ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কাজের তথ্য চাওয়া হলেও তিনি তা প্রকাশে গড়িমসি করছেন। এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটে প্রকাশযোগ্য প্রকল্প তালিকাও দীর্ঘ সময় অনলাইনে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪–২০২৫ এবং ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়নাধীন ও বাস্তবায়িত টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তালিকা জানতে গত দুই সপ্তাহ ধরে একাধিকবার ভোলা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন পিআইও জিয়াউর রহমান। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার এই প্রবণতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কোন তথ্য আড়াল করতেই কি এই অনীহা? কাগজে রাস্তা সংস্কার, বাস্তবে নেই কাজের চিহ্ন অভিযোগ রয়েছে, ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মিলবাজার থেকে ব্যাপারী বাড়ির দরজা পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে গিয়ে কোনো ধরনের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, কাগজে প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে সেখানে উন্নয়নকাজ হয়নি। অথচ সরকারি নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে চাল বরাদ্দের অভিযোগ অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, “পশ্চিম চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ০.৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরেজমিন ঘুরে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। একইভাবে “সাহেবের চর হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সরকারি খেজুর বরাদ্দ চেয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ নামের কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান তাদের জানা নেই। এসব ঘটনায় সরকারি বরাদ্দ বণ্টন প্রক্রিয়া এবং প্রকল্প যাচাই নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য চেয়েও পাননি সাংবাদিকরা অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর তথ্য জানতে সাংবাদিকরা সাত দিন ধরে উপজেলা প্রকল্প অফিসে গেলেও পিআইও জিয়াউর রহমান তালিকা সরবরাহ করেননি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান সরাসরি মুঠোফোনে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রতিদিন “আজ দেব, কাল দেব” বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা। ‘তথ্য গোপন মানেই দুর্নীতির ইঙ্গিত’ এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তথ্য প্রকাশে অনীহা দেখায়, তাহলে সেখানে দুর্নীতির আশঙ্কা থেকেই যায়। দুর্নীতি না থাকলে তথ্য গোপনের প্রয়োজন পড়ে না।” তিনি আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা জনগণের তথ্য জানার অধিকার বাধাগ্রস্ত করেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অতীতেও বিতর্কে ছিলেন জিয়াউর রহমান পিআইও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন এবং সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অপরাধ বিচিত্রার মফস্বল সম্পাদক রাশেদুল ইসলামকে তথ্য না দিয়ে উল্টো হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া বরগুনার ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ করেন, পিআইও জিয়াউর রহমান তার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৮ লাখ টাকা চেকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জিয়াউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ও স্বচ্ছতা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের তালিকা, বরাদ্দ, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং উপকারভোগীদের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা জরুরি। ভোলা সদর উপজেলার সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছে। কারণ কাগজে থাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে না থাকলে, তার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ইত্তেহাদ নিউজ: যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করতে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে যশোর সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার এই সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি নির্ধারণের জন্য চেষ্টা চলছে। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ বিষয়ে সমন্বয় করছেন। সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। এই খালটি স্থানীয়ভাবে ‘জিয়া খাল’ নামে পরিচিত। প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে খনন কাজের সূচনা করেন। স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে মাত্র ছয় মাসে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন সম্পন্ন হয়। পরের বছর ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। খাল খননের এই উদ্যোগ পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘জিয়া মডেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এর লক্ষ্য ছিল কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উলাসী-যদুনাথপুর খালটি বর্তমানে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকার এবার সেই খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভাব্য উদ্বোধনকে ঘিরে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে এবং এখন এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেখানে নির্ভয়ে নিজের মত প্রকাশ করা সম্ভব। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন আর নিজের মত প্রকাশের কারণে কাউকে গুমের শিকার হতে হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল বিএনপির বিরুদ্ধে অবান্তর ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, “যারা বর্তমান সরকারকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে, তারা আসলে ফ্যাসিবাদের লক্ষণই ধারণ করছে।” গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বন্ধ করা জরুরি। 🇧🇩 স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন রিজভী। কর্মসূচিগুলো হলো— 🔹 ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার): ভোর ৬টায় নয়াপল্টনসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ভোর ৫টায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ঢাকায় ফিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত পুষ্পস্তবক অর্পণ মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল 🔹 ২৫ মার্চ (বুধবার): দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা এতে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন রিজভী বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে।
পিরোজপুর : পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পুনরায় ‘জিয়ানগর উপজেলা’ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় পিরোজপুর-১ আসন-এর বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ মোড় থেকে আনন্দ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জিয়ানগর বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে ব্যবসায়ী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফাইজুল কবির তালুকদার, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা যুবদলের সদস্য এস কে আল আমিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। সরকারি প্রজ্ঞাপন ও সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। গত বছরের ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর সভায় নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নাম পরিবর্তনের ইতিহাস উল্লেখ্য, পিরোজপুর সদর উপজেলা-এর পাড়েরহাট, বালিপাড়া ও পত্তাশী ইউনিয়নের ১২৮.৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ১৯৭৬ সালে ইন্দুরকানী থানা গঠিত হয়। ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর নামে ‘জিয়ানগর উপজেলা’ নামকরণ ঘোষণা করেন। সে সময় সংসদ সদস্য ছিলেন দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার সভায় পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রায় ১৫ বছর পর উপজেলার নাম আবার ‘ইন্দুরকানী’ রাখা হয়। সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও উপজেলার নাম ‘জিয়ানগর উপজেলা’ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হলো।
বাবা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য। মেয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বলছি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কথা। ফরিদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। শামা ওবায়েদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের পাশে থেকে ব্যাপক কাজ করেছেন। সেই কারণে ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার। এবার সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। শামা ওবায়েদের বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটিই তার জীবনের প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যেখানে তিনি নিজেও একজন প্রার্থী। দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর এক মাসের মধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচনী মাঠে নামেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার অতীত, দুর্নীতির অভিযোগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এসব অভিযোগ বিএনপি বরাবরের মতোই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং দলটি দাবি করছে—এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ। প্রায় সতের বছর যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার সময় তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ নেতৃত্বের পর সরাসরি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পর, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তারেক রহমান। যদিও তিনি ২০১৮ সাল থেকেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করছিলেন। নেতৃত্বে আসা কতটা অনিবার্য ছিল? রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের আসাটা ছিল অনেকটাই অনিবার্য। “২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই দলটি কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চলছিল। তাই চেয়ারম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণে কোনো বড় অনিশ্চয়তা ছিল না,” বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিদেশে থেকেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তারেক রহমানের বড় রাজনৈতিক সাফল্য। “দেশের বাইরে থেকেও তিনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ছিলেন এবং দল ভাঙতে দেননি। তবে এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তার সিদ্ধান্তগুলো কতটা পরিণত হয়,” বলেন তিনি। আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে নতুন চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেই বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে এসেছে একসময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি চাইছে তারেক রহমানকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করতে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলটির জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জও বটে। অতীতের বিতর্ক ও মামলা ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আঠারো মাস কারাভোগ করেন তারেক রহমান। মুক্তির পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ‘হাওয়া ভবন’কে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিরোধীরা তখন তাকে একটি সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে বর্ণনা করে। বিএনপি এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি এসব মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পান। তার নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষা বিএনপির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তবে নির্বাচনী হলফনামায় তার জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৬৮। হলফনামা অনুযায়ী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’। সামনে কী অপেক্ষা করছে? এই নির্বাচনই তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মহিউদ্দিন আহমদের ভাষায়, “তিনি রাজনীতির সংঘাত, দমন-পীড়ন ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো—এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি কেবল দলের নেতা নাকি ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্বের উপযোগী রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারেন কি না।” ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তারেক রহমান প্রথমবারের মতো একক নেতৃত্বে বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করলেন। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে—তার রাজনৈতিক উত্থান কতটা স্থায়ী ও প্রভাবশালী হতে যাচ্ছে।
১২ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি সরকার গঠন করে দক্ষিণাঞ্চলে খাল খননসহ কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করবেন—এমন ঘোষণায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের এক জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে অনেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা সুলতান হাওলাদার বলেন, “কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা শোনার পরই মনে হয়েছে—তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সন্তান। আর যখন খাল খননের ঘোষণা দিলেন, তখন আর কোনো সন্দেহই রইল না।” তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খননের যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে খালগুলো ভরাট হওয়ায় সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, দখল ও পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে কৃষিকাজে সংকট তৈরি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা ফাতেহা খানম বলেন, “উন্নয়ন দরকার, কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী-খাল দখল মেনে নেওয়া যায় না। ধান-নদী-খালের বরিশাল তার ঐতিহ্য হারাক, সেটাও চাই না।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমান বাবার শুরু করা জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের নিয়ে জনসভা করেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন, “১৩ তারিখ থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দক্ষিণাঞ্চলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেই কাজ আবার শুরু করব।” তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “কে কে আমার সঙ্গে খাল খনন করতে যাবেন?” জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, “এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। দেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলেই বরিশাল বিভাগ ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা অনেক কাজ করেছি, তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। বিএনপির রাজনীতির মূল কথা একটাই—জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।