Brand logo light

বিশেষ সংবাদ

পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন উপ-পরিচালক নিজামুল হক
বরিশালে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের  উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ।  পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি।   নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:   পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে।  একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া  নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি  পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল  অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের  অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে।  যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে  নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ:  পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে  অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই,  প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।   উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো  অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি
ইতালিতে কাজের প্রলোভন: লিবিয়ায় বন্দি বাংলাদেশি যুবকরা, নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :   ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়।  যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়।  ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন।  ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বাবে রহমত
আধ্যাত্মিকতার আড়ালে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য—দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ ঘিরে বিস্ময়কর অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত ‘বাবে রহমত’—বাহ্যিকভাবে এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র—যেখানে আধ্যাত্মিকতার আবরণে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক জটিল, অস্বচ্ছ আর্থিক সাম্রাজ্য। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল সম্পদ। অনুসন্ধান বলছে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশই অপ্রকাশিত। অভিযোগ রয়েছে, ভক্তদের দানের অর্থই বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নাকি সম্পদের পুনর্বিন্যাস? প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার সাত সন্তানের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা হয়। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ জমি, ভবন এবং ব্যাংক আমানত তাদের নামে হস্তান্তর হলেও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—দরবারকেন্দ্রিক অনুদানই ছিল প্রধান অর্থের উৎস। সন্দেহজনক লেনদেন ও অদৃশ্য কোম্পানির জাল ব্যাংক নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে শতকোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মাধ্যমে, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের ধরনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, পুরানা পল্টন, মিরপুর, জুরাইন, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও জমি। ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’—এমন নামের ভবনগুলো শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং সম্পদ বিস্তারের চিহ্ন হিসেবেও উঠে এসেছে। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার ঘিরে রয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছু অংশ রাজউকের জমির ওপর নির্মিত। যদিও বহুবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে অন্তত ৩০ জেলায় দরবার, খানকা, জমি ও স্থাপনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, রংপুর—প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। এই বিস্তৃতি শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমায় নয়—বরং একটি সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশে অর্থের ছাপ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরবার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য। সন্দেহ রয়েছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি অনুসন্ধানে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিঝিলে এক ব্যক্তির জমিতে উটের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি—জাল দলিল, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। ‘আধ্যাত্মিক’ কেন্দ্রের ভেতরের বাস্তবতা দরবার কমপ্লেক্সে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ সীমিত। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশেষ অনুমতি। ভেতরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত বাহিনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা উপকরণ—যা একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ দেওয়ানবাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবস্থান দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব সম্পদ পৈতৃক এবং বৈধ উৎস থেকেই অর্জিত। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানানো হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেছে, এসব বিষয় আদালতে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সমাধান হবে। প্রশাসনিক নীরবতা—সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিস্তৃত সম্পদ, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দখল অভিযোগের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাব সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বহুবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি—যা প্রশাসনিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ—একদিকে আধ্যাত্মিকতার বার্তা, অন্যদিকে অস্বচ্ছ সম্পদ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং দখলের অভিযোগ। এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়—বরং রাষ্ট্রীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে। অনুসন্ধানের শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও গভীর তদন্ত।   দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ বাংলাদেশের একটি পরিচিত তাসাউফ-ভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত "মোহাম্মদী ইসলাম" প্রচারের জন্য পরিচিত, যা এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (যিনি দেওয়ানবাগী হুজুর নামেই বেশি পরিচিত) প্রবর্তন করেন।  বাবে রহমত : বলতে সাধারণত ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ শরীফ দরবারকে বোঝানো হয়। এটি এই দরবার শরীফের মূল কেন্দ্র বা সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। মূল তথ্য:     প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।     প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত 'বাবে রহমত' এই দরবার শরীফের প্রধান কেন্দ্র।     প্রতিষ্ঠাতা: সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (১৯৪৯–২০২০)। তিনি নিজেকে "সুফি সম্রাট" হিসেবে পরিচয় দিতেন।     মতাদর্শ: এই প্রতিষ্ঠানটি 'মোহাম্মদী ইসলাম' নামক নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন প্রচার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রসমূহ:  দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বেশ কিছু শাখা বা দরবার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাবে রহমত: মতিঝিল, ঢাকা (প্রধান কার্যালয়)। বাবে মদিনা: নারায়ণগঞ্জ। বাবে জান্নাত: দেওয়ানবাগ, নারায়ণগঞ্জ।  এই দরবার শরীফটি তার বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে  ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিরা এই দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
Traffickers motiur rahman
Deaths in the Mediterranean: Case Filed Against 5 Traffickers at Jagannathpur Police Station

M A Rashid, Special Correspondent: A case has been filed against five traffickers and an international human trafficking network following the deaths of five young men from Jagannathpur, Sunamganj, who died in the Mediterranean Sea while attempting to travel from Libya to Greece by boat. On Tuesday (31 March), the case was filed at Jagannathpur Police Station under the Human Trafficking and Fraud Act by Habibur Rahman, father of the deceased Aminur Rahman. According to police and family sources, in December and January, the victims—Aminur Rahman, Ijazul Haque Moni, Sayek Ahmed, Md. Ali Ahmed, and Naim Mia—left the country through brokers, lured by promises of a better life. Each paid between 1.1 to 1.3 million BDT. They were later placed on an unsafe rubber boat in Libya. After drifting at sea for 5–6 days without sufficient food and water, they died. It is alleged that, following instructions from traffickers, their bodies were thrown into the sea. Officer-in-Charge (OC) Shafiqul Islam of Jagannathpur Police Station stated that the case has been filed under the Prevention and Suppression of Human Trafficking Act and the Migrant Smuggling Prevention Ordinance 2026. Police operations are ongoing to arrest the absconding suspects and uncover the roots of the international trafficking network. The alleged ringleader of the trafficking group is an individual known by multiple names, including Motiur Rahman, Johny, Patwari, and Mithu. He is reportedly a resident of Noakhali, Bangladesh, and is currently living in East London. Serious allegations of human trafficking and immigration fraud have been raised against him. According to victims and related sources, he was involved in illegally transporting people from Libya to Greece, charging approximately 1.1 to 1.3 million BDT per person. It is also alleged that, during such journeys, several individuals—including youths from Sylhet—faced extreme inhumane conditions, suffering from severe shortages of food and water, leading to multiple deaths at sea. Further allegations state that proper safety measures were not ensured. Instead of large and safe vessels, small boats were used, and despite passengers’ objections, they were forcibly sent without adequate safety equipment. Additionally, there are accusations of fraud involving false promises of jobs in the United Kingdom. It is claimed that individuals were lured with offers of care worker visas and legitimate employment, but were instead provided with fake or invalid Certificates of Sponsorship (CoS). It should be noted that these are allegations and have not yet been proven in court. However, if proven, they would constitute serious crimes including human trafficking and immigration fraud, subject to strict legal action. Authorities urge anyone who falls victim to such exploitation or fraud to immediately contact the relevant law enforcement agencies.

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সচিব নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: বঞ্চিত কর্মকর্তারা, প্রভাব ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের প্রশাসনে সাম্প্রতিক সচিব নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—বরং এটি রূপ নিয়েছে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে। ২৫ মার্চ রাতে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৯ জন সচিব নিয়োগের পর থেকেই একের পর এক অসঙ্গতি, অভিযোগ ও অস্বচ্ছতার বিষয় সামনে আসছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, দ্রুতই আংশিক পিছু হটা নিয়োগের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ২৯ মার্চ তিনজন সচিবের বদলির আদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয় সরকার। একই সঙ্গে দুইজনের দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, “এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নজিরবিহীন”—যা প্রাথমিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বঞ্চিতদের তালিকা বড়, সুযোগ পেলেন মাত্র দু’জন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত অন্তত ৫২ জন কর্মকর্তার নাম উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনায় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক রেকর্ড না থাকা সত্ত্বেও তারা বারবার পদোন্নতি থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগে সেই তালিকা থেকে মাত্র দু’জন সচিব পদে উন্নীত হয়েছেন। এতে করে প্রশাসনের একটি বড় অংশ নিজেদের আবারও উপেক্ষিত মনে করছেন। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা ভেবেছিলাম এবার অন্তত যোগ্যতা ও বঞ্চনার ইতিহাস বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র।” ক্যাডার ভারসাম্যে ব্যতিক্রম, নাকি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত? নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন নিয়মিত সচিবের মধ্যে ২ জন ইকোনমিক ক্যাডার থেকে আসা—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা সাধারণত প্রকল্প পরিকল্পনা ও মূল্যায়নে দক্ষ হলেও মাঠ প্রশাসন বা বহুমাত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় তাদের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় পরিচালনায় তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একজন সাবেক সচিব বলেন, “এ ধরনের নিয়োগ ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু একে যদি প্রবণতা বানানো হয়, তাহলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।” রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: নিয়োগে কি প্রভাব ফেলেছে? নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ পূর্ববর্তী সরকারের সময় সুবিধাভোগী ছিলেন, আবার কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে অভিযোগ—তারা অতীতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সেই প্রেক্ষাপটে তাদের পদোন্নতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? ৯ জনের মধ্যে একজনকে চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী পেশাগত অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রক্রিয়াটি যদি অস্বচ্ছ হয়, তাহলে সেটি পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ’—কিন্তু কে দায় নেবে? জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদোন্নতিগুলো ‘উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা’ অনুযায়ী হয়েছে। তবে সেই নির্দেশনার উৎস, মানদণ্ড বা যাচাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এতে করে দায়বদ্ধতার প্রশ্ন সামনে আসছে—এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব আসলে কার? প্রশাসনের মনোবলে প্রভাব বিশ্লেষকরা বলছেন, পদোন্নতি ও নিয়োগে যদি স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা প্রশাসনের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত, তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে, যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। শেষ প্রশ্ন: সংস্কার নাকি পুনরাবৃত্তি? সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নিয়োগ সেই প্রত্যাশাকে কতটা পূরণ করেছে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভাষায়— “পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন কোথায়?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়..
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ: নিয়োগ, পদোন্নতি ও তথ্য ফাঁস নিয়ে উদ্বেগ

এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া,ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সিন্ডিকেট গঠন করে বিভিন্ন ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। অথচ ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ,শ্রমিক লীগকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ! থাকা সত্ত্বেও এ চক্র রয়েছে বহাল তবিয়তে।সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে থাকা আওয়ামীলীগের অনুসারীরা গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন তাদের মধ্যে এই চক্রের সদস্যরা অন্যতম। আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা বতর্মানেও ছাত্র জনতার মহান উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখনো সক্রিয় রয়েছেন। অথচ অদৃশ্য শক্তির বলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন এ সকল কর্মকর্তারা ।তাহার সুত্র ধরে বেরিয়ে আসে কিছু অকল্পনীয় তথ্য সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এক চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে বহাল থাকায় প্রশাসনিক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।সিনিয়র সচিবের দপ্তরে গঠিত সিন্ডিকেট চক্র। সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে কর্মরত মোঃ সাইফুল ইসলাম নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের অন্যতম হোতা। একটি অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহার করছে। সিন্ডিকেটের কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম - সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করা। বিদেশি পোস্টিং ও তদবির: মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিদেশি পোস্টিংয়ের সুযোগ পেতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদবির চালাচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা । গোপনীয় তথ্যের অবৈধ ব্যবহারে উদ্বেগ: সরকারের গোপনীয় তথ্য , গুরুত্বপূর্ণ নীতি সিদ্ধান্তের সময় এই সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের গোপন তথ্য অনিয়মিতভাবে বাহিরে পাঠায়। আওয়ামী আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাব:আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তারা চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই দপ্তরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে, সিনিয়র সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার গঠিত হয়েছে। তিনি একাধিক আত্মীয়কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নজরে সিন্ডিকেট গঠন করেন। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক দিয়েছে। তদন্ত সংস্থার কো-অর্ডিনেটর আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানান, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তদন্ত সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তথ্য নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, সিন্ডিকেটের কিছু সদস্য নির্বাচনী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে, যা সরকারকে বিভ্রান্ত করতে পারে। প্রশাসনিক দুর্নীতি ও দপ্তরের অসন্তোষ:মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা জানান, সিন্ডিকেটের কারণে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা দপ্তরের সম্পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির চালাচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে। একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সিন্ডিকেটের ক্ষমতা অব্যাহত থাকলে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। তারা বলছেন, এই ধরনের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা জরুরি। সিন্ডিকেটের সদস্যদের বহাল থাকার প্রভাবে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হচ্ছে।দপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। নির্বাচনী সময়ে প্রশাসনিক তথ্যের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে।বিদেশি পোস্টিং ও তদবিরে সিন্ডিকেটের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজস্ব তদবির ও প্রভাবের মাধ্যমে বিদেশি ভ্রমণ এবং পদোন্নতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ কর্মচারীরা হতাশার শিকার হচ্ছেন এবং দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার দেশীয় প্রশাসন এবং সরকারি স্বচ্ছতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, সিন্ডিকেটের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে, জরুরি ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও দপ্তরের তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।সিনিয়র সচিব দপ্তরে কর্মরত ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদেরকে যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ডেকেছে। তাই গোপনীয়তা রক্ষা ও নির্বাচনকালীন বিভিন্ন তথ্য ফ্যাসিস্ট দের হাতে না যায় তাই জরুরী ভিত্তিতে বদলি করা একান্ত প্রয়োজন।এখন তারা বিএনপি সেজে বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছে।উক্ত অভিযোগের এ সকল প্রমাণ পত্রসহ আরো অনেক প্রমাণ পত্র উক্ত অভিযোগ টিতে সংযুক্তি আকারে রয়েছে, উক্ত অভিযোগটির তদন্ত করলে সরষের ভিতর যে কত বড় ভূত রয়েছে তা বেরিয়ে আসবে।তাদের নিজ এলাকায় একাধিক ব‍্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীত সাথে জড়িত তার পরিবার। ছাত্র অবস্থায় আওয়ামী লীগের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা সত্য।একথা গুলো তার নিজ এলাকায় বিভিন্ন ব‍্যক্তির কাছ থেকে জানাযায়। আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয়। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক কর্মকর্তা বলেন বতর্মান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের সাথে সাথে তারা আওয়ামী লীগের শুর পরিবর্তন করে বিএনপির শুরে কথা বলে বিএনপি সাজার চেষ্টা করে সুবিধা নিয়ে সুবিধা জনক স্থান দখল করে নেন। নাম না প্রকাশের সত্ত্বে আরও এক কর্মকর্তা বলেন আওয়ামী লীগে বড় নেতাদের সাথে বতর্মানে ও কথা হয় বদলি হয়।মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য আওয়ামী লীগের কাছে দিয়ে থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাইফুল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল এদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
নাসিমা
রানা প্লাজা থেকে জীবিত উদ্ধার নাসিমা বেগম এবার পদ্মায় বাসডুবিতে নিহত

২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম (৪০) এবার আর ভাগ্য সহায় পেলেন না। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। গত ২৫ মার্চ বিকেলে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নাসিমা বেগমের সঙ্গে তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির চার বছরের সন্তান আব্দুর রহমানও নিহত হন। তবে ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। নাসিমার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে। শুক্রবার বাদ জুমা পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার সাভারে গিয়েছিলেন নাসিমা। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ঈদ উপলক্ষে ভাগনির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনার দিন বিকেলে বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আরও এক মর্মান্তিক দিক হলো—লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যা স্বজনদের শোককে আরও গভীর করে তোলে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধস-এর সময় সাভারের ওই ভবনে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকার পর ২৬ এপ্রিল জীবিত উদ্ধার হন তিনি। সে সময় দিনাজপুরে ফিরে আসা কয়েকজন জীবিত নারীর মধ্যে তার নাম ব্যাপক আলোচিত ছিল। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, নাসিমার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, “নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।” ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধস-এর সময় সাভারের ওই ভবনে কর্মরত ছিলেন নাসিমা বেগম। ভবন ধসের পর টানা ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২৬ এপ্রিল জীবিত উদ্ধার হন তিনি। সে সময় দিনাজপুরের কয়েকজন জীবিত উদ্ধার হওয়া নারীর মধ্যে তার নাম ছিল অন্যতম আলোচিত। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবারও ঢাকায় গিয়েছিলেন তিনি—কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর জীবিত ফেরা হলো না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
একাত্তরে যুদ্ধবন্দি ৯৩ হাজার পাকিস্তানি
একাত্তরে যুদ্ধবন্দি ৯৩ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দি: কেন ভারতে নেওয়া হয়েছিল, কেনইবা বিচার ছাড়াই ফেরত?

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকায় যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে প্রায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আত্মসমর্পণ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক আত্মসমর্পণের ঘটনা। এই বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবন্দিকে প্রথমে বাংলাদেশে রাখা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ভারতে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে নানা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ১৯৭৩-৭৪ সালের মধ্যে তাদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু কেন তাদের ভারতে নেওয়া হয়েছিল? আর কেনইবা বিচার না করেই ফেরত দেওয়া হলো?—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এই প্রতিবেদন। কারা ছিলেন এই যুদ্ধবন্দি? ৯৩ হাজার যুদ্ধবন্দির মধ্যে প্রায় ৮০ হাজারই ছিলেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্য। বাকি প্রায় ১৩ হাজার ছিলেন বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং তাদের পরিবারের সদস্য। উচ্চপদস্থদের মধ্যে ছিলেন: লে. জে. এ.এ.কে. নিয়াজী মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শরীফ এয়ার কমোডর ইনামুল হক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জামশেদ কেন ভারতে নেওয়া হয়েছিল? আত্মসমর্পণের পর বাংলাদেশ সরকার শুরুতে যুদ্ধাপরাধীদের দেশে রেখেই বিচার করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ১. যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমাবদ্ধতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত। খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা—সবকিছুরই ঘাটতি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ৯৩ হাজার বন্দির দায়িত্ব নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। ২. নিরাপত্তা ঝুঁকি পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও নির্যাতনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছিল। ফলে বন্দিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ৩. আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন আত্মসমর্পণের দলিল অনুযায়ী যুদ্ধবন্দিদের মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক ছিল। ভারত তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত ও সক্ষম হওয়ায় বন্দিদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়। ৪. ভারতের সামরিক নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি সেনাদের কার্যত ভারতের হেফাজতেই ধরা হয়, তাই তাদের ভারতে নেওয়া ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। কোথায় রাখা হয়েছিল? ভারতের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে তাদের রাখা হয়, যেমন: কলকাতা আগ্রা রাঁচি জব্বলপুর বিহারের বিভিন্ন এলাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা নিরাপত্তাবেষ্টিত ক্যাম্প ছিল। নিয়াজী নিজেও কলকাতা ও জব্বলপুরে বন্দি ছিলেন বলে তার স্মৃতিচারণে উল্লেখ আছে। কেন বিচার হয়নি? বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাইলেও কয়েকটি বড় কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ১. কূটনৈতিক চাপ পাকিস্তান শুরু থেকেই বন্দিদের ফেরত চেয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে। ২. শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি বাংলাদেশ শর্ত দেয়—পাকিস্তানে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি না দিলে কোনো আলোচনা নয়। ফলে যুদ্ধবন্দিরা এক ধরনের কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ৩. আঞ্চলিক রাজনীতি ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকে। সিমলা চুক্তি ও যুদ্ধবন্দি ইস্যু ১৯৭২ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে স্বাক্ষরিত সিমলা চুক্তি ছিল একটি বড় মোড়। এই চুক্তিতে: ভারত যুদ্ধবন্দিদের ফেরত দিতে সম্মত হয় পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অঙ্গীকার করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ তৈরি হয় দিল্লি চুক্তি: ফেরার পথ ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় দিল্লি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মূল সিদ্ধান্ত: ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধ অভিযুক্ত বাদে বাকিদের ফেরত আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানো বিহারি জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমঝোতায় ওই ১৯৫ জনকেও ফেরত পাঠানো হয়। শেষ অধ্যায় ১৯৭৪ সালের এপ্রিল মাসে সর্বশেষ যুদ্ধবন্দি হিসেবে জেনারেল নিয়াজীকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবন্দি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াগুলোর একটি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধবন্দিরা শুধু সামরিক পরাজয়ের প্রতীক ছিল না—তারা ছিল আঞ্চলিক রাজনীতি, কূটনীতি এবং রাষ্ট্রগঠনের জটিল বাস্তবতার অংশ। বিচার না হলেও, এই ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী ‘শক্ত হাতে’ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী? উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-এর সামরিক তৎপরতা, জাহাজে হামলা এবং সরাসরি হুমকির কারণে এই রুটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে—এই সংকটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভৌগোলিক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে ইরান? হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট লেন আরও সংকীর্ণ হওয়ায় এটি একটি “চোকপয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকীর্ণতার কারণে জাহাজের পক্ষে পথ পরিবর্তন বা আক্রমণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সহজ হয়ে যায়। ইরানের প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং পাহাড়ি ও দ্বীপঘেরা ভূপ্রকৃতি তাদের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গোপন রাখতে সাহায্য করছে। জাহাজগুলোর জন্য কী ধরনের হুমকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো— সামুদ্রিক মাইন ড্রোন হামলা ছোট দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বিস্ফোরক বোঝাই চালকহীন নৌকা এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক “কিল জোন” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্র কী করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজে নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া USS Tripoli সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক লাভ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রায় ২,০০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা সীমিত কিছু জাহাজ এখনো পারাপার করছে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সামনে কী হতে পারে? পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ— উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
লাইভ বেকারি
লাইভ বেকারির খাবারে দীর্ঘমেয়াদে রয়েছে ক্যান্সার ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

এবি সিদ্দীক ভুইয়া : লাইভ বেকারি বা তাৎক্ষণিক তৈরি বেকারি খাবার (যেমন কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট) তাজা মনে হলেও, এতে উচ্চমাত্রার চিনি, অস্বাস্থ্যকর ট্রান্স ফ্যাট, রিফাইন ময়দা (ময়দা) এবং অনেক সময় কাপড়ের রঙ ও মানহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়।এর ফলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।এছাড়াও, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরির কারণে পেট খারাপ বা ফুড পয়জনিং হতে পারে। রাজধানীসহ  সারা দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা শহর, উপজেলার শহরের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ নামে তাৎক্ষণিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির দোকান। কিন্তু এসব দোকানে মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভোক্তা টাটকা মনে করে পাউরুটি, বিস্কুট, টোস্ট, কেকসহ পণ্য কিনে খাচ্ছেন, কিন্তু স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কোনো তদারকি নেই। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লাইভ বেকারির সংখ্যা এত দ্রুত বেড়েছে যে আমরা এগুলোর হিসাব রাখতে পারছি না। কেউ কোনো ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উৎপাদন শুরু করছে। আমরা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এতগুলো প্রতিষ্ঠান একবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের লোকবলও সীমিত, তাই যতটা কাজ করা দরকার, ততটাই করতে পারছি।’ অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা গড়া যায় বলে রাজধানীতে লাইভ বেকারির সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। মুগদা থানাধীন পূর্ব মানিকনগরের ঢোকার মুখ থেকে খালপাড় নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৮০০ মিটার জুড়ে ৫টি লাইভ বেকারি দেখা যায়। শুধু মানিকনগর নয়, রাজধানীর কমলাপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, মোহাম্মদপুরসহ প্রায় সব এলাকার বাজার, পাড়া-মহল্লায় শত শত লাইভ বেকারি গড়ে উঠেছে। ছোট একটি দোকানে ওভেন, মিক্সচার মেশিন, ট্রে টেবিল ও কিছু আসবাব বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, পেটিস, টোস্ট, মিষ্টিসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। ঝিগাতলার সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন ‘বেকার্স বে’ লাইভ বেকারি থেকে দুটি চিজ রোল ও একটি চিকেন রোল কিনে ফিরছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় খাদ্যপণ্য কিনি স্বাদ দেখে। কীভাবে মান যাচাই করব, তা জানি না। যে চিজ রোল আমি ৪০ টাকায় কিনেছি, ভালো কোনো দোকানে গেলে ৭০–৮০ টাকা লাগবে।’ পূর্ব মানিকনগরের খালিস বেকারির মালিক মো. জুবায়ের বলেন, ‘ভালো লাভের আশায় আরেক বেকারির মালিক আমাকে এই ব্যবসায় নামিয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি। দেড় বছর আগে শুরু করেছিলাম, তখন কিছু লাভ হতো। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে আশপাশে বেকারির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, এখন লোকসানে আছি।’ প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কারখানা স্থাপন করতে হয়। তারপর নমুনা পণ্য উৎপাদন করে মান সনদের জন্য বিএসটিআইতে জমা দিতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প-নকশা বা ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত ফটোকপি, ভ্যাট সনদ, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মচারীর স্বাস্থ্য সনদ, পণ্যের মোড়কের নকশার কাগজ। জানাতে হয় কালার, ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ, আর্টিফিশিয়াল সুইটনারসহ পণ্যের উপকরণ। পরীক্ষণের যন্ত্রপাতির তালিকা, কারখানার যন্ত্রপাতি, লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্টও দিতে হয়। এরপর পরিদর্শকরা কারখানা পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হলে মান সনদ দেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা শুরু করেন, কেউ নেই। সিংহভাগের কারখানিতে মানসনদ নেই। কারিগরদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও স্যানিটেশন সনদও নেই। বুয়েটের ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৬৭ শতাংশ পাউরুটিতে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পটাশিয়াম ব্রোমেট রয়েছে, যা পাউরুটি ফোলাতে ব্যবহার হয়। এছাড়া বেকারি পণ্যে কাঁচামাল আটার সঙ্গে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট, কৃত্রিম রং ও সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহৃত হচ্ছে। রাজধানীতে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই। বিএসটিআই বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র ২৭টির মান সনদ রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবিবুল আলম বলেন, ‘এসব ট্রেড লাইসেন্স করপোরেশনের জোনগুলো থেকে দেওয়া হয়। কতটি লাইসেন্স হয়েছে, তা আমাদের কাছে নেই। বরিশালের অলিগলিতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছেও নেই  কোনো তালিকা। বরিশালে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই তালিকা । বরিশালের বিএসটিআই কর্মকর্তা বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র কয়েকটির সনদ রয়েছে। কিন্তু লাইভ বেকারি সনদ আমরা দেইনি। লাইভ বেকারি খাবার খাওয়ার প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিচে দেওয়া হলো: ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগ: অতিরিক্ত চিনি এবং হাইড্রোজেনেটেড তেল বা ট্রান্স ফ্যাট শরীরের মেদ বাড়ায় এবং হার্টের রোগ তৈরি করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি: খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ, কাপড়ের রঙ, এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বেকিংয়ের ফলে এক্রিলামাইড (Acrylamide) নামক ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং যকৃতের সমস্যা তৈরি করে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: স্থানীয় অনেক লাইভ বেকারি অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করে, যা পেটের পীড়া বা গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে। পুষ্টিহীনতা: এই খাবারগুলোতে প্রয়োজনীয় ফাইবার বা পুষ্টি থাকে না, যা শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। সতর্কতা: নিয়মিত বা প্রতিদিন বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত বেকারির খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, মানহীন এসব পণ্যে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। যারা আইন মেনে উৎপাদন করবে না, তাদের ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। দু-একটি বন্ধ করলে বাকিগুলোও ঠিক হয়ে যেত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জে. মামুন খালেদের দুর্নীতি
মামুন খালেদের উত্থান ও বিতর্ক: ডিজিএফআই, আয়নাঘর ও গুম অভিযোগের অন্তরালে

ঢাকা: বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এক সময় আলোচিত নাম শেখ মামুন খালেদ। বিশেষ করে ২০১১ থেকে ২০১৩ সময়কালে তিনি ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্ক, অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। ক্ষমতার উত্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় থেকে তার উত্থান শুরু হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। সে সময় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তিনি দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন। তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালের মার্চে তাকে ডিজিএফআই থেকে সরিয়ে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) পদে পাঠানো হয়। এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সরাতে অনাগ্রহী ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। আয়নাঘর ও গুমের অভিযোগ তার দায়িত্বকালেই ‘আয়নাঘর’ নামে কথিত গোপন বন্দিশালা এবং গুম-খুনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত কোনো বিচারিক রায় নেই, তবুও রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। গণমাধ্যম দমন ও সম্পাদক গ্রেফতার ২০১১ সালে শীর্ষনিউজ ডটকমের সম্পাদক একরামুল হককে গ্রেফতারের ঘটনায়ও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার, জেলগেটে পুনরায় আটক, এমনকি কারাগারে সাক্ষাৎ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ-এর নামও এ ঘটনায় আলোচনায় আসে, তবে মূল ভূমিকা মামুন খালেদের ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। জামিনে মুক্তির পরও সম্পাদককে হুমকি দেওয়া হয় এবং তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করা হয়। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও হুমকি ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট শীর্ষনিউজে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে জানা যায়। এমনকি সম্পাদক পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে, যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেওয়া হয়। আর্থিক অনিয়ম ও ব্যবসায়িক অভিযোগ বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি শেয়ারবাজার, ভিওআইপি ব্যবসা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে আর্মি হাউজিং সোসাইটি (এএইচএস) প্রকল্পে সেনা কর্মকর্তাদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আলোচিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শত কোটি টাকার লেনদেন ও আত্মীয়স্বজনের নামে কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে। দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজ অবস্থান শক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত অবস্থানই তাকে দীর্ঘ সময় প্রভাবশালী অবস্থানে থাকতে সহায়তা করে। শেখ মামুন খালেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ, বিতর্ক ও আলোচনা চলমান। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে আসেনি। ফলে তার ভূমিকা নিয়ে মতবিরোধ আজও বিদ্যমান—একদিকে কেউ তাকে কৌশলী কর্মকর্তা হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকরা তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ডিজিটাল সালামি
ঈদ সালামিতে বদলের হাওয়া: নগদ থেকে ডিজিটাল

ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, মিলনমেলা এবং ছোটদের জন্য অধীর অপেক্ষার একটি মুহূর্ত—সালামি পাওয়া। বহুদিন ধরে আমাদের সমাজে ঈদের দিন ছোটরা বড়দের সালাম করে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে অর্থ বা উপহার পেয়ে থাকে, যা পরিচিত ‘ঈদ সালামি’ বা ‘ঈদিয়া’ নামে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী রীতিতেও এসেছে পরিবর্তন। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নগদ টাকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল সালামি’ দেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।  প্রযুক্তির প্রভাবে বদলে যাচ্ছে সালামি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। অনেকেই এখন ফেসবুক স্ট্যাটাস, মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সালামি চান। অন্যদিকে বড়রাও বিকাশ, রকেট, নগদ বা উপায়-এর মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে মুহূর্তেই সালামি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রযুক্তির বিস্তার দূরত্ব কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রবাসে থাকা স্বজনদের কাছ থেকে সালামি পাওয়া কঠিন ছিল, এখন তা কয়েক সেকেন্ডের বিষয়।  মহামারির পর ডিজিটাল লেনদেনের উত্থান বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে। তবে ২০১৫ সালের পর এর ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল লেনদেন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সময় থেকেই পারিবারিক আর্থিক লেনদেনেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়—যার প্রভাব এখন ঈদের সালামিতেও স্পষ্ট। এক শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “ডিজিটাল সালামি সহজ এবং নিরাপদ। তবে নতুন টাকার যে অনুভূতি ছিল, সেটা এখন আর পাওয়া যায় না।”  নতুন টাকার সংকট, বাড়ছে বিকল্প ঈদ এলেই নতুন নোটের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি, ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান: ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৫০ টাকা ২০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৫০ টাকা ১০০ টাকার বান্ডিলে অতিরিক্ত ৭০০–৮০০ টাকা পর্যন্ত বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোট ছাপাতে উচ্চ ব্যয় এবং ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতিই এর পেছনে কাজ করছে।  সালামি আদায়ে নতুন কৌশল ঈদে সালামি পাওয়ার জন্য তরুণদের মধ্যে নানা কৌশল দেখা যায়। আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে সালাম ঈদের নামাজ শেষে বড়দের সঙ্গে দেখা দলবদ্ধভাবে সালামি সংগ্রহ অফিস সংস্কৃতিতেও রয়েছে আলাদা রীতি—ছুটির আগে কনিষ্ঠরা অগ্রজদের কাছ থেকে সালামি নেন।  নতুন ট্রেন্ড: ‘সালামি তোড়া’ ঐতিহ্যবাহী সালামির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ট্রেন্ড—টাকার নোট দিয়ে তৈরি ফুলের তোড়া। অনলাইন উদ্যোক্তারা বলছেন: মেকিং চার্জ: ৩০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা নোটের পরিমাণ ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে খরচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।  ইতিহাসে ঈদের শিকড় ঈদের দিনে উপহার দেওয়ার প্রথা নতুন নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ‘ঈদিয়া’ প্রথার সূচনা মিসরের ফাতেমীয় আমলে (দশম শতক)। সে সময় শাসকরা: সাধারণ মানুষকে অর্থ ও কাপড় দিতেন শিশুদের উপহার দেওয়া হতো ধীরে ধীরে এটি মুসলিম সমাজে সাংস্কৃতিক রীতিতে পরিণত হয়। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আলেমদের মতে, ঈদ সালামি ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়, তবে বৈধ। একজন আলেমের ভাষায়: এটি ইবাদত নয়, সামাজিক প্রথা উপহার আদান-প্রদান ভালোবাসা বাড়ায় ছোটদের আনন্দ দেওয়া একটি প্রশংসনীয় কাজ  ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির সহাবস্থান বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে রীতির পরিবর্তন স্বাভাবিক। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, ফলে ঐতিহ্যের প্রকাশভঙ্গিও বদলাচ্ছে। এক সময় নতুন টাকার গন্ধ ছিল সালামির আকর্ষণ। এখন সেই জায়গায় এসেছে ডিজিটাল লেনদেন—তবে মূল চেতনা একই: 👉 ভালোবাসা ভাগাভাগি 👉 সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করা   সময়ের সঙ্গে সালামির ধরন বদলাচ্ছে—নগদ থেকে ডিজিটাল, খাম থেকে মোবাইল অ্যাপ, এমনকি টাকার তোড়া পর্যন্ত। তবে ঈদের আসল সৌন্দর্য এখনও এক জায়গায় অটুট— প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
মোমেনশাহী এতিমখানা
বাবা নেই, মা রেখে গেছেন মোমেনশাহী এতিমখানায়

বিশেষ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ শহরের ব্যস্ততার মাঝেই নীরবে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন—মোমেনশাহী এতিমখানা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি আবাসিক স্থাপনা মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প, যন্ত্রণার স্তর, আর কিছু ক্ষণিকের হাসির ঝলক। ঈদ—যে উৎসব ঘিরে দেশের অধিকাংশ শিশু নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ আর উপহারের অপেক্ষায় থাকে—সেই একই ঈদ এখানে অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায় শিশুদের। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ছয় বছর বয়সী জান্নাত, দশ বছরের শ্রাবন্তীসহ ৪৫ জন কন্যাশিশুর জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা এবং তাদের ছোট ছোট আনন্দের গল্প। “ঈদ এলে খুব মনে পড়ে মা-বাবার কথা” ছোট্ট জান্নাত কথা বলছিল ধীর কণ্ঠে, কিন্তু তার প্রতিটি শব্দ যেন ভারী হয়ে উঠছিল। চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে সে। দুই বছর আগে মা দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে মা আর ফিরে আসেননি। জান্নাত বলছিল— “এখন কেউ আমার খোঁজ নেয় না। ঈদ এলে খুব বেশি মনে পড়ে মা-বাবার কথা। কিন্তু কী করবো...” তার কথার মাঝেই থেমে যাওয়া, চোখের কোণে জল জমে ওঠা—এসব দৃশ্য যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে এই এতিমখানার দেয়ালগুলো। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতার দীর্ঘ ছায়া বাংলাদেশে এতিম বা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সংখ্যা নিয়ে নির্ভুল পরিসংখ্যান না থাকলেও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য বলছে—লক্ষাধিক শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বড় হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতার কারণগুলো নানা রকম: পিতামাতার মৃত্যু দারিদ্র্য পুনর্বিবাহ কর্মসংস্থানের জন্য দূরে চলে যাওয়া সামাজিক নিরাপত্তার অভাব জান্নাতের গল্পে যেমন দেখা যায়—বাবার মৃত্যু এবং মায়ের পুনর্বিবাহ তাকে ঠেলে দিয়েছে এতিমখানার জীবনে। “ঈদ মানেই মা আসবে”—শ্রাবন্তীর অপেক্ষা জান্নাতের গল্পের বিপরীতে কিছুটা আলাদা বাস্তবতা শ্রাবন্তীর। তার বাবা পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন, কিন্তু জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। বছরে একবার—ঈদের সময়—মেয়ে দেখতে আসেন। শ্রাবন্তী বলছিল— “সারা বছর তো মাকে কাছে পাই না। ঈদ আসলেই আমার কাছে আসে। তখন খুব ভালো লাগে।” তার জন্য ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়—মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার একমাত্র সুযোগ। একই ছাদের নিচে ভিন্ন ভিন্ন গল্প মোমেনশাহী এতিমখানার প্রতিটি শিশুর গল্প আলাদা হলেও তাদের যন্ত্রণার মূল সুর এক: কেউ বাবাকে হারিয়েছে কেউ মাকে হারিয়েছে কেউ দুজনকেই হারিয়েছে আবার কেউ বেঁচে থাকা বাবা-মার কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন এই বৈচিত্র্যের মধ্যেও একটি সাধারণ বিষয়—নিরাপত্তা ও ভালোবাসার ঘাটতি। ঈদের আনন্দ: সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চেষ্টা ঈদ উপলক্ষে এতিমখানায় কিছুটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। এই বছর: প্রত্যেক শিশুকে দুটি করে নতুন জামা দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবীরা এসে মেহেদি পরিয়েছেন বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে ঈদের দিনের মেন্যুতে ছিল: সকালের নাশতায় সেমাই, নুডলস ও চিপস দুপুরে গরুর মাংস, মুরগির রোস্ট, পোলাও ও দই রাতে ভাত, মুরগির মাংস ও ডাল এই আয়োজনগুলো শিশুদের জন্য আনন্দের হলেও, তা পরিবারিক ঈদের অভাব পূরণ করতে পারে না। স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা: ক্ষণিকের হাসি স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা এসে শিশুদের হাতে মেহেদি পরিয়ে দিয়েছেন। এই ধরনের উদ্যোগ: শিশুদের মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেয় সামাজিক সংযোগ তৈরি করে উৎসবের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে স্বেচ্ছাসেবী নাফিসা আক্তার বলছিলেন— “আমরা চাই তারা যেন অন্তত ঈদের দিনটা আনন্দে কাটাতে পারে।” অর্থায়নের সংকট: টিকে থাকার লড়াই এতিমখানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তা প্রায় নেই বললেই চলে। মূল সমস্যা: নিয়মিত অর্থায়নের অভাব খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ শিক্ষার খরচ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এতিমখানাটি মূলত চলে: সমাজের বিত্তবানদের অনুদানে স্থানীয় সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য: অদৃশ্য সংকট বিশেষজ্ঞদের মতে, এতিম শিশুদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু আর্থিক নয়—মানসিক। সম্ভাব্য প্রভাব: নিরাপত্তাহীনতা আত্মবিশ্বাসের অভাব আবেগগত বিচ্ছিন্নতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ জান্নাতের মতো শিশুরা খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। শিক্ষা: ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা এই এতিমখানার শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে—এটি তাদের জন্য বড় একটি সম্ভাবনা। শিক্ষা তাদের জন্য: দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার পথ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যম তবে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা উচ্চশিক্ষার সুযোগ ক্যারিয়ার গাইডেন্স সমাজের ভূমিকা: সহানুভূতি থেকে দায়িত্বে এই শিশুদের জীবনে পরিবর্তন আনতে শুধু সহানুভূতি যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন দায়িত্ববোধ। সমাজের বিভিন্ন স্তর ভূমিকা রাখতে পারে: ব্যক্তি: নিয়মিত অনুদান, সময় দেওয়া কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান: CSR কার্যক্রম সরকার: নীতিমালা ও অর্থায়ন এনজিও: দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মসূচি নীতিগত প্রশ্ন: কোথায় রাষ্ট্র? বাংলাদেশে এতিম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিভিন্ন নীতি থাকলেও বাস্তবায়ন প্রায়ই দুর্বল। প্রশ্নগুলো থেকেই যায়: কেন নিয়মিত সরকারি সহায়তা নেই? কেন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই? কেন এতিমখানাগুলোকে টেকসই করা হচ্ছে না? ঈদ: আনন্দ না বেদনার স্মৃতি? সাধারণ মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের প্রতীক হলেও, জান্নাতদের কাছে এটি অনেক সময় বেদনার স্মৃতি। কারণ: পরিবারহীনতা স্মৃতির ভার অন্যদের আনন্দ দেখে নিজের অভাব অনুভব তবুও তারা হাসে, খেলাধুলা করে, নতুন জামা পরে—কারণ সেটুকুই তাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতের প্রশ্ন এই শিশুদের ভবিষ্যৎ কী? যদি: পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকে মানসিক সমর্থন না মেলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে তারা আবার দারিদ্র্যের চক্রেই আটকে যেতে পারে। আশার আলো সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক আছে: শিক্ষার সুযোগ সামাজিক উদ্যোগ স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ এই উদ্যোগগুলো যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে পরিবর্তন সম্ভব।  জান্নাতদের জন্য কী করতে পারি আমরা? জান্নাতের প্রশ্ন—“আমার খোঁজ নেয় কে?”—শুধু একটি শিশুর নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি প্রশ্ন। আমরা কি পারি না— তাদের পাশে দাঁড়াতে? নিয়মিত সহায়তা নিশ্চিত করতে? তাদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে? ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন জান্নাতদের চোখেও সেই আনন্দের প্রতিফলন দেখা যাবে—শুধু নতুন জামায় নয়, ভালোবাসায়, নিরাপত্তায় এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
দ্বীপপুঞ্জ
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি, উপসাগরে কি নতুন সংঘাতের সূচনা?

  পারস্য উপসাগরের কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও তীব্র হয়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই হুঁশিয়ারি শুধু দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ইঙ্গিতই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।  কী ঘটেছে? ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত আবু মুসা এবং গ্রেটার তুনব দ্বীপের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী: সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয়, তাহলে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে। এই হুঁশিয়ারিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রাস আল খাইমাহ অঞ্চলের কথা, যা আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।  বিতর্কিত দ্বীপ: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আবু মুসা ও গ্রেটার তুনব—এই দুটি দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্র। মূল তথ্য: বর্তমানে দ্বীপগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে আমিরাত এগুলোর মালিকানা দাবি করে অবস্থান: হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ এই দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ: 👉 বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয় 👉 আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 👉 সামরিক নিয়ন্ত্রণ মানে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার আঞ্চলিক যুদ্ধ: উত্তেজনার পেছনের বড় কারণ এই উত্তেজনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ: উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে মার্কিন বাহিনী সেখান থেকে হামলা চালাচ্ছে এসব দেশের ভেতরে “মার্কিন স্বার্থ” লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে ইরান ইতোমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে দাবি করছে।  হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কেন গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্বালানি নির্ভরতা বিকল্প রুট প্রায় নেই বললেই চলে যদি এই রুটে বিঘ্ন ঘটে: তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে  তেল বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। আমিরাতের অবস্থান: দ্বিধায় কূটনীতি সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন একটি জটিল অবস্থানে রয়েছে। একদিকে: তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ অন্যদিকে: ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের যেকোনো সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সামরিক ভারসাম্য: কার হাতে কত শক্তি? ইরান: শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক আমিরাত: আধুনিক পশ্চিমা অস্ত্র উন্নত বিমান বাহিনী আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা তবে সরাসরি সংঘাতে ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।  বিশ্লেষণ: কেন এখন এই হুঁশিয়ারি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বার্তা তিনটি উদ্দেশ্যে দেওয়া: ভয় প্রদর্শন (Deterrence) আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করা মার্কিন প্রভাব কমানো এটি মূলত একটি কৌশলগত বার্তা—যুদ্ধের আগেই প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা।  সামনে কী হতে পারে? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট: ১. সীমিত সংঘাত ছোট আকারের হামলা ও পাল্টা হামলা ২. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমিত ৩. বৃহত্তর যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া   হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তেজনা কেবল দুই দেশের বিরোধ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই উত্তেজনা কি কূটনীতির মাধ্যমে থামবে, নাকি নতুন এক সংঘাতের সূচনা করবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ফ্লাইট
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আকাশে হাজারো ফ্লাইট বাতিল, বিপর্যস্ত বৈশ্বিক বিমান চলাচল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক বিমান চলাচলে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে দেখা দিচ্ছে ‘ফ্লাইটস টু নো-হোয়ার’ বা গন্তব্যে না পৌঁছে মাঝ আকাশ থেকে ফিরে আসা ফ্লাইটের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমিরেটস-এর লন্ডন থেকে দুবাইগামী ফ্লাইট ইকে১০ সৌদি আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় গন্তব্যে ড্রোন হামলার খবর পেয়ে হঠাৎ ফিরে যায়। শেষ পর্যন্ত এটি ৯ হাজার ১০০ কিলোমিটারের বেশি ‘গন্তব্যহীন’ যাত্রা সম্পন্ন করে আবার গ্যাটউইকে অবতরণ করে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের। একইভাবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোন হামলার কারণে অন্তত ৩০টি ফ্লাইট মাঝপথে ঘুরে যেতে বা বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়। যাত্রীরা ভেবেছিলেন ভোরে দুবাই পৌঁছাবেন, কিন্তু বাস্তবে তারা ফিরে যান যাত্রার শুরুর বিমানবন্দরে বা অন্য শহরে। বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের ‘গন্তব্যহীন ফ্লাইট’-এর সংখ্যা বেড়েছে। উপসাগরীয় আকাশসীমার বড় অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আঞ্চলিক বিমান চলাচল প্রায় শূন্যে নেমে আসে। কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ এয়ারওয়েজসসহ বড় এয়ারলাইনগুলো আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু করলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতায় হঠাৎ রুট পরিবর্তন এখনও ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৩০ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে এমিরেটস একাই দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্থিরতা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং বৈশ্বিক বিমান শিল্প ও অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
আমতলী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স
মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: আমতলীতে ভুয়া হিসাব, জাল প্রোফাইল ও ব্যাংক জালিয়াতির তদন্ত

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার নামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ভুয়া হিসাব ও জালিয়াতির বিস্তৃত চক্র চার বছরে নিঃশব্দে অর্থ উত্তোলন, সামনে এলো বড় ধরনের অনিয়ম বরগুনা: বরগুনার আমতলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার বছরে অনুমোদনবিহীন একাধিক ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ৯১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী তোফাজ্জেল হোসেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—একটি চক্রের সহায়তায় ভুয়া হিসাব খুলে এবং জাল প্রোফাইল ব্যবহার করে এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে ঘটেছে জালিয়াতি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা নির্দিষ্ট পে-রোল তালিকা অনুযায়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বিতরণ কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং— অনুমোদন ছাড়া একাধিক ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়েছে নিয়মিতভাবে সেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে একাধিক শাখা ব্যবহার করা হয়েছে লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত শাখাগুলোর মধ্যে রয়েছে আমতলী, বরগুনা কোর্টবিল্ডিং, বরিশাল চকবাজার এবং কলেজ রোড শাখা।   একাধিক ভুয়া ও অননুমোদিত হিসাব অনুসন্ধানে জানা যায়, তোফাজ্জেল হোসেনের নামে আমতলী শাখায় একাধিক হিসাব খোলা হয়। এর মধ্যে— একটি বৈধ সঞ্চয়ী হিসাব একটি এমডিএস (ডিগিএস) হিসাব দুটি অননুমোদিত সঞ্চয়ী হিসাব শুধু তাই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের নামেও হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে: স্ত্রী শাহানারা কাজলের নামে একটি হিসাব বোন লুৎফা বেগমের নামে একটি হিসাব এসব হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার অর্থ জমা হয়ে পরে তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়া প্রোফাইলের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। মোট ৪০টি মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে— ১৪টি সম্পূর্ণ ভুয়া ২০টি হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ঋণ জালিয়াতিও যুক্ত শুধু ভাতা নয়, জালিয়াতির পরিধি আরও বিস্তৃত। তদন্তে দেখা গেছে— তিনটি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রোফাইলের বিপরীতে ঋণ নেওয়া হয়েছে ফরিদা বেগম, চম্পা ও রুনু নামের ভুয়া ব্যক্তিদের নামে মোট ২৪ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এতে বোঝা যায়, জালিয়াতির চক্রটি শুধু ভাতা আত্মসাৎ নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বহুমুখী অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ব্যাংকের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আসে। লিখিত বক্তব্যে তোফাজ্জেল হোসেন নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তির সহযোগিতায় এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন: তিনি কি সত্যিই মুক্তিযোদ্ধা? তোফাজ্জেল হোসেন ২০০৯ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধার দাবি— মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স খুবই কম ছিল তিনি কোনো যুদ্ধে অংশ নেননি এতে তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাদের অজান্তেই অন্যদের হিসাবে টাকা চলে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন: “খালেদা বেগম ও তহমিনা ইউনুস নামে কাউকে আমি চিনি না। অথচ আমার ভাতার টাকা তাদের হিসাবে গেল—এটা কীভাবে সম্ভব, বুঝতে পারছি না।” পরিবারের অস্বীকার অভিযুক্তের স্ত্রী শাহানারা কাজল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি— তিনি কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না কোনো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন পুরো বিষয়টি ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের কাজ তার ভাষায়: “আমার স্বামীকে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।” ব্যাংক কর্মকর্তাদের অবস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল পয়েন্ট: অস্বাভাবিক লেনদেন ২০২৪ সালের শেষ দিকে ধরা পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় প্রধান কার্যালয়ের বিশেষ তদন্ত দল নামে একজন সাবেক ব্যবস্থাপক জানান, অনুমোদনহীন লেনদেনের কারণে কিছু হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ভাতা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হলে ব্যাংকের পক্ষে সব ক্ষেত্রে তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আংশিক টাকা ফেরত তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ২২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো বড় অংশের অর্থ উদ্ধার হয়নি। প্রশ্নগুলো বড় এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: ১. কীভাবে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি হলো? সরকারি তালিকায় কীভাবে ১৪টি ভুয়া নাম যুক্ত হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ২. ব্যাংকের ভেতরে সহযোগিতা ছিল কি? একাধিক শাখায় লেনদেন হওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। ৩. কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদারকি কোথায় ছিল? বিএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হলেও যাচাই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পদ্ধতিগত ত্রুটি বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, বরং একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার উদাহরণ। সম্ভাব্য দুর্বলতা: ডিজিটাল যাচাইয়ের অভাব প্রোফাইল যাচাইয়ে শৈথিল্য ব্যাংকিং নজরদারির ঘাটতি স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী চক্রের দাপট তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ ব্যাংকের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে— দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্ত করা হবে অর্থ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালানো হবে বৃহত্তর প্রভাব মুক্তিযোদ্ধা ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এই ধরনের জালিয়াতি— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমায় দুর্নীতির নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে   আমতলীর এই ঘটনা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটকে সামনে এনেছে। কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগঠিত এই জালিয়াতি দেখিয়ে দিয়েছে, যথাযথ তদারকি না থাকলে রাষ্ট্রীয় সহায়তা কর্মসূচি কত সহজেই অপব্যবহৃত হতে পারে। এখন নজর সবার—তদন্ত কতদূর এগোয়, দায়ীদের কী শাস্তি হয়, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পান কিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী
দুর্নীতি মামলায় কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তিন মামলা এবং  সরকারি কর্মচারী বিধিমালায় বিভাগীয় মামলা দায়েরের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথীকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার (১৬ মার্চ) এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, উপকর কমিশনার তানজিনা সাথী বর্তমানে কর অঞ্চল-ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের মামলার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাঁকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ জারি করে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন তানজিনা সাথী বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নিজ ও তার বাবা-মা’র নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার‌্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। মামলার অপর আসামিরা হলেন তার বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রাণী বিলকিস।   কর কর্মকর্তার সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাহাড়; ফাঁসালেন বাবা-মাকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কর আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু কর আদায়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনভাবে দুর্নীতির কালো টাকা আড়াল করতে ব্যবহার করেছেন নিজের জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মাকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে আটকা পড়েছেন তিনিসহ তার পরিবার। নিজ ও তার বাবা-মার নামে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে মামলার আসামি হয়েছেন তারা। সম্পদ কম দেখিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেই তিনি বৃদ্ধ বাবা-মাকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ফাঁসালেন তাদের। গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেখানে তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিনা সাথীর বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেন নাই তিনি। একইভাবে তার মা রাণী বিলকিসের নামে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। দুদকের প্রতিবেদন বলছে, এই বৃদ্ধ দম্পতির নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস ছিল না, মূলত মেয়ের দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই তারা আয়কর নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ আয়কর নথি মেয়ে তানজিনা সাথী তৈরি করেছেন দুর্নীতির টাকা আড়াল করতে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি নিজের নামেও কম সম্পদ করেননি এই কর কর্মকর্তা। রাজধানীসহ মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হদিস পেয়েছে দুদক। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬৬ হাজার ৯৪ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সব মিলিয়ে এই পরিবারের মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের কারণে তানজিনা সাথী ও তার বাবা-মা দুদকের মামলার আসামি। তিন মামলার এজাহার যা বলছে সহকারী কর কমিশনার হিসাবে মোসা. তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এর কর সার্কেল-১৩৭ ও ১৪২ এবং কর অঞ্চল-৯ এর কর সার্কেল-১৮১ কর্তব্যরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এমন অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানকালে তানজিনা সাথীর নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। সব মিলিয়ে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেখানে ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় আমলে নিলে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯২ টাকা। যার বিপরীতে তিনি ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৮ টাকার সম্পদের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ দেখাতে সমর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৬৫ হাজার ৯৪ টাকার। যে কারণে প্রথম মামলার আসামি হয়েছেন। অন্যদিকে, তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের প্রমাণ পায় দুদক। মূলত মেয়ে তানজিনা সাথী অবৈধ টাকাকে বৈধ করার লক্ষ্যে তার বাবার নাম ব্যবহার করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকার এবং অস্থাবর সম্পদ অর্থাৎ নগদ অর্থের প্রমাণ পায় দুদক। ২০০২-০৩ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে আয়কর নথিতে ব্যয় দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ টাকা। সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদের মধ্যে বৈধ উৎস দেখাতে পেরেছেন মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৪১ টাকা। বাকিটুকু জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদক প্রমাণ পেয়েছে। আর ওই সম্পদ তার কন্যা তানজিনা সাথীর ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা বৈধ করার চেষ্টা করেছেন। এই মামলায় বাবার পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে। অনুরূপভাবে গৃহিণী মা মোসা. রাণী বিলকিসের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। নিজের অবৈধ আয়কে বৈধ করার লক্ষ্যে তার মায়ের নামে ওই সম্পদ গড়ার অপরাধে মায়ের পাশাপাশি মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে তৃতীয় মামলায়। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।   তথ্য গোপন করে চাকরি :   ৩৬ বিসিএসের রাজস্ব কর্মকর্তা তানজিনা সাথী। এনআইডিতে তার স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের বাকেরগঞ্জ। কিন্তু বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি নেওয়ার সময় তিনি স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন বরগুনা জেলায়। এটি স্পষ্টতই তথ্য গোপন করার শামিল, যা তার চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি দণ্ডনীয় অপরাধও বটে। শুধু তাই নয়, কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিপ্রাপ্তির তিন বছর পর তিনি তার মা-বাবার নামে টিন সনদ করিয়েছেন, যেখানে তাদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছে। অথচ তার মা গৃহিণী ও বৃদ্ধ বাবার দৃশ্যমান কোনো রোজগার নেই এবং এত এত অর্থকড়ির মালিক যারা (মা-বাবা), তিন বছর আগেও তারা করের তালিকাভুক্তই ছিলেন না। উপরন্তু, বিসিএস একই ব্যাচের (পুলিশ) আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে তানজিনার ছিল খুবই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তানজিনা এই মর্মে মামলা ঠুকে দিয়েছেন যে, তিনি সেই কর্মকর্তার কাছে তিন কোটি টাকারও বেশি পাওনা আছেন। এখানেই শেষ নয়। তানজিনা থাকেন মালিবাগে। তার অফিস টাঙ্গাইলে। বরাবরই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অফিস ফাঁকি দেওয়ার। দিনের পর দিন ভোগান্তির পর সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এ বিষয়ে তানজিনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে। এ নোটিশের জবাবও তিনি যথাসময়ে দেননি। এমন পরিস্থিতিতেও তানজিনা সাথীকে সম্প্রতি বরং পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, তানজিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ জমা পড়েছে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা কামানোর, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে অনুসন্ধান পর্ব।   জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মোসা. তানজিনা সাথীর বাবার নাম মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিক, মাতা- মোসা. রানী বিলকিস। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম- মধ্য নেয়ামতি, পোস্ট- নেয়ামতি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল। বাবা, মায়ের এনআইডিতেও একই ঠিকানা। তবে বাংলাদেশ কর্মকমিশন থেকে প্রকাশিত গেজেটে তার নামের পাশে নিজ জেলার ঘরে লেখা বরগুনা। এদিকে বিসিএসে যোগদানের আগে তিনি সোনালী ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেখানেও স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তার ভাই মাহফুজুর রহমানের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে বাকেরগঞ্জ দেখানো হয়েছে। আপন ভাইবোনের স্থায়ী ঠিকানায় ভিন্নতা বিস্ময়করই বটে! এদিকে চাকরির আবেদনে তিনি নিজেকে সিঙ্গল দাবি করেছেন। অথচ বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের আগে তিনি মো. শফিকুল ইসলাম নামের একজনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কাবিননামার তথ্য অনুসারে বিবাহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩। মোহরানা দশ লাখ টাকা।   বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষা-২০১৫ আবেদনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল- মিথ্যা তথ্য প্রদান ও অসদুপায় অবলম্বনের শাস্তি : (১) কোনো প্রার্থী আবেদনপত্রে জ্ঞাতসারে কোনো ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করলে... তাকে উক্ত পরীক্ষাসহ কমিশন কর্তৃক অনুষ্ঠেয় পরবর্তী যে কোনো পরীক্ষার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে। (২) ক্ষেত্রবিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ফৌজদারি আইনে সোপর্দ করা যাবে এবং উক্ত প্রার্থীকে সার্ভিসে নিয়োগের পর এইরূপ কোনো তথ্য প্রকাশ ও তা প্রমাণিত হলে তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ যে কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। তথ্য গোপনের পাশাপাশি তানজিনার বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগ। জানা গেছে, কর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের আগে তানজিনা ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেন। তার বেতন ছিল ২২-২৫ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বছরে তার বেতন দাঁড়ায় সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা। ৭ বছরে কোনো টাকা খরচ না করলেও তার মোট আয় হয় ১৭ লাখ টাকা। তানজিনা সাথী তার আয়কর (২০২১-২২) ফাইলে স্থায়ী ঠিকানা লিখেছেন বরিশাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তার নিট সম্পত্তি দেখিয়েছেন ২ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৫৯২ টাকা। এর মধ্যে তিনি শেয়ারবাজারে ৪৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। সঞ্চয়পত্র ৩৪ লাখ টাকার। এ ছাড়া ৮৩ ভরি স্বর্ণালংকার দেখিয়েছেন। এর আগের বছরের কর ফাইলে তিনি ২ কোটি ৫ লাখ টাকার সম্পদ দেখান। ২০১৮ সালে তিনি কর কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে প্রবেশকালে বিবরণীতে প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ দেখান। এ সম্পদ পৈতৃকভাবে প্রাপ্ত ধরা হলে, তানজিনার দুই ভাই ও তিন বোনও সমান সম্পত্তি পাওয়ার কথা। সেই হিসেবে তার বাবা-মায়ের অন্তত ১০ কোটি টাকার সম্পদ থাকার কথা। অথচ তারা ট্যাক্স ফাইল ওপেন করেন মেয়ে তানজিনা কর অফিসে যোগদানের ৩ বছর পর। সে সময় দেখানো হয়, তার গৃহিণী মা ও বৃদ্ধ কর্মহীন বাবার মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পদ। এত সম্পদের মালিক হয়েও তারা ২০২২ সালের আগে ট্যাক্স দেননি। আয়কর দপ্তরে তানজিনা চাকরি নেওয়ার তিন বছর পর (২০২১-২২) তার বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স ফাইল খোলা হয়। তারা বরিশালের বাসিন্দা হলেও ঢাকা কর অঞ্চল-৭-এর সার্কেল-১৫০ থেকে রানী বিলকিস (মা) নামের কর ফাইলে মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৪ টাকা মূল্যের সম্পদ বিবরণী দেখানো হয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৩৮০ ভরি। এর মধ্য থেকে ৯৭ ভরি বিক্রি করেছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৩১ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৬০৮ টাকা, যা গত তিন বছরের বাজারমূল্য থেকে খুবই কম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া রানী বিলকিস তার স্বামীর কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কর বিবরণীতে। এর মধ্যে বিক্রির জন্য তানজিনার এক বন্ধুকে তিনি ১৫৩ ভরি স্বর্ণ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। কর ফাইলে রানী বিলকিস তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়েছেন ঢাকার মালিবাগ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রানী বিলকিসের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল হলেও তানজিনা নিজ কর্মস্থল ঢাকায় মায়ের কর ফাইল খোলেন। একইভাবে তানজিনা তার কর্মস্থল থেকে বাবা মো. মোশাররফ হোসেন মল্লিকের নামেও একটি কর ফাইলও খুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর কর্মকর্তা তানজিনা তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার জন্যই নিজ কর্মস্থল থেকে বাবা-মায়ের নামে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেন। তানজিনা সাথীর বর্তমান ঠিকানা, ফ্ল্যাট ৯সি, প্রমোট ব্লুবেল, ১৬১, ১৬১/১, ১৬৪, মালিবাগ, ঢাকা। তার মা রানী বিলকিসের আয়কর ফাইলেও স্থায়ী ঠিকানা মালিবাগ। সূত্রমতে, তানজিনার টাকায় উপরোল্লিখিত ঠিকানায় প্রায় ১৩শ বর্গফুটের এ ফ্লাট ক্রয় করা হয়েছে। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, জনৈক দেলোয়ারের মাধ্যমে তানজিনা অবৈধভাবে অর্জিত টাকা বাবা-মায়ের নামে বৈধ করেন। তানজিনার টাকার উৎস নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে জানান, অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। জানা গেছে, ব্যাংকে চাকরি করার সময় তানজিনা প্রথম বিয়ে করেন। কর কর্মকর্তা হওয়ার পর তানজিনা আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। সেই ব্যক্তি ৩৬তম বিসিএসের পুলিশ কর্মকর্তা (এএসপি)। তাদের চার বছরের সম্পর্ক ছিল। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এর জেরে তানজিনা মামলা করেন ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেই মামলার নথি ও পিবিআইয়ের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই কর্মকর্তাকে ঘর সাজানো, আইফোন, জমি ক্রয়ের টাকা, নগদ অর্থ প্রদান বাবদ মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তানজিনা এবং তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। এ মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলায় পিবিআইয়ের কাছে তানজিনার পক্ষে সাক্ষ্য দেন ইসরাফিল হাসান। ইসরাফিলের সাক্ষ্য অনুযায়ী, এনএসআইয়ের এক ডেপুটি ডিরেক্টরকে তানজিনা ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার নাম সাইদুর রহমান লিটন। তাদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সাক্ষ্যতে উঠে এসেছে। জানা গেছে, সাইদুর রহমান লিটন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মাহবুবুর রহমানের ভাগ্নে। মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসপি) সাবেক সদস্য আনোয়ারা বেগম। ৩৬তম বিসিএসে তানজিনা সাথীর নিয়োগকালে সাইদুর রহমান লিটনের মামি আনোয়ারা বেগম পিএসসির সদস্য ছিলেন। তানিজনা সাথী গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে টাঙ্গাইলের সেই কর কার্যালয় ভাংচুর করে, আগুন দেয়। অথচ এর পরও ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তার উল্টো পদোন্নতি হয়েছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
মমতাজ বেগম নয়ন
সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে চান নারীনেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু। সম্ভাব্য সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অনেক নেত্রীই সংসদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ দৌড়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির সক্রিয় নেত্রী মমতাজ বেগম নয়ন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন এখন দক্ষিণাঞ্চলসহ ঝালকাঠি জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।   মমতাজ বেগম নয়ন ঝালকাঠি -১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।তিনি ছাত্রদলের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা,জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যান সমিতির সাবেক সহ সভাপতি,জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদের সাবেক নির্বাহী সদস্য,জাসাস জনতা ব্যাংকের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা ছিলেন।সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সমাজ সেবায় দেশ ও বিদেশে বিশেষ অবদান রেখেছেন তিনি।স্বর্নপদক প্রাপ্ত মমতাজ বেগম নয়ন সংরক্ষিত আসনে সংসদে যেতে পারলে দেশের উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখবেন বলে জানান বিএনপির নেতা -কর্মীরা     বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় এ নেত্রী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার  বাসিন্দা।মমতাজ বেগম নয়ন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি ব্যাংকিং পেশায় জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিগত ফ্যাসিসরট সরকারের সময়ে আন্দোলন -সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন।  তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে দক্ষিনাঞ্চলবাসীর কাছে বেশ পরিচিত নাম মমতাজ বেগম নয়ন।   স্থানীয়রা জানান, তিনি দীর্ঘ বছর যাবৎ পদ্মায় মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন,মানবাধিকার,বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন,বরিশাল বিমানবন্দর বাস্তবায়ন,বরিশাল শিক্ষা বোর্ড,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হন ছাত্রবস্থায়।দল যখন যে দ্বায়িত্ব দিযেছেন তা সফলতার সাথে  পালন করেছেন।   এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। রাজনৈতিক অবস্থান :  ১. সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। (মহিলা সম্পাদিকা)। ২. সাবেক সহ সভাপতি। জনতা ব্যাংক জাতীয়তাবাদী অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, ঢাকা। ৩. সাবেক নিবাহী সদস্য। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবি পরিষদ ঢাকা। ৪. সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা। জিয়া পরিষদ জনতা ব্যাংক শাখা, ঢাকা। ৫. সাবেক মহিলা সম্পাদিকা। জাসাস জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠানিক ইউনিট। * বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা। সামাজিক অবস্থান :  ১. পদ্মা মাওয়া সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। ২. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগ সমিতির সহ সভাপতি। ৩. শেরেবাংলা গবেষনা পরিষদের উপদেষ্টা। বরিশাল বিভাগীয় প্রদান। ৪. সাবেক ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের উপদেষ্টা। রাজাপুর, ঝালকাঠি। ৫. ঝালকাঠি জেলা যুব পরিষদের মহিলা সম্পাদিকা ৬. ঢাকাস্থ বরিশাল বিভাগীয় যুব সমিতির নির্বাহী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৭. সিনিয়র সহ সভাপতি। মানবাধিকান নির্যাতন সোসাইটি (এম এন সিএ) ৮. মহিলা সম্পাদক। বরিশাল বিভাগ অফিসার্স এসোসিয়েশন (বিবিওএ) ৯. বরিশাল বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় কার্যকরি সদস্য। ১০. বরিশাল বিমান বন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সক্রিয় সদস্য। ১১. বরিশাল শিক্ষা বোর্ড স্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা। ১২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সক্রিয় ভূমিকা। ১৩. দূর্যোগকালীন সময়ে ত্রান বিতরন এ সক্রিয় অংশ গ্রহন। প্রাপ্ত পুরস্কার :  ১. আন্তজাতিক মাতৃভাষা স্বর্ণপদক। ঢাকা প্রেস ক্লাব। ২. মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল-২০০৯ মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল, ঢাকা। ৩. মহানগরী গোল্ডমেডেল-২০১২ ৪. অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক-২০১২ অতীশ দীপঙ্কর গবেষণা পরিষদ, ঢাকা। ৫. মহাত্মা গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ মহাত্মা গান্ধী পরিষদ, ঢাকা। ৬. বিশ্ব পরিবেশ সম্মাননা-২০১৩ ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ল্ড, কলকাতা, ভারত। ৭. মাদার তেরেসা এ্যাওয়ার্ড-২০১৪ শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গবেষনা পরিষদ। ৮. হিউম্যান রাইটস শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ৯. মহাত্মা গান্ধী কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০১৯ ও বেঙ্গল এ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। কলকাতা, ভারত। ১০. মাদার তেরেশা শাইনিং পার্সোনালিটি এ্যাওয়ার্ড-২০২২ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১১. আন্তর্জাতিক জলঙ্গী বাংলা কবিতা উৎসব-২০২২ জলঙ্গী সাংস্কৃতিক মঞ্চ কলকাতা, ভারত। ১২. জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড-২০২৩ বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষন সংস্থা। ১৩. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ স্মৃতি পদক-২০২৩ বিশ্ব বিনা কবিতা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ। ১৪. নেপাল ইন্টারন্যাশনাল এক্সসেলেন্স এ্যাওয়ার্ড-২০২৪ ১৫. নেপাল-বাংলাদেশ ফেন্ডশীপ এসোসিয়েশন (এনবিএফএ)। এছাড়া সমাজ সেবায় দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক অসংখ্য স্বর্ণ পদকে ভূষিত হোন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) হতে নারী আসনে ২০০৫ সালে সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রার্থী এবং ঝালকাঠি-১ আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। বিগত দিনে আন্দোলন- সংগ্রামের সক্রিয় ভূমিকা এবং জুলাই/ ২৪ আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেন। মমতাজ বেগম নযন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি অবসর গ্রহণের পর এখন পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।  তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মামলা-হামলা, হয়রানি ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বহুবার। আর্থিকভাবে হয়েছেন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এর ফলে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার রাজনৈতিক, সামাজিক দায়িত্ব পালন, গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক অবদানের কারণে দলমত নির্বিশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য পদে দেখতে চান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণ। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে দেখতে চান দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।তাদের আশা, তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন এবং নারী সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   মনোনয়ন প্রত্যাশী মমতাজ বেগম নয়ন জানান,  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী আসন ১৯০, ঢাকা -১৭ এর গুলশান থানার প্রচার উপ-কমিটি ও  নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য  হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এসময় তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে  পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দলীয় ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দেন। জনগণের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তার দাবি, তাকে মনোনীত করা হলে ঝালকাঠির উন্নয়ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি। মমতাজ বেগম নয়ন একজন মানবিক সমাজ সেবক।তিনি সংসদে যেতে পারলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ সর্বশ্রেনীর মানুষের। একটি সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল জাতি গঠন এবং নারী সমাজের উন্নয়নে  নিজেকে সারা জীবন সম্পৃক্ত রাখাই  তার জীবনের মহান  ব্রত বলে জানান মমতাজ বেগম।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি,হরমুজ প্রণালীতে মাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। এই দুটি ঘটনা একত্রে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম “অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪”। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সামরিক হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল— হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী এটি তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রয়েছে— দেশের প্রধান তেল শোধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলআবিবের কাছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরান দাবি করেছে, তেলআবিবের কাছে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রও তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র সাধারণত ব্যবহৃত হয়— সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট ডেটা ট্রান্সমিশন গোয়েন্দা নজরদারি যদি সত্যিই এই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সম্ভাব্য সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই সংকীর্ণ জলপথ— পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বের তেল পরিবহনের প্রধান রুট বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়? বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব— ১. তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে ২. বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে ৩. শিপিং খরচ ও বীমা বেড়ে যেতে পারে ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বাধা তৈরি হতে পারে ইরানের নৌ কৌশল ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে— নৌমাইন ব্যবহার দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেন “অ্যাসিমেট্রিক নেভাল ওয়ারফেয়ার”। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে— বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি কাতারে বড় বিমানঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা রয়েছে। মূল কারণগুলো হলো— আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধের রূপ না নিলেও প্রায়ই প্রক্সি সংঘাত হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের সাম্প্রতিক টাইমলাইন ধাপ ১ ইরানের তেল ডিপোতে হামলার অভিযোগ ধাপ ২ ইরানের সামরিক প্রতিশোধের ঘোষণা ধাপ ৩ ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি ধাপ ৪ আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ধাপ ৫ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর খবর তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— সংঘাত বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে গালফ অঞ্চলের শিপিং রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে— ১. সীমিত সামরিক সংঘাত চলতে পারে ২. আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে   ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হাইফার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি, আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ— এই তিনটি ঘটনা একত্রে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর
মৎস্য অধিদপ্তরের জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে

মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত  এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। গত ২ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মৎস্য অধিদপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হচ্ছে। টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং মৎস্যচাষিদের জন্য জলবায়ু সহিষ্ণু উপকরণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে উপকরণ দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, প্রকৃত মৎস্যচাষিদের পরিবর্তে প্রকল্প এলাকার প্রভাবশালী ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে উপকূলীয় এলাকার অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষেরও সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের নামেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়েছে এবং সেই মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
জেবা আমিনা আহমেদ
BNP Leader Zeba Amina Ahmed Faces Controversy Over Marriage and Property Disputes

A senior leader of Bangladesh’s opposition Bangladesh Nationalist Party (BNP) has come under scrutiny following allegations involving marriage disputes, property conflicts, and financial dealings. The allegations centre on Zeba Amina Ahmed, vice-president of BNP’s women’s wing. Critics claim that she remarried in Bangladesh in 2005 while her first marriage in the United Kingdom had not yet been legally dissolved. Ahmed, however, denies wrongdoing and says the claims are misleading and politically motivated. Questions Over Divorce Timeline According to available records, Ahmed married Niaz Bin Karim in the UK in July 1983. Her critics claim that the marriage legally remained valid until January 2007. However, they say she remarried in Bangladesh in September 2005. Under Bangladeshi law, marrying again while a previous marriage is still legally valid could constitute a criminal offence. Ahmed disputes this account, saying that the first marriage had already ended through a verbal divorce under Islamic law. “Under Islamic rules, once the waiting period after divorce ends, a woman can remarry. Later, in 2007, the divorce was formalised through a court in London,” she said. Second Marriage and Legal Dispute Ahmed’s second husband was property developer Mokarram Hossain Khan, a former president of the Real Estate and Housing Association of Bangladesh (REHAB). Khan alleges that Ahmed had claimed to be divorced when they married but did not provide documentary proof at the time. He later filed a case in a Dhaka court alleging misrepresentation. Property and Financial Disputes Khan also claims that Ahmed obtained shares in some of his companies and took large sums of money that were never repaid. There is also an ongoing legal dispute over an apartment in Dhaka’s Baridhara diplomatic zone. According to Khan, Ahmed has remained in the apartment despite lacking ownership, citing a court order maintaining the status quo. Allegations of Trespassing and Violence Khan has also accused Ahmed of orchestrating an incident in June 2025 in which a group of individuals allegedly entered his residence and vandalised property. He says police complaints and court cases have been filed regarding the incident. Family Property Dispute Separate allegations involve a family property in Dhaka’s Gulshan area, where relatives claim they have not received their share. Ahmed denies these claims as well. UK Business Questions Ahmed was previously involved in a UK-based company called “Children’s Paradise (UK)”. While critics say the company collapsed financially, Ahmed states that it was closed through liquidation rather than bankruptcy. Political Response The BNP has not yet issued an official statement regarding the allegations. Ahmed maintains that most of the accusations against her are false and says the courts will ultimately determine the facts.                 বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনাকে ঘিরে দ্বৈত বিবাহ ও সম্পত্তি বিতর্ক                   লন্ডন থেকে ঢাকা: জেবা আমিনা আহমেদের জীবন ঘিরে আইনি জটিলত বিয়ে, মামলা, সম্পত্তি—জেবা আমিনা বিতর্কে নতুন প্রশ্ন     দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বিতর্কে বিএনপি নেত্রী                                 সম্পত্তি ও আইনি বিরোধ: আলোচনায় জেবা আমিনা আহমেদ ” দ্বৈত বিবাহ, সম্পত্তি বিরোধ ও আইনি মামলা: বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বিতর্ক “লন্ডনের ব্যবসা থেকে ঢাকার রাজনৈতিক বিতর্ক—এক নেত্রীকে ঘিরে প্রশ্নের পর প্রশ্ন।” বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির এক নেত্রীকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দ্বৈত বিবাহ, সম্পত্তি বিরোধ, আর্থিক লেনদেন এবং সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ। অভিযোগকারীদের দাবি, যুক্তরাজ্যে প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই তিনি অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে বিষয়গুলো আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। প্রথম বিবাহ ও আইনি বিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন নথি অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের বিবাহ আইনি নথিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই ২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ করলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে জেবা আমিনা আহমেদ এই অভিযোগের জবাবে বলেন, “প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিকভাবে তালাক হয়েছিল। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ইদ্দত পার হলে একজন নারী পুনরায় বিবাহ করতে পারেন। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।” দ্বিতীয় সংসার ও আইনি বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো লিখিত প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে জানা যায়, তাদের বিবাহের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা তার মালিকানাধীন কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নেন এবং কোম্পানি থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করেন। এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে। মোকাররম হোসেনের দাবি, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি স্থিতাবস্থা আদেশের সুযোগ নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন জেবা আমিনা। সহিংসতা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ ২০২৫ সালের জুন মাসে বারিধারার একটি বাসভবনে হামলার অভিযোগও করেছেন মোকাররম হোসেন খান। তার দাবি, তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে তার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে পরিবারে বিরোধের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন। তবে এই অভিযোগগুলোও তিনি অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন জেবা আমিনা আহমেদ যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটি পরে বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “কোম্পানিটি দেউলিয়া হয়নি; বরং লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।” রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0