Brand logo light

বাংলাদেশ

বরিশালে ২৪৮ আসামির মামলায় মৃত ব্যক্তিদের নাম: আলোচনায় বিতর্কিত অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার আসামি তালিকায় অন্তত চারজন মৃত ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যা নিয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বরিশাল মহানগর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আলোচিত নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং হত্যার হুমকিসহ একাধিক ধারায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।  অভিযোগের মূল বক্তব্য মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় কর্মী। তারা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ, ঝটিকা মিছিল, বিস্ফোরণ, ভাঙচুর এবং হত্যাচেষ্টার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ৬ জুলাই বিকেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক, পাইপগান ও হাতবোমার বিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে টায়ারে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিরোধকারীদের ওপর হামলার অভিযোগও আনা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম নিয়ে বিতর্ক মামলার তালিকায় থাকা নামগুলো যাচাই করে দেখা যায়, অন্তত চারজন ব্যক্তি—যারা বিভিন্ন বছর আগে মারা গেছেন—তাদেরও আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের দাবি অনুযায়ী— ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর (মৃত: ২০২২) ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুক (মৃত: ২০২৩) ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ (মৃত: ২০২১) ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার (মৃত: ২০২১) এছাড়া তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে নাম ও পরিচয়ে অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নামের পুনরাবৃত্তি ও অসঙ্গতি মামলার নথি অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তিকে দুইবার করে আসামি করা হয়েছে। যেমন— তারেক শাহ (৩৮ ও ৮২) ইমরান মোল্লা (৪১ ও ৫৪) কামাল হোসেন লিটন মোল্লা (১১৫ ও ১৭৭) এছাড়া কিছু সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। এ ছাড়া সাত জনের নাম একাধিকবার রয়েছে আসামির তালিকায়। এমনকি বরিশাল সদর উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যানের নাম ঠিকমত দেওয়া হয়নি। রয়েছে বিএনপন্থি সাবেক কাউন্সিলরদেরও নাম। বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পরিচয়ে সাইদুর রহমান রিন্টুকে ৯১ নম্বর আসামি করা হয়। ১৭৫ নম্বর আসামি হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বললেও; নাম লিখেছেন সাজ্জাদুর রহমান। এ ছাড়া তারেক শাহকে ৩৮ ও ৮২ নম্বর, ইমরান মোল্লাকে ৪১ ও ৫৪, কামাল হোসেন লিটন মোল্লাকে ১১৫ ও ১৭৭, রফিকুল ইসলাম খোকনকে ১৫১ ও ১৮৬ এবং শেখর চন্দ্র দাসকে ৭০ ও ২০৩ নম্বর আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে।   বিএনপন্থি সাবেক কাউন্সিলরদের নাম আসামির তালিকায় অপরদিকে বিএনপিপন্থি বরিশাল নগরীর সাবেক কাউন্সিলর মো. ইউনুস মিঞাকে ১৪৯, জিয়াউল হক মাসুমকে ১৫৮, হুমায়ন কবিরকে ১৬৩, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রাশিদা পারভীনকে ১৬৫, মজিদা বোরহানকে ১৭১ এবং সেলিনা আক্তারকে ১৭৪ নম্বর আসামি করা হয়।   রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বাদীর বক্তব্য মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ভুলের কারণে অন্তত একজন মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় এসেছে। তবে বাকি তিনজন সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্ত ও যাচাই ছাড়াই এত বড় একটি তালিকা কীভাবে প্রস্তুত হলো।  তদন্তের নির্দেশ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং আসামি তালিকার যথার্থতা যাচাই করা হবে বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী
আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ভূতাপেক্ষ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদোন্নতি, বকেয়া সুবিধার সঙ্গে ১ কোটি টাকা প্রণোদনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ভূতাপেক্ষ (Retrospective) পদোন্নতি দিয়ে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করেছে সরকার। একই সঙ্গে পূর্বের পদ অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি তাকে এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কারণে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি, অবসর এবং আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ১৫০ কর্মকর্তাকে ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট অনুযায়ী, এই তালিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর কিংবা পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আযমীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখ থেকে তাকে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বয়সসীমা শেষে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। কী কী আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন? সরকারি আদেশ অনুযায়ী, তিনি— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন। বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে এককালীন ১ কোটি টাকা পাবেন। এ ছাড়া বয়স ও যোগ্যতা বিবেচনায় তাকে ভবিষ্যতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুপারিশও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। তার পদোন্নতি, আর্থিক সুবিধা এবং সরকারি পদায়নের সুপারিশ এমন একটি বৃহত্তর সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ, যেখানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তার চাকরিজীবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। কী জানা যাচ্ছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে— ২০১১ সাল থেকে ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদোন্নতি; ২০১৪ সালে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীতকরণ; বকেয়া আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ প্রণোদনা প্রদান। সরকারি আদেশে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
তুরাগে নিখোঁজের পর উদ্ধার নিহত সুমন
তুরাগে মিছিল, গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: ২২ জুন আশুলিয়ায় আসলে কী ঘটেছিল? অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল।   যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
ছয় বছরেও হয়নি সংস্কার
দুই বছরেই ধসে পড়ে ৩২ লাখ টাকার সেতু, ছয় বছরেও সংস্কার নেই: গজারিয়ায় দুর্ভোগে স্থানীয়রা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রামের সরকারবাড়ি-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেবে যায়। এরপর বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এর একাংশ ধসে পড়ে। প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে এবং স্থানীয় কয়েক শ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বড় কালীপুরা-তনু সরকার কান্দী সড়কের বড় কালীপুরা গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত ওপরে উঠে গেছে এবং অপর প্রান্ত নিচের দিকে দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নিরাপত্তাহীন অবস্থার কারণে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন অচল থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের দুর্ভোগ স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, "ছয় বছর আগে বন্যার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমাদের অনেক পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এ ভোগান্তির অবসান হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বড় কালীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলে, "সেতু না থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক ঘুরে যেতে হয়। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।" স্থানীয়দের মতে, একটি মাত্র সেতুর অচলাবস্থা পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নদী-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ কারিগরি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি সরকারি সেতু কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ ছয় বছরেও কেন কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
এক বছরে সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ, সরকার বদলালেও কেন থামছে না দুর্নীতি-টিআইবি জরিপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বদলায়। কিন্তু পাসপোর্ট করতে দালালকে টাকা দেওয়া, জমির নামজারি দ্রুত করাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা তদন্ত এগিয়ে নিতে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন—এসব যেন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও কেন সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতির ধরন বদলায় না? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জরিপ বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আগের জরিপের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি কেন কমেনি। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তবে তথ্য বলছে, এই দুই প্রশ্নের উত্তর এক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের চিত্র টিআইবির জরিপ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের সেবা খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, শুধু ঘুষের মোট অঙ্কই বাড়েনি, বেড়েছে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া পরিবারের সংখ্যাও। ২০২৩ সালে যেখানে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেবার তালিকায় রয়েছে— পাসপোর্ট বিআরটিএ বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ভূমি অফিস পাসপোর্ট সেবা নিতে যাওয়া ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। "ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন" জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, ঘুষ দেওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো না কিংবা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থাৎ, বহু ক্ষেত্রে ঘুষ এখন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং নাগরিকের কাছে কার্যত সেবা পাওয়ার অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছে। পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় নেমে এলেও টিআইবি বলছে, এটিকে দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, ব্যক্তি প্রতি ঘুষের অঙ্ক কমলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির বিস্তার বেড়েছে। ডিজিটাল সেবা এখনও সীমিত জরিপে দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপস্থিত হয়ে সরকারি সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে অনলাইনে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের এই উচ্চ হার দালাল চক্র, ফাইল আটকে রাখা, দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তা-সেবাগ্রহীতার অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ বহাল রেখেছে। বর্তমান সরকারের সময় পরিস্থিতি কি বদলেছে? এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে টিআইবির প্রকাশিত জাতীয় জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে সেবা খাতের ঘুষ কমেছে, বেড়েছে নাকি একই অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে টিআইবি। সেখানে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যক্তিগত বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুদকের নেতৃত্বে দীর্ঘ শূন্যতা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু বর্তমান সরকারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়ে। গত মার্চে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর প্রায় সাড়ে তিন মাস কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করেছে এবং আবেদনও আহ্বান করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের সদস্যরা ১২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের হিসাব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের হিসাব নয়। বরং নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিয়েছেন, তার সামগ্রিক অর্থমূল্য। ফলে এই অর্থকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সরকারের ওপর বর্তায় বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। অভিযোগ যে সময়েরই হোক, দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞ কী বলছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতে, সেবা খাতের দুর্নীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছিল। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যে শাস্তির ভয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ঘুষের প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতি বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ। কেউ যদি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিচার হবে না, তাহলে দুর্নীতি কখনও কমবে না।" আরও বলেন, "দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা চলতেই থাকবে। সরকার আওয়ামী লীগের হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের হোক কিংবা বিএনপির—প্রশাসনের একই লোকজন যদি শাস্তির ভয় না পায়, তাহলে সেবা খাতের ঘুষও বন্ধ হবে না।" অনুসন্ধানের সারকথা টিআইবির জরিপ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না। কারণ, ঘুষের সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহির দুর্বলতা, সীমিত ডিজিটাল সেবা, দালালনির্ভর প্রক্রিয়া এবং শাস্তিহীনতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি কার্যালয়, থানা, বিআরটিএ, আদালত কিংবা ব্যাংকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে ঘুষ ছাড়াই সেবা পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সফলতা পরিমাপ হবে নাগরিকের অভিজ্ঞতায়—প্রতিশ্রুতিতে নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে ২৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্রে চরম প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায়। কেন্দ্রের দুটি কক্ষে প্রায় ২৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন বলে নিশ্চিত হয়েছে স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে। পরীক্ষা চলাকালীন কেউই বুঝতে পারেনি যে প্রশ্নপত্রে ভুল রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশ্নপত্র যাচাই করতেই ধরা পড়ে এই গুরুতর অনিয়ম।  কীভাবে ঘটল ভুল? পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও প্রশ্নপত্র বিতরণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সেট প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।  পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা জানান, তারা পরীক্ষার পুরো সময় বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। এখন তাদের আশঙ্কা—এই একটি ভুল তাদের পুরো শিক্ষাবর্ষ ও ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  অভিভাবকদের ক্ষোভ অভিভাবকরা কেন্দ্র পরিচালনার চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন খেলাধুলা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চান। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কেন্দ্র সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছেন এবং বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।  প্রশাসনের অবস্থান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের ওপর বর্তায়। তার মতে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র যাচাই—এই দুই প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট ব্যর্থতা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘটনার পর কলেজ প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।   শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় এমন ভুল শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
মাত্র ৮ মাসে ৬১১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন হাতে লিখে নজির গড়লেন লাকসামের সুরাইয়া জান্নাত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম বিভাগের লাকসাম উপজেলার এক মাদ্রাসাছাত্রী—সুরাইয়া জান্নাত (১৮)—মাত্র ৮ মাসে হাতে লিখে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিপিবদ্ধ করে আলোচনায় এসেছেন। তাঁর হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে তা ছাপানো বইয়ের সঙ্গে পার্থক্য করা কঠিন বলে দাবি স্থানীয়দের। লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আগস্টের শেষ দিকে তাঁর কাজ শেষ করেন। পুরো কুরআন লিখতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় ৮ মাস। স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, সুরাইয়া জান্নাত তাঁর লেখালেখির কাজে মোট প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেন এবং ৬১১ পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন মাজিদ সম্পন্ন করেন। “ফেসবুক নয়, বেছে নিয়েছি কুরআনের সান্নিধ্য” সুরাইয়া জান্নাত জানান, সমবয়সীরা যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করে, তিনি তখন বেছে নিয়েছেন পবিত্র কুরআন লেখার মতো কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং ব্যক্তিগত আত্মশুদ্ধির লক্ষ্য থেকেই এই উদ্যোগ নেন তিনি। প্রতিবার লেখার আগে তিনি অজু করতেন এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে শুরু করতেন বলেও জানান। শিক্ষার ফাঁকে নিরবচ্ছিন্ন সাধনা মাদ্রাসার ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত লিখতেন তিনি। এতে তাঁর একাডেমিক পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটানোর চেষ্টা ছিল বলে জানান। পরিবারের ভূমিকা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ছোটবেলা থেকেই আরবি লেখা ও ক্যালিগ্রাফির প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। মেয়ের এই অর্জনে পরিবার তাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, সুরাইয়া ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, “এ বয়সে এমন একটি কাজ সত্যিই অনন্য নজির। তাঁর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক।” ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুরাইয়া জানান, ভবিষ্যতে তিনি সহিহ বুখারিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি গ্রন্থও হাতে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বরিশালের মুলাদীতে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায়। পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামারপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এ সময় কামরুজ্জামান বাবু ও সুমন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্রেফতারি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর একই রাতেই মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা আসামি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে রাত ১টার দিকে আসামির স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয় বলে পুলিশ জানায়। তবে রাশেদুল ইসলাম সেতুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া স্থানীয়ভাবে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি গত ২৩ জুন রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার ৫ নম্বর আসামি। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
নান্দাইল কলেজে পিয়নের প্রতারণার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত, গেটে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভুক্তভোগীরা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় কলেজ গেটের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই শিক্ষার্থী—মনিমুক্তা আক্তার ও ইসমাত আরা বেগম। অভিযোগ উঠেছে, কলেজেরই এক পিয়ন মো. শাহজাহান পরীক্ষার ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র সংগ্রহের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে মোট ২২ হাজার ৪০০ টাকা গ্রহণ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি দুই শিক্ষার্থী। কীভাবে ঘটল ঘটনাটি স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের এইচএসসি ফরম পূরণের অনুমতি দেয়নি। এই সুযোগে পিয়ন শাহজাহান “ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে ফরম পূরণ ও প্রবেশপত্র ব্যবস্থা করে দেবেন”—এমন আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি নির্দেশ দেন এবং ওই আশ্বাসের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেন। পরীক্ষার দিন যা ঘটল পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে পিয়ন তাদের আশ্বস্ত করে জানান, সকালে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে কলেজে এসে তারা জানতে পারেন—প্রবেশপত্রের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পরে পিয়নকে ফোন করা হলে তিনি আর ফোন ধরেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পিয়ন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইনামুল হক জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র একজন পিয়ন। ফরম পূরণ বা পরীক্ষার প্রবেশপত্র ইস্যু করার কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা তার নেই। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বড় প্রশ্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলেও কীভাবে শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হলেন—এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকি ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমু
সোনারগাঁয়ে কলেজছাত্রীকে খালি বাসায় ডেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, চাঁদা দাবি ৫০ হাজার টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক কলেজছাত্রীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৯ জুন সকালে স্থানীয় একটি চক্র ওই কলেজছাত্রীকে একটি পরিত্যক্ত বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং তাদের সহযোগী রিফাতসহ কয়েকজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই কলেজছাত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রেখে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মমিন আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে মানুষকে বাসায় ডেকে এনে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
এইচএসসি প্রথম দিনে ২৪,৭৮৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত, বহিষ্কার ৭ জন: পরীক্ষার কঠোর নজরদারির চিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড় ধরনের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাত জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অনুপস্থিতির বিভাজন: কোন বোর্ডে কতজন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ১৭,২৩৩ জন অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪,৪৭৮ জন অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৩,০৭৩ জন অনুপস্থিত অন্যদিকে, বহিষ্কারের ঘটনাতেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। মোট সাত জন বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের, একজন মাদ্রাসা বোর্ডের এবং একজন কারিগরি বোর্ডের। দেশের ১১ বোর্ডে একযোগে পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয় আলিম পর্যায়ের কোরআন মাজিদ পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ (HSC BMT) পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজরদারি জোরদার করেছে। সব বোর্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ—যা পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রথম দিনের এই অনুপস্থিতির হার ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, চাপ এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
গ্রেফতার বাকী বিল্লাহ
শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার বাকী বিল্লাহ গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (২৬) ধর্ষণের অভিযোগে তার ভগ্নিপতি ও স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বাকী বিল্লাহ (৫২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আদালতের নির্দেশে মামলার রেকর্ডের পর দ্রুত তদন্তে আসে এবং অভিযুক্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মামলার নথি ও স্থানীয় পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী অভিযুক্তের চাচাতো শ্যালিকা। একই এলাকায় বসবাসের কারণে পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যাতায়াত করতেন ভুক্তভোগীর বাড়িতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই সুযোগে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে ১ জুলাই নন্দীগ্রাম থানা মামলা রেকর্ড করে এবং একই দিন রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে বাকী বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস
জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত সহিংসতাসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন এবং আহত ছিলেন ২৮৯ জন। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ? এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় অংশই ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে— বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২১টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সংঘর্ষের আরও ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির চারজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, ছাত্রশিবিরের একজন, ইউপিডিএফের একজন এবং একটি চরমপন্থী সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। সহিংসতার পেছনে কী কারণ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনে ছিল— আধিপত্য বিস্তার রাজনৈতিক বিরোধ দলীয় ও অন্তর্কোন্দল চাঁদাবাজি এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের ৩ জন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিএনপির ৫ জন চরমপন্থী দলের ১ সদস্য একই সময়ে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলকে কেন্দ্র করে ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায়— ৬২৭ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১,২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪,৭৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে— আওয়ামী লীগের অন্তত ১,৫৫৯ জন বিএনপির ৩৫ জন জামায়াতের ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মব সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে— ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এইচআরএসএস বলছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ২৮ জন আহত ৫ জন লাঞ্ছিত ৯ জন হুমকির মুখে ৫ জন আটক এছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৬টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে— ১১টি ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছেন। ৭টি মামলা হয়েছে। অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির নেতাদের সমালোচনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় পৃথক চারটি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও কারাগারে প্রাণহানি এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জুন মাসে কারাগারে ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘু ও সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে— সংখ্যালঘুদের ওপর ১২টি হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া— ১২টি মন্দির ১১টি প্রতিমা ৭টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার শিকার হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে— ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত ২ জন আহত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ একজনকে আটক করেছে এবং সাতজনকে পুশইনের পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পৃথক তিন ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শ্রমিক, নারী ও শিশুর চিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী— শ্রমিক ৫৫টি ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত ১৮৪ জন আহত কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিক নিহত নারী জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার ৭৫ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার ধর্ষণের পর ২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনায়— ৪ জন নিহত ৪ জন আহত ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায়— ৫৭ জন নিহত ৪৮ জন আহত ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। শিশু জুন মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে— ৫৪ জন নিহত ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এইচআরএসএস কী বলছে? সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষণ জুন মাসের এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্থানীয় আধিপত্য, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা জটিলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে সমান্তরাল উদ্বেগের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সব পরিসংখ্যান ও দাবি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
নিহত মোতালেব
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের ১০টি মসজিদে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মসজিদের মধ্যে আটটিই সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকি দুটি মসজিদের মধ্যে একটি নাচোল এবং অন্যটি ভোলাহাট উপজেলায়। নাচোলে বরাদ্দ পাওয়া মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামের বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই সংসদীয় এলাকার তিনটি উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন একটি উপজেলায় মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ চলে গেছে। বরাদ্দের চিত্র খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, যা পুরো আসনের প্রায় অর্ধেক প্রশাসনিক ইউনিট। তবে বরাদ্দের তালিকায় দেখা যায়— গোমস্তাপুর উপজেলায় আটটি মসজিদ রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ নুনগোলা জামে মসজিদ সন্তোষপুর জামে মসজিদ দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ দিঘা বাজার জামে মসজিদ পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ কাশিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নাচোল উপজেলায় একটি মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ ভোলাহাট উপজেলায় একটি মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ 'সমতার ভিত্তিতে হলে চিত্র ভিন্ন হতো' স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর দাবি, প্রশাসনিক ইউনিটের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হলে নাচোল ও ভোলাহাটে তিনটি করে এবং গোমস্তাপুরে চারটি মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, "সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ হলে দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া যেত। সেই হিসাবে নাচোল তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোমস্তাপুর পেয়েছে আটটি।" রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, "নাচোলে যে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।" ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জের ভাষ্য, "উপজেলাভিত্তিক আনুপাতিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান বণ্টন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।" জামায়াত নেতাদের বক্তব্য: 'ভুল হয়েছে' সমালোচনার মুখে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, "আগের বরাদ্দগুলো সমতার ভিত্তিতে হয়েছিল। এবার একটু ভুল হয়েছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।" সংসদ সদস্য যা বলছেন সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তার ভাষ্য, "তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল, সেখান থেকেই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দেখি গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।" যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে এই বরাদ্দকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মসজিদ নির্বাচন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? আবেদনকারীর সংখ্যা, প্রয়োজন নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা—কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে? একই সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক যাচাই ছিল কি? ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সরকারি অর্থে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্য অধিদফতর
বেসরকারি হাসপাতাল নজরদারিতে নতুন নির্দেশনা: চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা পদক্ষেপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সব সিভিল সার্জনকে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক নিয়োগ বাধ্যতামূলক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল সার্জনদের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। ২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. জমা দেওয়া ডিউটি রোস্টার ও চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে। ৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ঘোষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদান, এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো নিয়মিত ডিউটি রোস্টার, চিকিৎসকদের নিবন্ধন তথ্য এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির ব্যবস্থা করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে ফের বিস্ফোরণ, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক; সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে সীমান্তঘেঁষা রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে বাংলাদেশের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে সীমান্তঘেঁষা এলাকার বাড়িঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। ঘটনাটির পর সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) দিন ও রাতে রাখাইনের মংডু শহরে বিমান থেকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তাঁর ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং প্রতিটি বিস্ফোরণেই সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। সে সময় সীমান্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলেন। নতুন করে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয়দের মধ্যে সেই উদ্বেগ আবারও ফিরিয়ে এনেছে। হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার জেলে রহমত উল্লাহ জানান, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলেও দুপুরের দিকে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত তীরে ফিরে আসেন। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ অংশ অতীতে একাধিকবার সংঘর্ষের অভিঘাতের মুখে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাও সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র
এইচএসসি ২০২৬: নরসিংদীর কেন্দ্রে ভুলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার, তদন্তে জেলা প্রশাসন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,     "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়,     "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে—     কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো?     প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন?     ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন?     এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না?     শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0
কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিক্ষোভে গ্রাহকরা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
পিরোজপুরের নাজিরপুরে শিব মন্দিরের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় আনসার কমান্ডারকে কুপিয়ে জখম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুরুতর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক ইউপি কমান্ডারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিল। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি মো. আজিজুল শেখ, তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে অভিযুক্তরা মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তপন চক্রবর্তী বাধা দেন। এরপরই তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা ও প্রতিবেশীকেও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ আহত তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য, হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন এবং তার ছেলে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বক্তব্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, তপন চক্রবর্তীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই আহত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের অবস্থান নাজিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই অবগত ছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্ত আজিজুল শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিব মন্দিরের জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড কী বলছে? জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন হয়নি? হামলার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি কী ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
মাগুরায় কৃষকদল নেতা কারাগারে
বিয়ের আশ্বাসে প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেফতার, কারাগারে প্রেরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে প্রতারণা এবং পরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মাগুরা সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অভিযোগ কী? মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারী ও রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান রায়হান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি অন্যদিকে, রিফাতুল ইসলাম রায়হানের পরিবারের দাবি, মামলাটি পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আলামত এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিচারাধীন বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0