ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চলমান প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যে এবার ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগে ২২ শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকালে পটুয়াখালীর দুমকি আমলি আদালতের বিচারক আবু বকর মামলাটি সিআর মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের দায়িত্ব পটুয়াখালী পিবিআইকে দিয়েছেন। এর আগে বুধবার বিকালে দুমকি উপজেলার পীরতলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন বাদী হয়ে পটুয়াখালীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় যেসব অভিযোগ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ মে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ভ্যানচালক আইয়ুব আলীকে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সময় ভ্যানে থাকা প্রায় এক লাখ টাকার মালামালও নষ্ট করা হয়। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপট গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ড. কাজী মো. রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের পক্ষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, চলমান আন্দোলনের সময় সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের দায়ের করা মামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই নতুন এই মামলা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “যারা উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে আন্দোলন করছেন, মূলত তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এটি একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা।” প্রশাসনের নীরবতা তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রশাসনিক বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তদন্তে কী খতিয়ে দেখবে পিবিআই আদালতের নির্দেশে এখন মামলাটির তদন্ত করবে পিবিআই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, হামলার ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মামলা নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি এবং বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন-এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহনসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদও অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বরগুনা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাইফুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানিয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য রিমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ও পরিবারের নামে থাকা সম্পদ গোপনে হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে আদালতের কাছে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোকের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তদন্তের স্বার্থে রিমনের সম্পদ সাময়িকভাবে জব্দের আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আবেদনে উল্লেখ থাকা পরিবারের সদস্যদের নামীয় সম্পদও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ক্রোক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, তফসিলভুক্ত অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, যানবাহন এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ দ্রুত অবরুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আয়কর কর্তৃপক্ষকে রিমনের আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে আদালত সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত শেষে সম্পদের বৈধতা প্রমাণিত না হলে আদালত সেগুলো বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। তবে বৈধ প্রমাণিত হলে সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে গবেষণা করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৩ মে) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এ নির্দেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। এর আগে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের কারণে মানুষ, পশু-পাখি ও গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রুল নিষ্পত্তি করে আদালত একটি রায় দেন। সেই রায়ে ক্ষতিকর বিকিরণের মাত্রা কতটা কমানো সম্ভব, তা নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালতপাড়া ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় মোবাইল টাওয়ার স্থাপন নিরুৎসাহিত করার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছিল।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :চিফ হুইপকে নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের’ অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় কনটেন্ট নির্মাতা এ এম হাসান নাসিমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন জানিয়েছেন। এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার একটি বাসা থেকে নাসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. রায়হানুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রোববার জামিন শুনানির দিন রেখেছেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে নিয়ে ফেইসবুকে একটি পোস্ট করা হয়। সেই ফেইসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক তথ্য’ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। চিফ হুইপের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বিভিন্ন স্ক্রিনশট পাঠিয়ে ‘ব্ল্যাকমেইলও’ করা হয়। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুলশান থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে কাছ থেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেগঘন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা, পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে তিনি জানান, তার ছেলেকে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা ঘিরে ফেলে এবং পরে গুলি করে হত্যা করে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কারফিউ শিথিল থাকার সময় ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুরে তাইম তার বন্ধুদের নিয়ে কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য তাদের ধাওয়া করে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে মারধর করে বের করে আনে। তিনি আরও বলেন, “পরে আমার ছেলে দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে, এসআই সাজ্জাদও গুলি চালায়। আমার ছেলে ‘মা মা’ বলে মাটিতে পড়ে যায়। তার বন্ধু রাহাত তাকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে একাধিক গুলি করে।” সন্তানের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ময়নাল হোসেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে সেদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গুলির চিহ্ন ছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটা মানুষ মারতে কয়টা গুলি লাগে?” পরবর্তীতে ছেলের মরদেহ গোসল করানোর সময় কোমরের পাশে বড় গুলির চিহ্ন দেখতে পান, যা পিস্তলের গুলির দাগ বলে ধারণা করেন তিনি। এ ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদনে গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, শাহবাগ থানার এসআই শাহদাত গুলির চিহ্ন উল্লেখ না করে ‘কালো দাগ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি ‘উপরের নির্দেশ’ বলে জানান। উল্লেখ্য, এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছে, যার মধ্যে ৯ জন পলাতক। বাকি দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতে হাজির করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি কারামুক্ত হন। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালীন নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিনের কাগজপত্র বিকেলে কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে তার আইনজীবী এবং এক কাজিন ছিলেন। জানা গেছে, জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর লালবাগ থানার আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে একজনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আদালত থেকে তার জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ এপ্রিল ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে করা দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন থেকে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসার থেকে শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বগুড়া: বগুড়ায় বিএনপি নেতার দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় শাহজাহানপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে আদালতে হাজিরা দিতে এলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন ওসি আলমগীর হোসেন জেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক ও শাহজাহানপুর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলুল হক উজ্জ্বলের গাড়ি ধাওয়া করে আটক করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আটক করার পর মাদকের ভয়ভীতি দেখিয়ে উজ্জ্বলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে উজ্জ্বল তার স্ত্রী ও এক সহকর্মীর মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওসি আলমগীর হোসেনকে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাকে একটি অজ্ঞাত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। ঘটনার প্রায় এক দশক পর, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফজলুল হক উজ্জ্বল আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য শাহজাহানপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুরকে দায়িত্ব দেন। তদন্ত শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সোমবার মামলার শুনানির জন্য আদালতে হাজিরা দিতে আসেন সাবেক ওসি আলমগীর হোসেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বগুড়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের সমন অনুযায়ী হাজিরা দিতে এলে শুনানি শেষে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আলমগীর হোসেন দিনাজপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন। মামলার বাদী ফজলুল হক উজ্জ্বল বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন ও চাঁদাবাজি চালিয়েছেন। তিনিও এর শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।”
ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক-এর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের আবেদন এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অর্থ পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড-এর কাছ থেকে ফ্ল্যাট গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান-২ এলাকার রোড নং-৭১-এর বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (বর্তমানে ১১এ ও ১১বি), ফ্ল্যাট নং-বি/২০১ দলিলমূলে নিজের দখলে নেন তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ মামলার এজাহারে বলা হয়, ফ্ল্যাটটি গুরুতর অনিয়মের কারণে হস্তান্তরযোগ্য ছিল না। তা জানা সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে আমমোক্তার অনুমোদন এবং ফ্ল্যাট বিক্রয়ের অনুমোদন করিয়ে অবৈধ সুবিধা নেওয়া ও দেওয়ার মাধ্যমে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হন তিনি। দেশত্যাগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দুদক জানায়, মামলা দায়েরের আগেই টিউলিপ সিদ্দিক দেশত্যাগ করেন এবং মামলার প্রমাণাদি বিনষ্টের চেষ্টা করছেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার পটভূমি গত বছরের ১৫ এপ্রিল গুলশানের ফ্ল্যাট সংক্রান্ত অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ফ্ল্যাটটি দখল ও পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করেন। গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পূর্বাচল প্লট মামলা এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বরিশালে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সাবেক দুই সংসদ সদস্য। শুধু এই দুজনই নন, গত এক সপ্তাহে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্তত তিনজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও অন্তত ডজনখানেক নেতা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনুসের জামিনে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়তউল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। মামলাটিতে আরও আসামি রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। সরকার পতন ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক ছিলেন ইউনুস। হঠাৎ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করায় আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মহানগর ও জেলার দুই পাবলিক প্রসিকিউটর এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে এবং এটি ছিল আবেদনের প্রথম দিন। তবুও শুনানি শেষে আদালত তাকে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। ইউনুসের আইনজীবী কাইয়ুম খান কায়সার দাবি করেন, ২০১৮ সালের একটি তথাকথিত ঘটনার ভিত্তিতে ২০২৪ সালে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা। বিচারক সব দিক বিবেচনা করেই জামিন দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, ইউনুসের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও বাকি দুটি মামলার বিষয়ে পুলিশ আদালতকে তাৎক্ষণিক অবহিত করেনি বা গ্রেফতারের আবেদন করেনি। জেবুন্নেসা আফরোজসহ আরও তিনজনের জামিন ইউনুসের জামিনের মাত্র ছয় দিন আগে বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ আদালত থেকে জামিন পান। একইদিনে জামিন পান যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তিন থেকে সাতটি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। একের পর এক জামিন পাওয়ার পর ওইদিনই তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। পাবলিক প্রসিকিউটরদের আপত্তি বরিশালের মেট্রোপলিটন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না অভিযোগ করেন, মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে নামঞ্জুর হওয়া জামিনও নিম্ন আদালত মঞ্জুর করেছেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে জেবুন্নেসা আফরোজ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ভাতিজা মঈন আব্দুল্লাহর জামিনের প্রসঙ্গ তোলেন। তার মতে, উচ্চ আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করলে বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. হাফিজ আহম্মেদ বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলার বেশিরভাগ আসামিই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের সহজে জামিন পাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবুল কালাম শাহিন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরও সবক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ শ্রেণি সুযোগ নিয়ে জামিন অযোগ্য ধারার আসামিদের জামিন পাইয়ে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জামিনের ধারাবাহিকতা বরিশালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জামিন দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে বিএনপি ও সরকারপক্ষের আইন কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলছেন বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর এক কর্মীকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম-সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন। অভিযুক্তরা কারা মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও অভিযুক্ত করা হয়েছে— বরিশাল মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ এসআই আব্দুল মালেক এএসআই সহিদুল ইসলাম এএসআই রাসেল মিয়া এএসআই এরফান হোসেন মিদুল এএসআই রফিকুল ইসলাম এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস এএসআই মেহেদি হাসান মোল্লা কনস্টেবল ফয়জুল মামলার বাদী মো. মশিউল আলম খান পলাশ, বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগের বিবরণ বাদী পলাশের অভিযোগ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সারাদেশে বিএনপি প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারেননি। বরিশাল-৫ আসনেও একই পরিস্থিতি ছিল। বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারণায় যেতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন এলাকায় লিফলেট বিতরণের উদ্দেশ্যে প্রার্থীর সঙ্গে রওনা হলে তিন দিক থেকে স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়। বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছালে নদীর মাঝখান থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। পলাশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাকে হত্যা করা হয়নি। পরে বন্দর থানায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুই-তিনটি ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করা হয়। মামলার প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশ বাদী জানান, গত ৫ আগস্ট তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে বন্দর থানার ওসিকে মামলা রুজুর নির্দেশ দেওয়া হলেও তদন্তে ঘটনাস্থল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। নদীর অবস্থান ফিতা দিয়ে পরিমাপ করে ঘটনাস্থল কোতয়ালী মডেল থানার আওতায় দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাদী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ‘নারাজি’ দেন। এরপর কয়েক মাস প্রক্রিয়া চলার পর রোববার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোতয়ালী মডেল থানায় এফআইআর হিসেবে মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে এখনো অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজুর পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।