Brand logo light

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত
শান্তি আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলে নীতিগত সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলেও তা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে থেকেই ইরান বলে আসছিল, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে। যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির দাবি, তথ্য দিলেন এক মেষপালক

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীতে এবার সাবমেরিন মোতায়েন
হরমুজে ইরানের ‘ডলফিন’ সাবমেরিন, প্রস্তুত হচ্ছে ব্রিটেন-ফ্রান্সের নৌমিশন

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের নৌযান মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এসব সাবমেরিনকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক ভাষণে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিন শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলের গভীরে অবস্থান করা, শত্রু জাহাজের গতিবিধি প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজন হলে আঘাত হানার সক্ষমতা এসব সাবমেরিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে ডাকা হয়। ইরানি এই নৌকমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালীতে দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অভিযানে এসব সাবমেরিন পানির ওপর উঠে আসে। পরে প্রদর্শনীমূলক মহড়া শেষে আবার গভীর সমুদ্রে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে ফিরে যায়। হরমুজ ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে ইউরোপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে। যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছিল। ফ্রান্স ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে। এর পরই যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।” ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত কমে এলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি তৈরি করা। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য এ অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে। তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই অবরোধ কার্যকরে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা না করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা: ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪১, চলতি বছরে ২,৬৫৯

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১২
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ নিহত, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ক্ষেপণাস্ত্র বের করছে ইরান
যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুদ্ধার জোরদার করছে ইরান, নতুন সামরিক পদক্ষেপ ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ইরান—এমন দাবি করেছে মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে তেহরান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দুটি অবগত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং আঘাতপ্রাপ্ত সামরিক ঘাঁটি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে দ্রুত পুনরায় মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় আনার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেন, তাহলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। এ কারণেই দেশটি তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠন করছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রেক্ষাপটে, গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সামরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিফিং দেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার কৌশলও বিবেচনায় আসে। “দুটি পথ” সামনে ট্রাম্পের শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তার সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে—সামরিক পদক্ষেপ বা কূটনৈতিক সমাধান। তিনি বলেন, “আমরা কি তাদের সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করব, নাকি একটি চুক্তির চেষ্টা করব—এই দুটি পথই খোলা রয়েছে।” তবে সরাসরি হামলার বিষয়ে তিনি অনিচ্ছার কথাও জানান। যুদ্ধবিরতি ও অচলাবস্থা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দ্বিমত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দাবি, ইরানের অধিকাংশ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের হারানো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করলেও নতুন করে তা প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদন কেন্দ্র এবং নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনবিসি নিউজ জানায়, বাস্তবে ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি এখনও অক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ বিমানবাহিনীর অর্ধেকের বেশি বিমান ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনীর বড় অংশ কৌশলগত বিভ্রান্তি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান হয়তো নকল বা ডামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রকৃত অস্ত্রভাণ্ডার আড়াল করতে সক্ষম হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে এসব ছড়িয়ে রাখার মাধ্যমে আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশলও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র এখনও অবশিষ্ট রয়েছে, যদিও তার দাবি—এর প্রায় ৮২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের হাতে এখন “মাত্র অর্ধেক” ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তাদের সামরিক শিল্প কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই ইরান দ্রুত অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এদিকে, মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরও এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলের মতভেদ
ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে মতভেদ স্বীকার করলেন গিডিওন সার, তবে কৌশলগত ঐক্য বহাল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কিছু মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই মতপার্থক্য বৃহত্তর কৌশলগত ঐক্যের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ মন্তব্য করেন সার। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ। বৈঠকে সার জানান, গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি—যদিও এ বিষয়ে ট্রাম্প ভিন্ন দাবি করে আসছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা হামলা চালায়। ওই হামলায় দেশটির কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শতাধিক মানুষ নিহত হন। সার বলেন, ইসরায়েল নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি। তবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি মাটির গভীরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যা ভবিষ্যতে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত। এ কারণেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, “আমরা দেখেছিলাম তারা কর্মসূচিটি এমন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, যেখানে পৌঁছানো কঠিন। তাই আমাদের সামনে কার্যকর বিকল্প খুব সীমিত ছিল।” তবে এই বক্তব্য ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে বলা হয়, ইসরায়েলই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রসারিত হয়। সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। তবে ইসরায়েল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শাসন পরিবর্তনের দিকে যেতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন কেবল ইসরায়েলের একার পক্ষে সম্ভব নয় এবং শেষ পর্যন্ত তা নির্ভর করবে ইরানের জনগণের ওপর। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করেন সার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। সবশেষে, ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সার বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমাদের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। ফাইল ছবি
ভূমধ্যসাগরে গাজামুখী সহায়তা বহর আটক, ড্রোন ও সশস্ত্র অভিযানের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী একটি মানবিক সহায়তা বহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী—এমন অভিযোগ করেছে আয়োজকরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে পরিচিত এই বহরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে তাদের জাহাজগুলোকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সামরিক স্পিডবোটগুলো বহরটিকে ঘিরে ফেলে এবং অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে লেজার ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র তাক করা হয়। এ সময় জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের ‘অবৈধভাবে’ ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বহরের মোট ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ১১টির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে বহরের অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, বহরটি তাদের এলাকায় পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ‘মনোযোগ আকর্ষণে মরিয়া বিভ্রান্ত উসকানিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ফ্লোটিলার মুখপাত্র গুর সাবর বলেন, ইসরায়েল থেকে শত শত মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক জাহাজের ওপর এই অভিযান ‘সরাসরি জলদস্যুতা’। তার দাবি, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এমন পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং সমুদ্রের মাঝখান থেকে কাউকে আটক করা অপহরণের শামিল। তিনি আরও বলেন, বহরটিতে ৪০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। “এ মুহূর্তে নীরব থাকা মানে এই অপরাধের অংশীদার হওয়া,” যোগ করেন তিনি।   ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের সামরিক নৌযানগুলো অবৈধভাবে ফ্লোটিলাকে ঘিরে ফেলেছে। অপহরণ ও সহিংসতার হুমকি দিয়েছে।’   ওই পোস্টে আরও বলা হয়, ‘১১টি নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করছে, ৭টি নৌযান আটক করা হয়েছে। ফ্লোটিলার সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
পানামা খাল
ইরান সংকটে পানামা খালে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্যপথে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইরান সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিকল্প রুট হিসেবে পানামা খালের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এর ফলে বিকল্প রুট হিসেবে মধ্য আমেরিকার পানামা খালে জাহাজের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে ৪০ লাখ ডলারে সিরিয়াল বিক্রি হচ্ছে।   পানামা খাল কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের প্রধান ভিক্টর ভিয়াল জানিয়েছেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত আগের তুলনায় প্রায় ৩০০টি বেশি জাহাজ এই খাল ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অব্যাহত থাকলে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া। ফলে অনেক জাহাজ নিরাপদ ও বিকল্প পথ হিসেবে পানামা খালকে বেছে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ব্যয়ে। সাধারণত পানামা খাল অতিক্রম করতে জাহাজভেদে ৩ থেকে ৪ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়। তবে দ্রুত পারাপারের সুবিধা পেতে কিছু জাহাজকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পণ্যের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: যুদ্ধ থেকে ‘সম্মানজনক’ প্রস্থান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ

  ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামে জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং ভারতের কান্দলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা স্বাধীনভাবে এই দাবিটি যাচাই করতে পারেনি, কিন্তু সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রদানকারী সংস্থা মেরিনট্র্যাফিকের সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, জাহাজটি বর্তমানে প্রণালিটিতে চলাচল করছে। মেরিনট্র্যাফিকের মতে, শোজা ২ জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়ে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ‘নেরো’ নামের কেবল একটি ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং দুটি জাহাজ প্রবেশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত দিল ইরান
মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির পথে অগ্রগতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও বৈরিতার পর অবশেষে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে চূড়ান্ত চুক্তির বদলে একটি প্রাথমিক কাঠামো বা ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইরানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা কত হবে এবং বর্তমানে মজুত থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে—এসব স্পর্শকাতর ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। আলোচনার প্রাথমিক ধাপে ইরান ১০টি শর্ত সম্বলিত একটি তালিকা উপস্থাপন করেছে বলে জানা গেছে। সূত্র অনুযায়ী, এসব শর্তে কেবল পারমাণবিক বিষয়ই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে লেবাননের চলমান সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে—আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে কোনো টেকসই সমঝোতা সম্ভব নয়। অর্থাৎ পারমাণবিক আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হবে বলে অবস্থান নিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটি প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত না রেখে ‘ক্যালিব্রেটেড’ বা পরিমিতভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে, যা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ ও কৌশলগত বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সংলাপ যদি সফলভাবে ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে তা দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে চার কঠোর শর্ত দিল ইরানের আইআরজিসি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে চারটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন শর্তগুলো কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘোষিত চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, বেসামরিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের আগে আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। চতুর্থত, এই নীতিমালা চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি তাদের হাতেই থাকবে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত
দক্ষিণ লেবাননে গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতার অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লেবাননে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব এলাকায় শুধু গোলাবর্ষণই নয়, মেশিনগান থেকেও গুলিবর্ষণ চলছে এবং সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল ও জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমাংশে এসব ড্রোন ও নজরদারি বিমানের উড়াউড়ি লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার
যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে সরকারের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আরআইএ নভোস্তি এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমে মোহাজেরানি এই হিসাব তুলে ধরেন। মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের আলোচনাকারী দল যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ বৈঠকেও যা গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি বেশ কয়েকটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
হামলার হুমকি ইরানের
সব বন্দরে হামলার হুমকি ইরানের

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তারা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব বন্দর অনিরাপদ করে তোলার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারো জন্য নয়। এই অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। দেশটির সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইডিটি সময় সকাল ১০টা (ইরান সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটা) থেকে এই অবরোধ শুরু হবে। ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের ওপর সমানভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে আগের ঘোষণা থেকে কিছুটা সরে এসে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, অবরোধের ঘোষণার পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মাত্র ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু মার্কিন বাহিনীর
ইরানের উপসাগরীয় বন্দর অবরুদ্ধ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অবরোধ শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে মার্কিন বাহিনী জানায়, বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর হবে। তারা স্পষ্ট করে বলে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাবে বা সেখান থেকে আসবে—সেগুলোকে আটকানো হবে। যদিও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে না। মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে আরব সাগরে অবস্থানরত সকল দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।” পোস্টে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হলে সেটিকে পথিমধ্যে আটকানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা জব্দ করা হতে পারে। তবে ইরানের বন্দর ছাড়া অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর হবে না। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা থাকতে হবে, নয়ত কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলেও অভিহিত করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস মূলত এই পথেই রপ্তানি করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেল যে কারণে

প্রায় ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংলাপগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার সকালে আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনা অচল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব দিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। ভ্যান্স বলেন, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। তবে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, এতে তার বিশেষ কিছু যায় আসে না। আলোচনায় প্রধান মতবিরোধের বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী-এর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগে অস্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা আলোচনায় ‘যৌক্তিক প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও সংঘাতের কারণে এক দফা আলোচনায় সমঝোতা হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতির ওপর। এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এখনো পরবর্তী দফার বৈঠকের সময় বা স্থান নির্ধারণ করা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
তেল আবিবের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ
ইরান যুদ্ধ ও নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ইসরাইলের তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইসরাইলের তেল আবিবে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার (১১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আদালতের নির্ধারিত এক হাজার জনের সীমাও অতিক্রম করে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ এবং অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির প্রস্তাবের প্রতিবাদে বামপন্থি গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো এই বিক্ষোভ আয়োজন করে। বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক আলন লি গ্রিন দাবি করেন, তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। তবে হারেৎজ ও ওয়াইনেট সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় দুই হাজার, যা আদালতের নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ। বিক্ষোভকারীরা ‘শান্তি, স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার’ স্লোগান দেন, যার কিছু অংশ আরবি ভাষায় উচ্চারিত হয়। ইরান থেকে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির আদালত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত করে দেয়। যদিও গত সপ্তাহে একটি অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা শিথিলতা আনা হয়, তবুও সতর্কতামূলকভাবে সীমা বজায় রাখা হয়। হারেৎজ জানায়, ডানপন্থি নেতা মোরদেচাই ডেভিডের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মী বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করলে আয়োজকরা বাধা দেন। পরে সীমান্ত পুলিশ তাকে সরিয়ে দিলেও তিনি অন্য পথ দিয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। পরে তাকে এবং আরও এক কর্মীকে আটক করা হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে জেরুজালেমের প্যারিস স্কয়ারেও শত শত মানুষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। সেখানে পুলিশ লাইন অতিক্রমের অভিযোগে তিনজনকে আটক করে জরিমানা শেষে ছেড়ে দেয়। হাইফাতেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যদিও সেখানে আদালত সর্বোচ্চ ১৫০ জনের সীমা নির্ধারণ করেছিল। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে। তেল আবিবের সমাবেশে আলন লি গ্রিন অভিযোগ করেন, সরকার একটি স্থায়ী জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে আটকে রাখছে এবং ‘অভ্যুত্থানমূলক আইন’ পাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল হাদাশের প্রধান আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ বলেন, বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী নৈতিক বিকল্প তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ নয়, শান্তির জন্য ইহুদি-আরব অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। এই সরকারের একমাত্র নৈতিক বিকল্প হলো শান্তি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালীতে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন  হরমুজ প্রণালীর আকাশে নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। খবর এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়নের সময় হঠাৎ এটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত) পাঠায়। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।প্রচলিত বিমান থেকে ভিন্ন, এই ড্রোন দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ অঞ্চল বা ‘চোকপয়েন্ট’-এ টানা নজরদারির জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এটি প্রায়ই পি-৮এ টহল বিমানের জন্য উচ্চ আকাশ থেকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন মোতায়েন করা হয়ে থাকে। ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালিতে টোল নেবে ইরান,ব্যারেল প্রতি তেলে ১ ডলার

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থায় এই টোল ব্যবস্থা চালু থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে আগে থেকেই ইমেইলের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং জাহাজের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই যাত্রার অনুমতি মিলবে। এছাড়া, জাহাজগুলোকে আগাম টোল পরিশোধ করতে হবে, যা দিতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি—যেমন বিটকয়েন—অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব জাহাজে কোনো পণ্য নেই, সেগুলোর জন্য এই ফি প্রযোজ্য হবে না। এই হিসেবে, বড় সুপার ট্যাংকারগুলোর জন্য টোলের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলারে। এক ব্যারেলে থাকে ১৫৯ লিটার তেল। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে নেওয়ার অর্থ ইরান প্রতি লিটার তেল থেকে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে ৭৭ পয়সা করে টোল নেবে। ইরান আরও জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলের কাছ দিয়ে নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হবে—বিশেষ করে কাশেম ও লারেক দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে। এছাড়া, ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজ দ্রুত পারাপারের সুযোগ পেতে পারে, তবে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিলম্ব বা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারে লেনদেন করা ইরানের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ান ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, ইউয়ানে টোল আদায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই ব্যবস্থা চালু থাকলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য ধীরে ধীরে পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে সরে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0