Brand logo light
মতামত

পিআইবিতে সেমিনার ব্যয় নিয়ে বিতর্ক

ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি
ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি

মামুনুর রশীদ নোমানী :

দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালের ১৮ই আগস্ট  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এর উদ্যোগে  প্রতিষ্ঠিত Press Institute of Bangladesh (পিআইবি) ।

দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কাজ করে আসছে। বর্তমান  পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ–কে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে বাজেট ব্যবস্থাপনা, ব্যয়ের নথি ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন; তাদের দাবী—এই বিষয়গুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।এতে করে পিআইবি–র ভাবমূর্তি, গণমাধ্যম উন্নয়নে এর ভূমিকা এবং সাংবাদিক সমাজের আস্থা, এই সব কিছুই ঝুঁকিতে পড়ে।

 

অভিযোগ: 


ভুয়া সেমিনার ও ভাউচার প্রদর্শন


সম্প্রতি একটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে, পিআইবি থেকে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন টাকার (২৩,৯৭,৫০০ টাকা) সেমিনার অ্যালাউন্স–এর নামে খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে ফাইনাল উপস্থিতি বা বাস্তব ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক নাম করা সাংবাদিকরা বলছেন যে তারা সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না বা স্বাক্ষরও তাদের নয়। 

রিপোর্ট অনুসারে:
ভুয়া সেমিনার বা কর্মসূচির খরচ হিসেবে চারটি ভাউচার দেখানো হয়, যার প্রতিটির খরচের পরিমাণ মিলিয়ে মোট টাকা একই রকম খাতের হিসাবে ধরা হয়।
•    অধিকাংশ নাম থাকা সাংবাদিকদের অভিযোগ—তাদের নাম বা স্বাক্ষর এমন কোনো ইভেন্টে তারা আসলে উপস্থিত ছিলেন না বা স্বাক্ষর করেছেনই না।
•    এমনকি কিছু নামের ব্যক্তি বর্তমানে দেশেই নেই বা অন্য স্থানে ছিলেন বলে দাবি করেন।
•    উপস্থিতি ও ব্যয়ের প্রত্যয়নযোগ্য ছবি, ভিডিও বা ফটো রিপোর্টে দেখা যায়নি।
•    পিআইবি–র দুটি বড় হলেও সেগুলিতে দুই শতাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রশিক্ষণ করার মতো জায়গা নেই বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। 

চারটি অনুষ্ঠানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়:

পিআইবির নথি অনুযায়ী ব্যয়ের হিসাব ছিল—

1️⃣ সংগীতসন্ধ্যা

  • তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  • স্থান: পিআইবি অডিটরিয়াম

  • ব্যয়: ৫,৭৩,০০০ টাকা

2️⃣ জুলাই অভ্যুত্থানের চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, গ্রাফিতি ও ভিডিও প্রদর্শনী

  • তারিখ: ১৮–১৯ ফেব্রুয়ারি

  • ব্যয়: ৪,৬৭,৫০০ টাকা

3️⃣ সেমিনার: ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : সংহতি ও প্রত্যাশা’

  • তারিখ: ১৮ ফেব্রুয়ারি

  • ব্যয়: ৬,৯১,৫০০ টাকা

4️⃣ সেমিনার: ‘গণ-অভ্যুত্থানের দিশা ও দর্শন’

  • তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি

  • ব্যয়: ৬,৬৫,৫০০ টাকা

সব মিলিয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে সাংবাদিক সমাজের একটি অংশ বলছে, “এভাবে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হলে সরকারী অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত থাকে না।”

 

সাংবাদিকদের স্বাক্ষর ও নাম ব্যবহার: অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট

রিপোর্ট অনুসারে সেখানে অন্তর্ভুক্ত নামগুলো
•    অনেকেই বলেছেন তারা কোনো পিআইবি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন না।
•    তাদের স্বাক্ষর জাল বা অচেনা স্বাক্ষর হতে পারে।
•    পিআইবি–র আর্কাইভ বা ভিডিও ফুটেজে সেসব ইভেন্টের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি—যেমন নামগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছিল।
•    একাংশ বলছেন, “এই টাকাটা নাকি ব্যয় দেখানো হয়েছে কিন্তু *আইনগতভাবে তা ব্যয় হয়নি।” 
সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন—
“যদি সরকারি ব্যয়ের হিসাব ও স্বাক্ষরের তথ্য খতিয়ে না দেখানো হয়, নিম্নমানের নথির উপর ভিত্তি করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—তবে তা সন্দেহজনক।”

প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমতা ও স্থাপত্যগত বাস্তবতা


পিআইবির নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, অডিটরিয়াম ও সেমিনার রুমগুলোর ধারণ ক্ষমতা দেখানো হয়; যেখানে একটি ২৩৮ আসনের অডিটরিয়াম, ৬০ আসনের সেমিনার রুম ও আরও ছোট সেন্টার আছে। 
যদিও এই ধারণক্ষমতা স্বীকারযোগ্য, দুইশো মানুষের একটি একদিনের প্রশিক্ষণ বা সেমিনার আয়োজনের জন্য বাস্তবসম্মত নয়—অনেক পেশাজীবী মনে করছেন দেখা উচিত যে সেই বিনিয়োগ কি বাস্তবে হয়েছে কি না।

 

মহাপরিচালকের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া: 

অভিযোগ উঠে আসার পর পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ অভিযোগগুলো সম্পর্কে বলেছেন, “প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ
 ভুয়া বিল তৈরি করেছে এবং আমি তা অনুমোদন করি নি; কোন টাকা ওই বিষয়ে ব্যয় হয়নি।” তারা বলেন তিনি প্রতিদিন অনেক ফাইল সই করেন, এবং পরে খানি ভুয়া/ভুল ফাইল সনাক্ত করেন। বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করেন তিনি। 
এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাংবাদিক সমাজের সব পক্ষেই সমালোচিত হচ্ছে, কারণ সত্য উদঘাটন ছাড়া সবকিছু অনুমান বা প্রত্যাশার উপরে স্থাপন করা কঠিন।

সাংবাদিক সমাজ ও সংগঠনের দাবি : 

সাংবাদিকদের একটি অংশ মনে করছে, পিআইবি–র মতো একটি প্রতিষ্ঠান যদি ব্যয়ের অডিট, উপস্থিতির ডকুমেন্টস, ভিডিও বা ফটোগ্রাফিক প্রমাণাদি প্রকাশ করে না—তবে জন আস্থা তৈরি হয় না।
তাদের দাবি:
•    দূরদর্শী তদন্ত কমিটি গঠন হতে হবে।
•    অডিট রিপোর্ট ও পেমেন্ট ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা উচিত।
•    অনিয়ম ও অসাধু আচরণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্লেষণ: স্বচ্ছতার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও নাগরিকদের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে হয়। পিআইবি–র মতো সাংবাদিকতা উন্নয়নের মুখ্য সংস্থায় অভিযোগ উঠলে—
১. দেখার বিষয়:
* ব্যয়ের প্রমাণ—ভাউচার, ফটো, ভিডিও, উপস্থিতি যুক্ত নথি;
২. আদর্শ হয়:
* অডিট রিপোর্ট খুলে দেওয়া যায় কি না;
৩. কি ঘটেছে:
* অনেক নামের ব্যক্তির তো দাবি—সে অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না।
* কিছু শিক্ষকের নাম ভুল বা বাস্তবে সেই ইভেন্টে কেউ ছিলেনই না। 
এগুলো দুর্নীতি কিনা—তা যাচাইয়ের জন্য দাবি ও তথ্যের যথাযথ যাচাই জরুরি।

পিআইবি–র উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধি—অবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা।
তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়—তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাব—এমন প্রশ্ন তোলে।
সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেন—এই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না।
পিআইবি–র শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়।

পিআইবিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের দাবি সাংবাদিক মহলের

•  প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ
•  নিয়োগ, প্রকল্প বা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন
•  কিছু কর্মকর্তার মধ্যে অসন্তোষের ব্যাপারে
সাংবাদিক সমাজের দাবি:
কিছু সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়, অর্থাৎ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
পিআইবি দেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগ বা প্রশ্নগুলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন—এমন মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।

  ২০২৪ সালে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান ফারুক ওয়াসিফ।তিনি যোগদানের পরেই জাতীয়তাবাদ আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে  বাধ্যতামুলক অবসর, অনত্র বদলীসহ বিভিন ভাে হয়রানী ষুরু করেন।

 

ফারুক  ওয়াসিফের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 


১. সেমিনার ও প্রশিক্ষণ ব্যয়ের অনিয়মের অভিযোগ
কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, কয়েকটি সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া বিল ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে, যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। 
২. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
পিআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
৩. সাংবাদিক মহলের উদ্বেগ
সাংবাদিকদের কয়েকটি সংগঠন ও পেশাজীবী মহলের একটি অংশ দাবি করেছে—পিআইবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
৪.একই দিনে ৪ কর্মশালা,কোটি টাকার ভুয়া বিল
৫.ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে চার লক্ষ সাতষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত
৬.ণ আন্দোলনের দিশা ও দর্শণ বিষয়ক সেমিনারের নামে ছয় লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার পাঁচশ টাকা আত্মসাত:

৭.জুলাই গণ অভ্যুত্থান: সংহতি ও প্রত্যাশা বিষয়ক সেমিনারের নামে ৬ লাখ ৯১ হাজার পাচঁশত টাকা আত্মসাত:

৮.amera & Crowd: Covering Revolution নামে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা দেখিয়ে ৫৫,০২৫ টাকা আত্মসাৎ:

৯.টেন্ডার ছাড়াই সংস্কার কাজ 

১০.অডিট নির্দেশ অমান্য ও তহবিল স্থানান্তর

১১.পিআইবির ডরমিটরিতে মদপান ও অসামাজিক কাজ:

১২.নিয়োগ বানিজ্য:

অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজন :
নথি যাচাই
•    পিআইবির গত ১–২ বছরের সেমিনার বাজেট
•    প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিল
•    প্রকল্প অনুমোদন নথি
•    অডিট রিপোর্ট

ফারুক ওয়াসিফের নিকট প্রশ্ন? 

•     সেমিনার ব্যয়ের অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হয়েছে?
•    বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া কী?
,একই দিন ৪টি প্রোগ্রাম করা আদৌ সম্ভব? 

•    পিআইবির প্রশাসনিক অভিযোগের বিষয়ে তথ্য মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন? 
 মন্ত্রনালয় তদন্তে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কিনা?  
•    মন্ত্রণালয় বা অভ্যান্তরিন কোন অডিট করেছেন? 

•    অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কী?
•    কোনো তদন্ত হলে আপনি সহযোগিতা করবেন কি?

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া :

পিআইবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উঠেছে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিআইবির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি।
সাংবাদিক সমাজ মনে করে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পিআইবির উদ্দেশ্য দেশের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বৃদ্ধিঅবশেষে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা।

তবে মহাপরিচালক পদে থাকা অবস্থায় যদি ভুল তথ্য, নাগরিকের স্বাক্ষর, ব্যয়ের অভিলেখ বা অন্যান্য পক্ষের দাবিকে উপেক্ষা করা হয়তবে সেটি উদাসীনতা, ব্যয়ের অপব্যবহার, কিংবা স্বচ্ছতার অভাবএমন প্রশ্ন তোলে।

সাংবাদিক সমাজের একাংশ মনে করেনএই দাবির যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা সহজভাবে ফেলে দেওয়া যায় না।

পিআইবির শুদ্ধ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাজের স্বার্থে স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া আশা করা উচিত নয়।

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা উন্নয়নে Press Institute of Bangladesh( PIB)  দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।তাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সাংবাদিক সমাজের অনেকেই মনে করছেন—পিআইবির ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

লেখক : সাংবাদিক,

[email protected]

তথ্য সুত্র : 

1. BD Digest, লিংক-  https://en.bddigest.com/pib-dg-faruq-wasifs-fraud-2-4-million-disappeared-through-fake-seminar-and-journalists-forged-signatures/?utm_source=chatgpt.com

2. দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, লিংক-         https://www.bd-pratidin.com/national/2026/03/05/1224362

3. দৈনিক কালের কণ্ঠ,       লিংক-                https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655859

4.দৈনিক কালের কণ্ঠ,       লিংক-                   https://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2026/03/05/1655869

5.ইত্তেহাদ নিউজ :           লিংক-                   https://etihad.news/pib-tarunyer-utsob-24-lakh-corruption-allegation-bangladesh

6.ইত্তেহাদ নিউজ :           লিংক-                  https://etihad.news/pib-faruk-wasif-corruption-fake-bill-recruitment-scam

7.otnbangla                    লিংক-                   https://otnbangla.com.au/news/51830

8. somoynews.tv          লিংক-                       https://www.somoynews.tv/news/2026-03-06/LJ2U9TzR

9. ঢাকা টাইমস              লিংক-                     https://www.dhakatimes24.com/2026/03/05/402684

10. কালের কণ্ঠ             লিংক-                     https://www.youtube.com/watch?v=dXwwe8EzTME

11.বাংলানিউজ            লিংক-                      https://www.youtube.com/watch?v=449Y3K3uMP8

12.Somoy TV            লিংক-                        https://www.youtube.com/watch?v=xCZRP0vVHq8

13. বরিশাল খবর         লিংক-                                       https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%9F,-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E
13. বরিশাল খবর         লিংক-      https://www.barisalkhabar24.com/onusondhaninews/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%87-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%96-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2:-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2,-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%89%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE,-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0

14. বিডি২৪নিউজ                 লিংক-                    https://bd24news.com %e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0/

15.বিডি২৪নিউজ লিংক-    https://bd24news.com/%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%bf-%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8/

16.moheshpurnews         লিংক-                                   

https://moheshpurnews24.com/%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D/

 

 

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

মতামত

View more
বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ
বাংলাদেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎ: বিকল্প উৎস তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

আব্দুর রহমান: বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে—শিল্প, পরিবহন, বিদ্যুৎ—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই চাহিদার বড় অংশই পূরণ হচ্ছে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের মাধ্যমে। বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি—সব মিলিয়ে এই নির্ভরতা এখন বড় এক কৌশলগত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে দেশকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনীতি, পরিবেশ রক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিকল্প জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া ছাড়া আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি উৎস বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে। সূর্যের আলোয় শক্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশে বছরের অধিকাংশ সময়ই সূর্যালোক পাওয়া যায়—এই প্রাকৃতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সৌর শক্তি হতে পারে জ্বালানি রূপান্তরের প্রধান ভরকেন্দ্র। গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাদে ছোট সোলার সিস্টেম, শহরে রুফটপ সোলার, এমনকি বড় আকারের সোলার ফার্ম—সবই এখন আলোচনায়। সেচের জন্য সৌরচালিত পাম্পও কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এ ক্ষেত্রেইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড  এর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত সোলার হোম সিস্টেম কর্মসূচি বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সাফল্যকে কীভাবে শিল্প ও নগর পর্যায়ে বড় আকারে সম্প্রসারণ করা যাবে? উপকূলে বাতাসের শক্তি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল—বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং চট্টগ্রাম—বায়ু শক্তির জন্য সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে গড় বাতাসের গতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উইন্ড টারবাইন বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তবে এখনো বড় পরিসরে এই খাতের উন্নয়ন সীমিত। গবেষকরা বলছেন, সঠিক ডেটা সংগ্রহ ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে বায়ু শক্তি দেশের জ্বালানি মিশ্রণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।  গ্রামে গ্রামে বায়োগ্যাস গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি উৎস হলো বায়োগ্যাস। গবাদিপশুর গোবর, কৃষি বর্জ্য ও জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন এই গ্যাস রান্নার কাজে যেমন ব্যবহারযোগ্য, তেমনি ছোট পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও কাজে লাগানো যায়। এটি শুধু জ্বালানির বিকল্প নয়—বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির জন্য জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।  কৃষিভিত্তিক শক্তি: বায়োমাস ধানের তুষ, খড়, আখের বর্জ্য বা কাঠের অবশিষ্টাংশ—যা একসময় অপচয় হতো—সেগুলোই এখন শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর দেশে বায়োমাস শক্তি বাস্তবায়ন তুলনামূলক সহজ। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।  সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জলবিদ্যুৎ বাংলাদেশে বড় নদী থাকলেও উচ্চতার তারতম্য কম হওয়ায় বড় আকারের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সীমিত। বর্তমানে Kaptai Dam থেকেই মূল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ছোট আকারের মিনি ও মাইক্রো হাইড্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ এখনো কাজে লাগানো হয়নি পুরোপুরি।  শহরের বর্জ্য থেকেই জ্বালানি প্রতিদিন ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এই বর্জ্যকে সমস্যা না দেখে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করার ধারণা থেকেই ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রযুক্তির বিকাশ। ল্যান্ডফিল গ্যাস বা কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন—এই খাতটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এটি নগর ব্যবস্থাপনার একটি বড় সমাধান হতে পারে।  ভবিষ্যতের দিকচিহ্ন: সবুজ হাইড্রোজেন বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সবুজ হাইড্রোজেন। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে পানি থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা যায়, যা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো এই খাত প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি কৌশলগত বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র হতে পারে। বাস্তবতা বনাম সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প জ্বালানি হলো সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস, বায়োমাস, বায়ু শক্তি এবং বর্জ্য থেকে জ্বালানি। তবে বড় প্রশ্ন হলো—নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ—এই চারটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া কি এই সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে রূপ পাবে? বাংলাদেশ যদি এই খাতগুলোকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে শুধু আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই নয়—বরং একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0

খাল খনন: জিয়া থেকে তারেক

ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা

মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

অধ্যাপক মেঘনা গুহ ঠাকুরতা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞে শহীদ অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা

জুলহাস আলম
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান শুধু শিক্ষক নন, অনেকের শিক্ষাগুরু

জুলহাস আলম: আমাদের শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, সাখাওয়াত আলী খান ৯ মার্চ ২০২৬ প্রয়াত হয়েছেন। স্যারের মৃত্যুতে গণমাধ্যমে ও অন্যান্য খাতে ছড়িয়ে থাকা অগণিত শিক্ষার্থীর হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা যারা স্যারের সরাসরি ছাত্র, স্যারের বিদায়ে আমরা আবেগাপ্লুত হয়েছি। খবরটা যখনই পেলাম, আমার সামনে একজন শিক্ষকের, একজন অভিভাবকের প্রতিকৃতি ভেসে উঠল। ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, ব্যাকব্রাশ করা চুল, মোটা ফ্রেমের চশমা, স্মিত হাসি, পরিষ্কার কণ্ঠ, সৌম্য, সুদর্শন একজন মানুষ। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, নরম করে কথা বলার স্টাইল—যুক্তি আবার কখনো হিউমার মিশ্রিত বাক্য চয়ন। শ্রেণীকক্ষে তিনি গল্প বলে ক্লাস নিতেন। যা বলতেন তা ছবির মতো পরিষ্কার। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, ফিচার লেখা—এসব বিষয় পড়ানোর সময় ক্লাস প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যাপনা থেকে অবসর নেন। তারপরও যুক্ত ছিলেন বিভাগে। অনারারি অধ্যাপক হিসেবে। যুক্ত ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও। স্যারকে প্রথম জানা শুরু করি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরপরই। বোধ হয় তখনো স্যারের কোনো ক্লাস পাইনি। এর মধ্যে আমি ম্যাস লাইন মিডিয়া সেন্টার (এমএমসি) নামের একটি গণমাধ্যম সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে টুকটাক লেখালেখির কাজ শুরু করি। সেখানে একটা পাবলিকেশন বের হবে, তাই কিছু সাক্ষাৎকার লাগবে।এমএমসির প্রধান নির্বাহী কামরুল হাসান মঞ্জু ভাই আমাকে বললেন সবগুলো সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য। তিনি আমাকে সাখাওয়াত স্যারের কাছে যেতে বললেন। এদিকে আমি ভয়ে অস্থির। একেবারেই নবীন আমি। কেবল আমি সাংবাদিকতার ফাইভ ডবলিউজ ও ওয়ান এইচ (5W, 1H) এর সাথে পরিচিত হচ্ছি। ...ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। একজন প্রথিতযশা অধ্যাপককে ইন্টারভিউ করার সাহস আমার হওয়ার কথা নয়। তাও আবার গণমাধ্যমের পলিসি লেভেল নিয়ে। মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্র নিয়ে। দৌড়ে গেলাম পাবলিক লাইব্রেরিতে। প্রশ্ন তৈরি করতে হবে। শেষে একগুচ্ছ প্রশ্ন তৈরি করে গেলাম স্যারের বাসায়। ভয়ে ভয়ে গেলাম।স্যার একটা সাদা পায়জামা ও ফতুয়া পরে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কী আশ্চর্য! যেখানে আমি ভয়ে অস্থির—কী থেকে কী বলে ফেলি! তিনি মুহূর্তেই আমাকে সহজ করে দিলেন। বললেন, তোমার হাতে সময় আছে? তাহলে চা খেতে খেতে গল্প করা যাক। আমি বললাম, সময় আছে। স্যার খুশি হলেন, বললেন, শেষে সাক্ষাৎকার দেওয়া যাবে। আমার বাবা, মার খবর নিলেন। কোথায় থাকি, বাড়ি কোথায়, কেন সাংবাদিকতা পড়তে আসলাম ইত্যাদি। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে সাংবাদিকতা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলো, সেসব নিয়ে গল্প করলেন। নিজের অজান্তেই কখন যেন সহজ হয়ে গেলাম। মনে হলো, একজন অতি আপনজনের সাথে বহুদিন পর দেখা হয়েছে। ভয় কেটে গেল। তারপর সাক্ষাৎকার নিয়ে ফিরলাম। পরবর্তী জীবনে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই ফর্মুলা আমার কাজে লেগেছে। কোনো সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কী করে সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের সহজ করে নিতে হয়, আস্থার জায়গায় নিতে হয়, সেই শিক্ষা আমি সেদিন পেয়েছিলাম ক্লাসরুমের বাইরে। সেই থেকে বুঝতে পেরেছি একজন সোর্স কেবল একজন তাৎক্ষণিক সোর্স নয়, বরং এটা একটা সম্পর্ক, আস্থা ও বিশ্বাসের। বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় আমার শিক্ষক অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী স্যারের অনুপ্রেরণায় নিয়মিত একটা দেয়াল পত্রিকা বের করার সিদ্ধান্ত নেই। আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করি। হাতে লেখা দেয়াল পত্রিকা বের করলাম। দেয়ালে টানালাম সেটা। একদিন সকালে দেখি সাখাওয়াত স্যার করিডোরে একা দাঁড়িয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে সেটা পড়ছেন। আমি পাশে গিয়ে দাঁড়াতেই তিনি খুব প্রশংসা করলেন। বললেন, এটা ছাপা ফরম্যাটে বের করার চেষ্টা করো। খুব ভালো হবে। আমার মাথায় যথারীতি ভাবনাটা গেঁথে গেল। তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সিতারা পারভীন ম্যাডামকে বললাম যে একটা পত্রিকা বের করতে চাই। সাখাওয়াত স্যারের কথা বললাম। ম্যাডাম বললেন, কী করতে চাও সেটার একটা লিখিত প্রস্তাবনা দাও। তারপর গেলাম আহাদুজ্জামান স্যারের কাছে। তিনি তখন আমার টিউটোরিয়াল শিক্ষক। স্যার উৎসাহ দিলেন। লেখা সংগ্রহের কাজ শুরু হলো। আমি তখন সেগুনবাগিচায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নিয়ে একটা লেখা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পরবর্তীতে এডিটরিয়াল বোর্ড আমার লেখাটাকে কভার স্টোরি বা প্রধান লেখা হিসেবে ছাপানোর সিদ্ধান্ত নিলো। পত্রিকা বের হলো। প্রথম সংখ্যার প্রথম প্রধান লেখাটা আমার। আমি খুশি অনেক। সাখাওয়াত স্যার আমাকে ডাকলেন। অনেক খুশি হয়েছেন স্যার। অনেক উৎসাহ দিলেন। শিক্ষক তিনিই, যিনি সাধারণত ক্লাসে পড়ান। অনেকেই শিক্ষক হতে পারেন, কিন্তু সবাই গুরু নন। সাখাওয়াত স্যার আমাদের অনেকের কাছেই শিক্ষাগুরু। বিভাগের বাইরে, কোনো টিভি স্টেশনে বা সেমিনারে, যতবারই দেখা হয়েছে, তিনি আদর করে কাছে ডাকতেন, পরম মমতায় খোঁজ খবর নিতেন। একজন ইতিহাস সচেতন, সংস্কৃতিমনা এবং যোগাযোগ ভাবনায় ডুবে থাকা মানুষ ছিলেন স্যার। সাংবাদিকতাকে তিনি অনেক দায়িত্বশীল পেশা হিসেবে তুলে ধরতেন। কবিতা ভালবাসতেন। বিভাগে একবার জীবনানন্দ দাশের কবিতা পড়তে সাহস করলাম। তিনি ছিলেন বিচারক। ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি পড়লাম। তিনি পরে ডেকে আমাকে বললেন, জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যে মেলানকলি (Melancholy) আছে সেটা ধরতে কত গভীরে প্রবেশ করতে হয়, সে বিষয়ে কথা বললেন। আমি মুগ্ধ হয়ে স্যারের কথা শুনলাম। কত সহজ করে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন! তারপর থেকে জীবনানন্দ দাশ আমার কাছে অন্যরকম অর্থ তৈরি করলো। তিনি বললেন, তার কবিতায় প্রচুর রূপকল্প আছে। চোখ বন্ধ করলে তা অনুভব করা যায়। হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে হয় তা। সাখাওয়াত স্যারের সেই কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজছে। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। সাখাওয়াত স্যার নিজে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন, শিক্ষকতা করেছেন, দেশ-বিদেশের জার্নালে প্রবন্ধ লিখেছেন, পত্রিকায় কলাম লিখেছেন। অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন মানুষ। বিনয়ী, আবার বাবার মতো অভিভাবকসুলভ ছিলেন। মজাও করতেন। একবার বেসরকারি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত একটা তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্যারের সাথে আমিও অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলাম। পাশাপাশি বসলাম। স্যারকে বললাম, খুব ভালো লাগছে স্যার আপনাকে পেয়ে। আপনার বয়স বাড়েনি স্যার। হাসলেন তিনি। বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ, আগে ছিলাম খোকা, আর এখন হয়েছি বুড়ো খোকা! বলেই হাসলেন। স্বভাবসুলভ খোঁজ খবর নিলেন আমার, আমার পরিবারের। জানতে চাইলেন আমার প্রতিষ্ঠান এপি কেমন চলছে ইত্যাদি। খুব খুশি হলেন তিনি। অন্য অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন এই বলে যে, ও আমার ছাত্র। বিদায়ের সময় মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করলেন, নিজের জন্য দোয়া চাইলেন। প্রিয় সাখাওয়াত স্যার আজ আর নেই। সাংবাদিকতা শিক্ষার একজন পথিকৃৎকে হারালাম আমরা। একজন অভিভাবককে হারালাম আমরা। স্যারের সাথে টুকরো টুকরো স্মৃতি বয়ে চলব সারা জীবন। স্যারের জন্য প্রার্থনা। জুলহাস আলম : ব্যুরো প্রধান, এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান এক জীবনের অফুরান প্রেরণার বাতিঘর

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

সাংবাদিকতার শিক্ষাগুরু অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান

খালি হাতে ত্যাগীরা

নতুন মন্ত্রিসভা: কেন বাদ পড়লেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা? রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

জ্বালানি সংকট
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা: বাংলাদেশে কি সত্যিই জ্বালানি সংকট?

বাংলাদেশে হঠাৎ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, রেশনিং করে তেল সরবরাহ এবং অতিরিক্ত তেল মজুতের অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাড়িচালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ তেল না পেয়ে গণপরিবহনে অফিসে যাওয়া শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশে শিগগিরই জ্বালানি তেলের বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি কি সত্যিই এতটা সংকটপূর্ণ? সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে বিপিসির সর্বশেষ মজুত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—বিভিন্ন জ্বালানি তেলের সরবরাহ সক্ষমতা ১৩ দিন থেকে ৭১ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এই মজুত কতটা নিরাপদ? পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন: আতঙ্ক না বাস্তবতা ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল রেশনিং করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। পাম্প মালিকদের একটি অংশ বলছেন, গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একজন পাম্প ব্যবস্থাপক জানান, “সাধারণত একজন গ্রাহক যে পরিমাণ তেল নেন এখন তার চেয়ে বেশি নিচ্ছেন। অনেকেই ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করছেন।” এই প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কজনিত কেনাকাটা বা panic buying শুরু হলে বাজারে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সংকট তৈরি হতে পারে। বিপিসির দাবি: সংকট নেই বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তাদের মতে, পরিস্থিতি মূলত গুজব ও আতঙ্কের কারণে জটিল হয়ে উঠছে। একজন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তা জানান, “আগামী মাস পর্যন্ত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন কার্গো ইতিমধ্যেই দেশে আসছে।” জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার সকালে জ্বালানিবাহী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। একই দিনে রাতে আরও একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। কতদিন চলবে জ্বালানি মজুত বিপিসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের মজুত নিম্নরূপ: ডিজেল দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জ্বালানি হলো ডিজেল। বর্তমানে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৩ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এই মজুত তুলনামূলকভাবে কম। অকটেন অকটেনের মজুত রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন এতে প্রায় ২৫ দিনের সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। পেট্রোল পেট্রোলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬০৯ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৭ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে। ফার্নেস অয়েল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে প্রায় ৬৭ হাজার ৫০৯ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৪৫ দিন সরবরাহ চালানো সম্ভব। জেট ফুয়েল বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৬০ হাজার ৬৯৮ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৪২ দিন সরবরাহ দেওয়া যাবে। কেরোসিন কেরোসিনের মজুত রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৭৩ মেট্রিক টন এতে প্রায় ৭১ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মেরিন ফুয়েল মেরিন ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৫ হাজার ৪ মেট্রিক টন এতে প্রায় ১৯ দিন সরবরাহ দেওয়া সম্ভব। আমদানি পরিস্থিতি কী জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মাসে মোট ১৪টি জ্বালানি কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইতিমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে এবং কয়েকটি পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টি নিশ্চিত হয়েছে। বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে সরবরাহকারী দেশগুলো জানিয়েছে। এছাড়া বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকেও তেল আমদানি করা হতে পারে। হরমুজ প্রণালী সংকট কতটা প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন রুট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা জাহাজগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বাংলাদেশের তেল পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম। অতিরিক্ত আমদানির পরিকল্পনা জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী মাস পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে। এর বড় অংশ ইতিমধ্যেই দেশে আসতে শুরু করেছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। এই তেল ভারত, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আতঙ্কের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি খাতে সংকটের চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, “যখন মানুষ মনে করে কোনো পণ্য সংকট হতে পারে, তখন তারা বেশি করে কিনতে শুরু করে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।” এটিকে অর্থনীতিতে বলা হয় self-fulfilling crisis। অর্থাৎ সংকটের ভয়ই শেষ পর্যন্ত সংকট তৈরি করে। বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় পুরোটা বিদেশ থেকে আমদানি করে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়া বা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা দ্রুত ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি— ১. কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানো ২. বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ ৩. নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বিস্তার ৪. সরবরাহ উৎস বৈচিত্র্য করা সামনে কী হতে পারে বর্তমান তথ্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক সংকট নেই। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: নিয়মিত আমদানি বাজারে আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতি না ঘটে এবং আমদানি পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘ লাইনের পেছনে থাকা আতঙ্ক যদি কমানো না যায়, তাহলে সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মজুত বর্তমানে ১৩ থেকে ৭১ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ—যা পরিস্থিতি অনুযায়ী যথেষ্ট হলেও খুব বেশি নিরাপদ বলা যায় না। তাই বাস্তব সংকটের আগে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো—স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। কারণ জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তথ্যের অভাবই অনেক সময় বাস্তব সংকটের চেয়েও বড় সমস্যা তৈরি করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১০, ২০২৬ 0
বিএনপি

বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাগ্যে কী আছে

ফারুক ওয়াসিফ মহাপরিচালক পিআইবি

ফারুক ওয়াসিফ, পিআইবি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি: নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য উদঘাটন জরুরি

আমীন আল রশীদ

খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ ইরান কীভাবে নেবে?

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0