ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে বড় স্বস্তি পেয়েছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। স্পেনের উচ্চ আদালত তাকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭৬৫ কোটি টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ২০১১ সালে শাকিরা দেশটিতে ১৮৩ দিনের বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন। স্পেনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এক বছরে ১৮৩ দিন বা তার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করলে তাকে দেশটির কর আইনের আওতায় আসতে হয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কর কর্মকর্তারা তাদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর শাকিরা স্পেনে মোট ১৬৩ দিন অবস্থান করেছিলেন, যা কর দেওয়ার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ দিন কম। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং আরোপিত জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেরতযোগ্য অর্থের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ইউরো আয়কর এবং প্রায় ২৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় শাকিরা বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তার অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তার ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, তিনি কখনো কর ফাঁকি দেননি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তা প্রমাণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই মামলার রায়ে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন জনপ্রিয় এই সংগীত তারকা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৫ সালে বজরঙ্গী ভাইজানের পর আর একসাথে দেখা যায়নি বলিউডের জনপ্রিয় জুটি সালমান-কারিনা কে। ১১ বছর পর ফের আলোচনায় এলেন তারা দু’জন। বলিউডে নতুন করে চর্চায় সালমান খান–এর আসন্ন সুপারহিরো প্রজেক্ট। পরিচালক জুটি রাজ ও ডিকে–র সঙ্গে এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল আগেই, এবার সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিল নায়িকা নির্বাচন নিয়ে নতুন আপডেট। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ছবির নারী প্রধান চরিত্রে এখন সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন করিনা কাপুর খান। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তবে বহুদিন পর আবারও পর্দায় একসঙ্গে দেখা যেতে পারে সালমান ও করিনাকে। এর আগে এই চরিত্রে দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভুর নামও শোনা গিয়েছিল। তবে নতুন আপডেটে জানা যাচ্ছে, নির্মাতারা এখন করিনাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে এগিয়ে রেখেছেন এবং তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিউডে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। কারণ, এটি হবে সালমান খানের ক্যারিয়ারের একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ—একজন সুপারহিরো চরিত্রে তাকে দেখা যেতে পারে, যা তার জন্য নতুন ঘরানার অভিজ্ঞতা। এদিকে জানা গেছে, ছবির গল্প, শুটিং শিডিউল ও অন্যান্য বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ এগিয়ে চলছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে, সালমান-করিনা জুটি আবারও ফিরবে কি না—এটাই এখন বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি।
বাংলাদেশের আলোচিত মডেল ও চিত্রনায়িকা হুমাইরা সুবাহ জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সম্প্রতি তিনি নীরবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিজেই। এতদিন বিয়ের বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। সুবাহ জানান, বেশ কিছুদিন আগেই তাদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা এবং নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিষয়টি আগে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সুবাহর স্বামী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে তার পারিবারিক শিকড় ঢাকায়। বিয়ে নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সুবাহ বলেন, শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মাধ্যমে ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতোমধ্যে স্বামীর সঙ্গে তোলা কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। ওই পোস্ট ঘিরে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভরে উঠেছে মন্তব্যের ঘর। নতুন এই পথচলায় সুবাহ ও তার জীবনসঙ্গীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীসহ ভক্তরা।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে তারকা প্রার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী পরিবেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলে। তবে ভোট গণনার সর্বশেষ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জনপ্রিয়তা সবক্ষেত্রে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ নিচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আসনে তারকা প্রার্থীরা কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগর আসনে তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সজল ঘোষের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। ব্যারাকপুরে তৃণমূল প্রার্থী ও চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তীও বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন, যদিও ২০২১ সালে তিনি এই আসনটি জিতেছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ আসনে অভিনেত্রীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এগিয়ে থেকে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রকে পিছনে ফেলেছেন। কলকাতার মানিকতলা আসনে তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডেও বিজেপির তাপস রায়ের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে নদিয়ার করিমপুর আসনে তৃণমূলের সোহম চক্রবর্তী পঞ্চম রাউন্ড শেষে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে বাম প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। রাজারহাট-গোপালপুরে লোকশিল্পী অদিতি মুন্সী বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পিছিয়ে আছেন। হাওড়ার শিবপুরে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও শ্যামপুরে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন। টালিগঞ্জ আসনেও বিজেপির পাপিয়া অধিকারী তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাসের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। তামিলনাড়ুতে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সেখানে অভিনেতা থালাপথি বিজয়ের নতুন দল তামিলগা ভেট্ট্রি কাঝাগম ভালো ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই আসনেই এগিয়ে আছেন এবং তার দলও একাধিক আসনে লিড নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এদিকে আসামে তেজপুর আসনে অভিনেতা পৃথ্বীরাজ রাভা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তারকা পরিচিতি সবসময় ভোটে সাফল্য নিশ্চিত করে না—পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল তারই প্রতিফলন। তবে তামিলনাড়ুতে তারকা প্রভাব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই প্রবণতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের চমকের ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ ফলাফল। দক্ষিণের জনপ্রিয় তারকা থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) এখন পর্যন্ত এককভাবে এগিয়ে রয়েছে, যা রাজ্যের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র তথ্য অনুযায়ী, ২৩৪টি আসনের মধ্যে টিভিকে এখন পর্যন্ত ৮৭টি আসনে এগিয়ে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এআইএডিএমকে জোট, যারা এগিয়ে ৭৫টি আসনে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দ্রাভিদা মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) জোটের ফলাফল হতাশাজনক। গত নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে জয়ী হলেও এবার তারা এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে মাত্র ৫৪টি আসনে। উল্লেখ্য, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশের ঘোষণা দেন বিজয়। সে সময় তিনি এটিকে ব্যক্তিগত আগ্রহ নয়, বরং জনগণের সেবায় নিবেদিত একটি ‘মিশন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দলের এই অগ্রগতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ, নারী ও মৎস্যজীবীদের লক্ষ্য করে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো টিভিকের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিজয়ের তারকাখ্যাতিও ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অপ্রত্যাশিত উত্থানকে অনেকেই ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন। এখন প্রশ্ন—বিজয়ের ‘হুইসেল’ বিপ্লব কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে?
বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের এক কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি মানসিক ট্রমা ও মদপানের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা খোলামেলা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় আরোপিত লকডাউনে ব্যক্তিগত জীবনের এক ট্রমাটিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। সেই সময় মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে ধীরে ধীরে মদপানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জাহ্নবী বলেন, সাধারণত তিনি খুব বেশি মদপান করেন না। তবে লকডাউনের একটি পর্যায়ে প্রায় প্রতিদিনই তিনি অ্যালকোহল গ্রহণ করতেন। যদিও তিনি নিজেকে সরাসরি ‘আসক্ত’ বলতে চাননি, তবুও স্বীকার করেন—এক ধরনের মানসিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। “আমার মনে হতো, আমার মাতাল হওয়া দরকার,”—বলছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতেই তিনি মদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি খুঁজছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাসের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অস্বস্তি, শারীরিক পরিবর্তন এবং নিজের শরীরের গন্ধে বিরক্তি—এসব বিষয় তাকে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি উল্লেখ করেন, শরীরের গন্ধ তাকে এমন একজনের কথা মনে করিয়ে দিত, যিনি মদপানের আসক্তিতে ভুগতেন। সেটিই তার কাছে সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়ায়। এই উপলব্ধির পরই নিজের জীবনধারা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন জাহ্নবী। তিনি টানা প্রায় দেড় বছর মদপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। বর্তমানে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কাজেও যুক্ত রয়েছেন। একটি সংস্থার মাধ্যমে তিনি মানুষকে আসক্তি থেকে দূরে থাকার এবং নিজের শরীর ও মনের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তার এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা বাস্তবতা তুলে ধরায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও থেমে থাকেনি ইউনিটের ব্যস্ততা। এই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে সহকর্মীদের নিয়ে রসিকতায় মেতে ওঠেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি দেখান, শুটিং স্থগিত থাকলেও ইউনিটের সদস্যরা নানা কাজে ব্যস্ত। কেউ মোবাইল ফোনে ডুবে আছেন, কেউ তৈরি করছেন রিল, আবার কেউ লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। হাস্যরসের ভঙ্গিতে মৌসুমী বলেন, “দেখুন, শুটিংয়ে কে কী করছে—আজ সবার মুখোশ ফাঁস করব।” তিনি জানান, শুটিংটি পরিচালক সকাল আহমেদের তত্ত্বাবধানে চলছিল। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ থাকায় তাকেও অপেক্ষা করতে দেখা যায়। লাইভ চলাকালে সামাজিক মাধ্যম থেকে আয়ের বিষয়েও কথা বলেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, নিজের অজান্তেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে। পরে চিত্রগ্রাহক শামসুল ইসলাম লেলিন তাকে বিষয়টি জানান। মৌসুমীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অ্যাকাউন্টে ১৭৫ ডলার জমা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি মজা করে বলেন, এই টাকা তুলতে পারলে সবাইকে নিয়ে হাঁস-খিচুড়ির আয়োজন করবেন। গাজীপুরের পুবাইলে ‘লাভ স্টেশন’ নাটকের দৃশ্যধারণ চলছিল। এতে অংশ নিয়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শুটিং সেটেও রিল ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। বিনোদন অঙ্গনের তারকারাও এই ধারায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মৌসুমী হামিদের এই লাইভ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর পঞ্চম সিজনের শুটিং এবার প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে, নেপালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নতুন সিজনে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছেন নেপালের একজন অভিনেত্রী, রাজেশ্রী থাপা। নির্মাতা অমি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দর্শকদের উদ্দেশে চরিত্রটি অনুমান করতে বলেন, যা ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মন্তব্যে কেউ তাকে ‘নেপালি বউ’, কেউ ‘হাবুর প্রেমিকা’, আবার কেউ ‘বিদেশি পিএস’ হিসেবে কল্পনা করেছেন। নির্মাতা জানিয়েছেন, আসন্ন “চ্যাপ্টার ১২”-তে চমক হিসেবে হাজির হবেন রাজেশ্রী থাপা, যাকে এই সিজনের ‘নিউ সেনসেশন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এদিকে, ধারাবাহিকটির পরিচিত মুখগুলোও ফিরে আসছেন। অভিনয়ে থাকছেন জিয়াউল হক পলাশ, মারজুক রাসেল, চাষী আলম, তৌসিফ মাহবুব এবং শামীম হাসান সরকার। এছাড়াও রয়েছেন মনিরা মিঠু, আবদুল্লাহ রানা, ইশতিয়াক রোমেল, স্পর্শিয়া ও জায়েফ। সিরিজটির ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এটি প্রচারিত হচ্ছে চ্যানেল আই টেলিভিশন, বুম ফিল্ম এবং বঙ্গ প্ল্যাটফর্মে।
ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাই পল্লবীকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার হিন্দি ভাষায় অস্বচ্ছন্দতার কারণে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হিন্দিতে কথা বলার সময় তার সাবলীলতার ঘাটতি স্পষ্ট হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়। জানা গেছে, আমির খান প্রযোজিত ‘একদিন’ চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন সাই পল্লবী। এতে তার বিপরীতে রয়েছেন জুনাইদ খান। ছবিটির প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘একদিন কি মেহফিল’ নামে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। সেখানে অতিথি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে হিন্দিতে কথা বলার চেষ্টা করেন পল্লবী, তবে নিজেই স্বীকার করেন—তার হিন্দি খুব একটা ভালো নয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ট্রোলিং। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘রামায়ণ’-এর মতো মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্রে সীতার মতো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তাকে নির্বাচিত করার যৌক্তিকতা নিয়ে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, সিনেমায় তার সংলাপ ডাব করা হতে পারে। তবে এই সমালোচনার বিপরীতে সমর্থনের কণ্ঠও কম নয়। অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় চলচ্চিত্রে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা নতুন কিছু নয়। অতীতে বহু অভিনেত্রীই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে ডাবিংয়ের মাধ্যমে তা সমাধান করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভাষা দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিনয়, অভিব্যক্তি ও পর্দায় উপস্থিতির মতো উপাদানও সমানভাবে বিবেচ্য। ফলে শেষ পর্যন্ত দর্শকের প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে, এই বিতর্ক কতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : আগামী ২৩ মে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘১০ম গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডস’। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আসরে সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে এটি তার দ্বিতীয় উপস্থিতি। এর আগে ২০২৪ সালে একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ফলে ধারাবাহিকভাবে বৈশ্বিক পরিসরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী আবেল টেসফায়ে, যিনি ‘দ্য উইকেন্ড’ নামে বেশি পরিচিত। ২০১৬ সালে কন্নড় ভাষার চলচ্চিত্র কিরিক পার্টি দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন রাশমিকা মান্দানা। ছবিটির সাফল্যের পর ২০১৮ সালে চলো সিনেমার মাধ্যমে তেলুগু চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। বর্তমানে তেলুগু ও কন্নড়ের পাশাপাশি হিন্দি ও তামিল সিনেমাতেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনায় ছিলেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিজয়-এর সঙ্গে বিয়ের পর হানিমুন শেষে তিনি আবার কাজে ফিরেছেন। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে দ্য গার্লফ্রেন্ড সিনেমায়। রাশমিকার হাতে বর্তমানে একাধিক নতুন প্রকল্প রয়েছে। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন হিন্দি সিনেমা ককটেল টু। এতে তার সহ-অভিনেতা হিসেবে রয়েছেন শাহিদ কাপুর এবং কৃতি শ্যানন। এছাড়া চলতি বছর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার দুটি তেলুগু চলচ্চিত্র—মাইসা এবং রণবালী।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মুক্তির পথে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শবনম বুবলী অভিনীত টালিউড সিনেমা ফ্ল্যাশব্যাক। প্রায় দুই বছর আগে শুটিং শেষ হলেও নানা জটিলতায় ছবিটির মুক্তি আটকে ছিল। ছবিটির নির্মাতা রাশেদ রাহা জানিয়েছেন, আগামী মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তির প্রস্তুতি চলছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ শিগগির ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। ‘ফ্ল্যাশব্যাক’-এর মাধ্যমে টালিউডে অভিষেক হয় বুবলীর। ২০২৪ সালে শুটিং শেষ হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। থ্রিলারধর্মী এই ছবিতে বুবলীর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা ও অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলি এবং অভিনেতা সৌরভ দাস। চিত্রনাট্য লিখেছেন খায়রুল বাসার নির্ঝর। সিনেমায় বুবলী অভিনয় করেছেন ‘শ্বেতা’ চরিত্রে, যিনি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। কৌশিক গাঙ্গুলি ‘অঞ্জন’ এবং সৌরভ দাস ‘ডিকে’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ভিন্ন তিন জীবনের মানুষের গল্প এক পর্যায়ে একটি পাহাড়ি জনপদে এসে মিলিত হয়, যেখানে গল্পে আসে নাটকীয় মোড়। এদিকে, দেশে আগামী ৮ মে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বুবলী অভিনীত আরেক সিনেমা সর্দারবাড়ির খেলা। লোকজ ঐতিহ্য লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশান। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রাখাল সবুজ। এছাড়া এতে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম এবং আজাদ আবুল কালাম। তবে ‘সর্দারবাড়ির খেলা’র প্রচারণায় বুবলীর অনুপস্থিতি নতুন করে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয়বারের মতো মা হতে পারেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি এই অভিনেত্রী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। নেটিজেনদের একটি অংশের অভিযোগ—সৌন্দর্য বাড়াতে তিনি প্লাস্টিক সার্জারির আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে নীরব থাকার পর সম্প্রতি একটি পডকাস্টে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। পায়েল বলেন, এটি প্রথমবার তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন। তার ভাষায়, “প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দর। ছোটবেলা থেকেই নিজের সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা শুনে বড় হয়েছি। আমার কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, নিজের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা কখনো ছিল না। “আমি যেমন আছি, তেমনই খুশি। তবে টুকটাক দুই একটা জিনিস একটু অ্যাড করেছি,”—বলেন এই অভিনেত্রী। তবে তার এই স্বীকারোক্তিই ভক্তদের একাংশের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন পায়েল। “ভক্তরা এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে মনে বলেছি—ভাই, মাফ চাই, আর হবে না,”—যোগ করেন তিনি। বাংলাদেশি সমাজে জনমতের দ্রুত বিস্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, “আমাদের দেশের মানুষ একটু অতি আবেগী। একজন কিছু বলা শুরু করলে, অন্যরাও না জেনেই বলতে থাকে। অনেকেই পাঁচ বছর আগের ছবি দেখেও এখন মন্তব্য করছে।” এই প্রবণতাকে তিনি “হুজুগে মানসিকতা” হিসেবে উল্লেখ করেন। উদাহরণ হিসেবে বলেন, “রাস্তায় কোনো ঘটনা ছাড়াই শুধু ভিড় দেখেই মানুষ জড়ো হয়। কী হচ্ছে না জেনেই দাঁড়িয়ে থাকে। এই মানসিকতা অনেক দিন ধরেই চর্চা হচ্ছে।” বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে ব্যক্তিগত জীবন ও জনমতের সংঘাত এখন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, যেখানে জনতার প্রতিক্রিয়া দ্রুতই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত ও গ্ল্যামারাস চিত্রনায়িকা পরীমণি। কাজের চেয়ে ব্যক্তিজীবন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতির কারণে তিনি প্রায়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে এবারের শিরোনামটি একটু স্নিগ্ধ আর প্রশান্তির। দীর্ঘ তপ্ত রোদের পর ঝুম বৃষ্টির মাতম যখন প্রকৃতিকে শীতল করেছে, সেই বৃষ্টির আনন্দে নিজেকে উজাড় করে দিলেন এই অভিনেত্রী। পরীমণি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশজুড়ে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টিতে সিক্ত পরীমণি। সাদা টিশার্টে তাকে দেখা যাচ্ছে বৃষ্টি উপভোগ করতে। কখনো তিনি তার গাড়ির ওপর শুয়ে বৃষ্টির স্পর্শ নিচ্ছেন, আবার কখনো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় হারিয়ে যাচ্ছেন। পরীমণির এই ‘বৃষ্টি বিলাস’ ভক্তদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ভিডিওটির ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠা রোমান্টিক সুর আর বৃষ্টির শব্দ মিলে এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, তার লঙ হেয়ার আর বৃষ্টির জলে ভেজা চেহারার সেই স্নিগ্ধ রূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। এদিকে কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা পরীর রূপের বেশ প্রশংসা করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘বৃষ্টি মাখা পরী।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে পরীমনি আবার নতুন করে প্রেমে পরছে।’
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই গ্যালারিতে পাঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিনতার প্রাণবন্ত উপস্থিতি। দলের জয়ে যেমন তিনি উচ্ছ্বসিত হন, তেমনি হারলে বিষণ্ণতা গ্রাস করে তাকে। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে পাঞ্জাব কিংসের ‘ট্রফি’ বলে অভিহিত করে তির্যক মন্তব্য করেন এক নেটিজেন। এমন মন্তব্যে চুপ থাকেননি তিনি। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভক্তদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়েছিলেন প্রীতি। সেখানে তাকে ‘ট্রফি’ হিসেবে বর্ণনা করা একটি মন্তব্যের জবাবে অভিনেত্রী সাফ জানান, কেন নারীদের এমন তকমা দেওয়া সমস্যাজনক। প্রীতি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ধন্যবাদ, এটা হয়তো খুব মিষ্টি কথা, কিন্তু সত্যি বলতে গেলে কোনো নারীই ট্রফি হতে চায় না। ট্রফি কেনা যায়, নারীদের নয়! ট্রফি রাখা হয় কাঁচের আলমারিতে। আর একজন নারীর জায়গা কাঁচের আলমারিতে নয়, বরং আপনার জীবনে এবং আপনার হৃদয়ে।’ নারীর সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে প্রীতির এমন সময়োপযোগী মন্তব্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা তার এই দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলছেন, বিনোদন জগতের বাইরেও তিনি একজন সচেতন ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। একই প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রীতি কথা বলেছেন তার আসন্ন সিনেমাগুলো নিয়েও। দীর্ঘদিন পর পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘লাহোর ১৯৪৭’ সিনেমাটি নিয়ে তিনি বেশ উত্তেজিত। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই একটি পিরিয়ড ড্রামায় কাজ করতে চেয়েছিলাম। রাজ কুমার সন্তোষীর মতো গুণী পরিচালক এবং সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য সব সময় আনন্দের।’ এছাড়া নিজের আরেকটি কাজ ‘ভাইব’ নিয়ে প্রীতি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মজার ও হালকা মেজাজের একটি ছবি। ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর মতো গম্ভীর ঘরানার কাজের পর এই ছবিটিতে অভিনয় করে আমি বেশ আনন্দ পেয়েছি।’ ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ারের ব্যস্ততার মাঝেও নারীর মর্যাদা নিয়ে প্রীতির এই জোরালো প্রতিবাদ বিনোদন পাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রীতির ভাষ্যমতে, নারীকে প্রদর্শনের বস্তু হিসেবে নয় বরং সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করাটাই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’ এবার সমাপ্তির পথে। পারিবারিক বন্ধন, ভালোবাসা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত এই নাটকটি শুরু থেকেই দর্শকদের আবেগে ভাসিয়েছে। পাকিস্তানি সিরিজ ‘কাভি মে কাভি তুম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই ধারাবাহিকটির এখন পর্যন্ত ৪৬টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। মোট ৫২ পর্বে শেষ হতে যাওয়া এই নাটকের সমাপনী পর্বটি হবে একটু বিশেষভাবে। নির্মাতা রাজ জানিয়েছেন, দর্শকদের দীর্ঘদিনের অনুরোধ মাথায় রেখে শেষ পর্বটি ‘মেগা এপিসোড’ হিসেবে প্রচার করা হবে। যেখানে সাধারণত প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য ছিল ২৫ মিনিট, সেখানে শেষ পর্বটি হবে দেড় ঘণ্টারও বেশি। মূলত টেলিভিশন সম্প্রচারের সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন সময় বাড়ানো সম্ভব না হলেও দর্শকদের আক্ষেপ ঘোচাতেই এই বড় আয়োজনের সমাপ্তি। নাটকটিতে ফাহাদ চরিত্রে ইরফান সাজ্জাদ, সামির চরিত্রে খায়রুল বাসার, মেহরী চরিত্রে কেয়া পায়েল এবং সায়রা চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার ও মনিরা আক্তার মিঠুর মতো একঝাঁক তারকা। গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে চ্যানেল আইতে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকটি একইসঙ্গে ‘সিনেমাওয়ালা’র ইউটিউব চ্যানেলেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দেড় ঘণ্টার এই বিশেষ সমাপ্তি পর্বটি দর্শকদের জন্য এক বড় চমক হতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন নির্মাতা।
হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া ওই আলাপচারিতায় তিনি জীবন, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পেতে চাই, ইনশাআল্লাহ।” এই একটি শব্দ—“ইনশাআল্লাহ”—উচ্চারণের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও ব্যাখ্যা। ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক নেটিজেন দাবি করেন, এটি সাধারণত মুসলিমদের ব্যবহৃত একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ “যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয়”। তবে অনেকে আবার মনে করছেন, আরবি ভাষার এই অভিব্যক্তি ধর্মীয় সীমার বাইরে দৈনন্দিন ভাষাতেও ব্যবহৃত হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই কিছু অনলাইন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, অ্যান হ্যাথাওয়ে গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন—যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অ্যান হ্যাথাওয়ে ১৯৮২ সালের ১২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রোমান ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জুয়েলারি ডিজাইনার ও প্রযোজক অ্যাডাম শুলমানের সঙ্গে বিবাহিত। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। এদিকে চলতি বছর পেশাগত দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেত্রী। তার একাধিক সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প হলো ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা টু’, যেখানে তিনি আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফিরেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কিন্তু বিএনপির ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় জায়গা পাননি তিনি। সেই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন। এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন চমক। রোববার (২০ এপ্রিল) বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে চমক লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়ার জন্য ফরিদা ইয়াসমিন আপাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও দশের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। আমার রাজনীতির এই নতুন পথচলায় আপনাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।’
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি-র জীবনে বিতর্ক যেন নতুন কিছু নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ এবং বিচ্ছেদ—এসব নিয়েই নিয়মিত আলোচনায় থাকেন তিনি। তিনবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয়নি। তবে এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো আক্ষেপ প্রকাশ করেননি এই অভিনেত্রী। বরং নিজের শর্তে জীবন কাটানোর কথা বারবারই জানিয়েছেন তিনি। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে সাফল্যের পাশাপাশি অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমেও দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন শ্রাবন্তী। জীবনের প্রতিকূল সময়গুলোতে কাজকেই আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন তিনি। আর কাজের বাইরে তার শান্তির জায়গা—নিজের বাড়ি। কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসন ‘আরবার কমপ্লেক্সে’ অবস্থিত তার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এই আবাসনে একাধিক তারকার বসবাস রয়েছে। নিজের এই ‘মনের ঠিকানা’ একাধিকবার সামাজিক মাধ্যমে অনুরাগীদের সামনে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। অফ-হোয়াইট রঙের দেয়ালে শিল্পিত নকশা, ফটোফ্রেমে সাজানো ঘর—সব মিলিয়ে একটি নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ফ্ল্যাটটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো খোলা বারান্দা। কাঁচের দরজা সরালেই উঁচু থেকে দেখা যায় পুরো কলকাতা শহর। নীল আকাশ যেন হাতছানি দেয়। শ্রাবন্তীর ভাষায়, ছোটবেলা থেকেই এমন উঁচু বারান্দার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ঘরের অভ্যন্তরে রয়েছে আধুনিক বার-কাউন্টার। তার বেডরুমও সাজানো রাজকীয় আবহে—সবুজ ভেলভেট ব্যাকড্রপ, বড় আয়না এবং সোনালি ডেকোরেশনে। পাশাপাশি বড় কাঁচের জানালা থেকে দেখা যায় মনোরম দৃশ্য। বর্তমানে ছেলে অভিমন্যু ও পোষ্যদের নিয়েই তার সংসার। জানা গেছে, এই বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। তবে এত কিছুর পরও মানসিক শান্তির অভাবের কথাই জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, বিলাসবহুল জীবন সুখ দিতে পারে, কিন্তু শান্তি আসে অন্তর থেকে। শ্রাবন্তী বলেন, “সুখের জন্য হয়তো এসব দরকার। কিন্তু শান্তি আসতে হয় মন থেকে। শান্তির জন্য জীবনে অনেক কিছু করেছি। কিন্তু সে যেন থাকতেই চায় না। এখনো আমি আছি শান্তির খোঁজে।”
চলতি সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। ব্যস্ততার দিক দিয়েও বেশ এগিয়ে তিনি। একের পর এক সিনেমার কাজ করছেন। তবে এর মধ্যেই তার দ্বিতীয়বারের মতো মা হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। তবে তার বিপরীতে এ বিষয়ে খোলামেলাভাবে কিছুই জানাননি তিনি। শুধু বলেছেন, অনেকে না জেনেই গুঞ্জন রটাতে পছন্দ করেন। এই গুঞ্জনের মাঝেই গত ঈদে মুক্তি পায় তার অভিনীত ছবি ‘প্রেশার কুকার’। রায়হান রাফী পরিচালিত ছবিটির প্রচারণায় তাকে তেমন না দেখা গেলেও তার অভিনয় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এদিকে, সিনেমার বাইরেও ঈদে তুমুল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে গান গেয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।প্রথমবারের মতো নায়িকা থেকে গায়িকায় আবির্ভূত হন তিনি। ‘এই তুমি সেই তুমি’- শীর্ষক এ গান তিনি গেয়েছেন ও পারফর্ম করেছেন জনপ্রিয় গায়ক ইমরানের সঙ্গে। প্রথমবার গান গেয়ে ভালোই প্রশংসিত হন তিনি। এদিকে, বুবলী এখন তার দুই সিনেমার অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে ‘পিনিক’র কাজ আগেই শেষ করেছেন তিনি। এতে তার নায়ক আদর আজাদ। অন্যদিকে, সজলের সঙ্গে ‘শাপলা শালুক’ নামের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছবিটিও এ বছরই মুক্তির কথা। বুবলী বলেন, দু’টি ছবির গল্পই খুব চমৎকার। কাজ করে আনন্দ পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, ছবি দু’টির অপেক্ষায় আমি যেমন আছি, তেমনি দর্শকরাও আছেন। জানা গেছে, ‘পিনিক’ ছবিটি আগামী ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক :বলিউড অভিনেত্রী ডেইজি শাহ জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কাস্টিংয়ের সময় এক দক্ষিণী নির্মাতার কাছ থেকে আপত্তিকর আচরণের শিকার হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে কাস্টিংয়ের উদ্দেশ্যে আসা ওই নির্মাতার সঙ্গে দেখা করতে কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। “আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমাকে স্পর্শ করেছিলেন, আমার হাত ধরে রেখেছিলেন—যা আমাকে খুব অস্বস্তিতে ফেলেছিল,” বলেন ডেইজি শাহ। স্পর্শে অস্বস্তি, সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা ডেইজি শাহ জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি স্পর্শে অস্বস্তি বোধ করেন। “মানুষ আমাকে স্পর্শ করলে আমি অস্বস্তি বোধ করি—পুরুষ বা নারী যেই হোক। তাই ওই অভিজ্ঞতা আমাকে বিরক্ত করেছিল। পরে জানাব বলেছিলাম, কিন্তু আর যোগাযোগ করিনি,” বলেন তিনি। ক্যারিয়ার ও বিতর্ক জয় হো ছবিতে সালমান খান-এর বিপরীতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন ডেইজি শাহ। তবে ঘৃণার গল্প ৩-এ খোলামেলা উপস্থিতির কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েন তিনি। ‘সালমান নির্ভরতা’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ধারণা—সালমান খানের কারণে তার ক্যারিয়ার দাঁড়িয়ে আছে। এ বিষয়ে ডেইজি বলেন: “সমাজে এমন মানসিকতা রয়েছে—কোনো নারী সফল হলে ধরে নেওয়া হয়, তার পেছনে কেউ আছে। এটি এক ধরনের পূর্বধারণা।” তিনি আরও বলেন, সহায়তা পাওয়া বা দেওয়া—এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। “আমি যদি কাউকে সাহায্য করি, সেটাও এই ধারার অংশ। কিন্তু মানুষ সেটি ইতিবাচকভাবে দেখে না,” যোগ করেন তিনি। ‘জয় হো’ মুক্তির সময় রাজনৈতিক বিতর্ক ২০১৪ সালে ‘জয় হো’ মুক্তির সময়কার পরিস্থিতি স্মরণ করে ডেইজি শাহ বলেন, সে সময় রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল। “মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করছি—যা সত্য ছিল না। সিনেমাটি ভালোই চলেছিল, কিন্তু নেতিবাচক প্রচারণাও হয়েছিল,” বলেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নীরবতা ‘জয় হো’ ছবির পর সালমান খান ও ডেইজি শাহর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও এ বিষয়ে কখনোই প্রকাশ্যে কথা বলেননি তারা। সর্বশেষ কাজ ডেইজি শাহ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘বিহু অ্যাটাক’, যেখানে তার সহশিল্পী ছিলেন দেব মেনারিয়া, আরবাজ খান ও রাহুল দেব। সিনেমাটি গত ১৬ জানুয়ারি মুক্তি পায়। বর্তমানে নতুন কোনো প্রজেক্ট হাতে নেননি তিনি।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : তামিল চলচ্চিত্রের সুপারস্টার ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আসন্ন সিনেমা ‘জননায়গন’ মুক্তির আগেই বড় ধরনের পাইরেসি কাণ্ডের শিকার হয়েছে। শুরুতে সিনেমার কিছু দৃশ্য ও গানের অংশ অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ এইচডি সংস্করণ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে তদন্তে নেমেছে সাইবার ক্রাইম উইং। প্রযোজনা সংস্থার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আরও তিনজনকে আটক করা হলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সিনেমাটির ডিজিটাল কপি সংগ্রহ এবং অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সাইবার ক্রাইম উইং জানিয়েছে, এই ঘটনার মূল হোতা একজন ফ্রিল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর, যিনি একটি পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওতে অন্য একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অবৈধভাবে এডিটিং স্টুডিওর রিলস ফুটেজে প্রবেশাধিকার পান এবং সেখান থেকে ‘জননায়গন’-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ চুরি করেন। পরে সেই চুরি করা উপাদান ব্যবহার করে সিনেমার পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ তৈরি করে তা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ একাধিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাইরেটেড কপি, যা নিয়ে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করার পর তাদের জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘জননায়গন’ শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। এটি থালাপতি বিজয়ের শেষ চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তিনি অভিনয় থেকে বিদায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।