Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরাতে ইরানের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি সরানোর হুঁশিয়ারি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির | হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে—অন্যথায় এসব ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া তার প্রথম বিবৃতিতে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এই বক্তব্য এমন এক সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে।


নতুন নেতৃত্ব, নতুন বার্তা

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের দায়িত্বে আসেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি বলেন—

“ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলের অস্থিরতার প্রধান কারণ।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য কোনো প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি

তার ভাষায়,

“এই ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাদের উপস্থিতি সরিয়ে নেয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইরানের নতুন নেতৃত্বের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে।


যুদ্ধের ১১ দিনে নতুন কৌশল

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ১১ দিনে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন—

  • ইরান সরাসরি বড় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না করে

  • গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করছে

  • এবং ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত করছে।

পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,

“ইরান এমন লক্ষ্যবস্তু বেছে নিচ্ছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বলে মনে করছে।”


এরবিলে ড্রোন হামলা

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের এরবিল শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—

  • ওই হোটেলে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন

  • ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ারা একাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়।

এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন,

“এই হামলা প্রমাণ করে যে ইরান জানত মার্কিন সেনারা ওই হোটেলে অবস্থান করছিল।”

বিশ্লেষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট সামরিক উপস্থিতির দুর্বলতা তুলে ধরেছে।


পেন্টাগনের হতাহতের হিসাব

পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত—

  • ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন

  • ১৪০ জন আহত হয়েছেন

এর মধ্যে ১০৮ জন আহত সেনা আবার দায়িত্বে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ইরানের দাবি—

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায়

  • প্রায় ১৩০০ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


সামরিক শক্তিতে পিছিয়ে, কৌশলে এগোতে চাইছে ইরান

মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুঝতে পেরেছে যে সরাসরি সামরিক শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন।

তবে তারা এখন “স্ট্র্যাটেজিক সারভাইভাল” কৌশল অনুসরণ করছে।

এই কৌশলের মূল ধারণা হলো—

  • যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা

  • ছোট ছোট হামলার মাধ্যমে চাপ বাড়ানো

  • এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা।

একজন মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক বলেন,

“যদি ইরান টানা বোমাবর্ষণের মধ্যেও সরকার টিকিয়ে রাখতে পারে, তাহলে তেহরান এটিকেই বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে।”


হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা

মোজতবা খামেনির ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ।

বিশ্বের প্রায়—

  • ২০ শতাংশ তেল

  • গ্যাস পরিবহন

এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তাহলে—

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে

  • জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে

  • এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।


ইরানের লক্ষ্য কি শুধু মার্কিন ঘাঁটি?

খামেনি তার বক্তব্যে দাবি করেছেন—

“ইরান তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে।”

তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন—

“মার্কিন ঘাঁটিগুলোই আমাদের লক্ষ্য।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক উপস্থিতি রয়েছে—

  • কাতার

  • বাহরাইন

  • কুয়েত

  • ইরাক

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত

এসব ঘাঁটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মার্কিন সামরিক অপারেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


খামেনি পরিবারের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি

এদিকে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়—

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায়

  • তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ নিহত হয়েছেন।

তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়—

খামেনির স্ত্রী জীবিত আছেন এবং মৃত্যুর খবর সঠিক নয়।


পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিহত?

তবে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে—

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনের হামলায় খামেনি পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে রয়েছেন—

  • এক পুত্রবধূ

  • জামাতা

  • এক মেয়ে

  • কয়েকজন নাতি-নাতনি

তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।


প্রতিশোধের অঙ্গীকার

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম বক্তব্যে মোজতবা খামেনি নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিবৃতিতে তিনি বলেন—

“যারা ইরানের জনগণের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের জবাব দেওয়া হবে।”

এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।


মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো হলো—

  • হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া

  • আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ বাড়া

  • জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

  • বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি দশকের সবচেয়ে বড় মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

 

মোজতবা খামেনির প্রথম বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ইরান তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি, ইরানের প্রতিশোধের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা—এই তিনটি বিষয় এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে—তা এখন নজরে রাখছে পুরো বিশ্ব।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
উদ্ধার মার্কিন কর্নেল
ইরানের দুর্গম পাহাড়ে দুই দিন লুকিয়ে থাকার পর নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার মার্কিন কর্নেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে টানা দুই দিন লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে এক মার্কিন কর্নেলকে উদ্ধার করা হয়েছে—যা আধুনিক সামরিক অভিযানের এক নাটকীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ইরানের আকাশে টহলরত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূমি থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলের আঘাতে ভূপাতিত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দুই পাইলট ইজেকশন সিট ব্যবহার করে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অপরজন, কর্নেল পদমর্যাদার পাইলট, নিখোঁজ হয়ে যান। সামরিক সূত্রের ধারণা, ইজেকশনের সময় বা অবতরণের সময় তিনি আহত হন। তিনি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শুষ্ক ও পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন, যেখানে টিকে থাকাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ অনুযায়ী, শত্রু এলাকায় অবতরণের পর গোপনে অবস্থান নেওয়াই প্রধান কৌশল। কর্নেলও তাই করেন। দিনের বেলায় স্থির থেকে তাপচিত্র ও নজরদারি ড্রোন এড়িয়ে যান এবং পাথর, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক খাদ ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রাখেন। তার সঙ্গে ছিল কেবল একটি পিস্তল ও একটি ফ্লেয়ার। সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে তিনি অবস্থান গোপন রাখেন এবং সীমিতভাবে স্থান পরিবর্তন করেন, যাতে সহজে শনাক্ত না হন। এদিকে, ইরান সরকার স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। পুরস্কার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষও অনুসন্ধানে অংশ নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ধার অভিযানে পরে নাটকীয় মোড় আসে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা কর্নেলের অবস্থান শনাক্ত করে এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। সেই সুযোগে বিশেষ বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নামে। প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতার একটি রিজলাইনে গিয়ে কর্নেল উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তখন চারপাশে গোলাগুলি ও বিমান হামলার শব্দে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। অভিযানে অংশ নেয় শতাধিক বিশেষ বাহিনীর সদস্য। সহায়তায় ছিল পরিবহন বিমান, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান। উদ্ধার শেষে ব্যবহৃত দুটি পরিবহন বিমান শত্রুর হাতে পড়ার আশঙ্কায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কর্নেলকে নিরাপদে কুয়েতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই পুরো ঘটনাকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার কৌশল, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সমন্বিত সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা

হরমুজ থেকে হোয়াইট হাউস—এক বিস্তৃত সংঘাতের অদৃশ্য রেখাচিত্র

ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও মানবিক বিপর্যয়

মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ব্যাটেলশিপ

ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানের হামলা, উত্তেজনা চরমে

ইত্তেহাদ  নিউজ
নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি থেকে অনিশ্চয়তার বাস্তবতা—ইসরাইল ছাড়ার নীরব স্রোত”

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তা বলয়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা ইসরাইল আজ এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। একের পর এক সামরিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-এর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, দেশটির অভ্যন্তরে এক নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে—নাগরিকদের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান দেশত্যাগের প্রবণতা। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই অদৃশ্য কিন্তু গভীর সংকটের চিত্র—যেখানে যুদ্ধক্ষেত্র শুধু সীমান্তে নয়, মানুষের মনেও।  যুদ্ধের ছায়ায় নাগরিক জীবন গাজা-কে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে যখন সরাসরি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তেহরান এবং তেল আবিবের মধ্যে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ইসরাইলি নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে অস্থির করে তুলেছে। সাইরেন, বাঙ্কার আর জরুরি সতর্কতা—এসব এখন নিয়মিত বাস্তবতা। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটছে মানুষের সিদ্ধান্তে: “থাকা, না কি চলে যাওয়া?” দেশ ছাড়ার নীরব ঢল ইসরাইলি গণমাধ্যম এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশ ছাড়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে দলে দলে দেশ ছাড়ছেন ইসরাইলিরা। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে সমাজের উচ্চস্তরের মানুষও দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মিসরের সীমান্তবর্তী তাবা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ “এস্কেপ রুট” হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১৫টি ফ্লাইট অধিকাংশই পূর্ণ যাত্রীদের বড় অংশ ইসরাইলি নাগরিক সীমান্ত পার হয়ে অনেকে আশ্রয় নিচ্ছেন সিনাই অঞ্চলে। কিন্তু এই পালানোর পথও সহজ নয়। পারাপার ফি দ্বিগুণ যানবাহন খরচ ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হোটেল ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেশি অর্থাৎ, নিরাপত্তা কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। অভ্যন্তরীণ “নিরাপদ অঞ্চল” খোঁজা সবাই দেশ ছাড়তে পারছে না। অনেকেই দেশের ভেতরেই তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা খুঁজছেন। দক্ষিণের ছোট শহর মিৎসপে রামন এখন তেমনই এক আশ্রয়স্থল। জনসংখ্যা: প্রায় ৬,০০০ আশ্রয় নিয়েছে: অতিরিক্ত ~৩,০০০ মানুষ তুলনামূলক কম সাইরেন স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শহরটি “অস্থায়ী নিরাপত্তা অঞ্চল” হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এটি কতদিনের জন্য?  ‘ব্রেইন ড্রেইন’—অদৃশ্য সংকট সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি উঠে এসেছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়।  মূল তথ্য: ২০২৩–২০২৪ সালে প্রায় ১ লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে প্রতি বছর গড়ে ~৫০,০০০ ৯৫০ জন চিকিৎসক দেশত্যাগ করেছেন উল্লেখযোগ্য অংশ: পিএইচডিধারী গবেষক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রকৌশলী প্রযুক্তিবিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল “জনসংখ্যা হ্রাস” নয়—এটি মানবসম্পদের ক্ষয়। ৪০ বছরের বেশি বয়সি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দেশত্যাগ স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় আঘাত হতে পারে।  অর্থনীতি ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন নাগরিকদের দেশত্যাগ দীর্ঘমেয়াদে তিনটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে: স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্থবিরতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা যে দেশটি নিজেকে “স্টার্টআপ নেশন” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই দেশই এখন মানবসম্পদ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বাস্তবতা বনাম রাষ্ট্রীয় বয়ান সরকারি বয়ানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। সীমান্তে যুদ্ধ আকাশে হুমকি ভেতরে অনিশ্চয়তা এই তিনের সংমিশ্রণ তৈরি করছে এক নতুন বাস্তবতা—যেখানে “নিরাপত্তা” আর নিশ্চিত নয়। এক নীরব সংকটের দিকে এগোচ্ছে ইসরাইল? ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও গভীর এক সংকটের ইঙ্গিত দেয়—মানুষের আস্থা হারানো। যখন একটি রাষ্ট্রের নাগরিকরা নিরাপত্তার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে যেতে শুরু করে, তখন সেটি শুধু সাময়িক আতঙ্ক নয়—এটি একটি কাঠামোগত সংকটের লক্ষণ। প্রশ্ন এখন একটাই:  এই স্রোত কি সাময়িক, নাকি ইসরাইল একটি দীর্ঘমেয়াদি “মানবিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের” পথে হাঁটছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
দুবাই

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: আমিরাতের শেয়ারবাজারে ১২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি, পাকিস্তান-চীনের শান্তি প্রস্তাব

ইরানে পারমাণবিক হামলা

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা:জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের পদত্যাগ

ইসরায়েলের কারখানায় ইরানের হামলা

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা, ইসরাইলের শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অগ্নিকাণ্ড

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি:মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন তাড়িয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক চাপের মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অঞ্চলটি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির এক নৌ-কমান্ডার বলেছেন—মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরান প্রস্তুত এবং তারা উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুযোগ পেলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো এই পথ ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-এর নৌবাহিনীর উপস্থিতি, বিশেষ করে আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় ইরান দাবি করছে, তাদের সামরিক তৎপরতার মুখে মার্কিন রণতরীটি শত শত মাইল দূরে সরে গেছে। এর ফলে এখন থেকে হরমুজ প্রণালি তারা “বাধাহীনভাবে” নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
আরব আমিরাতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

আমিরাত–কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন হামলা, শিল্পাঞ্চলে আগুন | কুয়েত বিমানবন্দরের রাডারে ব্যাপক ক্ষতি

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা

ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ : ৪০ লাখ বাস্তুচ্যুত, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়

কুয়েত বিমানবন্দরে আগুন জ্বলছে

কুয়েতে ড্রোন হামলা, উপসাগরে উত্তেজনা তুঙ্গে—যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0