Brand logo light

সিলেট

লিবিয়ায় জিম্মি হবিগঞ্জের যুবক রায়হান
লিবিয়ায় জিম্মি নবীগঞ্জের যুবক রায়হানকে হত্যা ও লাশ সাগরে ভাসানোর হুমকি দালাল চক্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে থাকা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)কে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবার দাবি করছে, মামলার অগ্রগতি ঠেকাতে দালাল চক্র তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এবং লাশ সাগরে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছে। রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরীর অভিযোগ, মানবপাচার মামলার প্রধান আসামির জামিনে বাধা দিলে রায়হানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় লিবিয়া থেকে দালাল চক্রের সদস্য পরিচয় দিয়ে শামীম ও রাকিব নামের দুই ব্যক্তি তাকে ফোন করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে বলা হয়—আসামির জামিন শুনানিতে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না। অন্যথায় রায়হানকে হত্যা করে তার মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। এর আগে, গত সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালত থেকে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরীকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। এতে তাকে আসামির জামিন শুনানিতে উপস্থিত হয়ে মতামত দেওয়ার কথা জানানো হয়। এই চিঠি পাওয়ার পরই হুমকির ফোন আসে বলে দাবি পরিবারের। রায়হান চৌধুরীকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, সেখানে তাকে জিম্মি করে প্রায় ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপরও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি হাতের আঙুল কেটে ফেলার ও কবজি কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। গত দুই মাস ধরে রায়হান নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানায় পরিবার। এদিকে, গত রোববার মানবপাচার মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। আবু তাহের চৌধুরী বলেন, “মামলা করার পর থেকেই আমি চাপের মধ্যে আছি। এখন আমার ছেলের কোনো খোঁজ নেই। আদালতের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই দালাল চক্র হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দালাল চক্র আবারও ফোন করে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা সিআইডির অ্যান্টি ট্র্যাকিং মনিটরিং সেল বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিদের দেশ থেকে পালানো ঠেকাতে এবং বিদেশে অবস্থানকারীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম ওরস শুরু , সিলেটে জোরদার নিরাপত্তা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর সিলেট-এ অবস্থিত মহান সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস মোবারক শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে তাঁর মাজারে গিলাফ চড়ানোর মধ্য দিয়ে এবং ভোররাতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও আরবি জিলকদ মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত-অনুসারী মাজার এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেছেন। ওরস উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী মাজার এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, “ওরসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওরসের নামে কোনো ধরনের ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না।” তিনি বিশেষভাবে ভক্তদের প্রতি আহ্বান জানান, গিলাফ নিয়ে আসার সময় ঢোল বা অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার এবং নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রা করা থেকে বিরত থাকতে, কারণ এতে শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেউল্লাহ আল আমান জানিয়েছেন, ওরস উপলক্ষে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবেন। ওরস চলাকালে মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজগার এবং কোরআন খতমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হবে। এদিকে, ওরসের শিরনি হিসেবে একটি গরু উপহার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে এই উপহার মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
ধানের সরকারি দাম ১৪৪০
সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহে অনিয়ম ও তথ্য সংকটে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :সুনামগঞ্জে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে তথ্য না পৌঁছানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তার কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। সরকারি ঘোষণায় প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। গত রোববার (৩ মে) থেকে সুনামগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, হাওরাঞ্চলের বহু কৃষক এখনো এই দামের বিষয়ে অবগত নন। এই সুযোগে স্থানীয় ব্যাপারীরা খলা থেকেই কম দামে ধান কিনে নিচ্ছেন। ভেজা বা আর্দ্র ধানের অজুহাতে প্রতি মণ ধান ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর পাড়ের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক এমরান মিয়া ও সামরান মিয়া জানান, ধার-দেনা করে ১৭ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন তারা। কিন্তু অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ৭ বিঘার ধান এখনো পানির নিচে। শ্রমিক সংকট ও হারভেস্টার না পাওয়ায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের জানিগাঁও গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া বলেন, “ঋণ করে চাষ করেছি। খলায় আনার পরেই বেপারীরা ৬০০–৭০০ টাকা দাম বলছে। সরকার যে ১৪৪০ টাকায় ধান কিনবে, তা আমরা জানিই না।” একই ধরনের অভিজ্ঞতা জানান জলিলপুর গ্রামের রংমালা বিবি। তিনি বলেন, খলায় ধান ভেজা থাকায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় ধান নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা কৃষকদের সচেতন করতে মাইকিংসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বি এম মুশফিকুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা চাইলে লোকাল সাপ্লাই ডিপোতে (এলএসডি) ধান শুকিয়ে গুদামে দিতে পারবেন। তবে আর্দ্রতা ১৪ শতাংশের বেশি হলে ধান গ্রহণ করা হবে না। শান্তিগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আবদুর রব জানান, ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হবে এবং স্যাম্পল যাচাইয়ের পরই ধান গ্রহণ করা হবে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কেবল প্রচারণা যথেষ্ট নয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি না থাকায় ফরিয়া ও দাদন ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এতে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। জেলা কৃষি ও খাদ্য সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে নারীসহ ৮ জন নিহত, আহত ৭

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। রোববার (৩ মে) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার তেলিবাজার ব্রিজ সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, নির্মাণকাজে অংশ নিতে শ্রমিকদের একটি দল পিকআপে করে সুনামগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তেলিবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিক নিহত হন। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত খরম আলীর ছেলে মো. সুরুজ আলী (৬০), শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরীর তোরাব উল্লাহ (৬০), রামিন (৪০), আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার রাভু আক্তার (২৫), কোম্পানীগঞ্জের হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার রাজা মিয়া (৪৫)। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
সিলেটে বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাসস : বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বেলা ১টা ২০ মিনিটে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই। বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে। তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে। বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অনেকগুলো সুবিধা আমরা কৃষক ভাইদেরকে দেব, তাদেরকে ঋণের সুবিধা, সার-বীজ, কীটনাশকের সুবিধা সরকার থেকে সরাসরি দিতে পারব। আর সবচেয়ে বড় যে সুবিধাটা— তারা বছরে আড়াই হাজার টাকা পাবে। যেটা দিয়ে তারা নিজেরা কীটনাশক ওষুধ, বীজ সরাসরি কিনতে পারবে। সরকার থেকে সরাসরি আমরা তাদেরকে এই অর্থ সাহায্য করব। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব। তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারবো। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে। উপস্থিত জন-সাধারণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কি ভাই আছেন নাকি কাজে। এই যে কাজগুলো আমরা করব, এই কাজগুলো করলে উপকার হবে কার? এলাকার মানুষের উপকার হবে। কাজ ঠিক আছে তাহলে? ঠিক আছে।’ এ সময় উপস্থিত জনগণ দু’হাত তুলে বলেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ এই সরকার জনগণের সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’ তিনি বলেন,  ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’ দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই যে এখানে আপনাদের সন্তান বসে আছে মুক্তাদির (খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির)। মুক্তাদির হচ্ছে শিল্পমন্ত্রী। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে মুক্তাদিরের কাছে। নির্বাচনের পর পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে আমি মুক্তাদিরকে নিয়ে বসেছিলাম যে, কোথায় কোথায় বন্ধ কল-কারখানা রয়েছে। ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে সেগুলো চালু করবো।’ দেশের বাইরেও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি সাথে থাকেন, আপনারা যদি পাশে থাকেন— তাহলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো, বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হবো। কাজেই সব সময় একটা কথা বলি, কাজ কাজ আর কাজ। সেজন্যই করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বাসিয়া নদীর খালটি পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহন করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম
এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে লিখিত আবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একজন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগকারী নিজেই এলজিইডির একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিলেটে কর্মরত এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আজহারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগটি দাখিল করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদ। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেওয়া মো. আজহারুল ইসলাম কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন, বিল ছাড় এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে নাটোরে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্পের প্রাক্কলন একাধিকবার সংশোধনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ রয়েছে—যার মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং চট্টগ্রামে ভবন নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সুপারিশে তিনি বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে শেখ সেলিম-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহলের সান্নিধ্যে থাকার কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আজহারুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ এনেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পদায়নের জন্য কোনো ধরনের তদবির করেননি। তার ভাষায়, “কর্তৃপক্ষ যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে, সেখানেই আমি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি।” এ বিষয়ে এখনো দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা এবং সম্পদের বৈধ উৎস যাচাই করা দুদকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা না হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ওসি শফিকুল ইসলাম খান
সিলেট কোম্পানীগঞ্জের ওসি শফিকুল ইসলাম খান: প্রভাব, পদায়ন ও একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেট বিভাগের কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ, বিতর্ক এবং প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সূত্র, স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে তার অবস্থান, পদায়ন এবং কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে  সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সংযোগ স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শফিকুল ইসলাম খান একটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবারের সদস্য। তার পরিবারের একাধিক ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত—যার মধ্যে একজন উপজেলা যুবলীগের নেতা এবং অন্যজন স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, এই রাজনৈতিক যোগাযোগ তার কর্মজীবনে প্রভাব ফেলেছে।  প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ পুলিশের একাধিক সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) দাবি করেছেন, শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে সিলেট রেঞ্জের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মতে, এই সম্পর্কের কারণে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় পদায়ন পেয়েছেন।   পদায়ন নিয়ে বিতর্ক শফিকুল ইসলাম খান অতীতে সুনামগঞ্জের ছাতক থানা, ময়মনসিংহ সদর থানা এবং সিলেটের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, তার কিছু পদায়ন অর্থ লেনদেন বা প্রভাবের মাধ্যমে হয়েছে।  দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে— চোরাচালান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া মামলার তদন্তে প্রভাব খাটানো জব্দকৃত মালামালের হিসাব নিয়ে অনিয়ম এমনকি একটি ঘটনায় মোটরসাইকেল ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   মাদক মামলায় বিতর্ক ২০১৭ সালের একটি মাদক উদ্ধারের ঘটনায়ও তার নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ নিয়ে অসঙ্গতি ছিল এবং প্রকৃত অভিযুক্তদের রক্ষা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরে তদন্ত হয়েছিল বলে জানা গেলেও তার ফলাফল জনসমক্ষে স্পষ্ট নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন— বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া আটক ও নির্যাতনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার   কোম্পানীগঞ্জে বর্তমান ভূমিকা বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ উঠেছে, যেমন— পাথর ও বালু উত্তোলন সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে প্রতিবাদ সভাও করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া কিছু পুলিশ সদস্যের দাবি, বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিতভাবে “সেরা কর্মকর্তা” হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় বাহিনীর ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই মূল্যায়নের মানদণ্ড কী—তা স্পষ্ট নয়। যোগাযোগের চেষ্টা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানা গেছে। শফিকুল ইসলাম খানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে হলে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু

আল হাবিব ,সুনামগঞ্জ:  সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের বৈঠাখাই গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো- রমজান আলীর মেয়ে রুমা আক্তার (৭), উকিল আলীর মেয়ে পাপিয়া আক্তার (৪)। তারা সম্পর্কে একে অন্যের আপন চাচাতো বোন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বাড়ির আঙিনায় পুকুর পাড়ে একসঙ্গে খেলাধুলা করছিলো। একপর্যায়ে পরিবারের সবার অগোচরে তারা বাড়ির পাশের একটি পুকুরের কাছে চলে যায় এবং পানিতে পড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে পুকুরে সন্ধান চালালে দুইজনের মধ্য রুমা আক্তার (৭) মৃত অবস্থায় তাকে পানিতে পাওয়া যায়। আর পাপিয়া আক্তার (৪) কে তাৎক্ষণিকভাবে পানি থেকে জীবিত উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, একটি পরিবারে দুই শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন প্ল্যান্ট
বাংলাদেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে, অকটেন হয় ২৫ শতাংশ

বিবিসি বাংলা: দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে। আর অকটেন হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারিতে গ্যাসের সাথে পাওয়া কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি উৎপাদন হয়। জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের সাথে কনডেনসেট (উপজাত) পাওয়া যায় তা থেকেই উৎপাদন হয় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন ও কিছু এলপিজি।বাংলাদেশের মূল চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, ২০/২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি ফ্যাকচুনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এগুলোর প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার বারেল উপজাত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের মতো কনডেনসেট বরাদ্ধ পাচ্ছে। এ কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন ও কিছু ডিজেল উৎপাদন হয়। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে। বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ। এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে। ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে। উৎপাদন কোথায় কতটুকু বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি। দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ। হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে। এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে। এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না। "দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। " অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট। ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে। হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়। পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে। সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। "প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।" পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে। "রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।" "আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ। তবে বাজারে বর্তমানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষ এবং কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোলপাম্প মালিকদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হতো, এখন সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন, ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পেট্রোলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হলেও অকটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাজারে যে দীর্ঘ লাইন ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘প্যানিক পারচেজিং’-এর ফল। সরকার জানিয়েছে, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
মুহিবুর রহমান
লিবিয়া-গ্রিস পথে অনাহারে মৃত্যু: সুনামগঞ্জের যুবক মুহিবুর রহমানের ট্র্যাজেডি

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার যুবক মুহিবুর রহমান লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরপথে রওনা দেন, কিন্তু তার স্বপ্নের যাত্রা ভূমধ্যসাগরের মাঝেই থেমে যায়। অনাহার ও তৃষ্ণায় তিনি মারা যান। মুহিবুর রহমান ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিনের বড় ছেলে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের মধ্যে মুহিবুর ছিলেন সবার বড়। পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকে মুহিবুরের পরিবার বারবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নিশ্চিত তথ্য পাননি। পরে সোমবার (৩০ মার্চ) একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মুহিবুরের মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারকে নিশ্চিত করেন। মারুফ জানান, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমে মারা যান মুহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়। মৃতদেহগুলো পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে জীবিতরা মাঝ সমুদ্রে এগুলো ফেলে দেন। পরিবারের সদস্যদের কথায়, সুন্দর ও সচ্ছল জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে মুহিবুরসহ কয়েকজন যুবক প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পশ্চিম পাগলা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সঙ্গে চুক্তি করে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে রওনা হন। মুহিবুরের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, মা মহিমা বেগম বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন এবং বাবা দিশেহারা হয়ে শোক সামলাতে পারছেন না। স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি দালালচক্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলও ঝুঁকিপূর্ণ এই পথে বিদেশযাত্রা থেকে যুবসমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা বলেন, “আমি কিছুক্ষণ আগেই এই মর্মান্তিক খবরটা শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
আহত দুটি মোরগ নিয়ে থানায় আসেন ভুক্তভোগী আঙ্গুর মিয়া
মোরগের পা ভেঙে দেওয়ায় থানায় অভিযোগ

সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের নারায়ণতলা খাসপাড়া গ্রামের আঙ্গুর মিয়া এবং তার ছোট ভাই আব্দুর রজ্জাকের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে আব্দুর রজ্জাক তার ভাই আঙ্গুর মিয়ার দুটি মোরগের পা লাঠি দিয়ে ভেঙে দেয়। শুধু মোরগ দুটি নয়, আঙ্গুর মিয়া আরও জানান যে, তার ভাই ১৮টি মুরগির বাচ্চাও পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আঙ্গুর মিয়া রোববার (১ মার্চ) বিকেলে মোরগ দুটি নিয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তার দাবি, তিনি সুষ্ঠু বিচার চাইছেন এবং আশা করছেন যে, পুলিশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন সেখ বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন এসআই নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনা সুনামগঞ্জবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এমন সহিংসতা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত সালেহ আহমেদ
আমিরাতে নিহত বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

ইরানের পাল্টা হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন। নিহত বাংলাদেশির নাম সালেহ আহমেদ, যিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকার ছবর আলীর ছেলে। রোববার (১ মার্চ) রাতে সালেহ আহমেদের চাচাতো ভাই এবং প্রবাসী মাহবুব আলম চৌধুরী জানান, সালেহ আহমেদ সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর তিনি কাজে বের হন। মাহবুব আলম চৌধুরী আরও জানান, "সেখানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমেদ ইফতার শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জরুরি খাদ্য ও পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তার সঙ্গে আরও একজন সহকর্মী ছিলেন। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সালেহ আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়েছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল।" এ সময় তার সঙ্গে আরও একজন বাংলাদেশি আহত হন। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সালেহ আহমেদ নিহত হন। আন্তর্জাতিক সংবাদের মাধ্যমে জানা গেছে, হামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজ ও স্থানীয় কমিউনিটি এই দুর্ঘটনার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ
জামায়াত নেতা পিয়ার আলীর বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার দুই গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি রাস্তার পাশে লাগানো দুটি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পিয়ার আলী স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীরামিসি আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসী রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা পিয়ার আলী ও তার ভাই আহবাব মিয়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই শ্রীরামিসি বাজার থেকে মিয়ার বাজার সড়কের পাশে থাকা সরকারি দুটি প্রাপ্তবয়স্ক গাছ কেটে নেন। গাছ দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পিয়ার আলী ও তার ভাই আহবাব হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গার গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগের বিষয়ে পিয়ার আলী বলেন, “যাতায়াতের সময় গাছটি বিদ্যুতের তার ও গাড়ির সঙ্গে লাগছিল। সরল মনে সমস্যা সমাধানের জন্য গাছ কেটে ফেলেছি।” এ বিষয়ে মিরপুর ও সৈয়দপুর শাহাড়পাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সজল তালুকদার বলেন, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা পিয়ার আলী ও আহবাব মিয়া সরকারি রাস্তার পাশের দুটি গাছ কাটার চেষ্টা করছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছাত্রী হোস্টেলে কনডম
ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ উদ্ধার ঘিরে বিক্ষোভ, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে ‘কনডম’ পাওয়াকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তাঁর অফিসকক্ষে রেখেই তালাবদ্ধ করে রাখেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর একটি দল অস্থায়ীভাবে কলেজের ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অবস্থান নেয়। সে সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিলেন না। পরবর্তীতে ভবনের বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে সেনা সদস্যরা কয়েকটি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান বলে কলেজের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনৈতিক কার্যক্রমের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।   রিভার ভিউ পার্ক থেকে মিছিল, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান বুধবার বেলা ১১টার দিকে জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত সেখানে চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কলেজ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।   আগে থেকেই ছিল অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রী হোস্টেলের ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। অতীতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   প্রশাসনের পদক্ষেপ, দুই শিক্ষক অব্যাহতি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে কলেজের হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, দায়িত্বশীলরা আগে থেকেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতো না। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তদন্তের অগ্রগতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর
বেড়িবাঁধের মেহগনি গাছ কাটার মামলায় বিএনপি নেতা জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধ বেষ্টনীতে রোপণ করা মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে নদীভাঙন প্রতিরোধে কামালপুর এলাকার বেড়িবাঁধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব মেহগনি গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বাঁধ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে পরে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। খবর পেয়ে মিঠামইনের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি স মিল থেকে কাটা গাছ উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে পুড়িয়ে হত্যা
সিলেটে যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে বোরহান উদ্দিন শফি (৫৯) নামে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর ও ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন— সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ইলাবাজ গ্রামের সাব্বির আহমদ (২১), একই উপজেলার ঘেচুয়া গ্রামের তাহিরুল হক (২০) এবং নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০)। তাদের মধ্যে সাব্বির ও শোভন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরিকল্পিত হত্যা ও মরদেহ গলানোর চেষ্টা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের মাসেরচক হাওর এলাকায় পরিকল্পিতভাবে শফিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়। এমনকি দ্রুত দেহ গলিয়ে ফেলতে লবণও ব্যবহার করা হয়। ঘটনার চার দিন পর গলায় দড়ি প্যাঁচানো ও দগ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি লবণের প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছিল, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উদ্ঘাটন রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে অগ্রগতি আনে। পরবর্তীতে ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তাহিরুল হকের কাছ থেকে নিহত শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাস জীবনের তিন দশক নিহত বোরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে আসেন বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ড জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। মামলার অন্যান্য আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ আছে কিনা তা শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক
অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অনৈতিক প্রস্তাব ও শারীরিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মোহাম্মদ জুলকার নাইন। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কোম্পানীগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক ছিলেন। কয়েক দিন আগে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অভিযুক্ত জুলকার নাইন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছর তাকে জেলার গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজারে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, স্বামী না থাকায় একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করি। অনেক দিন ধরে কাজ করছি কোনো সমস্যা হয়নি; কিন্তু জুলকার নাইন স্যার আসার পর আমি সমস্যায় পড়ি। তিনি আমার গায়ে হাত দেয়াসহ আমাকে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। আমার ছবি তোলেন। রাতের বিভিন্ন সময়ে আমাকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন খারাপ কথাবার্তা বলতেন ও অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি চাকরি হারানোর ভয়ে তার সঙ্গে কথা বলতাম। ছুটির দিনেও আমাকে অফিসে এসে একান্ত সময় দিতে বলতেন। এমনকি টাকাও দিতে চাইতেন। তিনি বলেন, একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি; কিন্তু গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ শাস্তি না দিয়ে বদলি করেছে। আমি ওই অফিসারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কোম্পানীগঞ্জ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ও মাঠ সহকারীরা বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব ও বিভিন্ন সময়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছেন জুলকার নাইন। অসহায় নারী সহকর্মীর প্রতি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এমন দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী নারী আতঙ্কে আছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে- এটাই প্রত্যাশা। তবে সদ্য বদলি হওয়া শাখা ব্যবস্থাপক জুলকার নাইন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বানোয়াট ও মিথ্যা।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান ছিল; কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে বদলির আদেশ দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0