Brand logo light

খুলনা

মোরেলগঞ্জ থানা
মোরেলগঞ্জে বিএনপি কর্মী মিন্টু শেখকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নেওয়ার অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মিন্টু শেখ ওরফে মিঠু শেখ নামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর উপজেলার বোলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিন্টু শেখের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার ডান হাত কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
হরিণাকুণ্ডুরতে মাটি পরিবহনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮৬ কোটি টাকার সড়ক
ঝিনাইদহে ৮৬ কোটি টাকার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, অবৈধ মাটি পরিবহনে দুর্ভোগে স্থানীয়রা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা থেকে সিঙ্গা অভিমুখে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কারণে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদা জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রাডাঙ্গা এলাকায় ভেকু (এক্সকেভেটর) দিয়ে মাটি কাটার কারণে সড়কের ওপর কাদার স্তূপ তৈরি হয়েছে। এতে মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে পথচারীদেরও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। তবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবাধে মাটি কাটায় নতুন নির্মিত সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এলাকার বাসিন্দা শরিফুল মন্ডল বলেন, “এত বড় প্রকল্পের রাস্তা অল্প সময়েই নষ্ট হওয়ার পথে। প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের সময় কাদা ছড়িয়ে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে জানতে হরিণাকুণ্ডু সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
রানা, শহীদ ও কল্লোলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
যশোর-বেনাপোল সীমান্তে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট: ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য’: স্বর্ণ, রাজনীতি ও ভয়ভীতির জাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোর-বেনাপোল সীমান্তজুড়ে কয়েক বছর ধরে গড়ে উঠেছে স্বর্ণ চোরাচালান, হুন্ডি ও মাদক পাচারকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র। স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, সীমান্ত রুট নিয়ন্ত্রণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এই চক্র এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি একটি প্রাইভেট কার থেকে তিন কেজির বেশি স্বর্ণ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় সেই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম আবারও সামনে চলে এসেছে। এই ঘটনার পর মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ ও সীমান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদের নাম উঠে আসছে গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদ ওরফে ‘গোল্ড শহীদ’ এবং বেনাপোলের কথিত স্বর্ণ কারবারি ‘গোল্ড নাসির’-এর নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় মাগুরা যুবদলের সভাপতি ওয়াসিকুর রহমান কল্লোলের নামও তদন্তে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয় যুবদল ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের রুট ও সিন্ডিকেটের বিস্তার গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সময়কালে বেনাপোলের পুটখালী, দৌলতপুর, ঘিবা, গোগা ও সাদিপুর সীমান্ত ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ভারতে পাচার হয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, আগে যেসব রুট স্থানীয় যুবলীগ-সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করত, বর্তমানে সেখানে নতুন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে হুন্ডি ও মাদক পাচারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। ভোররাতের অভিযান: গাড়ির হেডরেস্টে লুকানো স্বর্ণ গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে অভিযান চালায়। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির হেডরেস্টের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার ওজন তিন কেজির বেশি। এ সময় পাঁচটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ব্যবহৃত গাড়িটিও জব্দ করা হয়। অভিযানে আটক হন শার্শার রাজনগর গ্রামের রনি, চৌগাছার উত্তর কয়ারপাড়ার আব্দুল গনি এবং কোতোয়ালির বাগডাঙ্গা এলাকার ইসরাইল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও উত্তরা এলাকা থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে তা সীমান্ত পথে ভারতে নেওয়া হচ্ছিল। যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্তকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালান ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। দুদকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং চক্রের কয়েকজন সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্বস্তি ও সাংগঠনিক চাপ যুবদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দল কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। অভিযোগের সত্যতা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্ত কমিটির প্রধান শাহ নাসির উদ্দিন রুমানও জানিয়েছেন, প্রমাণ মিললে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আনসারুল হক রানা প্রকাশিত প্রতিবেদনকে “ষড়যন্ত্রমূলক” দাবি করে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ‘অদৃশ্য প্রভাববলয়’ তৈরি হয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থের প্রভাব এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ পাচার শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অবৈধ অর্থপাচার, আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও। ফলে চলমান তদন্ত কতদূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
মোংলা
মোংলায় হোটেলে এনজিও কর্মীর গোসলের ভিডিও ধারণ: ম্যানেজারসহ দুইজন গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মোংলার একটি আবাসিক হোটেলে এক নারী এনজিও কর্মীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণের অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—হোটেলটির ম্যানেজার মো. মহসীন (৪০) ও কর্মচারী বনি আমিন (২৩)। স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ চলছিল। পুলিশ জানায়, পেশাগত কাজে মোংলায় এসে মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে অবস্থান নেন এক নারী এনজিও কর্মী। রাতের একপর্যায়ে তিনি তার কক্ষের বাথরুমে গোসল করছিলেন। এ সময় পাশের একটি বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁকা অংশ দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার গোসলের ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী চিৎকার করলে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়। পরে তিনি ওই রাতেই থানায় গিয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতেই হোটেলটিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তথ্য-প্রমাণসহ ম্যানেজার মো. মহসীন ও কর্মচারী বনি আমিনকে আটক করা হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মামলার বাকি আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
গরু
ফকিরহাটে সরকারি প্রকল্পের গরু বঞ্চনা: ঘুষ না দেওয়ায় জেলের অভিযোগ

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সরকারি একটি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গরু না পেয়ে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন তারাপদ বিশ্বাস নামে এক দরিদ্র জেলে। ভুক্তভোগীর দাবি, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গরু দেওয়া হয়নি; বরং তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে হস্তান্তরের পর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলধা-মৌভোগ ইউনিয়নের ডহরমৌভোগ গ্রামের বাসিন্দা তারাপদ বিশ্বাস উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে তাকে একটি গরু বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বিতরণ তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে তিনি কোনো গরু পাননি বলে অভিযোগ করেন। ‘ঘুষ না দেওয়ায় বঞ্চিত’ তারাপদ বিশ্বাসের অভিযোগ, স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে গরু বিতরণের প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জেলে কার্ড নেওয়া হয়। পরে ‘অফিস খরচ’ বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে না পারায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তার অজান্তেই তার নামে বরাদ্দকৃত গরুটি অন্যের কাছে তুলে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। শুক্রবার (১ মে) তিনি জানান, তালিকার ৩৯ নম্বরে তার নামে থাকা প্রায় ৬০ কেজি ওজনের একটি বকনা বাছুর পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।” একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তারাপদ বিশ্বাস দাবি করেন, একই দিনে বিতরণ করা প্রায় ৬০টি গরুর মধ্যে একাধিক তালিকাভুক্ত জেলে প্রকৃতপক্ষে গরু পাননি। তার ছেলে প্রহলদ বিশ্বাস অভিযোগ করেন, “একইভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও গরু দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করলে সব বেরিয়ে আসবে।” অন্যের গোয়ালে ‘বরাদ্দের গরু’ অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই ইউনিয়নের শ্রীনাথ বৈরাগীর পরিবারের গোয়ালে ওই গরুটি রয়েছে। পরিবারটির সদস্যরা জানান, গরু পাওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে তারা গরুটি গ্রহণ করেন।পরে তারা জানতে পারেন, গরুটি অন্য একজনের নামে বরাদ্দ ছিল। শ্রীনাথ বৈরাগীর ছেলে বলেন, গরু গ্রহণের সময় মাস্টার রোলে তারাপদ বিশ্বাসের নামে যে স্বাক্ষর রয়েছে, তা তিনি দেননি। এছাড়া গরু নেওয়ার সময় তারাপদের কোনো পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি। ‘ভয়ভীতি প্রদর্শনের’ অভিযোগ অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারকে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। প্রহলদ বিশ্বাস বলেন, “অভিযোগ করার পর আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।” অভিযুক্তের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোহিত বালা তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি গরু পাইয়ে দেওয়ার কোনো ক্ষমতা আমার নেই। মৎস্য দপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কেও আমি অবগত নই।” প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহ বলেন, তারাপদ বিশ্বাস তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, “তিনি উপস্থিত না থাকায় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তার ছেলে দাবি করা এক ব্যক্তির কাছে গরুটি হস্তান্তর করা হয়েছে।” তবে যথাযথ যাচাই ছাড়া গরু প্রদান করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।তিনি জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাঠ সহায়ক কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হবে।“অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
পীর শামীম হত্যা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর শামীম হত্যা: ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আলমগীর হোসেন (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ইসলামপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে তাকে শিশু-কিশোর পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আলমগীরকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এর ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আলমগীরের খালা রোজিনা খাতুন বলেন, ঘটনার সময় আলমগীর দরবারে উপস্থিত ছিল না। তার দাবি, ওইদিন দুপুরে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পর বিদ্যুৎ না থাকায় বিষয়টি জানতে চায় আলমগীর। পরে পরিবারের সঙ্গে আগুন নেভানোর সময় ঘটনাস্থলে গেলেও হামলার সময় সে সেখানে ছিল না। রোজিনা খাতুন আরও অভিযোগ করেন, রাত প্রায় ২টার দিকে পুলিশ এসে আলমগীরকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও পরে থানায় গিয়ে পরিবার জানতে পারে, তাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। এর আগে, একই ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তারা হলেন বিপ্লব (২৬) ও আলিফ ইসলাম (২৩)। পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করা হয়েছিল। ঘটনার পটভূমি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও, যেখানে পীর শামীমের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ ওঠে, সেটি ১০ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ১১ এপ্রিল সকালে শতাধিক মানুষ শামীমের দরবারের কাছে জড়ো হয়ে পরে হামলা চালায়। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর ১৩ এপ্রিল শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি হিসেবে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।  পুলিশের বক্তব্য দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর ইসলাম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই আলমগীরকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
ভুক্তভোগী দুই পরীক্ষার্থী জিহান ও রিহান।
যশোরে বিজ্ঞান বিভাগের দুই এসএসসি পরীক্ষার্থী পেল মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ঘিরে গুরুতর প্রশাসনিক অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ভুলে বিজ্ঞান বিভাগের দুই পরীক্ষার্থীকে মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তাদের নির্ধারিত বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী হলেন মাছনা গ্রামের যমজ ভাই জিহান ও রিহান। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় তাদের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিদ্যালয় থেকে দেওয়া প্রবেশপত্রে দেখা যায়, সেখানে তাদের বিভাগ হিসেবে ‘মানবিক’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনকে জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসলেও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত প্রবেশপত্র দিতে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রায় এক বছর আগে বিদ্যালয়ে পৌঁছেছিল। তখনই ভুল সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি প্রধান শিক্ষকের অবহেলাকে ঘটনার জন্য দায়ী করে কঠোর জবাবদিহিতার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল পরীক্ষার আগেই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের নির্ধারিত বিজ্ঞান বিভাগেই পরীক্ষা দিতে পারবে। এদিকে পরীক্ষার মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় যমজ দুই ভাইয়ের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। তারা বলেন, সময়মতো সমাধান না হলে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন স্বীকার করেন যে এটি একটি ভুল। তিনি বলেন, বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা চলছে। এখন নজর শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে—শেষ মুহূর্তে এই প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ব্রিজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি
আগৈলঝাড়ায় ব্রিজ ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ, ঢালাই ভেঙে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় একটি ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)–এর প্রকৌশলী। পরে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যান আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী। পরিদর্শনকালে উপস্থিত স্থানীয় শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার ব্রিজের ঢালাইয়ের সময় শেষ অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি যুক্ত করে ঢালাই দেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা। এলজিইডি প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে পুনরায় নির্মাণের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে পাঠানো হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, ব্রিজটির স্ট্রাকচারটি গত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের ১ শতাংশ অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। তবে সেই সময় উপরের ঢালাই সম্পন্ন হয়নি। চলতি অর্থবছরে ঢালাইয়ের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ বা অনুমোদন ছিল না বলে জানান ইউএনও। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নিজের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাই কাজ করেন। তবে শেষ অংশে এসে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। উপজেলা প্রকৌশলীর বরাতে তিনি বলেন, বাঁশ ব্যবহারের কারণে কাঠামোটি পর্যাপ্ত মজবুত হয়নি, তাই এটি ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম করে সরকারি প্রকল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
বাগেরহাটে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু: জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল, টোপ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাগেরহাটের খানজাহান (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু: জলাতঙ্ক আক্রান্ত ছিল বলে জানাল তদন্ত কমিটি, ‘টোপ হিসেবে ব্যবহারের’ অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি । বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নানা অভিযোগের সত্যতা পায়নি জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে দিঘির প্রধান ঘাট থেকে একটি কুকুরকে টেনে পানিতে নিয়ে যায় একটি কুমির। ঘটনাটির ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া এবং টোপ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যায় এবং সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন প্রমাণ বিশ্লেষণে কুকুরটিকে ইচ্ছা করে কুমিরের মুখে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত দিঘিতে পড়ে যায় এবং প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।” তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দিয়েছিল। মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ আক্রান্ত কয়েকজন ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন বলে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে ১১ এপ্রিল প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয় এবং নমুনা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল-এর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। তিনি আরও বলেন, “যাদের কুকুরটি কামড় দিয়েছে, তারা টিকা নিয়েছেন। তাই তাদের ঝুঁকি কম। তবে টিকা না নিলে ঝুঁকি থাকতে পারত।” তিনি যোগ করেন, কুমিরের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ এটি হিংস্র প্রাণী এবং এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি তার ক্ষেত্রে কার্যত নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মরদেহের ‘দাফন না সৎকার’
মোল্লাহাটে ধর্মীয় পরিচয় ঘিরে মরদেহ দাফন ও সৎকার নিয়ে উত্তেজনা, পুলিশে হস্তান্তর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না সৎকার—এ নিয়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে মোল্লাহাট থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের সন্তান। প্রায় ২১ বছর আগে তিনি এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পরিবর্তন করে ‘কাজী সোহাগ’ রাখেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকায় মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে এক সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। তার মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলেও জানা গেছে। মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে মরদেহ মোল্লাহাটের উত্তরআমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে নেওয়া হয় সৎকারের প্রস্তুতির জন্য। এরপর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তার স্ত্রী মমতাজ মিম ও ছেলে আব্দুর রহমান। তারা দাবি করেন, কাজী সোহাগ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই তার দাফন মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী হওয়া উচিত। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। নিহতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তবে তিনি পুনরায় ধর্ম পরিবর্তনের কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, “মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
পির  শামীম  হত্যা
কুষ্টিয়ার পীর শামীম রেজা হত্যা: ৪ জনের নামসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের সময় নিহতের আরও দুই ভাই থানায় উপস্থিত ছিলেন। মামলার এজাহারে উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি রাজীব দফাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া এজাহারভুক্ত চারজনসহ মোট ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, “এজাহারভুক্ত চারজনসহ অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর থেকে ফিলিপনগর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে’ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ওই আস্তানায় ইসলাম ধর্ম বিকৃতি করা হচ্ছিল। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি দল দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীর। পরে তিনি মারা যান। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আস্তানার পাশের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুমেবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সার্জারি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছর তিনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা শিক্ষা ও সার্জারি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি চিকিৎসা অঙ্গনে একজন দক্ষ শিক্ষক ও সফল সার্জন হিসেবে সুপরিচিত। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করছেন, তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও চিকিৎসা শিক্ষায় অভিজ্ঞতা খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে উচ্চতর চিকিৎসা গবেষণা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে তার নেতৃত্ব সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে চিকিৎসক সমাজসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। তিনি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত হামলায় পীর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পরিকল্পিত হামলায় পীর শামীমকে পিটিয়ে হত্যা :দাবি ভক্তদের, দাফন সম্পন্ন

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দরবারের প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দরবারের আরও তিন ভক্ত—মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আছর স্থানীয় কবরস্থানে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।  এখনো মামলা হয়নি ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের বড়ভাই ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, পারিবারিক আলোচনা শেষে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।  হামলার কারণ কী? স্থানীয়দের দাবি, ইসলাম ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা এ হামলা চালায়। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।  পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ নিহতের পরিবার ও অনুসারীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা। পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে উত্তেজনা তৈরি করা হয় এবং পরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।  আগের বিতর্ক জানা যায়, ২০১৮ সালে নিজ বাড়িতে দরবার প্রতিষ্ঠা করেন শামীম রেজা। ২০২১ সালে একটি শিশুর লাশ বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে দাফনের ভিডিও ভাইরাল হলে তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছিল এবং তিনি কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান।  প্রশাসনের বক্তব্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও জনতার তুলনায় সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। এভাবে আইন হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
কুকুরকে ধরে নিয়ে গেল কুমির
বাগেরহাটে খানজাহান আলী মাজারে কুমিরের মুখে কুকুর: ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তদন্তের নির্দেশ

বাগেরহাট : বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের শিকার হওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণ করলেও কুকুরটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী, মাজারের খাদেম ও নিরাপত্তাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত। গত ৮ এপ্রিল বিকেলে একটি অসুস্থ কুকুর মাজার এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা কুকুরটিকে তাড়া দেয় এবং লাঠি ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে কুকুরটি দৌড়ে প্রধান ঘাটে চলে যায়। সেখানে নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার কুকুরটিকে তাড়াতে গেলে সেটি তার পায়ে আঁচড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। এ সময় ঘাটের পানির নিচে থাকা একটি কুমির মুহূর্তেই কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে এবং সেটি পাড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটির কামড়ে অন্তত ৭-৮ জন আহত হয়েছেন এবং তারা বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুকুরটিকে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হলেও তা সঠিক নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওতে কুকুরটিকে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়নি, তবে সেটি দুর্বল ছিল এবং পানির বাইরে উঠতে পারছিল না। মাজারের খাদেমরা জানান, বর্তমানে দিঘিতে মাত্র একটি কুমির রয়েছে, যা ২০০৫ সালে ভারত থেকে এনে ছাড়া হয়েছিল। ঘটনাটি নজরে আসার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এরই মধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা-অগ্নিসংযোগ
কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা-অগ্নিসংযোগ: ‘কালান্দার বাবা’ শামীম রেজাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা, আহত ২

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে আব্দুর রহমান শামীম রেজা (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘কালান্দার বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন। শনিবার (দুপুর আড়াইটার দিকে) উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় তার দরবারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় শামীম রেজা ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন এবং তার দুই অনুসারীও মারাত্মকভাবে জখম হন। পরে তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক শামীম রেজাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শামীমের একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার সময় এলাকায় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হঠাৎ ৩০০-৪০০ লোকের একটি দল দরবারে হামলা চালায়। পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করে দরবারে প্রবেশ করে এবং শামীম রেজাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পুলিশ তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও এর মধ্যেই তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পুলিশ আরও জানায়, শামীম রেজা বিভিন্ন সময়ে একাধিক নাম ব্যবহার করতেন এবং বিভিন্ন ধর্মের উপাদান মিলিয়ে একটি মিশ্র মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করতেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
মোংলা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড তেল স্থাপনা
মোংলায় যমুনা অয়েল ট্যাংকে ১২ হাজার লিটার অতিরিক্ত ডিজেল, ম্যানেজার বরখাস্ত

বাগেরহাটের মোংলা তেল স্থাপনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর তিনটি ট্যাংকে হিসাবের তুলনায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া গেছে। এটি সংশ্লিষ্টদের চোখে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের প্রমাণ। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৯ মিনিট থেকে ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও এনএসআই যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানকালে ট্যাংকগুলির তেল পরিমাপ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্যাংক নং ১: হিসাবের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি। ট্যাংক নং ৯: হিসাবের তুলনায় ১২,৮১৮ লিটার বেশি। ট্যাংক নং ১৪: হিসাবের তুলনায় কিছুটা কম, তবে মোট অতিরিক্ত ডিজেল হিসাব করলে ১২,৬১৩ লিটার পাওয়া যায়। এই ঘটনায় যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) মো. আল আমিন খান সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তেল ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাশ বলেন, “জ্বালানি তেলের মজুতে গরমিল ও অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে পাঠানো হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।” বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “অভিযানে তিনটি ট্যাংকে সংরক্ষিত তেলের পরিমাণ এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া গেছে। এটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সঙ্গে মেলেনি।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ট্যাংকে অতিরিক্ত তেল রাখা হয়েছে হিসাব কম দেখানোর জন্য, যা বড় ধরনের জালিয়াতি ও পাচারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
চিকিৎসার অভাবে সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত
খুলনায় চিকিৎসার অভাবে সন্তান বিক্রির সিদ্ধান্ত

খুলনার পাইকগাছায় চরম দারিদ্র্য ও চিকিৎসা সংকটে পড়ে এক পরিবার সন্তানের বিক্রির মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার মানবিক সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিবারের জীবনে ফিরেছে নতুন আশার আলো। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামের বাসিন্দা আত্তাব গাজী (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে লিভারের টিউমার ও সিরোসিসে ভুগছেন। অর্থাভাবে তার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী শাহিদা খাতুন ও চার কন্যা সন্তান নিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে। একপর্যায়ে চিকিৎসার খরচ জোগাতে ছোট মেয়েকে বিক্রির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হন তারা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে এসএম এনামুল হক-এর। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অসুস্থ আত্তাব গাজীর খোঁজ নেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেন, যা আত্তাব গাজীর স্ত্রী শাহিদা খাতুনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রেজাকপুরের একটি ছোট কুঁড়েঘরে বসবাস করা এই পরিবারের আর্তনাদ দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত ছিল। তবে এই সহায়তার পর পরিবারটিতে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জেগেছে। এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) অসুস্থ আত্তাব গাজীর চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তিরাও আত্তাব গাজীর মতো চিকিৎসাবঞ্চিত অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
আমির হামজা
বাগেরহাটে পুলিশ পরিচয়ে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা

বাগেরহাট, ২৬ মার্চ: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক কলেজছাত্রকে পুলিশ পরিচয়ে ছয়জন দুর্বৃত্ত গুলি করে হত্যা করেছে। নিহতের নাম আমির হামজা (২৩)। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করতেন। পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিকেল চারটার দিকে আমির হামজা বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা ছয়জন যুবক বাড়িতে প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে ধাওয়া করে। আতঙ্কে আমির হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে খালের পাড়ে পড়ে যান। সেখানে তার মাথায় গুলি করে হামলাকারীরা চলে যায়। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দুষ্কৃতিদের শনাক্তের চেষ্টা করছেন। এর আগে, চলতি মাসে বাগেরহাটে এ ধরনের হামলার দুটি ঘটনা ঘটেছে। ৭ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নূর ইসলাম (২৭) নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়। এরপর, ১৪ মার্চ রাতে সোহাগ শেখ (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়। উল্লেখ্য, সোহাগ হত্যার ঘটনায় মামলা থাকলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
খুলনায় তেল সংকট
খুলনায় তেল সংকট তীব্র: পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত সরবরাহে চরম ভোগান্তি

খুলনা: তীব্র তেল সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরীসহ আশপাশের জেলা। পেট্রল পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, আর অধিকাংশ পাম্পেই ঝুলছে ‘তেল নেই’ নোটিশ। সীমিত সরবরাহের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকারে ১০ লিটার করে তেল দেওয়া হলেও তাতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। ঈদের আগ থেকেই শুরু হওয়া এই সংকট এখনো কাটেনি, বরং দিন যত যাচ্ছে ততই বাড়ছে দুর্ভোগ। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় নিউ মার্কেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শতাধিক মোটরসাইকেলচালক দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। একই সঙ্গে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও হাইয়েস মিলিয়ে প্রায় ১৫টি যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। শাওন নামে এক প্রাইভেটকার চালক জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি মাত্র ১০ লিটার অকটেন সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এ সময় পাম্পের আশপাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং লাইনের দৈর্ঘ্য প্রায় এক-চতুর্থাংশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। অন্যদিকে, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন একটি ফিলিং স্টেশনেও মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এম. মোর্শেদ নামে এক মোটরসাইকেলচালক জানান, তুলনামূলক কম ভিড়ের কারণে তিনি বৈকালীর একটি পাম্প থেকে নিয়মিত তেল নিতেন। তবে বর্তমানে খুলনা থেকে আড়ংঘাটা পর্যন্ত প্রায় সব পাম্পেই একই চিত্র—দীর্ঘ লাইন ও তীব্র ভিড়। তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
প্রাণ গেল বর-কনের
রামপালে বিয়ের গাড়ির ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত

বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৯ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।       নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, গাড়িচালক নাঈম শেখ,  শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ। নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, কয়রা উপজেলার নাকশায়  দুপুরে তার ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর জেনেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কনে মার্জিয়া মিতু, তার বোন লামিয়া, নানি ও তার দাদিসহ মোট ৪ জন মারা গেছে।   কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ আছে।রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে।   গাড়িচালক নাঈমের বন্ধু বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন আমার কাছে ফোন আসে রামপালে নাঈম এক্সিডেন্ট করছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি নৌবাহিনীর গাড়ির সাথে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখলাম সে মারা গেছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ঝিনাইদহের শৈলকুপা
ঝিনাইদহে ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত -৫০

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ’র কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মির্জাপুর ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কার্ড ইস্যু করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সায়েম আলীর কাছে কার্ড চান যুবদল নেতা শামীম হোসেন লস্কর। এ নিয়ে দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে সন্ধ্যায় স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বররা সালিশে বসে। এরই এক পর্যায়ে সায়েম আলী ও শামীম হোসেনের সমর্থকর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত ৮ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0