রাণীনগরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল বরিশাল অফিস : ঢাকা নওগাঁর রাণীনগরে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ঘর বিক্রিই নয়, একই ঘর একাধিকবার হাতবদল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এ ছাড়া দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা কিছু ঘর দখল করে সেগুলোকে বিলাসবহুল বাসস্থানে রূপান্তরের অভিযোগও রয়েছে। উপজেলার মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে একাধিক ঘর বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকল্পের ৫ নম্বর ঘরটির মূল বরাদ্দপ্রাপক ছিলেন মল্লিকা নামের এক নারী। বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন প্রবাসী সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেজুড়ে দামী কার্পেট, ফ্রিজ ও দেয়ালে ৪৩ ইঞ্চির স্মার্ট টেলিভিশনসহ নানা আসবাবপত্র রয়েছে। ঘরটির অবস্থা দেখে এটিকে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বলে বোঝার উপায় নেই। মর্জিনা বিবি জানান, তিনি মকবুল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকায় ঘরটি কিনেছেন। তার দাবি, মকবুল আবার এটি কিনেছিলেন মূল বরাদ্দপ্রাপক মল্লিকার কাছ থেকে। একইভাবে তিনি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় প্রকল্পের ৬ নম্বর ঘরটিও কিনেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি কাগজপত্র এখনো পাইনি। তবে স্ট্যাম্প ও দলিলের মাধ্যমে কেনাবেচা হয়েছে।” প্রকল্প এলাকা ঘুরে আরও দেখা যায়, ৭ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন আমিন, ৯ নম্বর ঘর ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় কিনেছেন আসাদুল এবং ১০ নম্বর ঘর ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন সফেটা নামের এক নারী। এছাড়া ১৪ নম্বর ঘরটি ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন শরিফ নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮, ১৯ ও ২২ নম্বর ঘরসহ আরও কয়েকটি ঘর ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে। এই কেনাবেচায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের বাসিন্দা হাফিজুলের স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, যাদের ঘর দেওয়া হয়েছিল তারা অনেকেই অন্য এলাকার এবং সেখানে থাকতে আগ্রহী ছিলেন না। নাজমা বেগম বলেন, “তারা থাকতে না চাওয়ায় স্থানীয়দের কাছে ঘর বিক্রিতে আমি সহায়তা করেছি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক সচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার নারায়নপাড়ার বাসিন্দা সাইদ ও তার ছেলে বিদেশে অবস্থান করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও প্রভাব খাটিয়ে ঘর পেয়েছেন। একইভাবে গ্রাম পুলিশ ছাবিনা ইয়াসমিন মীম ও তার বোন বানিছাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মীম তার ঘরটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে আলাদা অবকাঠামো তৈরি করেছেন এবং সেটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য দরদাম করছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাবিনা ইয়াসমিন মীম। তিনি বলেন, “আমি ঘর বিক্রি করতে চাই না। রাগের মাথায় দাম বলেছিলাম। বরং ঘর বিক্রির তথ্য প্রশাসনকে দিয়েছি।” মালিপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি ফরিদ আলী বলেন, “৩২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২টি ঘর কেনাবেচা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।” রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, “ঘর কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরাধীন সেতু/কালভার্ট প্রকল্পে নিয়োজিত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ের কার্যসহকারীদের চাকরি রাজস্বকরণের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বিশাল প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আব্দুল মতিন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মো. আব্দুল মতিন সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় কর্মরত কার্যসহকারীদের নিয়ে একটি সমিতি গঠন করেন। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেই সেই সমিতির সভাপতি পদ দখল করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় তার চাঁদাবাজির মহোৎসব। চাকরি স্থায়ী বা রাজস্বকরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি সাধারণ কর্মচারীদের মগজ ধোলাই করতে শুরু করেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে আব্দুল মতিন ‘প্রশাসনিক তদবির’ এবং ‘আদালতে মামলা পরিচালনা’র অজুহাত দেখিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। প্রতিটি উপজেলা থেকে কর্মরতদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এইভাবে সারা দেশ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করলেও চাকরির স্থায়ীত্বের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী কর্মচারী জানান, মতিন নিজেকে ওপর মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তারা বলেন: “আমরা সামান্য বেতনে প্রকল্পে কাজ করি। স্থায়ীকরণের আশায় ধার-দেনা করে তাকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, মামলার নাম করে তিনি কেবল নিজের পকেট ভারী করেছেন। আমাদের কাছে তার টাকা চাওয়ার ও আশ্বাস দেওয়ার পর্যাপ্ত অডিও রেকর্ড রয়েছে।” মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কর্মচারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এমন সুপরিকল্পিত প্রতারণার ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকারি কার্যালয়ে কর্মরত থেকে একজন কর্মচারী কীভাবে এমন একটি বিশাল নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ‘ভণ্ড কবিরাজ’ বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাকিম রেজাউল করিম (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বগুড়ায় চিকিৎসার নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রেজাউল করিম নামের এক কথিত কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী বর্তমানে রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির ছাত্রী। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মোফছের আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ বগুড়া শহরের চকসুত্রাপুর চামড়া গুদাম এলাকায় বসবাস করেন। শহরের নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন স্থানে ‘আশ-সিফা দাওয়াখানা’ নামে একটি চেম্বার চালাতেন, যেখানে তিনি কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথায় ভুগছিল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরও কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ রেজাউল করিমের সন্ধান পায়। গত ৩ মে সকালে কিশোরীর বাবা তাকে ওই দাওয়াখানায় নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, কবিরাজ কিশোরীকে দেখার পর দাবি করেন যে তার শরীরে ‘জিনে ধরেছে’ এবং ঝাড়ফুঁক প্রয়োজন। এরপর তিনি তাকে দাওয়াখানার ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং অন্যদের বের করে দেন। পরে চিকিৎসার নামে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই দিন বিকেলে পুনরায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। পরিবার পরবর্তীতে ওই টাকা নিয়ে গেলে তাকে আবারও একই কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে ৪ মে তার বাবা বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠায়। পরে ৫ মে সন্ধ্যায় নামাজগড় এলাকা থেকে রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, অভিযুক্তের দাওয়াখানার ভেতরে পৃথক কক্ষ তৈরি করা ছিল, যেখানে চিকিৎসার নামে নারীদের সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের ও ভুক্তভোগীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের জন্য পাঠানো হবে। আদালতের মাধ্যমে রেজাউল করিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে পুকুর ও খাল পুনঃখনন এবং খরা সহিষ্ণু কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর তত্ত্বাবধানে এবং এসকেএস ফাউন্ডেশন-এর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প এখন বিতর্কের মুখে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিনোদপুর এলাকায় পাঁচটি খাস পুকুর সংস্কারকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান একটি পুকুর ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ইউএনও ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটরের চারটি ব্যাটারি ও টুলবক্স খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সময় চালকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউএনও কার্যালয়ের পিয়ন রাজন হোসেন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর পুকুর খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট জানা গেছে, রাজশাহীসহ তিন জেলায় মোট ১৮টি এনজিও এই জলাশয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তানোর উপজেলায় প্রায় ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় “মেসার্স কুশ এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার কাজ শুরু হয় ১ এপ্রিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউএনও প্রকল্প সমন্বয়কারী আরাফাত রহমান-কে ডেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর ভরাটের প্রস্তাব দেন। পরে অফিস সহকারী ইমরান আলী ঠিকাদারদের ডেকে একই বিষয়ে তাগিদ দেন বলেও অভিযোগ। ঠিকাদার দাবি করেন, পুকুরটি ভরাট করতে প্রায় ৫–৬ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা প্রকল্পের আওতার বাইরে। পরবর্তীতে এক লাখ টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগও ওঠে, যা তারা প্রত্যাখ্যান করেন। ঠিকাদার পক্ষের বক্তব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বাপ্পির দাবি, অভিযানের সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালিগালাজ করা হয় এবং এক্সকেভেটর চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন রাজন হোসেন। তার দাবি, কোনো ব্যাটারি ভাঙা বা মোবাইল নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং উৎকোচ দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে ইমরান আলী বলেন, তিনি ইউএনওর নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। ইউএনও নাঈমা খান অভিযোগ নাকচ করে জানান, এটি কোনো সরকারি প্রকল্পের কাজ নয় এবং সংশ্লিষ্ট জলাশয়টি একটি ছোট ডোবা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিকাদার পুকুরের মাটি বাইরে বিক্রি করছিলেন—এই অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার করলে জব্দ করা সরঞ্জাম ফেরত দেওয়া হবে। তদন্তের ইঙ্গিত এ বিষয়ে কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, বলেন—অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং তহবিল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্পষ্ট নয়—কারা এই সংঘর্ষের মূল পরিকল্পনাকারী এবং কীভাবে পরিস্থিতি এতটা সহিংসতায় গড়ায়। তবে স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পদ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার বিষয়টি সামনে এসেছে। সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্ব কলেজটির রয়েছে প্রায় ৮ বিঘা পুকুর, কয়েকটি পানের বরজ এবং প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর একটি বড় কাঠামো। এসব সম্পদ থেকে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আসে—ভর্তি ফি, বিভিন্ন চাঁদা ও লিজ বাবদ আয় মিলিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অর্থের একটি অংশ তছরুপ হয়েছে। পুকুর ও বরজ লিজে দিয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলেও রসিদে কম দেখানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন অধ্যক্ষ ও বিরোধের সূচনা গত ১৭ ডিসেম্বর নতুন অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অডিটে তহবিল অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেন। ২৩ এপ্রিল কলেজের পুকুর ও পানের বরজ উন্মুক্তভাবে লিজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে একটি প্রভাবশালী চক্রের স্বার্থে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সংঘর্ষের দিন যা ঘটেছিল ঘটনার দিন কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে: একদল স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হিরাকে ধাক্কা দেওয়া হয় ভিডিও ধারণের সময় তাকে জুতাপেটা ও মারধর করা হয় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে আবারও আক্রমণ করা হয় পরবর্তীতে আরও লোকজন লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলায় অংশ নেয়। অধ্যক্ষকেও মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও একই ধারা অব্যাহত থাকে। একাধিক সূত্র বলছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি চক্র কলেজের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করত। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তহবিল অনিয়মের অভিযোগ লিজগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী: বছরে ৭০ হাজার টাকা লিজ দিলেও রসিদ দেওয়া হয়েছে ৫০ হাজার টাকার অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ কলেজ তহবিলে পুরোপুরি জমা হয়নি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘটনায় জড়িত এক স্থানীয় নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অভিযুক্ত এক কর্মী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে আগেই পরোয়ানা ছিল শিক্ষিকা হিরাকে উল্টো সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন এবং শুরু থেকেই চাঁদার চাপের মুখে ছিলেন। এখনো অনিশ্চয়তা ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষকরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এসেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা চারটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে পাবনা শহরের গোপালপুর এলাকা থেকে দুদক ও পুলিশের একটি যৌথ বিশেষ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন সোমবার দুপুরে পাবনা সদর থানার হেফাজত থেকে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। দুদকের পাবনা কার্যালয় সূত্র জানায়, শাহজাদপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি এবং সরকারি অর্থ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আবুল কালাম আজাদ তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৯ লাখ ৪২ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া অনুসন্ধানে তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার বাদী ও দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে একটি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দাউদপুর বালিকা বিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা জাল নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক পরিদর্শনে তার সনদটি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়। পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগের প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও, এরপর তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষকের উদ্যোগে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এ চিঠি পাঠানো হলে সংস্থাটি জানায়, সনদটি সঠিক নয়। এতে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি এবং তিনি সরকারি বেতন-ভাতার জন্যও প্রাপ্য নন বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে চাকরিকালে তিনি যে মোট ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯০০ টাকা গ্রহণ করেছেন, তা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলেও জানানো হয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকা রেবেকা সুলতানা অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং সনদও পেয়েছেন। অডিট প্রতিবেদনে কেন তার সনদকে জাল বলা হয়েছে, তা তার কাছে স্পষ্ট নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে সনদটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও তার দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো কপি পৌঁছায়নি। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দীন আল আজাদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় একটি এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার অভিযোগে মোছা. জান্নাতি খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ী পাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী। গ্রেফতারের সময় তার দেড় বছর বয়সী সন্তানও তার সঙ্গে ছিল এবং বর্তমানে মা ও সন্তান দুজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় সীমিত।” পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক এক সময় ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের একটি এনজিওতে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির শর্ত অনুযায়ী তিনি ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। একই সময়ে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ওই এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাক চাকরি ছেড়ে দেন। রাজ্জাকের দাবি, ঋণের প্রায় অর্ধেক—প্রায় ২৫ হাজার টাকা—কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি চাকরির সময় জমা রাখা জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। তবে তার অভিযোগ, এনজিও কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন গ্রহণ না করে তার স্ত্রীর নামে আদালতে মামলা করে। তিনি আরও বলেন, “সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কত টাকার দাবি দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে তা আমরা জানি না।” পুলিশ জানিয়েছে, জান্নাতি খাতুনকে শুক্রবার সিরাজগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর একটি বেসরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হয়ে তিনি প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে মোছা. আলেয়া খাতুন হীরার নিয়োগটি জনবল কাঠামোর অনুমোদন ছাড়াই দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়; জাতীয় পর্যায়ের কোনো পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি। ওই বছরের ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিও ছিলেন। তবে সরকারি বিধি অনুযায়ী সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে প্রদর্শক বা প্রশিক্ষক পদ অনুমোদিত না থাকায় তার এমপিওভুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আলেয়া খাতুন একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চামেলী খাতুন প্রতিষ্ঠান ছাড়ার পরও এমপিও তালিকা থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়নি। এই সুযোগে ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আলেয়া খাতুন ধারাবাহিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে মোট ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার এমপিও বাতিল, আত্মসাৎকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদান, বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি বিষয়ে ল্যাব থাকলে প্রদর্শক পদ অনুমোদিত হয়, তবে সাচিবিক বিদ্যা বিভাগে এ ধরনের কোনো পদ নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বামনবাড়িয়া গ্রামে দুই সহোদর সরকারি কর্মকর্তা—রফিকুল ইসলাম শফি ও মো. শওকত আলীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জমি দখল, প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই দুই ভাই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। এরপর থেকেই জমি সংক্রান্ত বিরোধ, কৃষিজমি দখল এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শফি বগুড়া পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অন্যদিকে তার ছোট ভাই মো. শওকত আলী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরিতে যোগদানের আগে পরিবারটির সম্পদ সীমিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। গ্রামে দৃষ্টিনন্দন ভবন, কৃষিজমি ক্রয়, ঢাকায় সম্পদ অর্জন—এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জমি দখলের অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও কৃষকের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কৃষিজমি দখল, বন্ধকি জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দরিদ্র কৃষকদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ১৯৮৭ সাল থেকে চাষাবাদ করা কিছু জমি ২০১০ সালের পর তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব ঘটনা ঘটেছে। আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পারিবারিক এক একর জমিও প্রভাব খাটিয়ে দখল করা হয়েছে, যেখানে পরিবারের আরও সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। ভয়ভীতি ও প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যেখানে কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে সাহস পাননি। অভিযোগ রয়েছে, কেউ আপত্তি তুললে মামলা বা সামাজিক হয়রানির ভয় দেখানো হতো। জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদের প্রশ্ন গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুই ভাইয়ের সম্পদের পরিমাণ তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গ্রামের বাড়ি, কৃষিজমি, ঢাকার সম্পদ—সবকিছু নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, জমির দলিল, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদের উৎস যাচাই করে তদন্ত এগোতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অভিযুক্তদের অবস্থান অভিযুক্ত মো. শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বৈধ আয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন। রফিকুল ইসলাম শফির পক্ষ থেকেও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।
রাজশাহী: দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে মারামারির ঘটনায় আলোচিত আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজ পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।” ঘটনাটি ঘটে দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষিকা এবং স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যে হাতাহাতির দৃশ্য দেখা যায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নজরে আসে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি), এবং পরে তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, একই ঘটনায় শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী কলেজে ঢুকে ভাঙচুর চালান এবং এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার সময় সংঘটিত এক সহিংস হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে। কী ঘটেছিল সেদিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দেন এবং অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। নারী শিক্ষকের ওপর হামলা ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা। তিনি জানান, অধ্যক্ষকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে এক হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি স্যান্ডেল খুলে শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাকে চুল ধরে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। ‘চাঁদা না দেওয়াই মূল কারণ’ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চাপের ফল। অধ্যক্ষের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক আলেয়া খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, “হিসাব চাওয়ার নামে মূলত চাঁদাই দাবি করা হতো।” স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি এলাকায় ‘সামাদ দারোগা’ নামে পরিচিত—এই প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তের বক্তব্য হামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কলেজে গিয়েছিলেন এবং তর্কের এক পর্যায়ে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ মারধর করেন। তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতে অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা দাবি ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কলেজে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটে শিক্ষিকার আচরণের কারণে। তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঘটনার সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তবুও কীভাবে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট এই ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার উদাহরণ নয়—এটি স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাহীনতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) কর্তৃক ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে এক পিকআপচালককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঘটে বলে জানা গেছে। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হস্তক্ষেপ করলে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে তার অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনে ক্ষোভ, আটকে রাখার অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন তার এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে থানায় যান, যিনি একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে থাকা এসআই রোখসানা খাতুনকে সালাম দিয়ে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হন—এমন অভিযোগ ওঠে। এরপর মামুনকে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক কক্ষে আটক রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে তাকে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়। স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওই নারী এসআইয়ের বিরুদ্ধে অতীতেও অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগে থানায় গেলে তাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন দাবি করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই ধরনের আচরণের বিষয়ে তিনি থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছিলেন। পুলিশের অবস্থান শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে পিকআপচালককে আটক রাখার বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। বদলি ও শাস্তির দাবি ভুক্তভোগী নূর মোহাম্মদ মামুন এবং স্থানীয়রা অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন।
রাজশাহী: দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর ও শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজটিতে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে কলেজের আগের প্রশাসনের সময়কার আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়। পরে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষকদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং অফিস কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। একটি ভিডিওতে নারী শিক্ষককে জুতাপেটা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ অন্তত পাঁচজন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “তারা বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাব চাইতেন। মূলত চাঁদা দাবির বিষয়েই বিরোধ তৈরি হয়। প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করা হয়।” অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। শিক্ষকই প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তিনি আরও বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধামইরহাট: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদযাপন করা হয়েছে। “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়ব স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পুষ্টি মেলার উদ্বোধন করেন ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক প্রশান্ত চক্রবর্তী। উদ্বোধনের পর একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও মেধাবী জাতি গঠনে সুষম খাদ্যের বিকল্প নেই। পুষ্টি বৈষম্য কমাতে সরকার তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। সভায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পুষ্টি মেলায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবারের স্টল প্রদর্শন করা হয়। এসব স্টলের মাধ্যমে প্রসূতি মা, নবজাতক এবং শিশুদের জন্য সুষম খাদ্য তালিকা ও ঘরোয়া উপায়ে পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়ে দর্শনার্থীদের সচেতন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শেষে আয়োজনে সহযোগিতার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
ধামইরহাট : নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহের সময় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁ। বুধবার সকালে উপজেলার পূর্ব বাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাংবাদিক এম এ মালেকের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁর সভাপতি সাব্বির আহম্মেদ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা “অত্যন্ত নিন্দনীয়”। তার ভাষায়, “এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হুমকি।” তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বানও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ধামইরহাট, নওগাঁ: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রশান্ত চক্রবর্তী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এই কর্মসূচির আওতায় ধামইরহাট উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ১৭১ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা প্রদান করা হবে। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে আগামী ১০ মে পর্যন্ত মোট ১১ কর্মদিবসে উপজেলার ২৪১টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ডা. আশীষ কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে উপজেলায় একজন শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া আরও ১০ জন শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে হাম ও রুবেলার মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
ধামইরহাট, নওগাঁ: নওগাঁর ধামইরহাটে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ হাটের ইজারা প্রক্রিয়া অচলাবস্থায় পড়েছে, একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোনো পক্ষ। এতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জাহানপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মঙ্গলবাড়ী হাটসহ হরতকী ডাঙ্গা, ফতেপুর ও পলাশবাড়ী—মোট অন্তত পাঁচটি হাটের ইজারা কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী চারবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দরদাতা সিডিউল জমা দেয়নি। এ অবস্থায় হাটগুলো ‘খাস কালেকশন’-এর আওতায় পরিচালনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে সরকার সরাসরি টোল আদায় করে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের একাংশের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে। তাদের অভিযোগ, খাস কালেকশনের ক্ষেত্রে অনেক সময় আদায়কৃত অর্থ পুরোপুরি সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না। এতে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয় এবং সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাতে পারে। পাশাপাশি হাটের অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের সুবিধাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, “নিয়ম মেনে আমরা চারবার দরপত্র আহ্বান করেছি। কিন্তু কেউ অংশ নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী হাটগুলো খাস কালেকশনে পরিচালিত হবে।” অন্যদিকে, বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি নজরে রেখেছে। বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ জানান, “ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, রাজস্ব সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন হতে পারে।
নওগাঁ : নওগাঁ সদর উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে, যা পরিবেশন করেন হাপানিতা ইউনিয়ন কমান্ডার মুসলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে গীতা পাঠ করেন সন্তস কুমার। শিকারপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রশিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ সদর উপজেলা কমান্ডার এ.এফ.এম নুরুজ্জামান (নান্টু)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মজিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুসলেম উদ্দিন আকন্দ, আতাউর রহমান এবং আবু তাহেরসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম (ধলু) বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠান শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়, যা এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মোঃ নুর সাইদ, ধামইরহাট : নওগাঁর ধামইরহাটে পবিত্র হজ পালনে যাত্রার আগে হজযাত্রীদের বিদায় জানাতে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া ও মোনাজাতের এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় উপজেলার বিসমিল্লাহ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। চকযদু কাশিয়াডাঙ্গা মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসার সভাপতি আলহাজ মো. শরিফুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন শিবলী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী এবং মাদ্রাসার মুহতামিম, হজ কাফেলার মোয়াল্লিম হাফেজ মো. তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে হজযাত্রীদের উদ্দেশ্যে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও নসিহত তুলে ধরেন সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম খেলাল ই রব্বানী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আতাউর রহমান, জনতা ব্যাংকের সাবেক এজিএম ও ইসলামী বক্তা মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, ধামইরহাট বণিক সমিতির সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং চকপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মোয়াল্লিম তরিকুল ইসলাম জানান, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এ বছরের হজযাত্রীরা বাংলাদেশ থেকে প্রথম ও উদ্বোধনী ফ্লাইটে সৌদি আরবে গিয়ে বাইতুল্লাহ শরীফে উপস্থিত হবেন—এমনটাই আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে হজযাত্রীদের সুস্থতা, নিরাপদ সফর এবং হজ পালন শেষে নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
শেরপুর: বগুড়ার শেরপুর পৌরসভায় অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে পৌর আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি নগর পরিকল্পনা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পৌর শহরের রামচন্দ্রপুর পাড়ায় (মাবিয়া কমপ্লেক্সের উত্তর পাশে) ‘সাকিব’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হলেও প্রশাসন কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় কোনো ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে শেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই আইন উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, অপরিকল্পিত ও গা-ঘেঁষাঘেঁষি ভবন নির্মাণের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নগর সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পৌর নাগরিক অভিযোগ করেন, পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, “প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।” এ বিষয়ে শেরপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভবন নির্মাণকারীরা কোনো অনুমতি নেননি। তবে এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। অন্যদিকে, শেরপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমার যোগদানের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পূর্বে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি একটি ভবন নির্মাণের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। যদি পৌর আইন লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ একদিকে যেমন জীবনঝুঁকি বাড়ায়, অন্যদিকে শহরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট করে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।