Brand logo light

ইত্তেহাদ স্পেশাল

বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন  শাওন ও স্বপন
বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শাওন ও স্বপন : দুদকের তদন্ত শুরু

বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার।   দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার   ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও  দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল।   দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি।   আরও পড়ুন: বরিশালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ইমন খানকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে   ইমন খান  লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন-   বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই  ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে  শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ।   তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন।   দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই  দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন  যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি।   ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র  ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন।  আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে।  আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো  বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়তে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :   বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো  বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা  ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে  তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা  মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে  ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের  একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের  বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের  কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের  কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি,  তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই।  কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে  আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।  এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম
দুদকের তলবের পরও বহাল তবিয়তে ঝালকাঠির শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খাইরুল ইসলাম

   মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল  :  ঝালকাঠি  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।” শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক “সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন। অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম।   শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে।  প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগ : নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 'সার্চলাইট'-এ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা: মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে। অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে   বর্তমান অবস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।        সম্পদ বিবরণী নোটিশ:        মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ধরণ: তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর। জনমনে প্রশ্ন স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?       

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
দুই যুগ মাউশিতে থেকে এবার নায়েমের পরিচালক হলেন আ’লীগ কন্যা প্রিম রিজভী
বিএনপি সরকারের আমলেও নায়েমের পরিচালক পদে পদায়ন পেলেন আ’লীগ কন্যা প্রিম রিজভী, শিক্ষাক্যাডারে অসন্তোষ

২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)‑এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোয় এই নিয়োগকে নিয়ে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আরেকটি “পদায়ন” নয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মিলনক্ষেত্র এবং দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া একটি নতুন অধ্যায়। এই প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায্য পদায়ন নীতি, ক্যাডার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে। অধ্যাপক প্রিম রিজভী: পেশাগত পথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রিম রিজভী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে, এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন ও পদোন্নতি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তার কর্মজীবনের প্রধান স্টেজগুলো ছিল: মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প (SESP)‑এ সহকারী পরিচালক SEQAEP (World Bank অর্থায়নে)‑এ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যান পদ BANBEIS‑এর উপ‑পরিচালক (প্রশাসন) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা‑এ উপ‑পরিচালক এনসিটিবি‑র বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন ইত্যাদি প্রিম রিজভীর কর্মজীবনের ব্যাখ্যায় বারবার রাজনৈতিক প্রবণতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের অঙ্গেজন স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের সূত্র: প্রিম রিজভী দেশের রাজনৈতিক অস্থির সময়েও তার নেতৃত্ব ও পদায়ন ধরে রেখেছেন—বিশেষত: আওয়ামী লীগের শাসন আমল (২০০৮‑২০১৪) অন্তর্বর্তী সরকার আমল বর্তমান বিএনপি সরকার আমল এতে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে কি আদৌ তার পদায়নে পারদর্শিতা/যোগ্যতা মূল ভিত্তি ছিল নাকি রাজনৈতিক সহায়তা ও প্রভাব প্রধান ভূমিকা নিয়েছে? পদায়নের বিরোধিতা: শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: 👉 অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে পরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর অবিলম্বে ক্ষোভের সঙ্কেত। বিভিন্ন শিক্ষাক্যাডার কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে: দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ভূমিকার পরও উচ্চতর পদে পদায়নে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতা ছিল না রাজনৈতিক প্রবণতা ও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব তার জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পদোন্নতি পায়নি, অথচ রিজভীর মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়ন দেওয়া হয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন: “শুধু নীতিগত ভুল নয়, এটি আমাদের ক্যাডারের ন্যায্য সুযোগের প্রতি আস্থা ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ করে যারা অধীনজীবনে আছে, তারা দেখছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডই নিয়োগের প্রধান ক্রাইটেরিয়া।” এসব মন্তব্য দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বনাম প্রশাসনিক ন্যায্যতা: বিশ্লেষণ বাংলাদেশে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদায়নকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিচার্য প্রশ্ন ওঠে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসে বা যায়। প্রশাসনিক নিযুক্তি কখনো না কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তা স্বচ্ছতার প্রশ্নের সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন: 👉 প্রশাসনিক পদায়নে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 👉 কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক সমর্থন, প্রভাব ও সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, প্রিম রিজভীর ক্ষেত্রে: তিনি আওয়ামী লীগ আমল, অন্তর্বর্তী আমল ও বিএনপি আমল—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো ১৭ বছর তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, এবং আজও তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এতে প্রশ্ন ওঠে যে কি তিনি প্রকৃতপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার আধারেই পদায়ন লাভ করেছেন, নাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বিভিন্ন শাসনামলের প্রভাব এখানে কাজ করেছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া: শিক্ষা সচিবের বক্তব্য যদিও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন: “এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এতে একটি ইতিবাচক বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও শূন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি ও প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলদের মতো তারা যদি এখনো প্রেক্ষাপটের সত্যতা যাচাইয়ে সচেষ্ট হন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।  সমালোচকদের বক্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, “যদি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে। এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ক্ষতিকারক।” তাঁর মতে: ক্যাডার নিয়োগে ফুল ফর্মালিটি ও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকা উচিত রাজনৈতিক অবস্থান নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নির্ধারণ করা উচিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের বাইরে রাখা অবশ্যই জরুরি এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগ নীতির সমালোচনা হিসেবে সামনে এসেছে।  প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া: কর্মরত কর্মকর্তাদের অনুভূতি শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে প্রভাবমুক্ত সূত্রগুলোর মতে: অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা উচ্চতর দায়িত্বে নেই, তারা অবমূল্যায়িত বোধ করছেন অন্যদিকে, রিজভীর সমর্থকরা মনে করেন তিনি অভিজ্ঞ, পরিচিত ও প্রশাসনিক কাজে পারদর্শী তবে দিনের শেষে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এক কর্মকর্তা বলেন: “চাকরির সুযোগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটা ক্যাডারের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।” ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: শিক্ষাক্যাডার ও প্রশাসন শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসনিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে: 👉 স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মধ্যে আস্থার পুনর্নির্মাণ করতে পারে। 👉 সরকারি সকল নিয়োগে ব্যাপক নথি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হলে যেকোন বিতর্ক হ্রাস পেতে পারে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “যখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে অস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে, তখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্কট দেখা দেয়।” প্রশাসন কি নিপুণ, নাকি রাজনৈতিক হাতের খেলা? প্রিম রিজভীর নায়েম পরিচালক পদায়ন শুধুমাত্র একটি নিয়োগের ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বনাম স্বচ্ছতা—এই টানাপোড়েনের একটি পরিচায়ক উদাহরণ। শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রাজনৈতিক ফর্ক, এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি নিয়োগ নীতির বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়: 👉 সরকার কি স্বচ্ছ তদন্ত করবে? 👉 শিক্ষাক্যাডারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাশা কি কাটবে? 👉 রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত প্রশাসনিক নিয়োগ সম্ভব কি? এই প্রশ্নগুলো আগামী দিনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।   বছর দুয়েক আগে প্রিম রিজভী শিক্ষা সচিব বরাবর বদলির জন্য একটি দরখাস্ত দেন মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি পতিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের আপন ভাগিনা) এর মাধ্যমে। সেখানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএম উইংয়ের উপ-পরিচালক, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর বিশেষজ্ঞ (প্রাথমিক) এই তিন পদের যে কোনো একটিতে পদায়ন চেয়েছিলেন। বদলির এই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, “বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের একমাত্র কন্যা। আমার পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগী ও আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। আমার পিতা ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে M.N.A পদে জয়লাভ করেন (আসন নং NE- 67, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল) (কপি সংযুক্ত)। ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গঠিত গণপরিষদে M.C.A হিসাবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৯নং সেক্টরে পাক আর্মির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে সাময়িকভাবে স্বাধীন বাংলা সরকারের যোগাযোগ ও খাদ্য মন্ত্রীরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ (লিপ ইয়ার) এ তাঁর মৃত্যুর পরে জাতীয় মর্যাদায় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে দাফন করা হয়।” অতএব আমাকে আবেদনকৃত পদের যে কোন একটিতে পদায়নের আবেদন জানাচ্ছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী-ছেলে
সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা | ৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী:   বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতির আরেকটি আলোচিত ঘটনায় পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে—দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে, যার বড় অংশেরই বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় প্রায় ৫১ কোটি টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   আরও পড়ুন: * ৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি মহারাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের * কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ * পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট * এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে   ১২ বছরে সম্পদের পাহাড় মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান ক্রয় করেছেন। দুদকের হিসাব অনুযায়ী এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া তার নামে রয়েছে— বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এসব অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে তার পরিবারের ব্যয় হিসাব করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে মোট সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আয়ের উৎস মাত্র ৩ কোটি টাকা দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই বিশাল সম্পদের বিপরীতে মহিউদ্দীন মহারাজের গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই অর্থের বড় অংশ অবৈধভাবে অর্জিত এবং পরে বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে এর উৎস আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাংক লেনদেনেই সন্দেহ দুদকের তথ্য অনুযায়ী, মহিউদ্দীন মহারাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন পাওয়া গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে— প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা বিভিন্ন ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর এই অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করছে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ। স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করেছে দুদক। মামলার এজাহার অনুযায়ী, তার নামে রয়েছে— জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, গৃহিণী হওয়া সত্ত্বেও তার নামে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থী ছেলের নামেও সম্পদ মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে রয়েছে— জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ ব্যাংক সঞ্চয় ও বিনিয়োগসহ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কিন্তু তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব আয়ের উৎস থাকার কথা নয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ দুদক জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের নামে থাকা সম্পদ ইতোমধ্যে ক্রোক (জব্দ) করা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে তদন্ত চলাকালে সম্পদ বিক্রি বা স্থানান্তর করা না যায়। এলজিইডি প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অভিযোগ দুদক সূত্র জানিয়েছে, মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে এর আগেও বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।   মহিউদ্দীন মহারাজ পিরোজপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগেও আলোচনায় ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে এখনো তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত হলে রাজনৈতিক দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, এসব মামলার স্বচ্ছ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কী হতে পারে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে। এরপর আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে মানিলন্ডারিং ও দুর্নীতি আইনের অধীনে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
তেলের দাম বৃদ্ধি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: চাপে বাংলাদেশের অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর একদিনেই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের হঠাৎ উল্লম্ফন বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেল সোমবার একদিনেই ১৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০২.৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫.১৬ ডলার, যা ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আতঙ্কজনিত কেনাবেচা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হামলার খবরের পর এই আতঙ্ক আরও বাড়ে। হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী— প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয় সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বড় তেল উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি এই পথেই যায় এশিয়ার বড় আমদানিকারক দেশ যেমন চীন, জাপান, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল যুদ্ধের কারণে যদি এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য কেন উদ্বেগজনক বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যদি দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাহলে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। এর ফলে— বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ বাড়বে জ্বালানি ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে বিপিসির লোকসানের ঝুঁকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৪২ টাকা, কিন্তু দেশে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে না আসে, তাহলে মাসে অতিরিক্ত খরচ পড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— সরকার ভর্তুকি বাড়াবে তেলের দাম বাড়ানো হবে বিপিসি বড় ধরনের লোকসানে পড়বে বিদ্যুৎ খাতে নতুন চাপ বাংলাদেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও ফার্নেস অয়েল নির্ভর। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়ে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ কোম্পানির পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বিপিডিবি সরকারের কাছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয়-ব্যয়ের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আইএমএফের চাপ ও নীতিগত সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো— জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো বাজারভিত্তিক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনা কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এক ধরনের নীতিগত দ্বিধায় পড়েছে। যদি ভর্তুকি কমানো হয়, তাহলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। আর যদি দাম না বাড়ানো হয়, তাহলে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়বে। এলএনজি আমদানির বাড়তি ব্যয় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমশ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর ওপর। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী— ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সাত বছরে: এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বাড়লে এই ভর্তুকি আরও দ্রুত বাড়বে। বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানি দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। ভিয়েতনাম: ডিজেল ও পেট্রলের দাম ২১% বৃদ্ধি পাকিস্তান: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ২০% বাড়িয়ে ৩২০ রুপি যুক্তরাষ্ট্র: এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম প্রায় ১০% বৃদ্ধি ইউরোপ: মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অস্ট্রেলিয়া: পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি দুই ডলার ছাড়িয়েছে চীন, জাপান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতের জ্বালানি ধাক্কার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ অতীতেও কয়েকবার তেলের দামের বড় ধাক্কা অনুভব করেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলার পর্যন্ত ওঠে। ২০১১-২০১৪ সময়ে দীর্ঘদিন তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিশ্ববাজারে বড় ধাক্কা এলে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে দাম স্থির রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের অবস্থান সরকার বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো সাধারণত ছয় মাস মেয়াদি, এবং আগামী জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আসবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে অর্থনীতির ঝুঁকি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় তাহলে— তেলের দাম ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে বিদ্যুৎ ভর্তুকি ৭৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে যেতে পারে পরিবহন ব্যয় বাড়বে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, “সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে।” অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, “দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।” দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে— ১. জ্বালানি মজুদ বাড়ানো ২. বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজা ৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ৪. জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো ৫. বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো তবে তারা বলছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্বল্পমেয়াদে সংকট সমাধান করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, এটি দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানি মূল্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ—সব ক্ষেত্রেই বড় চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি পুনর্বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্থনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
যুবককে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বরিশালে হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র: তরুণীসহ গ্রেপ্তার ২, মালিক-ম্যানেজারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গির্জামহল্লা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদ পেতে এক যুবকের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক তরুণীসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হোটেলের মালিক ও ম্যানেজারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত দিতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একই কৌশলে আরও অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কীভাবে ফাঁদে পড়েন ভুক্তভোগী মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম খান (ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়নি) গত ৭ মার্চ বিকেলে আব্দুর রহমান নামে এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন পান। ফোনে আব্দুর রহমান তাকে জরুরি কাজের কথা বলে নগরীর গির্জামহল্লা এলাকায় আসতে বলেন। সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি রাত প্রায় ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছালে তাকে কৌশলে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে হোটেল ইম্পেরিয়ালের চতুর্থ তলার ৪২৮ নম্বর কক্ষে ঢুকতে বলা হয়। কক্ষটিতে ঢোকার পরই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ও ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কক্ষে ঢোকার পর সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি ওত পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে চক্রের নারী সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা তার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ভান করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতিকে ‘অপত্তিকর’ আকার দেওয়ার চেষ্টা করে। সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমি বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন লোক এসে আমাকে জোর করে বিছানায় বসায়। এরপর তারা বলে আমি নাকি ওই মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত।” তার অভিযোগ, তখনই তারা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অর্থ দাবি ও ছিনতাই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণের পর চক্রের সদস্যরা সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করতে থাকে। প্রথমে তারা তার পকেটে থাকা ১২০০ টাকা নিয়ে নেয়। পরে আরও ১৩ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়। প্রাণভয়ে সিরাজুল কৌশলে তার এক পরিচিত ব্যক্তি হিজবুল্লাহ সম্রাটকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন। পুলিশের অভিযান সিরাজুলের কাছ থেকে খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশ হোটেল ইম্পেরিয়ালে পৌঁছালে অভিযুক্ত চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা (চক্রের নারী সদস্য) সান্টু হাওলাদার (সহযোগী) পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তিতে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম খান বাদী হয়ে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— হোটেল মালিক মানিক হাওলাদার ম্যানেজার আব্দুল হাই বশির মোল্লা আবিদ হাসান জাকির হোসেন গাজী আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের বক্তব্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধ বর্তমানে বিভিন্ন শহরে সংঘবদ্ধভাবে ঘটছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ‘হানিট্র্যাপ’ কী এবং কীভাবে কাজ করে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ একটি প্রতারণামূলক কৌশল, যেখানে সাধারণত একজন নারী বা পুরুষকে ব্যবহার করে টার্গেট ব্যক্তিকে আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই ধরনের চক্র সাধারণত কয়েকটি ধাপে কাজ করে— ১. টার্গেট নির্বাচন ২. পরিচিত বা বিশ্বাসযোগ্য কারও মাধ্যমে যোগাযোগ ৩. নির্জন স্থান বা হোটেলে ডেকে নেওয়া ৪. আপত্তিকর পরিস্থিতি তৈরি ৫. ভিডিও বা ছবি ধারণ ৬. ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আবাসিক হোটেলগুলো কেন ঝুঁকিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় অপরাধীরা আবাসিক হোটেলকে ব্যবহার করে কারণ— সেখানে সহজে কক্ষ ভাড়া পাওয়া যায় পরিচয় যাচাই অনেক সময় দুর্বল সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ সীমিত হোটেল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে এই ঘটনার ক্ষেত্রেও হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অপরাধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ প্রযোজ্য হতে পারে। যেমন— ছিনতাই প্রতারণা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র মানহানির হুমকি যদি প্রমাণিত হয় যে হোটেল কর্তৃপক্ষ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই অভিযোগ করেন না ক্রাইম বিশ্লেষকদের মতে, ‘হানিট্র্যাপ’ অপরাধের অনেক ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। কারণ— সামাজিক লজ্জার ভয় পারিবারিক সমস্যার আশঙ্কা ব্ল্যাকমেইলের ভয় আইনগত জটিলতা ফলে অপরাধচক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্ত কোন দিকে এগোচ্ছে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা হচ্ছে— হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ মোবাইল ফোনের ভিডিও ও কল রেকর্ড চক্রের সদস্যদের আর্থিক লেনদেন পূর্বের সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য তদন্ত কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি একটি সংগঠিত চক্র হতে পারে যারা দীর্ঘদিন ধরে একই পদ্ধতিতে প্রতারণা করে আসছিল। সতর্কতার পরামর্শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে— অপরিচিত বা কম পরিচিত কারও ডাকে নির্জন স্থানে না যাওয়া আবাসিক হোটেলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে জানানো ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া   বরিশালের এই ঘটনাটি শুধু একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগ নয়, বরং এটি নগর জীবনে নতুন ধরনের প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষ হলে জানা যাবে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বড় কোনো অপরাধচক্রের অংশ। ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজ
৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি মহারাজ ও পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দুদকের

ঢাকা: প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে দুদকের কমিশন সভায় মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। দুদকের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে শিগগিরই মামলাটি দায়ের করা হবে। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার পর কমিশন মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের নিজের নামে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া তাঁর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামেও বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী— স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির নামে প্রায় ৬৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ভাই মো. শামসুদ্দিনের নামে প্রায় ২১ কোটি ৮৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা মো. সালাউদ্দীনের নামে প্রায় ২৭ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা মিরাজুল ইসলাম মিরাজের নামে প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মিরাজের স্ত্রী মিসেস শামীমার নামে প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এই সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা বলে জানিয়েছে দুদক। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ, জমি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রয় ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হতে পারে। এর আগে মহিউদ্দিন মহারাজের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এসব মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের উদ্যোগ নেয় দুদক। সেই ধারাবাহিকতায় মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা এবং সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
মহারাজ-মিরাজ
কাগজে ১২৮ সেতু, বাস্তবে নেই একটিও! মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের ২৩৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট  *  মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু   পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে টাকার খেলা: নামের ভুল থেকে মেডিকেল বাণিজ্য—প্রতি মাসে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বরিশাল অফিস :  “রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলো পথ”- এই বাক্যটি বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে। কারাগারের কর্তৃপক্ষও দাবি করেছেন, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতিটি বন্দিকে রাখা হয় নিবির পর্যবেক্ষণে। কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে দেখানো হয় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ। তবে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এর পুরো উল্টো চিত্র। পুরো কারাগার জুড়েই চলছে টাকার খেলা। যার যত বেশি টাকা, সে তত বেশি প্রভাবশালী বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। টাকাওয়ালারা ঘরের ন্যায় জেলখানাতেও বসবাস করেন আরাম আয়েশে। আর যাদের টাকা নেই তাদের হতে হয় কারাকর্তৃপক্ষের নির্যাতনের শিকার। তবে কারাগারের বাইরে এসব ঘটনা সহসা প্রকাশ করেন না কেউ। কারণ বেশির ভাগ হাজতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অপরাধী হওয়ায় তাদের বারবার যেতে হয় কারাগারে। কারাগারে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে আসামি ও কয়েদিরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারা ক্যান্টিনের খাবারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।কারাগারে বন্দি ও জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিরা জানান, জেলা কারাগারের ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ টাকায় বন্দিদের কাছে খাবার বিক্রি করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ ছাড়া সরকারি খাবারের নীতিমালার তোয়াক্কা না করে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়। অনুসন্ধানে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, কারাগার কর্তৃপক্ষ সব সময়ই সংবাদকর্মীদের এড়িয়ে চলেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেন। একজন হাজতি কারা গেট থেকে প্রবেশের পর থেকেই শুরু হয় কারাকর্তৃপক্ষের অর্থ আদায়ের সূচনা। এরপর জামিনে বের হওয়া পর্যন্ত হাজতিদের নিয়ে চলে তাদের অর্থ বাণিজ্য। নামের ভুল: হাজতিদের কারাগারে প্রবেশের আগে তাদের নাম, বাবার নাম ও ঠিকানা একটি খাতায় লিপিবদ্ধ করেন কারাকর্তৃপক্ষ। ওই খাতার নাম হলো পিসি বই। হাজতি মুখে তার পরিচয় সঠিক বললেও লেখার সময় ইচ্ছে করেই পিসি বইতে ভুল লেখা হয়। যেমন, এক জন হাজতির নাম যদি হয় ‘আব্দুর রহমান’ কারাকর্তৃপক্ষ তার নাম লিখবে ‘আব্দুর বহমান’। আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুর হলেও ‘র’ ও ‘ব’ এর বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয় ওই হাজতিকে। গেটের দায়িত্বে থাকা কারারক্ষীকে ৫শ’ টাকা দিলে ‘ব’ আবার ‘র’ হয়ে যায়। কিন্তু কেউ টাকা দিতে না পারলে জামিন আদেশের পরেও তাকে এক দিন অতিরিক্ত জেল হাজতে থাকতে হয়। টাকা দেওয়ার ব্যাপারেরও রয়েছে কঠিন শর্ত। কেউ বাইরে থেকে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবেন না। তাকে কারাগারের ভিতর থেকেই টাকা সংগ্রহ করে দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখার সর্তে বাংলানিউজকে এসব কথা জানিয়েছেন হয়রানির শিকার এক হাজতি। দ্বিতীয় ধাপ আমদানি: একজন হাজতি কারাগারে প্রবেশের পর তাকে প্রথম এক দিন আমদানিতে রাখা হয়। পরে তাদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও রয়েছে টাকার খেলা। যে কেউ চাইলেই আমদানিতে বেড পাবেন না। বেড পেতে হলে তাকে গুনতে হবে ৫শ টাকা। না হয় মেজেতে থাকতে হবে। আর কেউ যদি এক হাজার থেকে ১২শ টাকা দেয় তবে সে যত দিন ইচ্ছে আমদানিতে থাকতে পারবেন। কারাবিধি অনুযায়ী ১০ বছরের নিচের হাজতিদের যশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকার জোরে  অনেকই দিনের পর দিন আমদানি বসবাস করছে। জানা গেছে, প্রতিমাসে শুধু আমদানি থেকে কারাকর্তৃপক্ষের আয় হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। ওয়ার্ড: আমদানিতে এক দিন রাখার পরে হাজতিদের অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেও টাকা। অনেক অপরাধী এক জায়গায় বসবাস করায় প্রায়ই হাজতিতের মধ্যে মারামারি বাধে। মারামারি করার অপরাধে তাদেরকে কেস টেবিলে (কারাগারের বিশেষ বিচার ব্যবস্থা) হাজির করা হয়। তবে কারাগারের সুবেদার, জমাদ্দার ও সিআইডিদের টাকা দিলে পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধী। এর প্রেক্ষিতে উল্টো শাস্তি পেতে হয় নিরাপরাধীকে। যার ফলে কারাগারে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ। খাবার: জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারাকর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার  জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেওয়া হয়। বন্দিরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেন নি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দি জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেওয়া হয়না। তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছ খাওয়ানোর কথা থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই দেওয়া হয় পুকুরে চাষ করা পাঙ্গাস মাছ। আর যে মাংস খাওয়ানো হয় তাও পরিমাণে খুব কম। তবে টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন থেকে চড়া মূল্যে মাছ ও মাংস কিনে খেতে পারেন বন্দিরা। তাই যাদের সামর্থ আছে তারাই কারাগারে বসে ভালমন্দ কিনে খেতে পারেন। সদ্য জেল থেকে বের হওয়া এক হাজতি জানান, রমজান মাসে খাবারের মান ছিল খুবই নিম্নমানের। বন্দিদের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার বরাদ্ধ নেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পরে তা বাইরে বিক্রি করে দেয়। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারের প্রধান গেট থেকেই ভিতরে প্রবেশ করে এই সব নিম্নমানের খাবার। খাবার ভিতরে প্রবেশ করানোর সময় নিম্নমানের অভিযোগ তুলে তা গেটে আটকে দেয় গেট ইনচার্জ। এ নিয়ে চলে খাবার সরবরাহকারী ও গেট ইনচার্জের দেনদরবার। ঘণ্টাখানেক পর ওই খাবারই ভালোমানের হিসেবে কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করে। এই নিম্নমানের খাবার খেয়ে পেটের পিড়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ জন বন্দি শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গোসল: একটু ভালোভাবে গোসল করার জন্যও টাকা গুনতে হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের। গোসলসহ সব কাজ করার জন্য মাত্র একটি পুকুর রয়েছে কারা অভ্যন্তরে। তাই সব কাজ একটি পুকুরে করায় পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওই পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। তাই পাম্প বা বিভিন্ন সেলের সামনে গোসল করতে হয় বন্দিদের। কিন্তু সবাই এসব স্থানে গোসল করতে পারেন না। প্রতিবার গোসল করার জন্য যারা ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিতে পারছে শুধুমাত্র তারাই সেখানে গোসল করার সুযোগ পাচ্ছে। ক্যান্টিন: একাধিক বন্দি জানিয়েছেন, কারাগারের ক্যান্টিনে তেমন একটা দুর্নীতি হয়না। তবে যা হয় তাও কম নয়। এখানে রান্নার তেল খুবই খারাপ। একই পোড়া তেল দিয়ে তৈরি করা হয় নানা খাবার। এ ব্যাপারে কয়েক জন হাজতির সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘কেনই বা পোড়া তেল দিয়ে রান্না হবে না। ক্যান্টিন বরাদ্ধ নিতে এক কালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হয় কারাকর্তৃপক্ষকে। হাজতিদের টাকা: কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ টাকা বহন করা বড় ধরনের অপরাধ। তাই বাইরে থেকে কেউ টাকা দিতে চাইলে ব্যাংক হিসেবের ন্যায় পিসি বইতে টাকা জমা হয়। কারো টাকার প্রয়োজন হলে পিসি বইয়ের মাধ্যমে ক্যান্টিন থেকে লেনদেন করেন। আর এখানেই হলো আসল দুর্নীতি। কেউ একশ’ টাকা চাইলে তাকে দেওয়া হয় ৯০ টাকা। বাকি ১০টা কমিশন বাবদ কেটে রাখা হয়। দেখার ঘর: বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। তবে টাকা থাকলে সেখানেও রয়েছে স্বস্তি।কারারক্ষীদের পকেটে একশ’ টাকার দুটি নোট ঢুকিয়ে দিতেই  দেখা করার ব্যবস্থা করে দেয়  কারারক্ষী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারের দেখার ঘরের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়াসাবরা । তারাই টাকা সংগ্রহ করেন। মেডিকেল: কারাগারের সবচেয়ে বেশি হৃদয়বিধারক ঘটনা ঘটে মেডিকেলে। হাজত খেটে বের হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুরো মেডিকেল রয়েছে চিফ রাইটারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি যেভাবে চালান সেভাবেই চলে মেডিকেল। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেডিকেলের চিফ রাইটারের দায়িত্বে আছেন এক কয়েদি । অথচ কারাবিধান অনুযায়ী এক মাসের বেশি কোনো কয়েদি বা কারারক্ষী একস্থানে থাকতে পারবেন না। জানা গেছে, কারাবিধি অনুযায়ী যে রোগী আগে যাবে সে মেডিকেলে সিট পাবে। কিন্তু সেখানে চলে এর উল্টো। টাকার বিনিময়ে সুস্থদের সিট পাাইয়ে দেয় । আর প্রকৃত অসুস্থরা থাকেন মেঝেতে। তবে কারা পরিদর্শক দল পরিদর্শনে গেলে অসুস্থদের বেডে রাখা হয়। কিন্তু তারা চলে গেলে পূর্বের নিয়ম চালু হয়। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেলে ১৫ দিন থাকার জন্য ১৫শ টাকা এবং এক মাস থাকার জন্য ২৫শ টাকা দিতে হয়। নাম প্রকাশ না করার সর্তে একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, যে কেউ দিব্যি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার সার্টিফিকেট নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হয়। সেখানে বসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং মোবাইলে পর্যন্ত কথা বলতে পারেন। কারা চিকিৎসকের সঙ্গে আতাত করে সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেয় । এই সার্টিফিটের জন্য প্রতিজন বন্দিকে  দিতে হয় ৮শ থেকে এক হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিমাসে শুধুমাত্র মেডিকেল থেকে আয় হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। চিকিৎসক নিজেও এর একটি অংশ পান। মাদক: কারাগারের অভ্যন্তরে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট ইপম ও ক্লোনাজম। কারাঅভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সিআইডি জমাদ্দার ও মেডিকেল চিফ রাইটার এই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। কারণ সিআইডি সদস্যদের গেটে তল্লাশি করা হয়না। তাই কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই কারাঅভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করায় তারা। সিআইডি: দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে যেমন সিআইডি টিম রয়েছে। কারাগারেও এর বিকল্প নয়। কয়েদি ও কারারক্ষীদের মধ্যে থেকে বিশ্বস্ত লোক বাছাই করে সিআইডি হিসেবে নিয়োগ দেন জেলার নিজেই। তবে যে কাজের জন্য তাদের নিয়োজিত করা হয় তারা তা বাদ দিয়ে সব সময় অর্থ আয়ে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। জানা গেছে, কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখার জন্য ডিআইজি প্রিজনের পক্ষ থেকে একজন সিআইডি সদস্য রয়েছে বরিশাল কারাগারে। তবে এই সিআইডি সদস্য ডিআইজির কাছে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সব দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা গোপন করছেন। কারণ কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আতাত করে এখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পকেট ভারি করছেন তিনি। কয়েদিদের দুর্ভোগ: যে সব কয়েদী কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থাকেন তারাই রাজত্ব করেন পুরো কারাগার জুড়ে। আর যারা কারাকর্তৃপক্ষের মন মতো চলতে পারেন না, তাদের সইতে হয় নির্যাতন। মন মতো বলতে টাকা উপার্জন করিয়ে দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর তাদের কাজ করতে হয় ফুলের বাগান, সুইপার চালি, তাত চালি বা রান্না ঘরে। এমনই তথ্য দিয়েছেন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই কয়েদি। বিভিন্ন দিবসে বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন: বিভিন্ন সরকারি দিবস বা ঈদ-কোরবানীতে বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কারাঅভ্যন্তরে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এজন্য সরকার থেকে আলাদা বরাদ্ধ থাকলেও বন্দিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে কর্তৃপক্ষ। টাকার ভাগবাটোয়ারা: খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নামের ভুলসংশোধনী, আমদানি, ওয়ার্ড, গোসল, খাবার, ক্যান্টিন, হাজতিদের টাকার কমিশন, দেখার ঘর, মেডিকেল অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ১০ খেকে ১২ লাখ টাকা উপার্জন হয় অবৈধভাবে। সিনিয়র সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার থেকে শুরু করে হাসপাতালের চিকিৎসক, সুবেদার, কারারক্ষীরা পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পায়। কারাগারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: বরিশাল ছিল এক সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা। তাই এখানে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হতো ভয়ঙ্কর অপরাধীদের। ১৮২৯ সালে ২০ দশমিক ৩ একর জমির ওপর বরিশালে কারাগার নির্মাণ করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই এটি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে তৎকালীন সরকার। তবে জেলা কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার করা হলেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি একাংশও। দেশে বর্তমানে কেন্দ্রীয় কারাগারের সংখ্যা ১৩টি। হাসপাতাল আছে চিকিৎসক নেই: ৫৮ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রায় সব সময়ই শতাধিক বন্দি ভর্তি থাকেন। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী চিকিৎসক। চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বরিশাল সিভিল সার্জন অফিস থেকে একজন চিকিৎসককে প্রেষণে দেওয়া হয়েছে। কারাবিধি অনুযাীয় ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন বিশেষজ্ঞসহ ছয়জন চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে।বিভাগের অন্যান্য কারাগার থেকে অসুস্থ বন্দিদের বরিশালে পাঠানো হয়। অথচ এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া হাজতিরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে “রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ” এই নীতিবাক্য লেখা থাকলেও বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। কেননা কারাগারের অভ্যন্তরে টাকা দিলে নানা রকম সুবিধা মেলে। আর যার টাকা নেই তার কষ্ট ও দুর্ভোগের শেষ নেই। থাকার জন্য জায়গা পেতে টাকা দিতে হচ্ছে কারারক্ষীদের। খাবার পেতে টাকা দিতে হচ্ছে। কারাগারের ক্যান্টিনে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয় তা বাইরের অনিময়কেও হার মানায়। তাছাড়া স্বজনরা কারাগারে খাবার ও টাকা দিয়ে আসলে তাও সঠিক পরিমাণে হাজতিদের বুঝিয়ে দেয় না কারারক্ষীরা। কারাগারের মধ্যে সব থেকে বেশি চাহিদা হাসপাতালের। কিন্তু সেখানে যেতে কোন কোন ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তবে টাকা হলে সেটার প্রয়োজন হয় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ভিভিআইপিদের জন্য ইফতারে ভিআইপি মেন্যু, চতুর্থ শ্রেনীদের জন্য পানি ও তেহারী
বরিশাল সিটি করপোরেশনে ইফতারে বৈষম্যের অভিযোগ: ভিভিআইপিদের জন্য ইফতারে ভিআইপি মেন্যু, চতুর্থ শ্রেনীদের জন্য পানি ও তেহারী

 সমালোচনায় বরিশাল সিটি করপোরেশন মামুনুর রশীদ নোমানী:  ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র মাস মাহে রমজান। এই মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ জাগতিক ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সংযত রাখার শিক্ষা গ্রহণ করে এবং আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। রমজানকে সহনশীলতা, সংযম ও মানবিকতার মাস হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এই মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইফতার ও ইবাদতের মাধ্যমে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। অর্থবান মানুষরা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা পান। কিন্তু এমন একটি সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিল নিয়ে উঠেছে বৈষম্যের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, ইফতারের মেন্যুতেই ধনী ও গরিব তথা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্র এবং ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানান, গত ৪ মার্চ বুধবার শহীদ মিনার সংলগ্ন সিটি করপোরেশনের অডিটোরিয়ামে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের জন্য পরিবেশন করা হয় ডাবের পানি, শরবত, মাম পানি, মাছ ফ্রাই, মুরগির টিক্কা, জুস, কাচ্চি বিরিয়ানি, খেজুর, বুট, পিয়াজু, বেগুনি ও মুড়িসহ নানা ধরনের খাবার। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য ইফতারের মেন্যুতে দেওয়া হয় শুধু একটি এসএমসি জুসের প্যাকেট, একটি বোতল মাম পানি, কিছু খেজুর এবং একটি তেহারির প্যাকেট। আরও অভিযোগ উঠেছে, সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের  ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এ ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “ইফতারের মতো একটি পবিত্র আয়োজনেও এ ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।” আরেক কর্মকর্তা বলেন, “তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য যে মেন্যু দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে আসলে বলার মতো ভাষা নেই।” রমজান মাসে সামাজিক সমতা ও সহমর্মিতার যে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিপন্থী এমন আয়োজন নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকেই। “ইফতারে ভাঙি রোজা, ভাঙি বৈষম্য”—এই স্লোগানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। সমালোচকদের মতে, সুবিধাপ্রাপ্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না কমিয়ে বরং আলাদা মেন্যুর মাধ্যমে শ্রেণি বিভেদকে আরও প্রকট করে তুলেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম
পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট

মামুনুর রশীদ নোমানী :  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলা কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা এক বিশাল দুর্নীতি সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ বছরে জেলার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তত ১,৬৪৭ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এই মহোৎসবের অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের । কাগজেই শেষ ১,০০০ প্রকল্পের কাজ অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর জেলায় হাতে নেওয়া ১,৮১০টি প্যাকেজের (রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট) মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যেগুলোর সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে [১.৫.৬]। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম ও মহিউদ্দিন মহারাজের রাজনৈতিক প্রভাবে এবং এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজ না করেই শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম  এখনও বহাল তবিয়তে   আনোয়ারুল ইসলামের ‘আলাদিনের চেরাগ’ দুদকের প্রাথমিক তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম পিরোজপুর প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার ওপর দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র:     বিনা কাজে বিল পরিশোধ: ৩৭০টি স্কিমের নথি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হয়েছে ।     ডাবল পেমেন্ট: একই প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত বিল তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ।     গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত: এই দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যে জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খানসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৩ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৫ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে । বর্তমান অবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে এই দুর্নীতির ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৮টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে । পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাত্তারের ওপরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, এই লুণ্ঠনের সাথে জড়িত রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে । পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ এখন এই বিশাল অর্থ আত্মসাতের সুষ্ঠু বিচার এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। পিরোজপুর এলজিইডির বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও কিছু সুনির্দিষ্ট এবং গভীর তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুর্নীতির ধরন ও কৌশলের বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করত :      ভূতুড়ে বিলিং: কোনো কাজ শুরু হওয়ার আগেই ১০০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পিরোজপুরের নাজিপুর-বৈঠাকাঠা এবং নাজিপুর-চর রঘুনাথপুর সড়কে কোনো কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে ।     নথি গায়েব ও জালিয়াতি: তদন্তে দেখা গেছে, ৩৭০টি স্কিমের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা সঠিক ফাইল নেই । হিসাবরক্ষক এবং প্রকৌশলীরা যোগসাজশ করে একই কাজের বিপরীতে বারবার (ডাবল পেমেন্ট) বিল ইস্যু করেছেন ।     রাজনৈতিক ছত্রছায়া: সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের পরিবারের মালিকানাধীন আটটি ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ১,০৭৯ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয় ।  ২. অভিযুক্তদের তালিকা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে ২৩ থেকে ২৭ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করেছে ।     গ্রেপ্তারকৃতরা (১৫ এপ্রিল ২০২৫): জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা  মোহাম্মদ মহসিন, সাবেক কর্মকর্তা  আলমগীর হাসান,এসএএস সুপার  মাসুম হাওলাদার ও নজরুল ইসলাম এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খান ।     চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫): দুর্নীতির দায়ে ৫ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সদর, নাজিরপুর ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক প্রকৌশলী  মোর্শেদ সরকার,জাকির হোসেন মিয়া এবং বদরুল আলম ।     দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী  মোহাম্মদ সাত্তার এবং পিরোজপুর প্রজেক্টের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামসহ ১৩ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ।  ৩. অর্থের অংক ও প্রকল্পের পরিমাণ     মোট অনিয়ম: প্রাথমিক তদন্তে ১,১০০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও ১৭টি বড় প্রকল্পে সব মিলিয়ে অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১,৬৪৭ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।     অসমাপ্ত কাজ: পিরোজপুর এলজিইডির অধীনে ১,৮১০টি প্যাকেজের মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি কাজ বন্ধ হয়ে আছে, যার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ ।  ৪. আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত  সম্পদ অর্জনের অভিযোগ হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিনি পিরোজপুর প্রকল্পের ফান্ডের রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবন, সাভারে জমি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আনোয়ারুল ইসলামের সম্পদের  তালিকা দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সাধারণ হিসাবরক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবারের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:     স্থাবর সম্পত্তি:         রাজধানীর উত্তরা ও সাভারে একাধিক বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট।         নিজ এলাকায় এবং ঢাকার আশেপাশে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ও কৃষিজমি।     অস্থাবর সম্পত্তি:         বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে নিজের এবং স্বজনদের নামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) ও সঞ্চয়পত্র।         বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ।     অর্থ পাচার: অনুসন্ধানে তার অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে পাচারের বিষয়েও তথ্য যাচাই করছে দুদক [১.২.৩]।  দায়েরকৃত মামলার আইনি ধারা ও অভিযোগসমূহ দুদক ইতিমধ্যে পিরোজপুর এলজিইডি দুর্নীতিতে ২৩ থেকে ২৭ জনকে আসামি করে ৮টি পৃথক মামলা করেছে । আনোয়ারুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণত নিচের ধারাগুলোতে মামলা সাজানো হয়েছে: ১. দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা:     ২৬(২) ধারা: সম্পদের তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা।     ২৭(১) ধারা: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগদখলে রাখা ।  ২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা:     ৪০৯ ধারা: সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ)।     ৪২০ ধারা: প্রতারণা ও জালিয়াতি।     ৪৬৭ ও ৪৭১ ধারা: ভুয়া বিল-ভাউচার এবং জাল নথি তৈরি করে তা আসল হিসেবে ব্যবহার করা । ৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা:     সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো জন্য অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ।  ৪. মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২:     অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর বা রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করা । বর্তমান অবস্থা: পিরোজপুর এলজিইডির অপর হিসাবরক্ষক এ কে এম মোজাম্মেল হক খান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালীন মারা গেলেও আনোয়ারুল ইসলাম এবং তার সহযোগী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।  বর্তমানে তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে যেন তিনি বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে পালাতে না পারেন ।   

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আনোয়ারুল ইসলাম
এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও বহাল তবিয়তে

মামুনুর রশীদ নোমানী: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত অফিস করছেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ নিয়ে সহকর্মীদের মাঝেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।  স্বৈরশাসক হাসিনা পালালেও তার দোসর এলজিইডির লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী  শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট। সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে।আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন  আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল । বিপুল সম্পদের অভিযোগ সূত্র মতে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে— স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় ময়মনসিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি একটি বহুতল ভবনে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্যবান জমি ব্যক্তিগত দামী গাড়ি ব্যবহার স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুদকের মামলা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান থাকলেও তা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হবে। আত্মগোপন ও সম্পদ পাচারের আশঙ্কা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আনোয়ারুল ইসলাম মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া, সম্প্রতি তার বড় ছেলেকে উচ্চ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের দাবি সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
মিজ সানজিদা শারমিন
বরিশাল কর বিভাগের কম্পিউটার অপারেটরের সম্পদের পাহাড়

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : মিজ সানজিদা শারমিন।ডাক নাম লাভলী।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করেন বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ে।যে বেতন পান, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলার কথা।কিন্তু হয়েছে উল্টো।নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে অফিসে যান।লেটেস্ট মডেলের প্রিমিও গাড়ি।বেতনের অর্ধেক টাকা দেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে।স্বর্ন কেনা তার সখ।পার্লারে খরচ করেন দু হাতে।তার পরেও এই চাকরি করেই গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।গাড়ি-বাড়ি,জমি-জমা,ফ্ল্যাটসহ রয়েছে অনেক সম্পদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে,অর্ধ কোটি টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট নিয়েছেন অক্সফোর্ড মিশন রোডে। ২০ বছরের চাকরিজীবনে তার রয়েছে জমি,ফ্ল্যাট,স্বর্নালংকার,গাড়ি, জমিসহ নামে বেনামে প্রচুর সম্পদ।চড়েন প্রায় অর্ধকোটি টাকার দামের প্রিমিও গাড়িতে। দু’হাতে কামাই করছেন।জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়।ঘুস ,দুর্নীতি-অনিয়ম,অনৈতিক ও ফাইল ঢিল করার মাধ্যমে এসব অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে সুত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সানজিদা শারমিন বলেন,আমি গাড়ি ক্রয় করেছি এটা সত্য।আমার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এটাও সত্য।তবে সম্পদের পাহাড় গড়ার কথা অস্বিকার করেন। অপর একটি সুত্র জানিয়েছে,ঘুসের বিনিময়ে কর ফাকিঁ দেয়া ব্যবসায়ী,ডাক্তারসহ বিভিন্ন লোকের ফাইল ঢিল করতো সানজিদা শারমিন। কর অঞ্চল অফিসে ঘুসের রানী হিসেবেও তিনি এক পরিচিত নাম। কর অফিসের নাম প্রকাশে এক কর্মকর্তা জানান,সানজিদা শারমিন দুর্নীতিবাজ একজন তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী।এছাড়া কর অফিসের গোপন নথি ফাসঁ করার অভিযোগ রেয়েছে তার বিরুদ্ধে।এত ছোট চাকরি করে এত বিশাল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কর বিভাগের ভাবমূ্র্তি নষ্ট করায় তার বিরুদ্ধে কর বিভাগ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(ঘ) অনুযায়ী দুর্নীতি পরায়নতার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।ব্যবস্থা না নেয়া হলে সুনাম ক্ষুন্ন হবে কর বিভাগের। ৪০ হাজার টাকা বেতনের সরকারি কর্মচারীর বরিশালের অক্সফোর্ড মিশন রোডে অর্ধ কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্রিমিও গাড়ি কেনা,নামে বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ,এফডিআর,সঞ্চয় পত্র ,স্বর্নালংকার এবং অনেক জমি জমার খবর নিয়ে বরিশাল কর বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও চলছে নানা আলোচনা। এসব বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী  অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন আইনে বিচার করতে হবে। যদি বিচার না করা যায়, তাহলে সমাজে এ ধরনের অপরাধীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
রতন মোল্লা
বরিশাল কর অফিসে কে এই রতন মোল্লা: হাতে আলাদিনের চেরাগ,পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সম্পদ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে ৩ ভাইয়ের রাজ্যের অঘোষিত রাজা।বরিশালের সাবেক বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ কর কর্মকর্তা নেফাউল ইসলাম সরকারের দোসর মোঃ রতন মোল্লা।স্টেনো টাইপিস্ট পদে কর্মরত।তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও নিজ স্বার্থ আদায়ে কর কমানো -বাড়ানোসহ তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে করের যাবতীয় কার্য্যক্রম সম্পন্ন করেন।এক সময়ের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী কর বিভাগে স্টেনো টাইপিস্ট পদে চাকুরী লাভের পরেই ভাগ্য খুলে যায়। এখন তিনি অসংখ্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক,বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর, কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র,জায়গা-জমি,বহুতল ভবনের মালিক।আলাদিনের চেরাগও যেন হার মানিয়েছে রতন মোল্লার কাছে।এখন তিনি একজন ধনকুব।সহায়-সম্পদে ছুয়েঁছেন পাহাড়। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর কমিশনার ও এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের করের ফাইল আটকিয়ে জিম্মী করে অনৈতিকভাবে ঘুস আদায় করাই যেন রতন মোল্লার পেশা।তিনি কাউকে থোরাই কেয়ার করেন না।ঘুস আদায়ে বেপরোয়া । কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলার কারনে একজন প্রিয় কর্মচারীতে পরিনত হয়েছেন বরিশাল কর বিভাগে।একই কর্মস্থলে সার্কেল -২ ও সার্কেল -৮ এ রয়েছেন ১০ বছর।সকলের বদলী হলেও রতন যেন কর ভবনের স্থায়ী কর্মচারী।তার বদলী না হওয়ায় কর বিভাগের সকলেই বিস্মিত। কে এই রতন মোল্লা : অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয় সার্কেল-৮ এ স্টোনো পদে মোঃ রতন মোল্লা চাকুরী নেয়ার পূর্বে বরিশাল নগরীর সদর রোড সংলগ্ন বাটার গল্লির একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরী করতেন। এ সময় তিনি জমির দালালিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। কর বিভাগে চাকুরী হবার পরও পূর্বের অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। বরিশাল পূর্ব বগুড়া রোড ‘সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানে শেয়ার রয়েছে। যেভাবে জড়িয়েছে দুর্নীতিতে : রতন মোল্লা।স্টোনো টাইপিস্ট পদে থাকায় অফিসের নির্দেশে তার দায়িত্ব বিভিন্ন ক্লিনিক,ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ডাক্তারদের কর এর তালিকা করার। তালিকা অনুযায়ী রতন মোল্লা সকল ডায়াগনস্টিক ,ক্লিনিক থেকে সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন। বরিশালের ছোট-বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডাক্তারদের আয়ের অনুকূলে কর দেয়ার সঠিক তালিকা করেন না। অফিসের বড় বড় ফাইলের ট্রাক্স কমানো, অডিটের কথা বলে ব্যবসায়ীদের হয়রানী, কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বদলি বাণিজ্য করাই যেন তার পেশা । বরিশালে কর অফিসে রতনকে অর্থ দিলে নিয়মের কাজ অনিয়মে হয়, আবার অনিয়মের কাজ নিয়মে হয়। দীর্ঘদিন ধরে একতরফাভাবে এ সব কার্যক্রম করে আসছেন রতন মোল্লা। একাধিক স্থানে ক্রয় করেছেন জমি, হয়েছেন ভবন মালিক। রতন মোল্লার যত সহায় সম্পদ : কর অফিসে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও রতন মোল্লার সম্পত্তি আকাঁশছোঁয়া।তিনি বরিশাল নগরীর সাউথ ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মালিক,গ্রামের বাড়ি চরফ্যাশনে ৫ একর জায়গা ক্রয় করেছেন। বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে ২ কোটি টাকা দিয়ে জায়গা ক্রয় করেছেন। সেখানে ৫ তলা ভবন নির্মাণাধীন। এছাড়া চরফ্যাশন শহরে একটি দ্বিতল ভবনের কাজ নির্মাণাধীন। রতন মোল্লা সার্কেল -২ ও সার্কেল-৮ এই দুই সার্কেলে কর্মরত থাকাকালিন কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । যার বড় অংশ অফিসারদের দিয়ে বাকি অংশ নিজে নিয়েছেন। তিনি তার শ্বশুর বাড়ি ভোলায় শ্বশুর এবং শ্বাশুড়ির নামে ১ কোটি টাকায় ৩০ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেছেন। অজপাড়াগায়ের কৃষক বাবার সন্তান স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার চালচলন যেন মস্তবড় অফিসার। বরিশাল সোনালী ব্যাংক এর কর্পোরেট শাখা, সিএন্ডবি রোড শাখা, জনতা ব্যাংক-বাংলা বাজার শাখায় তার ২ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। নিজ ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে।কর আইনজীবীদের থেকে করদাতাদের ফাইল নিয়ে তিনি ঢিল করেন।কর বিভাগে তিনি একজন অঘোষিত কর আইনজীবীও। রতন মোল্লার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ : মোঃ রতন মোল্লা। একজন স্টেনো টাইপিস্ট, যিনি বর্তমানে সার্কেল-৮ কর অঞ্চল বরিশালে কর্মরত। ২০১৩ সালে নিয়োগের পর থেকে তিনি একমাত্র স্টেনো-টাইপিস্ট যিনি বরিশালের সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ ব্যতীত অন্য কোনো সার্কেলে চাকুরি করেননি। এ দুই সার্কেলে কর্মরত থাকার কারণে সে সবসময় হেডকোয়ার্টার এডমিন ও টেকনিক্যাল এর সাথে থাকেন। যে কারণে তার দুই সার্কেল ব্যতিত অন্য কোথাও পদায়ন হয় না। এই দুই সার্কেলে বেশিরভাগ ফাইলই তার দখলে। এই দুই সার্কেলে বড় বড় করদাতাদের সাথে যোগসাজসে অনেক ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ফাইল গায়েব করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । বড় বড় দাবি নিস্পত্তি করেন বড় অংকের ঘুস নিয়ে। বিভিন্ন ডাক্তারদের ফাইল অডিটের ভয় দেখিয়ে তিনি নিয়মিত হারে চাঁদাবাজি করছেন। ডাক্তাররা সংশ্লিষ্ট সার্কেলের অফিসারের নাম না জানলেও স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লার নাম মুখস্থ।এ বিষয়ে বরিশালের কর আইনজীবীরা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর কমিশনারকে অবগত করানোর পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে তিনি বহাল তবিয়তে থেকে যান বলে একাধিক আইনজীবী জানিয়েছে। আরও পড়ুন: বরিশাল কর অঞ্চল অফিসে ৫ ভাইয়ের রাজত্ব সম্প্রতি হেমায়েত উদ্দিন নামে একজন এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট রতন মোল্লার দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে লিখিত আবেদন করেছেন।আবেদনে তার ভয়ংকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বরিশালের বেশিরভাগ ডাক্তারদের ফাইল করেন মাহমুদুর রহমান তপু নামক একজন এ্যাডভোকেট। তার বোনের বিবাহে সহযোগিতা করে রতন মোল্লা তার খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন। তপু এবং রতন মোল্লা যোগসাজসে বেশিরভাগ ডাক্তারদেরকেই বিপদগ্রস্থ করেন। কোনো কোনো ডাক্তারদের অফিসে ডেকে বড় অঙ্কের ঘুসের বিনিময়ে দফারফা করেন। এক্ষেত্রে রাজস্বের পরিবর্তে সবটাই তাদের নিজস্ব। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়,তদন্ত করলেই যার সত্যতা পাওয়া যাবে। রতন মোল্লার ক্ষমতার প্রভাবে তার ভাই নাইটগার্ড ইব্রাহিম দীর্ঘদিন যাবৎ সার্কেল-১৬ লালমোহনে কর্মরত। তার আরেক ভাই লিটন মোল্লা নোটিশ সার্ভার, কর সার্কেল-১৯, গলাচিপায়। রতন মোল্লা ও তার ভাই ইব্রাহিম মোল্লা, লিটন মোল্লাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি -অনিয়মের ব্যাপারে ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ আতাহার উদ্দিন।এছাড়া  রতন মোল্লার বিরুদ্ধে কর আইনজীবীগন রেজুলেশন করে অভিযোগ দিয়েছিলেন কর কমিশনারের নিকট।সর্বশেষ চলতি বছরের ১০ আগষ্ট এনবিআরের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জুলাই বিপ্লব
জুলাই হত্যা মামলায় জুলাই যোদ্ধা রাজিব, ৬ মাস কারাভোগের পরও মেলেনি মুক্তি

দেশকে বৈষম্যমুক্ত ও নিরাপদ আর্থ-সামাজিক কাঠামোয় গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন পুরান ঢাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা করলেও তার ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম দুর্দশা। বর্তমানে তিনি একটি আলোচিত হত্যা মামলায় জড়িয়ে হয়ে পড়েছেন চরম হয়রানি ও অনিশ্চয়তার শিকার। আন্দোলন থেকে আসামির খাতায় জানা গেছে, পুরান ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন রাজিব। আন্দোলনের সময় পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও তার দুর্ভোগ থামেনি। উত্তরায় একটি হত্যা মামলায় তাকে ৪৯ নম্বর আসামি করা হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ২০০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজিবের দাবি, তিনি কখনো উত্তরা এলাকায় যাননি। তার বাসা বংশাল এলাকায় হলেও তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় আসামি করা হয়। ৬ মাস কারাভোগ ও আর্থিক ক্ষতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৬ মাস কারাভোগ করেন রাজিব। জামিন পেতে ব্যয় হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তার ১৮টি দোকান (প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের) দখল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক মর্যাদা ও সন্তানের শিক্ষাজীবন—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। থানায় ডেকে হুমকি ও লকআপে আটকের অভিযোগ ২০২৫ সালের জুনে চকবাজার থানার এক এসআই তাকে থানায় ডেকে দোকানের চাবি দাবি করেন। চাবি না দিলে ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। তিনি সেই হুমকি রেকর্ড করলে তাকে লকআপে আটক রেখে রেকর্ড মুছে ফেলা হয় বলে দাবি করেন। পরে যুবলীগ পরিচয়ে হুমকি পেয়ে থানায় অভিযোগ জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ‘জুলাই যোদ্ধা’ উল্লেখ ২০২৫ সালের ২২ জুলাই আইনজীবী পরিচয়ে ডেকে তাকে আদালতপাড়ার একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রাজিব। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রযুক্তিগত তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে একাধিক কর্মকর্তা মত দেন। এমনকি এক প্রতিবেদনে তাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রতিবেদনেই নির্দোষ ৩ জানুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বংশাল থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন— রিয়াজ উদ্দিন রাজিব কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি ৫ জানুয়ারি আদালতের এক আদেশে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ কমিশনার তার দোকান-সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। এর জের ধরেই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। থানার ওসির বক্তব্য বিষয়টি জানতে চাইলে একে মাহফুজুল হক, অফিসার ইনচার্জ, বংশাল থানা বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর রিয়াজ উদ্দিন রাজিবকে থানায় ডাকা হয়নি। আগের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে হয়রানির বিষয়টি উল্লেখ করে ২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজিব। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার আতঙ্কে বাসায় অবস্থান করতে পারছেন না। অনিশ্চয়তায় এক ‘জুলাই যোদ্ধা’ পুলিশের প্রতিবেদন তাকে নির্দোষ বললেও মামলা থেকে অব্যাহতি মিলছে না। ফলে একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভার—দুইয়ের মাঝেই অসহায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রিয়াজ উদ্দিন রাজিব। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী হয়েও আজ তিনি নিজ দেশে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রশ্ন উঠছে—একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ কবে মুক্তি পাবেন কল্পিত মামলার দায় থেকে?

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
জামানুর রহমান
ফরিদপুরে বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জামানুর রহমান পুনর্বহাল : আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মী হয়রানি ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে আসায় বর্তমানে প্রশাসনিক ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ, যেমন আর্থিক অনিয়ম, নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার—এসব বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।   আরথিক অনিয়মের অভিযোগ: অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, পাবনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে, সুজানগরের ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পাইপড ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন’ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন এবং আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।   নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ: ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয় (নম্বর: ১৪২/২০২৩)। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অনৈতিক আচরণ, নারী সহকর্মীদের হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠে এসেছে।   পুনরায় স্বপদে ফিরে আসা এবং কর্মকর্তাদের ক্ষোভ: অর্থ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে, তদন্ত শেষে তাঁকে পুনরায় স্বপদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যার ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, ফরিদপুর সার্কেলে তাঁর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে।   খুলনায় যৌন হয়রানির অভিযোগ: সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনায় তাঁর পূর্ববর্তী দায়িত্বকালীন সময়ে একাধিক নারী কর্মচারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি ফরিদপুরে পদায়িত থাকলেও খুলনায় অবস্থান করে কর্মচারীদের ওপর নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করতেন বলে জানা গেছে।   এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি, এবং এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি। একইভাবে, প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল-এর মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি: প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর, ফরিদপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি দ্রুত এবং আইনানুগ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী যে, এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে এগোতে পারবে প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশালে আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বরিশালে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ: আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বাংলাদেশ ব্যাংক) গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর প্রক্রিয়ার সময় তার উপদেষ্টা ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে ‘মব’ বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বের করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা সূত্রপাত হয় মনসুরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মকর্তাদের অসন্তোষ এবং প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে।   বাংলাদেশ ব্যাংকে পরিস্থিতি গভর্নর থাকার সময় মনসুরের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ কয়েকজন কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন গভর্নর তিনজন কর্মকর্তাকে বদলির নোটিশ দেন। অভিযোগ, প্রতিবাদ সভার একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তারা মনসুরের পিএস ও অন্য দুই কর্মকর্তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধাক্কা, বাঁধা, অশ্লীল ভাষার মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বের করা হয়েছে। পরে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর তিন কর্মকর্তার বদলির আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুল ইসলামকে হেড অফিস থেকে সদরঘাট শাখায় বদলি করা হয়েছে।   বরিশালে আদালতে বিশৃঙ্খলা বরিশাল জেলা আদালতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের জামিন দেয়ায় হট্টগোল এবং আদালতের এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী সাদিকুর রহমান লিংকনসহ একাধিক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লিংকনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। হাইকোর্টও ওই ঘটনায় মামলার পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং ১১ মার্চ শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টে হামলা ও ভাঙচুর বরিশালের ঘটনায় মানববন্ধন পালনকারী আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের কক্ষে হামলা চালানো হয়। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যদিও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   বাসসেও অস্থিরতা নতুন সরকারের শপথের পর ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসে অস্থিরতা দেখা দেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে সরানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, কর্মকর্তারা মব সৃষ্টি করে তাকে সরানো হয়।   বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীদের মন্তব্য অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “মবের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকার এটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।” মানবাধিকার কর্মী সাইদুর রহমান উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল আদালত, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের কক্ষে হামলা—সবই মবের অন্যরূপ।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সরকারকে মব প্রতিরোধে সতর্ক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বরিশালের ঘটনায় আইন প্রয়োগের উদাহরণ অন্য ক্ষেত্রেও অনুসরণীয়। মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকারের সময়ে এই ধরনের ঘটনার বৃদ্ধি এবং আইনের দ্রুত প্রয়োগে তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। বর্তমান সরকারের সদিচ্ছা ও আইনগত পদক্ষেপই মব নিয়ন্ত্রণে মূল চাবিকাঠি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম
আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে বিএনপিতে! বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের দলবদল নিয়ে তোলপাড়

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  বরিশাল নগরীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বরিশাল জিলা স্কুল-এর প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াত হয়ে সর্বশেষ বিএনপির ছায়াতলে যাওয়ার অভিযোগে তাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। দলবদলের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, গত সতেরো বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি নিজেকে শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শের সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একাধিক বই রচনা করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রকাশ্যে নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সদর পাঁচ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার-এর বাসভবনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।  সরকারি প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ বরিশালে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নবনির্বাচিত এমপিকে এভাবে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানাননি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, শপথ গ্রহণের আগে এ ধরনের শুভেচ্ছা প্রটোকলবিরোধী। সমালোচকদের অভিযোগ, আগেভাগেই রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন নুরুল ইসলাম। অতীতের বিতর্ক বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে তিনি কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগটি করা হয়েছিল বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা-য়। যদিও নুরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষিত আছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। দুর্নীতি ও বদলির ইতিহাস স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী পরিচয় দিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে বদলি করে পাঠানো হয় ঝালকাঠি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়-এ। সেখানেও অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুনরায় বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি। জামায়াত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জামায়াত-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘রেটিনা কোচিং সেন্টার’-কে জিলা স্কুলের কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দেন পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। বিষয়টি নিয়ে তখন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতার বক্তব্য এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, “স্বৈরাচারি আমলে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া কেউ যদি খোলস পাল্টে অবৈধ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। এরা শিক্ষক রূপে ব্যবসার ধান্দা করে, না হলে সবসময় ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় খুঁজত না।” আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতা, জামায়াত সমর্থন এবং সর্বশেষ বিএনপি নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা—এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগে নুরুল ইসলাম এখন বরিশাল নগরীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষাঙ্গনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। কে এই বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন বহুল সমালোচিত ও বিতর্কিত শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জড়িত এই শিক্ষকের নিয়োগে শিক্ষার্থী-অভিভাবক মহলে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পরিবর্তে তিনি সবসময় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে তৎপর ছিলেন। ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় আলোচিত হয়ে পড়েন তিনি। এমনকি এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনাও তাকে বদলির মুখে ঠেলে দেয়। ক্ষমতার প্রভাব খাটানো বিভিন্ন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় টিকে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও ঝালকাঠিতে আমির হোসেন আমুর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নানা অনিয়ম আড়াল করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বই লিখে তিনি ‘মুজিববাদী প্রচারক’ হিসেবে পরিচিতি নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত ঘরানার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পরপরই তিনি তিনটি ক্লাস বন্ধ রেখে রোদে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেন। অডিটরিয়াম থাকা সত্ত্বেও এমন আয়োজন করায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এর আগে ঝালকাঠিতেও একইভাবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে সংবর্ধনা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল জিলা স্কুলে ছাত্রদের কাছ থেকে আইসিটি বাবদ মাসিক টাকা নেওয়ার পাশাপাশি এককালীন অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্কুল উন্নয়নের নামে ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ মিলেছে। নিয়োগ পরীক্ষার সম্মানী আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরিসহ নানা অভিযোগে বারবার সমালোচিত হয়েছেন তিনি। আন্দোলন দমনে ভূমিকা ২০২৪ সালের আগস্টে যখন দেশব্যাপী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন চলছিল, তখন ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনরত নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিতে না দিতে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে জোর করে বিদ্যালয়ে আটকে রাখেন। সমালোচনার ঝড় বিগত আওয়ামী সরকারের দালাল খ্যাত নুরুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিয়ম-নীতির কোনরুপ তোয়াক্কা না করে সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান এর সাথে গোপনে স্ব-পরিবারে হজ পালন করেন। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানকালীন সময়ে অর্ধ বেতন এর নিয়ম-নীতিকে লঙ্ঘন করে তুলেছেন পুরো মাসের বেতন। সরকারের অনুমতি ছাড়া হজ পালন করার বিষয়ে ইসলামের ধর্মীয় ব্যাখ্যা জানতে চাইলে জিলা স্কুলের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি আব্দুল কাদের কাশেমী বলেন, সরকারি চাকুরীজীবিরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত হজ পালন করলে স্পষ্টতই গুনাহের কাজে শামিল হবেন। এমনকি হজের তথ্য গোপন করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করলে সেই টাকাও হারাম বলে গন্য হবে। এদিকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দূর্নীর্তির তথ্য রয়েছে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেছেন স্কুল কম্পাউন্ডের শতবর্ষী গাছ। এছাড়াও দেড় লক্ষ টাকার কম্পউিটার, অত্যাধুনিক টেলিভিশন আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল ইসলাম বলেন, যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের সাথে দলীয় কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে হয়। এছাড়া কতিপয় মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।   উল্লেখ্য, জিলা স্কুলের নতুন ছয়তলা ভবন করার জন্য সীমানা নির্ধারনী সভা হয়। ওই সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিতা রানি হালদার, সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব, মিজানুর রহমান খান ও সিনিয়র শিক্ষক ফারুক আলম অভিযোগ করেন সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম স্কুল কম্পাউন্ডের পিছনের শতবর্ষী ৩ টি রেইনট্রি গাছ বিনা টেন্ডারে বিক্রি করেন। জানা গেছে, ২০২৩ সালে রমজান মাসের ছুটি চলাকালীন সময়ে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় ওই গাছ তিনটি বিক্রি করে দেন। এ বিষয়ে স্কুলের অফিস সহায়ক (নৈশ প্রহরী/দাড়োয়ান) আঃ জব্বার জানান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সময়ে গাছগুলো কাঁটা হয়েছে। শুনেছি টেন্ডার ছাড়াই গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে স্কুলের ফান্ড থেকে লাখ টাকা মূল্যের স্যামসাং ব্রান্ডের একটি টেলিভিশন ক্রয় করার কিছুদিন পর মেরামতের কথা বলে টিভিটি বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্কুল থেকে বদলি হয়ে গেলেও টিভি আর ফেরত দেয়নি তিনি। এছাড়াও স্কুলের ফান্ড থেকে ১টি ল্যাপটপ কম্পিউটার, ১টি ডেক্সটপ কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার মোট একলাখ বায়ান্ন হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করে কিন্তু ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার দুইটি আর স্কুলে জমা দেয়নি নুরুল ইসলাম। অন্যদিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিফিন বাবদ খরচেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিফিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে কম দামে টিফিন সরবরাহ করা হতো এবং মাস শেষে নিজের ইচ্ছামত বাড়িয়ে টিফিনের বিল-ভাউচার করে অর্থ আত্মসাত করারও অভিযোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে ঝালকাঠি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছিল তাকে। এর আগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি নারী কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ঝালকাঠীর এক অভিজাত হোটেলে নারীসহ ধরা পড়লে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পালিয়ে এসে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছিলেন। পরে তাকে বরগুনা সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। কিন্তু বরগুনাতেও তিনি একই ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাকে দুই দিন অবরুদ্ধ হয়ে থাকতে হয়েছিল। বরগুনাতে নানা অঘটনের জন্ম দিয়ে কয়েক মাস পরই বদলি হন মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাদারীপুরে অবস্থানকালে, নুরুল ইসলামের দুর্নীতি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা শাজাহান খানের সাথে পারিবারিক সখ্যতা গড়ে তুলে নাম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। তবে তার এই অনিয়ম ও দুর্নীতি স্থানীয় জনগণের চোখ এড়াতে পারেনি। তাদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। এরপর ২০২১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদান করেন। বরিশাল জিলা স্কুলে যোগদানের পর সুচতুর নুরুল ইসলাম সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ ফারুকের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। এরপরই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নানা অনিয়য়ে জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকসহ সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে প্রতি মাসে আইসিটি বাবদ ২০ টাকা করে আদায় করার পরেও এককালীন ছাত্র প্রতি ২৪০ টাকা আদায় করতেন যা সম্পূর্ণরূপে আইন পরিপন্থী এবং এই টাকার হিসাব কোন শিক্ষকই তখন জানতেন না। এছাড়াও ভুয়া বিল করে স্কুলের উন্নয়নের নামে বিভিন্ন ফান্ডের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী খরচ করার বিধান থাকলেও তিনি ওই বিধানের তোয়াক্কা না করে লোক দেখানো কিছু কাজ করে বেশিরভাগ টাকা পকেটস্থ করেছিলেন এবং শিক্ষকদের জোরপূর্বক ভাউচারে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। স্কুলের ক্রীড়া ফান্ড থেকে নিজের ও পরিবারের জন্য মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এমনকি বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারনে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মাসে বরিশাল-২ আসনের (উজিরপুর-বানারীপাড়া) সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারের নির্দেশে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত রাখায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। যা বিভিন্ন পত্রিকায় খবরের শিরোনাম হয়েছিল। এছাড়াও বেসরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সরবরাহের অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে নুরুল ইসলমের বিরদ্ধে । এছাড়াও স্কুলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী না রেখে তাদের সম্মানী নিজেই আত্মসাত করতেন। এসব অপকর্ম আড়াল করতে নিজের ফেসবুক আইডিতে হরহামেসাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের গুনকীর্তন চালিয়ে যেতেন এই শিক্ষক। এমনকি বঙ্গবন্ধুর নামে কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালে ‘চেনায় মুক্তিযুদ্ধ অন্তরে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মার্চের চেতনা জন্ম-ভাসন স্বধীনতা’ নামে দুটি বই লিখে বরিশাল জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। মাদারীপুর ইউনাইটেড সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজ খরচায় শেখ মুজিবের মুরাল নির্মান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন পত্রিকায় ৭ মার্চের ভাষন, ১৫ আগষ্ট, শেখ মুজিবের জন্মদিনে নিয়মীত কলামও লিখেতেন এই শিক্ষক। শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বলছেন, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে বরিশাল জিলা স্কুলের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক করা দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পদোন্নতি ও পুনঃনিয়োগ নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি বরিশাল জিলা স্কুলের  মূল ফটকে স্থাপন করা হয়েছিল। প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম কারো সাথে আলোচনা না করেই ওই ছবির ওপরে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে রেখেছেন। এর বিরোধিতা করলে তিনি সকলের সাথে খারাপ আচরন করেছেন।বঙ্গবন্ধুর ছবিতে সই করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জিলা স্কুলে আমিই প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়েছি। এজন্য বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছে একটি সই করেছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল
বরিশালের দুই বাস টার্মিনালে অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত : প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়

বরিশালের পরিবহন সেক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইলেও, চাঁদাবাজির দৃশ্যপট অপরিবর্তিত। দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন ঘাট এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কবজায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন এসব খাত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নথুল্লাবাদে মোশাররফ গ্রুপের রাজত্ব দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন বরিশাল সদর -৫ আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই মোশাররফ হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন কয়েকশো বাস থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। মোশাররফ হোসেন অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিয়ম মেনেই কমিটির সদস্য হয়েছেন এবং কোনো চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত নন। তবু সাধারণ মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। রুপাতলীতে জিয়াউদ্দিন সিকদারের বলয় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার রুপাতলী বাসস্ট্যান্ডের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। অভিযোগ আছে, তিন বছরের মেয়াদি কমিটি ভেঙে তিনি নিজের পছন্দের লোক দিয়ে নতুন বলয় গঠন করেছেন। এখান থেকে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় হয়। মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিনও অভিযোগ করেছেন, জিয়াউদ্দিন সিকদার পোর্ট রোড ও স্পিড বোট ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে দখল বাণিজ্য চালাচ্ছেন। শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ দলের শীর্ষ নেতাদের দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র। তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীরা তা তোয়াক্কা করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ছে। মালিক সমিতির অবস্থান  মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “টার্মিনালে যারা কাজ করে, যেমন কাউন্টার কর্মচারী, বাসের সিরিয়াল ঠিক রাখাসহ অন্যান্য স্টাফদের বেতন দেওয়ার জন্য মালিকরা নির্দিষ্ট অর্থ দেন। তার সব হিসাব অফিসেই আছে। এর বাইরে যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে যে অবৈধভাবে চাঁদা নেওয়া হয়েছে, আমি পদত্যাগ করব।” অব্যাহত চাঁদাবাজি স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন চাঁদা বাবদ প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় হয়। এছাড়া পর্দার আড়ালে বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি চলছেই। এর পরিমাণ বছরে কোটি টাকারও বেশি। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, “সরকার বদলায়, ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্য বদলায় না। শুধু চাঁদা আদায়ের মুখগুলো পরিবর্তিত হয়।” এই অব্যাহত চক্র সাধারণ মানুষ ও বাসযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ বলছেন, সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অবৈধ অর্থের চক্র বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0