ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গাজীপুর ও বারিধারায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড–এর বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের কর ফাঁকির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রদর্শিত তামাক ব্যবহার করে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি করেছে এবং এর বিপরীতে প্রাপ্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করেনি। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪৪৬ কোটি টাকা। গোপন তামাক ও উৎপাদনের হিসাব জালিয়াতির অভিযোগ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক কেনা হলেও তার বড় অংশ মূসক রিটার্নে দেখানো হয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অঘোষিত তামাক ব্যবহার করে প্রায় ১১০ কোটি শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা হয়। প্রতি শলাকার ন্যূনতম বাজারমূল্য ৫ টাকা ধরে এর মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫৪ কোটি টাকা, যার ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একাধিক অভিযান ও নথি জব্দ এনবিআরের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর) ২০২৫ সালের আগস্টে বারিধারার অফিস এবং গাজীপুরের কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে জব্দ করা হয়— ব্যাংক স্টেটমেন্ট মূসক রেজিস্টার কম্পিউটার ও পেনড্রাইভ ইমেইল সার্ভারের তথ্য তদন্তকারীরা বলছেন, এসব নথিতে গোপন লেনদেন ও হিসাব গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। National Board of Revenue (NBR)–এর অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি কর ফাঁকির মামলা করে। দুই মামলায় মোট দাবি ৪৪৬ কোটি টাকা তদন্ত অনুযায়ী— প্রথম মামলা: ৮৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দ্বিতীয় মামলা: ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা মোট অভিযোগিত কর ফাঁকি: প্রায় ৪৪৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা এনবিআর বলছে, এই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায়যোগ্য এবং এটি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির একটি গুরুতর উদাহরণ। অভিযোগ অস্বীকার ও আইনি প্রক্রিয়া ভার্গো টোব্যাকো কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের ব্যবসার বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর এবং প্রয়োজনীয় নথি এনবিআরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাপ্ত নথি ও উৎপাদন বিশ্লেষণে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ের বক্তব্য ও উত্তেজনা গাজীপুর কারখানায় উপস্থিত এক জেনারেল ম্যানেজার জানান, উৎপাদন ও কেনাকাটার হিসাব হেড অফিস থেকে পরিচালিত হয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। অন্যদিকে, কোম্পানির অভ্যন্তরে একজন পরিচয়ধারী ব্যক্তি সাংবাদিকদের প্রশ্নে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং বিষয়টি এনবিআরের আওতাধীন বলে মন্তব্য করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেট। প্রতিষ্ঠানটির কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি বকেয়া। একদিকে যেমন বিমা দাবি পরিশোধে সর্বনিন্মে অবস্থান, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের নামে ভোগ-বিলাসে এগিয়ে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে, কোম্পানিটির লাইফফান্ডের অবস্থাও অত্যান্ত নাজুক। শুধু তাই নয়, ফারইস্ট লাইফ পদে পদে লঙ্ঘন করছে আইন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম আর লুটপাটের ফলে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেয় নতুন চেয়ারম্যান, কোনো উন্নতি নেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম, পরে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নোয়াখালী-০৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো উন্নতি হয়নি। ফারইস্ট লাইফ গ্রাহকের বিমা দাবির টাকা দিতে না পারলেও আইন লঙ্ঘন করে ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেছে। আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল হলেও ভোগ-বিলাসে সবচেয়ে এগিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আইডিআরএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফারইস্ট লাইফই ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। আইন অনুযায়ী এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ আর্থিক দুর্দশার মধ্যেও আইন লঙ্ঘন করে কোম্পানিটি অবৈধভাবে ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ভয়াবহ তারল্য সংকটেও কোম্পানিটির এত টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্টের বিমা দাবির টাকার জন্য গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন অস্থিরতা বিরাজ করছে। পলিসি পরিপক্ক হয়ে বছরের পর বছর সময় কেটে গেলেও তারল্য সংকটে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারছে না কোম্পানিটি। ফারইস্ট লাইফের স্থানীয় শাখাগুলোতে টাকা না পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে আসছেন অনেকে, তাতেও মিলছে না ফল। দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা না পেয়ে অনেকে অভিযোগ করছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ)। বিমা আইন অনুযায়ী পলিসি পরিপক্ক হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধের বিধান থাকলেও তা মানছে না ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। সুমাইয়া নামের একজন গ্রাহক জানান, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। অর্থাৎ প্রায় ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি বিমা দাবির টাকা পাননি। পরবর্তীতে টাকা না পেয়ে অভিযোগ করেন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিআরএ, তাতেও মেলেনি সুরাহা। এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে আলাপ হয় শীর্ষনিউজের, যাদের অধিকাংশেরই ৫ থেকে ৬ বছর আগেই পলিসি পরিপক্ক হয়েছে। বিমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটিতে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির ৭০ দশমিক ৩০ শতাংশই এই কোম্পানির। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার দাবি উত্থাপন করেন। এর বিপরীতে কোম্পানিটি ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহকের ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ কোম্পানিটিতে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। বকেয়া পড়ে থাকা দাবির হার ৯৪ শতাংশ। ফারইস্ট লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড বা বিমা তহবিল ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণাত্মক। সাধারণত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের টাকা দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়, যা থেকে পরবর্তীতে দাবি মেটানো হয়। তহবিল ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো, গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা সম্পদ কোম্পানিটির হাতে নেই। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এসব বিষয়ে জানতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবদুর রহিম ভূইয়া শীর্ষনিউজ ডটকমকে বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি অনেক বেড়ে গেছে। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা, এটা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে শীর্ষে আরও যেসব বিমা কোম্পানি আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৫ সালে ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেছে ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বছরটিতে ব্যবস্থাপনা খাতে সব থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। প্রতিষ্ঠানটি ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা খাতে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর পরের স্থানেই রয়েছে শান্তা লাইফ। কোম্পানিটি অতিরিক্ত ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বিপরীতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আইন লঙ্ঘন করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার তালিকায় রয়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফও। কোম্পানিটি আইন লঙ্ঘন করে ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, কোম্পানিটির সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে এনআরবি ইসলামী লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রোটেক্টিভ লাইফের সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা ৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও কোম্পানিটি ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এ হিসাবে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এছাড়া চার্টার্ড লাইফ ৮ কোটি ৪৭ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৬ কোটি ৬১ লাখ, সান লাইফ ৬ কোটি ২৩ লাখ, স্বদেশ লাইফ ৬ কোটি ৫ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফ ৫ কোটি ৯১ লাখ, সোনালী লাইফ ৫ কোটি ৩৪ লাখ, যমুনা লাইফ ৫ কোটি ৩৩ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ৪ কোটি ৬৬ লাখ, গোল্ডেন লাইফ ৩ কোটি ৩৮ লাখ, বায়লা লাইফ ২ কোটি ৫৮ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ২ কোটি ৪১ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফ ১ কোটি ৩৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফ ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা আইন লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যয় করেছে। আইন অনুযায়ী, বছরটিতে চার্টার্ড লাইফের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ, জেনিথ ইসলামী লাইফের ২৫ কোটি ৫৭ লাখ, সান লাইফের ৩ কোটি ৫৩ লাখ, স্বদেশ লাইফের ১০ কোটি ৭৯ লাখ, হোমল্যান্ড লাইফের ৪ কোটি ১২ লাখ, সোনালী লাইফের ৩৭৮ কোটি ৬৩ লাখ, যমুনা লাইফের ১৭ কোটি ৩৬ লাখ, পদ্মা ইসলামী লাইফের ৮ কোটি ৮৫ লাখ, গোল্ডেন লাইফের ১১ কোটি ৮৫ লাখ, বায়লা লাইফের ৬ লাখ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের ৮ কোটি ২৪ লাখ, সানফ্লাওয়ার লাইফের ৪ কোটি ৮৭ লাখ এবং ডায়মন্ড লাইফের ১০ কোটি ১ লাখ টাকা সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল। এসব বিষয়ে কথা বলতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত এই মেগা প্রকল্পের আবাসন খাত ‘গ্রিন সিটি’ এখন দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায়। সরকারি নিরীক্ষা, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে অস্বাভাবিক ব্যয়, প্রশ্নবিদ্ধ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বিলের বিস্ময়কর তথ্য। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ঘুরেফিরে এসেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা একজন প্রকল্প পরিচালকের অগোচরে এমন ব্যয়ের অসঙ্গতি দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রায় অসম্ভব। ড্রেসিং টেবিলে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এমন একটি ড্রেসিং টেবিল সরকারি নথিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে একই ধরনের পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্য নিয়ে। কোথাও একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, কোথাও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আবার কোথাও সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন ব্যয়ের অনুমোদন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের বাইরে সম্ভব নয়। কারণ ক্রয় অনুমোদন, বিল যাচাই এবং অর্থ ছাড়—সবই শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ‘বালিশ কাণ্ড’ যেভাবে প্রতীকে পরিণত হয় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তথাকথিত ‘বালিশ কাণ্ড’। সিএজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বালিশ কেনা ও বহনের জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়। পরে একে একে সামনে আসে বিছানার চাদর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক অংশ। ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অস্বচ্ছ। অভিযোগ রয়েছে, বাজার যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং পরে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রূপপুর প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও নিয়মসম্মত কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর দপ্তরের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁর দায়িত্বকালেই বালিশ, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সুরক্ষা ছাড়া এত বড় আর্থিক অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. শওকত আকবরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ তাঁর নেই। দুদকের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের ২৯ জন প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান সত্ত্বেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না? বিদেশ সফর ও বিলাসী ব্যয়ের অভিযোগ শুধু আসবাবপত্র নয়, বিদেশ সফর ও আবাসন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসা ভাড়া দেখানো হলেও তাঁরা অবস্থান করেছেন বিলাসবহুল হোটেলে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময়েও প্রকল্পের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন মো. শওকত আকবর। বৃহত্তর প্রশ্ন: কতটা নিরাপদ মেগা প্রকল্পের অর্থ? সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, যদি একটি প্রকল্পে বালিশ, ড্রেসিং টেবিল ও আসবাব কেনাতেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাহলে মূল অবকাঠামোগত কাজগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—সেটি নিয়েও জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আদালতে করা আবেদনে রূপপুর প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। জবাবদিহির প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রকল্পে যদি অনিয়মের অভিযোগের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মেগা প্রকল্পগুলোও একই ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকলেও জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে—এত অভিযোগ, এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং এত তথ্য প্রকাশের পরও কেন মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দেখা যাচ্ছে না? আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—মো. শওকত আকবর।
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাবর্তন: প্রশ্নের মুখে পুলিশ সংস্কারের অঙ্গীকার ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—বদলির আদেশ পাওয়ার পর তিনি থানার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, আইপিএস ও সোফা সেট খুলে বাসায় নিয়ে গেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তীব্র সমালোচনার মুখে তাকে ভূঞাপুর থানা থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ফরিদুল ইসলাম এখন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বনানী থানার ওসি। ফরিদুল ইসলাম দাবি করেন, সে সময় সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি “অতিরঞ্জিতভাবে” উপস্থাপন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য, তিনি নিজেও প্রশাসনিকভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে শুধু একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন কিংবা ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচিত বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আবারও গুরুত্বপূর্ণ থানা ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে পুলিশের ভেতর থেকেই। ‘শাস্তিমূলক বদলি’ থেকে আবার রাজধানীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যেসব কর্মকর্তাকে ঢাকা বা গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট থেকে সরিয়ে দূরবর্তী স্টেশনে পাঠানো হয়েছিল, তাদের অনেকেই আবার রাজধানীতে ফিরছেন। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়কে “ম্যানেজ” করেই এসব পদায়ন হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে এখনো প্রভাবশালী একটি বলয় সক্রিয় রয়েছে, যারা আগের সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে পুলিশ ভয়াবহ ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। এখন আবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে সেই প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” হত্যা মামলার আসামি, তবু এসপি পদে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) পদে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পদায়ন। ৫ মে তাকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের দমন, হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ যুবদল নেতা মিজান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজান। নিহতের বাবা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা মামলা দায়ের করলে মাহবুব আলম খানকে আসামি করা হয়। আরেকটি হত্যা মামলাতেও তার নাম রয়েছে। তবে মাহবুব আলম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত হলে তিনি দায়মুক্ত হবেন। ডিএমপিতে ফিরছেন পুরোনো মুখ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পালন করা নুরুল মুত্তাকিনও আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরেছেন। আওয়ামী আমলে তিনি ডেমরা, ভাটারা, তুরাগ ও লালবাগ থানার ওসি ছিলেন। পরবর্তীতে ডিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তাকে এপিবিএনে পাঠানো হলেও মার্চ মাসে আবার ডিএমপিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর জোনে এসি (প্যাট্রোল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে গুলশান থানার বর্তমান ওসি দাউদ খানও দীর্ঘদিন ডিবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডিএমপির বহু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও তিনি রাজধানীতেই থেকে যান। পরে পর্যায়ক্রমে খিলগাঁও, ক্যান্টনমেন্ট হয়ে গুলশান থানার ওসি হন। ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ। কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলে তাদের “ব্ল্যাকলিস্টেড” রাখা হয়েছিল। ছাত্রদল বা বিএনপিপন্থি পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তারা পদোন্নতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন থেকে বঞ্চিত হন। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা বৈষম্য দূর হওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের সুবিধাভোগীরাই আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন। এক কর্মকর্তা বলেন, “যারা বিগত সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারাই এখন পুনর্বাসিত হচ্ছেন। অথচ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।” সমালোচনার মুখে একাধিক পদায়ন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও কয়েকটি পদায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাহাবুব রহমান, যিনি আওয়ামী সরকারের শেষদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ওসি ছিলেন, তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ওসি করা হয়েছে। আমির হোসেন সেরনিয়াবাতকে মাদারীপুরের শিবচর থানার ওসি করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়। ভোলা ছাত্রদল নেতা নুরে আলম হত্যা মামলার আসামি আরমান হোসেনকে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি করার আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই পদায়ন কার্যকর হয়নি। চট্টগ্রামে নূর হোসেন মামুন ও আতিকুর রহমানের মতো কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের কয়েকটি থানার ওসি পদায়ন নিয়েও পুলিশের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে। ভাবমূর্তি বনাম প্রশাসনিক বাস্তবতা বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন জনমনে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, প্রশাসনিক দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত না হলে পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, তিনি সম্প্রতি প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর মন্তব্য করবেন। তবে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পুলিশ বাহিনীর ভেতরে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে, নাকি পুরোনো প্রভাববলয় নতুন বাস্তবতায় আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে?
ই-জিপিতে দ্বৈত পরিচয়ে হাজার কোটি টাকার সরকারি কাজের অভিযোগ রংপুর মেটালকে ঘিরে প্রভাব, কর ফাঁকি ও সমন্বিত দরপত্র কারসাজির বিস্তৃত তথ্য সামনে............... ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন পরিচয়ে শত শত কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত “Rangpur Metal Industries Limited” এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে পরিচালিত দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত করা, ভ্যাট-ট্যাক্স গোপন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অস্বচ্ছ সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র, ই-জিপি রেকর্ড, সরকারি নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় এক দশক ধরে একই মালিকানাধীন এই দুই পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২১৩টি সরকারি কাজ, প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অন্তত ২১৩টি সরকারি কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে— “Rangpur Metal Industries Limited” নামে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকার কাজ “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে প্রায় ৭৭১ কোটি টাকার কাজ সব মিলিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০ কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যত একই নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও ভিন্ন পরিচয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ‘Limited’ বনাম ‘Ltd.’: সামান্য পার্থক্যে আলাদা পরিচয় সরকারি নথিতে দেখা গেছে, “Limited” এবং “Ltd.” শব্দ ব্যবহারের সামান্য পার্থক্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটি ই-জিপি প্ল্যাটফর্মে পৃথক সত্তা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। তবে তাদের— ব্যবসায়িক কার্যক্রম অফিস ঠিকানা পরিচালনা কাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করলে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, এই দ্বৈত পরিচয় মূলত সরকারি কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং আর্থিক হিসাবকে জটিল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। ভ্যাট সনদে অসঙ্গতির অভিযোগ একাধিক নথিতে দেখা গেছে, একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে টেন্ডার আইডি ১০৬৩৬৯৯ এবং ১০৬০৬৯৯ সংক্রান্ত নথিতে এই অসঙ্গতির অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, “Rangpur Metal Industries Ltd.”-এর ভ্যাট সনদ ব্যবহার করে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে দরপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এর মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক হিসাব গোপন করে সরকারের কাছে কম কাজ দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন সরকারি ক্রয়বিধি বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইউনিক e-GP Registration ID থাকার কথা। একই নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা Public Procurement Rules (PPR 2008)-এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে— Rule 127: প্রতারণামূলক অংশগ্রহণ Rule 128(1): বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান —এর আওতায় বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ই-জিপি সিস্টেম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে একটি প্রতিষ্ঠানকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু কিছু বড় প্রতিষ্ঠান নামের সামান্য পরিবর্তন, আলাদা BIN বা ভিন্ন কাগজপত্র ব্যবহার করে সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে।” তার ভাষায়, “এখানে শুধু সফটওয়্যারের সীমাবদ্ধতা নয়, ভেতরের সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।” প্রভাব বিস্তার ও ‘পূর্বনির্ধারিত’ টেন্ডারের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠান দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে রয়েছে— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা ওয়াসা শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিশেষ করে লিফট সরবরাহ ও স্থাপনের বড় প্রকল্পগুলোতে প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য, “অনেক সময় টেন্ডারের শর্তই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ যোগ্য না হয়। আবার কোথাও একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম অংশ নেয়। বাইরে থেকে প্রতিযোগিতা দেখালেও ভেতরে ভেতরে কাজ আগেই নির্ধারিত থাকে।” ‘Collusive Bidding’-এর আশঙ্কা ই-জিপি বিশ্লেষকদের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে দরপত্রে অংশ নেওয়া হলে সেটি “Collusive Bidding” বা সমন্বিত দরপত্র কারসাজির পর্যায়ে পড়তে পারে। এ ধরনের কারসাজিতে— প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে কাজ কেনার ঝুঁকি তৈরি হয় সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ে একজন সাবেক প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “ই-জিপি চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল মানবিক হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি ভিন্ন নামে অংশ নেয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” কর ফাঁকির সম্ভাবনা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “Rangpur Metal Industries Ltd.” এবং “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ব্যবহৃত BIN, ভ্যাট নথি এবং আর্থিক হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। কিছু নথিতে “RFL Regal” নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের মতে, এটি আর্থিক লেনদেনকে জটিল করার কৌশল হতে পারে। এক কর বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি কোনো প্রতিষ্ঠান আলাদা নামে কাজ করে কিন্তু আর্থিক হিসাব একত্রে না দেখায়, তাহলে ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।” দুদক, BPPA ও RJSC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর তথ্য চেয়েছে। কিছু নথি পাঠানো হয়েছে দুদক, BPPA এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির (BPPA) একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে RJSC-এর ভূমিকা নিয়েও। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, “Limited” এবং “Ltd.” মূলত একই অর্থ বহন করে। ফলে একই ধরনের নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আইনজীবীদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনিক অনিয়মের বাইরে গিয়ে জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং প্রতারণার পর্যায়েও যেতে পারে। সেক্ষেত্রে— কোম্পানির নিবন্ধন বাতিল কালো তালিকাভুক্তি আর্থিক জরিমানা ফৌজদারি মামলা —এসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ‘ব্যবস্থাগত দুর্বলতা’র বড় প্রশ্ন অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার মালিকানা যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংগঠিত প্রক্রিয়া। তাদের ভাষায়, “প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা থাকলেও প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের ঘাটতি কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।” দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে— BIN ও TIN তথ্য RJSC নিবন্ধন ব্যাংক লেনদেন ভ্যাট রিটার্ন e-GP কার্যক্রম গত এক দশকের ওয়ার্ক অর্ডার —বিশ্লেষণের প্রস্তাব উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার অন্যতম বড় অনিয়মের ঘটনায় পরিণত হতে পারে।
বরিশাল অফিস : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখানো, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি এবং বিভিন্ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের নামে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের অভ্যন্তরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় না করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়ম আড়াল করতে প্রশাসনিক চাপ, বদলি এবং কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটানোর ঘটনাও ঘটেছে। অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম ভোটকেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ আনা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, বরিশালের ১০ উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের জন্য মোট ৮৩৩টি ভোটকেন্দ্র ও ৫ হাজার ১৯৭টি ভোটকক্ষ দেখানো হয়। এর মধ্যে ৭৭৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ, ১৯৫টি দুর্গম ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৮৯৩টি দুর্গম ভোটকক্ষ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিভিন্ন নথিতে এ সংখ্যাগুলোতে অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি স্মারকে প্রথমে দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১০০ উল্লেখ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৫৫ করা হয়। একইভাবে মুলাদীতে ৭২ থেকে ৩৯ এবং হিজলায় ৪৯ থেকে ২৩টি দুর্গম কেন্দ্র দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ দেখিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ আনা হয়েছিল, তার বড় অংশ ডিসি কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ‘ভুয়া ভাউচার’ সমন্বয়ের অভিযোগ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসের জন্য মোট ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ অর্থ ভোটকেন্দ্র পরিচালনা, সরঞ্জাম পরিবহন ও প্রশাসনিক ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ বৈধ দেখাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহ করা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অতিরিক্ত ভাউচার পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকিতে নিয়োজিত ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আপ্যায়ন, পিএল ব্যয় এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নিয়োজিত সহকারী কর্মীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে অনেক কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হন। পরে কয়েকজনকে আংশিক অর্থ দেওয়া হলেও বাকি অর্থ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যাকডেটে ভাউচারে সই করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও বদলির অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা ব্যয়-সংক্রান্ত তথ্য জানতেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন শাখায় বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ শাখা, মানবসম্পদ শাখা এবং অন্য জেলায় বদলির ঘটনাও রয়েছে। কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক সুবিধা সীমিত করার অভিযোগও উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনী ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর অনেকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।” আরও যেসব খাতে অনিয়মের অভিযোগ সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোল রুম, ফলাফল সংগ্রহ, পর্যবেক্ষক টিম, আপ্যায়ন ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে স্থানীয় উৎস থেকে সংগৃহীত প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ব্যবহারে অনিয়ম এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগও রয়েছে। ডিসি বাংলোর সংস্কারের জন্য ত্রাণ তহবিল থেকে প্রায় আট লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, টিআর নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের ব্যয় বৈধ নয়। ডিসির বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফোন, বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল থেকে: বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান রূপান্তর আজ দৃশ্যমান। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বিরুদ্ধে এক ধারাবাহিক লড়াই। এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন কঠোর মনিটরিং-নির্ভর প্রশাসক হিসেবে—যিনি উন্নয়নকে শুধু প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং গুণগত মান ও জবাবদিহিতাকে সামনে এনেছেন। এই অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার নেতৃত্বে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তব চিত্র, অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ, অভিযোগ এবং সম্ভাবনা। স্থবিরতা থেকে গতি: বাস্তবতার প্রেক্ষাপট বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো এক সময় ছিল অবহেলার প্রতীক। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পাঠদান চলত। উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির, অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে অনেক প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়া, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব—এসব ছিল সাধারণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। “গুণগত মানই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি” মো. শহিদুল ইসলামের কাজের দর্শন স্পষ্ট—“কাজের মান নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থহীন।” তার বক্তব্য অনুযায়ী: চলমান প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে কাজের গুণগত মানে কোনো আপস চলবে না ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদার উভয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক—সবাই যেন প্রকল্পের সুফল পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।” কঠোর মনিটরিং ও জবাবদিহিতা এই দপ্তরের কাজের ধরনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মনিটরিং ব্যবস্থায়। তার নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রতিটি প্রকল্পের নিয়মিত সাইট পরিদর্শন চলমান অবস্থায় ত্রুটি শনাক্তকরণ নির্দিষ্ট সময়সীমা (বিশেষ করে জুন মাস) নির্ধারণ কাজ শেষে ত্রুটি পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন: “কাজ শেষ হওয়ার পরে যদি ত্রুটি ধরা পড়ে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” এই অবস্থান প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভেতরের কণ্ঠ: কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান: “বর্তমানে শতভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ওপর জোরালো নির্দেশনা রয়েছে। সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ না করলে টিকে থাকা কঠিন।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দপ্তরের ভেতরে একটি কর্মচাপ তৈরি হয়েছে—যা উন্নয়নের গতি বাড়াতে সহায়ক হলেও, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত। উন্নয়নের পরিসংখ্যান: সংখ্যায় বরিশালের পরিবর্তন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বর্তমানে বিপুল অঙ্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। মূল তথ্যসমূহ: মোট চলমান উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৬৯৬–৭০০ কোটি টাকা গত অর্থ বছরে ব্যয়: ৭৬ কোটি টাকা চলমান প্রকল্প সংখ্যা: ১১টি বড় প্রকল্প বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ: প্রায় ৪৬০টি এই প্রকল্পগুলোর আওতায়: নতুন ভবন নির্মাণ ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কারিগরি শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা বৃদ্ধি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র: দক্ষিণাঞ্চলের জন্য গেমচেঞ্জার বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের অগ্রগতি: ব্যয়: প্রায় ১৬.৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ব্যয়: ৯.১৬ কোটি টাকা নির্মাণাধীন ভবন: ১০ তলা আংশিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু এই কেন্দ্র চালু হলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেবা পাবে। মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট: নারীর প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। বর্তমান অবস্থা: ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টি সম্পন্ন বাকি ৪টির কাজ প্রায় ৮০% শেষ নির্ধারিত সময়: জুনের মধ্যে সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে নারী শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কলেজ ও স্কুলে অবকাঠামোগত বিপ্লব বরিশালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে: উল্লেখযোগ্য কাজ: ৬ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ (সরকারি কলেজসমূহে) জেলা স্কুল ও বালিকা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে সম্প্রসারণ এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে: শ্রেণিকক্ষ সংকট কমবে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে প্রকল্পের বৈচিত্র্য: বহুমুখী উন্নয়নের চিত্র বরিশালে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন মাদরাসা উন্নয়ন বিজ্ঞান শিক্ষা সম্প্রসারণ টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা প্রকল্প বিশেষ করে “প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল” প্রকল্পটি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাস্তব চিত্র: দৃশ্যমান উন্নয়ন মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে: বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন বহুতল ভবন পুরনো জরাজীর্ণ কাঠামোর পরিবর্তন নতুন নির্মাণ কাজের দ্রুত অগ্রগতি স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, “আগে যেখানে ক্লাস নেওয়া কঠিন ছিল, এখন সেখানে আধুনিক ভবন তৈরি হচ্ছে।” প্রশংসা ও পর্যবেক্ষণ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এটি নির্দেশ করে যে, কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বরিশালের কাজ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে। তবে কি সবই নিখুঁত?—অনুসন্ধানে উঠে আসা প্রশ্ন যদিও উন্নয়নের চিত্র আশাব্যঞ্জক, তবে অনুসন্ধানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উঠে এসেছে: ১. সময়সীমা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? জুন মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশনা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২. অতিরিক্ত চাপ কি মানের ওপর প্রভাব ফেলছে? দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ কখনো কখনো মানের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ৩. স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি কতটা কার্যকর? সব প্রকল্পে সমানভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নির্বাহী প্রকৌশলী বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়নের ওপর। তিনি বলেন: “শহরের সুবিধা গ্রামের মানুষকেও দিতে হবে।” এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক কড়াকড়ি: ইতিবাচক না নেতিবাচক? তার প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে: ইতিবাচক দিক: দুর্নীতি কমছে কাজের গতি বাড়ছে জবাবদিহিতা তৈরি হচ্ছে সমালোচনা: অতিরিক্ত চাপ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন্দ্রীকরণ মাঠপর্যায়ে মানসিক চাপ সামগ্রিক মূল্যায়ন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বর্তমান কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: উন্নয়নের গতি স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গুণগত মানে জোর দেওয়া হয়েছে মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়েছে বড় আকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পথে তবে একইসাথে: সময়সীমা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং দীর্ঘমেয়াদে মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ তদারকি ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা জনস্বার্থে উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে স্থবির কাজগুলো দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করার আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম। বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃশহিদুল ইসলাম বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দরকার কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর গুণগত মান ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ে শেষ করা। তবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা প্রকল্পগুলোর সুফল পাবে। বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্প গুলোর কাজের মান আরো উন্নত হোক। প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পগুলো , দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করলে অর্থও বাঁচবে, জনগণ উপকৃত হবে। কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি: মোঃ শহিদুল ইসলাম মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী ও প্রধান প্রকৌশলীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বরিশালের কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, শহরের নাগরিক সুযোগ সুবিধা গ্রামের সকলে পাবে। আপনারা হচ্ছেন শিক্ষা প্রকৌশলের প্রাণ। আপনারা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। আর যদি কোন ঠিকাদারের কাজের মান খারাপ হয়। তাহলে ঐ ঠিকাদার এবং কাজে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। তিনি ইত্তেহাদ নিউজকে বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কাজগুলোর বাস্তবায়নে গতির তথ্য দেয়া।এছাড়া সকল ঠিকাদারদের জুন মাস মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। চলমান অবস্থায় কাজের ত্রুটি শনাক্ত করতে হবে এবং সঠিক মনিটরিং করলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। কাজ শেষ করার পরে যদি কোন ত্রুটি দেখা যায়,তবে কাজ সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে ক্ষমা করা হবে না।তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বরিশাল জেলার এক সহকারী প্রকৌশলী বলেন,নির্বাহী প্রকৌশলী নির্দেশে শতভাগ কাজ সুনিশ্চিত করা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়াতে দায়িত্বে থাকা সকলকে সততা ও আন্তরিকতা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি বাড়িয়ে কাজ করার দ্রিত তাগিদ দিয়েছেন। ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান বরিশালের মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। যারমধ্যে গত অর্থ বছরে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এসব প্রকল্পের মধ্যে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণকাজ গত অর্থ বছরে শতভাগই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ১১টি প্রকল্পের আওতায় বরিশালের বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়াও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। যার বেশির ভাগই চলতি অর্থ বছরে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। এসব প্রকল্প’র কাজ সম্পন্ন হলে সারা দেশের মতো বরিশালের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ। দেশের ৩টি স্থানে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের মধ্যে বরিশালেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১০তলা বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যার দুটি ফ্লোরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে সেখানে প্রশাসনিক কর্মকা- শুরু হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে পুরো ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আঞ্চলিক দফতরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত ঐ প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৯.১৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। শেষ পর্যায়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজ দেশের ৪টি বিভাগীয় সদরে মহিলা পলটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল মহিলা পলিটেকনিকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে এ ইনস্টিটিউটের ৭টি ভবনের মধ্যে ৩টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৪টি কাজও প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পরে এখানে ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এবং সরকারি মহিলা কলেজ সমূহে ৬তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানগুরোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষাবীদগণ। একইসাথে বরিশাল জেলা স্কুল ও বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও ৬তলা দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে বরিশাল বিভাগীয় সদরের এ দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তনে আশাবাদী শিক্ষাবীদগণ। দৃশ্যমান হচ্ছে বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প এছাড়া ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্প’, ‘নির্বাচিত মাদরাসা উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তায় কলেজ সমূহের উন্নয়নে ২য় সংশোধিত প্রকল্প’, সরকারি কলেজ সমূহের বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ প্রকল্প’, কারগরি শিক্ষা অধিদফতরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প’, ১শ’ উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’ এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প’র আওতায় বরিশালে বর্তমানে প্রায় ৬৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবান করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। বরিশাল মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। আগে জরাজীর্ন অবকাঠামোর কারণে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হত, তার অনেকগুলোতেই ইতোমধ্যে বহুতল ভবন দৃশ্যমান। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে ৪৬০টি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্বশীল মহল। একটি পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণ বরিশাল এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—যেখানে উন্নয়ন শুধু সংখ্যা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে: গুণগত মান বজায় রাখা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা ধরে রাখার ওপর যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বরিশাল শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে দেশের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর মূসক বাস্তবায়ন, সেবা ও পণ্য শাখার এক প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে ঘিরে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন। এর ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্বের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে তিনি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সম্পদ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘোষিত আয় ও সরকারি বেতনের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার ও পরিবারের নামে একাধিক স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকায় তার নামে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠে জমি ক্রয় এবং উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় একাধিক জমির মালিকানার নথি পাওয়া গেছে, যা বিভিন্ন সময়ে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, তার স্ত্রীর নামেও জমি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকার আশপাশের এলাকায় কয়েক শতাংশ জমি এবং উত্তরাঞ্চলে বড় আকারের জমি তার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে প্রায় ১৪ শতক জমির দুটি প্লটে শেয়ার কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ির তথ্যও সামনে এসেছে। এনবিআরের একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কিছু সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটিয়ে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শাখার সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
বরিশাল অফিস : বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় ছিল। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, এবং কমিশন-ভিত্তিক সংস্কৃতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে, কাজের মান উন্নত হয়েছে এবং দুর্নীতি কমেছে—এমন দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। একই সঙ্গে, তার কার্যক্রম ঘিরে অপপ্রচার, স্বার্থসংঘাত এবং চাপের কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রতিবেদনটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবর্তনের দাবি বরিশালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ ফয়সাল আলমের কর্মকাণ্ডে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গতিশীলতা এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ঠিকাদার বলেন, “আগে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত চাপ থাকে।” এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে নিয়মিত তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এখন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কাজের মান এবং সময়—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোরতা গণপূর্ত বিভাগের কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি ছিল, তা হলো নিম্নমানের নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি দেখা যেত, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একজন ঠিকাদার বলেন, “বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজের গুণগত মান তদারকি করা হয় নিয়মিত। কোনো ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আরেকজন যোগ করেন, “আগে অনেক সময় কাজ শেষ হলেই বিল পাওয়া যেত। এখন কাজের মান যাচাই না করে বিল ছাড় হয় না।” এই কঠোরতার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কাজের খরচ ও সময় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিল উত্তোলনে স্বচ্ছতা: নতুন বার্তা? গণপূর্ত বিভাগের কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অভিযোগ ছিল বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। অনেক ঠিকাদারই অভিযোগ করতেন, নির্ধারিত বিল পেতে হলে “অফ দ্য রেকর্ড” অর্থ লেনদেন করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, “বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে।” এই পরিবর্তনকে তারা একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।” অতীতের ছায়া: অনিয়ম ও কমিশন সংস্কৃতি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ, এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ নতুন নয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে কাজের প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিষয়টি জড়িয়ে ছিল।” এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিবর্তন হয়েছে।বর্তমানে সেই ঘুষ ও কমিশন সংস্কৃতি নেই। দুর্নীতি দমনের দাবি ও বাস্তবতা স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোঃ ফয়সাল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অনিয়মের প্রবণতা কমেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে শুনতাম কাজ পেতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। এখন অন্তত সেই ধরনের কথা কম শোনা যায়।” সংশ্লিষ্ট মহলে তার সততা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা থাকার কথাও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি বার্তা দিতে পেরেছেন—অনিয়মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা।তবে এই অবস্থান তাকে কিছু বিরোধিতার মুখেও ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এটি নতুন কিছু নয়।” অপপ্রচার ও সমালোচনা ফয়সাল আলমকে ঘিরে একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে—তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই অস্পষ্ট বা প্রমাণবিহীন বলে দাবি করছেন ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা আগে সুবিধা পেত, তারা এখন অসুবিধায় পড়ছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—সমর্থন ও বিরোধিতা। জবাবদিহির প্রশ্ন গণপূর্ত বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “কোনো কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে যেমন স্বীকৃতি পাবেন, তেমনি অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্যক্তিনির্ভর পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই টেকসই সমাধান।” প্রশাসনিক চাপ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য কাজ করা শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেই কথা বলেছেন মোঃ ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। কাজের ক্ষেত্রে বাধা আসে, বিশেষ করে যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজেও চাপ ও প্রতিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। নেতৃত্বের ধরন: কড়াকড়ি নাকি সংস্কার? ফয়সাল আলমের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে কঠোর এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন তার কড়াকড়ি কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেন, যা অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।” অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বলেন, “কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোরতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।” এই দুই ধরনের মতামতই একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন। জনমত: আশা ও সংশয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফয়সাল আলমকে নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন দৃশ্যমান ফলাফলের জন্য। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “যদি সত্যিই দুর্নীতি কমে থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।” একজন প্রবীণ নাগরিকের মন্তব্য, “অনেকেই ভালো শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে না। দেখার বিষয় হলো, এটি কতদিন টিকে।” ভবিষ্যতের পথ: টেকসই সংস্কারের প্রয়োজন বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন: * স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া * ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা * স্বাধীন অডিট * জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে গণপূর্ত বিভাগের কাজের মান আরও উন্নত হতে পারে। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান চিত্রে মোঃ ফয়সাল আলম একটি আলোচিত নাম। তার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপপ্রচার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে। একদিকে, কাজের গতি ও গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। শেষ পর্যন্ত, ফয়সাল আলমের নিজের কথাতেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়: “আমি কাজ করে যেতে চাই—মূল্যায়ন জনগণই করবে।” বরিশালের মানুষ এখন সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ খাতের অন্যতম সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ফজলুল হক মধুকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল প্রদান এবং ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভুয়া বিল উত্তোলন, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান, এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই বিল ছাড়ের ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের কথা বলা হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে জনমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা গেলেও সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার খিলগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান জোরদারের প্রেক্ষাপটে এসব তথ্য সামনে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে ও বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও কৃষিজমির তথ্য পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার আফতাব নগর এলাকায় তার প্রায় ২৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া গুলশান-১ এর একটি বহুতল ভবনে তিনি দুই তলা নিয়ে ডুপ্লেক্স বাসভবনে বসবাস করছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলশান, নিকেতন, হাতিরঝিল ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার একাধিক উচ্চমূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি তার স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, তার নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, মাছের ঘের ও খামারের তথ্যও উঠে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে মোট কয়েকশ বিঘা জমির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি নন-ক্যাডার থেকে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। একই সময়ে তার পরিবারের সদস্যরাও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বহাল রয়েছেন। এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে সমালোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত দাবি করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি, যা রাজনৈতিকভাবে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। নির্বাচনে এই বিজয় ছিল কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন। দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল উচ্চাভিলাষী—জবাবদিহিমূলক শাসন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। কিন্তু ক্ষমতার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে, নাকি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত স্যাবোটাজে আটকে পড়ছে? বিরোধী রাজনীতি: পরিকল্পিত চাপ ও ‘আনপপুলারাইজেশন’ কৌশল সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধী জোটগুলো। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছে। তাদের দাবির তালিকায় রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা সমসাময়িক ইস্যু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল স্বাভাবিক বিরোধী রাজনীতি নয়—বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। লক্ষ্য: সরকারকে ধাপে ধাপে অজনপ্রিয় করা। এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পরিকল্পনা অনুযায়ী— * বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দেওয়া * বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় করা * নির্বাচনী সংঘাতকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করা * এবং শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হলেই এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৬০ দিনের সাফল্য: অর্জন আছে, কিন্তু প্রচার নেই দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে সরকার ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এসব উদ্যোগ জনমনে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। যদিও বাস্তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। যেমন— * গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো প্রদান * সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ * কৃষি সহায়তা উদ্যোগ বিশেষ করে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি খাতে আধুনিকীকরণ ও সরাসরি সহায়তা প্রদানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ([Reuters][3]) তবুও সমস্যা হলো—এই সাফল্যগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনমনে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন বা কৃষক কার্ডের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সমীক্ষা না হওয়ায় সন্দেহ ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। বিতর্কের শুরু প্রথম দিন থেকেই সরকারের যাত্রা শুরু থেকেই একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে। শপথ অনুষ্ঠান: ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। * তীব্র গরম * পানির অভাব * অতিথিদের দুর্ভোগ এই ঘটনা সরকারের প্রথম ইমপ্রেশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। মন্ত্রিসভা গঠন: অভিজ্ঞতার ঘাটতি ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার মধ্যে ৪১ জনই নতুন মুখ—যাদের অনেককেই দলীয় নেতাকর্মীরাও চেনেন না। একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। যদিও নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয় একীভূত করে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ([The Business Standard][4]) প্রশাসনের ভেতরের ‘সিন্ডিকেট’: নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? সরকারের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বিতর্কিত নিয়োগ * প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ * অতীতে বিএনপি-বিরোধী ভূমিকা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো * গোয়েন্দা রিপোর্ট উপেক্ষা করে পদায়ন এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। সচিব পদে অস্বচ্ছতা ২৫ মার্চ একসঙ্গে একাধিক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই বিতর্কিত। কিছু নিয়োগ ইতোমধ্যে বাতিলও হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন নিয়ে ‘টাকা লেনদেন’ ও মাফিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আর্থিক খাত: সংস্কার না পুনর্বাসন? সরকারের আর্থিক নীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং সংকট অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে বাধা। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬’ এই আইন নিয়ে সমালোচনার মূল কারণ— * ঋণখেলাপীদের পুনর্বাসনের সুযোগ * বিচারহীনতার সংস্কৃতি জোরদার হওয়ার আশঙ্কা সমালোচকদের মতে, এটি আর্থিক খাতে সংস্কারের বদলে পুরনো সমস্যাকে নতুনভাবে বৈধতা দিতে পারে। নীতিনির্ধারণে বিশৃঙ্খলা: পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— * জবাবদিহিমূলক সরকার * প্রশাসনিক সংস্কার * দুর্নীতি দমন বাস্তবে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির ফারাক স্পষ্ট। বিশেষ করে— * বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া * প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব * রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ এসব কারণে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনমনের প্রতিক্রিয়া: ভালোবাসা থেকে অভিমান সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিএনপির প্রতি একটি আবেগী সমর্থন রয়েছে। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো— * দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই অসন্তোষ বেশি * সমালোচনা থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসছে না * সরকারের পক্ষে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ দুর্বল এই অবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ‘অভিমানের পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। কারণ ইতিহাস বলে— ভালোবাসা থেকে যেমন সমর্থন জন্মায়, তেমনি হতাশা থেকে ক্ষোভও তৈরি হতে পারে। ‘অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব: বাস্তবতা নাকি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা? সরকারের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী— * গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘গুপ্ত’ লোকজন বসানো হয়েছে * তারা পরিকল্পিতভাবে ভুল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে * প্রশাসনিক স্যাবোটাজের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করা হচ্ছে ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে, উপমহাদেশে বহুবার অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রই বড় রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বড় সমস্যা হলো— এটি প্রমাণ করা কঠিন, এবং অনেক সময় এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট: ১. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। ২. জনআস্থা পুনর্গঠন শুধু প্রকল্প নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. রাজনৈতিক মোকাবিলা বিরোধী চাপ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল একসঙ্গে সামাল দিতে হবে। সংকটের মধ্যেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। কিন্তু মাত্র দুই মাসেই স্পষ্ট হয়ে গেছে—ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক কঠিন। সাফল্য আছে, কিন্তু তা দৃশ্যমান নয়। নীতি আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল। সমর্থন আছে, কিন্তু তা ক্ষয় হতে শুরু করেছে। সবচেয়ে বড় কথা—সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিরোধীদল নয়, বরং নিজের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা। এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই: সরকার কি নিজস্ব ভেতরের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, নাকি সেই সংকটই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এদের অনেকেই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন—যা বর্তমান সরকারের নিরাপত্তা কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগ ওঠার পর অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনকে নিয়ে চলছে যাচাই-বাছাই। নিয়োগে নীতিগত সিদ্ধান্ত, বাস্তবে ব্যত্যয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথের আগেই একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল—পূর্ববর্তী সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কোনো দেহরক্ষীকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, তদবির, সুপারিশ—এমনকি কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে—সেই সিদ্ধান্ত ভেঙে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন, “দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে, অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।” কারা এই দেহরক্ষীরা? পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় মোট ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে—এদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সেই সময়ের মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে: * ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন * রাজনৈতিক ‘কোটা’ বা সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন * সাবেক এমপি বা নেতাদের আত্মীয়স্বজন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী: * ভিআইপিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে অনেক দেহরক্ষীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে * বিষয়টি আইজিপিকে অবহিত করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয় * কয়েকজনকে দ্রুত প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে একই ব্যক্তি, ভিন্ন সরকার—একই দায়িত্ব তদন্তে দেখা গেছে, অনেক দেহরক্ষী বিভিন্ন সরকারের সময় একই ধরনের দায়িত্বে বহাল ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে: * একজন কনস্টেবল আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীর দেহরক্ষী ছিলেন, পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে স্পিকারের নিরাপত্তায় * আরেকজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রীর অধীনে দায়িত্ব পালন করছেন এমন একাধিক উদাহরণ প্রশাসনের ভেতরে ধারাবাহিক প্রভাব ও নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মত টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, “পুলিশ এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়নি। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি এড়িয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।” সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “নিয়োগ যদি দলীয় বিবেচনায় হয়, তাহলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” চলমান পদক্ষেপ এসবির তথ্যমতে: * অন্তত ১২ জন দেহরক্ষী ইতোমধ্যে বদলি হয়েছেন * আরও অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে * নিয়মিত ভেটিং প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে সরদার নুরুল আমিন বলেন, > “প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।” বড় প্রশ্ন এই ঘটনার পর মূল প্রশ্নগুলো সামনে আসছে: * ভিআইপি নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত? * নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব কি? * পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করবে—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর জনআস্থা কতটা টিকে থাকবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও বরিশাল বিভাগের প্রধান সড়ক সংযোগ হিসেবে পরিচিত ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক। পদ্মা সেতু এবং ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে সরাসরি সংযুক্ত এই রুটটি যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যানবাহনের চাপ এবং নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে এই মহাসড়ক এখন ক্রমেই পরিণত হচ্ছে এক ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পথে—যেখানে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ, ভেঙে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। বাড়ছে চাপ, বাড়েনি সক্ষমতা পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা–বরিশাল রুটে যাতায়াত সময় কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কিন্তু সেই সঙ্গে কয়েকগুণ বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বর্তমানে মহাসড়কটির বড় অংশই দুই লেনের। সরু রাস্তা, হঠাৎ বাঁক, অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ এবং বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যানবাহন ও সীমিত অবকাঠামোর এই বৈপরীত্যই দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর একটি। ‘উৎসব মানেই শোকের আশঙ্কা’ উৎসবকে কেন্দ্র করে এই মহাসড়কের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পরিবারে ফেরার তাড়না, সময় বাঁচানোর চাপ এবং চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা—সব মিলিয়ে বেপরোয়া গতির প্রবণতা বাড়ে। ফলে আনন্দযাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হয় শোকযাত্রায়। একটি মৃত্যুর গল্প: প্রান্ত মন্ডল ৩ মার্চ। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে দোল উৎসব উদযাপন করতে মোটরসাইকেলে রওনা হয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী প্রান্ত মন্ডল। গন্তব্য বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রূপধন গ্রাম। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে উজিরপুরের ইচলাদি এলাকায় পৌঁছালে একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন ২৪ বছর বয়সী প্রান্ত। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক সপ্তাহেই একই মহাসড়কে তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। দুর্ঘটনার মানচিত্র: ‘ব্ল্যাক স্পট’ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের ভূরঘাটা থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার নতুনহাট পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশে অন্তত পাঁচটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— * গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, * ইল্লা, * কটকস্থল, * উজিরপুরের সোনারবাংলা, * রামগতি, এছাড়া বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, মাহিলাড়া, বাটাজোর, মোড়াকাঠি, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদি এলাকাও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। এই অংশজুড়ে সড়কের পাশে ডোবা, খাল ও নালার উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন: ঝুঁকির আরেক স্তর পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর এই রুটে বেড়েছে ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন যানবাহনের সংখ্যা। উৎসব'র সময় ঢাকার বাসগুলো হঠাৎ করে এই রুটে নেমে পড়ে—যাদের অনেক চালকেরই মহাসড়ক সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এক পরিবহন কর্মকর্তা বলেন, “অভিজ্ঞ চালকরাও অনভিজ্ঞ ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনায় পড়ছেন।” এছাড়া থ্রি-হুইলার, নসিমন, করিমন ও ভটভটির মতো ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়? মহাসড়ক পুলিশ ঈদকে সামনে রেখে টহল ও মোবাইল টিম বাড়ানোর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—এটি কি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান? গৌরনদী মহাসড়ক থানার এক কর্মকর্তা সরাসরি স্বীকার করেন, বর্তমান অবকাঠামো দিয়ে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “মহাসড়ক চার লেন না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাটি বহুমাত্রিক— * সড়ক প্রশস্তকরণ (কমপক্ষে ৪–৬ লেন) * অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ * চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং কঠোর করা * ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রকৌশলগত সংস্কার * কার্যকর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ ‘মরণফাঁদ’ থেকে নিরাপদ সড়ক ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক শুধু একটি সড়ক নয়—এটি দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১০টি জেলার মানুষের জীবনরেখা। বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই রুট। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটি যেন এক অনিরাপদ যাত্রাপথ—যেখানে প্রতিটি যাত্রাই অনিশ্চয়তায় ভরা। প্রশ্ন এখন একটাই: উন্নয়নের এই মহাসড়ক কি মানুষের জীবন রক্ষা করবে, নাকি এভাবেই চলতে থাকবে মৃত্যুর মিছিল? দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দাবি স্পষ্ট— “মরণফাঁদ নয়, আমরা চাই নিরাপদ ও আধুনিক মহাসড়ক।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে নববর্ষ মানেই শুধু উৎসব নয়—এটি পরিচয়, ঐতিহ্য, এবং বহু জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানের এক জটিল কিন্তু গভীর সামাজিক বাস্তবতা। “বৈসাবি” শব্দটি আজ সেই সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক, যা জাতিগত বিভাজন পেরিয়ে ঐক্যের বার্তা দেয়। তবে এই নামের উত্থান, ব্যবহার এবং গ্রহণযোগ্যতা—সবই একরৈখিক নয়; বরং এর ভেতরে রয়েছে ইতিহাস, বিতর্ক এবং সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। এক শব্দে বহু উৎসব রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসকারী ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তত আটটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব বর্ষবরণ উৎসব রয়েছে। ত্রিপুরাদের “বৈসু”, মারমাদের “সাংগ্রাই”, চাকমাদের “বিজু”, তঞ্চঙ্গ্যাদের “বিষু”—প্রতিটি উৎসব আলাদা নাম, আচার ও বিশ্বাসে গড়ে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যের ভেতর দিয়ে। “বৈসাবি” নামটি এসেছে এই ভিন্ন উৎসবগুলোর আদ্যক্ষর থেকে—বৈ (বৈসু), সা (সাংগ্রাই), বি (বিজু)। ধারণা করা হয়, আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে এই শব্দটি ধীরে ধীরে প্রচলিত হতে শুরু করে, যদিও নব্বইয়ের দশকে এসে এটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। কিন্তু এই নামের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখেন, আবার কেউ মনে করেন এটি স্থানীয় স্বতন্ত্র পরিচয়কে আড়াল করে একটি “আরোপিত” পরিচয় তৈরি করেছে। উৎসবের ভেতরের ইতিহাস গবেষক ও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বৈসাবির আগে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিজস্ব নাম ও রীতিতে নববর্ষ পালন করত। কোনো কেন্দ্রীয় বা অভিন্ন আয়োজন ছিল না। ত্রিপুরাদের বৈসু তিন দিনের— * প্রথম দিন: ঘরবাড়ি পরিষ্কার, ফুল দিয়ে সাজানো * দ্বিতীয় দিন: ঐতিহ্যবাহী খাবার, অতিথি আপ্যায়ন * তৃতীয় দিন: খেলাধুলা, প্রার্থনা, আনন্দ মারমাদের সাংগ্রাইতেও একইভাবে তিন দিনের ধারা— পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ফুল সংগ্রহ, ধর্মীয় আচার এবং শেষ দিনে সামাজিক ভোজ। চাকমাদের বিজুতে “ফুল বিজু”, “মূল বিজু” এবং “গোজ্যে-পোজ্যে”—এই তিন ধাপে পুরাতন বছর বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। এই উৎসবগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রকৃতি, পবিত্রতা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সম্প্রীতি। নাগরিক রূপান্তর: উৎসবের নতুন চেহারা সময়ের সঙ্গে বৈসাবি শুধু গ্রামীণ বা লোকজ উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এতে যুক্ত হয়েছে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জলকেলি, ফুল ভাসানো এবং “মৈত্রী পানিবর্ষণ”। বিশেষ করে বান্দরবানে ১৯৭০-এর দশকে মিয়ানমারের প্রভাব থেকে জল উৎসবের প্রচলন শুরু হয়, যা এখন বৈসাবির অন্যতম আকর্ষণ। বর্তমানে জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন মিলিতভাবে এই উৎসব আয়োজন করে। ফলে এটি এখন শুধু সাংস্কৃতিক নয়, প্রশাসনিকভাবে সংগঠিত একটি বৃহৎ জনউৎসব। ঐক্যের পেছনে রাজনীতি? বৈসাবি শব্দটির উত্থান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কিছু সূত্র বলছে, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে রাঙামাটির শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এই শব্দটি ব্যবহার শুরু করেন। আবার অন্যদের মতে, প্রশাসনের উদ্যোগেই এই অভিন্ন নাম চালু করা হয়, যাতে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়। এরপর থেকে বৈসাবি একটি “সম্মিলিত পরিচয়” হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে থাকে। সমালোচকদের প্রশ্ন হলো—এই ঐক্য কি স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে নির্মিত? ১৫ দিনের উৎসবে রূপান্তর আগে যেখানে তিন দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল উৎসব, এখন তা প্রায় ১৫ দিনে বিস্তৃত হয়েছে। পুরাতন বছরের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন আয়োজন চলে। এর মধ্যে রয়েছে— * ফুল ভাসানো * ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা * নৃত্য ও সংগীত * ধর্মীয় প্রার্থনা * সামাজিক ভোজ * প্রতিযোগিতা ও মেলা এই বিস্তৃতি একদিকে উৎসবকে বর্ণিল করেছে, অন্যদিকে এর মৌলিক লোকজ রূপের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অনেকেই। সম্প্রীতির বাস্তবতা সব বিতর্কের পরেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বৈসাবি এখন পাহাড়ে সহাবস্থানের প্রতীক। পাহাড়ি ও বাঙালি, স্থানীয় ও পর্যটক—সবাই এই উৎসবে অংশ নেয়। বিদেশে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মানুষও এই সময়ে দেশে ফিরে আসেন। ফলে এটি শুধু সাংস্কৃতিক নয়, আবেগ ও পরিচয়ের পুনর্মিলনও বটে। নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বহুমাত্রিক। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এটি যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তেমনি উৎসবের ওপর রাষ্ট্রীয় উপস্থিতির মাত্রাও বাড়িয়ে তোলে—যা আবার নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। বৈসাবি শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং পরিচয় একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এটি যেমন ঐক্যের গল্প বলে, তেমনি প্রশ্ন তোলে— ঐক্য কাদের শর্তে, কোন কাঠামোয়, এবং কী মূল্যে? পাহাড়ের মানুষের জন্য বৈসাবি আজ আনন্দের, আবার একই সঙ্গে আত্মপরিচয়ের এক জটিল প্রতিফলন।
বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি। জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না। যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার। দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল। দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি। আরও পড়ুন: বরিশালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ইমন খানকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে ইমন খান লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন- বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন। দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি। ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন। আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে। আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, অতীত সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ের সংবেদনশীল দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এখনো বহাল তবিয়্যাতেই আছে নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট চক্র।বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে ফ্যাসিষ্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত প্রসাশনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস, প্রসাশনিক কর্মকর্তা আল কামার, সহ আরো একাধিক কর্মকর্তা যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতির সঙ্গে জড়িত ছিল। আওয়ামীলীগের মন্ত্রী এমপিদের ডিউলেটের মাধ্যমে সচিবালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তহন এবং এদের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্যের সিন্ডিকেট চক্র তৈরি হয়েছে। উক্ত সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে জানাগেছে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম ( বর্তমানে কারাগারে) , সাবেক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আমিনুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, আক্তার হোসেন দপ্তরে কর্মরত ছিল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রসাশনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল বর্তমানে ও সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত আছেন তাদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠিত হয়েছে অভিযোগ অনুযায়ী এই সিন্ডিকেট মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছে ও সরকার বিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মূলক কথাবার্তা বলেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রুপে ম্যাসেজ দিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বরাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রসাশন- ১ শাখা জারিকৃত একটি সরকারি আদেশ ( Government Order) অনুযায়ী কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পাসপোর্ট ইস্যু /রি ইস্যু সংক্রান্ত কাজে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে উক্ত আদেশে উল্লেখিত ব্যক্তিরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল জায়গায় ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ১. লাবনী সূত্রধর, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, লাবনী সূত্রধর সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম- সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের আপন শেলিকা এ ছাড়া তার নিয়োগ এবং বিভিন্ন সূবিধা লাভের বিষয়ে প্রসাশনিক মহলে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২.সূমি বড়ুয়া, স্টেনো টাইপিষ্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর, সূমি বড়ুয়া সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি সাবেক পলাতক সরকারের আলোচিত কর্মকর্তা যুগ্ম-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে-সময়ে প্রসাশনিক প্রভাবে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, ৩. বি এম সাইফুল, প্রসাশনিক কর্মকর্তা,মোঃ সাইফুল ইসলাম (ব্যক্তিগত কর্মকর্তা) সম্পর্কে জানাগেছে যে,তারা পতিত সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অত্র মন্ত্রনালয়ের একাধিক সচিব ও সিনিয়র সচিবের বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ওই সময়ের কয়েকজন সাবেক সচিব অতীত কর্মকান্ডের দায়ে কারাবন্দী রয়েছেন, ৪.আল কামার,প্রসাশনিক কর্মকর্তা, সসম্পর্কে জানাগেছে যে, তিনি শেরপুর জেলার আওয়ামীলীগের সাবেক হুইপ আতিক সাহেবের জামাতা এছাড়া সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ রাসেলের প্রতিকৃতি তৈরির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে ইয়াসিন ফেরদৌস নামের একজন ব্যক্তিও বিভিন্ন প্রসাশনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন বলে জানাগেছে এবং তাদের নাম ও উক্ত সরকারি আদেশে অন্তরভূক্ত রয়েছে ৫. মোঃ নাজমুল হোসেন, যিনি বর্তমানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রটোকল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তদবির বাণিজ্য করার কারণে এবং পূর্বে দায়িত্ব পালনে তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বর্তমানে সে পূনরায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন । এই সিন্ডিকেটের অভিযোগের কারণে দুবাই অস্থায়ী মিশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম বাতিল করা হয়েছে। তা নিয়েও প্রসাশনিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নিচে বঙ্গবন্ধুর কর্নার ও শেখ রাসেলের কর্নার তৈরি করে নিয়মিত ফুল দিত, তা ছাড়া গত ০৭মার্চ ২০২৪ যুগান্তর ই -পেপার পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কল্যাণ সমিতির নামে একটি সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্থায়ী মূরাল নির্মাণের দাবি জানান, মন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানাগেছে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়েছে, তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রসাশনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুকি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে যে,২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এই কর্মকর্তারা কীভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও রাষ্ট্রের সংবেদনশীল জায়গায় সিনিয়র সচিবের দপ্তরে বহাল রয়েছেন, সরকারের এমন একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এখনো তাদের উপস্থিতি সত্যিই বিস্ময় এবং উদ্বেগ উভয়ই সৃষ্টি হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ষদ্বয় দৃষ্টি কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে মহোদয় গণের সূ- মর্জি কামনার কথা জানিয়েছেন। এই চক্রের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেপরোয়া কর্মকান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকারের মান ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে উক্ত সিন্ডিকেটের মূল হোতা সাইফুল ইসলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রুপে একটি মেসেজ দিয়েছেন আমরা চলি পাতায় পাতায় আমরা একেকজনের হাঁড়ির খবর জানি, তাই আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয় প্রতিকার সহ সরকারের উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই। কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ঝালকাঠি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) মো. খাইরুল ইসলামকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তলবের পরও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারসাজি এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অঘোষিত কমিশন এবং প্রভাব বিস্তারের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এতে সৎ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিম্নমানের কাজের ঝুঁকি বাড়ছে। এদিকে, জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকরাও নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, নতুন ভবনের কিছু অংশে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নিয়ম মেনেই সব কাজ করেছি। দুদকের তলবের বিষয়ে আমি অবগত আছি এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেব।” শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রয়োজনে মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনও করা হবে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ৫৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রথম কয়েকজনের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি নিশ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক “সৈয়দ আবেদ আলী” নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। পিএসসিতে চাকরি নিজেই নিয়েছিলেন জালিয়াতি (ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার) করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পিএসসির থেকে চাকরি হারান এবং কারাগারে ছিলেন, এখন জামিনে আছেন। অনুসন্ধানে “আবেদ আলীর” হাতে নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থীর সরাসরি যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে কয়েকজন মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (পুর) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের সরাসরি নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়সহ অন্তত চারজন প্রার্থীর সঙ্গে আবেদ আলীর আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই চার কর্মকর্তার মধ্যে অন্যতম হলেন,ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলাম। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. খাইরুল ইসলামকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগ ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর নাম জড়িয়ে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। প্রধান অনিয়ম ও অভিযোগ : নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত যোগ্যতা ও মেধা তালিকার তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাবে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ: মো. খাইরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় ও দুদকের নজরদারি: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কেনাকাটা ও নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে। অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা ও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অযোগ্যদের নিয়োগের অভিযোগ: সাধারণ পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, যারা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেরই প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান 'সার্চলাইট'-এ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বর্তমান অবস্থা: মো. খাইরুল ইসলামের নামে এসব অভিযোগে জড়িয়েছে। অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও এসব অনিয়মে পরোক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বর্তমান অবস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়োগ দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। সম্পদ বিবরণী নোটিশ: মো. খাইরুল ইসলামকে তাঁর সম্পদের উৎস ব্যাখ্যা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য প্রাথমিক নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের ধরণ: তাঁর বিরুদ্ধে মূলত ২০২১ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তলবের পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন? তদন্তের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর। জনমনে প্রশ্ন স্থানীয় সুশাসনকর্মীরা বলছেন, শিক্ষা খাতে এমন অনিয়ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের প্রশ্ন—দুদকের তলবের পরও কীভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে বহাল থাকেন?
২৪ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)‑এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন) পদে পদায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোয় এই নিয়োগকে নিয়ে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে যারা দীর্ঘদিন কাজ করছেন, তাদের একটি অংশ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আরেকটি “পদায়ন” নয়। এটি বাংলাদেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মিলনক্ষেত্র এবং দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক প্রভাবকে শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে দেয়া একটি নতুন অধ্যায়। এই প্রতিবেদনটি রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, ন্যায্য পদায়ন নীতি, ক্যাডার রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করবে। অধ্যাপক প্রিম রিজভী: পেশাগত পথ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রিম রিজভী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তিনি ২০০৩ সালে কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে, এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন ও পদোন্নতি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের প্রেক্ষাপটে তার কর্মজীবনের প্রধান স্টেজগুলো ছিল: মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্প (SESP)‑এ সহকারী পরিচালক SEQAEP (World Bank অর্থায়নে)‑এ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও চেয়ারম্যান পদ BANBEIS‑এর উপ‑পরিচালক (প্রশাসন) মাউশির প্রশিক্ষণ শাখা‑এ উপ‑পরিচালক এনসিটিবি‑র বিশেষজ্ঞ পদে পদায়ন ইত্যাদি প্রিম রিজভীর কর্মজীবনের ব্যাখ্যায় বারবার রাজনৈতিক প্রবণতা ও ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের অঙ্গেজন স্পষ্ট হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের সূত্র: প্রিম রিজভী দেশের রাজনৈতিক অস্থির সময়েও তার নেতৃত্ব ও পদায়ন ধরে রেখেছেন—বিশেষত: আওয়ামী লীগের শাসন আমল (২০০৮‑২০১৪) অন্তর্বর্তী সরকার আমল বর্তমান বিএনপি সরকার আমল এতে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকারের পরিবর্তনের সাথে সাথে কি আদৌ তার পদায়নে পারদর্শিতা/যোগ্যতা মূল ভিত্তি ছিল নাকি রাজনৈতিক সহায়তা ও প্রভাব প্রধান ভূমিকা নিয়েছে? পদায়নের বিরোধিতা: শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ অবস্থা শিক্ষা ক্যাডারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: 👉 অধ্যাপক প্রিম রিজভীকে পরিচালক পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনের পর অবিলম্বে ক্ষোভের সঙ্কেত। বিভিন্ন শিক্ষাক্যাডার কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে: দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক ভূমিকার পরও উচ্চতর পদে পদায়নে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্বচ্ছতা ছিল না রাজনৈতিক প্রবণতা ও পুরোনো রাজনৈতিক প্রভাব তার জন্য সুবিধা সৃষ্টি করেছে অনেক কর্মী দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও পদোন্নতি পায়নি, অথচ রিজভীর মতো কর্মকর্তাদের দ্রুত পদায়ন দেওয়া হয়েছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন: “শুধু নীতিগত ভুল নয়, এটি আমাদের ক্যাডারের ন্যায্য সুযোগের প্রতি আস্থা ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ করে যারা অধীনজীবনে আছে, তারা দেখছে শক্তিশালী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডই নিয়োগের প্রধান ক্রাইটেরিয়া।” এসব মন্তব্য দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগে ন্যায্যতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব বনাম প্রশাসনিক ন্যায্যতা: বিশ্লেষণ বাংলাদেশে প্রশাসনিক নিয়োগ ও পদায়নকে নিয়ে দীর্ঘদিন বিচার্য প্রশ্ন ওঠে—বিশেষত যখন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় আসে বা যায়। প্রশাসনিক নিযুক্তি কখনো না কখনো রাজনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তা স্বচ্ছতার প্রশ্নের সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলে থাকেন: 👉 প্রশাসনিক পদায়নে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অবশ্যই প্রাধান্য পাওয়া উচিত। 👉 কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক সমর্থন, প্রভাব ও সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, প্রিম রিজভীর ক্ষেত্রে: তিনি আওয়ামী লীগ আমল, অন্তর্বর্তী আমল ও বিএনপি আমল—তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো ১৭ বছর তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, এবং আজও তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এতে প্রশ্ন ওঠে যে কি তিনি প্রকৃতপক্ষে অগ্রাধিকারযোগ্য কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতার আধারেই পদায়ন লাভ করেছেন, নাকি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে বিভিন্ন শাসনামলের প্রভাব এখানে কাজ করেছে? রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া: শিক্ষা সচিবের বক্তব্য যদিও শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন: “এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” এতে একটি ইতিবাচক বিষয়ে ইঙ্গিত থাকলেও শূন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিচ্ছবি ও প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্বশীলদের মতো তারা যদি এখনো প্রেক্ষাপটের সত্যতা যাচাইয়ে সচেষ্ট হন, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। সমালোচকদের বক্তব্য: শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক বদরুল ইসলাম বলেন, “যদি আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়, তাহলে তা শিক্ষা ক্যাডার কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে। এটা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য ক্ষতিকারক।” তাঁর মতে: ক্যাডার নিয়োগে ফুল ফর্মালিটি ও নথিভুক্ত প্রমাণ থাকা উচিত রাজনৈতিক অবস্থান নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নির্ধারণ করা উচিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলের বাইরে রাখা অবশ্যই জরুরি এই মন্তব্যগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্যাডার নিয়োগ নীতির সমালোচনা হিসেবে সামনে এসেছে। প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া: কর্মরত কর্মকর্তাদের অনুভূতি শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে প্রভাবমুক্ত সূত্রগুলোর মতে: অনেকে মনে করেন, দীর্ঘকাল ধরে যারা উচ্চতর দায়িত্বে নেই, তারা অবমূল্যায়িত বোধ করছেন অন্যদিকে, রিজভীর সমর্থকরা মনে করেন তিনি অভিজ্ঞ, পরিচিত ও প্রশাসনিক কাজে পারদর্শী তবে দিনের শেষে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব এক কর্মকর্তা বলেন: “চাকরির সুযোগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে যদি ঝুঁকি থাকে, তাহলে সেটা ক্যাডারের প্রতিরোধ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।” ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট: শিক্ষাক্যাডার ও প্রশাসন শিক্ষা ক্যাডার ও প্রশাসনিক নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে: 👉 স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মধ্যে আস্থার পুনর্নির্মাণ করতে পারে। 👉 সরকারি সকল নিয়োগে ব্যাপক নথি ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হলে যেকোন বিতর্ক হ্রাস পেতে পারে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন: “যখন প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে অস্পষ্ট সম্পর্ক থাকে, তখন কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার সঙ্কট দেখা দেয়।” প্রশাসন কি নিপুণ, নাকি রাজনৈতিক হাতের খেলা? প্রিম রিজভীর নায়েম পরিচালক পদায়ন শুধুমাত্র একটি নিয়োগের ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বনাম স্বচ্ছতা—এই টানাপোড়েনের একটি পরিচায়ক উদাহরণ। শিক্ষাক্যাডারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ, রাজনৈতিক ফর্ক, এবং সরকারি প্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারি নিয়োগ নীতির বড় একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার প্রশ্ন থেকে যায়: 👉 সরকার কি স্বচ্ছ তদন্ত করবে? 👉 শিক্ষাক্যাডারের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে নিরাশা কি কাটবে? 👉 রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত প্রশাসনিক নিয়োগ সম্ভব কি? এই প্রশ্নগুলো আগামী দিনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। বছর দুয়েক আগে প্রিম রিজভী শিক্ষা সচিব বরাবর বদলির জন্য একটি দরখাস্ত দেন মাউশির তৎকালীন মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (যিনি পতিত সরকারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের আপন ভাগিনা) এর মাধ্যমে। সেখানে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এইচআরএম উইংয়ের উপ-পরিচালক, সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর উর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (মাধ্যমিক), জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর বিশেষজ্ঞ (প্রাথমিক) এই তিন পদের যে কোনো একটিতে পদায়ন চেয়েছিলেন। বদলির এই দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, “বিনয়ের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের একমাত্র কন্যা। আমার পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময় থেকে আমৃত্যু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগী ও আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন। আমার পিতা ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে M.N.A পদে জয়লাভ করেন (আসন নং NE- 67, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল) (কপি সংযুক্ত)। ১৯৭২ সালে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু গঠিত গণপরিষদে M.C.A হিসাবে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৯নং সেক্টরে পাক আর্মির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে সাময়িকভাবে স্বাধীন বাংলা সরকারের যোগাযোগ ও খাদ্য মন্ত্রীরও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ (লিপ ইয়ার) এ তাঁর মৃত্যুর পরে জাতীয় মর্যাদায় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবি গোরস্থানে দাফন করা হয়।” অতএব আমাকে আবেদনকৃত পদের যে কোন একটিতে পদায়নের আবেদন জানাচ্ছি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।