মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নিষিদ্ধ চিংড়ির রেণুপোনা পাচার। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বরিশালকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিরাতে কোটি টাকার অবৈধ রেণুপোনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে। স্থানীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু ব্যবসায়ী, সাংবাদিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ রয়েছে। ‘টুলু সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিত একটি নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে জানা যায়, গোপালগঞ্জের টুলু নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দক্ষিণাঞ্চলের রেণুপোনা বাণিজ্যে একক আধিপত্য গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। অভিযোগের বিষয়ে টুলুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। সূত্র বলছে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত এই সিন্ডিকেটে সিপন, হারুন, বিপ্লব, রনি, জিন্নাত ডাক্তার, নিও, সুমনরাজ, সকেট জামাল, রহিমসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপকূল থেকে নগর—রাতভর পাচারের রুট তদন্তে উঠে এসেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল ও মেহেন্দিগঞ্জ এলাকার নদী মোহনা থেকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণুপোনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ড্রামভর্তি করে ট্রাক, ট্রলার ও স্পিডবোটে করে সেগুলো বরিশাল হয়ে খুলনা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নজর এড়াতে প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে এই চক্র। কখনও মাছবাহী ট্রাক, কখনও সাংবাদিক স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকার ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবহনে। ‘সাংবাদিক স্টিকার’ ব্যবহার করে নিরাপদ রুটের অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে পোর্ট রোড এলাকার এক মৎস্য ব্যবসায়ী রনির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, গভীর রাতে প্রাইভেটকারে ‘Press’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার ব্যবহার করে তারা রেণুপোনার চালান নিরাপদে পার করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন চেকপোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী দলের হাতে এমন কয়েকটি ভিডিও এসেছে, যেখানে সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত গাড়ির গতিবিধি সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ‘ম্যানেজ বাজেট’: ৪৪ লাখ টাকার সমঝোতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রেণুপোনা পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কিছু সংবাদকর্মীকে ‘ম্যানেজ’ করার জন্য একটি বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। বরিশাল নগরীর কয়েকটি অভিজাত হোটেলে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রথমে ৩৬ লাখ টাকার একটি সমঝোতা বাজেট নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেটি বাড়িয়ে ৪৪ লাখ টাকা করা হয় বলেও দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। কনস্টেবল মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বরিশাল আইনশৃংখলা বাহিনীর এক তদন্তকারী সংস্থার কনস্টেবল মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিকারপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তিনি নিজেকে ‘এসআই’ পরিচয় দিয়ে রেণুপোনা ভর্তি একটি ট্রাক ও একটি সিএনজি আটক করেন। পরে ব্যবসায়ীদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। দরকষাকষির একপর্যায়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনায় ভোর থেকে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় ড্রামে থাকা প্রায় ৯০ হাজার রেণুপোনা মারা যায় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।তবে মেহেদি হাসান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নোমরহাট ব্রিজে ‘সরাসরি উপস্থিতি’ অনুসন্ধানী দল চাঁদপাশা–সায়েস্তাবাদ সংযোগস্থলের নোমরহাট ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে স্পিডবোট, ট্রলার ও ট্রাকে রেণুপোনা পরিবহনের দৃশ্য ধারণ করে।সেখানে কয়েকজনকে রেণুপোনাভর্তি ড্রাম ট্রাকে তুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—মৎস্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট থানাকে না জানিয়ে কারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এবং কোন ক্ষমতাবলে তা হচ্ছে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের অভিযান, তবু থামছে না পাচার র্যাব-৮, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর একাধিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা, ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে। বরিশালের রূপাতলী, দপদপিয়া সেতু ও বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে বেশ কয়েকবার ট্রাকচালক, শ্রমিক ও সিন্ডিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নদী ও মোহনায় শত শত প্রজাতির অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ শিকার চলতে থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতি। রেণু আহরণের সময় নষ্ট করা হচ্ছে রেণু ও লার্ভি,দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা মৎস্য গবেষকরা বলছেন, নদী থেকে একটি চিংড়ি রেণু আহরণের সময় মাছ, জুপ্লাংকটনসহ বিভিন্ন জলজ প্রজাতির সাড়ে ৭৭৮টি রেণু ও লার্ভি নষ্ট করা হচ্ছে। মাছের রেণু রক্ষা করা না গেলে জীববৈচিত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির শঙ্কা রয়েছে।প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ২০০২ সালে গলদা চিংড়িসহ সব ধরনের মাছের রেণু পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করে সরকার।চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও নিয়মিত চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। গোধূলী লগ্ন থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে এই নিষিদ্ধ কার্যক্রম। মূলত মশারি জাল দিয়ে তৈরিকৃত এক ধরনের বিশেষ জাল (ঠেলা জাল) দিয়ে নদী থেকে চিংড়ির রেণু আহরণ করে থাকে জেলেরা। এসময় চিংড়ির পাশাপাশি নদীতে থাকা সকল ধরনের মাঝের পোনা ও লার্ভি উঠে আসে জালে। পরে সেগুলো থেকে বাছাই করে গলদা চিংড়ির রেণুগুলো সংরক্ষণ করলেও নির্বিচারে নষ্ট হচ্ছে অন্যান্য মাছের পোনা। জেলে তাজুল ইসলাম বলেন, চিংড়ির রেণু ধরে প্রতিদিন পাঁচশ থেকে ১২শ টাকা আয় হচ্ছে আমাদের। যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলেরজেলাগুলোর মাছের ঘেরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে গলদা চিংড়ির রেণুর। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পঞ্চাশ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত প্রতি পিস রেণু বিক্রি করা হয়ে থাকে।জেলে রূপম ইসলাম বলেন, চিংড়ি’র রেণু ধরা যে অবৈধ তা আমরা জানিনা। সংসার চালাতে পেটের দায়ে রেণু আহরণ করি আমরা। রেণু ধরতে গিয়ে হয়তো কিছু পোনা মারা যায়। তবে গলদা চিংড়ির রেণু বেছে বাকি মাছের রেণু আমরা নদীতে ফেলে দেই। রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে,প্রভাব পড়ছে বাজারে চিংড়ি গবেষক আব্দুল বারী বলেন, প্রতিনিয়ত মাছের রেণু নিধণের ফলে নদীতে সংকট দেখা দিয়েছে মাছ উৎপাদনে। এর প্রভাব পড়ছে বাজারে। আগে নদীতে বড় সাইজের চিংড়ি মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। চিংড়ির দামও অনেক বেশি। নদীতে মাছের রেণু সংরক্ষণ করা না গেলে আগামীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি হয়ে যাবে। রেণু আহরণ পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিংড়ি গবেষক ড. মো. হারুনর রশিদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই মাছের রেণু আহরণ করা ঠিক নয়। এতে করে পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, নদী থেকে একটি চিংড়ির রেণু ধরার জন্য মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রজাতির প্রায় ৭৭৮টি পোনা ও লার্ভি নষ্ট করা হয়। প্রতি বছর প্রাকৃতিক উৎস হতে রেণু আহরণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে জলাশয়ের জীববৈচিত্র বিনষ্ট হওয়াসহ অনেক মাছ বিলুপ্তি আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে কৃত্রিমভাবে গলদা চিংড়ির রেণু উৎপাদন করার পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তাই পুরো সিন্ডিকেট, তাদের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, প্রশাসনিক যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে, তবে তা শুধু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাই নষ্ট করবে না, বরং উপকূলীয় পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সওজে ‘টেন্ডার সিন্ডিকেট’: মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডার জালিয়াতি, কমিশন বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সওজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান কক্সবাজার, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ বর্তমানে সওজের জনবল নিয়ন্ত্রণ ও বদলি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখায় তাঁর অদৃশ্য প্রভাব বজায় রয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধাজনক পোস্টিং ও বদলির ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। সওজের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রশাসন ও সংস্থাপন শাখা সাধারণত রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মনিরুজ্জামানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তিনি দীর্ঘদিন এই প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হন বলে তাঁদের দাবি। কক্সবাজারে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত প্রাক্কলন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়। সেখানে সমুদ্র উপকূলীয় ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া বিল-ভাউচার ও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো ছিল নিয়মিত চর্চা। পরবর্তীতে রাজশাহী জোনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ‘কোর সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে ৪ থেকে ৫ জন প্রভাবশালী ঠিকাদারকে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ নিশ্চিত না করলে কোনো ঠিকাদারের পক্ষে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কিংবা কাজ পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আর্থিক সম্পর্কের তথ্য দুদকে জমা পড়া অভিযোগেও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে “আমিনুল ইসলাম কনস্ট্রাকশন” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কথাও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে তৈরি করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ছাড়া অন্য কেউ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নিম্নমানের কাজ ও পুনঃসংস্কারের চক্র মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত বা সংস্কার করা সড়ক বর্ষা শুরুর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনভিত্তিক প্রকল্প অনুমোদনের সংস্কৃতি সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক পুনরায় সংস্কারের তালিকায় চলে আসে। কমিশন ছাড়া ফাইল নড়ত না—অভিযোগ সওজের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশাসনিক ও কারিগরি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অনুমোদন হতো না। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম কমিশন নেওয়ার কারণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার হলেও চূড়ান্ত বিল অনুমোদনে বাধা থাকত না। টিআইবির পর্যবেক্ষণ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সড়ক খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট কাজ করছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কোনো কর্মকর্তার পক্ষে এত দীর্ঘ সময় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও টেন্ডার জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।” অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুরে আদি বাড়ি থাকা মনিরুজ্জামান গত এক দশকে ঢাকা, ফরিদপুর ও রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফরিদপুরে কৃষি ও অকৃষি জমি, রাজশাহীতে বাণিজ্যিক প্লট ও ফ্ল্যাট, এবং ঢাকার বনানী, গুলশান, বসুন্ধরা ও নিকেতন এলাকায় তাঁর ও আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক মূল্যবান সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপুল অঙ্কের এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের তথ্যও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একজন সরকারি গ্রেড-২ বা গ্রেড-৩ কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে অভিযোগ করা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে তাঁর বিপুল পরিমাণ অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও দুবাইয়ে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তির দলিল ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।” সওজের ভেতরে অসন্তোষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা নিজস্ব সিন্ডিকেট ও অবৈধ অর্থের জোরে পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছেন। এতে সৎ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।” তিনি আরও বলেন, “ই-জিপি ব্যবস্থায় কারিগরি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে অনেক ঠিকাদারকে প্রতিযোগিতা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে।” বক্তব্য পাওয়া যায়নি এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মনিরুজ্জামানের দপ্তরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, “কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি বা অবৈধ সম্পদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সরকার শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করবে।” তিনি বলেন, “দুদক বা অন্য কোনো তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে মন্ত্রণালয় পূর্ণ সহযোগিতা করবে।”
গণপূর্তের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে। ‘সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে টেন্ডার’ অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্য, টেন্ডারের শর্ত ও প্রাক্কলন এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা কার্যত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারে। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের বড় একটি অংশ নিজেদের “জিম্মি অবস্থায়” পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল হোসেনকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন টেন্ডারের শর্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা ও কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হয় যা কেবল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই পূরণ করতে পারে। ‘সংস্কারের নামে কোটি টাকার অনিয়ম’ সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় আট কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। সুইমিং পুল সংস্কার টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন চলতি মাসে আহ্বান করা কয়েকটি টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুটি টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এতে প্রায় ২৫ জন ঠিকাদার কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪ মে আহ্বান করা একটি সুইমিং পুল সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজটি পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলেনবাড়ি এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ভবনের সংস্কারের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গত দুই বছরে সেখানে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। আউটসোর্সিং নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠিকাদার মহলের অভিযোগ, নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মধ্যে যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাজ দেওয়া হয় না—even প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য মেলেনি এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, রাতুল এন্টারপ্রাইজ ও ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটারকে নিয়ে গঠন করেছেন ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মানিক লাল দাস ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পরিচয়ে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চল দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। হাসনাতের প্রভাবে বরিশাল গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন তিনি। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’ লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ও তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহর মেয়র নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভোলা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট লীগের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখনো ফ্যাসিস্ট লীগের লোকজনকে কাজ দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দেন। তার অধীনস্থ বিভাগগুলোতে ঝালকাঠির নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স, ভোলা সদরের ফ্যাসিস্ট লীগের সহ সভাপতি হাসান মিয়ার রাতুল এন্টারপ্রাইজ, ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটার ও বরিশালের কাশিপুরের বাসিন্দা মিজানের খান ট্রেডার্স এর মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলে লোক জোগান দিতে ব্যয় করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ,প্রত্যেক এক্সেনকে ডিসেম্বরের আগেই এই চার ফার্মের নামে মিনিমাম ৮ টি কাজ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। মানিক লাল দাস ২০২২ সালে যখন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তখন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র সীমিত পদ্ধতিতে আহবান করার কথা থাকলেও তার নির্দেশের কারণে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগ উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মানিক লালের পছন্দের ঠিকাদারদের কে কাজ পাইয়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে মানিক লাল দাস মোটা কমিশন হাতিয়ে নেন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী কৃষি আবহওয়া অফিসের সিভিল স্যানিটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৮ তারিখ ২১/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৯২১১। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও পরিদর্শন বাংলোর সিভিল স্যানেটারী মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৭ তারিখ ২১/০৩/২০২২ খ্রিঃ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং- ৬৭৯০১১। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর বাউন্ডারী ওয়াল, গেট, গার্ডরুম ও বাথরুম সিভিল ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৫ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪৫৩। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৭ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং ৬৭৫৯৭ এবং কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর ছাত্রী হোষ্টেলের ২য় তলায় সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন। অন্যদিকে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৩ তারিখ ০৬/০৩/২০২২খ্রিঃ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৩৬৬। ৬) কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর প্রশাসনিক ভবনের গ্যালারী মেরামত, রুম, জানালা মেরামতসহ বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৬ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন ও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪১৫। এই সকল মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি গোচর হতে পারে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সীমিত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার কথা থাকলেও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের নির্দেশনা সম্বলিত পত্র ও প্রাক্কলন অনুমোদন দেন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর জুলাই মাসের অফিস আদেশ অমান্য করে এক দিনের নোটিশে দরপত্র ওপেনিং দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার জন্য ততকালীন কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম কে জোর জবরদস্তি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুতভাবে সময় বর্ধন অনুমতি দিয়েছেন যেটা দিতে পারবেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী করবেন অনুমোদন সেটা নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। ঝিনাইদহ পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ স্মৃথি মিউজিয়াম, মাগুরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান প্রকল্প ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি সম্প্রসারিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের এছাড়া যশোর সার্কেলের সকল ডিভিশনের নিয়ম বহির্ভূতভাবে সময় বর্ধন, ভেরিয়েশন ও প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প এর কাজের সময়েও এই মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো যে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কাজের সাথে থাকলেও তিনি সাইট পরিদর্শনে আসেন না বললেই চলে। সারাদিন অফিসে বসে বসে ঠিকাদারদের অপেক্ষায় থাকেন কখন কোন ঠিকাদার অফিসে এসে তার কমিশন দিয়ে যাবে। এসময় ভবন নির্মাণ কাজের অবহেলায় ছাদ ধসের ঘটনায় অনেকের শাস্তি হলেও তিনি থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া, সে সময় অন্য ঠিকাদারদের যেখানে কাজের মেয়াদ শেষ, সেখানে ঠিকাদার জহুরুল ইসলামের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। অথচ এই জহুরুলের নির্মাণাধীন কাজের অংশেই ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল ভবনের গাড়ি বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। পরে এ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি, এসওসহ চারজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও দায়িত্বে অবহেলা ও সাইট পরিদর্শনে অলসতার অভিযোগ যেই মানিক লালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। মানিক লাল দাস ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সরকারের ৩ মাসের তোফায়েল আহমেদের গণপূর্ত মন্ত্রী থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর ভোলার সাবেক চালচোর চেয়ারম্যান হাসান মিয়া ও তার ভাই হোসেন মিয়ার প্রভাবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ -১ পদায়ন পেয়েছিলেন। তিনি ঢাকার একটি ডিভিশন ঠিকমতো চালাতে পারেন নি। তাই সে সময় তাকে দীর্ঘ দিন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাখা হয়। পরে পদোন্নতি পেয়ে যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। যশোর গণপূর্ত সার্কেলের আওতাধীন ঝিনাইদহ, মেহেরপুর , যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানাগেছে।
এ্যাংকর সিমেন্ট: ভ্যাট ফাঁকি, অর্থ পাচার ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের মুখে এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান । ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ, উৎপাদন বন্ধে বেতনহীন কর্মচারীদের আহাজারি। অর্থ পাচার ও বেতন বকেয়া: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: একটি সফল প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বকেয়া।কর্ম বিরতি। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি,শুধু ভ্যাট ফাকিঁই নয় নিয়েছে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা।বিদেশে অর্থ পাচারের ঘটনা তদন্ত করছে দুদক।অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার,রিটেইলার সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষুব্ধ।এখন তারা তাদের পাওনা ফেরৎ পেতে ভিড় জমাচ্ছেন।অন্যান্য পাওনাদাররাও একই পথে। বলছি বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট এর কথা। গভীর সংকটের মুখে ‘এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী’ : বরিশালের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘এ্যাংকর সিমেন্ট’ এখন গভীর সংকটের মুখে। ভ্যাট ফাঁকি, অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক ঋণ খেলাপি, বকেয়া বেতন এবং উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বহুমাত্রিক বিতর্ক। কারখানায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ। উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির। অন্যদিকে অগ্রিম অর্থ দিয়েও সিমেন্ট না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতারা। পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির ঘটনায় বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে তোলপাড় : সম্প্রতি এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর কপোরেট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসে। ইতিমধ্যে তারা খোজ খবর নিতে শুরু করেছেন ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াতের বিষয়ে। হতাশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঈদুল ফিতরের বোনাসসহ বেতন বাকি তিন মাসের।ঈদুল আজহা আসন্ন।এখনো বকেয়া বেতন ভাতা না পেযে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি কর্মকর্তারাও কর্ম বিরতি পালন করে আসছেন।কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনেক শ্রমিক-কর্মচারী ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। ব্যাগ উৎপাদন ইউনিট অলিম্পিক ফাইবার লিমিটেডও এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দফা ছুটি বাড়ানোর পরও এখন পর্যন্ত উৎপাদন শুরু হয়নি। দুদকের নজরে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে এবং আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাই, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থ পাচারের ইঙ্গিত পাওয়ায় ইতোমধ্যে নোটিশও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ উৎপাদন গত ১৪ মে তিন কোটির বেশি টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওজোপাডিকোর বরিশাল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুরো কারখানা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কাঁচামালের সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। ব্যাংক ঋণের চাপ ও আর্থিক সংকট অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার এবং অলিম্পিক শিপিং লাইন্সে অর্থায়নকারী একাধিক ব্যাংক ঋণ আদায়ে চাপ বাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমনকি ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতেও অনীহা দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ , ডিলার-রিটেইলারদের ক্ষোভ অগ্রিম অর্থ নিয়েও সিমেন্ট সরবরাহ না করায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিলার ও রিটেইলারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকার পাওনা আদায়ে এখন প্রতিষ্ঠানটির অফিস ও কারখানার সামনে ভিড় করছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কমিশনের লোভ দেখিয়ে বিপুল অগ্রিম অর্থ নেয়া হলেও এখন না মিলছে সিমেন্ট, না ফেরত দেয়া হচ্ছে টাকা। গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সিমেন্টে ক্লিংকারের ব্যবহার কমিয়ে লাইমস্টোন ও ফ্লাই অ্যাশের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, এতে এ্যাংকর সিমেন্টের গুণগত মান আগের তুলনায় কমে গেছে এবং বাজারে ক্রেতাদের আস্থাও নষ্ট হয়েছে। পরিবেশ দূষণের অভিযোগ কারখানাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সিমেন্ট কারখানার ধুলাবালির কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নীরব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ্যাংকর সিমেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যেখানে বিদ্যুৎ বিলই পরিশোধ করা যাচ্ছে না, সেখানে ডিলারদের অগ্রিম টাকা ফেরত দেয়া বা নতুন করে সিমেন্ট সরবরাহ করা এখন প্রায় অসম্ভব।” ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একসময়কার সফল ব্র্যান্ড একসময় গুণগত মান, সঠিক ওজন, দ্রুত সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল এ্যাংকর সিমেন্ট। তবে অনিয়ম, আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার সংকটের কারণে এখন প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ব্যাংক ঋণ, পাওনাদারদের চাপ, উৎপাদন বন্ধ এবং তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরদারির মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি। অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না। তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক ! বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট। জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ। কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন দিয়েছেন রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী। গত ৫ এপ্রিল জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রে আফজাল হোসেনকে “দুর্নীতির সিন্ডিকেটের প্রধান”, “ঘুষখোর” এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের “পোষ্যপুত্র” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এবং খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আফজাল হোসেন ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করেছেন। একই সঙ্গে রেলওয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ পেতেও তিনি ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। রমজান আলী অভিযোগ করেন, “রেলওয়েকে একটি দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে”, যেখানে ঠিকাদার, আমলা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করেছে। পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে ‘সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম’ অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে পদ্মা সেতু রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে। সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, প্রকল্পের মূল চুক্তিপত্রের বিভিন্ন কাজ বাতিল করে সম্পূরক চুক্তির মাধ্যমে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। এতে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেললাইনের এমব্যাংকমেন্ট নির্মাণে নির্ধারিত পাথরের পরিবর্তে কম খরচের ইটের খোয়া ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, এতে ঠিকাদারদের শত শত কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হয়। রমজান আলীর দাবি, এই প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তিও রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঠিকাদারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং এর একটি অংশ অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছে, যেখানে আফজাল হোসেনের সন্তানরা বসবাস করেন। খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনা-মোংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রূপসা সেতু প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমেও অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ‘১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে ডিজি পদ’ রমজান আলীর অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, রেলওয়ের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেতে আফজাল হোসেন প্রায় ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আফজাল হোসেন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, “দুদকের ছাড়পত্র ছাড়াই” তাকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা সরকারি বিধিবিধানের পরিপন্থী। ‘দুর্নীতির সিন্ডিকেট’ পরিচালনার অভিযোগ অভিযোগপত্রে রেলওয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাবশালী দুর্নীতির চক্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। রমজান আলীর ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, টেন্ডার ও সরবরাহ কাজ নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন আদায় করা হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কাজ করে পুরো বিল তুলে নেওয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় বদলের অভিযোগ অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আফজাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পর দ্রুত রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সক্রিয় হন। রমজান আলীর অভিযোগ, “ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান বদলে প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন” আফজাল হোসেন। তদন্ত ও সম্পদ জব্দের দাবি দুদকের কাছে দেওয়া আবেদনে আফজাল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধান, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে অভিযোগকারী বলেন, “রেলওয়েকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।” এই অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে বা আফজাল হোসেনের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগপত্রে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনই চূড়ান্তভাবে বিষয়টির সত্যতা নির্ধারণ করবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তা নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল অর্থসহ নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভুয়া রপ্তানি আদেশ, অতিমূল্যায়িত এলসি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের অভিযোগে নতুন আর্থিক কেলেঙ্কারি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও সামনে এসেছে ভয়াবহ এক অর্থপাচারের অভিযোগ। ভুয়া ও অতিমূল্যায়িত রপ্তানি আদেশ দেখিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা থেকে প্রায় ১০ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৯টি প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলে প্রায় ৯৬ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার বিদেশে সরিয়ে নেয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু ব্যাংকিং অনিয়ম নয়; বরং পরিকল্পিত আর্থিক জালিয়াতি, যেখানে ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত মিলেছে। কীভাবে ঘটেছে অর্থপাচার বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি একটি প্রচলিত ব্যাংকিং সুবিধা। সাধারণত রপ্তানি আদেশের বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য এই সুবিধা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সীমা ভয়াবহভাবে অতিক্রম করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকৃত রপ্তানির তুলনায় ১০০ থেকে ৩৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি মূল্যের এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলসির বড় অংশই ছিল ভুয়া, অতিমূল্যায়িত অথবা প্রকৃত ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশেষভাবে উঠে এসেছে। টোটাল ফ্যাশন মাত্র ৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও তাদের নামে খোলা হয় ২৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের এলসি। অ্যাভান্টি কালার টেক্স প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে নেয় ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এলসি সুবিধা। ডোয়াস-ল্যান্ড অ্যাপারেলস ৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রপ্তানির বিপরীতে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলে। আহোনা নিট কম্পোজিট ও এইচকে অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও অন্তত ২৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানিকৃত কাঁচামাল কোথায় গেল? তদন্তের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হচ্ছে—এলসির বিপরীতে আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য তৈরিতে ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাচারই নয়, ডিউটি ড্র-ব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার অপব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিও দেওয়া হয়েছে। “অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না” ঘটনায় আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দাবি করেছেন, অনেক ব্যবসায়ী জানতেনই না যে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি খোলা হয়েছে। তার অভিযোগ, ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা রপ্তানি আয়ের অর্থ আটকে রেখে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেছেন। এই বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ এতে প্রশ্ন উঠেছে—শুধু ব্যবসায়ী নয়, ব্যাংকের ভেতরেও কি ছিল সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র? তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে এলসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে নারায়ণগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শহীদ হাসান মল্লিক। ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘ সময় একই শাখায় দায়িত্ব পালনের বিধিনিষেধ থাকলেও তিনি টানা প্রায় ১০ বছর ওই শাখায় ছিলেন। এছাড়া আরও ২৪ কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই শাখায় কর্মরত ছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনিয়ম এককভাবে সম্ভব নয়; বরং এতে ব্যাংকের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছিল। তদন্ত শেষ, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালেই তদন্ত শেষ করলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে এসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখার অনুমোদিত ডিলার (এডি) লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব এবং বিভিন্ন চাপের কারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইকবাল পরিবারের হাতেই ছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেন। শুধু লাইসেন্স বাতিলেই কি যথেষ্ট? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব মনে করেন, এই ধরনের জালিয়াতির মূল উদ্দেশ্য সাধারণত নগদ প্রণোদনা ও ভর্তুকির সুবিধা নেওয়া। তার মতে, কেবল একটি শাখার লাইসেন্স বাতিল করে দায় এড়ানো যাবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট আরও গভীর হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুর জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. হেলাল উদ্দিন। সরকারি চাকরির নবম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ও ভাতা মিলিয়ে তার মাসিক আয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই আয়ের বাইরে তিনি ও তার পরিবারের নামে গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ। রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও ও কেরানীগঞ্জে জমি ও ফ্ল্যাটসহ তার মোট সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন অনুসন্ধান, জমির নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। আগারগাঁওয়ে কর্মরত থাকাকালেই সম্পদের বিস্তার হেলাল উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাষানচরে। স্ত্রী শাহিনা পারভীনও একই জেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তারা ঢাকার আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পৈতৃকভাবে তাদের প্রায় ১০৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীতে তার বিপুল সম্পদের বড় অংশ গড়ে ওঠে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকালে। পরে ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর তাকে মাদারীপুরে বদলি করা হয়। জমির পাশাপাশি তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। ঢাকার ছয় এলাকায় জমি নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, হেলাল উদ্দিন নিজের নামে এবং স্ত্রী ও শ্যালকের নামে মোট ৩৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ জমি কিনেছেন। নিজের নামে গুলশান-ভাটারা এলাকায় ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আবাসিক জমি মোহাম্মদপুরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি বাড্ডায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমি শুধু গুলশানের জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মোহাম্মদপুর ও বাড্ডার জমির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। স্ত্রীর নামে ধানমন্ডির রামচন্দ্রপুর-১ মৌজায় ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। যৌথ মালিকানায় তেজগাঁওয়ের গজারিয়া-১ মৌজায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ জমি কিনেছেন হেলাল উদ্দিন। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জের তারানগর মৌজায় শ্যালক হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে যৌথ নামে রয়েছে আরও ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পদের অভিযোগ জমির বাইরে আদাবরের ইবনে সিনা হাউজিং সোসাইটিতে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের নামে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির মূল্য এক কোটি টাকার বেশি। এছাড়া রাজধানীতে আরও কয়েকটি ফ্ল্যাট ও একাধিক মার্কেটে দোকান থাকার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ নথি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সাত ব্যাংক ও ১০ মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হেলাল উদ্দিন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেন হয়েছে অন্তত সাতটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। নিজের নামে রয়েছে: ইসলামী ব্যাংক মার্কেন্টাইল ব্যাংক সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক সিটি ব্যাংক স্ত্রী শাহিনা পারভীনের নামে রয়েছে: পূবালী ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেডে একটি অ্যাকাউন্ট এছাড়া নগদ ও বিকাশের অন্তত ১০টি মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। ‘ঢাকায় আমার এত টাকা নেই’ বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, “মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলা মানা। ঢাকা শহরে আমার এত টাকা নেই। যা আছে, তার ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেওয়া আছে। এর বাইরে কেউ কিছু বললে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” মুখ খুলছে না অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ৪৫ হাজার টাকার চাকরি, রাজধানীতে ৫৯ কোটির সম্পদের পাহাড় পাসপোর্ট কর্মকর্তার নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ গুলশান-ধানমন্ডিতে জমি, ব্যাংকে লেনদেন: প্রশ্নের মুখে পাসপোর্ট কর্মকর্তা সরকারি চাকরি, বিলাসবহুল সম্পদ: কীভাবে গড়ে উঠলো হেলাল উদ্দিনের সাম্রাজ্য? সাত ব্যাংক, ১০ মোবাইল অ্যাকাউন্ট, কোটি টাকার সম্পদ—তদন্তের দাবি
ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন: চারদিক অন্ধকার।কারো মোবাইল বন্ধ।কারো সচল।সচল থাকলেও কল রিসিভ করছেননা।সকল দিক থেকে পাওনাদারদের আওয়াজ।কোন সারা শব্দ নাই।এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে নেই বিদ্যুৎ, নেই পানি।হাহাকার অবস্থা।বেতন -ভাতা বকেয়ার কারনে চলছে কর্ম বিরতি।বন্ধ উৎপাদন।অচলাবস্থায় মালিক পক্ষ ভাড়ায় ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করছেন।তবে কেউ দ্বায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়নি।কারন পাশে বৃহৎ ঔষধ কোম্পানীর ফ্যাক্টরী রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলাবালিতে ওখানের পরিবেশ দুষনের রেট অনেক উচ্চ।পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঘুষ দিয়ে প্রতি বছর অলিম্পিক সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিন কোটি টাকার বেশি বকেয়া, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ: ব্যাগ ফ্যাক্টরীর পর এবার এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ। এরই মাঝে ১৪ মে বেলা ১১ টার দিকে তিন কোটি টাকারও বেশী বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারনে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার। পাওনাদারদের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার পথে।আর্থিক সংকট।অচলাবস্থা ভিতরে ও বাইরে।একে একে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।বিদেশে অর্থপাচার,লুটপাট,অনিয়ম,দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার কারনে শতভাগ সফল হওয়া কোম্পানীটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এই মুহুর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের ৬ কোটি টাকারও বেশী পাওনা রয়েছে।চট্রগ্রামের মেরিন সার্ভিস এ্যান্ড ট্রেডার্স ৫ কোটিরও বেশী টাকা পাওনা রয়েছে। যেসব ডিলার টাকা পাবে : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ডিলার মিখাইল শেখ পাবে ৫০ লাখ টাকা।এ ভাবে মাদারীপুরের ফয়সাল ট্রেডার্স পাবে ৫ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা,মোড়লগঞ্জের হাওলাদার ট্রেডার্স। রাজশাহীর মক্কা ট্রেডার্স ( ট্রাইকন মার্কেটিং) পাবে ৭০ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। আলহাজ্ব আতাউর রহমান পাবে ৩৫০০০ হাজার ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। সাতক্ষীরার আল আমিন এজেন্সি পাবে ১০০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা।কুষ্টিয়ার সালাম এন্ড সন্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। মেহেরপুরের সন্ধ্যা ট্রেডার্স পাবে ৫০০০ ব্যাগ সিমেন্টের টাকা। এভাবে প্রায় শতাধিক ডিলার ও রিটেইলারের থেকে বেশী কমিশনের লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়ে সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। সিমেন্ট দিচ্ছেনা ডিলার ও রিটেইলাদারকে। আবার পাওনা অর্থও দিচ্ছেনা।ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে রিটেইলার ও ডিলাররা। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে টাকা ফেরৎ বা সিমেন্ট কবে দেয়া হবে তা কেউ জানেনা: এ ব্যাপারে এ্যাংকর সিমেন্টের কর্মকর্তা ইমাম ফারুকীর মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা বলেন,যেখানে বিদ্যুৎ বিল দিতে পারছেনা সেখানে কিভাবে অগ্রীম টাকা দেয়া ডিলার, রিটেইলার ও করপোরেট ক্রেতাদের টাকা ফেরৎ দিবে। কবে টাকা ফেরৎ বা টাকার বিনিময়ে সিমেন্ট দেয়া হবে তা কেউ জানেনা। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ইমাম ফারুকী ও দীপংকর এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল জানান, ডিলারদের থেকে দাম বৃদ্ধির কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সিএমও ইমাম ফারুকী, ও আরএসএম দীপংকর।এখন সিমেন্ট এর জন্য কল দিলেও কেউ ডিলারদের ফোন রিসিভ করেনা এবং মার্কেটে না এসে আত্নগোপনে চলে গেছে। কোম্পানীকে কিছু টাকা দিয়ে ইমাম ফারুকী বরিশালে আলিশান বাড়ি ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন। যেসব সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এখনও বকেয়া: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষের নিকট সিফাত পাবে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।এছাড়া এখনো সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাবে তারা হলেন,মোঃ তুহিন শেখ, মেঃ আরিফ আহম্মেদ,মোঃ দেলোয়ার হোসেন,মোঃ এনামুল হক,রফিক,মোঃ মামুন হোসেন,মোঃ মুকিত হাসান,মোঃ মাহফুজর রহমান,মো: মামুন, রিয়াজ খান, মোঃ শাহিন ও মোঃ কামরুল ইসলাম সহ অসংখ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে আর্তনাদে এ ছাড়া একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী শ্রম আদালতে মামলা করলেও কোন সুফল পাচ্ছেননা।বার বার তারিখের গ্যাড়াকলে পরে সাবেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিঃস্ব হয়ে গেছে।তাদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভাড়ি হয়ে উঠেছে। দেশে আছেন তারা: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশে থাকলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও করপোরেট অফিস থেকে বলা হচ্ছে চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বিদেশে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকরা বাংলাদেশেই রয়েছেন বলে বিশ্বস্ত একটি সুত্র নিশ্চিত করেছেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ : দুষনে শীর্ষে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এলাকা অন্যতম দূষিত বাতাসের স্থান। IQAir Barisal ও AccuWeather Barishal-এর প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ২০২৬ সালের মে মাসের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের রুপাতলীর এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও সংলগ্ন শিল্প এলাকায় সিমেন্টের গুঁড়ো এবং গাড়ির ধোঁয়ার কারণে বাতাসে ক্ষতিকর ভাসমান কণা বা PM2.5-এর উপস্থিতি অনেক বেশি।যার কারনে যেসব মানুষের ফুসফুসের সমস্যা বা শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এমন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘসময় এই এলাকায় মাস্ক ছাড়া অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তারা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, আর্থিক জটিলতার কারণে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে কারখানার নিজস্ব নির্গমন কম থাকলেও ধুলাবালির প্রভাব রয়ে গেছে। সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব: রুপাতলীতে এ্যাংকর সিমেন্ট এবং অন্যান্য শিল্পকারখানার কারণে সৃষ্ট বায়ু দূষণের প্রভাব প্রধানত মানবদেহ, স্থানীয় পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্রধান প্রভাবগুলো তুলে ধরা হলো: MDPI +1 ১. মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব (Health Impacts): শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমা: সিমেন্ট উৎপাদনের সময় নির্গত সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা (PM2.5 এবং PM10) বাতাসে মিশে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের মধ্যে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক শ্বাসকষ্টের হার ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। চোখ ও গলার সংক্রমণ: বাতাসের ক্ষতিকর গ্যাসের কারণে চোখ জ্বালাপোড়া করা, অনবরত কাশি এবং গলায় ইনফেকশন বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি: দীর্ঘদিন এই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে। ২. পরিবেশ ও প্রকৃতির ওপর প্রভাব (Environmental Impacts): গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি: বাতাসে ভাসমান সিমেন্টের ডাস্ট ও ছাই আশেপাশের গাছপালার পাতার ওপর আস্তরণ তৈরি করে। এর ফলে উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ (খাদ্য তৈরি) ব্যাহত হয়, গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং ফলন হ্রাস পায়। মাটির গুণাগুণ নষ্ট: ডাস্ট ও ভারী ধাতু বৃষ্টির পানির সাথে মিশে মাটিতে পড়ে। এতে মাটির অম্লতা বা ক্ষারীয় ভাব পরিবর্তিত হয়ে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। MDPI +2 ৩. কীর্তনখোলা নদী ও জলজ জীবনের ওপর প্রভাব: নদীর পানি দূষণ: কারখানার ধোঁয়া ও ডাস্ট সরাসরি বাতাসে ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির মাধ্যমে এবং উড়ন্ত ছাই কীর্তনখোলা নদীর পানিতে পতিত হয়। এতে পানির পিএইচ (pH) লেভেল পরিবর্তন হয়ে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: পানিতে রাসায়নিক ও ডাস্ট কণা দ্রবীভূত হওয়ায় অক্সিজেনের মাত্রা (DO) কমে যায়, যা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবনকে সংকটাপন্ন করে তোলে। MDPI +4 ৪. মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান: মানসিক চাপ ও অস্বস্তি: অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং কারখানার যান্ত্রিক শব্দের কারণে স্থানীয় মানুষের ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক অবসাদ বা অ্যাংজাইটি বৃদ্ধি পায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন বাস্তবায়ন ও কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।পরিবেশগত ছাড়পত্র হালনাগাদ (Updated) এবং ডাস্ট ফিল্টারগুলো শতভাগ সচল রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশালের অফিসকে ঘুষ দিয়ে ছাড়পত্র হালনাগাদের অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন : বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (যা পূর্ববর্তী ১৯৯৭ সালের বিধিমালাকে প্রতিস্থাপন করেছে) অনুযায়ী সিমেন্ট কারখানার মতো লাল শ্রেণীভুক্ত (Red Category) শিল্পের জন্য কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীসহ এ জাতীয় ভারী শিল্পের দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান আইন ও নিয়মাবলী নিচে দেওয়া হলো: ১. পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance Certificate - ECC): বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র: যেকোনো সিমেন্ট কারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) অনুমোদন এবং অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। নবায়ন: প্রতি বছর এই ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নবায়ন করতে হয়। ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। ২. তরল বর্জ্য ও ইটিপি (Effluent Treatment Plant) স্থাপন: বাধ্যতামূলক ইটিপি: কারখানার ধোঁয়া বা ওয়াশিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি তরল বর্জ্য সরাসরি কীর্তনখোলা নদী বা বাইরের কোনো জলাশয়ে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পানি শোধন: কারখানায় নিজস্ব ইটিপি (ETP) থাকতে হবে এবং শোধন করা পানির মান পরিবেশ অধিদপ্তর নির্ধারিত প্যারামিটারের মধ্যে থাকতে হবে। ৩. বায়ু দূষণ ও ডাস্ট কন্ট্রোল (Air Emission Standards): অনলাইন মনিটরিং: কারখানার চিমনি বা ক্লিংকার ক্রাশিং ইউনিট থেকে নির্গত ধোঁয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে অনলাইন কন্টিনিউয়াস এমিশন মনিটরিং সিস্টেম (OCEMS) চালু রাখার নিয়ম রয়েছে। ডাস্ট কালেক্টর: কারখানায় আধুনিক 'ব্যাগ ফিল্টার' (Bag Filter) বা 'ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর' (ESP) ব্যবহার করতে হবে, যেন বাতাসে সিমেন্টের সূক্ষ্ম ডাস্ট কণা ছড়াতে না পারে। মুক্ত ডাস্ট ছড়ানো নিষিদ্ধ: কাঁচামাল আনলোড বা লোড করার সময় জেটি বা নদী তীরে কোনো উপাদান বাতাসে উড়তে পারবে না। ৪. শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা: সিমেন্ট কারখানার ভারী যন্ত্রপাতির শব্দ দিনের বেলা ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। ৫. আইন অমান্যের শাস্তি ও জরিমানা: কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: আইন লঙ্ঘন করে পরিবেশের ক্ষতি করলে বা ছাড়পত্র ছাড়া কারখানা চালালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। ক্ষতিপূরণ (Compensation): পরিবেশের ক্ষতি করলে পরিবেশ অধিদপ্তর নিজস্ব মেজিস্ট্রেটের মাধ্যমে শুনানির আয়োজন করে কারখানাকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা করতে পারে এবং কারখানার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আদেশ দিতে পারে। খোজ নিয়ে জানা গেছে,এ্যাংকর সিমেন্টের ধুলা কনায় বায়ু মারাত্মকভাবে দুষিত হলেও বরিশালের পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চুপ রয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ৬ মাস আগে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে অভিযান পরিচালনা করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীটি ভাড়া বা বিক্রির জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে পরিবেশগত ঝুঁকি ও আর্থিক দায়ের কারণে কেউ দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের অবস্থান নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের বিদেশে থাকার কথা বলা হলেও একাধিক সূত্র দাবি করছে, তারা দেশেই অবস্থান করছেন। সব মিলিয়ে, একসময় সফল শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এ্যাংকর সিমেন্ট এখন টিকে থাকার কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট বন্ধের শঙ্কা: ভ্যাট ফাঁকি, বেতন বকেয়া ও হাজার কোটি টাকার আর্থিক সংকটের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ অনলাইন : বরিশালের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের করপোরেট অফিস বরিশালের কাঠপট্টিতে এবং রুপাতলীতে এ্যংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে শত শত লোক জড়ো হচ্ছেন।এদের মধ্যে রয়েছেন সিমেন্টের জন্য অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতা,মাল বহনকারী জাহাজ মালিকসহ বিভিন্ন ধরনের পাওনাদাররা।এ ছাড়া রয়েছেন সিমেন্ট বানানোর উপাদান বিক্রেতারা।সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থতির মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক ঋণের চাপ বাড়ছে এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লি.অলিম্পিক ফাইবার লি.অলিম্পিক শিপিং লাইনস লি. এ লগ্নিকারী ব্যাংকগুলো ঋন আদায়ের জন্য চাপ সৃস্টি করেছেন। ইসলামী ব্যাংক,ন্যাশনাল ব্যাংক,মার্কেন্টাইল ব্যাংক,এনসিসি ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা সুত্রে জানা গেছে, তারা ঋনের কিস্তি আদায়ের জন্য প্রতিনিয়ত ধর্না দিলেও এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ঋন পরিশোধ করছেনা। এছাড়া ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথেও স্বাক্ষাৎ করছেননা। এমনকি কল দিলেও রিসিভ না করার অভিযোগ করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। কর্ম বিরতি,উপাদান না থাকার ফলে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন না দেয়ার কারনের কর্ম বিরতি এবং সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার,লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপশাস,ফ্লাই এ্যাশ না থাকার ফলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ব্যাগ ফ্যাক্টরী। ‘৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি’ অভিযোগ এদিকে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : ৮০ হাজার টন ক্লিংকার উধাও।লুটপাট ও অর্থ-পাচারের কারনে স্থায়ী ভাবে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। এ্যাংকর সিমেন্টের সাবেক স্টাফ মোঃ মোশাররফ হোসেন খান এক আবেগপুর্ন স্ট্যাটাস দিয়েছেন,তিনি লিখেছেন " অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা/ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মোঃ মজিবুর রহমান খান সাহেবের মৃত্যুর পর তার আস্থাভাজন ফ্যাক্টরি বান্ধব নিরলস ভাবে নিজের মনে করে কাজ করা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছাটাই এর অভিশাপ লেগেছে। ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরটা আমাদের দক্ষিণ অঞ্চল অর্থাৎ বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের জন্য একটা বড় ধরনের দুঃসংবাদ। এই ফ্যাক্টরিতে কাজ করে কয়েক হাজার লোকের রুজি রোজগারের মাধ্যম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে ফ্যাক্টরিতে কাজ করা সকল পুরাতন স্টাফ আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তিনি আরো লিখেন একটি কমেন্টে সেটি হলো " মানুষের অভিশাপ লাগছে। সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সিওও দিয়া ফস্টি নস্টি করে এত বড় একটা ফ্যাক্টরি চালানো খুবই অসম্ভব। মো: মজিবুর রহমান খান ও আব্দুর রব শাহিন সাহেবদের হাতে তিল তিল করে গড়ে ওঠা দক্ষিণ অঞ্চলের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐ যে একটা কথা বলে রানিং ফ্যাক্টরি বন্ধ হইত ও সময় লাগে। তাই ওনাদের রানিং ফ্যাক্টরির সেই রেস শেষ হয়ে গেছে। আরও পড়ুন: এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ ইত্তেহাদ নিউজের পোস্টে করা উল্লেখযোগ্য কমেন্ট প্রকাশ করা হলো- সৈয়দ এমডি মহসিন নামে তিনি কমেন্ট করেছ তিনি কমেন্টে লিখেন, সিওওকে আটক করা হোক এবং ফারুকী কে। তিনি কমেন্ট আরো লিখেন,সবাই আওয়াজ তুলুন,পুরবে যারা পরিশ্রম করেছেন দয়া করে রাস্তায় নামুন, মিলটিকে রক্ষা করুন। এছাড়া সাংবাদিক জুয়েল সরকার কমেন্ট লিখেন,দুই নাম্বারি মাল কামানো ছাড়া কেউ নাম কামাইতে পারে নাই। সাইফুল ইসলাম নামে একজন উল্লেখ করেন,এই ফ্যাক্টরি সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য যে সমস্ত যোগ্য পরিচালক বা সিওওগণ ছিলেন তাদেরকে তো সরিয়ে দেওয়া হইছে। পাবেল মাহিম নামে একজন কমেন্টে উল্লেখ করেন- (১)আসলে বলতে অনেক কষ্ট লাগে কিন্তু এই দিনটা দেখার জন্য খুব অপেক্ষায় ছিলাম। অত্র এই প্রতিষ্ঠানে আমার বাবা আমার বড় ভাই এবং আমি নিজে শুনামের সাথে চেষ্টা করেছি চাকরি করার জন্য। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতী চক্র মাহবুব , হেমায়েত উদ্দিন, আহসানুল্লাহ কাঠপট্টি অফিসের মাহবুবুর রহমান, এবং ফোরমান আয়নাল শেখ। এদের লক্ষ্য ছিল এই কোম্পানিকে ধ্বংস করা। এই কোম্পানির টাকা চুরি না করেও চুরির দায় নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল জানে আলম শুধু এই পাঁচটি লোকের কারণে কারণ জানে আলম চোর চিনে ফেলেছিল। তাই তাকে মিথ্যা ভাউচারে সই নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।এই সিন্ডিকেটের হোতা মাহবুবকে নাকি কোম্পানির মাধ্যমে আবার হজেও পাঠাচ্ছে।এই কোম্পানি এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব একমাত্র শাহিন সাহেবকে দরকার। (২)এই কোম্পানির অধঃপতনের জন্য একমাত্র দায়ী সিওও।পূর্বে যখন শাহীন সাহেবের দায়িত্ব ছিল তখন কোম্পানিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার ব্যাগ উৎপাদ করার সক্ষমতা ছিল। শাহিন সাহেব যাওয়ার পরেই এই সিওওর নিয়োগ হয়। মজিবর সাহেবের তিলে তিলে গড়া ফ্যাক্টরি আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে থাকে। এই কোম্পানিতে বর্তমানে যারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আছেন সর্বনিম্ন ফোর মেন পর্যন্ত সব চোর কোম্পানিকে লুটেপুটে খাওয়াটাই তাদের মূল পেশা। পোড়া রোডের মাছ বিক্রেতা আয়নাল শেখ এংকর সিমেন্ট এসে চাকরি করে আজ বাড়ি গাড়ির মালিক। সামান্য ওয়ার্কশপ ফোরম্যান যদি বাড়ি গাড়ির মালিক হয়। আমার মনে হয় অন্য কর্মকর্তারা বিদেশে বাড়ি করেছে। এছাড়া কামরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, আমি ও ৬০ হাজার টাকা পাবো অলিম্পক সিমেন্ট কোম্পানির কাছে । আমি আল্লাহ্ কাছে বিচার দিয়েছি আমার কষ্টের টাকা । সাইফ সুমন নামে এক ব্যক্তি কমেন্ট করেছেন, " সবগুলা চোর, পিএস থেকে শুরু করে যে কয়টা আছে বড় দায়িত্বে।" (১)" বর্তমানে যে কয়টা আছে সব বাটপার। যে কোম্পানির মালিককে বিয়ে করতে চায় তাকে দিয়ে কোম্পানির সকল দায়িত্ব পালন করায় মালিক তখন বুঝতে হবে এর মধ্যে সমস্যা আছে।" (২) এরা চোর ঠকবাজ কর্মচারী দের পাওনা টাকা মেরে এরা বড় হয়েছে এরা ওজনে কম দেয় সিমেন্টে নিম্ন মানের ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করে। শত শত ডিলার এদের কাছে টাকা পাবে দাম বৃদ্ধির কথা বলে টাকা নিয়ে এখন সিমেন্ট দিচ্ছে না। পাওনাদারদের অনিশ্চয়তা ডিলার ও শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পাওনা টাকা নিয়ে। অনেকেই দাবি করছেন, দাম বৃদ্ধির আশ্বাসে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হলেও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর কাজ করেও এখন বেতন ও পাওনা বুঝে পাচ্ছেন না। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিল্পখাতের জন্য সতর্কবার্তা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরিশাল অঞ্চলে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত। এ্যাংকর সিমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে শুধু শ্রমিক নয়, পরিবহন, সরবরাহ ও স্থানীয় ব্যবসায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আর্থিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্টে ধস: হাজারো শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ভ্যাট ফাঁকি ও ঋণচাপে বন্ধের পথে এ্যাংকর সিমেন্ট! পাওনাদারদের ভিড়ে অচল এ্যাংকর সিমেন্ট কারখানা বেতন বন্ধ, উৎপাদন বন্ধ: কী হচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্টে? দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পখাতে বড় ধাক্কা, সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট ৮০ হাজার টন ক্লিংকার উধাও? এ্যাংকর সিমেন্ট ঘিরে চাঞ্চল্য অলিম্পিক সিমেন্টে আর্থিক বিপর্যয়, উদ্বিগ্ন ব্যাংক ও শ্রমিকরা ‘দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংস’— এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ ডিলারদের কোটি কোটি টাকা আটকে, বন্ধের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট বরিশালের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সংকট, তদন্ত দাবি বিভিন্ন মহলের আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। ইত্তেহাদ নিউজ মানে সব সময় আপডেট খবর। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে।সাথেই থাকুন : https://etihad.news
বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজিং বিভাগ: অভিযোগ, অনিয়ম ও এক প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে ঘিরে বিতর্ক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যা টেন্ডার, নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগে বলা হচ্ছে, নদী খনন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। নদী খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, ক্যাপিটাল ড্রেজিংসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ না করেই কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে ভোগাই ও কংস নদ খনন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্রের দাবি, ড্রেজিং বিভাগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যা দরপত্র প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বদলিতে প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থানকারী কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বা পদোন্নতিতে বাধার মুখে পড়ছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি হয়নি। তবে দুদকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চাকরি ও সনদ নিয়ে অভিযোগ আরেকটি অভিযোগে বলা হচ্ছে, চাকরির পূর্ববর্তী তথ্য গোপন করে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে এ অভিযোগও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকলেও, এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও প্রকাশ্য জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিএডিসিতে ‘বীজ সিন্ডিকেট’: ক্ষমতার ছায়ায় কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর বীজ বিভাগকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আলু বীজ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মোঃ নুরুল ইসলাম এবং তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার দে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন প্রকল্প, টেন্ডার, নিয়োগ এবং বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন। যদিও এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনও আদালত বা সরকারি তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। প্রভাবশালী মহলের ‘ঘনিষ্ঠ’ পরিচয় বিএডিসির একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নুরুল ইসলাম নিজেকে একজন নিরীহ ও সজ্জন কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করলেও ভেতরে তিনি ছিলেন একটি শক্তিশালী দুর্নীতি চক্রের অন্যতম সংগঠক। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সাবেক কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার-এর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বীজ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ডাল ও তৈলবীজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) থাকাকালে বিভিন্ন কেনাকাটা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বীজ সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। ‘সিন্ডিকেট’ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ বিএডিসির অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলামের অন্যতম আশ্রয়দাতা ছিলেন তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার দে। অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাজ্জাদুল হাসান-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ধান, গম ও ভুট্টা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, এজিএম বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগ এবং মহাব্যবস্থাপক (বীজ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রদীপ কুমার দের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরীক্ষা বিভাগের অডিট আপত্তিও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসির বীজ বিভাগে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্প বরাদ্দ এবং পদায়নে প্রভাব বিস্তার করত। মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের। আলু বীজ সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাজশাহীতে বিএডিসির আলু বীজ সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক আবুল খায়ের মোঃ নুরুল ইসলাম নিজেই একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, যেসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তার নিজের বিভাগের কার্যক্রম রয়েছে, সেখানে তদন্ত প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, রাজধানীর উত্তরা ও বনানীতে তার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানজুড়ে নানা আলোচনা রয়েছে। বনানীতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এবং সন্তানদের সেখানে পড়াশোনার বিষয়টিও কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এসব তথ্যের স্বাধীন ও সরকারি যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে প্রদীপ কুমার দের বিরুদ্ধেও মিরপুর ও পল্লবীতে একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং ফেনীতে একটি এগ্রো ফার্ম থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও প্রকাশ হয়নি। অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা? বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, নুরুল ইসলাম গণমাধ্যমে অনিয়মের তথ্য প্রকাশের আশঙ্কা দেখা দিলে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিষয়গুলো ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করতেন। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা বহু অভিযোগ তদন্তের আগেই চাপা পড়ে যায় বলে দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি। স্বচ্ছ তদন্তের দাবি বিএডিসির সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মনে করেন, প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নুরুল ইসলাম, প্রদীপ কুমার দে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তাদের আশঙ্কা, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত না হলে কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, বীজ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের ওপর জনআস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নরসিংদীর কান্দাইল মৌজায় রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই “পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী” নামে একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে ল্যান্ড ডেভেলোপার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক হাজার একর জমি জবরদখল করে গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে সরকারি খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট করা হয়েছে অবৈধভাবে। প্রকল্পটির বিরুদ্ধে জলাধার সংরক্ষণ আইনে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। আদালত প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সেই নির্দেশ অমান্য করে প্রকল্প সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান মফিজ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রের সকল নিয়ম-কানুন মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।” অন্যদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আমার জানামতে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী একটি অবৈধ আবাসন প্রকল্প। এতে রাজউকের কোনো অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানটিকে সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি খাল, জলাশয় ও তিন ফসলি জমি ভরাটের দায়ে প্রকল্প এলাকায় একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ড এবং জলাধার আইনে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বাচল প্রবাসী পল্লীর চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখল, বালু ভরাট এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তারা রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। বরং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট মৌজায় এককভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের অধিকার তাদের রয়েছে। এ রিটের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে উকিল নোটিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ব্যারিস্টার আক্তার-উল-আলম বলেন, “উচ্চ আদালতের আদেশের অপব্যবহার এবং আদালত অবমাননার শামিল এমন কর্মকাণ্ড। কোনো ব্যক্তি বিশেষের এককভাবে পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।” সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় চক্র স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছু সময় আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তারা পুনরায় জমি দখল ও ভরাট কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি মাধবদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় প্রশাসনকে প্রবাসী পল্লীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তার অনুরোধ জানানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে পুনরায় উল্লেখ করা হয় রিট পিটিশন নং ৬১২৯/২০১১। এছাড়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারার একটি তদন্তে অভিযোগ ওঠে, স্বল্প পরিমাণ জমি ক্রয়ের বিপরীতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্লট বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের ঘটনা ঘটেছে। আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ গত ২ অক্টোবর ২০২৪ দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা নং ১২১/২০২৪-এ নরসিংদীর সদর সহকারী জজ আদালত কান্দাইল মৌজার বিতর্কিত জমিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো সেখানে বালু ভরাট ও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা ফসলি জমি বালু ফেলে ভরাট করায় এক সময়ের উর্বর কৃষি অঞ্চল এখন ধূধূ বালুচরে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের দুর্দশা কান্দাইল গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা রতন মিয়া, মানিক ও সাইদুল ইসলাম জানান, একসময় এ এলাকায় ধান, গম, পাট, শাক-সবজি ও নানা কৃষিপণ্যের সমৃদ্ধ উৎপাদন ছিল। এখন সেখানে ফসল জন্মায় না। ফলে শত শত কৃষক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, “একাধিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও এই শক্তিশালী ভূমিদস্যু চক্রকে থামানো যায়নি। হাজার হাজার প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।” ভুক্তভোগী হারুন মিয়া জানান, “অনেক প্রবাসী গ্রাহক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করেও বছরের পর বছর প্লট বুঝে পাননি। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুবরণ করেছেন।” স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষকদের কাছ থেকে অস্থায়ীভাবে জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্লট বিক্রির নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও কালো টাকা বিনিয়োগের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকল্পটির সঙ্গে সাবেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির বিনিয়োগ রয়েছে এ প্রকল্পে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় ১৭ বছর ধরে “প্রবাসী পল্লী” প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় বিতরণ সংস্থা ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড–এর একটি জিটুজি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) প্রকল্পকে ঘিরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, অনিয়ম, অতিমূল্য নির্ধারণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নাম। দুদক সূত্র বলছে, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব অনিয়মের পেছনে ডিপিডিসির ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। সেই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উঠে এসেছে মোরশেদ আলম খানের নাম। দুদকের চিঠি ও নথি গোপনের অভিযোগ গত ২৩ এপ্রিল দুদক ডিপিডিসিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা দিতে বলে। চিঠিতে বিদেশি ও দেশি ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত মূল ও সংশোধিত চুক্তিপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, আর্থিক বিবরণী, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পেমেন্ট ভাউচার এবং ক্রয়সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিপিডিসি পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে তথ্য গোপনের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার প্রক্রিয়া ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের পরিবর্তে পূর্বনির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, প্রকৌশল বিভাগে মোরশেদ আলম খানের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে আর কোনটি বাদ পড়বে—তা অনেকাংশেই নির্ধারিত হতো তার সিদ্ধান্তে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের জন্য টেন্ডারের শর্তও বিশেষভাবে সাজানো হয়েছিল। বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওভার ইনভয়েসিং ও অর্থ পাচারের সন্দেহ তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দাম দেখানো হয়েছে। অনুসন্ধানকারীরা ধারণা করছেন, ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু প্রকল্পটি জিটুজিভিত্তিক, তাই আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সুযোগ ব্যবহার করে অর্থ পাচারের পথ সহজ করা হয়েছিল বলেও সন্দেহ করছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পে যেসব সরঞ্জাম আমদানির দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর পরিমাণ ছিল অনেক কম। আবার কিছু যন্ত্রপাতির মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অথচ বিল পরিশোধ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের দামে। মাঠপর্যায়ে মিলেনি প্রকল্পের কাজ দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। প্রকল্পের কিছু কাজ কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ের তদন্তে কোথাও সাবস্টেশন নির্মাণ অসম্পূর্ণ, কোথাও বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন হয়নি, আবার কোথাও যন্ত্রপাতি স্থাপনের তথ্য থাকলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। কিন্তু এসব কাজের বিপরীতে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ভুয়া বিল-ভাউচার ও জাল নথিপত্র ব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। “অদৃশ্য বলয়” ও ক্ষমতার নেটওয়ার্ক ডিপিডিসির একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৌশল বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেছিলেন মোরশেদ আলম খান। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তার অনুমোদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হতো না। বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, ডিপিডিসিতে একটি “অদৃশ্য বলয়” তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার মিলে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল, যার মাধ্যমে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রিত হতো। ব্যক্তিগত সম্পদও তদন্তের আওতায় দুদক এখন শুধু প্রকল্প দুর্নীতিই নয়, মোরশেদ আলম খানের ব্যক্তিগত সম্পদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা তার ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিদেশ সফর, পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করছেন। আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনকে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের বিল ছাড়ের সময়ের সঙ্গে কিছু আর্থিক লেনদেনের মিল পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা বিদ্যুৎ খাত বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সেবার মান সেই অনুপাতে উন্নত হয়নি। বরং একই ধরনের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ বহুদিনের। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জিটুজি প্রকল্পে অনেক সময় স্বচ্ছতা কম থাকে। কারণ সরকার-টু-সরকার চুক্তির আড়ালে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ডিপিডিসির প্রকল্পেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। “ভিন্নমত দমন” ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ডিপিডিসির একাধিক সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললে কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক চাপ ও বদলির মুখে পড়তে হতো। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিয়ম দেখেও নীরব থাকতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কী বলছে দুদক দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে এবং তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় সতর্কবার্তা বিশ্লেষকদের মতে, ডিপিডিসির ২১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতের শাসনব্যবস্থা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাদের মতে, শুধু তদন্ত করলেই হবে না—প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। নইলে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির এই চক্র থামানো কঠিন হবে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলন, বন্ধ টিকাদান—তারপরই ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব : ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি: কীভাবে ৪০৯ শিশুমৃত্যুর পথে গেল বাংলাদেশ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ৫৬ জেলায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হঠাৎ এই পরিস্থিতির পেছনে কোনো অবহেলা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরুর আগেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণকে সামনে আনছেন— করোনা মহামারির সময় টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গত পাঁচ বছরে জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন না হওয়া, স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে মাঠপর্যায়ের টিকাদান বন্ধ থাকা এবং এক বছর ধরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন স্থগিত থাকা। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এসব কারণ মিলেই দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি করেছে, যার ফল এখন প্রাণঘাতী আকারে সামনে এসেছে। টিকা ছিল, কিন্তু ক্যাম্পেইন হয়নি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইপিআই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামের এমআর টিকার কখনও বড় ধরনের সংকট ছিল না। বরং চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের টিকাও দেশে পৌঁছেছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তাদের দাবি, টিকা হাতে থাকার পরও কয়েক দফায় পরিকল্পনা বদলানো হয়। প্রথমে টাইফয়েড টিকা ক্যাম্পেইন, পরে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, এরপর জাতীয় নির্বাচন—সব মিলিয়ে হামের জাতীয় ক্যাম্পেইন বারবার পিছিয়ে যায়। ফলে, যে বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হওয়ার কথা ছিল, সেটি শেষ পর্যন্ত শুরু হয় চলতি বছরের ২০ এপ্রিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ছড়িয়ে পড়ে। জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ড. তাজুল ইসলাম বারী বলেন, “২০২১ সালের পর আর জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের বড় একটি অংশ জমতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে আসা টিকা দিয়ে যদি দ্রুত ক্যাম্পেইন করা যেত, তাহলে হয়তো এত বড় আউটব্রেক এড়ানো সম্ভব হতো।” কাগজে উচ্চ কভারেজ, বাস্তবে বড় ঘাটতি? সরকারি তথ্যের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে অসামঞ্জস্য। ২০২৩ সালের কভারেজ মূল্যায়ন সমীক্ষা অনুযায়ী, এমআর-১ টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৮.৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশে। একই সময়ে এমআর-২ কভারেজ ৮৯ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৮০.৭ শতাংশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের অর্থ হলো লাখ লাখ শিশু কার্যত হামের ঝুঁকিতে থেকে গেছে। তবে ইপিআইয়ের আরেক সেট তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪ সালে রুটিন এমআর টিকার কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি। এমনকি ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেও এমআর-১ কভারেজ ৯৭.৯৬ শতাংশ এবং এমআর-২ কভারেজ ৯৫.৬৭ শতাংশ দেখানো হয়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ এমআর-১ কভারেজ নেমে আসে ২৭.৭৬ শতাংশে এবং এমআর-২ হয় ২৬.৭৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হঠাৎ পতনই আউটব্রেকের বিস্ফোরণ ঘটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনে থেমে যায় মাঠপর্যায়ের টিকাদান দেশব্যাপী প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, নিয়োগবিধি সংশোধন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। ২০২৫ সালে অন্তত তিন দফা কর্মসূচি পালন করেন তারা। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ডিসেম্বর মাসে, যখন প্রায় পুরো মাসজুড়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা বলেন, “ডিসেম্বরজুড়ে আমরা আন্দোলনে ছিলাম। অস্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিছু স্থায়ী কেন্দ্রে সীমিত টিকাদান চলেছে।” ইপিআইয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময় টিকাদান কার্যক্রমে “গ্যাপ” তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “ইপিআই থেকে টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি হয়নি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুদের বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে যায়।” পাঁচ বছর বন্ধ ছিল জাতীয় ক্যাম্পেইন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এবং শেষ হয় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নতুন ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুটিন টিকাদানে বাদ পড়া শিশুদের জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে কভার করার কথা। কিন্তু টানা প্রায় পাঁচ বছর এমন ক্যাম্পেইন না হওয়ায় লাখ লাখ শিশু ঝুঁকির মধ্যে জমা হতে থাকে। এটিকেই তারা “পুঞ্জীভূত ইমিউনিটি গ্যাপ” হিসেবে বর্ণনা করছেন। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকাও বাড়িয়েছে মৃত্যুঝুঁকি রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম নিজে যতটা বিপজ্জনক, তার চেয়েও মারাত্মক হয়ে ওঠে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়ার সঙ্গে মিলিত হলে। বাংলাদেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বছরে দুবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সর্বশেষ ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এরপর আর কোনো জাতীয় কর্মসূচি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় অপুষ্ট শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত জটিলতায় পড়েছে। তদন্তের মুখে স্বাস্থ্যব্যবস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে বড় সংখ্যক শিশু টিকা কাভারেজের বাইরে ছিল। জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইইডিসিআরকে গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।” তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন আরও গভীর। যখন টিকা দেশে ছিল, তখন কেন ক্যাম্পেইন পিছিয়েছে? স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন সমাধান করা যায়নি? কেন টিকাদান কাভারেজের সরকারি তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলো? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ৪০৯ শিশুমৃত্যু কি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল? সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজ অবস্থান বদল, বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা প্রদান, সবুজ পাসপোর্ট ইস্যু এবং ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়ম—সব মিলিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে তাকে নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারের পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তন করেছেন এই কর্মকর্তা। কখনও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ, কখনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক, আবার বর্তমানে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার দিনের মাথায় তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে পাসপোর্ট অধিদপ্তর পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের ভেতরে তখন তাকে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা হিসেবেই দেখা হতো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন অবস্থান তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দ্রুত অবস্থান বদলের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশের কৌশল হিসেবে তিনি এ যোগাযোগ জোরদার করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর আবারও রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী জেনারেল হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও সূত্রগুলো জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত সমর্থিত ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আবদুল বাতেনকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন ডিজি নূরুল আনোয়ার। ওই বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও পরে রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বহাল রাখার অভিযোগ ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের পরও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ডিজি নূরুল আনোয়ারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও প্রভাবের কারণেই এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের অন্যান্য দপ্তরে পরিবর্তন এলেও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সেই পরিবর্তনের প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। সবুজ পাসপোর্ট বিতর্ক জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ডিজি নূরুল আনোয়ারের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে পাসপোর্টের জন্য আঙুলের ছাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ডিজির নির্দেশে। একইভাবে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম এবং ঢাকার সাবেক এক পুলিশ কমিশনারকেও বিশেষ সুবিধায় সবুজ পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিতর্কিত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বহু ব্যক্তিকে কূটনৈতিক সুবিধাসংবলিত পাসপোর্ট প্রদান করে বিদেশ যেতে সহায়তা করা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ই-পাসপোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে। সূত্র বলছে, শুরুতে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প হিসেবে নেওয়া ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের ব্যয় পরে বাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি, সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপে অস্বচ্ছতার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ডিজির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পে একটি প্রভাবশালী চক্র কাজ করেছে। যোগাযোগের চেষ্টা এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
▪️বেতন ভাতা বকেয়ার কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতি। ▪️সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ, মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন। ▪️ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ, * সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কীর্তনখোলার কোল ঘেষে ২০০২ সালে নির্মিত হয়েছিল খানসন্স গ্রুপের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী।পাঁচটি ব্রান্ডের সিমেন্ট তৈরী হতো এখানে। দিন রাত মেশিনের শব্দে জাগ্রত ছিল শতভাগ সফল হওয়া এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরী। তিন মাসের বেতন বকেয়া, উৎপাদন কার্যত বন্ধ বর্তমানে বেতন ও ঈদুল ফিতরের বেতন বোনাসসহ তিন মাসের বেতন বকেয়া। অথচ ঈদুল আজহা আসন্ন। অতিরিক্ত কাজের সম্মানীও বকেয়ারফলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম বিরতির কারনে ফ্যাক্টরীর স্বাভাবিক কর্ম বন্ধ। যার কারনে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ‘৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার উধাও’: ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যক্টরীতে স্টক রেজিষ্টারে ৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার জমা থাকলেও বাস্তবে কোথাও নেই এই ক্লিংকারের হিসেব।এ্যাংকর সিমেন্ট লিমিটেডের ভ্যাট কর্মকর্তা মোস্তফা জানান,ক্লিংকার যা ছিল তা দিয়ে সিমেন্ট তৈরী করা হয়েছে। এ্যাংকর সিমেন্ট এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,৮০ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার দিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬৭ ব্যাগ সিমেন্ট তৈরী করে ডুপ্লিকেট মুসক চালানের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে শুধু ক্লিংকার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা এছাড়া লাইমস্টোন, জিপসাম, স্লাগ ও ফ্লাই এ্যাশ থেকে আরো ২০ কোটি টাকাসহ মোট ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বরিশালের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট সাজ্জাদুল আলম বলেন,আমরা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সুত্র জানিয়েছে, ভ্যাট বিভাগে মাসে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ করা হচ্ছে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য। যে কারনে বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী : অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান এ্যাংকর সিমেন্ট বানানোর উপাদান ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্লাগ,জিপসাম আমদানীর নামে ব্যাংকে এলসি ভ্যালু বাড়িয়ে আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে দুবাইতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান,ও ডুপ্লেক্স বাড়ি, যুক্তরাজ্যে ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্লাট, আমেরিকায় বাড়ি ক্রয় করেছেন। দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, কিভাবে দুবাই, আমেরিকা ও লন্ডনে দোকান বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন তার হিসেব জানতে চাওয়া হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ গেল। কত টাকা বৈধ ভাবে এবং কত টাকা অবৈধভাপে পাচার করা হয়েছে তার অনসন্ধান করে দুদক প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অবৈধ ভাবে টাকা পাচার করেছে।ফলে দুদক ইতিমধ্যে নোটিশ প্রদান করেছে। লুটপাট ও অর্থপাচারের কারনের ফলে অর্থাভাবের কারনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ ও সিমেন্ট তৈরীর প্রধান উপাদানগুলো ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারন ও ব্যাংকের ঋন ও পাওনাদারদের দেনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারনে বর্তমানে ব্যাগ ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে বর্তমানে। যে কারনে কর্মবিরতী: শ্রমিক বিক্ষোভে অবরুদ্ধ সিওও সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া ও অবরুদ্ধ,মুচলেকা, অবশেষে উদ্ধার করলো প্রশাসন----- পহেলা মে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মে দিবসে শ্রমিকদের সম্মানে বলেছিল "মহান মে দিবস, শ্রমিকদের প্রতি অটুট থাকুক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা " অথচ এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের শ্রমিকদের প্রতি নেই কেন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। মে মাসেও তাদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে ১০ মে বিকেলে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে সিওও শাহেদ উদ্দিনকে ধাওয়া দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দৌড়ে ফ্যাক্টরীর ভিতরে থাকা অফিসে আশ্রয় নেন। শ্রমিকরা অফিস গেটে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।পরে পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন। এসময় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাহেদ উদ্দিন বেতন ভাতা আগামী ২০ মে এর মধ্যে পরিশোধ করার মুচলেকা প্রদান করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ব্যাপারে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন,আমরা বেতন-ভাতা আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। তিনি মুচলেকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বেতন -ভাতা না দেয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে। অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ: অনিশ্চয়তায় শ্রমিকেরা অলিম্পিক ফাইবার লি. এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ থেকে।ব্যাগ ফ্যাক্টরী সম্পর্কে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম বলেন, ৫ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছিল। পুনরায় ২০ মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরীও।গতকাল ১০/১২ বছর ধরে কাজ করা অসহায় মহিলা কর্মচারীরা কান্নায় ভেড্গে পরেন তাদের পাওনা দাওনার কি হবে? অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার, রিটেইলার, করপোরেট ক্রেতারা ক্ষুব্ধ:পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী ও ব্যাগ ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার ফলে সিমেন্ট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ফলে বিপাকে পড়েছেন সিমেন্টের অগ্রীম বিল দেয়া ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা। তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এদিকে ডিলার,রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতাদের সিমেন্ট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সিএমও ইমাম ফারুকী। এ ব্যাপারে ইমাম ফারুকীকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ইয়াসমিন নিলা কমিশনের টাকা বাগিয়ে নেয়ার স্বেচ্চাচারিতায় সকল ডিলার ও রিটেইলারদের বঞ্চিত করে তার ভাই রাসেলকে এককভাবে সিমেন্ট সরবরাহের কারনে অন্যরা বঞ্চিত সিমেন্ট পাওয়া থেকে।ফলে ডিলার, রিটেইলার,করপোরেট ক্রেতারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।ফলশ্রুতিতে ডিলার, রিটেইলাররা অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে।মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট থেকে। ফলে এ্যাংকর সিমেন্টের মার্কেটে বিশাল ধ্বস নেমেছে। মান নিয়েও প্রশ্ন এ্যাংকর সিমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরে সিমেন্টের সর্বোচ্চ মান, সঠিক ওজন, সাশ্রয়ী মূল্য, দ্রুত পরিবহন, বিক্রোয়ত্তর সেবা সবকিছু নিয়ে ক্রেতার আস্থা অর্জন করলেও এখন আস্থা সম্পুর্ন বিপরীতমুখী। এ্যাংকর সিমেন্ট কমানো হয়েছে প্রধান উপাদান ক্লিংকার।একই ভাবে কম দেয়া হচ্ছে লাইমস্টোন,স্লাগ,জিপসাম।ফ্লাই এ্যাশের পরিমান বাড়ানোর ফলে কমে গেছে এ্যাংকর সিমেন্টের গুনগতমান। আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন। ▪️ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড। ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন ব্যাংকের পরিমান কত?। ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে.....
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রেশন (ডিআইজিআর) আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে এবং বেনামে ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, জমি, বিলাসবহুল গাড়ি ও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আরও কয়েকটি সংস্থা প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। ‘রেজিস্ট্রি সিন্ডিকেট’ ঘিরে অভিযোগ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে আশরাফুজ্জামান বিপুল আর্থিক প্রভাব গড়ে তোলেন। বিশেষ করে জমি রেজিস্ট্রেশন, দলিল যাচাই, মূল্য নির্ধারণ, নামজারি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ন্ত্রণ, কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নে প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী আর্থিক বলয় তৈরি করা হয়েছিল। সেই বলয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও অনিয়মের সংস্কৃতি চালু ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে সম্পদের খোঁজ অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাজধানীর অভিজাত কয়েকটি এলাকায় আশরাফুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের নামে একাধিক ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাতেও তার বিপুল সম্পদের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনুসন্ধানকারীরা। একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বাভাবিক আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ “অস্বাভাবিক” বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানকারীরা তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি, উচ্চমূল্যের আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের তথ্যও যাচাই করছেন বলে জানা গেছে। ‘বেনামে সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগ আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বেনামে সম্পদ অর্জন। সূত্রগুলোর দাবি, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের নামে সম্পদ কিনে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্পদের নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দুদক-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তার আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর সম্পদের রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হতে পারে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ রেজিস্ট্রি খাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জমির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি ফি’র বাইরে অবৈধ লেনদেন, দলিলের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে কর ফাঁকি এবং প্রভাবশালীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে প্রায়ই অতিরিক্ত অর্থ দাবির মুখে পড়েন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে টাকা না দিলে কাজ বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি চাকরিতে থেকে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অন্যথায় দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বক্তব্য মেলেনি এ বিষয়ে আশরাফুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও অভিযোগকারীরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? দুদক সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা মিললে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্পদের উৎস, অর্থ লেনদেন, কর ফাঁকি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি দপ্তরে দুর্নীতিবিরোধী আলোচনার মধ্যেই এই অভিযোগ নতুন করে ভূমি ও রেজিস্ট্রি খাতের অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সাধারণ মানুষের নজর তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকে—অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান শেষে আদৌ দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবনের করিডোরে তার নাম উচ্চারণ করা হয় নিচু স্বরে। সরকারি পরিচয়ে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তবে ভেতরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে তিনি পরিচিত “মহারাজা” নামে। দীর্ঘ দুই দশকে একজন সাধারণ কর্মচারী থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হয়ে ওঠার পেছনের গল্প ঘিরে রয়েছে অভিযোগ, বিতর্ক এবং অস্বস্তিকর প্রশ্নের দীর্ঘ তালিকা। যদিও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), আদালত কিংবা সরকারের কোনো প্রকাশ্য চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। তবুও সিসিকের অভ্যন্তরে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, কনজারভেন্সি খাতে অনিয়ম এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ বহু বছর ধরে আলোচিত। বর্তমানে হানিফুর রহমান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের পর প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও তার অবস্থান বহাল রয়েছে। এখন প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন খান মো. রেজা-উন-নবী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। সাধারণ কর্মচারী থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের বাসিন্দা হানিফুর রহমানের কর্মজীবনের শুরু ছিল সাধারণভাবে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি সোয়ান ফোম কোম্পানিতে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। পরে সিলেট সিটি করপোরেশনে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান। সে সময় সিসিকে প্রভাবশালী ছিলেন সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সেই সময় থেকেই নগর ভবনে নিজের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেন হানিফুর রহমান। তবে তার উত্থান সবচেয়ে দৃশ্যমান হয় সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আমলে। সিসিকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, একই উপজেলার হওয়ায় মেয়রের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ধীরে ধীরে প্রশাসনিক শাখার পাশাপাশি কনজারভেন্সি বিভাগের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে চলে আসে। একটি সিটি করপোরেশনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক খাতের ওপর এক ব্যক্তির এমন প্রভাব নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে থাকে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সিসিকের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাস্টাররোল ও দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগে একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, লাইসেন্স ও কনজারভেন্সি শাখায় চাকরি পেতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হতো। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মচারীর দাবি, দুই মেয়াদে অন্তত চার শতাধিক লোককে মাস্টাররোলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং জনপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বদলি, পদোন্নতি, এমনকি দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের তালিকাও তার অনুমতি ছাড়া হতো না। করোনাকালেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী অভিযোগ করেন, স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। শ্রমিকদের বেতন কাটার অভিযোগ কনজারভেন্সি শাখাকে ঘিরেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্টাররোল শ্রমিকদের বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে রাখা হতো। প্রতি মাসে চার দিনের বেতন বিভিন্ন অজুহাতে কর্তন করা হলেও সেই অর্থ কোথায় যেত, তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব কর্মীরা পেতেন না বলে অভিযোগ। সিসিকের কনজারভেন্সি শাখায় প্রায় চার শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। কেউ ময়লার গাড়ির শ্রমিক, কেউ নাইটগার্ড, কেউ ডাম্পিং স্টেশনে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি পেতেও তাদের অনেককে অর্থ দিতে হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘিরে অনানুষ্ঠানিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ সিটি করপোরেশনের প্রায় একশটি ময়লার গাড়ির মধ্যে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫টি গাড়ি চলাচল করে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাড়ি ব্যবহার করে হাসপাতাল, ক্লিনিক, রেস্তোরাঁ ও মার্কেট থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ আদায় করা হতো। একাধিক সূত্র আরও দাবি করেছে, উচ্ছিষ্ট খাবার মাছের খামারিদের কাছে বিক্রির মাধ্যমেও অর্থ উপার্জন করা হতো। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘আর.এম ডেইরি ফার্ম’ ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে হানিফুর রহমানের পরিবারের নামে গড়ে ওঠা “আর.এম ডেইরি ফার্ম” নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও তার আর্থিক অবস্থা সাধারণ ছিল। বর্তমানে তার পরিবারের মালিকানায় রয়েছে বড় গরুর খামার, মৎস্য প্রকল্প ও বিস্তীর্ণ জমিজমা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফার্মটিতে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক গরু রয়েছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও মৎস্য খামারও পরিচালিত হচ্ছে। যদিও হানিফুর রহমান অতীতে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ডেইরি ফার্মটি তার স্ত্রীর উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং স্ত্রীর পরিবার থেকেও সম্পদের উৎস রয়েছে। ফার্মে ব্যবহৃত কিছু লোহার পিলার নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিসিকের বিলবোর্ডের খুঁটি দক্ষিণ সুরমা থেকে সরিয়ে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এসব পিলার চট্টগ্রাম থেকে কেনা হয়েছে। প্লট বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন সিসিকের বাগবাড়ি এলাকায় তার স্ত্রীর নামে একটি প্লট বরাদ্দ এবং পরে সেটি সিটি করপোরেশনকে ভাড়া দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অনিয়মের সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি। হানিফুর রহমান দাবি করেছেন, চাকরিতে যোগদানের আগেই তার স্ত্রী ওই সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ৫৩৫ পানির মিটার গায়েবের তদন্তেও ছিলেন সিসিকের প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৫৩৫টি পানির মিটার গায়েব হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতেও সদস্য ছিলেন হানিফুর রহমান। ওই ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারী বরখাস্ত হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল কখনো প্রকাশ হয়নি। এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে সিসিকের ভেতরে। অভিযোগ অস্বীকার হানিফুর রহমানের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হানিফুর রহমান। তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। ডেইরি ফার্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রকল্প। সম্পদের উৎস বৈধ বলেও দাবি তার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রশ্ন রয়ে গেছে তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একজন সাবেক সেলসম্যান কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন? কীভাবে একটি সিটি করপোরেশনের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন যে নগর ভবনের ভেতরে তাকে “অঘোষিত সম্রাট” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়? সুশাসনকর্মীদের মতে, এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে কেবল স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভাঙতে হলে শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন জবাবদিহি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ তদন্ত। অন্যথায় ব্যক্তি বদলালেও কাঠামোগত অনিয়ম অটুট থেকে যাবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।