ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ভূতাপেক্ষ (Retrospective) পদোন্নতি দিয়ে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত করেছে সরকার। একই সঙ্গে পূর্বের পদ অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি তাকে এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সরকারি গেজেটে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গেজেট অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কারণে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত মোট ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি, অবসর এবং আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ১৫০ কর্মকর্তাকে ঘিরে সরকারি সিদ্ধান্ত গেজেট অনুযায়ী, এই তালিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর কিংবা পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক সুবিধা এবং বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আযমীর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষভাবে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। এরপর ২৬ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখ থেকে তাকে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে বয়সসীমা শেষে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। কী কী আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন? সরকারি আদেশ অনুযায়ী, তিনি— ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা পাবেন। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন। বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে এককালীন ১ কোটি টাকা পাবেন। এ ছাড়া বয়স ও যোগ্যতা বিবেচনায় তাকে ভবিষ্যতে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুপারিশও গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। তার পদোন্নতি, আর্থিক সুবিধা এবং সরকারি পদায়নের সুপারিশ এমন একটি বৃহত্তর সরকারি সিদ্ধান্তের অংশ, যেখানে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সামরিক বাহিনীর ১৫০ জন কর্মকর্তার চাকরিজীবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। কী জানা যাচ্ছে? সরকারি গেজেট অনুযায়ী, আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে— ২০১১ সাল থেকে ভূতাপেক্ষ মেজর জেনারেল পদোন্নতি; ২০১৪ সালে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীতকরণ; বকেয়া আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি এককালীন ১ কোটি টাকা বিশেষ প্রণোদনা প্রদান। সরকারি আদেশে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল, সাতজন নেতাকর্মীর গ্রেপ্তার, নদীতে ধাওয়া খেয়ে কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী চার দিনে তুরাগ থেকে একাধিক মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে নানা ধরনের দাবি, গুজব ও সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, মিছিলে অংশ নেওয়া এক আওয়ামী লীগ কর্মী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আইনজীবী, নিহতদের পরিবার এবং পুলিশের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। কী ঘটেছিল ২২ জুন? মিছিলে অংশ নেওয়া পরিচয় গোপন রাখা এক আওয়ামী লীগ কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ জন নেতাকর্মী তুরাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় কর্মসূচি শেষ করে ট্রলারে করে নিরাপদে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করেন। তার দাবি, সড়কপথে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কা থাকায় তারা নদীপথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রথমে কয়েকটি ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আশুলিয়া ঘাটে ট্রলার ভেড়ানো হয়। তার অভিযোগ, ট্রলার ঘাটে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ বিভিন্ন দিকে ছুটে যান এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, প্রাথমিকভাবে সাতজন নিখোঁজ হন। পরে তাদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজন জীবিত আছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। আইনজীবীর বক্তব্যে কী উঠে এসেছে? গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের আইনজীবী আরিফ সরকার পাভেল জানান, রিমান্ড শুনানির সময় তার মক্কেলরা অভিযোগ করেন যে, মিছিলের তথ্য আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, আশুলিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি ধাওয়া দিলে ট্রলারে থাকা অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আসামিদের আরও অভিযোগ, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আশুলিয়া এলাকার পরিচয় গোপন রাখা এক প্রত্যক্ষদর্শীও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, সেদিন ঘাট এলাকায় কিছু মানুষের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা তিনি দেখেছেন। তবে আতঙ্কে দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় পরবর্তী পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা কী বলছেন? আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর দাবি করেন, ঘটনাস্থলে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নূরু সরকারও। তার দাবি, এ ধরনের ঘটনায় দলের কোনো কর্মী জড়িত থাকার তথ্য তিনি পাননি। পুলিশের বক্তব্য আশুলিয়া থানা পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নদীতে ধাওয়া খেয়ে কেউ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুদ জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে গিয়ে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আশুলিয়া ট্রলার ঘাট থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্যরা পালিয়ে যায়। কেউ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, পরে তুরাগ নদ থেকে যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে ওই অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও মামলার এজাহারে ২২ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৪৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নতুন প্রশ্ন ২২ জুনের পরবর্তী চার দিনে তুরাগ নদ থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে আরিফ ও সুমন ২২ জুনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তবে পুলিশ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সুমনের পরিবারের বক্তব্য নিহত সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে তার খালু জুয়েল বাবু জানান, পরিবার আগে জানত না সুমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২২ জুন নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা মিছিলের অন্য অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকেই জানতে পারেন। পরে আশুলিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পুলিশ তাদের জানায়। পরিবারের দাবি, মরদেহে কয়েকটি লালচে দাগ ছিল, যা আঘাতের চিহ্ন হতে পারে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছিল। এছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় চোখও ছিল না। তবে পরিবার শেষ পর্যন্ত অপমৃত্যুর মামলা করে। জুয়েল বাবুর ভাষ্য, পুলিশ জানতে চেয়েছিল কার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলাই করা হয়। তিনি বলেন, সুমন মিছিলে গিয়েছিলেন—এটি সত্য। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে দায়ী করা হচ্ছে না। তাদের ধারণা, তিনি পানিতে ডুবে মারা গেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন তথ্য সুমনের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। মিছিলে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মীর দাবি, এর মধ্যে তিনটি ফোন অন্য কর্মীদের ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলের ভিডিও ধারণ কিংবা ভিডিও সংগ্রহের জন্য ফোনগুলো সুমনের কাছে দেওয়া হয়েছিল। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনও অনুত্তরিত রয়ে গেছে— নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না; উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না; ঘটনাস্থলে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো পক্ষ উপস্থিত ছিল কি না; ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ সত্য কি না; মৃত্যুগুলো নিছক দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ফল। মানবাধিকারকর্মীর মত মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনের মতে, ঘটনাটি ঘিরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং একাধিক মরদেহ উদ্ধারের কারণে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, কয়েকটি সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তার মতে, নদীতে ধাওয়া খেয়ে ডুবে মৃত্যু যেমন সম্ভব, তেমনি পানিতে হামলা, আটক করে নির্যাতন কিংবা পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "কোনটি সত্য, তা কেবল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।" এখনও যেসব বিষয়ে মতভেদ এই ঘটনায় চারটি বড় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন— আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন; পুলিশ তা অস্বীকার করছে। পরিবার ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অন্তত দুজন মিছিলে ছিলেন; পুলিশ তা মানছে না। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ উঠলেও বিএনপির স্থানীয় নেতারা সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে পৃথক ঘটনা বলছে; অন্যদিকে মানবাধিকারকর্মীরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন। এ কারণে ২২ জুন আশুলিয়ার তুরাগ নদে আসলে কী ঘটেছিল—সে প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত উত্তর এখনও সামনে আসেনি। ঘটনাটি ঘিরে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের বড় কালীপুরা গ্রামের সরকারবাড়ি-সংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মাথায় দেবে যায়। এরপর বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সেতুর নিচের মাটি সরে গিয়ে এর একাংশ ধসে পড়ে। প্রায় ছয় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে এবং স্থানীয় কয়েক শ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বড় কালীপুরা-তনু সরকার কান্দী সড়কের বড় কালীপুরা গ্রাম-সংলগ্ন খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৬ টাকা। সরেজমিনে যা দেখা গেল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির এক প্রান্ত ওপরে উঠে গেছে এবং অপর প্রান্ত নিচের দিকে দেবে গেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট খসে পড়েছে, বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। নিরাপত্তাহীন অবস্থার কারণে সেতুটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দীর্ঘদিন অচল থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিনের দুর্ভোগ স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, "ছয় বছর আগে বন্যার সময় সেতুটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আমাদের অনেক পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হলে এ ভোগান্তির অবসান হবে।" স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতুটি অচল হয়ে পড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বড় কালীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আছমা আক্তার বলে, "সেতু না থাকায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। অনেক ঘুরে যেতে হয়। একটি সেতুর অভাবে পুরো এলাকার মানুষ পিছিয়ে পড়ছে।" স্থানীয়দের মতে, একটি মাত্র সেতুর অচলাবস্থা পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, "স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সেতুটি নদী-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় পুনর্নির্মাণের জন্য যথাযথ কারিগরি পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।" তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি সরকারি সেতু কীভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল এবং দীর্ঘ ছয় বছরেও কেন কার্যকর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকার পরিবর্তন হয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও বদলায়। কিন্তু পাসপোর্ট করতে দালালকে টাকা দেওয়া, জমির নামজারি দ্রুত করাতে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা তদন্ত এগিয়ে নিতে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন—এসব যেন বাংলাদেশের নাগরিক জীবনের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তবতা। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল হলেও কেন সেবা খাতের ঘুষ-দুর্নীতির ধরন বদলায় না? সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। জরিপ বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতে আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। আগের জরিপের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে অন্তত একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ সালের জরিপে এ হার ছিল ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্নীতি কেন কমেনি। আবার অনেকে জানতে চাইছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে পরিস্থিতির আদৌ কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না। তবে তথ্য বলছে, এই দুই প্রশ্নের উত্তর এক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের চিত্র টিআইবির জরিপ মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার এক বছরের সেবা খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, শুধু ঘুষের মোট অঙ্কই বাড়েনি, বেড়েছে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া পরিবারের সংখ্যাও। ২০২৩ সালে যেখানে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি সেবা নিতে ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সর্বশেষ জরিপে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ সেবার তালিকায় রয়েছে— পাসপোর্ট বিআরটিএ বিচার সংশ্লিষ্ট সেবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ভূমি অফিস পাসপোর্ট সেবা নিতে যাওয়া ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বিআরটিএ সেবায় দুর্নীতির অভিজ্ঞতার হার ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ। "ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া কঠিন" জরিপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণগুলোর একটি হলো, ঘুষ দেওয়া পরিবারগুলোর ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছে, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া সম্ভব হতো না কিংবা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তো। অর্থাৎ, বহু ক্ষেত্রে ঘুষ এখন বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং নাগরিকের কাছে কার্যত সেবা পাওয়ার অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছে। পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকায় নেমে এলেও টিআইবি বলছে, এটিকে দুর্নীতি কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাবে না। কারণ, ব্যক্তি প্রতি ঘুষের অঙ্ক কমলেও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিবার ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির বিস্তার বেড়েছে। ডিজিটাল সেবা এখনও সীমিত জরিপে দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপস্থিত হয়ে সরকারি সেবা নিয়েছেন। অন্যদিকে অনলাইনে সেবা নিয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যোগাযোগের এই উচ্চ হার দালাল চক্র, ফাইল আটকে রাখা, দ্রুত সেবা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তা-সেবাগ্রহীতার অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ বহাল রেখেছে। বর্তমান সরকারের সময় পরিস্থিতি কি বদলেছে? এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি। অন্যদিকে টিআইবির প্রকাশিত জাতীয় জরিপটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা। ফলে পরিসংখ্যানগতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়, বর্তমান সরকারের সময়ে সেবা খাতের ঘুষ কমেছে, বেড়েছে নাকি একই অবস্থায় রয়েছে। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে টিআইবি। সেখানে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিত করা, রাষ্ট্রীয় অর্থে ব্যক্তিগত বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এখনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দৃশ্যমান নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। দুদকের নেতৃত্বে দীর্ঘ শূন্যতা দুর্নীতি দমনে রাষ্ট্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু বর্তমান সরকারের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়ে। গত মার্চে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করার পর প্রায় সাড়ে তিন মাস কমিশনের অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট, সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেফতারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সরকার ইতোমধ্যে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করেছে এবং আবেদনও আহ্বান করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংসদে রাজনৈতিক বিতর্ক টিআইবির প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। সরকারি দলের সদস্যরা ১২ হাজার কোটি টাকার ঘুষের হিসাব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের হিসাব নয়। বরং নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে যে ঘুষ দিয়েছেন, তার সামগ্রিক অর্থমূল্য। ফলে এই অর্থকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সেবা খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট সরকারের ওপর বর্তায় বলে সরকারি বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর কোনো তামাদি নেই। অভিযোগ যে সময়েরই হোক, দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারে এবং করা উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞ কী বলছেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামালের মতে, সেবা খাতের দুর্নীতি বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তা তুলনামূলকভাবে বেড়েছিল। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের মধ্যে শাস্তির ভয় দুর্বল হয়ে পড়ায় ঘুষের প্রবণতাও বেড়েছে। তিনি বলেন, "দুর্নীতি বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের সমান প্রয়োগ। কেউ যদি বিশ্বাস করে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার বিচার হবে না, তাহলে দুর্নীতি কখনও কমবে না।" আরও বলেন, "দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা চলতেই থাকবে। সরকার আওয়ামী লীগের হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের হোক কিংবা বিএনপির—প্রশাসনের একই লোকজন যদি শাস্তির ভয় না পায়, তাহলে সেবা খাতের ঘুষও বন্ধ হবে না।" অনুসন্ধানের সারকথা টিআইবির জরিপ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দুর্নীতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে না। কারণ, ঘুষের সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামো, জবাবদিহির দুর্বলতা, সীমিত ডিজিটাল সেবা, দালালনির্ভর প্রক্রিয়া এবং শাস্তিহীনতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পাসপোর্ট অফিস, ভূমি কার্যালয়, থানা, বিআরটিএ, আদালত কিংবা ব্যাংকে সাধারণ মানুষ বাস্তবে ঘুষ ছাড়াই সেবা পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের সফলতা পরিমাপ হবে নাগরিকের অভিজ্ঞতায়—প্রতিশ্রুতিতে নয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক কলেজছাত্রীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৯ জুন সকালে স্থানীয় একটি চক্র ওই কলেজছাত্রীকে একটি পরিত্যক্ত বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং তাদের সহযোগী রিফাতসহ কয়েকজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই কলেজছাত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রেখে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মমিন আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে মানুষকে বাসায় ডেকে এনে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড় ধরনের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাত জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অনুপস্থিতির বিভাজন: কোন বোর্ডে কতজন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ১৭,২৩৩ জন অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪,৪৭৮ জন অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৩,০৭৩ জন অনুপস্থিত অন্যদিকে, বহিষ্কারের ঘটনাতেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। মোট সাত জন বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের, একজন মাদ্রাসা বোর্ডের এবং একজন কারিগরি বোর্ডের। দেশের ১১ বোর্ডে একযোগে পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয় আলিম পর্যায়ের কোরআন মাজিদ পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ (HSC BMT) পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজরদারি জোরদার করেছে। সব বোর্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ—যা পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রথম দিনের এই অনুপস্থিতির হার ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, চাপ এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, দলীয় কোন্দল, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত সহিংসতাসহ মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত সংগঠনটির মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সারা দেশে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল পাঁচজন এবং আহত ছিলেন ২৮৯ জন। ফলে এক মাসের ব্যবধানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথায় সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ? এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতার সবচেয়ে বড় অংশই ঘটেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃদলীয় সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে। জুন মাসে— বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ২১টি ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং অন্তত ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ৮টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ১৪টি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৯ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সংঘর্ষের আরও ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ৯ জনের মধ্যে বিএনপির চারজন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুজন, ছাত্রশিবিরের একজন, ইউপিডিএফের একজন এবং একটি চরমপন্থী সংগঠনের একজন সদস্য রয়েছেন। সহিংসতার পেছনে কী কারণ? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনে ছিল— আধিপত্য বিস্তার রাজনৈতিক বিরোধ দলীয় ও অন্তর্কোন্দল চাঁদাবাজি এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— আওয়ামী লীগের ৩ জন (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বিএনপির ৫ জন চরমপন্থী দলের ১ সদস্য একই সময়ে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। অন্যদিকে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সহিংসতা ও দখলকে কেন্দ্র করে ১৫টি ঘটনায় অন্তত ৪৫টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেফতার জুন মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায়— ৬২৭ জনকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। আরও প্রায় ১,২৬২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ২৫৭টি ঘটনায় অন্তত ৪,৭৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে— আওয়ামী লীগের অন্তত ১,৫৫৯ জন বিএনপির ৩৫ জন জামায়াতের ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মব সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার এবং ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ৬৩টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে— ২৯টি ঘটনায় ৬৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এইচআরএসএস বলছে, জুন মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ২৮ জন আহত ৫ জন লাঞ্ছিত ৯ জন হুমকির মুখে ৫ জন আটক এছাড়া ৭টি মামলায় ১২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রতিবেদন অনুযায়ী— ৬টি সভা-সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ রয়েছে। এতে ১৭ জন আহত ও ৩৬ জন আটক হয়েছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে— ১১টি ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছেন। ৭টি মামলা হয়েছে। অন্তত ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান ও বিএনপির নেতাদের সমালোচনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় পৃথক চারটি মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত মৃত্যু ও কারাগারে প্রাণহানি এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, হেফাজত ও নির্যাতনে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন কথিত বন্দুকযুদ্ধে এবং ১ জন ডিবি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জুন মাসে কারাগারে ৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘু ও সীমান্ত পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে— সংখ্যালঘুদের ওপর ১২টি হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া— ১২টি মন্দির ১১টি প্রতিমা ৭টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও হামলার শিকার হয়েছে। একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে— ৫টি ঘটনায় ২ জন নিহত ২ জন আহত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া বিএসএফ একজনকে আটক করেছে এবং সাতজনকে পুশইনের পাশাপাশি চার শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে পৃথক তিন ঘটনায় এক রোহিঙ্গাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শ্রমিক, নারী ও শিশুর চিত্র প্রতিবেদন অনুযায়ী— শ্রমিক ৫৫টি ঘটনায় ১১ শ্রমিক নিহত ১৮৪ জন আহত কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আরও ৩৯ শ্রমিক নিহত নারী জুন মাসে ৩৫২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে— ১০৬ জন ধর্ষণের শিকার ৭৫ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ১৯ জন গণধর্ষণের শিকার ধর্ষণের পর ২ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৯৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার যৌতুক-সংক্রান্ত ঘটনায়— ৪ জন নিহত ৪ জন আহত ২ জন আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সহিংসতায়— ৫৭ জন নিহত ৪৮ জন আহত ৩৬ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। শিশু জুন মাসে ২৯১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে— ৫৪ জন নিহত ২৩৭ জন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এইচআরএসএস কী বলছে? সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি একটি সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল পর্যায় অতিক্রম করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী-শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে গ্রেফতার, মামলা ও হয়রানির ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিশ্লেষণ জুন মাসের এই পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত করছে যে রাজনৈতিক সহিংসতা কেবল দলগুলোর পারস্পরিক সংঘর্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, স্থানীয় আধিপত্য, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে তা জটিলভাবে জড়িয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংবাদিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্ত পরিস্থিতির মতো বিভিন্ন মানবাধিকার সূচকে সমান্তরাল উদ্বেগের উপস্থিতি দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার বাস্তবতাকে আরও জটিল করে তুলেছে। উল্লেখ্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সব পরিসংখ্যান ও দাবি হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত জুন মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সব সিভিল সার্জনকে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক নিয়োগ বাধ্যতামূলক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল সার্জনদের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। ২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. জমা দেওয়া ডিউটি রোস্টার ও চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে। ৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ঘোষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদান, এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো নিয়মিত ডিউটি রোস্টার, চিকিৎসকদের নিবন্ধন তথ্য এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির ব্যবস্থা করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়, "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে— কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো? প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন? এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে? বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কি কেবল বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে দেশের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ? এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই "সুস্থ সংস্কৃতি, বিনোদন চর্চা ও জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ" শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়- সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মূল্যবোধের সংকটও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদনের ইতিবাচক পরিবেশ এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: পরিবর্তন নাকি পরিচয়ের সংকট? ১. সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ, জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশ, তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে এই প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও অন্ধ অনুকরণ অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহ, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার এর অন্যতম প্রভাব। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমাদের লোকসংগীত, বাউলগান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, লোকনাটা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসবসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীত শিক্ষা, বিতর্ক, বইপাঠ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও অন্যতম হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ? ২. সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও জাতীয় পরিচয়: ক. বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রবাহ: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবী আজ একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। খ. স্থানীয় সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জীবনবোধ ক্রমশ নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির চাপে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক তরুণ নিজের সংস্কৃতির চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও গ. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, রুচি ও আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ইতিবাচক তথ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি অশালীনতা, সহিংসতা, অসত্য তথ্য ও অসুস্থ বিনোদনের বিস্তারও ঘটছে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন ঘ. ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একইসঙ্গে পারিবারিক বন্ধন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সহমর্মিতা, সততা ও মানবিকতা-এসব মূল্যবোধও জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ৩. সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার। পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস, গান, কবিতা, গল্প এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প: গণমাধ্যম সমাজের রুচি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষামূলক, নৈতিক ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্ট প্রচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অপরিহার্য। তাদের জন্য মানসম্মত শিশুতোষ অনুষ্ঠান, নাটক, কার্টুন, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণ: ডিজিটাল যুগে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কাছে দেশপ্রেম, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তুলে ধরতে হবে। জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ৪. জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় ভাবধারার মূল ভিত্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি: সংস্কৃতি মানুষকে একত্রিত করে। উৎসব, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়। রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সাংস্কৃতিক বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সহায়তা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উপসংহার: সুস্থ সংস্কৃতি, ইতিবাচক বিনোদন এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ একটি উন্নত, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদক-সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে শনিবার দুটি পৃথক সংশোধনী বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কেবল আইনের ভাষাগত পরিবর্তন নয়; বরং বিচার কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক মামলার জট কমাতে ফিরছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সরকার মনে করছে। এ কারণে বিদ্যমান সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখেই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধেও নজর সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান সংযোজনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, লেনদেন ও যোগাযোগের মতো অপরাধ দমনে নতুন আইনি কাঠামো যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়াতে— আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার; বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠন; —সংক্রান্ত বিধানও সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান একই দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' নামে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। বিলটিও পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: কেন একসঙ্গে দুটি আইনে পরিবর্তন? দুটি বিল একসঙ্গে সংসদে আনার মধ্য দিয়ে সরকার অপরাধ দমন নীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো— মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা; প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধকে আইনের আওতায় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সাইবার আইনকে মূলত ডিজিটাল অপরাধকেন্দ্রিক রেখে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনে স্থানান্তর করা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই বিচার দ্রুত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সক্ষমতা সমানভাবে বাড়ানো না গেলে মামলার জট পুরোপুরি কমানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জুয়া-সংক্রান্ত বিধান আলাদা আইনে স্থানান্তরের ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে দেওয়া আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; বরং আইন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। ২০২২ সালের নিয়োগে আপত্তি ছিল না বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ এবং ৮৫তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে তিন বছরের জন্য প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় তিনি মাসিক ৩০ হাজার টাকা সম্মানি, চিকিৎসা সুবিধা এবং সীমিত প্রশাসনিক সুবিধা পেতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, এই নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হওয়ায় তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি ছিল না। ছয় মাস আগেই বদলে যায় নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস আগে, ২০ জুন ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাদেশ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো আজীবন নিয়োগ, অবসরের সময়কার পূর্ণ অধ্যাপকের বেতন-ভাতার সমপরিমাণ মাসিক পারিশ্রমিক, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা, অফিস, স্টাফ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধার বিধান যুক্ত করা হয়। বিএমইউর দাবি, ওই সভাটি ছিল মূলত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। সেখানে মূল এজেন্ডার বাইরে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে "নজিরবিহীন" এবং "বেআইনি"। বিশ্ববিদ্যালয় আরও বলছে, এ পর্যন্ত এই নিয়োগের আওতায় অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আনুমানিক সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বেশি আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশের ধারা ৫ অনুযায়ী বিভাগীয় চেয়ারম্যানের প্রস্তাব, ডিনের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে উপস্থাপন, উপাচার্যের গঠিত মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে এসব ধাপ অনুসরণ করা হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি। বিএমইউ বলছে, কেবলমাত্র একজন সদস্যের প্রস্তাবের ভিত্তিতে তাকে আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি যোগ্যতার বিবরণে "সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক" পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, গত প্রায় দুই বছরে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হননি, শিক্ষাদান করেননি এবং কোনো গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও প্রশাসনকে জানাননি। তবে এই সময়ে তিনি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন বিএমইউ বলছে, ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে প্রফেসর ইমেরিটাস পদটি কার্যত একটি সম্মানসূচক পদ থেকে পূর্ণ বেতনসদৃশ আর্থিক সুবিধাসংবলিত পদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের আগে অর্থ কমিটির সুপারিশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অর্থ কমিটিতে বিষয়টি উপস্থাপন, আর্থিক বিশ্লেষণ কিংবা কোনো সুপারিশের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কী নজির? সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগের নজির থাকলেও, আজীবনের জন্য পূর্ণ অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতনের সমপরিমাণ পারিশ্রমিক এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার কোনো নজির বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পায়নি। বর্তমান প্রশাসনের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দীর্ঘমেয়াদি পুনরাবৃত্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো নিয়োগ? বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ১৩ জুন ২০২৬ সালের সিন্ডিকেট সভায় সব নথি ও তথ্য পর্যালোচনার পর ২৪ জুন ২০২৪ সালের আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, বিধিবহির্ভূত নিয়োগের ভিত্তিতে প্রদত্ত আর্থিক সুবিধা আইনের বিধান অনুযায়ী পুনরুদ্ধার করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণেই অধ্যাপক আব্দুল্লাহকে ওই সময়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, এটি কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার অনুসরণ নিশ্চিত করার অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বিএমইউর দাবি, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছিল আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও জবাবদিহিতা রক্ষার স্বার্থে আইন ও বিধিমালা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) নূর মোহাম্মদকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাতে পরিচালিত একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে জামালপুরে একটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ডিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার প্রকৃতি বা অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিযানের সময় তার সঙ্গে অন্য কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর গ্রেফতার এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে নূর মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম এবং ভাতিজা সাইফুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার একটি আদালত। আদালতের ওই আদেশে তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তদন্তের পরবর্তী ধাপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও ভেঙেছে নিজস্ব রেকর্ড। ছয় মাস পর খোলা ১৩টি দানসিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ পর্যন্ত মসজিদটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৩টি সিন্দুক থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় খোলা হয় ১৩ সিন্দুক শনিবার সকালেই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট। ৫ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণনা বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক-এর ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দানের অর্থ কোথায় যায়? জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। এবার পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা রাখা হবে। তিনি আরও জানান, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মসজিদের তহবিলে যুক্ত করা হয়। শুধু মসজিদ নয়, সমাজকল্যাণেও ব্যয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কেন এত দান আসে? মসজিদ কমিটি বলছে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ পাগলা মসজিদে আসেন। অনেকেই বিশ্বাস ও মানতের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর সিন্দুক খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে, ফলে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং হীরা উদ্ধার হয়েছিল। এবারের সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি হওয়ায় এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল। তথ্যসংক্ষেপ মসজিদ: পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ খোলা সিন্দুক: ১৩টি মোট প্রাপ্ত অর্থ: ১৫,৯০,৮০,১৪৬ টাকা অতিরিক্ত উদ্ধার: বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার সময়: প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অংশগ্রহণকারী: ৫ শতাধিক ব্যক্তি বর্তমান ব্যাংক তহবিল: প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা অনলাইন দান: প্রায় ২৫ লাখ টাকা
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের প্রশ্ন সামনে এসেছে। ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নাম উল্লেখ করা হলেও, এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। কী ঘটেছিল? ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছিল। এ সময় হিমেলসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সেখানে প্রবেশ করে চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের চার দফা দাবি ঘটনার পর এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আক্রান্ত হয়েছেন। সংগঠনটি চারটি দাবি উত্থাপন করেছে— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন; হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা; সার্জারি বিভাগে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। আইডিএর আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। তদন্তে জটিলতা কোথায়? চিকিৎসকদের অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঘটনাস্থলে কার্যকর সিসিটিভি নজরদারি না থাকা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত নজরদারি ব্যবস্থা না থাকলে এমন ঘটনার প্রকৃত দায় নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সত্য উদঘাটন বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমান ঘটনাতেও প্রত্যক্ষ ভিডিও প্রমাণের অভাব তদন্তকে জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পুলিশের অবস্থান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে হাসপাতাল এলাকায় একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তার ভাষ্য, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিযুক্তের পাল্টা দাবি অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হিমেল চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, হাসপাতালে তারা উল্টো ‘মবের’ শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে ঘটনাটি এখন দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, যার সত্যতা নির্ভর করছে সম্ভাব্য তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা নতুন নয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, কর্মপরিবেশ নিরাপদ না হলে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মিটফোর্ড হাসপাতালের এই ঘটনা সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার সামনে এনেছে—দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর, এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বর্তমানে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এবং সম্ভাব্য তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা বলা হয় তৈরি পোশাক শিল্পকে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক মাসে গাজীপুর, সাভার ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত কি গভীর সংকটে পড়েছে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবতা একমাত্রিক নয়। একদিকে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। অন্যদিকে একই সময়ে নতুন কারখানা চালু হয়েছে, নতুন বিনিয়োগ এসেছে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু সংকটের নয়; বরং শিল্পটির কাঠামোগত রূপান্তরও কি ঘটছে? ঈদের পর নতুন করে আলোচনায় কারখানা বন্ধ কোরবানির ঈদের পর পোশাক শিল্পাঞ্চলে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারেন তাদের চাকরি নেই। অন্যদিকে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক ও কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়েছেন। শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ সংসার চালানো, সন্তানদের শিক্ষাব্যয় এবং বাসাভাড়া পরিশোধ নিয়ে। তিন বছরে বন্ধ প্রায় ৪০০ কারখানা বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, অনেক কারখানা এখনও আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানা মালিকদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, ভাড়া এবং প্রশাসনিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে নিয়মিত। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছে। কিন্তু একই সময়ে নতুন কারখানাও আসছে সংকটের এই আলোচনার মাঝেই ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৫ মাসে সংগঠনটির নতুন সদস্য হয়েছে ১২৮টি কারখানা। একই সময়ে বন্ধ হয়েছে ১১৩টি কারখানা। নতুন কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের। অন্যদিকে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর কারণে চাকরি হারিয়েছেন ৯৬ হাজার ১০৪ শ্রমিক। অর্থাৎ কর্মসংস্থানের হিসাবে এখনও প্রায় ২২ হাজার মানুষের নিট কর্মসংস্থান ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান আরেকটি বাস্তবতাও তুলে ধরে—শিল্পটি পুরোপুরি সংকুচিত হচ্ছে না; বরং পুরোনো ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন ধরনের উৎপাদন কাঠামো গড়ে উঠছে। কেন বন্ধ হচ্ছে কারখানা? খাত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে চারটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে। ১. আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্রয়াদেশের প্রবৃদ্ধি আগের মতো নেই। ২. উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ উৎপাদন ব্যয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩. শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি নতুন মজুরি কাঠামো এবং নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক হলেও উৎপাদনশীলতা সমান হারে না বাড়ায় দুর্বল কারখানাগুলো অতিরিক্ত চাপ অনুভব করছে। ৪. ঋণ ও তারল্য সংকট অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছে। ফলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে তারা উৎপাদন কমাচ্ছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। বেক্সিমকো থেকে কেয়া: বড় গ্রুপও চাপের মুখে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের ২৪টি, কেয়া গ্রুপের ৪টি এবং টিএনজেড গ্রুপের ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে বেক্সিমকো শিল্পপার্কের ১৪টি কারখানা বন্ধের ঘটনা। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সংকট কেবল ছোট কারখানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোকেও আর্থিক ও পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগ কোথায় যাচ্ছে? অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগের ধারা বলছে, উদ্যোক্তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন সদস্য হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে একেএইচ আউটওয়্যার, এজেড কম্পোজিট, নেক্সটন, এলএসএ অ্যাপারেলস, সিটেক ফ্যাশন, সুপ্রিম আউটফিট এবং স্প্যারো গ্রিনটেক। তবে নতুন ১২৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ১৮টিতে শ্রমিক সংখ্যা এক হাজারের বেশি। অর্থাৎ নতুন বিনিয়োগের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে একই পরিমাণ উৎপাদনের জন্য তুলনামূলক কম শ্রমিকের প্রয়োজন হতে পারে। রপ্তানি আয় কিন্তু বাড়ছে কারখানা বন্ধের খবরের বিপরীতে রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২৫ কোটি ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ কর্মসংস্থান ও কারখানা সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি কমে যায়নি। ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা: বাস্তবায়ন কোথায়? বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তারল্য সংকট। তিনি মনে করেন, রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিল এখনও কার্যকর না হওয়ায় অনেক কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করে সহায়তা দেওয়া না হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট, নাকি শিল্পের পুনর্গঠন? তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দ্বৈত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে শ্রমিক ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ, ঋণ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও দেখা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি শুধু শিল্প সংকটের নয়; বরং শিল্পের পুনর্গঠন এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি পর্যায়ও হতে পারে। তবে এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন শ্রমিকরাই। কারণ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও চাকরি হারানো হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য বর্তমান বাস্তবতা হলো অনিশ্চয়তা, আয়হীনতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিল্পের এই রূপান্তর কি কর্মসংস্থান রক্ষা করে এগোবে, নাকি আরও হাজারো শ্রমিককে কর্মহীন করে নতুন ভারসাম্য খুঁজবে? সেটিই নির্ধারণ করবে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতের আগামী পথচলা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত চার নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিবাদ এবং সাংগঠনিক তদন্তের পর এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। বুধবার (২৫ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। কী ঘটেছিল ধানমন্ডিতে? মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে জামায়াতের একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ওই উত্তেজনা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, দলের কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি হামলার ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জামায়াতের সংবাদ কার্যক্রম বর্জনের হুঁশিয়ারি দেন। এতে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সমালোচনার মুখে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ঘটনার তদন্তের ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কী পাওয়া গেছে? দলীয় সূত্র অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে বুধবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম ও মামুন হোসেনকে হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরও জড়িত ছিলেন কি? জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বহিষ্কৃত চারজনই ঘটনার সূচনা এবং আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা আরও কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত? বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দল নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে দায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, গণমাধ্যমের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত এবং সংবাদকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই সিদ্ধান্ত দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আইনি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং খেলাপি ঋণের মাধ্যমে বিদেশে সরিয়ে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ উদ্ধার কার্যক্রম সফল হলে তবেই তারা পারিশ্রমিক পাবে। কেন এই উদ্যোগ? গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে বড় করপোরেট গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত সংস্থাগুলোর নজরে আসে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের অর্থ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রথম ধাপে যাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অর্থমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী এস আলম। এছাড়া বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়ন গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে এই তালিকায়। আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থপাচার মামলায় বিদেশি আদালত, ব্যাংকিং কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া সম্পদ উদ্ধার প্রায় অসম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের বাস্তব চিত্র সংসদে দেওয়া তথ্যে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখের বেশি। এর মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব ১৭ কোটি ৭৯ লাখ এবং ঋণ হিসাব প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ জুন পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬৩টি ব্যাংক ১১ হাজারের বেশি শাখা এবং প্রায় ৫ হাজার উপশাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নতুন লক্ষ্য সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ জন্য জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ৬৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ ও রাজস্বের চিত্র অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কনসেশনাল এবং ৩৮ দশমিক ০৩ শতাংশ নন-কনসেশনাল ঋণ। এদিকে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি। তবে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ ও আমানত সুরক্ষা ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে রেজোল্যুশন স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অর্থপাচারবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, আদালতের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে তবেই এই উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রথম ধাপের কার্যক্রমের পর আরও বড় পরিসরে অর্থপাচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার অভিযান সম্প্রসারণ করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর কয়েকটি পিলারের নিচ থেকে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি কাটার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি অনুমোদিত প্রকল্পকাজ, নাকি প্রভাবশালী মহলের মাটি বাণিজ্যের অংশ? প্রশাসন আপাতত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল পরিবেশ পুনরুদ্ধারের একটি পরিকল্পিত কার্যক্রম, যার সঙ্গে সেতুর নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভিডিও থেকে শুরু বিতর্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের নিচ ও আশপাশে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, সেতুর ভিত্তির কাছ থেকে মাটি সরানোর ফলে ভবিষ্যতে অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, একটি প্রভাবশালী চক্র রাতদিন মাটি কেটে ট্রাকে করে স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে সরবরাহ করছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ মাটি কাটার খবর পাওয়ার পর ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনও এলাকা পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সংশ্লিষ্টরা অনুমতির দাবি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। ফলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরেজমিন পর্যবেক্ষণে এভাবে মাটি অপসারণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও উপস্থাপন করা যায়নি। এ কারণে বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অন্যদিকে পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইনচার্জ প্রকৌশলী আমিনুল করিম দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তাঁর মতে, আলীগঞ্জ এলাকার সংশ্লিষ্ট অংশটি মূলত একটি জলাধার ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্মাণসামগ্রী পরিবহন ও যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে অস্থায়ীভাবে বালু ও মাটি ফেলে প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী সেই ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ চলছিল। ৭৬ থেকে ৯০ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার এলাকায় এই কাজের পরিকল্পনা ছিল বলে তিনি জানান। প্রকৌশলী আমিনুল করিমের দাবি, পুরো কার্যক্রম সেনাবাহিনী ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে পিলারের স্থিতিশীলতা বা সেতুর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। রেলওয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাটি কাটার স্থানটি রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত জমির অন্তর্ভুক্ত। ভায়াডাক্ট নির্মাণকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেখানে একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করেছিল। প্রকল্প চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হলে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে স্থানটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। রেলওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই ভরাট করা মাটি অপসারণের কাজ চলছিল এবং পুরো প্রক্রিয়া প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট বাংলাদেশ আর্মি’র তত্ত্বাবধানে ছিল। তবে জনমনে উদ্বেগ এবং প্রশাসনিক আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত মাটি অপসারণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাটি ভবিষ্যৎ বৃক্ষরোপণের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যা দেখা গেছে সরেজমিনে স্থানীয়দের বর্ণনা এবং প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, তিনটি পিলারের নিচ ও আশপাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত এক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই মাটি অপসারণের সঙ্গে জড়িত। তবে আবুবক্কর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কোনো মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর জানা মতে সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতি ছিল। মূল প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— মাটি অপসারণের জন্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছিল কি না? জেলা প্রশাসনকে আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল কি? অপসারিত মাটি কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং তার হিসাব রয়েছে কি? পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজ হলে তা কেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ছিল না? পিলারের সংলগ্ন এলাকায় খননের নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদন রয়েছে কি? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্ক অব্যাহত বর্তমানে প্রশাসনের নির্দেশে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মতামত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। একদিকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে এটি পরিবেশ পুনরুদ্ধারের অংশ, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ মাটি বাণিজ্যের। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নথিপত্র, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন। সেই তদন্তের ফলই নির্ধারণ করবে—আলীগঞ্জে যা ঘটেছে তা প্রকল্প-পরবর্তী পরিবেশ পুনর্বাসন, নাকি অবকাঠামোর ছায়ায় পরিচালিত আরেকটি মাটি বাণিজ্যের ঘটনা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।