Brand logo light

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ব্যাটেলশিপ
ভারত মহাসাগরে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে ইরানের হামলা, উত্তেজনা চরমে

 ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :     ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, তারা “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪” নামে এই হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ‘আর্লি বার্ক’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার। ইরানি সূত্র অনুযায়ী, হামলাটি ছিল দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ফল। যুদ্ধজাহাজটি যখন সমুদ্রে একটি সাপ্লাই জাহাজের সঙ্গে জ্বালানি নেওয়ার সময় স্থির অবস্থায় ছিল, তখনই আঘাত হানা হয়—যে সময়টিকে সামরিক ভাষায় সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্বিমুখী ক্ষেপণাস্ত্র কৌশল এই হামলায় ব্যবহৃত হয় দুটি ভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র— ‘গদ-৩৮০’: একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘তালাইয়েহ’: সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে চলা ক্রুজ মিসাইল বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত হামলা আধুনিক ‘Aegis’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে ফেলে, কারণ এটি একসঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়। ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডেস্ট্রয়ারটির পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাপ্লাই জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পেন্টাগন । বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই কৌশলগত নীরবতা অবলম্বন করে। সংঘাতের বিস্তার এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পরপরই ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দিকে ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের প্ররোচনাতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। অর্থনৈতিক প্রভাব এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান,নিহত- ৪০

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
রকেট হামলা
ইরানের শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে যে তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) চালানো এই অভিযানে ১০০টিরও বেশি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র, আক্রমণকারী ড্রোন এবং অন্তত ২০০টি রকেট ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলা ইরান এবং তাদের মিত্র “প্রতিরোধ ফ্রন্ট” যৌথভাবে পরিচালনা করেছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-এর বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা, পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তাদের দাবি, বাহরাইন-এ অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং কুয়েত-এর আল-আদিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইউনিট লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই হামলা “পূর্ণ তীব্রতা ও শক্তি” নিয়ে অব্যাহত থাকবে। তবে এই হামলার বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে হামলা জোরদার করায় ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একই সময়ে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফা-তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের এই বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নত রাডারের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান রয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হলে ব্যবহার করতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কাও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
সুয়েজ খাল
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরায়েল যুদ্ধ জটিল, ঝুঁকিতে সুয়েজ খাল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার (২৮ মার্চ) আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেছেন, গত আড়াই বছরে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার মতে, “হুতিরা চাইলে বাব আল-মান্দাব প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে। এতে লোহিত সাগর-এ প্রবেশের পথ ব্যাহত হবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সুয়েজ খাল-এর ওপর।” বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট—হরমুজ প্রণালি এবং সুয়েজ খাল—একযোগে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই দুই পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর প্রভাব হতে পারে বৈশ্বিক এবং সুদূরপ্রসারী। আকাশ প্রতিরক্ষায় বাড়তি চাপ মোহাম্মদ এলমাসরি আরও বলেন, হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। “ইসরায়েল সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও তারা পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য নয়,”—বলেন তিনি। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হিজবুল্লাহ-এর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইরান-এর আক্রমণ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন ইয়েমেন থেকেও হামলা অব্যাহত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়বে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তবে এই পরিস্থিতির একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এলমাসরি বলেন, “এক অর্থে ইসরায়েল এই পরিস্থিতিকে স্বাগতও জানাতে পারে।” তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যেন দ্রুত এই সংঘাত থেকে সরে না আসে—এটি ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থের অংশ হতে পারে। কারণ, তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য এখনও পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বৈশ্বিক উদ্বেগ বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
আরব আমিরাতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
আমিরাত–কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র–ড্রোন হামলা, শিল্পাঞ্চলে আগুন | কুয়েত বিমানবন্দরের রাডারে ব্যাপক ক্ষতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর একটি শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে এই আগুন লাগে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। এক মাস আগে শুরু হওয়া আঞ্চলিক সংঘাতের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে তেহরানের হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আবুধাবি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খলিফা ইকোনমিক জোনস এলাকায় দুটি পৃথক স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকল বাহিনী। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হলেও এর ধ্বংসাবশেষ ভূপাতিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটায়। অন্যদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থার ‘ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরটি একাধিক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ইরানকে দায়ী করে কুয়েত বলেছে, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে বিমানবন্দরটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার একটি জ্বালানি ডিপোতে ড্রোন হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইসরায়েলে সাইরেন আতঙ্ক
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক: ইরানের হামলা, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আতঙ্ক। মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্ত থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় অন্তত সাতটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার প্রেক্ষিতে আরও ছয়টি সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়। আইডিএফ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অভেদ্য নয় এবং যেকোনো সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব এলাকায় একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চীন ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার চীন তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগ করার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, লেবানন ও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ‘কোনো ধরনের সংযম ছাড়াই’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের ভাষায় ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলা অব্যাহত থাকলে উত্তর ইসরায়েল ও গাজা উপকূলীয় এলাকায় ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না। এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মোহসেন রাজাই যুক্তরাষ্ট্রকেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন নৌযানও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ইরানের হামলায় ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
তেল আবিবে সড়কে ধ্বংসযজ্ঞ, গাড়ি বিধ্বস্ত; এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র—পুরনো ভিডিও নতুন করে ভাইরাল

ইরানের হামলায় ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের একটি সড়কে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ধ্বংসযজ্ঞের ছবিও। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আলজাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। লাইভ সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের তেল আবিব এলাকার একটি অংশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। একটি স্থানে দেখা যায়, জরুরি কর্মী ও পুলিশ ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষে ভরা একটি ব্যস্ত রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি গাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—একটি গাড়ি উল্টে পাশের দিকে পড়ে আছে এবং অন্য কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে তেল আবিবসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কিছু স্থানে ভবন ও যানবাহনের ক্ষতি হয়েছে।   আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতে বিধ্বস্ত হয়েছে দাবি করে প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ফুটেজটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বিমান ধোঁয়া ও আগুন ছড়াতে ছড়াতে নিচের দিকে নামছে। পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। এর আগে গত রোববার (২২ মার্চ) একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণে হরমুজ দ্বীপের কাছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিগুলোকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছে: ‘গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে ইরানি শাসকগোষ্ঠী সম্প্রতি ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’ আরও বলা হয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন বাহিনী ৮ হাজারেরও বেশিবার যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। ইরানের গুলিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি।’ সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান সচল রয়েছে এবং ইরানের গুলিতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মার্কিন বিমান ব্যাপক তৎপর রয়েছে।   এর আগে মার্চের শুরুর দিকে কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এটা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারের’ কারণে ঘটেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায় যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত বিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে ছয়জন ক্রু সদস্যই নিরাপদে ইজেক্ট করেন এবং স্থিতিশীল অবস্থায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। কুয়েত এই ভুল স্বীকার করে এবং মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহত্তর এই অভিযানে কুয়েতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মূলত ইরান সংঘাতের তৃতীয় দিন ২ মার্চ কুয়েতের আল জাহরা বা অন্যান্য এলাকার কাছে এফ-১৫ বিমানগুলোকে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়।   প্রকাশিত ফুটেজে বিমানের সর্পিল গতি এবং ইজেক্ট করার বর্ণনার সাথে মিলে যায় এবং তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। কিছু বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম মনে করছে যে, বর্তমান ভাইরাল ক্লিপটি হয়তো ইরানের নতুন কোনো বিমান ভূপাতিত করার প্রমাণ নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সেই ঘটনার নতুন কোনো দৃষ্টিকোণ বা পুনঃপ্রচারিত ভিডিও। ইরান একটি মার্কিন এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে, যেটি ইরানের আকাশসীমায় একটি অভিযানের সময় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর একটি আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে বলে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র।   এছাড়া অন্তত তিনটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। গত শনিবার (২১ মার্চ) ইরানের আইআরজিসি জানায়, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরাইলি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ইসরাইলের তৃতীয় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যা গত তিন সপ্তাহে ভূপাতিত করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা: ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত ৫৫টিরও বেশি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে “ক্রমিক ক্ষয়সাধন কৌশলের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে।  লক্ষ্যবস্তু: কোথায় আঘাত হানা হয়েছে? আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি: সৌদি আরবের আল-খারজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা কুয়েতের আলী আল-সালেম ইরাকের ইরবিল (কুর্দিস্তান অঞ্চল) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাইফা বন্দর তেল আবিবের কৌশলগত অঞ্চল হাদেরা কিরিয়াত ওনো সাভিয়ন বেন আমি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়।  ব্যবহৃত অস্ত্র: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহ-৪’ ‘কদর’ মাল্টি-ওয়ারহেড সিস্টেম এই অস্ত্রগুলো দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাল্টিপল ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তুলনামূলক সহজ হয় বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে—কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা।  কৌশলগত বার্তা: “ক্রমিক ক্ষয়সাধন” আইআরজিসি তাদের এই অভিযানকে “ধাপে ধাপে ক্ষয় করার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে: শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে “নিয়ন্ত্রিত সংঘাত” বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। সময় নির্বাচন: রমজান ও ঈদের প্রেক্ষাপট আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হামলার সময় নির্বাচন করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে, ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে। তারা এটিকে “নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে: মুসলিম বিশ্বে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার সংঘাতকে আদর্শিক রূপ দেওয়া আঞ্চলিক প্রভাব: উত্তেজনার বিস্তার এই হামলার দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ২. ইসরাইলের অবস্থান ইসরাইল বরাবরই ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে এই ঘটনার পর তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে পারে। ৩. উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসায় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা নাকি প্রস্তুতি? এই ধরনের বড় হামলার দাবির পর সাধারণত আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি নতুন নিষেধাজ্ঞা তবে অনেক সময় সরাসরি নিশ্চিত তথ্য না থাকলে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নেয়। তথ্য যাচাই: দাবি বনাম বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। বর্তমানে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই স্যাটেলাইট বা ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ প্রয়োজন ফলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে “তথ্য যুদ্ধ” একটি বড় উপাদান হয়ে দাঁড়ায়।  সম্ভাব্য ঝুঁকি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি সামনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো হলো: সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব  বিশ্লেষণ: কৌশল না সংকেত? আইআরজিসির এই ঘোষণা কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্দেশ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানো ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব বিস্তার   ইরানের আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। তবে এই ঘটনার বাস্তবতা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল শোধনাগার
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে শোধনাগারে পড়ে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত বছর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালেও হাইফার এই শোধনাগারটি হামলার শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে, কুয়েতেও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ তেল শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি)। এর আগে মিনা আল আহমাদি শোধনাগারেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র, যার একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিনের ব্যবধানে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি ‘জ্বালানি যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধ্বংসাবশেষে বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে ৩ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। বুধবার ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানা বা কোন এয়ারলাইনের তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেনগুরিয়নে থাকা তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজে আগুন ধরে যায়। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বুধবার জানায়, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করার পর সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজগুলোর মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আকাশপথে দেশটির প্রধান এই প্রবেশদ্বারে সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ইসরাইলি উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দরটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রায় অর্ধেকই ছিল ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অনেক বোমা বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, একটি বিমানে ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আগুন ধরে গেছে এবং অন্যগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করে বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তিনটি বেসামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ-এ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রও কূটনৈতিক মিশনে হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি হেলিপ্যাড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হানে। উত্তেজনার মধ্যেই হামলা খবরে বলা হয়, বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সটি বিশ্বের বৃহত্তম কূটনৈতিক মিশনগুলোর একটি। অতীতে বহুবার ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এই এলাকা। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই হামলার বিষয়ে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে সংবাদমাধ্যমকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানানো হয়নি। তবে এর একদিন আগে, শুক্রবার, দূতাবাসটি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘লেভেল-৪’ নিরাপত্তা সতর্কতা পুনরায় কার্যকর করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরান এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অতীতে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এমন হামলার ঝুঁকি থাকতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন শনাক্তে বেহাল ইসরায়েল
ইরান–হিজবুল্লাহ হামলার আতঙ্কে সাইরেনের মধ্যে দিন কাটছে ইসরায়েলিদের, খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আতঙ্কে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন নাটকীয়ভাবে পাল্টে গেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে নিয়মিত সাইরেন বাজছে এবং মানুষ মুহূর্তের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনে একাধিকবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে। সাইরেন শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। কিছু সময় পর বিপদ কেটে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে তারা আবার ঘরে ফিরলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই আবার নতুন করে সাইরেন বাজতে পারে—যা তাদের মধ্যে স্থায়ী উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা দ্রুত বাড়তে পারে। সাইরেন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে আগত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন শনাক্ত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে সাইরেন ব্যবস্থা নিয়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কোনো হামলা না হলেও সাইরেন বেজে উঠছে। আবার কখনো প্রকৃত হামলার সময়ও সতর্ক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর মধ্যেও উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর বেশি প্রভাব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষরা। নিয়মিত স্কুল কার্যক্রম এবং কর্মজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা, জরুরি খাদ্য ও পানীয় মজুত রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার দাবি এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ একটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং খার্গ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।” তবে তিনি জানান, মানবিক কারণে আপাতত দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খার্গ দ্বীপটি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরানের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়, তাহলে পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন অংশীদারিত্ব থাকা তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এসব স্থাপনাকে “ছাইয়ের স্তূপে” পরিণত করা হবে। হামলার ভিডিও ও স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশিত একটি ভিডিওর ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এতে খার্গ দ্বীপের বিমানবন্দর ও রানওয়েসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দৃশ্য রয়েছে। ভিডিওতে বড় বিস্ফোরণ ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। স্যাটেলাইট ছবির সঙ্গে মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে যে হামলাগুলো দ্বীপটিতেই সংঘটিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন এদিকে সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাডার কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তথ্য নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা ১২ দিনের চলমান সংঘাতে সামরিকভাবে বড় সাফল্য না পেলেও ইসরায়েল সরকার তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি, হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল— Al Dhafra Air Base, আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি Naval Support Activity Bahrain–এর কাছাকাছি জুফায়ার বিমান ঘাঁটি Ramat David Airbase, ইসরায়েলের সামরিক বিমান ঘাঁটি Haifa Airport, ইসরায়েলের বেসামরিক বিমানবন্দর ইরানের দাবি, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
অত্যাধুনিক রাডার
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে। তেহরানভিত্তিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, ইরানের সামরিক বাহিনীর এলিট ইউনিট Iইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে   স্থাপিত যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ (AN/FPS-132) দীর্ঘ-পাল্লার রাডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষম এই শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল। এটি মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ছিল। আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলাটি ছিল “অত্যন্ত নির্ভুল ও কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত” এবং এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, কাতারের কিছু কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন নীরব থাকায় দাবিটির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ দাবি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক এই দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
মাইক্রোসফটের কার্যালয়ে হামলা-দোহায় ফের বিস্ফোরণ
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাইক্রোসফট অফিসে আঘাতের দাবি; স্পেন-যুক্তরাজ্যের ভিন্ন অবস্থান, ইরানের পাশে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার (২ মার্চ) ইসরাইলে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও শিল্প স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালিত হয়েছে। বীরশেবায় সামরিক কমপ্লেক্সে হামলার দাবি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ১১ তম ঢেউ ইসরাইলের বীরশেবা শহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বীরশেবায় অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি যোগাযোগ ও শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। পরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখানো ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু বলে দাবি করা হয়। ওই কমপ্লেক্সে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট -এর অফিসও আছে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার দাবি ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং বিমানবাহিনীর কমান্ডারের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার সময় নেতানিয়াহু কোথায় ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইসরাইলি প্রশাসনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নেতানিয়াহু বেইত শেমেশ সফর বাতিল করেন। স্পেনের ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি Spain। দেশটির রোটা ও মোরন ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ  যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘একতরফা সামরিক পদক্ষেপ’-এর সমালোচনা করে একে ‘অন্যায় ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানান, স্পেনের ঘাঁটিগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্যেই ব্যবহৃত হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলসও  একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় জোরালো সমর্থন জানিয়েছে চীন । দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই  ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে ফোন করে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যুদ্ধ বন্ধে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার কথা বলেছে। যুক্তরাজ্য সরাসরি হামলায় অংশ নেবে না ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় সরাসরি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স ও জার্মানিও প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং চীনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক উত্তেজনা যেন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়—সেই আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে।   কাতারের দোহায় ফের বিস্ফোরণ   কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ফলে এ বিস্ফোরণ হতে পারে। সোমবার (২ মার্চ) রাতে নতুন করে এ বিস্ফোরণ হয়। এর আগে এদিন কাতারের শিল্পনগরী রাস লাফানের একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে ইরানের ড্রোন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, কাতারের বিমানবাহিনী দেশটির দিকে আসা দুটি ইরানি জেট গুলি করে নামিয়েছে এবং কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
বিস্ফোরণে কাঁপছে দুবাই
দুবাই ও দোহায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর, দুবাই এবং দোহায় শনিবার রাতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের আকাশে একাধিক প্রজেক্টাইলের শিখা দেখা যায় এবং এই শিখাগুলো প্রতিহত করতে ইন্টারসেপ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এর ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং স্থানীয় বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে কাজ করছে। এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায়ও একই দিনে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এর আগেও দুপুরে এক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে, যখন কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত ওই অঞ্চলের বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে, হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা: এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও বাহরাইনে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের দুটি দূতাবাস একাধিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সব কর্মীর জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং একই সঙ্গে সেসব দেশের মার্কিন নাগরিকদেরও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা প্রতিক্রিয়াস্বরূপ এই হামলাগুলি চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিদেশ মন্ত্রণালয় ইরানের হামলার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে, এবং দেশগুলোকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। শঙ্কা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুদ্ধের পূর্বাভাস দেয়ার মতো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগীদের মধ্যে সংঘর্ষের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলিরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন।
ইসরায়েলে হামলার পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা

ইরানে হামলার পর ইসরায়েলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। হামলার সময় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সামরিক বাহিনী জানায়, ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ভূখণ্ডে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবার সকালে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।    ইরানে হামলা চালাল ইসরায়েল   ইরানে আকস্মিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শনিবার সকালে এ হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার সময়ই আইডিএফ দেশজুড়ে একটি জাতীয় সতর্কবার্তা জারি করে নাগরিকদের সুরক্ষিত স্থানের কাছে অবস্থান করার নির্দেশ দেয়। বার্তায় বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতেই এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ জানায়, এটি জনসাধারণকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম সতর্ক করার অংশ। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   ইরানের হামলায় কেঁপে উঠল ইসরায়েল ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এরপর সতর্কতামূলকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করতে জনসাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী হুমকি প্রতিহত করার কাজ করছে। প্রয়োজন দেখা দিলে হুমকি নির্মূল করার কাজও করছে তারা। ইতোমধ্যে, কিছু গণমাধ্যমে ইসরায়েলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিস টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, খামেনি ইতোমধ্যেই তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান সরকারিভাবে গোপন রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা বিস্ফোরণ শুনেছেন এবং আশপাশের এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে। হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা সূত্র বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার
ইসরায়েল–ইরান সংঘাত তীব্রতর: তেহরানে বিস্ফোরণ, ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেহরানে বিস্ফোরণ, ‘পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ’ দাবি ইসরায়েলের ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে একটি “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দেশজুড়ে “বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছেন। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজানো হচ্ছে। উভয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ শনিবার পর্যন্ত বেসামরিক বিমানের জন্য দেশটির আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইভাবে Iran-ও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে। অতীতের হামলা ও পারমাণবিক স্থাপনা গত বছর জুনে ইসরায়েল ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তাদের দাবি ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করাই ছিল লক্ষ্য। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। সেগুলো হলো—ফোর্দো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান। এর মধ্যে ফোর্দো একটি পাহাড়ি অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান খুব শিগগিরই পারমাণবিক বোমা তৈরিতে সক্ষম হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও সামরিক মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে ইরানে হামলা চালানো হবে। এর মধ্যেই জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প একে “আর্মাডা” হিসেবে বর্ণনা করেন। এতে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার লক্ষ্যবস্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বাহরাইন নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, বাহরাইন-এ অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাহরাইনের রাজধানী মানামা -তে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জরুরি সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বাহরাইনেই যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের অংশজুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। ইসরায়েলে ‘ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ দাবি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা” শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, ইরানে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে ওই দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসগুলো জানিয়েছে, তারা “সকল কর্মীদের জন্য আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন” করছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে এই সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। আকাশসীমা বন্ধ, সামরিক মোতায়েন বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত হওয়ার ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক চাপে পড়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0