বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’? নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত বিল আটকে ঘুষ দাবি! বরিশাল এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বদলি আদেশও মানেননি? বরিশাল এলজিইডিতে তদন্ত শুরু ঠিকাদারদের ক্ষোভ, এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি বরিশাল এলজিইডিতে ঘুষ-কাণ্ড: নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে বিতর্ক মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম গনমাধ্য্যমে প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৫৯০ নং স্মারকে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন, এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের মানব সম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন, অপর দুজন সদস্য হলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর-উস-শামস্। ৩ সদস্য বিশিষ্টি এ কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত পুর্বক মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন প্রধান প্রকৌশলী। তদন্তের দিকে নজর এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আরও পড়ুন: বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী। চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি। অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না। তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক ! বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট। জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ। কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শতবর্ষী শাহ আলী বোগদাদির মাজারে মধ্যরাতের হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি গত প্রায় দুই বছরে বাংলাদেশজুড়ে সুফি মাজার, দরবার শরীফ, বাউল আখড়া ও পাগল-ফকিরদের আস্তানায় সংঘটিত ধারাবাহিক হামলার নতুন সংযোজন। ভিডিওতে দেখা গেছে, লাঠিসোঁটা হাতে একদল লোক মাজারে জড়ো হওয়া ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছে। আতঙ্কে নারী-পুরুষ ছোটাছুটি করছেন। কয়েকজনকে মারধর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ তুলেছেন, হামলাকারীদের একটি অংশ রাজনৈতিক পরিচয়ে সংগঠিত ছিল। যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশে কি সুফি ঐতিহ্য, বাউল সংস্কৃতি ও মাজারকেন্দ্রিক ধর্মীয় চর্চা ক্রমেই সংগঠিত আক্রমণের মুখে পড়ছে? শাহ আলী মাজারে কী ঘটেছিল? মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত শাহ আলী বোগদাদির মাজারে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে নিয়মিত জলসা বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা সেখানে জড়ো হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক ও হাতে লাঠি নিয়ে একদল লোক হঠাৎ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাজারসংলগ্ন খোলা জায়গায় মাদুর বিছিয়ে বসা ভক্তদের লক্ষ্য করেই হামলা শুরু হয়। হকারদের দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্কে অনেকেই পালিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং কাউকে আটকও করা হয়নি। এই ঘটনার পর স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—এটি কি দেশজুড়ে চলমান মাজারবিরোধী সহিংসতার আরেকটি ধাপ? হামলার পরিসংখ্যান: কতটা বিস্তৃত এই সহিংসতা? সুফি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য একত্র করলে দেখা যায়— শতাধিক মাজারে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হয়েছে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন কয়েক শত মানুষ বহু মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে অনেক জায়গায় ওরস, কাওয়ালি ও বাউল সংগীত বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। কুমিল্লা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার ধরন: শুধু ভাঙচুর নয়, সাংস্কৃতিক দমনও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলাগুলোর ধরন প্রায় একই রকম: প্রথমে ভক্ত ও খাদেমদের মারধর করে সরিয়ে দেওয়া এরপর মাজারে ভাঙচুর লুটপাট কোথাও কোথাও অগ্নিসংযোগ কিছু ঘটনায় বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া বাউল গান, কাওয়ালি ও ওরস বন্ধে চাপ প্রয়োগ কিছু ঘটনায় মাইকিং করে লোক জড়ো করারও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভক্তদের চুল-দাড়ি কেটে অপমান করার অভিযোগও এসেছে। কেন টার্গেট মাজার? বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ১. ধর্মীয় মতাদর্শগত সংঘাত মাজার সংস্কৃতির সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, কিছু মাজারে গান, ধূমপান, নারী-পুরুষের একসঙ্গে অবস্থান বা আচার ইসলামী শরিয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে সুফি অনুসারীরা বলছেন, মাজার হচ্ছে বহুত্ববাদী ও আধ্যাত্মিক চর্চার জায়গা, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেয়। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্বই সহিংসতার বড় কারণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। ২. রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ ‘মাকাম’-এর প্রতিবেদনে কয়েকটি হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। বিভিন্ন ঘটনায় ইসলামপন্থী দলগুলোর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নাম উঠে এসেছে। যদিও অভিযুক্ত দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায় অস্বীকার করেছে। ৩. প্রশাসনিক শূন্যতা ও দায়মুক্তি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে বহু এলাকায় ‘মব’ হামলা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হয়নি, তদন্ত হয়নি বা বিচার হয়নি। ফলে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। বাউল ও সুফি সংস্কৃতির ওপর প্রভাব মাজারভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের বড় অংশ। ওরস, কাওয়ালি, বাউলগান ও ফকিরি সাধনা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বহু মানুষের জীবিকা ও পরিচয়ের অংশ। কিন্তু হামলার পর— অনেক মাজারে গান বন্ধ ওরস স্থগিত শিল্পীরা বেকার খাদেম ও ভক্তরা পালিয়ে আছেন মাজার পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে বাউল শিল্পীরা বলছেন, তারা সংঘর্ষে জড়াতে চান না, কিন্তু ক্রমাগত ভয় ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন। ঐতিহ্যের ওপর আঘাত আক্রান্ত মাজারগুলোর অনেকই শত শত বছরের পুরোনো। কিছু মাজার মুঘল আমল কিংবা মধ্যযুগীয় ইসলামী প্রচারের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব স্থাপনা শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়—এগুলো বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। কিছু মাজারে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের যাতায়াত ছিল। ফলে হামলাকে অনেকে সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের ওপর আঘাত হিসেবেও দেখছেন। মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৯ মাসে দেশে ‘মব সন্ত্রাস’, ‘গণপিটুনি’, মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। আর বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় দুই মাসের কাছাকাছি সময়ে কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলার ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। মাজার সংস্কৃতি ইসলামী মরমীবাদের পরম্পরাগুলো তরিকা বা সিলসিলা নামে পরিচিত। প্রতিটি তরিকার মধ্যে পীর, ফকির ও পাগল ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সাধক দেখা যায়। আবার কলন্দরিয়া ও মাদারী তরিকা মূলত পাগলদের তরিকা। সেমেটিক ও ভারতীয় ঐতিহ্যে প্রাচীনকাল থেকে সাধকদের মধ্যে পাগলপন্থা একটি প্রবহমান ধারা। সবধরনের সামাজিকতা আর বিধি-বিধানকে পাশ কাটিয়ে স্রষ্টার প্রেমে মগ্ন পাগলদের সুফি পরিভাষায় বলা হয় 'মজ্জুব'। সুফি গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী ইসলামী ঐতিহ্যে পাগল-ফকিরি ধারার সূচনা প্রসঙ্গে বলেন, 'সুফি শব্দের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি মত আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, "সুফফা" শব্দ থেকে সুফি শব্দের উদ্ভব। সুফফা হচ্ছে মসজিদে নববী সংলগ্ন একটি স্থান, সেখানে মক্কা থেকে হিজরত করে আসা একদল তরুণ অবিবাহিত মুহাজির দরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের "আসহাব আল সুফফা", "আহলুস সুফফা" অথবা "আহলে সুফফা" বলা হয়। সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রাসুল (স.)। রাসুলের (স.) সাহচর্যের জন্য আহলে সুফফারা উন্মুখ হয়ে থাকতেন, এবাদতে মগ্ন থাকতেন। পাশাপাশি তারা ধর্ম, কৃষি ও শিল্পসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতেন।' ড. হাদী আরও বলেন, 'আহলে সুফফাদের নিয়মিত খাবার জুটতো না। কারও কারও পোশাক ছিল ছেঁড়া। আহলে সুফফাদের উপহাস করে কেউ কেউ পাগল বলতো।' সুফিদের প্রার্থনাসহ তৎপরতা পরিচালনার কেন্দ্র দরবার শরীফ মূলত কমপ্লেক্স ধরনের হয়। একেকটি কমপ্লেক্সে মসজিদ, মাদ্রাসা, হেফজখানা, গ্রন্থাগার, এতিমখানা, লঙ্গরখানা, হাসপাতাল, অফিস, অতিথি নিবাস ও ভাণ্ডারকক্ষ থাকে। কোনো কোনো দরবার শরীফের রয়েছে একাধিক শাখা দরবার ও খানকাহ। সুফি ঐতিহ্যে যেমন দরবার শরীফ, তেমনি বাউল-ফকিরদের মধ্যে রয়েছে আখড়া-আশ্রম প্রতিষ্ঠার রেওয়াজ। বাউল-ফকিরদের আখড়া ও আশ্রমের পরিসর সাধারণত দরবারের তুলনায় ছোট হয়। অনেকক্ষেত্রে বসতবাড়ির এক কোণে একটি ঘর তৈরির পর পরিণত করা হয় আখড়া বা আশ্রমে। এ ছাড়া, পাগল-ফকিরদের কিছুটা স্থায়ী অবস্থানস্থলকে বলা হয় আস্তানা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইসলামী ঐতিহ্যের মরমী ধারার চার ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পাগল-ফকিরদের, বিশেষ করে পাগলদের মাজার। যেখানে ধর্ম-বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার প্রবেশাধিকার এবং প্রার্থনার অংশ হিসেবে নিয়মিত সংগীতচর্চা ছিল। অনুষ্ঠিত হতো বাৎসরিক ওরস ও মেলা। এ প্রসঙ্গে কবি এবং সুরেশ্বরী তরিকার ফকিরি ধারা অনুশীলনকারী সৈয়দ তারিক বলেন, 'মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। এখানে ভক্তিবাদী সাংস্কৃতিক আবহ বিরাজ করে। মাজারে সব ধর্মের, সব বর্ণের মানুষ আসে। এখানে নারীদের প্রবেশাধিকার আছে। যার যেভাবে মন চায়, সেভাবেই প্রার্থনা করে। কোনো ধর্মীয় কঠোরতা নেই। মাজার হচ্ছে আধ্যাত্মিক মুক্তাঞ্চল।' 'মাজার ভাঙার মাধ্যমে সংগীতচর্চা বন্ধ, নারীদের প্রবেশ ও ভক্তি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জোর করে শরিয়ত সিস্টেম চাপিয়ে দিয়ে মাজারের নিজস্ব সংস্কৃতি ধ্বংসের পায়তারা চলছে। নিজের নিয়ম অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা অগণতান্ত্রিক। মাজারে জোর-জবরদস্তি করলে ফল ভালো হবে না। শরীয়ত বনাম মারিফত লড়াই বেঁধে যেতে পারে', বলেন তিনি। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকরা বলছেন, ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ঘটনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অনেক ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতার কারণে মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না। সামনে কী আশঙ্কা? বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কারণ, এই হামলাগুলো এখন আর শুধু ধর্মীয় স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক পরিচয়, আধ্যাত্মিক স্বাধীনতা ও সামাজিক সহনশীলতার প্রশ্নে রূপ নিচ্ছে। শাহ আলী মাজারে মধ্যরাতের হামলার পর তাই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে—বাংলাদেশ কি তার দীর্ঘদিনের সুফি-লোকজ ঐতিহ্যের ওপর সংগঠিত চাপের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে?
▪️বেতন ভাতা বকেয়ার কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতি। ▪️সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ, মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন। ▪️ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ, * সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে..... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কীর্তনখোলার কোল ঘেষে ২০০২ সালে নির্মিত হয়েছিল খানসন্স গ্রুপের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী।পাঁচটি ব্রান্ডের সিমেন্ট তৈরী হতো এখানে। দিন রাত মেশিনের শব্দে জাগ্রত ছিল শতভাগ সফল হওয়া এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী। তিন মাসের বেতন বকেয়া, উৎপাদন কার্যত বন্ধ বর্তমানে বেতন ও ঈদুল ফিতরের বেতন বোনাসসহ তিন মাসের বেতন বকেয়া। অথচ ঈদুল আজহা আসন্ন। অতিরিক্ত কাজের সম্মানীও বকেয়ারফলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতির কারনে ফ্যাক্টরীর স্বাভাবিক কর্ম বন্ধ। যার কারনে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ‘৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার উধাও’: ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বরিশালের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট সাজ্জাদুল আলম বলেন,আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সুত্র জানিয়েছে, ভ্যাট বিভাগে মাসে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য। যে কারনে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী : অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান এ্যাংকর সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,ও ডুপ্লেক্স বাড়ি, যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট, আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, কিভাবে দুবাই, আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে।ফলে দুদক ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করেছে। লুটপাট ও অর্থপাচারের কারনের ফলে অর্থাভাবের কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ ও সিমেন্ট তৈরীর প্রধান উপাদানগুলো ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারন ও ব্যাংকের ঋন ও পাওনাদারদের দেনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারনে বর্তমানে ব্যাগ ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে বর্তমানে। যে কারনে কর্মবিরতী: শ্রমিক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সিওও সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ,মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন----- পহেলা মে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মে দিবসে শ্রমিকদের সম্মানে বলেছিল "মহান মে দিবস, শ্রমিকদের প্রতি অটুট থাকুক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা " অথচ এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের শ্রমিকদের প্রতি নেই কেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মে মাসেও তাদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ১০ মে বিকেলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দৌড়ে ফ্যাক্টরীর ভিতরে থাকা অফিসে আশ্রয় নেন। শ্রমিকরা অফিস গেটে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।পরে পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন। এসময় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাহেদ উদ্দিন বেতন ভাতা আগামী ২০ মে এর মধ্যে পরিশোধ করার মুচলেকা প্রদান করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন,আমরা বেতন-ভাতা আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। তিনি মুচলেকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেতন -ভাতা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে। অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ: অনিশ্চয়তায় শ্রমিকেরা অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে।ব্যাগ ফ্যাক্টরী সম্পর্কে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন, ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পুনরায় ২০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীও।গতকাল ১০/১২ বছর ধরে কাজ করা অসহায় মহিলা কর্মচারীরা কান্নায় ভেড্গে পরেন তাদের পাওনা দাওনার কি হবে? অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ:পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার ফলে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ফলে বিপাকে পড়েছেন সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা। তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এদিকে ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতাদের সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী। এ ব্যাপারে ইমাম ফারুকীকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ইয়াসমিন নিলা কমিশনের টাকা বাগিয়ে নেয়ার স্বেচ্চাচারিতায় সকল ডিলার ও রিটেইলারদের বঞ্চিত করে তার ভাই রাসেলকে এককভাবে সিমেন্ট সরবরাহের কারনে অন্যরা বঞ্চিত সিমেন্ট পাওয়া থেকে।ফলে ডিলার, রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।ফলশ্রুতিতে ডিলার, রিটেইলাররা অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট থেকে। ফলে এ্যাংকর সিমেন্টের মার্কেটে বিশাল ধ্বস নেমেছে। মান নিয়েও প্রশ্ন এ্যাংকর সিমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরে সিমেন্টের সর্বোচ্চ মান, সঠিক ওজন, সাশ্রয়ী মূল্য, দ্রুত পরিবহন, বিক্রোয়ত্তর সেবা সবকিছু নিয়ে ক্রেতার আস্থা অর্জন করলেও এখন আস্থা সম্পুর্ন বিপরীতমুখী। এ্যাংকর সিমেন্ট কমানো হয়েছে প্রধান উপাদান ক্লিংকার।একই ভাবে কম দেয়া হচ্ছে লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম।ফ্লাই এ্যাশের পরিমান বাড়ানোর ফলে কমে গেছে এ্যাংকর সিমেন্টের গুনগতমান। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.....
বরিশাল অফিস : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানি লন্ডারিং,বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন,ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে দুবাইতে ব্যবসা,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান,ফ্লাট,বাড়ি ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর অভিযোগ রয়েছে। তানভির আহমেদ নামে এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে দুর্নীতি দমন কমিশন নোটিশ প্রদান করেছেন সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে। বিদেশে অর্থ পাচারকারী অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃদ্বে সরকারি ১১ সংস্থার নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল। বিদেশে অর্থ পাচারকারী শিল্পগ্রুপের মধ্যে খান সন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের নাম সর্বাগ্রে চলে আসে। অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে জুলিয়া রহমানের নামও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছিলেন,শুধু ব্যাংক খাত থেকে গত ১৫ বছরে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ২ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ধনকুবেররা এ পাচারকাণ্ডে জড়িত। এছাড়া দেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র তৈরির জন্য গঠিত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৫ বছরে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমানের নামও। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনা ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সভাপতি করে গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একজন প্রতিনিধি। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) একজন করে প্রতিনিধি টাস্কফোর্সের সদস্য হিসাবে কাজ করছেন। টাস্কফোর্সের কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ বা সম্পদ চিহ্নিত করা ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা দেওয়া, পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে দায়ের করা মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা ও তা দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার উদ্যোগ গ্রহণ, জব্দ বা উদ্ধারকৃত সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ, বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয় করা। টাস্কফোর্স প্রয়োজনে কোনো সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে এবং কোনো দেশি-বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞকে সভায় উপস্থিত হওয়াসহ বিশেষজ্ঞ মতামত/পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করতে পারবে। অর্থ পাচারকারী হিসাবে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট চিহ্নিত জানা যায়, সন্দেহভাজন মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারকারী হিসাবে টাস্কফোর্স সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ১০/১২টি শিল্প গ্রুপ ও একক ব্যক্তি হিসাবে সাবেক একজন সাবেক মন্ত্রীকে চিহ্নিত করেছে। তালিকার আছে ব্যাংকখেকো হিসাবে আলোচিত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রের ছায়ায় থাকা এস আলম গ্রুপ, এস আলমের আশীর্বাদপুষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপ, ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের নেতা নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপ, প্রয়াত কাজী সাহেদের জেমকন গ্রুপ, শিকদার গ্রুপ, বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে বড় লোপাটকারী সামিট গ্রুপ,বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং ওরিয়ন গ্রুপ। জুলিয়া রহমানকে দুদকের নোটিশ প্রদান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যানকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে সম্পদ বিবরনীর তথ্য চেয়ে।নোটিশে দেশ ও বিদেশে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নগদ অর্থসহ সহায় সম্পদের হিসেব দিতে বলেছে।এছাড়া নিজের, সন্তান ও নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, আয়কর রিটার্ন, ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। অবৈধ সম্পদ,অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় দুদক থেকে পাঠানো এক নোটিশে সম্পদের হিসাব দাখিল করতে বলা হয়। অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জন দুদকের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দুদকের অনুসন্ধানে অঢেল সম্পদ অর্জন,হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পাওয়ায় এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সম্পদের নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে কমিশনের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে/বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন । এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে। তাই নোটিশে জুলিয়া রহমান,তার তিন সন্তান, নিজের, নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারিত ফরমে দাখিল করতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান বারমুডা থেকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ দিয়ে তার মেয়েসহ নাগরিত্ব গ্রহন করেছেন।। বিদেশে যেভাবে অর্থ পাচার : বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ও তার সন্তান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট,আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় দুদকের এক কর্মকর্তা জানান,কিভাবে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান ,বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্পোরেট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান,দুদকের জাল থেকে বের হওয়াটা সহজ হবেনা।তিনি আশ্চর্য হয়ে বলেন একটি চলমান লাভজনক প্রতিষ্ঠান কিভাবে ধুকে ধুকে বন্ধের পথে যাচ্ছে তা ভাবা মাত্র শরীর শিউরে উঠে। ব্যাংক লোন দিতে নাজেহাল অবস্থা অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড ও অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডের কাছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ৬ শত কোটির বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। এ ছাড়া এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,উত্তরা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের পাওনা রয়েছে আরো শত কোটি টাকা। অলিম্পিক ফাইবার এক মাস যাবৎ বন্ধ ব্যাংকগুলোতে ঋনের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। ইতিমধ্যে অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেড প্রায় এক মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ দু মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সূত্রের দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আয়কর ও ট্যাক্স ফাঁকির পাশাপাশি অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলার কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব:টিআইবি টাকা পাচার প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা ব্যাংক খাত ও বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর ১২ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। যে দেশে অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে আইনি চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। দুই বছরের মধ্যে যদি কোনো টাকা ফেরত আসে, তাহলে সেটাও বড় অর্জন হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি দৃষ্টান্ত আছে। ২০০৭ সালে পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেয় দুদক। পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর থেকে ৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৯৩০ কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছিল। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান,পিএস নিলুফা ইসলাম, পিএস জুয়েল ইসলামের সাথে যোগাযোগের জন্য কল দেয়া হলেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি কল রিসিভ না করার কারনে। দুর্নীতি ও অর্থ-আত্মসাতে আরো যারা জড়িত এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। এদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হবে শিঘ্রই। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে......
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ব্যবসা ও রাজনীতির পরিসরে কাজী সালিমুল হক কামাল—যিনি ‘ইকনো কামাল’ নামেই বেশি পরিচিত—একটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। একটি সাধারণ বলপেনকে ঘিরে গড়ে ওঠা তাঁর উদ্যোগ পরবর্তীতে দেশের অন্যতম পরিচিত ব্র্যান্ডে রূপ নেয়, আর সেই পথ ধরেই তিনি পৌঁছে যান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা ১৯৫১ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তাঁর পৈতৃক নিবাস মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে। পিতা কাজী আকরামুল হক। উচ্চশিক্ষা শেষে ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ/এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। চাকরির প্রচলিত পথ এড়িয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলার সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্যবসায়িক যাত্রা: ‘ইকনো’-র উত্থান ১৯৮১ সালে মহাখালীর একটি ছোট ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী সালমা হকের সঙ্গে মিলে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ। সীমিত সম্পদ দিয়ে শুরু হলেও দ্রুতই বাজারে জায়গা করে নেয় ‘ইকনো’ বলপেন। বিশেষ করে সাদা-কালো টেলিভিশনের যুগে প্রচারিত বিজ্ঞাপন— “আব্বুর জন্য ইকনো, আম্মুর জন্য ইকনো” —বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ইতিহাসে এক স্মরণীয় স্লোগান হয়ে ওঠে। মাত্র ৩ টাকায় একটি মানসম্মত বলপেন সরবরাহের ধারণা সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে এটি হয়ে ওঠে সাশ্রয়ী কিন্তু নির্ভরযোগ্য পণ্যের প্রতীক। পরবর্তীতে তাঁর ব্যবসা বিস্তৃত হয়ে জিকিউ গ্রুপ ও ইকনো গ্রুপে রূপ নেয়। পাশাপাশি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা রেনাল সেন্টার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, যা তাঁর সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। রাজনীতিতে সক্রিয়তা ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন কাজী সালিমুল হক কামাল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মাগুরা-২ আসন থেকে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন— ১৯৯১ (পঞ্চম জাতীয় সংসদ) ১৯৯৬ (ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ) ২০০১ (অষ্টম জাতীয় সংসদ) এছাড়া ১৯৯৪ সালের উপনির্বাচনেও জয়লাভ করেন। তিনি একসময় মাগুরা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। একটি সাধারণ বলপেনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উদ্যোগ কীভাবে জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসা ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—কাজী সালিমুল হক কামালের জীবন সেই বাস্তব উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবুও তাঁর তৈরি ‘ইকনো’ ব্র্যান্ড এখনও বাংলাদেশের বহু মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত—একটি সময়, একটি প্রজন্ম এবং সাশ্রয়ী উদ্ভাবনের প্রতীক হিসেবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :ঝালকাঠি জেলায় এক হৃদয়বিদারক মানবিক চিত্র সামনে এসেছে। জরাজীর্ণ খুপরি ঘরে খেজুর পাতার ছাউনি ও তালি দেওয়া পলিথিনে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন নির্মল বেপারী ও তার পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি চুঁইয়ে পড়ে, আর ঝড়-বৃষ্টির শব্দেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠে পুরো পরিবারটি। নির্মল বেপারীর বসবাসের স্থানটিকে আদৌ ঘর বলা যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়া ছাউনি আর নড়বড়ে কাঠামোর মধ্যেই টিকে আছে তাদের জীবন। নির্মল বেপারী জানান, “বৃষ্টি নামলেই রাতে ঘুম ভেঙে যায়। শিশুদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়েই এমন অবস্থায় দিন পার করছি।” এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দ্রুত এই পরিবারটিকে পুনর্বাসন করা জরুরি। না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও জানান, শুধু নির্মল বেপারী নন, এলাকায় এমন আরও অনেক অসহায় পরিবার রয়েছে যারা এখনো মৌলিক আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে আসা এক সাধারণ দিনমজুর—তাইজুল ইসলাম তাজু। অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে এক মিলিয়নের বেশি ফলোয়ার থাকা পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি এখন স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ উত্থান: ট্রল থেকে প্রশংসা মাত্র ১০ হাজারের কম ফলোয়ার নিয়ে চলা পেজটি গত ২৮ মার্চের পর থেকে আচমকাই আলোচনায় আসে। এর পেছনে ছিল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশিত একটি ভিডিও—“সরকারি রেটে জিলাপি বিক্রি হচ্ছে”। চরনারায়ণপুরের একটি স্থানীয় বাজারে ধারণ করা সেই ভিডিওতে তাজুর উপস্থাপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভাষা এবং ব্যতিক্রমী স্টাইল দ্রুত দর্শকদের নজর কাড়ে। প্রথমদিকে ভিডিওটি নিয়ে ট্রল হলেও, খুব দ্রুত সেটি প্রশংসায় রূপ নেয়। কারণ, ভিডিওর আড়ালে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের বাস্তব সমস্যা, বাজার ব্যবস্থার অসঙ্গতি এবং গ্রামীণ জীবনের অনাবৃত চিত্র। ভাইরাল বিস্ফোরণ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তাজুর পেজে ফলোয়ার সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে তা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়—যা বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে বিরল ঘটনা। এই সময়ের মধ্যে তাজুর আরও কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি চরাঞ্চলের নিত্যদিনের সমস্যা—পণ্যদ্রব্যের দাম, যোগাযোগ সংকট, ও জনসেবার ঘাটতি তুলে ধরেন। হঠাৎ অদৃশ্য: কী ঘটেছে? এই দ্রুত উত্থানের মাঝেই আসে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা। ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকেই পেজটি আর দেখা যাচ্ছে না। তাজুর সহযোগী শাহ আলম হোসেন জানান, এটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা আশা করছি, স্বল্প সময়ের মধ্যেই পেজটি আবার চালু হবে।” অন্যদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম ভিন্ন একটি সম্ভাবনার কথা বলেন। তার মতে, “অল্প সময়ে পেজটিতে বিপুল ফলোয়ার ও ভিউ বাড়ায় মেটা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে পেজটি অদৃশ্য করে থাকতে পারে।” সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ তদন্তে উঠে আসছে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা— ১. অস্বাভাবিক গ্রোথ অ্যালার্ট হঠাৎ করে ফলোয়ার সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেলে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিভিউ শুরু হয়। ২. রিপোর্ট বা মাস রেপোর্টিং ভাইরাল হওয়ার পর অনেক সময় ট্রল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সংগঠিত রিপোর্টিংয়ের কারণে পেজ সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ৩. কমিউনিটি গাইডলাইন যাচাই ভিডিওর কনটেন্টে যদি কোনোভাবে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতি থাকে, তবে তা যাচাইয়ের জন্য পেজ লুকিয়ে রাখা হতে পারে। ৪. প্রযুক্তিগত ত্রুটি মাঝেমধ্যে বড় প্ল্যাটফর্মেও সাময়িক বাগ বা সার্ভার সমস্যার কারণে পেজ অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। গ্রামীণ কণ্ঠের উত্থান—নাকি ঝুঁকি? তাজুর ঘটনা শুধু একটি পেজ হারানোর গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ ডিজিটাল কনটেন্ট ইকোসিস্টেমের একটি প্রতীকী ঘটনা। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মানুষ যখন সরাসরি নিজের ভাষায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেন, তখন তা দ্রুত মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই একই দ্রুততা প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক নজরদারির ঝুঁকিও বাড়ায়। এখন কী? তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে পেজটি স্বেচ্ছায় ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে, নাকি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ সরিয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—যদি এটি শুধুই যাচাই-বাছাই বা প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই ‘তাজু ভাই ২.০’ আবারও অনলাইনে ফিরে আসবে। তাজুর গল্প প্রমাণ করে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যতটা সহজ মনে হয়, তা ধরে রাখা ততটাই জটিল। একদিকে মানুষের ভালোবাসা, অন্যদিকে অ্যালগরিদমের কঠোর নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝেই এখন ঝুলে আছে ‘তাজু ভাই ২.০’-এর ভবিষ্যৎ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইতালির উপকূলে থাকা দু’টি বণিক জাহাজ একটি নৌকা থেকে ৩২ জন অভিবাসপ্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুই অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহও উদ্ধার করেছে তারা। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকাটি লিবিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বরাতে উদ্ধারকারী দাতব্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অন্তত ৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। ইউরোপমুখী অভিবাসনের বিপজ্জনক রুট আবারও প্রাণ কেড়ে নিল অসংখ্য মানুষের। উত্তর আফ্রিকার উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি ছোট নৌকার ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি বৃহত্তর মানবিক সংকটের নির্মম প্রতিচ্ছবি। ঘটনাটির পুনর্গঠন শনিবার, লিবিয়ার উপকূলীয় এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে একটি ছোট, অপ্রস্তুত নৌকা। গন্তব্য—ইউরোপ। নৌকাটিতে ছিলেন শতাধিক মানুষ, যাদের অধিকাংশই যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে পালিয়ে নতুন জীবনের আশায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। জীবিত উদ্ধার হওয়াদের বয়ানে জানা যায়, নৌকাটি লিবিয়ার তাজোরা বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈরি আবহাওয়া শুরু হয়—উঁচু ঢেউ, তীব্র বাতাস, আর এক অনিশ্চিত সমুদ্র। এই পরিস্থিতিতে নৌকাটি উল্টে যায়, তখনও সেটি লিবিয়ার জলসীমার মধ্যেই ছিল। উদ্ধার অভিযান: বিলম্ব, বিভ্রান্তি ও সীমিত সক্ষমতা জার্মান দাতব্য সংস্থা সী-ওয়াচ-এর একটি নজরদারি বিমান প্রথম বিপদগ্রস্ত নৌকাটির সন্ধান পায়। তাদের বিবরণ অনুযায়ী, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌকার সঙ্গে আঁকড়ে ধরে ছিলেন প্রায় ১৫ জন। চারপাশে ভাসছিল আরও মানুষ—কেউ জীবিত, কেউ মৃত। পরবর্তীতে ভূমধ্যসাগরীয় মানুষ বাঁচানো এবং-সী-ওয়াচ এর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ইতালীয় ও লিবীয় বাণিজ্যিক জাহাজও এতে অংশ নেয়। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনকে ইতালির কোস্ট গার্ডের একটি টহল নৌকায় স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপ-এ—যা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান দরজা হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের রহস্য উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্যমতে, অন্তত ৮০ জন এখনও নিখোঁজ। আন্তর্জাতিক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন উঠছে—উদ্ধার অভিযান কি যথাসময়ে শুরু হয়েছিল? পর্যাপ্ত নজরদারি ও সমন্বয় থাকলে কি আরও প্রাণ বাঁচানো যেত? কারা ছিলেন এই যাত্রীরা? ইতালীয় কোস্ট গার্ডের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, জীবিতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং মিসর-এর নাগরিকরা। তাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এটি দেখায়, এই বিপজ্জনক রুট শুধু আফ্রিকানদের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের কাছেও একটি মরিয়া বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিপজ্জনক রুট, অপ্রস্তুত নৌকা ইউএনএইচসিআর -এর মুখপাত্র ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের হালকা নৌকা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য একেবারেই উপযুক্ত নয়। তবুও মানবপাচারকারী চক্রগুলো নিয়মিত এমন নৌকা ব্যবহার করছে—অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে, কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: একটি চলমান মানবিক সংকট ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট। লিবিয়া থেকে ইতালি—এই পথটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে মানবপাচারকারী নেটওয়ার্ক, দুর্বল আইন প্রয়োগ, এবং সীমিত উদ্ধার সক্ষমতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হলো— নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথের অভাব আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং মানবপাচার চক্রের দৌরাত্ম্য এই ডুবন্ত নৌকাটি কেবল একটি সংখ্যা নয়—এটি শতাধিক জীবনের গল্প, যাদের অনেকেই হয়তো আর কখনও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভূমধ্যসাগরের ঢেউ শুধু দেহ ভাসায় না, ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্বপ্ন, পরিবার, আর ভবিষ্যৎ। প্রশ্ন এখন একটাই—এই মৃত্যু মিছিল থামাতে বিশ্ব কতটা প্রস্তুত?
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী-এর অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার। তাকে সফরের মাঝপথেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ শিরোনামের ধারাবাহিক বক্তৃতা কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলেন। এই সফরের অংশ হিসেবে তার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরা শহরে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জোনাথন ডুনিয়াম বলেন, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন আগে থেকেই সরকারের কাছে তার সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তার অভিযোগ, আজহারীর অতীত কিছু বক্তব্যে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারী ইহুদিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তুলে ধরেন এবং হলোকাস্ট নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অ্যাডলফ হিটলার-কে ‘ঈশ্বরের শাস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দেয়। এর আগে যুক্তরাজ্যেও তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, তার বক্তব্য ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং চরমপন্থী মতাদর্শকে উসকে দিতে পারে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই অস্ট্রেলিয়া সরকার তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। কে এই মিজানুর রহমান আজহারী? তরুণদের আইডল, সুশিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ বক্তা, ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি অল্প কয়েকদিনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে যে ক’জন ইসলামি চিন্তাবিদ রয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জন্মমিজানুর রহমান ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লার মুরাদনগরের পরমতলা গ্রামে। তার বাবা একজন মাদরাসার শিক্ষক। তার পরিবারে মা-বাবা ও এক ভাই রয়েছে। শিক্ষাজীবনমিজানুর রহমান ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিসর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট করার জন্য মিসরে যান। সেখান থেকে ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স থেকে ২০১২ সালে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স উত্তীর্ণ হন। মিসরে পাঁচ বছর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া যান। সেখানে গার্ডেন অব নলেজ খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কোরআন অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮২ আউট অব ফোর। গবেষণাপোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করে মালয়েশিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে এমফিল এবং পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালের মধ্যে এমফিলও শেষ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘হিউম্যান এম্ব্রায়োলজি ইন দ্য হোলি কুরআন’। তারপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। ‘হিউম্যান বিহ্যাভিয়ারেল ক্যারেক্টারইসটিক্স ইন দ্য হোলি কুরআন অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল স্টাডি’র ওপর পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার এমফিল এবং পিএইচডির মাধ্যম ছিল ইংরেজি। এছাড়া আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ওভারঅল ৭.৫ আউট অব ৯ ব্যান্ড স্কোর এবং স্পিকিং সেকশনেও ৭.৫ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করেন। উপাধি : মিজানুর রহমান তার নাম। তবে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তার নামের সাথে ‘আজহারী’ উপাধি যুক্ত হয়েছে। দাম্পত্য জীবনমাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তরুণদের আইডলইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলেও নিজেকে স্মার্টভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা মিজানুর রহমান আজহারীকে দেখলেই বোঝা যায়। তাই এ সময়ের যুবকরা তাকে খুবই পছন্দ করে। তার তাফসির মাহফিলে যুবকদের স্রোত দেখা যায়। তিনিও যুবকদের খুবই পছন্দ করেন। তাফসির মাহফিলে যুবকদের ভালো পথে চলার আহ্বান জানান। জনপ্রিয়তাখুব অল্প সময়ে সুললিত কণ্ঠে কুরআন-হাদিসের সহজ-সাবলীল আলোচনা করে অসংখ্য মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তার গবেষণাধর্মী আলোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বাংলা, আরবি, ইংরেজি ভাষায় খুবই দক্ষ। যে কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ তার আলোচনা বুঝতে পারে। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। উপার্জনসোশ্যাল নেটওয়ার্কের মধ্যে তার একটি ফেসবুক আইডি ও একটি অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ রয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো ইউটিউব চ্যানেল নেই। মাসিক আয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাফসির মাহফিলে তিনি চুক্তিবদ্ধ হন না। হাদিয়া হিসেবে যা পান তা-ই নিয়ে থাকেন। বছরের বেশিরভাগ সময় মালয়েশিয়ায় থাকেন। সেখানে পিএইচডি করছেন। সময় পেলে তাফসির মাহফিল করেন। এছাড়া বৈশাখী টেলিভিশনে ‘ইসলাম ও সুন্দর জীবন’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান করেছেন।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-এর কামানি মিলনায়তনে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বই আলোচনা ছাপিয়ে উঠে এল বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বক্তব্য। প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন লেখক নীলাঞ্জনা রায়। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গ বক্তব্যের শুরুতেই অরুন্ধতী রায় বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন তেহরান, ইসফাহান এবং বৈরুত-এর মতো শহরগুলোর পরিস্থিতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি “বিনা উসকানিতে এবং অবৈধভাবে” হয়েছে এবং তা গাজা-তে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা। তার ভাষায়, “একই কৌশল—নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল বোমা হামলা, শহর ধ্বংস—তারপর নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন।” বৈশ্বিক বিপদের আশঙ্কা অরুন্ধতী রায় সতর্ক করেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও এগোচ্ছে। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা হামলা-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানের প্রতি সমর্থন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব সেই দেশের জনগণেরই। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে তিনি “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দেন। ভারতের সরকারের সমালোচনা ভারতের বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাধীন অবস্থান হারাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে অপমান করা হলেও সরকার নীরব। শ্রমিক ও নীতির প্রশ্ন গাজায় সংঘাত চলাকালে ইসরাইলে ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বই ও ব্যক্তিগত জীবন অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল তাঁর নতুন বই। অরুন্ধতী রায় জানান, এটি সরাসরি আত্মজীবনী নয়, বরং “একজন ঔপন্যাসিকের স্মৃতিকথা”। বইটিতে তাঁর মা মেরি রায়-এর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক উঠে এসেছে—যিনি একদিকে কঠোর মা, অন্যদিকে নারীর অধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এআই ও সমাজ নিয়ে উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এআই ধীরে ধীরে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে ক্ষয় করছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি এখন শুধু “ফ্যাসিবাদী সরকার” নয়, বরং “ফ্যাসিবাদী সমাজ”-এর মুখোমুখি। অনুষ্ঠানের শেষভাগে তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। জবাবে অরুন্ধতী রায় ‘বিজয়’ চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, “দিল্লিতে আমরা সব সময় প্রতিরোধ করি।”
গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঈদের দিন সন্তানকে কাঁধে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হওয়া এক তরুণকে আটক করার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তার ২১ মাস বয়সী শিশুকে পরে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—যার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিখোঁজ ওই তরুণের নাম ওসামা আবু নাসের (২৫)। তার শিশুপুত্র জাওয়াদ আবু নাসারকে গত ১৯ মার্চ গাজার কেন্দ্রীয় এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজের বাড়ি, জীবিকা ও নিরাপত্তা হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ওসামা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি সকাল ১০টার দিকে শিশুকে নিয়ে মিষ্টি কিনতে বের হন। ওসামার বাবা মুহাম্মদ হুসনি আবু নাসার জানান, প্রতিবেশীরা ফোন করে তাকে জানান, তার ছেলে শিশুকে কাঁধে নিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে—যেখানে একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা রয়েছে। গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের কাছে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক সীমারেখা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে বিবেচিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই এলাকায় পৌঁছানোর পর ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি গুলি না চালিয়ে তার আশেপাশে গুলি ছোড়ে। এতে বিভ্রান্ত হলেও ওসামা থামেননি। পরে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন তার কাছে এসে ভেসে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এরপর তাকে শিশুকে নামিয়ে রেখে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কাপড় খুলে ফেলতে বলা হয়। ওসামার বাবা বলেন, “সে শুধু অন্তর্বাস পরে ছিল এবং শান্ত ছিল, কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি।” ওসামা আটক হওয়ার পর তার বাবা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকেন এবং আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে নিজের যোগাযোগ নম্বর দিয়ে আসেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার নাতিকে তারা পেয়েছে। পরে মাঘাজি বাজার এলাকায় আইসিআরসি কর্মকর্তারা শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেন। শিশুটিকে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয়। কম্বল খুলে তার প্যান্টে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। আইসিআরসি জানায়, তারা শিশুটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে শিশুটির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। পরিবারের দাবি, বাড়িতে আনার পর শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাঁটুর চারপাশে পোড়া দাগ এবং ধারালো বস্তু দিয়ে করা গভীর ক্ষত ছিল। শিশুটি সারারাত ব্যথা ও আতঙ্কে কেঁদেছে এবং ঘুমাতে পারেনি। পরদিন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এসব আঘাত গোলাবারুদের কারণে নয়—বরং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির হাঁটু ফুলে গেছে এবং সেখানে সিগারেটের দাগের মতো ক্ষত রয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হামাসের প্রচারণার অংশ। এদিকে, আটক হওয়ার পর থেকে ওসামা আবু নাসারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ইসরাইলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের আকাশে দেখা গেল এক বিরল ও ভয়ার্ত দৃশ্য। হঠাৎ করেই হাজার হাজার কালো কাকের ঝাঁক শহরের আকাশ ঢেকে ফেলে, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে শহরের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা আজরিয়েলি টাওয়ারের ওপর দিয়ে যখন এই বিশাল পাখির দল ঘূর্ণায়মানভাবে উড়তে থাকে, তখন অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকের কাছে মনে হয়েছে, যেন পুরো শহর এক অদৃশ্য কালো চাদরে ঢেকে যাচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ একে ‘অশুভ লক্ষণ’ বা আসন্ন বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) এ অনেক ব্যবহারকারী ইতিহাসের উদাহরণ টেনে দাবি করেছেন, বড় কোনো বিপর্যয়ের আগে প্রকৃতি এমন অস্বাভাবিক আচরণের মাধ্যমে সংকেত দেয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে আলোচনায়। অনেকেই বাইবেলের ‘বুক অব রেভেলেশন’-এর ১৯:১৭ নম্বর আয়াতের কথা টেনে এনে বলছেন, বিশাল যুদ্ধ বা বিপর্যয়ের আগে আকাশের পাখিরা এভাবে একত্রিত হওয়ার কথা সেখানে বলা আছে। এ ধরনের ঘটনা ঘিরে মানুষের ভীতি নতুন নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাচীন রোমানরা পাখির আচরণ বিশ্লেষণের জন্য ‘অগার’ নামে বিশেষ পুরোহিত নিয়োগ করত। তারা পাখির গতিবিধি দেখে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস দিতেন। একইভাবে টাওয়ার অব লন্ডনের দাঁড়কাকদের নিয়েও রয়েছে কিংবদন্তি—যদি তারা টাওয়ার ছেড়ে চলে যায়, তবে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের পতন ঘটবে বলে বিশ্বাস করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখছেন। পক্ষীবিদদের মতে, ইসরাইল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাখির পরিযায়ন পথ। প্রতিবছর বসন্তকালে কোটি কোটি পাখি এই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হুডেড ক্রো’ নামের এক ধরনের কাক এই অঞ্চলে খুবই সাধারণ। মার্চ মাসে এদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় তারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। শহরের উঁচু ভবন ও সহজলভ্য খাদ্যও বড় ঝাঁক তৈরিতে সহায়তা করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক বা অশুভ ঘটনা নয়; বরং ঋতুভিত্তিক স্বাভাবিক আচরণ। পরিবেশগত চাপ, শব্দ বা শিকারির উপস্থিতিতেও পাখিরা এমন আচরণ করতে পারে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে অনেকেই এই দৃশ্যকে ‘যুদ্ধের পূর্বাভাস’ হিসেবে কল্পনা করছেন। সব মিলিয়ে, বিজ্ঞান যেখানে যুক্তি দিচ্ছে, সেখানে মানুষের মনে ভয় ও কল্পনার জায়গা এখনো দখল করে আছে এই রহস্যময় ‘কালো আকাশ’।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে, ফলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটে ছুটে আসা স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তার পরিবারের পাঁচজন ওই বাসে ছিলেন। তার স্ত্রী, দুই বছরের মেয়ে ও বোন প্রাণে বাঁচলেও সাত বছর বয়সী ছেলে ও ১১ বছরের ভাগনে এখনও নিখোঁজ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সন্তান তো আর নাই। ওর লাশটা আমারে দেন… আমাদের টাকার দরকার নাই, শুধু লাশগুলো দেন।” হতাহতের আশঙ্কা বাড়ছে প্রত্যক্ষদর্শীরা আশঙ্কা করছেন, যারা সাঁতরে উঠতে পেরেছেন তারা ছাড়া বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই প্রাণ হারিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বজনরা নিখোঁজদের তথ্য শেয়ার করছেন। একজন কলেজ শিক্ষক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার ছোট বোনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, তবে ভাগনে ও নাতি এখনও বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে। উদ্ধার অভিযান ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় পন্টুনের সোজা পকেট দিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে এবং ঢাকার সদর দপ্তর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া—ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান করছে। প্রশাসনের বক্তব্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্ধারে বিলম্বের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কংগ্রেসে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তুলে নতুন একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছে। গত শুক্রবার (২০মার্চ) কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি কংগ্রেসে উত্থাপন করেন। এতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, লাখ লাখ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া ও নারীদের ওপর চালানোর নির্যাতনের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এখন এটি পর্যালোচনার জন্য বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সঙ্গে করা বৈষম্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাদের সরাসরি সহায়তা করেছিল, ফলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে সেটি উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়েছে— সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের বিখ্যাত ‘জেনোসাইড’ লেখাটি বা ঢাকার তৎকালীন মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের পাঠানো সেই ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’—সবই প্রমাণ করেয ওই সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে চালানো অভিযান ছিল ছিল একটি পরিকল্পিত গণহত্যা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে দাবি জানানো হয়েছে যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাত্তরের এই বীভৎসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে যেন স্বীকৃতি দেন। সেই সাথে অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাসকে সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান। তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন। এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’ ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’ যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। Iran Israel War, Middle East Crisis, UN Warning, Global Economy Risk, Trump Iran Conflict
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মোকাবিলায় ইরান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধ কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ অসহনীয় হয়ে ওঠে। ইরানের এই ‘অসম সহনশীলতা’ কৌশলের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো: যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত করা ইরান জানে যে সরাসরি সামরিক শক্তিতে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়। তাই তাদের কৌশল হলো, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানো। বিমান চলাচল রুদ্ধ করা: বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাহত করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে অচলাবস্থা তৈরি করা। অর্থনৈতিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি ‘শেষ খেলা’ ইরানের লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করা। এতে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, যা ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে। ইরানের ধারণা, আমেরিকান ক্যাজুয়ালটি (সেনা মৃত্যু) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ট্রাম্পের ‘এমএজিএ’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকরাই এই যুদ্ধের বিরোধিতা শুরু করবে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করা ইরান চায় তাদের সস্তা ড্রোন এবং মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েল ও আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘মিসাইল ইন্টারসেপ্টর’ (যেমন- থাড আয়রন ডোম বা প্যাট্রিয়ট) ভান্ডার খালি করে দিতে। এটি এক ধরনের ‘স্ট্যামিনা টেস্ট’ বা ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের অভিমত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যালি নাসরের মতে, ইরান গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে। তাই তাদের কৌশল হলো যুদ্ধ জটিল করে তোলা এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপদ বাড়িয়ে শত্রুর ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিকের জন্য টিকে থাকাই হলো বিজয়, সেটির জন্য যত চড়া মূল্যই দিতে হোক না কেন।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ একেকটি পক্ষের সমর্থনে সরব হলেও ভারত সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত। এই নীরবতা ঘিরেই দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভারতের সরকারি অবস্থান: সংযম ও কূটনীতির আহ্বান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিতে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গুরুতর উদ্বেগের বিষয়” বলে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব ও জর্ডানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন। তবে খামেনির মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারত কি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে, নাকি এটি ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অসঙ্গত? ইসরায়েল সফর ও সময় নিয়ে বিতর্ক সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদী। সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কৌশলগত চুক্তি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করে তাকে “বর্বরোচিত” বলে মন্তব্য করেছিলেন মোদী। ‘গাজা পিস ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে মোদী সরকারের অবস্থানকে সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতি সার্বভৌম সমতা, হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। ইরানের ওপর হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা না করা সেই নীতির সঙ্গে অসঙ্গত। সোনিয়া গান্ধী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে ওআইসি-তে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার প্রচেষ্টা ঠেকাতে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ-ও মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত দ্য টাইমস কুয়েতের এক্সিকিউটিভ ম্যানেজিং এডিটর র্যাভেন ডিসুজা মনে করেন, ভারত সামরিক অভিযানের অংশ না হলেও এই সময়ে ইসরায়েল সফর এড়ানো যেত। তার মতে, আরব দেশগুলো প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও বিষয়টি নজরে রাখছে। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শশাঙ্কের মতে, ইসরায়েল ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদার এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়েত বলেন, ভারতের “ডি-হাইফেনেশন নীতি” স্পষ্ট—এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না। কৌশলগত ভারসাম্য না নীতিগত সরে আসা? ভারত ঐতিহাসিকভাবে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখা একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় নীরবতা ভারতের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। অন্যদিকে সরকারের সমর্থকদের মতে, এই নীরবতাই কৌশলগত পরিপক্বতা—যেখানে প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না। ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতে ভারত কীভাবে কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে—আর সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এছাড়াও এই হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুধুমাত্র তেহরানেই মারা গেছেন অন্তত ৫৭জন নাগরিক। এই ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোকও প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে শনিবার ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এমন অবস্থার মধ্যে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। যেখানে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের 'কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে দাবি করে এর নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের এই বিবৃতিতে কোথাও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নামও উল্লেখ করা হয়নি। সেই সাথে ইরানে হামলার ঘটনায়ও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। রোববার সন্ধ্যায় ওই বিবৃতিটি প্রকাশের পর সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যায়। এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বিবিসি বাংলা। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানকে 'একপেশে' মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত হওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি না এই বিবৃতি কী কারো চাপে পড়ে দিয়েছে, নাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকেই দিয়েছে"। এদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে এই বিবৃতিতে এ-ও বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকেও বিপন্ন করবে। যা আছে বাংলাদেশের বিবৃতিতে শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরই এর জবাব দিতে শুরু করে ইরান। প্রথম ইসরায়েল ও পরে মধ্যপ্রাচ্যের যে সব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সে সব ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকও করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয়। সেখানে বাংলাদেশ সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানায়। রোববার ভোরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে উত্তেজনা আরো বাড়তে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার তীব্র প্রতিবাদও জানানো হয়। রোববার বিকেলে ঢাকায় বিক্ষোভ করে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীও। এই অবস্থার মধ্যে রোববার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনায় একটি বিবৃতি দেয়। এতে ইরানে হামলার পর সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সতর্ক করে এই বিবৃতিতে বলেছে, চলমান শত্রুতা কেবল আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জনগণের কল্যাণকে বিপন্ন করবে। দেশটি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপার্থক্য নিরসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দাও জানায় বাংলাদেশ। কূটনীতিক বিশ্লেষকেরা কী বলছেন? মূলত এই বিবৃতির পরই এ নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কূটনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানেই বলা আছে দেশের অবস্থান হবে যে কোনো ধরনের আগ্রাসন বিরোধী। কিন্তু এই ইস্যুতে বাংলাদেশ বেশ সতর্ক অবস্থানে থেকেছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিকে একপেশে বলে বর্ণনা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সংবিধান বলছে আগ্রাসনের বিরোধিতা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পক্ষে থাকতে হবে। একই সাথে কেউ যদি অবৈধভাবে বলপ্রয়োগ করে তার বিরুদ্ধেও অবস্থান থাকা উচিত"। তিনি মনে করেন, এই ইস্যুতে বর্তমান সরকারের উচিত ছিল বিবৃতিতে সব পক্ষের নাম উল্লেখ করা। একই সাথে দুই পক্ষের হামলার নিন্দা জানানো। কিন্তু সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করেনি। চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে ইরান আগে আক্রান্ত হয়েছে। ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যখন ইরান আক্রান্ত হয়েছে, তখন জবাব দিয়েছে তারা। তিনি বলছিলেন, যখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা হয়ে থাকে, ইরান যখন আক্রান্ত হচ্ছে, তখন অবশ্যই তার অধিকার আছে তা প্রতিহত করার। 'বাংলাদেশের এই বিবৃতি কারো চাপে পড়ে দিয়েছে কী-না,' এই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগ্রাসন তো আগে চালিয়েছে ইসরায়েল- যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এমন অবস্থান নিচ্ছে সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে যে ধরনের বক্তব্য আশা করেছিলাম সে ধরনের বক্তব্য পাই নি"। একজন বাংলাদেশিসহ নিহত তিনজন ইরানের পাল্টা হামলায় দুবাই এয়ারপোর্ট, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববারও ইরান ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা চালাতে দেখা গেছে। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই হামলায় একজন বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১৬৫ টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং এগুলোর মধ্যে ১৫২ টি ধ্বংস করেছে। এছাড়াও দু্ইটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ইরানে ৭ দিনের ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে এবং নাতিও মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................... ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের একটি ধর্মীয় পরিবারে ১৯৩৯ সালের ১৯শে এপ্রিল জন্ম হয়েছিল আলী খামেনির। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি ছিলেন স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত একজন শিয়া পণ্ডিত। মা খাদিজে মির্দামাদীও একজন ধার্মিক নারী ছিলেন। শৈশবে মায়ের কাছেই কোরআন শিক্ষাসহ ইসলাম ধর্মের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রাথমিক জানাশোনা হয় আলী খামেনির। মি. খামেনির বিভিন্ন স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, তার মা খাদিজে মির্দামাদী কোরআন তেলাওয়াতের কণ্ঠ 'খুব ভালো' ছিল। তিনি এটাও উল্লেখ করেছেন যে, শৈশবে তার চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা ছিল 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ'। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ইরানে ৭ দিনের ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে এবং নাতিও মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................... আলী খামেনির বয়স যখন চার বছর, তখন বড় ভাই মোহাম্মদের সঙ্গে তিনি স্থানীয় একটি মক্তবে যাওয়া শুরু করেন। নিজের স্মৃতিকথায় মি. খামেনি বলেছেন যে, তিনি মক্তবের শিক্ষককে ভয় পেতেন। কারণ ওই শিক্ষক প্রতি শনিবার শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পেটাতেন। আলী খামেনির শৈশব কেটেছে অভাবের সংসারে। দারিদ্র্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তাকে ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝে মধ্যেই ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হতো। এছাড়া মলিন ও পুরোনো পোশাকের জন্য শৈশবে মি. খামেনিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীরা প্রায়ই কটাক্ষ করতো। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদও লেগে যেতো। স্মৃতিকথায় মি. খামেনি উল্লেখ করেছেন যে, ছোটবেলায় তার একজোড়া 'ফিতাওয়ালা জুতা'র খুব শখ ছিল। মক্তবের পর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন আলী খামেনি। যদিও তার বাবা সৈয়দ জওয়াদ খামেনি পাশ্চাত্যের শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করতেন। ছোট থেকেই আলী খামেনি চোখে কম দেখতেন। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে তিনি শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ও শিক্ষকদের ঠিকমত দেখতে পেতেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিষয়টি কেউ ধরতে পারেনি। ফলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া পর্যন্ত তাকে 'ভীষণ বোকা ও অলস ছাত্র' হিসেবে বর্ণনা করা হতো। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির বিষয়টি ধরা পড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মি. খামেনি চশমা ব্যবহার শুরু করেন। এরপর তিনি লেখাপড়ায় নিজের উজ্জ্বল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে ওঠেন। তবে বাবার বিরোধিতার মুখে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি আলী খামেনি। তখন ধর্মীয় শিক্ষার জন্য তাকে শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে পাঠানো হয়। স্মৃতিকথায় আলী খামেনি বলেছেন যে, কৈশোরে সাহিত্যের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ জন্মেছিল, বিশেষত উপন্যাস ও কবিতার প্রতি। পরবর্তীতে তিনি কবিদের বিভিন্ন সভা ও কবিতার আসরে যোগ দিতে শুরু করেন। সাহিত্যের প্রতি অনুরোগ এতটাই বেশি ছিল যে, কোমে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগেই তিনি এক হাজারেরও বেশি উপন্যাস পড়ে ফেলেছিলেন বলে স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন মি. খামেনি। সেসব উপন্যাসের মধ্যে লিও টলস্টয়, ভিক্টর হুগো এবং রোমা রোলার মতো বিখ্যাত লেখকদের বইও ছিল। যৌবনে আলী খামেনি 'আমিন' ছদ্মনামে কবিতাও লেখা শুরু করেন। ছাত্র থাকাকালে মি. খামেনি ১৯৫৫ সালে কোমে একটি সভায় যোগ দেন। সেখানে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সঙ্গে তার দেখা হয়, যার নেতৃত্বে পরে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। কোমে পড়াশোনা করার সময় আলী খামেনি ইরানের তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন। ১৯৬২ সালে তিনি আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর তরুণ আলী খামেনি ধীরে ধীরে মি. খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর আগে বিভিন্ন স্মৃতিকথায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জীবনে যা কিছু শিখেছেন এবং যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত। শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। বিপ্লবের আগ পর্যন্ত আলী খামেনির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত মাশহাদ শহরকেন্দ্রিক ছিল।এরপর ১৯৭৭ সালে তিনি সপরিবারে তেহরানে চলে যান। একই বছরের ডিসেম্বরে গ্রেফতার এড়াতে আলী খামেনি ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বৃহত্তম প্রদেশ সিস্তান ও বেলচিস্তানে চলে যান। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি পুনরায় তেহরানে ফিরে আসেন। সেসময় বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পান আলী খামেনি। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। ওই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন। ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে। যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' উপাধি অর্জন করতে পারেননি। পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনীনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল। ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। নিজের শাসনামলে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।
১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পণ্ডিতের ঘরে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি নিজ শহরের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনা করেন, পরে যান শিয়া মুসলিমদের পবিত্র নগরী কোমে। ১৯৬২ সালে তিনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধাচরণকারী আয়াতুল্লাহ খোমেনির ধর্মীয় আন্দোলনে যোগ দেন। তরুণ আলী খামেনি খোমেনির একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হয়ে ওঠেন। তার নিজের ভাষায়, তিনি যা করেছেন এবং এখন যা বিশ্বাস করেন, সবই খোমেনির ইসলামী ভাবধারা থেকে প্রাপ্ত। আলী খামেনি শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির বিরুদ্ধে সরাসরি বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর, আলী খামেনি বিপ্লবী পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরকে সংগঠিত করতে সহায়তাও করেন। এই বিপ্লবী গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালের জুন মাসে, তেহরানের একটি মসজিদে বোমা হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। তার ওপর ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল দেশটির বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ওপর। এই ঘটনায় তার ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুই মাস পর, একই বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ-আলী রাজাইকে হত্যা করে। রাজাইয়ের মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আট বছর ধরে আনুষ্ঠানিক এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। এই সময় তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মির হোসেইন মুসাভির সঙ্গে নানা মতবিরোধে জড়ান। কারণ তিনি মনে করতেন, মুসাভি ইরানের ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সংস্কার আনতে চাইছেন। আলী খামেনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ইরানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরে ১৯৮৯ সালের জুনে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় আলেমদের একটি পরিষদ) আলী খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও তিনি সংবিধানে নির্ধারিত শিয়া ধর্মগুরুদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদমর্যাদা বা 'গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ' অর্জন করতে পারেননি। পরে ইরানের সংবিধানে সংশোধন আনা হয়। সংশোধনে বলা হয়েছিল যে, সর্বোচ্চ নেতাকে "ইসলামী পাণ্ডিত্য অর্জন করতে হবে এবং আলী খামেনি নির্বাচিত হতে পারবেন। পরে রাতারাতি তাকে হোজ্জাতুল ইসলাম থেকে আয়াতুল্লাহ পদে উন্নীত করা হয়েছিল। ইরানের সংবিধানে তখন আরও একটি পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদ বাতিল করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির হাতে অধিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতির হাতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব ন্যস্ত করা হয়েছিল। আয়াতুল্লাহ খামেনি শাসনামলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেন। যাদের অনেকেই খামেনির কর্তৃত্বকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ করলেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেননি। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ খাতামি। মি. খাতামি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন। মি. খাতামি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও তখন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মি. খাতামির পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন রক্ষণশীল নেতা মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে। মি. আহমাদিনেজাদকে কেউ কেউ আয়াতুল্লাহ খামেনির অনুসারী মনে করতেন। কিন্তু অর্থনীতি এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে আহমাদিনেজাদ সরকারের অবস্থান তখন ইরানে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। একই সাথে মি. আহমাদিনেজাদ নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সাথে তার বিরোধিতা হয়। ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনঃ-নির্বাচন ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় আন্দোলনের জন্ম দেয়। সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ওই নির্বাচনের ফলাফল বৈধ বলে ঘোষণা দেন এবং তীব্র আন্দোলন দমনে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন। এই দমন অভিযানে অনেক বিরোধী কর্মী নিহত হন, গ্রেফতার হন হাজার হাজার মানুষ। ২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থী নেতা হাসান রুহানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং বিশ্বশক্তিগুলোর সাথে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি করেন। এই চুক্তি খামেনির সম্মতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে রুহানির নাগরিক অধিকার প্রসার ও অর্থনৈতিক সংস্কার উদ্যোগে বাধা দেন সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক দুর্দশা আরও বাড়তে শুরু করে। রুহানি সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন এবং ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের মাটিতে একটি ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যা করে। সোলেইমানি আয়াতুল্লাহ খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। এই হামলার পর খামেনি সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা দেন। ইরাকের দুটি মার্কিন ঘাটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। পরে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের প্রতিশোধমূলক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল 'আমেরিকার গালে চপেটাঘাত'। খামেনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, "এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।" শীর্ষ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ খামেনি বহুবারই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০১৮ সালে তিনি ইসরায়েলকে "একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার" আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ফেলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে হলোকাস্ট বা 'ইহুদি গণহত্যা' আদৌ ঘটেছিল কি-না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৪ সালে তার টুইটার অ্যাকাউন্টে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়েছিল: "হলোকাস্ট এমন এক ঘটনা যার বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, আর যদি ঘটেও থাকে, সেটা কীভাবে ঘটেছিল, তাও স্পষ্ট নয়। " ২০২০ সালে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং ইরানের সরকার দুটি বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। প্রথম সংকটটি শুরু হয় ওই বছর আটই জানুয়ারি। তখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ভুল করে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের কাছে ভূপাতিত করে। এতে বিমানে থাকা ১৭৬ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন। যাদের অনেকেই ছিলেন ইরানি নাগরিক। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার ফলে ইরানের ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলি পদত্যাগের দাবি জানায় এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের নতুন ঢেউ ওঠে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলির ব্যবহারও করে বলে অভিযোগ ছিল। সে সময় শুক্রবারের জুমার নামাজের বিরল এক খুতবায় আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, "বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তিনি মর্মাহত"। তবে তিনি তখন সামরিক বাহিনীর পক্ষই নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের শত্রুরা এই ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে, ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ছড়িয়ে পড়ে। আয়াতুল্লাহ খামেনি প্রথমে করোনাভাইরাসের হুমকিকে খাটো করে দেখেছিলেন, বলেছিলেন যে ইরানের শত্রুরা এটিকে ভয় দেখানোর কৌশল হিসেবে অতিরঞ্জিত করছে। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বাছাই হয় কিভাবে? ২০২১ সালে ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা এব্রাহিম রাইসি। চলতি বছরের জুনে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯শে মে ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা গেলে প্রেসিডেন্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। রাইসির মৃত্যুর পর জুলাইয়েই ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সংস্কারপন্থী নেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় ভুগছেন গত কয়েক বছর ধরে। তিনি মারা গেলে বা পদত্যাগ করলে কে হবেন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা, এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। আয়াতুল্লাহ খামেনির বয়স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি যে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কে তার উত্তরসূরি হতে পারেন তা নিয়ে অবিরাম জল্পনা-কল্পনা চলছে। আয়াতোল্লোহ খামেনির পরবর্তীতে ইব্রাহিম রাইসিকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছিল। সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের সময় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সম্ভাব্য তিনজন উত্তরসূরির নাম জানিয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এই পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ। ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। অর্থাৎ এই দুটি পরিষদ বা মণ্ডলীর ওপর সর্বোচ্চ নেতার প্রভাব থাকে। গত তিন দশক ধরে আলী খামেনি নিশ্চিত করেছেন যে বিশেষজ্ঞ মণ্ডলীর নির্বাচিত সদস্যরা যেন রক্ষণশীল হয় - যারা তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময় তারই নির্দেশ মেনে চলবে। নির্বাচিত হবার পর, সর্বোচ্চ নেতা তার পদে আজীবন বহাল থাকতে পারেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হতে হবে একজন আয়াতুল্লাহকে, অর্থাৎ যিনি একজন শীর্ষস্থানীয় শিয়া ধর্মীয় নেতা। কিন্তু আলী খামেনিকে যখন নির্বাচন করা হয়েছিল, তিনি আয়াতুল্লাহ ছিলেন না। তখন তিনি যাতে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্য আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।