বিবিসি বাংলা: দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে। আর অকটেন হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারিতে গ্যাসের সাথে পাওয়া কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি উৎপাদন হয়।
জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের সাথে কনডেনসেট (উপজাত) পাওয়া যায় তা থেকেই উৎপাদন হয় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন ও কিছু এলপিজি।বাংলাদেশের মূল চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, ২০/২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন হয়।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি ফ্যাকচুনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এগুলোর প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার বারেল উপজাত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের মতো কনডেনসেট বরাদ্ধ পাচ্ছে। এ কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন ও কিছু ডিজেল উৎপাদন হয়।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।
বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।
সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।
বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।
এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।
এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।
ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।
দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।
হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।
এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।
এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।
বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।
"দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। "
অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।
সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।
সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
"প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।"
পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।
"রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।"
"আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।
তবে বাজারে বর্তমানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষ এবং কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
পেট্রোলপাম্প মালিকদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হতো, এখন সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন, ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পেট্রোলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হলেও অকটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাজারে যে দীর্ঘ লাইন ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘প্যানিক পারচেজিং’-এর ফল।
সরকার জানিয়েছে, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জনসম্মুখে ‘ভাই’ বলায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম ‘চটে’ গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার শিকার এক সাংবাদিক। তার দাবি, এসিল্যান্ড নিজেকে ‘সাধারণ কোনো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেছেন। দেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জুয়েল রানা রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর শহরের সাহা ফিলিং স্টেশনে এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে দাবি করেছেন। জুয়েল রানা জানান, রোববার সকাল থেকে জেলা শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে গ্রাহকদের মাঝে তেল সরবরাহ চলছিল। প্রতিটি পাম্পেই গ্রাহকদের অতিরিক্ত ভিড় ছিল। দুপুরের দিকে শহরের কলেজ মোড়ে সাহা ফিলিং স্টেশনটি পরিদর্শনে আসেন এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। এসময় সাংবাদিক জুয়েল রানা ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক প্রতি কী পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে জানার জন্য এসিল্যান্ডকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন করেন। এতেই ‘চটে যান’ এসিল্যান্ড। জুয়েল রানা বলেন, আমি ‘ভাই’ সম্বোধন করে প্রশ্ন করতেই চটে যান এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম। তিনি আমাকে বলেন, ‘ভাই কেন বললেন? এভাবে সবার সামনে ভাই ডাকলে সাধারণ মানুষ ভাববে আপনার সাথে আমার স্বজনপ্রীতি রয়েছে। সবাই আমাকেও সাধারণ মানুষ ভাববে। আমি তো সাধারণ মানুষ নই। ’ এরপর আমাকে আর কথা বলার সুযোগ দেননি। তার এমন আচরণে আমি সবার সামনে বিব্রত অবস্থায় পড়ি। জুয়েল আরও বলেন, ‘স্যার’ না বলে ভাই বলার কারণেই এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাকে স্যার বলতে হবে কেন? প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনার পরও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের এমন প্রভুত্বের আচরণ নিন্দনীয়। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলাম বলেন, আমি এসিল্যান্ড বলতে বলিনি। আমি বলেছি, ভাই বলছেন, বাকি লোকদের ইয়ে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সম্প্রতি সদরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরের ২১ টি গাছ কাটা ও অপসারণের প্রকাশ্য নিলাম গোপনে সারার অভিযোগ ওঠে এসিল্যান্ড আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দরপত্রে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা: শেষ সময়ে ‘দ্রুত উন্নয়ন’ না কি অস্বচ্ছতার আড়াল? বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ছয়টি উন্নয়ন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান ঘিরে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। কিন্তু কাজের ধরন, পরিসর এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঠিকাদাররা। পৌর ভবনেই ব্যয়ের বড় অংশ দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে পৌরসভা ভবন এবং এর আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নে। ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ: ৯,৪০,১৫২ টাকা কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ৪৩,৩৬,৭৮৮ টাকা ছাদে টাইলস স্থাপন: ১১,৪৯,১২১ টাকা এই তিনটি কাজেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, জনসাধারণের সরাসরি ব্যবহারের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে: ১০টি বেঞ্চ স্থাপন: ৪,১৭,২২৭ টাকা (প্রতি বেঞ্চ ~৪১,৭২৩ টাকা) ৫০টি সড়ক বাতি: ২৫,৮৯,৫৭৬ টাকা (প্রতি বাতি ~৫১,৭৯২ টাকা) একটি অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণ: ৬,৭৪,৮০৩ টাকা প্রশ্নবিদ্ধ ‘সাজসজ্জা’ খাতে বিপুল ব্যয় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মাত্র প্রায় ৩০০ বর্গফুটের দুটি কক্ষের সাজসজ্জায় ৪৩ লাখ টাকার প্রাক্কলন নিয়ে। স্থানীয়দের মতে, এটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ঠিকাদার জানান, ১,৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে যেখানে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে—যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। ‘শেষ সময়ের কাজ’—সন্দেহের কেন্দ্রে প্রশাসনিক পরিবর্তন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর কর্মচারী ইঙ্গিত দিয়েছেন ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। তার দাবি, প্রশাসক (ইউএনও) এবং প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের দায়িত্বের শেষ সময়ের কাজ হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়ে থাকতে পারে। এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ উত্থাপন করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া সাবেক কাউন্সিলর আলিম জোমাদ্দারের ভাষায়, “পৌর ভবনের বেশিরভাগ কাজই অপ্রয়োজনীয়। যেখানে রাস্তা ভালো আছে, সেখানে নতুন করে নির্মাণ বা টাইলস বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জামাল হোসেন বিপ্লব। তার মতে, “৬৩ লাখ টাকার কাজ পৌর ভবনে—এটা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।” ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, “দরপত্রের ব্যয় আর বাস্তব কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। এটি পরিষ্কারভাবে অতিমূল্যায়ন।” প্রশাসনের অবস্থান: দায় এড়ানোর চেষ্টা? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন জানান, প্রাক্কলন সাধারণত বাজারদর বিবেচনা করেই করা হয়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলন না দেখে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তার কাছেও “অস্বাভাবিক” মনে হয়েছে। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের ওপর, যারা প্রাক্কলন নির্ধারণ করে থাকে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ছোট পরিসরের কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়—যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে বরাদ্দ ব্যবহারের ধরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ব্যয়ের প্রাক্কলনের স্বচ্ছতা যাচাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা বাকেরগঞ্জ পৌরসভার এই প্রকল্পটি কেবল একটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়—এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের একটি পরীক্ষাও বটে। দরপত্র বিক্রয়ের শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৬। তার আগেই যদি প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না আসে, তাহলে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
ঢাকা : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব রাজধানী ঢাকায় চোখে পড়ার মতো। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ, মহাখালী, মৎস্য ভবন, বাড্ডা, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইনের দীর্ঘতা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। অনেকে জানিয়েছেন, দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না। এতে দৈনন্দিন কাজ, অফিস যাতায়াত এবং জীবিকা নির্বাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। চালকরা অভিযোগ করছেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। পাম্পে তেল মজুত থাকলেও বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, সরবরাহ কম নয়। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত চাহিদা এবং ‘ফুল ট্যাংক’ করার প্রবণতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। অনেক পাম্পে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের জন্য সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মেরুল বাড্ডার মেরুল বাড্ডা ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। রাইড শেয়ারিং চালক মাসুদ করিম রেজা বলেন, “বাইকের চাকা ঘুরলে ইনকাম, না ঘুরলে না খেয়ে থাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দিন চলে যায়।” রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে ব্যাংক কর্মকর্তা মারুফ হাসান জানান, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, “আজ তেল নিতেই হবে। কাল অফিস খোলা, তখন লাইনে দাঁড়ালে অফিসে দেরি হবে।” পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হলেও কিছু ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষও তেল মজুত করছে। ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মগবাজার, রমনা, তেজগাঁও, মহাখালী, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন পাম্পে একই চিত্র চোখে পড়েছে।