Brand logo light

রংপুর

এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামে গুচ্ছগ্রামের ৭২ একর খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারির অভিযোগ, উচ্ছেদের শঙ্কায় শতাধিক পরিবার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কুড়িগ্রাম সদরের আরাজি পলাশবাড়ী গুচ্ছগ্রামের খাস জমি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের লিখিত নির্দেশনা উপেক্ষা করে সরকারি বন্দোবস্তকৃত জমি ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত ৭২ একর খাস জমি ধাপে ধাপে বেসরকারি মালিকানায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এতে গুচ্ছগ্রামের শতাধিক পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরও নামজারি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও জেলা প্রশাসনের আর এম শাখা সূত্রে জানা গেছে, আরাজি পলাশবাড়ী মৌজার এস এ দাগ ২০০১, ২০৭৩ ও ২০৭৪ নম্বর জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। এই জমির ওপরই কয়েক দশক ধরে গড়ে উঠেছে সরকারি গুচ্ছগ্রাম আবাসন প্রকল্প। গুচ্ছগ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, এসব খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে “ভ্রমাত্মক রেকর্ডভুক্ত” করা হয়। পরে রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে তারা জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন সদর এসি ল্যান্ডকে লিখিত নির্দেশ দেয়—আর এস রেকর্ড সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জমির সব কার্যক্রম এস এ রেকর্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণও সেই অনুযায়ী চালিয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর এস রেকর্ডের ভিত্তিতে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে গুচ্ছগ্রামবাসীরা আবারও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। পরে ২০২৫ সালের মার্চে জেলা প্রশাসন একই ধরনের আরেকটি নির্দেশনা জারি করে। “টাকা নিয়ে জমি দিয়ে দিচ্ছে” গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. ফারুক অভিযোগ করে বলেন, “ডিসি অফিসের নির্দেশনার পর জমির খাজনা দিতে গেছি। এস এ অনুযায়ী খাজনা নিচ্ছে না। শুনতেছি তলে তলে টাকা নিয়ে অন্যদেরকে জমি দিয়ে দিচ্ছে।” আরেক বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন, “সরকার জমি দিছে, ঘর দিছে। বন্দোবস্ত দেওয়া খাস জমি কীভাবে অন্যদের দিল, এই প্রশ্ন আমাদেরও।” একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার। দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে প্রথম দফায় ১৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে রেজিস্ট্রিকৃত কবুলিয়াতের মাধ্যমে এই এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আরও ২০টি পরিবারকে ব্যারাক ঘরে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২১ সালে সরকার পাকা ঘর নির্মাণ করে আরও ২৪টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেয়। এছাড়া ২০০৯ সালে বীর প্রতীক তারামন বিবিকেও ওই মৌজার ১ একর খাস জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্প গড়ে ওঠার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র জমিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সরকারি খাস জমিকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করা হয়। “চিঠির বিষয়ে জানা নেই” পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম শেখ প্রথমে বলেন, “চিঠির বিষয়ে আমার জানা নেই। প্রয়োজনে নামজারি বাতিল করা হবে।” তবে পরে তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আর এস গেজেট হওয়ায় এস এ অনুযায়ী ভূমি উন্নয়ন কর নেওয়ার সুযোগ নেই।” অন্যদিকে এসি ল্যান্ড আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, “আর এস রেকর্ড অনুযায়ী নামজারি করা হচ্ছে। নামজারি করার সময় আমরা এস এ রেকর্ড দেখি। সেখানে সরকারি স্বার্থ থাকলে নামজারি স্থগিত রাখা হয়।” তবে সরকারি খাস জমি কীভাবে ব্যক্তিমালিকানায় নামজারি হচ্ছে—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এমন কোনো চিঠি আমি পাইনি। পেলেও বিধিসম্মত নয় জানিয়ে উত্তর লিখতাম।” প্রশাসনের নীরবতা এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কয়েক দশক ধরে সরকারি পুনর্বাসন প্রকল্পে বসবাস করা পরিবারগুলো ভূমিহীন হয়ে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাস জমি নিয়ে রেকর্ড জটিলতা ও প্রশাসনিক অনিয়ম শুধু ভূমিহীন মানুষের নিরাপত্তাকেই হুমকিতে ফেলছে না, বরং সরকারি পুনর্বাসন নীতির বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
আব্দুর রহিম প্রামানিক
পীরগঞ্জ পৌরসভার সচিব আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

পীরগঞ্জ পৌরসভায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এক কর্মকর্তা, উঠছে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ—পৌর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও তার একক প্রভাব ছিল দৃশ্যমান। ২০১৫ সালে পীরগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর অতিরিক্ত দায়িত্বে সচিব হিসেবে যোগ দেন আব্দুর রহিম প্রামানিক। সে সময় তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পৌরসভার সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তৎকালীন মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান এবং ধীরে ধীরে পৌরসভার প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির দাবি, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে রাজস্ব খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ উত্তোলন, উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন আদায়ের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। পৌরসভার সাবেক দুই প্রকৌশলী ও কয়েকজন কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উন্নয়ন কাজের বিল ছাড় করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পভিত্তিক জামানতের অর্থও বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে জমা দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোনো কাজ বাস্তবায়ন ছাড়াই উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক পীরগঞ্জ শাখার একাধিক চেকের মাধ্যমে “মেসার্স হাফসা ট্রেডার্স” নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়। একই অভিযোগে আরও বলা হয়, মৃত্তিকা এগ্রো ফার্মসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জামানত বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, তারা কোনো আবেদন বা অনুমোদন দেননি, এমনকি তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই জামানতের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২ এর সুপারভাইজার ও প্রশাসন, অর্থ এবং মনিটরিং কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গত বছরের ২৬ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে তাকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি পৌর সচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। এরপর তৎকালীন জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী প্রোগ্রামার (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভা কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯২ লঙ্ঘন করে ২০২২ সাল থেকে “পাপড়ি রানী সাহা” নামে এক টিকাদান কর্মীকে ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। এ সময় তাকে নিয়মিত বেতন-ভাতাও প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও চাকরি দেওয়ার নামে স্বজনপ্রীতি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা এবং নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে আব্দুর রহিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রামানিক। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। কোনো কাজ না করে বিল উত্তোলন বা পরিশোধ করা হয়নি। বিভিন্ন তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।” অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অভিযোগগুলোর নথিপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন পৌর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এত বিস্তৃত অভিযোগ ওঠার পরও কেন দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
পিআইও আব্দুল আজিজ
পীরগঞ্জে টিআর প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: পিআইওর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অর্থ নয়ছয়ের দাবি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা/নগদ অর্থ) কর্মসূচির আওতায় ১৫টি ইউনিয়নে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই অর্থে ৭২টি প্রকল্প অনুমোদন পেলেও অন্তত ১৫–১৬টি প্রকল্প বাস্তবে পিআইও অফিসের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের প্রকল্প সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কার্যত কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বরং পিআইও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকির কাজ করছেন। চতরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, “আমাকে একটি প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু কাজ করছে পিআইও অফিসের লোকজন। শুধু চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।” একই ধরনের অভিযোগ করেন কাবিলপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রীমা বেগম। তিনি বলেন, “আমি শুধু নামেই সভাপতি। কাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”সরেজমিন পর্যবেক্ষণে শানেরহাট, পাঁচগাছি, মিঠিপুর ও রামনাথপুর ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তা সংস্কার ও সলিং প্রকল্পে পিআইও অফিসের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, তাদের পাশ কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, ফলে তারা জনসম্মুখে প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। একজন ইউপি চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়ের পর প্রকল্প যাচাইয়ের কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে না।”এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। এর আগে পীরগাছায় দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫৬৬ মেট্রিক টন গম আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে আব্দুল আজিজকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি আবার পীরগঞ্জে যোগ দেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পিআইও আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো অনিয়ম করি না। কিছু সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লিখছেন। প্রকল্প আমি নিজে বাস্তবায়ন করার সুযোগ নেই।” জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, “অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন বলেন, “পিআইও নিজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন কি না, তা আমার জানা নেই।” জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
দেবীগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল জরিমানার পর ইউএনওর ওপর হামলা, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি তেল পাম্পে লাইসেন্স ও নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকায় মেসার্স জান্নাতুন মাওয়া ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ চলছিল। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন এলাকা—ডোমার উপজেলার চিলাহাটি, বোদা উপজেলার বড়শশী ও বগদুলঝুলা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ও চিলাহাটি ইউনিয়ন থেকে মোটরসাইকেল চালকেরা জ্বালানি নিতে ভিড় করেন। এতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। দুপুরে ইউএনও সবুজ কুমার বসাক পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে তিনি লাইনে থাকা চালকদের ফুয়েল কার্ড, গাড়ির নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই শুরু করেন। যাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল না, তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। এ সময় দুইজন চালকের বিরুদ্ধে নিবন্ধন ও লাইসেন্স না থাকায় প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাইনে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জন চালক হট্টগোল শুরু করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকের কাছেই বৈধ কাগজপত্র ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যে শতাধিক লোকের একটি মিছিল এসে ইউএনও ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়। আনসার সদস্য আহত, অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হামলার সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইউএনওকে স্থানীয়দের সহায়তায় পাশের একটি বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ইউএনওকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। আহত আনসার সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ইউএনও সবুজ কুমার বসাক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর পেয়ে পাম্পে যাই। কাগজপত্রবিহীন চালকদের সরে যেতে বলি এবং দুজনকে জরিমানা করি। এরপরই শতাধিক লোক মিছিল নিয়ে এসে হামলা চালায়। আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।” দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালেক জানিয়েছেন, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ থাকবে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
রংপুরে এসে প্রেমিকাকে বিয়ে করলেন চীনা যুবক
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়: চীন থেকে প্রেমের টানে রংপুরে, দেড় মাসেই বিয়ে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রংপুরের মিঠাপুকুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এক প্রেমের সম্পর্ক দেড় মাসের মধ্যেই বিয়েতে রূপ নিয়েছে। সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে এক বাঙালি তরুণীকে বিয়ে করেছেন এক চীনা যুবক—যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকার বাসিন্দা আনিকা আক্তারের সঙ্গে প্রায় দেড় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনা নাগরিক মা লিয়াংহুইয়ের। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশে আসেন মা লিয়াংহুই। এরপর তিনি আনিকার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরদিন শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে তাদের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয়রা ভিনদেশি ওই যুবককে একনজর দেখতে আনিকার বাড়িতে ভিড় করেন। আনিকা আক্তার স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে। বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একজন বিদেশি নাগরিক ওই এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে মা লিয়াংহুই তার স্ত্রীর বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
সিজারের তিনদিন পর নবজাতক রেখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন কুড়িগ্রামের হাওয়া আক্তার

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে সন্তান জন্মের মাত্র তিনদিন পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক শিক্ষার্থী দৃঢ় মনোবল ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাওয়া আক্তার নামের ওই পরীক্ষার্থী কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার বাবা হযরত আলী। গত ১৮ এপ্রিল তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। শারীরিক দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নবজাতক সন্তানকে পরিবারের কাছে রেখে তিনি কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে ‘কুরআন মাজিদ ও তাজভীদ’ বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পরিবারের এক সদস্য নবজাতককে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ফলে পরীক্ষার সময়ও সন্তানের দেখভালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ নুর বখত মিঞা জানান, তাদের কেন্দ্রে প্রায় ১,১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থী সিজারের তিনদিন পর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, যা “অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক”। স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষ্যে অবিচল থাকার এই ঘটনা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয়। হাওয়া আক্তারের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
বান্ধার পলাশবাড়ীতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
প্রবেশপত্র না পেয়ে পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র না পাওয়ায় ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার পলাশবাড়ী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অবস্থান নিয়ে গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী এই অবরোধ শুরু করেন। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরীক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার জন্য সোমবার রাত পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। পরে তারা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নেন। ঘটনাস্থলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইয়াসা রহমান এবং পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা দ্রুত প্রবেশপত্র পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। একই উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও ৩৬ জন পরীক্ষার্থীও বিকেল পর্যন্ত প্রবেশপত্র না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান। এদিকে জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় কঞ্চিপাড়া এমইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক গুরুতর ভুল ধরা পড়ে। কারও বিভাগ পরিবর্তন, কারও ছবির গরমিল এবং কারও অভিভাবকের নাম ভুল থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ জানিয়েছেন, পরীক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
গাইবান্ধায় অর্ধশতাধিক পরীক্ষার্থী পায়নি এসএসসির প্রবেশপত্র
গাইবান্ধায় এসএসসি পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র জটিলতা: অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। তবে পরীক্ষার মাত্র একদিন আগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এখনো প্রবেশপত্র হাতে পায়নি। এতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা এবং তাদের অভিভাবকরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থীকে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বারান্দায় প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়, কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলার গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র পায়নি। এর মধ্যে শুধু জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৬ জন এবং গৃরিধারীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্যদিকে কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে একাধিক ভুল ধরা পড়েছে। কোথাও বিভাগ পরিবর্তন হয়ে গেছে, কোথাও লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল, আবার কারও বাবা-মায়ের নামও ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র এখনও বিতরণই করা হয়নি। পরীক্ষার্থী সিয়াম, আরেফা খাতুন, জিহাদ ও জুঁই বলেন, “আগামীকাল পরীক্ষা। আমাদের এখন বইয়ের পাশে থাকার কথা। কিন্তু আমরা সকাল থেকে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশপত্রের অপেক্ষায় আছি। জানি না আমরা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারব কি না।” অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অবহেলা এবং গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম সরকার দাবি করেন, প্রবেশপত্রের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সরবরাহ করা হয়নি। তবে সহকারী শিক্ষক মোক্তার আলী জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কঞ্চিপাড়া এম ইউ একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, “সব শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষা দিতে পারে, সে চেষ্টা চলছে। ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে।” পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আলমগীর হোসেন জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং রাতের মধ্যেই প্রবেশপত্র বিতরণের আশ্বাস পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দেওয়া হচ্ছে।” ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান
কুড়িগ্রামে চোরচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান: ৯ জন গ্রেফতার, ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে সংগঠিত মোটরসাইকেল চোরচক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে কুড়িগ্রাম সদর থানার কোর্ট চত্বর, সদর হাসপাতাল এলাকা, নিউরোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও জিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৬৪টি মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরপর প্রথমে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি সদস্যদের আটক করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন—বাবু মিয়া ওরফে শাহজালাল, নুর ইসলাম, খাইরুল ইসলাম বাবু, রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, রফিকুল ইসলাম, মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, খায়রুল আলম, আজিজুল হক ও আনিছুর রহমান। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত এবং পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করত। গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজারহাট থানায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে দুইটির প্রকৃত মালিক শনাক্ত করে ইতোমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মোটরসাইকেলগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে এবং মালিকানা যাচাই চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাচাই শেষে সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে চোরচক্র দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের এসিল্যান্ডকে ভাই বলায় ক্ষুব্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংবাদিক পরিচয় দি‌য়ে জনসম্মুখে ‘ভাই’ বলায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম ‘চটে’ গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার এক সাংবাদিক। তার দাবি, এসিল্যান্ড নিজেকে ‘সাধারণ কোনো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেছেন। দেশ টেলি‌ভিশ‌নের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জুয়েল রানা রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে দাবি করেছেন।   জুয়েল রানা জানান, রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে গ্রাহক‌দের মাঝে তেল সরবরাহ চলছিল। প্রতি‌টি পাম্পেই গ্রাহক‌দের অতিরিক্ত ভিড় ছিল। দুপুরের দিকে শহরের কলেজ মো‌ড়ে সাহা ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। এসময় সাংবাদিক জুয়েল রানা ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক প্রতি কী পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে জানার জন্য এসিল্যান্ডকে ‘ভাই’ সম্বোধন ক‌রে নিজের পরিচয় দি‌য়ে প্রশ্ন করেন। এতেই ‘চটে যান’ এসিল্যান্ড।   জুয়েল রানা বলেন, আমি ‘ভাই’ স‌ম্বোধন ক‌রে প্রশ্ন কর‌তেই চ‌টে যান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। তিনি আমা‌কে বলেন, ‘ভাই কেন বললেন? এভাবে সবার সামনে ভাই ডাকলে সাধারণ মানুষ ভাববে আপনার সাথে আমার স্বজনপ্রীতি রয়েছে। সবাই আমাকেও সাধারণ মানুষ ভাববে। আমি তো সাধারণ মানুষ নই। ’ এরপর আমা‌কে আর কথা বলার সু‌যোগ দেননি। তার এমন আচরণে আমি সবার সামনে বিব্রত অবস্থায় পড়ি। জুয়েল আরও বলেন, ‘স্যার’ না বলে ভাই বলার কারণেই এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তা‌কে স্যার বলতে হবে কেন? প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনার পরও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারী‌দের এমন প্রভুত্বের আচরণ নিন্দনীয়। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এসিল্যান্ড বল‌তে ব‌লি‌নি। আমি বলেছি, ভাই বলছেন, বা‌কি লোকদের ই‌য়ে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগা‌যো‌গের চেষ্টা করা হ‌লেও তি‌নি ফোন রিসিভ ক‌রেন‌নি। সম্প্রতি সদ‌রের কাঁঠালবাড়ী ইউ‌নিয়ন পরিষদ চত্বরের ২১ টি গাছ কাটা ও অপসারণের প্রকাশ্য নিলাম গোপ‌নে সারার অভি‌যোগ ওঠে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ নি‌য়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
তাইজুল ইসলাম
ভাইরাল তাইজুল ইসলামকে ঘর দিচ্ছে পথশিশু ফাউন্ডেশন | কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীর মানবিক উদ্যোগ

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পথশিশু ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা তাইজুলের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেবে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ নয়ন বলেন, “তাইজুল ইসলামের জীবনযাপন এবং তার সংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই তার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।” সম্প্রতি জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাইজুল। ভিডিওটিতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে সরল ভাষায় প্রশ্ন করতে দেখা যায়—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?” তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা অনেকের কাছে বিনোদন হিসেবে ধরা পড়লেও, সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করেছেন। তাইজুল ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শখের বসে ভিডিও তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার খবর কেউ তুলে ধরে না। তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি সাধারণ মানুষ, ভুল হতেই পারে। মানুষ আমাকে নিয়ে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। পরে শুনেছেন যে তাইজুল ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর এখন তাইজুলের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের তরুণ ভাইরাল ‘তাজু ভাই ২.০’: লাখো ভিউ, “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”

কুড়িগ্রাম: হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো উপস্থাপনা, আর গ্রামবাংলার সহজ-সরল ভাষা—এই তিনের মিশেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম তাজু, যিনি এখন পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পরও তার জীবনের বাস্তবতা রয়ে গেছে আগের মতোই কঠিন—অভাব, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ভরা।  ভাইরালের শুরু যেভাবে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় এক জিলাপির দোকানে দাঁড়িয়ে “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”—এমন সরল প্রশ্ন করে ভিডিও করেন তাজু। তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা আর গ্রামীণ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওটি ৫০ লাখেরও বেশি ভিউ পায়। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে থাকেন—নদীভাঙন, ভাঙা রাস্তা, চরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চনা—সবই উঠে আসে তার কণ্ঠে।  ‘লাইভ’ ভঙ্গিতে গ্রামের গল্প তাজুর ভিডিওর বিশেষত্ব তার সরলতা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি না করলেও, তার ভিডিওতে উঠে আসে এমন বাস্তবতা, যা অনেক সময় মূলধারার মিডিয়ায় দেখা যায় না। তার ভাষায়, “আমি এলাকার খবর বাইরে তুলতে চাই। সাংবাদিকরা তো এখানে আসে না।”  ভাইরাল, কিন্তু অভাব যায়নি ৩০ বছর বয়সী তাজু পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। ঢাকায় কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার বাবা-মা অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন আর ধার করা বুম দিয়েই তৈরি হয় তার ভিডিও। তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, কিন্তু আমার কষ্ট কমে নাই। পেইজে কোনো আয় নাই। কাজ না করলে তো পরিবার চলবে না।”  ভাইরাল পেজ, কিন্তু আয় নেই ভাইরালের আগে তার ফেসবুক পেজে অনুসারী ছিল প্রায় ৬ হাজার। এখন তা এক লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এখনো কোনো মনিটাইজেশন বা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়নি। 🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা তাজুকে এলাকার গর্ব হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তার মতো প্রতিভাবান একজন তরুণকে সহায়তা করা প্রয়োজন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার সরলতা আর উপস্থাপনা মানুষকে আকর্ষণ করে। তাকে ট্রল না করে পাশে দাঁড়ানো উচিত।” ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, “নদীভাঙনে সব হারিয়েও সে মানুষের কথা বলছে—এটা গর্বের বিষয়।”  সামনে অনিশ্চিত পথ ভাইরাল হলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে বের হতে পারেননি তাজু। সংসারের চাপে আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ করার কথাও ভাবছেন তিনি। তার কথায়, “ভিডিও করি নিজের দুঃখ ভুলতে। মানুষ ভালোবাসে—এইটাই আমার শক্তি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মো. আলমগীর হোসেন।
নীলফামারীতে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অবরুদ্ধ

নীলফামারীর সদর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, তাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, কাজ শেষ হলেও এখনো বিল পাননি। “কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন,” বলেন তিনি। আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী অভিযোগ করেন, যে সদস্যকে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এটি নাকি তার প্রাপ্য।” ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। “আমি তাকে টাকা দিয়েছি। এছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ডও তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। এগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি,” বলেন তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।” তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। “আজ সবাই মিলে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো তার আগে জানা ছিল না। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব
সৈয়দপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় এই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল গত দুই বছরে ধাপে ধাপে এসব অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দুই বছরে ধাপে ধাপে অর্থ সরানো ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৩ কোটি টাকা সরানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টে ৪৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে আব্দুল লতিফ দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকা পাওনা ছিলেন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ঘটনায় তমাল একা জড়িত নন। তাদের মতে, এর পেছনে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত কমিটি ব্যাংকের হেড অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল বিষয়টি অনুসন্ধান করে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ারুজ্জামান এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইকবাল কবীর প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম এই তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। আইটি বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ সৈয়দপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অর্থ অপসারণ তার নজরে আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিদেশে পালানোর অভিযোগ তদন্তের সময় জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার কাঞ্চনপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রংপুর শহরের রহমতপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সপরিবারে বিদেশে চলে গেছেন। তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন জানান, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে তিনি কেন সেখানে গেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। আইনি পদক্ষেপ অগ্রণী ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার অধীনে পাঁচটি জোনের প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করতে হয়, তাই সব সময় কম্পিউটার মনিটর করা সম্ভব হয় না। ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
এ টি এম আজহারুল ইসলাম
জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিজয়ী

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম। আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্রে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়েছেন। তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বেলাল উদ্দিন
জামায়াত নেতার ব্যাগে মিললো ৭৪ লাখ টাকা

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।’ এর আগে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাকে আটক করা হয়নি। বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে ‘অর্ধকোটি’ টাকাসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন। ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কীসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তার (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনি পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
রংপুর সামাজিক বন বিভাগ
রংপুর সামাজিক বন বিভাগে একই অফিসে দুই দশকের বেশি সময় চাকরি, বদলি নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ

রংপুর সামাজিক বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করা একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, টেন্ডারবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ঠিকাদার ও সচেতন মহলের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে বিভাগটি কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার কাজি পাড়া এলাকার বাসিন্দা, মৃত হেমন্ত চন্দ্র মহন্তের ছেলে গোপাল চন্দ্র মহন্ত। তিনি ১৯৯৫ সালে রংপুর সামাজিক বন বিভাগ কার্যালয়ে কাম কম্পিউটার পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২০ বছর একই অফিসে চাকরির পর অফিস সহকারী পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদে নিয়োগ পেয়ে খুলনার বাগেরহাট জেলায় যোগদানের কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে রংপুর অফিসেই বহাল থাকেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, গোপাল চন্দ্র মহন্ত গত প্রায় ৩১ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজের বিল ছাড় করতে প্রতি সিডিউলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি করে নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের পেছনে একই অফিসের প্রধান সহকারী মর্জিয়ানা বেগমের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে একই অফিসে কর্মরত। এছাড়াও শাহ আলম মন্ডল ও উচ্চমান সহকারী ইসারুল হককে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোন আইন বা বিধিমালার আওতায় গোপাল চন্দ্র মহন্ত, মর্জিয়ানা বেগম, ইসারুল হক ও শাহ আলম মন্ডল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই অফিসে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং রংপুর সামাজিক বন বিভাগ কার্যত একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযুক্তদের কর্মজীবনের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পাঠানোসা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে শাহ আলম মন্ডল ১৯৯৫ সালে রাঙ্গামাটিতে কাম কম্পিউটার পদে যোগদান করেন। পরে ২০০০ সালে বগুড়া সার্কেল হয়ে সরাসরি রংপুরে যোগ দেন এবং তখন থেকে প্রায় ২৬ বছর ধরে রংপুরেই কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে ইসারুল হক ১৯৯৫ সালে ফরিদপুর জেলায় ইউডিএ পদে চাকরি শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি রংপুরে যোগদান করেন এবং চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত আছেন। সরকারি চাকরিতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর পরপর বদলির বিধিমালা থাকলেও, নিরবচ্ছিন্নভাবে ২০ বছর বা তার বেশি সময় একই কর্মস্থলে চাকরি করার কোনো সুনির্দিষ্ট সাধারণ নিয়ম নেই। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরি করাকে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ বদলি না করায় তারা একই কর্মস্থলে রয়েছেন এবং এতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত দায় নেই। এ বিষয়ে রংপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বদলি করার ক্ষমতা নেই। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।” তবে গাছ লাগানো ও গাছের টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সচেতন মহলের দাবি, রংপুর সামাজিক বন বিভাগে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বদলি নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0