Brand logo light

আন্তর্জাতিক রাজনীতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মুনাফা কমছে | নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা। একই সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে চাপের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম খরচের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। মুনাফায় বড় পতন ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে তিনটি বড় সংকটে রয়েছেন— শ্রমিকের সহজলভ্যতা সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোক্তাদের ব্যয় প্রবণতা এখনও শক্তিশালী থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের “অদৃশ্য মন্দা” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যেও বাড়ছে নতুন ব্যবসা অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা থেমে নেই। বরং রেকর্ড গতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতাই এখনও মার্কিন অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করছে। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা” ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনও তার সব সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি এবং নতুন আগ্রাসন হলে “কল্পনার বাইরে বিধ্বংসী হামলা” চালানো হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: ‘তাড়াহুড়ো নেই’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অগ্রাধিকার হলেও তিনি দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছেন না। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের অনুরোধেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্থবির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান নতুন করে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
ইরান
ইরানকে ঘিরে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা: ট্রাম্পের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভেদের অভিযোগ তেহরানের

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে উত্তেজনা ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বে বিভেদ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ভাষার হুমকি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী” ইরানে হামলার মাধ্যমে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চেয়েছিল, যাতে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তার অভিযোগ, পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভাজন তৈরির কৌশল অনুসরণ করছে, যাতে আঞ্চলিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। ‘পুনরায় হামলা হলে ভয়াবহ জবাব’ এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফজল শেকারচি মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে “নজিরবিহীন”। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানে হামলার পথ বেছে নেয়, তবে মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ “আকস্মিক ও তীব্র আঘাতের” মুখে পড়বে। শেকারচির ভাষায়, ইরান একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা ও সংঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কোনও বড় ছাড় দিতে রাজি হয়নি। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের সামান্য অংশও ছাড় করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য কোনও ধরনের ক্ষতিপূরণ নিয়েও ওয়াশিংটনের আগ্রহ নেই বলে দাবি তেহরানের। ইরানের দৃষ্টিতে এসব শর্ত “শান্তির প্রস্তাব” নয়; বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ। মেহর নিউজ এজেন্সিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে, যা তারা সামরিকভাবে অর্জন করতে পারেনি। ইরানের পাল্টা প্রস্তাব কী ছিল তেহরানের প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশেষ করে, ইসরায়েলের লেবানন অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানায় ইরান। এ ছাড়া বিদেশে অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও ছিল ওই প্রস্তাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ যুদ্ধের শুরু থেকেই কার্যত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্পের নতুন হুমকি এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে উদ্দেশ করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্যথায় আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।” একই পোস্টে বড় অক্ষরে তিনি লেখেন, “সময় অত্যন্ত মূল্যবান।” এর আগে ট্রাম্প নিজের একটি ছবি পোস্ট করে সেটির ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “এটি ছিল ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা।” ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চীনের উদ্বেগ নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার কয়েক দিন আগেই চীন সফর শেষ করেন ট্রাম্প। সফরকালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও শি সরাসরি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি, তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এটি এমন একটি যুদ্ধ “যা কখনও শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং যার অব্যাহত থাকারও কোনও যৌক্তিকতা নেই।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
ইরান সংকটে অচলাবস্থা
নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনায় কোনও সমাধান না আসায় দুই দেশই সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য নতুন হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আগের চেয়ে আরও তীব্র ও ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের পরিকল্পনাও চলছে। তবে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে বড় ধরনের হতাহতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করে সরাসরি সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে যে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা থেকে কার্যকর সমাধান আসবে না। তার ভাষায়, “আমরা কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।” এর আগে চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও আগে তিনি পুরোপুরি এবং স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের শর্ত দিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা ৮ হাজার মরদেহ
গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, উদ্ধার থমকে সরঞ্জাম সংকটে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নগরী। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় সেসব মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, তাদের হাতে থাকা উদ্ধার সরঞ্জাম “পুরোনো ও অকার্যকর”। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব গাজার মানবিক সংকট এখন শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় সেখানে ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মাহমুদ বাসসালের অভিযোগ, ভারী উদ্ধারযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত দীর্ঘ সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও বিস্ফোরণে গাজার অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী— ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন আংশিক বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত গাজার মোট অবকাঠামোর প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো গাজা পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। নিহত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। পশ্চিম তীরে সহিংসতা: ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথে ইইউ এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, হাঙ্গেরির নতুন সরকার এ বিষয়ে আর বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাজা কালাস বলেন, “সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।” ইউরোপে বাড়ছে কঠোর অবস্থানের চাপ ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ইরান
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন, মুখোমুখি ওয়াশিংটন-তেহরান

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং(আইআরআইবি)। সোমবার নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরআইবি দাবি করে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি ছিল মূলত “ট্রাম্পের লোভের কাছে ইরানের নতি স্বীকার” করানোর প্রচেষ্টা। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো পাল্টা জবাবে “ইরানি জাতির মৌলিক অধিকার” রক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইআরআইবি আরও জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণহরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি অর্থ ও সম্পদ মুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্টভাবে বিপরীতমুখী রয়ে গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি
ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির দাবি, তথ্য দিলেন এক মেষপালক

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্বের দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে এই ঘাঁটি ব্যবহার করা হতো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসের শুরুতে এক ইরাকি মেষপালক মরুভূমির নির্জন এলাকায় অস্বাভাবিক হেলিকপ্টার চলাচল এবং সন্দেহজনক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি বাহিনী সেখানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি কমান্ডোদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন ইরাকি সেনা নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সময় বাগদাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জাতিসংঘে অভিযোগ জানায়। তবে নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার নেপথ্যে ছিল ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক অভিযান। সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মরুভূমির ওই ঘাঁটিটি মূলত একটি “লজিস্টিক হাব” হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দলও মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে অভিযানের সময় কোনো ইসরায়েলি পাইলট বিপদে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটির ব্যবহার করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ জ্ঞাতসারেই এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরাক ও ইসরায়েল—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তবে মেষপালকের দেওয়া তথ্য, পরবর্তী সামরিক অভিযান এবং বিমান হামলার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি
মুজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বদলাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতি

মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় জনসমক্ষে না এলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে এখনো প্রভাব রাখছেন মুজতবা খামেনি। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে উদ্বেগ বাড়ছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের মধ্যে।                                                                                                                                               ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী নেতা মুজতবা খামেনিকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি এখনো ইরানের যুদ্ধ ও কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শনিবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো আগের তুলনায় আরও জটিল ও অস্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মুজতবা খামেনির প্রভাব এখনো গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান অবশ্য এসব দাবি পুরোপুরি নাকচ করেছে। তেহরানের কর্মকর্তারা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং তার আঘাত দ্রুত সেরে উঠছে। জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ঘিরে প্রশ্ন যুদ্ধ শুরুর দিকে ভয়াবহ হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই হামলায় মুজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের। এরপর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করছেন না। বরং সীমিত পরিসরে দূত বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্যের বড় অংশ অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানান, তিনি মুজতবা খামেনির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন। যুদ্ধের পর এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য বৈঠক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আলোচনা এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে দ্রুত জবাব আসতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ রাতেই জবাব আসতে পারে। আমরা একটি চিঠির অপেক্ষায় আছি।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরানের দুটি ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করায় ওই ট্যাংারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে বড় সামরিক সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা ওই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যদিও যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ইউরোপে বাড়ছে উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার চাপ পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। একই সময়ে জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর ঘোষণা এবং ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের নিরাপত্তা ব্যয়ের যথেষ্ট অংশ বহন করছে না। মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরান ইস্যুতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহায়তা দেয়নি। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ পুরোপুরি আত্মনির্ভর হতে এখনো সময় লাগবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নতুন হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছে যথেষ্ট কঠোর মনে হয়নি। কিছু মিত্র দেশ আশঙ্কা করছে, ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা হলে যা তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, তাহলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় মিত্ররাও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও জোটভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন তাদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। সুযোগ নিচ্ছে চীন ও রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন ও রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীন নিজেকে আরও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত
ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত: শান্তিপূর্ণ সমাধানে জোর যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে। রুবিও বলেন, ‘ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলাম, তা আমরা অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কাজ করছি।’ ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ‘(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক— তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক—যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।’ রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
হরমুজে ইরানের ৬ গানবোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন বাহিনীর, প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইরান যুদ্ধেও অক্ষত পারমাণবিক সক্ষমতা, ইউরেনিয়ামের হদিস নেই—চাপে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো অজানা স্থানে রয়েছে। এই মজুদ ব্যবহার করে তেহরান স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিড হ্যামার’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ধারণা করেছিল, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক দুই মাসের সংঘাত সেই সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সামরিক হামলা ও সীমিত প্রভাব নতুন দফার এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হন। ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে। তবুও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা অব্যাহত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বেড়েছে। কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।” পেন্টাগনের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান চাইলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। জুনে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান স্থাপনায় হামলার পর এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ৯ মাস থেকে এক বছর ধরা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে সংরক্ষিত রয়েছে। পুরোপুরি সমৃদ্ধ করা গেলে এই মজুদ দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বেশি লক্ষ্য করেছে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সরাসরি প্রভাব সীমিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের মূল শক্তি এখনো তাদের পারমাণবিক উপাদান। এগুলো এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি দ্রুতগামী গানবোট ধ্বংস করেছে, যা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে করা হয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরাসরি উদ্ধার করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও গোপন কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা: যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ বলল ইরান, নতুন ১৪ দফা প্রস্তাব

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন যে তারা শত্রু যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা, যার ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনীকে একই ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে”। তারা দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করতে তেহরান একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাচ্ছে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ। ১৪ দফা প্রস্তাব: কী রয়েছে? Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নৌ-অবরোধের অবসান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণের শর্তে। ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যস্থতা যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। অতীতে ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি বাজারে প্রভাব সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১৮ ডলার, যা একদিনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে মার্কিন প্রত্যাশা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষের দিকে তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, “সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে ড্রোন-বিমান
ইরানের নতুন প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ক্ষতি ও ইসরায়েল-আমিরাত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রস্তাবটির খসড়া পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এর আগে তেহরান একটি অ-পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পারমাণবিক ইস্যুকে পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। তবে সে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষতি হয়েছে। মোট ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২.৩ থেকে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে— এফ-১৫ই/এফ-১৫ইএক্স যুদ্ধবিমান: অন্তত ৪টি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার সিস্টেম: ১–২টি কেসি-১৩৫/কেসি-৪৬এ ট্যাংকার: ১টি ই-৩ বা ই-৭ নজরদারি বিমান: ১টি সিএইচ-৪৭ হেলিকপ্টার: ১টি এমসি-১৩০জে বিমান: ২টি এমএইচ-৬ ও এএইচ-৬ হেলিকপ্টার: ৪টি এমকিউ-৪সি ড্রোন: ১টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন: ১১–২৪টি এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব, ইরান এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধার অভিযানের সময় ক্ষতির নির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি কেবল অর্থনৈতিক নয়—যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।  ইসরায়েল-আমিরাত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্যদিকে, ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ‘আয়রন বিম’ নামে পরিচিত একটি লেজার-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংস্করণ আমিরাতে মোতায়েন করেছে। এই প্রযুক্তি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। এছাড়া ‘স্পেকট্রো’ নামের একটি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়েছে, যা প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আমিরাতে একটি ‘আয়রন ডোম’ ব্যাটারিও মোতায়েন করা হয়েছে, যার পরিচালনায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে।  সম্পর্কের নতুন ধাপ ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরের পর ইসরায়েল ও আমিরাতের সম্পর্ক মূলত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সম্পর্ককে আরও গভীর সামরিক সহযোগিতায় রূপ দিয়েছে। ইসরায়েল এখন শুধু প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিই নয়, রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্যও সরবরাহ করছে। এর ফলে সম্ভাব্য ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা পাচ্ছে আমিরাত। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ করা বেশ কিছু ব্যবস্থা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এগুলো সরাসরি মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজে রসদ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরে রসদ সরবরাহ বৃদ্ধি, ইরানের পাল্টা হুমকি

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাদ্য ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে নৌবহরে নিয়মিত রসদ সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯)-এ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম তোলা হচ্ছে। জাহাজটি বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২)ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে পেন্টাগন-এর প্রধান পিট হেগসেথ সিনেটে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে, প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সংকট যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক’ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান এই নৌপথটি এখনও বন্ধ রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ইরানের তেল রপ্তানিতে মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে তারা এই জলপথ অবরুদ্ধ রেখেছে। নতুন সামরিক পরিকল্পনা ও কূটনৈতিক চাপ হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় আনতে নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফিং করতে পারেন। এদিকে তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার খবর জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি। তাদের দাবি, ড্রোন ও নজরদারি বিমান প্রতিহত করতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ‘নৌ অবরোধ ব্যর্থ’—ইরানের দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তথাকথিত নৌ অবরোধ ২০ দিনের মধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে। আইআরজিসি গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এই উদ্যোগ ছিল চীন, রাশিয়া ও ইউরোপকে প্রভাবিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তবে শেষ পর্যন্ত এটি কার্যকর হয়নি এবং ইরান এখন ‘অস্থিতিশীলতাবিরোধী জোটের’ কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। সংঘাতের পটভূমি ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি-সহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়। একই দিনে মিনাবে একটি স্কুলে হামলায় ১৬৮ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর জবাবে ৪০ দিনের মধ্যে প্রায় ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন, যা ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হয়। পরে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। ইরানের সরকারি তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩,৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক চিকিৎসাকর্মী, নিহত হয়েছেন অন্তত ২৬ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
হরমুজ সচল রাখতে নতুন জোটের ডাক যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের দাবি: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা আছে,চুক্তি না করা পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ থাকবে-ট্রাম্প

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে যা দিয়ে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দি এই তথ্য জানিয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার পুরোটা প্রকাশ করেনি। তার ভাষায়, “আমরা এখনও আমাদের নতুন কার্ডগুলো দেখাইনি।” ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের উপ-প্রধান বোরুজের্দি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত “নৌ অবরোধ”কে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১২০টি জাহাজ ওই প্রণালির আশেপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনেক ইরানি জাহাজ মার্কিন বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বও তুলে ধরেন। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। বোরুজের্দি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, এই সক্ষমতা বিশেষ করে বড় নৌযানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর এবং এর ফলে ইরান “চাপের মধ্যে” রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও, যেখানে বলা হয়েছে—তেল রপ্তানি বন্ধ থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের মজুদ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই অস্ত্র খাতে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা অত্যন্ত নাজুক, এবং যেকোনো সময় পুনরায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে নাড়া দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির ধারা থমকে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, তা ধীরে ধীরে বেড়ে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার উচ্চমাত্রার সঙ্গে তুলনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছে, তা গ্রহণে ওয়াশিংটনের অনীহা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই অচলাবস্থার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও পড়ছে। দেশটির অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, “সময় এখন আর কারো পক্ষেই নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে।” জার্মান চ্যান্সেলরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে—এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের চাপের মুখে রয়েছে। অনেক মিত্রই মনে করছে, বর্তমান সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং এটি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমেই কিছু মিত্র দেশের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এক রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিলাসবহুল সুপারইয়ট ‘নর্ড’ সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪২ মিটার দীর্ঘ এই ইয়টটি দুবাই থেকে যাত্রা করে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছায়। প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের এই নৌযানটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা ভিন্ন নামে নিবন্ধিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে আগের তুলনায় কম জাহাজ চলাচল করছে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি
ইরানের হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন বন্ধ হতে পারে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য মাহমুদ নবাবিয়ান শনিবার এক বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে এর প্রতিক্রিয়া পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, “যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।” তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পথে এগোতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি হামলা হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলের তেল উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।” সম্ভাব্য সংঘাতে অবকাঠামোগত বড় ক্ষতি এবং ব্যাপক জনবসতি উচ্ছেদের আশঙ্কাও তুলে ধরেন তিনি।  উত্তেজনার পটভূমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর কথা বললেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে, তাদের শত্রু হিসেবে দেখা হবে।  নেতৃত্বে গোপনীয়তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গোপন অবস্থান থেকে দেশ পরিচালনা করছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। নিরাপত্তার কারণে এখনো তার কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তার নির্দেশনা লিখিত আকারে রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত কারণে তিনি নিজেকে জনসমক্ষে আনছেন না।  সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক দাবি করেছেন, দেশের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনো অক্ষত রয়েছে। তার ভাষায়, এখন পর্যন্ত ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার খুবই সীমিত অংশ ব্যবহার করেছে। দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে এক হাজারেরও বেশি ধরনের সমরাস্ত্র উৎপাদন করছে এবং এই উৎপাদন কাঠামো বিকেন্দ্রীকৃত হওয়ায় কোনো একটি স্থাপনায় হামলা হলেও সামগ্রিক সক্ষমতা ব্যাহত হবে না।  হরমুজ প্রণালি: কৌশলগত হাতিয়ার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। তেহরানের দাবি, এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তাদের একটি বড় কৌশলগত সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সামুদ্রিক পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার সম্ভব।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সামরিক শক্তি ও ভৌগোলিক অবস্থান—উভয়কেই কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনা প্রস্তুত রেখেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি- এপি
অবরোধের মধ্যেও ইরানের ঘুরে দাঁড়ানো: ফ্লাইট চালু, তেল আয়ে উল্টো বৃদ্ধি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক সংঘাত চলার পর প্রথমবারের মতো তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়েছে। শনিবার সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইস্তাম্বুল, মাস্কাট ও মদিনার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান আংশিকভাবে নিজেদের আকাশসীমা খুলে দেয়। অবরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি ট্যাংকার জব্দসহ ইরানগামী জাহাজগুলোকে দিক পরিবর্তনে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। পাল্টা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল সীমিত করে এবং কয়েকটি জাহাজ আটক করে। ইরান কি অর্থনৈতিক সংকটে? যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কঠোর অবরোধে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে, বিশ্লেষকরা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন। যুদ্ধের আগে দৈনিক তেল আয় ছিল প্রায় ১১.৫ কোটি ডলার। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে তা গড়ে ১৬ কোটির বেশি ডলারে পৌঁছেছে—যা আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞ কেনেথ কাটজম্যান বলছেন, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা ১৬০–১৮০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল দিয়ে ইরান অন্তত আগস্ট পর্যন্ত আয় ধরে রাখতে পারবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথও তৈরি করেছে দেশটি। কিছু ক্ষেত্রে একটি জাহাজ থেকেই প্রায় ২০ লাখ ডলার আদায় করা হচ্ছে। তেহরানের কঠোর বার্তা ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার ছাড়া পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ভেতরে কোনো বিভাজন নেই। আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনীতি এদিকে পাকিস্তান-এর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কংগ্রেসের আইনি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে চীনের অসন্তোষ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে টিকবে? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যাডাম এরেলি মনে করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের স্থিতিশীলতা পরীক্ষার মুখে ফেলতে সময় লাগবে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “ধৈর্যের লড়াই” হিসেবে দেখছেন—যেখানে শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র..
ইরান সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সংকট, ন্যাটো জোটে নতুন উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ মজুদে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসজানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান ঘাটতি পূরণ করে পূর্ণ মজুদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ছয় বছর সময় লাগতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল ও কৌশলগত বিশ্লেষক মার্ক এফ. ক্যানসিয়ান-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র থাকলেও স্থল হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি আগে থেকেই ছিল। সাম্প্রতিক ব্যবহারের ফলে সেই ঘাটতি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান-সম্পর্কিত সামরিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এক হাজারের বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি THAAD এবং Patriot ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যবহারের ফলে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ অভিযানে প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যাটোতে মতপার্থক্য ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করায় ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। রয়টার্স-এর বরাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পেন্টাগন-এর একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে বিভিন্ন নীতিগত বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কিছু মিত্র দেশের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও সামরিক সুবিধা সীমিত করার বিষয় রয়েছে। স্পেনকে সাময়িকভাবে ন্যাটো সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশপথ, সামরিক ঘাঁটি বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে নির্দিষ্ট দেশগুলোকে অপসারণের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে ন্যাটো-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক বিধান নেই। প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোকে সেখানে নৌবাহিনী পাঠানোর আহ্বান জানায়। কিন্তু একাধিক দেশ সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেন এবং জোটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, আলোচিত প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়; এগুলো সম্ভাব্য নীতিগত বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পশ্চিমা সামরিক জোটের অভ্যন্তরে নতুন করে মতপার্থক্য ও উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
ইরানি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনায় বেড়েছে উত্তেজনা: বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামুদ্রিক মুখোমুখি অবস্থান আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।  ভারত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানে জাহাজ জব্দ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরান থেকে তেল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি রাষ্ট্রহীন তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জাহাজটির নাম এম/টি *ম্যাজেস্টিক*। স্থানীয় সময় ২৩ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জাহাজটি কোনো স্বীকৃত জাতীয়তার অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল না এবং ইরান-সম্পর্কিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে—এমন জাহাজ ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক ডজনেরও বেশি জাহাজ আটক করেছে, যদিও এসব অভিযান মূলত ইরানের উপকূলবর্তী জলসীমার বাইরে, ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে ২১ এপ্রিল এম/টি *টিফানি* নামের আরেকটি জাহাজ জব্দের কথাও জানায় পেন্টাগন।  হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ জব্দ অন্যদিকে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ভারতমুখী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ—‘ইপামিনোন্ডাস’ ও ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’—জব্দ করেছে। ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম নূর নিউজ প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানি পতাকাবাহী দ্রুতগতির স্পিডবোট জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সশস্ত্র নৌসদস্যরা জাহাজে উঠে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী: * ‘ইপামিনোন্ডাস’ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটির দিকে গুলি ছোড়া হয় * ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েল-সম্পর্কিত মালিকানাধীন * জাহাজগুলো নৌ-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করছিল তারা আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ম ভঙ্গ বা নিরাপদ নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নির্দেশনা এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেন— মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো নৌযানকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে ধ্বংস করতে হবে। তিনি আরও জানান: * মাইন অপসারণ কার্যক্রম তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে * প্রণালিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে  সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পুরো হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্যের একটি প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামুদ্রিক পদক্ষেপ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। জাহাজ জব্দ, সামরিক সতর্কতা এবং সম্ভাব্য মাইন সংকট—সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে চার কঠোর শর্ত দিল ইরানের আইআরজিসি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে চারটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন শর্তগুলো কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘোষিত চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, বেসামরিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের আগে আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। চতুর্থত, এই নীতিমালা চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি তাদের হাতেই থাকবে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত : তেলের দাম কমল, বিশ্ববাজারে স্বস্তি-বড় পরিবর্তন

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎই এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে—যুদ্ধবিরতির সময় পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখবে ইরান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সময়কাল জুড়ে নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি বন্ধ বা সীমিত হয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ৯৮ ডলারের বেশি ছিল। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। সংঘাত শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল, সেখানে মার্চের শুরুতে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং মাসের শেষে ১১৯ ডলারে পৌঁছায়—যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বাজারের উচ্চমাত্রার সংবেদনশীলতাকে স্পষ্ট করে। শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি শেয়ারবাজারেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে প্যারিসের সিএসি ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ডিএএক্স দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। লন্ডনের এফটিএসই সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই ডাও জোনস সূচক ১.৩ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সংঘাতের পটভূমি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়। ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জেনেভায় আলোচনা চলাকালেই এই হামলা চালানো হয়। প্রায় ৩৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতা হয়নি। মানবিক ক্ষয়ক্ষতি ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া হামলায় এ পর্যন্ত ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কৌশলগত বার্তা নাকি সাময়িক পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে ইরান একদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী—এমন বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ কমানোরও চেষ্টা করছে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি তাই এক ধরনের ‘অস্থায়ী স্থিতিশীলতা’—যেখানে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও মাটির নিচে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0