Brand logo light

ঢাকা

শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারের আছে হাজার কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।
শাহ আলী মাজারে হামলা: মাদকবিরোধী অভিযান নাকি সম্পদ ও আধিপত্যের লড়াই?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরে শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) মাজারে সাম্প্রতিক হামলা ও সংঘর্ষ নতুন করে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মাজারকেন্দ্রিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের পুরোনো বাস্তবতা। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এক পক্ষের দাবি, মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ ছিল মূলত প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বা ধর্মীয় বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য, অনুসারী নিয়ন্ত্রণ এবং মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের বহুমাত্রিক সংঘাত। আধ্যাত্মিক কেন্দ্র থেকে অর্থনৈতিক বলয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে মাজার শুধু ধর্মীয় উপাসনাকেন্দ্র নয়; বরং এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছেও এসব স্থান সামাজিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের অংশ। মাজারপন্থিদের বিশ্বাস, শরিয়তের অনুশীলনের মধ্য দিয়েই সুফিরা আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জন করেন। জিকির, ধ্যান ও আত্মসংযম আত্মশুদ্ধির পথ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু মাজারে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, শিরকচর্চা এবং অপরাধী চক্রের প্রভাব বিস্তার করেছে। এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব বহু সময় সহিংস রূপও নিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও মাজারের প্রভাব দৃশ্যমান। বহু রাজনৈতিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে মাজার জিয়ারত করেন। ফলে মাজারকে ঘিরে বিরোধ এখন আর কেবল ধর্মীয় নয়; বরং তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। মাজারকেন্দ্রিক অপরাধ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কিছু মাজার এলাকায় মাদক গ্রহণ ও খুচরা মাদক বিক্রি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিপুল মানুষের সমাগম হওয়ায় বহিরাগতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযানের খবর পেলেই সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ পায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে মাজার এলাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অবৈধ অস্ত্র গোপন রাখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, নতুন সদস্য সংগ্রহ কিংবা চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি তাবিজ-কবজ, অলৌকিক চিকিৎসা কিংবা সমস্যা সমাধানের নামে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। জনসমাগমপূর্ণ পরিবেশের সুযোগে ছিনতাই, পকেটমার ও শিশু নিখোঁজের ঘটনাও মাঝে মধ্যে সামনে আসে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন অপরাধের দায় পুরো সুফি ঐতিহ্য বা সব মাজারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ঘিরে দ্বন্দ্ব শাহ আলী মাজারকে ঘিরে বিরোধের বড় একটি কারণ এর বিপুল সম্পদ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাজারের মোট জমির পরিমাণ ৩২ দশমিক ১৪ একর বা প্রায় ৯৭ দশমিক ৪০ বিঘা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ বিঘা ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত। এই সম্পত্তির ওপর গড়ে উঠেছে কাঁচামালের আড়ত, দোকান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান বরাদ্দ, ভোগদখল ও তদারকিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণও হাতবদল হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মাজারকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক বলয়কে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসী চক্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের প্রতিযোগিতা চলছে। ২০২২ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হওয়াও এই দ্বন্দ্বের গভীরতা নির্দেশ করে। ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ের আড়ালে কারা? মাজারে হামলার ঘটনাগুলোতে বারবার উঠে আসছে ‘তৌহিদী জনতা’ শব্দবন্ধ। বিশ্লেষকদের একটি অংশের দাবি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠিত হামলাকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করতে এই পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্নি মতাদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে মাজারে হামলার ঘটনা সামনে আসে। তার প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো? তার দাবি, একটি সংগঠিত গোষ্ঠী নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয় ব্যবহার করছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ঘটনাগুলোকে স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা যায়। মাদকবিরোধী অভিযানের যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ কেন আইন হাতে তুলে নেবে— সেই প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। ধর্মীয় মতাদর্শ বনাম প্রশাসনিক দায় ইসলামিক বুদ্ধিজীবী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান শাহসুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদীও মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, কোথাও শরিয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সহায়তায় তা বন্ধ করা উচিত; হামলা বা সহিংসতা কখনও সমাধান হতে পারে না। তিনি বলেন, কিছু স্থানে গাঁজা সেবন বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও সেগুলো দমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। একইসঙ্গে মাজারে শায়িত অলি-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান বজায় রাখাও জরুরি। জামায়াতের অস্বীকার, প্রশ্ন রয়ে গেছে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনও সম্পৃক্ততা নেই এবং একটি মহলউদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, কেবল অস্বীকার যথেষ্ট নয়। তার মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দুই বছরে ৬৮ মাজারে হামলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট ৬৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে মাজারকেন্দ্রিক হুমকি নিয়ে ৪০টি সাধারণ ডায়েরি এবং ২৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ছয়টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং ১২টি মামলা এখনও তদন্তাধীন। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, শাহ আলী মাজার হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে। হামলার কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের রাজনৈতিক পরিচয় যাচাই চলছে। সংঘাতের কেন্দ্রে মাজার, সম্পদ ও প্রভাব স্থানীয়দের মতে, শাহ আলী মাজারের ঘটনাকে শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাদকবিরোধী অভিযানের ফল হিসেবে দেখলে পুরো বাস্তবতা ধরা পড়বে না। এখানে জড়িয়ে আছে বিপুল ওয়াকফ সম্পত্তি, স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, ধর্মীয় মতাদর্শ এবং সামাজিক প্রভাবের জটিল সমীকরণ। ফলে প্রশ্ন উঠছে— মাজারকে ঘিরে চলমান এই সংঘাত কি কেবল ধর্মীয় মতভেদের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর গভীরে রয়েছে অর্থনৈতিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের বৃহত্তর লড়াই?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আজহা
বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে: জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে আগামী ২৮ মে, বৃহস্পতিবার দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করেন। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়-জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পর চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, যুগ্মসচিব ছাদেক আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম এবং স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামও সভায় অংশ নেন। চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট  শাখার ম্যানেজার ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপব্যবহার
সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সোনালী ব্যাংক  পিএলসি এর ফরিদপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও একটি সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বকালীন হিসাব পরিচালনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাখা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কার্যক্রমে অসহযোগিতা করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শকের নির্দেশনা অনুসরণ না করে শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি মামলার বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধ করতে হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব বন্ধ বা স্থগিত করা যায় না। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি পক্ষের প্রভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করেননি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ফিরোজার রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমি দুই পাতার লিখিত জবাব দাখিল করেছি। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।” ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ
কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

“ডিসি পদে ৮ কোটি”: প্রশাসনে নতুন বিস্ফোরণ, চসিকে তোলপাড় শীর্ষনিউজ: মেয়রের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করা, অধীনস্থ কর্মকর্তাদের যখন-তখন বদলি ও পদায়ন এবং ঊর্ধ্বতনের পদায়ন করা কর্মকর্তাকে এখতিয়ারের বাইরে বদলির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল আগেই আলোচনায় এসেছেন। এবার ফাঁস হয়েছে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে পদায়নের বিনিময়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া তাঁর ৮ কোটি টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারনামা। ১০০ টাকা মূল্যের ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা এই অঙ্গীকারনামা প্রকাশিত হওয়ার পর তোলপাড় চলছে প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে। শোকজে যা বলা হয়েছে এদিকে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এস এম সরওয়ার কামালকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। ১৩ মে উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নোটিশে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। শোকজ নোটিশে সরওয়ারের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার ডিসি পদে পদায়নে বিভাগীয় কমিশনারকে দেওয়া একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে এ-সংক্রান্ত প্রমাণাদি পাওয়ার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, “উপর্যুক্ত বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আপনি জনাব এস এম সরওয়ার কামাল (উপসচিব, আইডি নম্বর: ১৬২১৯) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত আছেন। আপনার বিরুদ্ধে ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে একটি অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। ০২। এমতাবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে ৮.০০.০০.০০০/-(আট কোটি) টাকার বিনিময়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারকে অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের কারণে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ এর নিকট লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোদ করা হলো।” আগে থেকেই বিতর্কিত ছিলেন সরওয়ার কামাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা, উপসচিব এস এম সরওয়ার কামালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত ২ এপ্রিল সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল আমিন লাইসেন্স শাখায় (সার্কেল-৬) উপ-কর কর্মকর্তা হিসেবে মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন ও মো. তৈয়বুর রহমান চৌধুরীকে একই শাখায় (সার্কেল-৮) এই পদায়ন করেন। কিন্তু নিম্নতম কর্মকর্তা হয়েও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল ৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতনের সেই আদেশ বাতিল করে দেন। একইভাবে সচিব মো. আশরাফুল আমিন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে অনুমতিপত্র পরিদর্শক হিসেবে আবদুল মতিন ও মো. ইকবালকে পদায়ন করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবার দুই কর্মকর্তাকে গত ৯ এপ্রিল সেখান থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে দেন। এই ধরনের পদক্ষেপে রাজস্ব শাখায় অস্থিরতা শুরু হলে রাজস্ব বিভাগে তিনটি বদলি আদেশ এক চিঠিতেই বাতিল করেন মেয়র। ১২ এপ্রিল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এসব বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। মেয়রের নির্দেশও উপেক্ষার অভিযোগ চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্র জানায়, কর্মকর্তা ঘাটতিতে থাকা রাজস্ব বিভাগে গতি আনতে সম্প্রতি ১৪ জন কর আদায়কারীকে উপ-কর কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন মেয়র। এর আলোকে ১৪ জনকে বাছাই করে কাকে কোন কর অঞ্চলে বদলি করা হবে, তার একটি তালিকা ঠিক করে দেন মেয়র নিজে। কোন উপ-কর কর্মকর্তাকে কোন ওয়ার্ডে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামাল মেয়রের সেই নির্দেশনা না মেনে নিজের ইচ্ছেমতো আবার একেকজনকে একেক কর অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন। এ ক্ষেত্রে মেয়রের নির্দেশনাও অমান্য করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অবস্থায় বিষয়টি যাচাই করে মেয়র এক চিঠিতেই সব বদলি আদেশ বাতিল করেন।   প্রশাসনে নতুন প্রশ্ন সরকারি প্রশাসনে পদায়নকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সরাসরি লিখিত অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে কোটি টাকার প্রতিশ্রুতির অভিযোগ সামনে আসা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ও পদায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের শোকজ নোটিশ প্রশাসনের ভেতরে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রভাব বিস্তার এবং পদ বাণিজ্যের অভিযোগকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী
পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সেলিম মাহমুদ, যিনি স্থানীয়ভাবে “সানি” নামে পরিচিত, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিলাসবহুল ব্যবসা ও একাধিক সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরে ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট পদে যোগ দেন সেলিম মাহমুদ। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিয়াটি ইউনিয়নের কুষ্টিয়া গ্রামে। এলাকাবাসীর দাবি, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে তার জীবনযাত্রা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের কাজল কমপ্লেক্সে “দ্য জেন্টলম্যান” নামে একটি অভিজাত সেলুন পরিচালিত হচ্ছে, যার সঙ্গে সেলিম মাহমুদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে একটি কসমেটিকস ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবসাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে এসব প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন অংশীদার থাকলেও সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন সেলিম মাহমুদ। সম্প্রতি প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে এক অংশীদারের শেয়ার কিনে নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম মাহমুদ প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা বাড়ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেলিম মাহমুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। সম্পাদক পদে একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচনে মোট ৪ হাজার ৪৮টি ভোট পড়েছে। ১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচনে দুটি সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহসম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী। অন্যদিকে, সাতটি সদস্য পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল। ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ নির্বাচনের ফলাফলকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী অঙ্গনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, আইনি প্রক্রিয়ায় জরিমানার পরিবর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট, যার মাধ্যমে প্রতিদিন হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের আলোচনা থাকলেও বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন ও সিআই সালাউদ্দিনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলছে। স্টেশনের ২ নম্বর গেটে নিয়মিতভাবে সাদা পোশাকে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে রয়েছেন পয়েন্টম্যান জাহাঙ্গীর, কাশেম ও রুবেল, পাশাপাশি পোর্টার লিটন ও সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কিছু সদস্যও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেন থেকে নামার পর টিকিট তল্লাশির নামে যাত্রীদের আটকানো হয়। কারও কাছে টিকিট না পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী মামলা বা সরকারি জরিমানার রসিদ দেওয়ার পরিবর্তে জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে আলাদা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকটি ঘটনায় শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পরে রসিদ ছাড়াই অর্থ নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টিকিট পরীক্ষক (টিটি ও টিসি) এবং আরএনবি সদস্যদের একটি অংশের যোগসাজশে এই অর্থ আদায় চলছে। অথচ বিনা রসিদে অর্থ নেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। একজন যাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রেল সাধারণ মানুষের পরিবহন। কিন্তু এখানে সেবা পাওয়ার বদলে অপমান আর ভয়ভীতি সহ্য করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব জানেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই।” রেল খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এমন অনিয়ম অব্যাহত থাকলে যাত্রীসেবার মান আরও অবনতি হতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সাধারণ যাত্রীদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে টিকিট তল্লাশি ও জরিমানা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
তারেক রহমান
ইসির ৪৯৩ কোটি টাকার সার্ভার স্টেশন প্রকল্প ফেরত, এক ভবনে সব সরকারি সেবা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প ফেরত দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ একনেক সভায় উপস্থাপন করলেও তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস ভবন, ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া মেট্রোপলিটন থানাগুলোর জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস কেনার কথাও উল্লেখ করা হয়। ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর যে বিশাল জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে, সেটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে অধিকাংশ উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও ভূমি জটিলতা ও নতুন উপজেলা গঠনের কারণে এখনও অনেক স্থানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা ছিল। শুধু ভবন নির্মাণ নয়, প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র ও আধুনিক কম্পিউটার সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া সম্ভব হতো। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম, ব্যালট বাক্সসহ বিভিন্ন নির্বাচনি সরঞ্জাম নিরাপদে সংরক্ষণের অবকাঠামো তৈরি হতো। তবে একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে আলাদা আলাদা সরকারি দপ্তরের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের পরিবর্তে একটি সমন্বিত বহুমুখী সরকারি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা উচিত, যেখানে সব দপ্তর একই ছাদের নিচে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, এতে সরকারি জমির সাশ্রয় হবে, ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষকে সেবা পেতে এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ঘুরতে হবে না। নাগরিকরা একই ভবনে সব সরকারি সেবা পেলে জনভোগান্তিও কমবে। নির্বাচন কমিশনের ডেটা সেন্টারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার কেন বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকবে—কখনও আইসিটি ভবনে, কখনও নির্বাচন কমিশনে। এর পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট, সমন্বিত ও উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থানে ডেটা সেন্টার পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম জানান, প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটির বেশি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা বাড়বে এবং ডিজিটাল নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে গাজীপুর সদর, লৌহজং, সালথা, টুঙ্গীপাড়া, আশুগঞ্জ, সেনবাগ, সন্দ্বীপ, ঈদগাঁও, দক্ষিণ সুরমা, শান্তিগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় অবকাঠামো নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
মোবাইল টাওয়ার
মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ: বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা প্রতিবেদন চাইল হাইকোর্ট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ নির্দেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের কারণে মানুষ, পশু-পাখি ও গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রুল নিষ্পত্তি করে আদালত একটি রায় দেন। সেই রায়ে ক্ষতিকর বিকিরণের মাত্রা কতটা কমানো সম্ভব, তা নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালতপাড়া ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিরুৎসাহিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার
মাদারীপুর এলজিইডিতে শতকোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ: টেন্ডার কারসাজিতে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার

মাদারীপুর এলজিইডিতে ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ: শতকোটি টাকার অনিয়মে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদারীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঘিরে আবারও বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলার সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে একটি বড় সরকারি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) বাবুল আখতারের বিরুদ্ধে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, অতিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিশেষ করে করোনাকালীন সময়কে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে শতকোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরেও আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে কোটি কোটি টাকা বেশি ব্যয় অভিযোগ অনুযায়ী, শিবচর উপজেলার অধীনে দরপত্র আইডি ৫৮৯৬৪৫-এর আওতায় আড়িয়াল খাঁ ব্রিজ থেকে বাবলাতলা বাজার এবং শিবচর সদর থেকে রাজৈর ভায়া উত্রাইল জিসি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে ২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই কাজটি পায় মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনাল। অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা প্রায় ৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি নির্মাণকাজে সাধারণত দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কম দরে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু এখানে উল্টো অতিরিক্ত মূল্যে কার্যাদেশ দেওয়াকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একই দরপত্রের আরেকটি প্যাকেজেও ২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রাক্কলনের বিপরীতে প্রায় ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দিয়ে সরকারের প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সেতু নির্মাণ প্রকল্পেও একই অভিযোগ শিবচরের বিভিন্ন সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে দরপত্র আইডি ৫৬০৫০৫-এ প্রায় ১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকার কাজেও একই প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি দামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এছাড়া আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলায় প্রায় ২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে ‘ভুয়া প্রাক্কলন’ তৈরি করে অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ওই কাজটি মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাকালীন লকডাউনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ছোট প্রকল্পেও ‘উচ্চ দর’ কৌশল অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে— দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৫ (প্যাকেজ ২২৮)-এ ৪.৯৩ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স পাভেল এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩২৯ (প্যাকেজ ৩০৮)-এ ৪.৯৫ শতাংশ বেশি দামে হাবিবা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩১৬০৬৯ (প্যাকেজ ২৭৮)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মোহাম্মদ ফারুক মিয়াকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ২৬২৯৭৬ (প্যাকেজ ২১৪)-এ ৪.৯৭ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স হামীম ইন্টারন্যাশনালকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৮৩৩০ (প্যাকেজ ৩০৯)-এ ৯.৪৯ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স আতাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দরপত্র আইডি ৩৩৩২০০ (প্যাকেজ ২৮০)-এ ৯.৭২ শতাংশ বেশি দামে মেসার্স মাদবর ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ এছাড়া কয়েকটি এইচবিবি ও ড্রেনেজ প্রকল্পেও প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত দরে কার্যাদেশ দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ‘সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের’ অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাবুল আখতার তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন। একাধিক প্রকল্পে একই ধরনের উচ্চ দর অনুমোদনের ঘটনায় পরিকল্পিত যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, করোনাকালীন সময় প্রশাসনিক নজরদারি দুর্বল থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লুটপাট করা হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের দাবি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়া, প্রাক্কলন অনুমোদন, কার্যাদেশ প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক নথিপত্র স্বাধীনভাবে নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। অভিযুক্ত বাবুল আখতারের বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৩, ২০২৬ 0
আব্দুল লতিফ
এনবিআরের কর্মচারী আব্দুল লতিফের বিপুল সম্পদ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান

এনবিআরের এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধানে যা জানা যাচ্ছে ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মচারীর বিপুল সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, কর অঞ্চল-১৪–এ কর্মরত উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ কিছুদিন আগেও একই দপ্তরে পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি উচ্চমান সহকারীর দায়িত্ব পান। তবে তার বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যার বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাতুয়াইলের রহমতপুর এলাকায় আব্দুল লতিফের একটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এবং মাতুয়াইল নিউ টাউন এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার তথ্যও পেয়েছে দুদক। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় বিভিন্ন আবাসিক ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এদিকে, তদন্ত শুরুর আভাস পাওয়ার পর আব্দুল লতিফ ঢাকার কয়েকটি ফ্ল্যাট দ্রুত বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন করে জমি কিনছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দুদকের নজরে আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। দুদকের উপপরিচালক ফাতেমা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, “মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি অনুসন্ধান করছি। তদন্তে অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি এনবিআর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ছাড়া এমন সম্পদ গড়ে তোলা কঠিন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
৫০০ কোটির ভবনবিলাস
৫০ কোটি থেকে ৫০৪ কোটি: আশুলিয়ায় জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্পে গবেষণার চেয়ে ভবন নির্মাণেই জোর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাভারের আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকায় ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়ে সারি সারি ঝকঝকে সুউচ্চ ভবন। কাচঘেরা আধুনিক স্থাপনা, প্রশস্ত রাস্তা, গোলাকার লাইটপোস্ট, সাজানো বাগান আর আকাশছোঁয়া আবাসিক টাওয়ার—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন কোনো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নগরী বা বিদেশি গবেষণা কমপ্লেক্সের অংশ। কিন্তু মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। বিশাল সব ভবন দাঁড়িয়ে আছে, অথচ নেই মানুষের আনাগোনা। আধুনিক আবাসিক টাওয়ার আছে, কিন্তু সেখানে বসবাসের কেউ নেই। কোটি কোটি টাকার লিফট, ডরমিটরি, কোয়ার্টার ও অফিস ভবন যেন ব্যবহারের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জিন গবেষণার নামে নির্মিত জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন প্রশ্নের মুখে—এটি কি সত্যিই গবেষণা অবকাঠামো, নাকি “ভবন নির্মাণকেন্দ্রিক” একটি প্রকল্প? ছোট প্রকল্প থেকে ‘মেগা অবকাঠামো’ পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) ২০১৮ সালে “জাতীয় জিন ব্যাংক” প্রকল্প হাতে নেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের জিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণা। দেশের জিনগত সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই ছিল এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রকল্পটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরের। প্রায় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে একটি কার্যকর জিন ব্যাংক স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে একের পর এক অবকাঠামো যুক্ত হতে থাকে। ল্যাব ভবনের সঙ্গে যোগ হয় কর্মকর্তাদের আবাসিক টাওয়ার, স্টাফ কোয়ার্টার, ভিআইপি ডরমিটরি, পরিচালক বাংলো, সাবস্টেশন ও অন্যান্য স্থাপনা। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫০৪ কোটি টাকায়। প্রশ্ন উঠেছে—একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য এত বিপুল আবাসিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল? গবেষণার চেয়ে বেশি ‘রিয়েল এস্টেট’? সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এনআইবির মূল ভবনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ১২ তলা জাতীয় জিন ব্যাংক ও ল্যাব ভবন। চকচকে দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা—“জাতীয় জিন ব্যাংক”। ভবনের সামনে ছোট ছোট ঝাউগাছ ও পামগাছ দিয়ে সাজানো বাগান। দূর থেকে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্র বলেই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ল্যাব ভবনের পাশেই রয়েছে কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলা ও ১০ তলা আবাসিক ভবন। কিছুটা দূরে ২০ তলা ও ১০ তলার বিশাল স্টাফ কোয়ার্টার। আরো রয়েছে ১০ তলা ভিআইপি ডরমিটরি এবং আলাদা পরিচালক বাংলো। তবে এসব ভবনের বড় অংশই এখনো কার্যত জনমানবশূন্য। বারান্দাগুলো ফাঁকা, করিডরে নেই মানুষের শব্দ, আবাসিক ভবনের সামনে নেই কোনো দৈনন্দিন জীবনের চিহ্ন। স্থানীয়দের কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, “জিন ব্যাংকের নামে আসলে জ্বিনের আবাসস্থল বানানো হয়েছে।” ভবন আছে, নেই জনবল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি। মূল কারণ—প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব। ডিপিপি অনুযায়ী, জাতীয় জিন ব্যাংক পরিচালনার জন্য ২৫৪ জন জনবলের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিন ধাপে ৫৮টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দেয়, যার মধ্যে ৩১টি পদ ছিল জিন ব্যাংকের বিভিন্ন ডিভিশনের জন্য। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৬ জুন অর্থ বিভাগ সেই সংখ্যা কমিয়ে দুই ধাপে ৪৪টি পদ অনুমোদন করে। তবে এখনো সেই ৪৪ জন নিয়োগেরও ছাড়পত্র মেলেনি। ফলে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এনআইবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট জনবল ৮৬ জন। এর মধ্যে কর্মকর্তা ৫৫ জন এবং কর্মচারী ৩১ জন। অথচ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ১৮০ জনের জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়, বাস্তবে এত আবাসনের প্রয়োজনই ছিল না। কেন খালি পড়ে আছে আবাসিক টাওয়ার? এনআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আশপাশে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়া যায়। ফলে সরকারি কোয়ার্টারে উঠতে অনেকে আগ্রহী নন। কারণ সরকারি আবাসনে থাকলে বেতন থেকে যে পরিমাণ ভাড়া কাটা হয়, বাইরে তার চেয়েও কম খরচে বাসা ভাড়া পাওয়া সম্ভব। তাঁদের মতে, জিন ব্যাংকের জন্য একটি আধুনিক গবেষণা ভবনই যথেষ্ট ছিল। মূল প্রয়োজন ছিল গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া তরুণ গবেষকদের জন্য গবেষণার সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে গবেষণার চেয়ে ভবন নির্মাণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায় নিচ্ছে না কেউ অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকল্প তৈরির সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। প্রকল্প প্রণয়নের সময় এনআইবির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ছিলেন ড. মো. সলিমুল্লাহ। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় করেছে; আমরা শুধু বাস্তবায়ন করেছি।” অন্যদিকে এনআইবির বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবনগুলোর “সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে” সরকারের উচ্চ পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলই নিশ্চিত হয়নি, সেখানে শত শত কোটি টাকার আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণের যৌক্তিকতা কী ছিল? জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন তাই শুধু একটি গবেষণা উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নেসকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ
নেসকোতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেসকো’র নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচি । বরাজশাহী ভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানব সম্পদ উন্নয়ন) আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব এ. জে. এম. এরশাদ আহসান হাবিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নেসকোতে চলমান বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলি কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, লিখিত পরীক্ষার মাত্র এক দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করে ২১৭ জনকে ভাইভার জন্য ডাকা হয়, যা নিয়ে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার চুক্তি করা হয়েছে। এছাড়াও বদলি বাণিজ্য, পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং অপছন্দের কর্মকর্তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলির অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উৎকোচের বিনিময়ে পদায়ন ও বদলির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ নিয়মিত দরপত্র ছাড়াই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠজনদের ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বলা হয়, রাজশাহীতে বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট ও জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প ও উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চলমান সাব-স্টেশন অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
উত্তর সিটিতে যাচ্ছে বসুন্ধরা
বসুন্ধরা আবাসিকে ২২২ বিঘা সরকারি জমি শনাক্ত, উত্তর সিটির নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে বসুন্ধরার নাগরিক সেবা

বসুন্ধরায় সরকারি জমির সন্ধান: কার নিয়ন্ত্রণে যাবে ঢাকার সবচেয়ে সুরক্ষিত আবাসিক প্রকল্প? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার অন্যতম পরিকল্পিত ও অভিজাত আবাসিক এলাকা বসুন্ধরা। তিন দশকের বেশি সময় ধরে এটি পরিচালিত হয়েছে বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু এবার সেই প্রকল্প ঘিরেই সামনে এসেছে বড় ধরনের ভূমি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের ভেতরে প্রায় ২২২ বিঘা সরকারি জমি রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকার নাগরিক সুবিধা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সরকারি নথি, রাজউকের অনুমোদনপত্র, জিআইএস ডাটাবেস ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সারসংক্ষেপ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদিত সীমানা ও বাস্তব দখলের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য। অনুমোদিত জমি বনাম বাস্তব দখল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ৩ হাজার ৩১৪ দশমিক ৮৯ একর জমির অনুমোদনের নথিপত্র পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাড্ডা, ভাটারা, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্ভুক্ত ৯টি মৌজায় ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০৪ দশমিক ৪০ একর জমি। অর্থাৎ অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত জমি প্রকল্পের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে সরকারি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ দশমিক ১৮ একর জমিকে “সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, প্রকল্প এলাকার মোট জমির পরিমাণ ১০ হাজার ২১৩ বিঘার বেশি। এর মধ্যেই রয়েছে সরকারের প্রায় সাড়ে ২২২ বিঘা জমি। কীভাবে সামনে এলো বিষয়টি? গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনা শুরু হয়। এরপর মন্ত্রণালয় ও রাজউকের যৌথ টিম প্রকল্প এলাকার নথি, জিআইএস ম্যাপ, অনুমোদিত লে-আউট এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে। সেই অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপ গত ৫ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিষয়টি গণপূর্তমন্ত্রী পর্যালোচনা করেছেন এবং মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য সম্মতি দিয়েছেন। ডিএনসিসির নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে নাগরিক সুবিধা সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভেতরের রাস্তা, ড্রেনেজ, নাগরিক অবকাঠামো ও সংরক্ষিত সুবিধাসমূহ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজউক ইতোমধ্যে ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে চিঠি দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে, অনুমোদিত লে-আউট অনুযায়ী নাগরিক সুবিধার জন্য সংরক্ষিত জমি দ্রুত ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এমনিতেই ডিএনসিসির অধীনে রয়েছে। খাস জমি উদ্ধার শুধু বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেই নয়, সারা দেশেই করা হবে। যা হবে, সব আইনগতভাবেই হবে।” বাসিন্দাদের জন্য কী বদল আসতে পারে? বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক ব্যবস্থাপনা বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ, প্লট-ফ্ল্যাট হস্তান্তর ফি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষও ছিল। সরকার এখন সেই কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে চাইছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট যে ফি আদায় করে, তা বাতিল বা পুনর্বিবেচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালের অনুমোদন, ২০১৬ সালের চূড়ান্ত ছাড়পত্র সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর কিছু শর্তে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের লে-আউট অনুমোদন দেয় রাজউক। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২১ জানুয়ারি প্রায় ৯ হাজার ৯০৫ বিঘা জমির ওপর (সরকারি জমি বাদে) প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সর্বশেষ জমা দেওয়া ম্যাপ ও জিআইএস ডাটাবেস বিশ্লেষণে সরকারি জমির উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত জমি অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কোন কোন এলাকা এখন ডিএনসিসির আওতায়? আগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ভাটারা, বেরাইদ ও ডুমনি ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে জোয়ার সাহারা, ভাটারা, বড় বেরাইদ, ডুমনি, বড় কাঠালদিয়া ও পাতিরা মৌজাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সীমানাভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ডিএনসিসি এখন আইনগতভাবে কর আদায়, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধামুক্ত। ঢাকার ‘প্রাইভেট সিটি’ মডেলের সামনে নতুন বাস্তবতা ২০টি ব্লকে বিভক্ত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বর্তমানে ৩৫ হাজারের বেশি প্লট রয়েছে। এখানে রয়েছে একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, হাসপাতাল ও আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে এটি কার্যত একটি “প্রাইভেট সিটি” মডেলে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সরকারি জমি শনাক্তকরণ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সেই কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে— সরকার কি শুধু খাস জমি উদ্ধারেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বসুন্ধরার পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেই নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ফোরকান
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজন হত্যা: স্বামী ফোরকান প্রধান আসামি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ফোরকান মিয়াকে (৪০) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে শনিবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতরা কারা নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাদের তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (১৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, প্রায় ১৬ বছর আগে ফোরকানের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে হয়। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শুক্রবার রাতে খাবারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়। পরে গভীর রাতে স্ত্রী শারমিনকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় তিন মেয়ে ও শ্যালক রসুল মিয়াকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া একটি হাতে লেখা ‘অভিযোগপত্র’ রেখে পালিয়ে যান। অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে ঘটনাস্থলে পাওয়া ওই লেখায় ফোরকান দাবি করেন, তার স্ত্রী কয়েকজনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন। এছাড়া স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জমি কিনে আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়, গত ৩ মে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করেছিলেন। তবে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লেখা ওই অভিযোগপত্রে কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ধরনের কোনো অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি বলেও জানা গেছে। পুলিশের বক্তব্য কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, “শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।” তিনি জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
স্ত্রীকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে ১৪ মাস আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মুরাদ হোসেন (৩৬)।
সৌদি ফেরার আগেই মৃত্যু: ১০ মাসের ছেলেকে আর দেখা হলো না রাজবাড়ীর মুরাদের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মুরাদ হোসেনের স্বপ্ন ছিল কুরবানির ঈদে দেশে ফিরবেন। ১৪ মাস আগে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় স্ত্রী ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো ছেলেকে বুকে তুলে নেবেন—এমন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ১৭ দিন পর শনিবার ভোর সাড়ে ৪টায় মুরাদের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। এরপর সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়িতে মরদেহ নেওয়া হলে শোকের মাতম নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ। মুরাদের মামাশ্বশুর মো. লুৎফর রহমান বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার চার মাস পর মুরাদের ছেলে রাফির জন্ম হয়। এবার ঈদে দেশে ফিরে সন্তানকে নিজের হাতে কোলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। “বিমানবন্দরে ছেলেকে কোন রঙের পাঞ্জাবি পরিয়ে নিতে যাবে, সেটাও স্ত্রীকে বলে দিয়েছিল,” বলেন তিনি। তবে সেই অপেক্ষার অবসান হলো মরদেহ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মুরাদের কাছে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ওই টাকা দিয়ে আকামা করার কথা ছিল তার। কিন্তু দুর্ঘটনার পর সেই টাকার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্বজনদের ভাষ্য, বিদেশে যাওয়ার সময় আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ধার করেছিলেন মুরাদ। জীবিত অবস্থায় সেই ঋণ পরিশোধও করতে পারেননি। মুরাদের বড় ভাই মোস্তফা শেখ জানান, পরিবারের দায়িত্ব এখন পড়ে গেছে তার স্ত্রী আন্জুয়ারার ওপর। পরিবারে রয়েছে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া বড় মেয়ে মাইশা, প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে মেহেরীমা এবং ১০ মাস বয়সী ছেলে রাফি। শনিবার বেলা ১১টায় গ্রামের দুদুখানপাড়া জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুরাদ হোসেন (৩৬)।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
মব সহিংসতা ও কিশোর গ্যাং দমনে কার্যকর ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শনিবার (৯ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১০ মে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরেছে।” তিনি আরও বলেন, জনগণ এখন এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রত্যাশা করে যেখানে গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না এবং মানুষ জানমাল, অবিচার বা নির্যাতনের শঙ্কামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে। এই পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। “জনগণের আস্থা ছাড়া পুলিশের কাজ কঠিন” প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই। তবে জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে পুলিশের দায়িত্ব পালন আরও সহজ হবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, পুলিশ সপ্তাহ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জনগণের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার বিবৃতিতে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার একটি “সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে মানুষের মনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।” নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপযোগী ও অনুকূল পরিবেশ পেলে পুলিশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম—সাম্প্রতিক নির্বাচন সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের উল্লেখ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। “জননিরাপত্তায় বিনিয়োগ অপরিহার্য” প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতি একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এজন্য পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
সিসি ক্যামেরা
ঢাকায় ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ডিএমপি, টার্গেটে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীতে জননিরাপত্তা জোরদার এবং কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাই প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই দমনে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বসিলায় নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়েছে এবং আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, বর্তমানে ঢাকায় মোট ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৭১০টি এবং বিভিন্ন সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা। তিনি বলেন, নতুন করে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ টিম পাঠানোও সহজ হচ্ছে। ডিএমপি জানিয়েছে, জাতীয় দিবস, বড় অনুষ্ঠান ও উৎসবকে ঘিরেও অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্লক রেইড, নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ দমনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে সিসি ক্যামেরা প্রযুক্তি রাজধানীর যানজট ব্যবস্থাপনাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেছে ডিএমপি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ১০ বছরের সমঝোতা চুক্তি
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নতুন মাদকবিরোধী চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও যৌথ অভিযান জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার, অপব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নতুন সহযোগিতা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির আওতায় মাদক পাচার, সাইকোট্রপিক পদার্থের অপব্যবহার এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার রোধে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ। সমঝোতা অনুযায়ী, মাদক পাচারের নতুন কৌশল, রুট এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্র সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে। এছাড়া যৌথ গোয়েন্দা অভিযান ও ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’ পরিচালনায়ও পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং গবেষণালব্ধ তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে লুকানো মাদক শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্নিফার ডগ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবে দুই দেশ। চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের অ্যান্টি নারকোটিকস ফোর্স (এএনএফ) নির্ধারিত ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া আদান-প্রদান করা সব তথ্য ও নথির গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। স্বাক্ষরের দিন থেকে এই সমঝোতা ১০ বছর কার্যকর থাকবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্মতিতে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো যাবে। দুই দেশের মতে, এ উদ্যোগ মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
দুদক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ কেলেঙ্কারি: ৪০ কোটি টাকার ঘুষ অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অন্তত ৪০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জড়িত থাকার আশঙ্কায় রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদীসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চলমান অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  নথি তলবেও অনীহা অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট নথি চেয়ে নোটিশ দিলেও প্রথমে সাড়া দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে শেষ নোটিশ পাঠানো হলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হয়। দুদকের আইনের ১৯(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।  দুদকের অবস্থান দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, “অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে। এরপর অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।” নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অভিযোগের সূত্র করোনাভাইরাস মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ১৮০০ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ঘুষের বিনিময়ে অন্তত ১৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০২৪ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।  অনুসন্ধানের পরিধি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম নিম্নোক্ত নথিপত্র যাচাই করছে: আবেদনপত্র প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার হাজিরা শিট মূল্যায়িত উত্তরপত্র ভাইভা পরীক্ষার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফল নিয়োগপত্র সম্ভাব্য বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন  এসব নথি বিশ্লেষণে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0