Brand logo light

এশিয়া

কুমারী মেয়ের ‘নীরবতাই’ বিয়ের সম্মতি
আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন পারিবারিক আইন: নীরবতাই কি বিয়ের সম্মতি, বৈধতা পেল বাল্যবিয়ে?

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান সরকার নতুন একটি পারিবারিক আইন জারি করেছে, যা ঘিরে দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। শরিয়াহ আইনের তালেবানি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে তৈরি ৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘দম্পতিদের পৃথকীকরণের নীতিমালা’ শিরোনামের এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংগঠন, নারী অধিকারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ‘নীরবতা মানেই সম্মতি’—সবচেয়ে বিতর্কিত ধারা নতুন আইনের সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত অংশে বলা হয়েছে, কোনও ‘কুমারী মেয়ের’ নীরবতাকে বিয়ের ক্ষেত্রে তার সম্মতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে। তবে একই নিয়ম পুরুষ বা বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সমালোচকদের মতে, এই ধারা নারীর ব্যক্তিগত মতামত ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে এমন একটি সমাজে, যেখানে নারীরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন, সেখানে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে ধরা জবরদস্তিমূলক বিয়েকে বৈধতা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধতা পাচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাবা কিংবা দাদাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে ঠিক হওয়া কোনও নাবালক ছেলে বা নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—যদি পাত্র সামাজিকভাবে ‘উপযুক্ত’ হয় এবং মোহরানার পরিমাণ ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে। তবে এখানে একটি শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। ‘যৌবনোত্তীর্ণ হওয়ার পর সিদ্ধান্তের অধিকার’ নামের একটি আইনি নীতির আওতায় বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধির আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। যদিও সেই আবেদন গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে ধর্মীয় আদালতের হাতে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধান আংশিক আইনি সুরক্ষা দিলেও বাস্তবে সামাজিক চাপ, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং নারীদের সীমিত স্বাধীনতার কারণে তা কার্যকর হওয়া কঠিন হতে পারে। বিচারকদের বাড়তি ক্ষমতা নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে তালেবান বিচারকদের পারিবারিক ও সামাজিক বিষয়ে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্মান্তর, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি কিংবা পারিবারিক বিরোধের মতো বিষয়ে বিচারকেরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্য শাস্তিও দিতে পারবেন। আইন বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ধারা বিচারিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করবে। নারীদের ওপর ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালেবান সরকার আফগান নারীদের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ। নারীদের বহু সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। একা ভ্রমণ, জনসমক্ষে উপস্থিতি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নতুন পারিবারিক আইন সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে তালেবানের এই নতুন আইনের সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ, নারী অধিকার এবং শিশু সুরক্ষা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “নীরব সম্মতি” এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ের বৈধতা—এই দুটি ধারা ভবিষ্যতে আফগান সমাজে নারী ও শিশুদের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাদের আশঙ্কা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতায় আগেই পিছিয়ে পড়া আফগান নারীরা নতুন এই আইনের ফলে আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
সরকার গঠনের পথে বাধা কাটল অভিনেতা থালাপতির
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের পথে থালাপতি বিজয়ের টিভিকে, সমর্থনে ভিসিকে ও আইইউএমএল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের তামিলনাডু রাজ্যের থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগামের (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে অবশেষে বাধা কাটল। স্থানীয় দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে। ভিসিকে ও আইইউএমএলের দুটি করে চারটি আসন টিভিকের ভান্ডারে যোগ হয়েছে। এতে তাদের মোট আসন দাঁড়াল ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত হওয়ায় টিভিকে সদর দপ্তরে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা তৈরি হয়। দলনেতা ও সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘উল্লাস শুরু করো।’ ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চিত করতে থালাপতি বিজয়কে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। দলটির বিধানসভা দলনেতা ভান্নি আরাসু স্বাক্ষরিত ওই চিঠি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার থালাপতি বিজয় নিজ দল টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে চেন্নাইয়ের লোকভবনে যান। সেখানে তিনি কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, বিজয় থালাপতি সব সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। এরপর রাজ্যপাল তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। রাজ্যপালের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আজ শনিবার থালাপতি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত সোমবার তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে বিজয় নিজে লড়েছিলেন দুটি আসনে। ফলে দলের মোট বিধায়কের সংখ্যা ১০৭। কিন্তু ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন কার্যত ১১৬-তে আটকে ছিল। আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত তারা ভিসিকের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের অপেক্ষায় ছিল। ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন নিশ্চিত হওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো জোট সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
মমতা...
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: বড় ব্যবধানে বিজেপির জয়, অন্তর্বর্তী মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বল্প সময়ের জন্য ‘অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে জানা গেছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এনডিটিভি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন রাজ্যপালকে ফলাফল জানাবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানানো হতে পারে। এদিকে, আগামী ৯ মে নতুন সরকার শপথ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দিনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এটিকে প্রতীকী গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কয়েকদিন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ভোটে হারিনি, আমি ইস্তফা দেব না- মমতা
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: পরাজয় মানছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পদত্যাগে অস্বীকৃতি

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কার পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না এবং বর্তমান নির্বাচনী ফলাফলও মেনে নিচ্ছেন না। “আমি কেন রাজভবনে যাব? শপথ নিতে গেলে যেতাম। ওরা দখল করেছে। আমি পদত্যাগ করতে যাব না। আমরা ভোটে হারিনি,”—সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন তিনি। ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন নির্বাচনের ফলাফলকে “অপ্রকৃত” দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট লুট হয়েছে। তার মতে, গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, “ওরা গুণ্ডার মতো আচরণ করেছে। এমন নির্বাচন আমি কোনোদিন দেখিনি।”  বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই তিনি একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এদের মধ্যে রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে এবং হেমন্ত সোরেন। তবে সম্ভাব্য জোট বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাননি তিনি।  রাজনৈতিক অবস্থান তৃণমূল প্রধান দাবি করেন, তার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার প্রতি কোনো আগ্রহ নেই, বরং মানুষের জন্য কাজ করাই তার লক্ষ্য। তিনি বলেন, “যদি সঠিকভাবে পরাজয় পেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই পদত্যাগ করতাম। কিন্তু আমাকে জোর করে পরাজিত করা হয়েছে। ফলে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”  সারসংক্ষেপ এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিতর্ক চললেও তিনি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
আসামে বিজেপির হ্যাটট্রিক,
আসাম বিধানসভা নির্বাচন: টানা তৃতীয়বার বিজেপি, ১০২ আসনে এনডিএ—হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বড় জয়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১২৬ আসনের বিধানসভায় দলটি এবং তাদের মিত্ররা মিলিয়ে মোট ১০২টি আসন পেয়ে এক নতুন রাজনৈতিক নজির গড়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর নেতৃত্বে এই জয় গত এক দশকের মধ্যে রাজ্যে বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে। ২০১৬ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮৬টি এবং ২০২১ সালে ৭৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে এবার দলটি একাই ৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে। মিত্র দল বিপিএফ ও এজিপি ১০টি করে আসন পাওয়ায় এনডিএ জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল দলের নয়, বরং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অভিবাসন’ ও ‘মিয়া মুসলিম’ ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং নারীদের জন্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়। শর্মার ‘মামা’ ইমেজ এবং আক্রমণাত্মক অথচ জনমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ভোটারদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বিরোধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দলটি মাত্র ১৯টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা গৌরব গগৈ এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া-সহ একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। বিরোধী জোট মোট ২১টি আসন পেয়েছে। এছাড়া রাইজর দল দুটি আসনে জয়ী হয়েছে। এআইইউডিএফ পেয়েছে মাত্র ২টি আসন—যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনে জয় পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেস যে আসনগুলোতে জয় পেয়েছে সেগুলো ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব বেশি ছিল, যা রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়। নিজের জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ষষ্ঠবারের মতো বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রায় ৮৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে তার এই জয় আরও একবার তার রাজনৈতিক প্রভাবকে সুসংহত করেছে। জয়ের পর তিনি বলেন, এই ফলাফল উন্নয়ন, নারীশক্তির অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক আত্মপরিচয়ের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা পর্যন্ত সমগ্র অঞ্চলে উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বার্তাকে এই রায় আরও জোরালো করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে তারা সেখানে পৌঁছায় বলে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতির  আপডেট জানতে চোখ রাখুন আমাদের সঙ্গে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ: শিরশ্ছেদ, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
সোনিয়া গান্ধী
সোনিয়া গান্ধীকে দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি

দিল্লি, ২৪ মার্চ: ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী শারীরিক অসুস্থতা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা অনুভব করার পরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তার সঙ্গে রয়েছেন ছেলে রাহুল গান্ধী এবং মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। হাসপাতাল থেকে এখনও পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে শ্বাসকষ্টসহ কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সোনিয়া গান্ধী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং অনুরূপ শারীরিক সমস্যার কারণে এর আগেও একাধিকবার স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, তার বর্তমান অবস্থার তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালু রয়েছে এবং কোনো গুরুতর জটিলতার আভাস এখনও পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ইরান থেকে প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। এর আগেও গত বছর বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরান থেকে ২৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রত্যাবাসন পরিচালনা ও সমন্বয় করতে ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তা এবং তুরস্কের আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আজারবাইজানের বাকুতে যাচ্ছেন। বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।সূত্র আরও জানায়, ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষঙ্গিক খরচ (জনপ্রতি ভিসা ফি, ওষুধ, খাবার, স্থলপথে পরিবহন খরচ) হিসাবে প্রায় ২৩ হাজার ডলার দিচ্ছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। আর চার্টার্ড বিমানের খরচ দেবে সরকার। তবে এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের তেহরান থেকে আজারবাইজান সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক পথে নিয়ে আসা হবে। এরপর আজারবাইজান সীমান্ত থেকে বাকু পর্যন্ত সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হবে। বাকু’র বিমানবন্দর থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসা হবে।   কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আজারবাইজানের আকাশসীমা আংশিক খোলা আছে। বাকু থেকে কাস্পিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে নিয়মিত বিমান চলাচল করছে। এই রুটে বাকু থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে ফ্লাইট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ১৯ অথবা ২০ মার্চ ফ্লাইট পাওয়া যেতে পারে। ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় স্থবিরতা নিয়ে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও প্রায় ১৮ দিনে ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সৌদি আরবে ২ জন, বাহরাইনে ১ জন ও দুবাইয়ে ১ জন মারা গেছেন। এছাড়া এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ১০-১৫টি দেশে যুদ্ধের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ইসরায়েল ও লেবানন হলেও, এর প্রভাব বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটছে। এর আগে ইরান থেকে গত বছর বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ইরানে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। ভারত তাদের নাগরিকদের আরমেনিয়া হয়ে দেশে ফেরাচ্ছে। সেদেশের নাগরিকদের ইরান থেকে আরমেনিয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বে যেতে বলা হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
শরিফ ওসমান হাদি
হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার, সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল–বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রোববার পশ্চিমবঙ্গে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে তাদের ভারতে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর অধীনস্থ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের নজর এড়িয়ে কীভাবে ওই দুই ব্যক্তি ভারতে ঢুকল, তার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত ভারতে প্রবেশ করেছেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে, যেখানে বর্তমানে বিজেপি-সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তিনি বলেন, “অমিত শাহ আমাদের সীমান্ত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত Mamata Banerjee-র পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে দুই অভিযুক্ত।” অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে হলে আসাম ও ত্রিপুরা অতিক্রম করতে হয়, আর এই দুই রাজ্যেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তার ভাষায়, “দুই রাজ্যের পুলিশ এবং অমিত শাহর বিএসএফের চোখে ধুলো দিয়ে দুষ্কৃতীরা দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তবে এই অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গই বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য একটি “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “শুধু হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তরা নয়, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের বা অন্য দেশের অপরাধীরা পালিয়ে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছে।” দেবজিৎ সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিএসএফ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এই ঘটনায় একদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে ভারতীয় রাজনীতিতেও নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।   টাইমলাইন: হাদি হত্যা মামলা ঘটনার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে হত্যা – ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি খুন হন তদন্ত শুরু – বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে প্রধান সন্দেহভাজন শনাক্ত – ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ভারতে পালানোর অভিযোগ – তদন্তে উঠে আসে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে রোববার গ্রেফতার – পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ফ্যাক্টবক্স: কী জানা গেছে হাদি হত্যা মামলা – গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিহত: শরিফ ওসমান হাদি পদবি: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রধান অভিযুক্ত: ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন গ্রেফতার: পশ্চিমবঙ্গ, ভারত সম্ভাব্য প্রবেশ পথ: মেঘালয় সীমান্ত বিশ্লেষণ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে দায় চাপানোর প্রবণতা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের গ্রেফতারের ঘটনাটি সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
আফগানিস্তান
আফগানিস্তানের ৯৪ চেকপোস্ট ধ্বংস-দখলের দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা আফগানিস্তানের ৯৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস এবং দখল করেছে। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, আফগানিস্তানে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ৭৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮টি চেকপোস্ট পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পাকিস্তান আফগান সীমান্তে বিনা উসকানির আগ্রাসনের জবাবে অভিযান শুরু করে। এতে ২৭৪ জন তালেবান সদস্য ও তাদের সহযোগী নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। আইএসপিআরের মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরি জানান, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান তালেবান সরকারের অবৈধ উসকানির কারণে তাদেরকে আক্রমণ করা হয়েছে। পাকিস্তান জানায়, তালেবান যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানে। এ অভিযান চলাকালে ১১৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার, লাগমান, পাকতিকা প্রদেশের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এদিকে, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে যে আফগানদের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সীমান্তে যেকোনো ধরনের উসকানি রুখে দিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আফগান এয়ার ফোর্স
পাকিস্তানের হামলার জবাবে আফগান বিমানবাহিনীর বিমান হামলা

আফগান বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তানের আগের রাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে আকাশসীমা লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ছিল। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে যে, হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সেনা কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলা শুরু হয়েছিল বেলা ১১টার দিকে, যখন আফগান বিমানবাহিনী ফাইজাবাদ শহরের কাছে একটি সামরিক শিবির, নওশেরা সেনা ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদ সামরিক কলোনি এবং পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে অবস্থিত বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিমান হামলার সফলতা আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি সেনা ঘাঁটি এবং ক্যান্টনমেন্ট। আফগান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তান যখন কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল, তখন এ হামলা করা হয়, যা তাদের সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে এই পর্যন্ত ২৭৪ জন তালেবান সদস্য এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। সেইসাথে ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, জানানো হয়েছে পাকিস্তান আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তালেবানের ৭৩টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস করার পাশাপাশি ১৮টি পোস্ট দখল করেছে। পাকিস্তান দাবি করেছে যে, আফগান তালেবানের ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (APC) এবং আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে। বিশেষত, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এমন ধরনের আক্রমণ উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এ ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে বৃহত্তর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
ড্রোন হামলা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার তিন শহরে ড্রোন হামলা আফগানিস্তানের

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তিনটি শহরে আফগানিস্তান থেকে ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, সব ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তাতার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে ড্রোন উড়ে আসে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নোসেরা এলাকায়। তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় হয়ে সব ড্রোন ধ্বংস করে দেয়। পাল্টা দাবি আফগানিস্তানের এর আগে আফগান তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করে, তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি  সামরিক স্থাপনাসহ একাধিক স্থানে সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ, নোসেরার একটি সেনা ক্যাম্প, জামরুদের একটি সেনা ঘাঁটি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে। সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগান বাহিনী। এরপর পাকিস্তান পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ বলে দাবি করছে, তবুও সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে বারবার সংঘর্ষ এবং ড্রোন ও বিমান হামলার অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীন ও রাশিয়ার,মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।” মাও নিং আরও জানান, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার অবস্থান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের সংযম অত্যন্ত জরুরি। ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান” করার আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে, ভলকার তুর্ক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাতের পটভূমি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায়। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে ‘খোলা যুদ্ধ’: সামরিক শক্তিতে কতটা এগিয়ে ইসলামাবাদ?

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক -এর তথ্য অনুসারে, সামরিক শক্তিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় বহু গুণ এগিয়ে। নিচে দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো। 👥 কর্মীসংখ্যা পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীতে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে— ৫ লাখ ৬০ হাজার সেনাবাহিনীতে ৭০ হাজার বিমানবাহিনীতে ৩০ হাজার নৌবাহিনীতে পাকিস্তানের বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার নিয়োগ কাঠামো ও উচ্চ ধরে রাখার হারের জন্য পরিচিত। দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার চীনের কাছ থেকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদ তার পারমাণবিক কর্মসূচি, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে আফগান তালেবান সরকারের সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের সময় তারা বিদেশি বাহিনীর ফেলে যাওয়া বিপুল সরঞ্জাম জব্দ করলেও, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন সক্ষমতা দিন দিন কমছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 🚜 যুদ্ধযান ও কামান পাকিস্তানের কাছে রয়েছে— ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান ৪ হাজার ৬০০’রও বেশি কামান অন্যদিকে আফগান বাহিনীর হাতে মূলত সোভিয়েত আমলের ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে। তবে এসব সরঞ্জামের কার্যকারিতা ও সঠিক সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তাদের গোলন্দাজ সক্ষমতাও সীমিত ও অনির্দিষ্ট। ✈️ বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিমানবাহিনী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে বিবেচিত। তাদের বহরে রয়েছে— ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার এসবের মধ্যে বহুমুখী যুদ্ধবিমান, আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার ও পরিবহন হেলিকপ্টার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কার্যত কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান বহর নেই। তাদের কাছে অন্তত ছয়টি বিমান ও ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা যায়। তবে এর কতগুলো সচল অবস্থায় রয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। ☢️ পারমাণবিক সক্ষমতা পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির কাছে আনুমানিক ১৭০টি ওয়ারহেড রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নেই। 📊 সামগ্রিক মূল্যায়ন সামরিক সদস্যসংখ্যা, সাঁজোয়া যান, বিমানবাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা—সব দিক থেকেই পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে প্রচলিত সামরিক শক্তির বিচারে পাকিস্তান সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকবে। তবে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও গেরিলা কৌশল আফগান তালেবানের পক্ষে কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই সংঘাত বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব-লিল হক’: তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহতের দাবি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-এ পাকিস্তানের কথিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের (ওসিন্ট) ইউরোপ শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়, পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর হামলায় ইসলামিক এমিরেত অব আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকার কিংবা পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্রভাবে এ তথ্য যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করে তালেবান। পরবর্তীতে সরকার গঠন করে সংগঠনটির শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয় তালেবান সরকারের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা পাকিস্তানের অভিযোগ, নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে কাবুলের সরকার। তবে তালেবান প্রশাসন বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান একাধিকবার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানায় হামলার দাবি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, যদি হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার নিহত হওয়ার দাবি সত্য হয়, তবে তা আফগানিস্তানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তালেবান নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের অপারেশন
ব্রেকিং নিউজ: আফগানিস্তানে পাকিস্তানের অপারেশন: ২২৮ তালেবান যোদ্ধা নিহত, কাবুলসহ তিন শহরে ব্যাপক হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পরিচালিত অভিযানে ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ৩১৪ জন আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কাবুলসহ তিন শহরে হামলা পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী কাবুল ছাড়াও কান্দাহার ও পাকতিয়া এলাকায় একযোগে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়। এতে তালেবানদের ৭৪টি ঘাঁটি ধ্বংস এবং ১৮টি ঘাঁটি দখলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক সূত্র জানায়, কাবুলে দুটি এবং কান্দাহারে একটি ব্রিগেড সদরদপ্তর ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ‘গজব লিল হক’ অপারেশন পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে ‘গজব লিল হক’ নামের সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশারফ জাফরি দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত ২৭টি আফগান তালেবান শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। ৮০টির বেশি কামান ধ্বংস এবং নয়জন তালেবান সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তালেবানের পাল্টা দাবি অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সীমান্ত অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, রোববারের হামলার জবাব হিসেবেই পাকিস্তান এ আক্রমণ চালিয়েছে। এর আগে তালেবান সরকার দাবি করেছিল, পাকিস্তানের হামলায় তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানেও হতাহত চলমান সংঘাতে পাকিস্তানেও অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয়পক্ষই একে অপরের ওপর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে। সামগ্রিক হতাহতের চিত্র বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে উভয়পক্ষে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা
পাক সামরিক স্থাপনায় আফগানিস্তানের পাল্টা হামলা, সীমান্তে উত্তেজনা তীব্র

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা তারা ব্যাখ্যা করেছে পূর্বের পাকিস্তানি বিমান হামলার জবাব হিসেবে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের মিডিয়া অফিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলার পরই “তীব্র সংঘর্ষ” শুরু হয়।   🗣️ তালেবানের বক্তব্য তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন: “পাকিস্তানি সামরিক মহলের পুনঃপুন উসকানি এবং সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করা হয়েছে।” ডুরান্ড লাইন — প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, যা আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।   💥 সংঘর্ষ ও দাবি আফগান সামরিক একটি সূত্র আল জাজিরা‑কে জানিয়েছে: সংঘর্ষে ১০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে তালেবান বাহিনী ১৩টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করেছে   🇵🇰 পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়: খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্ড, কুররাম ও বাজাউর সেক্টরগুলোতে তালেবানকে “শাস্তি” দেওয়া হচ্ছে প্রাথমিক প্রতিবেদনে আফগান পক্ষের ব্যাপক হতাহতের তথ্য এবং একাধিক চৌকি ও সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেছে তবে পাকিস্তানি সরকারের মুখপাত্র খোলাখুলি স্বীকার করেননি যে কোন পোস্ট বা স্থাপনা দখল হয়েছে বা পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র আরও জানায়, “উসকানিমূলক তালেবান আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান সীমান্ত জুড়ে আফগান বাহিনীর ওপর তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে”। কিছু পাকিস্তানি সূত্র দাবি করে, পাল্টা গোলাবর্ষণে লক্ষ্যবস্তু তিনটি স্থান থেকে কয়েকজন আফগান সেনা পালিয়ে গিয়েছে।   🧨 পূর্বের সংঘাত এর আগে রবিবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছিল, যা আফগানিস্তান নাকচ করে জানায় ওই সময় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।   📉 বর্তমান সম্পর্ক ও পরিস্থিতি গত মাসগুলোতে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে সাতত্তর (৭০+) জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে অধিকাংশ স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। ইসলামাবাদ এ অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এবং তালেবান সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ : ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ-সাইপ্রাস মুখোমুখি লড়াই

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে আসন্ন নির্বাচন। আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ফিলিস্তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াবে—এমন নীতিগত অবস্থান ছিল সরকারের। তবে হঠাৎ করেই ফিলিস্তিন নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে এখন এই পদে লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস-এর মধ্যে। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পালা জাতিসংঘে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ, তবে জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী তারা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। তবে ফিলিস্তিনের সরে দাঁড়ানোর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের প্রার্থী ও প্রস্তুতি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্ক-এ অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। জয়লাভের জন্য প্রয়োজন হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। ৪০ বছর পর আবার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কূটনৈতিক গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার। এই পদে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন মূল লড়াই বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে সমর্থন আদায়ের নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। আগামী জুনের নির্বাচন ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসরাইলি মডেল’
মোদি সরকারের ‘ইসরাইলি মডেল’: কাশ্মীর নীতি, বুলডোজার বিচার

ভারতের বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের সাথে ইসরাইল-এর সম্পর্ক গত এক দশকে নজিরবিহীনভাবে গভীর হয়েছে। শুরুতে এই সম্পর্ক মূলত প্রতিরক্ষা ও অস্ত্র ক্রয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও বর্তমানে তা বিস্তৃত হয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কৌশল পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বিভিন্ন নীতিতে এখন স্পষ্টভাবে ‘ইসরাইলি মডেল’-এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কাশ্মীর নীতিতে ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’-এর ছায়া? ২০১৯ সালে ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নতুন ভূমি ও বসবাস আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে বাইরের নাগরিকদের জন্য সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস ও সম্পত্তি ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। নিউইয়র্কে ভারতের তৎকালীন কনসাল জেনারেল সন্দীপ চক্রবর্তী কাশ্মীর প্রশ্নে প্রকাশ্যে ‘ইসরাইলি মডেল’ অনুসরণের কথা বলেছিলেন। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের আদলে কাশ্মীরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে ‘সেটলার কলোনিয়ালিজম’ তত্ত্বের সাথে তুলনা টানছেন, যেখানে রাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আধিপত্য নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত জনবিন্যাস পরিবর্তনের কৌশল গ্রহণ করে। ‘বুলডোজার বিচার’: আইন নাকি প্রতিশোধমূলক প্রশাসন? ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বুলডোজার নীতি’ বিশেষভাবে আলোচিত। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ-এ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের সময় অভিযোগ উঠেছে যে, অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এটি অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের প্রয়োগ করা শাস্তিমূলক ঘরবাড়ি ধ্বংস নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, বাস্তবে এই নীতির প্রয়োগ বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। নজরদারি প্রযুক্তি ও পেগাসাস বিতর্ক ভারতে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর নজরদারির অভিযোগে ইসরাইলি স্পাইওয়্যার Pegasus-এর নাম সামনে আসে। এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে ইসরাইলভিত্তিক কোম্পানি NSO Group। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, বিষয়টি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করে। আদর্শিক মিল: হিন্দুত্ব ও জায়নবাদ ভারতের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-এর রাজনৈতিক দর্শন ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে ইসরাইল রাষ্ট্রের আদর্শিক ভিত্তি ‘জায়নবাদ’। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় মতাদর্শেই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়কে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা রয়েছে। এই আদর্শিক মিল দুই দেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।   প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব   বর্তমানে ভারত ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র ক্রেতা। ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি ও সীমান্ত নজরদারি সরঞ্জামে দুই দেশের সহযোগিতা গভীর হয়েছে। গাজা যুদ্ধের সময়ও ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে ক্রমশ নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করছে। ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে সরে আসা? ঐতিহাসিকভাবে ভারত ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের উষ্ণতা সেই অবস্থানকে আড়ালে ঠেলে দিয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের ‘ইসরাইলমুখী কৌশল’ শুধু বৈদেশিক নীতিতেই নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতেও একটি কঠোর, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ও কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করছে।   ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক এখন আর কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সীমায় আবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর কৌশলগত ও আদর্শিক অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে। কাশ্মীর নীতি, বুলডোজার অভিযান এবং নজরদারি প্রযুক্তির প্রয়োগ—এই তিন ক্ষেত্রে যে সাদৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে ভারতের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা : নিহত-৮০, টিটিপির ৭ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি

আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে ৮০ জনের বেশি  হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রোববার রাতভর পরিচালিত এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদের একাধিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আত্মঘাতী বোমা হামলার জবাবে আফগানিস্তানভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ভোরের দিকে  আফগানিস্তানের নানগরহার, পাকতিকা এবং খোস্ত প্রদেশে একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, বিমান হামলায় ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে অভিহিত গোষ্ঠীর ৮০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি। টিটিপির ৭ ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী টিটিপি-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। ধ্বংস হওয়া ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে— নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–১ নানগরহারের নিউ সেন্টার নম্বর–২ খোস্তের মোলভি আব্বাস সেন্টার নানগরহারের ইসলাম সেন্টার নানগরহারের ইব্রাহিম সেন্টার পাকতিকার মোল্লা রাহবার সেন্টার পাকতিকার মুখলিস ইয়ার সেন্টার পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে জঙ্গিদের উপস্থিতি ও তৎপরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। অভিযান-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও গোয়েন্দা যাচাই শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে, আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এ ধরনের হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0