ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন?
নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন।
কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন।
খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো।
গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা? সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুধু সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি—এটি আঘাত হেনেছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে যে ধস নেমেছে, তা এই সংকটের অর্থনৈতিক গভীরতা স্পষ্ট করে। শেয়ারবাজারে ধস: কতটা বড় ক্ষতি? যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির প্রধান শেয়ারসূচক যথাক্রমে প্রায় ১৬% এবং ৯% কমেছে। এতে দুই বাজার মিলিয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে। দুবাই ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট: প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ: প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতাই এই পতনের মূল কারণ। বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব এই সংঘাতের অভিঘাত শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। কাতার: প্রায় ৪% পতন বাহরাইন: প্রায় ৭% পতন যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক: প্রায় ৭% কমেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মার্কিন নেতৃত্বের পরস্পরবিরোধী অবস্থান, বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। পর্যটন খাত: সবচেয়ে বড় ধাক্কা যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমিরাতের পর্যটন ও ভ্রমণ খাতে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যস্ত রুটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত জিডিপির ১৩% অবদান রাখা খাত ঝুঁকিতে ২০২৪ সালে এই খাত থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার। হরমুজ প্রণালি: সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির কার্যত অচলাবস্থা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও আমিরাত তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও বৈশ্বিক তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। কূটনৈতিক তৎপরতা: পাকিস্তান-চীনের উদ্যোগ সংঘাত থামাতে পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে পাঁচ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবের মূল দিক: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু শান্তি উদ্যোগ নয়—বরং আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা। পাকিস্তানের কৌশল পাকিস্তান এই সংকটে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণ: ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিমি সীমান্ত বেলুচিস্তানে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা শিয়া-সুন্নি উত্তেজনার ঝুঁকি অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা যুদ্ধের নতুন মাত্রা: সামরিক হামলা সংঘাতের সামরিক দিকও ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে। ইরানে একটি ক্যানসার ওষুধ কারখানায় হামলার অভিযোগ ইস্পাহানে গোলাবারুদের ডিপোতে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা স্যাটেলাইট তথ্যে বড় বিস্ফোরণের প্রমাণ এই ধরনের হামলা যুদ্ধের মানবিক ও নৈতিক দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষণ: সাময়িক ধাক্কা নাকি দীর্ঘমেয়াদি সংকট? অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান ধসকে দীর্ঘমেয়াদি সংকট হিসেবে না দেখে স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা হিসেবে দেখা উচিত। কারণ: আমিরাতের অর্থনীতি বহুমুখী শক্তিশালী আর্থিক অবকাঠামো উচ্চ তারল্য ব্যবস্থাপনা তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন শুধু সামরিক লড়াই নয়—এটি অর্থনীতি, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জটিল সমীকরণে পরিণত হয়েছে। শেয়ারবাজারের পতন, পর্যটন খাতের ধস এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনও অস্থির। শান্তি উদ্যোগ সফল না হলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে—যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগজনক।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর একটি শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে এই আগুন লাগে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এক মাস আগে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি পৃথক স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকল বাহিনী। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়। অন্যদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরটি একাধিক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ইরানকে দায়ী করে কুয়েত বলেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে বিমানবন্দরটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।