অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
রমজানের শেষ দশ রাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। এ সময়টিকে ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলে ভরিয়ে তুলতে পরিবারকেও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কীভাবে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে এই সময়কে আরও অর্থবহ করা যায়, সে বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো। রমজানের শেষ দশ রাত সম্পর্কে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনে কাইয়্যিম বলেন, সব মাসের মধ্যে রমজান সর্বোত্তম এবং রমজানের রাতগুলোর মধ্যে শেষ দশ রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। এই সময়ে বেশি বেশি নেক আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে এই সময় কাটালে সন্তানদের মধ্যেও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। নিচে পরিবারের জন্য শেষ দশ রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হলো— নিয়ত ঠিক করা ইসলামে প্রতিটি কাজের আগে নিয়ত ঠিক করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত করা উচিত। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও দোয়া করতে হবে এবং সন্তানদেরও দোয়া করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে তাহাজ্জুদ তারাবি ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। চেষ্টা করা উচিত পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসব নামাজ আদায় করার। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আধ্যাত্মিক বন্ধন তৈরি হয়। যদি সন্তানরা ছোট হয় তবে সপ্তাহান্তে তাদের মসজিদে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। এতে তারা মসজিদের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শিখবে। একসঙ্গে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত রমজানজুড়ে প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত। তবে শেষ দশ রাতে তা আরও বাড়ানো ভালো। পরিবারে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে সবাই মিলে কোরআন তিলাওয়াত করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যরা পালা করে সুরা পড়তে পারেন। চাইলে এটিকে আনন্দময় করতে ছোট একটি প্রতিযোগিতাও রাখা যেতে পারে, যাতে দেখা যায় কে বেশি তিলাওয়াত করতে পারে। এতে শিশুদের কোরআনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। দোয়ার তালিকা তৈরি করা রমজান রহমত ও বরকতের মাস। এ সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও বিভিন্ন কল্যাণ কামনার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। শেষ দশ দিনে সন্তানদের সঙ্গে বসে একটি দোয়ার তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে আল্লাহ সব দোয়া শোনেন। সন্তানদের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো একটি বিখ্যাত দোয়াও শেখানো যেতে পারে—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। বেশি বেশি সদকা করা সদকা শুধু অর্থ দানেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার মিলে রান্না করে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের ইফতারে দাওয়াত দেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের তাদের অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় গরিবদের দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে পার্কে গিয়ে পাখিদের খাবার দেওয়া বা আশপাশের বৃদ্ধ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়াও সদকার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত। যদি সামর্থ্য থাকে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দান করা যেতে পারে। সন্তানদেরও তাদের হাতখরচের কিছু অংশ দান করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এতে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও উদারতার মানসিকতা গড়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া রমজানের শেষ দশ রাতকে পরিবারকেন্দ্রিক সময় হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। সন্তানদের বোঝানো দরকার কেন এই রাতগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে বাবা-মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার ও ইবাদতে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে পরিবারে ভালোবাসা বাড়ে এবং সন্তানরা অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও সাহায্যের মানসিকতা শিখে। রমজান খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই শেষ দশ রাতকে অবহেলায় কাটিয়ে না দিয়ে যতটা সম্ভব ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যয় করা উচিত।
শ্চিমবঙ্গের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাত শহরে এক বিরল সম্প্রীতির নজির গড়ে উঠেছে। হিন্দু পরিবারের বসতভিটায় অবস্থিত ‘আমানতি মসজিদ’ শুধু নামেই নয়, বাস্তবেও হয়ে উঠেছে আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। আর এই সম্প্রীতির কেন্দ্রে রয়েছেন পার্থসারথি বোস—যিনি টানা ১৬ বছর ধরে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আসছেন। হিন্দু পরিবারের তত্ত্বাবধানে মসজিদ মসজিদটি পার্থসারথি বোসদের বাড়ির ভেতরেই অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, এ অঞ্চলে প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো মসজিদ নেই। ফলে আশপাশের দোকান, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মুসলমানরা এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক মুসল্লি ইফতার করেন এই মসজিদে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—মসজিদের দেখভাল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক দায়িত্ব পালন করে আসছে একটি হিন্দু পরিবার। ইতিহাসের সূত্রপাত ১৯৬০ সালে ১৯৬০ সালে সম্পত্তি বিনিময় প্রথার মাধ্যমে খুলনার আলকা গ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন পার্থসারথির দাদু নিরোধকৃষ্ণ বোস। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে বসতভিটায় উঠে তিনি দেখতে পান একটি জরাজীর্ণ মসজিদ। ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে সেটি আগলে রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তার ছোট ছেলে দীপক বোস দায়িত্ব নেন মসজিদের। তখনই এর নামকরণ করা হয় ‘আমানতি মসজিদ’। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন পার্থসারথি বোস। দুর্ঘটনা থেকে আত্মশুদ্ধির পথ পার্থসারথি জানান, ২০০৯ সালের আগে মসজিদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তেমন ছিল না। রমজান মাসে একদিন বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে ডান কাঁধের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাড় জোড়া লাগা কঠিন। অনুশোচনায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরদিন সকালে মসজিদে এসে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে মানত করেন—জীবিত থাকা পর্যন্ত রমজান মাসে রোজা রাখবেন। মসজিদের মাটি কাঁধে লাগিয়ে প্রার্থনা করেন সুস্থতার জন্য। তার দাবি, এরপর ধীরে ধীরে তার হাড় জোড়া লাগে। সেই থেকে টানা ১৬ বছর পুরো রমজান মাস রোজা রেখে আসছেন তিনি। এর আগেও রোজা রাখতেন, তবে পুরো মাস নয়। “মসজিদ আমাকে ভালো মানুষ বানিয়েছে” পার্থসারথি বলেন, “এই মসজিদ আমাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে যে, খারাপ থাকার উপায় নেই। রোজা রাখলে মন পরিষ্কার থাকে। বাজে চিন্তা আসে না। মনে এক ধরনের ভয় কাজ করে—আবার যেন কোনো ভুল না করি।” তার পরিবারে অন্য কেউ রোজা না রাখলেও সবাই সহযোগিতা করেন। স্ত্রী সেহরির আয়োজন করেন, আর ইফতারে থাকে খেজুর, ফল ও হালকা খাবার। দান গ্রহণ নয় মসজিদের জন্য সরকারি বা স্থানীয় দান নেওয়া হয় কি না—এ প্রশ্নে পার্থসারথি স্পষ্ট জবাব দেন, “না, কোনো দান নেই। হারাম না হালাল বুঝি না। তাই দানবাক্সও রাখা হয়নি।” সম্প্রীতির বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বারাসাতের ৮ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে মুসলিম ভোটার নেই বললেই চলে। তবুও ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এই মসজিদ আমাদের কাছে মন্দিরের মতোই পবিত্র।” অন্য এক বৃদ্ধা জানান, ভোরের আজান তার ঘুম ভাঙায় এবং মানসিক শক্তি জোগায়। ৯০ দশক থেকে দায়িত্বে থাকা মসজিদের ইমাম আক্তার বলেন, “বিশ্বে এমন নজির বিরল। মুসলমানরা এখানে নামাজ পড়ে চলে যান, কিন্তু দেখভাল করেন এক হিন্দু পরিবার। ইসলামে এমন কোনো নিষেধ নেই যে, অন্য ধর্মের মানুষ মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত থাকতে পারবেন না।” ধর্ম নয়, মানবিকতা পার্থসারথি বোস বলেন, “মসজিদের দেখভাল করি, কিন্তু ইসলামের নিয়মে হস্তক্ষেপ করি না।” তার মতে, এটি ধর্মীয় নয়—মানবিক দায়িত্ব। রমজানের আত্মসংযম, আত্মত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির বার্তা যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছে বারাসাতের ‘আমানতি মসজিদ’। যেখানে ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
মাহে রমজান রহমত, বরকত ও ক্ষমার মাস। এটি জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস এবং নেক আমলে প্রতিযোগিতার মাস। রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়। এ মাসে রোজা, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। যে ব্যক্তি রমজানকে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, সে সত্যিকার অর্থেই সফল। তাই আমাদের উচিত এই মহিমান্বিত মাসকে অবহেলা না করে ইবাদত ও নেক আমলের মাধ্যমে জীবনকে আলোকিত করা। 🌙 রোজার মূল উদ্দেশ্য: তাকওয়া অর্জন রোজার মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং আত্মসংযমের মাধ্যমে আল্লাহভীতি অর্জন করা। তাকওয়া মানে হলো নিজের ইচ্ছা-প্রবৃত্তির ওপর স্রষ্টার বিধানকে প্রাধান্য দেওয়া, তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকা। একজন সচেতন মুসলমানের জন্য প্রয়োজন— নিজের ফরজ দায়িত্ব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা হারাম বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্বীনের নির্দেশনা অনুসরণ করা ⚠️ রোজাদারের জন্য যেসব কাজ মাকরূহ ও নাজায়েজ রমজানে রোজা অবস্থায় কিছু কাজ রয়েছে যা সরাসরি গুনাহ, আবার কিছু কাজ রোজাকে মাকরূহ করে দেয়। নিচে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো— গুনাহ ও নাজায়েজ কাজ রোজাদারের জন্য নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য— মিথ্যা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া গীবত ও চুগলখুরী করা মিথ্যা কসম খাওয়া অশ্লীল কাজ ও অশালীন কথাবার্তা জুলুম করা ও শত্রুতা পোষণ করা বেগানা নারী-পুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা সিনেমা দেখা বা মোবাইলে অশালীন ছবি দেখা এসব কাজ করলে রোজা ভঙ্গ না হলেও রোজা মাকরূহ হয়ে যায় এবং সওয়াব কমে যায়। অপ্রয়োজনে কিছু চিবানো বা চেখে দেখা রোজা অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে কিছু চিবানো বা স্বাদ গ্রহণ করা মাকরূহ। তবে পারিবারিক বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন—স্বামীর কঠোরতার আশঙ্কা) খাদ্য জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে চেখে সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিলে অবকাশ রয়েছে। পবিত্রতার ক্ষেত্রে অতিরিক্ততা পায়খানার রাস্তা অতিরিক্ত পানি দ্বারা ধৌত করা, যাতে ভিতরে পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে—এটি মাকরূহ। ওজুর সময় অতিরিক্ত পানি ব্যবহার নাকে অতিরিক্ত পানি টানা কুলি করার সময় গড়গড়া করা এসবের ফলে পানি কণ্ঠনালীতে চলে যেতে পারে, তাই রোজা অবস্থায় সতর্ক থাকা জরুরি। কামভাবসহ দাম্পত্য আচরণ রোজা অবস্থায় কামভাব নিয়ে স্ত্রীকে চুম্বন বা আলিঙ্গন করা মাকরূহ। তবে কামভাব না থাকলে তা মাকরূহ নয়। সুবহে সাদেকের পর গোসল রাতে সহবাসের পর সুবহে সাদেকের পূর্বে গোসল না করে পরে গোসল করলে রোজা নষ্ট হয় না এবং মাকরূহও নয়। তবে পূর্বেই গোসল সম্পন্ন করা উত্তম। দুর্বল মুসাফিরের রোজা যদি সফর অবস্থায় রোজা রাখলে অতিরিক্ত কষ্ট হয়, তবে রোজা রাখা তার জন্য মাকরূহ হতে পারে। চুল বা নখ কাটা রোজা অবস্থায় চুল বা নখ কাটলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। সফরে নিয়ত করে মুকিম হওয়া কোনো ব্যক্তি সফর অবস্থায় রোজার নিয়ত করে এবং সেদিনই মুকিম হয়ে গেলে, তার জন্য ওই দিনের রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। চোখে সুরমা বা ঔষধ ব্যবহার চোখে সুরমা লাগানো বা ঔষধ প্রয়োগ করলে রোজা ভাঙে না এবং মাকরূহও হয় না। 🌟 রমজানকে সফলতার সোপান বানাই রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। এই মাসে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও নেক আমলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি। আসুন, রমজানের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করি, গুনাহ থেকে দূরে থাকি এবং তাকওয়ার আলোয় জীবনকে আলোকিত করি। তাহলেই এই মহিমান্বিত মাস আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থেই সফলতার বার্তা বয়ে আনবে।