Brand logo light
বাংলাদেশ

ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

বরিশাল অফিস :  শিশু অতিক্ষ হালদার। পিতা অনিমেষ হালদার। মাতা নিভা হালদার।গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে।২১ এপ্রিল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহার নিকট ঝালকাঠীর চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নেন।

 অসীম কুমার সাহার চিকিৎসা নেয়ার পরে শিশু অতিক্ষ হালদারের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১৮ মাস বয়সের সময় অসিম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর কোলো ঢলে পরেন অতিক্ষ হালদার।

পরিবারের অভিযোগ

শিশু অতিক্ষ হালদারের পরিবারের অভিযোগ ডাক্তার অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় অতিক্ষ হালদার মারা গেছে।তারা বলেন আর কোন শিশু যেন অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়।

ফেসবুকের এক পোস্টে গোপাল মিস্ত্রী এই অভিযোগ করেন।  এছাড়া প্রণব হালদার তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেন, ডাক্তার অসীম সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।"
. " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার  বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।"
জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে  হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে  আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"
 "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।"
ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" 
ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা   মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে  টা কে শেষ করে দিল।

ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী 

প্রদীপ হাওলাদার এক পোস্টে " বরিশাল শিশু বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন) ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।

প্রদীপ হাওলাদার আরেক পোস্টে লিখেন "আমার ভাগ্নার হত্যাকারী, অধ্যাপক ডা: অসিম কুমার সাহা 
ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু (প্রাক্তন)শেরে -ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাডপাতাল বরিশাল দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।"

মানুষ মারার কারিগর অসীম কুমার  সাহা!

শিশু অতিক্ষের মামা।প্রদীপ হাওলাদার ফেসবুকে সর্বশেষ পোস্টে লিখেন" ডাক্তার অসীম কুমার  সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।"
. " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার  বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।"
জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে  হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে  আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"
 "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।"
ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।" 
ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা   মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে  টা কে শেষ করে দিল।

গল্প থেমে যায় হাসপাতালের বিছানায়


 পিরোজপুরের একটি সাধারণ পরিবার। ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর হাসি-আনন্দে ভরে থাকত ঘর। কিন্তু কয়েক দিনের অসুস্থতা, তারপর চিকিৎসা—শেষ পর্যন্ত সেই গল্প থেমে যায় ঢাকার একটি হাসপাতালের বিছানায়।

পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়—এটি একটি “ভুল চিকিৎসার ফল”। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি, আর স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ঠিক কী ঘটেছিল?


অসুস্থতা থেকে মৃত্যু 

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঝালকাঠিতে  ডাঃ অসীম কুমার সাহা নামে এক শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

স্বজনদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়।

গত ৩ মে ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

“একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্নের অবসান”

নিহত শিশুর মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন—
“একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।”

আরেক স্বজনের ভাষায়, সন্তানের মরদেহ কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা “পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত”।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অসীম কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন অনেকে।

চিকিৎসা অবহেলা—কীভাবে নির্ধারিত হয় দায়?

স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া।

কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, তা নির্ধারণে রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, রোগের প্রকৃতি এবং চিকিৎসা প্রটোকল—সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গের পেছনে গুরুতর সংক্রমণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভুল ডোজ বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।

জবাবদিহিতার প্রশ্ন

বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে—
শিশুটির মৃত্যু কি প্রতিরোধযোগ্য ছিল?
চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি?
নাকি এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত জটিলতা?

একটি অসমাপ্ত গল্প

একটি পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি খবর নয়—এটি তাদের জীবনের স্থায়ী ক্ষত।

একদিকে স্বজনদের বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে অনিশ্চিত প্রশ্ন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন।

এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটনই নির্ধারণ করবে—এটি কি চিকিৎসা অবহেলা, নাকি এক অনিবার্য ট্র্যাজেডি।

 ডাঃ অসীম কুমার সাহার বক্তব্য

এ ব্যাপারে ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান,আমার মনে পড়তেছেনা।রোগীর কাগজপত্র দিন।বললেতো হবেনা।আমি রোগীর অবস্থা খারাপ তাই হয়তো ঢাকায় রেফার্ড করছি।তিনি এও বলেন রোগীর হয়তো রোগটাই চিন্থিত করতে পারি নাই।তাই ঢাকায় পাঠিয়েছি।তিনি বলেন কাগজ পত্র না দেখে বলতে পারবোনা বিস্তারিত।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণে ২৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা প্রথমপত্রে চরম প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায়। কেন্দ্রের দুটি কক্ষে প্রায় ২৫ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন বলে নিশ্চিত হয়েছে স্থানীয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে। পরীক্ষা চলাকালীন কেউই বুঝতে পারেনি যে প্রশ্নপত্রে ভুল রয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশ্নপত্র যাচাই করতেই ধরা পড়ে এই গুরুতর অনিয়ম।  কীভাবে ঘটল ভুল? পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও প্রশ্নপত্র বিতরণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য আলাদা সেট প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি।  পরীক্ষার্থীদের উদ্বেগ ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীরা জানান, তারা পরীক্ষার পুরো সময় বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। এখন তাদের আশঙ্কা—এই একটি ভুল তাদের পুরো শিক্ষাবর্ষ ও ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।  অভিভাবকদের ক্ষোভ অভিভাবকরা কেন্দ্র পরিচালনার চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন খেলাধুলা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চান। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কেন্দ্র সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষ এস. এম. আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেটির ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। তিনি বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছেন এবং বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।  প্রশাসনের অবস্থান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় কেন্দ্র সচিবের ওপর বর্তায়। তার মতে, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসানো এবং প্রশ্নপত্র যাচাই—এই দুই প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট ব্যর্থতা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘটনার পর কলেজ প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফুলছড়ি ফাঁড়ি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।   শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় এমন ভুল শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

মাত্র ৮ মাসে ৬১১ পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ ৩০ পারা কুরআন হাতে লিখে নজির গড়লেন লাকসামের সুরাইয়া জান্নাত

বরিশালের মুলাদীতে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নান্দাইল কলেজে পিয়নের প্রতারণার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত, গেটে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভুক্তভোগীরা

হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমু
সোনারগাঁয়ে কলেজছাত্রীকে খালি বাসায় ডেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, চাঁদা দাবি ৫০ হাজার টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক কলেজছাত্রীকে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গত ২৯ জুন সকালে স্থানীয় একটি চক্র ওই কলেজছাত্রীকে একটি পরিত্যক্ত বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং তাদের সহযোগী রিফাতসহ কয়েকজন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই কলেজছাত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করে। পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও ধারণের পর ভুক্তভোগীকে অবরুদ্ধ রেখে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মমিন আলী বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে মানুষকে বাসায় ডেকে এনে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শুরু হলেও এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

এইচএসসি প্রথম দিনে ২৪,৭৮৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত, বহিষ্কার ৭ জন: পরীক্ষার কঠোর নজরদারির চিত্র

গ্রেফতার বাকী বিল্লাহ

শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার বাকী বিল্লাহ গ্রেফতার

এইচআরএসএস

জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

নিহত মোতালেব
ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পাঁচ লাখ টাকার ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়িক অংশীদার মোতালেব (৬৫)-কে বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ তোশকে মুড়িয়ে একটি ইজিবাইকে করে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে একটি গ্যারেজের মহাজন ও এক ইজিবাইক চালককে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় ঘটে। নিহত কে? নিহত মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকার ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসদাইর বাজারে তিনি বইয়ের দোকানের পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। একই ব্যবসার সূত্রে জাকির হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরে যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা শুরু হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ পরিবারের অভিযোগ, ব্যবসায়িক লেনদেনে জাকির হোসেনের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। যেভাবে সামনে আসে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে একটি ইজিবাইক বের করা হয়। ভোরে বিষয়টি নিয়ে গ্যারেজ মালিক সোহেল মিয়া ও চালক ফারুকের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এর কিছু সময় পর সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা গ্যারেজ মহাজন সোহেল মিয়া ও ইজিবাইক চালক ফারুককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইজিবাইক চালকের দাবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক ফারুক দাবি করেন, গভীর রাতে জাকির হোসেন তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। ফারুকের ভাষ্যমতে, জাকির তাকে বলেন, একটি তোশকে পোকার আক্রমণ হয়েছে এবং সেটি ফেলে দিতে হবে। প্রথমে তিনি রাজি না হলেও পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সম্মত হন। পরে জাকিরের বাসার সামনে থেকে তোশকটি ইজিবাইকে তুলে কিছু দূরে সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে তিনি টাকা নিয়ে চলে যান বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। সিসিটিভিতে যা দেখেছে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই রাতে ওই বাসা থেকে একটি তোশক ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। আরেকটি ফুটেজে একই ইজিবাইক চালককে আরও দুজনের সহায়তায় সড়কের পাশে তোশকটি ফেলে দিতে দেখা গেছে বলে দাবি পুলিশের। উদ্ধার হওয়া আলামত পুলিশ জানিয়েছে, জাকির হোসেনের বাড়ির পেছন থেকে নিহত মোতালেবের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব আলামত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তদন্তের বর্তমান অবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না—এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

স্বাস্থ্য অধিদফতর

বেসরকারি হাসপাতাল নজরদারিতে নতুন নির্দেশনা: চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা পদক্ষেপ

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে ফের বিস্ফোরণ, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক; সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0