বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি। জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না। যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ। বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : দেশের স্বাস্থ্যখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার (সিএমএসডি) গত কয়েক বছরে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নীতি-নিয়ম উপেক্ষা এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আলোচনা ও অনুসন্ধানের কেন্দ্রে রয়েছে। সিএমএসডির উপ-পরিচালক ডাঃ তৌহিদ আহমেদ (দাপ্তরিক কোড: ১০৯৬৩০)-এর দায়িত্বকালে, বিভিন্ন সূত্র অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় কার্যক্রম, সরকারি অর্থ ব্যবহার ও প্রশাসনিক তদারকিতে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সিএমএসডি দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে সরকারি বাজেটের মাধ্যমে এবং ক্রয় কার্যক্রমে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার প্রশাসনিক পথচলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে অনুসন্ধানকারীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করছেন। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৩০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রজীবনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি সচিব কমিটির সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাববলয় ব্যবহার করেই তিনি সিএমএসডিতে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে থেকে প্রশাসনিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন এবং জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে সহকারী পরিচালক (এডি) পদ থেকে সরাসরি উপ-পরিচালক পদে বিধি বহির্ভূতভাবে পদায়ন লাভ করেন। সিএমএসডিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের না করেই সংশ্লিষ্ট খাতের অর্থ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই ভাউচার বিল প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এতে করে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়কার ক্রয় কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রমতে, এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশনসহ বিভিন্ন কোভিড-সম্পর্কিত চিকিৎসা সামগ্রী দরপত্রে সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ না করে অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়। অধিকাংশ ক্রয়ই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বর্তমানে এসব সামগ্রীর বড় অংশ ওয়েস্টেজ হিসেবে অল্প মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, আর কিছু মালামাল পুড়িয়ে বা ধ্বংস করা হয়েছে, ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া, বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আনুমানিক ১২ লাখ পিপিই, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা, যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অভাবে পচে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বলে জানা যায়। এসব সামগ্রীর তদারকি তার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুতর অবহেলার চিত্র। ডাঃ তৌহিদ আহমেদ একজন টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হওয়ায় প্রায়ই অফিস সময়ে কাজ বন্ধ রেখে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকেন। অফিস চলাকালীন সময়ে টেবিল টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রযুক্তিগত কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রতিবছর সরকারি অর্থে জাপান, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্রয় কার্যক্রমে প্রশ্ন সূত্রের দাবি, ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর প্রশাসনকালে সিএমএসডিতে একাধিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় এন-৯৫ মাস্ক, রেমডেসিভির ইনজেকশন ও পিপিই সামগ্রী অতিরিক্ত পরিমাণে ও উচ্চমূল্যে ক্রয় করা হয়েছে। একাধিক ক্রয়ই ডিপিএম পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন ক্রয়কৃত সামগ্রী অল্প মূল্যে বিক্রি বা ধ্বংস করা হয়েছে বলে কিছু সূত্র দাবি করছে, যা সরকারি অর্থের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ পিপিই দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল এবং বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। যথাযথ তদারকি বা ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে অনেক সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। সিএমএসডির ক্রয় ও সংরক্ষণ কমিটিতে ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর উপস্থিতি থাকায়, অনেকে বলছেন এটি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছে। প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল কার্যক্রম ডাঃ তৌহিদ আহমেদ-এর অফিসিয়াল কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। তিনি সাপ্তাহিকভাবে সিলেট থেকে ঢাকায় বিমানে যাতায়াত করেছেন। বিদেশ সফরের সময় (জাপান, জার্মানি) সরকারি অর্থে অংশগ্রহণ করেছেন, যদিও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব নন। অফিস সময়ের মাঝে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠেছে। সরকারি সম্পদের ব্যবহার, যেমন গাড়ি, জ্বালানি ও উন্নয়ন প্রকল্পের যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, এবং তদারকিতে স্বচ্ছতার অভাবও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ছাত্রদের এক আন্দোলনে তাঁকে প্রকাশ্যে দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিচারাধীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন চিকিৎসক যদি জনসেবা নিশ্চিত না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে লিপ্ত হন, তা শুধু নৈতিক বিচ্যুতি নয়, গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। সিএমএসডিতে ক্রয়, সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নানা পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব সম্পর্কিত প্রশ্ন অনুসন্ধান ও উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর শিশুটি মারা যায়। ঘटनাটি ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে। পরদিন সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন, এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটেছিল? নিহত নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রোহানের ছেলে। পরিবার জানায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করা হয়। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বিরোধ রাতের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল গেটে আসেন স্বজনরা। তবে সেখানে গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে জটিলতায় পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। স্বজনরা সরকারি নির্ধারিত ভাড়া (১৬০০ টাকা) উল্লেখ করে কম ভাড়া প্রস্তাব করলেও চালকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি ৪ হাজার টাকাও দিতে রাজি হলেও চালকরা সাড়ে ৪ হাজার টাকার নিচে নামেননি। অভিযোগ রয়েছে, একটি ‘সিন্ডিকেট’ বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্সকে রোগী বহন করতে দেয় না এবং জোর করে নিজেদের গাড়িতে রোগী তুলতে বাধ্য করে। মৃত্যু ভাড়া নিয়ে আলোচনার মধ্যেই রাত প্রায় ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায় বলে জানান স্বজনরা। এরপর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ নিহত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তারা নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না।” শিশুটির বাবা মো. রোহান বলেন, “হাসপাতালের এত কাছে থেকেও যদি এমন হয়, তাহলে দূর থেকে আসা মানুষ কী করবে?” স্থানীয়দের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট সক্রিয়। তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে এবং অন্য গাড়িকে বাধা দেয়। তাদের মতে— সরকারি ভাড়া থাকলেও বাস্তবে বেশি টাকা নেওয়া হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করা হয় ভাড়া না দিলে রোগী পরিবহন করা হয় না প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্ম্মা বলেন, “বিষয়টি জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্বাস্থ্যখাতে শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বরিশাল বিভাগে হাসপাতাল টেন্ডার সিন্ডিকেট মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে টেন্ডার সিন্ডিকেট, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত দামে বিল উত্তোলনের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে পিপলাই পরিবার। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় দশক ধরে তারা হাসপাতালগুলোতে সরঞ্জাম সরবরাহের নামে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারি হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং কোটি কোটি টাকার বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে পিপলাই পরিবারের বিরুদ্ধে। দুদক ইতোমধ্যে মামলা করেছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে আরও অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। ১৫ বছরের টেন্ডার সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সত্য কৃষ্ণ পিপলাই ও তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মালামাল সরবরাহের টেন্ডারে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অভিযোগ অনুযায়ী তারা:— নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের ভান তৈরি নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কম দামে কিনে বেশি দামে সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ এই পদ্ধতিতে সরকারি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদকের মামলা গত বছরের ২৬ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মামলা করে দুদক। মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল। মামলায় আসামি করা হয়েছে— ডা. শামীম আহমেদ (তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক, ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল) শিপ্রা রানী পিপলাই সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই সত্য কৃষ্ণ পিপলাই দুদকের অভিযোগ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগসাজশ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। একই পরিবারের তিন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওষুধ, কেমিক্যাল, আসবাবপত্র ও কিচেন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ছয়টি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তদন্তে দেখা যায়— চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিলেও তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই পরিবারের। সেগুলো হলো— আহসান ব্রাদার্স — মালিক সত্য কৃষ্ণ পিপলাই পিপলাই এন্টারপ্রাইজ — মালিক সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল — মালিক শিপ্রা রানী পিপলাই তিন প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও একই—বরিশাল সদরের উত্তর কাটপট্টি। দুদকের মতে, কাছাকাছি দর দিয়ে দরপত্র সাজানো হয়েছিল, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। বরগুনা হাসপাতালে ৪ কোটি টাকার টেন্ডার বিতর্ক বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের দরপত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে— ছয়টি প্যাকেজে ২৪টি ফরম বিক্রি হয় জমা পড়ে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক একই পরিবারের বাবা ও ছেলে অন্য ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, দরপত্রে অপ্রয়োজনীয় ও কঠিন শর্ত যোগ করে অন্যদের অংশগ্রহণ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন ঠিকাদার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন। শেবাচিম হাসপাতালে ১১ কোটি টাকার সরঞ্জাম কেলেঙ্কারি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ২০২০ সালে টেন্ডার আহ্বানের পর চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ওই চারটির মধ্যেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিপলাই পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী— অনিয়মের মাধ্যমে ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের নামে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মোট প্রায় ১১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়। তদন্তে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দরপত্রে অযোগ্য ঘোষিত অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে যন্ত্রপাতি এনে বেশি দামে হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র হলে সাশ্রয় হতো কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে সরঞ্জাম কেনা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব ছিল। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান তদন্তে আরও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নতুন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সত্য কৃষ্ণ পিপলাই বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে মালামাল সরবরাহকারী একটি বিতর্কিত ঠিকাদারী পরিবারের প্রধান। তিনি মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মালিক হিসেবে পরিচিত এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নামে একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত । সত্য কৃষ্ণ পিপলাই সম্পর্কে মূল তথ্য: পেশা ও পরিচয়: তিনি বরিশালের একজন প্রভাবশালী ঠিকাদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করেন । দুর্নীতির অভিযোগ: তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শিপ্রা রানী পিপলাই ও ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাইয়ের সাথে যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধভাবে কার্যাদেশ পাওয়া এবং সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে । আইনি পদক্ষেপ: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে ও তার পরিবারকে আসামি করে মামলা করেছে । ভূমিকা: মেসার্স পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের মাধ্যমে তিনি মূলত বরিশাল বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে ঠিকাদারী নিয়ন্ত্রণ করেন ।
বাংলাদেশ-এর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, জনবল সংকট ও পরিকল্পনাহীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। দুর্নীতির অভিযোগ: কেনাকাটা থেকে পদোন্নতি স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে—এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। তাদের দাবি, বিগত সময়ে এসব ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে খালি বাক্সের বিপরীতেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কেনা যন্ত্রপাতির বড় অংশ স্টোরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব অনিয়মের সুবিধাভোগী হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারে এলে এই সংকট মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সরকারি সেবায় সীমিত কাভারেজ, বেসরকারিতে নির্ভরতা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ সরকারি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পান। বাকি ৮৫ শতাংশ মানুষকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সেবা নিতে হয়। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পকেট থেকে খরচের হার বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ভুটানে ১৩ শতাংশ, ভারতে ৬৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ২১ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫১ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যক্তিগত ব্যয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জনবল সংকট ও বৈষম্যপূর্ণ বণ্টন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ডা. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্য মানুষের আয়ু ও কর্মক্ষমতা বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবে সেবার মান ও কাভারেজ—দুটিই সন্তোষজনক নয়। তার ভাষায়, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই, আর যাঁরা আছেন তাঁদের বণ্টন অসম। অধিকাংশ চিকিৎসক শহরকেন্দ্রিক; গ্রামে গেলেও অনেক সময় থাকেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি প্রকট—অপথালমোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নেফ্রোলজিস্ট ও ডায়াবেটোলজিস্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পেরিফেরি পর্যায়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকায় ডাক্তার-নার্স রাখতে হলে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ভাতা দিতে হবে। WHO মানদণ্ডে ঘাটতি World Health Organization (WHO)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স ও প্যারামেডিকের অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩:৫। বর্তমানে দেশে প্রায় ৯০ হাজার চিকিৎসক থাকলেও নার্স রয়েছেন প্রায় ১ লাখ। অথচ এই সংখ্যায় নার্স থাকার কথা ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার এবং প্যারামেডিক সাড়ে ৪ লাখ। সরকারি হিসাবে প্যারামেডিক রয়েছেন মাত্র ২০ হাজার। ডাক্তারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং নার্স ও প্যারামেডিকের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য। এসব পদ দ্রুত পূরণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করলে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি পর্যায়ে চাপ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেডিকেল শিক্ষার মান তলানিতে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, মেডিকেল শিক্ষা হচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি। কিন্তু এই ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে গেছে। মানহীন ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্ট তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার করতে হলে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতা বর্তমানে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ০.৭৪ শতাংশ, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৫ শতাংশ। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ কম এবং তার একটি বড় অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার মান নিম্নমুখী। করণীয়: সমন্বিত পরিকল্পনা ও রোগপ্রতিরোধে গুরুত্ব জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি বলেন, দেশের জনসংখ্যা, ঘনবসতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। চিকিৎসার চেয়ে রোগপ্রতিরোধ ও সুস্থতা নিশ্চিতকরণে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রাথমিক থেকে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেবার মূল্য নির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ পৃথক স্বাস্থ্য প্রশাসন ও বেতন কাঠামো সময়োপযোগী ও জনমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যখাতে যে লুটপাট ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করলে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, দক্ষ জনবল নিয়োগ, বাজেট বৃদ্ধি, প্রাথমিক সেবা জোরদার এবং স্বাস্থ্যনীতি সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই একযোগে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্যখাতের এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৃহত্তর মানবিক দুর্যোগে রূপ নিতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।