ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগের (এনএসআই) নতুন কার্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা অনুযায়ী ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন তহবিলের (জিওবি) অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবনটি প্রাথমিকভাবে এনএসআই’র বরিশাল সাব-স্টেশন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পাঁচতলা বিশিষ্ট মূল ভবনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে দুইতলা গ্যারেজ-কাম-ব্যারাক ভবনও। বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বর্তমানে কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও আধুনিক করতে এই অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গণপূর্তের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে। ‘সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে টেন্ডার’ অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্য, টেন্ডারের শর্ত ও প্রাক্কলন এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা কার্যত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারে। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের বড় একটি অংশ নিজেদের “জিম্মি অবস্থায়” পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল হোসেনকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন টেন্ডারের শর্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা ও কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হয় যা কেবল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই পূরণ করতে পারে। ‘সংস্কারের নামে কোটি টাকার অনিয়ম’ সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় আট কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। সুইমিং পুল সংস্কার টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন চলতি মাসে আহ্বান করা কয়েকটি টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুটি টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এতে প্রায় ২৫ জন ঠিকাদার কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪ মে আহ্বান করা একটি সুইমিং পুল সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজটি পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলেনবাড়ি এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ভবনের সংস্কারের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গত দুই বছরে সেখানে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। আউটসোর্সিং নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠিকাদার মহলের অভিযোগ, নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মধ্যে যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাজ দেওয়া হয় না—even প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য মেলেনি এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খান ট্রেডার্স, খান বিল্ডার্স, রাতুল এন্টারপ্রাইজ ও ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটারকে নিয়ে গঠন করেছেন ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মানিক লাল দাস ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের অনুমতি প্রদান করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর পরিচয়ে আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে গোটা দক্ষিণাঞ্চল দাবড়িয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। হাসনাতের প্রভাবে বরিশাল গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়ে বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নির্মাণ মেরামত রক্ষণাবেক্ষণ কাজগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বরাদ্দের মোটা অংকের অর্থ প্রতিবছর লোপাট করে আসছেন তিনি। অবৈধ উপায়ে আয়কৃত অর্থের একটি অংশ তিনি আ’ লীগের বিতর্কিত একতরফা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ও তার ছেলে সাদিক আবদুল্লাহর মেয়র নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছেন অভিযোগ রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভোলা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনাতার আন্দোলন দমাতে ফ্যাসিস্ট লীগের মাধ্যমে অনেক টাকা খরচ করেছেন তিনি। এখনো ফ্যাসিস্ট লীগের লোকজনকে কাজ দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের চাপ দেন। তার অধীনস্থ বিভাগগুলোতে ঝালকাঠির নাসির খানের মালিকানাধীন খান বিল্ডার্স, ভোলা সদরের ফ্যাসিস্ট লীগের সহ সভাপতি হাসান মিয়ার রাতুল এন্টারপ্রাইজ, ইনভেন্ট পয়েন্ট কম্পিউটার ও বরিশালের কাশিপুরের বাসিন্দা মিজানের খান ট্রেডার্স এর মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দিয়ে সেই টাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মিছিলে লোক জোগান দিতে ব্যয় করান বলে অভিযোগ উঠেছে। ,প্রত্যেক এক্সেনকে ডিসেম্বরের আগেই এই চার ফার্মের নামে মিনিমাম ৮ টি কাজ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। মানিক লাল দাস ২০২২ সালে যখন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তখন মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র সীমিত পদ্ধতিতে আহবান করার কথা থাকলেও তার নির্দেশের কারণে কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগ উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে মানিক লালের পছন্দের ঠিকাদারদের কে কাজ পাইয়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে মানিক লাল দাস মোটা কমিশন হাতিয়ে নেন। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী কৃষি আবহওয়া অফিসের সিভিল স্যানিটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৮ তারিখ ২১/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৯২১১। কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ও পরিদর্শন বাংলোর সিভিল স্যানেটারী মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৫৯৭ তারিখ ২১/০৩/২০২২ খ্রিঃ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং- ৬৭৯০১১। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর বাউন্ডারী ওয়াল, গেট, গার্ডরুম ও বাথরুম সিভিল ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৫ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪৫৩। কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর গ্রাউন্ড ফ্লোরে সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৭ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং ৬৭৫৯৭ এবং কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর ছাত্রী হোষ্টেলের ২য় তলায় সিভিল, স্যানেটারী ও বৈদ্যুতিক মেরামত কাজে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছেন। অন্যদিকে তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৩ তারিখ ০৬/০৩/২০২২খ্রিঃ মাধ্যমে দরপত্র অনুমোদন উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৩৬৬। ৬) কুষ্টিয়া ম্যাটস্ এর প্রশাসনিক ভবনের গ্যালারী মেরামত, রুম, জানালা মেরামতসহ বৈদ্যুতিক মেরামত কাজ। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যশোর গণপূর্ত সার্কেলের স্মারক নং ১৪৯৬ তারিখ ০৬/০৩/২০২২ মাধ্যমে প্রাক্কলন অনুমোদন ও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের পত্র প্রদান করেন যার দরপত্র আইডি নং৬৭৬৪১৫। এই সকল মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের দৃষ্টি গোচর হতে পারে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন কাজ সীমিত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার কথা থাকলেও উন্মক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহবানের নির্দেশনা সম্বলিত পত্র ও প্রাক্কলন অনুমোদন দেন যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে প্রধান প্রকৌশলীর জুলাই মাসের অফিস আদেশ অমান্য করে এক দিনের নোটিশে দরপত্র ওপেনিং দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার জন্য ততকালীন কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম কে জোর জবরদস্তি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিধি বহির্ভুতভাবে সময় বর্ধন অনুমতি দিয়েছেন যেটা দিতে পারবেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলী করবেন অনুমোদন সেটা নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। ঝিনাইদহ পাসপোর্ট অফিস, কুষ্টিয়া সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ স্মৃথি মিউজিয়াম, মাগুরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মান প্রকল্প ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠি বাড়ি সম্প্রসারিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের এছাড়া যশোর সার্কেলের সকল ডিভিশনের নিয়ম বহির্ভূতভাবে সময় বর্ধন, ভেরিয়েশন ও প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছেন। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্প এর কাজের সময়েও এই মানিক লাল দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিলো যে দীর্ঘদিন ধরে উক্ত কাজের সাথে থাকলেও তিনি সাইট পরিদর্শনে আসেন না বললেই চলে। সারাদিন অফিসে বসে বসে ঠিকাদারদের অপেক্ষায় থাকেন কখন কোন ঠিকাদার অফিসে এসে তার কমিশন দিয়ে যাবে। এসময় ভবন নির্মাণ কাজের অবহেলায় ছাদ ধসের ঘটনায় অনেকের শাস্তি হলেও তিনি থেকে যান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া, সে সময় অন্য ঠিকাদারদের যেখানে কাজের মেয়াদ শেষ, সেখানে ঠিকাদার জহুরুল ইসলামের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ২০২২ সাল পর্যন্ত। অথচ এই জহুরুলের নির্মাণাধীন কাজের অংশেই ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি হাসপাতাল ভবনের গাড়ি বারান্দার ছাদ ধসে পড়ে। পরে এ প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি, এসওসহ চারজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও দায়িত্বে অবহেলা ও সাইট পরিদর্শনে অলসতার অভিযোগ যেই মানিক লালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। মানিক লাল দাস ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন ২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সরকারের ৩ মাসের তোফায়েল আহমেদের গণপূর্ত মন্ত্রী থাকাকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যতম দোসর ভোলার সাবেক চালচোর চেয়ারম্যান হাসান মিয়া ও তার ভাই হোসেন মিয়ার প্রভাবে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ -১ পদায়ন পেয়েছিলেন। তিনি ঢাকার একটি ডিভিশন ঠিকমতো চালাতে পারেন নি। তাই সে সময় তাকে দীর্ঘ দিন ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাখা হয়। পরে পদোন্নতি পেয়ে যশোর গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। যশোর গণপূর্ত সার্কেলের আওতাধীন ঝিনাইদহ, মেহেরপুর , যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের ৮০% ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান অনুমতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানাগেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা রাজধানীর গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে একের পর এক দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের নেপথ্যে তার আপন ছোট ভাইয়ের সম্পৃক্ততার দাবিও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিন্ডিকেটের কবজায় বড় প্রকল্প অনুসন্ধানে জানা গেছে, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে পরিচালিত অধিকাংশ বড় প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে পেয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী তৈমুর আলম তার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দরপত্রের শর্তাবলি এমনভাবে সাজাতেন যাতে তার পছন্দের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারে। নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন বলে দপ্তরের ভেতরেই গুঞ্জন রয়েছে। ভাইয়ের প্রভাব ও পারিবারিক সম্পৃক্ততা তৈমুর আলমের দুর্নীতির বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের নাম। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, ভাইয়ের প্রশাসনিক পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে অংকুরই ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ‘মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে কাজ করতেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। একই স্থানে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান সরকারি বদলি নীতিকে তোয়াক্কা না করে তৈমুর আলম ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থাকায় তিনি একটি দুর্ভেদ্য প্রভাব বলয় তৈরি করেছেন, যা তাকে অনিয়ম চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে মামলা ও আইনি জটিলতা তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে কেবল প্রশাসনিক অভিযোগই নয়, বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। প্রাপ্ত নথিতে দেখা যায়, ঢাকার একটি আদালতে (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। বক্তব্য ও প্রশাসনিক অবস্থান অভিযোগের বিষয়ে মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং প্রশাসনিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, কোনো অভিযোগই এখন পর্যন্ত বিচারিক বা দাপ্তরিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের অভিমত বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্তের মতো সংস্থায় এ ধরনের সিন্ডিকেট রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটায়। তারা মনে করেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ফেরাতে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং কমিশন নেওয়ার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফয়সাল হালিম ঠিকাদারদের প্রায় প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষরের জন্য প্রায় ১০ শতাংশ হারে কমিশন নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এপিপি বরাদ্দের আওতায় ১১০টি দরপত্র এলটিএম পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়। তবে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে তিনি প্রতিটি দরপত্রে সীমিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। এ ক্ষেত্রে তিন থেকে চারজন অংশগ্রহণকারী নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়, যাতে কমিশন প্রদানকারী ঠিকাদাররা কাজ পান। অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগে একই পদ্ধতির দরপত্রে শতাধিক ঠিকাদারের অংশগ্রহণের নজির থাকলেও, এখানে অংশগ্রহণ সীমিত রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কমিশন না দেওয়া ঠিকাদারদের দরপত্রে অংশগ্রহণ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং তাদের ফাইলে স্বাক্ষর না করার ভয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া আজিমপুর কলোনির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরোনো ভবনের সার্ভে রিপোর্ট নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র রাজস্ব জমা দিয়ে প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে নিলামের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে RFQ পদ্ধতিতে ২০ লাখ টাকা এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আরও ২০ লাখ টাকা—মোট ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন তিনি। বিদেশ সফর শেষে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বিশৃঙ্খলা তৈরির মতো অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল হালিমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের সরকারি নির্মাণ খাতের অন্যতম সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ফজলুল হক মধুকে ঘিরেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল প্রদান এবং ঠিকাদারি কাজের ক্ষেত্রে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ভুয়া বিল উত্তোলন, কাজের অগ্রগতি ছাড়াই বিল প্রদান, এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিশন গ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছাড়াই বিল ছাড়ের ঘটনাও ঘটেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে প্রায় ১০ কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল প্রদানের অভিযোগও ওঠে। এছাড়া আগারগাঁওয়ে অবস্থিত একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যেখানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অতিরিক্ত বিল অনুমোদনের কথা বলা হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে জনমাধ্যমে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং পরবর্তীতে তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একসময় এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল বলে জানা গেলেও সেই তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং তারা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার ধারাবিবরণী একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে। বিতর্কিত বদলি ও জনরোষ ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. শহীদুল আলমকে প্রেষণ থেকে ফিরিয়ে এনে স্বাস্থ্য উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়, কারণ এর আগে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জনসমক্ষে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৮ নভেম্বর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একদল শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই মাসের সহিংস ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে—যদিও এই অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সমালোচকদের দাবি, তাকে সাময়িকভাবে একটি প্রকল্পে সরিয়ে রাখা হলেও পরে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ২০২৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৮ থেকে ২০তম গ্রেডের ১৬৯টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের কিছু নথি নিখোঁজ হয় এবং পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেন হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। ই-জিপি টেন্ডার ও ওটিএম অনিয়ম ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালের বিভিন্ন দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ‘ওটিএম’ (ওপেন টেন্ডার মেথড) ব্যবহার করা হয়েছে। শহীদুল আলমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শেরে বাংলা নগর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা) এবং শহীদুল আলম মিলে রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে ওটিএম-এর (OTM) মহোৎসব চালিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওটিএম ২০% হওয়ার কথা থাকলেও তারা শতভাগ ওটিএম করেছেন। নিচে উল্লেখিত ইজিপি দরপত্র আইডিগুলো এই দুর্নীতির সাক্ষ্য দেয়: ৯২২৪৪৩, ৯২২৪৩৪, ৯৯৯৪৩৯, ৯২২৪৪০, ৯২২৪১৮, ৯২২৪৩০, ৯২৫১০৬, ৯২২৪৪১, ৯২২৪৩১, ৯২২৪৩৭, ৯২২৪৩৮, ৯২২৪৩৬, ৯২২৪৪৭, ৯২৫১০৯, ৯২২৪৩২, ৯২২৪২৯, ৯২২৪২৩, ৯২২৪২৪, ৯২২৪২৫, ৯২২৪২৬, ৯২২৪২৭, ৯২২৪২৮, ৯২২৪১৯, ৯২২৪২০, ৯২২৪২১, ৯২২৪২২, ৯২২৪১৭, ৯২২৪১৪, ৯২২৪১৫, ৯২২৪১৬, ৯২২৪১০, ৯২২৪১২, ৯২২৪১৩, ৯২২৪০৭, ৯২২৪০৮, ৯২২৩৯৯, ৯১৭৯৪৫, ৯১৭৯৩০, ৯১৭৯৮১, ৯১৭৯৪৭, ৯১৭৩২৪, ৯১৭৯৩১, ৯১৭৯৩৫, ৯১৭৯৩৯, ৯২০০৪৫, ৯১৭৯৪৪, ৯১৭৯৪৯, ৯১৭৯৫০, ৯১৭৯৪৬, ৯১৭৯৪১, ৯১৭৯৬৫, ৯১৭৯৬৬, ৯১৭৯৬৭, ৯৪৮১৭৩, ৯৪৮১৭৫, ৯৪৪৪beg, ৯৪১৩৬৮, ৯৪১৩৪৭, ৯৪১৩৪৬, ৯৪১২০৫, ৯৪১১৮৪, ৯৪৩৯০৩, ৯৪৪৪৬০, ৯৪৪৪৬২, ৯৪৪৪৬১, ৯৪৪৪৫৮, ৯৪১৩৭৯, ৯৪১৩৭৩, ৯৪১৩৬৪, ৯৪১৩৪২, ৯৪১২০১, ৯৪১১৯৯, ৯৪১৩৭৫, ৯৪১১৯৬, ৯৪১৩৮৯, ৯৪১৩৮২, ৯৪১১৯৩, ৯৪১৩৯১, ৯৪৩৯২২, ৯৪১১৮০, ৯৪১১৭৬, ৯৪৩৯১২, ৯৪১১৭০, ৯৪১৩৯২, ৯৪১৩৯৩, ৯৪৩৯১০, ৯৪৩৯১১, ৯৪৩৮৮৯, ৯৪১৩৯৪, ৯৪১৩৯৫, ৯৪১৩৯৬, ৯৪১৩৯৭, ৯৪১৩৯৮, ৯৪১১৮১, ৯৪০২৯১, ৯৪১৫৪১, ৯৪২৮১৭, ৯৪৪৪৪২, ৯৪৪৪৫৩, ৯৪৪৪৫৬, ৯৪৪৪৫৫, ৯৪৪৪৫৯, ৯৪৪৪৬৭, ৯৪১০২৩ এবং ৯৪০৯৬৬। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, কিছু ক্ষেত্রে তা অতিক্রম করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একাধিক টেন্ডার আইডি ঘিরে এই অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, যা একটি বৃহৎ প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিদেশ সফর ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন মো. শহীদুল আলমের একাধিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের সঙ্গে এসব সফরের সম্পর্ক থাকতে পারে। শহীদুল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক বছরে সাত বার বিদেশ সফর করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দুবাই আন্তর্জাতিক এক্সপোতে গিয়ে তিনি সেখানে ব্যক্তিগত ভিলা কিনেছেন এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ ও আজিজ পরিবারের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করানোর নামে ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন, যার উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে তার সম্পদ থাকার দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক বিদেশ সফরে চিকিৎসা ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রভাব ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। সমালোচকদের মতে, কিছু কর্মকর্তা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। মো. শহীদুল আলমের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোজনের অভিযোগ রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভোল পাল্টে ‘জিন্নাহ টুপি’ ও প্রতি-বিপ্লবের ষড়যন্ত্র ৫ আগস্টের পর শহীদুল আলম তার খোলস পাল্টে ফেলেছেন। মুজিব কোট ছেড়ে এখন জিন্নাহ টুপি পরে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। তার আসল উদ্দেশ্য হলো প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার দখল করা এবং তার অনুগত ছাত্রলীগ ক্যাডার কর্মকর্তাদের (সানাউল্লাহ, মইনুল, মাসুদ রানা, আজমুল হক মুন) গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনও তার বিশাল অর্থভাণ্ডার ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অমীমাংসিত প্রশ্ন গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। কোথাও তদন্ত চলছে, কোথাও অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, আবার কোথাও নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ঘটনাগুলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট অবস্থান ছাড়া এই বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়। সম্পাদকীয় নোট এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সব অভিযোগ ও তথ্য বিভিন্ন সূত্রের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখায় দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানকে ঘিরে বদলি বাণিজ্যসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে, যা প্রশাসনের ভেতরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুদকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন, আর্থিক লেনদেন এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ সামনে আসার পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক কয়েকটি বদলি আদেশ স্থগিত করেছে। একদিনে অর্ধশতাধিক বদলি: প্রশ্নের কেন্দ্রে সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক বদলি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন সারোয়ার জাহান। বিশেষ করে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনে অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলি আদেশ জারি হওয়া নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব বদলির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়েছে—যা প্রচলিত বিধির পরিপন্থী। আর্থিক লেনদেন ও হয়রানির অভিযোগ লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বদলি আদেশগুলো স্থগিত করে এবং ভবিষ্যতে নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেয়। অতীতের অভিযোগও সামনে শুধু সাম্প্রতিক ঘটনাই নয়, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জামানত অর্থ সংক্রান্ত একটি কেলেঙ্কারির তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নতুন করে আলোচনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি, নিয়োগ এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে দুদক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে—অভিযোগগুলো কতটা সত্য এবং এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা জড়িয়ে আছে কি না।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪–এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক সূত্র, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, কমিশন বাণিজ্য এবং একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মতো অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। দরপত্র ও প্রকল্প বণ্টনে প্রভাবের অভিযোগ সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুযোগে তিনি একটি প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে বড় প্রকল্পের কাজ পেত। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত প্রভাবিত করা এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ছিল। একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বারবার বড় অঙ্কের প্রকল্প পাওয়ায় দপ্তরের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ অনুমোদন এবং বিল দ্রুত অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। পারিবারিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগের আরেকটি অংশে তার পরিবারের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ছোট ভাই অংকুরের নাম উল্লেখ করে কিছু সূত্র দাবি করছে, প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে ঠিকাদারি কার্যক্রমে সুবিধা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থানও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিক অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব সূত্রগুলো আরও বলছে, তিনি ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে ছিলেন। বদলি নীতির প্রচলন থাকা সত্ত্বেও একই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এর ফলে প্রকল্প বণ্টন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়তে পারে—এমন আলোচনা দপ্তরের ভেতরে রয়েছে বলে জানা যায়। মামলা ও আইনি প্রক্রিয়ার দাবি একটি অংশের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় (সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫) গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই নথিতে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের নথি, অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ অভিযোগপত্র ও সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৪–এর অধীনে একটি সমন্বিত প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে— দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিল অনুমোদনে অনিয়ম এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অবস্থান মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রক্রিয়াগত বিষয়কে অনেক সময় ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রশাসনের ভূমিকা ও প্রশ্ন সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়গুলো তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো সংস্থায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় নজরদারি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না, তবে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল–৪–কে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখনো মূলত বিভিন্ন পক্ষের দাবি, নথি ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলোর কতটুকু সত্য এবং কতটুকু প্রমাণযোগ্য—তা নির্ধারণ করবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া। এদিকে সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।
বরিশাল অফিস : দক্ষিণাঞ্চলের জন্য পরিকল্পিত অন্যতম বড় বিজ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো প্রকল্প বরিশাল নভোথিয়েটার—যা একসময় আধুনিক শিক্ষা ও বিনোদনের নতুন দিগন্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল—এখন সময়সীমা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দুই দফা সময় বাড়ানো এবং প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পরও এটি এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তব অগ্রগতি সে লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে আছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অগ্রগতির হিসাব নিয়ে ভিন্নতা গণপূর্ত বিভাগের আনুষ্ঠানিক দাবি—প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, প্রকৃত অগ্রগতি ৭০ শতাংশের কাছাকাছি। এই পার্থক্য কেবল পরিসংখ্যানগত নয়; এটি প্রকল্পের বাস্তব অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূল অবকাঠামোর কাঠামো দৃশ্যমান হলেও প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে ডোম স্থাপন, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল সরঞ্জাম বসানোর কাজ শুরুই হয়নি বা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অংশেই বড় বাধা প্রকল্পের এসব গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, মূল্যবৃদ্ধি এবং লজিস্টিক জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সরঞ্জাম আনা এবং স্থাপন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হতে আরও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা বনাম দাপ্তরিক আশাবাদ গণপূর্ত বিভাগের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম অবশ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছেন। তার দাবি, কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভূমি প্রস্তুত ও সাইট উন্নয়নে দীর্ঘ সময় লেগেছে, যা প্রকল্পের শুরুতে অগ্রগতি ধীর করে দেয়। তিনি বলেন, এখন অভ্যন্তরীণ কাজ প্রায় শেষ এবং বাইরের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তার মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই প্রকল্প শেষ করা সম্ভব হতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য এই আশাবাদের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নাম পরিবর্তন, কিন্তু চ্যালেঞ্জ একই ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার’ নামে অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০২৪ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ করা হয়। তবে নাম পরিবর্তন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো অপরিবর্তিতই রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কন্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ব্যয় বৃদ্ধি: পরিকল্পনা থেকে বাস্তবতা শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি অস্বাভাবিক নয়। তবে সময়সীমা ও ব্যয়ের সমান্তরাল বৃদ্ধি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কী থাকছে এই নভোথিয়েটারে? প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্সে থাকবে দুটি ডোমসহ মোট ২৬টি স্থাপনা। এর মধ্যে আধুনিক প্ল্যানেটরিয়াম, অডিটোরিয়াম, ডিজিটাল প্রদর্শনী গ্যালারি, ডরমেটরি এবং প্লাজা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ৩০৪ আসনের গ্যালারি, ১৭৫ আসনের অডিটোরিয়াম, ১৭৫টি গাড়ির পার্কিং সুবিধা এবং শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদন জোন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যাশা বনাম অনিশ্চয়তা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি চালু হলে মহাকাশবিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও বিনোদনের একটি আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য এটি হবে একটি আকর্ষণীয় শিক্ষামূলক স্থান। শিক্ষাবিদরাও বলছেন, এ ধরনের প্রকল্প দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ তৈরি হবে। জনমনে প্রশ্ন তবে বারবার সময় বৃদ্ধি এবং ব্যয় বাড়ার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—প্রকল্পটি কি নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমা আরও পিছিয়ে গেলে শুধু ব্যয় নয়, প্রকল্পের কার্যকারিতা ও জনস্বার্থে এর প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়তে পারে। বরিশাল নভোথিয়েটার এখন তাই শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়—এটি হয়ে উঠেছে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতার একটি পরীক্ষাক্ষেত্র।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক বেশ কিছু বদলী আদেশ স্থগিত করেছে বলে জানা গেছে। বদলী আদেশে অনিয়মের অভিযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে একদিনেই অর্ধশতাধিক প্রকৌশলীর বদলী আদেশ জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত হয়। এসব আদেশে সংস্থাপন শাখার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একই কর্মস্থলে দুই বছরের কম সময় কর্মরত কর্মকর্তাদেরও বদলী করা হয়েছে, যা প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। এছাড়া লোভনীয় পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, নিয়মবহির্ভূত বদলী অনুমোদন এবং কিছু কর্মকর্তাকে হয়রানির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এসব বদলী আদেশ স্থগিত করে এবং অনিয়মিত আদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অভিযোগ দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষভাগে সংস্থাপন শাখায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জারিকৃত বিভিন্ন অফিস আদেশে তাঁর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে, যা তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। পূর্বের অভিযোগ ও তদন্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে জামানতের অর্থ অবৈধভাবে ক্যাশ করার অভিযোগ পূর্বে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তাঁকে কোনো শাস্তি ছাড়াই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্যের পাশাপাশি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় তাঁর বা তাঁর পরিবারের নামে একটি বাড়ি রয়েছে, যা তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। ‘সিন্ডিকেট’ ও টেন্ডার প্রভাবের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরে একটি প্রভাবশালী ‘মাফিয়া চক্র’ ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত থেকে সারোয়ার জাহান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুদক ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে। মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নির্দেশে মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে বড় আকারের বদলী বা পদোন্নতির ফাইল অগ্রসর না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলী ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অভিযোগকারী ইকবালুর রহিম, যিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার, বলেন— এসব অনিয়ম সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সুরক্ষার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অবৈধ সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগ সম্পর্কে সারোয়ার জাহান বলেন, বদলীর সিদ্ধান্ত তিনি একা নেন না; সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। সামগ্রিক প্রেক্ষাপট গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলী-পদায়ন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে পূর্বের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও শাস্তির অভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যথায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবার মান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৩-এর একটি বড় প্রকল্পে প্রায় ১৭ কোটি টাকার বিল অনুমোদনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এই সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান। অভিযোগকারী ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অনুমোদিত বিলের অঙ্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদার আলদ্দিন ওয়াজেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কী বলা হয়েছে অভিযোগে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে যে পরিমাণ বিল করা হয়েছে, তার বিপরীতে সমপরিমাণ কাজ বা সরঞ্জাম সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নথিতে দেখানো দামের সঙ্গে বাজারমূল্যেরও বড় ধরনের পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়— বিল অনুমোদনে নিয়মিত যাচাই-বাছাই করা হয়নি কিছু ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে ফাইল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নথিপত্রে তারিখের অসঙ্গতি রয়েছে যাচাই ছাড়াই পেমেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয় সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল–৩-এর টেন্ডার ও ক্রয়প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন— নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার নিয়মিত কাজ পেয়ে থাকেন ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়া পূর্বনির্ধারিতভাবে পরিচালিত হয় গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডারে একটি সীমিত গোষ্ঠীর প্রাধান্য দেখা যায় ঠিকাদার আলদ্দিন ওয়াজেদের ভাষ্য, “১৭ কোটি টাকার বিলটি এই প্রভাব বলয়ের আরেকটি উদাহরণ হতে পারে।” তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকারি সূত্র কী বলছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের বড় অঙ্কের বিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে তা উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।” তিনি আরও জানান, টেন্ডার ও বিল প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে, তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন। দুদকের প্রতিক্রিয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি প্রকল্পে বড় অঙ্কের আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তার ভাষায়, “নথিপত্রে বৈষম্য বা আর্থিক অস্বচ্ছতা পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধানের আওতায় পড়ে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে।” সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন এদিকে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণের অসামঞ্জস্য রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে— রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রায় ৩৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায় চারতলা ভবন বনশ্রী-আমুলিয়া এলাকায় জমি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ঝুঁকির ইঙ্গিত সরকারি অডিট ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ বলেন, “তারিখের অসঙ্গতি, যাচাই ছাড়া পেমেন্ট এবং দ্রুত অনুমোদন—এসব উচ্চ ঝুঁকির সংকেত। এগুলো যদি সমন্বিতভাবে ঘটে, তাহলে তা বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে।” অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রয়োজন।” তদন্তের অপেক্ষা অভিযোগের গুরুত্ব এবং আর্থিক পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশের সরকারি প্রকৌশল ও নির্মাণ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘুষ, অনিয়ম এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ । বিশেষ করে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান। লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখায় নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে নবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, লাইসেন্সভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত “অবৈধ অর্থ” দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। কথিত চক্র ও দায়িত্ব বণ্টন অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখার ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সাকিলা ইসলাম শিপন মিয়া (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. আল-আমিন (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. অহিদুল ইসলাম (উচ্চমান সহকারী) মো. আমিনুল ইসলাম (সুপার) এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত হলেও একজন সাবেক অফিস সহায়ক মো. হান্নান দীর্ঘদিন ধরে “আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায়” যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নিয়োগ ও লাইসেন্স প্রদানে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে — নির্ধারিত সময়ের পরও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে মানি রিসিট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্বাক্ষর ছাড়াই লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঈদ-পূর্ব সময়ে লাইসেন্স প্রদান নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদের ছুটির আগের সময়েই (১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকের অধীনে) একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স দ্রুততার সাথে প্রদান করা হয়, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। অর্থ বণ্টন ও “সিন্ডিকেট” অভিযোগ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদান থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে — পোস্টিং বাণিজ্য হয়ে থাকে ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন পাওয়া যায় একাধিক কর্মচারী অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ ও ব্যক্তিগত চরিত্র কিছু সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও প্রশ্ন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ফলে পুরো লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তবে একইসাথে এটি জরুরি — নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা নথি যাচাই ও অডিট করা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হতেই বারবার সামনে এসেছে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি। সংসদ কক্ষে মাইক্রোফোন বিকল, শব্দ বিকৃতি—এ যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অথচ এই সিস্টেমই সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলো কোথায়? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন বলছে, এই সংস্কারকাজ ঘিরেই হয়েছে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম তুলে ধরেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভাঙচুরের পর সংস্কার—কিন্তু কার স্বার্থে? জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংসদ ভবনে ভাঙচুরের পর প্লেনারি হলের সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। জরুরি ভিত্তিতে চালু করার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে শুরু হয় কাজ। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—এই “জরুরি কাজ” ছিল একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক কারসাজির অংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি টাকার সংস্কারকাজ পায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে কাজটি সম্পন্ন করে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’—যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক-এর ভায়রা জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর। এছাড়া, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাবেক চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন-এর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও উঠেছে। দুদক বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রকৃত ঠিকাদারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়া হয়। প্রকৌশলীদের যোগসাজশ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলীদের একটি অংশের সহায়তায় এই অনিয়ম সংঘটিত হয়। অভিযোগ আরও গুরুতর—বারবার চিঠি দিয়েও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাচ্ছে না দুদক। সর্বশেষ ৭ এপ্রিল প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি। পুরোনো সিস্টেম, নতুন বিল তদন্তে জানা গেছে: সংসদ ভবনে আগে থেকেই স্থাপিত ছিল SURE ব্র্যান্ডের SIS System এই সিস্টেমের সমমানের প্রযুক্তি বর্তমানে বাজারে নেই তবুও “সংস্কার” নামে নতুন প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য— মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রাক্কলন ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা অথচ বাস্তবে পুরোনো সিস্টেম সামান্য মেরামত করেই চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খরচের অজুহাত: ১১ লাখ টাকার ‘পরীক্ষা’ কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড শুধু কাজই নেয়নি, বরং: প্রকৌশলীদের যাতায়াত থাকা-খাওয়া সম্মানী এই খাতে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। দুদকের মতে, এসব খরচও ছিল অস্বচ্ছ এবং অযৌক্তিক। বড় অভিযোগ: শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার দুদক জানিয়েছে, এই সাউন্ড সিস্টেম কেলেঙ্কারি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। জাহিদুর রহিম জোয়ারদার-এর বিরুদ্ধে রয়েছে আরও বড় অভিযোগ: স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল সরঞ্জাম ক্রয়ে অনিয়ম ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংস্থা। সংসদে ত্রুটি, প্রশ্নে জবাব নেই সংসদের সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন উঠছে— কোটি টাকা খরচের পরও কেন সিস্টেম অকার্যকর? কেন তথ্য গোপন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর? কারা এই দুর্নীতির নেপথ্যে? দুদক বলছে, তদন্ত চলমান। আরও কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে—সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোও দুর্নীতির জাল থেকে মুক্ত নয়। আর সেই জালের সুতো গিয়ে জড়াচ্ছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সংসদে শব্দ শোনা যাচ্ছে না—কিন্তু দুর্নীতির প্রতিধ্বনি এখন স্পষ্ট। দুদক বলছে, তদন্ত এখনও চলমান। আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, সংসদের সদস্যরা এখনও সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ করে যাচ্ছেন—যা পুরো সংস্কার প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেয়া হবে : চিফ হুইপ জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া, নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চলমান অধিবেশন ব্যাহত না করতে তা অধিবেশন শেষে কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর বিভ্রাটের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনকে জনস্বার্থে ঢাকার ই/এম বিভাগ-১২-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। তাকে ২ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে উদ্বোধনী দিনেই সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোনে ত্রুটির কারণে অধিবেশনে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই এ ধরনের ঘটনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর ১৪ মার্চ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের ফল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ মার্চ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নতুন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ব্যাপক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পদোন্নতির পর তিনি বদলি বাণিজ্যকে অর্থ আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। সূত্রমতে, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শামীম আখতার অবসরে যাওয়ার পর খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনটি শিবিরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অনেক কর্মকর্তার দাবি, নতুন প্রধান প্রকৌশলী ইতোমধ্যেই তদবির ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রমকে সুসংহত করেছেন। পিএইচডি জালিয়াতি ও বিতর্কিত অতীত খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু থেকেই নানা বিতর্কে ঘেরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নিজের পদোন্নতির পথ তৈরি করেন। এমনকি ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে পিএইচডি ডিগ্রি জালিয়াতির অভিযোগও ওঠে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক শাস্তির বদলে তাকে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি পুনরায় পদোন্নতির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদবিরে সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট ২০১৫ সালে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের গ্রিন সিটি নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঠিকাদারদের সঙ্গে শত কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খালেকুজ্জামান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক লেনদেন ও প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। বিদেশে বসবাস ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন খালেকুজ্জামান চৌধুরীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ছুটি ও পিএইচডি ছুটির সুযোগ ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন এবং অনুমোদন ছাড়া সেখানে চাকরিও করেন। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, তার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বও রয়েছে। এ বিষয়টি বিদেশি আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রশ্নও সামনে এনেছে। প্রশাসনিক সমর্থন ও পদোন্নতির অভিযোগ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, সাবেক পূর্তসচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রশাসনিক সমর্থন পান। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং পদোন্নতির পথ সুগম করা হয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নগর নিরাপত্তা ও বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড ২০২৪ সালের শুরুতে রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ৪৬ জন প্রাণ হারান এবং আরও ১৩ জন দগ্ধ হন। তদন্তে উঠে আসে, ২০১১ সালে রাজউকের অথরাইজড অফিসার হিসেবে খালেকুজ্জামান চৌধুরী ওই ভবনের নকশা অনুমোদন করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবনে পর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন ওঠে—নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ না করেই কীভাবে ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বদলি ঝড়ে অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই খালেকুজ্জামান চৌধুরী একাধিক স্মারকের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা—নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীদের ব্যাপকভাবে বদলি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা একাধিক স্মারকে প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় বদলি করা হয়। এসব বদলির মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, বরিশাল, রাজশাহী, নওগাঁ, রাজবাড়ি, ভোলা ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্মারক নম্বর-২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৭.১১-১৪২৮ তারিখ ঃ ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি তাদের নাম- সৈয়দ ইসকান্দার আলী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। জুবায়ের বিন হায়দার নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। গণপূর্ত ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ, সিলেট এ পদায়নকৃত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) পণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকা। নাজমুল আলম রববানী নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পিএন্ডডি) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। মোঃ শরিফুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১১, ঢাকা। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত ই/এম জোন, ঢাকা এর সাথে সংযুক্ত। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-১০, ঢাকা। জনাব মোহাম্মদ তরিকুল আলম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) এর কার্যালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। জনাব রুবাইয়াত ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) গণপূর্ত ই/এম কারখানা বিভাগ, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১১, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে রাজন চক্রবর্তী, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিপদপ্তর, ঢাকা।সংযুক্ত জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ ইউনিট। তাকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ, নোয়াখালী বদলি আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৩, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. এ.এস.এম. সাখাওয়াত ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। ২. তানজিনা আফরিন জাহান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩. রিয়াদুস সালেহীন সাদী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) তদন্ত কোষ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৬, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৫, তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৫ জনকে বদলি ১. আশরাফ-উল আলম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরিশাল। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাদারীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, মাদারীপুর। ২. এম.কে.এম. নুরুল হাসান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঠাকুরগাঁও। তাকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পঞ্চগড় গণপূর্ত উপ-বিভাগ, পঞ্চগড়। ৩. মোঃ দেলওয়ার মাহাফুজ সোহাগ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ফুলবাড়ী গণপূর্ত উপ-বিভাগ, দিনাজপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দিনাজপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, দিনাজপুর। ৪. ইজাজ আহমেদ খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গাজীপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, গাজীপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৯, ঢাকা। ৫. মোঃ তানজিল ইসলাম ভূইয়া, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ইডেন ভবন গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৪ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৩ জনকে বদলি ১. মোঃ ইমরান বিন কালাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। ২. কামরুন নাহার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গণপূর্ত পেকু উপ-বিভাগ, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। ৩. মোঃ আলী হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১৬ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. মোঃ রাজু মল্লিক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. মোঃ হাদিসুর রহমান উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরগুনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ, বরগুনা। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। ৩. মোঃ কামাল হোসেন হাং, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল গণপূর্ত মেডিকেল কলেজ উপ-বিভাগ, বরিশাল। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝালকাঠি গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝালকাঠি। ৪. মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মতিঝিল গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মানিকগঞ্জ গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, মানিকগঞ্জ। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫১২ , তারিখ ঃ ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৭ জনকে বদলি ১। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-২, রাজশাহী। ২। মোঃ আজমুল হক নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পওবিপ্র) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। মোঃ মিজানুর রহমান নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ জনসংখ্যা প্রকল্প কোষ (পিপিসি) ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। ৪। মোঃ হারুন অর রশিদ নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগ, নওগাঁ। ৫। এস.এম. তৌহিদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজবাড়ি গণপূর্ত বিভাগ, রাজবাড়ি। ৬। জনাব মোঃ আবিল আয়াম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী ভোলা গণপূর্ত বিভাগ, ভোলা। ৭। মোঃ শহীদুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত উন্নয়ন উইং। নির্বাহী প্রকৌশলী পিরোজপুর গণপূর্ত বিভাগ, পিরোজপুর। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩০ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১। মোঃ জাহিদুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৮, ঢাকা। ২। মোঃ কামরুল ইসলাম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। ৩। জনাব মোহাম্মদ ফতেহ আজম খান নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ গণপূর্ত বিশেষ ডিজাইন ইউনিট-২, ঢাকা। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) গণপূর্ত ডিজাইন বিভাগ-৭, ঢাকা। ৪। এ.কে.এম তানভীর আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্তঃ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সমন্বয়) এর দপ্তর। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) সমন্বয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫৩১ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ৪ জনকে বদলি ১. এ.বি.এম. আশরাফুজ্জামান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২, ঢাকা। ২. জনাব উৎপল পোদ্দার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। থেেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) চাঁদপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, চাঁদপুর। ৩. আনোয়ার হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), শেরপুর গণপূর্ত উপ-বিভাগ, শেরপুর। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ময়মনসিংহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ময়মনসিংহ। ৪. শেখ আরেফিন নূর, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঝিনাইদহ গণপূর্ত উপ-বিভাগ, ঝিনাইদহ। থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ঢাকা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩, ঢাকা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৯ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি মোঃ মোফাজ্জল হোসেন. (সহকারী প্রকৌশলী) সিভিল ময়মনসিংহ গণপূর্ত সার্কেল, ময়মনসিংহ। থেকে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) বরগুনা গণপূর্ত বিভাগ, বরগুনা। আরেক স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৪.২৪-১৫২৮ , তারিখ ঃ ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে ১ জনকে বদলি উম্মে নায়ার সুলতানা, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। সংযুক্ত ঃ গণপূর্ত প্রকিউরমেন্ট ইউনিট। থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ডিজাইন) এর স্টাফ অফিসার গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। অভিযোগ রয়েছে, এসব বদলির পেছনে তদবির ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি প্রভাব ফেলেছে। প্রশাসনে বিভাজন ও উদ্বেগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের অধীনে প্রশাসনে বিভাজন আরও তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট, তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রভাব শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পদে থাকা ব্যক্তির সিদ্ধান্ত সরাসরি জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : তিনি টাকা আর সম্পদের কুমির। হার মানিয়েছে সম্পদ ও টাকার দিক দিয়ে পিকে হালদারকেও। পিকে হালদার ভারতে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কারাগারে বসবাস করলেও বাংলাদেশে এখনও বহাল তবিয়তে তিনি । রাজার মত জিবন যাপন। ঘুরে বেড়াচ্ছেন বীরদর্পে। সেলিব্রিটি বিরাট কোহলি থেকে মালাইকা অরোরার মত পান করেন দামীয় অ্যালকালাইন ওয়াটার। যার দাম ভারতে ৭০০ রুপী। বলছি বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে এর কথা। উৎপল কুমার দে সরকারি টাকায় সব সময়ই উৎফুল্ল।ঠিকাদারদেরকে বিল না দিয়ে লক্ষ টাকায় কমোড, অর্ধকোটি টাকায় গেটসহ সরকারি টাকা তসরুপ করছেন দু হাতে। তার খুটির জোড় অনেক বড় রাষ্ট্রের চেয়েও প্রশ্ন কর্মকর্তা,কর্মচারী ও ঠিকাদারদের।আইন-আদালত,দুদক,গনপূর্ত অধিদপ্তর ও গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়কে থোরাই কেয়ার করেন না বলে অভিযোগ গনপূর্ত অফিস সংশ্লিষ্ঠদের। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় দুর্নীতি দমন কমিশন চিরুনী অভিযান চালিয়ে অসংখ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় এনে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত, কাউকে স্থায়ী বরখাস্ত, এমনকি কারও কারও সাজারও ব্যবস্থা করেছেন। তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। তার বিরুদ্ধে দুদক দুটি মামলা করেছে।মামলায় সত্যতা পেয়ে চার্জশীটও প্রদান করেছে। টাকার জোড়ে তিনি এখনো ফুর ফুরে মেজাজে।শীর্ষ কর্তাদের কাছে তথ্য গোপন করে এখনো চাকুরী করছেন দাপটের সাথে।তিনি ছিলেন জি কে শামিমের ডান হাত। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান। গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে-এর বিরুদ্ধে দুদকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দু’টি মামলা হয়েছে । উৎপল কুমার দের নামে দুদক একটি মামলা দায়ের করে ।এ ছাড়া উৎপল কুমার দে ও তার স্ত্রী গোপা দে’র বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দুদকের সহকারি পরিচালক মোঃ নেয়ামুল আহসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দুদক আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন ২০২৩ সালে। একটি মামলায় শুধু উৎপল কুমার দে , অন্য একটি মামলায় তার স্ত্রী গোপা দে ও উৎপল কুমার দে-কে আসামী করা হয়েছে এবং আদালতে চার্জশীটও দাখিল করা হয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে সব তথ্য : দুদকের মামলা নং-২ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং এ অভিযোগ করা হয়েছে আসামী (১) গোপা দে, স্বামী- উৎপল কুমার দে, পিতা- নেপাল সেন, মাতা- নিয়তি সেন, বর্তমান ঠিকানা : ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম এবং (২) উৎপল কুমার দে, অতিরিক্ত পধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ), গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা, পিতা- দুলাল চন্দ্র দে, মাতা- পারুল রানী দে, বর্তমান ঠিকানা : ফ্ল্যাট নং- ৫/এ, ৮১/৩, অতীস দীপঙ্কর সড়ক, সবুজবাগ, ঢাকা-১২১৪, স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম + পোঃ- চক্রশালা, থানা- পটিয়া, জেলা- চট্টগ্রাম । অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রেখে উক্ত সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নথি নং-০০.০১.০০০০.৫০২.০১.১০১.১৯ এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী। গোপা দে-এর আয়কর নথিতে তার নামে পটিয়া ইলেকট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে উৎপল কুমার দে’র স্ত্রী গোপা দে কর্তৃক উক্ত ব্যবসা করার স্বপক্ষে বিভাগীয় কোন অনুমতি নেয়ার দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানকালে আসামী গোপা দে’র ২০১৮-১৯ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে প্রদর্শিত নীট ১,৬০,৬৯,২০৫/- টাকা আয়ের সমর্থনে বৈধ উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বা দাখিল করতে সমর্থ হয়নি। এছাড়াও অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য ও অন্যান্য রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আরো ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকার অস্থাবর সম্পদ গচ্ছিত রয়েছে। কিন্তু উক্ত সম্পদের তথ্য গোপা দে’র আয়কর নথিতে প্রদর্শন না করে গোপন করা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে ব্যাংকে গচ্ছিত উক্ত অর্থেরও বৈধ কোন উৎসের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে হিসাবে আসামী গোপা দে’র নামে তার আয়কর নথিতে প্রদর্শিত ১,৬০,৬৯,২০৫/- এবং বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত ৫,০১,৯৯,৫৪৯/- টাকারসহ মোট (১,৬০,৬৯,২০৫/- + ৫,০১,৯৯,৫৪৯/-) = ৬, ৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার সম্পদের (স্থাবর-অস্থাবর) তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। যা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ মর্মে পরিলক্ষিত হয়। সার্বিক অনুসন্ধানে গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। এক্ষেত্রে, প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ১নং আসামী গোপা দে ২নং আসামী স্বামী- উৎপল কুমার দে-এর প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ৬,৬২,৬৮,৭৫৪/- (ছয় কোটি বাষট্টি লক্ষ আটষট্টি হাজার সাতশত চুয়ান্ন) টাকার জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন পূর্বক তাদের ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং উক্ত সম্পদ বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্তান্তরের মাধ্যমে মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এছাড়া উৎপল কুমার দে’র নামে দুদকে আরও একটি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা রয়েছে যার মামলা নং-৩ তারিখ ০৫/০৮/২০২০ ইং। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন সরকারি চাকুরী আইন ২০১৮ (২০১৮ সালের ৫৭ নং আইন) এর ধারা ৪১ এর উপধারা (২) ও সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৪ শাখা থেকে জারীকৃত প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং ১১০ আইন/২০১৮) এর বিধি ২৫ এর উপবিধি (২) এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) অফিস মেমোরেন্ডাম নং (ইডি) (রেগ-৮)/এস-১২৩/৭৮-১১৫ (৫০০) তারিখ ২১/১১/৭৮ (এস্টাবলিশমেন্ট মেনুয়্যাল ১নং ভলিউমের পৃষ্ঠা নং- ৮৯২ ও ৮৯৩) এবং বি.এস.আর ১ম খন্ডের ৭৩ বিধির ১ ও ২ নং নোট অনুসারে কোন সরকারি কর্মচজারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারের পর বা আদালতে আত্মসমর্পনের পর জামিনে মুক্তি লাভ করিলেও সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে গণ্য হইবেন। ফাইভ স্টার গ্রুপের প্রধান যখন তিনি: গনপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে গনপূর্তে বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া ও অসাধু কর্মকর্তাদের ঘুপচি টেন্ডার অনুমোদনসহ সব ধরনের কাজ করে আসছিলেন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে ইজিপি এড়িয়ে ওটিএম’র মাধ্যমে প্রকল্পের টেন্ডার শুরুসহ অসংখ্য অভিযোগের পাহাড় গড়ে ছিলেন তিনি।গড়েছিলেন একটি ফাইভ স্টার গ্রুপ। আর এই ফাইভ স্টার গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন উৎপল কুমার দে। গনপূর্ত অধিদপ্তরের অনেকে দুদক থেকে দায়মুক্তি পেলেও উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্ত্রীসহ হয়েছেন দুটি মামলার আসামী। বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা : গণপূর্ত অধিদপ্তরের নয়জন প্রকৌশলী এবং দুই মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাসহ ১১ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর। ১১ জনের মধ্যে যার নামটি শীর্ষে রয়েছে তিনি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে।বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের সঙ্গে প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে যুক্ত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কারনেই বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। উৎপল কুমার দে এর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তে সত্যতাও মেলে।বিদেশ যাত্রার নিষেধাজ্ঞার চিঠি ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) বরাবর চিঠি পাঠিয়েছেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। যত অভিযোগ : ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাঘব বোয়ালদের গ্রেফতার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এই অনুসন্ধানের সময় নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দ্বিতীয় মামলাটির আসামি শুধু উৎপল কুমার দে। এই মামলাটিও দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও উৎপল কুমার বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহিভূত সম্পদ অর্জন করেছেন ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকা। অনুসন্ধানকালে দেখা গিয়েছে আসামি তার বেতন ভাতা ছাড়া সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। ফলে দুর্নীতির মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন করেছেন বলে বিবেচিত। জি কে শামীমের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দেকে ঘুষ দিয়ে বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীম গণপূর্তের বড় কাজগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন। অবৈধভাবে বিপুল অর্থের মালিক হওয়া, জিকে শামীমসহ প্রভাবশালীদের শত শত কোটি টাকা ঘুষের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ,অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে উৎপল কুমার দের বিরুদ্ধে । উৎপল কুমার দে ও গোপা দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখে। পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে মামলাটি দায়ের করা হয়। আরও বলা হয়, গোপা দে’র নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে মর্মে দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পারিপাশ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, গোপা দে ও তার স্বামী উৎপল কুমার দে’র প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়, একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজান ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অনুসন্ধানকালে আসামি উৎপল কুমার দে’র নামে অর্জিত সম্পদের তার বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যকোন সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে তিনি সরকারি কর্মচারী হিসেবে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ দ্বারা এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ/সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে কানাডা ও ভারতে টাকা পাচার , কোটি কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর আসল চেহারা বেরিয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দের । প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র ছেলে কানাডায় বসবাস করার কারণে সেখানে টাকা পাচার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। উৎপল দে তার ছেলেকে কয়েক কোটি মূল্যের গাড়ি কিনে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের রড-সিমেন্ট দেওয়ায় নির্মাণের সময়ই ভেঙে পড়ে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রাচীর। ওই সময় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে ছিলেন এই উৎপল কুমার দে। পরে এ ঘটনার তদন্ত করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তাতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেও ধামাচাপা পড়ে যায় তদন্ত প্রতিবেদন। তৎকালীন গৃহায়ন ও গনপূর্তী মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রো ও ঢাকা জোনের দ্বায়িত্ব থেকে উৎপল কুমার দে’কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।উৎপল কুমার দে ১৫তম বিসিএসে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। তার দায়িত্ব পালনকালে আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঢাকা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে নানা বিতর্ক ছিল।এর মধ্যে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির রিপোর্ট এখনো আলোর মুখ দেখেনি। উৎপল কুমার দে’কে ওএস ডি করার পর তিনি দ্বায়িত্ব বুঝিয়েও দেন নি।পরে উপায়ান্ত না পেয়ে দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। উৎপল কুমার দে কিছু দিন ঘাপটি মেরে তদবীর করে গনপুর্তের বরিশাল জোনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হয়ে আসেন। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনকে ই মেইলে এবং গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার এর হোয়াটঅ্যাপসে নিম্মোক্ত প্রশ্ন করা হলেও কোন উত্তর প্রদান করেন নি। প্রশ্ন ছিল, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী দুদকের মামলায় জনাব উৎপল দে অতিরিক্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল গণপূর্ত জোন, বরিশাল এর বিরুদ্ধে চার্জশীট হওয়ার পরে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা? আইন অনুযায়ী অর্থাৎ কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন হইতে তাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করিতে পারিবে এবং আদালতে যদি কোন মামলা বিচারাধীন থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। প্রশ্ন জনাব উৎপল দে’র বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা? জনাব উৎপল দে ঠিকাদারদের বকেয়া বিল না দিয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে অফিসের সাজ সজ্জা করতে পারে কিনা? দুদকের দুটি মামলার জন্য বেশীর ভাগ সময়ই ঢাকায় থাকেন। তিনি ছুটি নেয় কিনা? এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান,খোজ নিয়ে জানাতে হবে। এ ব্যাপারে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্নসচিব ও আইন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর জানান, আমি অসুস্থ্য ছুটিতে রয়েছি তাই না জেনে বলা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে বরিশাল গনপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে জানান,আমার ব্যাপারে সব অপপ্রচার হচ্ছে। দুদকের মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,মামলা চলমান। আমার অথরিটিকে জিজ্ঞেস করেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুদকের চাঞ্চল্যকর এ মামলা দু’টির ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরে নানা সমালোচনা থাকলেও এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উৎপল কুমার দে এর ক্ষেত্রে কোনরূপ সরকারি চাকুরী বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বরিশাল গণপূর্ত জোনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যা দুর্নীতি ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর ভেতরে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে কেন্দ্র করে। নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রী এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী-এর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ এখন প্রশাসনিক মহল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে প্রশাসনিক প্রভাব? দপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, একই বিভাগে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের কারণে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়, যা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করতেও রাজি হননি। জাতীয় সংসদ ভবনের ই/এম বিভাগে দায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় সংসদ ভবন-এর ইলেকট্রোমেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে। ই/এম সার্কেল–৩-এর অধীনে ই/এম বিভাগ–৭-এ প্রায় সাত বছর দায়িত্ব পালন করেন সমীরণ মিস্ত্রী। কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তিনি বিভাগে অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে কেউ কেউ তাকে ‘টাকাখেকো ইঞ্জিন’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ধরনের মন্তব্যের কোনো প্রমাণিত নথি বা লিখিত অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’—উন্নয়ন না অর্থ আত্মসাত? অনুসন্ধানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো তথাকথিত ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে ছোট ছোট অঙ্গভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টির মতো পৃথক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি— প্রকল্পগুলো কাগজে-কলমে উন্নয়নমূলক হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তব কাজের পরিমাণ ছিল সীমিত; কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো যন্ত্রাংশ নতুন হিসেবে দেখানো হয়েছে; অপ্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের নামে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে; বিল উত্তোলন হয়েছে পূর্ণাঙ্গ অঙ্কে, যদিও কাজ ছিল আংশিক। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, দরপত্র অনুমোদন এবং কার্যাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো নিরপেক্ষ অডিট বা তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি। বদলি—প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নাকি কৌশল? গত ১ সেপ্টেম্বর সমীরণ মিস্ত্রীকে ই/এম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময় সিফাত ওয়াসীকেও একই বিভাগে বদলি করা হয়। এই একসঙ্গে বদলিকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি অভিযোগের চাপ সামাল দেওয়ার একটি কৌশল? এ বিষয়ে দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন এত গুরুতর অভিযোগের পরও দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাদের মতে— নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি প্রকল্পভিত্তিক আর্থিক অডিট হওয়া প্রয়োজন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগগুলো গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি হবে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুনাম রক্ষায়ও প্রয়োজন পরিষ্কার তদন্ত ফলাফল।
বিগত সরকারের আমলে গণপূর্ত অধিদপ্তর–এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বহুল আলোচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন পর্যায়ের বহু প্রকৌশলী বরখাস্ত, বদলি ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও অভিযোগ রয়েছে—কিছু বিতর্কিত কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল–৩-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার নাম। টেন্ডার কারসাজি ও দুদকের অভিযান সরকারি একটি অফিস ভবন নির্মাণের প্রায় ১২০ কোটি টাকার প্রকল্পে দরপত্র (আইডি ১১২০৮৫৩) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাতিল হওয়া দরপত্র পুনরায় আহ্বান করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযানে নামে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তে প্রাথমিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিললেও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় দরপত্রটি বাতিল করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই একই প্রকল্প নতুন আইডি (১২০৭৪৯৯) দিয়ে পুনরায় আহ্বান করা হয়—যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও সুপারিশ গণপূর্তের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হয়ে নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি বলেই দাবি সংশ্লিষ্টদের। গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তার বিরুদ্ধে বহুবার অভিযোগ হয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য।” তাদের অভিযোগ—প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক প্রভাব ও পদোন্নতির প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি একাধিকবার পদোন্নতি পেয়েছেন। সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তাকে চিহ্নিত করেন অনেক কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবৈধ সম্পদের অভিযোগ নুরুল আমিন মিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়— রাজধানীর সেগুনবাগিচায় উচ্চমূল্যের ভাড়া বাসায় বসবাস গুলশানে ফ্ল্যাট ক্রয় কুমিল্লায় ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ স্ত্রী ও সন্তানের নামে গাড়ি ও ব্যাংক আমানত সমালোচকদের দাবি, তার ঘোষিত বৈধ আয় ও জীবনযাপনের ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা নুরুল আমিন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্টদের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তর–এর সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলো নিরপেক্ষভাবে পুনঃতদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে—দুদকের তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর এগোবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগীয় কর্মচারী ইউনিয়নের উদ্যোগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের হিসাব সহকারী ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হাসান রুপক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সারোয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল আমীন, বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হোসাইন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম, মো. আবুল বাসার ও শাহ আলম। এছাড়া বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তরিক, সাকিবুল হাসান রাসেল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রুবেলসহ বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশ পরিচালনায় তার অবদান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা মরহুমার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।