ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ সরকারি নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দেড় বছর ধরে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী আবদুল মজিদের বাড়ি উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে হঠাৎ করেই প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমস্যার সমাধানে আবদুল মজিদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। আবদুল মজিদ বলেন, “আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। দেড় বছর ধরে পাই না। বুড়া হইয়া গেছি, একটু ভালো খাইতে মন চায়।” তাঁর ছেলে আবুল বাসার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধনের দাবি জানান তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়। এমনকি একটি মৃত সনদও জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মারা গেছেন। এর ভিত্তিতেই তাঁর পরিবর্তে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আবদুল মজিদকে মৃত হিসেবে দেখাননি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই আবদুল মজিদ পুনরায় ভাতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও সরকারি চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে ৮০০ লিটার ডিজেল এবং প্রায় এক টন সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের ভাইকে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও মুলাদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চরকালেখান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুমন ঘরামীর বাড়ির সামনে ২০০ লিটার ডিজেল ও এক টন সরকারি চাল পাওয়া যায়। একইসঙ্গে তার ভাই বাচ্চু আলমের গরুর খামার থেকে আরও ৬০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ডিজেল মজুদের বিষয়টি স্বীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। অবৈধভাবে ডিজেল সংরক্ষণের দায়ে বাচ্চু আলমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে ইউপি সদস্য সুমন ঘরামী দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া চাল তিনি কিনে রেখেছিলেন। তিনি এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। জব্দকৃত ডিজেল ন্যায্যমূল্যে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান, তার মা হাফসা আখতার এবং ভাই স্বাধীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা জেলার একটি মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে তাদের আশুলিয়া মডেল থানায় নেওয়া হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিয়া খান তার মা ও ভাইয়ের সহায়তায় বিভিন্ন উঠতি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে অর্থ আদায় করতেন। এ ধরনের অন্তত ৪২টি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করে নতুন ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করতেন। সম্পর্ক স্থাপনের পর তা ব্যবহার করে মামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল। আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও নারী হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে সাহস পাননি। তিনি আরও জানান, নেত্রকোনার আকপাড়া থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে আশুলিয়ায় পৌঁছেছেন। এদিকে আকপাড়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার বাদী তমা আক্তার। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়া খান, তার মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই থানায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব রাজধানী ঢাকায় চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ, মহাখালী, মৎস্য ভবন, বাড্ডা, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইনের দীর্ঘতা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। অনেকে জানিয়েছেন, দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, অফিস যাতায়াত এবং জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। চালকরা অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। পাম্পে তেল মজুত থাকলেও বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ কম নয়। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা এবং ‘ফুল ট্যাংক’ করার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের জন্য সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মেরুল বাড্ডার মেরুল বাড্ডা ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রাইড শেয়ারিং চালক মাসুদ করিম রেজা বলেন, “বাইকের চাকা ঘুরলে ইনকাম, না ঘুরলে না খেয়ে থাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দিন চলে যায়।” রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে ব্যাংক কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আজ তেল নিতেই হবে। কাল অফিস খোলা, তখন লাইনে দাঁড়ালে অফিসে দেরি হবে।” পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হলেও কিছু ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষও তেল মজুত করছে। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মগবাজার, রমনা, তেজগাঁও, মহাখালী, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র চোখে পড়েছে।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক যুবককে শ্বশুরবাড়ির লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বড়ইয়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাখোলা হিজবুল্লাহ মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন হাওলাদার (২৬) ওই এলাকার প্রয়াত তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মিলনের সঙ্গে তার স্ত্রীর পারিবারিক কলহ চলছিল। এদিন শ্বশুরবাড়ির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মিলনের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মিলনের মায়ের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খালিদ হোসেন বলেন, “বেলা ৩টার দিকে পুলিশ মিলনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।” ঝালকাঠি জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর সার্কেল) মো. শাহ আলম জানান, “মিলনের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের হাকিমপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কার্যালয়ে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সফিউল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে ওই কর্মকর্তাকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডা. সফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে হাকিমপুরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন গরুর খামারি। গতকাল শুক্রবার রাতে তিনি হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উপজেলা প্রাণিসম্পদের ওই কর্মকর্তার নামে একটি মামলা করেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভুক্তভোগী নারী ও হাকিমপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, স্বামীর অসুস্থতা ও খামারি হওয়ার সুবাদে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী নারীর। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি কোয়ার্টারে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ডা. সফিউল। ভুক্তভোগীর দাবি, ডা. সফিউলের চাপে গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পোস্ট অফিসের নোটিশের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে গোপনে তালাক দিয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই নারীকে মোবাইল ফোনে কল করে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নেন ওই কর্মকর্তা। সেখানে গেলে নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে ওই নারীকে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। পরে ওই নারী হাকিমপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল। কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মা নবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আহত বা নিখোঁজের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, আগুন লাগার পর আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও কারখানাটি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘি থেকে গভীর রাতে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে দালাল বাজার এলাকার দিঘিতে জেলেদের মাধ্যমে জাল ফেলে মাছ তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানের নির্দেশেই এই মাছ ধরা হয় এবং পরে সরকারি গাড়িতে তা নিয়ে যাওয়া হয়। একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে জেলেদের মাধ্যমে দিঘিতে মাছ ধরার দৃশ্য দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই রাতে প্রায় দুই টন মাছ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রুই, কাতল, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ ছিল। কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ৭-৮ কেজি পর্যন্ত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিঘি থেকে ধরা অন্তত ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ স্থানীয় দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। একজন ব্যবসায়ী ৪২ কেজি এবং অন্যজন ৭০ কেজি মাছ পেয়েছেন। সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন জানিয়েছেন, দিঘি থেকে ধরা মাছ এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে এবং কিছু মাছ বিক্রিও করা হয়েছে। তবে মোট কত মাছ ধরা হয়েছে, কত টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বা কতটা দান করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। খোয়াসাগর দিঘি প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো, প্রায় ২৫ একর এলাকায় বিস্তৃত। একসময় এটি পৌরসভার মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে জেলা প্রশাসনের অধীনে নেওয়া হয়। এরপর থেকে দিঘির ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাতের অন্ধকারে মাছ ধরা, সরকারি সম্পদের ব্যবহারে অস্পষ্টতা এবং যথাযথ তথ্য না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১১টি পদের সবকটিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তারা কেউই জয়ী হতে পারেননি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের আবুল কালাম আজাদ-১ মোট ৪৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত সাদা প্যানেলের সালাউদ্দিন মাসুম পেয়েছেন ৩০৪ ভোট। সহ-সভাপতির দুটি পদে শেখ মেহেদী হাসান শাহীন ৪৮৯ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সৈয়দ মাসুম মিয়া রেজা ৪২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি সমর্থিত আবুল কালাম আজাদ ইমন ৪৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ইমরান কবির মাসুদ পেয়েছেন ৩৩৬ ভোট এবং জামায়াত সমর্থিত ফরিদ উদ্দিন পেয়েছেন ২৮৫ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম পান্না ৪৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন পেয়েছেন ৩৬১ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে তারেক আল ইমরান ৪৬২ ভোট পেয়ে প্রথম এবং সাইদুর রহমান সোহেল ৪০২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। নির্বাহী সদস্যের চারটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন হারুন অর রশিদ (৬৭৫ ভোট), গোলাম মোর্তজা তপু (৫১৫ ভোট), পারভেজ বেপারী (৪৪৯ ভোট) এবং সাইফুল আলম (৪০৬ ভোট)। নির্বাচনে মোট ৯৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৬৭৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী ও বামপন্থী আইনজীবীরা এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি এবং ভোটদান থেকেও বিরত ছিলেন। এ ঘটনায় আওয়ামীপন্থী তিন আইনজীবী আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানা গেছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা এবং নির্বাচন উপ-পরিষদ। নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভোলা: মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণে সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার অন্তত পাঁচশ নিবন্ধিত জেলে এখনো সরকারি সহায়তা পাননি। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। সরকার প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নির্দিষ্ট নদী এলাকায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আওতায় চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এবং ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনেকেই এই সহায়তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। “সহায়তা না পেলে বাঁচবো কীভাবে?” মাঈনউদ্দিন ঘাট এলাকার জেলে মো. ইউনুস, মো. আবু খায়ের ও মো. হুমায়ূন মাঝি বলেন, “৩২ দিন হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো কোনো চাল পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।” তারা জানান, এই সময়টাতে তারা নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ করছেন, কিন্তু আয় না থাকায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য পেশার লোকদের জেলে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। হাজারিগঞ্জ ও জাহানপুর গ্রামের জেলে আবদুল মালেক ও আবদুল মন্নান বেপারী বলেন, “টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রকৃত জেলে হয়েও সহায়তা পাচ্ছি না।” তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামছেন। “চাল যথেষ্ট নয়” নিবন্ধিত জেলে নুর হোসেন মাঝি বলেন, “একটা পরিবারে ৮-১০ জন সদস্য থাকে। ৪০ কেজি চাল দিয়ে পুরো মাস চলে না।” বাস্তব চিত্র সামরাজ ও মাইনউদ্দিন ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, জেলেরা নদীর পাড়ে নৌকা তুলে রেখে জাল শুকাচ্ছেন। কাজ না থাকায় অনেকেই বসে সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় আড়তদার মো. আজিজ পাটোয়ারি দাবি করেন, “যারা কার্ড পেয়েছে, তাদের ৮০ শতাংশই প্রকৃত জেলে নয়।” প্রশাসনের বক্তব্য চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “উপজেলায় মোট ৪৪ হাজার ৩১১ জন নিবন্ধিত জেলে আছেন। এর মধ্যে ২৪ হাজার ২০০ জন ভিজিএফ চাল পাবেন। খুব শিগগিরই বিতরণ শুরু হবে।”
বরিশাল অফিস : বরিশালের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মৃত আব্দুস সত্তার খানের পুত্র ইমন খানকে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত ও যথাযথ অংশ না দেয়ার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগে ইমন খান উল্লেখ করেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি। তিনি উল্লেখ করেন , আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন। ইমন খান অভিযোগে উল্লেখ করেন,আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন। আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়। আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৪টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে। আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে। ইমন খান ইতিমধ্যে স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন,ইমন ছোট। তাকে লেখাপড়া করানো হয়েছে।বড় ভাইর কাছে ক্ষমা চাইলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান। এ ব্যাপারে দিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উত্তরাধিকার বিষয়ে ইসলাম: কোন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি তার সম্পত্তি থেকে থাকে, অর্থাৎ যদি তিনি কোন সম্পত্তি রেখে মারা যান, তবে ঐ সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারদের মধ্যে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েজ অনুসারে বণ্টন করা হয়ে থাকে। ওয়ারিশদের সম্পত্তি বন্টনের বিষয়ে মুফতী মাওলানা মাহফুযুল হক বলেন, মহান আল্লাহ সূরা নিসা অবতীর্ণ করে মৃতের সম্পদের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা শেষ নবীর উম্মত হিসেবে আমাদের দান করেন। এ সূরার দ্বারা তিনি সুনির্দিষ্ট করে দেন, কেউ মারা গেলে তার কোন কোন আত্মীয় তার সম্পদের কতটুকু অংশ পাবে। বিষয়টি মহান আল্লাহর কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ সংক্রান্ত বিধানগুলো সরাসরি তিনি নিজেই বলে দিয়েছেন।নবীকে পর্যন্ত এখানে বলার কোনো সুযোগ দেননি। ওয়ারিশদের অংশ বর্ণনা করার পর মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘এটা আল্লাহর সীমানা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলকে মান্য করবে তিনি তাকে চিরকালের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার তলদেশে পানির অসংখ্যা ঝর্ণা ও নদী প্রবাহিত। আর এটাই মহা সফলতা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলকে অমান্য করবে, তার সীমানা লংঘন করবে; তিনি তাকে চিরকালের জন্য জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। ’ -সূরা নিসা: ১৩-১৪ এমন স্পষ্ট ও শক্ত কথা অন্য কোনো আমলের ব্যাপারে বলা হয়নি। এ আয়াতে সম্পদ বণ্টনের কোরআনি বিধানকে বলা হয়েছে- আল্লাহর সীমানা। আর সীমানা লংঘনকারীর জন্য স্থায়ী জাহান্নামের সতর্কবার্তা শোনানো হয়েছে। তাই এ আয়াতের ভাষ্যমতে, সম্পদ বণ্টনের কোরআনি বিধান অমান্যকারীরা চিরজাহান্নামি। মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তি যথানিয়মে বণ্টন করে নেওয়া এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দেওয়া ওয়াজিব।বড়ই আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক মুসলমানই এসব ব্যাপারে উদাসীন। তাদের জানা উচিৎ সবচেয়ে নির্মম ও নির্লজ্জ জুলুম হলো, আমাদের অধিকাংশ পরিবারে মা-বোন ও যেকোনো নারীর উত্তরাধিকার সম্পত্তি প্রদানে কার্পণ্য ও টালবাহানা করার মানসিকতা। একজনের মালিকানাধীন সম্পদ অন্য জনের জন্য কখন বৈধ হবে, ইসলাম সে বিষয়ে মূলনীতি বাতলে দিয়েছে। ইসলামসম্মত ব্যবসায় বা অন্যের সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে কারো সম্পদ অন্যের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবল তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয়, তা বৈধ।’ (সুরা নিসা; আয়াত : ২৯) কারো ন্যূনতম অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করলে কিয়ামতের দিবসে তারও হিসাব হবে। এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা কিয়ামত দিবসে হকদারদের নিকট তাদের প্রাপ্য আদায় করবে। এমনকি শিংবিশিষ্ট ছাগল হতে শিংহীন ছাগলের বদলা নেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হা: ২৫৮২) অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমি দখল করবে, কিয়ামত দিবসে সাত স্তবক জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হা: ১৬১০, বোখারি, হা: ৩০২৬) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর কোনো জুলুম করেছে, তার জন্য আজকেই তা ক্ষমা করিয়ে নেওয়া উচিত। যদি ক্ষমা করে না নেওয়া হয়, তাহলে তার নেক আমল থাকলে অন্যায় পরিমাণ কর্তন করে নেওয়া হবে। আর নেক আমল না থাকলে অন্যায় বরাবর পাপের বোঝা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বোখারি, হা: ২৩১৭)। মুসলিম আইনে উত্তরাধিকারের বিধান: এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে পারিবারিক বিধান ইসলামী আইন দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছে। মুসলিম পারিবারিক আইনে যেসব বিধান রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মুসলিম উত্তরাধিকার ব্যবস্থা। মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ আইন ১৯৬১ সালে উত্তরাধিকার আইনে মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনা হয়। তবে মহাগ্রন্থ আল কোরআনের সূরা নিসায় বণ্টনের যে নীতি আছে, তার দ্বারাই মূলত উত্তরাধিকার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদরাসা মাঠে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল। বুধবার বাদ জোহর উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।৪ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি বয়ান ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের মাহফিল সমাপ্ত হবে। বক্তব্যে চরমোনাই পীর দুনিয়াবি স্বার্থ পরিহার করে আত্মশুদ্ধি ও আখেরাতমুখী জীবন গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পথভোলা মানুষকে মহান আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য।” পীর সাহেব তাঁর বয়ানে মুসল্লিদের নিয়ত পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেন। যারা পার্থিব উদ্দেশ্যে মাহফিলে এসেছেন, তাদের সে চিন্তা পরিহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলার আহ্বান জানান তিনি। অহংকার বর্জন এবং জিকিরের মাধ্যমে অন্তর পবিত্র করার কথাও তুলে ধরেন। তার এই আধ্যাত্মিক আলোচনা শুনতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি সমবেত হয়েছেন মাহফিল মাঠে। আয়োজকরা জানান, এবারের মাহফিলে ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও উন্নত করা হয়েছে। চারটি বিশাল মাঠজুড়ে মুসল্লিদের অবস্থানের পাশাপাশি নামাজ ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগতদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১০০ শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল। সেখানে ১৩ জন বিশেষজ্ঞসহ মোট ৫৩ জন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স ও ২টি নৌ-অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তা টিম। কেউ হারিয়ে গেলে বা কোনো জিনিসপত্র খুঁজে পেতে প্রতিটি মাঠে ‘হারানো ক্যাম্প’ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ পানীয় জল, পর্যাপ্ত টয়লেট এবং অজু-গোসলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। ৪ এপ্রিল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি বয়ান ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের মাহফিল শেষ হবে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের চরমোনাই এলাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিল শুধু ধর্মীয় সমাবেশ নয়, ক্রমেই তা রূপ নিচ্ছে বড় আকারের অস্থায়ী অর্থনীতির কেন্দ্রে। লাখ লাখ মানুষের এই জমায়েতকে ঘিরে গড়ে উঠছে শত শত দোকান, যেখানে ধর্মীয় সামগ্রীর পাশাপাশি খাবারের ব্যবসাও জমজমাট। আর এ বছর আলোচনার কেন্দ্রে ‘বালিশ মিষ্টি’—যা যেমন নজর কাড়ছে, তেমনি তুলছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। ভিড় না বাজার—কোনটি বড়? মাহফিল প্রাঙ্গণে ঢোকার মুখেই চোখে পড়ে সারি সারি দোকান। তসবিহ, টুপি, বইয়ের পাশে খাবারের স্টল। এর মধ্যেই একটি মিষ্টির দোকান ঘিরে অস্বাভাবিক ভিড়। বিশাল আকৃতির ছানার মিষ্টি—যা একাধিক মানুষ মিলে খাচ্ছেন—দর্শনার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই আকর্ষণের পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক হিসাব। লাখ টাকার বিক্রি—কীভাবে? দোকান মালিকদের দাবি, মাহফিলের তিনদিনে কয়েক লাখ টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়। প্রতিটি বড় মিষ্টির দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত, আর মাঝারি ও ছোট আকারের মিষ্টিও ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। হিসাব বলছে, দিনে যদি গড়ে ৫০০–১০০০ পিস মিষ্টি বিক্রি হয়, তাহলে একটি স্টল থেকেই আয় দাঁড়াতে পারে কয়েক লাখ টাকায়। অথচ এই ব্যবসার বড় অংশই পরিচালিত হচ্ছে অস্থায়ী ব্যবস্থায়—যেখানে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সীমিত। মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি? মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ স্টলেই নেই দৃশ্যমান কোনো খাদ্য নিরাপত্তা সনদ বা স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণের ব্যবস্থা। বড় বড় গামলায় খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে মিষ্টি, যা ধুলাবালি বা জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি তৈরি করছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত বড় জনসমাগমে খোলা খাবার বিক্রি হলে সেখানে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। নচেৎ খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে যায়। প্রশাসনের নজরদারি কতটা? স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা থাকলেও, খাদ্য বিক্রির মান নিয়ন্ত্রণে তেমন সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়েনি। একাধিক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, তারা মূলত বিশ্বাসের জায়গা থেকে এসব খাবার গ্রহণ করছেন। তবে সচেতনতার অভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতি ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে। অস্থায়ী বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধর্মীয় সমাবেশগুলোতে এমন অস্থায়ী বাজার গড়ে ওঠা নতুন নয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কতটা নিয়ন্ত্রিত এবং নিরাপদ? চরমোনাই মাহফিলের মতো বিশাল জমায়েতে যেখানে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হন, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি, মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা মাহফিলে আসা অনেকেই ‘বালিশ মিষ্টি’কে আনন্দের অংশ হিসেবেই দেখছেন। দলবেঁধে খাওয়া, ছবি তোলা—সব মিলিয়ে এটি এক ধরনের সামাজিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। তবে কিছু দর্শনার্থী আবার প্রশ্ন তুলেছেন—“স্বাদ ভালো, কিন্তু নিরাপদ তো?” ৪ এপ্রিল আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের মাহফিল। তবে এই আয়োজন ঘিরে যে অস্থায়ী অর্থনীতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন হবে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা—যেখানে ধর্মীয় আবহ বজায় রেখেই নিশ্চিত করা যাবে জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল বাণিজ্য।
ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে জর্দা কোম্পানীর কর্মচারী রুবীনা বেগমের দায়ের করা একটি ধর্ষন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বাদী ও তার কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই মিলন মল্লিক, ঝালকাঠি থানার পক্ষ থেকে আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী রুবীনা বেগম (৩৪) ও তার ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে আসামীদের ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বাদী রুবীনা বেগম ঝালকাঠির চাচৈর গ্রামের আশ্রাফুল ইসলামের মেয়ে এবং তিনি শাহী জর্দা কোম্পানীর একজন কর্মচারী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঝালকাঠি সদর থানায় জর্দা কোম্পানীর মালিক শামশুল হক মনু এবং রুবিনার সাবেক স্বামী ফরিদকে আসামী করো মামলাটি দায়ের করা হয়। আবেদনটি শুনানি শেষে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক নওরীন কবির তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে বাদী ও তার কন্যার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করতে হবে এবং ডিএনএ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আসামীদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য প্রোফাইল সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিআইডির হেডকোয়ার্টারের ডিএনএ ল্যাবরেটরির ফরেনসিক বিভাগের চিফ ডিএনএ অ্যানালিস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছে আদালত। ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেন, 'এই ডিএনএ পরীক্ষা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সত্য উদঘাটনে সহায়ক হবে। শিঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপ নেযা হবে।'
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরপথে রওনা দেন, কিন্তু তার স্বপ্নের যাত্রা ভূমধ্যসাগরের মাঝেই থেমে যায়। অনাহার ও তৃষ্ণায় তিনি মারা যান। মুহিবুর রহমান ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের বড় ছেলে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের মধ্যে মুহিবুর ছিলেন সবার বড়। পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকে মুহিবুরের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নিশ্চিত তথ্য পাননি। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে নিশ্চিত করেন। মারুফ জানান, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমে মারা যান মুহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মৃতদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে জীবিতরা মাঝ সমুদ্রে এগুলো ফেলে দেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, সুন্দর ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে মুহিবুরসহ কয়েকজন যুবক প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তি করে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে রওনা হন। মুহিবুরের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, মা মহিমা বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন এবং বাবা দিশেহারা হয়ে শোক সামলাতে পারছেন না। স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলও ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, “আমি কিছুক্ষণ আগেই এই মর্মান্তিক খবরটা শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে রুম্পা সিকদার নামে এক জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সহকারী সচিবকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। লঘুদণ্ড হিসেবে তাঁর বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রুম্পা সিকদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটির ইউএনও থাকার সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের ৩০২টি ঘরের মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তাঁর দায়িত্বকালে অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও সভাপতি হিসেবে সে অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত না করে তিনি কাজে চরম অবহেলা দেখান। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। এতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও রুম্পা সিকদার নলছিটি থেকে বদলির সময় এই টাকা সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী কাগজে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকার চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার প্রমাণ ও তা দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এখানে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিষয় বিবেচনায় রুম্পা সিকদারকে দুই বছরের বেতন স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বোরকা পরে নারী সেজে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক যুবক ধরা পড়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার নজিপুর বাজার এলাকার মামুন ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফিলিং স্টেশনের মালিকের ছেলে অভি জানান, সেদিন রাতে পাম্পে তেল নিতে গ্রাহকদের প্রচুর ভিড় ছিল। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল যানবাহন চালকদের। তেল বিক্রি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল কর্মীদের। এই অবস্থার মধ্যেই বোরকা পরিহিত একজন ব্যক্তি তেল নিতে আসেন। উপস্থিত সাধারণ মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত প্রকাশ পায় যে তিনি নারী নন, বরং একজন যুবক। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান অভি। স্থানীয়দের ধারণা, তেলের সংকট ও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এড়াতে নারী সেজে আগে তেল পাওয়ার আশায় এমন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন ওই যুবক। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন—কেউ এটিকে হাস্যকর হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তেল সংকটের চিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের আকাশে অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দ্বীপের জেটি সংলগ্ন পূর্ব আকাশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাল-সবুজ রঙের দুটি ড্রোন উড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি জানাজানি হলে আশপাশের মানুষজন জড়ো হন এবং পরে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজেও ড্রোন দুটি দেখতে পেয়েছেন এবং ধারণা করছেন সেগুলো মিয়ানমারের দিক থেকে আসতে পারে। তার মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নজরদারির অংশ হিসেবেও ড্রোনগুলো ব্যবহৃত হতে পারে। দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম জানান, রাতে আকাশে ড্রোন উড়তে দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, এগুলো সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এ ধরনের ড্রোন কার্যক্রম দেশের আকাশসীমা ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় এগুলো ১২ এপ্রিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে তা পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ১২ মার্চ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ায় সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল। কেন সংসদে তোলা হচ্ছে না? জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, এই ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায় পাস করার মতো উপযুক্ত নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী— এগুলো এখনই বিল আকারে না এনে আরও যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী ও সংশোধিত আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে এতে স্পষ্ট যে, আইনগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও নীতিগত দ্বিধা রয়েছে। আইনগত শূন্যতার ঝুঁকি এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে— গুম প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কার রাজস্ব ও করনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, “একই সঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।” ভিন্নমত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ কমিটির রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’। জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ১২টি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তাদের আপত্তি— অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতি এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে। ১৩৩ অধ্যাদেশের বড় চিত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে— ৯৮টি সরাসরি পাসের সুপারিশ ১৫টি সংশোধন করে বিল আনার প্রস্তাব ৪টি বাতিলের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ অর্থাৎ, পুরো আইন কাঠামোই এখন পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬। মূল প্রশ্নগুলো এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— কেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সময়মতো সংসদে তোলা হলো না? সরকারের ভেতরে কি নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে? আইনগত শূন্যতা তৈরি হলে দায় কে নেবে? নতুন বিল কবে নাগাদ আসবে? সামনে কী? ১২ এপ্রিলের পর যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায়, তবে— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নতুন করে বিল আনতে হবে পুরো আইন প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে এতে সময়, প্রশাসনিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে এই পরিস্থিতি শুধু আইন নয়, দেশের শাসন কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান (৪০) উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পশ্চিম চরামদ্দি গ্রামের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে বরিশাল, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা জেলায় ডাকাতি এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে অন্তত ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম সোহেল রানা জানান, মিজানুর রহমান একজন পেশাদার ডাকাত এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।