ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, মাঠপর্যায়ের খামারি এবং দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ মহলের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোলার প্রাণিসম্পদ বিভাগে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপনের ঘনিষ্ঠতার সূত্রে রফিকুল ইসলাম খান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পান। পরে ওই চেয়ারম্যানের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে দপ্তরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে বাস্তব কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগাভাগিও হয়েছে। এর আগেও উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দের অর্থে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গ্যারেজ নির্মাণ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভোলায় যোগদানের পর থেকেই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নামে অনিয়ম বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জেলার একাধিক যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পদের দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন রফিকুল ইসলাম খান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পদের আর্থিক বরাদ্দও কার্যত তার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া ভোলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থেকেও কাগজে-কলমে স্বাক্ষর দেখিয়ে নিয়মিত ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান কয়েকটি উপজেলার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দের টাকা তুলে নিজের কাছে রাখা হয়েছে। পরে কাজ সম্পন্ন করা হবে।” তবে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের আগে সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রফিকুল ইসলাম খান আরও দাবি করেন, বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বিল উত্তোলন করা হলো। এদিকে এসব অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলার প্রান্তিক খামারিরা। কয়েকজন খামারি অভিযোগ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে তারা সরকারি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না, অথচ প্রকল্পের নামে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চার বছর আগে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছিল ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে। নদীবেষ্টিত এই চরাঞ্চলের মানুষ তখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। ঘরে ঘরে জ্বলেছিল বাতি, শিক্ষার্থীরা পেয়েছিল রাতের পড়াশোনার সুযোগ, ব্যবসায়ীরা কিনেছিলেন ফ্রিজ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন টেকেনি এক বছরও। প্রকল্প চালুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বড় নৌযানের নোঙরে ছিঁড়ে যায় তিনটি সাবমেরিন ক্যাবল। বন্ধ হয়ে যায় পুরো বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপর কেটে গেছে চার বছর—কিন্তু এখনো ফেরেনি বিদ্যুৎ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ছিল না কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা, ছিল না নিয়মিত নজরদারি। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া পুরো এলাকায় এখন চুরি হয়ে যাচ্ছে ট্রান্সফরমার, তার ও অন্যান্য অবকাঠামো। ছয় মাসেই অচল হয়ে পড়ে প্রকল্প ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলা সদরের তুলাতুলি এলাকা থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। স্থানীয় সূত্র বলছে, সংযোগ চালুর পর চরাঞ্চলের শত শত পরিবার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে নতুনভাবে জীবনযাত্রা সাজাতে শুরু করে। অনেকে ঋণ নিয়ে কিনেছেন টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই মেঘনায় বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙরের কারণে একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিনটি ক্যাবল। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর পুনঃসংযোগ হয়নি। “বিদ্যুৎ আসবে ভেবে যা কিনেছিলাম, সব নষ্ট” মদনপুর চরের বাসিন্দা ভুট্টু মাঝি বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তার ভাষায়, “তীব্র গরমে বাচ্চারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না। অনেকেই ফ্যান, লাইট, ফ্রিজ কিনেছিল। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার জন্য গ্রাহকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস পরই পুরো ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চরের ব্যবসায়ী মো. নাছির বলেন, “দোকানের ফ্রিজসহ অনেক ইলেকট্রিক্যাল জিনিস নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়েছে।” অবহেলায় চুরি হচ্ছে সরকারি অবকাঠামো স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন সংযোগ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ লাইনের তার, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন—যে প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, সেটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার গিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি। এখন জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দরকার।” “কিছুই জানি না”—পল্লী বিদ্যুতের জিএম এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ রাজ্জাক রহমান বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।” তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভোলার দুটি চরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তদারকি স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো অবকাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙন ও নৌযান চলাচলপ্রবণ এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং এবং বিকল্প সংযোগ ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে জনভোগান্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ও বাড়ে। চার বছর ধরে বিদ্যুৎহীন মদনপুর চর এখন সেই ব্যর্থ পরিকল্পনারই এক বাস্তব উদাহরণ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কাজের তথ্য চাওয়া হলেও তিনি তা প্রকাশে গড়িমসি করছেন। এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রকাশযোগ্য প্রকল্প তালিকাও দীর্ঘ সময় অনলাইনে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪–২০২৫ এবং ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়নাধীন ও বাস্তবায়িত টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তালিকা জানতে গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিকবার ভোলা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন পিআইও জিয়াউর রহমান। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কোন তথ্য আড়াল করতেই কি এই অনীহা? কাগজে রাস্তা সংস্কার, বাস্তবে নেই কাজের চিহ্ন অভিযোগ রয়েছে, ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মিলবাজার থেকে ব্যাপারী বাড়ির দরজা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো ধরনের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, কাগজে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে সেখানে উন্নয়নকাজ হয়নি। অথচ সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে চাল বরাদ্দের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, “পশ্চিম চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ০.৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে “সাহেবের চর হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি খেজুর বরাদ্দ চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ নামের কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান তাদের জানা নেই। এসব ঘটনায় সরকারি বরাদ্দ বণ্টন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প যাচাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য চেয়েও পাননি সাংবাদিকরা অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর তথ্য জানতে সাংবাদিকরা সাত দিন ধরে উপজেলা প্রকল্প অফিসে গেলেও পিআইও জিয়াউর রহমান তালিকা সরবরাহ করেননি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান সরাসরি মুঠোফোনে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন “আজ দেব, কাল দেব” বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। ‘তথ্য গোপন মানেই দুর্নীতির ইঙ্গিত’ এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখায়, তাহলে সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা থেকেই যায়। দুর্নীতি না থাকলে তথ্য গোপনের প্রয়োজন পড়ে না।” তিনি আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অতীতেও বিতর্কে ছিলেন জিয়াউর রহমান পিআইও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অপরাধ বিচিত্রার মফস্বল সম্পাদক রাশেদুল ইসলামকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া বরগুনার ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, পিআইও জিয়াউর রহমান তার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ও স্বচ্ছতা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং উপকারভোগীদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ভোলা সদর উপজেলার সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছে। কারণ কাগজে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে না থাকলে, তার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাসনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌরসভা ও এডিবি অর্থায়নের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা, মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পরিচালিত সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চরফ্যাসন পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের একটি সড়ক উন্নয়নকাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারকে চাপ দিয়ে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ ও উঠান পাকা করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে।পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া মালতিয়াবাড়ি সড়ক ও স্টেডিয়ামসংলগ্ন সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই ব্যক্তিগত কাজে ওই প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এখনো সড়ক দুটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকাবাসী।পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম হাসান বলেন, “কাজ না করে বিল নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি নেতার বাড়ির যে অংশ পাকা করা হয়েছে, সেটির কোনো টেন্ডার হয়নি। ঠিকাদারকে চাপ প্রয়োগ করে কাজ করানো হয়েছে।” ওই কাজের ঠিকাদার কাজী মান্নান হোসেন বলেন, “স্টেডিয়ামের পেছনের সড়কের কাজের ঠিকাদার ছিলাম আমি। কিন্তু আলমগীর মালতিয়া সড়কের কাজ বন্ধ রেখে জোর করে তাঁর বাড়ির দরজা ও উঠান পাকা করিয়েছেন। এ কারণে আমি এখনো কাজের বিল পাইনি।” এলজিইডির বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরেকটি কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের চেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।সাবেক ইউএনও রাশনা শারমিন মিথি বলেন, “তিনি বিভিন্ন কাজ হাতিয়ে নিয়ে কাজ না করেই বিল তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি কোনো বিলে স্বাক্ষর করিনি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” এদিকে চরফ্যাসন মডেল মসজিদের সীমানাপ্রাচীরের গ্রিল অপসারণ করে নিজের ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে আলমগীর মালতিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, এতে মসজিদের প্রাচীর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।আলমগীর মালতিয়ার ছেলে আরাফাত রহমানের বিরুদ্ধেও চরফ্যাসন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারকে পাশ কাটিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চরফ্যাসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে তখন এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেন্দ্রীয় বিএনপি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান। কমিটির সদস্যরা চরফ্যাসনে সরেজমিন তদন্ত করে আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পান বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চরফ্যাসন উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। তবে পদ হারানোর পরও তাঁর তৎপরতা থেমে থাকেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তাঁদের দাবি, ২০২৫ সালে চরফ্যাসনের বিভিন্ন হাটবাজারের ইজারা নিয়েও আলমগীর মালতিয়া ও তাঁর অনুসারীরা নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগ নিয়েও পরে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। উপজেলা যুবদল নেতা সায়েম মালতিয়া বলেন, “১৯৯৩ সালের উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি।” উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেন বলেন, “বিএনপি কোনো নেতাকর্মীর অপকর্মের দায় নেয় না। মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বর্তমানে উপজেলা বিএনপির কেউ নন। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।” বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমনা আফরোজ বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলায় যাত্রীবাহী লঞ্চে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার জাকির হোসেনকে ছাড়িয়ে নিতে থানার সামনে বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেছে স্থানীয় একটি অংশ। পুলিশের বাধায় থানা ঘেরাও করতে ব্যর্থ হয়ে তারা পরে ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা সদর থানা-এর সামনে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। গ্রেপ্তার জাকির হোসেন (৪২) সদর উপজেলার কোরালিয়া গ্রামের মো. সিদ্দিক ফরাজির ছেলে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর কিছু নারী-পুরুষ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে জাকিরকে “বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহ-সভাপতি” এবং দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেনকে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ আটক করা হয়। অভিযানে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা গুলি এবং প্রায় দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের দাবি অনুযায়ী, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সোমবার গভীর রাতে ইলিশা এলাকার মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে কোস্ট গার্ড তাঁকে আটক করে। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তাঁর বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং মামলা রুজু করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিকেলে কিছু লোকজন তাঁর সমর্থনে মিছিল নিয়ে থানার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং থানার ফটক থেকে তাদের সরিয়ে দেয়।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস.এম. দেলোয়ার হোসেন।তিনি পটুয়াখালীতে যোগদানের পুর্বে ভোলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভোলায় থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি তহবিল অপব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পটুয়াখালীতে যোগদান করে আবারো শুরু করেছেন ভোলার কর্মরত থাকাকালীন সময়ের মত ঘুষ,অনিয়ম ও দুর্নীতি। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ-এর পালকপুত্র বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সূত্র অভিযোগ করেছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের জন্য অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দেলোয়ার হোসেন তোফায়েল আহমেদের পালকপুত্র বিপ্লবকে নারী ও মদ সরবরাহের মূল দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন। সরকারি পদে থেকে এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিপ্লবের বিভিন্ন নৈশ আসরে নারী সরবরাহ ও মদের ব্যবস্থা করা ছিল তার নিয়মিত দায়িত্ব। ত্রাণ তহবিল অপব্যবহারের দাবি স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ বরাদ্দ থেকে নিয়মিত কমিশন নেওয়া হতো এবং সেই অর্থ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ত্রাণের জিআর (Gratuitous Relief) বরাদ্দের প্রতি টন থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কেটে নেওয়া হতো।দেলোয়ার হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ খাতের অর্থ অপব্যবহার করে তা ব্যয় করতেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতার পেছনে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা জেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতিকে আন্দোলন দমনে সহযোগিতার বিনিময়ে কয়েক দফায় দিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। এই অর্থ তিনি জিআর ফাইলের প্রতিটি টনের বরাদ্দ থেকে ১০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে পেতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন গত বছরের আগস্টের পর তার বদলি ভোলা থেকে পটুয়াখালীতে হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ছাত্র-সমন্বয়কের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভোলা থেকে পটুয়াখালী বদলি হন। স্থানীয় সূত্র দাবি করছে, এই বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের চাপও কাজ করেছে। সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি তার আত্মীয়দের সঙ্গে মিলে পরিবহন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন এবং বরিশাল ও নিজের এলাকায় বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে। সরকারি চাকরির আড়ালে তিনি নিজের ভায়রা ভাইকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন পরিবহন ব্যবসা। জমি, বাড়ি, যানবাহনসহ নগদ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। প্রতিক্রিয়া জানতে ব্যর্থতা এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে তার নিজস্ব ও সরকারি নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। গলাচিপায় ঘুষ কেলেঙ্কারি : ঘুষ দাবির অভিযোগ পুরোনো এস এম দেলোয়ার পটুয়াখালীর গলাচিপায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০২০ সালের জুন মাসে এক ঠিকাদারের কাছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের পর আলোচনায় আসেন। সুত্র জানায়, পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি কালভার্ট নির্মাণের চূড়ান্ত বিলের জন্য ঠিকাদারের কাছে চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম দেলোয়ারের বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ২১ জুন'২০২০ তারিখ পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাইফুল ইসলাম ঠিকাদারি কাজের পাশাপাশি ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় প্রায় ৩১ লাখ টাকায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার সময়সীমা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেন পিআইও এস এম দেলোয়ার হোসেন। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করে ঠিকাদার ৮ জুন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্ত বিলের জন্য আবেদন করেন। ওই দিনই পিআইও দেলোয়ার হোসেন ঠিকাদার সাইফুলের বাবা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে বিলের জন্য চার লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।এই ঘুষের ঘটনা জানাজানি হলে বেকায়দায় পরেন এস এম দেলোয়ার। উপায় না দেখে তখন বিনা ঘুষে ঐ ঠিকাদারের বিল দিয়ে দেন। তদন্তের প্রয়োজনীয়তা জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে এখনই নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস সহকারী ও নাজির সোহাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি—দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে অবস্থান করে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোহাগ তা অস্বীকার করেছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব ও অভিযোগের শুরু স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ প্রায় আট বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত আছেন। এ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন প্রকল্প, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিশেষ করে গত কয়েক অর্থবছরে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ভ্যাট ও অন্যান্য হিসাব-সংক্রান্ত অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে। চেয়ারম্যান বানানোর নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এক ইউপি সদস্য আবু জাহের ফরাজীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্যানেল চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ বা সমর্থনের বিনিময়ে জনপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিনি নিজেও জমি বিক্রি করে সোহাগকে কয়েক দফায় মোট ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় তিনি অর্থ ফেরত চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সম্পত্তি ও বিলাসবহুল ভবন নির্মাণের অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকায় চারতলা একটি ভবন নির্মাণ করছেন সোহাগ। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি ক্রয়ের অভিযোগও উঠেছে। একজন ঠিকাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, “এই বাড়িটি সোহাগ ভাইয়ের। কয়েক মাস ধরে নির্মাণ কাজ চলছে।” তবে এসব সম্পদের উৎস নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আরও অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩–২০২৪ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ নির্ধারিত সরকারি হিসাব বা আইডিতে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। সোহাগের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে নাজির সোহাগ বলেন, তার দুই ভাই প্রবাসে থাকেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দিয়ে তিনি জমি ও বাড়ি নির্মাণ করেছেন। চেয়ারম্যান বানানোর বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভ্যাট সংক্রান্ত অর্থ যথাযথভাবে চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো রসিদ বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনের অবস্থান এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। জনমনে প্রশ্ন একজন উপজেলা পর্যায়ের অফিস সহকারীর সীমিত বেতনের চাকরি থেকে কীভাবে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও অস্পষ্টতার মধ্যে পুরো বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, রাজস্ব ফাঁকি এবং দলিল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগের ধরন নূর নেওয়াজ ২০০৪ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি দলিল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়িয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি, ভুয়া লাইসেন্স প্রদান, নকল নবিস নিয়োগ এবং ভুয়া কাজী নিয়োগের মতো অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দলিল জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে দলিলের খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার করে পুরনো দলিলের লেখা মুছে নতুন তথ্য সংযোজনের কথাও বলা হচ্ছে। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে জমির মালিকানা পরিবর্তন, ভুয়া নামজারি এবং জমা খারিজের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ জমির মালিকরা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। রাজস্ব ক্ষতি ও আর্থিক অনিয়ম অভিযোগ অনুযায়ী, এসব জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট অঙ্ক সরকারি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, অভিযোগকারীরা বলছেন—এর পরিমাণ লাখ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে। সম্পদের বিস্তার অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যমতে, নূর নেওয়াজের নামে ও বেনামে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় দুই হাজার শতক জমি রয়েছে। এছাড়া চারটি ফ্ল্যাট, একটি রাইস মিল এবং একটি দুইতলা বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি এবং ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় এসব সম্পদের অবস্থান বলে দাবি করা হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরের মোহাম্মদ আলী রোডে তার ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্ত্রীর নামে একটি রাইস মিল প্রতিষ্ঠার তথ্যও সামনে এসেছে। ভীতি ও নীরবতা অভিযোগকারীদের একটি অংশ বলছে, নূর নেওয়াজের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়—এমন দাবিও করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের একটি অংশ নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক অবস্থা নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং আদালতে মামলা দায়েরের কথাও জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। কী বলছেন স্থানীয়রা ভোলার সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ দ্রুত তদন্ত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমি নিবন্ধন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে নূর নেওয়াজ বা তার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) শরীফুল হকের বিরুদ্ধে পুলিশের কল্যাণ তহবিলের সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে ৩২ পৃষ্ঠার নথি ও প্রমাণ সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, শরীফুল হক ভোলায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ বিভিন্ন খাত থেকে আত্মসাৎ করেছেন। বিশেষ করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অন্তত দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থের হিসাব কেবল ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আংশিক অংশ থেকে পাওয়া গেছে; আগের বছরের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের কৌশল ও খাত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের কল্যাণ তহবিলের বিভিন্ন খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকাও নথির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং কাগুজে লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরানোর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আগের এসপির সময় কেনা প্রায় চার লাখ টাকার সিসিটিভি সরঞ্জাম ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিও আত্মসাৎ করা হয়েছে। পোস্টিং ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়, ভোলায় দায়িত্ব পালনের সময় অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পোস্টিং দেওয়া এবং বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা পুলিশের রেশন স্টোর থেকে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা এবং পুলিশ লাইন মেস থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তদন্তের দাবি অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া নথিপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হলে বিষয়টি তদন্তের পর্যায়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে সরকারি খাতে দুর্নীতি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতি এখন নজরে রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার লালমোহন উপজেলায় সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চাল ও গমের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাসের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সমর্থনে টাকার লেনদেনসংক্রান্ত একাধিক গোপন ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে চাল বা গম বরাদ্দের ছাড়পত্র নিয়ে ডিলার বা কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দপ্রাপ্তরা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে ডিও নিতে গেলে প্রতি টনে ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা পর্যন্ত ‘সমঝোতা ফি’ দাবি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ পরিশোধের পরই দ্রুত ডিও ইস্যু করা হতো এবং বরাদ্দকৃত চাল-গম উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হতো। গোপন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৯ টন চালের ডিও প্রদানের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। টাকা গ্রহণের পরপরই ডিও লেটার প্রস্তুত ও ইস্যু করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ফুটেজে এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অংশও রয়েছে বলে জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সমঝোতার অর্থ পেলে একাধিক কিস্তির ডিও একসঙ্গে প্রস্তুত করে দেওয়া হতো, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনী মোহন দাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওরা খুশি হয়ে যা দেয়, তা আমি রাখি। আমি কাউকে জোর করি না।” তবে পরবর্তীতে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ভোলা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা জেলা খাদ্য উদ্বৃত্ত ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোলা সার্কিট হাউজে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রী বরিশালে নির্বাচন-পরবর্তী এক জনসভায় ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতীয় সংসদেও সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্পায়নের সম্ভাবনা ভোলায় শিল্পায়নের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি বলেন, গ্যাসভিত্তিক সার কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তোলা যেতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। তার ভাষায়, “হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হলে শুধু ভোলাই নয়, জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।” নদী ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ভাঙনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়। এ সময় ভোলা জেলার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহি লঞ্চের সাথে ধাক্কায় মৎস্য রক্ষা অভিযানের স্পিডবোট উল্টে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘনায় আহত হয় স্পিডবোটে থাকা অপর ৫ জন। তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল। জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছে। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩জন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যায়। ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩জন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের প্রফেলারের সাথে ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর ৫জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ ফখরুল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবরি দল আসছে বলেও ওসি জানান।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩৩টি ইটভাটা পরিচালিত হলেও এর মধ্যে অন্তত ১৭টি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এসব ভাটায় আইন অমান্য করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, পর্যটন এলাকা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন সদর, দুলারহাট, শশীভূষণ এবং দক্ষিণ আইচা এলাকায় গড়ে ওঠা ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ১৭টি ইটভাটা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন প্রতিবছর অভিযান চালালেও কিছুদিন পর প্রভাব খাটিয়ে ভাটাগুলো আবারও চালু হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কাঠ পোড়ানো ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ দূষণ ও বন উজাড় রোধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় সব ভাটাই জনবসতি এলাকার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাত্রী, নাভা, আকন, সোনালী, তেঁতুলিয়া, আব্দুল্লাহ ও মিজান ব্রিকসসহ অবৈধ ১৭টি ভাটায় অবৈধ ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পর্যটন এলাকাও দূষণের ঝুঁকিতে উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র বেতুয়া প্রশান্ত পার্কের প্রবেশমুখেই অন্তত ছয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। নদী, সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশের কারণে পার্কটি স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালু এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাইন বলেন, “একটি পর্যটন এলাকার প্রবেশপথই পুরো এলাকার প্রথম পরিচয়। সেখানে যদি দূষণ ও বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পুরো এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি বলেন, ইটভাটায় মাটি আনা ও ইট পরিবহনের ট্রাক চলাচলে প্রচুর ধুলাবালু উড়ে, যা পর্যটন এলাকার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন কমছে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে কৃষিজমিতে জমে ফসলের ক্ষতি করছে। অনেক ক্ষেতেই ধান, শাকসবজি ও ফলগাছ ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দক্ষিণ আইচা এলাকার কৃষক বাবুল বলেন, “আমি প্রায় দেড় একর জমিতে রবিশস্য করেছি। পাশেই ইটভাটা থাকায় গাছ ঠিকমতো বাড়ে না। ফলে ফসলও ভালো হয় না। আমরা এসব ইটভাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।” স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা হারুন জানান, তার বাড়ির পাশে ঢাকা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়। ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে আমাদের পরিবারের শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সামনে গরমের দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে।” চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, জনবসতি এলাকায় ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাটামালিকদের দাবি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা দাবি করছেন, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন এবং শিগগিরই বৈধতার অনুমোদন পাবেন। তেঁতুলিয়া ব্রিকসের মালিক মো. মোশারেফ বলেন, “সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছি। এখনো অনুমোদন পাইনি।” অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ইটভাটা চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই তার ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের অবস্থান ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।
বরিশাল অফিস : রীতিমতো গ্রাহকদের কৃষিঋণ বিতরণে পাল্লা দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজার। এক ব্যক্তিকে একাধিক বার ঋণ প্রদান, একই এনআইডি কার্ডে দুজন বা তিনজনকে ঋণ বিতরণ, প্রতিবারই ঋণ দেওয়ার নামে ১০% কমিশন গ্রহণ ছাড়াও ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম জালিয়াতি স্পষ্ট হয়েছে কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণের প্রমাণ পেয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারাও। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার আমানতের পরিমাণ মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যা থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৮০% ঋণ দেয়ার অনুমোদন রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা দাড়ায় ১২ কোটি টাকা। অথচ তারা ঋণ বিতরণ করেছে ৫২ কোটি টাকা। যা আমানতের প্রায় ৩৫৭% । এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের। কোনোরকম পুরাতন ঋণ আদায় না করেই ইউনিয়ন ভিত্তিক দালালদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নতুন ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে এই শাখায়। আর এই ঋণ বিতরণে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন বহিরাগত এজেন্ট বা দালাল। এদের মধ্যে ভেদুরিয়াতে সিদ্দিকুর রহমান, পাতা ভেদুরিয়াতে ইউসুফ, চরকালিতে জাহানারা বেগম নামের দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার নতুন করে ঋণ বিতরণ চলছে। কৃষক ছাড়াই কৃষি ঋণ বিতরণ অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের কোনোরকম যাচাই-বাছাই, অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ছাড়াই “ম্যানুয়াল তালিকা” ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঋণ হতে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ বাবদ রাখা হয়। যা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক ৩ হাজার টাকা নিয়ে- ১ হাজার টাকা করে জোনাল অফিসে প্রদান করেন। বাকী ২০০০ টাকা করে ফাইল প্রতি দেয়া হয় দালালদের। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে যুক্ত আছেন ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইউসুফ, জাহানারা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, সুমী নন্দী, আব্দুল মালেক কবিরাজ। যাঁরা “ফিল্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ” বা “ঋণ সংগ্রাহক” হিসেবে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই অগ্রণী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহের নাম করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই লেনদেন করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লাভবান হচ্ছেন। আবার বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও এই শাখা থেকে সবসময় ‘কৃষক নন’ এমন ব্যক্তিদেরকেই কৃষিঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিগত তিনটি বছর ধরে এভাবেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল। বিনিময়ে ১০% কমিশন নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। একইসাথে অগ্রণী ব্যাংক কালিনাথ রায়ের বাজার শাখাটি চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করছেন। ভোলা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করেই খায়রুল বাশার বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বরিশাল সার্কেল অফিসে তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে- যারা কৃষি ঋণের উৎকোচের টাকা মাসিক হিসাবে ভাগ পান। যার ফলে খায়রুল বাশার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলে জানিয়েছেন কালিনাথ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, শুধুমাত্র গত আগস্টেই ভেদুরিয়াতে ১০ লক্ষ ও বাপ্তাতে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগুলো বিতরণে শুরু থেকে শেষ অবধি দুইজন মাঠকর্মী ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদেরকে সহযোগিতা করেন। ফাইল রেডি থেকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা পর্যন্ত ভেদুরিয়াতে দালালদের পাশাপাশি মাঠকর্মী মাকসুদুর রহমান ও বাপ্তাতে সাইমুন জড়িত। তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে লোন আদায়ের কথা থাকলেও, ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদের সাথে নিয়ে মাঠে যান। নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ শুধু তাই নয়, অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত বরাদ্ধপত্র সূত্রে জানা জায়, অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার ঋণ বিতরণ এলাকা হচ্ছে- বাপ্তা, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়ন। কিন্তু নির্ধারিত এলাকায় ঋণ না দিয়ে অনেক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে ভোলা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকায়। যার বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভোলা পৌরসভার পৌরনবীপুর এলাকার বাসিন্দা রিপনচন্দ্র মজুমদারকে ৪৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয়া হয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২১৭২১৭৩৫। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার তিনখাম্বা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা সেলিনা বেগমকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২৩২৭৫৫৬৮১) ৬৮ হাজার এবং একই বাড়ির আবদুর রহিম শিকদারকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২২৬৫০৯৫২) ৫৮ হাজার টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। জানা গেছে, এদের কেউই কৃষক নন। এধরণের অনেকের তথ্য প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল মিসিং অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই শাখার আওতাধীন বাপ্তা ইউনিয়নের ১৯টি কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং হয়েছে। এ বিষয়ে ফাইলগুলোর তথ্য জোনাল অফিসে জানাতে বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি এবং বাপ্তা ইউনিয়নের আরো প্রায় শতাধিক কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং রয়েছে। এই ফাইলগুলোর ঋণ বিতরণ সম্পর্কে তথ্য গোপন করতেই তা দালালদের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল বলেন, “এ জাতীয় অভিযোগ তিন বছর আগে ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি তিন বছর, এরমধ্যে কোনো অনিয়ম হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক লোন বা এজাতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে গরীব কৃষক লোন পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঐ ঋণই পুনরায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান খায়রুল বাশার পাভেল। অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এজাতীয় কোন অভিযোগ আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কৃষি ঋণ বিতরণের কোন সুযোগ নেই। চাহিদার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, পূর্বের ঋণসহ ৫২ কোটি টাকা স্থিতি হয়েছে এই শাখার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া টার্গেট পূরণ করতে এমনটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলের জি.এম জাহিদ ইকবাল জানান, তিনি ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোলার ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ছয় পা বিশিষ্ট একটি বিরল গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ বাছুরটিকে একনজর দেখতে মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচর উমেদ গ্রামের ডা. আজাহার উদ্দীন রোড সংলগ্ন সৌদি আরব প্রবাসী মোব্বান মো. মনিরের বাড়িতে বাছুরটির জন্ম হয়। জন্মের পরই চমক জন্মের পর দেখা যায়, বাছুরটির স্বাভাবিক চারটি পায়ের পাশাপাশি ঘাড়ের কাছ থেকে আরও দুটি অতিরিক্ত পা বের হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহল বাড়তে থাকে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ খবর পেয়ে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক এসে বাছুরটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারা জানান, অতিরিক্ত অঙ্গ থাকলেও বাছুরটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারছে। বাছুরটির মালিক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, “শুরুর দিকে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে আশ্বস্ত করেছেন। এখন বাছুরটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে—এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) ডা. মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এ ধরনের জন্মগত অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত বিরল। অনেক সময় ভ্রূণের বিকাশজনিত ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। বাছুরটি কিছুটা বড় হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত দুই পা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে বাছুরটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে বিরল এই বাছুরটি দেখছেন। অনেকেই এটিকে ‘প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি’ বলে মন্তব্য করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাছুরটির সার্বিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোলায় একটি নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে অনবরত গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে এ গ্যাসের উদগিরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা নলকূপের মুখে আগুন ধরালে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে। কীভাবে ঘটলো ঘটনা এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা জেবল হক মাঝির বাড়িতে পানির সংকট মেটাতে একটি নলকূপ বসানো হয়। প্রায় ৭০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপনের পর পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে পানি না উঠে ‘সো সো’ শব্দ করে গ্যাস বের হতে শুরু করে। স্থানীয়রা কৌতূহলবশত নলকূপের মুখে লাইটার দিয়ে আগুন ধরালে সঙ্গে সঙ্গে আগুন জ্বলে ওঠে এবং তা কিছু সময় ধরে জ্বলতে থাকে। বাড়ির মালিকের বক্তব্য বাড়ির বাসিন্দা জেবল হক ও নাছিমা জানান, “আমাদের বাড়িতে পানির সমস্যা ছিল। সেই কারণে উঠানে টিউবওয়েল বসানো হয়। কিন্তু পানি না উঠে গ্যাস বের হতে থাকে। পরে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিলে টিউবওয়েলের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে।” অন্য বাসিন্দা আবু মাঝি, রাবেয়া ও মোসলেম উদ্দিন বলেন, “এটি গ্যাস নাকি অন্য কিছু—সরকারিভাবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” এলাকাবাসীর উদ্বেগ গ্রামবাসীরা জানান, এর আগে একই এলাকায় ৩০০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ বাসিন্দা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে দেখবেন।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্ভাব্য কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ জৈব পদার্থের পচন বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষুদ্র স্তর থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে। কখনও কখনও অগভীর স্তরেও এ ধরনের গ্যাস পাওয়া যায়, যা চাপের কারণে নলকূপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস বের হতে থাকলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।