ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর আলোচনা সভা শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং দলীয় কর্মীদের প্রতি সরকারের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তায় পরিণত হয়েছে।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামনে ‘অত্যন্ত কঠিন’ এবং ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সময় অপেক্ষা করছে।
তারেক রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার সতর্কবার্তা।
তিনি বলেন, সামনে এমন একটি সময় আসছে, যা হালকাভাবে নেওয়া হলে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তার ভাষায়, এই ক্ষতি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেটি মূলত জিয়াউর রহমানের পথনির্দেশনা অনুসরণ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে বর্তমান সরকার নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতা এবং নীতিগত অবস্থানকে জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে চায়।
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন খাতকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায়।
বক্তব্যে তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
তার মতে, নির্বাচনের আগে ইশতেহার ছিল বিএনপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা; কিন্তু জনগণ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে সমর্থন দেওয়ার পর সেটি আর শুধু দলের নয়, জনগণের পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে।
এ কারণে সরকারের ওপর এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায় সৃষ্টি হয়েছে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের প্রশ্নে সরকারের জবাবদিহিতার বিষয়টিও সামনে আনেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া নির্দেশনা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিশ্রমে একটি সরকার সফল হতে পারে না।
বরং বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দলসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে।
তার মতে, নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ হয়নি; বরং সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই প্রকৃত সাফল্য অর্জিত হবে।
সরকারের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচারব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসব খাত পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যে সামাজিক অবক্ষয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘনভাবে নিজের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে অনেকেই জিয়াউর রহমানের মাধ্যমেই চিনতেন, যা একজন সন্তান হিসেবে তাকে গর্বিত করে।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শুধু পারিবারিক স্মৃতিচারণই করেননি; বরং জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত করারও চেষ্টা করেছেন।
বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় অবদান এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
ক্ষমতায় আসার পর এটি তারেক রহমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কারণ এতে একদিকে যেমন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের জন্য দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার স্পষ্ট বার্তাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে বক্তব্যটি শুধু অতীতের একজন রাষ্ট্রনায়ককে স্মরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকারের করণীয় ও প্রত্যাশার একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে দেশের দুই প্রধান ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী—উভয়ই এক ধরনের রাজনৈতিক ‘ইনসিকিউরিটিতে’ ভুগছে। সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার রাজনীতির সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকা তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সতর্কবার্তা দেন। ‘লীগ প্রশ্নে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি’ মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে রাজনৈতিক বিতর্ক ও অবস্থানগত প্রতিযোগিতা চলছে, তার মূল কারণ দুই বড় দলের অনিরাপত্তাবোধ। তিনি লেখেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ’৮৬ আর ’৯৬-এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না, আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা ও সহিংসতার ভয়ে।” তার মতে, বিএনপির এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে জামায়াতের আশঙ্কার উৎস নব্বইয়ের দশকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘাতময় সম্পর্ক এবং অতীত রাজনৈতিক সহিংসতার স্মৃতি। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আশঙ্কা পোস্টে মাহফুজ আলম একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’-এর কাঠামোর মধ্যেই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করবে। একই সময়ে জামায়াতে ইসলামী অপেক্ষাকৃত নীরব অবস্থান নিতে পারে। তার ভাষায়, “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে।” এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিরোধে যুক্ত থাকা নতুন প্রজন্মের কর্মী ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণরা বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘আসল বিপদ তরুণদের জন্য’ মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী আন্দোলনে যারা সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার কারণে সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের মধ্যে আন্দোলনকারী তরুণদের স্বার্থ প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন নয়। তরুণদের প্রতি আহ্বান: ‘রুটি বড় করুন’ নিজের পোস্টে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে মাহফুজ আলম বলেন, তারা বর্তমানে সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। তিনি লেখেন, “এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন।” তরুণদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাদের মধ্যে এমন সক্ষমতা রয়েছে যা শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সামাজিক প্রভাব বিস্তার, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ‘আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের উদাহরণ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, অতীতেও তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ’৭০-এর দশকে, ’৯০-এর দশকেও ঘটেছে।” তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক সংগ্রাম মূলত প্রজন্মগত লড়াই এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্মাণ করতে হবে। ‘কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম’ পোস্টের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও তরুণদের প্রতি ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। কিবলা রাখেন জুলাই আর অ্যান্টি-ফ্যাসিজম।” মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা নিশ্চিত ঝুঁকি ও প্রতিকূলতা জেনেও সংগ্রাম করেছেন। এখন সেই সাহসের সঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল যুক্ত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী–এর ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ডিম নিক্ষেপ, ইটপাটকেল ছোড়া, মারধর এবং পরবর্তীতে অস্ত্রধারী দুই যুবকের উপস্থিতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার দাবি পাওয়া গেছে। ঘটনার জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিকে দায়ী করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ–এর সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিছুক্ষণ পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। পরে তাকে ঘিরে কিল-ঘুসি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা ও হকিস্টিক দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের মধ্যে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। পরে নেতাকর্মীদের বেষ্টনীতে মসজিদ এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। হামলার পর ডিমে ভেজা পাঞ্জাবি পরা অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন পাটওয়ারী। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত সোয়া ৯টার দিকে তার অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। “পুলিশও হামলাকারীদের সঙ্গে ছিল”—পাটওয়ারীর অভিযোগ সদর থানায় অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় এবং পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি এবং পুলিশের একটি অংশ একই অবস্থানে ছিল। তার ভাষায়, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের “ইন্ধন” ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়। পাটওয়ারী আরও দাবি করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা ইস্যু, ধর্ষণবিরোধী বক্তব্য এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভীত নই। রাজনৈতিক কর্মসূচি চলবে।” অস্ত্রধারী দুই যুবক: নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ চলাকালে অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা দুই যুবকের ছবি। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, অস্ত্রধারী দুজন হলেন সদর উপজেলার কাষ্টসাগরা গ্রামের আশিক এবং মাস্টারপাড়ার সিয়াম। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির একটি ফেসবুক পোস্টে তাদের “শিবিরকর্মী” হিসেবে আখ্যা দেন। তার দাবি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী “মব তৈরি করতে” ঝিনাইদহে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে তার সঙ্গে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা অস্ত্র প্রদর্শন করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা উচিত। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ছাত্রদলের পাল্টা অবস্থান বিকেলে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল এবং শাহেদ আহমেদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কারা হামলা করেছে তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়ী করাকে “অপপ্রচার” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। রাজনৈতিক বার্তা নাকি মাঠ দখলের লড়াই? বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের বহিঃপ্রকাশ। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি এবং ঐতিহ্যগত বিরোধী রাজনৈতিক বলয় বিএনপি-ছাত্রদলের মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ও জনসমর্থন নিয়ে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ক্রমেই প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে “মব পলিটিক্স”, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উসকানি এবং সশস্ত্র উপস্থিতির অভিযোগ—এসব বিষয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে ঘটনার পর এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— হামলা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি কারা এবং তারা কার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে কী ভূমিকা পালন করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা কতটা রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং মামলা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুরে ৭৬ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সেক্রেটারি হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এরশাদ আলী নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা ধার নেন হারুনুর রশীদ। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এরশাদ আলী জামালপুর আদালতে চেক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত হারুনুর রশীদকে ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও গ্রেফতারের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে জামালপুর পৌর এলাকার সরদারপাড়া থেকে হারুনুর রশীদকে গ্রেফতার করে মেলান্দহ থানায় নেওয়া হয়। ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার তাকে জামালপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।