Brand logo light

রংপুর

তাইজুল ইসলাম
ভাইরাল তাইজুল ইসলামকে ঘর দিচ্ছে পথশিশু ফাউন্ডেশন | কুড়িগ্রাম নাগেশ্বরীর মানবিক উদ্যোগ

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। পথশিশু ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা তাইজুলের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেবে। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ নয়ন বলেন, “তাইজুল ইসলামের জীবনযাপন এবং তার সংগ্রামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। খুব দ্রুতই তার জন্য একটি ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে।” সম্প্রতি জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাইজুল। ভিডিওটিতে তাকে স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে সরল ভাষায় প্রশ্ন করতে দেখা যায়—“জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?” তার এই সহজ-সরল উপস্থাপনা অনেকের কাছে বিনোদন হিসেবে ধরা পড়লেও, সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতাকে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করেছেন। তাইজুল ইসলাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শখের বসে ভিডিও তৈরি করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকার খবর কেউ তুলে ধরে না। তাই আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি সাধারণ মানুষ, ভুল হতেই পারে। মানুষ আমাকে নিয়ে ট্রোল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।” স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। পরে শুনেছেন যে তাইজুল ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পর এখন তাইজুলের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রামের তরুণ ভাইরাল ‘তাজু ভাই ২.০’: লাখো ভিউ, “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”

কুড়িগ্রাম: হাতে লম্বা বুম, টেলিভিশন সাংবাদিকদের মতো উপস্থাপনা, আর গ্রামবাংলার সহজ-সরল ভাষা—এই তিনের মিশেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাতারাতি আলোচনায় উঠে এসেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম তাজু, যিনি এখন পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। কিন্তু ভাইরাল হওয়ার পরও তার জীবনের বাস্তবতা রয়ে গেছে আগের মতোই কঠিন—অভাব, অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ভরা।  ভাইরালের শুরু যেভাবে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় এক জিলাপির দোকানে দাঁড়িয়ে “সরকারি রেটে জিলাপি কত?”—এমন সরল প্রশ্ন করে ভিডিও করেন তাজু। তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থাপনা আর গ্রামীণ ভাষা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওটি ৫০ লাখেরও বেশি ভিউ পায়। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত ভিডিও বানাতে থাকেন—নদীভাঙন, ভাঙা রাস্তা, চরাঞ্চলের উন্নয়ন বঞ্চনা—সবই উঠে আসে তার কণ্ঠে।  ‘লাইভ’ ভঙ্গিতে গ্রামের গল্প তাজুর ভিডিওর বিশেষত্ব তার সরলতা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি না করলেও, তার ভিডিওতে উঠে আসে এমন বাস্তবতা, যা অনেক সময় মূলধারার মিডিয়ায় দেখা যায় না। তার ভাষায়, “আমি এলাকার খবর বাইরে তুলতে চাই। সাংবাদিকরা তো এখানে আসে না।”  ভাইরাল, কিন্তু অভাব যায়নি ৩০ বছর বয়সী তাজু পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। ঢাকায় কাজ করে সংসার চালাতেন। বর্তমানে আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তার বাবা-মা অসুস্থ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে তারা এখন অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। নিজে কখনো স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাননি। মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন আর ধার করা বুম দিয়েই তৈরি হয় তার ভিডিও। তাজু বলেন, “মানুষ ভালোবাসা দিছে, কিন্তু আমার কষ্ট কমে নাই। পেইজে কোনো আয় নাই। কাজ না করলে তো পরিবার চলবে না।”  ভাইরাল পেজ, কিন্তু আয় নেই ভাইরালের আগে তার ফেসবুক পেজে অনুসারী ছিল প্রায় ৬ হাজার। এখন তা এক লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এখনো কোনো মনিটাইজেশন বা আয়ের সুযোগ তৈরি হয়নি। 🗣️ স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা তাজুকে এলাকার গর্ব হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, তার মতো প্রতিভাবান একজন তরুণকে সহায়তা করা প্রয়োজন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার সরলতা আর উপস্থাপনা মানুষকে আকর্ষণ করে। তাকে ট্রল না করে পাশে দাঁড়ানো উচিত।” ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, “নদীভাঙনে সব হারিয়েও সে মানুষের কথা বলছে—এটা গর্বের বিষয়।”  সামনে অনিশ্চিত পথ ভাইরাল হলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে বের হতে পারেননি তাজু। সংসারের চাপে আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ করার কথাও ভাবছেন তিনি। তার কথায়, “ভিডিও করি নিজের দুঃখ ভুলতে। মানুষ ভালোবাসে—এইটাই আমার শক্তি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মো. আলমগীর হোসেন।
নীলফামারীতে লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অবরুদ্ধ

নীলফামারীর সদর উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ধরে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪০০টি কার্ড নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগম বলেন, তাকে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, কাজ শেষ হলেও এখনো বিল পাননি। “কাজ দেওয়ার সময় প্রশাসক অগ্রিম ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন,” বলেন তিনি। আরেক সংরক্ষিত নারী সদস্য চম্পা রানী অভিযোগ করেন, যে সদস্যকে প্রকল্প দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাকে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমার কাছ থেকেও ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এটি নাকি তার প্রাপ্য।” ইউপি সদস্য মশিউর রহমান জানান, টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের প্রতি লাখে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। “আমি তাকে টাকা দিয়েছি। এছাড়া ভিজিএফ চালের ৪০০টি কার্ডও তিনি নিজের কাছে রেখেছেন। এগুলো কী করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি,” বলেন তিনি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “ইউপি সদস্যদের সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি।” তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি। “আজ সবাই মিলে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি। এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, অভিযোগগুলো তার আগে জানা ছিল না। তিনি বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব
সৈয়দপুরে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর একটি শাখার ভল্ট থেকে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় এই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের ওই শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমাল গত দুই বছরে ধাপে ধাপে এসব অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দুই বছরে ধাপে ধাপে অর্থ সরানো ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের শহীদ তুলশিরাম সড়কে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৩ কোটি টাকা সরানো হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার অগ্রণী ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা থেকে। তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফের অ্যাকাউন্টে ৪৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে আব্দুল লতিফ দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকা পাওনা ছিলেন এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তমাল ব্যাংকের কয়েকজন সহকর্মীর অ্যাকাউন্ট ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই ঘটনায় তমাল একা জড়িত নন। তাদের মতে, এর পেছনে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত কমিটি ব্যাংকের হেড অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মেহেদী রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত দল বিষয়টি অনুসন্ধান করে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন— সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আনোয়ারুজ্জামান এসপিও খালেদ মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী মো. সোলায়মান হোসেন প্রিন্সিপাল অফিসার দেবাশীষ মল্লিক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইকবাল কবীর প্রিন্সিপাল অফিসার একেএম ফজলুল করিম এই তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রংপুরে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। আইটি বিভাগের গাফিলতির অভিযোগ সৈয়দপুর শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, আইটি বিভাগের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অর্থ অপসারণ তার নজরে আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিদেশে পালানোর অভিযোগ তদন্তের সময় জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তমালের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার কাঞ্চনপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন রংপুর শহরের রহমতপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সপরিবারে বিদেশে চলে গেছেন। তার বড় ভাই তুহিন সালেহীন জানান, তমাল বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তবে তিনি কেন সেখানে গেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। আইনি পদক্ষেপ অগ্রণী ব্যাংকের রংপুর বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তার অধীনে পাঁচটি জোনের প্রশাসনিক কাজ দেখভাল করতে হয়, তাই সব সময় কম্পিউটার মনিটর করা সম্ভব হয় না। ঘটনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলিমুল আল রাজি তমালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
এ টি এম আজহারুল ইসলাম
জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম বিজয়ী

রংপুর-২ (তারাগঞ্জ এবং বদরগঞ্জ) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম। আসনটির ১৩৭টি কেন্দ্রে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার ৭৯ হাজার ৯১০ ভোট পেয়েছেন। তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তর থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
বেলাল উদ্দিন
জামায়াত নেতার ব্যাগে মিললো ৭৪ লাখ টাকা

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ‘সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।’ এর আগে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধকোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তার ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তার সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাকে আটক করা হয়নি। বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে ‘অর্ধকোটি’ টাকাসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি জানান, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন। ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কীসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের। জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তার (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনি পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
রংপুর সামাজিক বন বিভাগ
রংপুর সামাজিক বন বিভাগে একই অফিসে দুই দশকের বেশি সময় চাকরি, বদলি নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ

রংপুর সামাজিক বন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকরি করা একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ, টেন্ডারবাজি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ঠিকাদার ও সচেতন মহলের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে বিভাগটি কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার কাজি পাড়া এলাকার বাসিন্দা, মৃত হেমন্ত চন্দ্র মহন্তের ছেলে গোপাল চন্দ্র মহন্ত। তিনি ১৯৯৫ সালে রংপুর সামাজিক বন বিভাগ কার্যালয়ে কাম কম্পিউটার পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২০ বছর একই অফিসে চাকরির পর অফিস সহকারী পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদে নিয়োগ পেয়ে খুলনার বাগেরহাট জেলায় যোগদানের কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে রংপুর অফিসেই বহাল থাকেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, গোপাল চন্দ্র মহন্ত গত প্রায় ৩১ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী কাজের বিল ছাড় করতে প্রতি সিডিউলে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি করে নিজস্ব পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই অনিয়মের পেছনে একই অফিসের প্রধান সহকারী মর্জিয়ানা বেগমের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে একই অফিসে কর্মরত। এছাড়াও শাহ আলম মন্ডল ও উচ্চমান সহকারী ইসারুল হককে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোন আইন বা বিধিমালার আওতায় গোপাল চন্দ্র মহন্ত, মর্জিয়ানা বেগম, ইসারুল হক ও শাহ আলম মন্ডল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই অফিসে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মতে, এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং রংপুর সামাজিক বন বিভাগ কার্যত একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। অভিযুক্তদের কর্মজীবনের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পাঠানোসা গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কুদ্দুস মন্ডলের ছেলে শাহ আলম মন্ডল ১৯৯৫ সালে রাঙ্গামাটিতে কাম কম্পিউটার পদে যোগদান করেন। পরে ২০০০ সালে বগুড়া সার্কেল হয়ে সরাসরি রংপুরে যোগ দেন এবং তখন থেকে প্রায় ২৬ বছর ধরে রংপুরেই কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে রাজশাহী জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে ইসারুল হক ১৯৯৫ সালে ফরিদপুর জেলায় ইউডিএ পদে চাকরি শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি রংপুরে যোগদান করেন এবং চলতি ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত আছেন। সরকারি চাকরিতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর পরপর বদলির বিধিমালা থাকলেও, নিরবচ্ছিন্নভাবে ২০ বছর বা তার বেশি সময় একই কর্মস্থলে চাকরি করার কোনো সুনির্দিষ্ট সাধারণ নিয়ম নেই। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরি করাকে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষ বদলি না করায় তারা একই কর্মস্থলে রয়েছেন এবং এতে তাদের কোনো ব্যক্তিগত দায় নেই। এ বিষয়ে রংপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বদলি করার ক্ষমতা নেই। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।” তবে গাছ লাগানো ও গাছের টেন্ডার সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সচেতন মহলের দাবি, রংপুর সামাজিক বন বিভাগে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বদলি নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগ না হলে দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0