Brand logo light

ব্রেকিং

আর্জেন্টিনার জয়
কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চমক জাগানো কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো নাটকীয় এই লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল, যেখানে পরবর্তী রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় আর্জেন্টিনা। ২৯তম মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং পাস ধরে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোলের দেখা পান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা আরও সমৃদ্ধ করেন। পাশাপাশি টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক গোল করার রেকর্ডও আরও দীর্ঘ হয়। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়ার্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে কেপ ভার্দে। ৫৯তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের জোরালো শটে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। এরপর নির্ধারিত সময়জুড়ে একাধিক সুযোগ পেলেও আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে আসা বলে কেপ ভার্দের বক্সে সুযোগ পেয়ে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে হাল ছাড়েনি কেপ ভার্দে। প্রথম অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে সিডনি লোপেস কাব্রালের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে আবারও ২-২ সমতা ফেরে ম্যাচে। টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ১১১তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি এনে দেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। বক্সের ভেতরের জটলার মধ্যে থেকে নেওয়া তার নিখুঁত শট জালে জড়ালে ৩-২ ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় কেপ ভার্দে। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আলবিসেলেস্তেরা। দারুণ লড়াই উপহার দিয়েও বিদায় নিতে হয়েছে কেপ ভার্দেকে। অন্যদিকে কঠিন পরীক্ষা উতরে এখন শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেবে লিওনেল স্কালোনির দল।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৪, ২০২৬ 0
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রাখলেন মা
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: নিজের জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন এক মা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে একের পর এক হৃদয়বিদারক গল্প। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো—নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্দ্রেয়া নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। স্বজন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন আন্দ্রেয়া। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে একই ভবনে থাকা তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়, যা অনেকেই অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।   'একদিন আমি আমাদের মেয়েকে সব বলব' স্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, "একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।" হেক্টর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজধানী কারাকাসে ছুটে যান। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।" ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।"   মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত ক্রীড়া সংগঠন ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন আরও দুই ফুটবলার এই দুর্যোগে শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রীড়াঙ্গনও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই তরুণ ফুটবলার নিহত হয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন নিশ্চিত করেছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, "তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"   সাবেক মিস ভেনেজুয়েলার পরিবারেও শোক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচিত ব্যক্তিদের পরিবারেও। সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় তার মায়ের বসবাস করা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ধাক্কায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তিনি জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন নার্স জীবিত উদ্ধার হন এবং তিনিই পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন।   উদ্ধার অভিযান অব্যাহত বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ট্রেনের বগি
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও থামেনি প্রকল্প, বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের নতুন ২০ রেল কোচ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে নতুন যাত্রীবাহী রেল বগি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৯১৫ কোটি রুপির চুক্তির আওতায় নির্মিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির মধ্যে প্রথম ২০টি ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসেই প্রথম চালান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় (Rail Coach Factory) নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় এই রপ্তানি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছু সময়ের জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের কাছে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অবকাঠামোগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প ২০০টি ব্রডগেজ বগি সরবরাহের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি শুধু রেল বগি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং বগিগুলো পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতাও দেবে। দীর্ঘমেয়াদি রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। এর আগে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ২০০ কোচের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চালান? হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও রেল বগির এই চালান দেখাচ্ছে যে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রকল্পগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে আগামী মাসে প্রথম ২০টি বগির আগমন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দুই দেশের চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
এনবিআর ..
এনবিআর পুনর্গঠন: কর প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সংকট কাটাতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে ভেঙে নতুন কাঠামোয় সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এই সংস্কারের আওতায় করনীতি প্রণয়ন এবং রাজস্ব প্রশাসনের দায়িত্ব পৃথক দুটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার বলছে, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এনবিআরের বিদ্যমান কাঠামোতে এমন কী সমস্যা রয়েছে, যার কারণে এই বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রয়োজন দেখা দিল? রোববার (২১ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন। কেন ভাঙা হচ্ছে এনবিআর? বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর একইসঙ্গে করনীতি প্রণয়ন এবং সেই নীতির বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকারিতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অর্থমন্ত্রীও সেই সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, "এনবিআর এমন একটি সমস্যা, যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য একটি আলাদা বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আরেকটি আলাদা বডি থাকবে।" সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি স্বাধীন রাজস্ব নীতি বিভাগ করনীতি প্রণয়ন করবে। অন্যদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ সেই নীতির বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য? কর প্রশাসন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পৃথক করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বাড়ে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নত হয়। সরকারও মনে করছে, নতুন কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের কর প্রশাসন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে। নীতিনির্ধারণে আমলাতন্ত্রের বাইরে কারা আসবেন? প্রস্তাবিত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো করনীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র আমলাদের ওপর নির্ভর না করা। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কর বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হবে। তার ভাষায়, "নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।" কর ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা কোথায়? অর্থমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের কর প্রশাসনের বড় সংকটগুলোর একটি হলো দুর্বল নীতি প্রণয়ন। সঠিক সময়ে বাস্তবসম্মত এবং কার্যকর নীতি গ্রহণ করা না গেলে প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, "শুরুতেই যদি নীতি নির্ধারণের জায়গাটি ঠিক করা যায়, তাহলে সমস্যার অন্তত ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।" এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সরকার প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি করনীতির দর্শন ও প্রণয়ন প্রক্রিয়াকেও পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। কী পরিবর্তন আসতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যেতে পারে— করনীতি প্রণয়নে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে। নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত কমবে। রাজস্ব প্রশাসনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে। করদাতাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। রাজস্ব আহরণে দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘদিনের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।   এনবিআর পুনর্গঠনের এই ঘোষণা দেশের রাজস্ব খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আইনগত, প্রশাসনিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার কর প্রশাসনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ব্যবস্থাকে নতুন রূপ দিতে চাইছে। সেই সংস্কার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন কাঠামোর স্বাধীনতা, দক্ষতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
বেনজীর আহমেদ।
বেনজীর আহমেদ: ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে আবুধাবিতে গ্রেফতার—দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পূর্ণ অনুসন্ধান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা একসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তিই এখন দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর প্রকাশের পর নতুন করে সামনে এসেছে প্রশ্ন—কীভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী কর্মকর্তা এমন অবস্থায় পৌঁছালেন, এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা কতটা সম্ভব? অভিযোগ থেকে অনুসন্ধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিপুল সম্পদ, পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ সঞ্চয় এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছিল। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ কখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখ দেখেনি। পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল। সেদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সম্পদ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করে। এরপর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাতে থাকে। দেশত্যাগের সেই রাত দুদকের অনুসন্ধান শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন বেনজীর আহমেদ। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি দ্রুত ইমিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। এরপর প্রায় দুই বছর তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দুবাইয়ে গ্রেফতার: নতুন অধ্যায়ের সূচনা দুদকের মামলার ভিত্তিতে আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের সহায়তায় আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। অবশেষে ১২ জুন দুবাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক সূত্র এবং দুদক কর্মকর্তারাও গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে গ্রেফতার হওয়া মানেই দ্রুত দেশে ফেরত আসা নয়। এখন শুরু হতে পারে দীর্ঘ আইনি, কূটনৈতিক ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া। সম্পদের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী— বেনজীর আহমেদ ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। বড় মেয়ে ফারিহা রিশতা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, তার নামে গুলশানে চারটি ফ্ল্যাট, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব, ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, তিনটি বিও হিসাব এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অর্থপাচারের সন্দেহ তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদ প্রায় ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করলেও সেই অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। কতগুলো মামলার মুখোমুখি? বর্তমানে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— অবৈধ সম্পদ অর্জন সম্পদের তথ্য গোপন অর্থপাচার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া কয়েকটি মামলাতেও তাকে আসামি করা হয়েছে। শাপলা চত্বর থেকে টিএফআই সেল ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেনজীর আহমেদ অভিযুক্ত। সেই সময়ে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এছাড়া র‌্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও গোপন আটকের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বিতর্কিত পাসপোর্ট ইস্যু বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরেকটি আলোচিত অভিযোগ সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট নবায়নের আবেদনে আপত্তি জানিয়েছিল পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পরে র‌্যাব সদর দপ্তরের বিশেষ অনুরোধে দ্রুত তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। এমনকি তার বাসভবনে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। জমি, রিসোর্ট এবং স্থানীয়দের অভিযোগ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবের কারণে অনেক ভূমির মালিক—বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা—জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৈরাগীটোল এলাকায় ৬০০ বিঘার বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠা সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কও তদন্তের আওতায় আসে। আদালতের নির্দেশে রিসোর্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা জব্দ করে জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তার পরিবারের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল স্থাপনা নিয়েও তদন্ত চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাব এবং এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় ছিলেন বেনজীর আহমেদও। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। দেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সহজ? সাধারণভাবে অনেকেই মনে করেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হলেই কোনো আসামিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। ইন্টারপোলের নিজস্ব কোনো গ্রেফতারকারী বাহিনী নেই। তারা মূলত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় করে। কোনো ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন হয়— সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের অনুমোদন স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্ত কূটনৈতিক সমন্বয় বাংলাদেশ অতীতে কয়েকজন আলোচিত আসামিকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। তবে পি কে হালদার কিংবা আরাভ খানের মতো মামলাগুলো দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে। একটি ক্ষমতার পতন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক সত্যতা এখনও আদালতেই নির্ধারিত হবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যে স্পষ্ট—একসময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজন কর্মকর্তা আজ আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। দুবাইয়ে তার গ্রেফতার শুধু একটি ব্যক্তিগত বা আইনি ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রতিষ্ঠানগত দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক গ্রেফতার নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি শুধু পারিবারিক ট্র্যাজেডি, নাকি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি
বৃদ্ধা নূরজাহানের গলিত লাশ: অবহেলা, আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশজুড়ে আলোড়ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ। দরজার ওপাশে পড়ে আছেন ৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগে। কিন্তু কেউ জানে না। কেউ খোঁজও নেয়নি। পুলিশ যখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছায়, তখন মরদেহে পচন ধরেছে। লাশে জন্ম নিয়েছে পোকা। ঘরজুড়ে দুর্গন্ধ। চারপাশে আবর্জনা। এমন এক দৃশ্য, যা শুধু একটি মৃত্যুর নয়—বরং সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি স্বাভাবিক? নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি?   মৃত্যুর আগে কতদিন ছিলেন নিঃসঙ্গ? পল্লবী থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন রাতে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—একই ফ্ল্যাটে তার মেয়ে বসবাস করলেও তিনি ছিলেন আলাদা একটি কক্ষে। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে একজন নার্সকে ডেকে আনা হয়। সেই নার্সই প্রথম বুঝতে পারেন, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর পর বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নার্সের সন্দেহ হওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন করা হয় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।   প্রতিষ্ঠিত সন্তান, কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্ববোধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের সামাজিক অবস্থান যতই উঁচু হোক, মায়ের শেষ জীবন নিয়ে এখন ততটাই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তারা। রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে কার্যত অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   হাইকোর্টে রিট: অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত দাবি ঘটনার পর জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। রিটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে— নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা; অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত; প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন; ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কেয়ারগিভার নিয়োগের নীতিমালা। আগামী সোমবার হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।   সরকারি প্রতিক্রিয়া: যুগ্ম সচিবকে ওএসডি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতিক্রিয়াও নজর কাড়ছে। নূরজাহান বেগমের ছেলে এবং সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ইতোমধ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি) চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।   আইন কী বলে? বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় সেই আইন কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার ওপর।   শুধু একটি পরিবার নয়, বৃহত্তর সামাজিক সংকট? নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নটি হলো—শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা কি মানুষের নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে পারে? কারণ এখানে অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা সমাজের উচ্চপদে অবস্থান করেন। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, একক পরিবার ব্যবস্থা, বিদেশমুখী জীবনযাত্রা এবং পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তনের ফলে প্রবীণদের একাকিত্ব বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক যত্নের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে।   তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। তবে কয়েকটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে সামনে এসেছে— মৃত্যু ঠিক কবে হয়েছিল? একই বাসায় থেকেও কেন দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত হয়নি? বৃদ্ধার চিকিৎসা ও পরিচর্যার বাস্তব অবস্থা কী ছিল? তিনি কি দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার ছিলেন? পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এখানে কতটা প্রযোজ্য? রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণ সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রয়োজন কি না? ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য আদালতীয় শুনানির মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে পল্লবীর সেই ফ্ল্যাট থেকে উঠে আসা দুর্গন্ধ যেন বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে—যেখানে একজন মা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়টিতে কতটা একা হয়ে যেতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো দেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
বিএনপি
এক দশক পর বিএনপির কাউন্সিল: নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নাকি নতুন সমীকরণ? : মহাসচিব পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর কেটে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-মোকদ্দমা এবং সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে এ সময়ে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন পদে রদবদল, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয় করা হয়েছে। এখন দীর্ঘ বিরতির পর সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই? দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের ভেতরে প্রচলিত মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের বিকল্প নেতৃত্ব দৃশ্যমান নয়। ফলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন নেতারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে। সে কারণে শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: মহাসচিব থাকছেন কি মির্জা ফখরুল? চেয়ারম্যানের পর বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিব। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুর্দিনে আন্দোলন, রাজনৈতিক সমঝোতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রেখেছেন। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানান যে তিনি ক্লান্ত এবং কাউন্সিলের পর অবসর নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই মহাসচিব পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দলের একটি অংশ মনে করে, সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার কারণে দল এখনও তাকে ধরে রাখতে চাইতে পারে। মহাসচিব পদে আলোচনায় চার নেতা দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল সরে দাঁড়ালে অন্তত চারজন নেতা সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকতে পারেন। ১. সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্থায়ী কমিটির সদস্য। নীতি নির্ধারণ, রাজনৈতিক কৌশল এবং সাংগঠনিক পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে। ২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক নীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ৩. রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় দফতর, সাংগঠনিক সমন্বয় এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্দোলনের সময় দৃশ্যমান ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ৪. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং দলীয় আনুগত্যের কারণে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। স্থায়ী কমিটিতে আসছে নতুন মুখ? বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ কার্যত শূন্য রয়েছে। এছাড়া কিছু সদস্য অসুস্থ এবং কয়েকজন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো যাদের নাম সামনে আনছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন— রুহুল কবির রিজভী হাবিব উন নবী খান সোহেল শামসুজ্জামান দুদু সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা বিএনপির শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নতুন কমিটিতে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় ঘটানো হবে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন, আগামী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের জন্য নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? বিএনপির ইতিহাসে কাউন্সিল কেবল নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি দলীয় দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও প্রধান মঞ্চ। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দলটি মাত্র ছয়টি জাতীয় কাউন্সিল করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক কৌশলের নতুন রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম কাউন্সিল তাই শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধারাবাহিকতার সঙ্গে পরিবর্তনের বার্তা? বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রশ্নাতীত অবস্থানে থাকলেও মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি দলটির দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল বিএনপির জন্য কেবল নেতৃত্ব নির্বাচনের অনুষ্ঠান নয়; বরং আগামী দশকের রাজনৈতিক কৌশল, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং উত্তরাধিকার রাজনীতির নতুন রূপরেখা নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি ক্রোক
সাইপ্রাসে এস আলমের বিলাসবহুল বাড়ি ক্রোক, ৮০০ কোটি ইউরো পাচার তদন্তে নতুন মোড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে এবার সাইপ্রাসে বিলাসবহুল সম্পত্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের নিকোসিয়া জেলা আদালত লিমাসসোল জেলার পারেকলিসিয়ায় অবস্থিত সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে Cyprus Mail। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট মোকাসের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১৯ মে আদালত এই ক্রোক আদেশ জারি করে। তদন্তটি পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায়। ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিস্তৃত কোম্পানি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, এস আলম গ্রুপ প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, ওই অর্থের একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বা সম্পদ আকারে রয়েছে। যদিও মোহাম্মদ সাইফুল আলম সব ধরনের অনিয়ম ও অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্যাংক খাত থেকে সাম্রাজ্য বিস্তার এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। পরিবহন ও চিনি পরিশোধন খাত দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ব্যাংক, বীমা, গণমাধ্যম, বিদ্যুৎ ও হোটেল খাতে ব্যাপক বিস্তার ঘটায় প্রতিষ্ঠানটি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক খাতে প্রভাব বিস্তার, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অর্থ পাচার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসে গ্রুপটি। বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত ইতোমধ্যে সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ ও সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্ধান ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা  সরকারের পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি সাইফুল আলম বা তার পরিবারের সদস্যদের। এ সময় তার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করার খবরও সামনে আসে। সর্বশেষ গত ২১ মে ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ না করায় সাইফুল আলমসহ ১১ জনকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করে, কারণ আসামিরা পলাতক রয়েছেন। ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ ও সাইপ্রাস সংযোগ সাইপ্রাস মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সাইফুল আলম দেশটির বিতর্কিত ‘সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই কর্মসূচি স্থানীয়ভাবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে সাইপ্রাস সরকার। যদিও সাইপ্রাস সরকারের ‘নিকোলাটোস কমিটি’র তদন্ত প্রতিবেদনে তার নাম সরাসরি উল্লেখ ছিল না। তদন্তে বিদেশি কোম্পানি ও অফশোর নেটওয়ার্ক সাইপ্রাস মেইলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের তদন্তকারীরা এখন ‘একলেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সাইপ্রাসভিত্তিক কোম্পানির কার্যক্রমও খতিয়ে দেখছেন। ২০১৬ সালে সাইফুল আলম কোম্পানিটি কিনে নেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আদালতের নথিতে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস এবং জার্সিভিত্তিক একাধিক কোম্পানি ও ট্রাস্টের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো এবং আর্থিক কার্যক্রম এখন তদন্তাধীন। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও First Security Islami Bank থেকে নেওয়া বিপুল ঋণের অর্থ কোনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল কিনা। আন্তর্জাতিক আইনি লড়াইয়ে সাইফুল আলম অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান Quinn Emanuel Urquhart & Sullivan–এর মাধ্যমে সাইফুল আলম দাবি করেছেন, তার বিদেশি বিনিয়োগ বৈধ উৎসের অর্থে পরিচালিত হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ‘অন্যায়ভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে International Centre for Settlement of Investment Disputes–এ আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন। সেখানে তার দাবি, সম্পদ জব্দ ও ক্রোকের মতো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন এবং এসব ব্যবস্থা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি
জঙ্গল সলিমপুরে আবার সশস্ত্র হামলা: নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের আধিপত্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক ভিন্ন বাস্তবতার জনপদ হিসেবে। প্রশাসনের ভাষায় এটি “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা”, আর স্থানীয়দের কাছে—“দেশের ভেতর আরেক দেশ”। রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে এখানে দীর্ঘদিন বেশি কার্যকর ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রনির্ভর আধিপত্যের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এক জটিল অপরাধ অর্থনীতি। গত জানুয়ারিতে র‌্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন দাবি করা হয়েছিল, জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ “রাষ্ট্রের হাতে ফিরে এসেছে”। কিন্তু রবিবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা সেই দাবিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মধ্যরাতের হামলা: দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি রাত প্রায় ১টা। সীতাকুণ্ডের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিল র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা। হঠাৎ পাশের পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি টিনের ঘর থেকে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, টিনের দেয়াল ও চালে আগে থেকেই ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে ফায়ারিং পজিশন তৈরি করা হয়েছিল। আকস্মিক এই হামলার পর পাল্টা অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলিতে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। একই সময় সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশেই নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর নতুন ক্যাম্পে হামলা চালায়। সেখানে থাকা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। হামলার পুনরাবৃত্তি কেন? জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে র‌্যাবের একটি দল। ওই ঘটনায় নিহত হন র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। আহত হন আরও তিন সদস্য। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আহত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবারই প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ অর্থনীতি’ জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান বাস্তবতা মূলত পাহাড় দখল ও জমি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে প্রায় ৫৮৬ একর সরকারি জমিতে প্রায় ১৪ হাজার প্লট তৈরি করেছে। অন্যদিকে ‘আলীনগর সমবায় সমিতি’ আরও তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ একর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি প্লট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লট ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাজুড়ে চালু রয়েছে কথিত “টোকেন সিস্টেম”। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহের মাধ্যমে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সেই জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভূমি অফিসের জরিপে অন্তত ৩৭টি পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কীভাবে গড়ে উঠল ‘অন্য এক শাসনব্যবস্থা’? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরেই জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ভূমিদস্যু আলী আক্কাসের হাত ধরে শুরু হয় পাহাড় দখল ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণের বিস্তার। ২০১০ সালে র‌্যাবের অভিযানে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। বর্তমানে রোকন মেম্বার, মশিউর, ইয়াছিন, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন ও আল আমিন সাগরসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়াছিন: শ্রমিক থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রবিবারের হামলার পেছনে ছিল ইয়াছিন গ্রুপ। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ ইয়াছিন। শুরুতে একটি জুট মিলে চাকরি করলেও পরে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ভয় আছে—এমন অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সশস্ত্র নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে সেটিই রূপ নেয় একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীতে।  নিয়ন্ত্রণ” কতটা বাস্তব? র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, “যেই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। কারণ এখানে অপরাধ শুধু অস্ত্রের নয়—ভূমি, অবৈধ বসতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দখল অর্থনীতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে—জঙ্গল সলিমপুরে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। রাষ্ট্র সেখানে উপস্থিত হলেও, নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখনও চলছে ছায়ার আড়ালে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাহাড়, জমি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থনীতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: নারায়ণগঞ্জে লাল গালিচায় সংবর্ধনা
ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর রাজকীয় বিদায়: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনায়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-কে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্ম। সোমবার সন্ধ্যায় নতুন মালিকের কাছে পশুটি হস্তান্তরের সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা, বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধোঁয়ার ইফেক্টে সাজানো আয়োজনে তৈরি হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় অবস্থিত খামারটিতে দুপুর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন উৎসুক মানুষ। কেউ ভিডিও ধারণ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার অনেকে শুধুই একনজর দেখতে আসেন ভাইরাল এই মহিষটিকে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদায়ের আগে মহিষটিকে গোসল করিয়ে বিশেষভাবে সাজানো হয়। পরে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে লাল গালিচা ধরে গাড়িতে তোলা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল অনেকটা কোনো সেলিব্রিটিকে বিদায় জানানোর মতো। কীভাবে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নাম? খামার সূত্র বলছে, বিরল এলভিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চোখ ও লোমের গঠন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হওয়ায় এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নামটি দেন খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথমে মহিষটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেটি ভাইরাল হলে দেশের বাইরে থেকেও আগ্রহ তৈরি হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দর্শনার্থীর চাপ আরও বেড়ে যায়। কোরবানির পশু থেকে ‘সামাজিক ব্র্যান্ড’ প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটি রাজধানীর জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির আগেই কিনে নেন। খামার সূত্র অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে পশুটি বিক্রি করা হয়। তবে বিক্রির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার কারণে মহিষটি শুধু কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং এক ধরনের সামাজিক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। ঈদকেন্দ্রিক বাজার সংস্কৃতি, অনলাইন ভাইরাল প্রবণতা এবং ব্যতিক্রমী বিপণন কৌশল—সবকিছুর মিশেলে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হয়ে ওঠে আলোচিত এক নাম। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। বড় আকৃতির গরু, বিরল জাতের পশু কিংবা অদ্ভুত নাম ব্যবহার করে অনেক খামার এখন অনলাইন জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ সেই প্রবণতারই আলোচিত উদাহরণ। আবেগঘন বিদায় রাবেয়া এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, বহুদিন ধরে মহিষটিকে লালন-পালন করেছেন তারা। তাই বিদায়ের সময় আবেগ কাজ করেছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা ত্যাগের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। নতুন মালিক সামির বলেন, তিনি সাধারণভাবেই পশুটি কিনেছিলেন। পরে এটি ভাইরাল হয়ে গেলে এলাকায়ও মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে জিনজিরাতেও অনেকে মহিষটিকে দেখতে আসছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
আটক কেন্দ্র
পশ্চিমবঙ্গে প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক আতঙ্ক, প্রশ্ন মানবাধিকার নিয়ে

পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’: অনুপ্রবেশ ঠেকানো নাকি নতুন আতঙ্কের অবকাঠামো? ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী’দের আটকে রাখার জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটক কেন্দ্র তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রশ্নে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাজ্য পুলিশের কাছে পাঠানো এক সরকারি নোটে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গত বছরের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রত্যেক জেলায় এমন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ‘অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের’ রাখা হবে। শুধু কথিত অনুপ্রবেশকারীই নয়, জেল থেকে সাজা শেষ করে মুক্তি পাওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদেরও এসব কেন্দ্রে রাখা হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত এক বছরে এ ধরনের হোল্ডিং সেন্টার গড়ে উঠলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। ‘হোল্ডিং সেন্টার’: নাম বদল, বাস্তবতা একই? গত বছর থেকে ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, হরিয়ানা ও ওড়িশাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। ওইসব অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিলেন। পরিচয় যাচাইয়ের নামে অনেককে ছয়-সাত দিন কিংবা তারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। পরে দেখা যায়, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে যাওয়া বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকরা। আটক ব্যক্তিদের একাংশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নামে পরিচিত এসব স্থান বাস্তবে ছিল অস্থায়ী আটক শিবির। কোনো অনুষ্ঠানবাড়ি, বড় অফিস ভবন বা খালি প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হতো এসব কেন্দ্র হিসেবে। বাইরে থাকত পুলিশি পাহারা, ভেতরে সীমিত চলাফেরা। অনেকের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না, খাবারও ছিল অপ্রতুল। কেউ কেউ গোপনে ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছে নিজেদের অবস্থার কথা জানান। ভাষা ও ধর্ম কি হয়ে উঠছে সন্দেহের কারণ? আটক হওয়া বহু মানুষের দাবি, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং মুসলমান পরিচয়ের কারণেই তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছিল। পরিযায়ী শ্রমিক মঞ্চের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, “বাংলাভাষী মুসলমান শ্রমিকদের লক্ষ্য করেই বহু জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরবর্তীতে দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেকেই প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে তারা হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।” মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও যদি একই ধরনের অভিযান শুরু হয়, তাহলে বৃহৎ সংখ্যক দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ নতুন করে হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। ‘পুশব্যাক’: পরিচয় যাচাইয়ের আগেই সীমান্ত পার? গত এক বছরে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হওয়ার আগেই অনেককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি পশ্চিমবঙ্গের সোনালী খাতুন ও তার পরিবারের। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে পরিবারসহ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে শুধু সোনালী খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ এবং পূর্ব বর্ধমানের মুস্তাফা কামাল শেখের ঘটনাও একই ধরনের। দুজনকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পর পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, যখন প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় কী বলা আছে? ভারতের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে প্রবেশ বা বসবাসের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে বিচার করার বিধান রয়েছে। সাজা শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করে প্রত্যর্পণ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় আলাদা প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়— প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করতে হবে প্রতিটি জেলায় পুলিশের তত্ত্বাবধানে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি যে রাজ্যের বাসিন্দা দাবি করবেন, সেই রাজ্যের পুলিশকে ৩০ দিনের মধ্যে পরিচয় যাচাই করতে হবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না এলে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRRO) প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন অধিকারকর্মীদের মতে, এই ব্যবস্থায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। প্রশ্নের মুখে পরিসংখ্যান সমালোচকদের বড় প্রশ্ন—পশ্চিমবঙ্গে কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা কত? অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসু বলেন, “কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা পশ্চিমবঙ্গে আছেন, সেই তথ্য সরকার আগে প্রকাশ করুক। তথ্য ছাড়া এমন অবকাঠামো তৈরির যৌক্তিকতা কোথায়?” তিনি জানান, তথ্য অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— ২০০০ সাল থেকে কতজন কথিত অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন তাদের ধর্মীয় পরিচয় কী কতজন বর্তমানে জেল বা ডিটেনশন সেন্টারে আছেন কতজনকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে তবে এখনও তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। নিরাপত্তা নাকি রাজনৈতিক বার্তা? বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই ইস্যুকে ঘিরে বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি ও সন্দেহের সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— এই হোল্ডিং সেন্টার কি সত্যিই সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন, নাকি তা ধীরে ধীরে নাগরিক পরিচয় যাচাইয়ের নামে নতুন এক আতঙ্কের অবকাঠামো হয়ে উঠছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0
নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে এই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবি-এএফপি
কোরবানির পশুর নামে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু: ভাইরাল সংস্কৃতি, রাজনীতি ও প্রতীকী প্রতিবাদের নতুন ভাষা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ঠিক পাঁচ বছর আগে, ২০২১ সালের মে মাসে, ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। সেই সংঘাতের আবহে বাংলাদেশের গাজীপুরের একটি খামারে কোরবানির পশুর নাম রাখা হয়েছিল “হামাস”। ঘটনাটি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পাঁচ বছর পর, ২০২৬ সালে এসে একই প্রবণতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের এক খামারে একটি ধবল মহিষের নাম রাখা হয়েছে “ডোনাল্ড ট্রাম্প”। আরেকটির নাম “নেতানিয়াহু”। অন্য একটি খামারে দেখা গেছে “মোদি মহিষ”। একই সময়ে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যশোরে একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমার–এর নামে। প্রথম দৃষ্টিতে বিষয়টি নিছক বিনোদন বা কৌতুক বলে মনে হলেও সমাজবিজ্ঞানী ও গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, এই নামকরণের পেছনে কাজ করছে সমসাময়িক রাজনীতি, ডিজিটাল মনোযোগের অর্থনীতি, ভাইরাল সংস্কৃতি এবং প্রতীকী প্রতিবাদের জটিল মনস্তত্ত্ব। মনোযোগের বাজারে কোরবানির পশু ডিজিটাল যুগে কোরবানির পশুর হাট এখন শুধু পশু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি ক্রমশ “অ্যাটেনশন ইকোনমি” বা মনোযোগের অর্থনীতির অংশে পরিণত হয়েছে। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো— আধুনিক বিশ্বে তথ্যের অভাব নেই, বরং সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ হলো মানুষের মনোযোগ। ফলে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, অর্থনৈতিক সুবিধাও শেষ পর্যন্ত তার দিকেই প্রবাহিত হয়। নারায়ণগঞ্জের যে ধবল মহিষটির নাম রাখা হয়েছিল “ডোনাল্ড ট্রাম্প”, সেটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি আলোচিত হয়। খামার কর্তৃপক্ষের দাবি, মহিষটির মাথার সোনালি চুলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চুলের মিল থাকায় এই নামকরণ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর মহিষটির বাজারমূল্যও আলোচনায় আসে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি লাইভ ওয়েটে বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ টাকায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ঈদুল আজহায় দেশে ৯০ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। ফলে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষঙ্গ নয়; বিশাল একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক বাজারও। সেই বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে এখন খামারিরা বেছে নিচ্ছেন ব্যতিক্রমী নাম, অদ্ভুত উপস্থাপনা এবং ভাইরাল কৌশল। ভাইরাল সংস্কৃতির নতুন বিপণন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার, ইউটিউব ব্লগার এবং ফেসবুকভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতারাই পশুর হাটের অনানুষ্ঠানিক প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন। কোনো পশুর অস্বাভাবিক আকার, রঙ বা নাম দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যালগরিদমও কৌতূহলোদ্দীপক ও বিতর্কিত কনটেন্টকে দ্রুত মানুষের ফিডে পৌঁছে দেয়। ফলে “ট্রাম্প”, “নেতানিয়াহু” বা “মোদি” নামের পশু বাস্তবে যতটা না বাজারে আলোচনার বিষয়, তার চেয়ে বেশি ডিজিটাল দর্শকসংখ্যা ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এটি মূলত “ভাইরাল মার্কেটিং”–এর একটি রূপ, যেখানে মানুষের আবেগ, রাজনৈতিক অনুভূতি, হাস্যরস ও কৌতূহলকে ব্যবহার করে পণ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা হয়। শুধু বিনোদন নয়, রাজনৈতিক প্রতীকও বিষয়টি কেবল বিপণনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন গবেষকরা। কারণ, এই নামগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জড়িয়ে আছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন মন্তব্যে দেখা গেছে, অনেকে “ট্রাম্প” নামের মহিষকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ করেছেন। কেউ লিখেছেন, “মেক ক্যাটল গ্রেট অ্যাগেইন”— যা ট্রাম্পের বহুল পরিচিত রাজনৈতিক স্লোগানের অনুকরণ। আবার কেউ কৌতুক করে লিখেছেন, “মহিষটি ট্রাম্পের চেয়ে কম সহিংস।” এসব প্রতিক্রিয়া দেখায়, পশুর নামকে কেন্দ্র করে মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, ক্ষোভ কিংবা বিদ্রূপ প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। ‘কার্নিভালেস্ক’: উল্টে যাওয়া ক্ষমতার প্রতীক রাশিয়ান দার্শনিক মিখাইল বাখতিন তাঁর “কার্নিভালেস্ক” তত্ত্বে বলেছিলেন, মেলা বা কার্নিভালের পরিবেশে সমাজের প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামো সাময়িকভাবে উল্টে যায়। সেখানে রাজা সাধারণ মানুষের হাস্যরসের চরিত্রে পরিণত হন, আর সাধারণ মানুষ প্রতীকী ক্ষমতা অর্জন করে। বাংলাদেশের কোরবানির পশুর হাটকে অনেক বিশ্লেষক এখন সেই “কার্নিভালেস্ক” বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, একজন সাধারণ খামারি যখন তার পশুর নাম “ডোনাল্ড ট্রাম্প” বা “নেতানিয়াহু” রাখেন, তখন তিনি বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের প্রতীকীভাবে এক গৃহপালিত প্রাণীর পর্যায়ে নামিয়ে আনেন। যে প্রাণীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, বাজারে প্রদর্শন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া হয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং ব্যঙ্গ, হাস্যরস ও প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশিত এক ধরনের “লুকায়িত প্রতিরোধ”। ইতিহাসেও ছিল পশুকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বিশ্ব ইতিহাসে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ক্ষেত্রে পশুর ব্যবহার নতুন নয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় রানি মেরি অ্যান্টোনেট–কে বিভিন্ন পশুর রূপে চিত্রিত করা হতো। রাজপরিবারকে শুকরের পাল হিসেবেও উপস্থাপন করা হয়েছিল, যা ছিল লোভ ও ভোগবিলাসের প্রতীক। সাহিত্যে এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ পশু খামার। ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল তাঁর উপন্যাসে খামারের পশুদের মাধ্যমে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক ব্যবস্থার রূপক চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যঙ্গ করতে পরিবেশবাদীরা একটি উভচর প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নামও রেখেছেন “ডার্মোফিস ডোনাল্ডট্রাম্পি”। ধর্ম, বাজার ও ডিজিটাল সংস্কৃতির সংমিশ্রণ বাংলাদেশের কোরবানির পশুর নামকরণের এই প্রবণতা দেখাচ্ছে, ধর্মীয় উৎসবও এখন ডিজিটাল সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে নয়। একদিকে এটি ব্যবসায়িক কৌশল, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর মনোযোগের লড়াই। একইসঙ্গে এটি সাধারণ মানুষের প্রতীকী ভাষায় ক্ষমতাবানদের নিয়ে মন্তব্য করারও একটি উপায়। ফলে “ট্রাম্প মহিষ” বা “নেতানিয়াহু গরু” কেবল ভাইরাল কনটেন্ট নয়; বরং এটি এমন এক সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, যেখানে ধর্মীয় উৎসব, বাজার অর্থনীতি, সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ একসঙ্গে মিশে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ওমানে গাড়ির ভেতরে চার ভাইয়ের মৃত্যু: বিয়ের প্রস্তুতি থেকে কফিনবন্দি প্রত্যাবর্তন ,রাঙ্গুনিয়ায় একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে শোকের মাতম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে ১৫ মে ছিল উৎসবের অপেক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল চার ভাইয়ের। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শেষ হলো চারটি কফিনে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজারো মানুষের কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মারা যাওয়া চার ভাই হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন। অন্য দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক। ভাইদের জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা শেষে চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, “একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” মায়ের কাছ থেকে এক সপ্তাহ গোপন রাখা হয় মৃত্যুর খবর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। বুধবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে বিষয়টি জানানো হয়। কফিনবন্দি ছেলেদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের ভেতরে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আক্তারও। স্থানীয় চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, সকাল থেকে শোক ও মানসিক আঘাতে খাদিজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রবাস জীবনের সাফল্য, হঠাৎ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথমে ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের দুটি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ মতিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে তারা দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের অবস্থাও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে চার ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দুই অবিবাহিত ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপরই ঘটে বিপর্যয়। কীভাবে মৃত্যু হলো? গত ১৩ মে রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে রয়্যাল ওমান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সহস্ট সিস্টেম থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা বন্ধ পরিবেশে দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট লাইনে ত্রুটি থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের পথে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, আশপাশের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড থেকেও মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইকে একই সারিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।” রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, গোপন নথি ফাঁস

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী  ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ চাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে একটি ফাঁস হওয়া গোপন নথিকে ঘিরে। মার্কিন অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ প্রকাশিত তথাকথিত ‘সাইফার’ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল যাতে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে সরানো হয়। নথিটি প্রকাশের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও জোরালো হয়েছে সেই পুরোনো বিতর্ক— ইমরান খানের পতন কি ছিল কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন, নাকি এর পেছনে সক্রিয় ছিল আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি? কী রয়েছে ফাঁস হওয়া নথিতে প্রকাশিত কূটনৈতিক বার্তা বা “ক্যাবল আই-০৬৭৮” অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৭ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। সেখানে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন প্রশ্নে ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে মার্কিন অসন্তোষের কথা উঠে আসে বলে দাবি প্রতিবেদনের। ফাঁস হওয়া নথির ভাষ্য অনুযায়ী, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে সরানো হলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমে আসবে বলে ইঙ্গিত দেন ডোনাল্ড লু। অন্যদিকে ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। কেন ক্ষুব্ধ ছিল ওয়াশিংটন ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েন। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হওয়া এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য পাকিস্তানের ঘাঁটি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানানো ওয়াশিংটনের অসন্তোষ বাড়ায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরুর দিনই মস্কো সফরে যান ইমরান খান। যদিও সফরটি বাতিল করতে আগে থেকেই পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়। পরে জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকে পাকিস্তান। এতে দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা তৈরি হয়। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের মার্কিন আগ্রহও প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ইমরান খান। সে সময় তিনি বলেছিলেন, “অ্যাবসোলিউটলি নট” — পাকিস্তানের মাটি কোনো বিদেশি সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইমরানের অভিযোগ কী ছিল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইমরান খান দাবি করে আসছেন, তাকে সরাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনাস্থা ভোট সফল হলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের “সব ক্ষোভ মিটে যাবে” — এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছিল। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই ঘটনাকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” হিসেবে তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র কী বলেছিল তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছিলেন, ইমরান খানের অভিযোগের “কোনো সত্যতা নেই”। ওয়াশিংটনের অবস্থান ছিল, পাকিস্তানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে। কীভাবে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি সংসদীয় অনাস্থা ভোটে অপসারিত হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ফাঁস এবং আদালত অবমাননাসহ একাধিক মামলা হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পিটিআইয়ের নির্বাচনী প্রতীক বাতিল করা হয়। দলটির সমর্থিত বহু প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করলেও ফলাফল প্রকাশ ও গেজেট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নতুন করে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই নথি বিশ্লেষকদের মতে, ফাঁস হওয়া নথিটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ— এই তিনটি প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও নথিটির সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক তদন্ত হয়নি, তবুও এটি ইমরান খানের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আফগানিস্তান পরবর্তী মার্কিন কৌশল এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের অবস্থান কতটা স্পর্শকাতর ছিল, সেই বাস্তবতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
পুলিশ পদক স্থগিত
বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নাম থাকায় পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষে ঘোষিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, এ বছর মোট ১০৭ জন পুলিশ সদস্যের পদক পাওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ১১ জন কর্মকর্তা অতীত সরকারের আমলেও পদক পেয়েছিলেন। এদের একজন বিগত সরকারের সময়ে দুইবার পদক লাভ করেন। পদকের জন্য মনোনীত অন্তত ছয়জন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানিয়েছেন, তাদের মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে পদক প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি— পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত সদস্যের নাম শেষ মুহূর্তে নজরে আসায় অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তবে শনিবার বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’ ও ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য ‘বিপিএম-সেবা’ ও ‘পিপিএম-সেবা’ পদক দেওয়ার কথাও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এর আগে, গত ২ মে থেকে পদকের জন্য মনোনীত সদস্যরা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে প্যারেডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— এই প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রোববার। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। রোববার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যও দেবেন। এবারের প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেবেন প্যারেডে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে গত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১০, ২০২৬ 0
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা
গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, এক নারী ও এক যুবক রয়েছেন। শনিবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশগুলো পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন— শারমিন (৩৫), তার তিন মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)। পরিবারটি গোপালগঞ্জের ফোরকান মিয়ার পরিবার বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশের ভাষ্য, রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে, কুপিয়ে ও বিভিন্নভাবে তাদের হত্যা করা হয়। কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জুবায়ের বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। এদিকে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়াই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৯, ২০২৬ 0
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি
আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি: ২৬৪ নিখোঁজ, শতাধিক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আন্দামান সাগর-এ মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাসহ অন্তত ২৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। কী ঘটেছিল তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল কক্সবাজার উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি উত্তাল সাগর ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে যায়। প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর ৯ জনকে একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার করে। পরে তাদের সেন্ট মার্টিনে কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন। বাকি তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিক, যাদের কাছ থেকে ট্রলারডুবির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিখোঁজদের বেশিরভাগই উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গা। তবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে: টেকনাফ: ৪০ জন উখিয়া: ৬ জন রামু: ৪ জন পেকুয়া: ৭ জন বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): ৫ জন স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকেই ৩০ জনের বেশি যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারগুলোর অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা নিখোঁজদের পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই থানায়, জনপ্রতিনিধিদের কাছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন স্বজনদের খোঁজে। পেকুয়ার রাজাখালীর বাসিন্দা সুমি আক্তার বলেন, তার স্বামী দালালের প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। “তিনি বলেছিলেন পৌঁছে ফোন দেবেন। এরপর আর কোনো খবর পাইনি,” বলেন তিনি। পাচারচক্রের ফাঁদ স্থানীয়দের মতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে টেকনাফ উপকূল থেকে অন্তত তিনটি ট্রলার মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এর মধ্যে একটি ডুবে গেলেও অন্য দুটি থাইল্যান্ডে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচারকারীরা মূলত দরিদ্র, বেকার ও ঋণগ্রস্ত তরুণদের লক্ষ্য করে। বিনা খরচে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিপজ্জনক সমুদ্রপথে পাঠানো হয়। মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, “বেকারত্ব ও দারিদ্র্যই মানবপাচারের মূল চালিকাশক্তি। কঠোর আইন প্রয়োগ ও সচেতনতা ছাড়া এ নেটওয়ার্ক ভাঙা কঠিন।” উদ্ধার অভিযান ও অনিশ্চয়তা কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ডুবে যাওয়া ট্রলারটির ধ্বংসাবশেষও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কিছু মানুষ পানির ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভেসে ছিলেন—যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ইস্টার্ন রিফাইনারি
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আবার ক্রুড তেল সরবরাহ: দুই মাস পর উৎপাদন স্বাভাবিকের পথে

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাবে গত দুই মাস ধরে দেশে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি বন্ধ থাকায় সংকটে পড়েছিল বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। অবশেষে নতুন চালান পৌঁছানোয় প্রতিষ্ঠানটি আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার আশা দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’ মঙ্গলবার বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছেছে। বুধবার এটি চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া চ্যানেলে ভেড়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ৭ মে থেকে ইআরএল পূর্ণোদ্যমে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। ডেড স্টক দিয়ে টিকে থাকা নতুন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় গত দেড় মাস ধরে পাইপলাইনে জমে থাকা ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করে সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছিল রিফাইনারিটি। সাধারণত পাইপলাইনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভেতরে যে ন্যূনতম তেল জমা থাকে, সেটি ব্যবহার করা হয় না। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সেই তেলই কাজে লাগানো হয়। এ সময় উৎপাদন কমিয়ে আনা হয় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে। জ্বালানির ধরনও ১৩টি থেকে কমিয়ে ২টিতে নামিয়ে আনা হয়েছিল। নতুন চালান আসছে আরও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এমটি ফসিল’ নামের একটি ট্যাংকারে ১০ মে তেল লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক থাকলে চলতি মাসেই সেটিও দেশে পৌঁছাতে পারে। এই চালানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফুজাইরা থেকে তেল আনতে হলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগর হয়ে বাংলাদেশে আসা সম্ভব—যা নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাবে। সরবরাহ বিঘ্নের পেছনে কারণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আগে নির্ধারিত কয়েকটি জাহাজ বাংলাদেশে আসতে পারেনি। ‘নর্ডিক পোলাক্স’ নামের একটি ট্যাংকার গত এপ্রিল থেকে সেখানে আটকা পড়ে আছে। একই কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামের আরেকটি জাহাজ তাদের যাত্রা বাতিল করে। ফলে ক্রুড তেলের সংকট তৈরি হয়ে ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়—যা এর আগে কখনও ঘটেনি। দেশের জ্বালানি খাতে ইআরএলের ভূমিকা ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইআরএল দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে প্রতিষ্ঠানটি, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার ৯২ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ইআরএলের উৎপাদিত ডিজেল দেশের মোট ডিজেল সরবরাহের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। সামনে কী নতুন চালান নিয়মিতভাবে আসতে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এই সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
এস আলম
ব্যাংক খাতে আস্থার টানাপোড়েন:এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে অস্থিরতা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট সামনে আসতে শুরু করে। একের পর এক তথ্য প্রকাশ পেতে থাকে, যা আর্থিক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমসহ রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যাংকের বড় অংশেই খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এতে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ, আতঙ্ক এবং আস্থাহীনতা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি আংশিকভাবে স্থিতিশীল হয়। তবে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই আইনের আওতায়, পূর্বে একীভূত বা পুনর্গঠনের আওতায় আসা ব্যাংকের পুরনো শেয়ারহোল্ডাররা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে—সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া অর্থ ফেরত, নতুন মূলধন সংযোজন, আমানতকারীদের দায় পরিশোধ, কর পরিশোধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া প্রাথমিকভাবে সরকারের দেওয়া অর্থের অন্তত ৭.৫০ শতাংশ পে-অর্ডার হিসেবে জমা এবং বাকি অর্থ দুই বছরের মধ্যে সুদসহ ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বিধান বাস্তবে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় ব্যাংক খাতে ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারে। এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকার এক গ্রাহক মুনিরা শাহরিন বলেন, নতুন আইনের খবর শুনে তিনি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার কথা ভাবছেন। অতীতে টাকা তুলতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রুবেল নামের আরেক গ্রাহক। তিনি বলেন, আগে একীভূত হওয়া একটি ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রেখেছিলেন, কিন্তু টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নতুন করে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি তার আমানত তুলে নিচ্ছেন। এস আলম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবস্থা এস আলম গ্রুপ–এর নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত নাজুক বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: খেলাপি ঋণ ~৯৬.২০% সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ~৭০.১৭% ইউনিয়ন ব্যাংক: ~৯৬.৬৪% গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ~৯৫.৭০% বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ~৫১.৬৫% ন্যাশনাল ব্যাংক: ৫২% এর বেশি অন্যদিকে, দেশের বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি–এর মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।  অর্থ পাচারের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ ব্যাংক খাত থেকে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পাচারের অন্যতম মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট)। অভিযোগ রয়েছে, পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু বাস্তবে পণ্য দেশে আনা হয়নি। বিশেষভাবে আলোচিত একটি ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত হয়। এছাড়া অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।   ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রণীত আইনগুলো একদিকে সংস্কারের সুযোগ তৈরি করলেও, অন্যদিকে বিতর্কিত গোষ্ঠীর পুনঃপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি করছে। এতে সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি—বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
সৌরবিদ্যুৎ
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি: অতিরিক্ত ব্যয়, নীতিগত বিশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে একসময় জ্বালানি সংকট মোকাবিলার সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে দেখা হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই খাত তার গতি হারিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হতে পারেনি। আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’ এই খাতে স্বচ্ছতার ঘাটতি তৈরি করেছে। এই আইনের আওতায় প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া এবং বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার মতো অভিযোগ সামনে আসে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এসব ক্ষেত্রে অসম চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যেখানে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় ব্যয় হওয়া উচিত প্রায় ৮ কোটি টাকা, সেখানে কিছু প্রকল্পে এই ব্যয় দাঁড়িয়েছে গড়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সংস্থাটি দাবি করে, মাত্র ছয়টি প্রকল্পেই প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া জমি অধিগ্রহণে জালিয়াতির মাধ্যমে আরও প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। কৃষিজমিকে অকৃষি দেখানো এবং ভুয়া মৌজা দর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সিন্ডিকেট ও প্রভাবের অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের মতে, এই খাতে উচ্চপদস্থ আমলা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ (এলওআই) পেতে রাজনৈতিক সুপারিশ প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি নিয়মে ১৮ মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, এলওআই পেতেই লেগে যেত দুই থেকে তিন বছর। এই দীর্ঘসূত্রতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছে। সময়ের সঙ্গে প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও অনুমোদন প্রক্রিয়া একই গতিতে চলেনি। অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ অভিযোগ রয়েছে, দক্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে প্রভাবের মাধ্যমে অদক্ষ প্রতিষ্ঠানও প্রকল্প পেয়েছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্ট একজন উদ্যোক্তা বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কাজ পাওয়ার পেছনে যোগ্যতার চেয়ে প্রভাব বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।” আঞ্চলিক তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। ভারতে যেখানে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের দাম প্রায় ৩ সেন্ট, পাকিস্তানে ০.৩২ সেন্ট এবং চীনে ০.৪৫ সেন্ট, সেখানে বাংলাদেশে এই খরচ ছিল ১২ সেন্টেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান নীতিগত দুর্বলতা ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। নীতিমালার অসংগতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও অসংগতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নীতিমালায় ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— একটিতে ২০২৩ সালে ২০% অন্যটিতে ২০৩০ সালে ১০% আবার কোথাও ২০২৫ সালে ৪০% লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এই অসামঞ্জস্য বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভবিষ্যৎ ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকট নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। তারা মনে করেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সৌরবিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলা গেলে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তায় অনেকটাই এগিয়ে থাকতে পারত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিল কেন গুরুত্বপূর্ণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত—এই প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন ও পরবর্তীতে তা বাতিলকে ঘিরে। একদিকে সরকার বলছে এটি প্রশাসনিক ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ, অন্যদিকে আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ আশঙ্কা করছেন—এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।  মাসদার হোসেন মামলা থেকে শুরু বাংলাদেশে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’র রায়ের মাধ্যমে। এই রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের আর সিভিল সার্ভিসের অংশ হিসেবে নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র বিচারিক সার্ভিসের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এর বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে। অবশেষে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করে। ২০২৫: পৃথক সচিবালয়ের সূচনা বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে। এর ফলে: * বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বাহী বিভাগের বাইরে চলে আসে * সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায় * ১১ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় অনেকে এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখেছিলেন। ২০২৬: অধ্যাদেশ বাতিল এবং সরকারের যুক্তি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এই কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে। গত ৯ এপ্রিল সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয়। আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল এবং “সামগ্রিক পর্যালোচনা” জরুরি হয়ে পড়ে। সরকারের দাবি—এটি বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নয়, বরং “স্বৈরাচারী প্রবণতা দূর করার” উদ্যোগ।  ‘কালো দিন’ না প্রশাসনিক সমন্বয়? এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া এসেছে ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে। একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এটিকে বিচার বিভাগের ইতিহাসে “কালো দিন” হিসেবে অভিহিত করে বলেন, স্বতন্ত্র সচিবালয় বিলুপ্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—পরস্পরের পরিপূরক। তাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন এবং বর্তমানে বিচার বিভাগে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই।  আইনি লড়াই: আদালতে চ্যালেঞ্জ অধ্যাদেশ বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন। ২০ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ: * রিটের শুনানি আপাতত মুলতবি রাখে * তবে নির্দেশনা দেয়, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো পরিবর্তন না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে এর ফলে বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি।  রাজনৈতিক মাত্রা ও নতুন আবেদন এদিকে একজন আইনজীবী রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়ে অভিযোগ করেছেন— আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, এই প্রেক্ষাপটে সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা উচিত—যা এই বিতর্ককে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।  মূল প্রশ্ন: স্বাধীনতা কি কাঠামো নির্ভর? এই পুরো বিতর্কে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে: **বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কি কেবল পৃথক সচিবালয়ের ওপর নির্ভর করে?** বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি বহুমাত্রিক— * প্রশাসনিক স্বাধীনতা (separate secretariat) * নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া * বাজেট নিয়ন্ত্রণ * বিচারকদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা এই সবগুলো উপাদান মিলেই প্রকৃত স্বাধীনতা গড়ে ওঠে।   বর্তমানে পরিস্থিতি তিনটি সমান্তরাল পথে এগোচ্ছে: **আদালতের রায়** – রিট মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে  **রাজনৈতিক অবস্থান** – সরকার তার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের পথে এগোতে পারে  **আইনি ও পেশাজীবী চাপ** – আইনজীবী সমাজের একটি অংশ আন্দোলন বা আরও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে   সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন ও বাতিল—এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। চূড়ান্তভাবে প্রশ্নটি রয়ে গেছে— **বাংলাদেশ কি এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা শুধু আইনি কাঠামোয় নয়, বাস্তব প্রয়োগেও সম্পূর্ণ স্বাধীন?**  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0