Brand logo light

ইসরাইল

লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত, ১৪ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন

বৈরুত: লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্তত ১৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বৈরুতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শুধু ত্রাণ বিতরণ করে লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংকট এখন কেবল মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইমরান রিজা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা সংকট এবং কর্মসংস্থানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং জীবিকা সংকটও ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১, ২০২৬ 0
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি: কেন রাজনৈতিক দুঃস্বপ্নে পড়েছেন নেতানিয়াহু, বদলে যাচ্ছে কি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য?

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্পাদিত শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনাকে ঘিরে যখন আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তির বার্তা ছড়িয়েছে, তখনই রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু একটি যুদ্ধের অবসান নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বড় ভুল? মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিপক্ষদের ওপর ভবিষ্যৎ প্রভাব বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। যুদ্ধের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানি, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুতর বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ চাপে পড়ে। এ অবস্থায় উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা জোটও প্রশ্নের মুখে পড়ে। কিছু আরব দেশের নীতিনির্ধারকেরা নীরবে নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ খোঁজার চিন্তা করছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কী আছে শান্তিচুক্তিতে? চুক্তির খসড়ায় দুই পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে ১৪টি দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুরো নথি প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এতে রয়েছে— হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা অব্যাহত রাখা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই সমঝোতাকে “চমৎকার শান্তি চুক্তি” এবং “উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক সমাধান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত স্বাভাবিক চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেই নিশ্চয়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তবে দেশটির জন্য বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চুক্তির নেপথ্যে পাকিস্তানের ভূমিকা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। তিনি জানান, এতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আলোচনায় সহযোগিতার জন্য তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি "সম্পূর্ণ" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কেন চাপে নেতানিয়াহু? বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক লুসি উইলিয়ামসনের মতে, এই চুক্তি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবনের তিনটি মৌলিক ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী একজন আঞ্চলিক কৌশলবিদ হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছেন। একই সঙ্গে ইরানকে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে তুলে ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। কিন্তু নতুন চুক্তির ফলে সেই বয়ান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি ইরান আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী অবস্থানে ফিরে আসে, তাহলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা কৌশল কতটা সফল ছিল? ইসরাইলে ক্ষোভ ও বিভক্তি চুক্তির ঘোষণার পর ইসরাইলজুড়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে বলেন, "ট্রাম্পের চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নই।" অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচও চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি ইসরাইল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। লিকুদ পার্টির নেতারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নেতানিয়াহুকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। মধ্য-বামপন্থী নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, এই চুক্তি ইরানবিষয়ক নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের নীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান সরকার দেশকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইরান কি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠল? ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও কঠোরপন্থী নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বজায় রেখে তেহরান নতুন কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরাইলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরাইলকে তেহরানবিষয়ক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতে আরও বাস্তববাদী ও সংযত নীতি গ্রহণ ছাড়া বিকল্প খুব বেশি নেই। মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা যুদ্ধ শেষ হলেও সংকট শেষ হয়নি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্ন এখনো বহাল রয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন হলো—নেতানিয়াহু কি নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, নাকি এই চুক্তিই তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? আগামী নির্বাচন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৬, ২০২৬ 0
স্বাধীন কমিশন না গড়ায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তেল আবিবে বিক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রায় তিন বছর পরও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন করে জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শনিবার তেল আবিবের হাবিমা চত্বরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারবিরোধী কর্মীরা জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হামাসের হামলা ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হয়নি। তাদের মতে, এই বিলম্ব শুধু সত্য উদঘাটনকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং রাজনৈতিক দায় এড়ানোর সুযোগও তৈরি করছে। ‘প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ছে, উত্তর মিলছে না’ বিক্ষোভে বক্তব্য দেন আয়ালা মেটজগার, যার ৮০ বছর বয়সী শ্বশুর ইয়োরামকে ৭ অক্টোবর হামলার দিন অপহরণ করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে হামাসের বন্দিদশায় তার মৃত্যু হয়। আয়ালা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের প্রশ্ন আরও বাড়ছে, কিন্তু উত্তর মিলছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্রীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনই সবচেয়ে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত ব্যবস্থা। এ ধরনের কমিশন প্রধান বিচারপতির মনোনীত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার কথা। ‘রাজনীতিবিদরা নিজেদেরই তদন্ত করবেন’ বিক্ষোভকারীদের প্রধান আপত্তি নেতানিয়াহু সরকারের প্রস্তাবিত বিকল্প তদন্ত কাঠামো নিয়ে। আয়ালার অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য নির্বাচন করবেন রাজনীতিবিদরাই। সেখানে ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে না। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করলে ক্ষমতাসীন পক্ষের প্রতিনিধিরাই কার্যত তদন্ত পরিচালনা করবেন। ফলে যাদের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ রয়েছে, তারাই নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিচারক হয়ে উঠবেন। ব্যক্তিগত শোক থেকে রাজনৈতিক ক্ষোভ বিক্ষোভে আবেগঘন বক্তব্য দেন এরান লিটম্যান, যার ২৬ বছর বয়সী মেয়ে ওরিয়া হামাসের হামলার সময় নোভা সংগীত উৎসবে নিহত হন। তিনি বলেন, কট্টরপন্থা ও ধর্মীয় উগ্রতার সংঘাতের বলি হয়েছেন তার মেয়ে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের নীতিরও কঠোর সমালোচনা করেন। লিটম্যানের বক্তব্যে ব্যক্তিগত শোক, রাজনৈতিক হতাশা এবং চলমান যুদ্ধের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার ক্ষোভ সরকারের প্রতি, সাধারণ ধর্মপ্রাণ নাগরিক বা উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি নয়। নিরাপত্তা ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক দায়? বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবর হামলা ইসরাইলের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর বড় ধরনের দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসে। হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও অপহৃত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠিত হলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতির ঘাটতি প্রকাশ্যে আসতে পারে। এ কারণেই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভে উত্তেজনা, পুলিশের হস্তক্ষেপ সমাবেশ চলাকালে এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সরকার সমর্থক হাদার মাচতার বিক্ষোভস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক সরকারবিরোধী ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পরে তাদের বক্তব্য শুনে ছেড়ে দেওয়া হয়। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিক্ষোভ? ৭ অক্টোবর হামলার তদন্ত নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু নিরাপত্তা ব্যর্থতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ইসরাইলের রাজনৈতিক জবাবদিহি, বিচারিক স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণ ছাড়া জাতীয় ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারপক্ষ রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি তদন্ত কাঠামোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন নিয়ে বিরোধ এখন ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0
৫৬ শতাংশ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরাইল!
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বহুমাত্রিক প্রভাব: বেসামরিক মৃত্যুর ৫৬% ইসরাইলি হামলায়, চাপে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ৫০ সামরিক ঘাঁটি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতগুলোতে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘বিস্ফোরক অস্ত্র পর্যবেক্ষণ’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালে বিস্ফোরক অস্ত্রের হামলায় নিহত বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে ৫৬ শতাংশের মৃত্যুর জন্য ইসরাইল দায়ী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করে এমন বিস্ফোরক হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে। এসব ঘটনার প্রায় ৯০ শতাংশই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নথিভুক্ত হয়েছে। বেসামরিক জনগণই সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। বেসামরিক হতাহতের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপক সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরক অস্ত্রের ব্যবহার একটি বিপজ্জনক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। তার ভাষায়, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি চলতে থাকলে এটি বৈশ্বিক সংঘাতের একটি ‘স্বাভাবিক বাস্তবতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবিক আইন কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুদ্ধের অভিঘাত পৌঁছেছে ইউরোপের অর্থনীতিতেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনীতি ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ০.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস বলেন, সংঘাত শুরুর আগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ছিল এবং মূল্যস্ফীতি কমছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব যুক্তরাজ্যের ওপরও পড়বে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তা উভয়ই চাপে পড়েছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অস্থিরতা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে। স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এদিকে স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের অন্তত ৫০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সদরদফতর, বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন অবকাঠামো। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা একাধিক সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামলায় ইরানের যুদ্ধবিমান, নৌযান এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা বহাল সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল ও ইরানও একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। যদিও এক মাসের বেশি সময় ধরে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও আঞ্চলিক উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে ইরানকে পরাজিত করেছে। তবে বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেল প্রবেশপথ পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যাটেলাইট তথ্যের সীমিত প্রাপ্যতা। বিশ্লেষকদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটির স্যাটেলাইট চিত্রের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্চ মাসে পেন্টাগন স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটকে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এলাকার নতুন ছবি প্রকাশ সীমিত করার অনুরোধ জানায়। প্ল্যানেটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বা ন্যাটো অংশীদারদের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে না পারে। সামনে কী অপেক্ষা করছে? সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকট এখনো শেষ হয়নি। বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি, ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এই সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৩, ২০২৬ 0
হরমুজ সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা: যুদ্ধ, কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা

ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ধারণা ছিল, সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দুর্বল করে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব হবে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাস্তবতা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। বরং পরিস্থিতি এখন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, যা যেকোনো সময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরানের সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, প্রণালির কাছে একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনাকে অনেক পর্যবেক্ষক ওয়াশিংটনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি চাপের মধ্যেও ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। ইরানের দৃষ্টিতে, এই সংঘাতে টিকে থাকাই এক ধরনের বিজয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত নৌপথের ওপর প্রভাব বজায় রাখা তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের সামনে কঠিন সমীকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একদিকে তাকে শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত না করে কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে হচ্ছে। মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যুদ্ধ নিয়ে সমর্থন আগের তুলনায় কমেছে বলেও বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ফলে ট্রাম্প এমন একটি সমাধান খুঁজছেন, যা অভ্যন্তরীণভাবে ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার পথও তৈরি করবে। তবে ইতিহাসের বহু সংঘাতের মতো এখানেও একটি বাস্তবতা সামনে এসেছে—যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, স্পষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ততটাই কঠিন। নেতানিয়াহুর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে ইসরাইলের প্রধান কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সামরিক শক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বারবার বলেছেন। তবে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সেই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথায় ভুল হয়েছিল? ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ ধারণা করেছিলেন যে, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং কয়েক দশক ধরে বহিরাগত চাপ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো এবং আদর্শিক ভিত্তির কারণে দেশটি এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সহনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল। কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজগান প্রদেশ এবং পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষই হামলা বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে। আঞ্চলিক কূটনীতির তৎপরতা মার্কিন হামলার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে তেহরান। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় কূটনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সংকট দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা সীমিত। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ ও কূটনীতির মধ্যকার টানাপোড়েন এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র, ইরান বা ইসরাইলের নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৭
লেবাননে ইসরাইলি হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র জবাব ও হরমুজ নিষেধাজ্ঞা: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে লেবানন, ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ। একদিকে দক্ষিণ লেবাননে প্রাণঘাতী ইসরাইলি হামলা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে প্রাণহানি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জেফতা শহরে ভোররাতে চালানো ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সিরীয় শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের চিকিৎসা চলছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইইউর নজিরবিহীন পদক্ষেপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে শান্তি আলোচনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির জটিল চক্রে আটকে আছে এবং হরমুজে ইরানি ড্রোন কার্যক্রম সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইইউ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌ শাখার মুখপাত্র মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এবং ইরানের তেল রপ্তানি খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি হামিদ হোসেইনির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ইইউর নতুন ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নীতির প্রথম বাস্তব প্রয়োগ, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। যুদ্ধ নয়, আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায় তেহরান সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, “কূটনীতি এবং প্রতিরক্ষা জাতীয় শক্তির দুটি ডানা। আমরা যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আলোচনার টেবিল—কোনোটিই ত্যাগ করিনি।” তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে তেহরান পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে ইরান সংঘাতের নতুন পর্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে ওয়াশিংটনের নীতি থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব সমন্বয় ও সহযোগিতা ছাড়া ইসরাইল এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজছে। বৈরুতে আরও বড় হামলার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সাম্প্রতিক বক্তব্য। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি নাকি প্রস্তাব দিয়েছেন, ইরান থেকে ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ২০ থেকে ৩০টি ভবনে হামলা চালানো উচিত। দাহিয়েহকে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্মোট্রিচের মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর পরিবর্তে লেবাননে হিজবুল্লাহর সক্ষমতা দুর্বল করা কৌশলগতভাবে বেশি কার্যকর হবে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এমন নীতি বাস্তবায়িত হলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়বে এবং পুরো অঞ্চল আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে। বড় প্রশ্ন: যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপ নতুন পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। লেবাননে হামলা, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরাইলের অভ্যন্তরে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উত্তেজনা কেবল দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যকর না হলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ২০ মার্কিন সামরিক স্থাপনা, স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অনুসন্ধানী ইউনিট ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অন্তত ২০টি মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে লেবানন ও ইসরাইলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। স্যাটেলাইট ছবি, ভিডিও ফুটেজ এবং উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি? বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদাদ বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন নজরদারি বিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমানের অবস্থানস্থলেও ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প আরিফজান এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে জ্বালানি সংরক্ষণ বাঙ্কার, হ্যাঙ্গার এবং আবাসিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। তবে এসব দাবির বিপরীতে হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। কূটনৈতিক যোগাযোগে বিরতি সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান এবং লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে যোগাযোগ চলছিল, তা আপাতত বন্ধ রাখা হবে। ইরানের অভিযোগ, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তেহরানের অবস্থান হলো—লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া যেকোনো আঞ্চলিক সমঝোতার মৌলিক শর্ত। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় খসড়া চুক্তি ও বার্তা বিনিময় কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ইরানের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের বেশি পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯২ ডলারের ওপরে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। কুয়েতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস অঞ্চলে মার্কিন হামলার জবাবে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় চার মার্কিন সেনা এবং তিনজন বেসামরিক ঠিকাদার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবেও পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছিল তেহরান। লেবাননকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধ না হলে কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইলবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে হিজবুল্লাহকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে তেহরান। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের উপকণ্ঠে নতুন করে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে ইসরাইলি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট দুর্গ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে। আঞ্চলিক সংঘাত কি আরও বিস্তৃত হচ্ছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর কেবল গাজা বা লেবাননে সীমাবদ্ধ নেই। সামরিক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত, কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়া এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা—সব মিলিয়ে অঞ্চলটি আরও বিস্তৃত সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে ইরানের অবস্থান এবং ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রত্যক্ষ সামরিক অংশগ্রহণ! : বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরাসরি সামরিকভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকেই আবুধাবি কেবল কূটনৈতিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দেয়নি; বরং ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক বিমান হামলায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশাপাশি ইউএই কার্যত এই সামরিক অভিযানের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। এমনকি গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও আমিরাতের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোন কোন স্থাপনায় হামলার দাবি? প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরবরাহ করা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জ্বালানি অবকাঠামোকে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির কিশমি ও আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। বিশেষ করে আসালুয়েহ কমপ্লেক্সে কথিত যৌথ হামলাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা সীমিত রাখার আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য অবস্থান ও গোপন বাস্তবতা? সংঘাত শুরুর আগে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আবুধাবি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সরাসরি অভিযানে অংশ নেয়। এই অভিযোগ সত্য হলে তা উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএইর ভূমিকার প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, পুরো সংঘাতের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়। যদিও এসব সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্রের যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি-আমিরাত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর এই ভূমিকা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার নীতিগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে। গত এপ্রিলের শুরুতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গোপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে দাবি করা হয়েছে। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, আমিরাতের সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে এবং আবুধাবির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে অনুরোধ জানায়। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইউএইর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ। অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, পর্যটন খাতে রাজস্ব হ্রাস এবং আবাসন বাজারে স্থবিরতার কারণে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক খাতগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাধ্যতামূলক ছুটি এবং জনবল ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এপ্রিলের শেষ নাগাদ দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়ে যায় এবং প্রায় ১৮ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং উপসাগরীয় জোটরাজনীতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং স্বাধীন যাচাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইলি বাহিনী
নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইল? দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অগ্রযাত্রায় সংঘাতের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিয়েহ ঘিরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ইসরাইলি বাহিনী। একাধিক সামরিক ও সংবাদ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির চারপাশে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে কার্যত অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনারা লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরে নদীটিকে একটি অঘোষিত ‘বাফার জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা সেই বাস্তবতায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে নাবাতিয়েহ শহরের উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনীর অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ-প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর প্রতিরক্ষা বলয় ভেঙে আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে দক্ষিণ ও পশ্চিম লেবাননের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নাবাতিয়েহকে ঘিরে ফেলা সম্ভব হলে দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। হামলায় আহত সেনা, নিহত প্যারামেডিক লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নাবাতিয়েহর কাছে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় তাদের দুই সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই সময়ে জেবশিত গ্রামে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় একজন প্যারামেডিক নিহত এবং আরও চারজন আহত হন বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা। হামলায় একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বেউফোর্ট দুর্গ এলাকায় তীব্র গোলাবর্ষণ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বেউফোর্ট দুর্গ-সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হামলার ঘটনা ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দুর্গ ও আশপাশের এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফলে অঞ্চলটি সামরিক ও প্রতীকী—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। পাল্টা হামলার দাবি হিজবুল্লাহর হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। নতুন বাস্তুচ্যুতি সংকট ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ পরিস্থিতি লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক ও নজিরবিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাতের বিস্তার শুধু লেবানন নয়, পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অগ্রযাত্রা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা পরিস্থিতিকে দ্রুত একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ দিতে পারে। অঘোষিত যুদ্ধবিরতির আলোচনা থাকলেও মাঠের বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত কার্যত নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত
গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা, নিহত ১০: ৩ হাজারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উত্তর গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার গভীর রাতে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র বলছে, হামলার সময় আশপাশের একটি পার্কে কয়েকজন শিশু খেলছিল। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে ঘর কিংবা অস্থায়ী তাঁবু ছেড়ে বাইরে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানিয়েছে, উত্তর গাজাজুড়ে এখনো অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামাস নেতার জানাজার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলা এই বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান মোহাম্মদ ওদেহের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ইসরাইলি হামলায় তিনি নিহত হন। জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেন। ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজা সিটিতে চালানো হামলায় মোহাম্মদ ওদেহের স্ত্রী ও ছেলেও নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার সময় ওদেহ হামাসের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় নিহত ইজ আল-দিন আল-হাদ্দাদের পর তাকে হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ‘যুদ্ধ থামেনি, শুধু নাম বদলেছে’ ওদেহের স্বজন আবু আল-আব্দ ওদেহ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে বলেন, গাজার বাস্তবতা এখনো ভয়াবহ। তার ভাষায়, “যুদ্ধ থেমে গেছে— এমন কথা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য যুদ্ধের কোনো বিরতি নেই। জীবনযাত্রার অবস্থারও কোনো উন্নতি হয়নি।” স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৩ হাজারের বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। ত্রাণ প্রবেশ নিয়েও বাড়ছে অভিযোগ গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় যে পরিমাণ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল, বাস্তবে তার অল্প অংশ প্রবেশ করতে পেরেছে। বুধবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত ২২৭ দিনে যুদ্ধবিরতির ৩,০০৫টি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রবেশ করেছে মাত্র ৪৯ হাজার ৯৭৩টি। অর্থাৎ চুক্তি বাস্তবায়নের হার ৩৬ শতাংশেরও কম। নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা ইসরাইল ও হামাস— উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ইসরাইল বলছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণে রাজি না হওয়ায় সমঝোতা এগোচ্ছে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরাইল নিয়মিত হামলা চালানো এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করায় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও গাজার বাস্তবতা এখনো যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই রয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
নতুন সামরিক হুঁশিয়ারির নেপথ্যে কী
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি: হরমুজ, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন সামরিক হুঁশিয়ারির নেপথ্যে কী?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক ঘিরে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে শান্তির ইঙ্গিত মিললেও, একইসঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান। ফলে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে তৈরি হয়েছে দ্বৈত বাস্তবতা—একদিকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা, অন্যদিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের হুঁশিয়ারি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনা ভেস্তে গেলে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত রয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, “ট্রিগারে হাত রেখেই” তারা আলোচনায় বসেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও “জায়নবাদী শাসন” ইসরাইলের অতীত ভূমিকা এবং বর্তমান সামরিক অবস্থান বিবেচনায় রেখে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। তাসনিমকে দেওয়া এক সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও “ভুল হিসাব” করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন বা “অপরাধমূলক পদক্ষেপ” নেয়, তাহলে তারা “ইরানের তৃতীয় ধাপের মোকাবিলা”র মুখে পড়বে। সূত্রটি দাবি করেছে, এই নতুন সামরিক কৌশল আগের দুই দফা সংঘাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। লক্ষ্য নির্বাচন, সামরিক পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম—সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন মাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। যুদ্ধবিরতির খসড়ায় কী থাকছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ জানিয়েছে, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চুক্তিতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত কোনো টোল আরোপ করা হবে না। এছাড়া ওই অঞ্চলে স্থাপন করা নৌ-মাইন সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও ইরান নিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কিছু বন্দর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া এবং দেশটির তেল খাতে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা ইরানের বৈদেশিক তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিনিময়ে ইরানের কাছ থেকে কৌশলগত ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন সমীকরণ সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। একইসঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রস্তাবনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। যদিও তেহরান অতীতে বারবার দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন। একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও দুই দেশের অবস্থান আগের তুলনায় “অনেক কাছাকাছি” এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কার হাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি সর্বোচ্চ নেতাআলী খামেনি-এর অনুমতি ছাড়া চূড়ান্ত হবে না। তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশে কোনো সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোর বাইরে এবং সর্বোচ্চ নেতার অনুমতি ছাড়া নেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এমন যেকোনো বক্তব্য কার্যত “শত্রুর অবস্থানকে শক্তিশালী করে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতার চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধ থামলেও উত্তেজনা কি থামবে? সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি ইরানের ধারাবাহিক সামরিক হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করছে, অবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা কার্যকর হলে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই আলোচনা কেবল যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেরও একটি বড় পরীক্ষা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
গাজায় গণহত্যা
গাজায় গণহত্যার অভিযোগের মধ্যেও থামেনি অস্ত্র সরবরাহ, আইসিজের রায়ের পরও ইসরাইলকে সহায়তা ৫১ দেশের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক :  ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে, নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর সামনে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শীত উপেক্ষা করে তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন গাজায় যুদ্ধ চলছিল প্রায় ১০০ দিন ধরে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবিতে তীব্র চাপ, আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ সত্ত্বেও ইসরাইল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত, ২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ গাজায় নিহত হন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এবং আহত হন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার। এই সময়ের মধ্যেই ইসরাইলে অব্যাহতভাবে প্রবেশ করেছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আইসিজে গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। আইসিজের রায়ের পর বেড়েছে অস্ত্র আমদানি ইসরাইলের কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য, শুল্ক নথি এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সংগৃহীত রেকর্ড বিশ্লেষণ করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরাইলে মোট ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক সরঞ্জামের চালান পৌঁছেছে। এসব চালানের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩.২২ বিলিয়ন ইসরাইলি শেকেল, যা মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো—এই চালানের ৯১ শতাংশই এসেছে আইসিজের রায়ের পরবর্তী সময়ে। অধিকাংশ সরঞ্জাম ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত সামরিক উপকরণ। তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মোট সামরিক আমদানির ৪২ শতাংশের বেশি এসেছে দেশটি থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত, যার অংশ প্রায় ২৬ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ সরবরাহকারীর তালিকায় আরও রয়েছে রোমানিয়া, তাইওয়ান ও চেক প্রজাতন্ত্র। প্রকাশ্য সমালোচনা, আড়ালে সরবরাহ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যেসব দেশ প্রকাশ্যে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে বা যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তাদের অনেকেই বাস্তবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেনি। চীন আইসিজের রায়কে স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ চলাকালেও দেশটি থেকে সামরিক চালান গেছে ইসরাইলে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করলেও, বাণিজ্য নথিতে দেখা যায় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। একইভাবে ব্রাজিলও আইসিজের পদক্ষেপকে “বাধ্যতামূলক” বলে উল্লেখ করেছিল। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দেশটি থেকেও কিছু সামরিক সরঞ্জাম ইসরাইলে গেছে। ‘গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব আগে থেকেই শুরু হয়’ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহত্যার আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক স্টিফেন হামফ্রেস এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের অধ্যাপক গেরহার্ড কেম্প বলেছেন, গণহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব কেবল চূড়ান্ত রায়ের পর শুরু হয় না; ঝুঁকির ইঙ্গিত দেখা দেওয়ার মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনও তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, গাজায় ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক প্যাট্রিক উইলকেন বলেন, “ইসরাইল একা এত বড় পরিসরের বোমাবর্ষণ পরিচালনা করতে পারত না। এর পেছনে বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ভূমিকা রয়েছে।” বৈশ্বিক নীরবতার বাইরে সক্রিয় সহায়তা আল-জাজিরার অনুসন্ধান এমন এক বাস্তবতা সামনে এনেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আদালতের সতর্কতা, মানবাধিকার উদ্বেগ এবং গণহত্যার অভিযোগের পরও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হয়নি। বরং বহু দেশ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমালোচনা করলেও বাস্তবে সামরিক সহায়তা চালিয়ে গেছে। গাজা যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংঘাত নয়—এই অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এটি একটি বৈশ্বিক অস্ত্র নেটওয়ার্কেরও প্রতিচ্ছবি; যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও বহু রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত
শান্তি আলোচনার মধ্যে ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিলে নীতিগত সম্মতি যুক্তরাষ্ট্রের

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করলেও তা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর আগে থেকেই ইরান বলে আসছিল, যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক দেশে। যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংঘাত শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও এখনও স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়নি। বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
গাজার ধ্বংসস্তূপে এখনো চাপা ৮ হাজার মরদেহ
গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ, উদ্ধার থমকে সরঞ্জাম সংকটে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নগরী। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসরাইলি হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে। কিন্তু উদ্ধার অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় সেসব মরদেহ বের করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, তাদের হাতে থাকা উদ্ধার সরঞ্জাম “পুরোনো ও অকার্যকর”। ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই। তার ভাষায়, “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।” ধ্বংসস্তূপে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বাড়ছে ইঁদুরের উপদ্রব গাজার মানবিক সংকট এখন শুধু খাদ্য ও চিকিৎসা ঘাটতিতে সীমাবদ্ধ নেই। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ পড়ে থাকায় সেখানে ইঁদুর ও ক্ষতিকর প্রাণীর বিস্তার ঘটছে, যা নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। মাহমুদ বাসসালের অভিযোগ, ভারী উদ্ধারযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি ধ্বংসস্তূপ জমে আছে। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ৮১ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত দীর্ঘ সামরিক অভিযান, বিমান হামলা ও বিস্ফোরণে গাজার অবকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী— ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে আরও প্রায় ৭৫ হাজার ভবন আংশিক বা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত গাজার মোট অবকাঠামোর প্রায় ৮১ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো গাজা পরিষ্কার ও পুনর্গঠনে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে। নিহত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিহতদের একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। পশ্চিম তীরে সহিংসতা: ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথে ইইউ এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরে সহিংস ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, হাঙ্গেরির নতুন সরকার এ বিষয়ে আর বাধা দেবে না বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই উদ্যোগ আটকে রেখেছিলেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। কাজা কালাস বলেন, “সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।” ইউরোপে বাড়ছে কঠোর অবস্থানের চাপ ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভাল্টোনেন পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেনডসেন আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং এসব ঘটনায় কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৫৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭৫০ জন এবং আটক হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
হরমুজে ইরানের ৬ গানবোট ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি মার্কিন বাহিনীর, প্রত্যাখ্যান ইরানের
ইরান যুদ্ধেও অক্ষত পারমাণবিক সক্ষমতা, ইউরেনিয়ামের হদিস নেই—চাপে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ এখনো অজানা স্থানে রয়েছে। এই মজুদ ব্যবহার করে তেহরান স্বল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছরের জুনে পরিচালিত ‘অপারেশন মিড হ্যামার’-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসন ধারণা করেছিল, যৌথ হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক দুই মাসের সংঘাত সেই সময়সীমায় বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দারা। সামরিক হামলা ও সীমিত প্রভাব নতুন দফার এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মূলত ইরানের সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার দাবি করা হয়। পাশাপাশি কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হন। ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানে। তবুও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম পরিবর্তন’-এর লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। যুদ্ধবিরতি, কিন্তু উত্তেজনা অব্যাহত ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই পথ দিয়ে হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণভাবে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বেড়েছে। কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে কঠোর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, “ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম কার্যত অপরিবর্তিত রয়েছে।” পেন্টাগনের হিসাবে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার। পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান চাইলে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম উৎপাদন করতে পারে। জুনে নাতানজ, ফোরদো ও ইসফাহান স্থাপনায় হামলার পর এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে ৯ মাস থেকে এক বছর ধরা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এখনো প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এর একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেলে সংরক্ষিত রয়েছে। পুরোপুরি সমৃদ্ধ করা গেলে এই মজুদ দিয়ে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি পারমাণবিক কর্মসূচির বদলে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বেশি লক্ষ্য করেছে। ফলে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সরাসরি প্রভাব সীমিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এরিক ব্রুয়ার বলেন, ইরানের মূল শক্তি এখনো তাদের পারমাণবিক উপাদান। এগুলো এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত বোমা দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন। অন্যদিকে, পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার ফলে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন সাবেক আন্তর্জাতিক পরিদর্শক ডেভিড অলব্রাইট। সমুদ্রপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি দাবি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি দ্রুতগামী গানবোট ধ্বংস করেছে, যা জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে করা হয়েছে। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে দুটি ছোট মালবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, যাতে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে ইউরেনিয়াম সরাসরি উদ্ধার করতে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প বিবেচনা করছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা হলেও গোপন কার্যক্রম চালু থাকতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা: ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪১, চলতি বছরে ২,৬৫৯

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল
ইসরাইলকে অস্ত্র বিক্রি বন্ধে মার্কিন সিনেটে প্রস্তাব ব্যর্থ, তবু ‘টার্নিং পয়েন্ট’—ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইসরাইলের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি বন্ধের একটি প্রস্তাব ভোটে পাস না হলেও, মানবাধিকারকর্মীরা এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই ভোটে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের বড় অংশ প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৪০-৫৯ ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়, কারণ সাতজন ডেমোক্র্যাট রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি বার্নি স্যান্ডার্স। এতে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই ফলাফল ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিঃশর্ত সমর্থনের মধ্যে ফাটলের ইঙ্গিত দেয়। শান্তিবাদী সংগঠন জাতীয় আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বন্ধু কমিটি-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক হাসান এল-তাইয়্যাব বলেন, “প্রস্তাবটি পাস না হলেও এটি দেখিয়েছে, সিনেটের অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এখন ইসরাইলকে নিঃশর্ত সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করছেন।” তার মতে, এটি শুধু অস্ত্র বিক্রি নয়, বরং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের বিরুদ্ধেও একটি রাজনৈতিক বার্তা। এই ভোট এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করছেন, গাজা ও লেবাননে নগর ধ্বংসে বুলডোজার ব্যবহৃত হচ্ছে, যা তারা ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। এদিন আরেকটি ভোটে ৩৬ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইসরাইলের কাছে ১,০০০ পাউন্ড বোমা সরবরাহ বন্ধের পক্ষে ভোট দেন—যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ২০২৪ সালে এমন প্রস্তাবে সমর্থন ছিল ১৮টি, আর গত বছর ছিল ২৭টি। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা—এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ। স্যান্ডার্স বলেন, “আমেরিকানরা চায় তাদের করের অর্থ দেশের ভেতরে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হোক, মধ্যপ্রাচ্যে নিরীহ মানুষ হত্যায় নয়।” বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ এবং ৫০ বছরের নিচে তরুণদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, শান্তির জন্য ইহুদি কণ্ঠস্বর-এর রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, “গাজায় সহিংসতা, লেবাননে বোমাবর্ষণ এবং ইরান ইস্যুর প্রেক্ষাপটে অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে ভোট দেওয়া লজ্জাজনক।” তার মতে, সিনেটে ৪০টি সমর্থন ভোটই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের হামলা
হরমুজে অবরোধ: অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায়,ইরানকে দুটি নতুন শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই ঘোষণা দিলেন—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “প্রায় শেষ”। ফক্স নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: সত্যিই কি যুদ্ধ শেষের পথে, নাকি এটি কৌশলগত বার্তা?  যুদ্ধের সূচনা: লক্ষ্য ছিল কী? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও Iইসরায়েল–এর সমন্বিত অভিযানে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয় ব্যাপকভাবে। ওয়াশিংটনের দাবি—এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা থামানো। ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, > “যদি আমরা পদক্ষেপ না নিতাম, ইরানের হাতে এখন পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।” এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও তাৎক্ষণিক অস্ত্র প্রস্তুতির প্রমাণ স্পষ্ট ছিল না।  কৌশল নাকি বাস্তবতা? ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা তিনভাবে দেখছেন:  মনস্তাত্ত্বিক চাপ:    ইরানকে দ্রুত আলোচনায় বসাতে চাপ তৈরি করা।  রাজনৈতিক বার্তা:    দেশীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী নেতৃত্বের ইমেজ তৈরি। বাস্তব সামরিক অগ্রগতি:    যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের ৬ সপ্তাহের পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—যদি যুদ্ধ শেষের পথে হয়, তাহলে কেন এখনো নৌ অবরোধ চলছে?  হরমুজে অবরোধ: অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ–অবরোধ জারি করেছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তাৎপর্য বিশাল: * বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায় * ভারতসহ বহু দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে * ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে পড়বে  ভেঙে যাওয়া আলোচনা, আবার নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স । তবে সমস্যা একটাই—অবিশ্বাস। ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “পূর্ণ অনাস্থা” প্রকাশ করে আসছে। আর ভ্যান্স নিজেও স্বীকার করেছেন: > “এই অবিশ্বাস এক রাতে দূর করা সম্ভব নয়।”  যুদ্ধবিরতি: ভঙ্গুর শান্তি বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এই সময়ের মধ্যে: * নতুন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা * শান্তি চুক্তির চেষ্টা * অথবা আবার সংঘাতের পুনরারম্ভ সবকিছুই অনিশ্চিত। মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়: * লেবানন–এ হামলায় বহু হতাহত * ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি * মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সংকট ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইরান পুনর্গঠনে “২০ বছর” সময় লাগতে পারে—যা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি মানবিক মূল্যকে সামনে আনে। আসল প্রশ্ন: যুদ্ধ শেষ, নাকি নতুন খেলা? ট্রাম্পের দাবি—“যেকোনো সময় চাইলে যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে: * সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি * অর্থনৈতিক অবরোধ চলছে * কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি তাই বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধের শেষ নয়—বরং নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ।   এই সংঘাত এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে— যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি এবং ভূরাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্য হয়তো আশার ইঙ্গিত, কিন্তু মাটির বাস্তবতা বলছে— **শেষের আগে এখনো অনেক অধ্যায় বাকি।**    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার
যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে সরকারের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আরআইএ নভোস্তি এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমে মোহাজেরানি এই হিসাব তুলে ধরেন। মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের আলোচনাকারী দল যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ বৈঠকেও যা গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি বেশ কয়েকটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0