Brand logo light
বাংলাদেশ

পাথরঘাটায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:

বরগুনার পাথরঘাটায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

৭ অক্টোবর (বুধবার) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি অভিযোগটি আমলে নিয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার রুজুর নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মো. আবু বক্কর (৩০) এবং তাঁর সহযোগী আবদুল হালিম প্যাদার ছেলে মো. আল মামুন (২৮)।

এজাহারে গৃহবধূর অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকায় ব্যবসা করেন। তিনি শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। প্রতিবেশী আবু বক্কর বিভিন্ন সময় তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

এজাহারে বলা হয়েছে, বিষয়টি আবু বক্করের স্বজনদের জানিয়ে দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গৃহবধূর ওপর প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আবু বক্কর তাঁর সহযোগী আল মামুনকে নিয়ে ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান। একপর্যায়ে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করেন আবু বক্কর। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, ওই সময় আল মামুন জানালার বাইরে থেকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি

গৃহবধূর অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। পরে আবু বক্কর বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, দাবিকৃত টাকা না দিলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি স্বামীকে জানান ওই গৃহবধূ। স্বামীর অনুমতি নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবু বক্করের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলাটি এখন আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
গণপূর্তের প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার, নথি জালিয়াতি ও সরকারি জমি-ভাড়া বাবদ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা এবং বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আগ্রাবাদ কনভেনশন হলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সূত্রে রোববার (৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানা গেছে। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের লাভবান হওয়া এবং অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে ভুয়া রেকর্ডপত্র ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করেও জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের হিসাবে আত্মসাতের পরিমাণ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন শাহ-আলম মামলার অনুমোদন পাওয়া আসামিদের মধ্যে মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী বর্তমানে বাগেরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তাঁর দায়িত্বের আওতায় ছিল গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি স্থাপনা। ফলে সরকারি জমি ও স্থাপনা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নথি জালিয়াতির মতো অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এক বছরের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ-আলম ফারুক চৌধুরী এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং কানাডায় অবস্থানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি কীভাবে দখলে? দুদকের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি ও ব্যবহার করেন। এসব নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়। অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জমির বিপরীতে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করেই বিভিন্ন জালিয়াতি ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, জমি ও ভাড়া বাবদ সরকারি অর্থের মোট ক্ষতির পরিমাণ ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকা। যে ধারায় মামলা অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। ৪০৯ ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ ও দায়িত্বের অপব্যবহার, ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল ও জালিয়াতি, ৪৭১ ধারায় জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহারের মতো অপরাধের বিধান রয়েছে। আর ১০৯ ধারাটি অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে মামলা অনুমোদন এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি বলা যায় না। আদালতে বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। এখন সামনে কী? সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, নথিপত্রের বৈধতা এবং বিপুল অঙ্কের সরকারি রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ ছিল—দুদকের মামলায় সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে থাকা একজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি জমি ও অর্থসংক্রান্ত এমন অভিযোগ ওঠায় তাঁর দায়িত্ব পালন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং জমির দখল ও ভাড়া ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্তের আওতায় আসতে পারে। দুদকের মামলা এখন সেই অভিযোগগুলোর বিচারিক যাচাইয়ের পথ খুলে দিয়েছে। সামনে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমে সরকারি জমিটি কীভাবে দখলে গেল, কারা নথি তৈরি বা ব্যবহার করেছেন এবং কীভাবে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৮ টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তৈরি হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0

পাথরঘাটায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

১৭০ বছরের চা শিল্পে সংকট: উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও দাম কম, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম
এএসআইয়ের ইয়াবা কারবারের অভিযোগ: ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  রাজধানীর দক্ষিণখানে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তাদের কাছ থেকে ও তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—পল্লবী থানায় কর্মরত এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম (৪৩) এবং তার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত মো. ওয়াসিম (২৪)। দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বখতিয়ার হোসেন সোমবার (২৪ আগস্ট) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনাটি সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ উঠলে তা শুধু অপরাধ তদন্তের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।   কীভাবে শুরু হয় অভিযান? পুলিশ সূত্র বলছে, মাদক কেনাবেচার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রথম অভিযান চালানো হয় উত্তরা আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিমকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায় বলে পুলিশের দাবি। এরপর ওয়াসিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবাসহ এএসআই মো. শফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়। তবে অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি উদ্ধারের ঘটনা ঘটে পরবর্তী পর্যায়ে। একটি ফ্ল্যাট থেকে মিলল আরও ৫ হাজার ১১০ পিস পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ পল্লীর ৬৭ নম্বর নূর বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে যৌথভাবে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। পুলিশের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী— ওয়াসিমের কাছ থেকে: ৫০ পিস শফিকুল ইসলামের কাছ থেকে: ২০০ পিস বিসমিল্লাহ পল্লীর ফ্ল্যাট থেকে: ৫ হাজার ১১০ পিস মোট উদ্ধার: ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজন দক্ষিণখান থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করছে যে, তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সম্ভাব্য আরও ব্যক্তি বা উৎসের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছেন। তবে ওই অজ্ঞাত আসামিদের পরিচয়, ইয়াবার মূল উৎস কিংবা সরবরাহ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ‘বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা এনে বিক্রি’ তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিনুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় খুচরা বিক্রি করতেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই এবং ইয়াবার সরবরাহ চক্রের উৎস শনাক্ত করা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে আসতে পারে— ইয়াবাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হতো? কারা এই সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত? বিসমিল্লাহ পল্লীর ফ্ল্যাটটি কার নামে বা কার নিয়ন্ত্রণে ছিল? গ্রেপ্তার এএসআইয়ের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ মাদকচক্রের যোগাযোগ ছিল কি না? উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের সঙ্গে পূর্বের কোনো মামলার যোগসূত্র রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী তদন্ত ও প্রমাণের ওপর। কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ সোমবার গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার দুইজন ছাড়াও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পল্লবী থানার বক্তব্য কী? এএসআই মো. শফিকুল ইসলামের কর্মস্থল পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানিয়েছেন, শফিকুল ইসলাম সেখানে অনিয়মিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তার গ্রেপ্তারের খবর থানা কর্তৃপক্ষ পেয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের সামনে এখন বড় প্রশ্ন মাদক উদ্ধারের ঘটনায় একজন কর্মরত পুলিশ সদস্যের গ্রেপ্তার স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে—উদ্ধার হওয়া ইয়াবার প্রকৃত উৎস, সংরক্ষণের জায়গা, পরিবহন ও বিতরণ পদ্ধতি এবং এই অভিযোগের সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, এএসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ব্যক্তিগত পর্যায়ের নাকি এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার বিষয়। পুলিশ বলছে, মামলা তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0

চাঁদার অভিযোগ, ব্যানার পোড়ানো ও হামলার দাবি: বানারীপাড়ায় সাময়িক স্থগিত ফুটবল টুর্নামেন্ট

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদার

নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

আ’লীগ সমর্থক থেকে জামায়াত : নওমালা স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্ক

শেবাচিম কেন্দ্রীয় মসজিদ
বরিশালে সরকারি পদ আছে, নিয়োগ নেই, বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় ইমাম-মুয়াজ্জিন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের জন্য পৃথক সরকারি পদ ও বরাদ্দ থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে কার্যত শূন্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদের দায়িত্ব পালনকারীরা সীমিত পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলছেন, সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে—পদ শূন্য থাকার এত বছর পরও কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারীদের জীবনযাত্রা ও প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার দায়ই বা কার? প্রতিষ্ঠার চার দশক পরও নিয়োগ সংকট মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় মুসলমানদের নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় এই চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী এবং তাদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন। এত বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথকভাবে পদ বরাদ্দ থাকার কথা জানালেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য পৃথকভাবে একজন করে ইমাম ও একজন করে মুয়াজ্জিনের পদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তা শূন্য থাকছে। ২০১৯ ও ২০২৩: দুই সময়সীমা, এক প্রশ্ন মুসল্লিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন শেষ করা সম্ভব হয়নি—সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ ও তাদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নিয়মিত মুসল্লি। পদাধিকারবলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়ায় নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে অভিযোগের জবাবে অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, “ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে।” সাড়ে ৬ হাজার টাকায় সংসার সরকারি নিয়োগ ও নিয়মিত বেতন-ভাতার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খেদমত করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সীমিত পারিশ্রমিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ফায়জুল বাশারের সময়ে কলেজ অফিস থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি মসজিদে মুসল্লিদের দেওয়া দানের অর্থ থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হতো বলে তারা দাবি করেন। বর্তমানে কলেজের পক্ষ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও মসজিদের দানের অর্থ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু। তিনি বলেন, “কলেজের ফান্ডে সমস্যা থাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। আর মুসল্লিদের দানের টাকা আমরা নিয়ে যাই—এমন তথ্য সঠিক নয়।” দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়? মুসল্লিদের একটি অংশের অভিযোগ, মসজিদের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, মসজিদে নিয়মিত দান সংগ্রহ হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মুসল্লিদের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও মসজিদ কমিটির সভাপতি দানের অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে নিয়মিত মুসল্লিদের দাবি, ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক এড়াতে মসজিদের দানের অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা উচিত। নিয়োগের অপেক্ষায় আর কতদিন? দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন মূল প্রশ্ন হলো—নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না। মুসল্লিরা বলছেন, বছরের পর বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা সমাধান হতে পারে না। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা ব্যক্তিদের প্রাপ্য ও ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা। প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় মসজিদে পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কেন ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ হয়নি? সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে? মসজিদের দানের অর্থ কীভাবে পরিচালিত ও ব্যয় হচ্ছে? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? মসজিদ কমিটির সভাপতি অবশ্য জানিয়েছেন, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন মুসল্লিদের অপেক্ষা—সেই প্রক্রিয়ার বাস্তব সমাপ্তি কবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0

দুই পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, পটুয়াখালীতে দুই ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল প্যাড জাল করে বদলির চেষ্টা? এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি

বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0