Brand logo light
ফিচার

ভাঙ্গাগড়ার জীবনে স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার অদম্য প্রচেষ্টায় চরের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
ভাঙ্গাগড়ার জীবনে স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার অদম্য প্রচেষ্টায় চরের মানুষ
ভাঙ্গাগড়ার জীবনে স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার অদম্য প্রচেষ্টায় চরের মানুষ

সত্তর বছরের সুখী বেগম জীবনে মাত্র কয়েকবারই সুখের মুখ দেখেছেন। গত ৫০ বছরে প্রমত্তা ব্রক্ষ্মপুত্রের বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে সাত বার নিজের ভিটে-মাটি হারিয়েছেন সুখী বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সুখী বেগম এখনও নদীর বুকে জন্ম নেয়া এক ধরনের দ্বীপে বসবাস করেন যার স্থানীয় নাম চর। এই চরে নিজের ঘর থাকলেও মনে সব সময়ই ভয় কখন আবার বন্যার পানিতে সব হারিয়ে যায়। আর সেজন্যই তার মতো হাজারো চরবাসী নতনু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে নদীকেন্দ্রীক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। হয়ত এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তারা স্বপ্ন দেখেন আগামীর।

 

বাংলাদেশের জামালপুরের পাকুয়ার চরে নিজ বাড়ির পিছনে মেয়ে বানী বেগমের (৫০) সাথে সুখী বেগম। ২৪ এপ্রিল, ২০২২ (ছবি: মোহাম্মদ আবদুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল)

“প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা সারিয়াকান্দির পাকুয়ার চরে গিয়ে বসত গড়েছিলাম (সারিয়াকান্দি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার অন্তর্গত)। সেই দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেদিন প্রথমবারের মতো নদী ভাঙনের কারনে আমাদের ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে নতুন জীবনের আশায় আমরা ঘর বেঁধেছিলাম, কিন্তু প্রমত্তা এই নদী বার বার আমাদের ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।”

সুখী বেগম এখনও অন্য কোথাও গিয়ে আবারো নতুন করে বসত গড়তে চান না। বন্যা সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে য়ায় সেটা যেমন জানেন সুখী বেগম, তেমনি এটাও বোঝেন যে এই বন্যার পানি সুদূর হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই চরগুলোকে একটি উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করে। “আমি এই চরের মাটিতেই জন্ম গ্রহন করেছি, আর এই চরের বুকেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে চাই।”

যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৃষ্টি হয় চর

ব্রহ্মপুত্র নদ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহনকারী একটি নদী এবং এর পলি পরিবহনের গতিশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করে।

ঢাকা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন পলি উজান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসে। উজান থেকে আসা পলির সবটুকুই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয় না। এর একটি অংশ নদীল বুকে জমে সৃষ্ট করে ছোট বড় অনেক চর।

ফিদা এ খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এছাড়াও এখানে আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডুবো চর রয়েছে।

ব্রক্ষ্মপুত্র নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে যমুনা নাম ধারণ করেছে। এই নদীটি ঠিক যেভাবে বছর বছর বন্যায় অনেক চর ধ্বংস করে আবার হাজার ক্রোশ দুর থেক পলি বয়ে এনে চরের বুকে জমিয়ে নতুন নতুন চরের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পাকুয়ার চরের একপাশে। সেখানে পাটের আবাদ করেছেন ৩৪ বছরের যুবক জিয়াউর রহমান। পেশায় কৃষক জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানেন যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বন্যার কারনে তার এই ফসল তলিয়ে যেতে পারে। তিনি তার বাড়িটি কিছুটা দুরে গিয়ে অনেকটাই স্থায়ী একটি চরে সরিয়ে নিয়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসত বাড়ি সরিয়ে নেয়াটা এক ধরনের অভিযোজনের অংশ এখানকার মানুষের।

 

 

 

অভিযোজন প্রতি বর্ষায়

ব্রক্ষ্মপুত্রের চরে বাস করা মানুষগুলো ভালো করেই জানে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বালু আর পলিতে  গড়া অপেক্ষাকৃত নিচু এই সব দ্বীপের বিরাট অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় – এর জন্য বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রয়োজন হয় না, সামান্য বন্যাতেই এখানকার নিচু অংশগুলো ডুবে যায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের মাটির ঘরগুলোকে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু করে তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি তারা তাদের বাড়ির ভিতরের বিছানাগুলো হ্যামকের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে। তক্তাগুলোকে একসাথে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে মাঁচার মতো করে সমান উচ্চতায় রাখা হয়। আর বন্যার পানি নিজেদের ঘরের মেঝেতে পৌছে গেলে তারা এভাবেই বসবাস করে থাকে।

 

জামালপুরের শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানির থেকে বাঁচতে হ্যামোকের মতো করে এভাবে দড়ি দিয়ে বিছানা ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি সেখানকার মাসুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল)

কিন্তু অস্বাভাবিক বন্যা হলে পানি আরো উচ্চতায় পৌছে যায়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলা গাছের কাণ্ড কেটে তারা এক ধরনের ভেলা বানিয়ে রাখে যাতে প্রবল বন্যার সময় তারা সেই ভেলাতে আশ্রয় নিতে পারে। মাঝে মাঝে ভেলায় ভেসে তাদের দিনের পর দিন বসবাস করতে হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলো বন্যার সময় পানিতে বাড়ি ডুবে গেলে নিজেদের নৌকায়  বসবাস করে। এসময় বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, বাজার – সবই থাকে পানির নিচে।

 

চরে বাড়ি তৈরীর সময় সেখানকার বাসিন্দারা মাটি দিয়ে উঁচু ভিত তৈরী করে নিজেদের সাধ্যমতো যাতে বন্যার সময় বাড়ির সামনে পানি এলেও নিজেদের ঘর কিছুটা উঁচুতে থাকে। (শুভগাছা চর, জামালপুর থেকে ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল)

“যখন বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, আমরা তখন ঘরের ভিতরে মাঁচা বানিয়ে কিংবা নৌকা বা ভেলায় বসবাস করি। যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে চরের বাসিন্দারা (সরকার পরিচালিত) আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো নিজেদের যা কিছুই আছে তা রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না, বলছিলেন জিয়াউর।

চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বিষয় খুব চোখে পড়ে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে – আর সেটি হচ্ছে একটি পানি নিরোধক বাক্স। বন্যার সময় চরের বাসিন্দারা তাদের জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে এই বাক্সের ভিতরে রেখে দেয় যাতে পানিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

 

চরে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারেই একটি করে পানি নিরোধক বাক্স থাকে যাতে বন্যার সময় তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজসহ অন্যান্য নথিপত্র নিরাপদে রাখতে পারে। (দমোদরপুর চর থেকে দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম)

চরে সবচেয়ে বড় অভিযোজনের বিষয়টি দেখা যায় কৃষির ক্ষেত্রে। পাশেই আরেক চর শুভগাছার মোজাম মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানকার চাষীরা এখন বন্যার পানি সহায়ক ভূট্টার চাষ শুরু করছে। “এই বছর আমি প্রায় এক একর জমিতে (০.৪ হেক্টর) ভূট্টার চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।”

“আমরা আসলে চরে ভূট্টা চাষে বেশ আগ্রহ বোধ করছি কারণ এই ফসল বিক্রি করে আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। অন্যান্য ফসল  বিক্রি করে আমরা যে মুনাফা পাই তার চেয়ে ভূট্টা চাষে মুনাফা অনেক বেশি। আমি এবছর প্রতি মন ভূট্টা (৩৭.৩২ কেজি) ১,৩০০ টাকায় (১৫ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছি”, সরিষাবাড়ি  উপজেলার অন্তর্গত চর দৌলতপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক দ্য থার্ড পোলের কাছে এ মন্তব্য করেন।

 

বাংলাদেশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে ব্যাপকভাবে ভূট্টার চাষ করা হয়। (ছবিটি জামালপুরের শুভগাছা চর থেকে তোলা। দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম)

বন্যার সময় গৃহপালিত পশুদের কী অবস্থা হয়? জানতে চাইলে মোজাম বলেন, আসলে নিজেদের পাশাপাশি বন্যার সময় তৈরি করা ভেলাগুলোতে গৃহপালিত পশুগুলোকেও একসাথে রাখা হয়। চরবাসীরা শুকনো চালের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সাথে রেখে থাকেন। বন্যার সময় কোনো ঘাসময় জমি পাওয়া পর্যন্ত এসব গৃহপালিত পশু অনেকটাই না খেয়ে থাকে।

উঁচু ভীতে ঘর বেঁধে স্বপ্নের বুনন

এমিলি বেগম (৫০) জানতেন তার পরিবার ভিত উঁচু করে ঘর বাঁধতে সক্ষম নয়। কিন্তু ২০২১ সালে সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের  ঘর উঁচু করে বাঁধার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই নিরাপদ।

“আগে বন্যার সময় আমাদের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিরাপদে রাখার মতো জায়গা না থাকায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এসব পশু বন্যার আগে আগে বাজারে বিক্রি করতে হতো”, এমিলি বলেন। কিন্তু এখন ঘরের ভীত আরো উঁচু হওয়ায় সেখানে নিজেদের ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলোকে সহজেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। “এখন আর আমাদের বন্যার সময় স্বল্প মূল্যে ছাগলগুলোকে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়ে না।”

 

চরের বাসিন্দাদের জন্য নেয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুরের চর শুভগাছায় বন্যার সময় ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ রাখতে এই ধরনের উঁচু ভীত তৈরি করা হয়। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল)

এসব উঁচু ভীতগুলো অনেক সময় বেশ প্রশস্ত হয় যেখানে চরের বাসিন্দারা ফলমূল ও শাকসব্জি চাষ করতে পারে। “আমি এবার আমাদের বাড়ির উঁচু ভীতে লাউ চাষ করে ১,৪০০ টাকা (১৬ মার্কিন ডলার) আয় করেছি”, এই চরের আরেক বাসিন্দা সীমা বেগম বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে এ কথা বলেন। “আমি এবার পেঁপে বিক্রি করে আরো টাকা আয় করবো। আমার গাছের ফলগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে।”

পিকেএসএফের এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট প্রজেক্টের সমন্বয়ক ফরিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭টি পরিবারকে জলবায় সহায়ক উঁচু ভীতের বাড়ি তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় কারন এসব চরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বসবাস।

ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল আর টয়লেটের সুরক্ষা

বন্যার সময় চরের টিউবঅয়েলগুলো একেবারেই যুবে যায়। এসব টিউবঅয়েল চরবাসীর খাবার পানির উৎস। আর প্রতি বর্ষায় এসব চরে পানির প্রচন্ড স্বল্পতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এখানকার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে – সরকারী সহায়তায় গড়ে তোলা এসব টয়লেট এখন উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করা হচ্ছে। এখন আর আগের মতো এসব টয়লেট বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় না।

মাদারগঞ্জের নদঘরি চরের আফরোজা বেগম বলেন, “আগে বন্যার সময় আমাদের টয়লেট আর টিউবঅয়েলগুলো পানিতে ডুবে যেত। এখন আমরা এই টয়লেট আর টিউবঅয়েল উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করছি। আমাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতে বন্যার সময় আমাদের আর পানি এবং পয়:নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না।”

 

শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাবার হাত থেকে সুরক্ষায় উঁচু ভীতের উপরে স্থাপিত একটি পাবলিক টয়লেট। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল)

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশু

একটি বন্যা কিন্তু নারীদের প্রথাগত যে ভূমিকা রয়েছে তা কোনো অংশেই হ্রাস করে না – যেমন পরিবারের জন্য রান্না করা এবং পানীয় জল বয়ে আনা ইত্যাদি। বন্যা হলে এসব পারিবারিক কার্যক্রম তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যায়।  অনেককেই একটি কার্যকর টিউবঅয়েলের খোঁজে কমপক্ষে এক কিলোমিটার পথ হাটতে হয়।  কেউ কেউ নৌকা বা ভেলায় করে সেসব স্থানে পৌঁছায়। আবার অনেককেই গলা সমান বন্যার পানিতে হেঁটে অন্যদের মধ্য দিয়ে পানির খোঁজে বের হতে হয়।

জামালপুর জেলার চর দামুদুরপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, “খাবার পানি সংগ্রহ করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। “আমাদের নৌকা বা ভেলায় করে অনেক দূর যেতে হয়।”

 

বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, “আর যখন নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাঁধের উপরে থাকতে বাধ্য হতে হয়, তখন তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন তারা রাতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন।”

চরাঞ্চলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ নেই। যে কয়েকটি স্কুল আছে তা প্রতি বছর বন্যার সময় বন্ধ থাকে।  শিশুদের মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হয়।

 

চরে বসবাসকারী অল্প সংখ্যক শিশুই স্কুলে যায়,এসব স্কুল প্রতি বছর কয়েক মাস বন্যার পানিতে ডুবে থাকে এবং বন্ধ থাকে – চর শুভগাছা, জামালপুর (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল)

কেন মানুষ চরে বাস করে ?

ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং অন্যান্য নদী হিমালয় থেকে পলি বয়ে নিয়ে এসে এই চরগুলোককে এতই উর্বর করে তোলে যে সেগুলি নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে লড়াই হয়ে আসছে – স্থানীয় জমিদাররা চর দখল করার জন্য ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে থুলতেন  (যাদের পাইক এবং লাঠিয়াল বলা হয়)। তারা ভূমিহীন কৃষকদের চরের জমি চাষ করতে এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। চরে বসবাসকারী কৃষক পরিবারের অনেকেই আজ তাদের বংশধর।

চরে তারা ধান, ভুট্টা, পাট, শাকসবজির ফলন করে – সবই অন্য মাটির চেয়ে ভালো জন্মায়। বছরের যেকোনো সময় চরে ফসলের অভাব হয় না। মাহমুদা বেগম বলেন, “চরে ফসলের কোনো অভাব নেই. এখানে বারো মাসে তেরো ফসল হয়।”

স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবার ঘাটতি

চর শুভগাছার বাসিন্দা আলাল মন্ডল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে আমাদের এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। “সুতরাং, রোগীকে নৌকা বা ভেলায় করে তিন কিলোমিটার দূরে গাবের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এরপর তাদের জামালপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে।” তার প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই।

চরের বাসিন্দাদের সরকার পরিচালিত নানা প্রকল্প যেমন ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার সুযোগ খুব কম। অভিযোগ রয়েছে যে কাউকে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘুষ চেয়ে থাকেন।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফিচার

View more
উপকূলীয় দুমকী উপজেলায় লবণাক্ততা-সহনশীল ধান চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
লবণাক্ততার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুমকীর কৃষকরা: জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি কীভাবে বদলে দিচ্ছে উপকূলের বাস্তবতা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম দৃশ্যমান প্রভাব হলো মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কারণে হাজার হাজার একর জমি আংশিক বা পুরোপুরি অনাবাদী থেকে যাচ্ছে। ফলে কৃষকের আয় কমছে, খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাপে পড়ছে। তবে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় বাস্তবায়িত একটি উদ্যোগ দেখাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, উপযোগী ধানের জাত এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কীভাবে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই এলাকা। অনাবাদী জমি থেকে উৎপাদনশীল মাঠ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭ অনুযায়ী, ‘জলবায়ু স্মার্ট কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন অভিযোজনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে তুলে ধরা একটি কেসস্টাডি বলছে, দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের এক কৃষকের জমি মাঝারি মাত্রার লবণাক্ততার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রবি ও বোরো মৌসুমে অনাবাদী পড়ে থাকত। ফলে তিনি বছরে মাত্র একবার রোপা আমন ধান আবাদ করতে পারতেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রকল্পের আওতায় তাকে সার এবং লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত ‘ব্রি ধান-৬৭’-এর বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, এই জাতটি ৮ ডিএস/মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম, যা উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এক ফসলি জমি থেকে দোফসলি ব্যবস্থায় প্রকল্পের সহায়তায় কৃষক তার পূর্বে পতিত থাকা ৫০ ডেসিমোল জমিতে বোরো মৌসুমে ধান চাষ শুরু করেন। ফলাফল ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ওই জমি থেকে প্রায় ২৯ মণ ধান উৎপাদন করেন, যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ৫.৬ মেট্রিক টন ফলনের সমান। উৎপাদিত ধানের মধ্যে ২০ মণ তিনি বাজারে বিক্রি করেন। প্রতি মণ ১ হাজার ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি করে তার আয় হয় ২৭ হাজার ২০০ টাকা। অন্যদিকে বাকি ৯ মণ ধান পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। ফলে শুধু নগদ আয়ই নয়, পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে একক-ফসল নির্ভরতা কমিয়ে দোফসলি কিংবা বহুফসলি ব্যবস্থায় রূপান্তর জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায়। জলবায়ু অভিযোজনের বাস্তব পরীক্ষা বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততার বিস্তার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এ অবস্থায় দুমকীর অভিজ্ঞতা শুধু একটি কৃষকের সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি দেখাচ্ছে যে প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোজনমূলক কৃষি ব্যবস্থা মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও উপযুক্ত জাত, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকবান্ধব সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। কেন গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু অর্থায়ন? জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এর মুখবন্ধে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জলবায়ু অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রশ্নটি জলবায়ু ঝুঁকির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে জলবায়ু অর্থায়ন কেবল সহায়তার উৎস নয়; বরং এটি সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাজেট বক্তৃতায় তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। দুমকীর বার্তা দুমকীর এই উদাহরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—উপকূলজুড়ে যদি একই ধরনের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায়, তাহলে কি বাংলাদেশের লবণাক্ততায় আক্রান্ত হাজার হাজার হেক্টর জমি আবারও উৎপাদনের আওতায় ফিরতে পারে? বর্তমান অভিজ্ঞতা অন্তত সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, উন্নত বীজ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি সহায়তা যে শুধু কৃষি উৎপাদনই বাড়ায় না, বরং কৃষকের আয়, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিও শক্তিশালী করে—পটুয়াখালীর দুমকী তার একটি বাস্তব প্রমাণ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
সুপার গ্রিন লাউয়ে মিজানুরের সাফল্য

দিনাজপুরে ‘সুপার গ্রিন’ লাউয়ের বিপ্লব? তাক লাগালেন যুবক মিজানুর ,খামার ঘিরে বদলে যাচ্ছে কৃষকদের ভাবনা

আনারস..

সুনামগঞ্জের হাসাউড়ার আনারস: পাহাড়ি টিলার মিষ্টি অর্থনীতি, জিআই স্বীকৃতি ও রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা

ছয় বছরের অনুসন্ধানে কীভাবে বিশ্বের অন্যতম বড় কর্পোরেট জালিয়াতি উন্মোচন করেন ড্যান ম্যাকক্রাম

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ৩ শক্তিশালী টুল
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নতুন সহযোদ্ধা: তিন টুল যেভাবে বদলে দিচ্ছে তথ্য অনুসন্ধানের ধরন

ইত্তেহাদ নিউজ : বিশাল ডেটাসেট ঘেঁটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করা, কোনো ওয়েবসাইটে অদৃশ্য পরিবর্তন শনাক্ত করা কিংবা অতীতের অনুসন্ধানী প্রকল্প থেকে নতুন সূত্র খুঁজে পাওয়া—এসব কাজ দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও জটিল ছিল। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমান্টিক সার্চ প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের কিছু ডিজিটাল টুল, যা অনুসন্ধানের গতি ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে তুলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত NICAR 2026 (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কম্পিউটার-অ্যাসিস্টেড রিপোর্টিং) সম্মেলনে এমন তিনটি টুল বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ১. Meaningfully: শব্দ নয়, অর্থ খুঁজে বের করার প্রযুক্তি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল স্প্রেডশিট বা ডেটাবেজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে বের করা। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি উল্লেখ না করে ভিন্ন শব্দ, সমার্থক বাক্য বা জটিল প্রশাসনিক ভাষার আড়ালে রাখা হয়। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তৈরি হয়েছে ওপেন সোর্স টুল Meaningfully। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ডেটা প্রতিবেদক জেরেমি মেরিলের তৈরি এই টুলটি প্রচলিত কীওয়ার্ড সার্চের পরিবর্তে তথ্যের অর্থ ও প্রাসঙ্গিকতা বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান চালায়। উদাহরণ হিসেবে মেরিল একটি সিকিউরিটিজ ফাইলিং ডেটাসেটে “He got fired” লিখে অনুসন্ধান করেন। সেখানে সরাসরি “বরখাস্ত” বা “চাকরিচ্যুত” শব্দ না থাকলেও টুলটি এমন নথি শনাক্ত করে যেখানে উল্লেখ ছিল—একজন কর্মী কোনো বিদায়ী ভাতা পাবেন না এবং তার অনার্জিত ইকুইটি বাজেয়াপ্ত করা হবে। অর্থগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে Meaningfully বুঝতে পারে যে এটি চাকরিচ্যুত হওয়ারই ইঙ্গিত। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে অনুসন্ধানেও টুলটি ব্যবহৃত হয়। “Looking for whales” লিখে অনুসন্ধান করলে এটি তিমি ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প খুঁজে বের করে। মেরিলের ভাষায়, “আপনার কাছে যদি বিশাল তথ্যভান্ডার থাকে এবং আপনি ধারণা করতে পারেন ভেতরে কী ধরনের তথ্য থাকতে পারে, তাহলে Meaningfully সেই তথ্য খুঁজে বের করতে সহায়তা করবে।” যদিও এক লাখের বেশি সারির ডেটাসেটে টুলটি কিছুটা ধীরগতির হতে পারে, তবু এটি ব্যবহার সহজ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ২. Visualping: ওয়েবসাইট পরিবর্তনের স্বয়ংক্রিয় নজরদার অনেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি ওয়েবসাইট, আদালতের নথি, করপোরেট নীতিমালা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজের জন্য সাংবাদিকদের কাছে জনপ্রিয় একটি টুল হলো Visualping। এআই-নির্ভর এই সেবাটি নির্দিষ্ট ওয়েবপেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং কোনো পরিবর্তন ঘটলে ব্যবহারকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠায়। সাম্প্রতিক সংস্করণে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত সুবিধা। ব্যবহারকারীরা এখন পুরো পেজ নয়, বরং নির্দিষ্ট অংশ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ফলে বিজ্ঞাপন বা অপ্রাসঙ্গিক আপডেটের কারণে অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা কমে যায়। Visualping-এর সাংবাদিকতা কর্মসূচির ব্যবস্থাপক কাইলা ঝু বলেন, “অনেক সময় একটি শব্দের ছোট পরিবর্তনও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু তা অধিকাংশ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।” সাংবাদিকদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ ‘ফ্রি জার্নালিস্ট প্ল্যান’ চালু করেছে। এতে প্রতি মাসে এক হাজার পর্যন্ত ওয়েবপেজ পরীক্ষা করা যায়, যেখানে সাধারণ বিনামূল্যের সংস্করণে সীমা মাত্র ১৫০। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো— সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ। আদালতের নথির পরিবর্তন শনাক্ত করা। করপোরেট গোপনীয়তা নীতিমালার সংশোধন নজরে রাখা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও এই টুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৩. IRE Archive Search: অতীতের অনুসন্ধান থেকে নতুন সূত্র অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন Investigative Reporters and Editors (IRE) কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার অনুসন্ধানী প্রকল্প, টিপশিট, প্রশিক্ষণ উপকরণ, অডিও রেকর্ডিং ও গবেষণাসামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছে। ২০২৬ সালের শুরুতে চালু হওয়া Archive.IRE.org Search সেই বিশাল ভান্ডারকে নতুনভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি শুধু কীওয়ার্ড সার্চ নয়, বরং সেমান্টিক সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পর্কিত তথ্য ও সম্ভাব্য নতুন অনুসন্ধানের দিকনির্দেশনাও প্রদান করে। রয়টার্সের সম্পাদক এবং প্রকল্পটির অন্যতম ডেভেলপার বেন ওয়েলশ জানান, ডেটাবেজটিতে বর্তমানে ৩৩ হাজারের বেশি উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রতিযোগিতামূলক জমা দেওয়া প্রকল্প। ধরা যাক, একজন সাংবাদিক “oligarchs” শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করলেন। সার্চ ইঞ্জিনটি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনই দেখাবে না, বরং অর্থপাচার, অফশোর অর্থনীতি, সংগঠিত অপরাধ এবং আন্তঃসীমান্ত দুর্নীতির মতো সম্পর্কিত বিষয়ের উপকরণও সুপারিশ করবে। ফলে ব্যবহারকারীরা শুধু তথ্য নয়, নতুন অনুসন্ধানের ধারণা, সম্ভাব্য সহযোগী এবং অনুসন্ধানী কৌশল সম্পর্কেও মূল্যবান দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। ডেটা সাংবাদিক ডেরেক উইলিসের মতে, অতীতে অনেকেই শুধু সম্মেলনের টিপশিট ব্যবহার করতেন। কিন্তু প্রতিযোগিতায় জমা দেওয়া প্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধানের পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহের কৌশল এবং মানবসূত্র ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত বিবরণ থাকায় সেগুলোও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি যখন অনুসন্ধানের সহকারী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নয়। তবে Meaningfully, Visualping এবং IRE Archive Search-এর মতো টুলগুলো তথ্য অনুসন্ধানের প্রক্রিয়াকে আরও বুদ্ধিদীপ্ত, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলছে। একটি টুল ডেটার ভেতরে লুকানো অর্থ খুঁজে দেয়, আরেকটি ওয়েবে ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম পরিবর্তন নজরদারি করে, আর তৃতীয়টি অতীতের অনুসন্ধানী কাজ থেকে নতুন অনুসন্ধানের পথ দেখায়। তথ্যের বিস্ফোরণের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য এগুলো কেবল প্রযুক্তিগত সহায়ক নয়, বরং অনুসন্ধানী রিপোর্টিংয়ের নতুন অস্ত্র হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২, ২০২৬ 0
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রাণ- সাক্ষাৎকার

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সাক্ষাৎকার: তথ্য যাচাই, সূত্র ব্যবস্থাপনা ও সত্য উদ্ঘাটনের কৌশল

ইত্তেহাদ নিউজ

ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad News) অসহায়-নিপিড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুখপত্র

Etihad News

অনলাইন নিউজের জনপ্রিয়তা কেন বাড়ছে: দ্রুততা, এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

ইত্তেহাদ  নিউজ
ইত্তেহাদ নিউজ: নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে নতুন দিগন্ত

ইত্তেহাদ  নিউজ:    ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.News) একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম। ডিজিটাল যুগে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিতে “ইত্তেহাদ নিউজ” ইতোমধ্যেই পাঠকদের আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি তাৎক্ষণিক খবর সংগ্রহ করে প্রচার করছে। ইত্তেহাদ নিউজের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের খবর তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, কারণ তারা সহজ ভাষায় এবং দ্রুত সময়ে আপডেট পেয়ে থাকে। যাত্রার শুরু: ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একঝাঁক স্বপ্নবাজ সংবাদকর্মীর হাত ধরে ইত্তেহাদ নিউজের পথচলা শুরু হয়। মূলত প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যাগুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই ছিল এই সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক লক্ষ্য।   মূল লক্ষ্য ও আদর্শ: ইত্তেহাদ নিউজ শুরু থেকেই 'সততা ও সাহসিকতা' এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের খবরের পাশাপাশি ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতার ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে তারা সদা সচেষ্ট। বিশেষ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তারা পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছে।   ডিজিটাল বিবর্তন: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইত্তেহাদ নিউজ তাদের প্ল্যাটফর্মকে সাজিয়েছে। তাদের প্রকাশিত সংবাদগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়, যা তাদের একটি শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতিতে পরিণত করেছে।   জনপ্রিয়তার কারণ: সংবাদ: বিদেশের মাটিতে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ইত্তেহাদ নিউজ দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সোচ্চার । নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন: দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা প্রশংসিত। প্রান্তিক মানুষের কথা: সমাজের কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে। সহজবোধ্য উপস্থাপনা: আধুনিক ও স্মার্ট ডিজাইনের মাধ্যমে সংবাদগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা: সততা,নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে তাদের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে । কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা Fact-check করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ।   অনুসন্ধানী সংবাদ ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.news) তাদের সাহসী এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন বেশ সাড়া ফেলেছে। ইত্তেহাদ নিউজের অনুসন্ধানী সংবাদের বৈশিষ্ট্য: তথ্যভিত্তিক প্রমাণ: তারা কেবল অভিযোগ নয়, বরং নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করে। জনস্বার্থ: সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা কোথায় অপচয় হচ্ছে বা প্রবাসীরা কোথায় প্রতারিত হচ্ছে—এগুলোই তাদের মূল ফোকাস। নিরপেক্ষতা: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সরাসরি অনিয়মের মূল হোতাদের নাম প্রকাশে তারা পিছপা হয় না।   কাজের ক্ষেত্র: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং রাজনৈতিক সংবাদ পরিবেশন । প্রবাসী কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং বিশেষ সংবাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান । সমাজের প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষ, যেমন—শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরা ।   বর্তমান সময়ে ইত্তেহাদ নিউজ কেবল একটি সংবাদ মাধ্যম নয়, বরং পাঠকদের আস্থার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ইত্তেহাদ নিউজ তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ আপডেট সেবা চালু করেছে, যা পাঠকদের কাছে ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভুয়া খবর প্রতিরোধে তারা কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করছে। এমন উদ্যোগ গণমাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতে ইত্তেহাদ নিউজ আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল

সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম, কৌশল ও অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরির পূর্ণাঙ্গ গাইড

সংবাদ প্রতিবেদন

প্রতিবেদন লেখার নিয়ম: প্রাতিষ্ঠানিক ও সংবাদ প্রতিবেদন কীভাবে লিখবেন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0