Brand logo light

আন্তর্জাতিক

ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার অক্ষত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও অক্ষত: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি প্রশ্নে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবার মিথ্যা প্রমাণিত করেছে খোদ মার্কিন এক গোয়েন্দা সংস্থা। গোপনএই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র।  বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বহু ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে।  তবে এই মূল্যায়ন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, ‘ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’  দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’ একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কেউ মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুরোপুরি পুনর্গঠন করেছে, তাহলে সে হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির মুখপাত্র।’  উল্লেখ্য, জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার
হরমুজ প্রণালিতে ফের শক্তিশালী ইরান: ৩০ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল, নতুন তেল সংকটের শঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, তেহরানের যুদ্ধপূর্ব অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি আঘাত হানতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৯০ শতাংশ পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। এসব স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গেলে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের গত কয়েক সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী “পুরোপুরি ধ্বংস” হয়ে গেছে। পরে তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার বড় অংশ নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও  এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীপিট হেগসেথ। তবে নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৩ হাজার হামলার পরও অক্ষত ইরানের বড় অংশের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ দিনে ১৩ হাজারের বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলেও দেশটির ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও টিকে আছে। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হাতে এখনও কয়েক হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী(আইআরজিসি)ও একই ধরনের দাবি করছে। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের “পুরোনো মজুদ” থেকেই মাত্র ৩ হাজার ৬০০ ড্রোন এবং ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের এক সংসদ সদস্য তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি-কে বলেছেন, বিদ্যমান মজুদ দিয়েই “বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানো সম্ভব”। হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশ এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে ৭৫ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্তর। এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে আমদানির উৎস বহুমুখী করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করছে সরকার। চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিi-এর সরকার দাবি করেছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকারের দাবি ছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নতুবা ইরানকে “ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে”। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। ফলে পরিস্থিতি এখন দুটি সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে— এক. দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি অচলাবস্থা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। দুই. নতুন করে সামরিক সংঘাত, যা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসন যদিও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর অস্বীকার করছে, তবে একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বাড়তি তৎপরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বেইজিং এই সংঘাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করছে চীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে তানভীর কবিরকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে যাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত কাউন্সিলর (প্রজেক্ট) তানভীর কবিরকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্যত্যয় এবং কর্মক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। বদলি আদেশ কার্যকর না করা থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্মীদের চাকরিচ্যুতির চেষ্টা, বিতর্কিত নিয়োগ এবং তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মিশনটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ মে বার্লিন দূতাবাস পরিদর্শনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপ অনুবিভাগের সচিব ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব অপারেশন্স (আইজিও) ড. নজরুল ইসলাম। যদিও তিনি সরাসরি কোনো তদন্তের কথা স্বীকার করেননি, তবু মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। বদলি আদেশের দেড় বছর পরও যোগদান নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, তানভীর কবিরকে ২০২১ সালে জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হয়। কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসারে বিদেশ মিশনে একজন কর্মকর্তার স্বাভাবিক দায়িত্বকাল তিন বছর। সেই হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তাকে বার্লিন থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কাউন্সিলর পদে বদলি করা হয়। তবে প্রায় দেড় বছর পার হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বরং বদলি আদেশ স্থগিত রেখে বার্লিনে থাকার অনুমতি চেয়ে পররাষ্ট্রসচিবের কাছে আবেদন করেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর কবির সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “আপনি যদি সংবাদ প্রচার করেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ মামলা করতেও দ্বিধাবোধ করব না।” আরও এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেদক “জুলকারনাইন সায়ের খানের বাংলাদেশি এজেন্ট” হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অভিযোগ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন স্থানীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে তানভীর কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রদূতের হস্তক্ষেপে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে কাজে ফেরা এক জার্মান নারী কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই কর্মচারী জার্মান আইনের অধীনে “প্রোটেকশন কার্ড” সুবিধাভোগী। ফলে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত জটিল। শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ক্ষেত্রে আদালতে মামলা হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ বাংলাদেশ সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় ‘অপমানজনক আচরণ’ ২০২৫ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইংয়ে কর্মরত এক জার্মান নারী কর্মকর্তার সঙ্গে তানভীর কবিরের আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে উপস্থিত দর্শনার্থীদের সামনে ওই নারী কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছিল মেলার ভিজিটর টিকিটের পরিবর্তে ভাউচার কোড দেওয়া নিয়ে। ভুক্তভোগী নারী রাষ্ট্রদূতের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে বিষয়টি বাংলাদেশে ন্যাশনাল বুক সেন্টার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো সাড়া না পেয়ে ওই নারী জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসেও অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ফেডারেল ফরেন অফিস তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। বিতর্কিত নিয়োগ ও ‘স্বজনপ্রীতির’ অভিযোগ দূতাবাসে সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রুজমিলা নামের এক বাংলাদেশি নারীকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে ১৫ বছরের বেশি সময় দূতাবাসে কাজ করেছিলেন। তাকে রাষ্ট্রদূতের সোশ্যাল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যদিও এমন পদে সাধারণত স্থানীয় জার্মান নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। দূতাবাস সূত্রের দাবি, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। দূতাবাসের ওয়েবসাইট, জার্মান চাকরির পোর্টাল কিংবা সংবাদমাধ্যম—কোথাও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক এক ইন্টার্ন নিয়োগ নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সার্ভারে প্রবেশাধিকার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একজন স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নকে জন্ম নিবন্ধনের জাতীয় সার্ভারে প্রবেশাধিকার দেওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের অ্যাক্সেস অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া কাউকে দেওয়া হয় না। ফলে তথ্য নিরাপত্তা ও সরকারি ডেটা ব্যবস্থাপনার নীতিমালা লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইজিও ড. নজরুল ইসলাম বলেন, তার সফর মূলত “মিশন ইন্সপেকশন” কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, “আমি আইজিও। আমার কাজ হচ্ছে মিশন ইন্সপেকশন করা। আমি মিশন ইন্সপেকশনে যাচ্ছি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং কনফিডেনশিয়াল।” তবে তিনি এটিও জানান যে, অভিযোগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে। বাড়ছে কূটনৈতিক অস্বস্তি বার্লিন মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ক্রমেই অস্বস্তি বাড়ছে। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে আচরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ শুধু মিশনের ভাবমূর্তিই নয়, বাংলাদেশ-জার্মানি কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শ্রম আইন মেনে চলা এবং তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত
ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত: শান্তিপূর্ণ সমাধানে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে। রুবিও বলেন, ‘ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলাম, তা আমরা অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কাজ করছি।’ ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ‘(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।’ রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি iran
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা: বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কা, হাজারো জাহাজ আটকা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। তারা প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে। ফলে কাগজে-কলমে চলাচল সম্ভব হলেও বীমার অনুপস্থিতিতে বাস্তবে অনেক জাহাজই যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলেও বীমা ব্যয় দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা অর্জিত হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ওমান উপসাগর এলাকায় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ঘটনাটিকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। শুরু থেকেই ইরান জানিয়ে আসছে, নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ছয় নাবিক দেশে ফিরলেও এখনো বাকি ২২ জন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
ইরান সংঘাত নিয়ে পেন্টাগনের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ, ভ্যান্সের উদ্বেগ বাড়ছে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের বাস্তব চিত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিচ্ছে না। একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রকাশ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভ্যান্স এসব দাবির সত্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে যে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা কতটা বাস্তব এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ঘাটতি বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে কি না। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মতে, ভ্যান্স বিশেষ করে গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন, উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তবে ভেতরে ভেতরে কৌশলগত পরিকল্পনা ও তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। দেশটি তাদের বিমানবাহিনীর বড় অংশ, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতা বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সামুদ্রিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলছে। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগেই ভ্যান্স এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের যুদ্ধ ব্যাপক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাতের ফলাফল ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ—বিস্তৃত ব্যবহার, মজুদ ঘাটতি ও কৌশলগত উদ্বেগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরে ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক অভ্যন্তরীণ হিসাব ও আইনপ্রণেতাদের কাছে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। যুদ্ধের মাত্র ৩৮ দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার: টমাহক, স্টেলথ ক্রুজ ও প্যাট্রিয়ট পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুদের কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সময়ে এক হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা বার্ষিক ক্রয়ক্ষমতার প্রায় ১০ গুণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ১ হাজার ২০০টিরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। প্রতিটির দাম ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি। স্থলভিত্তিক প্রিসিশন স্ট্রাইক অস্ত্র ও এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে আরও ১ হাজারেরও বেশি ইউনিট ব্যবহার করা হয়েছে।  ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত, খরচের অস্বচ্ছ চিত্র পেন্টাগন জানিয়েছে, ৩৮ দিনের অভিযানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। তবে সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশের মতে, এই সংখ্যা প্রকৃত অপারেশনাল তীব্রতা পুরোপুরি বোঝায় না, কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুকে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে। যুদ্ধের মোট ব্যয় নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি মন্তব্য না করলেও দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বলছে, খরচ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেছেন।  সবচেয়ে ব্যয়বহুল অস্ত্র ও মজুদের চাপ এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে জ্যাসম-ইআর নামের দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিটির দাম প্রায় ১১ লাখ ডলার। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০টি ব্যবহার করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে মজুদে আছে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চমাত্রার ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি করছে। পেন্টাগনের মূল্যায়ন বনাম হোয়াইট হাউসের অবস্থান সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সদস্য সিনেটর জ্যাক রিড বলেন, বর্তমান উৎপাদন গতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে “বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে”। অন্যদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যান্সিয়ান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক গোলাবারুদের মজুদ পর্যাপ্ত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থল হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই সীমিত ছিল এবং এখন আরও সংকুচিত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই খবরের পুরো ভিত্তিটাই মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রয়েছে।” কৌশলগত প্রভাব: প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ইউরোপ পর্যন্ত চাপ CSIS-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই অভিযানে টমাহক ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপেও এর প্রভাব পড়েছে বলে পেন্টাগনের মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা শক্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় কিছু অস্ত্রের মজুদও কমেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাব আরও স্পষ্ট। যুদ্ধ শুরুর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে—প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাড সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টরও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।  “অস্ত্রভান্ডারের সীমা” নিয়ে নীরব স্বীকারোক্তি? ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো সিনেট শুনানিতে সরাসরি মজুদ ঘাটতি নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে শুধু বলেন, “অস্ত্রভান্ডারের একটি সীমা আছে।” এই সীমা ইরান যুদ্ধের সময় অতিক্রম করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতি ও বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
জর্জ ডব্লিউ বুশ
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ, ভারত মহাসাগরে অবস্থান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। রণতরীটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। খবরর বিবিসির। সেন্টকম তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রণতরীটির একটি ছবি প্রকাশ করে জানায়, নিমিটজ-শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটি বর্তমানে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে এবং ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে এই রণতরীটি আগেই সেখানে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে, নাকি কোনো জাহাজের পরিবর্তে মোতায়েন করা হচ্ছে—সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে লোহিত সাগরে অবস্থান করছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
জার্মান
ইরান ইস্যু ও বৈশ্বিক চাপ: জার্মানিতে ২ লাখের বেশি চাকরি ঝুঁকিতে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং চলমান বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে জার্মানির শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এন-টিভি বুধবার (২২ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ক্রেডিট ইনস্যুরার অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, কর্পোরেট দেউলিয়াত্ব বৃদ্ধির কারণে এ বছর জার্মানিতে ২ লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড অঞ্চলের প্রধান মিলো বোগার্টস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতোমধ্যেই জার্মান অর্থনীতিতে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধও এখনো শেষ হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জার্মানিতে কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের সংখ্যা ২.৪ শতাংশ বেড়ে ২৪ হাজার ৬৫০-এ পৌঁছাতে পারে। এটি গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির স্থানীয় আদালতগুলোতে ২৪ হাজার ৬৪টি দেউলিয়াত্ব মামলা নথিভুক্ত হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৩ শতাংশ বেশি। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের হার ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা আগের পূর্বাভাস সংশোধন করে এই হার আরও বাড়িয়েছেন। তবে কিছুটা আশার কথাও রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালে জার্মানিতে দেউলিয়াত্বের সংখ্যা ২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ১৫০-এ নামতে পারে। তাদের মতে, যুদ্ধ-সম্পর্কিত চাপ ধীরে ধীরে কমবে এবং অর্থনৈতিক প্রণোদনা অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করবে। তবুও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকা
ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে বাংলাদেশিরা এগিয়ে,বাড়ছে ঝুঁকি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইউরোপে সাগর ও স্থলপথে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে ইতালি ও স্পেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা এখনও শীর্ষে রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কমে প্রায় ২১ হাজার ৪০০-তে নেমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের আধিপত্য কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৬ হাজার ২০০ জন অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। এই রুটে প্রবেশকারীদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রা করা এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছে জনপ্রিয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রার কারণে এ পথে মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। বলকান সীমান্তে নতুন প্রবণতা প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপের পূর্বাঞ্চলীয় বলকান সীমান্ত পথেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেড়েছে। এ পথে ৬৮২ জন অভিবাসীর মধ্যে ইউক্রেনের নাগরিকরা শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশিরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে এই রুটে এত সংখ্যক বাংলাদেশি শনাক্ত হওয়ার নজির কম। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটের গুরুত্ব চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট, যেখানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে—যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। এই পথটিও বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই তুরস্ক হয়ে গ্রিস সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পশ্চিম ভূমধ্যসাগরে উল্টো চিত্র অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রবেশ বেড়েছে। এ পথে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। ইংলিশ চ্যানেলে কমেছে অনুপ্রবেশ ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টাও কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের অনুপ্রবেশ ৪১ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৬০০-তে নেমে এসেছে। কমছে সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা কমলেও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমছে না। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও বিপুল মুনাফার আশায় অভিবাসীদের বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা
বঙ্গোপসাগর–আন্দামান সাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টায় ২০২৫ সাল রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ওই বছরে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিপজ্জনক যাত্রাকালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালে ছয় হাজার ৫০০-র বেশি রোহিঙ্গা এই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজনের মৃত্যু হয়েছে বা তারা নিখোঁজ হয়েছেন—যা বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথে চলাচলের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যুহার হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ সালেও এই বিপজ্জনক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দুই হাজার ৮০০-র বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা উত্তাল সাগরে ডুবে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। পরবর্তীতে ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কেন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা? মানবপাচার, শোষণ এবং সমুদ্রে মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও হাজারো রোহিঙ্গা এই পথ বেছে নিচ্ছেন। বেশিরভাগ নৌযাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের কক্সবাজার বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে, যার গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে: মিয়ানমারে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তা নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অভাব অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার সীমিত সুযোগ অনেককেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রায় বাধ্য করছে। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ এখনো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। তবে মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে—ফলে সমুদ্রপথে অনিশ্চিত যাত্রাই হয়ে উঠছে অনেকের একমাত্র বিকল্প।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল
ইসরাইলকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব ব্যর্থ, তবু ‘টার্নিং পয়েন্ট’—ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইসরাইলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের একটি প্রস্তাব ভোটে পাস না হলেও, মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের বড় অংশ প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪০-৫৯ ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়, কারণ সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি বার্নি স্যান্ডার্স। এতে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ফলাফল ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিঃশর্ত সমর্থনের মধ্যে ফাটলের ইঙ্গিত দেয়। শান্তিবাদী সংগঠন জাতীয় আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বন্ধু কমিটি-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, “প্রস্তাবটি পাস না হলেও এটি দেখিয়েছে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরাইলকে নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছেন।” তার মতে, এটি শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, বরং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের বিরুদ্ধেও একটি রাজনৈতিক বার্তা। এই ভোট এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করছেন, গাজা ও লেবাননে নগর ধ্বংসে বুলডোজার ব্যবহৃত হচ্ছে, যা তারা ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এদিন আরেকটি ভোটে ৩৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইসরাইলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে এমন প্রস্তাবে সমর্থন ছিল ১৮টি, আর গত বছর ছিল ২৭টি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা—এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ। স্যান্ডার্স বলেন, “আমেরিকানরা চায় তাদের করের অর্থ দেশের ভেতরে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হোক, মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ মানুষ হত্যায় নয়।” বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ এবং ৫০ বছরের নিচে তরুণদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, শান্তির জন্য ইহুদি কণ্ঠস্বর-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, “গাজায় সহিংসতা, লেবাননে বোমাবর্ষণ এবং ইরান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে ভোট দেওয়া লজ্জাজনক।” তার মতে, সিনেটে ৪০টি সমর্থন ভোটই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ব্রিটেনে আশ্রয়
ব্রিটেনে আশ্রয় পেতে নাস্তিকতার ভান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভুয়া নিউজ ওয়েবসাইট তৈরি, রাজপথে সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং শারীরিক অসুস্থতার ভান- যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনকারী এবং তাদের আইনি পরামর্শকরা এমন নানা প্রতারণার কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ‘প্রতারণা শিল্পে’ পরিণত হয়েছে। যেখানে অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শেখানো হচ্ছে কীভাবে সমকামী সেজে আশ্রয়ের আবেদন করা যায়। এই চক্রের জালিয়াতির তালিকায় আরও রয়েছে- টাকার বিনিময়ে নাস্তিকদের ম্যাগাজিনে নিবন্ধ লেখানো এবং অর্থের বিনিময়ে কাউকে সমকামী সঙ্গী হিসেবে অভিনয় করতে ভাড়া করা।  সম্প্রতি লন্ডনের ব্যস্ততম মাইল অ্যান্ড রোডের একটি অফিসে ছদ্মবেশে বিবিসির একজন সাংবাদিকের চালানো অনুসন্ধানে এই চক্রের কার্যক্রম হাতেনাতে ধরা পড়ে। এপ্রিলের শুরুর দিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই সাংবাদিক এ ধরনের একটি নির্দেশনামূলক কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি নিজেকে একজন বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, যিনি মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে এখন দেশটিতে থাকার বৈধ পথ হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সেখানে জাহিদ হাসান আখন্দ নামে এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় দেন, ওই সাংবাদিককে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে ফাঁকি দেওয়ার বিভিন্ন কৌশল বুঝিয়ে দেন। তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কীভাবে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ব্রিটিশ সরকারকে বিভ্রান্ত করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ সুগম করা সম্ভব। সমকামী, নাস্তিক অথবা রাজনৈতিক কর্মী আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য জালিয়াতির তিনটি প্রধান পথ বাতলে দিয়েছেন অভিযুক্ত আইনি পরামর্শক জাহিদ হাসান আখন্দ। তার মতে, ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার জন্য একজন আবেদনকারী নিজেকে যৌন সমকামিতা, ধর্মীয় বিশ্বাস (নাস্তিকতা) অথবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। জাহিদ আখন্দ জানান যে, আইনি দিকগুলো তিনি নিজেই সামলাবেন। তবে আবেদনকারীকেই বেছে নিতে হবে যে তিনি সমকামী, নাস্তিক নাকি রাজনৈতিক- কোন ছদ্মবেশটি ধারণ করতে চান। এই জালিয়াতির আইনি সহায়তার জন্য দেড় হাজার পাউন্ড ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফির বিনিময়ে আবেদনপত্র তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি এবং বারবার মক ইন্টারভিউ নেওয়ার কাজ করবেন মি. আখন্দ। কিন্তু যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে বিশ্বাস করানোর জন্য কেবল আবেদনই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন আরও শক্ত প্রমাণ।   ছদ্মবেশী এই সাংবাদিককে জাহিদ আখন্দ জানান, যদি নিজে নিজে প্রমাণ জোগাড় করা সম্ভব না হয়, তাহলে তিনি এমন কিছু ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন যারা টাকার বিনিময়ে এসব নথিপত্র তৈরি করে দেয়। যার জন্য আরও দুই হাজার থেকে তিন হাজার পাউন্ড খরচ হবে। এছাড়া আবেদনকারী যদি নাস্তিক হিসেবে আশ্রয় চান, তবে কৌশল হিসেবে তাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামের নবীকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জাহিদ আখন্দের ভাষায়, ধর্মীয় আলেমরা যখন আপনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে মন্তব্য করা শুরু করবে, তখনই আপনার (নির্যাতনের) প্রমাণ তৈরি হয়ে যাবে। প্রমাণ আরও জোরালো করতে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের কিছু নাস্তিক সংগঠনের ব্লগে অর্থের বিনিময়ে লেখালেখি করার পরামর্শ দেন মি. আখন্দ। এক্ষেত্রে নিবন্ধ লেখার জন্য চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহারের বুদ্ধিও দেন তিনি। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে, মুসলিম ধর্ম ইতোমধ্যে ত্যাগ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখন আর শুধু পোস্টের যুগ নেই, এখন লাইভ ভিডিওর যুগ। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসকে বলার জন্য একটি সাজানো গল্পও ছদ্মবেশী এই সাংবাদিককে শিখিয়ে দেন আইনি পরামর্শক। আবেদনকারীকে বলতে বলা হয় যে, তিনি বাংলাদেশে নাস্তিক ছিলেন না, বরং ব্রিটেনে আসার পরই তার চিন্তাধারার পরিবর্তন ঘটেছে। জাহিদ হাসান আখন্দ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘কে নাস্তিক আর কে নয়, তা জানার কোনো উপায় নেই। আপনি আমাকে বলেছেন আপনি নাস্তিক নন, তার মানে আপনি নাস্তিক নন। কিন্তু এটি যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই।’ ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের চেয়ে সমকামী সাজা অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর বলে দাবি করেন অভিযুক্ত আইনি পরামর্শক জাহিদ হাসান আখন্দ। তার মতে, রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় চাইলে নিজ দেশে মামলার প্রমাণ দিতে হয় যা বেশ কঠিন, কিন্তু সমকামিতার বিষয়টি ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে সফল হওয়ার হার অনেক বেশি। ভুয়া সমকামী দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীকে বিভিন্ন গে-ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেসব ক্লাবের সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়া হয়। জাহিদ আখন্দ জানান, জালিয়াতির অংশ হিসেবে আবেদনকারীকে একজন ‘পার্টনার’ বা সঙ্গীও জোগাড় করে দেওয়া হয়। ওই ভাড়াটে সঙ্গী হোম অফিসকে লিখিতভাবে জানাবে যে, তারা একে অপরের জীবনসঙ্গী। তার দাবি, এসব ক্লাবে যারা যায় তাদের অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন, তাই ধরা পড়ার ভয় নেই। আবেদনকারী আসলে সমকামী বা নাস্তিক ছিলেন না এমন কোনো কেসে সফল হয়েছেন কি না, ছদ্মবেশী সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে জাহিদ আখন্দ বলেন, ‘ওপরওয়ালার ইচ্ছায় সবাই সফল হচ্ছে। আপনি যদি কথা শোনেন এবং ঠিকঠাক প্রমাণ সাজাতে পারেন, তবে আপনিও সফল হবেন। আগে আপনি সিদ্ধান্ত নেন যে নাস্তিক, নাকি সমকামী কোন পথে আপনি এটি করতে চান, এরপর আমি আপনার পূর্ণ কর্মপরিকল্পনা সাজাবো।’ ভুয়া ওয়েবসাইট ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ভুয়া আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাহিদ আখন্দই একমাত্র ব্যক্তি নন; বিবিসি নিউজের অনুসন্ধানে আরও এক বাংলাদেশি আইনজীবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ওই আইনজীবীর সহায়তায় অসংখ্য ভুয়া আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো সফলও হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই আবেদনগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে একইসঙ্গে ‘নাস্তিক’ এবং ‘সমকামী বা উভকামী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এমন কিছু অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইটের নিবন্ধ জমা দেওয়া হয়েছে, যেগুলো দেখতে হুবহু আসল সংবাদপত্রের মতো। কিন্তু ইন্টারনেট রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওয়েবসাইটটি ওই চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিই তৈরি করেছিলেন। কিছু নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে যে, আবেদনকারীরা তাদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের আদালতে মামলার শিকার হয়েছেন। বাস্তবে এসব মামলার কোনো অস্তিত্ব নেই। ব্রিটিশ হোম অফিসের কর্মকর্তারা চাইলেও এগুলো সহজে যাচাই করতে পারেন না, কারণ বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা এখনো মূলত কাগজ-কলম নির্ভর। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে এর সত্যতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। অনেক আবেদনে দেখা গেছে, আবেদনকারী কোনো সমকামী সঙ্গীকে বিয়ে করেছেন এবং এর ফলে তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন- এমন সংবাদও ওই ভুয়া সাইটগুলোতে ছাপানো হয়। মূলত ‘হুমকি’ বা ‘নিপীড়ন’-এর প্রমাণ তৈরি করতেই এই সাইটগুলো বানানো হয়েছিল। পূর্ব লন্ডনের একটি ল’ ফার্মের একজন কেস-ওয়ার্কার এই ওয়েবসাইটগুলো তৈরির নেপথ্যে ছিলেন বলে জানা গেছে। ওয়েবসাইটগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে রয়টার্স বা বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যম থেকে চুরি করা সংবাদ দিয়ে পূর্ণ করে রাখা হতো। এমনকি একটি ওয়েবসাইটের ‘প্রধান সম্পাদক’ হিসেবে এমন একজনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যার লিংকডইন বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো অস্তিত্বই নেই। মূলত আশ্রয়ের আবেদনকারীদের নাম ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এই ‘ছায়া ওয়েবসাইট’গুলো পরিচালিত হতো। সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদ ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য কেবল ভুয়া নথিপত্রই নয়, বরং রাজপথে সাজানো প্রতিবাদ সভা এবং শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার নাটক সাজানোর মতো গুরুতর তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অনেক আবেদনকারী প্রমাণ হিসেবে বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একটি ওয়েবসাইটের পোস্ট ব্যবহার করেছেন। যে ওয়েবসাইটটি কেবল আবেদনের সময়কালেই সচল ছিল এবং পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের স্বপক্ষে এমন সব মিছিল বা প্রতিবাদের ছবি জমা দেওয়া হয়েছে, যা মূলত ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল। এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা আসলে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী নন। অনুসন্ধানে বেশ কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীর সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদেরকে তাদের নিয়োগকৃত উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছিলেন একজন জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) বা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ‘ডিপ্রেশন’ বা বিষণ্ণতার ভান করতে। উদ্দেশ্য হলো, এই মেডিকেল রিপোর্টকে আশ্রয়ের পক্ষে মানসিক বিষন্নতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা। এমনকি একজন আবেদনকারী নিজেকে এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে প্রমাণের নাটকও সাজিয়েছিলেন। হোম অফিসের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় কীভাবে আচরণ করতে হবে, তার জন্যও দেওয়া হয় বিশেষ প্রশিক্ষণ। একজন আইন উপদেষ্টা বিবিসি নিউজের ছদ্মবেশী প্রতিবেদককে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অন্য আবেদনকারীদের কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তার একটি নমুনা প্রশ্নপত্র তাকে দেওয়া হবে যাতে তিনি প্রস্তুতি নিতে পারেন। রচডেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একজন আশ্রয়প্রার্থী ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছে স্বীকার করেন যে, তার আইনজীবী তাকে হোম অফিসের কর্মকর্তাদের সামনে চেহারার অভিব্যক্তি কেমন হবে, সেটিও শিখিয়ে দিয়েছেন। ওই ব্যক্তি বলেন, আমার আইনজীবী আমাকে ইন্টারভিউয়ের সময় কাঁদতে বলেছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম- আমি কাঁদতে পারব না, আমার পক্ষে এত বেশি অভিনয় করা সম্ভব নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে’ দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন ‘খুবই সন্তুষ্ট’ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী আর কখনও অবরুদ্ধ থাকবে না। ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছি। এতে চীন খুবই খুশি হবে। আমি এটা তাদের এবং বিশ্বের ভালোর জন্য করছি। এমন অচলাবস্থা আর কখনও ঘটবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে সমরাস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে চীন সম্মত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পর চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি—সংঘাতের চেয়ে এটি কি ভালো নয়?” এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে শুধু লোহিত সাগর নয়, বরং পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর–সহ পুরো অঞ্চলে বাণিজ্য কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সংলাপ pic
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা ব্যর্থ, শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায় সম্ভাব্য চুক্তি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইসলামাবাদের এক অভিজাত হোটেলের নীরব করিডর, বন্ধ দরজার ভেতরে উঁচুস্বরে তর্ক, আর বারবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা মধ্যস্থতাকারীদের পদচারণা—সব মিলিয়ে গত শনিবারের রাতটি যেন ছিল এক অসমাপ্ত চুক্তির নাট্যমঞ্চ। Serena Hotel Islamabad-এ আয়োজিত সেই গোপন বৈঠক শেষ পর্যন্ত কোনো বড় সমঝোতা ছাড়াই ভেঙে গেলেও, ভেতরের গল্প বলছে—দুই পক্ষ আসলে ইতিহাসের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।  বন্ধ দরজার কূটনীতি বৈঠকটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে কাঠামোবদ্ধ। হোটেলের দুটি আলাদা উইংয়ে অবস্থান নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল। মাঝখানে একটি কমন এরিয়া—সেখানেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি বসে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা। মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে প্রতিনিধিদের কক্ষ ছেড়ে বাইরে গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে নিজ নিজ রাজধানীর সঙ্গে। এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf। সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi। পাকিস্তানের পক্ষে ছায়ার মতো সক্রিয় ছিলেন সেনাপ্রধান Asim Munir ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar। “৮০ শতাংশ” সমঝোতা—তারপর ভাঙন একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি চুক্তির খসড়া প্রায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিল—প্রায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনটি ইস্যুতে মতবিরোধ চূড়ান্ত আকার নেয়: * হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ * ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি * আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও জব্দ সম্পদের পরিমাণ ওয়াশিংটন চাইছিল সীমিত, লক্ষ্যভিত্তিক চুক্তি—বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে তেহরান চাইছিল বিস্তৃত সমঝোতা, যেখানে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই শেষ পর্যন্ত আলোচনাকে অচল করে দেয়।  উত্তেজনার বিস্ফোরণ রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার পরিবেশও কঠিন হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়েও উচ্চস্বরে তর্ক শোনা যাচ্ছিল। সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্তটি আসে যখন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় Abbas Araghchi-র কণ্ঠ ভেসে আসে—অস্বাভাবিকভাবে কঠোর। তার বক্তব্যের সারমর্ম ছিল: “আলোচনার সময় হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা ভঙ্গ করলে—আমরা কীভাবে বিশ্বাস করব?” এই ক্ষোভের পেছনে ছিল সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা—জেনেভায় বৈঠকের মাত্র দুই দিনের মাথায় ইরানে যৌথ হামলার ঘটনা, যা ইরানের মনে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। পাকিস্তানের রাতভর দৌড়ঝাঁপ পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার হস্তক্ষেপ করেন Asim Munir ও Ishaq Dar। কখনো চা-বিরতি, কখনো আলাদা কক্ষে নিয়ে গিয়ে আলোচনা—সব চেষ্টা ছিল উত্তেজনা কমানোর। এক পর্যায়ে প্রতিনিধিদের আলাদা করে দেওয়া হয়, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।  শেষ প্রস্তাব, কিন্তু শেষ নয় প্রায় ২০ ঘণ্টা টানা আলোচনার পর রোববার সকালে বৈঠক শেষ ঘোষণা করেন JD Vance। তার বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ: > “এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন সিদ্ধান্ত ইরানের।” এই ঘোষণায় একদিকে যেমন অচলাবস্থার ইঙ্গিত ছিল, অন্যদিকে দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমন বার্তাও স্পষ্ট। মূল সংকট: বিশ্বাসের ঘাটতি এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা—দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়েও বড় সমস্যা পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া এগোতে রাজি নয়, আর যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। ফলে কাগজে-কলমে কাছাকাছি পৌঁছেও বাস্তবে দূরত্ব রয়ে গেছে।   সূত্র বলছে, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং নতুন কাঠামোয় আবার সংলাপ শুরু করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই রাতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে—সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে শুধু কৌশলগত ইস্যু নয়, বিশ্বাসের সংকটও কাটাতে হবে। ইসলামাবাদের সেই রাত তাই কেবল ব্যর্থ বৈঠকের গল্প নয়—এটি এক অসমাপ্ত চুক্তির, অদৃশ্য সন্দেহের, এবং ভঙ্গুর কূটনীতির প্রতিচ্ছবি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনো সম্ভব: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মনে করেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনো সম্ভব। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনিচ্ছুক থাকায় শেষ প্রস্তাব দিয়েই আলোচনা ছেড়ে আসেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার এই সারসংক্ষেপ জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স মনে করেন, ইরান আলোচনায় নিজেদের প্রভাব বা ‘লেভারেজ’ কতটা—তা সঠিকভাবে বুঝতে পারছে না। ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই আলোচনায় ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের দলে আরও ছিলেন বিশেষ দূত স্টেভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এসব ইস্যুর মধ্যে ছিল—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিস্তৃত শান্তি কাঠামো তৈরি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার এমন একটি সমাধান যেখানে কোনো টোল আরোপ করা হবে না। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, শুধু তারা তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’ বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় বিমান
হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইউরোপে জেট জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইউরোপে জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর সংগঠন এসিআই ইউরোপ। বিবিসি-এর খবরে বলা হয়েছে, সংস্থাটি ইউরোপীয় কমিশন-এর জ্বালানি ও পর্যটন বিষয়ক কমিশনারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে—তাদের সদস্যদের মধ্যে জেট জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। এসিআই ইউরোপের মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে বিমানবন্দর পরিচালনা ও আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেট জ্বালানির কাঠামোগত সংকট তৈরি হওয়া প্রায় নিশ্চিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ জেট জ্বালানি আমদানি হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে এবং যাত্রী ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ইউরোপে জেট জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে প্রতি টন ১,৮৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ৮৩১ ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ইউরোপের বিমান চলাচল খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ট্রাম্প
ট্রাম্প তোয়াক্কা করছেন না আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম-নীতি

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ‍রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
গ্রিস উপকূল
গ্রিস উপকূলে নৌকায় ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ২১ বাংলাদেশি

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় আবারও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড। শনিবার (২৮ মার্চ) জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গ্রিক কোস্টগার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থা ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ শুক্রবার গভীর রাতে Crete দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। আহত দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এই রুটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। যাত্রাপথে নৌকাটি দিক হারিয়ে ফেলে এবং যাত্রীরা খাবার ও পানীয় ছাড়াই টানা ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন। এতে চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা ও অনাহারে একে একে ২২ জনের মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বরাতে কোস্টগার্ড জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের মানবপাচারকারী সন্দেহে আটক করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত চলছে। কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র জানান, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৫৫৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে, গত ডিসেম্বরে ক্রিটের  দক্ষিণ-পশ্চিমে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তখন মাত্র দুইজনকে জীবিত পাওয়া যায় এবং আরও ১৫ জন নিখোঁজ থাকেন, যাদের মৃত বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য এবং উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা অব্যাহত থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
এফবিআইর পরিচালক কাশ প্যাটেল।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল হ্যাকের দাবি, তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইল ইনবক্স হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান-ভিত্তিক একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। তারা অনলাইনে প্যাটেলের কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে। রয়টার্স ও জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ‘হানদালা হ্যাক টিম’ নামের একটি গোষ্ঠী এই সাইবার হামলার পেছনে জড়িত বলে দাবি করছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, প্যাটেল এখন সেই তালিকায় যুক্ত হলেন, যেখানে আগে হ্যাকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই হয়নি রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যাকারদের প্রকাশ করা ইমেইল ও তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকাশিত ডেটার মধ্যে ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক যোগাযোগের মিশ্রণ রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া মার্কিন বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে, অভিযোগের বিষয়ে হ্যাকার গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ এই ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা এবং শক্তিশালী সাইবার সুরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0