ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া।
সফরকালে হামাস প্রতিনিধিদল ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানায়। সংগঠনটি এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেছে।
হামাসের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনায় ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।
একই সঙ্গে মুহাম্মদ দারবিশ বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে খামেনির নীতিগত ও সাহসী অবস্থান হামাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সফরের সময় হামাস প্রতিনিধিদল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান অভিযানের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে।
হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘বিপর্যয়কর’। প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম)কে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থানকে তেহরানের নীতিগত অবস্থান হিসেবেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
হামাস ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান নিজেকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ হামাসকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামাস প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হামাসের লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ দারবিশের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া। সফরকালে হামাস প্রতিনিধিদল ইরানকে যুদ্ধক্ষেত্র ও আলোচনার টেবিলে ‘বড় ধরনের জয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানায়। সংগঠনটি এই অর্জনকে গোটা ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা প্রতিরোধ অক্ষ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর বিজয় বলে উল্লেখ করেছে। খামেনির প্রতি শোক ও অবস্থানের প্রশংসা হামাসের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের শাহাদাতের ঘটনায় ইরানের নেতা, সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে মুহাম্মদ দারবিশ বলেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের প্রতি সমর্থন এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের বৈধ প্রতিরোধের পক্ষে খামেনির নীতিগত ও সাহসী অবস্থান হামাসের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি তুলে ধরে হামাস সফরের সময় হামাস প্রতিনিধিদল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘চরম অমানবিক পরিস্থিতি’ এবং পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান অভিযানের বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরে। হামাসের দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা ‘বিপর্যয়কর’। প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। ইরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে ধন্যবাদ জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আল-কুদস (জেরুজালেম)কে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থানকে তেহরানের নীতিগত অবস্থান হিসেবেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেক্ষাপট হামাস ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান নিজেকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ হামাসকে সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে হামাস প্রতিনিধিদলের সফর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কিংবা স্লোগান দেওয়া—এসব কোনওভাবেই একজন নাগরিককে নিজ এলাকা থেকে বহিষ্কার করার বৈধ কারণ হতে পারে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে মহারাষ্ট্র পুলিশের জারি করা একটি এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার (Externment Order) বাতিল করেছে বম্বে হাই কোর্ট। রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি মাধব জামদার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "নাগরিকরা ভারত সরকারের দাস নয়। তারা প্রতিবাদ করতে পারে, আন্দোলন করতে পারে। শুধুমাত্র সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার জন্য কাউকে বহিষ্কার করা যায় না।" এই পর্যবেক্ষণ ইতোমধ্যেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পুলিশি ক্ষমতার সীমা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে কে? মামলার আবেদনকারী ছিলেন সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (এসডিপিআই)-এর মহারাষ্ট্রের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনস্বার্থ ও রাজনৈতিক ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তার আন্দোলনের বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল— সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) জ্ঞানবাপী মসজিদ বাবরি মসজিদ ওয়াকফ বোর্ডে দুর্নীতি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিভিন্ন বিক্ষোভে তিনি অংশ নেন এবং কর্মসূচিরও আয়োজন করেন। কীভাবে জারি হয় বহিষ্কারের নির্দেশ? ২০২৫ সালে মহারাষ্ট্র পুলিশ মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ১২ মাসের জন্য মুম্বই ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি করে। পুলিশের দাবি ছিল— তার কার্যকলাপ জনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি, মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন কোঙ্কন বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারও। কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা? ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— এসব মামলার অধিকাংশই ছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি, মিছিল বা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। প্রধানত ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৮৮ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এসব মামলায় কোথাও— খুন, দাঙ্গা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবহার, সংঘবদ্ধ অপরাধ জাতীয় গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না। আদালতে কী প্রশ্ন তুললেন বিচারপতি? শুনানির সময় বিচারপতি মাধব জামদার একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "এসব কী হচ্ছে? সমস্ত নাগরিককে কি ভারত সরকারের দাস বানানো হচ্ছে?" তিনি আরও প্রশ্ন করেন, "মানুষ প্রতিবাদ করতে পারবে না? আন্দোলন করতে পারবে না?" বিচারপতি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন— "বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ" কিংবা "অমিত শাহ মুর্দাবাদ" ধরনের স্লোগান কীভাবে বহিষ্কারের আইনি ভিত্তি হতে পারে? তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনও অপরাধ নয়। প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের উদাহরণও টানলেন বিচারপতি সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বলেন— যদি নাগরিকরা কোনও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী। তিনি পুলিশের উদ্দেশে বলেন, "পুলিশ কোনও মন্ত্রীর অধীনে কাজ করে না। তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি।" আদালতের পর্যবেক্ষণ: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত রায়ে আদালত জানায়— সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কারণে একজন নাগরিককে এলাকা থেকে বহিষ্কার করা সংবিধানের ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন। বিচারপতি বলেন, এই মামলায় এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার ছিল পুলিশের ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার। কেন বাতিল হলো এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার? আদালতের মতে— মহারাষ্ট্র পুলিশ অ্যাক্টের ৫৬ ধারা মূলত ব্যবহার করা হয়— গুরুতর অপরাধী, জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব হুমকি, জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা এসব ক্ষেত্রে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা স্লোগান দেওয়া ওই ধারার আওতায় পড়ে না। ফলে— ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (জোন-৬) এবং কোঙ্কন ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার—উভয়ের আদেশই বাতিল করে আদালত। এসডিপিআই কী বলেছে? রায়কে "সংবিধান ও গণতন্ত্রের ঐতিহাসিক বিজয়" বলে বর্ণনা করেছে এসডিপিআই। দলটির দাবি— এই রায় প্রমাণ করেছে যে— শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার, সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়, রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালত এখনও কার্যকর। প্রশান্ত ভূষণের প্রতিক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন— "এ থেকে বোঝা যায় এখনও এমন বিচারপতি আছেন, যারা সরকারকে প্রশ্ন করার এবং নাগরিকের অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রাখেন।" এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার কী? এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার হলো একটি প্রতিরোধমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে— কোনও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট জেলা বা শহর ছাড়তে বাধ্য করা যায়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। সাধারণত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কমিশনার এ ধরনের আদেশ জারি করেন। আইনটির উদ্দেশ্য হলো— সংগঠিত অপরাধ বা জননিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি প্রতিরোধ করা। তবে আদালত মনে করেছে, এই মামলায় সেই ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। বিচারপতি মাধব জামদার কে? পুণের বাসিন্দা বিচারপতি মাধব জামদার ২০২০ সালে বম্বে হাই কোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। আইনজীবী হওয়ার আগে তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার কর্মজীবনে তিনি— দেওয়ানি, ফৌজদারি, সাংবিধানিক আইন, পরিবেশ, জনস্বার্থ মামলা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। হাই কোর্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছিল। কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নীতি স্পষ্ট করেছে— সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার। পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কারণে নাগরিককে বহিষ্কার করা যায় না। এক্সটার্নমেন্ট আইনের অপব্যবহার আদালত মেনে নেবে না। এই রায় ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার জবাবদিহির প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ধরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে, তবে তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরমের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ‘রাওয়ায়েহ’ নামে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে পরিচলন মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এসব মেঘের উৎপত্তি ঘটে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত মূলত পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকেই বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কেমন? রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং শারজাহসহ বড় শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে মেঘলা আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমিরাতজুড়ে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।