Brand logo light
বাংলাদেশ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীন প্রশাসনিক অনিয়ম, অবৈধ পদোন্নতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১১ জন প্রকৌশলী নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেই প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আদালতের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থাতেই এসব কর্মকর্তা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন, যা সরকারি চাকরিবিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিধি ভেঙে পদোন্নতির অভিযোগ

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে যোগদানকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির সুযোগ পেলেও ষষ্ঠ গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ সীমিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তা নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী (পঞ্চম গ্রেড) পদে উন্নীত হন।

বিধি অনুযায়ী তাদের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের উচ্চপদে বসানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং রফিকুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম এবং শেখ হেলালের রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ

অভিযুক্তদের কয়েকজন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রগুলো দাবি করছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর আলমের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

আদালতের নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রিটকারী ১৭ কর্মকর্তার পদ সংরক্ষণ করা হয়নি। বরং অবৈধভাবে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের বিসিএস কর্মকর্তাদের ওপরে জ্যেষ্ঠতা দেওয়া হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর বঞ্চিত কর্মকর্তারা গ্রেডেশন তালিকা সংশোধনের দাবি জানালেও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জনপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এ ধরনের পদোন্নতি বিধিসম্মত নয়। শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এমন অনিয়ম সম্ভব নয়।”

‘চাকরি না করেই’ সরকারি অর্থ উত্তোলন

দুর্নীতিবিরোধী বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় চাকরিতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম।

একজন দুর্নীতিবিরোধী বিশেষজ্ঞ বলেন,
“আদালতের নির্দেশ অমান্য করে অর্থ উত্তোলন প্রশাসনিক ও ফৌজদারি—দুই দিক থেকেই তদন্তযোগ্য বিষয়। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।”

জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে নতুন অভিযোগ

অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরেও উঠেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক সুবিধা নিয়েছেন।

কর্মস্থল রাজশাহীতে হলেও অধিকাংশ সময় তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহারকারী এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে ঢাকায় সুবিধাজনক পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি।

বর্তমানে তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, ঢাকায় সংযুক্ত হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগ

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে একই সময়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) থেকে দ্বৈত বেতন উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।

এই অভিযোগ প্রশাসনিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে—কীভাবে একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছেন।

তদন্তের দাবি

ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
ওসি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদের অভিযোগ
পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, টঙ্গী-ভালুকা-ত্রিশাল ঘিরে নতুন আলোচনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন কামাল হোসেন। তবে দীর্ঘ চাকরি জীবনের শেষভাগে এসে তাকে ঘিরে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয় সূত্র, ব্যবসায়ী মহল এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে ১৯৯৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া কামাল হোসেন পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানাকে ঘিরে অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৫ সালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কামাল হোসেনের প্রভাব বিস্তার শুরু হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সে সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। এই রাজনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গাজীপুরের কয়েকজন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার যৌথ ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ্যে আসেনি, স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে, কামাল হোসেনের স্ত্রী উম্মে রোমান বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এছাড়া তার ছোট ভাই ময়নুল ইসলামের নামেও একাধিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী, ঢাকা, গাজীপুর ও শেরপুরে তাদের পরিবারের নামে ও বেনামে বাড়ি, জমি, মাছের খামার, রিসোর্ট, সঞ্চয়পত্র এবং দামি গাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে যাতে সরাসরি মালিকানা আড়ালে রাখা যায়। তবে এসব সম্পদের সুনির্দিষ্ট আর্থিক হিসাব কিংবা সরকারি অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। ভালুকা ও ত্রিশালে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন ২০১৯ সালের পর টঙ্গী থেকে বদলি হয়ে ২০২১ সালে ময়মনসিংহের ভালুকা থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেন কামাল হোসেন। পরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে ত্রিশাল থানায় স্থানান্তর করা হয়। সে সময় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পরও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার বা বদলি না করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে স্থানীয় মহলে। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় সম্পদের বিষয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও সম্পদের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে আসতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটে ওসি কামাল হোসেনের সম্পদ নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চাকরি জীবনে অর্জিত সম্পদের সঙ্গে তার ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন বা তার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন

গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা

ঈদুল আযহার জামাত ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. খুরশীদ আলম

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য

ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান
ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, মাঠপর্যায়ের খামারি এবং দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ মহলের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভোলার প্রাণিসম্পদ বিভাগে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন। এই বলয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া বিল দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপনের ঘনিষ্ঠতার সূত্রে রফিকুল ইসলাম খান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদে নিয়োগ পান। পরে ওই চেয়ারম্যানের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে দপ্তরের বিভিন্ন ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের বরাদ্দ উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে বাস্তব কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগাভাগিও হয়েছে। এর আগেও উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে সরকারি বরাদ্দের অর্থে গাড়ির গ্যারেজ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে কোনো গ্যারেজ নির্মাণ হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভোলায় যোগদানের পর থেকেই প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী, অফিস সরঞ্জাম ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নামে অনিয়ম বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জেলার একাধিক যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পদের দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন রফিকুল ইসলাম খান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব পদের আর্থিক বরাদ্দও কার্যত তার একক নিয়ন্ত্রণে ছিল। এছাড়া ভোলার সাতটি উপজেলায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণে উপস্থিত না থেকেও কাগজে-কলমে স্বাক্ষর দেখিয়ে নিয়মিত ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান কয়েকটি উপজেলার কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দের টাকা তুলে নিজের কাছে রাখা হয়েছে। পরে কাজ সম্পন্ন করা হবে।” তবে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্নের আগে সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত হেফাজতে রাখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রফিকুল ইসলাম খান আরও দাবি করেন, বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক ঠিকাদার কাজ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, কাজ সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে বিল উত্তোলন করা হলো। এদিকে এসব অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলার প্রান্তিক খামারিরা। কয়েকজন খামারি অভিযোগ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে তারা সরকারি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না, অথচ প্রকল্পের নামে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর-চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা

বরিশালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত, মহাসড়কে বিক্ষোভ

তাজমিন আক্তার-আবুল খায়ের

কুমিল্লায় স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগটি কি পরিকল্পিত নাটক? সিসিটিভিতে ভিন্ন চিত্র

কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা-২০২৬-এ উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন। সফল দুই আইনজীবী হলেন এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়াকে তারা দেখছেন দীর্ঘ প্রস্তুতি, পেশাগত নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের ফল হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্য, মেন্টর ও সহকর্মীদের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না। আমি শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা এবং দৈনিক শাহনামার সম্পাদক কাজী আবুল কালাম আজাদের একমাত্র কন্যা। অন্যদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বলেন, “ঢাকায় প্র্যাকটিস জীবনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।” তিনি জানান, একই সময়ে জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, “জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল না। সিনিয়র আইনজীবীদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।” এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বরগুনা সদরের সেলিনা বেগম ও মরহুম মো. জাকির হোসাইনের একমাত্র পুত্র। আইনজীবী মহলের কয়েকজন সদস্য বলছেন, দেশের উচ্চ আদালতে নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতারও প্রতিফলন। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের আইন অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
পদ্মায় ট্রলারডুবে ২৩ গরুসহ খামারি নিখোঁজ

পদ্মা সেতুর কাছে গরুবাহী ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ঝড় ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

দৈনিক জনকণ্ঠ

দৈনিক জনকণ্ঠে টার্মিনেশন ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ ৪০ কর্মচারীর অভিযোগ

কোরবানির ঈদে জমে উঠেছে কামারপাড়া: ছুরি-দা বিক্রিতে রাতভর ব্যস্ত কারিগররা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0