার একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। গাইনি ম্যাম নিজেই ডা:আশিষ স্যারকে ডেলিভারির সময় বলে রাখেন। সিজার হলো। ইজান দুনিয়াতে আসলো। আশীষ স্যার প্রাইমারি রিসাসিটেশন করলেন। ইজান হালকা করে কাদলো। আশিষ স্যার প্রেসক্রিপশন করলেন আর বললেন শেবাচিম অথবা বেলভিউ হাসপাতালে নিতে পারেন।  সিজারের এক ঘন্টা পর রাত বারোটার দিকে বেলভিউতে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে আরেক ক্যাচাল। ডা:আশিষ স্যার তার প্রেসক্রিপশনে নরমাল বেড বা ইনকিউবেটরের কিছুই লিখেন নাই। আর অত রাতে স্যারকে কল দেয়া যাবে না। তাই তারা জেনারেল কেবিনে দিল। শুধু একটু অক্সিজেন লাগিয়ে দিল। আর ডাক্তার পরিচয় দেবার পরেও তাদের জঘন্য ব্যবহারের কথা আর নাই বলি। সারা রাতে একবার তারা খোজ নিতে আসলো না। হঠাত সন্ধ্যার পরে ইজান অসুস্থ্য হয়ে যায়। স্যাচুরেশন ফল করে। আবার অক্সিজেন লাগানো হলো। এরপরো অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে আশীষ স্যারকে ডিউটি ডাক্তার কল দেয়। সে রুডলি বলে শেবাচিম বা ঢাকা নিতে। এতটুকু অসুস্থ্য একটা বাচ্চাকে ঢাকা নেয়া পসিবল? আবার বাচ্চাটি বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর ডিউটি ডাক্তার কল দিল। আমি কল দিলাম। আমি কল দিয়ে পা ধরছি। তাও আশিষ স্যার আসবেন না। শেষে শেবাচিম ড্যাবের প্রেসিডেন্ট ডা:নজরুল স্যার কল দেয়াতে তিনি আসেন এবং চিকিৎসা দেন। দিন দিন বাচ্চাটা ফ্লপি হয়ে যাচ্ছে সেটা আর খেয়াল করলেন না। আমাদেরও কিছু বলেন না। কথা একটাই,উন্নতি নাই। এর বাইরে কোন কাউন্সিলিং নাই। এরপর আমরা ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিলাম। বেলভিউর রিসিপশনে বললাম আমি ডাক্তার,আমার স্ত্রী ডাক্তার। তারপরও খুবই বাজে একটা মন্তব্য পাইলাম। একদিন দুপুরে দুর্ভাগ্যক্রমে আমার বউ ডা.নুসাইবা এবং তার এক মেয়ে কাজিন হাসপাতালে ছিল। ইজানকে জরুরী একটা টেস্ট করতে দেয়। আমার স্ত্রী নুসাইবা বেলভিউর কাউন্টারে গিয়ে ডাক্তার এবং মা পরিচয় দেবার পরেও বাজে বিহাভের স্বীকার হয়। পোস্টের শেষে মন্তব্যে তিনি লিখেন, বেলভিউ কর্তৃপক্ষ ডাক্তার কাপলের সাথে যদি এরকমটা করতে পারে, তাহলে অন্যান্য মানুষের সাথে কি করবে? এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার। তার শশুর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিশি ভোটের একাধিকবার এমপি। স্বাচিপ এর রাজনীতির সাথে জড়িত ডা. আশীষ। এক সময় তার কলমের ধারে অনেক নীরিহ পেশাদার চিকিৎসককে হয়রানী হতে হয়েছে। বরিশাল সদররোড বেলভিউতে একটি এনআইসিইউ গড়ে তুলেছেন। শুধু বিল নেওয়ার বেলায় সেটি এনআইসিইউ হলেও সেখানে আসলে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ব্যবস্থাপনা নেই। মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন ডা. আশীষ। এর পূর্বেও একাধিক বাচ্চাকে ভুল চিকিৎসা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে ডা. আশীষের বিরূদ্ধে। এ বিষয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাচ্চাটি আমার আন্ডারে বেলভিউতে ভর্তি ছিল। সাধ্যমত চিকিৎসা প্রদানের চেষ্টা করেছি, আমি আমার রাউন্ড ফি পর্যন্ত নেইনি। তাছাড়া কোন ডাক্তার ইচ্ছা করে কোন রোগীগে ভুল চিকিৎসা করেন না। বেলভিউ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিয়াজ হাসান বলেন, এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আসল তথ্য পাবো। যেহেতু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তদন্তানাধীন তাই এর বেশি এখন বলা সম্ভব নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারের আছে হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।
শাহ আলী মাজারে হামলা: মাদকবিরোধী অভিযান নাকি সম্পদ ও আধিপত্যের লড়াই?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মাজারকেন্দ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পুরোনো বাস্তবতা। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ছিল মূলত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের বহুমাত্রিক সংঘাত। আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে অর্থনৈতিক বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে মাজার শুধু ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এসব স্থান সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের অংশ। মাজারপন্থিদের বিশ্বাস, শরিয়তের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযম আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু মাজারে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব বহু সময় সহিংস রূপও নিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাজারের প্রভাব দৃশ্যমান। বহু রাজনৈতিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে মাজার জিয়ারত করেন। ফলে মাজারকে ঘিরে বিরোধ এখন আর কেবল ধর্মীয় নয়; বরং তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ ও খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযানের খবর পেলেই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মাজার এলাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবৈধ অস্ত্র গোপন রাখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ কিংবা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সুযোগে ছিনতাই, পকেটমার ও শিশু নিখোঁজের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো সুফি ঐতিহ্য বা সব মাজারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ঘিরে দ্বন্দ্ব শাহ আলী মাজারকে ঘিরে বিরোধের বড় একটি কারণ এর বিপুল সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা প্রায় ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচামালের আড়ত, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভোগদখল ও তদারকিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাজারকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক বলয়কে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী চক্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২২ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়াও এই দ্বন্দ্বের গভীরতা নির্দেশ করে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে কারা? মাজারে হামলার ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে ‘তৌহিদী জনতা’ শব্দবন্ধ। বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হামলাকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা সামনে আসে। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? তার দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা যায়। মাদকবিরোধী অভিযানের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নেবে— সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ধর্মীয় মতাদর্শ বনাম প্রশাসনিক দায় ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদীও মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, কোথাও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় তা বন্ধ করা উচিত; হামলা বা সহিংসতা কখনও সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, কিছু স্থানে গাঁজা সেবন বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একইসঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। জামায়াতের অস্বীকার, প্রশ্ন রয়ে গেছে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং একটি মহলউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল অস্বীকার যথেষ্ট নয়। তার মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই বছরে ৬৮ মাজারে হামলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকি নিয়ে ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং ১২টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। সংঘাতের কেন্দ্রে মাজার, সম্পদ ও প্রভাব স্থানীয়দের মতে, শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাদকবিরোধী অভিযানের ফল হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তি, স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং সামাজিক প্রভাবের জটিল সমীকরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মাজারকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত কি কেবল ধর্মীয় মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর গভীরে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আজহা
বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেন। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়-জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, যুগ্মসচিব ছাদেক আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এবং স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামও সভায় অংশ নেন। চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
বরগুনা এলজিইডি
বরগুনা এলজিইডির ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার: অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বদলি নির্বাহী প্রকৌশলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খাঁনকে বদলি করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আসে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অভিযোগের পর এই বদলি প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বদলির আদেশ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া গত বৃহস্পতিবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোঃ মেহেদী হাসান খাঁনকে বরগুনা থেকে সদর দপ্তর ঢাকায় একই পদে বদলি করা হয়। রোববার বদলির খবর বরগুনায় পৌঁছালে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সাম্প্রতিক টেন্ডার বিতর্ক এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বদলির খবরে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যে অভিযোগে আলোচনায় এল টেন্ডার প্রক্রিয়া অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র। গত মার্চে আহ্বান করা ওই টেন্ডারে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস এবং তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।  আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, কাজ পাওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক স্থানীয় প্রকৌশলীদের আত্মীয় অথবা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়— নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স” গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের প্রতিষ্ঠান “এমএস নুর কনস্ট্রাকশন” সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “এসএম লেলিন ট্রেডার্স (লেলিন-দীপ জেভি)” সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইনের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “নিশিত বসু ট্রেডার্স” এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টনে প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। ‘খাল খনন থেকে মসজিদ সংস্কার—সবখানেই অনিয়ম’ শুধু টেন্ডার নয়, জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কার প্রকল্পেও বরাদ্দের পুরো অর্থ কাজে ব্যবহার হয়নি। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও প্রকৃত কাজ হয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকার। খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, “ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।” কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, “ঢালাই দেওয়ার কিছুদিন পরই সড়কের পিচ উঠে যায়। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তাদের মোঃ মেহেদী হাসান খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি। কেন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা অভিযোগকারীই বলতে পারবেন।” তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও তদারকির দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বরগুনার ঘটনাটি সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কারা সুবিধা পাচ্ছেন, আর জনস্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
এনএসআই কার্যালয়
বরিশালে নির্মিত হচ্ছে এনএসআই’র আধুনিক কার্যালয়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগের (এনএসআই) নতুন কার্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন তহবিলের (জিওবি) অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবনটি প্রাথমিকভাবে এনএসআই’র বরিশাল সাব-স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পাঁচতলা বিশিষ্ট মূল ভবনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে দুইতলা গ্যারেজ-কাম-ব্যারাক ভবনও। বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বর্তমানে কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও আধুনিক করতে এই অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
মোরেলগঞ্জ থানা
মোরেলগঞ্জে বিএনপি কর্মী মিন্টু শেখকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নেওয়ার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মিন্টু শেখ ওরফে মিঠু শেখ নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর উপজেলার বোলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিন্টু শেখের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
সুদের টাকা না পেয়ে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে গেলো ‘সুদ কারবারি’
শরীয়তপুরে সুদের টাকা আদায়ে ছয় মাসের শিশুকে অপহরণ, র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুরের জাজিরার পূর্ব নাওডোবা এলাকায় সুদের টাকা আদায় করার জন্য ছয় মাস বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে রোববার দিবাগত রাতে মুন্সিগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অপহৃত শিশুর নাম জাহিদ রাফসান। সে মালয়েশিয়া প্রবাসী জুয়েল মল্লিক ও রাত্রি বেগম দম্পতির সন্তান। প্রায় দুই বছর আগে রাত্রি বেগম তার জা আমেনা বেগমের মাধ্যমে চার লাখ টাকা সুদে ঋণ নেন। পরে সুদসহ প্রায় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও আরও টাকা পাওনা রয়েছে দাবি করে আসছিলেন আমেনা বেগম। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার ভোরে আমেনা বেগম কৌশলে শিশুটিকে কিছু সময়ের জন্য নিজের কাছে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপহরণকারী আমেনা বেগম শিশুটিকে ফেরত দিতে সুদের পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে রোববার দুপুরে শিশুটির পরিবারের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে আমেনা বেগমকে ডেকে আনা হয়। এসময় আমেনা বেগম ডুবিসায়বর এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে শিশুটিকে ছাড়াই এসে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমেনা বেগমকে আটক করে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ এর সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ। অভিযুক্ত আমেনা বেগম দাবি করেন, আরেকজনের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু সেই টাকা পরিশোধ না করায় তার সাথে খুবই বাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই উপায়ান্তর না পেয়ে পাওনা সেই টাকা আদায়ের জন্যই তিনি শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে ফেরতও দিতে চাননি তিনি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু অপহরণের খবর পেয়ে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার সক্ষম হয় র‌্যাব। শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহান বলেন, অভিযুক্ত নারীকে ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপহৃত শিশুটিকেও উদ্ধার করে আপাতত তার পরিবারের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট  শাখার ম্যানেজার ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপব্যবহার
সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সোনালী ব্যাংক  পিএলসি এর ফরিদপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও একটি সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বকালীন হিসাব পরিচালনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাখা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কার্যক্রমে অসহযোগিতা করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শকের নির্দেশনা অনুসরণ না করে শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি মামলার বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধ করতে হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব বন্ধ বা স্থগিত করা যায় না। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি পক্ষের প্রভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করেননি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ফিরোজার রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমি দুই পাতার লিখিত জবাব দাখিল করেছি। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।” ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
বরিশালে ৪০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী

বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের রূপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ভুল সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে আসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরকার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নির্ধারণ করেছিল। কারণ, তারা শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে এক বছর অধ্যয়ন করেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ দুই বছর সময় পেয়ে সম্পূর্ণ বই থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুসারে ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের এমনসব অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, যা তাদের নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। “পরীক্ষার হলে জানিয়েও সমাধান মেলেনি” একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, পরীক্ষা শুরুর পরই তারা প্রশ্নপত্রে অসামঞ্জস্য দেখতে পেয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ সালের সিলেবাস একই, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।” তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বাস্তবে দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং এক বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এক নয়। ফলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির বাইরে থাকা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তান বাড়ি ফিরে কান্না করেছে। যে অধ্যায়গুলো তাদের পড়ানো হয়নি, সেখান থেকেই প্রশ্ন এসেছে।” আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “আমরা পরীক্ষা শুরুর পরই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।” “ফলাফলে বিশেষ বিবেচনা” দাবি ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা চেয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ পরীক্ষা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নপত্র যাচাই করার কথা ছিল। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলাই নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। কেন্দ্র সচিবকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও সামনে এ ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে পুরোনো কয়েকটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। তার প্রভাবের পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শাহজাহান ওমরের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হলেও বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শেখ মুজিবের ছবি ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি বাড়ছে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ভুল সিলেবাসে প্রশ্নপত্র সরবরাহ হয়ে থাকে, তাহলে দায় কার — কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি, নাকি শিক্ষা বোর্ড? এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ আশঙ্কা করছে, ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ
কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।   প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সেলিনা বেগম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম সাময়িক বরখাস্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৪ মে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের দেওয়া অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪(৬) অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে মাঠে উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলায় অংশ নিতে পারেনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দল। এ ঘটনায় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অসহযোগিতা ও দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করেন খেলোয়াড়রা। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফুটবল দলের সদস্যরা সেলিনা বেগমকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্তের দাবিতে লিখিত আবেদন দেন। পরে প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকায় ‘জিএমের রাজকীয় অন্দরমহল’: অগ্রণী ব্যাংকে নীতিমালা ভেঙে বিলাসবহুল আবাসনের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর জেলখানার মোড়ে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব ভবনের পঞ্চম তলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত আবাসন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করে এবং বিদ্যমান নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এই আবাসন গড়ে তুলেছেন বরিশাল সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) স্বপন কুমার ধর। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ভবনের একটি বড় অংশজুড়ে নির্মিত এই আবাসনটি কার্যত একটি ব্যক্তিগত ‘ফ্ল্যাট’-এর আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে আধুনিক আসবাব, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং ব্যক্তিগত বসবাস উপযোগী নানা সুবিধা—যার পুরো ব্যয় বহন করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ব্যাংকিং খাতের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের দাপ্তরিক অবকাঠামো কীভাবে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা হলো? নীতিমালার বাইরে নির্মাণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সাধারণত কর্মকর্তাদের পদের ভিত্তিতে বাড়িভাতা প্রদান করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত আবাসিক কোয়ার্টার থাকলেও, সেগুলো পূর্বনির্ধারিত নকশা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের এই ভবনের পঞ্চম তলার আবাসনটি মূল নকশার অংশ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অফিস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জায়গা ব্যক্তিগত আবাসনে রূপান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য পরিচালনা পর্ষদ বা প্রধান কার্যালয়ের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখানে পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের আমানতের অর্থ দিয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের ব্যয় শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের সংস্কার, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আবাসন উপযোগী অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হলে সেটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ‘অডিট এড়িয়ে’ কাজ সম্পন্নের অভিযোগ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংস্কার কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে নিয়মিত অডিট বা তদারকিতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে বা প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কীভাবে এমন বিতর্কিত সুবিধা ভোগ করতে পারেন? তদন্তের দাবি ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নজরে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনে দুর্নীতির অভিযোগ: অনিয়ম ধরায় বদলি, পদোন্নতি পেলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা

বরিশাল অফিস :    রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক–এর বরিশাল সার্কেল ও ভোলা জোনাল অফিসে দুর্নীতি, প্রভাব খাটানো এবং অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৎ কর্মকর্তাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য তুলে ধরার পর কয়েকজন কর্মকর্তাকে পরিকল্পিতভাবে বদলি করা হয়েছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই বদলি, কারণ দর্শানোর নোটিশ কিংবা প্রশাসনিক চাপ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে ভোলা জোনে। অনিয়মের তদন্তের পর বদলি ভোলা শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এজিএম আলমগীর হোসেনকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম সার্কেলে বদলি করা হয়। ব্যাংক সূত্রের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনকালে ঋণ বিতরণে বেশ কয়েকটি অনিয়ম শনাক্ত করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঋণ বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। অভিযোগে বলা হয়, তিনি টি-২৪ সফটওয়্যার ব্যবহার করে ১২ লাখ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার শূন্য দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ঋণ আদায়ে গাফিলতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলবের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘আরোহী ট্রেডার্স’ ঋণ নবায়ন ঘিরে বিতর্ক অনুসন্ধানে জানা গেছে, “মেসার্স আরোহী ট্রেডার্স” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ টাকার ঋণ নবায়নের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আলমগীর হোসেন। ব্যাংক নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে ঋণ নেয় এবং এরপর প্রতিবছর ঋণ নবায়ন করে আসছিল। তবে সরেজমিন তদন্তে কার্যক্রমের অস্তিত্ব না পাওয়ার দাবি করেন তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক। এরপর তিনি ঋণ নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে একটি প্রভাবশালী চক্রের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই আলমগীর হোসেনকে সরানোর চেষ্টা শুরু হয়। ‘ভূয়া অভিযোগ’ তৈরির অভিযোগ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আরোহী ট্রেডার্সের মালিকের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই ছাড়াই তাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বদলি করা হয় চট্টগ্রাম সার্কেলে। অন্যদিকে, যেসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই জিয়াউদ্দিনকে পদোন্নতি দিয়ে একই শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুরোনো অভিযোগও ছিল ব্যাংক সূত্র জানায়, জিয়াউদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছিল। চরফ্যাশন শাখায় দায়িত্ব পালনকালে ঋণ শ্রেণিকরণে অনিয়ম, সুদ আদায়ে অসঙ্গতি এবং বীমা খাতে অর্থ কর্তনের অভিযোগে তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। এছাড়া মৃত গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের কোনোটিতেই কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। ‘সৎ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হচ্ছে’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, “এখানে চোরের শাস্তি হয় না, যারা চোর ধরিয়ে দেয় তারাই শাস্তি পায়।” তার দাবি, বরিশাল সার্কেল ও ভোলা জোনে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক বলয় কাজ করছে, যারা নিজেদের স্বার্থে কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করে। সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন জিয়াউদ্দিনের সম্পদ অর্জন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, চাকরিজীবনের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করেছেন, যার আর্থিক উৎস নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। আলমগীর হোসেন যা বললেন সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে “কল্পিত অভিযোগ” তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য, তদন্তে আসা কর্মকর্তারা শাখার কর্মীদের চাপ দিয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য করেছেন। যারা রাজি হননি, তাদের বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরাগভাজন হন। জোনাল প্রধানের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ব্যাংকের হেড অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী বদলি ও পদোন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
ইভা গ্রেফতার
বরিশালে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল চক্র : আইনজীবীর মামলায় ইভা গ্রেফতার

 বরিশাল অফিস :   বরিশালে সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় তাজরিন জাহান ইভা নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলাটি করেছেন বরিশাল জজ কোর্টের আইনজীবী এসএম তৌহিদুর রহমান সোহেল। মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৬) বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত সেটি আমলে নিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে জিআর-৩১৬/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মানহানি, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন বাদী। যাদের আসামি করা হয়েছে মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া যাত্রকাঠা বৈরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা তাজরিন জাহান ইভাকে (৩৭)। এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলার ডাকবাংলা রোড এলাকার সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. আসাদ (৫৭), মো. ফিরোজ (৪৭) এবং মারিয়া বেগমকে (২৬) আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘পরিকল্পিত মানহানি ও ডিজিটাল অপপ্রচার’ মামলার এজাহারে আইনজীবী সোহেল উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি তাজরিন জাহান ইভা ও অপর আসামি সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে তার চেম্বারে আইনি পরামর্শ নিতে যেতেন। সেই সূত্র ধরে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ মে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে তার অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগৃহীত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, প্রচারিত ভিডিও ও কনটেন্টে তাজরিন জাহান ইভা নিজেকে আইনজীবী সোহেলের স্ত্রী দাবি করেছেন, যা বাদীর মতে “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। ‘তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির’ অভিযোগ বাদী আইনজীবী সোহেলের অভিযোগ, মানহানিকর কনটেন্ট সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলে অভিযুক্তরা তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আরও আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানানো হলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। অভিযানে গ্রেফতার ইভা মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিহির চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বুধবার গভীর রাতে সদর রোড এলাকা থেকে তাজরিন জাহান ইভাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামিপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার অপরাধের নতুন উদ্বেগ আইনজীবী ও সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচয় বা ভুয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইল ও মানহানির ঘটনা দেশে বাড়ছে। বিশেষ করে অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি এবং অনলাইন চাঁদাবাজি এখন সাইবার অপরাধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার ডিজিটাল আলামত, ভিডিও কনটেন্টের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুরো চক্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী
পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। সম্পাদক পদে একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচনে মোট ৪ হাজার ৪৮টি ভোট পড়েছে। ১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচনে দুটি সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহসম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী। অন্যদিকে, সাতটি সদস্য পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল। ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ নির্বাচনের ফলাফলকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী অঙ্গনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়ায় জরিমানার পরিবর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের আলোচনা থাকলেও বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলছে। স্টেশনের ২ নম্বর গেটে নিয়মিতভাবে সাদা পোশাকে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে রয়েছেন পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম ও রুবেল, পাশাপাশি পোর্টার লিটন ও সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কিছু সদস্যও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেন থেকে নামার পর টিকিট তল্লাশির নামে যাত্রীদের আটকানো হয়। কারও কাছে টিকিট না পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা বা সরকারি জরিমানার রসিদ দেওয়ার পরিবর্তে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনায় শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের একটি অংশের যোগসাজশে এই অর্থ আদায় চলছে। অথচ বিনা রসিদে অর্থ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একজন যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রেল সাধারণ মানুষের পরিবহন। কিন্তু এখানে সেবা পাওয়ার বদলে অপমান আর ভয়ভীতি সহ্য করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই।” রেল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এমন অনিয়ম অব্যাহত থাকলে যাত্রীসেবার মান আরও অবনতি হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে টিকিট তল্লাশি ও জরিমানা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
অধ্যাপক আমির হোসেন
যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়নি, এর মধ্যেই জাবিপ্রবির ভিসি ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়ার নিয়োগ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন। তবে তার এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন, তাকে কীভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসানো হলো? শিক্ষার্থীদের অভিযোগে কী ছিল ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, অশালীন মন্তব্য এবং মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ক্লাস চলাকালে তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতেন। নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গবেষণা কার্যক্রমে নিরুৎসাহিত করা, নম্বর প্রদানে বৈষম্য সৃষ্টি এবং মতের অমিল হলে একাডেমিক চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভাগের সহকর্মী শিক্ষকদের সম্পর্কেও তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন, যা বিভাগের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি হলেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আইবিএ’র অধ্যাপক আইরীন আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত শেষ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় ড. আমির হোসেন ভূঁইয়াকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। ‘অমীমাংসিত অভিযোগ’ নিয়েই প্রশাসনিক পদোন্নতি? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো শিক্ষক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে সাধারণত তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না দেওয়ার অলিখিত নীতি অনুসরণ করা হয়। তাদের ভাষ্য, “তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।” তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ তদন্তে বিলম্ব এবং একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পদোন্নতি বা নিয়োগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি কাঠামোকে দুর্বল করে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ, অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার উপাচার্য নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0