Brand logo light

চট্রগ্রাম

নসরুল হামিদ বিপু
এসপিএম প্রকল্প ও ইআরএল-২ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ: জ্বালানি খাতে ব্যয়, সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের বিশ্লেষণ

এসপিএম প্রকল্প: সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর চালু হয় কক্সবাজারের মহেশখালীতে স্থাপিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং (এসপিএম) প্রকল্প। এটি গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ট্যাংক ফার্মে জ্বালানি তেল পরিবহনের ব্যবস্থা। সরকারি দাবি অনুযায়ী— আগের ১২–১৪ দিনের পরিবর্তে ৪৮ ঘণ্টায় তেল খালাস সম্ভব বছরে ৮০০–১০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮,৩৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়। তবে প্রকল্পটি চালুর পরপরই এটি পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার না হওয়া এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।  ব্যয় বৃদ্ধি ও ঠিকাদারি নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু নথি ও সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ব্যয় ও পরবর্তী চূড়ান্ত ব্যয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে— প্রকল্পের ব্যয় কয়েক ধাপে বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে খরচ বাড়ানো হয় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চূড়ান্ত চুক্তি দেওয়া হয় একজন জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে যায়। ইআরএল-২ প্রকল্প: থমকে থাকা রিফাইনারি সম্প্রসারণ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে— জ্বালানি আমদানির চাপ কমবে পরিশোধিত তেলের খরচ কমতে পারে রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়বে তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটি একাধিকবার প্রক্রিয়াগত জটিলতা, দরপত্র ও অংশীদার নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। কিছু সূত্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কোম্পানির অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিরোধ এবং উচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব প্রকল্পটিকে ধীর করে দেয়।    দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব প্রকল্প সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়। একজন জ্বালানি খাত বিশ্লেষক বলেন, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে এমন বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এসপিএম প্রকল্প বর্তমানে আংশিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা যায় ইআরএল-২ প্রকল্প এখনো চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি কিছু অংশে যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো অচল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে   এসপিএম ও ইআরএল-২ প্রকল্প বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এগুলোর ব্যয়, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্পের পূর্ণ কার্যকারিতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও গভীর পর্যালোচনা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী
পার্বত্য চট্টগ্রামে বন উজাড় ও ঘুষের অভিযোগে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তর বন বিভাগের অধীন বাঘাইহাট, মাছালং, লক্ষীছড়ি পূর্ব ও লক্ষীছড়ি পশ্চিম রেঞ্জে বন উজাড় এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে এক রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বনভূমির মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় বনাঞ্চলের পুরোনো ও মূল্যবান গাছ নির্বিচারে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন ধ্বংস ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন, বনজ সম্পদ ব্যবহার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বহুবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু প্রভাবশালী চক্রের কারণে কোনো প্রতিকার পাইনি। বন রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তারাই বন ধ্বংসে জড়িত বলে মনে হচ্ছে।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, বন উজাড়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদেরও ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন উজাড় ও দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বন মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং বনভূমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত’
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্যে ৩০০ একর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত’

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সৃষ্ট বর্জ্যে স্থানীয়দের ৩০০ একর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হয়েছে। এসব জমি ময়লা-আবর্জনা সহ নানা বর্জ্যে এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।  এছাড়াও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত, ক্যাম্পে মাদক ব্যবসা সহ নানা অপরাধে স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের বড় ধরণের বিরোধের আশংকা করছেন। সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে ‘কক্সবাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় সরকার ও জনগনের অংশগ্রহন জরুরী’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রোহিঙ্গা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে।  একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া কোনো উন্নয়ন বা মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা না করার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রেজাউল করিম, সিসিএনএফের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও উখিয়ার কুতুপালংয়ের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনসহ আরো অনেকে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় অংশগ্রহণ কম থাকায় বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থায় তহবিল ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, জেলার বাইরে থেকে নিয়োগের প্রবণতা কমিয়ে স্থানীয় দক্ষ জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় গঠিত আরসিটি কাঠামোতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানায় সিসিএনএফ। তাদের মতে, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এ কারণে একটি কার্যকর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করবে এবং স্থানীয় জনগণকে বাস্তব তথ্য জানাবে। সিসিএনএফ আরও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে স্থানীয় এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। স্থানীয় জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি দাবি করে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের হোস্ট কমিউনিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই হোস্ট কমিউনিটির জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ সহায়তার সঠিক ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং কারা সুবিধা পাচ্ছে সেসব তথ্য প্রকাশ করারও দাবি জানানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান
হত্যা মামলার আসামি, তবু ফেনীর এসপি: মাহবুব আলম খানকে ঘিরে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও তার এই পদায়নকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার, মানবাধিকারকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—গুরুতর অভিযোগের মুখে থাকা একজন কর্মকর্তাকে কীভাবে জেলার শীর্ষ পুলিশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো? গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর একদিন পর, ৬ মে, তার পদায়ন বাতিল এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন নিহত যুবদল নেতার পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান। দীর্ঘদিনের অভিযোগ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মাহবুব আলম খান দীর্ঘদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা, বিরোধী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং একাধিক গুম-হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বদলি হন। সর্বশেষ তিনি সিএমপির ডিবি পশ্চিম জোনের উপ-কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে আসে। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালত ও থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। “বন্দুকযুদ্ধের” আড়ালে হত্যা? দুটি মামলার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিতটি যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান হত্যা মামলা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট ছাত্রদল নেতা সেতাউর রহমানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে আইনাল হকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেতাউরকে না পেয়ে তার ভাই মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “খোঁজ নেওয়ার” আশ্বাস দেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মিজানুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুরকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতায় পরিবার ৯ লাখ টাকা জোগাড় করে পুলিশের হাতে দেয়। কিন্তু এরপরও আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ঘটনার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর মিজানুরের আরেক ভাই রেজাউল করিমকেও রাজশাহী নগরী থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল শিবগঞ্জে পুলিশের কথিত “বন্দুকযুদ্ধে” মিজানুর নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে রেজাউল করিম আজও নিখোঁজ। আট বছর পরও নিখোঁজ এক ভাই সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সংবাদ সম্মেলন করেন মিজানুর ও রেজাউলের পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর আট বছরেও রেজাউলের সন্ধান মেলেনি। একই ঘটনায় থানায় মামলা করার পাশাপাশি গুম কমিশনেও অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা। গত ফেব্রুয়ারিতে গুম কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা ঘটনাটি তদন্ত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে যান। মিজান হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক মাহমুদ বলেন, মামলায় ৬ থেকে ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয় হত্যা মামলাও মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয় ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর। ফিরোজ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি শিবগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। ওই মামলায় ১২ জন আসামির মধ্যে মাহবুব আলম খানকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন জানান, “প্রাথমিক তদন্তে তার নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া হয়নি।” “আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছেন” মাহবুব আলম খানের পদায়ন বাতিলের আবেদনকারী সেতাউর রহমান বলেন, “তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় আট বছর চাকরি করেছেন। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি। আমাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। মামলা থাকার পরও কীভাবে তাকে এসপি করা হলো—আমরা এর বিচার চাই।” মাহবুব আলম যা বলছেন অভিযোগ অস্বীকার করে মাহবুব আলম খান বলেন, দুটি হত্যা মামলার একটিতে তাকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য মামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি প্রশিক্ষণে ছিলেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “আইনাল হকের মামলার ঘটনার সময় আমি ট্রেনিংয়ে ছিলাম। প্রমাণ দিয়েছি। আশা করছি, ওই মামলাতেও আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” পুলিশ সদর দপ্তরের নীরবতা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (এডমিন) আবু সালেহ রায়হান বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে কিছু বলতে পারছি না।” “এসপি পদে এমন নিয়োগ উদ্বেগজনক” মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলছেন, ফৌজদারি মামলার আসামি হয়ে জামিন না নেওয়া মানে কার্যত পলাতক থাকা। তার মতে, “এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উদ্বেগজনক। এতে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।” তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে জনআস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে। তদন্তের আগেই পুরস্কার? মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো বিচারাধীন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশ্ন—তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কেন তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হলো? বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ বহু বছর ধরেই বিতর্কের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পদায়ন বা পদোন্নতি রাষ্ট্রের জবাবদিহি ও মানবাধিকার প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
পুলটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে অচল পুল: ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, দুর্ভোগে ছয় গ্রামের মানুষ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুল দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয়টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ হওয়া সত্ত্বেও পুলটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগে পুলটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। এতে তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়। তবে অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই পুল দিয়ে প্রতিদিন আমাদের বাজার, স্কুল ও হাসপাতালে যেতে হয়। কাজ শুরু হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত সমাধান হবে। কিন্তু হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন হতাশ।” অন্য একজন ভুক্তভোগী জানান, “বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে যায়।” বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এলাকাবাসী পুলটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
জামায়াত নেতা
চট্টগ্রামে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথসহ দুইজন গ্রেপ্তার, ‘জামায়াত সম্পৃক্ততা’ নিয়ে ভিন্ন দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামে ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ বিক্রির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন ফিনলে স্কয়ারের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—২৭ বছর বয়সী মো. সাজ্জাদুর রহমান সাকিব এবং ২৬ বছর বয়সী মো. আবু ফয়সাল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাকিব ফটিকছড়ি থানার জামায়াত ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের অফিস সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন ফটিকছড়ি থানা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “সাকিবের সঙ্গে দলের কোনো বর্তমান সম্পৃক্ততা নেই। কলেজ জীবনে তিনি শিবিরের রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং তার কোনো পদও নেই।” পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উত্তর বিভাগের একটি দল ফিনলে স্কয়ারের সপ্তম তলায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়, যা একটি বায়ুরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ওমানে অবস্থানরত এক মাদককারবারি চক্রের মাধ্যমে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। ঘটনাটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
বেড়িবাঁধ
কুতুবদিয়া দ্বীপ সংকটে: ভাঙনে হারাচ্ছে ভূমি, ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণের জরুরি দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক—এই দুইয়ের মাঝখানে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ ৩৫ বছরেও একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্রমাগত ভাঙনের মুখে পড়ে দ্বীপটি ছোট হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, এক সময় প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কুতুবদিয়া এখন সঙ্কুচিত হয়ে প্রায় ৩০ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। তাদের আশঙ্কা—দ্রুত ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণ না হলে অদূর ভবিষ্যতে দ্বীপটি মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে।  জোয়ারে ভাঙছে বাঁধ, ডুবছে ফসলি জমি সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের চাপে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের তাবলেরচর, কাহারপাড়া এবং বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি ও লবণের মাঠ লোনাপানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হাসেম বলেন, “নোনাপানি ঢুকে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে নিজের জমিতে কাজ করতাম, এখন অন্যের জমিতে মজুরি করতে হচ্ছে।”  বাস্তুচ্যুতি ও জীবিকার সংকট বসতবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছরই এই বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা বাড়ছে। কৈয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। তিন দশকেও তা আর সংস্কার হয়নি। বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তা বাড়ে। আশ্রয়কেন্দ্রও পর্যাপ্ত নেই—আমরা কি সাগরে ভেসে যাব?”  ঝুঁকিতে দক্ষিণ ধুরং দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়ন বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আজাদ। তিনি বলেন, “বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে ঘরবাড়ি, লবণের মাঠ ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত সিসি ব্লক বা ‘সুপার ডাইক’ নির্মাণ জরুরি।” একই দাবি জানিয়েছেন কুতুবদিয়া সমিতির সহসভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক হুমায়ুন সিকদার। তার ভাষায়, “১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর ভয়াবহ ক্ষতি হলেও এখনো টেকসই বাঁধ হয়নি। সুপার ডাইক নির্মাণের পাশাপাশি যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেতু বা ফেরি চালুর প্রয়োজন।” পরিকল্পনা আছে, বাস্তবায়ন নেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া অংশে ৬৩ কিলোমিটার সুপার ডাইক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশাল বাজেটের কারণে প্রকল্পটি এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। কক্সবাজার পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কয়েকটি এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের নিশীথা আবাসিক হোটেল।
কক্সবাজারের হোটেল কক্ষে ফেনীর ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজার শহরের এন্ডারসন রোডের একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোটেল নিশীতা’র ৪০৮ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম অর্জুন দাশ (৬০)। তিনি ফেনীর শ্রীধাম চন্দ্র দাশের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল অর্জুন দাশ এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলটির ওই কক্ষটি তিন দিনের জন্য ভাড়া নেন। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর বুধবার বিকেলে কক্ষের সামনে গিয়ে কর্মীরা ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পরে দরজা ভেঙে প্রবেশ করা হয়। ভেতরে অর্জুন দাশকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় কক্ষে পড়ে থাকার কারণে মরদেহটি অর্ধগলিত হয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহটি নগ্ন অবস্থায় ছিল এবং পাশে একটি গামছা পাওয়া গেছে। পরে মরদেহের সুরতহাল শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে কিছু সময় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন বলেন, নিহতের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির
নলছিটির সেই বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা

চাঁদপুর : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঝালকাঠির নলছিটিতে যে ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান কর্মস্থলেও। জানায়, নলছিটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে ইকবাল কবির প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। এমনকি ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।   ঝালকাঠিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানিতে মামুনুর রশীদ নোমানীর দেয়া অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দুদক ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান।   এদিকে বিভিন্ন অভিযোগের কারনে নলছিটি থেকে স্টান্ড রিলিজ করে হাজীগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয় ইকবাল কবিরকে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, “নির্মাণকাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট সমঝোতা করতে হয়। অন্যথায় কাজ পাওয়া কিংবা বিল উত্তোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে।” গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির কাজের প্রতিবাদে তারা প্রকৌশলী ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নূরনবীকে ঘেরাও করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রকৌশলী বাথরুমে আশ্রয় নেন। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু নিম্নমানের কাজ মেনে নেব না। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও জবাব দেননি। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নলছিটিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। তবে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাজীগঞ্জে নতুন করে ওঠা অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।   এতসব অভিযোগের মাঝেও সম্প্রতি ইকবাল কবির পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ‘জুন ক্লোজিং’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা না নিলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
বিদ্যুতের লোডশেডিং
পেকুয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং ,এসএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ

সাজ্জদুল ইসলাম,পেকুয়া : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, গৃহিণী ও ব্যবসায়ীরা। গত ২১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় পড়ালেখায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে, তাও আবার দীর্ঘ সময় নয়, বারবার লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, রাত ১টার আগে অনেক সময় বিদ্যুতের দেখা মেলে না। মাঝেমধ্যে এলেও আধাঘন্টার বেশি স্থায়ী হয় না। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী সুবর্ণা শাওরিন বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছি না। রাতে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমানোও যায় না, পড়ালেখাও সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে উঠানে পাটি বিছিয়ে মোবাইলের আলো দিয়ে পড়তে হয়। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব খারাপ হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম ও আব্দু শুক্কর বলেন, বিদ্যুতের অভাবে দোকানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে। ফ্যান চলে না, কাস্টমার বসতে চায় না। ফ্রিজে রাখা পানীয় ও অন্যান্য পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম। অভিভাবক ও সচেতন মহল বলছেন, পরীক্ষা চলাকালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুত জোনাল অফিস পেকুয়ার এজিএম ফিরোজ কবীর এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
পেকুয়ায় বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প: ৫০০ পরিবার পাবে নিরাপদ পানির সুবিধা

সাজ্জাদুল ইসলাম:  কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা-এর একটি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০টি পরিবার সরাসরি নিরাপদ পানির সুবিধা পাবে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পেকুয়া ছাড়াও পাশের চকরিয়া উপজেলা-এর বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরনের পানি সরবরাহ প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে। পাশাপাশি পেকুয়ার মগনামা, রাজাখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়নেও আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে পানিবাহিত রোগ কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সরকার উপকূলীয় এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বান্দরবান
বান্দরবানের আলীকদমে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: নিহত ১, গুরুতর আহত ২

মোঃ মোরশেদ আলম চৌধুরী ,বান্দরবান:  আলীকদম উপজেলায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে উপজেলার ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের কচুরছড়া ব্রিজ সংলগ্ন ১ নম্বর ভিউ পয়েন্ট এলাকায় আলীকদম–পোয়ামুহুরী সীমান্ত সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কুরুকপাতা বাজার থেকে তিন আরোহী নিয়ে একটি মোটরসাইকেল আলীকদমের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে চালকের চোখে হঠাৎ একটি পোকা ঢুকে পড়লে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে তিন আরোহীই ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও এক সিএনজি চালকের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাংতুব মুরং (৭০) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। তিনি লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লাইল্যাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোটরসাইকেল চালক রিংরাউ মুরং (২০), যিনি কুরুকপাতা ইউনিয়নের লেলংপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর আহত লংপং মুরং (৩৫), তিনিও লামার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের লাইল্যাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ইত্তেহাদ নিউজ
হরমুজ পেরোতে পারল না ‘বাংলার জয়যাত্রা’, মাঝপথেই ফিরতে হলো

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসার পর নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। কিন্তু সেই আশাও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের বাহিনীর বেতারবার্তায় জাহাজটিকে পারস্য উপসাগরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তবে ইরানের বাহিনী প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। পরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়ে জাহাজটি আবারও আগের নিরাপদ অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, রাত তিনটার মধ্যে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে শুক্রবার রাত ১১টায় দেখা যায়, ইরানের কর্তৃপক্ষ এই প্রণালি উন্মুক্ত ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা একের পর এক জাহাজ নোঙর তুলতে শুরু করে। শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে রাত পৌনে একটায় মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, সব কটি জাহাজ আবার পারস্য উপসাগরে ফেরত যাচ্ছে। এই তালিকায় বাংলার জয়যাত্রাও রয়েছে। বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি। অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। তৃতীয় দফায় শুক্রবার হরমুজ পার হতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ফেরত যাচ্ছে জাহাজটি। নতুন নির্দেশনার কারণে জাহাজটির যাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়ে গেলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ন্যাড়া হলেন ১০ যুবক
বন্ধুর পাশে থাকতে ৯ যুবকের ন্যাড়া হওয়া: মুরাদনগরে ভাইরাল মানবিকতার গল্প

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কেবল আনন্দ ভাগাভাগি নয়, দুঃখের সময় পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় মেলে—কুমিল্লার মুরাদনগরে এমনই এক ঘটনা স্পর্শ করেছে বহু মানুষের হৃদয়। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার খৈয়াখালী বাজারের একটি সেলুনে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। পরে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর গ্রামের সজীব নামের এক যুবক মাথার ত্বকের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিজের মাথার চুল ফেলে ন্যাড়া হন। বিষয়টি জানার পর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা একটি অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেন। সজীব যাতে নিজেকে একা বা বিব্রত না মনে করেন, সেই লক্ষ্যেই একে একে নিজেদের মাথার চুল কেটে ন্যাড়া হয়ে যান আরও নয়জন বন্ধু। এই বন্ধুদের মধ্যে রয়েছেন—কাইয়ুম মিয়া, মো. আলম, শরিফ, মো. মোমেন, মো. নাজিম, মো. শাহজালাল, মো. মাইনুদ্দিন, মো. সাদ্দাম ও মো. সাগর। বন্ধুরা জানান, এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত একটি উদ্যোগ। তাদের ভাষায়, “সজীব যেন মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে, সে জন্যই আমরা সবাই একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই ঘটনাকে অনেকেই প্রকৃত বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসার পাশাপাশি এটি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে। “বন্ধুর জন্য নিজের চেহারাও বদলে ফেলতে পারেন—মুরাদনগরের এই গল্প প্রমাণ করলো, সত্যিকারের বন্ধুত্ব এখনো বেঁচে আছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ইউপিডিএফ নেতা ধর্মসিং চাকমা
রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা ধর্মসিং চাকমা নিহত, গুলিবিদ্ধ দুই বোন

মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন,রাঙ্গামাটি :  রাঙ্গামাটিতে সশস্ত্র হামলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার দুই বোন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে রাঙ্গামাটির কুতুকছড়ি এলাকার উপরপাড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ধর্মসিং চাকমা ইউপিডিএফের সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বাবার নাম ধনঞ্জয় চাকমা। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ধর্মসিং চাকমার বাসায় গিয়ে তাকে বাইরে ডাকে। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির সময় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে তার দুই বোন—ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা—আহত হন। তাদের দুজনের হাত গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর জানান, আহত দুই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘটনার বিষয়ে রাঙ্গামাটি কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিমউদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
নারী-শিশুসহ ১১ জনকে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
রাঙামাটিতে নৌকাডুবি: অল্পের জন্য রক্ষা, দ্রুত অভিযানে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে ঘটে যাওয়া একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে কারবারি পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ভুক্ত নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১১ জন একটি ছোট নৌকায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যায়।  দ্রুত সাড়া, সময়মতো উদ্ধার ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় নিকটবর্তী রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে। এরপর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। দুর্গম এলাকা এবং রাতের অন্ধকার সত্ত্বেও তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া নৌকার সব যাত্রীকে একে একে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। দ্রুত এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা কাটে। ঝুঁকিতে ছিলেন একজন গর্ভবতী নারী উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। অন্যদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত যাতায়াতকারী ছোট নৌযানগুলোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় নৌযানই প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হওয়ায় এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তি দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযানের জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো এই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।   এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, দুর্গম জলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে—আর সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াই হতে পারে জীবনরক্ষার একমাত্র ভরসা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
রাজবন বিহারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন
রাজবন বিহারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন,রাঙ্গামাটি :  জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান, বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে অর্থ দান, পরিত্রাণ সূত্র শ্রবণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও সমর্থনের মাধ্যমে এ ধরনের মহতী আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে নৈতিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবের মূল বার্তা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি। পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ভিক্ষুসংঘ, উপাসক-উপাসিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে মন্ত্রী বিশ্বশান্তি ও জগতের সকল প্রাণীর সুখ কামনা করে প্রার্থনা করেন এবং উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব
বান্দরবানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব

বান্দরবান: বর্ষবিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে শুরু হয়েছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রাই’। উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা। মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান রাজার মাঠ থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইনস্টিটিউটের হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। এসময় তরুণ-তরুণীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। নাচ-গান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এমপি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেব, সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি চ থুই প্রু, সাধারণ সম্পাদক থুইমং প্রু এবং রাজপুত্র চসিং প্রু বনিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী চলবে এবারের সাংগ্রাই উৎসব। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতির বার্তা আরও ছড়িয়ে পড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকার কাজ করছে। উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। র‌্যালি শেষে ইনস্টিটিউটের হলরুমে বয়োজ্যেষ্ঠ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রবীণদের সম্মাননা প্রদান ও প্রণাম জানানো হয়। উৎসবের পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৪ এপ্রিল সাংগু নদীর তীরে বুদ্ধ মূর্তি স্নান, রাতে পাড়ায় পাড়ায় পিঠা উৎসব এবং ১৫ এপ্রিল রাজার মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়েই শেষ হবে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবে ২৬৪ বাংলাদেশি
অবৈধ পথে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবি: আন্দামান সাগরে ২৬৪ বাংলাদেশি নিখোঁজ, ৯ জন উদ্ধার

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দালালদের খপ্পরে পড়ে অবৈধ উপায়ে সাগরপথে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ২৭৩ জন নারী-পুরুষকে বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা যাত্রীরা সকলেই কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ৯ জন জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর ২৬৪ জনের খোঁজ মিলছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ডুবে যাওয়া ট্রলারের অধিকাংশেরই সলিল সমাধি হয়েছে। টেকনাফ থানা পুলিশ ও কোস্ট গার্ড বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় ৬ জন দালালকে আসামি করে টেকনাফ থানায় মামলা করেছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ না পেয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা তথ্য দেখে তারা প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মতে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের স্বজনরা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পর এই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তাদের স্বজনরা বেঁচে আছেন নাকি সাগরের ঢেউয়ে হারিয়ে গেছেন- তাও তারা জানেন না। মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবিতে উদ্ধার হওয়া ৯ জন হলেন- কক্সবাজার শহরতলীর শান্তি পাড়ার মো. হামিদ ও মো. সায়াদ আলম, মো. আকবর, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার সোহান উদ্দিন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মো. হৃদয়, উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের রফিকুল ইসলাম, রাহেলা বেগম ও মো. ইমরান এবং টেকনাফ বড়বিল এলাকার মো. তোফায়েল আহমেদ। টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের নিখোঁজ এনায়েতুর রহমানের বাবা মোহাম্মদ কালু বলেন, আমার ছেলে বাড়ির পাশের একটি ইটভাটায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করত। তার আয়ে আমাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু গত ২ এপ্রিল থেকে সে নিখোঁজ হয়। তিনি জানান, খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন- দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে তার ছেলে টেকনাফ হয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একপর্যায়ে খবর আসে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের বহনকারী ট্রলারটি ডুবে যায়। মোহাম্মদ কালু বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে কোনোভাবে ৯ জন উদ্ধার হয়ে ফিরে এলে তাদের কাছ থেকেই জানতে পারি, আমার ছেলে এনায়েতসহ আরও নারী-পুরুষ ট্রলারডুবির ঘটনায় সাগরে তলিয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান নামের একজন জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় তার দুই ছেলে মোহাম্মদ জুনায়েদ ও মোহাম্মদ তারেক ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তিনি জানেন না। সূত্র বলছে, চার-পাঁচ দিন আগে ২৭৩ জন যাত্রী নিয়ে আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জন কোনোভাবে উদ্ধার হয়ে জীবিত ফিরতে পারলেও বাকি ২৬৪ জনের এখনো কোনো খোঁজ মিলছে না। আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা রোহিঙ্গা রাহেলা বেগম বলেন, আমার এক খালাতো ভাই আমাকে মালয়েশিয়ায় বিয়ে দেওয়ার কথা বলে সাগরপথে নিয়ে যাচ্ছিল। পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি আন্দামান সাগরে ডুবে যায়। তিনি বলেন, আমরা ৯ জন সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছিলাম। পরে একটি ট্রলারের সহায়তায় উদ্ধার হয়েছি। তবে বাকি নারী-পুরুষ কতজন উদ্ধার হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তিনি নিজের চোখে দেখেছেন ১০-২০ জন নারীসহ অনেকেই সাগরে ডুবে গেছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে কোস্ট গার্ড থানায় আসে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভিকটিমদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড গত ৯ এপ্রিল দুপুরে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ বাংলাদেশিকে (৮ পুরুষ ও ১ নারী) ভাসতে দেখে উদ্ধার করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকৃতদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ মনসুর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। কোস্ট গার্ড তাদের টেকনাফ থানায় নিয়ে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
জলে ভাসলো বিজুর ফুল
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ফুল বিজু: পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী ঐতিহ্যবাহী বর্ষবিদায় উদযাপন

রাঙামাটি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসলো ‘ফুল বিজু’র ফুল। বাংলা বর্ষবিদায়কে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছে। পাহাড়ে এ উৎসবটি ‘ফুল বিজু’ নামেই বেশি পরিচিত। রবিবার শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ বিভিন্ন পাড়া ও ঘাটে ঘাটে বর্ষবিদায়ের অংশ হিসেবে কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানো হয়। সকাল থেকেই নানা বয়সী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষ ফুল হাতে ভিড় করেন হ্রদের তীরে। ২৯ চৈত্রের ভোরে ‘মা গঙ্গা’র উদ্দেশে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে মূল আয়োজনের সূচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো পাহাড়ি জনপদ। পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিজু, বিহু, বৈসুক, সাংগ্রাই ও চাংক্রানসহ নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহর, নগর এবং পাহাড়ি পল্লিগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। উৎসবে অংশ নিতে নারীরা পরেন বাহারি রঙের পিনোন হাদি এবং পুরুষরা ধুতি, পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে অংশ নেন ফুল ভাসানোর আয়োজনে। কাপ্তাই হ্রদের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তারা বিদায় জানান পুরনো বছরকে এবং বরণ করে নেন নতুন বছরকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0