বাংলাদেশের ছোট পর্দার একসময়ের পরিচিত মুখ ও আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা নতুন জীবনের পথে পা রেখেছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন লুবাবা। একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুটি আত্মা, এক কিবলা—দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এর আগে থেকেই শোবিজ অঙ্গন থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে নিজের জীবনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন লুবাবা, যা তার অনুসারীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। বিয়ের ঘোষণার পর তার পোস্টে শুভেচ্ছার বন্যা বইতে দেখা যায়। অনেকেই তার নতুন জীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেন, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখুন।” আরেকজন লেখেন, “আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “আল্লাহ যার হেদায়াত চান তাকে কেউ আটকাতে পারে না।” আবার কেউ কেউ কম বয়সে বিয়েকে ‘সুন্নাহ পালন’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসাও করেছেন। উল্লেখ্য, শিশু শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুবাবা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তার এই পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
শোবিজের আলোচিত শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা অভিনয়জগৎ থেকে সরে গিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পোস্টে লুবাবা লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এর মাধ্যমে তিনি তার বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন। পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও শেয়ার করেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কিছুদিন ধরেই লুবাবার জীবনযাপনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। সম্প্রতি তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় জীবনধারায় ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। লুবাবার এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন তার অনুসারীরা। বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিকমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একজন মন্তব্য করেন, “মাশাআল্লাহ, আল্লাহ তোমাদের দাম্পত্য জীবন রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখবেন ইনশাআল্লাহ।” আরেকজন লেখেন, “আল্লাহ আপনাদের ভালো রাখুক।” উল্লেখ্য, সিমরিন লুবাবা প্রয়াত মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি। দাদার অনুপ্রেরণায় খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন তিনি। শিশুশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন নাটক, বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। তবে গত বছর হঠাৎ করেই জানা যায়, তিনি শোবিজ ছেড়ে দিয়েছেন। সে সময় তার মা জাহিদা ইসলাম জেমি গণমাধ্যমকে জানান, লুবাবা নিজ উপলব্ধি থেকেই ধর্মীয় জীবন বেছে নিয়েছেন এবং নেকাব পরা শুরু করেছেন। এই পরিবর্তনের ফলে মিডিয়ায় কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এখন বিয়ের মাধ্যমে সেই পরিবর্তিত জীবনের আরেকটি নতুন ধাপ শুরু করলেন লুবাবা।
দিঘার তালসারি সৈকতে শুটিং চলাকালীন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে রহস্যের অবসান হতে পারে। সোমবার (৩০ মার্চ) পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার শুটিং চলাকালীন রাহুলদের ধারাবাহিক ভোলে বাবা পার করেগা-এর ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাহুলের মৃত্যু হওয়ার কয়েক মুহূর্তের ঘটনা সেই ফুটেজে ধরা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সৈকতে ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন রাহুল ও নায়িকা শ্বেতা মিশ্র সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যান। শট অনুযায়ী দুজনকেই বেশি গভীরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু হাওয়ার কারণে তারা নির্দেশনার প্রতি মনোযোগ দিতে পারেননি। উদ্ধার হওয়া ফুটেজ অনুযায়ী, প্রথমে শ্বেতা পড়ে যান এবং রাহুল তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এরপর বড় ঢেউয়ে পড়ার ফলে রাহুল তলিয়ে যান। সহশিল্পীরা শ্বেতাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রাহুলকে উদ্ধার করতে স্পিডবোট ব্যবহার করা হয়। পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন রাহুল ও শ্বেতা হাঁটুর নিচ অবধি পানিতে ছিলেন। শটের সময় ড্রোন শটও নেওয়া হচ্ছিল। রাহুল শ্বেতার হাত ধরে আরও এগিয়ে গিয়েছিলেন। অনেকেই রুখতে চেয়েছিলেন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। শ্বেতার পরনে শাড়ি থাকায় স্রোতের সঙ্গে তার চলাফেরায় সমস্যা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত রাহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরিচালক দাবি করেছেন, শুটিং অনুযায়ী এত গভীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, ক্যামেরার ফুটেজ বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।
নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ প্রযোজিত এবং ওমর ফারুক পরিচালিত নতুন মিনি ধারাবাহিক ‘চেনা অচেনা’ ৩১ মার্চ থেকে ইউটিউবের সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেলে শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকে কেন্দ্রে আছেন অভিনেতা এ্যালেন শুভ্র ও অভিনেত্রী তাবাসসুম ছোঁয়া, যারা এর আগে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দেনা পাওনা’‑তে খাইরুল ও নিপা চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। ‘দেনা পাওনা’ ধারাবাহিকে তাদের খুনসুটি ও রসায়ন সামাজিক মাধ্যম এবং দর্শক সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনায় ঠাঁই করে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার তারা নতুন গল্প, চরিত্র ও দ্বন্দ্ব নিয়ে হাজির হয়েছে ‘চেনা অচেনা’‑তে। ধারাবাহিকটির গল্পে দেখা যাবে, রাতুল (এ্যালেন শুভ্র) ও আয়রা (তাবাসসুম ছোঁয়া)‑র অপ্রত্যাশিত সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েছে সমাজের বাস্তবতা, রসিকতা ও মানবিক আবেগের সঙ্গে। আমেরিকায় প্রেমিক থাকা সত্ত্বেও আয়রাকে তাড়িয়ে তুলেছে মাত্র সাত দিনের মধ্যে বিয়ে আর পরিবারের চাপ। পরিস্থিতি দেখা দিলে আয়রা ঠিক করে রাস্তার ভিখারি রাতুলকে টাকা দিয়ে নিজের ‘স্বামী’ সাজিয়ে ঘরে নিয়ে আসে। প্রথমে শুধুই ছলনা ও নকলের সম্পর্ক হলেও ধীরে ধীরে সেটি পরিবারে মিশে যায় এবং সত্যিকারের আবেগে রূপ নেয়। তবে বাধা আসে আয়রার চাচার চরিত্র থেকে; তিনি তার ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের দিক দিয়ে আয়রাকে অন্য কারো সাথে বিয়ে করতে চান। এই চাপ‑প্রঠিকূলতার মধ্যেই রাতুল একের পর এক বিপদ পেরিয়ে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। ‘চেনা অচেনা’‑তে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, ডা. এজাজুল ইসলাম, শিল্পী সরকার অপু, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, এমএনইউ রাজু, এবি রোকন ও তানজিম হাসান অনিক। পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, “জীবনে অনেক সময় পরিস্থিতি মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা সে আগে কখনও ভাবেনি। পরিবার ও ব্যক্তিগত পছন্দের দ্বন্দ্ব এখানে ফুটিয়ে তুলেছি। ‘চেনা অচেনা’ এমন একটি যাত্রা, যেখানে মিথ্যাতে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে সত্যিকারের সম্পর্কের দিকে ধাবিত হয়।” ধারাবাহিকটি প্রতি মঙ্গল ও বুধবার দুপুর ১২টায় নিয়মিত আপলোড হবে ইউটিউবে।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা ও সুলেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আকস্মিকভাবে প্রয়াত হয়েছেন। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া সহকর্মী ও ভক্তদের জন্য গভীর শোকের বিষয়। তবে মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গোপন রহস্য। ভারতের ওড়িশার তালসারিতে মেগা সিরিয়ালের শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটেছে। নির্মাতা লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুটিং শিডিউলে কোনো পানির ওপর দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু জানা যায়, শুটিং ঠিকই পানির ওপর চলছিল, যা নির্মাতার অগোচরে হতে পারে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, শুটিং চলাকালীন তাদের কাছে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার খবর দিঘা কোস্টাল পুলিশের মাধ্যমে ওড়িশা পুলিশের কাছে পৌঁছায়। অনুমতি ছাড়া ভিন রাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুকে ঘিরে তিনটি ভিন্ন তত্ত্ব উঠেছে: উপাদানভিত্তিক সূত্র: শুটিং শেষে ক্লান্তি কাটাতে রাহুল সৈকতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ আসা জোয়ারের টানে তিনি তলিয়ে যান। নৌকায় শুটিং সূত্র: নৌকার ওপর ‘টপ শট’ নেওয়া হচ্ছিল, উত্তাল ঢেউ নৌকাকে উল্টে দেয়। শ্বেতা মিত্রের বয়ান: রাহুল ও শ্বেতা মিত্র নৌকার ওপরই ছিলেন। বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় দুজনই পানিতে পড়ে যান। শ্বেতা তীরে উঠতে সক্ষম হলেও রাহুলের জীবন রক্ষা হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের কারণে পুলিশ বিষয়টিকে ‘সাধারণ দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখছে না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ (UD) মামলা রুজু করেছে। পরিবারের অনুমতিক্রমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রোডাকশন ইউনিটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। অভিনয়ের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু মা হওয়ার পর তার জীবনেও এসেছে নতুন চ্যালেঞ্জ। ভারতের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের সদগুরুর সোশ্যাল হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আলিয়া ভাটকে দেখা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে আলিয়া সদগুরুর কাছে জানতে চান, কীভাবে ভালো অভিভাবক হওয়া সম্ভব। তিনি তার মেয়েকে নিয়ে সবসময়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন বলে প্রকাশ করেন। সদগুরু আলিয়াকে জানান, “যে অভিভাবকরা সবসময় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তারা কখনই ভালো মা-বাবা হতে পারেন না। দুশ্চিন্তা করলে কখনই সন্তান বড় করা যাবে না। বরং নিজের ছন্দে বাচ্চাকে বড় হতে দেওয়া উচিত। মা-বাবার উচিত, সন্তানের স্তম্ভ হয়ে থাকা।” এদিকে আলিয়া ভাট বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিব রাওয়াইল পরিচালিত সিনেমা আলফা-এর শুটিংয়ে, যেখানে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, শর্বরী সহ আরও অনেকে। আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ১০ জুলাই। তাছাড়া, সঞ্জয় লীলা বনসালীর সিনেমা লাভ এন্ড ওয়্যার-এও দেখা যাবে আলিয়াকে। এই ছবিতে আলিয়ার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল, বোমান ইরানি সহ আরও অনেকে।
ঢাকা: ‘দেনা পাওনা’ ধারাবাহিকে নিপার চরিত্রে দর্শকের ঘরের মেয়ে হয়ে ওঠা তাবাসসুম ছোঁয়া এবার নতুন ধারাবাহিক ‘চেনা অচেনা’-তে হাজির হচ্ছেন। নতুন ধারাবাহিকে তার চরিত্রের নাম আয়রা, যিনি বাবা-মা নেই, দাদির খুব আদরের নাতনি। সহজ সরল স্বভাবের এই চরিত্রটি তাবাসসুমকে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করবে। ছোঁয়া ঢাকার ঢাকা মেইল-কে বলেন, ‘‘দাদির চরিত্রে রয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী দিলারা জামান। ওনার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জীবনের বড় পাওনা।’’ ‘চেনা অচেনা’-তে ছোঁয়ার বিপরীতে আছেন অ্যালেন শুভ্র, যাঁর সঙ্গে তার অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি দর্শক ইতোমধ্যেই পছন্দ করেছেন। ছোঁয়া বলেন, ‘‘আমাদের তিন বছর ধরে অনস্ক্রিন কাজ চলছে। অফস্ক্রিনেও আমরা কলিগ, তিনি অসাধারণ সাপোর্টিভ সহশিল্পী।’’ ছোঁয়া আরও জানান, ‘‘দেনা পাওনা’-তে দর্শক আমাকে যেমন গ্রহণ করেছেন, আশা করছি ‘চেনা অচেনা’-তেও আয়রা চরিত্রটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। ভিন্ন চরিত্র একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে এবং ভিত শক্ত করে।’’ পর্দার বাইরে খায়রুল-নিপার মতো রসায়ন নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল সম্পর্কে ছোঁয়া বলেন, ‘‘এই গুঞ্জন আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করি। আমাদের কেমিস্ট্রি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হওয়ায় তারা আমাদেরকে পর্দার বাইরে জুটি হিসেবে ভাবতে পারেন।’’ ছোঁয়া শেষমেষ দর্শকদের কাছে দোয়া চাইলেন। তিনি আশা করছেন, খায়রুল-নিপার মতো আয়রা-নূর জুটিকেও দর্শক ভালোবাসায় বেঁধে রাখবেন। নতুন ধারাবাহিক ‘চেনা অচেনা’ দেখা যাবে ৩১ মার্চ থেকে। পরিচালক ওমর ফারুক, অভিনয়ে আছেন ডা. এজাজ, শিল্পী সরকার, বড়দা মিঠু, এমএনইউ রাজু প্রমুখ।
বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্ত অভিনীত বহুল আলোচিত গান সরকে চুনর তেরি সরকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ করেছে। গানটি আসন্ন সিনেমা কেডি : দ্য ডেভিল-এর অংশ, যা মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সূত্র জানায়, গানটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। দর্শকদের একটি বড় অংশ গানটির বিষয়বস্তু, উপস্থাপন ও ভিজ্যুয়াল উপাদান নিয়ে আপত্তি জানায়। অভিযোগ ওঠে, গানটি নৈতিকতা ও সামাজিক সংবেদনশীলতার সীমা অতিক্রম করেছে। ক্রমবর্ধমান জনরোষের প্রেক্ষিতে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গানটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পরপরই নির্মাতারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে গানটি সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে কনটেন্ট নিয়ে নজরদারি ও জনমতের প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে বড় তারকাদের যুক্ত কোনো প্রকল্প হলে তা আরও বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাতা বা সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সিনেমা ‘কেডি : দ্য ডেভিল’-এর মুক্তি ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
ঢালিউডের আলোচিত অভিনেত্রী তমা মির্জা এবং নির্মাতা রায়হান রাফী—দুজনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শোবিজ অঙ্গনে নানা আলোচনা ছিল। ইন্ডাস্ট্রির ওপেন সিক্রেট হিসেবে পরিচিত এই সম্পর্ক ঘিরে ভক্ত ও সমালোচকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিদেশ ভ্রমণ—বিভিন্ন সময় একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় জল্পনা আরও জোরদার হয়েছিল। তবে এতদিন কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ফলে সম্পর্কের বাস্তব অবস্থা নিয়ে কৌতূহল থেকেই গিয়েছিল। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন তমা মির্জা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে—রায়হান রাফীর সঙ্গে এখনো তার সম্পর্ক আছে কি না—এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে তমা বলেন, “আচ্ছা, না।” তার এই সংক্ষিপ্ত উত্তরের মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেত্রী জানান, সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ না হলেও আগের মতো যোগাযোগ আর নেই। তিনি বলেন, “বন্ধুত্ব আছে, তবে আগের মতো ওভাবে এখন আর কথা হয় না।” তমার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের রূপ এখন বদলে গেছে। এক সময়ের আলোচিত এই জুটির সম্পর্কের উষ্ণতা কমে এলেও, পারস্পরিক বন্ধুত্ব এখনো টিকে আছে। শোবিজ অঙ্গনে এমন সম্পর্কের পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। তবে তমা মির্জা ও রায়হান রাফীর মতো জনপ্রিয় দুই ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এবং এখনো রয়েছে।
ঢাকা: দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান শুধুই অভিনয়ের জগতে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও নান্দনিক রুচি ও প্রকৃতিপ্রেমের জন্য সুপরিচিত। ব্যস্ত সময়ের মাঝেও প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে খুঁজে নিতে ভালোবাসেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত বাগানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী, যা ইতোমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজ হাতে গড়ে তোলা বাগানে নানা ধরনের সবজি ও ফলের যত্ন নিচ্ছেন জয়া। কখনো তিনি যত্ন সহকারে গাছের ডাল ছাঁটছেন, আবার কখনো ধারালো কাঁচি দিয়ে সতেজ শস্য সংগ্রহ করছেন। এক পর্যায়ে বড় থোকার কলা হাতে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাকে। পুরো ভিডিওজুড়েই প্রকৃতির সঙ্গে তার গভীর মমত্ববোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জয়ার এই উদ্যোগ শুধু শখের বাগানচর্চা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের এক সুন্দর বার্তা বলেও মনে করছেন অনেকেই। তার ভক্তরা মন্তব্যে প্রশংসা করে জানিয়েছেন, শহুরে জীবনে এমন সবুজ উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। উল্লেখ্য, অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে বরাবরই সরব জয়া আহসান। তার এই বাগানচর্চা সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান–এর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ‘রাক্ষস’ সিনেমার অভিনেত্রী সুম্মিতা চ্যাটার্জি। সম্প্রতি নিজের অভিনীত রাক্ষস সিনেমার প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এই আগ্রহের কথা জানান। এক সাক্ষাৎকারে সুম্মিতা বলেন, “শাকিব খানের সঙ্গে কে না কাজ করতে চায়? আমিও কাজ করতে চাই।” তার এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই ঢালিউডে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল। শুধু কাজের আগ্রহই নয়, বাংলাদেশ এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়েও নিজের মুগ্ধতার কথা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, দেশের আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “আমি তো প্রথমেই বললাম—বিরিয়ানি, ইলিশ, মিষ্টি—সবই আমার খুব প্রিয়।” এদিকে ‘রাক্ষস’ সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সিনেমাটিতে সিয়াম আহমেদ–এর সঙ্গে তার রসায়নও দর্শকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। ছবিটির সাফল্যে বেশ উচ্ছ্বসিত সুম্মিতা। তবে শাকিব খানকে ঘিরে তার এই মন্তব্য ভক্তদের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যতে সত্যিই এই দুই তারকাকে একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে কিনা।
প্রয়াত বলিউড কিংবদন্তি শ্রীদেবী-র রেখে যাওয়া সম্পত্তিকে ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন তার দুই মেয়ে জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। অভিযোগ উঠেছে, তামিলনাড়ুর চেন্নাই-এর ইস্ট কোস্ট রোড এলাকায় জমি কেনা নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুরসহ তার দুই মেয়ে। পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত এই জটিলতা নিরসনে তারা মাদ্রাজ হাইকোর্ট-এ আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নথিপত্রে অসঙ্গতি এবং প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পত্তির মালিকানা ও লেনদেনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারটি দাবি করছে, তাদের অজান্তেই বা ভুল তথ্য দিয়ে এই লেনদেন সম্পন্ন করা হয়ে থাকতে পারে। আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে জমির দলিল, পূর্ব মালিকানা, এবং লেনদেনের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শুনে পরবর্তী নির্দেশনা দিতে পারে। উল্লেখ্য, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীদেবী ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তি নিয়ে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এবার সেই সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে আইনি জটিলতা প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কাপুর পরিবার। বর্তমানে আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
বিনোদন ডেস্ক: ভারতীয় সংগীত জগতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল প্লে-ব্যাক সংগীত থেকে ধীরে ধীরে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগীতচর্চা করার পর এখন তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা ক্লান্ত অনুভব করছেন। শ্রেয়া বলেন, “সংগীত আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ হলেও, টানা কাজের ফলে মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়।” ভবিষ্যতে প্লে-ব্যাক গান থেকে বিরতি নেওয়া কিংবা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সংগীত জগতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তবে সব পরিবর্তন তাকে আনন্দ দেয় না। বিশেষ করে লাইভ পারফরম্যান্সে প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার তাকে হতাশ করে। তার মতে, বর্তমানে অনেক শিল্পী মঞ্চে প্রকৃত কণ্ঠের বদলে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির ওপর বেশি নির্ভর করছেন, যা সংগীতের মৌলিক সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ন করে। লাইভ কনসার্টে ‘লিপ-সিঙ্ক’ বা পূর্বে রেকর্ড করা গানের সঙ্গে ঠোঁট মেলানোর প্রবণতার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছেন। শ্রেয়ার ভাষায়, “যেদিন আমাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে লিপ-সিঙ্ক করে গান গাইতে হবে, সেদিনই আমি গান গাওয়া ছেড়ে দেব।” তবে পুরোপুরি অবসর নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এই গায়িকা। তিনি জানান, কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পর নতুন উদ্যমে আবারও গানে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের গান উপহার দিয়ে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন শ্রেয়া ঘোষাল। তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ফলে প্লে-ব্যাক সংগীত থেকে তার সম্ভাব্য বিরতির খবর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত কেডি: দ্য ডেভিল সিনেমার একটি গানে চরম অশ্লীল শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ শিরোনামের গানটিতে নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি গানের কথার কারণে তৈরি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। গানটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, গানের ভাষা অশ্লীল এবং বর্তমান সমাজে এ ধরনের কনটেন্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই সিনেমায় নোরার সঙ্গে অভিনয় করেছেন বলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। তবে গানের বিষয়বস্তু নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত সিনেমা সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—বর্তমান সময়ে কেন এমন নিম্নমানের ও অশালীন ভাষার গান তৈরি করা হচ্ছে? কেউ কেউ সরাসরি গানটি নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিউ ও জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় নির্মাতারা বিতর্কিত কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছেন, যা সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, বিতর্ক বাড়তে থাকায় গানটি নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।
নাগরিক টিভিতে প্রচার হবে তারকাদের অংশগ্রহণে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘তারায় তারায়’। ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন রাত ১০টায় নাগরিক টিভি’র পর্দায় এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। ঈদের দ্বিতীয় দিন ‘তারায় তারায়’ আয়োজনে দেখা যাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমাকে। ইতিমধ্যে নাগরিক টিভি’র প্রধান কার্যালয়ে তিনি অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং শেষ করেছেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত নাম পরীমণি আবারও আলোচনায়। তবে এবার কোনো সিনেমা বা বিতর্ক নয়, বরং একেবারে ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গা থেকে করা একটি সামাজিকমাধ্যম পোস্ট ঘিরেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন চাঁদ রাতের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ঈদের সকালের আবেগঘন মুহূর্ত। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে, সৃষ্টি করে ব্যাপক আলোচনার। চাঁদ রাত: প্রস্তুতি আর প্রতীক্ষা পরীমণির পোস্টে চাঁদ রাত যেন শুধুই একটি ধর্মীয় বা সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক গভীর আবেগের প্রতীক। তিনি লিখেছেন—ঈদের আগের রাত মানেই ব্যস্ততা, প্রস্তুতি, আনন্দ আর এক ধরনের অদৃশ্য উত্তেজনা। নতুন পোশাক গুছিয়ে রাখা, ঘর পরিষ্কার করা, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছু মিলিয়ে চাঁদ রাত যেন উৎসবের প্রথম ধাপ। তার বর্ণনায় ফুটে উঠেছে একেবারে ঘরোয়া পরিবেশ—যেখানে তারকা পরিচয়ের বাইরে একজন সাধারণ মানুষের অনুভূতিই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ঈদের সকাল: আনন্দের নতুন রূপ ঈদের সকাল নিয়ে পরীমণির অভিজ্ঞতা আরও বেশি জীবন্ত। সকালের ব্যস্ততা, নামাজের প্রস্তুতি, অতিথি আপ্যায়ন—সবকিছু মিলিয়ে দিনটি তার কাছে এখন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এখন ঈদ মানেই শুধু নিজের আনন্দ নয়, বরং অন্যদের খুশি রাখার দায়িত্বও। তার ভাষায়, “ঈদের দিনে বাসায় মেহমান আসে, তাদের আপ্যায়ন করার চেষ্টা করি। আবার কাছের মানুষদের বাসায়ও যাই।” এই অংশটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ এতে একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। শৈশবের ঈদ: আনন্দ আর অপূর্ণতার মিশেল পরীমণির পোস্টের সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল তার শৈশবের স্মৃতি নিয়ে। তিনি স্মরণ করেছেন— ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারানোর কষ্ট নানা-নানু ও মামাদের স্নেহে বেড়ে ওঠা ঈদের দিনে সেলামি পাওয়ার আনন্দ বন্ধুদের সঙ্গে দিনভর ঘোরাঘুরি তবে এই আনন্দের মাঝেও একটি শূন্যতা সবসময় অনুভব করতেন তিনি। তার কথায়, “বাবা-মা না থাকার কষ্ট সবসময় অনুভব করতাম।” এই স্বীকারোক্তি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সহানুভূতি তৈরি করেছে। বর্তমান জীবন: দর্শকের ভালোবাসাই শক্তি বর্তমান সময়ের ঈদ তার কাছে অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন দর্শকদের ভালোবাসাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিশেষ করে ঈদে যদি তার কোনো সিনেমা মুক্তি পায়, তাহলে আনন্দ আরও বেড়ে যায়। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট—তার পেশাগত জীবন এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সামাজিকমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া: ‘রিয়েল লাইফ ঈদের গল্প’ পরীমণির পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিকমাধ্যমে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়। অনেক ব্যবহারকারী তার এই লেখাকে “রিয়েল লাইফ ঈদের গল্প” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিছু সাধারণ প্রতিক্রিয়া: “এটা আমাদের সবার গল্প” “তারকারাও যে এত সাধারণভাবে ভাবেন, সেটা ভালো লাগলো” “ঈদের আসল অনুভূতি এখানে পাওয়া যায়” এই প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে বোঝা যায়, তার পোস্টটি শুধু বিনোদন নয়—মানুষের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে সংযুক্ত হয়েছে। বিশ্লেষণ: কেন ভাইরাল হলো এই পোস্ট? ১. ব্যক্তিগত সত্যতা পরীমণি তার পোস্টে কোনো কৃত্রিমতা রাখেননি। বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আবেগ সরাসরি প্রকাশ করেছেন। ২. সার্বজনীন অনুভূতি ঈদ সবার জন্যই বিশেষ। তাই তার অভিজ্ঞতা সহজেই মানুষের সঙ্গে মিলে গেছে। ৩. তারকা পরিচয়ের বাইরে মানবিক দিক একজন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রীর পরিবর্তে একজন সাধারণ মানুষের গল্প উঠে এসেছে। ৪. নস্টালজিয়া ফ্যাক্টর শৈশবের স্মৃতি সবসময়ই মানুষের মনে দাগ কাটে। বিনোদন জগতে এর প্রভাব বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে তারকারা এখন শুধুমাত্র সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিকমাধ্যমের মাধ্যমে তারা সরাসরি দর্শকদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। পরীমণির এই পোস্ট সেই প্রবণতার একটি শক্ত উদাহরণ, যেখানে— ব্যক্তিগত জীবন পেশাগত পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ সবকিছু একসঙ্গে কাজ করছে। পরীমণির এই পোস্ট শুধুমাত্র একটি ফেসবুক আপডেট নয়, বরং এটি এক ধরনের সামাজিক প্রতিচ্ছবি।এখানে যেমন রয়েছে একজন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ।ঈদ, পরিবার, ভালোবাসা এবং শৈশবের স্মৃতি—সব মিলিয়ে এই পোস্টটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য আবেগঘন দলিল।আর সেই কারণেই এটি এখন শুধু ভাইরাল নয়, বরং অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নিজের জীবনের প্রতিফলন।
ছোট পর্দার অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। অভিনয় দক্ষতা আর পর্দার উপস্থিতি দিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নাটকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিয়মিতই নিজের নতুন ছবি ও মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন কেয়া পায়েল। ছবিগুলোতে তাকে খোলামেলা এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে দেখা গেছে। অফ-হোয়াইট রঙের এক কাঁধ খোলা পোশাকে ক্যামেরার সামনে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ধরা দিয়েছেন তিনি। শেয়ার করা ছবিগুলোতে কেয়া পায়েলকে বেশ খোশ মেজাজে দেখা যায়। কখনও ক্যামেরার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে, আবার কখনও স্বাভাবিক হাসিতে নিজেকে তুলে ধরেছেন। হালকা মেকআপ, খোলা চুল আর সাদামাটা গয়নায় তার লুক আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের নজর কাড়ে। অনেকেই অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও স্টাইলের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্যে তার নতুন লুককে ‘গ্ল্যামারাস’ বলেও অভিহিত করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ও স্টাইল সচেতনতার জন্যও পরিচিত কেয়া পায়েল। মাঝে মধ্যেই নতুন লুকে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দেন তিনি। এবারের ছবিগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। খোলামেলা ভঙ্গি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এখন ‘ডাস্টবিন’ ছাড়া কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সম্প্রতি একটি পোশাকের দোকানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন এই তারকা। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুতই ভাইরাল হয়ে গেছে তার এমন বক্তব্যের ভিডিও। এতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে পছন্দের পোশাকের রং থেকে শুরু করে নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন তিনি। এ সময় ঢালিউডের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সরাসরি মন্তব্য করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ২০০৭-২০০৮ সালে যখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম, তখন একটি ফুল-ফ্লেজড চলচ্চিত্র দেখেই ভক্ত তৈরি হতো। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি শুরু হয়েছে। আর ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন হয়ে গেছে। পৃথিবীতে হলিউড আছে, বলিউড আছে, পাশের দেশ টলিউড আছে। সব জায়গায় পক্ষ-বিপক্ষ আছে। কিন্তু আামাদের ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরামি ছাড়া কিছু নেই। মোট কথা, ইন্ডাস্ট্রি এখন ডাস্টবিন ছাড়া কিছুই না। এদিন অনুষ্ঠানে লেহেঙ্গা পরে হাজির হন অপু বিশ্বাস। নিজের বিয়ের পোশাক নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অপু জানান, লেহেঙ্গা পরেছিলাম। রং ছিল হালকা, তবে ব্লাউজটি ছিল রঙিন। এদিকে, অপু বিশ্বাস নতুন দু’টি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সবশেষ ‘লাল শাড়ি’ ছবিতে দেখা গেছে তাকে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল বর্তমানে সিনেমার পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা আরশ খান–এর সঙ্গে তার জুটি বেশ আলোচনায় রয়েছে। এ জুটির একাধিক নাটক ইতোমধ্যে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। এই জনপ্রিয় জুটিকে এবার দেখা গেল নতুন একটি নাটকে। সম্প্রতি জি-সিরিজ–এর ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে ‘পরমা সুন্দরী’ নামের নাটকটি। নাটকটি নির্মাণ করেছেন মোহন আহমেদ এবং এর গল্প লিখেছেন ইশতিয়াক আহমেদ। নাটকটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ ও আরশ। পাশাপাশি বিভিন্ন চরিত্রে দেখা গেছে মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, ইমেল হক, আয়েশা সিদ্দিকা, এসএইচ মামুন, মুন্না খান, রেজাউল ইসলাম বিয়াজ ও জাবেদ গাজীসহ আরও কয়েকজন শিল্পীকে। চলচ্চিত্র থেকে অভিনয়ের শুরু অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল অভিনয়ে অভিষেক করেন সিনেমার মাধ্যমে। তার প্রথম চলচ্চিত্র ন ডরাই মুক্তির পরই ব্যাপক আলোচনায় আসে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর থেকে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। ‘পরমা সুন্দরী’ নিয়ে সুনেরাহর প্রত্যাশা নতুন নাটকটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুনেরাহ। তিনি বলেন, “এর আগেও আমি মোহন আহমেদের পরিচালনায় একটি নাটকে কাজ করেছি এবং সেটি থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। তাই বিশ্বাস ছিল নতুন নাটকটিও দর্শকের আগ্রহে থাকবে। গল্প ও উপস্থাপনায় একটি আলাদা ধরণ রয়েছে, যা সহজেই দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারে।” বাস্তব জীবনের ছোঁয়া অভিনেতা আরশ খান জানান, নাটকটির গল্প সমকালীন জীবনধারাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “দর্শকের ভালো লাগা ও মন্দ লাগার বিষয় মাথায় রেখেই ‘পরমা সুন্দরী’ নির্মাণ করা হয়েছে। গল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে চেনা মানুষের ছায়া খুঁজে পাওয়া যাবে। তাই ঘটনাগুলোও দর্শকের কাছে অচেনা বা অবাস্তব মনে হবে না।” জুটিকে ঘিরে আলোচনা সাম্প্রতিক সময়ে আরশ খান ও সুনেরাহর জুটিকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। তবে দুজনই বিষয়টিকে কৌশলে সামলে নিয়ে বারবার জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। আলোচিত নাটক এর আগে এই জুটির বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেমিকা’, ‘কাপল’, ‘৭ দিনের প্রেম’, ‘প্রজাপতি মন’, ‘পাগল প্রেম’, ‘আঁতকা’, ‘সিম্প্যাথি’, ‘হৃদয়ে ফাগুন’, ‘আমি তুমি, তুমি আমি’, ‘শ্যাওলা ফুল’ ও ‘ফিরে আসা ভালোবাসা’। নতুন নাটক ‘পরমা সুন্দরী’ও সেই ধারাবাহিকতায় দর্শকের আগ্রহ কাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল -জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী বড় পর্দার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয়। সম্প্রতি এক আবেগঘন পোস্টে নিজের মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং আত্মবিশ্বাসের কথা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সুনেরাহ লিখেছেন, একদিন আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে তিনি নিজের চোখে এমন কিছু দেখেছেন, যা তার ভালো লাগেনি। সেই অনুভূতিকে তিনি বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক—যেকোনো কিছু বলেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, “আজ যখন আমি আয়নায় নিজের দিকে তাকালাম, নিজের চোখে এমন কিছু একটা দেখলাম; যা আমার ভালো লাগেনি। এমন কিছু যা আমি নিজের মধ্যে দেখতে চাই না—তাকে বিষণ্নতা, অসহায়ত্ব কিংবা শোক যা-ই বলুন না কেন।” তিনি আরও বলেন, অনুভূতিটি ছিল অদ্ভুত এবং এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণও ছিল না। তবুও তার কাছে সবকিছু যেন ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল না। নিজের জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে সুনেরাহ জানান, প্রতিদিন তিনি নিজের ওপর কাজ করেছেন আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটি আনন্দময় জীবন গড়ে তুলতে। অভিনেত্রী বলেন, তিনি নিজেকে মানসিকভাবে অনেক শক্ত করে গড়ে তুলেছেন। জীবনের এমন কিছু কঠিন সময় ও সংগ্রামের পথ তিনি অতিক্রম করেছেন, যেগুলো নিয়ে তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে কথা বলেন না। তার কথায়, “সেই পথটা ছিল একান্তই আমার। আমি একাই সবটুকু পথ পাড়ি দিয়েছি। আর আমি এই পরিশ্রম বৃথা যেতে দেবো না।” পোস্টের শেষাংশে নিজের প্রতি অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, জীবনে ইতিবাচকতা ধরে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। “আমি ঠিক করেছি, আমি হাসবো এবং খুশি থাকবো। এই হাসিটাই আমার সঙ্গে মানায়। আমি সুখ এবং এক উন্নত জীবন পছন্দ করি। আমি কোনো কিছু বা অন্য কাউকে আমার থেকে এসব কেড়ে নিতে দেবো না। এটা আমার নিজের কাছে নিজের প্রতিশ্রুতি।” অভিনেত্রীর এই খোলামেলা অনুভূতির পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই তার সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেছেন।
বাংলাদেশের ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ও ভ্লগার ইকরা সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন। ইকরা শুধু একজন তারকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ভ্লগার ও উপস্থাপিকা হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়। তার মৃত্যু শোবিজ অঙ্গনে একটি বড় আঘাত হয়ে এসেছে, বিশেষ করে তার একমাত্র ছেলেকে একাই রেখে চলে যাওয়া কারও কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, এই ঘটনার পর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী তমা মির্জা সামাজিক মাধ্যমে ইকরাকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেছেন, যখন একজন নারী তার ভালোবাসার মানুষকে পূর্ণ সমর্থন দেয়, তার পাশে থাকে এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহায্য করে, তখন সেই মানুষটি যখন সফলতা পায়, তখন বেশিরভাগ সময় তাকে ঠকানো হয়, অবহেলা করা হয়, এবং মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়। তমা মির্জা তার চিঠিতে আরও বলেন, একজন নারী অনেক কিছু সহ্য করতে পারে, কিন্তু যখন তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা সে দেখেন, তখন তার কাছে জীবন অর্থহীন হয়ে ওঠে। জীবন থেকে মুক্তি পেতে অনেক সময় এইসব পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়। ইকরার এই অসম্মানজনক পরিণতি, বিশেষত তার একমাত্র সন্তানের দিকে তাকালে, যেন একটি বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ছে। তমা মির্জা মনে করেন, ইকরার চলে যাওয়ার পর তার মানসিক যন্ত্রণা কিছুটা হলেও কমে গেছে, যদিও তার এই সিদ্ধান্তের ফলে কোনো উপলব্ধি বা পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানেন না তিনি। শোবিজ অঙ্গনে ইকরার মৃত্যু নিয়ে শোক এবং আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, এবং অনেকেই এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছেন। তমার মতামত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নয়, বরং একটি বড় সামাজিক ইস্যুরও প্রতিফলন। নারী-পুরুষের সম্পর্কের নানা দিক এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের ওপর তমার খোলা চিঠি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া, আত্মহত্যার মতো জটিল বিষয়টি নিয়ে সকলের আরও সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহায়তা এবং নারীদের জন্য একে অপরকে সহায়তা করার গুরুত্ব আরও বেশি বেড়ে যায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।