Brand logo light

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত

ট্রাম্প
ট্রাম্প তোয়াক্কা করছেন না আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম-নীতি

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ‍রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করল ইরান

ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বেসামরিক বিমানে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার-এর একটি বিমান নয়াদিল্লিতে মানবিক ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয়। তেহরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের দিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা—যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য ছিল—আনার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং তাদের বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স গোপনে ব্যবহার করত। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে সেগুলো সাধারণ বেসামরিক বিমান বলেই দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল আরও অভিযোগ করেছে, ইরান বাণিজ্যিক ফ্লাইট—বিশেষ করে মাহান এয়ারের মতো সংস্থা—ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৮ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার এটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে হামলা জোরদার করায় ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একই সময়ে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফা-তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের এই বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নত রাডারের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান রয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হলে ব্যবহার করতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কাও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ইসরাইলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের হুঁশিয়ারি: একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে সেনাবাহিনী সংকটে

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের চাপ ও চরম জনবল সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরসহ একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সেনাবাহিনী কাজ করছে, যেখানে দিন দিন সেনাসদস্যের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জামির বলেন, “সামরিক বাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রধান কারণ চরম জনবলসংকট।” তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ বাহিনী এই চাপ সহ্য করতে পারবে না। জামির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কট্টর অর্থোডক্স বা ‘হারেদি’ ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা সেনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বৈঠকে বলেন, “আমি ১০টি লাল পতাকা দেখাচ্ছি।” পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা সেনাদের ওপর আরও ধকল তৈরি করছে। জামির সতর্ক করে বলেন, এই চাপ অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী এমনকি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তাদের মিশনগুলো সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও রিজার্ভ নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধ: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন, এক মাসে বাড়ছে প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ব্যাপক হারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক সূত্র বলছে, টমাহক মূলত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এর উৎপাদন সীমিত—বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ ইউনিট তৈরি হয়। ফলে দ্রুত ব্যবহারের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের বর্তমান মজুত “চিন্তার বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক পরিভাষায় তারা “উইনচেস্টার”-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন—অর্থাৎ গোলাবারুদ প্রায় শেষের দিকে। ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং এর একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩.৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন। এক মাসে যুদ্ধের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজ এক মাস পূর্ণ হলো। সংঘাতটি শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু এলাকা, হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের সময় অনেক উদ্ধারকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখতে পান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রভাব ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলার প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২২ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩,৩১৫ জন। ইরাকে অন্তত ৯৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে চারজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইলের কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এবং তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত একটি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চালানো হয়েছে। কিরিয়া অঞ্চলটি ইসরায়েলের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে সম্ভাব্য বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছে ইসরায়েল
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাদা ফসফরাস ব্যবহার: আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ, যুদ্ধ আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে আবারও সাদা ফসফরাসযুক্ত অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী হতে পারে, বিশেষ করে যখন তা বেসামরিক এলাকায় প্রয়োগ করা হয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, তারা যাচাই করা একাধিক ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর শহরের আবাসিক এলাকায় সাদা ফসফরাসযুক্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আকাশে বিস্ফোরণের পর বিশেষ ধরনের ‘গাঁটের মতো’ ধোঁয়ার আকৃতি দেখা গেছে, যা এই অস্ত্র ব্যবহারের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গবেষকদের মতে, M825-সিরিজের ১৫৫ মিমি আর্টিলারি শেল বিস্ফোরিত হলে এর ভেতরের সাদা ফসফরাসযুক্ত ফেল্টের টুকরোগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে তাৎক্ষণিকভাবে জ্বলে ওঠে। এতে প্রায় ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ উৎপন্ন হয় এবং ঘন ধোঁয়া তৈরি হয়। সাধারণত সামরিক বাহিনী ধোঁয়ার আড়াল তৈরি, লক্ষ্য চিহ্নিত করা বা রাতের অন্ধকারে আলোকসজ্জার জন্য সাদা ফসফরাস ব্যবহার করে থাকে। তবে বেসামরিক এলাকায় এর ব্যবহার অত্যন্ত বিতর্কিত। কারণ এটি মারাত্মক দগ্ধ সৃষ্টি করতে পারে, আগুন লাগাতে পারে এবং বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই দক্ষিণ লেবাননে এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটছে। পরবর্তীতে আরও অনেক ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, বাস্তবে এই ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ প্রায় ৮ লাখ মানুষ ওই এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হওয়ায় অনেক ঘটনাই নথিভুক্ত হয়নি। নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক আহমদ বেইদাউন জানান, তিনি অক্টোবর ২০২৩ থেকে নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন। তার গবেষণায় দেখা গেছে— ৩৯% ঘটনা আবাসিক এলাকায় ১৭% কৃষিজমিতে ৪৪% বন বা খোলা জায়গায় তার মতে, ইসরায়েলি বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে গাছপালা পুড়িয়ে দৃশ্যমানতা বাড়াতে এই অস্ত্র ব্যবহার করে, যাতে কেউ আড়ালে লুকাতে না পারে। লেবাননের সংস্থা পাবলিক ওয়ার্কস স্টুডিওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদা ফসফরাস ব্যবহারের ফলে দক্ষিণ লেবাননের ২০০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ৮৭৩ হেক্টর ঘন বনভূমি, যেখানে ইউক্যালিপটাস, ওক ও পাইন গাছের বিস্তৃত অঞ্চল ছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সাদা ফসফরাস মাটির নিচে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে কৃষকরা জমি খুঁড়লে তা আবার জ্বলে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। মাটিতে ফসফরিক অ্যাসিড ও ক্যাডমিয়াম, সিসা ও দস্তার মতো ভারী ধাতু জমা হয়ে মাটির উর্বরতা কমিয়ে দেয় এবং কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাদা ফসফরাসযুক্ত ধোঁয়ার গোলা এবং অন্যান্য ধোঁয়ার গোলার মধ্যে দৃশ্যগত মিল থাকতে পারে, তাই শুধুমাত্র ভিডিও বা ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে সরাসরি জবাব দেননি। তিনি দাবি করেন, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা কমাতে ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মানুষকে স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। গবেষক বেইদাউনের মতে, এসব ঘটনার পেছনে একটি কৌশলগত উদ্দেশ্য থাকতে পারে—মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে সীমান্ত এলাকায় একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - ডোনাল্ড ট্রাম্প
খামেনিকে টার্গেট করে গোপন ফোনালাপ! ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক পরিকল্পনা ফাঁস

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গোপন এই আলোচনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা নেতৃত্ব ধ্বংসের পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।  গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার সুযোগ সূত্র অনুযায়ী, উভয় নেতা আগেই গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে জানতে পারেন—খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে একটি কমপ্লেক্সে বৈঠকে বসবেন। এতে তারা একসঙ্গে অবস্থান করায় হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন। তবে পরবর্তীতে নতুন গোয়েন্দা তথ্য জানায়, বৈঠকের সময় এগিয়ে আনা হয়, যা হামলার সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। নেতানিয়াহুর কৌশলগত যুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান—খামেনিকে হত্যার এমন সুযোগ আবার নাও আসতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পূর্বে ইরানের কথিত হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-এর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে।  ট্রাম্পের অবস্থান সূত্র বলছে, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ধারণায় সম্মতি দিলেও কখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও নেননি। তবে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছিল, যা সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।  হামলা ও খামেনির মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শুরু হয় প্রথম দফা বোমা হামলা। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল— ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস নৌবাহিনী অকার্যকর করা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রোধ  যুদ্ধের বিস্তার ও প্রতিক্রিয়া এর আগে জুন মাসে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়, পরে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা।  সিদ্ধান্তে প্রভাবক ঘটনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে— ভেনেজুয়েলায় সফল মার্কিন অভিযান ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয়।  ঝুঁকি ও পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্টকম সতর্ক করেছিল—খামেনিকে হত্যা করলে আরও কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই আশঙ্কা আংশিক সত্যি হয়েছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায়— মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হাজারো বেসামরিক হতাহত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি জ্বালানি সংকট  বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে। ইরানে রেভল্যুশনারি গার্ডের কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা বা কোন এয়ারলাইনের তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেনগুরিয়নে থাকা তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশপথে দেশটির প্রধান এই প্রবেশদ্বারে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ইসরাইলি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অনেক বোমা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিমানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে গেছে এবং অন্যগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ধ্বংসস্তূপে পরিণত তেল আবিব
ধ্বংসস্তূপে পরিণত তেল আবিব:ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে তীব্রতা, নেতানিয়াহুকে ঘিরে রহস্য

ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন? নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো। গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র দায়ী
ইরানের মিনাব স্কুলে টমাহক হামলা: যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী অ্যামনেস্টি, নিহত ১৭০ শিশু | তদন্তে নতুন তথ্য

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন—যাদের বেশিরভাগই শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন তদন্তে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সোমবার প্রকাশিত এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কী ঘটেছিল মিনাবে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঘটনাস্থলেই বহু শিশু নিহত হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত অনুযায়ী: স্কুলটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় আশপাশের অন্তত এক ডজন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ৬–১২ বছর বয়সী শিশু এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “বর্তমান সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে,”—যা হামলার উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্কুল না সামরিক লক্ষ্যবস্তু? তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেটি আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। তবে: সাম্প্রতিক সময়ে সেটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় শিশুদের নিয়মিত ক্লাস চলছিল কোনো সক্রিয় সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি অ্যামনেস্টি বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে থাকে, তাহলে তা “গুরুতর অবহেলা” হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি। আইন অনুযায়ী: বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকলেও বেসামরিক ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে হয় শিশুদের ওপর হামলা বিশেষভাবে গুরুতর অপরাধ অ্যামনেস্টির জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গেভারা-রোসাস বলেন: “যদি লক্ষ্যবস্তুটিকে স্কুল হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি গোয়েন্দা ও পরিকল্পনার বড় ধরনের ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন: “আর যদি জানা সত্ত্বেও হামলা চালানো হয়ে থাকে, তবে তা নির্বিচার হামলা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ।” যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাপরাধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচ্য: লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক ছিল কি না হামলার সময় সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল কি না সামরিক প্রয়োজনীয়তা বনাম বেসামরিক ক্ষতির অনুপাত এই তিনটি ক্ষেত্রেই মিনাব হামলা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এই হামলাটি এমন এক সময় ঘটেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে: এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই শুরু হয়েছে আঞ্চলিক শক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি, হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল— Al Dhafra Air Base, আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি Naval Support Activity Bahrain–এর কাছাকাছি জুফায়ার বিমান ঘাঁটি Ramat David Airbase, ইসরায়েলের সামরিক বিমান ঘাঁটি Haifa Airport, ইসরায়েলের বেসামরিক বিমানবন্দর ইরানের দাবি, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় দুই হাজার ইসরাইলি হাসপাতালে ভর্তি
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, ইরানে নিহত ১২০০ ছাড়াল — ইসরাইলে ১৯২৯ আহত

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত ১২০০ ছাড়াল, ইসরাইলে আহত প্রায় ২০০০ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে: মিসাইল হামলায় সৌদিতে বাংলাদেশিসহ নিহত ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: তেহরানে তেল ডিপোতে আগুন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ   মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাতে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১ হাজার ৯২৯ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের হামলায় নতুন করে আরও ১৫৭ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ১১২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আতঙ্কে নাগরিকরা ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার সময় সাইরেন বাজলে অনেক নাগরিক দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি বা পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছেন। নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানে নিহত ১২০০ এর বেশি অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, তারা এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানো হলে হামলাকারীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অন্য কোনো দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তেহরান উপযুক্ত জবাব দেবে। সৌদি আরবে মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আল-কারজ শহরে ইরানের ছোড়া একটি মিসাইল আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এই হামলায় একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১২ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মেইনটেনেন্স ও ক্লিনিং কোম্পানির ভবনে আঘাত হানে। আমিরাতের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির দিকে ২৩৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১ হাজার ৪২২টি ড্রোন এবং ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী— ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে তেহরানে তেল ডিপোতে হামলা শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে বেশ কয়েকটি তেল ডিপোতে হামলা চালায় ইসরাইল। হামলার পর ডিপোগুলোতে বড় ধরনের আগুন লাগে। এসব ডিপোর তেল সাধারণত রাজধানীর বাসিন্দারা ব্যবহার করে থাকেন। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর হুঁশিয়ারি ইরানের সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইল যদি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরানও এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে। তিনি বলেন, “আপনারা যদি এক ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলার সহ্য করতে পারেন, তাহলে এই খেলা চলতে দিন।” ‘অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বেয়ারশেবা ও তেল আবিব শহর এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাকে “অপারেশন ওয়াদে সাদেক ৪”-এর ২৮তম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, এই হামলায় ‘খেইবার’ ধরনের ভারী ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের সরকারি সামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ইরানে এক রাতে ২৩০টি বোমা-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র,লেবাননে নিহত ১২:তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। একই সময়ে লেবাননেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (৭ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে ইসরাইলের ৮০টির বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এবং তারা মোট ২৩০টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণ রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে— ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামোর একটি গুদাম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎপাদনের একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা তবে এসব স্থাপনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী বিস্তারিত কিছু জানায়নি। লেবাননে হামলায় নিহত ১২ এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নাবি শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবানন এবং রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ আদেশ জারি করায় হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে এ পর্যন্ত ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে লেবাননের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত অন্যদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে সেগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা হয়। এর আগে শনিবারই সৌদি বাহিনী দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন এবং একই ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব হামলার জন্য কে দায়ী— সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাকিস্তানের সামনে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। অন্যদিকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটলে ইসলামাবাদের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান কোন অবস্থান নেবে— তা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ইরানের শাহেদ ড্রোন
ইরানের শাহেদ ড্রোনের চাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র বনাম যুদ্ধকৌশল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর সামরিক জোটের বিরুদ্ধে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন কৌশল, যেখানে কম খরচের প্রযুক্তি দিয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শত শত ড্রোনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন শত শত শাহেদ ড্রোন বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। অত্যন্ত নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়ার কারণে এগুলোকে শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ঝাঁকে ঝাঁকে আসা সব ড্রোন প্রতিহত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কংগ্রেস সদস্যদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে জানান, ইরানের কাছে এখন হাজার হাজার আত্মঘাতী ড্রোন মজুত রয়েছে। সস্তা ড্রোন বনাম ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ব্যয়ের পার্থক্য। একটি শাহেদ ড্রোন তৈরির খরচ প্রায় ৩৫ হাজার ডলার অন্যদিকে একটি প্যাট্রিয়ট বা থাড ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলার ফলে একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয় করতে হচ্ছে বহু গুণ বেশি অর্থ। এতে যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় গড়ে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় চার বিলিয়ন ডলার। ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন মূলত ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্লান্ত করে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে ফেলা। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ড্রোন ধ্বংসের পাশাপাশি সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থল বা লঞ্চিংপ্যাড ধ্বংস করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগ প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক স্টিভ ফেল্ডস্টাইনের মতে, এই সংঘাত বিশ্বকে ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগে প্রবেশ করাচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে মানববিহীন বিমান বা ড্রোনের ব্যবহার আরও বাড়বে এবং এটি প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের কাছে প্রায় ৮০ হাজার ড্রোনের মজুত রয়েছে এবং প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ড্রোন ব্যবহার করা সম্ভব। এ হিসাবে শুধু ড্রোন দিয়েই দেশটি কয়েক মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমন এক যুদ্ধ যেখানে দ্রুত বিজয় পাওয়া কঠিন। অনেকে মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে
হরমুজ প্রণালি সংকটের প্রভাব: ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়েছে, পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের মধ্যে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্যাংক ভর্তি করে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কিছু ফিলিং স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক গাড়িচালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ঢাকার নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের “বন্ধু ফিলিং স্টেশন”-এর এক কর্মী মিলন জানান, বিকেল থেকেই তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “বিকেল থেকেই অনেক গাড়ি আসছিল। আমাদের কাছে যত তেল ছিল প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন গাড়ি (সরবরাহ) না আসলে আর তেল দিতে পারবো না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টা পাশের একটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রেতাও একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাম্পে আপাতত তেল নেই। তার ভাষায়, “রাত ৯টার দিকে তেলবাহী গাড়ি আসার কথা। তখন তেল আসলে আবার বিক্রি শুরু করবো। এখন তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রেখেছি।” এদিকে তেল নিতে এসে পাম্প বন্ধ পেয়ে অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মোস্তফা আহমেদ নামে এক গাড়িচালক বলেন, “তেল নিতে আসছিলাম, এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নেই। সরকার বলছে তেল আসছে, আবার পাম্প বলছে নেই। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না সেটাও সন্দেহ হচ্ছে।” আরেকজন মোটরসাইকেলচালক রাসেল মিয়া বলেন, “যুদ্ধের কারণে যদি সংকট হয়, তাহলে এখনই তো তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা না। বুঝতে পারছি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।” তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনই বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে— ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের অকটেন প্রায় ২৮ দিনের ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী
ইরানের বিধ্বংসী আঘাতে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পিছু হটল বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

রানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ নামক একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মাত্র প্রথম দুই দিনে ৬৫০-এরও বেশি মার্কিন কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে। আইআরজিসি এই বলেছে যে এসব হামলা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবে শুরু করা হয়েছে। আইআরজিসি মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ একটি হামলায় বাহরাইনের ঘাঁটিতে একযোগে প্রায় ১৬০ জন মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেকটি কেন্দ্রীয় দাবি ছিল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্য করে ছয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, এই হামলার পর রণতরীটি চাবাহার উপকূল থেকে ২৫০-৩০০ কিলোমিটার সরে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইরানের এই দাবিগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বতন্ত্রভাবে যাচাইযোগ্য নয়, এবং মার্কিন সামরিক সূত্রগুলোর মতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরীকে আঘাত করতে পারেনি বা খুব কাছাকাছি যায়নি—তবে দুই পক্ষের বিবাদ ও তথ্যের অমিল উত্তেজনাকে আরও বৃদ্ধি করেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই অপারেশনটি মার্কিন ও ইসরায়েলের সাম্প্রিক আক্রমণের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নস্যাৎ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা এবং কার্শিয়াল সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পেয়েছে সংবাদ সংস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার (১ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ৫৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল রেড ক্রিসেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। এ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় শনিবার সকালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।   অন্যদিকে, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এরপর ইসরায়েলও লেবাননে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলা অব্যাহত রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে বলে জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল
হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা: আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ দাবি ইরানের, শতাধিক নিহতের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্বিচারে আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা কিংবা সাংস্কৃতিক নিদর্শন—কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং “আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের” শামিল। চলমান অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা মানবজাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রেড ক্রিসেন্ট ও আইসিআরসি’র অবস্থান ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-র প্রধান পির হোসেইন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শিশু ও শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার স্পষ্ট নিন্দা এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী নজরদারি ও সহায়তা কার্যক্রম সক্রিয় করার দাবি জানান। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ বলেন, “যুদ্ধের নিয়ম মানা বাধ্যবাধকতা—পছন্দের বিষয় নয়। হাসপাতাল, বাসাবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চলবে না।” তেহরানে হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী তেহরান-এ রোববার বড় ধরনের হামলায় কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তর তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল-এর প্রবেশপথে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। হাসপাতালের ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) বিভাগ ধ্বংস হয়েছে এবং সংরক্ষিত কোষ ও ভ্রূণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। মোতাহারি ও ভালিয়াসর হাসপাতালেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। প্রদেশজুড়ে হামলা ও হতাহতের দাবি পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজে অবস্থিত আবুজার শিশু হাসপাতালসহ পূর্ব আজারবাইজান, সিস্তান-বালুচিস্তান ও হামেদান প্রদেশের একাধিক জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। স্কুল ও ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলা তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় নারমাক এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয় বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অন্তত দুই শিশু নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশের লামের্দে একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলায় একাধিক হতাহতের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। দুই দিন তল্লাশি শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে—যাদের অধিকাংশই শিশু। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের বৈশ্বিক জোট এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “শিশু, শিক্ষক ও স্কুল কখনোই সামরিক লক্ষ্য হতে পারে না।” যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, স্কুলে বেসামরিক হতাহতের খবর তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কোনো হামলার তথ্য নেই। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বেসামরিক নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0