ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান, তার মা হাফসা আখতার এবং ভাই স্বাধীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা জেলার একটি মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে তাদের আশুলিয়া মডেল থানায় নেওয়া হলে সেখানে বিপুল সংখ্যক উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিয়া খান তার মা ও ভাইয়ের সহায়তায় বিভিন্ন উঠতি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে অর্থ আদায় করতেন। এ ধরনের অন্তত ৪২টি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করে নতুন ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করতেন। সম্পর্ক স্থাপনের পর তা ব্যবহার করে মামলা ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করাই ছিল তাদের মূল কৌশল। আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও নারী হওয়ায় অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে সাহস পাননি। তিনি আরও জানান, নেত্রকোনার আকপাড়া থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে আশুলিয়ায় পৌঁছেছেন। এদিকে আকপাড়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই মামলার বাদী তমা আক্তার। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়া খান, তার মা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই থানায় তাদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব রাজধানী ঢাকায় চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ, মহাখালী, মৎস্য ভবন, বাড্ডা, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইনের দীর্ঘতা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। অনেকে জানিয়েছেন, দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, অফিস যাতায়াত এবং জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। চালকরা অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। পাম্পে তেল মজুত থাকলেও বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ কম নয়। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা এবং ‘ফুল ট্যাংক’ করার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের জন্য সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মেরুল বাড্ডার মেরুল বাড্ডা ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রাইড শেয়ারিং চালক মাসুদ করিম রেজা বলেন, “বাইকের চাকা ঘুরলে ইনকাম, না ঘুরলে না খেয়ে থাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দিন চলে যায়।” রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে ব্যাংক কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আজ তেল নিতেই হবে। কাল অফিস খোলা, তখন লাইনে দাঁড়ালে অফিসে দেরি হবে।” পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হলেও কিছু ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষও তেল মজুত করছে। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মগবাজার, রমনা, তেজগাঁও, মহাখালী, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র চোখে পড়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল। কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না। বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মা নবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬। বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির টিনশেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে শনিবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও চারটি ইউনিট যোগ দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। আহত বা নিখোঁজের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, আগুন লাগার পর আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করেন, এর আগেও একই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও কারখানাটি বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে রুম্পা সিকদার নামে এক জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সহকারী সচিবকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। লঘুদণ্ড হিসেবে তাঁর বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রুম্পা সিকদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটির ইউএনও থাকার সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের ৩০২টি ঘরের মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তাঁর দায়িত্বকালে অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও সভাপতি হিসেবে সে অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত না করে তিনি কাজে চরম অবহেলা দেখান। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। এতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও রুম্পা সিকদার নলছিটি থেকে বদলির সময় এই টাকা সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী কাগজে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকার চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার প্রমাণ ও তা দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এখানে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিষয় বিবেচনায় রুম্পা সিকদারকে দুই বছরের বেতন স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় এগুলো ১২ এপ্রিলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৩০ দিনের মধ্যে তা পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। ১২ মার্চ সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ায় সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল। কেন সংসদে তোলা হচ্ছে না? জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, এই ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমান অবস্থায় পাস করার মতো উপযুক্ত নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী— এগুলো এখনই বিল আকারে না এনে আরও যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী ও সংশোধিত আকারে পুনরায় উপস্থাপন করা হবে এতে স্পষ্ট যে, আইনগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও নীতিগত দ্বিধা রয়েছে। আইনগত শূন্যতার ঝুঁকি এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে— গুম প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা মানবাধিকার সুরক্ষা কাঠামো দুর্নীতি দমন ব্যবস্থার সংস্কার রাজস্ব ও করনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, “একই সঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।” ভিন্নমত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ কমিটির রিপোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’। জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ১২টি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তাদের আপত্তি— অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতি এটি ইঙ্গিত দেয় যে, আইন প্রণয়নের এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে। ১৩৩ অধ্যাদেশের বড় চিত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে— ৯৮টি সরাসরি পাসের সুপারিশ ১৫টি সংশোধন করে বিল আনার প্রস্তাব ৪টি বাতিলের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ অর্থাৎ, পুরো আইন কাঠামোই এখন পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাতিলের তালিকায় থাকা অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাওয়া ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬। মূল প্রশ্নগুলো এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— কেন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সময়মতো সংসদে তোলা হলো না? সরকারের ভেতরে কি নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে? আইনগত শূন্যতা তৈরি হলে দায় কে নেবে? নতুন বিল কবে নাগাদ আসবে? সামনে কী? ১২ এপ্রিলের পর যদি অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যায়, তবে— সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নতুন করে বিল আনতে হবে পুরো আইন প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে এতে সময়, প্রশাসনিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়বে এই পরিস্থিতি শুধু আইন নয়, দেশের শাসন কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব আবারও উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের হামের উপসর্গ ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নতুন করে ৬৮৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৫৮৫ জন, যার মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২৬ জন। এদিকে, নতুন করে চারজনের মৃত্যুর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, এই সময়ে মোট ২ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৩০ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আলোচিত রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার পর হঠাৎ তার গা ঢাকা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই তিনি হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা, ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি এবং নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এসব অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নাওড়া এলাকার স্থানীয়রা বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সে এলাকায় নেই। আমরা শুনতেছি, সে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। এখনই যদি তাকে আটক না করা হয়, তাহলে সে পালিয়ে যাবে এবং আমরা আর বিচার পাবো না। ভুক্তভোগী এক পরিবার জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে তারা হতাশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে বিচার পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তিনি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, রফিক প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে এ বিষয়টি আমি খবর নিচ্ছি। সে যেহেতু আসামি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রগণ করা হবে। আসামি কোনোভাবেই প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে পারবে না। আসামির জামিন নিতে হবে নয়তো বা গ্রেফতার হতে হবে। সে জামিনে আছে কি না আমার জানা নেই। যদি প্রকাশ্যে ঘুরে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে যাবো। ।
ঢাকা, ২ এপ্রিল: দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। এখন থেকে দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব মোকাবিলায় এবং সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয় উদ্যোগকে সহযোগিতা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের সব দোকান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ থাকবে। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডস্থ তথ্য ভবনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এর মহাপরিচালকের কক্ষে শর্টফিল্ম প্রকল্পের অর্থ বণ্টনকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সরকারি ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ দেখা গেলেও তা দ্রুত মুছে ফেলা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার বিবরণ সোমবার সন্ধ্যার পর ডিএফপির মহাপরিচালকের কক্ষে বৈঠকের সময় হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কয়েকজন নেতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে ক্যামেরাম্যান সোহাগ মশিউরের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে জোর করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার স্বজনরা এসে বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ২০টি শর্টফিল্ম নির্মাণের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে— প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ম ভেঙে অনানুষ্ঠানিকভাবে বাইরের ব্যক্তিদের দেওয়া হয় বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেক তুলে সেই অর্থ অন্যদের কাছে হস্তান্তরের চাপ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পন্ন না হলেও আগাম অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪টি শর্টফিল্ম জমা পড়েছে, যার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনিয়মের ধরণ: শর্টফিল্মের বিল ইস্যু করা হয় ডিএফপির ক্যামেরাম্যানদের নামে চেকও তাদের নামে প্রদান করা হয় পরে সেই অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই অগ্রিম ও পূর্ণ অর্থ আদায়ের চেষ্টা জানা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ না হলেও অর্থের বড় অংশ ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০টি শর্টফিল্মের মধ্যে মাত্র ৪টি জমা পড়েছে, যা মানসম্মত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সূত্রপাত সোহাগ মশিউরের দাবি, কাজ ও হার্ডড্রাইভ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বাকি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, “আমাকে ফোনে ডেকে এনে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমি অস্বীকৃতি জানালে মারধর শুরু হয়।” প্রশাসনের অবস্থান ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম পুরো ঘটনার দায় সোহাগ মশিউরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। আহতের বিষয়ে তিনি বলেন, “তার শারীরিক সমস্যা আছে,”—যা ভুক্তভোগীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না। গুরুতর প্রশ্ন এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— সরকারি অর্থ বণ্টনে অনিয়ম কেন ও কীভাবে হলো? প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম লঙ্ঘনের দায় কার? প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা কীভাবে এতে সম্পৃক্ত হলেন? তদন্তের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংঘর্ষ নয়; বরং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর বিভ্রাটের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনকে জনস্বার্থে ঢাকার ই/এম বিভাগ-১২-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। তাকে ২ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে উদ্বোধনী দিনেই সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোনে ত্রুটির কারণে অধিবেশনে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই এ ধরনের ঘটনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর ১৪ মার্চ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের ফল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ মার্চ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল এ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজকে ফিরে আসার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলো দেশে ফিরিয়ে আনতে ইরান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাহাজে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে কিছুটা অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়ে আরও স্পষ্ট নিন্দা জানানো উচিত ছিল। রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ। কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।” মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা, ১ এপ্রিল ২০২৬: লিবিয়া থেকে ১৭৫ জন বাংলাদেশি দেশে প্রত্যাবাসিত হচ্ছেন। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে বুধবার তারা ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন। এসময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিবাসীরা তাদের লিবিয়ায় দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির কথা উল্লেখ করেন। কেউ কেউ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানান। রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি ভবিষ্যতে কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না আসে, সেজন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ এলাকায় তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করার পরামর্শ দেন। তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও জাতীয় ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া রাষ্ট্রদূত দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত অভিবাসীদের দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়া স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী ও আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
১৪টি জেলা পরিষদে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর আওতায় এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদের স্বাক্ষরে জারি করা এ আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদ, গাজীপুরে চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, ফেনীতে অধ্যাপক এম এ খালেক এবং ফরিদপুরে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ। এছাড়া নীলফামারীতে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, লালমনিরহাটে এ কে এম মমিনুল হক, পাবনায় মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলাম, নড়াইলে মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক এবং বরগুনায় মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দায়িত্ব পেয়েছেন। জামালপুর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলাতেও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসকরা জেলা পরিষদ আইনের আওতায় চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন। সরকার জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করেছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগিরই দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের একটি সমন্বিত তালিকা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিল মাস থেকেই মাঠপর্যায়ে এই অভিযান শুরু হতে পারে। এতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী কাজ করবে। ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো বলছে, অপরাধের ধরন অনুযায়ী অভিযানের কাঠামো ও নাম নির্ধারণ করা হবে। অতীতে পরিচালিত ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো একটি উদ্যোগের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে সরকারি মহল থেকে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রস্তুত করা তালিকায় সহিংসতা, নাশকতা, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে সহিংস কর্মকাণ্ড বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে—এমন কিছু রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিকেও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। তবে পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, এই তালিকা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে না। বরং যারা বাস্তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে—তাদেরই চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এবার ‘ঢালাও গ্রেপ্তার’ নয়, বরং ‘টার্গেটেড অ্যাকশন’-এ জোর দেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা বা নাশকতায় জড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে সাবেক চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি একই বাহিনীতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শিশুমৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১০০ শিশুর মৃত্যুর খবর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই মন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৈঠকে হামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দিয়েছে। সেখানে শিশুমৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা হামের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাসে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প এখন বড় ধরনের বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রকল্পটির আর্থিক অনিয়ম, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় লাখ ইভিএম মেশিন কেনার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাজারমূল্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি দামে এই মেশিন কেনা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বড় প্রযুক্তিগত প্রকল্পে সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু এই প্রকল্পে সেই নিয়ম অনুসরণ না করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেনাবাহিনীর একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলেও যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এদিকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ দায় স্বীকার করেননি, তবে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বিপুল ব্যয়ে কেনা মেশিনের একটি বড় অংশ বর্তমানে অচল বা ব্যবহার অযোগ্য। সাম্প্রতিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেশিন ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। যেখানে ১০ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ ছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়—যা প্রকল্পের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক রাজনৈতিক দল শুরু থেকেই ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অনেকের কাছে প্রকল্পটির ব্যর্থতার একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তদন্ত নয়—দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মূল শর্ত। সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়—জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় হলো এবং কারা এর সুবিধাভোগী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন শুধু আর্থিক বিষয় নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের জন্যও জরুরি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪৪ কোটিরও বেশি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বহুল আলোচিত এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ) প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল। এর একটি অংশ সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা অর্থের পরিমাণ ৪৪ কোটির বেশি। এই অর্থ দেশে ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল সংস্থাটি। জসীম উদ্দীন খান বলেন, “আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক তদন্তের ফলে আমরা এই অর্থ ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি।” সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাচার হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত আর্থিক প্রতারণাগুলোর মধ্যে এমটিএফই কেলেঙ্কারি অন্যতম, যেখানে বহু সাধারণ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমটিএফই কি এমটিএফই (Metaverse Foreign Exchange - MTFE) হলো একটি দুবাই ও কানাডাভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত একটি এমএলএম (MLM) বা পনজি স্কিমের মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতারণা চালিয়েছে । শরীয়াহ-সম্মত প্ল্যাটফর্ম এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় । এই কেলেঙ্কারি সম্পর্কিত সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার: পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অতি সম্প্রতি (মার্চ ২৯, ২০২৬) এমটিএফই কেলেঙ্কারির মাধ্যমে পাচার হওয়া ৩৬ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে । অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া: উদ্ধারকৃত এই অর্থ সুইফট (SWIFT) ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় ফেরত আনা হয়েছে । প্রতারণার কৌশল: প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ফরেক্স ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নতুন গ্রাহক যুক্ত করার বিনিময়ে কমিশন দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। ক্ষতির পরিমাণ: বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমটিএফই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে ধারণা করা হয় ।
ঢাকা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার (২৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে এর অধীন দপ্তর-সংস্থা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নির্দেশনাগুলো পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে ১১টি নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কী আছে ১১ নির্দেশনায়? নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি রাখা কক্ষ ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা অফিস শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করা অনুমতি ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভিজিল্যান্স টিম গঠন কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পর্যায়ে এই ধরনের উদ্যোগ সামগ্রিক জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা: দেশের জনপ্রিয় সুপারশপ চেইন স্বপ্ন-এর গ্রাহক ডেটাবেজ হ্যাকের অভিযোগ উঠেছে। হ্যাকাররা প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ কোটি টাকা) দাবি করেছে। স্বপ্নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হ্যাকাররা গত ডিসেম্বর মাসে কোম্পানির ডেটাবেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় তিন মাস পরে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত ও কেনাকাটার তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত ছিল গ্রাহকদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং কেনাকাটার বিস্তারিত তথ্য। তবে ঠিক কতজন গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সাব্বির হাসান নাসির বলেন, “হ্যাকাররা আমাদের ডেটাবেজে পুনরায় অ্যাক্সেস পেতে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে। আমরা তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছি এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।” বর্তমানে দেশের ৬৩টি জেলায় স্বপ্নের ৮১২টি আউটলেট রয়েছে এবং নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা দেশের ও বিদেশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত ও সমাধানের কাজ করছে। এছাড়া সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু গ্রাহক জানিয়েছেন, ফাঁস হওয়া ডেটাবেজে ফোন নম্বর ব্যবহার করে সহজেই ব্যক্তিগত তথ্য দেখা যাচ্ছে। এতে নাম, কেনাকাটার ইতিহাস এবং লেনদেনের বিস্তারিত জানা যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে হ্যাকিংয়ের ঘটনা তিন মাস আগে ঘটে গেলেও বিষয়টি দেরিতে সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে। স্বপ্নের পক্ষ দাবি করেছে, সম্প্রতি তারা বিষয়টি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই অনৈতিক হ্যাকিংয়ের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না এবং তারা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পথে রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।