Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

ঘুস ছাড়া কাজ করেন না রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার
রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার

মামুনুর রশীদ নোমানী :
টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। ঠিকাদাররা কাজ করলেও অর্থ না দিলে বিল হয় না। এমনকি টাকা না দিলে ঠিকাদারদের জামানতও ফেরত পান না। জামানত ফেরত পেতেও দিতে হয় ১৫ পার্সেন্ট। এ হচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের ফিরিস্তি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পতিত আওয়ামী লীগের নেতাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করেন না এ অভিজিৎ মজুমদার। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত  দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিযেছিল আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুরের মডেল মসজিদ থেকে ভায়া মঠবাড়ি ইউপি অফিস হয়ে নাপিতেরহাট পর্যন্ত ৩১ মিটার দৈর্ঘ্যের দু’টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য চার কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। দেড় বছরেও কাজটি শুরু হয়নি। আরো একাধিক কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকৌশলীর গাফলতির কারণেই ব্রিজের কাজ শুরু হচ্ছে না।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আক্কেল মিয়ার বাজারসংলগ্ন আয়রন ব্রিজের কয়েকটি লোহার পাত ও নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে চোরচক্র। ওই সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও মালবাহী ট্রলি যাতায়াত করে। তিন বছর আগে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিলো। তবে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের বিষয়ে এলাকার কেউই কিছু জানেন না।

হাশেমের পুল খ্যাত ব্রিজটির বিষয়ে (কালভার্ট) এলাকার লোকজন বলেন, এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে ২০ বছরও হয়নি; মানও ভালো রয়েছে। এটি ভেঙে নতুন ব্রিজ করার কোনো প্রক্রিয়া আছে কি না? সে বিষয়ে এলাকাবাসী কিছুই জানেন না। তারা মনে করেন, ব্রিজটি অন্তত আরো ২০ বছরে কিছুই হবেনা- তাই ভেঙে নতুন ব্রিজ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে কিছুটা সংস্কার করা যেতে পারে।

এ ছাড়াও রাজাপুর উপজেলার মোল্লারহাট-শ্রীমন্তকাঠি এবং পিংড়ি ভায়া বলারজোড় হাঁট জিসি সড়কের ৯ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ব্রিজের দুইপাশের নামার পথ (এপ্রোচ) নির্মাণ করা হয়নি। বছরখানেক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখায় জনদুর্ভোগ লাঘবের বিপরীতে আরো কয়েকগুণ বেড়েছে। এপ্রোচ নির্মাণ না হওয়ায় ওই সড়কে গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। ব্রিজটি নির্মাণে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ৫৯১ টাকা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রাজাপুর উপজেলার কাটাখালি হাট ভায়া পশ্চিম গালুয়া-দুর্গাপুর এলাকার খালের উপরে ২২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ, আঙ্গারিয়া সিরাজ মেম্বারের বাড়ি হতে গালুয়া-কৈবর্তখালী হয়ে ফকিরহাট এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ, উপজেলার কাটাখালি হাট ভায়া ভান্ডারিয়া সীমান্ত শাহজাহান মিয়ার বাড়ির সামনে এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০মিটার প্রস্থ, উপজেলার কাঁচারীবাড়ি হতে কাটাখালি হাট পর্যন্ত লতিফ সিকদারের বাড়ি এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ আয়রন ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দও কার্যাদেশে দেয়া হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দুই কোটি এক লাখ ৮৬ হাজার ৪২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেড় বছরে তিনটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ কাজ হয়েছে ১০ শতাংশ। পুরাতন ব্রিজগুলো ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি রাজাপুর উপজেলা ঝালকাঠি

অভিজিৎ মজুমদার এখনো রাজাপুর এলজিইডির ওয়েবসাইট থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনার ছবি রেখে দিয়েছেন।ওয়েব সাইট থেকে স্কিনশর্টের মাধ্যমে নেয়া চিত্র।

ঝালকাঠি জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ইলিয়াছ সিকদার ফরহাদ বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ করা হয় মানুষের দুর্ভোগ দূর করার জন্য। এলাকার বৃহত্তর জনস্বার্থে মানুষকে শান্তি দেয়ার জন্য। কিন্তু সেই কাজ শুরু করে ফেলে রাখা, অর্ধেক সম্পন্ন করা অথবা শেষ করে এপ্রোচ (ঢাল) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করা- এতে মানুষের দুর্ভোগ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার, কাজের বিল, জামানত ফেরতসহ কোনো কাজের ফাইলেই হাত দেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার জানায়, ওয়ার্ক অর্ডারে ৩ পার্সেন্ট থেকে ৫ পার্সেন্ট, বিল করাতে ৫ পার্সেন্ট থেকে ৭ পার্সেন্ট, জামানতের টাকা তুলতে ৩ পার্সেন্ট টাকা তাকে দিতে হয়।

এ ছাড়াও নিম্নমানের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। প্রায়ই তিনি থাকেন অফিসের বাইরে। সকালে কখনো ১২টার আগে অফিসে আসেন না। জিজ্ঞেস করলে বলে সাইডে ছিলাম। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তিনি থাকেন রাজাপুরের বাইরে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের পরামর্শেই চলেন তিনি। সম্প্রতি একটি খাল খনন নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে, যা নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিজিৎ মজিমদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, তিনি রাজাপুরের প্রকৌশলী হলেও অধিকাংশ সময় কাটান ঝালকাঠি জেলা শহরে। এছাড়া তার সাথে সাবেক এক ইউএনওর সাথে দ্বন্ধের কারনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তৎকালীন সময়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড।

এদিকে, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে অভিযোগ দিয়েছিল , রাজাপুরের মৃত মোকলেস হাওলাদারের পুত্র আব্দুল হাকিম হাওলাদার। দুদকে দেয়া অভিযোগে আব্দুল হাকিম উল্লেখ করেন,
ব্রীজ হওয়ার দরুন যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।রাজাপুর আদর্শ পাড়া লেবুবুনিয়া প্রবেশ মূলে এলজিইডি কর্তৃক নির্মাণকৃত ব্রীজের কারণে। আমাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এলজিইডি হতে ইস্টিমেট কালীন আমাদের আশ্বস্ত করেছিলো যে, আমাদের যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করে দিবে কিন্তু তা দেয়নি। বারবার থানা ইঞ্জিনিয়ারকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও আমরা সমাধান পাইনি। বর্তমানে আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ।
দুদক গনশুনানীতে ডেকে নেয় রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারকে।অদৃশ্য কারনে দুদকের হাত থেকে বেচেঁ যায় অভিজিৎ মজুমদার। দুদকে অভিযোগ দেয়ার কারনে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এক সনাতন ধর্মের লোক দিয়ে মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে অভিজিৎ মজুমদার।

এলজিইডির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাৎ :
রাজাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিসের সাথে যোগসাজসে অভিজিৎ মজুমদার তার ব্যাংক হিসেবে টিএ বিলের সকল অর্থ নিয়ে গেছেন।
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণের খরচ বাবদ প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার জন্য টিএ বিল দাখিল করেন। টিএ বিল পাশ হলেও কাউকে তিনি সেই বিল প্রদান করেন নি।টিএ বিল না পাওয়ায় রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিজিৎ এর ওপর ক্ষুব্দ।সুত্র জানায়,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাতের জন্য দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিজ একাউন্টে নিয়ে গেছেন।অথচ এলজিইডির অন্য সকল উপজেলায় টিএ বিল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ একাউন্টে চলে গেছে।এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিলের অর্থ ফেরৎ দেন অভিজিৎ মজুমদার।

এসব বিষয়ে অভিজিৎ মজুমদার বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হযেছে তা অসত্য।তবে দুদকের গনশুনানীতে অভিযোগের কথা স্বিকার করে বলেন,আমাকে দুদক গনশুনানীতে ডেকেছিল।

উল্লেখ্য,রাজাপুর এলজিইডিতে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তাদের বদলী করা হলেও ঘুসের বিনিময়ে রাজাপুরে এখনো বহাল তবিয়তে অভিজিৎ মজুমদার।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
গণপূর্তের প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ: অনুসন্ধানে যা জানা গেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খুলনাকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী টেন্ডার সিন্ডিকেট পরিচালনা, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নির্বাচন এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে এমন অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খুলনায় দীর্ঘদিনের প্রভাব অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর অমিত কুমার বিশ্বাসের প্রথম কর্মস্থল ছিল খুলনা। কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য সময় তিনি সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী (গণপূর্ত বিভাগ-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় খুলনায় দায়িত্বে থেকে বিভাগ-১, বিভাগ-২ এবং বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও একসঙ্গে পালন করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্য সরকারি দপ্তরের বদলি ও দায়িত্ব সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করলেই যাচাই করা সম্ভব। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের একাধিক প্রকল্পে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ, টিটিসি নির্মাণ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবন নির্মাণসহ একাধিক প্রকল্পে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব প্রকল্পে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।  গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও অনিয়মের অভিযোগ খুলনার বাইরে গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালেও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহীত কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া হয়। পটুয়াখালীতে বদলির পরও একই অভিযোগ ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর অমিত কুমার বিশ্বাসকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে গিয়েও প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনার বাইরে গিয়ে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (LTM)-এর পরিবর্তে ওপেন টেন্ডার মেথড (OTM) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে যেসব টেন্ডারের আইডি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 1082830,1078462,1078463,1072870,1072103,1072880,1072852,1071872,1070585,1066538,1067779,1067780,1070581 এসব টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদন নথি পর্যালোচনা করলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন অনুসন্ধানে অমিত কুমার বিশ্বাসের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে— খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় একটি ছয়তলা ভবন। ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা আয়তনের মাছের ঘের। ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে দুটি ফ্ল্যাট। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। গাজীপুরে রিসোর্ট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০ একর জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত থাকার অভিযোগ। এছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ভারতে সম্পদ এবং অর্থপাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।  তদন্তের দাবি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, টেন্ডার প্রক্রিয়া, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নথিপত্র পর্যালোচনা করলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবর

বিএডিসি’র প্রকল্প পরিচালক মুজিবরের দুনীতি,সার গুদাম প্রকল্পে ৩৫০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জিত দে'র বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার ভুয়া বিল ও দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদকে ঘিরে ঘুষ, অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ

প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রকৌশলী বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার প্রভাব, বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে।  বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে তাঁর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর সমপর্যায়ের, এমনকি তারও বেশি। ক্ষমতার উত্থান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদরুল আলম খান তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে বদরুল আলম খান বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, "আসিফ" নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকটি থানা ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও এই প্রভাব খাটানো হয়েছে।  মিরপুর আবাসিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভাগে না দিয়ে অন্য বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বদরুল আলম খান। অতীত কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে।  যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বদরুল আলম খানের নির্দেশ অমান্য করলে বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
কাজী ওয়াছি উদ্দিন

গুলশানের ৩০০ কোটি টাকার সরকারি প্লট: ৪৭ বছরের পুরোনো রায়, হারানো নথি ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের অনুসন্ধান

রাজশাহীর আরসি ফুড কায়ছার আলীকে খুঁজছেন খাদ্য কর্মকর্তারা, ঘুষের টাকা ফেরত চান

গৌরনদীতে খাল পুনঃখনন: অবৈধ স্থাপনা বহাল, সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে প্রকল্প

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল
বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

বরিশাল অফিস :   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বরিশাল বিভাগ, অঞ্চল এবং জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদার নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করেছেন।   দুই দশকের বেশি সময় বরিশালে অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যশোর জেলার বাসিন্দা মোঃ রহমত-ই-খুদা বর্তমানে এলজিইডি বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল জেলায় প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই অঞ্চলে কর্মরত থাকার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ঠিকাদার মহলের সঙ্গে তার বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে তার প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশালের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রহমত-ই-খুদা। বিশেষ করে তৎকালীন বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বলয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল । অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বরিশালের মাহফুজ খান, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, ভোলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদারিত্বের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।   বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিজেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর  সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটিতে তার সদস্য নম্বর ৫৭ বলে জানা গেছে। কমিটির অনুমোদনপত্রে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সাংগঠনিক পরিচয়ের পর থেকেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি, পদায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বদলির আদেশ জারি হলে তা পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য তিনি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করতেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসন শাখার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনিয়রদের উপেক্ষা করে দায়িত্ব? আরও একটি অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে একাধিকবার রহমত-ই-খুদা ওই দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই কার্যালয়ে তার চেয়ে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ওই দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রশ্ন সরকারি চাকরি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় পর কর্মকর্তাদের বদলির বিধান থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কারণে বদলির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলিসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারি হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের দাবি, রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা মোঃ রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।   সুশাসনের প্রশ্ন? প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে শুধু একজন কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডির প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতাও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেন

এনবিআর কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমির

খানজাহান আলীর মাজারের শেষ কুমির সরানো হলো কেন? শিশুমৃত্যু, অব্যবস্থাপনা ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অনুসন্ধান

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম

৫৩ ফ্ল্যাট থেকে শতকোটি টাকার জমি: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0