ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে একটি আলোচিত গণপিটুনি মামলায় ১৪ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান অনলাইন হুমকি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ঘটনার পর তাঁর বিদ্যমান পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চলমান মামলার শুনানিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নেয়। বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল এবং বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করে। রায়, প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা গত ১২ জুন দেওয়া এক রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ২০২২ সালের একটি সহিংস গণপিটুনি মামলায় ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে গবাদি পশু পরিবহনের সময় ট্রাক চালক শেখ লালা নাজির আহমেদকে হত্যা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি বেআইনি জমায়েত গড়ে তুলে হামলা চালায়। রায় ঘোষণার পরপরই নিজেদের ‘গো-রক্ষক’ দাবি করা একাধিক গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিক্ষোভে নামে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিচারকের কুশপুতুল দাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন হুমকি ও ভাইরাল ভিডিও ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক ব্যক্তি বিচারকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে রাজ্যজুড়ে সহিংসতার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ে। আদালতের কঠোর অবস্থান হাইকোর্ট এই ঘটনাকে “গুরুতর উদ্বেগজনক” আখ্যা দিয়ে জানায়, এ ধরনের আচরণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, বিচারিক সিদ্ধান্ত কেবল আইনি প্রক্রিয়া—আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর অসন্তোষের কারণে বিচারকের বিরুদ্ধে হুমকি বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, এটি বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও নির্ভীক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নির্দেশ অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাইকোর্ট জানায়, নর্মদাপুরমের পুলিশ সুপারের (এসপি) অধীনে বিচারক তাবাসসুম খানের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, হুমকির পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা বিস্তারিতভাবে হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি শুনানিতে ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ভারতের বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনলাইন বিদ্বেষের প্রভাব। বিশেষ করে সংবেদনশীল ফৌজদারি মামলার রায়ের পর বিচারকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা জরুরি—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। একই সময়ে, দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা থাইল্যান্ডের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ১০টি নিরাপদে জলসীমা অতিক্রম করেছে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কাতারি এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোকে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আবাসন ও হোটেল প্রকল্পের স্বপ্ন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের পরও এক দশক পেরিয়ে নির্ধারিত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, 'সেঞ্চুরি কুয়াকাটা মডেল টাউন', 'সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা' এবং 'সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক'—এই তিন প্রকল্পে জমি, হোটেলের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার। এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—প্লটের পুরো মূল্য পরিশোধের পরও নির্দিষ্ট জমি বুঝিয়ে না দেওয়া, সরকারি ফি'র তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়, চুক্তির বাইরে ভিন্ন মৌজার জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং দফায় দফায় নতুন অর্থ দাবির মতো একাধিক অভিযোগ। পুরো টাকা পরিশোধের ১০ বছর পরও প্লট নেই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহকদের কাছে কাঠাপ্রতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫০ টাকা দরে পাঁচ কাঠার প্লট বিক্রির ঘোষণা দেয় সেঞ্চুরি গ্রুপ। ২০১১ সালের মে মাসে গ্রাহকদের হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মাসে ১১ হাজার ২৫ টাকা করে ৭২ কিস্তিতে ২০১৬ সালের জুন মাসে মোট ৭ লাখ ৯৩ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করেন ক্রেতারা। কিন্তু ২০২৬ সালেও অধিকাংশ ক্রেতা তাদের নির্ধারিত প্লট বুঝে পাননি। কিস্তিতে সামান্য দেরি, এরপর জরিমানা ও ঘুষের অভিযোগ একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন, কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হতো। একজন ভুক্তভোগীর দাবি, জরিমানা কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এরপরও তার কাছ থেকে ৩১ হাজার ১৬৩ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উন্নয়ন ও রেজিস্ট্রেশনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ২০১৬ সালে প্লটের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও ২০২১ সালে গ্রাহকদের কাছ থেকে ডেভেলপমেন্ট চার্জ হিসেবে প্লট মূল্যের ১৫ শতাংশ হারে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে জমির রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯১২ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দলিলে উল্লেখিত মূল্যের ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে সরকারি ফি দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ৮৭৫ টাকা। অর্থাৎ সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রেজিস্ট্রেশনের পর সামনে আসে নতুন জালিয়াতির অভিযোগ রেজিস্ট্রেশনের পর অনেক গ্রাহক জানতে পারেন, চুক্তিতে উল্লেখ করা প্লট বাস্তবে দেখাতে পারছে না কোম্পানি। ভুক্তভোগী আনিসুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, তাকে গঙ্গামতি মৌজার নির্দিষ্ট একটি প্লট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলিল পাওয়ার পরও সেই প্লট আজ পর্যন্ত বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, "২০১৬ সালে পুরো টাকা পরিশোধ করেছি। ২০২৪ সালে দলিল পেয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালেও প্লট পাইনি। উল্টো বিভিন্ন অজুহাতে এখনো টাকা দাবি করা হচ্ছে।" তার অভিযোগ, কিস্তিতে বিলম্বের কারণে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানা কমানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। প্লট নেই, তবু নতুন করে অর্থ দাবি ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এখন জমির নামজারি করার জন্য প্রতিটি প্লটের বিপরীতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ সরকারি হিসাবে পাঁচ কাঠা জমির নামজারির ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১৩০ টাকা। এ ছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। মাঠে গিয়ে মিলল না বিজ্ঞাপনের প্রকল্প সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে আধুনিক আবাসন প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞাপনে দেখানো রাস্তা, পরিকল্পিত প্লট, নাগরিক সুবিধা কিংবা আধুনিক টাউনশিপের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। প্রকল্পের বড় অংশ এখনও কৃষিজমি হিসেবেই রয়েছে। হোটেল প্রকল্পেও প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক সেঞ্চুরি গোল্ড কোস্ট হোটেল অ্যান্ড স্পা প্রকল্পে শুরুতে ৫০ শতাংশ জমির ওপর ১৬ তলা ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও বর্তমানে ১৪ তলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি— ৫০ শতাংশ নয়, বাস্তবে ভবন নির্মাণ হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ জমিতে। অবশিষ্ট জমি কার পার্কিং হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ ও পরে ২০২২ সালে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ২০২৬ সালেও প্রকল্প শেষ হয়নি। বিনিয়োগকারীরা এখনো সাব-কবলা বা দলিল পাননি। শেয়ারের দাম বেড়েছে, কিন্তু প্রকল্প এগোয়নি ২০১৬ সালে প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। পরবর্তীতে তা ধাপে ধাপে বেড়ে— ২০১৮ সালে ১.৯৯ লাখ টাকা, ২০২১-২২ সালে ৩.৫০ লাখ টাকা, ২০২৬ সালের শুরুতে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত ওঠে। পরে তা কমিয়ে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। দ্বিতীয় হোটেল প্রকল্পেও একই অভিযোগ সেঞ্চুরি ট্রেজার আইল্যান্ড অ্যান্ড বাটার ফ্লাই পার্ক প্রকল্পে ৮১ শতাংশ জমির ওপর ১৪ তলা হোটেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করা হলেও অনুসন্ধানে প্রকল্পের বাস্তব কোনো নির্মাণকাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রতিটি শেয়ার ৭ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক জমির শেয়ার দুই প্রকল্পে বিক্রির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গোল্ড কোস্ট হোটেলের বাইরে থাকা ৩৩ শতাংশ কার পার্কিংয়ের জমির শেয়ার একই সঙ্গে দুটি পৃথক প্রকল্পে বিক্রি করা হয়েছে। পরে দুই প্রকল্পের সংযোগ ঘটিয়ে এক শেয়ারে দুই হোটেলের মালিকানার অফার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শুরুতে প্রচারপত্রে বছরে পাঁচ রাত ছয় দিন বিনামূল্যে থাকার সুবিধা উল্লেখ থাকলেও পরে সেই সুবিধা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ যা বলছেন কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মো. সবুজ হোসাইন বলেন, হোটেল বা রিসোর্ট প্রকল্পের নামে নির্দিষ্ট জমি বা চৌহদ্দি ছাড়া ক্ষুদ্র অংশের জমির শেয়ার বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। তার ভাষায়, "এ ধরনের কার্যক্রম প্রতারণার শামিল।" তিনি আরও বলেন, কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে না। সেঞ্চুরি গ্রুপের বক্তব্য অভিযোগ অস্বীকার করে সেঞ্চুরি গ্রুপের ডিজিএম তৌফিক চৌধুরী বলেন, "এসব মিথ্যা কথা।" অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমজিআর নাসির মজুমদার প্রথমে ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি লেখেন, "আপনি যা বলছেন বা ভাবছেন, আমি বা আমরা সে রকম খারাপ মানুষ না। আমি অসুস্থ। দোয়া করবেন, মৃত্যুর আগে যেন মানুষের পাওনা বুঝিয়ে দিতে পারি।"
পরাজয়ের পর তৃণমূলে অস্থিরতা: নেতৃত্ব, আই-প্যাক ও দলত্যাগের শঙ্কায় গভীর সংকটে মমতার দল ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজেদের প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা দলটি এবার ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রকাশ্য বিভক্তির লক্ষণ দেখাতে শুরু করেছে। দলের ভেতরের অসন্তোষ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আই-প্যাক নির্ভর রাজনৈতিক কৌশল—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে এখন চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে বিচ্যুতির অভিযোগ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটে দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। দলের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট সুব্রত বক্সীর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি শুধু দল ছাড়ার ঘোষণা দেননি; বরং দল পরিচালনায় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য মূলত নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাকের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে পরোক্ষ প্রতিবাদ। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের পেছনে আই-প্যাককে বড় কৃতিত্ব দেওয়া হলেও, এখন দলের ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠছে—সংগঠন ও নেতৃত্বের জায়গা দখল করে নিয়েছে একটি করপোরেট রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তার চিঠিতে দুর্নীতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তৃণমূলের একাধিক নেতা মনে করছেন, দল তার মূল আদর্শ ‘মা, মাটি, মানুষ’ থেকে অনেকটাই সরে গেছে। প্রকাশ্যে নেতাদের বিরোধ দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে যখন তৃণমূলের আরেক প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমালোচনায় নামেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূল ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করেছে। এরই মধ্যে দলের মুখপাত্র ঋজু দত্তকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে দলের অভ্যন্তরীণ ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপগুলো মূল সংকট মোকাবিলার বদলে বরং দলের অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে আসছে। শুভেন্দুর সঙ্গে যোগাযোগ, বাড়ছে দলত্যাগের জল্পনা সংকটের মধ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর—আনিসুর রহমান, বীণা মণ্ডল ও মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তৃণমূলের একটি অংশ এখন বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান খুঁজছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক জনপ্রতিনিধি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি দুই তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তারা এটিকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছেন, তবে দিল্লির বেঙ্গল গভর্নমেন্ট গেস্ট হাউজে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের খবর নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। আড়ালে চলে গেছেন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা—ইন্দ্রনীল সেন, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক ও অরূপ বিশ্বাস—সম্প্রতি জনসমক্ষে অনেকটাই অনুপস্থিত। দলের ভেতরের নেতারা বলছেন, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না, আবার কেউ নীরবে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এর মধ্যে গত ১১ মে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেফতার করায় তৃণমূল আরও চাপে পড়ে। পরাজয় মানতে নারাজ মমতা? নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো ফল মেনে নিতে পারেননি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রায় ১৫০টি আসন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিগত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ বা বিধানসভার কোনো কক্ষের সদস্য নন। বর্তমানে তিনি মূলত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা দিতে কলকাতা হাইকোর্টে গেলে তাকে বিরোধীদের বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখোমুখি হতে হয়, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আই-প্যাক, টিকিট বাণিজ্য ও সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, দল এখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলেছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও তাদের দাবি। সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে আই-প্যাককে ঘিরে। পঞ্চায়েত পদ থেকে শুরু করে বিধায়ক মনোনয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘আই-প্যাকের নামে’ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন দলীয় অন্দরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তৃণমূলের একাধিক পুরোনো কর্মী মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামনে কোন পথে তৃণমূল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে সাংগঠনিক ভাঙন এবং দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে দলটি বড় ধরনের পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতদিন যেসব অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনী জয়ের আড়ালে চাপা ছিল, পরাজয়ের পর সেগুলো এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন কি না, নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের দীর্ঘ আধিপত্যের অবসানের সূচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং অবৈধ বরাদ্দ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ও বরাদ্দের অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর “স্থিতাবস্থা” (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে নির্মাণকাজ, দখল কার্যক্রম এবং বরাদ্দ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর সম্পত্তি এবং জাতীয় গৃহায়নের প্রায় ১৯ একর জমি ঘিরে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় জমি বরাদ্দ দেওয়া গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আদালত অবমাননা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উদ্বেগ অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফা স্টেটের জমিতে ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রয়েছে। তারা বলছেন, জমি ঘিরে চলমান কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রভাবশালী ব্যবহার ও দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কথিত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, অবৈধ বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক তদারকি এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব কার্যক্রম চলতে পারছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে প্রভাবশালী একটি চক্র কাজ করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায়। সংস্থাটির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ডিপিএইচই’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফের নাম। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আদালতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, তবু একের পর এক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এবং তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান তাঁকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ডিপিএইচই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নলকূপ স্থাপন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকল্পে কাজের মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। সিলেট বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ হানিফের কর্মকাণ্ড স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ ওঠে, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো। এতে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। যদিও সে সময় এসব অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তবে একাধিক প্রকল্পের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। নলকূপ ও পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেকুয়া, ইন্দুরকানী এবং লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত গভীরতায় নলকূপ খনন না করেই পূর্ণ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও নিম্নমানের পাইপ ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সরকারি নথিতে এসব প্রকল্পকে “শতভাগ সফল” হিসেবে দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন এলাকায় সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছ থেকে গোপনে টাকা নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকারিভাবে বিনামূল্যে নলকূপ স্থাপনের কথা, সেখানে একটি প্রভাবশালী চক্র সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি উপ-প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অভিযোগের কিছু বিষয়ে বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছে। ডিপিএইচই’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রকল্পভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল। তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো এবং বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হানিফ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্তের বিষয়; তবে তাঁর দায়িত্বাধীন সময়ে এসব কার্যক্রম চলমান থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাগজে অগ্রগতি, মাঠে ভিন্ন বাস্তবতা অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকল্পের প্রাক্কলন ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হতো যাতে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়। মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকার অভিযোগও উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল ছাড় করা হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় স্থাপিত নলকূপ কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে। কোথাও আবার পানি ওঠেনি। কিন্তু সরকারি রেকর্ডে সেসব প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত হিসেবে দেখানো হয়েছে। “বিশেষ বলয়” তৈরির অভিযোগ মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিদপ্তরের ভেতরে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প অনুমোদন, বিল পাস এবং মাঠপর্যায়ের তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারাই নিয়োজিত ছিলেন। ফলে একই গোষ্ঠীর প্রভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যারা অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন, তাঁদের প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হতো। একই ঠিকাদারের বারবার কাজ পাওয়ায় প্রশ্ন একাধিক প্রকল্পে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পুনরাবৃত্ত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া অন্যান্য ঠিকাদারদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করা হতো। ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকায় সরকারের ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র ব্যবস্থা দুর্নীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। মাঠ পরিদর্শন ছাড়াই বিল তোলার অভিযোগ প্রকল্প পরিদর্শনের নামে অতিরিক্ত ভাতা ও ভ্রমণ বিল তোলার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক প্রকল্পে কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাগজে অগ্রগতি দেখানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে প্রকল্প এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয়ের ইঙ্গিত দেয়। জবাবদিহির প্রশ্ন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিপিএইচই’র মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা বিশুদ্ধ পানির জন্য সরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মতে, এসব অভিযোগ শুধু কোনো ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে এখন দাবি উঠেছে, প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সচেতন মহলের মতে, শুধু নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের নয়, প্রকল্প অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। তাঁরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন অডিট, নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় জনগণের জন্য বরাদ্দ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই থেকে যাবে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের এক নৈশপ্রহরী—যার চাকরিজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক ২০০ টাকার ঝাড়ুদার হিসেবে—বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে, যদিও তার সরকারি পদ নিম্নপদস্থ কর্মচারীর। অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দ আলী ওরফে সবুজ প্রথমে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা টাওয়ারে অবস্থিত ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে স্থায়ীভাবে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিযুক্ত হন। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তার পরিচিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—সেখানে তিনি নিজেকে উচ্চপদস্থ কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের চাকরি থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে—যার মধ্যে রয়েছে দুটি দোতলা ভবন, ৫ তলা একটি ভবন, ৬ কাঠার জমিতে একতলা পাকা দালান ও ২০ কক্ষের টিনশেড ঘর। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই নয়, ঢাকার রায়েরবাগে একটি মূল্যবান ফ্ল্যাট এবং রূপগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠার একটি বাণিজ্যিক প্লটের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এসব সম্পদের মোট মূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সৈয়দ আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া যায়। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তার স্ত্রী বাড়িতে প্রবেশে বাধা দেন এবং সম্পত্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, এসব সম্পদ ঋণের মাধ্যমে অর্জিত। তবে কোনো ঋণের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান। অন্যদিকে, সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদের মালিক তিনি নন; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদ তাদের। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং ফোনালাপে তিনি বারবার ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার ইঙ্গিতপূর্ণ অনুরোধ জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সৈয়দ আলীর আর্থিক প্রভাব ও আচরণ নিয়ে এলাকায় ভীতি কাজ করে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর পক্ষে কীভাবে এত বিপুল সম্পদ অর্জন সম্ভব? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন এক গভীর বিতর্কের মুখে। নেতৃত্ব পরিবর্তন, ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন এবং “মব চাপের মাধ্যমে দখল”—এমন একাধিক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা। একদিকে অভিযোগের আঙুল উঠছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের দিকে, অন্যদিকে পাল্টা দাবি বলছে—সবই নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তনের অংশ। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: ইতিহাসের গৌরব থেকে বর্তমান বিতর্ক মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালে যুদ্ধাহতদের চিকিৎসা সহায়তা দিতে ত্রিপুরায় গড়ে ওঠা “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল” থেকেই জন্ম নেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। স্বাধীনতার পর এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ অলাভজনক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সাভারের মির্জানগরে এর প্রধান কার্যালয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে উপকেন্দ্র, গণবিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ নানা প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে এটি স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব, মালিকানা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একের পর এক বিতর্ক। নেতৃত্ব সংকট ও নতুন অধ্যায় ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্টে সাভারের প্রধান কার্যালয়ে একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রায় ৫০–৬০ জনের একটি দল প্রবেশ করে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগ করায়—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের একাংশ দাবি করে, ওই ঘটনার সময় লিখিত পদত্যাগপত্রে বাধ্য করা হয় ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও ডা. মাহবুব জুবায়েরকে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। “মব” অভিযোগ ও প্রশাসনিক নীরবতা অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি। ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদের ভাষ্যমতে, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য সংগঠিত চাপ তৈরি করা হয় এবং ঘটনাস্থলে নির্দেশনা সম্বলিত ফোনকল শোনানো হয়। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে আইনি বিতর্ক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের দলিল সামনে আসে, যেখানে কয়েকজন নতুন নাম যুক্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় ছিলেন— আলতাফুন্নেসা আবুল কাশেম চৌধুরী সন্ধ্যা রায় মনজুর কাদির আহমেদ শিরিন পারভীন হক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আব্দুল কাদের আজাদ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা ছাড়া ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হয়। বহিষ্কৃত কর্মী ও পুনর্বহাল বিতর্ক অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির কারণে পূর্বে বরখাস্ত কিছু কর্মী পরবর্তীতে নতুন কাঠামোয় ফিরে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এটি নিয়েও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বিভক্ত মত রয়েছে। একপক্ষ এটিকে “পুনর্গঠন”, অন্যপক্ষ “নিয়ন্ত্রণ দখলের কৌশল” হিসেবে দেখছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে ঘিরে অভিযোগ কিছু অভিযোগে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ট্রাস্টি কাঠামো গঠনে তার ভূমিকা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দাবি ও পাল্টা অবস্থান কিছু ট্রাস্টি ও কর্মকর্তা বলছেন, সব পরিবর্তন ছিল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ। অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, এটি ছিল “সংগঠিত চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দখলের প্রক্রিয়া”। আইনি ও কাঠামোগত প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাস্ট কাঠামো পরিবর্তন, পরিচালনা বোর্ড গঠন এবং সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই আইনি স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে দলিল, প্রক্রিয়া ও অনুমোদন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখনো মীমাংসিত নয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র—যা একসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল—এখন নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধতা নিয়ে এক জটিল বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং নীরবতার এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জ্বালানি সংকটের মধ্যে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছেন স্থানীয় এক উদ্ভাবক। সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের কারিগর সোলেমান আলী তৈরি করেছেন একটি ‘ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্র’, যা এখন শত শত কৃষকের জন্য বিকল্প সেচব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে যখন সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল, তখন এই প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে। সূর্যের আলোতেই সেচ গ্রামের মাঠে এখন আর ডিজেলচালিত পাম্পের শব্দ বা ধোঁয়া দেখা যায় না। চাকা সংযুক্ত কাঠামোর ওপর স্থাপিত সৌর প্যানেলে সূর্যের আলো পড়লেই চালু হয়ে যায় পাম্প। মাটির নিচ থেকে উঠে আসে পানি, যা সরাসরি ফসলের জমিতে পৌঁছে যায়। সোলেমান আলীর তৈরি এই যন্ত্রের ক্ষমতা প্রায় ২,৫০০ ওয়াট। সূর্যালোক থাকলেই এটি তিন হর্সপাওয়ারের পাম্প চালাতে পারে, যা প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০০ লিটার পানি তুলতে সক্ষম। কৃষকদের স্বস্তি স্থানীয় কৃষকদের মতে, সেচ খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও বাঁচছে। সদর উপজেলার এক কৃষক আবু বকর বলেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন দিনে সূর্যের আলো থাকতেই সেচের কাজ শেষ করা যাচ্ছে এবং খরচও কম। রাণীশংকৈল উপজেলার কৃষক মনসুর আলীর অভিজ্ঞতাও একইরকম। তিনি জানান, আগে বিদ্যুতের জন্য রাত জেগে অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন দিনের আলোতেই সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। আয় ও সম্ভাবনা বর্তমানে সোলেমান আলীর কাছে ২৬টি সৌর পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি তিনি নিজে পরিচালনা করেন এবং বাকি ২০টি মৌসুমি ভিত্তিতে ভাড়া দেন। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি পাম্প ৩৬ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে তিনি নতুন একটি ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও তৈরি করেছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, গত বছর এই উদ্যোগ থেকে তার আয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। চলতি মৌসুমে তা ৮ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। বিস্তৃত প্রভাব এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে শুধু ব্যক্তিগত নয়, বৃহত্তর কৃষি ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ছে। ভবিষ্যৎ ভাবনা সোলেমান আলী বলেন, সীমিত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কৃষকদের সমস্যার সমাধান খুঁজতে চেয়েছেন। সরকারি সহায়তা পেলে এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা মনে করেন, এই উদ্ভাবন জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তি কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের পথ দেখাতে সক্ষম।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশের কল্যাণ তহবিলের সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে ৩২ পৃষ্ঠার নথি ও প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, শরীফুল হক ভোলায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ বিভিন্ন খাত থেকে আত্মসাৎ করেছেন। বিশেষ করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অন্তত দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থের হিসাব কেবল ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আংশিক অংশ থেকে পাওয়া গেছে; আগের বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের কৌশল ও খাত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের কল্যাণ তহবিলের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও নথির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আগের এসপির সময় কেনা প্রায় চার লাখ টাকার সিসিটিভি সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোলায় দায়িত্ব পালনের সময় অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং দেওয়া এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের রেশন স্টোর থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা এবং পুলিশ লাইন মেস থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হলে বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে সরকারি খাতে দুর্নীতি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি এখন নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি জানান, তার ছেলেকে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা ঘিরে ফেলে এবং পরে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কারফিউ শিথিল থাকার সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে তাইম তার বন্ধুদের নিয়ে কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ধাওয়া করে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে মারধর করে বের করে আনে। তিনি আরও বলেন, “পরে আমার ছেলে দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এসআই সাজ্জাদও গুলি চালায়। আমার ছেলে ‘মা মা’ বলে মাটিতে পড়ে যায়। তার বন্ধু রাহাত তাকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি করে।” সন্তানের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ময়নাল হোসেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে সেদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা মানুষ মারতে কয়টা গুলি লাগে?” পরবর্তীতে ছেলের মরদেহ গোসল করানোর সময় কোমরের পাশে বড় গুলির চিহ্ন দেখতে পান, যা পিস্তলের গুলির দাগ বলে ধারণা করেন তিনি। এ ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদনে গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, শাহবাগ থানার এসআই শাহদাত গুলির চিহ্ন উল্লেখ না করে ‘কালো দাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি ‘উপরের নির্দেশ’ বলে জানান। উল্লেখ্য, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন পলাতক। বাকি দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতে হাজির করা হয়েছে।
শীর্ষনিউজ: গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরের পতন হলেও তাদের পছন্দের দুর্নীতিবাজ সৈয়দ মঈনুল হোসেন এখনো সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী পদেই বহাল তবিয়তে আছেন। এ পদে থেকে মঈনুল হোসেন আওয়ামীপন্থী ও শেখ পরিবারের মদদপুষ্ঠ কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন ও পদায়ন করে চলেছেন। কোটি কোটি টাকা লুটপাট ও আত্মসাতের অভিযোগে মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক আইনি ব্যবস্থার নেওয়ার সুপারিশ করে। এসবে কোনো কাজতো হয়ইনি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের পর বিএনপি আমলেও এই পদে বহাল আছেন মঈনুল আছেন। শেখ পরিবারসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার এবং গণঅভ্যুত্থানের পর নেতাদের দেশ ছাড়তেও সহায়তা করেন এই মঈনুল হাসান এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার। অভ্যুত্থানের পরও সওজে সক্রিয় আওয়ামী সিন্ডিকেট ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও সড়কে নানা অনিয়মে সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট। সরকারের অধিকাংশ দপ্তরে কমবেশি কিছুটা সংস্কার হলেও সড়ক বিভাগে পড়েনি এর ছিটেফোটা আঁচও। তিনস্তর বিশিষ্ট আওয়ামী সিন্ডিকেটে চলেছে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। টেন্ডার অনিয়ম, কাজে ঘাপলা, বদলি বাণিজ্য ছাড়াও অর্থপাচারের সঙ্গেও এরা জড়িত। ৫ আগস্টের পর ৩০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়ে পাচার করা হয় সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তার পরিবার ও সহযোগীদের শত শত কোটি টাকা, যারা গত সাড়ে পনের বছর সড়কে গড়ে তুলেছিল ‘কাদের চক্র’। সৈয়দ মঈনুল হাসান কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় সদস্য। আইইবি-২০২২-২৩এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের (সবুর-মঞ্জুর প্যানেল) শেখ হাসিনার মতই বিনাভোটে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছিলেন কাউন্সিল মেম্বার (আইইবি মেম্বার নং ১৪৫৫০)। সে সময় তার ব্যালট নম্বর ছিল ১২১। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে গঠিত সড়ক কমিটির উপদেষ্ঠা পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বুয়েট ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন সওজের এই প্রধান প্রকৌশলী। কর্মকর্তাদের বহর নিয়ে বারবার শেখ মুজিবের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সমালোচনায় পড়েন। তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মঈনুল হাসানের আপন চাচাতো ভাই শামসুল আলম কচি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং নড়াইল জেলা পরিষদের আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সদস্য। মঈনুল হাসানের ভাগ্নে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ মুনতাসির হাফিজ সড়ক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির আওয়ামী প্যানেলের দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি। এর আগেও ছিলেন একই সমিতির পর পর দুইবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগ রয়েছে সড়ক নিয়ন্ত্রণের জন্যই মঈনুলের বিশেষ হস্তক্ষেপই মুনতাসীরের উত্থান হয়। মধ্যম সারির যেকোন কর্মকর্তার পদায়ন বা বদলিতে মঈনুলের ভাগ্নে মুনতাসিরের আর্শিবাদপুষ্ট হতে হতো। বদলি কিংবা পদায়নে আর্থিক লেনদেনের মূল দায়িত্বে থাকতেন মুনতাসির। বদলি-পদায়নের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পরবর্তীতে জমা দেওয়া হতো অর্থ সংগ্রাহক সিন্ডিকেট প্রধানের হাতে। বিরোধী মতাদর্শের মধ্যমসারির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে মুনতাসিরের ছক অনুযায়ী করা হতো ওএসডি কিংবা শাস্তিমূলক বদলি। এ কাজে তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাপনের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আমানউল্লাহ্ ও ডিপ্লোমা সমিতির নেতা মো. মনিরুল আলম। তাদের দৌরাত্বে ঢাকা সড়ক জোন পরিণত হয় ‘মামাভাগ্নে জোনে’। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের তত্ত্বাবধানে ডিপ্লোমা সমিতির ব্যানারে চলতো লোক দেখানো দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নামে দেশব্যাপী শেখ হাসিনা বন্দনা। মঈনুল হাসান পদায়নও নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন মঈনুল হাসান সড়কের সবচেয়ে চতুর কর্মকর্তা এবং ‘ম্যানেজ মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনে কোনো প্রকার টেন্ডার ছাড়াই ঢাকা সড়ক বিভাগের ওই সময়ের আওয়ামীপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে দিয়ে আড়াই কোটি টাকার আসবাবপত্র ও ইন্টেরিয়রের কাজ করান। পুরস্কার হিসাবে নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহকে প্রধান প্রকৌশলী মঈনের একক হস্তক্ষেপে গত ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগে পদায়ন করা হয়। আওয়ামী শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শাস্তির মুখে পড়ার কথা আহাদ উল্লাহর। কিন্তু এর পরিবর্তে সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়নের মাধ্যমে তাকে পুরস্কৃতই করা হয়েছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে আহাদ উল্লাহ’র স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের পিএস অশোক কুমারের ভাগ্নী জামাই রিতেশ বড়ুয়াকে। অথচ বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দীর্ঘদিন যাবত এই রিতেশ বড়ুয়া ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদের ছত্রছায়ায় কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগে কর্মরত। ইতিপূর্বে সৈয়দ মঈনুল হাসান ময়মনসিংহ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় তার অধীনস্থ তৎকালীন কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এই রিতেশ হয়ে উঠেন বেপরোয়া ও লাগামহীন। তৎকালীন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের প্রায় সকল সেতুতেই লোহার পাতের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রমাণসহ প্রতিবেদন এসেছিলো। সেতুতে লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করার প্রচলনের এ খবর দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় উঠলেও মঈনুল হাসানকে দেখা যায়নি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিতে। প্রধান প্রকৌশলী মঈনুলের বিরুদ্ধে আছে আওয়ামীপন্থীদের পুনর্বাসন ও পদায়নের আরো ব্যাপক অভিযোগ। ৫ই আগষ্ট, ২০২৪ পরবর্তী সময় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নতুনত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের সংস্কারের কথা বলে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের পদায়ন করেন মঈনুল। পুনর্বাসন করেন আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ছাত্রলীগ নেতাদের। একারণে ঠিকাদারসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক অসন্তোষ। ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময় তার নানা অপকর্মের হোতা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ওরফে ম্যাক আজাদকে অপসারেণের ব্যাপক দাবি উঠলে, উল্টো তাকে ২০২৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ৩৫.০২২.০৬০.০০.০০.০০৭.২০০৯(অংশ-১) ৪৯৩ নং স্মারকে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকিউরমেন্ট সার্কেল থেকে লোক দেখানো সরিয়ে দিলেও; আরো বড় দায়িত্ব সড়ক গবেষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন করা হয়। এই ম্যাক আজাদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। ১৫ই আগস্টসহ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত যাবতীয় দিবসের সড়কের সকল প্রোগ্রামের অন্যতম আয়োজক তিনি। পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে সাধারণ ঠিকাদারদেরকে কোণঠাসা করে রাখার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি ছিলেন আওয়ামী যুগের মঈনুল সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অর্থ সংগ্রাহক। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্য ইসকন নেতা কুষ্টিয়া সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার চক্রবর্ত্তী, ইসকন সদস্য সাবেক পাবনা সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সমীরণ রায়, ওবায়দুল কাদেরের দীর্ঘদিনের সহচর নোয়াখালী সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া, প্রধান প্রকৌশলীর বন্ধু অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের মাধ্যমে অর্থপাচার ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার নামে বিভিন্ন মেয়াদে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ গমনের অনুমোদন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। সড়ক সূত্রের তথ্যমতে, মূলতঃ সরাসরি প্রধান প্রকৌশলী মঈনের তত্ত্বাবধানে এই ৩০ জন আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তার মাধ্যমেই শেখ পরিবার ও ওবায়দুল কাদেরের বিপুল অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়। অর্থপাচারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মঈনুল হাসান। এজন্যই সড়কের একজন নিয়মিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরেও আওয়ামী বিশেষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপে তাকে অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে বিভিন্ন পদে স্থানান্তর করা হয়। তাকে সংযুক্ত করা হয় মিনিস্ট্রি অফ ফরেন অ্যাফেয়ার্স এর ডিরেক্টর পদে। এরপর তাকে পোস্টিং করা হয় রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর পদে। আওয়ামী সরকারের অর্থপাচার আরো নির্বিগ্ন ও ত্বরান্বিত করতে তার সঙ্গে পরবর্তীতে যুক্ত করা হয় তারই স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ারকে। ফেরদৌসী শাহরিয়ারও বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। সরকারের বিশেষ নেক নজর ছাড়া আমেরিকার মতো দেশের দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসাবে কর্মরত থাকার সুযোগ নেই। তৎকালীন সরকারের সময় তাকে আমেরিকার নানা সভা, সেমিনার ও অনুষ্ঠানে আওয়ামী তথা শেখ হাসিনা বন্দনার বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। গুঞ্জন রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের আমেরিকায় অর্থপাচার করা হতো এই মঈনুলের স্ত্রী ফেরদৌসী শাহরিয়ার ও ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন নেছা কাদেরের ভাতিজি কামরুন্নেসা ও ভাস্তি জামাই এ জে এম ওবায়দুর রহমান খান ওরফে শাওনের নেতৃত্বে। সড়কের নিয়মিত অফিসার না হয়েও কর্মজীবনের অধিকাংশ সময় ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত থেকেও সরাসরি অভিজ্ঞতা ছাড়াই সড়ক ও জনপথের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরের শুধুমাত্র আওয়ামী আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় রাতারাতি প্রধান প্রকৌশলী করা হয় মঈনুল হাসানকে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিন ধরে নদী, পাহাড় ও বন রক্ষার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর নেতৃত্বে তাঁর ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সিলেটের পাথর কোয়ারি, পলিথিন নিষিদ্ধকরণ অভিযান এবং নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ঘিরে ওঠা বিতর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সিলেটের পাথর কোয়ারি: সিদ্ধান্ত, বিরোধ ও অভিযোগ সিলেট অঞ্চলের পাথর কোয়ারি ইজারা বন্ধের বিষয়টি কয়েক বছর ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্তকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে ২০২০ সালে পাথর কোয়ারি ইজারা বন্ধ করা হয়। ওই বৈঠকে মূলত সমস্যার সমাধানে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল, সরাসরি ইজারা বন্ধের নয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনায় আসে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ইজারা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তা বন্ধ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা। এ প্রেক্ষাপটে তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে, যেমন: * অবৈধভাবে ইজারা বন্ধে প্রভাব খাটানো * পাথর উত্তোলন সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক * সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় একতরফা অবস্থান গ্রহণ যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নীতিগত দ্বন্দ্ব: পরিবেশ বনাম অর্থনীতি পাথর কোয়ারি বন্ধের পক্ষে যুক্তি হিসেবে পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন শিল্পের সুরক্ষার কথা বলা হয়। তবে বিপরীত পক্ষ বলছে: * সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে * স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে * অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণহীন পাথর উত্তোলন বেড়েছে * ভারত থেকে পাথর আমদানি বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ তৈরি হয়েছে এছাড়া পরিবেশবিদদের একটি অংশ মনে করেন, নিয়ন্ত্রিত ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখা সম্ভব ছিল। পলিথিন নিষিদ্ধকরণ অভিযান: বাস্তবতা বনাম ঘোষণা ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে সুপারশপে এবং নভেম্বর থেকে কাঁচাবাজারে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সরকারের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনূস নিজেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫-এ প্লাস্টিককে “পরিবেশের বিষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ: * কাঁচাবাজারে পলিথিনের ব্যবহার অব্যাহত * উৎপাদন ও সরবরাহে তেমন প্রভাব নেই * বাস্তবায়নে নজরদারির ঘাটতি অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের নামে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি। জবাবদিহির প্রশ্ন শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে একাধিক প্রশ্ন করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য দেননি বলে জানা গেছে। লিখিত প্রশ্ন পাঠানোর পরও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা থেকেই আরও কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে: * পাথর কোয়ারি বন্ধের আইনি ভিত্তি কী? * আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ কোথায়? * নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা কতটুকু ছিল? সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দীর্ঘদিনের পরিবেশ আন্দোলনের একজন পরিচিত মুখ হলেও প্রশাসনিক দায়িত্বে তাঁর ভূমিকা নিয়ে এখন বিতর্ক তীব্র। সিলেটের পাথর কোয়ারি থেকে শুরু করে পলিথিন নিষিদ্ধকরণ—দুই ক্ষেত্রেই নীতি, বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর অনেকই এখনও প্রমাণিত নয় এবং তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অভাব বিষয়টিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে। একটি বিষয় স্পষ্ট—পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সুশাসনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখনো বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীর আবদুর রহমান ওরফে ‘শামীম বাবা’কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি কোনো মামলা পর্যন্ত দায়ের হয়নি—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে জানাজা শেষে তাকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তে নৃশংসতার চিত্র হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতের মুখমণ্ডলে ১৫ থেকে ১৮টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া মাথা, ঘাড় ও পিঠে গভীর জখম ছিল। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ। ঘটনার সূত্রপাত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, একটি ৩৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভিডিওটি শেয়ার হতে থাকে এবং শনিবার সকাল নাগাদ তা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত সাতটি আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়—যার মধ্যে কিছু পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এর একটি ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’ নামে পেজ বলে জানা গেছে। হামলা: পূর্বপরিকল্পিত নাকি আকস্মিক উত্তেজনা? শনিবার দুপুরের দিকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্লোগান দিতে দিতে দরবারে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে বের করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সকালে স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বললেও দরবারে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান। কিন্তু পরে ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হয়েছে, হামলাটি সংগঠিত ছিল।” এই বক্তব্য থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পনার তথ্য কি আগে থেকেই ছিল, যা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি? পুলিশের অবস্থান: শনাক্ত হলেও গ্রেফতার নয় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিও প্রচারকারী কয়েকটি আইডির অ্যাডমিনের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। নিশ্চিত হয়ে আইনের আওতায় আনা হবে।” মামলা হয়নি কেন? নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবারের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপদ নয়। নিহতের বড় ভাই বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা মামলা করবো।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে, যা এখনো হয়নি। নিরাপত্তা জোরদার, তবে আতঙ্ক কাটেনি ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে’ বলা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক রয়ে গেছে। এমনকি পাশের গ্রামের লালনশিল্পী বাউল শফি মণ্ডলের বাড়িতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। পটভূমি: বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও পূর্বের গ্রেফতার আবদুর রহমান ওরফে শামীম নিজেকে ‘সংস্কারপন্থি ইমাম’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৮ সালে নিজের দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সালে একটি শিশুর দাফনকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও তাকে আলোচনায় আনে। ওই বছরই ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রশ্নগুলো রয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটি কতটা সত্য ছিল? স্থানীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পিত উসকানি ছিল কি? পুলিশ আগাম তথ্য পেয়েও কেন হামলা ঠেকাতে পারেনি? শনাক্ত হওয়ার পরও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হচ্ছে না কেন? কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি সামাজিক উত্তেজনা, গুজবের প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও দায়ীদের বিচারের মধ্য দিয়েই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি অতি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত একাধিক কর্মকর্তা বহাল থাকায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ ও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে—সাবেক শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এখনও মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিনিয়র সচিবের দপ্তরকে ঘিরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তারা প্রশাসনিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তদবির বাণিজ্য, এবং প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা অর্জনের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে: ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা বি এম সাইফুল ইসলাম প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াসিন ফিরদৌস প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল কামার অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে চাকরিতে প্রবেশ করেন এবং পরবর্তীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশে সচিবালয়ে পদায়ন পান। সাবেক সচিবদের সঙ্গে যোগসূত্র অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতীতে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে নানা অভিযোগে তদন্তাধীন বা কারাবন্দী। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন। তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমেই নয়, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণেও সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কর্মচারীদের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ‘ম্যানেজ’ করে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চালু রয়েছে একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেকেই ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শুধুমাত্র এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের কারণে।” দুবাই মিশন নিয়ে প্রশ্ন সম্প্রতি জারি হওয়া একটি সরকারি আদেশে (GO) কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় থাকা কয়েকজনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে— এক যুগ্ম সচিবের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মিশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নিয়োগ ও সুযোগপ্রাপ্তি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে এছাড়া, সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট অভিযোগের কারণে একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও প্রভাব কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ছায়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশাসনিক তথ্য ফাঁস হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।” অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও হতাশা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও যদি বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন, তবে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্নের মুখে প্রশাসন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন— ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কীভাবে এই কর্মকর্তারা এখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে বহাল রয়েছেন? বিশ্লেষকদের মতে, “এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট যদি দ্রুত ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর বাঘা উপজেলার জোত কাদিরপুর গ্রামের নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদ (২৯) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা সম্পর্ককে বৈবাহিক জীবনে রূপান্তর করার আশায় জীবনের সর্বস্ব বাজি রাখেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে ব্যর্থ হওয়া প্রেমিক বিপ্লব হোসেন (৩০)‑এর বিরুদ্ধে ফিরোজ দায়ের করেছেন প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত ও মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি এর অভিযোগ। স্কুল জীবন থেকে শুরু প্রেম — স্বপ্ন ভাঙা বাস্তবে ফিরোজ ও বিপ্লব একই উপজেলার ইসলামী একাডেমিতে পড়াশোনা করার সময় থেকেই পরিচিত। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিপ্লবের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় বহু বছর ফিরোজের বাড়িতে থাকতে হয় তাকে, এমনকি এলাকাবাসীর চোখেও তাদের সম্পর্ক “স্বামী‑স্ত্রীর মতোই” দেখা যেত। শিশু বয়স থেকেই নৃত্যে প্রতিভা থাকা ফিরোজ পরবর্তী সময়ে সাভার শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমিতে নৃত্য শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকেন এবং “নাচের পুতুল একাডেমি” পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন। ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর দু’জন ঢাকায় জড়িয়ে ওঠে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে। রুম ভাড়া নিয়ে তারা এক ছাদের নিচে বসবাস করেন ও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সময়ের সঙ্গে ফিরোজ নিজে একটি নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠানও শুরু করেন। বৈবাহিক জীবনের আশায় লিঙ্গান্তর ফিরোজ জানায়, বিপ্লব তাদের সম্পর্ককে শুধু “ডেটিং” হিসাবে দেখেননি, বরং দাম্পত্যে রূপ দিতে চাইতেন — এই প্রতিশ্রুতিতে তিনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভারতে গিয়ে লিঙ্গান্তর অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা নেন। বিপ্লব তাকে বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন, ভারতে চিকিৎসার জন্য মানসিক ও আর্থিক সাহয্যও করেছেন বলে ফিরোজ জানিয়েছেন। ফিরোজের চিকিৎসা ছাড়াও ঢাকায় থাকার সময়ে বিপ্লব প্রায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা হত। ভারতে থাকা অবস্থায় ফেরোজ এবং বিপ্লব শ্রীমংলে भ्रमণও করেন। দেশে ফেরার পর ঘটনা উল্টে যায় প্রায় এক বছর চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পরই ফিরোজ জানতে পারেন বিপ্লব অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন বরিশালে। ফিরোজ দাবি করেন, এই খবর তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। এতে শেষ নয় — তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লব তাঁর উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা দিয়ে বিপ্লব ও তার পরিবার বাড়ি‑গাড়ি করেছে এবং লেনদেনের প্রায় ৩০ লাখ টাকা দালিলিক প্রমাণও রয়েছে, ফিরোজ জানান। অর্থ আত্মসাত ও প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ফিরোজ দাবি করেন, বিপ্লব টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা না করে বরং এখন প্রশাসনিকভাবে তাকে হয়রানি করছে। সম্প্রতি বিপ্লব এক ফরমে জোর করে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করেন বলে ফিরোজের অভিযোগ, যার কারণে তাঁকে বরিশালে থাকা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রতিবাদ ও বিচার দাবি ফিরোজ জানিয়েছেন, বিপ্লব তাকে মিথ্যা বিয়ে‑প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করেছে, যার ফলে তিনি জীবনের অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিপ্লবের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ ও ন্যায়ের বিচার চাই। প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য: বিপ্লবের পাল্টা অভিযোগ অভিযোগের বিষয়ে বিপ্লব হোসেন ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিরোজ টাকাপয়সা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিজেকে “হতাহত” দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে তিনি পূর্বে ফিরোজের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পেছনের প্রেক্ষাপট: সম্পর্ক, সমাজ ও আইনি জটিলতা দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও বৈবিক দাম্পত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা, বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা আছে‑না, এ ধরনের প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে বিচার দাবির আলোচনায়। অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের ঘটনায় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর আনন্দ‑আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সমাজে ব্যাপক সংবেদনশীল। যৌথ অবস্থান থেকে শুরু করে একতরফা প্রতিশ্রুতি, লিঙ্গান্তর সিদ্ধান্ত ও পরে জীবন‑জীবিকার বিবাদ — এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল ও নৈতিক, আইনি, সামাজিক দিক থেকে গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। লিঙ্গান্তর ও বাংলাদেশে আইনি প্রেক্ষাপট লিঙ্গ পরিবর্তনের আইন বাংলাদেশে ২০১৩ সালে “হিজড়া ও তৃতীয় লিঙ্গ সনদ” সংক্রান্ত আইনি কাঠামো চালু হয়েছে। এই আইনের অধীনে একজন ব্যক্তি লিঙ্গ পরিবর্তনের পর সরকারি সনদ পেতে পারে, যা স্কুল, ব্যাংক, ভোটার নিবন্ধন ইত্যাদিতে ব্যবহারযোগ্য। চিকিৎসার মাধ্যমে লিঙ্গান্তর (মেডিকেল প্রক্রিয়া) আইনের আওতায় সম্পূর্ণ বৈধ, তবে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। আইনি সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের বিয়ের আইন (ইসলামী, হিন্দু বা সাধারণ) সাধারণত পুরুষ ও নারী—এই সনাক্ত লিঙ্গের ভিত্তিতে বিবাহ স্বীকৃতি দেয়। লিঙ্গান্তর হওয়ার পর আগের প্রেমিক/প্রেমিকা সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেয়া জটিল। তাই ফিরোজের লিঙ্গান্তর হয়ে বৈবাহিক স্বীকৃতি আশা করা আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের আইনি প্রেক্ষাপট প্রয়োগযোগ্য ধারা ফিরোজের অভিযোগ অনুযায়ী বিপ্লব: মিথ্যা আশ্বাসে লিঙ্গান্তর করানোর প্রলোভন দিয়েছে। উপার্জিত ৫০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন (Penal Code) অনুযায়ী: ধারা ৪২০ : প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ অর্জন → শাস্তিযোগ্য। ধারা ৪০৬ : বিশ্বস্ততা ভঙ্গ করে সম্পদ হরণ → শাস্তিযোগ্য। প্রমাণ ও পদক্ষেপ ফিরোজের কাছে থাকা লেনদেনের দালিলিক কাগজপত্র, ব্যাংক ট্রান্সফার, সাক্ষী — শক্ত প্রমাণ। স্থানীয় থানায় অভিযোগ (এফআইআর) দায়েরের পর মামলা গ্রহণ ও তদন্ত শুরু হয়। আদালতে সিভিল ও ফৌজদারি মামলা উভয়ই সম্ভব। প্রশাসনিক ও পেশাগত প্রতিকার প্রশাসনিক পদক্ষেপ জোরপূর্বক স্বাক্ষর বা দলিল গ্রহণের অভিযোগে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা। যদি প্রমাণিত হয় যে ফিরোজকে হয়রানি করা হচ্ছে, রিপোর্ট দিয়ে প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও নোটিশ পাওয়া যায়। পেশাগত/অর্থনৈতিক প্রতিকার সিভিল মামলা: আত্মসাত করা অর্থ ফেরত আদায়। মর্যাদা ক্ষতিপূরণ: সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি মানিয়ে আদালত ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানিক সহায়তা: তৃতীয় লিঙ্গের জন্য থাকা অধিকার সংরক্ষণকারী এনজিও/সংগঠন যেমন কর্ন ইত্যাদি, আইনগত সহায়তা বা মিডিয়েশন দিতে পারে। সামাজিক ও নৈতিক বিবেচনা লিঙ্গান্তর ব্যক্তি ও তাদের পরিবার সামাজিক বৈষম্য, মানসিক চাপ ও ভীতি সম্মুখীন হতে পারে। এই ধরনের ঘটনা আইনি ও সামাজিক শিক্ষা হিসেবে গণ্য হয়, যাতে: লিঙ্গান্তর ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও লিখিত সমঝোতা থাকে। আর্থিক লেনদেন ও প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে লিখিত চুক্তি বা ব্যাংক রেকর্ড নিশ্চিত করা হয়। সংক্ষিপ্ত পরামর্শমূলক পথ লেনদেন ও প্রতারণার প্রমাণ হাতে রেখে ফৌজদারি মামলা দায়ের। প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগ পুলিশের কাছে উপস্থাপন। সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক পুনরুদ্ধারের জন্য সিভিল মামলা। স্থানীয় তৃতীয় লিঙ্গ অধিকার সংস্থা‑র সহায়তা গ্রহণ। ভবিষ্যতের জন্য লিখিত চুক্তি বা বৈধ প্রমাণ নিশ্চিত করা। আইনজীবী নিয়োগ: ফৌজদারি ও সিভিল মামলা প্রস্তুতি। মানসিক সহায়তা: কাউন্সেলিং। এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অর্থ, সম্পর্ক ও মানসিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ। পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি। নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে। একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে। যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ: পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই, প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”। উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বরিশাল অফিস : ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়। যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়। ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন। ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত ‘বাবে রহমত’—বাহ্যিকভাবে এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র—যেখানে আধ্যাত্মিকতার আবরণে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক জটিল, অস্বচ্ছ আর্থিক সাম্রাজ্য। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল সম্পদ। অনুসন্ধান বলছে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশই অপ্রকাশিত। অভিযোগ রয়েছে, ভক্তদের দানের অর্থই বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নাকি সম্পদের পুনর্বিন্যাস? প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার সাত সন্তানের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা হয়। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ জমি, ভবন এবং ব্যাংক আমানত তাদের নামে হস্তান্তর হলেও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—দরবারকেন্দ্রিক অনুদানই ছিল প্রধান অর্থের উৎস। সন্দেহজনক লেনদেন ও অদৃশ্য কোম্পানির জাল ব্যাংক নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে শতকোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মাধ্যমে, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের ধরনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, পুরানা পল্টন, মিরপুর, জুরাইন, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও জমি। ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’—এমন নামের ভবনগুলো শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং সম্পদ বিস্তারের চিহ্ন হিসেবেও উঠে এসেছে। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার ঘিরে রয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছু অংশ রাজউকের জমির ওপর নির্মিত। যদিও বহুবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে অন্তত ৩০ জেলায় দরবার, খানকা, জমি ও স্থাপনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, রংপুর—প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। এই বিস্তৃতি শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমায় নয়—বরং একটি সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশে অর্থের ছাপ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরবার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য। সন্দেহ রয়েছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি অনুসন্ধানে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিঝিলে এক ব্যক্তির জমিতে উটের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি—জাল দলিল, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। ‘আধ্যাত্মিক’ কেন্দ্রের ভেতরের বাস্তবতা দরবার কমপ্লেক্সে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ সীমিত। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশেষ অনুমতি। ভেতরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত বাহিনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা উপকরণ—যা একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ দেওয়ানবাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবস্থান দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব সম্পদ পৈতৃক এবং বৈধ উৎস থেকেই অর্জিত। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানানো হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেছে, এসব বিষয় আদালতে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সমাধান হবে। প্রশাসনিক নীরবতা—সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিস্তৃত সম্পদ, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দখল অভিযোগের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাব সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বহুবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি—যা প্রশাসনিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ—একদিকে আধ্যাত্মিকতার বার্তা, অন্যদিকে অস্বচ্ছ সম্পদ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং দখলের অভিযোগ। এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়—বরং রাষ্ট্রীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে। অনুসন্ধানের শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও গভীর তদন্ত। দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ বাংলাদেশের একটি পরিচিত তাসাউফ-ভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত "মোহাম্মদী ইসলাম" প্রচারের জন্য পরিচিত, যা এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (যিনি দেওয়ানবাগী হুজুর নামেই বেশি পরিচিত) প্রবর্তন করেন। বাবে রহমত : বলতে সাধারণত ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ শরীফ দরবারকে বোঝানো হয়। এটি এই দরবার শরীফের মূল কেন্দ্র বা সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। মূল তথ্য: প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত 'বাবে রহমত' এই দরবার শরীফের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাতা: সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (১৯৪৯–২০২০)। তিনি নিজেকে "সুফি সম্রাট" হিসেবে পরিচয় দিতেন। মতাদর্শ: এই প্রতিষ্ঠানটি 'মোহাম্মদী ইসলাম' নামক নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন প্রচার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রসমূহ: দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বেশ কিছু শাখা বা দরবার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাবে রহমত: মতিঝিল, ঢাকা (প্রধান কার্যালয়)। বাবে মদিনা: নারায়ণগঞ্জ। বাবে জান্নাত: দেওয়ানবাগ, নারায়ণগঞ্জ। এই দরবার শরীফটি তার বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিরা এই দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।