Brand logo light

ভোলা

ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা
ভোলায় লঞ্চের সঙ্গে অভিযান চালানো স্পিডবোটের ধাক্কা,নিখোঁজ পুলিশ সদস্য

ভোলার লালমোহনে যাত্রীবাহি লঞ্চের সাথে ধাক্কায় মৎস্য রক্ষা অভিযানের স্পিডবোট উল্টে এক পুলিশ কনস্টেবল নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘনায় আহত হয় স্পিডবোটে থাকা অপর ৫ জন। তাদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার প্রায় ৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৮টার দিকে লালমোহন উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এই ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পুলিশ কনস্টেবলের নাম মো. ফখরুল। জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটঘামী এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে পৌঁছে। একই সময় মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা মনিটরিং করার জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসের ৩ সদস্য ও ৩জন কনস্টেবল স্পিডবোটে অভিযানে যায়। ওই টিমে লালমোহন মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী আব্বাছ উদ্দিন, ক্ষেত্র সহকারী মনোয়ার হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সোহাগ এবং পুলিশের ৩জন কনস্টেবল ছিলেন। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ানোর সময় লঞ্চের পেছনের প্রফেলারের সাথে ধাক্কায় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর ৫জন সাঁতরে তীরে উঠলেও তাদের সাথে থাকা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ ফখরুল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ফখরুল মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালে। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, অভিযানে যাওয়া স্পিডবোটটি নদীর মধ্যেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্রোতের টানে বোটটি ঘাটে ধাকা লঞ্চের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চের নিচে বোটটি ঢুকে যাওয়ার সময় সবাই একদিক চলে গেলে বোটটি উল্টে যায়। ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি টিম নদীতে নেমে তল্লাশি চালাচ্ছে। বরিশাল থেকে আরও ডুবরি দল আসছে বলেও ওসি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
আইন অমান্য করে ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হয়।ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নীলকমল ইউনিয়ন
চরফ্যাশনে ৩৩ ইটভাটার মধ্যে ১৭টি অবৈধ, কাঠ পোড়ানোর অভিযোগে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩৩টি ইটভাটা পরিচালিত হলেও এর মধ্যে অন্তত ১৭টি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চলছে। এসব ভাটায় আইন অমান্য করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি, পর্যটন এলাকা এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন সদর, দুলারহাট, শশীভূষণ এবং দক্ষিণ আইচা এলাকায় গড়ে ওঠা ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ১৭টি ইটভাটা অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসন প্রতিবছর অভিযান চালালেও কিছুদিন পর প্রভাব খাটিয়ে ভাটাগুলো আবারও চালু হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করে কাঠ পোড়ানো ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবেশ দূষণ ও বন উজাড় রোধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ভাটায় তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে প্রায় সব ভাটাই জনবসতি এলাকার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাত্রী, নাভা, আকন, সোনালী, তেঁতুলিয়া, আব্দুল্লাহ ও মিজান ব্রিকসসহ অবৈধ ১৭টি ভাটায় অবৈধ ড্রাম চিমনি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। পর্যটন এলাকাও দূষণের ঝুঁকিতে উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র বেতুয়া প্রশান্ত পার্কের প্রবেশমুখেই অন্তত ছয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। নদী, সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশের কারণে পার্কটি স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে ইটভাটার ধোঁয়া, ধুলাবালু এবং ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা হাসনাইন বলেন, “একটি পর্যটন এলাকার প্রবেশপথই পুরো এলাকার প্রথম পরিচয়। সেখানে যদি দূষণ ও বিশৃঙ্খলা থাকে, তাহলে পুরো এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি বলেন, ইটভাটায় মাটি আনা ও ইট পরিবহনের ট্রাক চলাচলে প্রচুর ধুলাবালু উড়ে, যা পর্যটন এলাকার পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। কৃষিজমিতে ফসল উৎপাদন কমছে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে কৃষিজমিতে জমে ফসলের ক্ষতি করছে। অনেক ক্ষেতেই ধান, শাকসবজি ও ফলগাছ ঠিকমতো বৃদ্ধি পাচ্ছে না। দক্ষিণ আইচা এলাকার কৃষক বাবুল বলেন, “আমি প্রায় দেড় একর জমিতে রবিশস্য করেছি। পাশেই ইটভাটা থাকায় গাছ ঠিকমতো বাড়ে না। ফলে ফসলও ভালো হয় না। আমরা এসব ইটভাটা বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।” স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুলারহাট এলাকার বাসিন্দা হারুন জানান, তার বাড়ির পাশে ঢাকা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। তিনি বলেন, “এই ভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়। ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে আমাদের পরিবারের শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সামনে গরমের দিনে এই সমস্যা আরও বাড়বে।” চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শোভন বসাক বলেন, জনবসতি এলাকায় ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ভাটামালিকদের দাবি অবৈধ ইটভাটার মালিকরা দাবি করছেন, তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন এবং শিগগিরই বৈধতার অনুমোদন পাবেন। তেঁতুলিয়া ব্রিকসের মালিক মো. মোশারেফ বলেন, “সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছি। এখনো অনুমোদন পাইনি।” অনুমোদন ছাড়া কীভাবে ইটভাটা চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতি বছরই তার ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের অবস্থান ভোলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী ইটভাটাগুলোর ওপর নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু
টেন্ডার বানিজ্যে গণপূর্তে ছাত্রলীগেই আস্থা, ভোলা ছেড়ে রাঙামাটি যাওয়ার তদবিরে রিজু

ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ১৮, ২০২৫ 0
অগ্রণী ব্যাংকের কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা
ভোলায় অগ্রণী ব্যাংকের কালীনাথ রায়ের বাজার শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতি

বরিশাল অফিস :   রীতিমতো গ্রাহকদের কৃষিঋণ বিতরণে পাল্লা দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছেন ভোলার কালিনাথ রায়ের বাজার শাখা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজার। এক ব্যক্তিকে একাধিক বার ঋণ প্রদান, একই এনআইডি কার্ডে দুজন বা তিনজনকে ঋণ বিতরণ, প্রতিবারই ঋণ দেওয়ার নামে ১০% কমিশন গ্রহণ ছাড়াও ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও চরম জালিয়াতি স্পষ্ট হয়েছে কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি তাদের এই নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বিতরণের প্রমাণ পেয়েছেন উর্ধতন কর্মকর্তারাও। ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ব্যাংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, কালিনাথ রায়ের বাজার শাখার আমানতের পরিমাণ মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যা থেকে তাদের সর্বোচ্চ ৮০% ঋণ দেয়ার অনুমোদন রয়েছে। সে অনুযায়ী তাদের ঋণ বিতরণ সক্ষমতা দাড়ায় ১২ কোটি টাকা। অথচ তারা ঋণ বিতরণ করেছে ৫২ কোটি টাকা। যা আমানতের প্রায় ৩৫৭% । এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের। কোনোরকম পুরাতন ঋণ আদায় না করেই ইউনিয়ন ভিত্তিক দালালদের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নতুন ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে এই শাখায়। আর এই ঋণ বিতরণে জড়িত রয়েছেন বেশ কয়েকজন বহিরাগত এজেন্ট বা দালাল। এদের মধ্যে ভেদুরিয়াতে সিদ্দিকুর রহমান, পাতা ভেদুরিয়াতে ইউসুফ, চরকালিতে জাহানারা বেগম নামের দালালের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার নতুন করে ঋণ বিতরণ চলছে। কৃষক ছাড়াই কৃষি ঋণ বিতরণ অভিযোগ রয়েছে, ঋণগ্রহীতাদের কোনোরকম যাচাই-বাছাই, অনুমোদন, ফাইল প্রক্রিয়া এবং মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ছাড়াই “ম্যানুয়াল তালিকা” ও ব্যক্তিগত পরিচয়ে ঋণ অনুমোদন করা হচ্ছে। প্রতিটি ঋণ হতে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ বাবদ রাখা হয়। যা থেকে শাখা ব্যবস্থাপক ৩ হাজার টাকা নিয়ে- ১ হাজার টাকা করে জোনাল অফিসে প্রদান করেন। বাকী ২০০০  টাকা করে ফাইল প্রতি দেয়া হয় দালালদের। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, মাঠপর্যায়ে ঋণ বিতরণে যুক্ত আছেন ছিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইউসুফ, জাহানারা বেগম, মোঃ মিজানুর রহমান, সুমী নন্দী, আব্দুল মালেক কবিরাজ। যাঁরা “ফিল্ড রিপ্রেজেন্টেটিভ” বা “ঋণ সংগ্রাহক” হিসেবে কাজ করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই অগ্রণী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব ব্যক্তি ঋণ বিতরণ ও সংগ্রহের নাম করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এবং ব্যাংকের অফিসিয়াল রেকর্ড ছাড়াই লেনদেন করছেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর কিছু মধ্যস্বত্বভোগী লাভবান হচ্ছেন। আবার বাণিজ্যিক ঋণ বিতরণ ব্যবস্থা থাকলেও এই শাখা থেকে সবসময় ‘কৃষক নন’ এমন ব্যক্তিদেরকেই কৃষিঋণ প্রদান করা হচ্ছে। বিগত তিনটি বছর ধরে এভাবেই ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল। বিনিময়ে ১০% কমিশন নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। একইসাথে অগ্রণী ব্যাংক কালিনাথ রায়ের বাজার শাখাটি চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করছেন। ভোলা জোনাল অফিসের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথকে ম্যানেজ করেই খায়রুল বাশার বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বরিশাল সার্কেল অফিসে তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে- যারা কৃষি ঋণের উৎকোচের টাকা মাসিক হিসাবে ভাগ পান। যার ফলে খায়রুল বাশার ধরাকে সরা জ্ঞান করেন বলে জানিয়েছেন কালিনাথ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, শুধুমাত্র গত আগস্টেই ভেদুরিয়াতে ১০ লক্ষ ও বাপ্তাতে ৯ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগুলো বিতরণে শুরু থেকে শেষ অবধি দুইজন মাঠকর্মী ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদেরকে সহযোগিতা করেন। ফাইল রেডি থেকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা পর্যন্ত ভেদুরিয়াতে দালালদের পাশাপাশি মাঠকর্মী মাকসুদুর রহমান ও বাপ্তাতে সাইমুন জড়িত। তারা নিজেরা মাঠে গিয়ে লোন আদায়ের কথা থাকলেও, ম্যানেজারের নির্দেশে দালালদের সাথে নিয়ে মাঠে যান। নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ শুধু তাই নয়, অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত বরাদ্ধপত্র সূত্রে জানা জায়, অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার ঋণ বিতরণ এলাকা হচ্ছে- বাপ্তা, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়ন। কিন্তু নির্ধারিত এলাকায় ঋণ না দিয়ে অনেক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে ভোলা পৌরসভাসহ অন্যান্য এলাকায়। যার বেশ কিছু তথ্য এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ভোলা পৌরসভার পৌরনবীপুর এলাকার বাসিন্দা রিপনচন্দ্র মজুমদারকে ৪৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণ দেয়া হয়েছে, তার অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২১৭২১৭৩৫। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ভোলা পৌরসভার তিনখাম্বা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা সেলিনা বেগমকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২৩২৭৫৫৬৮১) ৬৮ হাজার এবং একই বাড়ির আবদুর রহিম শিকদারকে (অ্যাকাউন্ট নম্বর ০২০০০২২৬৫০৯৫২) ৫৮ হাজার টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়। জানা গেছে, এদের কেউই কৃষক নন। এধরণের অনেকের তথ্য প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে ফাইল মিসিং অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে কালীনাথ রায়ের বাজার শাখার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখে পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই শাখার আওতাধীন বাপ্তা ইউনিয়নের ১৯টি কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং হয়েছে। এ বিষয়ে ফাইলগুলোর তথ্য জোনাল অফিসে জানাতে বলা হলেও তা এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। এদিকে এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে, ভেদুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি এবং বাপ্তা ইউনিয়নের আরো প্রায় শতাধিক কৃষি ঋণের ফাইল মিসিং রয়েছে। এই ফাইলগুলোর ঋণ বিতরণ সম্পর্কে তথ্য গোপন করতেই তা দালালদের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক কালীনাথ রায়ের বাজার শাখা ব্যবস্থাপক খায়রুল বাশার পাভেল বলেন, “এ জাতীয় অভিযোগ তিন বছর আগে ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। আমি দায়িত্ব পালন করছি তিন বছর, এরমধ্যে কোনো অনিয়ম হয়নি। একই ব্যক্তির একাধিক লোন বা এজাতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট। তবে গরীব কৃষক লোন পরিশোধ করতে না পারলে তাকে ঐ ঋণই পুনরায় ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান খায়রুল বাশার পাভেল। অগ্রণী ব্যাংক ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক গণেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এজাতীয় কোন অভিযোগ আমি এখন পর্যন্ত পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কৃষি ঋণ বিতরণের কোন সুযোগ নেই। চাহিদার অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, পূর্বের ঋণসহ ৫২ কোটি টাকা স্থিতি হয়েছে এই শাখার। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া টার্গেট পূরণ করতে এমনটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এবিষয়ে জানতে অগ্রণী ব্যাংক বরিশাল সার্কেলের জি.এম জাহিদ ইকবাল জানান, তিনি ভোলার কালীনাথ রায়ের বাজার অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৫, ২০২৫ 0
ভোলায় ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম
ভোলার লালমোহনে ছয় পা বিশিষ্ট বিরল বাছুরের জন্ম, দেখতে ভিড় করছে উৎসুক জনতা

ভোলার ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে ছয় পা বিশিষ্ট একটি বিরল গরুর বাছুরের জন্ম হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ বাছুরটিকে একনজর দেখতে মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বচর উমেদ গ্রামের ডা. আজাহার উদ্দীন রোড সংলগ্ন সৌদি আরব প্রবাসী মোব্বান মো. মনিরের বাড়িতে বাছুরটির জন্ম হয়। জন্মের পরই চমক জন্মের পর দেখা যায়, বাছুরটির স্বাভাবিক চারটি পায়ের পাশাপাশি ঘাড়ের কাছ থেকে আরও দুটি অতিরিক্ত পা বের হয়েছে। এমন অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহল বাড়তে থাকে। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ খবর পেয়ে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক এসে বাছুরটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারা জানান, অতিরিক্ত অঙ্গ থাকলেও বাছুরটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারছে। বাছুরটির মালিক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া বলেন, “শুরুর দিকে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে আশ্বস্ত করেছেন। এখন বাছুরটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে—এতে আমরা স্বস্তি পেয়েছি।” উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) ডা. মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এ ধরনের জন্মগত অস্বাভাবিকতা অত্যন্ত বিরল। অনেক সময় ভ্রূণের বিকাশজনিত ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। বাছুরটি কিছুটা বড় হলে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অতিরিক্ত দুই পা অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে বাছুরটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে বিরল এই বাছুরটি দেখছেন। অনেকেই এটিকে ‘প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি’ বলে মন্তব্য করছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাছুরটির সার্বিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে বের হচ্ছে গ্যাস
ভোলায় নলকূপে পানির বদলে গ্যাস

ভোলায় একটি নলকূপ থেকে পানির পরিবর্তে অনবরত গ্যাস বের হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত তিন দিন ধরে এ গ্যাসের উদগিরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা নলকূপের মুখে আগুন ধরালে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে। কীভাবে ঘটলো ঘটনা এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে তুলাতলী গ্রামের বাসিন্দা জেবল হক মাঝির বাড়িতে পানির সংকট মেটাতে একটি নলকূপ বসানো হয়। প্রায় ৭০ ফুট গভীরে পাইপ স্থাপনের পর পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে পানি না উঠে ‘সো সো’ শব্দ করে গ্যাস বের হতে শুরু করে। স্থানীয়রা কৌতূহলবশত নলকূপের মুখে লাইটার দিয়ে আগুন ধরালে সঙ্গে সঙ্গে আগুন জ্বলে ওঠে এবং তা কিছু সময় ধরে জ্বলতে থাকে। বাড়ির মালিকের বক্তব্য বাড়ির বাসিন্দা জেবল হক ও নাছিমা জানান, “আমাদের বাড়িতে পানির সমস্যা ছিল। সেই কারণে উঠানে টিউবওয়েল বসানো হয়। কিন্তু পানি না উঠে গ্যাস বের হতে থাকে। পরে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিলে টিউবওয়েলের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে।” অন্য বাসিন্দা আবু মাঝি, রাবেয়া ও মোসলেম উদ্দিন বলেন, “এটি গ্যাস নাকি অন্য কিছু—সরকারিভাবে পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যাবে না। তবে এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” এলাকাবাসীর উদ্বেগ গ্রামবাসীরা জানান, এর আগে একই এলাকায় ৩০০ ফুট গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও অধিকাংশ বাসিন্দা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে দেখবেন।” উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সম্ভাব্য কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ জৈব পদার্থের পচন বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষুদ্র স্তর থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হতে পারে। কখনও কখনও অগভীর স্তরেও এ ধরনের গ্যাস পাওয়া যায়, যা চাপের কারণে নলকূপের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর দাবি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস বের হতে থাকলে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন সবার দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0