Brand logo light
খেলাধুলা

রোনালদোর বিদায়ী বিশ্বকাপের শেষটা হলো হতাশায়, স্পেনের কাছে হেরে বিদায় পর্তুগালের

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
রোনালদোর হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টারে স্পেন
রোনালদোর হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টারে স্পেন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই হতে যাচ্ছে তার শেষ বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আর পূরণ হলো না।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে রোনালদোর পর্তুগাল। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন সেই জয়ে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৯০তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় দুই দলের ভাগ্য।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক স্পেন, সুযোগ নষ্ট পর্তুগালের

ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। অষ্টম মিনিটে দানি অলমোর দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে মিকেল ওইয়ারজাবাল একা গোলরক্ষকের সামনে চলে যান। তবে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

এরপর ১২ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ আসে পর্তুগালের সামনে। বক্সের ডান দিকে বল পেয়ে জোরালো শট নিয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন তা সহজেই রুখে দেন।

১৬ মিনিটে পর্তুগালকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। প্রথমে ইয়ামালের শট ঠেকানোর পর ফিরতি বলে বায়েনার প্রচেষ্টাও প্রতিহত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিল পর্তুগাল। জোয়াও ফেলিক্সের পাস থেকে রোনালদোর বাইসাইকেল কিক গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন উনাই সিমন। গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে চাপ বাড়ায় স্পেন, চোটে ধাক্কা খায় পর্তুগাল

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় দুই দলই। বক্সের বাইরে থেকে নুনো মেন্দেসের নেওয়া শট গোলের পথে থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

৫৫ মিনিটের দিকে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নুনো মেন্দেস। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ঘটনা পর্তুগালের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

৭২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ইয়ামালের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা।

শেষ মুহূর্তে মেরিনোর গোলে স্বপ্নভঙ্গ রোনালদোর

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নির্ধারণী মুহূর্ত।

৯০ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগায় স্পেন। ফেরান তরেসের বাড়ানো বল পেয়ে নিচু ও শক্তিশালী শটে জালে পাঠান মিকেল মেরিনো।

শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। বের্নার্দো সিলভার হেডার অল্পের জন্য বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় স্পেন। আর বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় নেয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে রোনালদোর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন শেষ হলো নকআউট পর্বেই।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলাধুলা

View more
ব্রাজিলকে বাদ পড়তে দেখে অবাক হয়নি আর্জেন্টিনা
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ বিদায়ে অবাক নয় আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলের বিদায়ে অবাক নয় আর্জেন্টিনা, ‘কোনো ম্যাচই সহজ নয়’: পারেদেস ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলটিকে। তবে ব্রাজিলের এই বিদায়ে বিস্মিত নয় আর্জেন্টিনা। দলের মিডফিল্ডার Leandro Paredes মনে করছেন, বর্তমান বিশ্বকাপে কোনো দলকেই সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পারেদেস বলেন, “গতকাল ব্রাজিল বাদ পড়ায় আমরা অবাক হইনি। কারণ আমরা জানি, প্রতিটি জাতীয় দলই এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই বিশ্বকাপে যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “ব্রাজিলের বাদ পড়া অবশ্যই বড় খবর। কিন্তু এখানে কোনো ম্যাচই সহজ নয়।” মিশরের বিপক্ষে সতর্ক আর্জেন্টিনা শেষ আটের লড়াইয়ে মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ Egypt national football team। ম্যাচটির আগে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন পারেদেস। তিনি বলেন, “কেপ ভার্দে আমাদের শিখিয়েছে, কোনো ম্যাচই সহজ হবে না। আমরা এটা আগে থেকেই জানতাম। মিশর নিশ্চিতভাবেই খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।” আর্জেন্টিনা মিডফিল্ডারের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচেই চাপ থাকে এবং সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলা সম্ভব নয়। “আমরা সেরা পারফরম্যান্স দিতে চাই। সব সময় ভালো খেলা যায় না, সব সময় নিজেদের চাওয়া অনুযায়ী সবকিছু হয় না। মাঝেমধ্যে কষ্ট করতে হয়। তবে জয় পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ, আর এভাবে জেতাটাও গুরুত্বপূর্ণ।” একাদশে থাকার অপেক্ষায় পারেদেস Leandro Paredes কেপ ভার্দের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোর পর মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিজের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, “আমি সব সময় নিজেকে একাদশে দেখতে চাই। প্রতিদিন অনুশীলনে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যাতে কোচের বিবেচনায় থাকতে পারি।” তবে দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও মেনে নিচ্ছেন তিনি। পারেদেস বলেন, “আমরা মোট ২৬ জন খেলোয়াড়। কোচকে ১১ জন বেছে নিতে হয়। তাই অপেক্ষা করাটাই এখন আমার কাজ।” শেষ আটের পথে আর্জেন্টিনা-মিশর লড়াই মঙ্গলবার আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা ও মিশর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0
রোনালদোর হৃদয় ভেঙে কোয়ার্টারে স্পেন

রোনালদোর বিদায়ী বিশ্বকাপের শেষটা হলো হতাশায়, স্পেনের কাছে হেরে বিদায় পর্তুগালের

নেইমারও নাই, রোনালদোও নাই

নেইমার-রোনালদোর বিদায়ে বিশ্বকাপে শেষ হলো এক যুগের গল্প

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে জিতবে কে

আর্জেন্টিনা-মিশর: সুপার কম্পিউটারের চোখে কার এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা?

ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রেকডালের, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের ইতিহাস ফেরার ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে ব্রাজিল–নরওয়ে লড়াইয়ের আগে আলোচনায় উঠে এসেছে ২৬ বছর আগের এক স্মরণীয় অধ্যায়। নরওয়ের সাবেক ফুটবলার ক্যেতিল রেকডাল, যিনি ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন, মনে করছেন—এবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেকডাল বলেন, রোববারের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে ব্রাজিলের ওপর। তার মতে, নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়াই নরওয়ের জন্য বড় অর্জন। বিপরীতে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কোনো ফলই হতাশাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে। অতীতের পরিসংখ্যান কী বলছে? দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও নরওয়ের সমর্থকদের আশাবাদী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এ পর্যন্ত চারবারের সাক্ষাতে ব্রাজিল একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি। সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে, যেখানে ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ক্যেতিল রেকডালের পেনাল্টি গোলে ২–১ ব্যবধানে জয় পায় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে ওঠা। রেকডালের বিশ্বাস, সেই ম্যাচের স্মৃতি এখনো ব্রাজিলের বিপক্ষে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। "নরওয়ের বিপক্ষে আবারও হোঁচট খাওয়ার ভয় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মনে থেকে যেতে পারে।" বর্তমান নরওয়েকে কেন বেশি শক্তিশালী মনে করছেন? রেকডালের মূল্যায়নে, বর্তমান নরওয়ে দল ১৯৯৮ সালের দলের তুলনায় আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিণত। তার মতে, আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড এবং আন্তোনিও নুসা—এই তিন ফুটবলারের উপস্থিতি দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বড় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের পরিচয় গড়তে অতীতের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে না; বরং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। ব্রাজিল এগিয়ে, তবু কেন সতর্ক থাকার পরামর্শ? রেকডালের মতে, কাগজে-কলমে ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে নরওয়ের আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার বিশ্লেষণে— হালান্ডের গোল করার অসাধারণ দক্ষতা, ওডেগার্ডের সৃজনশীল পাসিং, নুসার গতি ও ড্রিবলিং —ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কোরলাইনেও আত্মবিশ্বাস বর্তমানে নরওয়ের শীর্ষ লিগের ক্লাব আলেসুন্দ এফকে-এর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেকডাল নিজের পূর্বাভাসে অটল। তার ভাষায়, "নরওয়ে ২-১ গোলে জিতবে। ফুটবলে ইতিহাস প্রায়ই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।" যদিও ব্রাজিলকে এখনও ম্যাচের ফেভারিট ধরা হচ্ছে, তবু নরওয়ের সাম্প্রতিক দলীয় শক্তি, অতীতের পরিসংখ্যান এবং রেকডালের আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ৯২ বছর পর শেষ ষোলোতে মিশর

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ হারিয়ে শেষ ১৬-এ মিশর: সালাহর পানেনকা, এক শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান

শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা

কেপ ভার্দের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ ভেঙে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত

এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসি
নকআউট নিশ্চিত, এবার বেঞ্চের শক্তি যাচাই—জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  দুই ম্যাচে টানা জয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে Argentina national football team। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চাপমুক্ত অবস্থানে রয়েছে দলটি। এই বাস্তবতায় কোচ Lionel Scaloni এখন নজর দিচ্ছেন স্কোয়াডের গভীরতা যাচাই এবং নকআউট পর্বের জন্য মূল খেলোয়াড়দের সতেজ রাখার দিকে। টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (২৭ জুন) গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কানসাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ অনুশীলন সেশনেই সেই পরিকল্পনার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। অনুশীলনে আলাদা বার্তা, কারা পাচ্ছেন সুযোগ? মঙ্গলবারের অনুশীলনে আর্জেন্টিনা দলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যারা শুরুর একাদশে ছিলেন, তারা মাঠে অনুশীলন না করে জিমনেসিয়ামে হালকা ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে যারা কম সময় খেলেছেন বা মাঠে নামার সুযোগ পাননি, তারা পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে অংশ নেন। এ তালিকায় ছিলেন Julián Álvarez, Nicolás González, Leandro Paredes, Nicolás Tagliafico এবং Nicolás Otamendi। দলের ভেতরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জর্ডানের বিপক্ষে এই ফুটবলারদের অধিকাংশই শুরুর একাদশে সুযোগ পেতে পারেন। স্কালোনির কৌশল: ফল নয়, প্রস্তুতিই এখন অগ্রাধিকার ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রুপ টেবিলের অবস্থান এখন আর তার দলের জন্য কোনো চাপ তৈরি করছে না। তিনি বলেন, প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে নেওয়াই ছিল দলের প্রধান লক্ষ্য এবং সেটি অর্জিত হয়েছে। ফলে এখন স্কোয়াডের অপেক্ষমাণ ও যোগ্য খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু রোটেশন নয়; বরং নকআউটের আগে আর্জেন্টিনার বিকল্প পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, সেটি যাচাইয়েরও সুযোগ। রোমেরোর চোটে উদ্বেগ, বাড়ছে রক্ষণভাগের হিসাব তবে সবকিছু ইতিবাচক নয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুতে আঘাত পাওয়া ডিফেন্ডার Cristian Romero-কে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। তার চোটের মাত্রা নির্ধারণে মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জর্ডানের বিপক্ষে তার মাঠে নামা প্রায় অসম্ভব। নকআউট পর্বের আগে রোমেরোর শারীরিক অবস্থা আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অনুশীলনের শেষদিকে অধিনায়ক Lionel Messi এবং Rodrigo De Paul-কে ট্র্যাকস্যুট পরে মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি সাধারণত ম্যাচের গুরুত্ব নির্বিশেষে মাঠে থাকতে পছন্দ করেন। তবে সামনে নকআউট পর্বের উচ্চঝুঁকির লড়াই থাকায় তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদি মেসি বিশ্রামে থাকেন, তাহলে তরুণ Nicolás Paz-এর জন্য শুরুর একাদশে জায়গা তৈরি হতে পারে। গোলপোস্টেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা শুধু আক্রমণভাগ নয়, গোলরক্ষকের অবস্থানেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। নিয়মিত প্রথম পছন্দ Emiliano Martínez-এর পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন Gerónimo Rulli। এতে করে নকআউটের আগে স্কোয়াডের দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস ও প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ পাবে কোচিং স্টাফ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
নেইমার

বিশ্বকাপে পেলে-রিভালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দ্বারপ্রান্তে নেইমার, স্কটল্যান্ড ম্যাচেই হতে পারে ইতিহাস

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল র_্যালি ও আনন্দ মিছিল

বিশ্বকাপের আগে নওগাঁর পত্নীতলায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ৫০০ মোটরসাইকেলের র‍্যালি, মেসি বাহিনীর জন্য শুভকামনা

ক্রিকেট বোর্ড

বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের আত্মীয়দের প্রভাব, একাধিক পরিচালক হচ্ছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0