Brand logo light

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এই খাত ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়মের চিত্র। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলী কর ব্যবস্থাপনা, ভুয়া চালান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে একটি জটিল ‘ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ভ্যাট খাতে ঘাটতি প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘাটতির বড় অংশই কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কর ফাঁকির আধুনিক কৌশলের ফল। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি আইন ভাঙার চেয়ে আইনের ভেতরের ফাঁক ব্যবহার করে কর কমিয়ে দিচ্ছে। তার মতে, বিক্রয় কম দেখানো, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের অপব্যবহার এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের মাধ্যমে করযোগ্য আয় কমিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সবকিছু বৈধ থাকলেও বাস্তবে রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিল কর কাঠামো ও একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে লেনদেন সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত মুনাফা আড়াল করা যায়। এতে করে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। এছাড়া আমদানি–রফতানি খাতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে দেশের কর ভিত্তি আরও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নীতিনির্ধারকদের মতে, ভ্যাট কাঠামোর জটিলতা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হার ও কর ছাড় ব্যবস্থার কারণে পুরো কাঠামো আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এনবিআরের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রিয়েল-টাইম অডিট ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতিতে বড় লেনদেনগুলো অনেক সময় নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এনবিআর বলছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযান ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ই-কমার্স ও উৎপাদন খাতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সামগ্রিক সমস্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যার ফলে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ভ্যাট কাঠামো সরল করা, ডিজিটাল ইনভয়েসিং বাধ্যতামূলক করা এবং উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, শুধু অভিযান নয়—কার্যকর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই ‘করপোরেট ভ্যাট ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ ভাঙা সম্ভব নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফে গভীর সংকট:দাবির টাকা আটকে, ব্যয়ে লাগামহীনতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের জীবন বিমা খাতের অন্যতম আলোচিত প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এখন ভয়াবহ আর্থিক সংকট, বকেয়া বিমা দাবি এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপে রয়েছে। একদিকে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে লাগামহীন খরচ—এই দুই বিপরীতমুখী বাস্তবতা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জীবন বিমা খাতের মোট বকেয়া দাবির প্রায় ৭০ শতাংশই ফারইস্ট ইসলামী লাইফের একক দায়। একই সময়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে অতিরিক্ত অর্থ খরচের তালিকাতেও শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৫ লাখের বেশি গ্রাহক পাননি বিমার টাকা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে পরিপক্ক বিমা দাবির অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে কোম্পানিটির কাছে মোট ৩ হাজার ৪৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকার বিমা দাবি উত্থাপন করেন ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬৯২ জন গ্রাহক। কিন্তু এর বিপরীতে কোম্পানিটি পরিশোধ করেছে মাত্র ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২১৫ জন গ্রাহক। অর্থাৎ, ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৭ জন গ্রাহকের ৩ হাজার ২২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। বকেয়া দাবির হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। বিমা আইন অনুযায়ী, পলিসি পরিপক্ক হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহককে দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বহু গ্রাহক অভিযোগ করছেন, বছরের পর বছর ঘুরেও তারা অর্থ পাচ্ছেন না। সুমাইয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, তার পলিসি পরিপক্ক হয়েছে ২০২১ সালে। প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও তিনি এখনো বিমার টাকা পাননি। পরে আইডিআরএ’তে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হওয়া আরও কয়েকজন গ্রাহক জানান, তাদের অনেকের পলিসিই ৫ থেকে ৬ বছর আগে পরিপক্ক হয়েছে। তারল্য সংকটের মধ্যেও ‘অতিরিক্ত’ ব্যয় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক অবস্থার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো এর ব্যবস্থাপনা ব্যয়। আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ। আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমা ছিল ৫২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু কোম্পানিটি ব্যয় করেছে ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমন সময়ে এই ব্যয় হয়েছে, যখন কোম্পানিটি হাজার হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ এবং ভয়াবহ তারল্য সংকটে রয়েছে। বিমা খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, আর্থিকভাবে দুর্বল একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ব্যয় কাঠামো স্বাভাবিক নয় এবং এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও গভীর তদন্ত দাবি করে। ঋণাত্মক লাইফ ফান্ড, বাড়ছে শঙ্কা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে এর ‘লাইফ ফান্ড’ বা বিমা তহবিলে। বর্তমানে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক ৮৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সাধারণত গ্রাহকদের জমা দেওয়া প্রিমিয়াম থেকে এই তহবিল গড়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ বিমা দাবি পরিশোধে তা ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো বিমা কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক হয়ে পড়া গুরুতর আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগ রয়েছে ১ হাজার ৮৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তবে বিপুল বকেয়া দাবি এবং ঋণাত্মক তহবিলের কারণে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। সরকার পরিবর্তনের পরও বদলায়নি পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দায়িত্ব নেন বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম। পরে তিনি নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোম্পানির ২৫তম বোর্ড সভায় তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ১৮ মাস পার হলেও কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং আর্থিক অব্যবস্থাপনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ‘লুটপাট ও জালিয়াতির’ অভিযোগ ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের ফলে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গভীর তারল্য সংকটে পড়ে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি, তবে আইডিআরএ’র পরিসংখ্যান কোম্পানিটির আর্থিক দুর্বলতার চিত্র স্পষ্ট করছে। কোম্পানির ব্যাখ্যা কী ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম ভূইয়া বলেন, ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্ক দাবির চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, “লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মূল থিম হলো ব্যবসা। ব্যবসা কমে গেলে ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানির খরচ কমানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তার দাবি, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নতুন ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এসব পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব এখনো গ্রাহকদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে যেসব কোম্পানি আলোচনায় আইডিআরএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ২০টি জীবন বিমা কোম্পানি ব্যবস্থাপনা খাতে আইন নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ১৩২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পর অতিরিক্ত ব্যয়ে রয়েছে: শান্তা লাইফ — ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা প্রোগ্রেসিভ লাইফ — ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা এনআরবি ইসলামী লাইফ — ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রোটেক্টিভ লাইফ — ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা চার্টার্ড লাইফ — ৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জেনিথ ইসলামী লাইফ — ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা সান লাইফ — ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা স্বদেশ লাইফ — ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা হোমল্যান্ড লাইফ — ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এছাড়া আরও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীরবতা এসব অভিযোগ ও পরিসংখ্যান নিয়ে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কোম্পানির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামও ফোনে সাড়া দেননি। আস্থার সংকটে বিমা খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবন বিমা খাতের মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাহকের আস্থা। কিন্তু বছরের পর বছর দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা, আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে সেই আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বাস্তবতা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় না আনলে পুরো বিমা খাতেই দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা ৪০ লাখ টাকা: বদলে যাচ্ছে নগদ অর্থের ব্যবহার

  ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এক সময় ক্রেডিট কার্ড ছিল কেবল উচ্চবিত্ত বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের আর্থিক হাতিয়ার। বড় ব্যবসায়ী, বিদেশ ভ্রমণকারী কিংবা ব্যাংকের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই বাস্তবতা। এখন শহর থেকে মফস্বল—বাংলাদেশজুড়েই ক্রেডিট কার্ড ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সঙ্গী। বাজার করা, হাসপাতালের বিল, অনলাইন কেনাকাটা, বিমান টিকিট, শিক্ষা ব্যয়, রেস্টুরেন্ট বিল কিংবা ইউটিলিটি সেবা—সবখানেই বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন। ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেডিট কার্ড এখন অনেকের কাছেই “বিকল্প নগদ অর্থ” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। গ্রাহক আকর্ষণে ব্যাংকগুলোও দিচ্ছে ক্যাশব্যাক, ইএমআই, ডিসকাউ্ট, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকও ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক করতে নতুন নীতিমালা চালু করেছে। এতে ঋণসীমা দ্বিগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা, সুদের স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা এখন ৪০ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জামানত ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চমূল্যের চিকিৎসা, বিদেশে শিক্ষা ব্যয়, ব্যবসায়িক সফর কিংবা জরুরি খরচ সামাল দিতে এই সিদ্ধান্ত অনেক গ্রাহকের জন্য বড় সহায়তা হবে। একই সঙ্গে এটি দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতির বিস্তারেও ভূমিকা রাখবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একজন গ্রাহক তার মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এই নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সুদমুক্ত গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য হবে না। সুদ ছাড়াই ৪৫ দিন পর্যন্ত খরচের সুযোগ ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো ‘গ্রেস পিরিয়ড’। অর্থাৎ কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার পর সঙ্গে সঙ্গে বিল পরিশোধ করতে হয় না। ব্যাংকভেদে গ্রাহকরা ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় পান, যেখানে কোনো সুদ গুনতে হয় না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে এটি কার্যত স্বল্পমেয়াদি সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে কাজ করে। ফলে হঠাৎ আর্থিক চাপ সামাল দেওয়া সহজ হয়। ব্যাংকারদের ভাষ্য, পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরও শৃঙ্খলিত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে বেতনভিত্তিক চাকরিজীবী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এটি কার্যকর আর্থিক সহায়ক হয়ে উঠছে। বাড়ছে কার্ডভিত্তিক লেনদেন গত এক দশকে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপভিত্তিক আর্থিক সেবা দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহারও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৫ কোটির বেশি কার্ড চালু রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যাই প্রায় ৫৪ লাখ। প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঙ্ক ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে সুপারশপ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে। এরপর রয়েছে ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক, পরিবহন ও সরকারি সেবা খাত। অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারের বড় অংশ যাচ্ছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, যাতায়াত, শিক্ষা এবং খুচরা কেনাকাটায়। বিদেশে বাড়ছে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার এক সময় বিদেশে বাংলাদেশিদের লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ছিল ক্রেডিট কার্ড। তবে এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে ডুয়াল কারেন্সি ডেবিট কার্ডও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশি ডেবিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দেশে টাকা জমা দিলেই বিদেশে থাকা শিক্ষার্থীরা সহজে কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন। পাশাপাশি ডেবিট কার্ডে সুদের ঝুঁকি না থাকায় অনেকেই এখন এদিকে ঝুঁকছেন। নিরাপত্তায় আসছে নতুন প্রযুক্তি ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতির ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড চালু করেছে মাস্টারকার্ড ও প্রাইম ব্যাংক। এই কার্ডে দৃশ্যমান কোনো কার্ড নম্বর, সিভিভি বা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য থাকবে না। সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে মোবাইল অ্যাপে। এ ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক এখন ওটিপি, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, অ্যাপভিত্তিক কার্ড নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক কার্ড ব্লক এবং রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নতুন নীতিমালায় নির্দেশ দিয়েছে, কার্ড হারানো বা জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের হয়রানি করে ঋণ আদায় করা যাবে না। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডেও বাড়ছে আগ্রহ দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চাহিদাও বাড়ছে। এসব কার্ডে প্রচলিত সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ বা উজরাহ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখেও আধুনিক ডিজিটাল আর্থিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামিক কার্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ার এটিও একটি কারণ। শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বিশেষ কার্ড এখন শুধু চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরাই নন, শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও বিশেষ ধরনের কার্ড চালু করছে ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি সাউথইস্ট ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ভিসা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে। এতে অভিভাবকের গ্যারান্টিতে শিক্ষার্থীরা কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসহ বিশেষ কার্ড দিচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংক। এসব কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি সফটওয়্যার, ক্লাউড সার্ভিস, অনলাইন সাবস্ক্রিপশন এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সহজে করা যাচ্ছে। সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে এটি আর্থিক চাপের কারণও হতে পারে। কারণ নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ সুদ যোগ হয় এবং দেনা দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে শুধুমাত্র ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ দিয়ে দীর্ঘ সময় বকেয়া রাখলে সুদের বোঝা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত খরচ না করা, সময়মতো বিল পরিশোধ, ওটিপি বা পিন কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং নিয়মিত স্টেটমেন্ট যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সচেতন ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ক্রেডিট কার্ড শুধু একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
ব্রি-তে নজিরবিহীন অস্থিরতা: এক দিনের ব্যবধানে ডিজি নিয়োগ বাতিল, থমকে গেছে গবেষণা কার্যক্রম

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতির মধ্যেই দেশের শীর্ষ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-তে দেখা দিয়েছে চরম প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। নেতৃত্ব সংকট, দলাদলি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। গত রোববার সরকার ব্রির মহাপরিচালক (ডিজি) পদে ড. আমিনুল ইসলামকে রুটিন দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রায় এক মাস ডিজিশূন্য থাকার পর এই নিয়োগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গাজীপুরের ব্রি ক্যাম্পাসে একাংশের বিজ্ঞানীরা তাকে স্বাগত জানালেও অন্য একটি অংশ তীব্র বিরোধিতা করে মূল ফটক, গবেষণাগার ও বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ফলে দুই দিন ধরে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার পুলিশি নিরাপত্তায় অফিস করেন নতুন ডিজি ড. আমিনুল ইসলাম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক দিনের মাথায় মঙ্গলবার তার নিয়োগ বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। নতুন প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) আফসারী খান নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি ব্রির মহাপরিচালকের শূন্য পদের বিপরীতে আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রি-র ইতিহাসে ৫৫ বছরে এই প্রথমবার বিজ্ঞানী নয়, প্রশাসনিক ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা কার্যত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আসলেন বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করছেন। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্তমানে ব্রির অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প চলমান। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত হয়ে পড়ে। নতুন ডিজি নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই তার নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী জানান, ডিজি পদে নিয়োগের জন্য অন্তত ১০ জন কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে তদবির করেছিলেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়ায় একটি অংশ অসন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনের অন্যতম মুখ ব্রি বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল পরে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ধান গবেষণা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
পায়রা বন্দর
পায়রা বন্দরের আয় কমায় বরিশালে রাজস্বে বড় পতন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কর অঞ্চলে রাজস্ব আয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়েও। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৪৪ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় বরিশাল কর অঞ্চল। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত এই কর অঞ্চলের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০১–০২ অর্থবছরে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ২৩ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ কোটি টাকা। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১,০৭১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৪–২৫-এ তা কমে দাঁড়ায় ৮৫০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব কমেছে ২২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। পায়রা বন্দরের প্রভাব কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পতনের বড় কারণ পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। বরিশালের উপ-কর কমিশনার প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, “২০২৩–২৪ অর্থবছরে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার বড় অংশই এসেছে পায়রা বন্দর থেকে। বর্তমানে সেখানে কার্যত রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।” পায়রা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর নির্মাণকাজের মাধ্যমে এবং ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর বন্দরে আসে ১০টি বিদেশি জাহাজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে গেছে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ১২৩টি জাহাজ ২০২৪–২৫ অর্থবছর: ৮৫টি জাহাজ ২০২৫–২৬ অর্থবছর (এপ্রিল পর্যন্ত): মাত্র ২৯টি জাহাজ  কেন কমছে জাহাজ? বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ আসতে পারছে না। পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর জামাল চৌধুরী বলেন, “পূর্ণ নাব্যতা থাকাকালে আমরা রাজস্বে বড় অবদান রাখতে পেরেছি। এখন নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ কম আসছে, ফলে রাজস্বও কমে গেছে।” একই সুর শোনা গেছে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও। তাদের মতে, বন্দরের কার্যক্রম যত বেশি সক্রিয় থাকে, তত বেশি রাজস্ব আসে।  আয়ের বড় ধস পায়রা বন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যান এই পতনকে স্পষ্ট করে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ২৫৯ কোটি ৪ লাখ টাকা ২০২৪–২৫ অর্থবছর: মাত্র ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক অনিশ্চয়তায়: অংশীদারদের সরে যাওয়া, আস্থা সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বহুল আলোচিত একীভূত উদ্যোগ—‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’—গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা না আসা, কার্যক্রমে ধীরগতি এবং অংশীদার ব্যাংকগুলোর সরে দাঁড়ানোর আগ্রহ এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একীভূত উদ্যোগ: প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—একত্রিত করে নতুন এই কাঠামো গঠন করা হয়। লক্ষ্য ছিল তারল্য সংকট মোকাবিলা, আর্থিক পুনর্গঠন এবং গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, সেই লক্ষ্য এখনও অনেক দূরে। ব্যাংকের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, আমানত ফেরতের প্রক্রিয়া ধীর, এবং গ্রাহকদের আস্থার সংকট রয়ে গেছে। অংশীদারদের সরে যাওয়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে অংশীদারদের সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত। ইতোমধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাঠামো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছে। একই পথে হাঁটার বিষয়ে আলোচনা করছে এক্সিম ব্যাংকও। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একীভূত কাঠামোর ভেতরে আস্থাহীনতা ও সমন্বয় সংকটের স্পষ্ট ইঙ্গিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে—অন্য ব্যাংকগুলোও কি একই সিদ্ধান্ত নেবে? দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো উদ্যোগ একীভূত হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪৮ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কাঠামোগত দুর্বলতা দূর না করে শুধু একীভূতকরণ টেকসই সমাধান দিতে পারে না। সরকারি সহায়তা ও বিতর্ক ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় নীতিগত কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নতুন আইন ও জটিলতা নতুন ব্যাংক রেজ্যুলেশন কাঠামোতে লিকুইডেশন, ব্রিজ ব্যাংক, নতুন বিনিয়োগকারী আনা এবং সাবেক মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ১৮(ক) ধারা যুক্ত হওয়ার পর সাবেক মালিকদের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ বিতর্ক তৈরি করেছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—যদি পুরোনো মালিকানায় ফিরে যাওয়া হয়, তাহলে কি অতীতের অনিয়ম আবার ফিরে আসবে? আস্থার সংকটে গ্রাহক বর্তমানে এই ব্যাংকে প্রায় ৯১ লাখের বেশি হিসাব রয়েছে এবং কর্মী সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। কিন্তু বাস্তবতা হলো— নতুন আমানত কমছে টাকা উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা গ্রাহক উপস্থিতি কমে যাচ্ছে একজন গ্রাহক বলেন, “টাকা রাখতে ভয় লাগে, তুলতেও সমস্যা—এ অবস্থায় ব্যাংকের ওপর কীভাবে ভরসা করব?” ভেতরে অনিশ্চয়তা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অস্থিরতা রয়েছে। তারা বলছেন, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা থাকলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে—ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। সরকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। পরিস্থিতি উন্নত হলে আবার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসআইবিএল-এর প্রস্তাব: কতটা বাস্তবসম্মত? সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক তাদের আবেদনে পৃথকভাবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামানো মূলধন শক্তিশালী করা সরকারি হিসাব পুনরায় চালু করা ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।  মূল প্রশ্ন একীভূত উদ্যোগ কি টেকসই হবে? অংশীদাররা সরে গেলে কাঠামো টিকবে কীভাবে? পুরোনো মালিক ফিরলে কি পুরোনো সমস্যা ফিরে আসবে? গ্রাহকের আস্থা কীভাবে ফিরবে? সরকারের চূড়ান্ত কৌশল কী?  সামনে যে তিনটি চ্যালেঞ্জ ১. নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ২. সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা ৩. খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার   সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। এটি টিকে থাকবে, নাকি ব্যর্থ উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে—তা নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্ত, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বাস্তব সংস্কারের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
ইরানি রিয়াল
ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন: ১৮ লাখ ইরানি রিয়ালে মিলছে মাত্র এক ডলার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান নতুন করে রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মুদ্রা-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট বোনবাস্ট ও অ্যালান্ডচান্ডের তথ্য অনুযায়ী, খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৮ লাখ ইরানি রিয়াল। এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হয়, তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। সেই তুলনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে রিয়ালের মান আরও অবনতি হয়েছে। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিক বিনিময় হার নির্ধারণ করে থাকলেও বেসরকারি বাজারের এই হার বাস্তব লেনদেনে বেশি প্রতিফলিত হয় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে রিয়াল সর্বশেষ বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি এক টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ইরানি রিয়াল। তবে স্থানীয় বাজারে এই অর্থের ক্রয়ক্ষমতা অত্যন্ত কম। এমনকি ১৪ হাজার রিয়াল দিয়ে একটি পানির বোতলও কেনা সম্ভব নয়; সর্বোচ্চ একটি ছোট চকলেট কেনা যেতে পারে। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব রিয়ালের দরপতনের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ছিল ইরান। তবে এর আগ থেকেই দেশটির মুদ্রার মান নিম্নমুখী ছিল। এ সময় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপের ফলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এই চাপ রিয়ালের ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
সয়াবিন তেল
বাংলাদেশে সয়াবিন তেল সংকট ও দামবৃদ্ধি: সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগে বাজার অস্থির

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের ভোজ্যতেল বাজারে সয়াবিন তেলকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুত থাকার পরও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তারা চরম চাপের মধ্যে পড়েছেন। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর নেতারা দাবি করেছেন, দেশের কয়েকটি বড় কোম্পানি বাজারের অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে এবং পরবর্তীতে দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করে। এদিকে ভোজ্যতেল মিল মালিকদের সংগঠন সরকারকে বোতলজাত ও খোলা তেলের নতুন মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধরনের তেলের দাম বর্তমান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকার অনুমোদনের আগেই বাজারে নতুন দামের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মুদি দোকানিরা বলছেন, সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২০ কার্টন তেল পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাত্র ২ থেকে ৪ কার্টন সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে চাহিদা পূরণ করতে না পারায় খুচরা বাজারেও সংকট তৈরি হয়েছে। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদেরও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খুচরা পর্যায়ে লাভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে কোম্পানি পর্যায়ের একাংশের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম পুনর্নির্ধারণ না করলে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হবে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত ভোজ্যতেলের মজুত রয়েছে এবং অতিরিক্ত সরবরাহও পাইপলাইনে রয়েছে। তাই আপাতত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে দাবি করছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভোক্তা স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অবস্থায় বাজারে তেল সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, আর নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন।
তরুণ উদ্যোক্তার মিষ্টি আঙুর চাষে সাফল্য, বছরে লাখ টাকার সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খবদার গ্রামের এক তরুণ কৃষক-উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন, যিনি শৈশবের একটি ছোট উদ্যোগকে পুঁজি করে আজ মিষ্টি আঙুর চাষে সফলতার গল্প লিখছেন। ফরহাদ জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে ৩০ টাকায় স্থানীয় বাজার থেকে একটি আঙুরের চারা কিনেছিলেন। এক বছর পর সেই গাছে ফল ধরলেও স্বাদে কিছুটা টক ছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে মিষ্টি আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলে। দীর্ঘদিনের সেই আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আঙুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে মাত্র ১২টি চারা রোপণ করেই ছয় মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলন পান। পরবর্তীতে উৎসাহ পেয়ে আরও প্রায় ২৫টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পাশের ছোট একটি জায়গায় গড়ে তোলা বাগানে তার মোট বিনিয়োগ প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছরেই তিনি প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী বছরে এ আয় দুই থেকে তিন লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি। ফরহাদের বাগানে বর্তমানে বাইকুনুর, একুলা, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, সুপার সোনাকা, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ভেলেস, প্রেস্টিজ, ইয়ামিন, ড্রিম অব পর্তুগাল, গোল্ডেন সান মাসকাট, জেসমিন ও গোল্ডেন সিক্রেট ড্রিমসহ প্রায় ২৫টি জাতের আঙুর রয়েছে। এসব আঙুর আকার ও রঙে ভিন্ন হলেও স্বাদে সবই মিষ্টি। তিনি বলেন, কিছু বারোমাসি জাতের কারণে সারা বছরই কমবেশি ফল পাওয়া যায়। এছাড়া আঙুর গাছ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আয় সম্ভব। স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত আঙুরের চাহিদাও বেশ বেশি। প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারের প্রচলিত দামের চেয়েও বেশি। নিরাপদ ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মিষ্টি আঙুরের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, দেশে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে এগিয়ে আসছে। বিভিন্ন মিষ্টি জাতের আঙুর চাষের বিস্তার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
আলতাফ হোসেন
ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুককে পাঠানো হলো ছুটিতে , ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আলতাফ হোসেনকে। রোববার (১২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বোর্ড সভায় এমডি ওমর ফারুকের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এ বিষয়ে আলোচনা শেষে বোর্ড সদস্যরা তাকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এদিকে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
মন্ত্রী আফরোজা খানম
মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তরাধিকার সূত্রে প্রয়াত মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার সমমূল্যের শেয়ার পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মুন্নু গ্রুপের তিনটি কোম্পানিতে থাকা এসব শেয়ার তার নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে কোম্পানিগুলো পৃথক ঘোষণার মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।  ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী এবং আফরোজা খানমের মা হুরন নাহার রশিদ গত ১ মার্চ মারা যান। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে মুন্নু অ্যাগ্রো, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও মুন্নু ফেব্রিকস—এই তিনটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে থাকা তার শেয়ার কন্যা আফরোজা খানমের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে।  প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হুরন নাহার রশিদের কাছ থেকে আফরোজা খানম মুন্নু অ্যাগ্রোর ৮৪ হাজার ২৪৭টি, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৪০৯টি এবং মুন্নু ফেব্রিকসের ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৮টি শেয়ার পেয়েছেন। হুরন নাহার রশিদ এসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ছিলেন। তার অবর্তমানে উত্তরাধিকার হিসেবে আফরোজা খানমকে মনোনীত করায় মৃত্যুর পর শেয়ারগুলো তার নামে স্থানান্তর করা হয়েছে।  শেয়ারবাজারের বৃহস্পতিবারের দর অনুযায়ী, মুন্নু অ্যাগ্রোর প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৪৭ টাকা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির ৮৪ হাজার ২৪৭টি শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি টাকা। একইভাবে মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৮২ টাকা ৪০ পয়সা। এ হিসাবে ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৪০৯টি শেয়ারের মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা।  অপরদিকে মুন্নু ফেব্রিকসের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২১ টাকা ৬০ পয়সা। ফলে কোম্পানিটির ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৮৮টি শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে তিন কোম্পানির এসব শেয়ারের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা।  ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তিন কোম্পানির শেয়ারের দামই কমেছে। এর মধ্যে মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ারদর ২ শতাংশ বা ৭ টাকার বেশি কমে ৩৪৭ টাকায় নেমে আসে। মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৪০ পয়সা কমে প্রায় ৮২ টাকায় দাঁড়ায়। আর মুন্নু ফেব্রিকসের শেয়ারদর ৮০ পয়সা বা সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি কমে ২১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে আসে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত আফরোজা খানম মুন্নু গ্রুপ এবং এর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে ওই দায়িত্ব পালন করছেন তার স্বামী মইনুল ইসলাম। 

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশার
অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে বদলি-নিয়োগ,পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

শীর্ষনিউজ: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে শীর্ষ পদে নিয়োগকে ঘিরে আবারও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশারের নাম। একাধিক গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্ন, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার, এমনকি আলোচিত একটি গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন- এমন আলোচনা ব্যাংকপাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্যাংকের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা, সাবেক প্রশাসনিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, আবুল বাশার আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, পদায়ন, বদলি এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড আদৌ কতটা কার্যকর? রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগে নতুন বিতর্ক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিগত সরকারের সময় রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংকিং খাতেও রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় অনেক কর্মকর্তা নিজেদের ‘অতি আওয়ামী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় নামেন। অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল বাশার ছিলেন এই ধারার অন্যতম আলোচিত কর্মকর্তা। ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তিনি শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবেই নন, বরং একটি রাজনৈতিক বলয়ের কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকের ভেতরে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন, যা পদোন্নতি থেকে শুরু করে সংবেদনশীল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলত। একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“ব্যাংকের ভেতরে কার কোথায় পোস্টিং হবে, কে পদোন্নতি পাবে, কে প্রশাসনিক সুবিধা পাবে- এসব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের প্রভাব ছিল। সেই বলয়ের কেন্দ্রে আবুল বাশারের নামই বেশি উচ্চারিত হতো।” আন্দোলনবিরোধী অবস্থান ও ‘লাল প্রোফাইল’ আতঙ্ক ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় ব্যাংকের অভ্যন্তরে ভিন্নমত দমনে কঠোর অবস্থানের অভিযোগও উঠেছে। সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “লাল প্রোফাইল” ব্যবহারকারী বা সরকারবিরোধী মনোভাব আছে বলে সন্দেহ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক কর্মকর্তা নিজেদের মতপ্রকাশে সংযমী হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থনে প্রকাশ্য মিছিলে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তাকে পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন করা হয়। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রের ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডে উচ্চপর্যায়ের নীরব সমর্থন ছিল।   গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম, তবু এমডি পদে দৌড়ে? সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো- জুলাইয়ের গণহত্যা-সংক্রান্ত একটি মামলায় নাম থাকা সত্ত্বেও আবুল বাশারের নাম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে আলোচনায় রয়েছে। জানা গেছে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা সিআর-১৭৬ নম্বর মামলায় তিনি ৬৮ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। এমন একটি গুরুতর মামলায় নাম থাকার পরও তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বিবেচনা করা হলে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে। ব্যাংকিং খাতের এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন,“রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী পদে নিয়োগের আগে নৈতিক যোগ্যতা, আইনি অবস্থান এবং প্রশাসনিক সততার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। সেখানে এ ধরনের অভিযোগ থাকা ব্যক্তি যদি দৌড়ে এগিয়ে থাকেন, তা উদ্বেগজনক।”   ‘খাম বাশার’ উপাধি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ অগ্রণী ব্যাংকের অভ্যন্তরে আবুল বাশারকে “খাম বাশার” নামে ডাকা হয়- এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সূত্রগুলোর দাবি, এইচআর বিভাগের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এবং পদোন্নতি কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। বিশেষ করে ২০২৪ সালে এজিএম পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিতদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, “যোগ্যতা নয়, কে কতটা প্রভাবশালী বা কার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারছে—এসবই যেন তখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” এ ধরনের অভিযোগ ব্যাংকের মেধাভিত্তিক পদোন্নতি ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বদলি-নিয়োগ বাণিজ্যের বিস্তৃত বলয় অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক বলয় তৈরি হয়েছিল। ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় পদায়ন, জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনিক বদলিতে তার প্রভাব ছিল বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকপাড়ায় এখন আলোচনা- রং বদলালেও প্রভাবের ধরন বদলায়নি। অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মীয়-স্বজনের নামে খোলা হিসাব ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন। অন্যদিকে আরও অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো। নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো নারী নিপীড়ন ও অশোভন আচরণের অভিযোগ। ব্যাংকের একাধিক নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, তার আচরণে তারা নিরাপদ বোধ করেন না। অনেকেই অফিসিয়াল কাজেও তার কক্ষে একা যেতে ভয় পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী কর্মকর্তা বলেন,“আমরা অনেকে প্রয়োজন ছাড়া তার কক্ষে যাই না। অফিসের ভেতরেও অস্বস্তি কাজ করে।” এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত অনৈতিকতার বিষয় নয়, বরং কর্মপরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার প্রশ্নও সামনে আনে। ৫ আগস্টের পরও সক্রিয় প্রভাব বলয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও আবুল বাশার তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে নতুন বলয় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, এই বলয়ের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পদায়ন এবং কর্মকর্তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এতে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নিরপেক্ষতা ও সুশাসনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক কর্মকর্তা। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতগুলো বহুমাত্রিক অভিযোগের পরও যদি তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বিবেচনা করা হয়, তবে তা নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা সংকট তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। শুধু প্রশাসনিক অনুসন্ধান নয়, প্রয়োজনে আর্থিক ও নৈতিক আচরণ সংক্রান্ত পৃথক তদন্ত হওয়া উচিত। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সেখানে শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা বিতর্কিত ব্যক্তির উত্থান গোটা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডিএমডি হিসেবে প্রমোশন উদযাপন অফিসিয়াল কর্মসূচি না থাকা সত্ত্বেও অতি উৎসাহি হয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান জানান দেয়ার জন্য টুঙ্গিপাড়া মুজিবের মাজারে ফুল দেয়ার জন্য যায়। শুধু ফুল দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ফুল দেয়ার ছবি ও ভিডিও তা আবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয় নিজের অতি উৎসাহী আওয়ামীলীগ প্রমাণ করার জন্য। অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি আবুল বাশারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে এনেছে। গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলায় নাম, ঘুষ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, নারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ- এসবের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া শীর্ষ পদে তার নাম আলোচনায় থাকা ব্যাংকিং খাতের জন্য নতুন অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাদের হাতে যাবে- এ প্রশ্নের উত্তর এখন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, জনআস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, কম দামের জ্বালানি আমদানির সুযোগ এখন সীমিত হয়ে পড়েছে এবং এতে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মেলনকেন্দ্রে ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি ইঙ্গিত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফলে রাশিয়ার মতো প্রতিযোগিতাহীন উৎস থেকে কম দামে জ্বালানি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে তিন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—তরল জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অর্থসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপে রয়েছে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান দুর্বল মূল্যস্ফীতি কমছে না খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা দেশের বিদ্যমান আর্থিক দুর্বলতাকে আরও প্রকট করেছে। জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি তেল আমদানি বাড়ানো এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও শুল্ক কমানোর পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয় কমানো, ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস এবং অপ্রয়োজনীয় প্রণোদনা ধাপে ধাপে কমানোর ওপর জোর দেন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুনর্মূল্যায়নে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “এডিপি পরিষ্কার না করলে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়বে না।” সরকারি কলকারখানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। এতে সরকারের দায় কমবে এবং আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব খাতেও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কর অবকাশ কমানো, করজাল সম্প্রসারণ, ডিজিটালাইজেশন এবং সম্পদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কর অবকাশের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬.৮৭ শতাংশ। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ৩২ হাজার ২৩০ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির তৌফিকুল ইসলাম খান ও নাজিবা মোহাম্মদ আলতাফসহ অন্যান্য গবেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
এসএমই ফাউন্ডেশন
জাইকার সহায়তায় কৃষিভিত্তিক শিল্পে ১২৫ কোটি টাকার ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন

বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থায়ন সুবিধা চালু হচ্ছে। এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়,জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর সহায়তায় ১২৫ কোটি টাকার একটি ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এই ঋণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে এবং সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ। মঙ্গলবার ঢাকায় সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) –এর প্রধান কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং বিআইএফএফএল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আনিসুজ্জামান সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী, বিআইএফএফএল-এর ‘ফুড ভ্যালু চেইন ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ থেকে এই অর্থায়ন দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো ভ্যালু চেইনে দক্ষতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বিশেষভাবে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঋণের আওতায় ফল, শাকসবজি, মসলা, চাল-ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোজ্যতেল উৎপাদন, বীজ ও জৈব সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি হোলসেল, লজিস্টিকস ও খুচরা খাতেও অর্থায়ন করা হবে। এছাড়া উদ্যোক্তারা যন্ত্রপাতি ক্রয়, কারখানার অবকাঠামো উন্নয়ন, গুদাম নির্মাণসহ বিভিন্ন মূলধনী বিনিয়োগে এই ঋণ ব্যবহার করতে পারবেন। প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে, বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা মান উন্নয়নে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দেশের খাদ্য ভ্যালু চেইনকে শক্তিশালী করবে, আমদানি নির্ভরতা কমাবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
নীলফামারীতে ঝড়-শিলাবৃষ্টি
নীলফামারীতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৪৯৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি, বাড়তে পারে ক্ষয়ক্ষতি

উত্তরের জেলা নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৪৯৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই তথ্য জানায়। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ডোমার, ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নে এই দুর্যোগ আঘাত হানে। এতে ঘরবাড়ির পাশাপাশি মাঠের উঠতি ফসলের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। প্রাথমিক হিসেবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভুট্টা চাষ। এছাড়া বোরো ধান, মরিচ এবং কলার ক্ষেতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব: ভুট্টা: ৩২৫ হেক্টর বোরো ধান: ১৫০ হেক্টর মরিচ: ১৫ হেক্টর কলা: ৩ হেক্টর উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী— ডিমলা উপজেলার ডিমলা সদর, পূর্ব ছাতনাই ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে প্রায় ৭৫ হেক্টর ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানে ১৫০ হেক্টর বোরো ধান, ২০০ হেক্টর ভুট্টা, ১৫ হেক্টর মরিচ এবং ৩ হেক্টর কলা নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হেক্টর ভুট্টার জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) জাকির হোসেন জানান, জেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯১৩ হেক্টর। এর মধ্যে ক্ষতির পর বর্তমানে ফসলি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৩ হেক্টরে। তিনি বলেন, “এটি প্রাথমিক হিসাব। মাঠপর্যায়ে আরও যাচাই চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।” স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষেতের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র
বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

বাংলাদেশে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (PSC) কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর (স্থলভাগ) এবং ২৬টি অফশোর (সমুদ্র) ব্লকে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বানের জন্য প্রস্তুত। এখন শুধু সরকারের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা। জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।” গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সাগরের ব্লকগুলোতে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে চায় সরকার। মোট ৪৭টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাগরে ও স্থলভাগে অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অগ্রাধিকার ১৮০ দিনের মধ্যে দরপত্রের এ বিষয়ও থাকছে।’ জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর (পিএসসি) আওতায় দেশের স্থলভাগে ২১টি ব্লক এবং অফশোরে (সাগরে) ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। এ উদ্দেশ্যে পেট্রোবাংলা তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেলে সাগরে ও স্থলভাগে দ্রুতই আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থলভাগে ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর-অনশোরে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এখন সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুতই দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পাঁচ বছরের এক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারের কাছে। ওই কর্মপরিকল্পনায় ১০০ দিনের মধ্যে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্র অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্তকরণের কথা বলা হয়। যা জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিডিং রাউন্ড আহ্বান করার কথা তুলে ধরা হয়। এ কর্মপরিকল্পনায় আরো রয়েছে সাইসমিক ডেটা অ্যাকুইজিশন শেষ করা, ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সাইসমিক সার্ভে, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে এবং স্থলভাগে সিলেট অঞ্চলে লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাসটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার সার্ভে করা। দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট-২০২৬-এর খসড়া যাচাই করার পর দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। অফশোর ও অনশোরে আইন মন্ত্রণালয় বেশকিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সেসব বিষয়ে তথ্যও এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১১ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন চলছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় সাড়ে ১৬ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে। স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বশেষ ২১ ডলারে কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল-গ্যাস সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দেশীয় কূপগুলো থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ করা যেত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেটি কমে গতকাল সরবরাহ নেমেছে ১ হাজার ৭০১ মিলিয়ন ঘনফুটে। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাড়তি চাহিদা পূরণে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও গতকাল এলএনজিসহ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প-কারখানা, আবাসিক, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের সংকট চলছে। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রের চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল নয় মাস। সংশ্লিষ্ট সময়ে সাতটি কোম্পানি তেল-গ্যাসের নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সে সময় জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশের অফশোরে বিদেশী অনেক কোম্পানির আগ্রহ থাকলেও দরপত্রে অংশ নেয়নি। তবে বহুজাতিক দুটি কোম্পানির সঙ্গে গত বছরের এপ্রিলে বণিক বার্তা যোগাযোগ করলে তারা জানায়, সাগরে দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা যে পিএসসি তৈরি করেছে, সেখানে তেল-গ্যাসের দামে বৈশ্বিক কোম্পানিকে আকর্ষণ করার মতো তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস রয়েছে—এমন সম্ভাবনা পেট্রোবাংলার তথ্য-উপাত্তে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি এসব বহুজাতিক কোম্পানির। দেশের সমুদ্রসীমায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে বিদেশী কোম্পানির সাড়া না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে পেট্রোবাংলা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে। যদিও সে সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদে আর নতুন করে দরপত্র আহ্বানে জোরালা কোনো তৎপরতা দেখাতে পারেনি। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, নতুন পিএসসি মডেল চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ পদ্ধতি, পাইপলাইন ব্যয়ের পুনরুদ্ধার, কাজের বাধ্যবাধকতা এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অবদানের ক্ষেত্রে বেশকিছু সংস্কার আনা হয়েছে। গ্যাসের দাম আগের উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েল সূচকের বদলে এখন থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ হবে ব্রেন্টের তিন মাসের গড় দামের ১১ শতাংশ (৭০ থেকে ১০০ ডলার ব্যারেল সীমা ধরে)। অগভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে হার হবে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। স্থলভাগের সমতল এলাকায় ৮ শতাংশ এবং পাহাড়ি এলাকায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাইপলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষ ট্যারিফ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বাধ্যতামূলক অবদানও ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আসন্ন দরপত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্লকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নতুন সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরে বিস্তৃত আকারে অনুসন্ধান চালালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে। বড় ধরনের কোনো গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেলে ব্যয়বহুল এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। সেই সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় দেশের জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তৎপরতাও উঠে আসবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ: পরিচালক অপসারণের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে অপসারণ। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ব্যক্তিগত পদচ্যুতি নয়, বরং দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অনিয়ম, প্রভাব এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মো. আবদুল জলিল একজন গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছেন, যা ব্যাংকিং নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁকে প্রথমে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয় এবং পরবর্তীতে পরিচালক পদ থেকেও অপসারণ করা হয়। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আগের তুলনায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটি একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সময় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে বের হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ, যথাযথ যাচাই ছাড়া নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা ব্যাংকটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এসব কারণে আমানতকারীদের আস্থা কমে যায় এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল হতে শুরু করে। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। নতুন পর্ষদের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা শুরু হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মো. আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা প্রমাণ করে যে নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তির চেয়ে নীতির গুরুত্ব বেশি দেওয়া হচ্ছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা। একটি ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিচালকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যদি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পুরো প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকির মুখে পড়ে। আবদুল জলিলের ক্ষেত্রে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা এই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ সুবিধা প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ, উভয়ই ব্যাংকিং নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। এছাড়া, এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নষ্ট হয় এবং প্রকৃত উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইসলামী ব্যাংকের ঘটনাটি এই সমস্যার একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিচালক অপসারণের মতো সিদ্ধান্তগুলো ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত বার্তা দেয়, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এটি অন্যান্য ব্যাংকের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে, নতুন পরিচালক হিসেবে এস এম আবদুল হামিদের নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ হিসেবে তাঁর কাছ থেকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে ব্যাংকটিতে অনেক সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে নতুন নেতৃত্ব পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। ভবিষ্যতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় রয়েছে। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নিয়োগে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কঠোর যাচাই-বাছাই চালু রাখতে হবে। চতুর্থত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি আরও জোরদার করতে হবে। এছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করা সম্ভব। ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে বলা যায়, মো. আবদুল জলিলের অপসারণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি অংশ। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড এর গুরুত্ব

নারীর ক্ষমতাযনের মাধ্যমে নারীর অধিকার ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে বিদ্যমান সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ (Double-dipping) এবং উল্লেখযোগ্য শতাংশ প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। এই কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা। সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে ০-১০০০ স্কোরের মধ্যে ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে দারিদ্র্যের এ ধাপ পুনঃনির্ধারণ করা যাবে। গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।   টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) ও ফ্যামিলি কার্ড ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরাসরি দারিদ্র্য হ্রাস (SDG-1) ও খাদ্য নিরাপত্তা (SDG-2) নিশ্চিত করবে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন (SDG-5) জোরদার করবে, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ সহজ করে সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (SDG-3) উন্নত করবে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কার্যক্রম বৃদ্ধি করে আয় ও কর্মসংস্থান (SDG-8) বৃদ্ধি করবে, এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে বৈষম্য হ্রাস (SDG-10) করবে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য কমতে পারে ৭.৪ শতাংশ

সরকারের নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি “ফ্যামিলি কার্ড” কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। গবেষণাটি বলছে, যদি এই ভাতা দেশের সব দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের কাছে পৌঁছানো যায়, তাহলে দেশের সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে কমে ১১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৭.৪ শতাংশ পয়েন্ট দারিদ্র্য হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে চরম দারিদ্র্যের হারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে যেখানে চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশ, সেখানে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে তা ২.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে, অর্থাৎ প্রায় ৩.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)। গতকাল ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই কর্মসূচি বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৩৩.৯ শতাংশ থেকে কমে ১৫.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা প্রায় ৮.৪ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো হবে। এতে উপকারভোগীরা ঘরে বসেই এই সহায়তা পেতে পারবেন। সরকার ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করেছে। গত মঙ্গলবার এর উদ্বোধন করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ধাপে চার মাসের জন্য অন্তত ৪০ হাজার পরিবারকে এই ভাতা দেওয়া হবে। র‍্যাপিডের হিসাব অনুযায়ী, এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ৫৬ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে। তবে কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করবে সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করার ওপর। এম এ রাজ্জাক বলেন, যোগ্য পরিবার বাদ পড়ে যাওয়া কিংবা অযোগ্য পরিবার সুবিধা পাওয়া—এই দুই ধরনের ভুল কমাতে হলে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সাধারণত রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়। তবে সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারণ সরকার ইতোমধ্যে জিডিপির ৩ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ২ কোটি পরিবারকে এই মাসিক সহায়তার আওতায় আনা হবে। ২০২৬ সালের ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নির্দেশিকায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি পুরোপুরি চালু হলে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। রাজ্জাক সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও ৭ শতাংশের নিচে, ফলে সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বাড়ালে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এই চাপ সামাল দিতে তিনি পরামর্শ দেন, বর্তমানে চালু থাকা কিছু ওভারল্যাপিং বা অপ্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ করে সেই অর্থ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তার মতে, শক্ত রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবস্থাপনা থাকলে এই কর্মসূচি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ২,৫০০ টাকা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি মানুষের প্রতি সরকারের আস্থারও প্রতিফলন। এতে মানুষ অনুভব করছে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।” সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের সমন্বয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত নেই এবং এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ডিজিটাল ঋণ
ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

ছোট অঙ্কের ঋণের জন্য এখন আর ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় না। আত্মীয়–পরিচিতের কাছে ধরনা দেওয়ার দরকার নেই। হাতে শুধু একটি স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলেই কয়েক মিনিটে পাওয়া যায় জামানতবিহীন ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ। ফলে সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে এটি ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। দেশে এই সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। বেসরকারি সিটি ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ উদ্যোগে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ চালু করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেবার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। বর্তমানে সিটি ব্যাংকের পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক এই খাতে সক্রিয়। ব্যাংক এশিয়া ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পরীক্ষামূলক ধাপ পেরিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। যেভাবে পাওয়া যায় ঋণ: নতুন এই ঋণসেবা ডিজিটাল ওয়ালেট ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক। গ্রাহককে ব্যাংকে যেতে হয় না। কাগজপত্রের ঝামেলা বা দীর্ঘ যাচাই-বাছাইও লাগে না। জামানত বা জামিনদারের প্রয়োজন নেই। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ তদারকি সহজ হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ সাধারণ মানুষকে মহাজনি ঋণের ফাঁদ থেকে দূরে রাখছে। তবে এখনো অধিকাংশ ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী গ্রাহক এবং তাদের বেতনভুক্ত কর্মচারীরা এই সেবা নিতে পারছেন। সিটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিকাশের সক্রিয় গ্রাহকরা ঋণ পান। যারা সেবাটি দিচ্ছে: বর্তমানে সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে। ঋণের সীমা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। অ্যাপের মাধ্যমে টাকা গ্রাহকের হিসাবের মধ্যে চলে যায় এবং কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়। সিটি ব্যাংক বিকাশের মাধ্যমে জামানতবিহীন অতি ক্ষুদ্রঋণ দিচ্ছে। মাত্র তিন বছরে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ লাখের বেশি গ্রাহক ঋণ নিয়েছেন। বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশনস শামসুদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও জরুরি অর্থের প্রয়োজনের মানুষদের কাছে ঋণটি বিশেষ ভরসার জায়গা। ঢাকা ব্যাংকের গ্রাহক মোবাইল অ্যাপ ‘ঢাকা ব্যাংক গো প্লাস’ ব্যবহার করে ই-ঋণ আবেদন করতে পারেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহক ৮৫ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন। ঢাকা ব্যাংকের রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঋণের সুদের হার মাত্র ৯ শতাংশ। জামানত বা কাগজপত্র ছাড়াই দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। প্রাইম ব্যাংক ‘প্রাইম অগ্রিম’ নামে ডিজিটাল ঋণসেবা চালু করেছে। যাঁদের বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাঁরা অ্যাপ ব্যবহার করে ঋণ পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার গ্রাহক প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন, মোট ঋণ প্রদানের সংখ্যা ৭৫ হাজার। প্রাইম ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী বলেন, গ্রাহক সহজে ও নিশ্চিন্তে সেবা ব্যবহার করছেন। চলতি বছরে সব গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল ঋণসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকও তাদের বেতনভুক্ত গ্রাহককে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫৮ হাজার গ্রাহক মোট ৯৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। আগে সর্বোচ্চ ঋণ ৫ লাখ টাকা ছিল, এখন তা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি মাহীয়ুল ইসলাম জানান, ঋণের খেলাপির হার কম। মানুষ মূলত জীবনধারণ ও মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ঋণ নিচ্ছেন। আসছে আরও ব্যাংক: মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলকভাবে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ঋণ দিচ্ছে। ব্যাংক দুটি বড় পরিসরে সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন জানান, এমএফএস ও মোবাইল অপারেটরের ডেটা ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
Etihad Airways
Etihad Airways Joins Forces With McLaren Racing to Revolutionise Global Travel and Motorsport – Here’s How It Will Impact F1 and Beyond!

Global Motorsport Meets World-Class Travel Etihad Airways’ extensive global network, serving over 100 destinations worldwide, makes it the perfect partner for McLaren’s far-reaching race calendar. By combining the unmatched reach of one of the world’s leading airlines with the sheer excitement of McLaren’s high-speed motorsport operations, fans from around the globe will have access to convenient, luxury travel options directly linked to Formula 1, World Endurance Championship, and Formula E events. Fans can now seamlessly travel from major global hubs such as Abu Dhabi, Melbourne, Silverstone, and Suzuka to race venues, making race weekends even more accessible and exciting. This collaboration isn’t just about convenience; it’s about delivering a premium travel experience for the discerning motorsport traveller. Etihad’s high-end services will elevate the overall race experience, ensuring that fans arrive in comfort and style, ready to witness McLaren’s exciting performances. Boosting McLaren’s Global Reach with Cutting-Edge Branding One of the most striking elements of this partnership is the massive exposure Etihad Airways will receive on the world stage. Beginning in 2026, Etihad’s logo will be featured on McLaren’s Formula 1 cars—specifically on the rear wing and cockpit halo of the 2026 MCL40 car. This branding extends to the team’s driver helmets, making Etihad’s presence hard to miss in every race. The impact of this branding is twofold: not only does it put Etihad’s name in front of millions of F1 fans, but it also aligns the airline with McLaren’s reputation for speed, precision, and cutting-edge innovation. Whether you’re watching the Abu Dhabi Grand Prix, the Monaco Grand Prix, or Spa Francorchamps, Etihad’s logo will now be a staple of these iconic racing moments. Custom Etihad-McLaren Livery on a Boeing 787 Dreamliner But the excitement doesn’t stop at the racetrack. As part of the partnership, Etihad Airways will also be rolling out a custom McLaren livery on one of its Boeing 787 Dreamliner aircraft. This unique plane will travel to global destinations and become a symbol of the airline’s partnership with McLaren. Passengers will not only enjoy world-class travel but also get a first-hand look at this co-branded aircraft, promoting the exhilarating world of motorsports while soaring through the skies. For race fans, this aircraft represents more than just a plane; it’s a direct connection to the Formula 1 circuit and McLaren’s elite racing status. Etihad will be flying in style, and fans will be able to ride along with them, literally experiencing the partnership in the air as well as at the track. What This Partnership Means for Motorsports and Tourism The McLaren- Etihad alliance is bound to have a transformative effect on motorsport tourism. As Etihad helps McLaren’s global fanbase travel to Formula 1 races, World Endurance Championship events, and more, it brings race fans closer to their passion like never before. This partnership offers exclusive travel packages to major motorsport destinations, with flights, hotels, and VIP experiences all bundled together for ultimate convenience.  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0