ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলেও তা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে থেকেই ইরান বলে আসছিল, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে। যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন একটি পারিবারিক আইন জারি করেছে, যা ঘিরে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শরিয়াহ আইনের তালেবানি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরি ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতিমালা’ শিরোনামের এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘নীরবতা মানেই সম্মতি’—সবচেয়ে বিতর্কিত ধারা নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত অংশে বলা হয়েছে, কোনও ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে তার সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সমালোচকদের মতে, এই ধারা নারীর ব্যক্তিগত মতামত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে এমন একটি সমাজে, যেখানে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন, সেখানে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা জবরদস্তিমূলক বিয়েকে বৈধতা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধতা পাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক হওয়া কোনও নাবালক ছেলে বা নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যদি পাত্র সামাজিকভাবে ‘উপযুক্ত’ হয় এবং মোহরানার পরিমাণ ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে। তবে এখানে একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। ‘যৌবনোত্তীর্ণ হওয়ার পর সিদ্ধান্তের অধিকার’ নামের একটি আইনি নীতির আওতায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। যদিও সেই আবেদন গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ধর্মীয় আদালতের হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধান আংশিক আইনি সুরক্ষা দিলেও বাস্তবে সামাজিক চাপ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নারীদের সীমিত স্বাধীনতার কারণে তা কার্যকর হওয়া কঠিন হতে পারে। বিচারকদের বাড়তি ক্ষমতা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে তালেবান বিচারকদের পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়ে বিচারকেরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্য শাস্তিও দিতে পারবেন। আইন বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ধারা বিচারিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের ওপর ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান সরকার আফগান নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। নারীদের বহু সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। একা ভ্রমণ, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন পারিবারিক আইন সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে তালেবানের এই নতুন আইনের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, নারী অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নীরব সম্মতি” এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের বৈধতা—এই দুটি ধারা ভবিষ্যতে আফগান সমাজে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতায় আগেই পিছিয়ে পড়া আফগান নারীরা নতুন এই আইনের ফলে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরানের সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি এবার মিথ্যা প্রমাণিত করেছে খোদ মার্কিন এক গোয়েন্দা সংস্থা। গোপনএই গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এখনও উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং বহু ঘাঁটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শুরুতে প্রস্তুত করা ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে দেখা গেছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এছাড়া, দেশজুড়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ বর্তমানে আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা সর্বশেষ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগে ইরানের যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও মোবাইল লঞ্চার ছিল তার প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। তবে এই মূল্যায়ন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়ালেস বলেন, ‘ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।’ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, তিনি আরও বলেন, ‘ইরান বুঝতে পারছে যে তাদের বর্তমান বাস্তবতা টেকসই নয়।’ একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি কেউ মনে করে ইরান তার সামরিক শক্তি পুরোপুরি পুনর্গঠন করেছে, তাহলে সে হয় বিভ্রান্ত, নয়তো আইআরজিসির মুখপাত্র।’ উল্লেখ্য, জেনেভায় কূটনৈতিক আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, তেহরানের যুদ্ধপূর্ব অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি আঘাত হানতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৯০ শতাংশ পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। এসব স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গেলে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের গত কয়েক সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী “পুরোপুরি ধ্বংস” হয়ে গেছে। পরে তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার বড় অংশ নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীপিট হেগসেথ। তবে নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৩ হাজার হামলার পরও অক্ষত ইরানের বড় অংশের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ দিনে ১৩ হাজারের বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলেও দেশটির ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও টিকে আছে। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হাতে এখনও কয়েক হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী(আইআরজিসি)ও একই ধরনের দাবি করছে। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের “পুরোনো মজুদ” থেকেই মাত্র ৩ হাজার ৬০০ ড্রোন এবং ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের এক সংসদ সদস্য তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি-কে বলেছেন, বিদ্যমান মজুদ দিয়েই “বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানো সম্ভব”। হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশ এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে ৭৫ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্তর। এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে আমদানির উৎস বহুমুখী করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করছে সরকার। চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিi-এর সরকার দাবি করেছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকারের দাবি ছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নতুবা ইরানকে “ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে”। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। ফলে পরিস্থিতি এখন দুটি সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে— এক. দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি অচলাবস্থা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। দুই. নতুন করে সামরিক সংঘাত, যা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসন যদিও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর অস্বীকার করছে, তবে একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বাড়তি তৎপরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বেইজিং এই সংঘাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করছে চীন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত কাউন্সিলর (প্রজেক্ট) তানভীর কবিরকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, প্রশাসনিক ব্যত্যয় এবং কর্মক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। বদলি আদেশ কার্যকর না করা থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্মীদের চাকরিচ্যুতির চেষ্টা, বিতর্কিত নিয়োগ এবং তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মিশনটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৩ মে বার্লিন দূতাবাস পরিদর্শনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপ অনুবিভাগের সচিব ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব অপারেশন্স (আইজিও) ড. নজরুল ইসলাম। যদিও তিনি সরাসরি কোনো তদন্তের কথা স্বীকার করেননি, তবু মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। বদলি আদেশের দেড় বছর পরও যোগদান নয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, তানভীর কবিরকে ২০২১ সালে জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়োগ দেওয়া হয়। কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুসারে বিদেশ মিশনে একজন কর্মকর্তার স্বাভাবিক দায়িত্বকাল তিন বছর। সেই হিসেবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর তাকে বার্লিন থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কাউন্সিলর পদে বদলি করা হয়। তবে প্রায় দেড় বছর পার হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। বরং বদলি আদেশ স্থগিত রেখে বার্লিনে থাকার অনুমতি চেয়ে পররাষ্ট্রসচিবের কাছে আবেদন করেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানভীর কবির সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দেন। তিনি বলেন, “আপনি যদি সংবাদ প্রচার করেন, তাহলে আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ মামলা করতেও দ্বিধাবোধ করব না।” আরও এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেদক “জুলকারনাইন সায়ের খানের বাংলাদেশি এজেন্ট” হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অভিযোগ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজন স্থানীয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে তানভীর কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত এক জ্যেষ্ঠ বাংলাদেশি কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রদূতের হস্তক্ষেপে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে কাজে ফেরা এক জার্মান নারী কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ওই কর্মচারী জার্মান আইনের অধীনে “প্রোটেকশন কার্ড” সুবিধাভোগী। ফলে তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত জটিল। শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ক্ষেত্রে আদালতে মামলা হলে ক্ষতিপূরণ বাবদ বাংলাদেশ সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় ‘অপমানজনক আচরণ’ ২০২৫ সালের ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইংয়ে কর্মরত এক জার্মান নারী কর্মকর্তার সঙ্গে তানভীর কবিরের আচরণ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে উপস্থিত দর্শনার্থীদের সামনে ওই নারী কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে অপমান করেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছিল মেলার ভিজিটর টিকিটের পরিবর্তে ভাউচার কোড দেওয়া নিয়ে। ভুক্তভোগী নারী রাষ্ট্রদূতের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। পরে বিষয়টি বাংলাদেশে ন্যাশনাল বুক সেন্টার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো সাড়া না পেয়ে ওই নারী জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসেও অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ফেডারেল ফরেন অফিস তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। বিতর্কিত নিয়োগ ও ‘স্বজনপ্রীতির’ অভিযোগ দূতাবাসে সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রুজমিলা নামের এক বাংলাদেশি নারীকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে ১৫ বছরের বেশি সময় দূতাবাসে কাজ করেছিলেন। তাকে রাষ্ট্রদূতের সোশ্যাল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যদিও এমন পদে সাধারণত স্থানীয় জার্মান নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। দূতাবাস সূত্রের দাবি, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। দূতাবাসের ওয়েবসাইট, জার্মান চাকরির পোর্টাল কিংবা সংবাদমাধ্যম—কোথাও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে সাম্প্রতিক এক ইন্টার্ন নিয়োগ নিয়েও। অভিযোগ রয়েছে, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সার্ভারে প্রবেশাধিকার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একজন স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নকে জন্ম নিবন্ধনের জাতীয় সার্ভারে প্রবেশাধিকার দেওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এ ধরনের অ্যাক্সেস অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সাধারণত কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া কাউকে দেওয়া হয় না। ফলে তথ্য নিরাপত্তা ও সরকারি ডেটা ব্যবস্থাপনার নীতিমালা লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইজিও ড. নজরুল ইসলাম বলেন, তার সফর মূলত “মিশন ইন্সপেকশন” কার্যক্রমের অংশ। তিনি বলেন, “আমি আইজিও। আমার কাজ হচ্ছে মিশন ইন্সপেকশন করা। আমি মিশন ইন্সপেকশনে যাচ্ছি। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এবং কনফিডেনশিয়াল।” তবে তিনি এটিও জানান যে, অভিযোগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে। বাড়ছে কূটনৈতিক অস্বস্তি বার্লিন মিশনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ক্রমেই অস্বস্তি বাড়ছে। স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে আচরণ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ শুধু মিশনের ভাবমূর্তিই নয়, বাংলাদেশ-জার্মানি কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, শ্রম আইন মেনে চলা এবং তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আর্থিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের নৌযান মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এসব সাবমেরিনকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক ভাষণে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিন শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলের গভীরে অবস্থান করা, শত্রু জাহাজের গতিবিধি প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজন হলে আঘাত হানার সক্ষমতা এসব সাবমেরিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে ডাকা হয়। ইরানি এই নৌকমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালীতে দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অভিযানে এসব সাবমেরিন পানির ওপর উঠে আসে। পরে প্রদর্শনীমূলক মহড়া শেষে আবার গভীর সমুদ্রে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে ফিরে যায়। হরমুজ ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে ইউরোপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে। যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছিল। ফ্রান্স ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে। এর পরই যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।” ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত কমে এলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি তৈরি করা। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য এ অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে। তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই অবরোধ কার্যকরে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা না করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে অবশেষে বাধা কাটল। স্থানীয় দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। ভিসিকে ও আইইউএমএলের দুটি করে চারটি আসন টিভিকের ভান্ডারে যোগ হয়েছে। এতে তাদের মোট আসন দাঁড়াল ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত হওয়ায় টিভিকে সদর দপ্তরে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়। দলনেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘উল্লাস শুরু করো।’ ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতে থালাপতি বিজয়কে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। দলটির বিধানসভা দলনেতা ভান্নি আরাসু স্বাক্ষরিত ওই চিঠি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থালাপতি বিজয় নিজ দল টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চেন্নাইয়ের লোকভবনে যান। সেখানে তিনি কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিজয় থালাপতি সব সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। এরপর রাজ্যপাল তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। রাজ্যপালের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আজ শনিবার থালাপতি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত সোমবার তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়কের সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন কার্যত ১১৬-তে আটকে ছিল। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত তারা ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের অপেক্ষায় ছিল। ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন নিশ্চিত হওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন রাজ্যপালকে ফলাফল জানাবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হতে পারে। এদিকে, আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটিকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কয়েকদিন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে। রুবিও বলেন, ‘ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলাম, তা আমরা অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কাজ করছি।’ ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ‘(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।’ রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলও মেনে নিচ্ছেন না। “আমি কেন রাজভবনে যাব? শপথ নিতে গেলে যেতাম। ওরা দখল করেছে। আমি পদত্যাগ করতে যাব না। আমরা ভোটে হারিনি,”—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফলকে “অপ্রকৃত” দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। তার মতে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “ওরা গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। এমন নির্বাচন আমি কোনোদিন দেখিনি।” বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন। তবে সম্ভাব্য জোট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি। রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূল প্রধান দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যদি সঠিকভাবে পরাজয় পেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” সারসংক্ষেপ এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১২৬ আসনের বিধানসভায় দলটি এবং তাদের মিত্ররা মিলিয়ে মোট ১০২টি আসন পেয়ে এক নতুন রাজনৈতিক নজির গড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর নেতৃত্বে এই জয় গত এক দশকের মধ্যে রাজ্যে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে। ২০১৬ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮৬টি এবং ২০২১ সালে ৭৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে এবার দলটি একাই ৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে। মিত্র দল বিপিএফ ও এজিপি ১০টি করে আসন পাওয়ায় এনডিএ জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল দলের নয়, বরং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অভিবাসন’ ও ‘মিয়া মুসলিম’ ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং নারীদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়। শর্মার ‘মামা’ ইমেজ এবং আক্রমণাত্মক অথচ জনমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দলটি মাত্র ১৯টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া-সহ একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিরোধী জোট মোট ২১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া রাইজর দল দুটি আসনে জয়ী হয়েছে। এআইইউডিএফ পেয়েছে মাত্র ২টি আসন—যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনে জয় পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস যে আসনগুলোতে জয় পেয়েছে সেগুলো ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব বেশি ছিল, যা রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। নিজের জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ষষ্ঠবারের মতো বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রায় ৮৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার এই জয় আরও একবার তার রাজনৈতিক প্রভাবকে সুসংহত করেছে। জয়ের পর তিনি বলেন, এই ফলাফল উন্নয়ন, নারীশক্তির অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক আত্মপরিচয়ের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বার্তাকে এই রায় আরও জোরালো করেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দুটি অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং আঘাতপ্রাপ্ত সামরিক ঘাঁটি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে দ্রুত পুনরায় মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় আনার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। এ কারণেই দেশটি তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিফিং দেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশলও বিবেচনায় আসে। “দুটি পথ” সামনে ট্রাম্পের শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সামরিক পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, “আমরা কি তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করব, নাকি একটি চুক্তির চেষ্টা করব—এই দুটি পথই খোলা রয়েছে।” তবে সরাসরি হামলার বিষয়ে তিনি অনিচ্ছার কথাও জানান। যুদ্ধবিরতি ও অচলাবস্থা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিমত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের হারানো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করলেও নতুন করে তা প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনবিসি নিউজ জানায়, বাস্তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর বড় অংশ কৌশলগত বিভ্রান্তি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হয়তো নকল বা ডামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রকৃত অস্ত্রভাণ্ডার আড়াল করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এসব ছড়িয়ে রাখার মাধ্যমে আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, যদিও তার দাবি—এর প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের হাতে এখন “মাত্র অর্ধেক” ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তাদের সামরিক শিল্প কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই ইরান দ্রুত অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এদিকে, মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরও এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। তারা প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে। ফলে কাগজে-কলমে চলাচল সম্ভব হলেও বীমার অনুপস্থিতিতে বাস্তবে অনেক জাহাজই যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলেও বীমা ব্যয় দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা অর্জিত হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ওমান উপসাগর এলাকায় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ঘটনাটিকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। শুরু থেকেই ইরান জানিয়ে আসছে, নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ছয় নাবিক দেশে ফিরলেও এখনো বাকি ২২ জন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী একটি মানবিক সহায়তা বহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী—এমন অভিযোগ করেছে আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো বহরটিকে ঘিরে ফেলে এবং অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের ‘অবৈধভাবে’ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহরের মোট ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ১১টির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বহরের অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বহরটি তাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ‘মনোযোগ আকর্ষণে মরিয়া বিভ্রান্ত উসকানিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর বলেন, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজের ওপর এই অভিযান ‘সরাসরি জলদস্যুতা’। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সমুদ্রের মাঝখান থেকে কাউকে আটক করা অপহরণের শামিল। তিনি আরও বলেন, বহরটিতে ৪০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। “এ মুহূর্তে নীরব থাকা মানে এই অপরাধের অংশীদার হওয়া,” যোগ করেন তিনি। ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের সামরিক নৌযানগুলো অবৈধভাবে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে। অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দিয়েছে।’ ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করছে, ৭টি নৌযান আটক করা হয়েছে। ফ্লোটিলার সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইরান সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিকল্প রুট হিসেবে পানামা খালের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এর ফলে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্য আমেরিকার পানামা খালে জাহাজের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি হচ্ছে। পানামা খাল কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের প্রধান ভিক্টর ভিয়াল জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত আগের তুলনায় প্রায় ৩০০টি বেশি জাহাজ এই খাল ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া। ফলে অনেক জাহাজ নিরাপদ ও বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খালকে বেছে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ব্যয়ে। সাধারণত পানামা খাল অতিক্রম করতে জাহাজভেদে ৩ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়। তবে দ্রুত পারাপারের সুবিধা পেতে কিছু জাহাজকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পণ্যের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের বাস্তব চিত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিচ্ছে না। একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রকাশ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ভ্যান্স এসব দাবির সত্যতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সামনে যে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা কতটা বাস্তব এবং ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের ঘাটতি বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে কি না। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার মতে, ভ্যান্স বিশেষ করে গোলাবারুদের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। তার আশঙ্কা, এই ঘাটতি ভবিষ্যতে চীন, উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন, তবে ভেতরে ভেতরে কৌশলগত পরিকল্পনা ও তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে, ইরান এখনো তাদের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পেরেছে। দেশটি তাদের বিমানবাহিনীর বড় অংশ, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতা বজায় রেখেছে। হরমুজ প্রণালিতে কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা সামুদ্রিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলছে। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের অর্ধেকের বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর আগেই ভ্যান্স এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের যুদ্ধ ব্যাপক প্রাণহানি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাতের ফলাফল ভ্যান্সের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।