📰 শিরোনাম (Headline) সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার আন্তর্জাতিক নিয়ম ও কৌশল 🟡 লিড (Intro / Lead) একটি সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং উপস্থাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট কিছু কৌশল ও কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। 🟢 বডি (Main Body) সংবাদ বা রিপোর্টের সঙ্গে অন্যান্য সাধারণ লেখার মূল পার্থক্য হলো তথ্য সংগ্রহ ও উপস্থাপনের ধরনে। একজন সাংবাদিক রিপোর্ট তৈরির জন্য বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করেন—যেমন সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সরকারি ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ, পুরোনো তথ্য-উপাত্ত যাচাই এবং ঘটনাবলীর বিশ্লেষণ। রিপোর্ট লেখার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়। কোন তথ্য আগে আসবে, কোন তথ্যের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা কতটুকু—এসব নির্ধারণ করাই একজন সাংবাদিকের দক্ষতা। একটি ভালো রিপোর্টের পূর্বশর্ত হলো নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখা। এর মাধ্যমে একজন সাংবাদিক প্রকৃত সত্য তুলে ধরে জনগণের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। 🔵 সংবাদযোগ্যতার মানদণ্ড (News Values) কোন ঘটনা কতটা সংবাদযোগ্য, তা নির্ধারণে সাধারণত ছয়টি বিষয় বিবেচনা করা হয়— টাইমলিনেস (Timeliness): সাম্প্রতিক ঘটনার গুরুত্ব বেশি প্রক্সিমিটি (Proximity): কাছাকাছি ঘটনার মূল্য বেশি প্রমিনেন্স (Prominence): পরিচিত ব্যক্তির সংবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিকনেস (Oddity): অস্বাভাবিক ঘটনা বেশি আকর্ষণীয় ইমপ্যাক্ট (Impact): বেশি মানুষ প্রভাবিত হলে গুরুত্ব বাড়ে কনফ্লিক্ট (Conflict): দ্বন্দ্ব থাকলে সংবাদ মূল্য বৃদ্ধি পায় এই বিষয়গুলো সংবাদ নির্বাচন, লিড নির্ধারণ এবং সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 🔴 লিবেল (Libel) ও সতর্কতা সাংবাদিকতায় “লিবেল” বলতে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে কারও মানহানিকে বোঝায়। এ ধরনের ভুল থেকে বাঁচতে তথ্যের উৎস যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া যায়, তবে সেটি প্রকাশের আগে উৎসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা উচিত। অন্যথায় মিথ্যা তথ্য প্রচারের কারণে আইনগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 🟣 সংবাদ লেখার কাঠামো সংবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইন্ট্রো বা লিড, যেখানে মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। সাধারণত 5W1H (What, Who, When, Where, Why, How) ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়। উদাহরণ: রায়ের বাজার বস্তি থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সিয়াম। ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৮০ হাজার ডলারের পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে এ মাসেই নিউ মেক্সিকো যাচ্ছেন তিনি। হার্ড নিউজের ক্ষেত্রে “ইনভার্টেড পিরামিড” কাঠামো ব্যবহার করা হয়। এতে— শুরুতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত সবশেষে ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য দেওয়া হয় ⚫ তথ্যের উৎস উল্লেখ (Attribution) সংবাদে ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের উৎস উল্লেখ করা অপরিহার্য। যেমন—সরকারি রিপোর্ট, জরিপ, বা সাক্ষাৎকার। প্রথমবার কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম পুরো লিখতে হয়, পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করা যায়। সরাসরি উদ্ধৃতি ব্যবহার করলে সংবাদ আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। ✅ এই স্টাইলের বৈশিষ্ট্য: ডেটলাইন (নিজস্ব প্রতিবেদক) ব্যবহার সংক্ষিপ্ত ও প্রফেশনাল ভাষা ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ কোটেশনকে পরোক্ষভাবে উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা বাদ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ টোন ⚪ উপসংহার (Conclusion) সঠিক তথ্য, বস্তুনিষ্ঠতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সংবাদ লিখলে একটি রিপোর্ট হয়ে ওঠে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। তথ্য যাচাই, সঠিক কাঠামো অনুসরণ এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনই একজন দক্ষ সাংবাদিকের পরিচয়। @ইত্তেহাদ নিউজ
সংবাদ প্রতিবেদন শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়—এটি সমাজের বাস্তবতা, সমস্যা ও ক্ষমতার কাঠামোকে তুলে ধরার শক্তিশালী হাতিয়ার। অনেকেই মনে করেন রাজনীতি মানেই রাজনৈতিক দলের বক্তব্য, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি সামাজিক ঘটনাই এক ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ধরা যাক, রাস্তায় একজন অসহায় নারী পড়ে আছেন। এটি শুধু একটি মানবিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি। এই ছোট ঘটনাকে ঘিরেই তৈরি হতে পারে একটি বড় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন—যেখানে খোঁজ নেওয়া হবে, কেন তিনি ভাতা পাননি, কেন ঘর পাননি, এবং কারা সেই সুবিধা পেয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদনের মৌলিক কাঠামো সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ফাইভ ডব্লিউ এইচ (5W1H): কী, কে, কোথায়, কখন, কেন, কীভাবে ইনভার্টেড পিরামিড: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে, কম গুরুত্বপূর্ণ শেষে তবে আধুনিক সাংবাদিকতায় এই কাঠামোকে সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা জরুরি। বিশেষ করে মানবিক, অনুসন্ধানী বা বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে নতুন স্টাইল প্রয়োজন। অ্যাসাইনমেন্ট কভার করার কৌশল একজন দক্ষ রিপোর্টারকে মাঠে কাজ করার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়: আয়োজকদের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করা বক্তাদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা ও রেকর্ড করা গুরুত্বপূর্ণ সময় (টাইমস্ট্যাম্প) নোট করা দ্রুত অনলাইন রিপোর্ট পাঠানো (১০০–২০০ শব্দ) প্রয়োজনে নিজেই ছবি তোলা প্রতিবেদন লেখার সহজ সূত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেই ঠিক করতে হবে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—বাজেট, রাজনীতি বা চলমান ইস্যু—যেটি বেশি আলোচিত, সেটিকেই ফোকাস করতে হবে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন: নির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র সংগ্রহ ভুক্তভোগী, পুলিশ, স্থানীয় প্রতিনিধি—সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলা পূর্বে প্রকাশিত তথ্য যাচাই মানবিক প্রতিবেদন মানবিক প্রতিবেদনে মানুষের গল্পই মুখ্য। তবে: ভুক্তভোগীর বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেওয়া যাবে না প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্য দিয়ে যাচাই করতে হবে সরেজমিন প্রতিবেদন এখানে রিপোর্টারের নিজের দেখা ও অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্যক্তির গল্প দিয়েও পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরা যায়। ক্রসচেকের গুরুত্ব যেকোনো প্রতিবেদনে তথ্য যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত দুই বা তিনটি সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে হবে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিতে হবে একজন ভালো প্রতিবেদকের গুণ শক্তিশালী নিউজসেন্স বিশ্লেষণ ক্ষমতা নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান সৃজনশীলতা ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা দিন শেষে একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীরতা।
পত্রিকায় প্রকাশের উপযোগী প্রতিবেদন কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয় তা নিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসা কিংবা দ্বিধা-দ্বন্দের শেষ নেই। এই দুই ধরণের প্রতিবেদন লেখার কলা-কৌশল নিয়ে আজকে আমরা খুব সহযে আলোচনা করব। ইংরেজি ‘Report writing’-এর পারিভাষিক রূপ ‘প্রতিবেদন লিখন’। আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে নির্মোহ, নিরপেক্ষভাবে তথ্যমূলক বিবৃতি লিখনকেই বলে প্রতিবেদন লিখন। বিষয় ও বৈচিত্র্য অনুসারে প্রতিবেদন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। মূলত সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন এবং সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দরকার হয়। ক. প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন সাধারণত আমরা যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকি, সেই প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, বিষয় বা প্রসঙ্গ সম্পর্কে যে প্রতিবেদন লিখতে হয়, সেটিই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন বা সাধারণ প্রতিবেদন। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব অনুষ্ঠানাদি হয়ে থাকে, যেমন বার্ষিক বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বিতর্ক উৎসব, নবীনবরণ, বর্ষবরণ, বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্যাপন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিদায় অনুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল, বইমেলা ইত্যাদি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদনই সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন। ১. সাধারণ প্রতিবেদন লেখার জন্য প্রথমে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সাধারণ আবেদনপত্র লিখতে হয়। ২. আবেদনপত্রের ওপরের বাঁ দিকে তারিখ, এরপর কর্তৃপক্ষের পদবি-ঠিকানা, এরপর বিষয় ও সূত্র বা স্মারক নম্বর লিখতে হয়। (কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত চিঠির নম্বরই সূত্র বা স্মারক নম্বর)। ৩. আবেদনপত্রের শেষে নিচের বাঁ দিকে শিক্ষার্থীর নাম–ঠিকানা (প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নাম-ঠিকানা) লিখতে হয়। ৪. পরে শিরোনামসহ মূল প্রতিবেদন লিখতে হয়। ৫. মূল প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদটি 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে লিখতে হয়। অর্থাৎ • W= What (কী ঘটছে/ঘটেছে) • W= Where (কোথায় ঘটছে/ঘটেছে) • W= When (কখন ঘটছে/ঘটেছে) • W= Who (কারা এর সঙ্গে জড়িত/সংশ্লিষ্ট) • W= Why (কেন ঘটছে/ঘটেছে) • H= How (কীভাবে ঘটছে/ঘটেছে) এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একত্র করে শিক্ষার্থী প্রথম অনুচ্ছেদটি লিখবে। ৬. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে পুরো বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৭. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে বিনীত নিবেদক, ইতি, প্রতিবেদক এই কথাগুলো লেখা যাবে না। ৮. সাধারণ প্রতিবেদন বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদন লেখায় কোনো খাম দিতে হয় না। তবে প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদক ও প্রতিবেদন–সম্পর্কিত একটি তথ্য-ছক দেওয়া যেতে পারে। খ. সংবাদ প্রতিবেদন অন্যদিকে নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সমস্যা, কোথাও ঘটে যাওয়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা, দুর্ঘটনা বা বিষয় প্রসঙ্গ সম্পর্কে তথ্যমূলক বিবৃতি তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই সংবাদ প্রতিবেদনের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে আমরা হয়ে যাই কোনো পত্রিকার সাংবাদিক অর্থাৎ নিজস্ব সংবাদদাতা বা স্টাফ রিপোর্টার বা নিজস্ব প্রতিবেদক বা কোনো জেলা বা থানা প্রতিনিধি। একজন রিপোর্টার হিসেবে সংবাদপত্রে প্রকাশ উপযোগী করে এ ধরনের প্রতিবেদন লিখতে হয়। ১. সংবাদ প্রতিবেদন লিখতে সম্পাদক বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনপত্র লিখতে হয় না। ২. শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে প্রতিবেদন লেখা শুরু করতে হয়। হেডলাইন লেখার কতগুলো রীতি আছে। যেমন হেডলাইনের ফন্ট সাইজ সাধারণ লেখার ফন্ট সাইজ থেকে একটু বড় হয়, মূল প্রতিবেদনের ওপরে মাঝখান বরাবর লিখতে হয়। এ ক্ষেত্রে অন্য রঙের কালি ব্যবহার করলে ভালো। ৩. এরপর ডেটলাইন লিখতে হয়। প্রতিবেদকের নাম বা পদবি, প্রতিবেদন লেখার স্থান এবং প্রতিবেদন লেখার তারিখ—এই তিন তথ্যকে একত্রে ডেটলাইন বলে। ৪. ডেটলাইনের পর ইন্ট্রো বা প্রথম পরিচ্ছেদ লিখতে হয়। 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করে দারুণভাবে প্রথম অনুচ্ছেদটি লেখা যায়। ৫. প্রথম অনুচ্ছেদের পর একাধিক অনুচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি বর্ণনা করতে হবে। ৬. মূল প্রতিবেদন লেখা শেষে প্রতিবেদকের নাম, পদবি, বিনীত নিবেদক, ইতি— লেখা যাবে না। ৭. প্রতিবেদন লেখা শেষে খাম দিতে হবে না। ৮. সংবাদ প্রতিবেদন লিখনে প্রতিবেদককে অবশ্যই নির্মোহ ও নৈর্ব্যক্তিক হতে হবে। সংবাদ প্রতিবেদনে ভালো করতে হলে গাইড বই ছেড়ে দৈনিক কোনো পত্রিকার রিপোর্ট মনোযোগ দিয়ে পড়বে। প্রতিবেদন লেখার নিয়ম নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে প্রতিবেদন লেখার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক ও সংবাদ প্রতিবেদন লেখার নিয়ম জানা এখন শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত কর্মশালা ও ক্লাসে প্রতিবেদন লেখার কৌশল শেখানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে প্রতিবেদন লেখাকে কঠিন মনে হলেও এখন 5W + 1H সূত্র জানার ফলে বিষয়টি অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, একটি ভালো প্রতিবেদন হতে হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও সুসংগঠিত হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুষ্ঠান যেমন বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বর্ণনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে সংবাদ প্রতিবেদন লেখা হয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘটনা তুলে ধরার জন্য। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদে কী, কোথায়, কখন, কে, কেন এবং কীভাবে—এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তর থাকা জরুরি। এতে পাঠক খুব সহজেই পুরো ঘটনার সারাংশ বুঝতে পারেন। এদিকে, নতুন প্রজন্মের অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লেখালেখির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সংবাদ প্রতিবেদন লেখার দক্ষতা অর্জন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া এবং চর্চার মাধ্যমে খুব সহজেই দক্ষ প্রতিবেদক হয়ে উঠতে পারে। লেখার ধাপ: আবেদনপত্র প্রয়োজন হয় না আকর্ষণীয় শিরোনাম (হেডলাইন) দিয়ে শুরু করতে হয় এরপর ডেটলাইন (স্থান, তারিখ, প্রতিবেদকের পরিচয়) লিখতে হয় প্রথম অনুচ্ছেদে 5W + 1H সূত্র ব্যবহার করতে হয় পরবর্তী অংশে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও বর্ণনা দিতে হয় প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত মতামত পরিহার করতে হয় 5W + 1H সূত্রের গুরুত্ব একটি ভালো প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হলো 5W + 1H: What (কি ঘটেছে) Where (কোথায় ঘটেছে) When (কখন ঘটেছে) Who (কারা জড়িত) Why (কেন ঘটেছে) How (কীভাবে ঘটেছে) এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তরই একটি প্রতিবেদনের প্রথম অনুচ্ছেদকে শক্তিশালী করে।
মামুনুর রশীদ নোমানী: একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (Investigative Report) সাধারণত ইনভার্টেড পিরামিড (Inverted Pyramid) কাঠামো অনুসরণ করে, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুরুতে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেষে থাকে। এটি তথ্যনির্ভর, নির্ভুল, এবং প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন । নিচে একটি আদর্শ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাঠামো দেওয়া হলো: অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল কাঠামো: ১. শিরোনাম (Headline): আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল ও ঘটনার মূল ভাব প্রকাশ করে এমন শিরোনাম। ২. লিড বা সূচনা (Lead/Introduction): সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কে, কী, কখন, কোথায়, কেন এবং কীভাবে—এই ৫টি ডব্লিউ (5Ws - Who, What, When, Where, Why) ও ১টি এইচ (How) দিয়ে শুরু । ৩. প্রেক্ষাপট (Background/Context): ঘটনার পেছনের ইতিহাস বা কেন এই অনুসন্ধান করা হলো। ৪. মূল অনুসন্ধানী অংশ (The Investigation): * তথ্যের উৎস ও নথিপত্র বিশ্লেষণ । * সাক্ষাৎকার (ভিকটিম, বিশেষজ্ঞ, অভিযুক্ত) । * সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তথ্যের যাচাইকরণ। ৫. বিরোধ বা সংঘাত (Conflict/Climax): কে বা কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং মূল বিরোধের জায়গা। ৬. অভিযুক্তের বক্তব্য (Response): অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ । ৭. উপসংহার ও প্রভাব (Conclusion/Impact): অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফল এবং এটি সমাজে কী প্রভাব ফেলবে। ৮. সুপারিশ বা ভবিষ্যৎ করণীয় (Recommendations): সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে । ৯. প্রতিবেদকের নাম ও তারিখ: প্রতিবেদনের শেষে নিজের নাম ও তারিখ উল্লেখ। লেখার কৌশল ও নিয়ম: স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত ভাষা: বাহুল্যবর্জিত এবং সরাসরি বক্তব্য । তথ্যের সত্যতা: তথ্যনির্ভর এবং প্রামাণ্য দলিল থাকা আবশ্যিক । শিরোনামের যথার্থতা: সংবাদ বা প্রতিবেদনের ভেতরের তথ্যের সাথে শিরোনামের মিল থাকা । একটি কার্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির জন্য এই কাঠামো অনুসরণ করলে তা পাঠকের কাছে স্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৭টি কাঠামো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, বরং একটি শক্তিশালী গল্প বলার শিল্প। সমাজের লুকানো সত্য তুলে ধরতে গেলে কেবল তথ্যই যথেষ্ট নয়—গল্পটি কীভাবে বলা হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গল্প বলার বিভিন্ন কাঠামো নিয়ে লেখক Christopher Booker তাঁর বিখ্যাত বই The Seven Basic Plots-এ যে ধারণাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। নিচে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো— ১. অভিযাত্রা (The Quest) এই কাঠামোয় গল্প এগোয় একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে—সত্য উদঘাটনের যাত্রা। রিপোর্টার নিজে অথবা কোনো চরিত্র এই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে। ➡️ উদাহরণ: দুর্নীতির তথ্য বের করতে দীর্ঘ অনুসন্ধান ২. রহস্যের সন্ধানে (Mystery অনুসন্ধান) সব সময় সত্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয় না। কিন্তু অনুসন্ধানের পথ, বাধা ও আংশিক সত্যও একটি শক্তিশালী গল্প হতে পারে। ➡️ যখন তথ্য অসম্পূর্ণ, কিন্তু অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ—তখন এই কাঠামো কার্যকর ৩. দানবের সাথে লড়াই (Overcoming the Monster) এখানে “দানব” হতে পারে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা। গল্পটি মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের। ➡️ উদাহরণ: কর্পোরেট দুর্নীতি, মানবপাচার চক্র, বা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৪. শূন্য থেকে শিখরে (Rags to Riches) কোনো ব্যক্তির উত্থানের গল্প—যেখানে তিনি নিচু অবস্থা থেকে উঠে সফলতার শিখরে পৌঁছান। ➡️ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি ব্যবহার হয় কোনো চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরতে ৫. ট্র্যাজেডি (Tragedy) এই কাঠামোয় দেখানো হয় পতনের গল্প—ভুল সিদ্ধান্ত বা লোভের কারণে ধ্বংস। ➡️ উদাহরণ: বড় দুর্ঘটনা, কর্পোরেট পতন, বা অব্যবস্থাপনার ফলাফল ৬. যাওয়া, ফিরে আসা (Voyage and Return) এখানে একটি যাত্রা থাকে, যার শেষে চরিত্র আবার শুরুতে ফিরে আসে—তবে পরিবর্তিত অভিজ্ঞতা নিয়ে। ➡️ উদাহরণ: বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা ৭. পুনর্জন্ম (Rebirth) এই কাঠামোয় কোনো চরিত্র বা পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে—অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসা। ➡️ উদাহরণ: অপরাধী থেকে সমাজসেবী হয়ে ওঠার গল্প 📌 কাঠামো ব্যবহারে সতর্কতা একটি প্রতিবেদনে একাধিক কাঠামো একসাথে থাকতে পারে। তবে কোনটি মূল আর কোনটি গৌণ—তা পরিষ্কার রাখা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কাঠামো যেন সত্যকে বিকৃত না করে তথ্য যেন গল্পের সাথে মানানসইভাবে উপস্থাপিত হয় পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে রিপোর্ট লেখার আগে নিজেকে যেসব প্রশ্ন করবেন গল্পের “দানব” আসলে কে? কারা ক্ষতিগ্রস্ত এবং কারা লাভবান? গল্পটি কি সত্যিই উত্থান নাকি এর পেছনে লুকানো দিক আছে? সব তথ্য কি পাওয়া গেছে, নাকি কিছু গোপন আছে? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে শক্তিশালী করতে সঠিক গল্প কাঠামো নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু লেখাকে সুসংগঠিত করে না, বরং পাঠকের কাছে বিষয়টিকে আরও বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তোলে। সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য সত্য তুলে ধরা—আর সেই সত্যকে প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপন করতে গল্পের কাঠামো হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। লেখক : মামুনুর রশীদ নোমানী: সিনিয়র সাংবাদিক এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'বরিশাল খবর'-এর সম্পাদক। দৈনিক শাহনামার প্রধান বার্তা সম্পাদক । ইত্তেহাদ নিউজের সিনিয়র প্রতিবেদক। রিশাল মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ন সম্পাদক । সভাপতি : বরিশাল অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বরিশাল অনলাইন প্রেসক্লাব।নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা : এফ এফ এল বিডি ফাউন্ডেশন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট লেখার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় নির্বাচন, গভীর গবেষণা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, এবং নিরপেক্ষ উপস্থাপন অপরিহার্য। এটি সাধারণত একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম, ঘটনার প্রেক্ষাপট, বিস্তারিত প্রমাণ, সোর্স বা সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি এবং শেষে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ বা উপসংহার নিয়ে সাজানো হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার মূল নিয়মাবলী: বিষয় নির্বাচন ও পরিকল্পনা: জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ও গোপন কোনো ঘটনা (যেমন- দুর্নীতি, অপরাধ, অনিয়ম) বেছে নিন । কাজের শুরুতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ও করণীয় তালিকা তৈরি করুন । তথ্য সংগ্রহ (Investigation): সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি নথিপত্র, গোপন তথ্য ও নির্ভরযোগ্য সোর্সের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন । তথ্যের সত্যতা যাচাই: সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য, দলিল বা অভিযোগের সত্যতা দুই বা ততোধিক সোর্স থেকে নিশ্চিত হোন। কাঠামো তৈরি: আকর্ষণীয় শিরোনাম (Headline): বিষয়বস্তু ফুটে ওঠে এমন শিরোনাম দিন । সূচনা (Lead): প্রথম প্যারাগ্রাফে মূল ঘটনার সারসংক্ষেপ সংক্ষেপে তুলে ধরুন । মূল অংশ (Body): ধারাবাহিকভাবে ঘটনার বিবরণ, প্রমাণ, এবং সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন । সাক্ষাৎকার ও উদ্ধৃতি: ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরুন । উপসংহার ও সুপারিশ: প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মতামত বা করণীয় উল্লেখ করুন । ভাষা ও শৈলী: ভাষা স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক হতে হবে। সাহিত্যিক অলংকরণের চেয়ে তথ্যের সত্যতার ওপর জোর দিন । নিরাপত্তা: সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে নিজের ও সোর্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সবসময় মনে রাখবেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক বা উন্নয়নমূলক উদ্যোগও উঠে আসতে পারে । অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়—এটি একটি সুসংগঠিত, ধৈর্যপূর্ণ এবং কৌশলনির্ভর প্রক্রিয়া। অনেক সময় রিপোর্টাররা বুঝতেই পারেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। বিশেষ করে বড় প্রকল্পে লেখার প্রথম কয়েকটি অনুচ্ছেদই হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন কাজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাধা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা এবং লেখার অভ্যাস। এখানে তুলে ধরা হলো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল— ১. নিজের কাজের ধরণকে গুরুত্ব দিন সব সাংবাদিক একভাবে কাজ করেন না। কেউ কাঠামোবদ্ধভাবে এগোন, আবার কেউ কাজ করেন স্বজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে। নিজের কাজের ধরণ বুঝে সেটিকে কাজে লাগানোই সবচেয়ে কার্যকর। ২. এলিভেটর পিচ তৈরি করুন স্টোরির মূল ধারণা ২–৪ বাক্যে বলতে না পারলে, বুঝতে হবে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার হয়নি। সংক্ষিপ্ত সারাংশ তৈরি করলে লেখার দিক নির্ধারণ সহজ হয়। ৩. লেখা শুরু করতে দেরি করবেন না অনেকেই রিপোর্টিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত লেখেন না। কিন্তু এতে কাজ জমে যায়। প্রথম খসড়া নিখুঁত না হলেও লিখতে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ। ৪. মাঠের কণ্ঠকে গুরুত্ব দিন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রাণ। সরেজমিনে গিয়ে সংগ্রহ করা সাক্ষাৎকার গল্পকে জীবন্ত করে তোলে। ৫. মানুষের গল্পকে কেন্দ্রে রাখুন ডেটা ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পাঠককে ধরে রাখে মানুষের গল্প। কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কেন হচ্ছে—এসব তুলে ধরাই মূল কাজ। ৬. ভাষা সহজ রাখুন জটিল শব্দ ও প্রযুক্তিগত ভাষা পাঠককে দূরে সরিয়ে দেয়। সহজ, পরিষ্কার ও বোধগম্য ভাষায় লেখা বেশি কার্যকর। ৭. তথ্যের ফাঁক পূরণ করুন অনুসন্ধানে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় না। সেই ফাঁকগুলো খুঁজে বের করা এবং পূরণ করাই একটি শক্তিশালী প্রতিবেদনের ভিত্তি। ৮. সম্পাদকের সঙ্গে কাজ করুন একটি ভালো সম্পাদক পুরো স্টোরিকে সুসংগঠিত করতে সাহায্য করেন। জটিল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৯. প্রশ্ন করতে থাকুন প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। কোনো বক্তব্য সরাসরি সত্য ধরে নেবেন না। একটি ঘটনার একাধিক দিক থাকতে পারে—সব দিকই খতিয়ে দেখা জরুরি। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যেখানে ধৈর্য, বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে জটিল তথ্যও পাঠকের জন্য সহজ ও প্রভাবশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব। সাংবাদিকতার এই ধারায় সফল হতে হলে শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতাও সমান জরুরি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন প্রদেশের একটি সংগঠন। একসময় এই প্রদেশগুলো চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বা ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল।পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে প্রদেশগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা লাভ করে। তবে এখনও প্রদেশগুলো একটি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতাভুক্ত রয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসনকর্তার পদবী আমির। আরব আমিরাতের মোট আয়তন ৮৩,৬০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩২,৩০০ বর্গ মাইল। ২০১৭ সালের হিসেব অনুযায়ী আরব আমিরাত এর আনুমানিক জনসংখ্যা ৯,৪০০,০০০। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর রাজধানীর নাম আবুধাবি এবং দেশটির বৃহত্তম শহর দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সাতটি প্রদেশ এর নাম হলো: আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আরব আমিরাত এ প্রচলিত মুদ্রার নাম আমিরাতি দিরহাম।এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত ব্যতিক্রমধর্মী এই দেশটি পুরোপুরি মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। এই দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, নাগরিকের জীবনব্যবস্থা সব কিছুর সাথেই ইসলামিক কালচার পুরোপুরি জড়িত। এই দেশটি বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল দেশ বলে বিবেচিত। আরব আমিরাতে আছে বিশ্বের উচ্চতম স্থাপনাগুলো, যা পুরো বিশ্বের সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আরব আমিরাত এর ভৌগোলিক অবস্থান: সংযুক্ত আরব আমিরাত এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি দেশ। এটি পুরোপুরি একটি মরুভূমি রাষ্ট্র। মধ্য প্রাচ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সীমানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। ওমান ও সৌদি আরবের মধ্যবর্তী স্থানে দেশটি অবস্থান করছে। দেশটির মোট আয়তনের পুরোটাই স্থলভাগ, তবে খুবই সামান্য পরিমানে জলাভূমি রয়েছে। আরব আমিরাত এর পশ্চিমে কাতারের সাথে সীমানা রয়েছে। পশ্চিম, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে সৌদি আরবের সাথে আন্তর্জাতিক সীমানা বিদ্যমান। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরপূর্বে ওমানের সাথে আরব আমিরাত এর আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সাথে আরব আমিরাত এর সীমানা নিয়ে এখনও বিভিন্ন মতবিরোধ রয়েছে। ফলে দেশটির সঠিক আয়তন নির্ণয় করাটা সহজসাধ্য নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর ইতিহাস : ১,২৭,০০০ বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম আফ্রিকার মানুষের বসতি স্থাপন করার নিদর্শন পাওয়া যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারনে এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের অভাবে এই অঞ্চলগুলোতে কোনো জনপদই বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। এই অঞ্চলের বেশিরভাগ লোকজনই তাবু খাটিয়ে বসতি নির্মাণ করে থাকতো। ঘরবাড়ি তৈরি হলেও তা হতো খুবই সাধারণ মানের। এখানকার জনগণ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে একদমই মানবেতর জীবনযাপন করতো। ১৯৫৮ সালে এই অঞ্চলে আমেরিকান শাসন আমল শুরু তবে তখন প্রতিটি প্রদেশই একটি আরেকটির থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং আমেরিকান আইনের আওতাধীন ছিল। পরবর্তীতে আমেরিকান শাসক গোষ্ঠীর এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রদেশগুলোর একত্রিত হয়ে নতুন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর ব্রিটিশ শাশনামলের অবসান ঘটে এবং আলাদা আলাদা সাতটি প্রদেশ একত্রিত হয়ে গঠিত হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি বর্তমানে বিশ্ব দরবারেএকটি স্বাধীন ও সার্বভোম ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকায় চারটি রঙ রয়েছে।যথা: লাল, সাদা, সবুজ এবং কালো। পতাকা দন্ডের দিকে একটি উলম্ব লাল অংশ এবং পুরো পতাকা সবুজ, সাদা এবং কালো অনুভূমিক ডোরা দিয়ে নকশা করা হয়েছে। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকার বৈচিত্র্যময় এই রঙ দিয়ে আলাদা আলাদা প্রদেশের মধ্যে ঐক্য ও মেলবন্ধনকে তুলে ধরা হয়েছে। পতাকাটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ২:১। আরব আমিরাত এর জাতীয় পতাকা নকশা করেন মোহাম্মদ আল মাইনাহ এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর।১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাত এর পতাকার নকশা গ্রহণ করা হয়। আরব আমিরাত এর প্রচলিত ভাষা: সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সরকারি ভাবে ব্যবহৃত ভাষা আরবি। পাঠ্যপুস্তক, খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সব ধরনের নথিপত্র এবং অনলাইন মাধ্যমে সব যোগাযোগ আরবি ভাষায় পরিচালিত হয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মার্জিত ভাষাও আরবি। তবে প্রধান শহরগুলো বাদে আসেপাশের ছোটখাটো অঞ্চলগুলোতে অন্যান্য ভাষাভাষী লোকজনও বসবাস করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরবি ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি, হিন্দি, মলয়ালম, উর্দু ও ফিলিপিনো ভাষা প্রচলিত আছে৷ আরব আমিরাতে বসবাসকারী নাগরিকদের ধর্ম: সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মুসলিম প্রধান দেশ। সরকারি ভাবে ইসলামকে জাতীয় ধর্ম হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দেশের অধিকাংশ লোকজন ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং তাদের জীবনধারার সাথে ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ মিশে আছে। ইসলাম ধর্ম ছাড়াও দেশটিতে অল্প কিছু সংখ্যক হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর লোকজন রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৬ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন । শতকরা ৯ শতাংশ জনগণ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর, শতকরা ৮ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর এবং বাকি শতকরা ৭ শতাংশ লোকজন বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। সংযুক্ত আরব আমিরাত এর অর্থনীতি: বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি। আরব আমিরাত এর অর্থনীতির মূল চাকা সচল রেখেছে খনিজ তেল। ৭০ বছর আগে আরব আমিরাতে তেলের সন্ধান মিললে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে অল্প সময়ের মধ্যেই। বর্তমানে আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৫,৭১৬ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে দেশটি নিঃসন্দেহে একটি ধনী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে পারে। তেল ছাড়াও সেবা খাত, শিল্প খাত ও পর্যটন খাতেও আরব আমিরাত এর অর্থনীতি নির্ভরশীল। আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে কৃষিখাতেরও সামান্য অবদান রয়েছে। বিশ্বের আশ্চর্যমন্ডিত স্থাপনাগুলোর বেশ কিছু এই দেশে অবস্থিত,ফলে প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক এই দেশে ভ্রমনের উদ্যেশ্যে আসে। এই পর্যটন কেন্দ্র গুলো আরব আমিরাত এর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে আরব আমিরাতে একদমই রমরমা পরিবেশ বিদ্যমান । মূলত চীন, আমেরিকা ও ভারত থেকে দেশটির প্রধান আমদানি পন্যগুলো আসে৷ অন্যদিকে আরব আমিরাত এর সাথে রপ্তানি খাতে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত দেশ হলো ভারত, ইরান ও জাপান। তবে খনিজ তেলের কারনে বিশ্বমঞ্চে আরব আমিরাত নিজের পরিচিতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ভাবে সফলতার শীর্ষে পৌছাতে পেরেছে। আরব আমিরাত এর আবহাওয়া ও জলবায়ু: সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি শুষ্ক মরুভূমির জলবায়ু রয়েছে। এই দেশে প্রধানত দুইটি ঋতুর আনাগোনা লক্ষ করা যায়। একটি শীত ঋতু এবং অন্যটি গ্রীষ্ম ঋতু। তবে তুলনামূলকভাবে বছরের বেশিরভাগ সময় জুড়েই গ্রীষ্ম ঋতুর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত আরব আমিরাতে শীত ঋতু বিদ্যমান থাকে। শীতের এই সময়টাতে দেশটির গড় তাপমাত্রা থাকে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের বাকি সময়টা থাকে পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মকালে আরব আমিরাত এর গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কখনও কখনও আরও বেশি তাপমাত্রা লক্ষ করা যায়। শুষ্ক মৌসুমে প্রায়ই এখানে বালুর ঝড় হয়। মৌসুমি বাতাস মরুভূমির বালু উড়িয়ে নিয়ে এসে লোকালয়ে প্রবেশ করে। দেশটিতে খুব সামান্য পরিমাণে বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাত এর মাত্রা ১০০ মিমি এরও কম। সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়াই দেশটির জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য। আরব আমিরাত এর সংস্কৃতি: আরব আমিরাত এর সংস্কৃতিতে পুরোপুরি আরবি সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটেছে। তবে আরবি সংস্কৃতির পাশাপাশি পারস্য সংস্কৃতির, পূর্ব আফ্রিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের সংস্কৃতির প্রভাবও আমিরাতি সংস্কৃতিতে লক্ষ করা যায়। ইসলামিক রীতিনীতি ও কালচার খুব কঠোরভাবে মেনে চলা হয় এই দেশটিতে। তাইতো সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসলামিক সংস্কৃতির রাজধানী নামেও পরিচিত। দেশটির স্থানীয় স্থাপত্য, সঙ্গীত, পোশাক, রন্ধনপ্রণালী এবং জীবনধারায় পুরোপুরি ইসলামিক কালচার এর প্রভাব রয়েছে। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের মধ্যে বেশ মিশুকে স্বভাব লক্ষ করা যায়। যে কোনো মজলিসে প্রবেশের সময় আগত মেহমানগন ডানদিক থেকে সকল অতিথিদের সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। মজলিসের শুরুতেই বিশেষ এক ধরনের আমিরাতি কফি পরিবেশন করা হয়। এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও ডানদিক থেকে শুরু করে ঘরের বা দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে মুরুব্বি এবং সম্মানিত ব্যক্তিদেরকে আগে প্রাধান্য দেয়া হয়। আরব আমিরাত এর সাধারণ মানুষ এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কান্দুরা এবং আবায়া পড়তে ভালোবাসেন। তবে সবধরনের পোশাকই এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে পুরো শরীরে আবৃত থাকে। এতে ইসলামিক পোশাকের নিয়মও কক্ষা করা হয় এবং উত্তপ্ত আবহাওয়া থেকেও ত্বকও আরাম পায়। বিয়ের পরে আমিরাতের মহিলারা তার পরিবারের পরিচয়ই বহন করে এবং ছেলে মেয়েরা তাদের বাবার পরিচয়ে পরিচিত হয়। আরব আমিরাত এর নাগরিকদের খাদ্যাভ্যাস: আরব আমিরাত এর নাগরিকদের প্রধান খাদ্য উপাদান হলো ভাত,মাছ, মাংস, রুটি এবং সবজি। তবে ইসলামে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এমন পশুর মাংস খাওয়ার প্রচলন একদমই নেই বললেই চলে। আরব আমিরাতে সাধারণত মাটন এবং ভেড়ার মাংস খাওয়ার প্রচলন সবথেকে বেশি। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ ও সবজি এদেশের খাদ্য তালিকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে। প্রধান খাবার হিসেবে বেশিরভাগ সময়েই সুগন্ধি চালের সাথে মাংসের সংমিশ্রণে রান্না করা খাবার খেতে দেখা যায়। আর প্রতিদিনের খাবার তালিকায় খেজুর তো থাকবেই। আমিরাতের জনপ্রিয় পানীয় হলো কফি এবং চা, যা এলাচ, জাফরান বা পুদিনা পাতা দিয়ে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। আরব আমিরাত এর জনপ্রিয় খাবার: ১. আল জাবাব রুটি ২. বালালেত ৩.বাথিথ ৪.হারিস ৫.জামি ৬.জাশেদ ৭.কাবসা ৮.খবিস ৯. খানফ্রুশ ১০.খামির রুটি ১১.মাচবুস ১২. মাদ্রুব ১৩. মার্কাউকা ১৪.মাকলুবা ১৫. মুহলা রুটি ১৬ কুজি ১৭.সালোনা ১৮.থারিদ ১৮ ওয়াগাফি রুটি ১৯.উটের দুধ ২০. লাবান ২১.আরবি কফি ২২.আরবি চা (ইত্যাদি) সংযুক্ত আরব আমিরাত এর আমিরাত সমূহ এবং এদের দর্শনীয় স্থান: মোট সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত সংযুক্ত আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশেই আছে জনপ্রিয় বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। পৃথিবীর সবথেকে উঁচু স্থাপনা বুর্জ খলিফাও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত। এছাড়াও সামুদ্র সৈকত, মরুভূমির উদ্যান, পাহাড় সহ আরও অনেক আকর্ষণীয় বিষয় আছে এই দেশে পরিদর্শন করার জন্য। আবুধাবির দর্শনীয় স্থান – ১. লুভর মিউজিয়াম আবুধাবির সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান লুভর মিউজিয়াম। এই জাদুঘরে নিওলিথিক যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সকল সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শন এর এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। জাদুঘরটিতে মোট ১২ টি গ্যালারির একটি স্থায়ী প্রদর্শনী তো রয়েছেই তার পাশাপাশি প্রতি বছর বিভিন্ন অকেশনে আরও জমকালো ভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ২. শেখ জায়েদ মসজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সবথেকে বড় মসজিদ শেখ জায়েদ মসজিদ। এই মসজিদে একসাথে চল্লিশ হাজার মুসুল্লি জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবে। অসাধারণ নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে এতো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। ৩. ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক আবুধাবির ইয়াস দ্বীপে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় থিম পার্ক ফেরারি ওয়ার্ল্ড থিম পার্ক। ড্রাইভিং পছন্দ করে এমন টুরিস্টদের জন্য একদম উপযুক্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র এটি। ৪. আল হোসন ফোর্ট আল হোসন ফোর্ট আবুধাবির হামদান বিন মোহাম্মদ স্ট্রিটে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসিক নিদর্শন। আরব আমিরাত এর প্রাচীন জনপদের বিভিন্ন নিদর্শন এই ভবনে সংরক্ষিত আছে। ৫. ফ্যালকন হাসপাতাল আবুধাবির অফ সোয়েহান রোডে অবস্থিত ফ্যালকন হাসপাতাল একটি পশুচিকিৎসা হাসপাতাল। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি সহ হাসপাতাল সংলগ্ন জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। আজমান এর দর্শনীয় স্থান ১. ইতিসালাত টাওয়ার ইতিসালাত টাওয়ার হলো ১৭ তলা বিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল ভবন। এখানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ থাকার অভিজ্ঞতা ও বিলাসবহুল শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। ২. আজমান ধো ইয়ার্ড এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ব্যোটিং এর চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। ৩. আজমান জাতীয় জাদুঘর ১৮ শতকে নির্মিত ভাবনটিতে শহরের প্রাচীন নিদর্শন গুলো দেখতে পাবেন৷ একজন ইতিহাস প্রেমীর জন্য আজমান জাতীয় জাদুঘর খুবই উপযুক্ত একটি দর্শনীয় স্থান। ৪. আল জোরাহ ন্যাচারাল রিজার্ভ এই স্পটে অবস্থানকালে আপনি কিছুসময়ের জন্য ভুলে যেতে বাধ্য হবেন যে আপনি মরুভূমিতে আছেন। অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে প্রায় ৬০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলবে এখানে। ৫. আল মুরাব্বা ওয়াচটাওয়ার এটি আজমান শহরের একটি জনপ্রিয় ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৩০ এর দশকে শহরের নিরাপত্তার জন্য এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দুবাই এর দর্শনীয় স্থান – ১. বুর্জ খলিফা দুবাই শহরের সবথেকে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান বুর্জ খলিফা।এটি পৃথিবীর সবথেকে উঁচু ভবন। শহরের যে কোনো প্রান্ত থেকে বুর্জ খলিফার দেখা মিলবে। ২. বুর্জ আল আরাব পৃথিবীর সবথেকে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁর সন্ধান চাইলে চলে যেতে হবে বুর্জ আল আরাবে এটি নৌকার পালের মতো দেখতে একটি ভবন যা একটি দ্বীপের ওপর নির্মিত। ৩. মিরাকল গার্ডেন পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর প্রাকৃতিক ফুলের বাগান মিরাকল গার্ডেন, যা একেক ঋতুতে একেক রঙের ফুলে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়। ৪. অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ এর ক্রিসেন্ট রোডে অবস্থিত একটি চমৎকার ওয়াটার পার্ক অ্যাকোয়াভেঞ্চার ওয়াটারপার্ক। ৫.দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভ মরুভূমির টিলা এবং খাদে ট্রেকিং এর এক চমৎকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইলে চলে যেতে হবে দুবাই ডেজার্ট কনজারভেশন রিজার্ভে। আল ফুজাইরাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. ফুজাইরাহ ফোর্ট ফুজাইরাহ ফোর্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রাচীনতম দুর্গ হিসাবে বিবেচিত। এটি একটি মাটির ইটের তৈরি প্রাচীন ভবন। ২. স্নুপি দ্বীপ স্নুপি দ্বীপে চমৎকার সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ডাইভিং এবং সুইমিং এর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। চাইলে দ্বীপের বিভিন্ন রিসোর্ট ও ভিলা গুলোতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। ৩. আল বিদিয়া মসজিদ শহরের প্রাচীন মসজিদ গুলোর মধ্যে অন্যতম আল বিদিয়া মসজিদ যা অটোমান মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদটির আশেপাশে আরও অনেকগুলো প্রাচীন ভবন ও চারটি ওয়াচ-টাওয়ার রয়েছে। ৪. বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ শহর থেকে ১৩ কিমি দূরে প্রধান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিথনাহ দুর্গ ফুজাইরাহ এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন। ৫. কালবা কর্নিচ পার্ক পরিবার পরিজন নিয়ে পিকনিক অথবা বারবিকিউ পার্টি করার জন্য একটি আদর্শ স্পষ্ট কালবা কর্নিচ পার্ক। শিশুদের খেলার জন্য সুন্দর মাঠ ও বসার জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে পার্কটিতে। রাআস আল খাইমাহ এর দর্শনীয় স্থান – ১. জেবেল জাইস সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জেবেল জাইস। এই পাহাড়চূড়া থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ২. জাজিরাত আল হামরা আরব আমিরাতে তেল আবিষ্কারের আগে গ্রামগুলির অবস্থা কেমন ছিল তার নিদর্শন মিলবে জাজিরাত আল হামরা নামক গ্রামে। গ্রামটিতে এখনও প্রাচীন যুগের সকল নিদর্শন বিদ্যমান আছে। ৩. রাআস আল খাইমাহ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ১৯৬০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের শাসকদের বাসভবন ছিল। বর্তমানে ভবনটি শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত যেখানে প্রাচীন যুগের অসংখ্য নিদর্শন সংগৃহীত আছে। ৪. আল হামরা মল সুবিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত আল হামরা মল বিনোদন, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার একটি পারফেক্ট পয়েন্ট। শপিং মলটিতে ১২০ টিরও বেশি দোকান, অসংখ্য ফুড কোর্ট, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ ও কিডস জোন রয়েছে। ৫. হাজর পর্বত রাআস আল খাইমাহ এর অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন এলাকা হাজর পর্বত। পর্বতমালার নজরকাড়া সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটককে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। শারজাহ এর দর্শনীয় স্থান ১. শারজাহ ডেজার্ট পার্ক প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শারজাহ ডেজার্ট পার্ক একটি উপযুক্ত দর্শনীয় স্থান। তিনটি শ্রেনিতে এই পার্কটির ডেকোরেশন করা হয়েছে।যথা: প্রাকৃতিক ইতিহাস যাদুঘর, আরবীয় বন্যপ্রাণী কেন্দ্র এবং শিশু খামার। ২. আল কাসবা শারজাহ এর একটি জনপ্রিয় শপিং কমপ্লেক্স আল কাসবা। এখানে একই সাথে রেস্তোরাঁ, থিয়েটার এবং কিডস ফান জোন সহ আরও অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। ইনডোর এবং আউটডোর বিনোদন কেন্দ্র চলমান থাকে সব সময়। ৩. শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন বিশাল জলরাশির তীর ঘেসে ইসলামিক ইতিহাসের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে স্বগর্বে বিদ্যমান শারজাহ মিউজিয়াম অফ ইসলামিক সিভিলাইজেশন। ইসলামিক নিদর্শন ছাড়াও আরব আমিরাত এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। ৪. শারজাহ অ্যাকুরিয়াম এটি একটি আর্টিফিশিয়াল সামুদ্রিক পরিবেশ। বিশাল আকৃতির অনেকগুলো ট্রান্সপারেন্ট ট্যাংক এর ভেতর কৃত্রিম সামুদ্রিক পরিবেশ তৈরি করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৫. শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শারজাহ ন্যাশনাল পার্ক নির্মিত হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে নিবিড় ভাবে কিছুটা সময় কাটানো যায় শারজাহ ন্যাশনাল পার্কে উম্ম আল কোয়াইন এর দর্শনীয় স্থান : ১. ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ড্রিমল্যান্ড অ্যাকোয়া পার্ক এই অঞ্চলের সবথেকে বড় এবং জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। অন্যান্য আমিরাত থেকে এখানে আসার পথও একদম সহজ বলে এখানে পর্যটকদের ভীড় তুলনামূলক বেশি থাকে। ২. UAQ জাতীয় জাদুঘর জাদুঘরের ভবনটি ২৫০ বছরের পুরোনো। এখানে আগে এই অঞ্চলের শাসনকর্তাগন বসবাস করতেন।বর্তমানে আরব আমিরাত এর প্রতিটি প্রদেশ থেকেই অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ভীড় জমায় । ৩. আল সিন্নিয়াহ দ্বীপ চমৎকার সমুদ্র সৈকত এবং দ্বীপের মধ্যকার ম্যানগ্রোভ বনের জন্য প্রচুর দর্শনর্থীদের দ্বীপটি আকর্ষণ করে। ৪. ফালাজ আল মুআল্লা ফালাজ আল মুআল্লা এই আমিরাত এর একটি প্রাচীন শহর। চারটি সুপরিচিত বৃহৎ স্থাপনা ও তিনটি ওয়াচ টাওয়ার এর জন্য এই শহরটি পুরো আমিরাত জুড়ে বিখ্যাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি প্রদেশই নিজস্ব স্বকীয়তা ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর। অর্থনৈতিক অবস্থান, দক্ষ জনশক্তি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সব মিলিয়ে দেশটিকে একটি উন্নত দেশে পরিনত করেছে। একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে দেশটি নিজেদের গর্বিত মনে করে এবং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে। মরুভূমির ছোট ছোট জনপদ থেকে আধুনিক নগররাষ্ট্রে রূপান্তরের এক অনন্য উদাহরণ সংযুক্ত আরব আমিরাত। উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অর্থনীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রের কারণে দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার দেওয়ানহাট এলাকার মহানপাড়া গ্রামে চায়ের সাথী ফসল হিসেবে আম চাষ করে বাড়তি আয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বসিরুল আলম প্রধান। চা বাগানের ফাঁকা জমি কাজে লাগিয়ে সেখানে বিভিন্ন জাতের আম গাছ লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষির একটি লাভজনক মডেল। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘আলম চেয়ারম্যান’ নামেই পরিচিত। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই হলেও কৃষিকাজে এখনো সমানভাবে সক্রিয় তিনি। বাড়ির পাশের এক সময়ের পড়ে থাকা উঁচু ২২ একর জমিতে গড়ে তুলেছেন চা বাগান। চা চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ক্ষুদ্র চা চাষী হিসেবে ২০২৪ সালে জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। চা বাগানের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে সেখানে সাথি ফসল হিসেবে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করেন বসিরুল আলম প্রধান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ‘ব্যানানা ম্যাংগো’ গাছ। এছাড়া ৫০টি আম্রপালিসহ আরও শতাধিক বিদেশি জাতের আমের গাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে তার বাগানের আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মুকুল আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে পরিচর্যার কাজ। শ্রমিকরা দিনভর বাগানে কাজ করে গাছগুলোর যত্ন নিচ্ছেন। পরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসস’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন,আম উৎপাদনেও ভালো সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৪ সালে তার বাগান থেকে আম বিক্রি করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় হয়। পরের বছর ২০২৫ সালে আম বিক্রি করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করেন। চলতি বছর আরও বেশি ফলনের আশা করছেন তিনি। চা উৎপাদনেও রয়েছে ধারাবাহিক উন্নতি। ২০২৪ সালে তার বাগানে চা উৎপাদন হয়েছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৭১ কেজি। ২০২৫ সালে সেই উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৯ কেজিতে। চলতি মৌসুমে সবুজ চা পাতা তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি চা পাতা ৩৬ টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস। বসিরুল আলম প্রধান বলেন, কৃষিকে আমি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভালোবাসা থেকে করি। শুরুতে চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে আম গাছ লাগাই। ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বাগানের ফাঁকা জায়গাগুলোতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রোপণ করি। এখন চায়ের পাশাপাশি আম থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। অনেকেই আমার বাগান দেখতে আসেন এবং উৎসাহ পান। আমি চাই তরুণ কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষিতে এগিয়ে আসুক। ব্র্যাক নার্সারির ম্যানেজার আশিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, চা বাগানের সঙ্গে আম চাষের এই সমন্বিত পদ্ধতি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আলম সাহেব উদ্ভাবনী চিন্তার একজন কৃষক। আমরা নিয়মিত তাকে কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন বলেছেন, চা বাগানের মাঝখানে সাধারণত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। অনেক চাষী সেখানে শেড ট্রি হিসেবে বিভিন্ন গাছ লাগান। সেখানে যদি আম বা অন্য ফলজ গাছ লাগানো যায়, তাহলে সেখান থেকে বাড়তি আয় পাওয়া সম্ভব। সবুজ চা পাতার দাম কমে গেলেও ফলের আয় দিয়ে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করা যায়। তিনি আরও বলেন, বসিরুল আলম প্রধানের সমন্বিত চা ও আম বাগানটি আমরা পরিদর্শন করেছি। তিনি খুব যত্ন সহকারে বাগানটি পরিচালনা করছেন। সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
তেলের অফুরান সম্পদ, আভিজাত্যপূর্ণ নগরজীবন এবং আধুনিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি আজ উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই দেশটি গত কয়েক দশকে অভূতপূর্ব উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছে। গগনচুম্বী অট্টালিকা, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শহর পরিকল্পনা সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশ্বে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। সাত আমিরাতের ফেডারেশন সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত সাতটি স্বাধীন আমিরাত নিয়ে গঠিত একটি ফেডারেশন। এগুলো হলো আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আজমান, উম্ম আল ক্বাইওয়াইন, রাস আল খাইমাহ এবং ফুজাইরাহ। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ছয়টি আমিরাত একত্র হয়ে ফেডারেশন গঠন করে। পরে ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাস আল খাইমাহ এতে যোগ দেয়। দেশটির রাজধানী আবুধাবি এবং সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় শহর দুবাই। রাজধানী আবুধাবির প্রাধান্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম আমিরাত হলো আবুধাবি। দেশের মোট আয়তনের প্রায় ৮৭ শতাংশই এই আমিরাতের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সবচেয়ে ছোট আমিরাত হলো আজমান, যার আয়তন প্রায় ২৫৯ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যায় এগিয়ে দুবাই যদিও আয়তনের দিক থেকে আবুধাবি সবচেয়ে বড়, তবে জনসংখ্যা ও পর্যটনের দিক থেকে দুবাই অনেক এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটক ও কর্মজীবীরা এখানে বসবাস করেন। ফলে দুবাইকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আন্তর্জাতিক শহর বলা হয়। ভিনদেশিদের আধিক্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের জনসংখ্যার বড় অংশই বিদেশি নাগরিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ ভারতীয়, প্রায় ১২ শতাংশ পাকিস্তানি এবং প্রায় ৭ শতাংশ বাংলাদেশি নাগরিক। স্থানীয় আমিরাতিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। বিলাসবহুল পুলিশের গাড়ি দুবাই পুলিশের বহরে রয়েছে বিশ্বের কিছু বিলাসবহুল ও দ্রুতগতির গাড়ি। এর মধ্যে ল্যাম্বরগিনি, বেন্টলি এবং ফেরারির মতো সুপারকার রয়েছে, যা পুলিশের টহল কার্যক্রমেও ব্যবহৃত হয়। গোল্ড এটিএম দুবাইয়ের অন্যতম বিস্ময়কর প্রযুক্তি হলো গোল্ড এটিএম। এই মেশিনে টাকা প্রবেশ করালে সোনা, স্বর্ণালংকার বা সোনার ঘড়ির মতো মূল্যবান পণ্য পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা। এই ভবনের উচ্চ তলায় বসবাসকারীদের রমজান মাসে ইফতার করতে নিচের তলার বাসিন্দাদের তুলনায় দুই থেকে তিন মিনিট বেশি অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তারা সূর্যাস্ত কিছুটা পরে দেখতে পান। পরিবেশবান্ধব মাসদার শহর আবুধাবিতে গড়ে উঠেছে মাসদার সিটি নামে একটি পরিবেশবান্ধব শহর। এটি মূলত সৌরশক্তি ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এখানে ব্যক্তিগত জ্বালানিচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয় বৈদ্যুতিক যানবাহন। বুর্জ খলিফার নামকরণ বুর্জ খলিফা নির্মাণের সময় এর নাম ছিল বুর্জ দুবাই। পরে আবুধাবির আর্থিক সহায়তার স্বীকৃতিস্বরূপ সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নামে ভবনটির নাম পরিবর্তন করা হয়। বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর পার্ক আবুধাবিতে অবস্থিত ফেরারি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইনডোর থিম পার্ক হিসেবে পরিচিত। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নির্মাণে ব্যস্ত দুবাই দুবাইকে প্রায়ই “নির্মীয়মাণ শহর” বলা হয়। বিশ্বের কর্মরত ক্রেনের প্রায় ২৫ শতাংশই একসময় দুবাইয়ে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এটি দেশটির দ্রুত উন্নয়ন ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রতীক।
রফিকুল ইসলাম : সত্তর বছরের সুখী বেগম জীবনে মাত্র কয়েকবারই সুখের মুখ দেখেছেন। গত ৫০ বছরে প্রমত্তা ব্রক্ষ্মপুত্রের বন্যা আর নদী ভাঙ্গনে সাত বার নিজের ভিটে-মাটি হারিয়েছেন সুখী বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সুখী বেগম এখনও নদীর বুকে জন্ম নেয়া এক ধরনের দ্বীপে বসবাস করেন যার স্থানীয় নাম চর। এই চরে নিজের ঘর থাকলেও মনে সব সময়ই ভয় কখন আবার বন্যার পানিতে সব হারিয়ে যায়। আর সেজন্যই তার মতো হাজারো চরবাসী নতনু নতুন কৌশল অবলম্বন করছে নদীকেন্দ্রীক বিপদ থেকে বাঁচার জন্য। হয়ত এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই তারা স্বপ্ন দেখেন আগামীর। বাংলাদেশের জামালপুরের পাকুয়ার চরে নিজ বাড়ির পিছনে মেয়ে বানী বেগমের (৫০) সাথে সুখী বেগম। ২৪ এপ্রিল, ২০২২ (ছবি: মোহাম্মদ আবদুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) “প্রায় ৫০ বছর আগে আমরা সারিয়াকান্দির পাকুয়ার চরে গিয়ে বসত গড়েছিলাম (সারিয়াকান্দি বাংলাদেশের উত্তরের জেলা বগুড়ার অন্তর্গত)। সেই দিনটির কথা আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে পড়ে যেদিন প্রথমবারের মতো নদী ভাঙনের কারনে আমাদের ঘরবাড়ি ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছিল। সেখানে নতুন জীবনের আশায় আমরা ঘর বেঁধেছিলাম, কিন্তু প্রমত্তা এই নদী বার বার আমাদের ঘর-বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।” সুখী বেগম এখনও অন্য কোথাও গিয়ে আবারো নতুন করে বসত গড়তে চান না। বন্যা সব কিছু ভাসিয়ে নিয়ে য়ায় সেটা যেমন জানেন সুখী বেগম, তেমনি এটাও বোঝেন যে এই বন্যার পানি সুদূর হিমালয় থেকে পলি বয়ে এনে এই চরগুলোকে একটি উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করে। “আমি এই চরের মাটিতেই জন্ম গ্রহন করেছি, আর এই চরের বুকেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে চাই।” যেভাবে ব্রহ্মপুত্রের বুকে সৃষ্টি হয় চর ব্রহ্মপুত্র নদ বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ পলি বহনকারী একটি নদী এবং এর পলি পরিবহনের গতিশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (সিইজিআইএস) নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন টন পলি উজান থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আসে। উজান থেকে আসা পলির সবটুকুই বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পতিত হয় না। এর একটি অংশ নদীল বুকে জমে সৃষ্ট করে ছোট বড় অনেক চর। ফিদা এ খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীর বাংলাদেশের অংশে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এছাড়াও এখানে আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ডুবো চর রয়েছে। ব্রক্ষ্মপুত্র নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এক পর্যায়ে যমুনা নাম ধারণ করেছে। এই নদীটি ঠিক যেভাবে বছর বছর বন্যায় অনেক চর ধ্বংস করে আবার হাজার ক্রোশ দুর থেক পলি বয়ে এনে চরের বুকে জমিয়ে নতুন নতুন চরের জন্ম দেয়। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পাকুয়ার চরের একপাশে। সেখানে পাটের আবাদ করেছেন ৩৪ বছরের যুবক জিয়াউর রহমান। পেশায় কৃষক জিয়াউর রহমান ভালো করেই জানেন যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের এই বর্ষা মৌসুমে যে কোনো সময় বন্যার কারনে তার এই ফসল তলিয়ে যেতে পারে। তিনি তার বাড়িটি কিছুটা দুরে গিয়ে অনেকটাই স্থায়ী একটি চরে সরিয়ে নিয়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এভাবেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসত বাড়ি সরিয়ে নেয়াটা এক ধরনের অভিযোজনের অংশ এখানকার মানুষের। অভিযোজন প্রতি বর্ষায় ব্রক্ষ্মপুত্রের চরে বাস করা মানুষগুলো ভালো করেই জানে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বালু আর পলিতে গড়া অপেক্ষাকৃত নিচু এই সব দ্বীপের বিরাট অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় – এর জন্য বড় ধরনের কোনো বন্যার প্রয়োজন হয় না, সামান্য বন্যাতেই এখানকার নিচু অংশগুলো ডুবে যায়। তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের মাটির ঘরগুলোকে নিজেদের সাধ্যমতো ভূমি থেকে কিছুটা উঁচু করে তৈরি করে থাকে। পাশাপাশি তারা তাদের বাড়ির ভিতরের বিছানাগুলো হ্যামকের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখে। তক্তাগুলোকে একসাথে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে মাঁচার মতো করে সমান উচ্চতায় রাখা হয়। আর বন্যার পানি নিজেদের ঘরের মেঝেতে পৌছে গেলে তারা এভাবেই বসবাস করে থাকে। জামালপুরের শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানির থেকে বাঁচতে হ্যামোকের মতো করে এভাবে দড়ি দিয়ে বিছানা ঝুলিয়ে রাখার কৌশলটি সেখানকার মাসুষের কাছে এখন বেশ জনপ্রিয় (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) কিন্তু অস্বাভাবিক বন্যা হলে পানি আরো উচ্চতায় পৌছে যায়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কলা গাছের কাণ্ড কেটে তারা এক ধরনের ভেলা বানিয়ে রাখে যাতে প্রবল বন্যার সময় তারা সেই ভেলাতে আশ্রয় নিতে পারে। মাঝে মাঝে ভেলায় ভেসে তাদের দিনের পর দিন বসবাস করতে হয়। অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলো বন্যার সময় পানিতে বাড়ি ডুবে গেলে নিজেদের নৌকায় বসবাস করে। এসময় বাড়ি-ঘর, রাস্তাঘাট, বাজার – সবই থাকে পানির নিচে। চরে বাড়ি তৈরীর সময় সেখানকার বাসিন্দারা মাটি দিয়ে উঁচু ভিত তৈরী করে নিজেদের সাধ্যমতো যাতে বন্যার সময় বাড়ির সামনে পানি এলেও নিজেদের ঘর কিছুটা উঁচুতে থাকে। (শুভগাছা চর, জামালপুর থেকে ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) “যখন বন্যার পানিতে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, আমরা তখন ঘরের ভিতরে মাঁচা বানিয়ে কিংবা নৌকা বা ভেলায় বসবাস করি। যখন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে যায়, তখন প্রাণ বাঁচাতে চরের বাসিন্দারা (সরকার পরিচালিত) আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মতো সহায় সম্বলহীন মানুষগুলো নিজেদের যা কিছুই আছে তা রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চায় না, বলছিলেন জিয়াউর। চরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বিষয় খুব চোখে পড়ে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোতে – আর সেটি হচ্ছে একটি পানি নিরোধক বাক্স। বন্যার সময় চরের বাসিন্দারা তাদের জমির দলিলপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে এই বাক্সের ভিতরে রেখে দেয় যাতে পানিতে তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চরে প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারেই একটি করে পানি নিরোধক বাক্স থাকে যাতে বন্যার সময় তারা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজসহ অন্যান্য নথিপত্র নিরাপদে রাখতে পারে। (দমোদরপুর চর থেকে দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) চরে সবচেয়ে বড় অভিযোজনের বিষয়টি দেখা যায় কৃষির ক্ষেত্রে। পাশেই আরেক চর শুভগাছার মোজাম মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানকার চাষীরা এখন বন্যার পানি সহায়ক ভূট্টার চাষ শুরু করছে। “এই বছর আমি প্রায় এক একর জমিতে (০.৪ হেক্টর) ভূট্টার চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।” “আমরা আসলে চরে ভূট্টা চাষে বেশ আগ্রহ বোধ করছি কারণ এই ফসল বিক্রি করে আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। অন্যান্য ফসল বিক্রি করে আমরা যে মুনাফা পাই তার চেয়ে ভূট্টা চাষে মুনাফা অনেক বেশি। আমি এবছর প্রতি মন ভূট্টা (৩৭.৩২ কেজি) ১,৩০০ টাকায় (১৫ মার্কিন ডলার) বিক্রি করেছি”, সরিষাবাড়ি উপজেলার অন্তর্গত চর দৌলতপুরের কৃষক মোজাম্মেল হক দ্য থার্ড পোলের কাছে এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে ব্যাপকভাবে ভূট্টার চাষ করা হয়। (ছবিটি জামালপুরের শুভগাছা চর থেকে তোলা। দ্য থার্ড পোলের জন্য ছবিটি তুলেছেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম) বন্যার সময় গৃহপালিত পশুদের কী অবস্থা হয়? জানতে চাইলে মোজাম বলেন, আসলে নিজেদের পাশাপাশি বন্যার সময় তৈরি করা ভেলাগুলোতে গৃহপালিত পশুগুলোকেও একসাথে রাখা হয়। চরবাসীরা শুকনো চালের বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সাথে রেখে থাকেন। বন্যার সময় কোনো ঘাসময় জমি পাওয়া পর্যন্ত এসব গৃহপালিত পশু অনেকটাই না খেয়ে থাকে। উঁচু ভীতে ঘর বেঁধে স্বপ্নের বুনন এমিলি বেগম (৫০) জানতেন তার পরিবার ভিত উঁচু করে ঘর বাঁধতে সক্ষম নয়। কিন্তু ২০২১ সালে সরকারী উন্নয়ন সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে তাদের ঘর উঁচু করে বাঁধার জন্য সহায়তা দেয়া হয়। এখন তার মনে হচ্ছে তার পরিবার এখন আগের চেয়ে অনেকটাই নিরাপদ। “আগে বন্যার সময় আমাদের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিরাপদে রাখার মতো জায়গা না থাকায় অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে এসব পশু বন্যার আগে আগে বাজারে বিক্রি করতে হতো”, এমিলি বলেন। কিন্তু এখন ঘরের ভীত আরো উঁচু হওয়ায় সেখানে নিজেদের ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুগুলোকে সহজেই নিরাপদে রাখা সম্ভব। “এখন আর আমাদের বন্যার সময় স্বল্প মূল্যে ছাগলগুলোকে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়ে না।” চরের বাসিন্দাদের জন্য নেয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে জামালপুরের চর শুভগাছায় বন্যার সময় ছাগলসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুদের নিরাপদ রাখতে এই ধরনের উঁচু ভীত তৈরি করা হয়। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/ দ্য থার্ড পোল) এসব উঁচু ভীতগুলো অনেক সময় বেশ প্রশস্ত হয় যেখানে চরের বাসিন্দারা ফলমূল ও শাকসব্জি চাষ করতে পারে। “আমি এবার আমাদের বাড়ির উঁচু ভীতে লাউ চাষ করে ১,৪০০ টাকা (১৬ মার্কিন ডলার) আয় করেছি”, এই চরের আরেক বাসিন্দা সীমা বেগম বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে এ কথা বলেন। “আমি এবার পেঁপে বিক্রি করে আরো টাকা আয় করবো। আমার গাছের ফলগুলো এখন পাকতে শুরু করেছে।” পিকেএসএফের এক্সটেন্ডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট প্রজেক্টের সমন্বয়ক ফরিদুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৭টি পরিবারকে জলবায় সহায়ক উঁচু ভীতের বাড়ি তৈরীর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে এটি পর্যাপ্ত নয় কারন এসব চরে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বসবাস। ডুবে যাওয়া টিউবওয়েল আর টয়লেটের সুরক্ষা বন্যার সময় চরের টিউবঅয়েলগুলো একেবারেই যুবে যায়। এসব টিউবঅয়েল চরবাসীর খাবার পানির উৎস। আর প্রতি বর্ষায় এসব চরে পানির প্রচন্ড স্বল্পতা থাকে। কিন্তু বর্তমান সময়ে এখানকার পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন হয়েছে – সরকারী সহায়তায় গড়ে তোলা এসব টয়লেট এখন উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করা হচ্ছে। এখন আর আগের মতো এসব টয়লেট বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় না। মাদারগঞ্জের নদঘরি চরের আফরোজা বেগম বলেন, “আগে বন্যার সময় আমাদের টয়লেট আর টিউবঅয়েলগুলো পানিতে ডুবে যেত। এখন আমরা এই টয়লেট আর টিউবঅয়েল উঁচু ভীতের উপরে স্থাপন করছি। আমাদের বিশ্বাস ভবিষ্যতে বন্যার সময় আমাদের আর পানি এবং পয়:নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে না।” শুভগাছা চরে বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যাবার হাত থেকে সুরক্ষায় উঁচু ভীতের উপরে স্থাপিত একটি পাবলিক টয়লেট। (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশু একটি বন্যা কিন্তু নারীদের প্রথাগত যে ভূমিকা রয়েছে তা কোনো অংশেই হ্রাস করে না – যেমন পরিবারের জন্য রান্না করা এবং পানীয় জল বয়ে আনা ইত্যাদি। বন্যা হলে এসব পারিবারিক কার্যক্রম তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে যায়। অনেককেই একটি কার্যকর টিউবঅয়েলের খোঁজে কমপক্ষে এক কিলোমিটার পথ হাটতে হয়। কেউ কেউ নৌকা বা ভেলায় করে সেসব স্থানে পৌঁছায়। আবার অনেককেই গলা সমান বন্যার পানিতে হেঁটে অন্যদের মধ্য দিয়ে পানির খোঁজে বের হতে হয়। জামালপুর জেলার চর দামুদুরপুরের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, “খাবার পানি সংগ্রহ করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। “আমাদের নৌকা বা ভেলায় করে অনেক দূর যেতে হয়।” বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মুহাম্মদ ফররুখ রহমান বলেন, “আর যখন নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে বা বাঁধের উপরে থাকতে বাধ্য হতে হয়, তখন তারা অনেক সময় যৌন হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকেন, বিশেষ করে যখন তারা রাতে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেন।” চরাঞ্চলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার সুযোগ নেই। যে কয়েকটি স্কুল আছে তা প্রতি বছর বন্যার সময় বন্ধ থাকে। শিশুদের মাসের পর মাস ক্লাস বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হয়। চরে বসবাসকারী অল্প সংখ্যক শিশুই স্কুলে যায়,এসব স্কুল প্রতি বছর কয়েক মাস বন্যার পানিতে ডুবে থাকে এবং বন্ধ থাকে – চর শুভগাছা, জামালপুর (ছবি: মোহাম্মদ আব্দুস সালাম/দ্য থার্ড পোল) কেন মানুষ চরে বাস করে ? ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা এবং অন্যান্য নদী হিমালয় থেকে পলি বয়ে নিয়ে এসে এই চরগুলোককে এতই উর্বর করে তোলে যে সেগুলি নিয়ে বহু শতাব্দী ধরে লড়াই হয়ে আসছে – স্থানীয় জমিদাররা চর দখল করার জন্য ব্যক্তিগত বাহিনী গড়ে থুলতেন (যাদের পাইক এবং লাঠিয়াল বলা হয়)। তারা ভূমিহীন কৃষকদের চরের জমি চাষ করতে এবং অসুবিধা সত্ত্বেও সেখানে বসবাস করতে উৎসাহিত করে। চরে বসবাসকারী কৃষক পরিবারের অনেকেই আজ তাদের বংশধর। চরে তারা ধান, ভুট্টা, পাট, শাকসবজির ফলন করে – সবই অন্য মাটির চেয়ে ভালো জন্মায়। বছরের যেকোনো সময় চরে ফসলের অভাব হয় না। মাহমুদা বেগম বলেন, “চরে ফসলের কোনো অভাব নেই. এখানে বারো মাসে তেরো ফসল হয়।” স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবার ঘাটতি চর শুভগাছার বাসিন্দা আলাল মন্ডল বলেন, কেউ অসুস্থ হলে আমাদের এখানে ডাক্তার পাওয়া যায় না। “সুতরাং, রোগীকে নৌকা বা ভেলায় করে তিন কিলোমিটার দূরে গাবের গ্রামে নিয়ে যেতে হয়। এরপর তাদের জামালপুরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হতে পারে।” তার প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, চরে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক নেই। চরের বাসিন্দাদের সরকার পরিচালিত নানা প্রকল্প যেমন ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং), ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) কর্মসূচি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার সুযোগ খুব কম। অভিযোগ রয়েছে যে কাউকে একটি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হওয়ার আগে কর্মকর্তারা ঘুষ চেয়ে থাকেন।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
শরীয়তপুরে মসলা জাতীয় ফসল ধনিয়া চাষের সুনাম বহু বছর ধরে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে ধনিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলাজুড়ে ধনিয়ার আবাদ বেড়ে চলেছে। উৎপাদন খরচ কম এবং বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে ধনিয়া চাষ করছেন। ভালো লাভের আশায় চাষিরা সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। জেলার কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় কমবেশি ধনিয়ার আবাদ হয়। রবিশস্য হিসেবে ধনিয়া ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং বাজারে চড়া দামের কারণে কৃষকরা ঝুঁকি নিয়েও ধনিয়া চাষ করছেন। দিন দিন জেলায় ধনিয়া চাষের জমির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। গত মৌসুমে ধনিয়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৬ হেক্টর। বাস্তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর, তবে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২০ হেক্টরে। সরেজমিনে দেখা যায়, শস্যের মাঠগুলো ধনিয়া ফুলের সাদা চাদরে আবৃত। ফুলের মিষ্টি গন্ধে মৌমাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৃষকরা জমিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হয়েছে। বাজার মূল্যও ভালো থাকায় চাষিরা চড়া দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন। তবে সরকারিভাবে সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর দাবি তারা পুনরায় জানাচ্ছেন। সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকার কৃষক হরে রাম কুলু জানিয়েছেন, ‘প্রত্যেক শতাংশে ধনিয়ায় খরচ হয় দেড়শ টাকা, আর বিক্রি করলে পাই তিন থেকে চারশ টাকা। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় আমরা ধনিয়া চাষে লাভবান হচ্ছি।’ অপর কৃষক ধীরেন মজুমদার বলেন, ‘একসময় ধনিয়ার বাজারে চাহিদা কম থাকায় বাড়িতে ফেরত আনতাম। কিন্তু এখন চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষক অন্যান্য রবিশস্যের তুলনায় ধনিয়া বেশি আবাদ করছেন।’ তবে বাজারে ভালো দাম থাকা সত্ত্বেও সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধিতে কৃষকরা হতাশ। নেছার শিকদার নামের এক কৃষক বলেন, ‘সরকার যদি সার ও কীটনাশকের দাম কমায়, তাহলে লাভ আরও বৃদ্ধি পেত। আমরা এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা চাই।’ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শরীয়তপুরের মাটি ধনিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত। খরচ কম এবং বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় দিন দিন কৃষকরা ধনিয়া চাষে ঝুঁকছেন। আমরা তাদের পরামর্শ এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।’ শরীয়তপুরে ধনিয়া চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহায়তা ও বাজারের চাহিদার কারণে চাষিরা আশা করছেন, আগামী মৌসুমগুলোতেও ধনিয়া তাদের প্রধান আয়ের উৎস থাকবে।
মুকুলে ভরা আম্রকাননে নেমেছে ঋতুরাজের নীরব উৎসব। সোনালি-সবুজ আভায় মোড়া ডালপালা আর মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর চারপাশ যেন জানান দিচ্ছে মধুমাসের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোর-এর শার্শা উপজেলা এখন জেগে উঠেছে নতুন প্রত্যাশায়। আম গাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল, আর সেই সুবাসে ভরে উঠেছে গ্রামবাংলার পথঘাট। বসন্তের আগমনী সুরে কৃষকের চোখে ভাসছে সম্ভাব্য সমৃদ্ধির স্বপ্ন। ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বাণিজ্যিক বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনার গাছেও ব্যাপকভাবে মুকুল এসেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে তুলনামূলক বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। মৌমাছির আনাগোনা ও কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি এখানে হিমসাগর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, মল্লিকা, বুম্বাই, কাটিমন ও বারি জাতের আমের চাষ হচ্ছে। ১,০৬০ হেক্টরে বাণিজ্যিক আবাদ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের আবাদ হচ্ছে এবং নিবন্ধিত আমচাষির সংখ্যা ৪ হাজার ৬৬৮ জন। চাষকৃত জাতভিত্তিক জমির পরিমাণ নিম্নরূপ— হিমসাগর — ৩৩৭ হেক্টর আম্রপালি — ২১৫ হেক্টর ল্যাংড়া — ১৫৫ হেক্টর গোপালভোগ — ১৫৫ হেক্টর গোবিন্দভোগ — ৬০ হেক্টর মল্লিকা — ৩৫ হেক্টর বুম্বাই — ৫৯ হেক্টর কাটিমন — ৯ হেক্টর বারি-৪ — ২০ হেক্টর বারি-১১ — ১ হেক্টর দেশি জাত — ৩৪ হেক্টর জেলার মধ্যে শার্শা ছাড়াও ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমের চাষ হয়ে থাকে। চাষিদের প্রত্যাশা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল মান্নান বলেন, “মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। কুয়াশা বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত না থাকায় গাছে স্বাভাবিকভাবে মুকুল এসেছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পোকার আক্রমণও দেখা যায়নি। সামনে ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।” আরেক চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, “গাছের অবস্থা বেশ ভালো। আমরা নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করছি। মুকুলের পরিমাণ দেখে ফলন সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছি।” কৃষি বিভাগের সতর্কবার্তা শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা বলেন, “এ অঞ্চলের দোআঁশ মাটি ও জলবায়ু আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। ফলে গাছে মুকুলের পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে ছত্রাকজনিত রোগ বা হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। চাষিদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।” বাম্পার ফলনের আশা সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শার্শায় আমের বাম্পার ফলন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের। মুকুলের এই সুবাস তাই শুধু প্রকৃতির রূপ নয়, হাজারো কৃষকের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিরো টিলেজ বা বিনা চাষে আবাদ পদ্ধতি। জমি চাষ না করে কিংবা স্বল্প চাষে ফসল উৎপাদনের এই কৌশল কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে জমি চাষ না করে আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখেই সরাসরি বীজ বপন করা হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়। নবীনগরে সরিষা, মসুর, খেসারি ও রসুনে এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া হালকা বালুমাটিতে বাদামও জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়েছে। রাজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রকল্প (বি-স্ট্রং) এর আওতায় চলতি বোরো মৌসুমে নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের শতাধিক স্থানে বাদাম, সরিষা ও ডালজাতীয় ফসলের আবাদ করা হয়েছে। শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেনের পরামর্শে তিনি বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেন। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় একটি প্রদর্শনীর উপকরণ পান। তিনি জানান, আগে জমি চাষ, মই দেওয়া ও প্রস্তুত করতে বেশি সময় ও খরচ হতো, কিন্তু জিরো টিলেজ ব্যবহারে খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। পাশাপাশি মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকায় সেচের প্রয়োজনও কম হয়েছে। বিদ্যাকুট ইউনিয়নের কৃষক কুলসুম আক্তার জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম ভৌমিকের উৎসাহে তিনি প্রথমবারের মতো বিনা চাষে সরিষা আবাদ করেছেন। তার জমির ফসল অন্যদের তুলনায় দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান কাটার আগে রিলে পদ্ধতিতে ও বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি মসুর ২৫ বিঘা, রসুন ১০ বিঘা এবং বাদাম ২৫ বিঘা জমিতে বিনা চাষে ও স্বল্প চাষে আবাদ হয়েছে। নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিরো টিলেজ পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি পায়, উপকারী অণুজীব সক্রিয় থাকে এবং মাটির ক্ষয় কম হয়। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কৃষকদের সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হয়। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্লটে সরিষা, মসুর ও খেসারি সহজভাবে এবং নির্দিষ্ট শর্তে বাদাম জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও কৃষক সচেতনতা বাড়ানো গেলে নবীনগরে জিরো টিলেজ আবাদ আরও বিস্তৃত হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষকের লাভ বাড়বে এবং অঞ্চলটি টেকসই কৃষির পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
লিফলেট থেকে জন্মাবে গাছ, এমনটা শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন কি অবান্তর কথা বলছি! একদমই না। নিশ্চয়ই সিড পেপার দিয়ে কলম, ক্যালেন্ডার তৈরির কথা জানেন। যে কাগজ দিয়ে কলম তৈরি করে ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে গাছ জন্মায়। সেই কাগজের কথাই বলছিলাম। যা পরিচিত ‘বন-কাগজ’ বা ‘সিড পেপার’ নামে। এবার বাংলাদেশের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হলো এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন এই বিশেষ ধরনের বীজযুক্ত কাগজের লিফলেট, যা মাটিতে পড়লেই পরিণত হতে পারে সবজির চারা গাছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। প্রচারণার কাগজ মাটিতে পড়ে নষ্ট না হয়ে যদি গাছ হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি হবে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ভাবনার বাস্তব উদাহরণ। এটি কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো উদ্ভাবন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বীজযুক্ত কাগজ বা পোস্টার ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনসহ নানা সামাজিক ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় সিড পেপার ব্যবহৃত হচ্ছে। কীভাবে তৈরি হয় বন-কাগজ? বন-কাগজ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও পরিবেশবান্ধব। এটি মূলত পরিত্যক্ত বা ব্যবহৃত কাগজ থেকে তৈরি করা হয়। প্রথমে কাগজগুলো ছোট টুকরো করে প্রায় ৪২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, যাতে কাগজ পুরোপুরি গলে যায়। এরপর সেই গলিত কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে বসানো হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ পদ্ধতিতে কাগজের মণ্ডের সঙ্গে বীজ যুক্ত করা হয়, যাতে কাগজ শুকানোর পরও বীজের কার্যকারিতা নষ্ট না হয়। সবশেষে কাগজ শুকিয়ে লিফলেট বা পোস্টারের আকার দেওয়া হয়। জানেন কি, কীভাবে বন-কাগজ থেকে গাছ জন্মায়? বন-কাগজ মূলত এমন এক ধরনের কাগজ, যার ভেতরে বিভিন্ন সবজি বা ভেষজ উদ্ভিদের বীজ সংযুক্ত থাকে। এই লিফলেট পুরোটা বা ছিঁড়ে ছোট টুকরো করে মাটিতে পুঁতে বা ফেলে দিলে, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকলে ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়। মাটি যদি শুষ্ক হয়, তবে কাগজটি মাটির ওপর রেখে হালকা পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বন-কাগজ থেকে চারা গজিয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই গাছে পরিণত হয়। এই কাগজ এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে অর্থাৎ এক বছরের মধ্যে মাটিতে ফেললে সেখান থেকে গাছ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। কোন ধরনের গাছের বীজ ব্যবহা করা হয় এই সিড পেপারে? সাধারণত ভেষজ উদ্ভিদ ও ফলের বীজ দিয়ে এই কাগজ তৈরি করা হলেও এবারের নির্বাচনে পাঁচ ধরনের দেশি সবজির বীজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লালশাক ও ডাঁটাশাক। এগুলো সহজে জন্মায় এবং ঘরোয়া পরিবেশে পরিচর্যাও তুলনামূলক কম লাগে। তাই লিফলেট পেলে বারান্দায় টবে লাগিয়ে দিন। কিছুদিনের মধ্যে সবজির চারা পাবেন। মাসখানিক পর পাবেন সবজি। এই পরিবেশবান্ধব লিফলেট তৈরির খরচ সাধারণ কাগজের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রতিটি বন-কাগজের লিফলেট তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮ টাকা। তবে উদ্যোক্তাদের মতে, পরিবেশের জন্য এর সুফল বিবেচনায় এই ব্যয় যুক্তিসংগত। পরিবেশ দূষণ কমানো এবং ‘জিরো ওয়েস্ট’ লক্ষ্য অর্জনের পথে এই ধরনের উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবেই দেখছেন পরিবেশবিদরা।
নেদারল্যান্ডসের কোনো আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যার সময়ে ঘরে আলো জ্বলে উঠলে মানুষের বসার ঘর, সোফা, ল্যাম্প, ডাইনিং টেবিল, এমনকি পরিবারের একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া অনেক সময় বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। ভিনদেশি দর্শনার্থীদের কাছে এটি অবাক করা বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশে অন্ধকার নামলেই জানালার পর্দা টানা হয়। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে প্রায় সব জানালা। শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও জানালাগুলো প্রায়ই পর্দাহীন দেখা যায়।এই অভ্যাস বহু বছর ধরে চলে আসছে। খোলা জানালার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। সবচেয়ে আলোচিত ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্যালভিনিজম, যা একটি প্রোটেস্ট্যান্ট ঐতিহ্য এবং ডাচ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্যালভিনিজম বিনয়, সততা এবং স্বচ্ছতাকে মূল্য দেয়। এই ঐতিহ্য অনুসারে খোলা জানালা সততা ও স্বচ্ছতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতে পারে। এই ধারণা অনুযায়ী, খোলা পর্দা বোঝায় যে, ঘরে লুকানোর কিছু নেই, জীবনযাপন সৎ ও শালীন। তবে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। আধুনিক ডাচ সমাজ অনেকটাই ধর্মনিরপেক্ষ, তবুও এই অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এই অভ্যাসকে প্রভাবিত করেছে, যদিও সরাসরি কারণ নয়। জার্মান দখলের সময় সময় কঠোর ‘ব্ল্যাকআউট’ নিয়ম চালু ছিল। রাতে ঘর থেকে কোনো আলো বাইরে বের হতে না দেওয়ার জন্য জানালায় মোটা পর্দা বা ঢাকনা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিল। বাইরে আলো দেখা গেলে জরিমানা হতো। যুদ্ধ শেষে মানুষ আবার পর্দা সরিয়ে আলো উন্মুক্ত করতে স্বস্তি বোধ করেছিল। যদিও এই অভিজ্ঞতা আলো ও স্বাধীনতার প্রতি মনোভাব গঠনে ভূমিকা রেখেছিল, তবুও এটি একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়। জলবায়ুও এর একটি ভূমিকা রাখে। নেদারল্যান্ডসে বিশেষ করে শরৎ ও শীতকালে সূর্যালোক কম থাকে। ছোট দিন, মেঘলা আকাশ এবং দীর্ঘ সন্ধ্যা দিনের আলোকে মূল্যবান করে তোলে। সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢুকতে দেওয়া মানুষ পছন্দ করে, এতে ঘর উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত লাগে। সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কারণটি সামাজিক আচরণ। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক আস্থাভিত্তিক সম্প্রদায়ের লোকেদের পর্দা খোলা রাখার প্রবণতা বেশি। খোলা জানালা বাসিন্দাদের রাস্তা ও আশেপাশের জীবন সম্পর্কিত সচেতন রাখে। তারা দেখতে পারে কে পাশ দিয়ে যাচ্ছে, বাইরে কী ঘটছে, এবং সবকিছু নিরাপদ কিনা। এইভাবে খোলা পর্দা আস্থার অনুভূতিকে সমর্থন করে। জানালাটি তখন ভেতর ও বাইরের মাঝে কঠিন দেয়াল নয়, বরং নরম এক সীমানা হিসেবে কাজ করে। ডাচ বাড়িগুলো অনেক সময় সরু হয়, কিন্তু সামনের জানালা বড়। পর্দা টানলে আলো কমে যায়, ঘর ছোট ও গুমোট লাগে। তাই অনেকেই খোলামেলা, আলো ভরা পরিবেশ পছন্দ করেন। এমনকি ঘরের সাজসজ্জাও অনেক সময় এমনভাবে করা হয়, যেন তা আংশিকভাবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান থাকবে এ বিষয়টি মাথায় রেখেই। খোলা জানালা মানে ডাচরা অপরিচিতদের আমন্ত্রণ জানায় না। বাইরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ তাকানো এখনও অভদ্র বলে বিবেচিত। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক ঝলক দেখা স্বাভাবিক, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তাকানো নয়। এক নীরব সামাজিক বোঝাপড়া। এখানে গোপনীয়তা রক্ষা হয় কাপড়ের পর্দায় নয় বরং সামাজিক শিষ্টাচারে।
একসময় বাঙালি বিয়ে মানেই ছিল পাড়া-প্রতিবেশী, কমিউনিটি সেন্টার, শত শত অতিথি আর কয়েক দিনব্যাপী আয়োজন। কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, ভ্রমণপ্রিয় মানসিকতা আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সব মিলিয়ে বিয়ের ধারণাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনের নাম ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। আজ এটি আর শুধু অভিজাতদের বিলাসিতা নয়, বরং মধ্যবিত্ত তরুণ তরুণীদের কাছেও হয়ে উঠছে কাঙ্ক্ষিত এক অভিজ্ঞতা। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং কী? ডেস্টিনেশন ওয়েডিং বলতে বোঝায় নিজের শহর বা বসবাসের জায়গা ছেড়ে অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্র, ঐতিহাসিক স্থান বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যপূর্ণ এলাকায় সীমিত অতিথি নিয়ে বিয়ের আয়োজন করা। সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, রিসোর্ট, হেরিটেজ প্রপার্টি বা বিদেশের কোনো শহর সবই হতে পারে এই ধরনের বিয়ের গন্তব্য। এই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের উৎপত্তি মূলত পশ্চিমা দেশগুলোতে। ইউরোপ ও আমেরিকায় ১৯৮০-৯০-এর দশকে ছোট পরিসরে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়তে থাকে। সেই সময় থেকেই সমুদ্র সৈকত বা রিসোর্টে বিয়ের ধারণা জনপ্রিয় হয়। পরে বলিউড তারকাদের হাত ধরে ভারতে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। রাজস্থান, গোয়া, উদয়পুর কিংবা বিদেশে ইতালি, থাইল্যান্ড এই সব জায়গায় তারকাদের বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়। বাংলাদেশে এই ধারণা তুলনামূলক নতুন। ২০১০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে এটি পরিচিত হতে শুরু করে। শুরুতে ধনী ব্যবসায়ী পরিবার বা শোবিজ অঙ্গনের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই আয়োজন। তবে গত পাঁচ-সাত বছরে মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজের মধ্যেও ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের চাহিদা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কক্সবাজার, সাজেক, বান্দরবান, সিলেট কিংবা দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট এখন বিয়ের জনপ্রিয় গন্তব্য। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সীমিত অতিথি। প্রচলিত বিয়েতে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত-অপরিচিত মিলিয়ে অতিথির সংখ্যা কয়েক শ’ ছাড়িয়ে যায়। ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ে সাধারণত কাছের মানুষদের নিয়েই আয়োজন করা হয়, ফলে খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে। দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে বিয়ে ও ভ্রমণ। বিয়ে উপলক্ষে বর–কনে ও অতিথিরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পান। এতে আয়োজনের ক্লান্তি কমে, আনন্দ বাড়ে। তৃতীয়ত, ভিন্নতা ও ব্যক্তিগত ছোঁয়া। পাহাড়, সমুদ্র বা ঐতিহাসিক প্রাসাদের মাঝে বিয়ে এই অভিজ্ঞতা প্রচলিত কমিউনিটি সেন্টারের বিয়ের চেয়ে আলাদা এবং স্মরণীয়। ডেস্টিনেশন ওয়েডিং জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে বিয়ের ভিডিও ও ছবির ঝলক মানুষকে আকৃষ্ট করছে। ‘পারফেক্ট ওয়েডিং ফটো’ বা ‘ড্রিম ওয়েডিং’ এই ধারণাগুলো তরুণদের মনে গভীরভাবে গেঁথে গেছে। অনেকে মনে করেন ডেস্টিনেশন ওয়েডিং মানেই আকাশছোঁয়া খরচ। বাস্তবে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। অতিথি সংখ্যা কম হওয়ায় খাবার, হল ভাড়া ও অন্যান্য খরচ অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে যাতায়াত, থাকা ও সাজসজ্জার খরচ যোগ হওয়ায় বাজেট পরিকল্পনা না করলে ব্যয় বাড়তে পারে। বাংলাদেশে একটি মাঝারি মানের ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের খরচ ১৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব বলে জানান ইভেন্ট প্ল্যানাররা। তবে এই ট্রেন্ডের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের অনেকেই এখনো ডেস্টিনেশন ওয়েডিংকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেন না। আত্মীয়স্বজন বাদ পড়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। এছাড়া দেশের ভেতরে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও অভিজ্ঞ ওয়েডিং প্ল্যানারের অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এতসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে বাংলাদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং আরও জনপ্রিয় হবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, রিসোর্ট ও হোটেলের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণদের জীবনধারার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারা আরও বিস্তৃত হবে।
ক্ষমতা মানুষকে কী দেয় নিরাপত্তা, প্রভাব, নাকি ভয়ংকর দায়মুক্তি? জেফরি এপস্টেইনের নামটি সামনে এলে এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি উঠে আসে। আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এপস্টেইন কেস দেখিয়েছে, অর্থ ও ক্ষমতার জোরে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে শিশু যৌন নির্যাতন ও পাচারের মতো অপরাধ আড়ালে রাখা যায়। আদালতের নথি, ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এবং তদন্তে উঠে এসেছে রাজনীতিবিদ, ধনকুবের, রাজপরিবার-ঘনিষ্ঠ বহু প্রভাবশালীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এপস্টেইন একা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি ব্যবস্থার প্রতীক, যেখানে ক্ষমতাবানরা নিজেদের অপরাধ ঢেকে রাখতে সক্ষম হন। এই বাস্তবতা নতুন নয়। ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায় প্রাচীন ও মধ্যযুগের বহু শাসক, রাজা কিংবা ধর্মীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের শোষণ কিংবা চরম যৌন বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে। তখনকার দিনে আইন ও নৈতিকতার সংজ্ঞা ভিন্ন ছিল, কিন্তু অনেক ঘটনায় সমসাময়িক দলিল, চিঠিপত্র ও ইতিহাসবিদদের বিবরণ স্পষ্টভাবে অনৈতিক আচরণের দিকেই ইঙ্গিত করে। তৃতীয় শতকের রোমান সম্রাট এলাগাবালুস ইতিহাসে কুখ্যাত তার বেপরোয়া জীবনযাপনের জন্য। প্রাচীন ইতিহাসবিদ ক্যাসিয়াস ডিও ও হেরোডিয়ান তার শাসনকালকে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের বিবরণে দেখা যায়, রাজপ্রাসাদে অল্পবয়সী কিশোরদের উপস্থিতি, যৌন পরিচয়ের সীমা ভাঙা আচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল নিয়মিত ঘটনা। যদিও আধুনিক ইতিহাসবিদরা কিছু বিবরণ অতিরঞ্জিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন, তবুও একাধিক স্বাধীন সূত্রে তার বিকৃত লালসার উল্লেখ থাকায় বিষয়টি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একাদশ শতকের পোপ বেনেডিক্ট নবম ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি একাধারে ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক শাসক। সমসাময়িক ধর্মীয় লেখকরা তাকে ‘নৈতিকভাবে কলুষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি কিশোরদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতেন এবং পাপাল ক্ষমতা ব্যক্তিগত ভোগের জন্য ব্যবহার করতেন। চার্চ ইতিহাসে তিনি অন্যতম বিতর্কিত পোপ হিসেবে পরিচিত, যার আচরণ খোদ গির্জার ভেতরেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। মধ্যযুগে ইউরোপীয় রাজদরবার ছিল প্রায় সম্পূর্ণভাবে রাজার ইচ্ছাধীন। অনেক ক্ষেত্রে রাজাকে প্রশ্ন করার সুযোগই ছিল না। কিছু শাসকের বিরুদ্ধে কিশোর বা অল্পবয়সী দাসদের যৌন শোষণের অভিযোগ পাওয়া যায় দরবারি নথি ও সমালোচনামূলক লেখায়। তবে সে সময় এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসত খুব কমই; রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া প্রায় কেউই মুখ খুলত না। ফলে অনেক ঘটনা ইতিহাসে শুধু ইঙ্গিত আকারেই থেকে গেছে।
বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ। মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়। ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’ কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’ এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’ কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’
জান্নাত শ্রাবণী: শীতের আর্দ্রতা ধীরে ধীরে বিদায় নিতেই প্রকৃতি খুলে দিয়েছে নতুন অধ্যায়। গাছের ডাল থেকে ঝরে পড়া শুকনো পাতার নিচেই লুকিয়ে আছে বসন্তের প্রথম ইশারা। পুরোনোকে ঝরিয়ে দিয়ে শাখামূল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে কচি সবুজ পাতা, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। শহরের কোলাহলের মাঝেও প্রকৃতি নীরবে জানান দিচ্ছে ঝরা পাতার ভেতরেই শুরু হয়ে গেছে নতুন বসন্তের গল্প। ঝরা পাতার ভেতর নতুন বসন্তের গল্পশীতের দীর্ঘ আর্দ্রতা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতেই প্রকৃতি যেন গভীর নিঃশ্বাস ফেলেছে। কুয়াশা আর শীতল বাতাসের ভার সরে গিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে বসন্তের নরম উষ্ণতা। এই ঋতু বদলের মুহূর্তে প্রকৃতি নিজেকে সাজাচ্ছে নতুন করে, পুরোনোকে ঝরিয়ে দিয়ে গ্রহণ করছে নবজীবনের রং। ঝরা পাতার ভেতর নতুন বসন্তের গল্পগাছের ডাল থেকে একে একে ঝরে পড়ছে শুকনো পাতা। মাটিতে পড়ে থাকা সেই পাতার স্তূপের মাঝেই তৈরি হচ্ছে নতুন জীবনের প্রস্তুতি। ডাল ও শাখামূল ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে কচি পাতা, সবুজে মোড়া নরম এক প্রত্যাশা। যেন প্রকৃতি নিজেই জানিয়ে দিচ্ছে, শেষ মানেই থেমে যাওয়া নয়; বরং নতুন শুরুরই আরেক নাম। ঝরা পাতার ভেতর নতুন বসন্তের গল্পহাওয়ার সঙ্গে মিশে আছে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। শহরের ব্যস্ততার মাঝেও সেই সুবাস জানান দিচ্ছে বসন্ত এসেছে। চোখে না দেখলেও নাকে এসে লাগে ঋতুর বার্তা। গাছে গাছে ফুটছে বাসন্তী ফুল, কোথাও হলুদ, কোথাও হালকা বেগুনি, আবার কোথাও নিস্তরঙ্গ সাদা। রঙের এই নীরব উচ্ছ্বাস মনকে অজান্তেই করে তোলে হালকা। ঝরা পাতার ভেতর নতুন বসন্তের গল্পএই বসন্তের ছোঁয়া ধরা পড়েছে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকাতেও। কংক্রিট আর যানজটের ভিড়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোও ঋতুর ডাক উপেক্ষা করেনি। জলধারের পাশে সারি সারি গাছে নতুন পাতার ঝিলিক, বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের গন্ধ সব মিলিয়ে হাতিরঝিল যেন শহরের বুকে বসন্তের এক টুকরো গ্রাম। ঝরা পাতার ভেতর নতুন বসন্তের গল্পবসন্ত শুধু প্রকৃতির রঙ বদলায় না, মানুষের মনেও আনে এক ধরনের নীরব আনন্দ। ক্লান্তি, বিষণ্নতা আর জড়তা কাটিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। শীত শেষে যেমন গাছেরা আবার প্রাণ ফিরে পায়, তেমনি মানুষও খুঁজে পায় নিজের ভেতরের সতেজতাকে। হাতিরঝিলের এই দৃশ্য সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় শহরের মাঝেও প্রকৃতি কথা বলে, যদি একটু থেমে শোনার সময় থাকে।
জাতীয় নির্বাচন মানেই এখন আমাদের কাছে দায়িত্ব, সচেতনতা আর নাগরিক অধিকার। কিন্তু শৈশবে নির্বাচন মানে আমাদের কাছে ক্ষমতার লড়াই নয় বরং ছিল উৎসবের মতো এক ব্যস্ততা, রঙিন পোস্টার আর মিছিলে পাওয়া বাদাম-চকলেটের আনন্দ। বিশেষ করে গ্রামের শিশু-কিশোরদের কাছে নির্বাচন মানেই ছিল রঙিন এক অভিজ্ঞতার নাম। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে আমাদের গ্রামের চেহারা বদলে যেত। গাছে গাছে ও দেয়ালজুড়ে নানা প্রতীকের পোস্টারের দেখা ছড়াছড়ি। রঙের বাহার দেখে মনে হতো যেন পুরো এলাকা এক বিশাল চিত্রশালা। মাইকিং চলতো ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ‘ভোট দিন অমুক প্রতীকে ভোট দিন।’ সেই শব্দে ঘুম ভাঙতো, আবার সেই শব্দেই রাত নামতো। নির্বাচনের মাইকিংয়ের শব্দ পেলেই ছুটে যাওয়া এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতীকে স্লোগান দেওয়া আর তাদের থেকে লিফলেট সংগ্রহ করে ছিল দারুণ অভিজ্ঞতা। তা বাড়িতে এসে বিমানসহ নানা রকমের খেলনা তৈরিই ছিল প্রধান কাজ। বিশেষ করে ভোটের দিনটি ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলেই মাঠেই বসতো ভোটকেন্দ্র। লম্বা লাইন দেখে লোকজন গণনা করতাম কোন লাইনে কতজন আছে। যা ছিল সবচেয়ে আনন্দের। কিছু সময় পর পর সেনাবাহিনী, পুলিশ আর আনসার সদস্যদের বাঁশি শব্দ এবং ভিড় দূর করার জন্য লাঠি নিয়ে দৌড়ানো দেখা ছিল এক ধরনের রোমাঞ্চ। তবে ভোটের দিন খাওয়া দাওয়া একটা ধুম পড়ে যেতো। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে বসতো হরেক রকমের খাবারের দোকান। এছাড়া সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল নির্বাচনের পোস্টার সংগ্রহ করা। ফল ঘোষণার রাতে বা ভোটের পর দিন পোস্টার সংগ্রহের একটা প্রতিযোগিতা চলতো। গাছে গাছে টানানো পোস্টার খুলে যত্ন করে রেখে দিতাম, পরে তা দিয়ে বইয়ের মলাট বানাতাম। প্রতীকের ছবি দেখে বন্ধুরা আন্দাজ করত, কার বইয়ে কোন দলের পোস্টার। এতে এক ধরনের গর্বও কাজ করত, যদিও রাজনীতির অর্থ তখনো অজানা। নির্বাচনি মিছিল ছিল আমাদের আরেক আকর্ষণ। পাড়ায় মিছিল এলে আমরা দৌড়ে গিয়ে লাইনের শেষে দাঁড়িয়ে যেতাম। স্লোগান দিতে না পারলেও গলা মিলিয়ে আওয়াজ তুলতাম। মিছিল শেষে কখনো বাদাম, কখনো চকলেট বা বিস্কুটও মিলত। কখনো একচাপ চায়ের জন্যও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম। ফল ঘোষণার দিনও কম উত্তেজনাপূর্ণ ছিল না। টেলিভিশনের সামনে বসে বড়রা ফল শুনতেন। কে জিতল, কে হারল এসব নিয়ে আলোচনা চলত রাতভর। সেই রাতে কোনো কোনো এলাকায় বিজয় মিছিল বের হতো, ঢাক-ঢোল বাজত। সেই আনন্দের ঢেউ আমাদের মনেও ছড়িয়ে পড়ত। আবারও নির্বাচন ফিরে এসেছে, তবে কর্মের চাপে ঢাকা থেকে বাড়িতে যাওয়া আর হলো না। এখন বড় হয়েছি, বুঝি নির্বাচনের গুরুত্ব কত গভীর। এটি শুধু উৎসব নয়, গণতন্ত্রের চর্চা। কিন্তু শৈশবের চোখে দেখা নির্বাচন ছিল এক নির্মল আনন্দের নাম। পোস্টারের রঙ, মিছিলে পাওয়া বাদামের স্বাদ, ভোটকেন্দ্রের ভিড় সব মিলিয়ে সেই দিনগুলো আজও স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল। এ দিকে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নিজেদের শৈশবের সেই রঙিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করেছেন কালবেলার সাব এডিটর আবু তালহা রায়হান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ আজম এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান কাব্য। কাব্য বলেন, ভোটার হওয়ার থেকেও ভোটারহীন শৈশব যেন আরও মধুর ছিল। মাইকিং এ মার্কা বা প্রার্থী সম্পর্কে ভালো বুঝতে না পারলেও এগুলো ছিল তুমুল আগ্রহের বিষয়। ভোট আসলে পোস্টারগুলো ছিল আমাদের সব থেকে পছন্দের বস্তু। নিজ আসনের সব প্রার্থীর পোস্টার সংগ্রহ করা, আর সেগুলো নিজের কাছে যত বেশি, তত নিজেকে এগিয়ে রাখা হতো। মাইকিং করতে আসা গাড়িগুলোতে হ্যান্ড লিফলেট দিত, তাই ভোটের মাইকিং আসলেই পিছে দৌড়াতাম। শৈশবে কত হ্যান্ড লিফলেটের প্লেন বানিয়ে উড়িয়েছি, সেই সংখ্যাটা সহস্র ছড়াবে। গ্রামের উঠোন বৈঠকে আসা প্রার্থী সমর্থকরা নিয়ে আসতো খুরমা-চকলেট অথবা জিলাপি। সেদিক থেকে ছোট মানুষরা এগিয়েই থাকতো, আমিও তার বাইরে না। প্রার্থীদের কাছে গেলেই চকলেট, লিফলেট, বাদাম দিতো। এগুলোও প্রিয় ছিল। আর বেশিরভাগ মিছিলে থাকতো মানুষের ভালুক, বাঘ সাজা। সেই সময়ে মিছিলে অংশ নিতাম এসব উদযাপন করতেই। ভোটের দিনগুলোতে আব্বা-মা ভোট কেন্দ্র থেকে দূরে থাকতে বললেও খুব কাছাকাছি থাকা হতো। নির্বাচন যেন আরও আনন্দময় হতো যখন এলাকার সব মানুষকে একত্রে দেখতাম। আব্বা- মা ভোট দিয়ে আসলে তাদের আঙুলে কালি নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল অনেক। এগুলো কেন দেয়? এগুলো উঠে না কেন? না দিলে কি হতো? ইত্যাদি। এবার বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে বাড়িতে এসে ছোট বাচ্চাদের লিফলেট নিয়ে আগ্রহ দেখে মাঝে মাঝে নিজেকে সেই মধুর শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। আজম বলেন, সময়টা ২০০৮। বয়স তখন এতটাই কম যে রাজনীতি বুঝতাম না, কিন্তু নির্বাচনের উৎসবটা ঠিকই বুঝতাম। আমাদের কাছে ভোট মানেই ছিল আনন্দ, কৌতূহল আর এক ধরনের অদ্ভুত উচ্ছ্বাস। বড়দের চেয়ে হয়তো আমাদের উৎসাহই ছিল বেশি। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলেই যেন পাড়া-মহল্লায় উৎসব নেমে আসত। বড় সড়ক ধরে যখন ভ্যান বা রিকশায় মাইক বাজিয়ে প্রার্থীদের প্রচার চলত, সমবয়সীরা দল বেঁধে দৌড়ে যেতাম। মাইকের পিছু পিছু কত দূর যে চলে যেতাম, তার হিসাব নেই। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়া, পরিচিত গলি পেরিয়ে অচেনা রাস্তায় পৌঁছে যেতাম। ফেরার পথে স্লোগান দিতাম গলা ফাটিয়ে। যে প্রার্থীর মাইক শুনতাম, তখনই তার স্লোগান; নির্বাচনি প্রতীক বদলাত, স্লোগান বদলাত, কিন্তু আমাদের আনন্দ বদলাতো না। ভোটের দিন ছিল আলাদা রকমের উত্তেজনায় ভরা। অনেক সময় আগের রাতেই মাকে বলে রাখতাম, যেন ভোরে ডেকে দেন। ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই দৌড় দিতাম বড় সড়কে। রাতের আঁধারে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হতো প্রতীক ছাপানো ছোট ছোট রঙিন কাগজ। পরে আমরা বেছে বেছে উজ্জ্বল রঙের কাগজ কুড়িয়ে পকেটে বা পলিথিনের ব্যাগে ভরতাম। কে কত বেশি জমাতে পারল তা নিয়েই চলতো আমাদের গর্ব আর প্রতিযোগিতা। রাজনীতির অর্থ বুঝতাম না, কিন্তু উৎসবের রং বুঝতাম ঠিকই। সময় বয়ে গেছে অনেক। সেই দিনগুলো এখন স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি। একসময় ভোট মানেই ছিল ঈদের মতো আনন্দ, চেনা মানুষদের ভিড়, কৌতূহলী চোখ। এখন সেই উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে না তেমন। ডিজিটাল যুগে মানুষ যেন পর্দার ভেতরেই আটকে গেছে। মাঠের কোলাহল সরে গিয়ে জায়গা নিয়েছে নীরব স্ক্রিনের আলো। তবু মাঝেমধ্যে মনে হয়, আসলে হারিয়ে গেছে শুধু সময়টাই নয়, হারিয়ে গেছে এক টুকরো সরলতা। রাজনীতির জটিলতা নয়, শৈশবের নির্মল আনন্দটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেই সোনালি দিনগুলোকে ভীষণ মনে পড়ে। ইচ্ছে হয়, আরেকবার ফিরে যাই সেই ভোরের রঙিন কাগজ কুড়োনো সকালে, যেখানে ভোট ছিল উৎসব, আর আনন্দ ছিল নিঃস্বার্থ। তালহা বলেন, শৈশবের একটি নির্বাচনের দিনের কথা আজও মনে আছে। তখন খুব ছোট, ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি। সেই ভোটের দিন সকালে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। মানুষের ভিড়, লম্বা লাইন, পুলিশ পাহারা সবকিছু কৌতূহল নিয়ে দেখছিলাম। এক সময় দেখলাম, কেন্দ্র থেকে বের হয়ে অনেকে আঙুলের কালি দেখাচ্ছে। বিষয়টা বেশ মজার লাগছিল। আমরা বন্ধুরা মিলে কৌতূহল থেকে একে অপরের আঙুলে কলমের কালি লাগিয়ে বলছিলাম, আমরাও ভোট দিয়েছি। বিষয়টি এখন মনে হলে হাসি পায়, কিন্তু তখন সেটাই ছিল আমাদের আনন্দ। ভোট দিতে না পারলেও নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, মানুষের ভিড় আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কাটানো সময়; এসব মিলিয়েই শৈশবের নির্বাচন ছিল আনন্দ আর কৌতূহলে ভরা এক স্মৃতি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।