ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি, যা রাজনৈতিকভাবে এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে দেখা হয়েছিল। নির্বাচনে এই বিজয় ছিল কেবল একটি ক্ষমতার পালাবদল নয়—বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
দলটির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল উচ্চাভিলাষী—জবাবদিহিমূলক শাসন, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি।
কিন্তু ক্ষমতার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে, নাকি অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও পরিকল্পিত স্যাবোটাজে আটকে পড়ছে?
সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিরোধী জোটগুলো। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচি শুরু করেছে। তাদের দাবির তালিকায় রয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ নানা সমসাময়িক ইস্যু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল স্বাভাবিক বিরোধী রাজনীতি নয়—বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। লক্ষ্য: সরকারকে ধাপে ধাপে অজনপ্রিয় করা।
এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পরিকল্পনা অনুযায়ী—
* বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল উসকে দেওয়া
* বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয় করা
* নির্বাচনী সংঘাতকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপান্তর করা
* এবং শেষ পর্যন্ত সরকারবিরোধী বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা
সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হলেই এই চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে সরকার ৬০টি পদক্ষেপ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এসব উদ্যোগ জনমনে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি।
যদিও বাস্তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ছিল। যেমন—
* গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সময়মতো প্রদান
* সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
* কৃষি সহায়তা উদ্যোগ
বিশেষ করে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষি খাতে আধুনিকীকরণ ও সরাসরি সহায়তা প্রদানের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ([Reuters][3])
তবুও সমস্যা হলো—এই সাফল্যগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে জনমনে ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন বা কৃষক কার্ডের মতো বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত সমীক্ষা না হওয়ায় সন্দেহ ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
সরকারের যাত্রা শুরু থেকেই একাধিক অস্বাভাবিক ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
* তীব্র গরম
* পানির অভাব
* অতিথিদের দুর্ভোগ
এই ঘটনা সরকারের প্রথম ইমপ্রেশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার মধ্যে ৪১ জনই নতুন মুখ—যাদের অনেককেই দলীয় নেতাকর্মীরাও চেনেন না।
একই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এক ব্যক্তির হাতে দেওয়ার ফলে প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হয়।
যদিও নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয় একীভূত করে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। ([The Business Standard][4])
সরকারের সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একটি শক্তিশালী ‘সিন্ডিকেট’ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
* প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়োগ
* অতীতে বিএনপি-বিরোধী ভূমিকা থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো
* গোয়েন্দা রিপোর্ট উপেক্ষা করে পদায়ন
এসব ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে।
২৫ মার্চ একসঙ্গে একাধিক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়, যার অধিকাংশই বিতর্কিত।
কিছু নিয়োগ ইতোমধ্যে বাতিলও হয়েছে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন নিয়ে ‘টাকা লেনদেন’ ও মাফিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের আর্থিক নীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি রয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে বাধা।
এই আইন নিয়ে সমালোচনার মূল কারণ—
* ঋণখেলাপীদের পুনর্বাসনের সুযোগ
* বিচারহীনতার সংস্কৃতি জোরদার হওয়ার আশঙ্কা
সমালোচকদের মতে, এটি আর্থিক খাতে সংস্কারের বদলে পুরনো সমস্যাকে নতুনভাবে বৈধতা দিতে পারে।
বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—
* জবাবদিহিমূলক সরকার
* প্রশাসনিক সংস্কার
* দুর্নীতি দমন
বাস্তবে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির ফারাক স্পষ্ট।
বিশেষ করে—
* বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া
* প্রশাসনিক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব
* রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ
এসব কারণে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বিএনপির প্রতি একটি আবেগী সমর্থন রয়েছে।
কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো—
* দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই অসন্তোষ বেশি
* সমালোচনা থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসছে না
* সরকারের পক্ষে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ দুর্বল
এই অবস্থাকে অনেক বিশ্লেষক ‘অভিমানের পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
কারণ ইতিহাস বলে—
ভালোবাসা থেকে যেমন সমর্থন জন্মায়, তেমনি হতাশা থেকে ক্ষোভও তৈরি হতে পারে।
সরকারের ভেতর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী—
* গুরুত্বপূর্ণ পদে ‘গুপ্ত’ লোকজন বসানো হয়েছে
* তারা পরিকল্পিতভাবে ভুল সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে
* প্রশাসনিক স্যাবোটাজের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করা হচ্ছে
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলা হচ্ছে, উপমহাদেশে বহুবার অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রই বড় রাজনৈতিক পতনের কারণ হয়েছে।
তবে এই অভিযোগের বড় সমস্যা হলো—
এটি প্রমাণ করা কঠিন, এবং অনেক সময় এটি রাজনৈতিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারের সামনে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট:
১. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা
সিন্ডিকেট ভেঙে কার্যকর প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি।
২. জনআস্থা পুনর্গঠন
শুধু প্রকল্প নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. রাজনৈতিক মোকাবিলা
বিরোধী চাপ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল একসঙ্গে সামাল দিতে হবে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে। কিন্তু মাত্র দুই মাসেই স্পষ্ট হয়ে গেছে—ক্ষমতা অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা অনেক কঠিন।
সাফল্য আছে, কিন্তু তা দৃশ্যমান নয়।
নীতি আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল।
সমর্থন আছে, কিন্তু তা ক্ষয় হতে শুরু করেছে।
সবচেয়ে বড় কথা—সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন বিরোধীদল নয়, বরং নিজের ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা।
এই মুহূর্তে প্রশ্ন একটাই:
সরকার কি নিজস্ব ভেতরের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, নাকি সেই সংকটই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উপব্যবস্থাপক এবং একসময় চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে ঘিরে সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটানো, নিয়োগে অনিয়ম এবং আর্থিক সুবিধা গ্রহণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—নিজের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ গঠন, পরিবারের সদস্যদের নামে স্থাবর সম্পত্তি নিবন্ধন, সরকারি সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন ফাইল আটকে আর্থিক সুবিধা আদায় এবং ব্যাংক আমানত ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিপিসি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তপত্র পৌঁছেনি। সম্পদের বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত দলিল, ভূমি রেকর্ড এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় ফ্ল্যাট ও প্লটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদের সঙ্গে আহম্মদুল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম জড়িয়ে আছে। এর মধ্যে কেরানীগঞ্জের বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লটে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দলিল অনুযায়ী জমিটির মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। তবে স্থানীয়ভাবে জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য দলিলে উল্লেখিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এই মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে নুসরাত জেবিন সিনথী বলেন, জমিটি তাঁর নামে রয়েছে এবং ভবন নির্মাণে ব্যাংকঋণ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তি অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, আদাবরের একটি প্লট প্রথমে আহম্মদুল্লাহর শ্বশুরের নামে নিবন্ধিত হলেও পরে সেটি তাঁর স্ত্রীর নামে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া বরিশালের ঝালকাঠী জেলার গ্রামের বাড়িতে একটি ডুপ্লেক্স ভবন, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিজমি এবং বরিশাল শহরেও একটি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি দায়িত্ব ও অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বিপিসি চেয়ারম্যানের পিএস থাকাকালে বিভিন্ন ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদনের ফাইল তাঁর মাধ্যমে চেয়ারম্যানের দপ্তরে যেত। একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা আদায় করা হতো। বাংকার, রিফাইনারি ও বিল অনুমোদন একাধিক সূত্র দাবি করেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহকারী বাংকার ডিলার এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারির বিল দ্রুত অনুমোদনের বিনিময়ে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগে প্রভাবের অভিযোগ বিপিসির কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার দাবি, ২০১৯ সালের পর নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বদলি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আহম্মদুল্লাহকে চট্টগ্রামে বদলির আদেশ দেন। তবে সেই আদেশ অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তাঁকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে সংযুক্ত করেন। ব্যাংক আমানত নিয়ে অভিযোগ চেয়ারম্যানের সাবেক পিএস কে এম রিয়াজ রহমান গত ১ মার্চ জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে দেওয়া এক আবেদনে অভিযোগ করেন, আহম্মদুল্লাহর দায়িত্বকালে বিপিসির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এফডিআর ও এসএনডি হিসাব তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকিতে পড়লেও ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিপিসির বক্তব্য বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। দুদকেরও কোনো চিঠি আসেনি।" তিনি আরও বলেন, কোন ব্যাংকে কত এফডিআর বা এসএনডি রাখা হয়েছে, সে তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে ঘিরে আবারও সামনে এসেছে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিদেশে কর্মরত অবস্থায় সংঘটিত অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে একাধিক দপ্তরকে অবহিত করা হলেও কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত নথি, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট ইস্যু এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচয় দিয়ে অতীতের অভিযোগ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কেন্দ্রে রিয়াদ দূতাবাস রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দূতাবাসের স্থানীয় কর্মীদের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হতো। বিনিময়ে আদায় করা হতো নগদ অর্থ, যার একটি অংশ কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হতো। অভিযোগকারী সূত্র দাবি করেছে, ২০১৯ সালের মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসেই শত শত পাসপোর্টে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ‘ভুয়া আইডি’ ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের আরও বিস্ফোরক অংশে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে দূতাবাসের ভেতরে অস্তিত্বহীন কর্মচারীর নামে ভুয়া আইডি খুলে তা ব্যবহার করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ‘সাইফুর’ নামে একটি আইডির মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং সফটওয়্যার লগ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি সহজেই যাচাই করা সম্ভব। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চেয়ে একাধিক সরকারি চিঠি, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়? নথিপত্র অনুযায়ী, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও মতামত চেয়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা থেকে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়। সুরক্ষা সেবা বিভাগ, প্রশাসন-১ শাখা এবং মিশন শাখা পৃথকভাবে রিয়াদ দূতাবাসকে অভিযোগ যাচাই করে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, একাধিক স্মারক জারি হলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং তদন্ত প্রতিবেদনও যথাসময়ে জমা পড়েনি। এ পরিস্থিতি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিদেশে পোস্টিং নিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আবুল কাশেমের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিদেশে পোস্টিং নিশ্চিত করার চেষ্টা, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনে তদবিরের সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ নিজ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবুল কাশেম ও তার পরিবারের প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং ওই সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। তাদের অভিযোগ, দেশে-বিদেশে তার নামে ও বেনামে সম্পদ রয়েছে। তবে এসব সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। কী বলছেন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা? দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তার ভাষায়, “দুর্নীতি ছোট বা বড় হয় না। দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। প্রতিটি অভিযোগের গভীর অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের জন্য বারবার সরকারি চিঠি দেওয়া, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো নিষ্পত্তি না হওয়া—এসব বিষয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (RUTDP)-এর সাবেক প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ, কনসালটেন্সি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অবসর-উত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা এই কর্মকর্তাকে পুনরায় একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে এলজিইডির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিআরএলের পরও একই পদে ফেরার চেষ্টা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর পিআরএল শুরু হয় গত বছরের ১০ অক্টোবর। এরপর থেকেই তিনি পূর্বের দায়িত্বে ফেরার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ফাইল বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কী এই আরইউটিডিপি প্রকল্প? বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং এলজিইডির ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) অনুযায়ী, আরইউটিডিপি বা "সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প" দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পের চুক্তি ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে রাস্তা, ড্রেনেজ, স্ট্রিট লাইটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণকাজ এবং টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী মঞ্জুর আলী। ২৫০ জনের নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, পিআরএলে যাওয়ার আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, কার্যসহকারী, সোসিওলজিস্ট এবং হিসাব সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কাছ থেকে পদভেদে কয়েক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে তার ভাই মো. রাজুর মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং অর্থ দেওয়ার পরও অনেকে চাকরি পাননি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কনসালটেন্সি খাতে ৩৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী কনসালটেন্সি খাতে প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, বড় অঙ্কের কমিশন বা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ইফতিশা, অ্যাকুয়া কনসালটেন্সি, ডেপকো এবং ডিপিএম নামের চারটি প্রতিষ্ঠানকে কনসালটেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক লাখ টাকা মাসিক বেতনের স্বতন্ত্র কনসালটেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া হাজিরা ও প্রকল্পবহির্ভূত ব্যক্তিকে বেতন দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুতর বিষয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদে লোকবল নিয়োগ না দিয়েও হাজিরা দেখিয়ে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন—এমন ব্যক্তিদেরও প্রকল্পভুক্ত কর্মচারী দেখিয়ে বেতন পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মধুমতি মডেল টাউনে একটি প্লট এবং ঢাকার বিরুলিয়া এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ ছাড়া তার ভাই প্রকৌশলী রাজুর নামেও একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। দুদকের অনুসন্ধান কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুর্নীতি দমন কমিশন ইতোমধ্যে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুদকের উপপরিচালক আজিজুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আউটসোর্সিং ও কনসালটেন্সি নিয়োগের শুরু থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন, নিয়োগবিধি এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র এলজিইডির কাছে চাওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ শুধু আরইউটিডিপি নয়, এর আগে এমজিএসপি প্রকল্পে উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের সময়ও প্রকল্প সমাপ্তির পর উদ্বৃত্ত অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রকৌশলী মঞ্জুর আলীর বিরুদ্ধে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্বেগ অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় একই পদে নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এলজিইডির অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত চলছে, তাকে পুনরায় দায়িত্বে আনা হলে অধীনস্থদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা যাবে এবং প্রকল্পের কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বক্তব্য মেলেনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর আলীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি।