ইত্তেহাদ নিউজ : ঘূর্ণিঝড় সিডর-এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রায় দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রানাপাশা ইউনিয়নের ভেরনবাড়িয়া এলাকায় খালের ওপর নির্মিত প্রায় ২২ মিটার দীর্ঘ লোহার ব্রিজটি সিডরের সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে ব্রিজটি দিয়ে ভেরনবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই একটি অস্থায়ী সাকো নির্মাণ করেন। তবে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা আনিচুর রহমান ও মিরাজুল ইসলাম বলেন, ভেরনবাড়িয়া রানাপাশা ইউনিয়নের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হলেও ব্রিজটি বছরের পর বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। “নিজেদের উদ্যোগে সাকো বানালেও সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রতি বছরই এটি নষ্ট হয়ে যায়, আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়,” জানান তারা। আরেক বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি বলেন, এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কাছেই অবস্থিত উত্তর ভেরনবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সাকো পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। “অভিভাবকেরা সবসময় উদ্বেগে থাকেন,” বলেন তিনি। স্থানীয় বাজারগুলোর ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আগে সহজেই মালামাল পরিবহন করা গেলেও এখন বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আজিজুল হক জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ব্রিজটির বিষয়ে অবহিত হয়েছেন তারা। “খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গত ২৪ মার্চ ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি এর আগে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। দুর্নীতির অভিযোগ ও তদন্ত মো. আব্দুর রশীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময় সরকারি পদে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের নথিতে উল্লেখ আছে, এসব সম্পদের একটি বড় অংশ তিনি আত্মীয়স্বজনের নামে গোপনে অর্জন করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন এই নিয়োগের পরপরই প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এতে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ও পরে দুর্নীতি দমনের কঠোর অঙ্গীকার করেছিলেন। ফলে এমন নিয়োগ সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মন্ত্রীও ছিলেন অজ্ঞাত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর বিভিন্ন মহল থেকে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘সিন্ডিকেট’ অভিযোগ নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, একটি প্রভাবশালী প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের নিয়োগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। দ্রুত ইউ-টার্ন সমালোচনার মুখে মো. আব্দুর রশীদ মিয়া দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ইতোমধ্যে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে নিয়োগটি টিকছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হবে। রোববারের মধ্যেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার হতে পারে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব এই ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি)-এর এক উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি এবং বিল উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সরকারি অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের কারণে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ । তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. ঘুষ ও বিল বাণিজ্য ঘুষের হার: অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। ঠিকাদারদের কাছ থেকে ওয়ার্ক অর্ডারে ৩-৫%, বিল পাসে ৫-৭% এবং জামানত ফেরত দিতে ৩-১৫% পর্যন্ত কমিশন বা ঘুষ দাবি করেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে । বকেয়া বিল: টাকা না দেওয়ায় অনেক ঠিকাদারের বিল আটকে রাখা এবং জামানতের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে [১.১.১]। ২. উন্নয়ন কাজে স্থবিরতা ও ভোগান্তি অর্ধসমাপ্ত প্রকল্প: উপজেলায় এলজিইডির অধীনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প (যেমন- রাস্তা ও সেতু) দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে [১.৩.১]। কাজ শুরু করে মাঝপথে ফেলে রাখা বা ড্রেন ও অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি না করার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনিয়ম: নিম্নমানের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করার পেছনে তার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে । ৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিযোগ কর্মস্থলে অনুপস্থিতি: তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং দিনের অধিকাংশ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই দুপুর ১২টার আগে তাকে অফিসে পাওয়া যায় না । রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এখনো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের পরামর্শে কাজ পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি একটি খাল খনন কমিটি গঠনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । এই সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছেন বলে জানা গেছে । রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া । ২. ৪ কোটি টাকার ঝুলে থাকা প্রকল্প ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় । গণশুনানিতে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী: বরাদ্দ দেওয়ার দেড় বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়নি । এলাকার আরও একাধিক উন্নয়ন কাজ এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে । ৩. অনিয়ম ও হয়রানির মাত্রা প্রকাশিত সংবাদ ও স্থানীয় অভিযোগ থেকে প্রাপ্ত আরও কিছু তথ্য: হয়রানি: ঠিকাদারদের অভিযোগ, বিল বা জামানতের টাকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং কমিশন না দিলে নানা অজুহাতে ফাইলে ত্রুটি ধরা হয় । আচরণগত সমস্যা: অনেক সময় সেবাগ্রহীতা বা ঠিকাদারদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তাকে পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন । উল্লেখ্য যে, সারাদেশে এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তরে দুদকের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের কার্যক্রমও নজরদারিতে রয়েছে । রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী তার অফিস করার চিত্রটি নিম্নরূপ: দেরিতে উপস্থিতি: অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অধিকাংশ দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে উপস্থিত হন না । কর্মস্থলে রাত্রিযাপন না করা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিত সেখানে থাকেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি ঝালকাঠি জেলা শহরে কাটান বলে জানা গেছে । জনসাধারণের ভোগান্তি: তিনি নিয়মিত অফিসে না থাকায় এবং সময়মতো তাকে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ঠিকাদারদের বিভিন্ন জরুরি কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং তারা হয়রানির শিকার হন । অফিস চলাকালীন অনুপস্থিতি: স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন না অথবা অফিস ছুটির আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন ।এই অনিয়মিত উপস্থিতির প্রতিবাদে এবং তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেছেন । রাজাপুর উপজেলার এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (যেমন বরখাস্ত বা স্থায়ী অপসারণ) নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে: দুদকের তদন্ত: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক গণশুনানিতে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় । দুদক বর্তমানে এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গণশুনানিতে তাকে ডাকা হয়েছিল। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি: এলজিইডির সদর দপ্তর এবং বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো প্রাথমিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় । বদলির সম্ভাবনা: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ এবং মানববন্ধন হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ বা বদলি করার একটি গুঞ্জন বা প্রক্রিয়া জেলা পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত অফিস আদেশ প্রকাশিত হয়নি । বর্তমানে তিনি তার দায়িত্ব পালন করছেন, তবে ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা এবং ঘুষের অভিযোগের কারণে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন । মানববন্ধনের সংবাদ: গত বছর রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ তার অপসারণ এবং দুর্নীতির বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন। এই সংবাদটি বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিও প্রতিবেদন: স্থানীয় সংবাদকর্মীরা মানববন্ধনের সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো (যেমন- ৫% থেকে ১৫% কমিশন বাণিজ্য) নিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছিলেন । অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে থাকার পেছনে বেশ কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কথা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও জনগণের আলোচনায় উঠে এসেছে: ১. বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব: স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ আছে যে, তিনি এখনো সেই রাজনৈতিক বলয়ের পরামর্শ এবং আশীর্বাদ নিয়ে কাজ করছেন । ২. ঊর্ধ্বতন মহলের যোগসাজশ: ঠিকাদারদের দাবি, তিনি যে ঘুষ ও কমিশনের টাকা আদায় করেন, তার একটি বড় অংশ এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই "কমিশন চেইন" বা সিন্ডিকেটের কারণেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে মনে করা হয় । ৩. প্রশাসনিক আমলাতন্ত্র: তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও আইনি জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক ধীরগতির সুযোগ নিয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ লোপাট করার মতো প্রশাসনিক শক্তিও তিনি ব্যবহার করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ৪. ঠিকাদার সিন্ডিকেট: উপজেলার কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সাথে তার ব্যবসায়িক গোপন আঁতাত রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি নিজেদের স্বার্থেই তাকে ওই পদে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। সারসংক্ষেপে, রাজনৈতিক মদত এবং দাপ্তরিক দুর্নীতির সিন্ডিকেটই তার প্রধান শক্তির উৎস বা "জোড়" হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করা হয়। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুদকের গণশুনানি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ (অক্টোবর ২০২৫) ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের ১৮৬তম গণশুনানিতে অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয় । অভিযোগের ধরণ: ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ব্রিজের কাজ দেড় বছরেও শুরু না করা, রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমিশন দাবির বিষয়গুলো শুনানিতে উঠে আসে । তাৎক্ষণিক নির্দেশনা: শুনানিতে উপস্থিত দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন । ২. এলজিইডিতে দুদকের বিশেষ অভিযান (এপ্রিল ২০২৫) এর আগে ২০২৫ সালে অভিযান চালায় দুদক এই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র এবং ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়। সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে যা বর্তমানে দুদকের কেন্দ্রীয় ল্যাবে বিশ্লেষণাধীন রয়েছে । ৩. বর্তমান অবস্থা (মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত) বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী: স্থবিরতা: ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের পদত্যাগের ফলে কমিশনের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কিছুটা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে । তদন্ত কার্যক্রম: তবে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (পিরোজপুর) থেকে নিয়মিত রুটিন তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে । ব্যক্তিগত জবাবদিহি: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গণশুনানিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে অভিজিৎ মজুমদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করা হয়েছে । দুদকের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিক মামলার জন্য আরও কিছু সময় লাগতে পারে। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অভিজিৎ মজুমদারের যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ দাপ্তরিক নথিতে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদ এবং প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি প্রায় ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে (২০২২ সাল থেকে বর্তমান ২০২৬ পর্যন্ত) রাজাপুরে কর্মরত আছেন। তার কর্মকাল নিয়ে প্রাপ্ত কিছু প্রাসঙ্গিক তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ২০২২ সাল থেকে অবস্থান: ঝালকাঠি জেলা এলজিইডির বিভিন্ন দাপ্তরিক সভায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই তার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্প: তার সময়েই ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বড় বড় প্রকল্পগুলো (যেমন- ৪ কোটি টাকার আরসিসি ব্রিজ) অনুমোদিত ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে । বর্তমান সময়: তিনি এখনো (মার্চ ২০২৬) রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন । সাধারণত উপজেলা পর্যায়ে একজন প্রকৌশলীর মেয়াদকাল ৩ বছর হয়ে থাকে, যা তিনি ইতিপূর্বেই পূর্ণ করেছেন। তার এই দীর্ঘ অবস্থানের কারণেই স্থানীয় ঠিকাদার ও জনগণের মধ্যে তার "প্রভাব" নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে যে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুতর হলো বিআরবি (BRB) প্রকল্পের আওতাধীন উন্নয়ন কাজসমূহ। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: ১. আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প (সবচেয়ে আলোচিত) প্রকল্পের স্থান: রাজাপুর মডেল মসজিদ থেকে মঠবাড়ীয়া ইউপি অফিস হয়ে নাপিতের হাট পর্যন্ত ৩১ মিটারের দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ। বরাদ্দের পরিমাণ: ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা । অভিযোগ: ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই প্রকল্পটি অনুমোদনের দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুদকের গণশুনানিতে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ও বাস্তবায়নে চরম গাফিলতি এবং যোগসাজশ রয়েছে । ২. রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কার কাজ অভিযোগ: উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা এবং ছোট কালভার্ট মেরামতের কাজে নিম্নমানের খোয়া, পাথর এবং বালু ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কমিশন নিয়েছেন [১.৫.১]। নির্দিষ্ট এলাকা: উপজেলার মঠবাড়ীয়া এবং বড়ইয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়রা তুলেছেন । ৩. খাল খনন ও ড্রেনেজ প্রকল্প অভিযোগ: সম্প্রতি রাজাপুরে একটি খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্পের কমিটি গঠনে এবং কার্যাদেশে তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । ৪. জামানত ও বিল অবমুক্তি প্রক্রিয়াগত দুর্নীতি: কোনো সুনির্দিষ্ট একটি প্রকল্প নয়, বরং উপজেলার প্রায় প্রতিটি শেষ হওয়া প্রকল্পের ঠিকাদারদের জামানত (Security Deposit) ফেরত দেওয়ার সময় তিনি ৩% থেকে ১৫% পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে বিল আটকে রাখা বা নথিতে ত্রুটি দেখানোর অভিযোগও সুনির্দিষ্টভাবে সংবাদে এসেছে । বর্তমানে দুদক এই ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্প এবং অন্যান্য ছোট প্রকল্পের নথিপত্র তলব করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে । রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে আলোচিত প্রকল্পগুলোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এবং তদন্তের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে আপডেট তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা ৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ব্রিজ প্রকল্পসহ (মডেল মসজিদ থেকে নাপিতের হাট পর্যন্ত) অন্যান্য কাজে বেশ কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় এসেছে: চয়ন অ্যাসোসিয়েটস: এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আহলান সুমন তালুকদার-এর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে দরপত্রে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এটি সরাসরি রাজাপুরের এই নির্দিষ্ট ব্রিজের কাজ কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে, তবে এলজিইডির বিভিন্ন বড় প্রকল্পে এই প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে । স্থানীয় সিন্ডিকেট: সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজাপুরের অনেক কাজ স্থানীয় একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের সাথে প্রকৌশলীর বিশেষ সখ্যতা রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু না করে অর্থ লোপাট বা বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে । ২. তদন্তের বর্তমান পর্যায় (মার্চ ২০২৬ আপডেট) প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে তদন্ত বর্তমানে কয়েকটি স্তরে চলমান: দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান: ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত গণশুনানির পর দুদক তার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত (Special Inquiry) শুরু করেছে । নথিপত্র যাচাই: দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার গার্ডার ব্রিজ প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং কাজ শুরু না হওয়ার কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা: ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এলজিইডির নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের পর, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ তদন্ত সেলকেও (Vigilance Cell) রাজাপুরের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ সালের মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন (Under Investigation) পর্যায়ে আছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংগ্রহের কাজ চলছে, যা শেষ হলে চার্জশিট বা মামলা দায়েরের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে । প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বর্তমান অবস্থা নিম্নরূপ: ১. দুদকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসন্ধান শুরু: ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানির পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান (Inquiry) শুরু হয়েছে । জিজ্ঞাসাবাদ: দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে নথিপত্রসহ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । বর্তমানে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের কোনো উৎস আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২. বিভাগীয় তদন্ত ও শোকজ প্রাথমিক প্রতিবেদন: এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষের অভিযোগ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে । শোকজ (Show Cause): নির্ভরযোগ্য সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শুরু না করা এবং আর্থিক অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। ৩. প্রশাসনিক অবস্থা ওএসডি বা বদলির প্রস্তাব: তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে মানববন্ধন ও তীব্র গণঅসন্তোষের কারণে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রশাসনিক সুপারিশ জেলা পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে । তবে ২০২৬ সালের মার্চের শুরু পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই পদেই বহাল আছেন বলে জানা গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। তাদের দাবি, কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই কাজ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “টেন্ডার জমা দিলেও অনেক সময় কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে কে কাজ পাবে।” ঘুষ ও বিল বাণিজ্যের অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। অভিযোগ অনুযায়ী কমিশনের হার: ওয়ার্ক অর্ডারে ৩% থেকে ৫% বিল পাসে ৫% থেকে ৭% জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে ৩% থেকে ১৫% ঠিকাদারদের অভিযোগ, এসব কমিশন না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে বিল আটকে রাখা হয় বা নথিতে ত্রুটি দেখানো হয়। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পের বিল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতি অভিজিৎ মজুমদারের বিরুদ্ধে অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি: তিনি অনেক দিন বেলা ১২টার আগে অফিসে আসেন না অনেক সময় অফিস শেষ হওয়ার আগেই চলে যান জরুরি প্রয়োজনে ফোন করলে অনেক সময় রিসিভ করেন না অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কর্মস্থলে থাকার কথা থাকলেও তিনি বেশিরভাগ সময় ঝালকাঠি জেলা শহরে অবস্থান করেন। ঠিকাদারদের হয়রানির অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিল বা জামানতের টাকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কমিশন না দিলে: বিল আটকে রাখা নথিতে ত্রুটি দেখানো অতিরিক্ত যাচাইয়ের নামে বিলম্ব করা এসব কারণে অনেক ঠিকাদার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অভিজিৎ মজুমদারের অপসারণের দাবিতে রাজাপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন: উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে প্রকৌশলীকে দ্রুত অপসারণ করতে হবে দুর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে এই কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। দুদকের তদন্তের বর্তমান অবস্থা ২০২৫ সালে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর অংশ হিসেবে: রাজাপুর এলজিইডি অফিসের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয় প্রকল্পের ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বর্তমানে অভিযোগগুলো অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত এদিকে এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকেও একটি প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে: প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি কর্মস্থলে অনুপস্থিতি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এর ভিত্তিতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বদলির আলোচনা স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ এবং মানববন্ধনের পর প্রশাসনিকভাবে তাকে অন্যত্র বদলি করার প্রস্তাব জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত তিনি রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সব প্রকল্প সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে।” সামনে কী হতে পারে দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন ও প্রকল্পের নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষ হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে: মামলা দায়ের বিভাগীয় ব্যবস্থা সম্পদের হিসাব যাচাই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত স্থানীয় সরকার খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্ত জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে তিনি দুদকের নজরদারিতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি আমলাতান্ত্রিক স্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিশেষ করে ৪ কোটি টাকার ব্রিজ প্রকল্পের গড়িমসির বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় বড় শাস্তির সম্ভাবনা রয়েছে ।
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী – পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পে বাস্তবে মানহীন কাজের চিত্র দেখা গেছে। রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সামুদাফৎ সড়ক হয়ে বটতলা পর্যন্ত ৬.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল শাহাদাৎ ট্রেডার্স। প্রকল্পের সিডিউল অনুযায়ী সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ১ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে তা কম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার দিন পরও সড়কের ভেতরের অংশ শক্ত হয়নি। সুজন ডাক্তার জানান, “নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করে কাজ করা হচ্ছে। যথাযথ বিটুমিন ব্যবহার না করে কেবল ইট ঢেকে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।” অন্য একজন বাসিন্দা জব্বার খন্দকার বলেন, “পুরো সড়কজুড়েই অনিয়ম চলছে। ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের, যা হাতে চাপ দিলেই গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। ঢালাইয়ের পুরুত্বও মাত্র দুই ‘সুতা’; সামান্য টান দিলেই উঠে যাচ্ছে।” অটোরিকশা চালক কামাল মাদবর আরও জানান, “অনেক স্থানে আধা ইঞ্চিরও কম ঢালাই, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরিভাগ উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।” উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, “উক্ত সড়কের কাজ স্টিমেট অনুযায়ী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন প্রকাশে সমস্যা সমাধান হয় না, স্থায়ী সমাধানই গুরুত্বপূর্ণ।” তবে মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক স্টিমেটের সঙ্গে বাস্তব পরিমাপের অমিল পাওয়া গেছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কিছু স্থানে কার্পেটিংয়ের পুরুত্বে গড়মিল আছে, সেটি আমি ঠিক করে দেব।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের মতে, ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করেন। তাদের দাবী, তদারকি কর্মকর্তাদের সক্রিয় নজরদারি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত প্রকল্প তদারকি করে মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
* ১২৮ সেতু নির্মাণের প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের লুটপাট * মহারাজ পরিবারের পেটে ১২৮ সেতু পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন মহারাজ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ১২৮টি সেতু নির্মাণ না করেই প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের ছয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দুদক সূত্রে জানা গেছে, মহিউদ্দীন মহারাজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলজিইডির অধীনে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্স (মহিউদ্দীন মহারাজ) ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড (মিরাজুল ইসলাম) সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (মিরাজুল ইসলাম) মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ (শামীমা আক্তার) তেলিখালী কনস্ট্রাকশন (সামসুদ্দিন) মেসার্স ঈশান এন্টারপ্রাইজ (সালাউদ্দিন) অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সেতু নির্মাণ না করেই বিল তুলে নিয়েছে। কাগজে সেতু, বাস্তবে নেই তদন্তে দেখা গেছে, এলজিইডির পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একটি উদাহরণ হিসেবে জানা গেছে, পিরোজপুর সদরের কদমতলা ইউনিয়নের পোরগোলা মাধ্যমিক স্কুল থেকে বাঘমারা আবাসন সড়কের খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। সেতুর দৈর্ঘ্য: ৯৬ মিটার প্রাক্কলিত ব্যয়: ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা চুক্তি মূল্য: ৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো সেতুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভাণ্ডারিয়ায় ১২৫টি কাগুজে সেতু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি সেতু কেবল কাগজে নির্মিত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৬৯ কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে— এলজিইডি অফিসে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই কাজের পরিমাপ বইয়ে কোনো তথ্য নেই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি আইবিআরপি প্রকল্প সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পুরোনো লোহার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য Iron Bridge Rehabilitation Project (IBRP) নামে একটি প্রকল্প নেয়। প্রকল্প শুরু: ২০১৮ সাল মোট সেতু: ২,০৪৯টি প্রাথমিক ব্যয়: ১,৮৩৫ কোটি টাকা পরে ব্যয় বৃদ্ধি: ২,৩৩৪ কোটি টাকা প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পুরোনো লোহার সেতুর পরিবর্তে আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা। রাজনীতিতে মহিউদ্দীন মহারাজ মহিউদ্দীন মহারাজের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে পিরোজপুরের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। তার রাজনৈতিক যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো— ১৯৯৬: আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ২০১৬: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ২০২৪: পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত মামলা ও গ্রেপ্তার দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এলজিইডির প্রকল্পে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিউদ্দীন মহারাজসহ পাঁচজন ঠিকাদার এবং এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ অফিসের ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে— ৫ জন গ্রেপ্তার ১৮ জন পলাতক আত্মগোপনে মহারাজ পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই মহিউদ্দীন মহারাজ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামুনুর রশীদ নোমানী: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়মিত অফিস করছেন আনোয়ারুল ইসলাম। এ নিয়ে সহকর্মীদের মাঝেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্বৈরশাসক হাসিনা পালালেও তার দোসর এলজিইডির লুটেরা, মাফিয়া ডন মিরাজ-মহারাজের বিশ্বস্ত সহযোগী শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাসিনার পতনের পর হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে গেলেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করে আবার নিয়মিত অফিস করছেন। আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন উক্ত আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট। সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সহকর্মীরে মাঝে।আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জন্মস্থান ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় নামে বেনামে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। ময়মনসিংহ শহর ও তার মামার বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রয় করেছেন আনোয়ার। পিরোজপুরের আলোচিত সমালোচিত মিরাজ মহারাজের ঘনিষ্ট সহোচর আনোয়ার হোসেন কি ভাবে এলজিইডিতে এখনও কর্মরত আছেন এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল । বিপুল সম্পদের অভিযোগ সূত্র মতে, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহর ও ঈশ্বরগঞ্জ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে— স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় ময়মনসিংহ শহরে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার জমি একটি বহুতল ভবনে উল্লেখযোগ্য শেয়ার রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ১৫ শতাংশ মূল্যবান জমি ব্যক্তিগত দামী গাড়ি ব্যবহার স্বল্প বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাত্রায় দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। দুদকের মামলা ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা চলমান থাকলেও তা থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন আরও গভীর হবে। আত্মগোপন ও সম্পদ পাচারের আশঙ্কা ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আনোয়ারুল ইসলাম মিরপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা পরিবর্তন করে গোপনে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন বলে জানা গেছে।এছাড়া, সম্প্রতি তার বড় ছেলেকে উচ্চ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অবৈধ সম্পদ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের দাবি সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তা স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মামুনুর রশীদ নোমানী : টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। ঠিকাদাররা কাজ করলেও অর্থ না দিলে বিল হয় না। এমনকি টাকা না দিলে ঠিকাদারদের জামানতও ফেরত পান না। জামানত ফেরত পেতেও দিতে হয় ১৫ পার্সেন্ট। এ হচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারের ফিরিস্তি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পতিত আওয়ামী লীগের নেতাদের পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করেন না এ অভিজিৎ মজুমদার। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিযেছিল আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজাপুরের মডেল মসজিদ থেকে ভায়া মঠবাড়ি ইউপি অফিস হয়ে নাপিতেরহাট পর্যন্ত ৩১ মিটার দৈর্ঘ্যের দু’টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের জন্য চার কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। দেড় বছরেও কাজটি শুরু হয়নি। আরো একাধিক কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রকৌশলীর গাফলতির কারণেই ব্রিজের কাজ শুরু হচ্ছে না। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আক্কেল মিয়ার বাজারসংলগ্ন আয়রন ব্রিজের কয়েকটি লোহার পাত ও নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে চোরচক্র। ওই সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল না করলেও যাত্রীবাহী অটোরিকশা ও মালবাহী ট্রলি যাতায়াত করে। তিন বছর আগে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছিলো। তবে ব্রিজটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের বিষয়ে এলাকার কেউই কিছু জানেন না। হাশেমের পুল খ্যাত ব্রিজটির বিষয়ে (কালভার্ট) এলাকার লোকজন বলেন, এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে ২০ বছরও হয়নি; মানও ভালো রয়েছে। এটি ভেঙে নতুন ব্রিজ করার কোনো প্রক্রিয়া আছে কি না? সে বিষয়ে এলাকাবাসী কিছুই জানেন না। তারা মনে করেন, ব্রিজটি অন্তত আরো ২০ বছরে কিছুই হবেনা- তাই ভেঙে নতুন ব্রিজ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। তবে কিছুটা সংস্কার করা যেতে পারে। এ ছাড়াও রাজাপুর উপজেলার মোল্লারহাট-শ্রীমন্তকাঠি এবং পিংড়ি ভায়া বলারজোড় হাঁট জিসি সড়কের ৯ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ব্রিজের দুইপাশের নামার পথ (এপ্রোচ) নির্মাণ করা হয়নি। বছরখানেক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখায় জনদুর্ভোগ লাঘবের বিপরীতে আরো কয়েকগুণ বেড়েছে। এপ্রোচ নির্মাণ না হওয়ায় ওই সড়কে গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। ব্রিজটি নির্মাণে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ৫৯১ টাকা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজাপুর উপজেলার কাটাখালি হাট ভায়া পশ্চিম গালুয়া-দুর্গাপুর এলাকার খালের উপরে ২২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ, আঙ্গারিয়া সিরাজ মেম্বারের বাড়ি হতে গালুয়া-কৈবর্তখালী হয়ে ফকিরহাট এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ, উপজেলার কাটাখালি হাট ভায়া ভান্ডারিয়া সীমান্ত শাহজাহান মিয়ার বাড়ির সামনে এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০মিটার প্রস্থ, উপজেলার কাঁচারীবাড়ি হতে কাটাখালি হাট পর্যন্ত লতিফ সিকদারের বাড়ি এলাকার খালের উপরে ২০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩.৭০ মিটার প্রস্থ আয়রন ব্রিজ নির্মাণের বরাদ্দও কার্যাদেশে দেয়া হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দুই কোটি এক লাখ ৮৬ হাজার ৪২৪ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেড় বছরে তিনটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ কাজ হয়েছে ১০ শতাংশ। পুরাতন ব্রিজগুলো ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ কষ্ট আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অভিজিৎ মজুমদার এখনো রাজাপুর এলজিইডির ওয়েবসাইট থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনার ছবি রেখে দিয়েছেন।ওয়েব সাইট থেকে স্কিনশর্টের মাধ্যমে নেয়া চিত্র। ঝালকাঠি জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ইলিয়াছ সিকদার ফরহাদ বলেন, উন্নয়নমূলক কাজ করা হয় মানুষের দুর্ভোগ দূর করার জন্য। এলাকার বৃহত্তর জনস্বার্থে মানুষকে শান্তি দেয়ার জন্য। কিন্তু সেই কাজ শুরু করে ফেলে রাখা, অর্ধেক সম্পন্ন করা অথবা শেষ করে এপ্রোচ (ঢাল) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না করা- এতে মানুষের দুর্ভোগ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার টাকা ছাড়া ওয়ার্ক অর্ডার, কাজের বিল, জামানত ফেরতসহ কোনো কাজের ফাইলেই হাত দেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার জানায়, ওয়ার্ক অর্ডারে ৩ পার্সেন্ট থেকে ৫ পার্সেন্ট, বিল করাতে ৫ পার্সেন্ট থেকে ৭ পার্সেন্ট, জামানতের টাকা তুলতে ৩ পার্সেন্ট টাকা তাকে দিতে হয়। এ ছাড়াও নিম্নমানের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি হাতিয়ে নেয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। প্রায়ই তিনি থাকেন অফিসের বাইরে। সকালে কখনো ১২টার আগে অফিসে আসেন না। জিজ্ঞেস করলে বলে সাইডে ছিলাম। অথচ খোঁজ নিয়ে দেখা যায় তিনি থাকেন রাজাপুরের বাইরে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের পরামর্শেই চলেন তিনি। সম্প্রতি একটি খাল খনন নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন আওয়ামী লীগের নেতাদের দিয়ে, যা নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিজিৎ মজিমদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি রাজাপুরের প্রকৌশলী হলেও অধিকাংশ সময় কাটান ঝালকাঠি জেলা শহরে। এছাড়া তার সাথে সাবেক এক ইউএনওর সাথে দ্বন্ধের কারনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তৎকালীন সময়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড। এদিকে, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত দুদকের গনশুনানীতে অভিযোগ দিয়েছিল , রাজাপুরের মৃত মোকলেস হাওলাদারের পুত্র আব্দুল হাকিম হাওলাদার। দুদকে দেয়া অভিযোগে আব্দুল হাকিম উল্লেখ করেন, ব্রীজ হওয়ার দরুন যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।রাজাপুর আদর্শ পাড়া লেবুবুনিয়া প্রবেশ মূলে এলজিইডি কর্তৃক নির্মাণকৃত ব্রীজের কারণে। আমাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এলজিইডি হতে ইস্টিমেট কালীন আমাদের আশ্বস্ত করেছিলো যে, আমাদের যাতায়াতের রাস্তা তৈরি করে দিবে কিন্তু তা দেয়নি। বারবার থানা ইঞ্জিনিয়ারকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও আমরা সমাধান পাইনি। বর্তমানে আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ। দুদক গনশুনানীতে ডেকে নেয় রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারকে।অদৃশ্য কারনে দুদকের হাত থেকে বেচেঁ যায় অভিজিৎ মজুমদার। দুদকে অভিযোগ দেয়ার কারনে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে এক সনাতন ধর্মের লোক দিয়ে মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানী করছে অভিজিৎ মজুমদার। এলজিইডির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাৎ : রাজাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিসের সাথে যোগসাজসে অভিজিৎ মজুমদার তার ব্যাংক হিসেবে টিএ বিলের সকল অর্থ নিয়ে গেছেন। রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের প্রয়োজনে ভ্রমণের খরচ বাবদ প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার জন্য টিএ বিল দাখিল করেন। টিএ বিল পাশ হলেও কাউকে তিনি সেই বিল প্রদান করেন নি।টিএ বিল না পাওয়ায় রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিজিৎ এর ওপর ক্ষুব্দ।সুত্র জানায়,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাতের জন্য দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিজ একাউন্টে নিয়ে গেছেন।অথচ এলজিইডির অন্য সকল উপজেলায় টিএ বিল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ একাউন্টে চলে গেছে।এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশিত হলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিএ বিলের অর্থ ফেরৎ দেন অভিজিৎ মজুমদার। এসব বিষয়ে অভিজিৎ মজুমদার বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হযেছে তা অসত্য।তবে দুদকের গনশুনানীতে অভিযোগের কথা স্বিকার করে বলেন,আমাকে দুদক গনশুনানীতে ডেকেছিল। উল্লেখ্য,রাজাপুর এলজিইডিতে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলার এলজিইডি কর্মকর্তাদের বদলী করা হলেও ঘুসের বিনিময়ে রাজাপুরে এখনো বহাল তবিয়তে অভিজিৎ মজুমদার।
কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন রোধে নির্মিত বেড়িবাঁধ বেষ্টনীতে রোপণ করা মেহগনি গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই কেন্দ্রীয় বিএনপি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে নদীভাঙন প্রতিরোধে কামালপুর এলাকার বেড়িবাঁধে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসব মেহগনি গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বাঁধ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়িতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে ধাপে ধাপে গাছ কাটা শুরু হয়। সর্বশেষ গত ২১ ফেব্রুয়ারি একসঙ্গে ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রতিটি গাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে গাছের গুঁড়ি কেটে পরে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। খবর পেয়ে মিঠামইনের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি স মিল থেকে কাটা গাছ উদ্ধার করে এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধে নির্মিত বেড়িবাঁধে রোপণ করা গাছ কেটে ফেলা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এলজিইডি থেকে দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। চিঠিতে এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোর ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়— রাজস্ব বাজেটভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ: ১৬৮টি শূন্য পদ: ১১৪টি বেতনক্রম (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড): ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা উন্নয়ন বাজেটভুক্ত প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী/উপ-প্রকল্প পরিচালক/উপ-পরিচালকের পদ: ১১২টি প্রেষণে পূরণ: ১৬টি মোট শূন্য পদ: ২১০টি প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বে ৩৩৩ জনকে যোগদানের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় নতুন পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলো ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণ করার বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, কৌশলে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি কার্যত পদোন্নতিরই সমতুল্য, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচ্য আবেদন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশনা গত ২৮ অক্টোবর ২০২৪ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘এলজিইডির নিয়োগবিধি তছনছ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার আরিফ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার উম্মে আইমান জেনিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও রাশেদুজ্জামান রাজা-এর দ্বৈত বেঞ্চ প্রকল্প থেকে ২৫৭ জনকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও পদোন্নতির অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-কে। তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে উচ্চ আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— ২৫৭ জনের চাকরি নিয়মিতকরণে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি জ্যেষ্ঠতা গণনা প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ৭ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রদান ও ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি আইনসম্মত ছিল না ২০১১ সালের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা প্রদান বৈধ হয়নি, তাই সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতিও আইনসম্মত নয়। প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নির্দেশনার পরও যদি ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে একই ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশকে পাশ কাটানোর শামিল হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে— আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে? সরকার কি বিতর্কিত পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা করবে? নাকি ‘চলতি দায়িত্ব’-এর আড়ালে নতুন করে পদায়ন সম্পন্ন হবে? বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।