ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানির দাম বেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা। একই সময়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের অভিঘাতে চাপের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রম খরচের চাপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নতুন উদ্যোক্তাদের বড় অংশ এখন অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামগ্রিক মার্কিন অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হওয়া নতুন কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এসেছে ২৫০ জনের কম কর্মী নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো থেকে। মুনাফায় বড় পতন ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফায় গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। এক মাসেই মুনাফা কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উদ্যোক্তারা বর্তমানে তিনটি বড় সংকটে রয়েছেন— শ্রমিকের সহজলভ্যতা সংকট উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আমেরিকার অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৩ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ব্যাংক অব আমেরিকা ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে গ্যাসোলিনের পেছনে ৩১ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভোক্তাদের ব্যয় প্রবণতা এখনও শক্তিশালী থাকলেও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিক্রি ধীরে ধীরে মন্থর হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারে এক ধরনের “অদৃশ্য মন্দা” তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকটের মধ্যেও বাড়ছে নতুন ব্যবসা অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা থেমে নেই। বরং রেকর্ড গতিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার নতুন ব্যবসার আবেদন জমা পড়েছে। যা করোনা মহামারির আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোক্তা হওয়ার এই প্রবণতাই এখনও মার্কিন অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করছে। নতুন হামলার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসি দাবি করেছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল “বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা” ব্যবহার করেও ইরানকে দমাতে পারেনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান এখনও তার সব সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ করেনি এবং নতুন আগ্রাসন হলে “কল্পনার বাইরে বিধ্বংসী হামলা” চালানো হবে। ট্রাম্পের অবস্থান: ‘তাড়াহুড়ো নেই’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো নেই বলে মন্তব্য করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু “তিনি যা বলবেন, সেটাই করবেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এখন অগ্রাধিকার হলেও তিনি দ্রুত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ অনুভব করছেন না। এর আগে তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য একটি সামরিক হামলা স্থগিত করার কথাও জানান। উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের অনুরোধেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানা গেছে। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের স্থবির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তান নতুন করে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংঘাতের বিস্তার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আবারও বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বলছে, প্রণালির আশপাশে থাকা ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল করেছে ইরান। শুধু তাই নয়, তেহরানের যুদ্ধপূর্ব অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও অক্ষত রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে এখানকার যেকোনো সামরিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি আঘাত হানতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। মার্কিন দাবির সঙ্গে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৯০ শতাংশ পুনরায় সক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। এসব স্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে গেলে মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে টমাহক ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সীমিত মজুদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের গত কয়েক সপ্তাহের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে। যুদ্ধের পঞ্চম দিনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের নৌবাহিনী “পুরোপুরি ধ্বংস” হয়ে গেছে। পরে তিনি আরও বলেন, ইরানের বিমানবাহিনী, রাডার ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানার বড় অংশ নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। একই সুরে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীপিট হেগসেথ। তবে নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন বলছে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। ১৩ হাজার হামলার পরও অক্ষত ইরানের বড় অংশের সামরিক সক্ষমতা মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ দিনে ১৩ হাজারের বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হলেও দেশটির ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনও টিকে আছে। এছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হাতে এখনও কয়েক হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ রয়েছে, যা তাদের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বাইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী(আইআরজিসি)ও একই ধরনের দাবি করছে। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সম্প্রতি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের “পুরোনো মজুদ” থেকেই মাত্র ৩ হাজার ৬০০ ড্রোন এবং ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইরানের এক সংসদ সদস্য তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি-কে বলেছেন, বিদ্যমান মজুদ দিয়েই “বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানো সম্ভব”। হরমুজ প্রণালি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির বড় অংশ এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ থেকে ৭৫ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্তর। এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর। ভারতের মোট তেল চাহিদার প্রায় ৮৯ শতাংশ আমদানি করতে হয়, যার ৪০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে আমদানির উৎস বহুমুখী করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কর কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে সহায়তা করছে সরকার। চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিi-এর সরকার দাবি করেছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাস মজুদ রয়েছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কা তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন। ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব স্বীকারের দাবি ছিল। জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নতুবা ইরানকে “ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে”। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না। ফলে পরিস্থিতি এখন দুটি সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে— এক. দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি অচলাবস্থা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে। দুই. নতুন করে সামরিক সংঘাত, যা আগের চেয়ে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ ট্রাম্প প্রশাসন যদিও ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের খবর অস্বীকার করছে, তবে একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারও চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের বাড়তি তৎপরতার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বেইজিং এই সংঘাত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করছে চীন।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিতে শত্রুপক্ষের নৌযান মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এসব সাবমেরিনকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এক ভাষণে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিন শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলের গভীরে অবস্থান করা, শত্রু জাহাজের গতিবিধি প্রতিরোধ করা এবং প্রয়োজন হলে আঘাত হানার সক্ষমতা এসব সাবমেরিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই এগুলোকে “পারস্য উপসাগরের ডলফিন” নামে ডাকা হয়। ইরানি এই নৌকমান্ডার জানান, হরমুজ প্রণালীতে দেনা ডেস্ট্রয়ারের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অভিযানে এসব সাবমেরিন পানির ওপর উঠে আসে। পরে প্রদর্শনীমূলক মহড়া শেষে আবার গভীর সমুদ্রে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্বে ফিরে যায়। হরমুজ ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে ইউরোপ এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য বহুজাতিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস ড্রাগন’ পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করছে। যুদ্ধজাহাজটি এর আগে গত মার্চে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সাইপ্রাসকে সহায়তা দিতে পাঠানো হয়েছিল। ফ্রান্স ইতোমধ্যে লোহিত সাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মোতায়েন করেছে। এর পরই যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে লন্ডন ও প্যারিস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এইচএমএস ড্রাগনকে আগাম মোতায়েন করা হয়েছে একটি বিচক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ব্রিটিশ-ফরাসি যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হয়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি ভূমিকা রাখবে।” ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো সংঘাত কমে এলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচলের ভিত্তি তৈরি করা। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশও সম্ভাব্য এ অভিযানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে ইউরোপের দেশগুলো সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও নৌচলাচলে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি উঠে যাওয়ায় এখন তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় হচ্ছে। তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেওয়ার পর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জোরদার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই অবরোধ কার্যকরে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি সহযোগিতা না করায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের দূরত্বও বেড়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি। একই সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই বড় অঙ্কের ব্যয় শুরু করে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য আমদানি এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। লোহিত সাগর ঘিরে নতুন বিনিয়োগ সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এর তাৎক্ষণিক চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। ট্যাংকার জব্দ করল ইরান এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার্বাডোজের পতাকাবাহী ‘ওশান কোই’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের তেল বহন করছিল এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ওশান কোই’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তবে কী কারণে জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নতুন একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পরিচয়, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে হরমুজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশল’ বাস্তবায়নে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিভারেজ’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার দাবি সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জলদস্যু’ হিসেবে অভিহিত করে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন বাহিনীর ‘কবরস্থানে’ পরিণত করার হুমকি দিয়েছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই “বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের বিমানবাহী রণতরী রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমন যে তারা শত্রু যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত মাসে একটি মার্কিন F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা, যার ধ্বংসাবশেষ ইসফাহানে পড়েছিল বলে দাবি করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনীকে একই ধরনের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কূটনৈতিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের “সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে এসেছে”। তারা দাবি করেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ শেষ করতে তেহরান একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান বদলাচ্ছে চীন, রাশিয়া ও ইউরোপ। ১৪ দফা প্রস্তাব: কী রয়েছে? Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অবসান। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নৌ-অবরোধের অবসান মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার আঞ্চলিক সংঘাত, বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ইরান পুনরায় ৩.৬ শতাংশ হারে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ‘শূন্য-মজুদ নীতি’ অনুসরণের শর্তে। ইরান তার পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জব্দকৃত অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। আলোচনার অগ্রগতি ও মধ্যস্থতা যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তা ভঙ্গুর। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। অতীতে ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। জ্বালানি বাজারে প্রভাব সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪.১৮ ডলার, যা একদিনে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথের অস্থিরতা সরাসরি জ্বালানি ব্যয় বাড়াচ্ছে। তেলের দাম নিয়ে মার্কিন প্রত্যাশা মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বর্তমান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত হলে বছরের শেষের দিকে তা কমে আসতে পারে। তার ভাষায়, “সংঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে তেলের দাম অনেক কম হতে যাচ্ছে।”
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে যা দিয়ে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আলাউদ্দিন বোরুজের্দি এই তথ্য জানিয়েছেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার পুরোটা প্রকাশ করেনি। তার ভাষায়, “আমরা এখনও আমাদের নতুন কার্ডগুলো দেখাইনি।” ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের উপ-প্রধান বোরুজের্দি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত “নৌ অবরোধ”কে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১২০টি জাহাজ ওই প্রণালির আশেপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং অনেক ইরানি জাহাজ মার্কিন বাধা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বও তুলে ধরেন। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। বোরুজের্দি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্নে তেহরান কোনো ছাড় দেবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরান নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, এই সক্ষমতা বিশেষ করে বড় নৌযানের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও বিভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থে পাল্টা আঘাত হানে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর এবং এর ফলে ইরান “চাপের মধ্যে” রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও, যেখানে বলা হয়েছে—তেল রপ্তানি বন্ধ থাকলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের মজুদ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয়ের বড় অংশই অস্ত্র খাতে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সামরিক অভিযানের পরও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও তা অত্যন্ত নাজুক, এবং যেকোনো সময় পুনরায় উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, প্রণালিতে চলাচলরত একটি ট্যাংকারে দুটি গানবোট থেকে গুলি চালানো হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত নৌযানগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন দাবি করেছেন, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই গুলিবর্ষণ করা হয়। যদিও এতে জাহাজের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরা নিরাপদে রয়েছেন। ভারতীয় জাহাজেও হামলার অভিযোগ একই দিনে হরমুজ অতিক্রমের সময় একটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘সানমার হেরাল্ড’ নামের জাহাজটিও লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এই ঘটনাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর ভারত সরকার তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে উদ্বেগ জানায়, যা পরিস্থিতির কূটনৈতিক মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে। নিয়ন্ত্রণে ইরান, অনিশ্চয়তায় নৌপথ ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, চলমান সংঘাত পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রণালি অতিক্রমকারী সব জাহাজের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং ট্রানজিট অনুমোদন ও সেবা ফি কার্যকর থাকবে। এছাড়া, কিছু জাহাজ রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্কবার্তা পেয়েছে যে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করা হয়েছে এবং কোনো জাহাজকে অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার পরপরই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। সাময়িক স্বস্তি, দ্রুত অবনতি ঘটনার আগে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। অন্তত আটটি তেলের ট্যাংকারের একটি বহর প্রণালি অতিক্রম করছিল, যা সাত সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই স্বস্তি মিলিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েন এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল ও বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই নজরদারির কারণে অন্তত ২৩টি জাহাজ তাদের গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই নজরদারির আড়ালে জলদস্যুতার মতো আচরণ করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অবরোধের কথা অস্বীকার করলেও তাদের কার্যক্রম বাস্তবে জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বৈঠকে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রণালিতে এখনো স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়নি, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। বৈশ্বিক প্রভাব বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যে কোনো ধরনের অস্থিরতা সরাসরি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। গুলিবর্ষণ, নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। এই উত্তেজনা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং কূটনৈতিক সমাধান কতটা কার্যকর হবে, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে চারটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নতুন শর্তগুলো কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘোষিত চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— প্রথমত, বেসামরিক জাহাজগুলোকে শুধুমাত্র ইরান নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের সামরিক বা যুদ্ধজাহাজ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তৃতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের আগে আইআরজিসি নৌ শাখার কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। চতুর্থত, এই নীতিমালা চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরই এই ঘোষণা আসে। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি তাদের হাতেই থাকবে। এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। তবে তিনি একইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তারা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব বন্দর অনিরাপদ করে তোলার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারো জন্য নয়। এই অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। দেশটির সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইডিটি সময় সকাল ১০টা (ইরান সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটা) থেকে এই অবরোধ শুরু হবে। ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের ওপর সমানভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে আগের ঘোষণা থেকে কিছুটা সরে এসে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, অবরোধের ঘোষণার পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মাত্র ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অবরোধ শুরু হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড। এর আগে মার্কিন বাহিনী জানায়, বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ কার্যকর হবে। তারা স্পষ্ট করে বলে, যেসব জাহাজ ইরানের বন্দরের দিকে যাবে বা সেখান থেকে আসবে—সেগুলোকে আটকানো হবে। যদিও উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে না। মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, “মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বে আরব সাগরে অবস্থানরত সকল দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে।” পোস্টে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হলে সেটিকে পথিমধ্যে আটকানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা কিংবা জব্দ করা হতে পারে। তবে ইরানের বন্দর ছাড়া অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর হবে না। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বাহিনীটির এক মুখপাত্র বলেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা থাকতে হবে, নয়ত কোনো বন্দর নিরাপদ থাকবে না।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলেও অভিহিত করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। দেশটি জানায়, ইরানের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত তেল ও গ্যাস মূলত এই পথেই রপ্তানি করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। হামলার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের আটটি প্রধান সেতুর একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে দুই দফায় এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু নির্মাণাধীন এ সেতুটি তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশি দেরি হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হওয়া উচিত তেহরানের। প্রকাশিত হিট লিস্টে উল্লেখিত সেতুগুলো হলো-কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজ। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নির্মাণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। বরং এটি শত্রুর নৈতিক পতন ও চরম পরাজয়ের বার্তা বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান-এর সালালাহ বন্দরের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক সহায়তাকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ওমানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এ হামলা কোনোভাবেই ওমানের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলার পেছনে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অন্তত ১৩টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। বিশেষ করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত, সেখানকার শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে ইরান। তাদের মতে, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এসব দাবি বারবারই অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, ইরানের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত। এদিকে সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও জল্পনা-কল্পনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলার খবর সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনায়। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ইরানের ছোড়া দুটি ড্রোন আঘাত হানার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত (বুধবার দিবাগত রাত) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টা চলছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি একটি বা দুটি ড্রোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে অত্যন্ত মারাত্মক। এই ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের কোনো অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে তার জবাব হবে “ধ্বংসাত্মক”। তার ভাষায়, “চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেওয়া হবে এবং শত্রুদের পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।” বর্তমানে ইরানের নীতি-নির্ধারণী পরিষদের সদস্য রেজায়ি মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সংঘাত চলতে পারে। রেজায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শিগগিরই বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তার মতে, সামরিক পরিকল্পনায় ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি স্থাপনায় আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেয়। একই সময়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ছোড়া ১০টির বেশি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত। সামগ্রিকভাবে, এই ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত ৫৫টিরও বেশি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে “ক্রমিক ক্ষয়সাধন কৌশলের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে। লক্ষ্যবস্তু: কোথায় আঘাত হানা হয়েছে? আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি: সৌদি আরবের আল-খারজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা কুয়েতের আলী আল-সালেম ইরাকের ইরবিল (কুর্দিস্তান অঞ্চল) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাইফা বন্দর তেল আবিবের কৌশলগত অঞ্চল হাদেরা কিরিয়াত ওনো সাভিয়ন বেন আমি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়। ব্যবহৃত অস্ত্র: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহ-৪’ ‘কদর’ মাল্টি-ওয়ারহেড সিস্টেম এই অস্ত্রগুলো দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাল্টিপল ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তুলনামূলক সহজ হয় বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে—কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা। কৌশলগত বার্তা: “ক্রমিক ক্ষয়সাধন” আইআরজিসি তাদের এই অভিযানকে “ধাপে ধাপে ক্ষয় করার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে: শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে “নিয়ন্ত্রিত সংঘাত” বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। সময় নির্বাচন: রমজান ও ঈদের প্রেক্ষাপট আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হামলার সময় নির্বাচন করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে, ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে। তারা এটিকে “নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে: মুসলিম বিশ্বে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার সংঘাতকে আদর্শিক রূপ দেওয়া আঞ্চলিক প্রভাব: উত্তেজনার বিস্তার এই হামলার দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ২. ইসরাইলের অবস্থান ইসরাইল বরাবরই ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে এই ঘটনার পর তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে পারে। ৩. উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসায় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা নাকি প্রস্তুতি? এই ধরনের বড় হামলার দাবির পর সাধারণত আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি নতুন নিষেধাজ্ঞা তবে অনেক সময় সরাসরি নিশ্চিত তথ্য না থাকলে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নেয়। তথ্য যাচাই: দাবি বনাম বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। বর্তমানে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই স্যাটেলাইট বা ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ প্রয়োজন ফলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে “তথ্য যুদ্ধ” একটি বড় উপাদান হয়ে দাঁড়ায়। সম্ভাব্য ঝুঁকি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি সামনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো হলো: সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিশ্লেষণ: কৌশল না সংকেত? আইআরজিসির এই ঘোষণা কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্দেশ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানো ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব বিস্তার ইরানের আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। তবে এই ঘটনার বাস্তবতা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। দফায় দফায় ছুড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি ক্লাস্টার ওয়ারহেড বা গুচ্ছ বোমাযুক্ত মিসাইল নিক্ষেপ করছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এতে ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকার অনেক ভবন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উত্তর ইসরাইলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর খবরটি সামনে আসে। এদিকে তেল আবিব জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রামাত গানেও তাণ্ডব চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে ধসে পড়েছে বেশ কয়েকটি ভবন ও স্থাপনা। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে হত্যা করে ইসরাইল।একই সঙ্গে ইরানের বাসিজ বাহিনীর প্রধানকেও খুন করে অবৈধ ইহুদি ভূখণ্ডটি। পরে ইসরাইলি গণহত্যাকারীরা নিরাপত্তা কাউন্সিলের দ্বিতীয় প্রধানকেও হত্যা করেছে বলে জানায়। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কি আদৌ জীবিত? মৃত নাকি আহত হয়েছেন? নেতানিয়াহু সুরক্ষিত কোনো জায়গায় রয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে নিয়ে এ-হেন বহু জল্পনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী? কারণ, গত কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে আসা একাধিক ভিডিও। নেতানিয়াহুর ওই ভিডিওগুলো পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই সন্দেহ দানা বেঁধেছে মানুষের মনে। দাবি উঠেছে, ওই ভিডিওগুলোতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে। যদিও কোনো ভিডিওরই সত্যতা যাচাই করা যায়নি। কিন্তু ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিওর মাধ্যমে তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইসরায়েল। আমেরিকা-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে পর পর পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওগুলো তার মৃত্যু-জল্পনার পালে হাওয়া দিয়েছে। দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এনে তার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইসরায়েল। তবে সেই ভিডিও ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তার মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে। ১৫ মার্চের সেই ভিডিওতে নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিওতে ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি। ভিডিওটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। এক এক্স ব্যবহারকারী এক্সের চ্যাটবট গ্রোকের কাছে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেন। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও। ভিডিওটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিওটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরো উস্কে দেয়। এর মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় যে ৭৬ বছর বয়সি ইহুদি নেতা এখনো তেল আবিবেই আছেন। কিন্তু ভিডিওগুলো প্রকাশ্যে আসার পর নেতানিয়াহুর অবস্থান বা নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। জল্পনা আরো তীব্র হয় ১৬ মার্চ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুজালেমের রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটছেন এবং পথচারীদের সঙ্গে কথা বলছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেই ভিডিওতেও বিস্তর গোলযোগ খুঁজে পান নেটাগরিকেরা। ভিডিওতে যখনই নেতানিয়াহুর দু’হাত দেখা যাচ্ছিল, তখনই তার হাতে থাকা একটি আংটি বারবার অদৃশ্য এবং দৃশ্যমান হতে দেখা যায়। ফলে সেই ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকাকে কেন্দ্র করে সংশয় আর জল্পনা মিলেমিশে যখন একাকার, ঠিক সেই সময় আবার নেতানিয়াহুর এক্স হ্যান্ডল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওতে ইরানবাসীদের উদ্দেশে ‘নওরোজ়’ উৎসবের শুভেচ্ছাবার্তা দিতে দেখা গিয়েছে। নেতানিয়াহু বলছেন, ‘ইরানের নির্ভীক জনগণকে আমার শুভেচ্ছা। প্রতি বছরই এই আলোর উৎসবে যেমন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠাই, এ বার তেমন আপনাদের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স হ্যান্ডল থেকে আরো একটি ভিডিও পোস্ট করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, মৃত্যু-জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে, আবারও তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি বেঁচে আছি।’ কিছুটা রসিকতার সুরেই এ কথাগুলো বলতে শোনা গিয়েছে তাকে। যে ভিডিওটি নেতানিয়াহু প্রকাশ করেছেন, সেখানে তার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে আরো এক ব্যক্তিকে। তিনি আর কেউ নন, ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। যে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু এবং হাকাবি পাশাপাশি হাঁটছেন। খুব হালকা চালে কথা বলছেন তারা দু’জনে। হাকাবিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘মিস্টার প্রাইম মিনিস্টার, আপনি সুরক্ষিত আছেন কি না তা খোঁজ নিতে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ তার উত্তরে নেতানিয়াহু হাসতে হাসতে বলছেন, ‘অবশ্যই, মাইক। আমি বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।’ এ কথা শুনে হাকাবি বললেন, ‘আপনি সুরক্ষিত আছেন, এটা দেখে আমি খুবই খুশি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট বার বার জানতে চাইছিলেন আপনার বিষয়ে।’ তবে এই ভিডিও ডিপফেক ব্যবহার করে তৈরি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। দাবি উঠেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলেই তাকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে। প্রতি দিন নিত্যনতুন ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে। আর তা করতে গিয়ে ভুয়ো ভিডিও অবধি পোস্ট করে ফেলছে ইসরায়েলি প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ উঠেছে সমাজমাধ্যমে। নেতানিয়াহুর বেঁচে থাকা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নানা মত প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। জল্পনা অবশেষে এই দাবিতে পরিণত হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বিমান হামলায় গুরুতর আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে শুধু ভিডিও নয়, নেতানিয়াহু যে বেঁচে নেই, তেমনটা জল্পনা ছড়ানোর কারণ রয়েছে আরো। গত সপ্তাহ থেকে টিভিতে সরাসরি কোনো বার্তা দিতে দেখা যায়নি নেতানিয়াহুকে। আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্বক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনকভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরো উস্কে দিয়েছে।
রানের স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের অর্ধসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রুর হামলায়” সোলেমানি নিহত হয়েছেন। তবে হামলার সময়, স্থান বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সোলেমানি এবং তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে বাসিজ বাহিনীর কাঠামো আধুনিকীকরণ, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহায়তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে “ন্যাক্কারজনক” উল্লেখ করে বলেছে, এটি প্রমাণ করে যে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতে বাসিজ বাহিনীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে “আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনী” ও “জায়োনিস্ট শাসন”-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। বাসিজ বাহিনী ইরানের একটি স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া সংগঠন, যা সরাসরি আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত হয়। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দারিদ্র্য হ্রাসে কাজ করা এবং বিপ্লবী আদর্শে জনগণকে প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে সর্বোচ্চ এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য দিলেও পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস’ পরিচালিত ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম’ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মসূচির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব দেন ও পরিচালনা করেন এবং তারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ব্যানারে ‘ইরানি সন্ত্রাসী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পাশাপাশি আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন- ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমায়েল খতিব, উপপ্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আলী আসগর হিজাজি, মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস্কান্দার মোমেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি আইআরজিসির বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যক্তির অবস্থান বা তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে তথ্যদাতারা পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারেন এবং আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হতে পারে। তথ্যদাতারা এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা টর নেটওয়ার্কের নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মসূচির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে ভিডিও প্রচার, আমিরাতে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ১০ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে, যা এই কর্মসূচির আওতায় ঘোষিত বড় পুরস্কারগুলোর একটি। ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।