Brand logo light

ময়মনসিংহ

অধ্যাপক আমির হোসেন
যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়নি, এর মধ্যেই জাবিপ্রবির ভিসি ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়ার নিয়োগ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন। তবে তার এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন, তাকে কীভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসানো হলো? শিক্ষার্থীদের অভিযোগে কী ছিল ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, অশালীন মন্তব্য এবং মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ক্লাস চলাকালে তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতেন। নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গবেষণা কার্যক্রমে নিরুৎসাহিত করা, নম্বর প্রদানে বৈষম্য সৃষ্টি এবং মতের অমিল হলে একাডেমিক চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভাগের সহকর্মী শিক্ষকদের সম্পর্কেও তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন, যা বিভাগের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি হলেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আইবিএ’র অধ্যাপক আইরীন আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত শেষ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় ড. আমির হোসেন ভূঁইয়াকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। ‘অমীমাংসিত অভিযোগ’ নিয়েই প্রশাসনিক পদোন্নতি? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো শিক্ষক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে সাধারণত তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না দেওয়ার অলিখিত নীতি অনুসরণ করা হয়। তাদের ভাষ্য, “তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।” তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ তদন্তে বিলম্ব এবং একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পদোন্নতি বা নিয়োগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি কাঠামোকে দুর্বল করে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ, অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার উপাচার্য নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
গফরগাঁওয়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছরের কিশোর গ্রেপ্তার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শনিবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পাগলা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে শিশুটিকে টেলিভিশন দেখানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় অভিযুক্ত কিশোর। পরে সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন চিকিৎসার পর ২৯ এপ্রিল তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর গত ৩০ এপ্রিল মধ্যরাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পাগলা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মামলার পর অভিযুক্ত কিশোর চট্টগ্রামে আত্মগোপনে গিয়েছিল। তবে পুলিশের তৎপরতায় সে আবার এলাকায় ফিরে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবির
নেত্রকোনার মদনে পিআইও’র বিরুদ্ধে মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :নেত্রকোনার মদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাটি ভরাটের কাজ করা নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তবে পিআইও’র দাবি প্রকল্পের টাকার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেনা। তবে ভুক্তভোগী বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা নিয়েও কাজের মুজুরীর টাকা পাচ্ছেন না ঘুরছে দ্বারে দ্বারে । অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মদন উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য উপজেলা প্রশাসন কয়েকটি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ আলম মিয়া উপজেলা পরিষদের মাটি ভরাটের প্রকল্পের কাজ দেন মাটি ব্যবসায়ী উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম কে। মাটি দিয়ে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন জায়গার গর্ত ভরাট করে দেন নজরুল ইসলামকে দিয়ে । মাটি ভরাট করতে খরচ হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া তাকে কয়েক ধাপে ২লাখ ৩০হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি থাকে ১লাখ ৩৯ হাজার টাকা আজ না কাল দিবে দিবে বলে ঘোরাচ্ছেন তাকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তখনকার সাবেক ইউএনও শাহ্ আলম মিয়া বদলির আদেশ হলে পিআইও হুমায়ুন কবির কে তার অফিসে ডেকে নিয়ে মাটি ভরাটের বাকি ১লাখ ৩৯হাজার টাকা নজরুল ইসলাম কে সময় মতো পরিশোধ করতে নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু কিছু দিন যাবৎ পিআইও তাকে কোনো পাত্তা দিচ্ছে না। টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে মাটি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাধ্য হয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে। মাটি কাটার টাকা পরিশোধ না করে আজ না কাল তাল বাহানা করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তব কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর বলেন, টাকার বিষয়টা আমার পূর্বের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল জানেন। টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি। মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, মদন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
৪৫ বছর ইমামতির পর রাজকীয় বিদায় গনী হুজুরের
ময়মনসিংহে ৪৫ বছরের ইমামতি শেষে বিদায় নিলেন ‘গনী হুজুর’, আবেগঘন সংবর্ধনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আটানি বাজার জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম হাফেজ আব্দুল গনি, যিনি স্থানীয়দের কাছে ‘গনী হুজুর’ নামে পরিচিত, টানা ৪৫ বছর ইমামতি করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাকে সম্মাননা জানিয়ে বিদায় দেয় মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা। দীর্ঘদিনের এই ইমামের বিদায়ে এলাকায় আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরহুম গহর শেখ প্রতিষ্ঠিত আটানি বাজার জামে মসজিদে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইমামতি করেছেন গনী হুজুর। এই সময়ে তিনি শুধু নামাজ পরিচালনাই করেননি, বরং ইসলামি শিক্ষা বিস্তার, নৈতিকতা গঠন এবং সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিদায় অনুষ্ঠানে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত অনেক মুসল্লিই আবেগাপ্লুত হয়ে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্থানীয়দের মতে, একজন মানুষ দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে একটি মসজিদের মেহরাবে দাঁড়িয়ে সমাজকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন—এমন উদাহরণ বিরল। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে হাফেজ আব্দুল গনি বলেন, “এই মসজিদের প্রতিটি ইট-বালু আর মুসল্লিদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। বয়স হয়েছে, এখন নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। এই সম্মাননা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।” খেলাফত মজলিসের মুক্তাগাছা উপজেলা সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান ইদুল বলেন, “তিনি একজন সৎ ও আস্থাভাজন মানুষ ছিলেন। ৪৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে ইমামতি করেছেন। তাকে বিদায় দিতে সবারই কষ্ট হয়েছে।” অনুষ্ঠান শেষে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
দেড় বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত আবদুল মজিদ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নেত্রকোনায় জীবিত বৃদ্ধ ‘মৃত’ তালিকায়: দেড় বছর ধরে বন্ধ বয়স্ক ভাতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রায় ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ সরকারি নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দেড় বছর ধরে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী আবদুল মজিদের বাড়ি উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে হঠাৎ করেই প্রায় দেড় বছর আগে তাঁর ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, সরকারি তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমস্যার সমাধানে আবদুল মজিদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। আবদুল মজিদ বলেন, “আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। দেড় বছর ধরে পাই না। বুড়া হইয়া গেছি, একটু ভালো খাইতে মন চায়।” তাঁর ছেলে আবুল বাসার জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়। দ্রুত ভুল সংশোধনের দাবি জানান তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আবদুল মজিদকে মৃত দেখানো হয়। এমনকি একটি মৃত সনদও জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি মারা গেছেন। এর ভিত্তিতেই তাঁর পরিবর্তে অন্য একজনকে ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আবদুল মজিদকে মৃত হিসেবে দেখাননি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুতই আবদুল মজিদ পুনরায় ভাতা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে ১২ দিনে ১০৬ শিশু ভর্তি
ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম রোগে বাড়ছে মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশু নিহত, ১২ দিনে আক্রান্ত ১০৬

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগে আক্রান্ত তিন শিশু ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, আর তাদের মধ্যে মারা গেছে ৫ শিশু। হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় তিনটি পৃথক কক্ষে ১০ শয্যার ‘হাম কর্নার’ চালু করা হলেও, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কক্ষের শয্যা সীমার বাইরে রোগী রাখা হচ্ছে। এক বিছানায় দুই শিশু এবং মেঝে বা বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। শিশু বিভাগের ফোকাল পার্সন ডা. গোলাম মওলা জানান, “টিকা নেওয়া ও না নেওয়া—উভয় ধরনের রোগীই ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে কোনো রোগী আইসিইউতে  পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। তবে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।” অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাম আক্রান্ত শিশুর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীরে লালচে দাগ এবং মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়। এক অভিভাবক জানান, তিন দিন ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হলেও কোনো উন্নতি হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি করাতে বাধ্য হন। উপজেলা থেকে হাসপাতালে আসা শিশুরা প্রায় ১৫ দিন অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে উন্নতি না হওয়ায় এখানে ভর্তি হচ্ছে। এক অভিভাবক বলেন, “নিউমোনিয়া পুরোপুরি কমেনি। তাই আমরা ময়মনসিংহ মেডিকেলে আছি।” হাসপাতাল রেকর্ড অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৬ শিশু হাম আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “সাধারণ রোগীদের থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ রোগী বেড়ে যাওয়ায় শতভাগ আইসোলেশন সম্ভব হচ্ছে না।” হাসপাতাল প্রশাসনের অনুমান অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি ও ৫ আগস্টের স্বাস্থ্য সহকারীর আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)   প্রতিনিধি নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রোগীর সংখ্যা বাড়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেড রাখা হয়েছে। এছাড়া, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ: ২৪ ঘণ্টায় শিশু মৃত্যু: ২ ১২ দিনে হাসপাতাল ভর্তি: ১০৬ ১২ দিনে মৃত্যু: ৫ হাসপাতালের ‘হাম কর্নার’ শয্যা: ১০ (প্রতি কক্ষে) বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু: ৬৬ এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, হাসপাতালের শয্যা ও আইসোলেশন সীমার বাইরে রোগী, টিকাদানে ঘাটতি, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি অভাব একসাথে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি
ময়মনসিংহে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর ভাই। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করছেন অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তার দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে হেয় করার জন্য এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নাম মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন (৪৭)। তিনি গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে মো. আরিফুজ্জামান খান বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেন। এতে আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতকে অভিযুক্ত করা হয়।  অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মো. আরিফুজ্জামানের ভাই মো. নুরুজ্জামান রানা একজন ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার ১৮টি পরচুলার ব্যবসা রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, খারাপ প্রকৃতি মানুষ ও পাশের গ্রামের বাসিন্দা। রানার বসতবাড়ির পাশে নিজস্ব জায়গায় আব্দুর রহমান ইসলামিয়া মাদরাসা এবং পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরি রয়েছে। মাদরাসায় অনুমানিক দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আর পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরিতে ২৫০ জনের অধিক কর্মচারী আছে।   আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মননের নেতৃত্বে অন্যান্য অভিযুক্তরা নুরুজ্জামান রানার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু’দিন পর থেকে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবি করা চাঁদা দিলে আর কোনও ঝামেলা করবে না বলে জানান তিনি। ফের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা রানাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। এমতাবস্থায় গত ৬ মার্চ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাদরাসার ছাত্র ও পি-বাড়ীয়া গ্রুপ হেয়ার কোট ফ্যাক্টরির কর্মীদের নিয়ে মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ইফতার মাহফিল উপলক্ষে ব্যবসায়ী রানা দেড় বছর পর ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে সেখানে যান ও আয়োজনের বিভিন্ন কাজে তদারকি করেন।  ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মনন, মীর রাসেল, মীর টুইংকেল, বিটু, সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জন ৯টি মোটরসাইকেল ও তিনটি অটোরিকশাযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদরাসার সামনে আসে। ওই সময় অভিযুক্তরা রানাকে ডেকে নিয়ে তাৎক্ষণাক ১০ লাখ টাকার দাবি করে। বিষয়টি দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আরিফুজ্জামান বলেন, “শনিবার রাতে অভিযোগ করার পর আমাকে কয়েকজন সন্ত্রাসী রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেন। বাড়ি না ছাড়লে আমার ও পরিবারের ক্ষতি করবে জানায়।” অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, “রানা ও তার সহযোগীরা ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখন তারা আমার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিলো। পূর্ব থেকে তার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। যে কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।” এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
মাকে গলাকেটে হত্যা, মেয়ে আটক
মাকে গলাকেটে হত্যা, মেয়ে আটক

ময়মনসিংহের ভালুকায় রাহিমা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের গাংগাটিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।  নিহতের স্বামীর নাম বিল্লাল হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের মেয়ে সোমাইয়া আক্তারকে (১৭) পুলিশ আটক করেছে। এলাকাবাসীর ধারণা মেয়ের প্রেমকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় মা খুন হয়েছেন।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে রাহিমা খাতুন ও তার মেয়ে সোমাইয়া খাতুন রাতের খাবার খাওয়া শেষে একই ঘরের দুই রুমে ঘুমাতে যান। এরপর কে বা কারা তার মাকে হত্যা করেছে তার মেয়ে কিছুই বলতে পারে না। সে শুধু জানায় ঘরের ভেতরে বিড়াল ঢুকলে যেমন শব্দ হয়ে সে তেমনি একটা শব্দ শুনেছেন। কতক্ষণ পরে পাশের রুমে গিয়ে দেখে তার মায়ের বিছানা রক্তে ভেসে গেছে। রাহিমার গলা কাটার পর তিনি বাঁচার জন্য ঘর থেকে বাইরে আসার চেষ্টা করলে বারান্দা এসে পড়ে যায় এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।  ঘটনার সময় রাহিমার স্বামী বিল্লাল হোসেন সিডস্টোর বাজারে ছিলেন। বিল্লাল হোসেন সিডস্টোর বাজারে লেপতোষকের ব্যবসা করেন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সিআইডি পুলিশের ক্রাইম সিন নিহতের লাশের আঘাতের চিহ্ন, ঘটনাস্থলের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন।  স্থানীয় লোকজন জানায়, সোমাইয়ার সঙ্গে এক ছেলের প্রেম ছিল, সেই প্রেম তার পরিবার মেনে নেয়নি। এ নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে সোমাইয়ার বিবাদ চলছিল। কয়েক দিন পূর্বে সোমাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সব কারণেই রাহিমা খুন হতে পারেন। সোমাইয়ার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।  তারা আরও জানায়, সোমাইয়ার হাতে কাটার আঘাত, অসংলগ্ন কথা-বার্তার কারণে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে আটক করে।  ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান, খুন হওয়ার সময় নিহতের মেয়ে পাশের রুমেই ছিল। তারপারও সে তেমন কিছুই জানে না বলে আমাদেরকে জানালে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে। সিআইডি পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে খুনের কারণ বলা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0