Brand logo light

ব্রেকিং

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড। চিকিৎসাধীন অনেকে হামে আক্রান্ত।
হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: দেশজুড়ে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে হাম রোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গত কয়েক সপ্তাহে দেশে হাম সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি সন্দেহজনক রোগী, প্রায় ৫ হাজার নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ১৬ জনের মৃত্যু—এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, এটি একটি দ্রুত বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। প্রশ্ন হচ্ছে—যে রোগ প্রতিরোধযোগ্য, সেটি কেন আবার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে?  সংক্রমণের বিস্তার: নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে কি পরিস্থিতি? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: সংক্রমণ আর কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নয় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যু জেলা হিসেবে টাঙ্গাইল শীর্ষে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহেও দ্রুত বিস্তার এটি স্পষ্ট করে যে, সংক্রমণ এখন “লোকালাইজড আউটব্রেক” নয়, বরং “কমিউনিটি ট্রান্সমিশন”-এর দিকে এগোচ্ছে।  হাসপাতাল ব্যবস্থায় চাপ: ভেতরের চিত্র কী বলছে? গত সময়ে: নতুন ভর্তি: ৮২৬ জন ছাড়পত্র: ২,৬৫৪ জন সংখ্যা দেখলে মনে হতে পারে রোগী কমছে, কিন্তু চিকিৎসকদের মতে বাস্তবতা ভিন্ন: শিশুদের মধ্যে জটিলতা বেশি আইসিইউতে নিতে হচ্ছে অনেককে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ বাড়ছে অর্থাৎ, রোগের তীব্রতা আগের তুলনায় বেশি জটিল হয়ে উঠছে। কেন বাড়ছে জটিলতা? বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে: হাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয় ফলে সেকেন্ডারি ইনফেকশন (নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস) দ্রুত হয় একজন চিকিৎসকের ভাষায়: “অনেক পরিবার এখনো হামকে সাধারণ জ্বর-ফুসকুড়ি মনে করে, চিকিৎসা নিতে দেরি করে—এটাই মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।”  মূল সমস্যা: টিকাদান ব্যবস্থার ফাঁকফোকর? অনুসন্ধানে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ: ১. অপূর্ণ টিকাদান কাভারেজ অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পায় না শহরের বস্তি ও গ্রামীণ অঞ্চলে ঝুঁকি বেশি ২. ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল ধারণা কিছু পরিবার টিকা নিতে অনাগ্রহী সামাজিক গুজব ও ভুল তথ্য বড় ভূমিকা রাখছে ৩. পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ দুর্বল স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে রিপোর্টিং বিলম্বিত  ঢাকায় বেশি মৃত্যু—কেন? রাজধানীতে স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নত হলেও: অতিরিক্ত রোগীর চাপ দেরিতে হাসপাতালে আসা জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় দ্রুত সংক্রমণ ফলে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। বাস্তবতা কি আরও ভয়াবহ? প্রতিবেদনে আগে ৯ জন মৃত্যু বলা হলেও পরে তা ১৬-তে উন্নীত হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করে: ডাটা আপডেটে বিলম্ব বাস্তব পরিস্থিতি হয়তো আরও গুরুতর  ঝুঁকিতে কারা সবচেয়ে বেশি? ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশু অপুষ্টিতে ভোগা শিশু যাদের টিকা সম্পূর্ণ হয়নি এখনই কী করা জরুরি? ✔️ জরুরি পদক্ষেপ: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা দ্রুত শনাক্তকরণ ও আইসোলেশন গণসচেতনতা বাড়ানো ✔️ দীর্ঘমেয়াদি: স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাল নজরদারি কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ানো ভ্যাকসিন বিষয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা সতর্ক না হলে কী হতে পারে? হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ—তবুও এটি যদি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি শুধু ভাইরাসের শক্তি নয়, বরং আমাদের সিস্টেমের দুর্বলতার প্রতিফলন। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:  আমরা কি এটিকে আরেকটি বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে দেব, নাকি এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেব?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
গাজীপুরে ডিসি
গাজীপুরে ৭৫ কোটি টাকার প্রতারণা নস্যাৎ: ভুয়া ক্ষমতার আড়ালে সংগঠিত জালিয়াতির ভয়ংকর চক্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুর জেলা প্রশাসকের একটি তীক্ষ্ণ সিদ্ধান্ত—আর তাতেই ভেস্তে গেল ৭৫ কোটি টাকার এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা। উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার ছদ্মবেশে পরিচালিত এই চক্রটি শুধু একটি আর্থিক জালিয়াতির চেষ্টা করেনি, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোকেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল তাদের অপরাধ ঢাকতে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্কের চিত্র, যার শিকড় ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। ছদ্মবেশে প্রবেশ, লক্ষ্য কোটি টাকা বুধবার দুপুর। নিয়মিত কাজের ব্যস্ততার মধ্যেই গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে দুই ব্যক্তি। নিজেদের পরিচয় দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে। পোশাক-আশাক, আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি—সব মিলিয়ে প্রথম নজরে সন্দেহের অবকাশ কমই ছিল। তারা জেলা প্রশাসকের সামনে উপস্থাপন করে দুটি ‘সম্মতিপত্র’। কাগজে ছিল না কোনো স্বাক্ষর, অথচ দাবি—তাৎক্ষণিক অনুমোদন দরকার। প্রস্তাবটি ছিল চমকে দেওয়ার মতো: ৬৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ ১০ কোটি টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ মোট দায়: ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত: মাত্র ১৮ মাসে ১৫০ কোটি টাকা এই অস্বাভাবিক আর্থিক কাঠামোই তৈরি করে প্রথম সন্দেহ। সন্দেহ থেকে পদক্ষেপ: মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করেন দ্রুত। কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে সময় নিয়ে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখেন এবং গোপনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তারা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং এর পেছনে রয়েছে আরও কয়েকজন সক্রিয় সহযোগী। মধ্যরাতে অভিযান: গুলিস্তান থেকে গ্রেফতার আরেক সদস্য পরদিন গভীর রাতে ঢাকার গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরেক সদস্যকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে চালানো হয় তল্লাশি। জব্দ করা হয়: ব্ল্যাংক চেক স্ট্যাম্প পেপার ভুয়া চুক্তিপত্র গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি এই আলামতগুলো প্রমাণ করে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। চক্রের বিস্তার: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিকড় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলার বাসিন্দা: লক্ষ্মীপুর কুমিল্লা বগুড়া পলাতক সদস্যদের বাড়ি রংপুর ও ভোলায়—যা ইঙ্গিত দেয় একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের দিকে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এরা কেবলমাত্র একটি বড় চক্রের অংশ, যারা সরকারি পরিচয়, জাল কাগজপত্র এবং প্রভাব খাটিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতারণার কৌশল: বিশ্বাসযোগ্যতার আবরণ চক্রটির কার্যপদ্ধতি ছিল সূক্ষ্ম ও পরিকল্পিত: সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার জরুরি সিদ্ধান্তের চাপ সৃষ্টি বড় অঙ্কের লেনদেনের লোভ দেখানো জাল দলিল ও ব্ল্যাংক চেকের ব্যবহার এই কৌশলগুলো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও বিভ্রান্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। প্রশাসনের সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা এখন আরও সদস্য শনাক্ত ও গ্রেফতারে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা: “যে কোনো আর্থিক প্রস্তাব বা উচ্চপর্যায়ের পরিচয় যাচাই ছাড়া গ্রহণ করবেন না।” বিশ্লেষণ: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? এই ঘটনা শুধু একটি প্রতারণা রোধের গল্প নয়—এটি দেখায়: প্রশাসনিক সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়ের অপব্যবহার কতটা ভয়ংকর হতে পারে সংগঠিত প্রতারণা কতটা পেশাদার হয়ে উঠেছে যদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর হয়ে যেত, তবে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত।   গাজীপুরের এই ঘটনা একটি বড় সতর্ক সংকেত। প্রযুক্তি, তথ্য আর ভুয়া ক্ষমতার মিশেলে প্রতারক চক্রগুলো দিন দিন আরও কৌশলী হয়ে উঠছে। তবে একই সঙ্গে এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণও—সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কিভাবে একটি বড় বিপর্যয় ঠেকাতে পারে। এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। সামনে হয়তো আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে আসবে—যা উন্মোচন করবে দেশের আর্থিক প্রতারণার অন্ধকার জগতের আরও গভীর স্তর।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি অবরোধ: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি, কূটনীতির নতুন অগ্নিপরীক্ষা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরা—হরমুজ প্রণালি—এখন কার্যত অবরুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই সংকটকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থা ইউএনসিটিএডি-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে—এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি “সিস্টেমিক শক”। জাহাজ চলাচল: এক মাসে ৯৫% পতন ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করত, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে। এটি শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তেল ও গ্যাস সরবরাহে সরাসরি ধাক্কা বিকল্প রুটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি বন্দর, বিমান কার্গো ও লজিস্টিকসে চেইন-রিঅ্যাকশন  কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ? পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, এখানে বাধা মানে— ইউরোপে জ্বালানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি  সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: সামরিক ঝুঁকি বনাম কূটনৈতিক অচলাবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ড্রোন, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে: কোনো দেশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এগোতে চাইছে না বীমা প্রিমিয়াম ও ঝুঁকি ব্যয় আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলো রুট এড়িয়ে যাচ্ছে কূটনৈতিক উদ্যোগ: লন্ডনের বৈঠক কিয়ার স্টারমার-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্য একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সভাপতিত্ব করবেন ইভেট কুপার। আলোচনার মূল বিষয়: নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা জরুরি পণ্য সরবরাহ পুনরায় চালু যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: নতুন ভূ-রাজনৈতিক বার্তা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন: “এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয়।” এই অবস্থান: ন্যাটোর ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে ইউরোপকে স্বনির্ভর নিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বৈশ্বিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি করছে  ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: বলপ্রয়োগ নয়, সমন্বয় ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন: বলপ্রয়োগে সমাধান “বাস্তবসম্মত নয়” নৌবাহিনী সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়বে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতাই একমাত্র পথ অর্থনৈতিক অভিঘাত: সামনে কী আসছে? ইউএনসিটিএডি সতর্ক করেছে: সম্ভাব্য ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি স্থায়ী বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি → পণ্যের দাম বাড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সবচেয়ে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া ইউরোপ ভবিষ্যৎ চিত্র: তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্য ১. দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার বাজারে স্বস্তি ২. দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকবে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি ৩. সামরিক সংঘাত বিস্তার সরাসরি যুদ্ধ → বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধস হরমুজ প্রণালীর এই সংকট এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানা এক বহুমাত্রিক সংকট। কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এই তিনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বিশ্ব কি সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি সমন্বিত কূটনীতির মাধ্যমে এই শিরা আবার সচল হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)
এলপিজি বাজারে কৃত্রিম সংকট,দামে নৈরাজ্য:ভোক্তা নিঃস্ব, নজরদারি সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয়

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৩৪১ টাকা। অথচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায়। এই বিশাল ব্যবধান শুধু বাজারের অস্থিরতা নয়—বরং এটি একটি সুসংগঠিত অনিয়মের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে ভোক্তা, খুচরা বিক্রেতা এবং নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ অসামঞ্জস্য। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা: “দাম কমে না, শুধু বাড়ে” লালবাগের বাসিন্দা আকরাম হুসাইন ২১শ ৫০ টাকা দিয়ে গ্যাস কিনেছেন, যেখানে গত মাসেই তিনি দিয়েছেন ১৫শ টাকা। উত্তরা, টঙ্গী, আজিমপুর—সব জায়গাতেই একই চিত্র। নাজির, একজন নিম্ন আয়ের চাকরিজীবী, বলেন— “তিন-চার দোকান ঘুরেও কম দামে পাইনি। ২২শ টাকা দিয়ে কিনেছি। গ্যাস কিনতেই যদি দুই হাজার চলে যায়, সংসার চালাবো কীভাবে?” অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি এলাকায় ভোক্তাদের ৬০০–৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি: “আমরাও ভুক্তভোগী” খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাই ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনছেন। একজন ব্যবসায়ী বলেন— “আমাদের বলা হচ্ছে সরবরাহ কম। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও বেশি দামে করছি।” কুমিল্লার এলপিজি ব্যবসায়ী নেতা আমানত উল্লাহর ভাষ্য— “কোম্পানি থেকে ৪০০–৪৫০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারি দামে আমরাই পাই না।” অর্থাৎ, দাম বাড়ার দায় নিচে নামতে নামতে খুচরা পর্যায়ে এসে থামছে—কিন্তু উৎস অজানা।  সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতা: বড় অসামঞ্জস্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে: মার্চে সরবরাহ হয়েছে ১.৮৫ লাখ মেট্রিক টন (সর্বোচ্চ) সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই নিয়মিত দাম নির্ধারণ ও মনিটরিং চলছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—  যদি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে বাজারে এই অস্বাভাবিক দাম কেন? কৃত্রিম সংকট ও ‘প্যানিক বায়িং’—কার লাভ? অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে: বাজারে “সংকট” কথাটি ছড়িয়ে দিয়ে চাহিদা বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তারা ভয় পেয়ে বেশি দামে কিনছেন  (আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা) এতে একটি আত্ম-পূরণকারী সংকট তৈরি হচ্ছে  এই পরিস্থিতি কারা তৈরি করছে—তা নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন।  বিশেষজ্ঞ মত: “নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতা” কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন: বিইআরসি এখন পর্যন্ত একজনেরও লাইসেন্স বাতিল করেনি প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিদপ্তর কার্যত নিষ্ক্রিয় বাজারে ‘অলিগার্কি’ তৈরি হয়েছে—গুটিকয়েক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রণ করছে তার ভাষায়: “এই ব্যবসা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে নতুন লাইসেন্স দিতে হবে।”  গভীর বিশ্লেষণ: কোথায় সমস্যা? এই অনুসন্ধান তিনটি স্তরে বড় সমস্যার ইঙ্গিত দেয়— ১. সাপ্লাই চেইনে অস্বচ্ছতা কোম্পানি → ডিলার → খুচরা—এই চক্রে কোথায় দাম বাড়ছে তা স্পষ্ট নয় কোনো পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি নেই ২. নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ব্যবস্থা নির্ধারিত দাম বাস্তবায়নে ব্যর্থতা লাইসেন্স বাতিল বা জরিমানার নজির নেই ৩. সমন্বয়হীনতা বিইআরসি, ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন—সবাই দায় এড়াচ্ছে মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান অভিযান নেই  সম্ভাব্য সমাধান: কী করা জরুরি? বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মত অনুযায়ী— কঠোর মনিটরিং ও তাৎক্ষণিক অভিযান অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় লাইসেন্স বাতিল সাপ্লাই চেইনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে নতুন লাইসেন্স ভোক্তা পর্যায়ে অভিযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি   এলপিজি এখন শুধু জ্বালানি নয়—এটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন টিকে থাকার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু। সরকারি নির্ধারিত দাম কাগজে থাকলেও বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে অদৃশ্য শক্তি।  প্রশ্ন একটাই: এই নৈরাজ্যের দায় নেবে কে—আর কবে থামবে এই ‘নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা’?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বরিশালে বাড়ছে হাম
হামের সংক্রমণ বাড়ছে: পাঁচ বিভাগে ৪৬৭ রোগী হাসপাতালে, শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে

বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৪৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে রাজশাহী বিভাগে, যেখানে ২৮০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি। খুলনায় ১০০ জন, বরিশালে ৩৭ জন, চট্টগ্রামে ২৬ জন এবং সিলেটে ২৪ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম: নতুন ভর্তি, কিন্তু উপজেলায় স্থিতিশীলতা গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬ জন সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে জেলার ১৫টি উপজেলায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। এ পর্যন্ত ৫৫ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৮ জনের শরীরে পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। নতুন করে আরও ১৬টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। খুলনা: কুষ্টিয়ায় সবচেয়ে বেশি রোগী খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১০০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৫৯ জন। যশোরে ১৬ জন, সাতক্ষীরায় ৬ জনসহ অন্যান্য জেলাতেও রোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। সিলেট: আইসোলেশনে চিকিৎসা, কিছু রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক সিলেটে গত কয়েক দিনে ৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ জন। তাদের সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বরিশাল: এক বছরে ১১১ আক্রান্ত, মৃত্যু ১ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। চলতি বছরে এখানে মোট ১১১ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে হাম দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে। রাজশাহী: সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছয় মাসের নিচের শিশু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণত ৯ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু তার আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে ভাবাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেল
জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি : কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’?

ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা :  সরকার বলছে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই—বরং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবু বাস্তবতা ভিন্ন: দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়ার অভিযোগ, আর কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনা জ্বালানি পরিস্থিতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জ্বালানি মজুত যথেষ্ট, তবু বাজারে অস্বস্তি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসছে, আর এপ্রিল মাসে আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। তাহলে সমস্যা কোথায়? সংসদেই উঠে এলো ‘তেল না পাওয়ার’ অভিযোগ জাতীয় সংসদে একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই পাম্পে গিয়ে তেল পাননি। অনেক এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ না থাকলেও বোতলে করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি প্রকৃত সংকট নয়; বরং অতিরিক্ত কেনা, মজুত প্রবণতা এবং গুজবের কারণে তৈরি হয়েছে কৃত্রিম চাপ। কৃত্রিম সংকটের পেছনে ‘সিন্ডিকেট’? গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জ্বালানি খাতে সক্রিয় রয়েছে অন্তত দুটি বড় সিন্ডিকেট: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক চক্র ঢাকাভিত্তিক সরবরাহ ও বিতরণ চক্র তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ট্যাংক লরি থেকে তেল চুরি ডিপোতে অতিরিক্ত তেল লোড দেখিয়ে আত্মসাৎ পাম্পে মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ রাখা দাম বাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি বিশেষ করে ‘সাপ্লাই নেই’ দেখিয়ে পাম্প বন্ধ রাখার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। অভিযান: ৩ হাজারের বেশি রেইড, লাখ লাখ লিটার জব্দ সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। মার্চ মাসে: ৩,১৬৮টি অভিযান উদ্ধার: ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি ঢাকায় একদিনেই জব্দ প্রায় ১,২০০ লিটার চট্টগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুতের ঘটনা ধরা পড়েছে। কোথাও পাম্পে তেল থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণও মিলেছে। নদী ও সাগরে চোরাই তেলের বড় কারবার জ্বালানি চোরাচালানের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় নদী ও সমুদ্রপথে। জাহাজ থেকে তেল চুরি ড্রাম ও নৌযানে গোপন সংরক্ষণ সীমান্ত দিয়ে পাচার ‘সিস্টেম লস’ নামে পরিচিত একটি কাঠামোগত দুর্বলতাকে ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়ছে আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশেও। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জটিলতা জ্বালানি খাতে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগও এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে: অতিরিক্ত মুনাফার লোভ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা প্রশাসনের ভেতরের দুর্বলতা সমাধান কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট এড়াতে প্রয়োজন: পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ডিজিটাল অটোমেশন ট্যাংক লরিতে জিপিএস ট্র্যাকিং ডিপো ও পাম্পে কড়া নজরদারি পাইপলাইনে জ্বালানি পরিবহন বাড়ানো দুর্নীতিতে জড়িতদের লাইসেন্স বাতিল   সরকারের হিসাব বলছে—সংকট নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে—সমস্যা আছে, এবং তা সরবরাহ নয়, বরং ব্যবস্থাপনা, সিন্ডিকেট ও অনিয়ন্ত্রণে।   এই ব্যবধানই এখন জ্বালানি ইস্যুকে দেশের অন্যতম আলোচিত ও সংবেদনশীল বিষয়ে পরিণত করেছে।      

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই, বরং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কাজ চলছে। মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান তুবা ইসলাম তোহার মৃত্যু হয় গত ২৭ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। পরিবারের দাবি, ১৯ মার্চ শিশুটির জ্বর শুরু হয়। পরদিন শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা চিকিৎসা পরিবর্তনের পরও তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যেতে থাকে। শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, চিকিৎসার এক পর্যায়ে তার শরীরে হামের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পরে মুকসুদপুর উপজেলা হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর এবং সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা উন্নতি হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারী খোরশেদা মল্লিক ডলি বলেন, শিশুটিকে নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়েছিল, তবে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে হামের টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন জানান, গত তিন বছরে ওই এলাকায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি কেস স্টাডি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হলেও অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি, নইলে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।” এদিকে, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তথ্য চেয়েছে বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে হামলা জোরদার করায় ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একই সময়ে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফা-তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের এই বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নত রাডারের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান রয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হলে ব্যবহার করতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কাও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধ: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন, এক মাসে বাড়ছে প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ব্যাপক হারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক সূত্র বলছে, টমাহক মূলত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এর উৎপাদন সীমিত—বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ ইউনিট তৈরি হয়। ফলে দ্রুত ব্যবহারের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের বর্তমান মজুত “চিন্তার বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক পরিভাষায় তারা “উইনচেস্টার”-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন—অর্থাৎ গোলাবারুদ প্রায় শেষের দিকে। ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং এর একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩.৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন। এক মাসে যুদ্ধের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজ এক মাস পূর্ণ হলো। সংঘাতটি শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু এলাকা, হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের সময় অনেক উদ্ধারকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখতে পান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রভাব ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলার প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২২ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩,৩১৫ জন। ইরাকে অন্তত ৯৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে চারজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইলের কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
বরিশাল-ঢাকা লঞ্চ
বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি, কেবিন টিকিট কালোবাজারে : ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব

ঈদ এলেই নৌপথে যাত্রীদের ভোগান্তি যেন এক নীরব বাস্তবতা। ভাড়া বৃদ্ধি, কেবিন সংকট, এবং কালোবাজারির অভিযোগ নতুন কিছু নয়—বরং বছর ঘুরে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বরিশাল-ঢাকা ও ঢাকা-চাঁদপুর নৌরুটে ভাড়া নিয়ে অসংগতি এবং টিকিট বাণিজ্যের এক অপ্রকাশিত চক্র। ডেক ভাড়া: মৌসুমভিত্তিক ‘অঘোষিত নিয়ম’ যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বরিশাল-ঢাকা রুটে সারা বছর ডেক ভাড়া ২০০–২৫০ টাকা থাকলেও ঈদ এলেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ টাকায়। যাত্রীদের ভাষ্যমতে— যাত্রী কম → ভাড়া কম যাত্রী বেশি → ভাড়া বেশি এই চর্চা এখন ‘অঘোষিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।  সরকার নির্ধারিত ভাড়া বনাম বাস্তবতা সরকারি তালিকা অনুযায়ী— ডেক ভাড়া: ৪০৪ টাকা সিঙ্গেল কেবিন: ১,৬১৬ টাকা ডাবল কেবিন: ৩,২৩২ টাকা ভিআইপি কেবিন: ৭,০০০–১১,০০০ টাকা কিন্তু বাস্তবে— স্বাভাবিক দিনে কম ভাড়া নেওয়া হয় ঈদে তুলনামূলক বেশি নেওয়া হলেও সেটি ‘সরকারি ভাড়ার নিচে’ বলে দাবি কর্তৃপক্ষের কেবিন টিকিট: ‘সোনার হরিণ’ ও কালোবাজারি চক্র অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও গুরুতর অভিযোগ— ✔ কাউন্টারে কেবিন টিকিট নেই ✔ কিন্তু দালালদের কাছে দ্বিগুণ দামে পাওয়া যাচ্ছে ✔ অফিস স্টাফদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ একাধিক যাত্রীর ভাষ্য— “কাউন্টারে নেই, কিন্তু টাকায় সব পাওয়া যায়।”  যাত্রীদের অভিজ্ঞতা যাত্রীদের মতে— স্বাভাবিক দিনে সিঙ্গেল কেবিন: ১,০০০ টাকা → ঈদে ১,২০০ ডাবল কেবিন: ২,০০০ → ২,৫০০ টাকা তাদের অভিযোগ— 👉 চাহিদা বাড়লে ভাড়া কমানোর বদলে বাড়ানো হচ্ছে 👉 এতে মানুষ বিকল্প হিসেবে সড়কপথে ঝুঁকছে  লঞ্চ মালিকদের যুক্তি: ‘লোকসান পুষিয়ে নেওয়া’ লঞ্চ মালিক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি— সারা বছর লোকসান যাত্রী কম থাকায় কেবিন খালি থাকে ঈদ মৌসুমেই আয় হয় তাদের বক্তব্য— 👉 “স্বাভাবিক সময়ে কম ভাড়া নেওয়ায় এখন বেশি মনে হচ্ছে” 👉 “ঈদে কিছুটা বেশি না নিলে ব্যবসা টিকবে না” পদ্মা সেতুর প্রভাব লঞ্চ মালিকদের মতে— পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী কমেছে লোকসান বেড়েছে অনেক লঞ্চ বিক্রি পর্যন্ত করতে হয়েছে  ঢাকা-চাঁদপুর রুট: ১০% ছাড়েও অনিয়ম সরকার ঈদ উপলক্ষে ১০% ভাড়া কমানোর নির্দেশ দিলেও— বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি যাত্রীদের অভিযোগ— আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে ছাড়ের কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে— 👉 “আগেই কম নেওয়া হতো, এখন সেটার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে”  নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি বিআইডব্লিউটি সূত্রে জানা গেছে— অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের লিখিত অভিযোগ কম কিন্তু মাঠপর্যায়ে নজরদারি দুর্বল ভাড়া কাঠামো নিয়েও কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে  মূল সমস্যা কোথায়? এই পুরো পরিস্থিতিতে তিনটি বড় সমস্যা স্পষ্ট— ১. ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব সরকারি ভাড়া বনাম বাস্তব ভাড়া—দুটি আলাদা বাস্তবতা ২. কালোবাজারি সিন্ডিকেট অফিস-দালাল যোগসাজশের অভিযোগ ৩. দুর্বল নজরদারি আইন থাকলেও প্রয়োগ নেই   ঈদ যাত্রা শুধু উৎসবের আনন্দ নয়—বরং অনেক যাত্রীর জন্য ভোগান্তির নাম। নৌপথে ভাড়া বৃদ্ধি, টিকিট সংকট এবং কালোবাজারি রোধে কার্যকর মনিটরিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এই চক্র ভাঙা কঠিন। যাত্রীদের প্রশ্ন এখন একটাই—  “নিয়ম আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন কোথায়?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
পদ্মায় বাসডুবি
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহত ২৫, নিখোঁজ ৮

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। এখনও অন্তত ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে বাসটি ডুবে যায়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৪০-৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী ছিলেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। উদ্ধারকারী দল বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জন এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিদের উদ্ধার করা ১ জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুও রয়েছে। ইতোমধ্যে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ২১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে এখনও প্রায় ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট, ১০ জন ডুবুরি, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।a

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
খারগ দ্বীপ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে! ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড খ্যাত খারগ দ্বীপের দখল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করতে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের দখল কিংবা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনাধীন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। শুক্রবার এই বিষয়ে অবগত অন্তত চারটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ওই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যতক্ষণ না তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে পারছেন, ততক্ষণ যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব নয়। এদিকে, এই সঙ্কটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ দখল করার যে কোনো অভিযান মার্কিন সেনাদের সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনতে পারলে কেবল এই ধরনের অভিযান শুরু করা হতে পারে।   খারগ দ্বীপ দখল কিংবা অবরোধের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে বলছে, ‌‌‘‘ইরানিদের আরও দুর্বল করতে আমাদের প্রায় এক মাস ধরে হামলা চালাতে হবে। এরপর দ্বীপটি দখল করে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। যা আলোচনার টেবিলে আমাদের সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে।’’ এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে আরও সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন খুব শিগগিরই আরও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ‘‘তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এটি নিশ্চিত করতে খারগ দ্বীপ দখল করতে হয়, তাহলে তা-ই করা হবে। যদি তিনি উপকূলীয় আগ্রাসনের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিও হবে। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’’   মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন বলেছেন, স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নাকচ না করে ট্রাম্প ‘বিচক্ষণতার’ পরিচয় দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে এই অভিযানের পক্ষে কি না, তা স্পষ্ট করেননি। খারগ দ্বীপ ইরানের তেল শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি দখল করলেই যে তেহরান ট্রাম্পের শর্তে শান্তি চুক্তিতে রাজি হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘‘এই ধরনের মিশন মার্কিন সৈন্যদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি আমরা খারগ দ্বীপ দখলও করি, তারা অন্য প্রান্ত থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। এমন নয় যে আমরা তাদের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করি।’’ মন্টগোমারি বলেন, আরও দুই সপ্তাহ হামলা চালিয়ে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত তাদের ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাবে; যার ফলে স্থল অভিযানের প্রয়োজন পড়বে না। চলতি মার্চের শেষের দিকে চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু হরমুজ প্রণালির এই সঙ্কট তাকে সফর পিছিয়ে দিতে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করতে বাধ্য করেছে। গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী খারগ দ্বীপের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘‘ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা দিতেই ওই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে এটি ছিল দ্বীপটিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে স্থল অভিযানের ভিত্তিপ্রস্তুত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।’’ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আমরা যেকোনও সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি একে একটি ছোট দ্বীপ বলি; যা একদমই অরক্ষিত। আমরা পাইপলাইনগুলো বাদে বাকি সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছি। পাইপলাইনগুলো রেখেছি। কারণ সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যেত।’’ স্থল সেনা মোতায়েন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছেন না। তবে রহস্য রেখে তিনি বলেন, ‘‘যদি পাঠাতামও তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই আপনাদের বলতাম না।’’ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি ইউনিট ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সূত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মেরিন সেনাদের খারগ দ্বীপ ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলের দূতাবাসগুলো থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও করতে পারেন মেরিন সেনারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
আল-আকসায়  মুসল্লিদের ওপর হামলা
আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজে বাধা, টিয়ার গ্যাস–স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের অভিযোগ

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়তে মুসল্লিদের বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। নামাজ পড়তে গেলে তাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে অনেক মুসল্লি আশপাশের রাস্তায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মুসল্লিদের যতটা সম্ভব কাছাকাছি স্থানে জড়ো হয়ে নামাজ পড়ার আহ্বান জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান শহরের বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অনেক জায়গায় মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, আল-আকসা মসজিদ গত প্রায় ২১ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঈদের দিনও মুসল্লিদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জেরুসালেমের বিভিন্ন চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক ফিলিস্তিনি মসজিদে যেতে পারেননি। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
সৌদির দুটি তেল পরিশোধনাগারে ইরানের হামলা
সৌদি আরবের তেল পরিশোধনাগারে হামলা: ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সামরিক জবাবের হুমকি

সৌদি আরবের দুটি তেল পরিশোধনাগারে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রিয়াদে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। এ সময় তিনি জানান তাদের দুটি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তিনি ইরানের এই হামলাকে ‘ভুল হিসাব’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ইরানকে নিজেদের হিসাব করতে হবে। কারণ এসব হামলায় তাদের কোনো উপকারই হবে না।   ইরানে হামলা চালানোর হুমকি সৌদি আরবের ইরান গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে বুধবার দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াদে সাংবাদিকদের বলেছেন, “ইরান তাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনাকে বিশ্বাস করে না। এর বদলে তারা প্রতিবেশীদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব চাপ কাজে দেবে না।” “সৌদি আরব চাপের কাছে হার মানবে না। এমনকি এসব চাপ হিতে বিপরীরতও হতে পারে… রাজনৈতিকভাবে, আমি বিশ্বাস করি নৈতিকভাবে এবং নিশ্চিতভাবে আমরা যেটি আগেও বলেছি, সামরিকভাবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।” এদিকে রাজধানী রিয়াদে একাধিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখান থেকে বের হয়েই তিনি এমন হুমকি দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
People watch smoke rising from an Israeli attack in the central Beirut neighbourhood of Bashoura
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি, পাল্টা কঠোর সতর্কবার্তা তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে ।        ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................       মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক তৎপরতার কারণে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা করা হয়, তাহলে “পুরো অঞ্চল আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। লারিজানি বলেন, “যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে এবং সেই অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকা মার্কিন সেনাদের খুঁজে বের করা সহজ হয়ে যাবে।” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি: এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব দ্রুতই ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। মারিল্যান্ডে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের পুরো বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারি। এবং সেটি পুনর্গঠনে তাদের ২৫ বছর সময় লাগবে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ” করে ফেলেছে। তার ভাষায়, “তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমান বাহিনী নেই, কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা নেই। আমরা সেই আকাশে মুক্তভাবে চলাচল করছি।” যুদ্ধের সূচনা: ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত ১২ দিনে ইরানে প্রায় ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে— ৯০টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এর মধ্যে ৬০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ৩০টির বেশি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তা এই সংকটের মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম সরকারি বিবৃতি দেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। মোজতবা খামেনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিরোধ চলবে।” হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে— “ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে আমরা এই পথ দিয়ে এক লিটার তেলও যেতে দেব না।” যদি এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে— হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্য: তেলের দাম বাড়লে লাভ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক। তাই তেলের দাম বাড়লে আমরা অনেক টাকা উপার্জন করি।” তবে তিনি আরও বলেন, মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তার ভাষায়, “আমাদের বড় লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।” মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে— ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া এই গোষ্ঠীগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব শক্তিগুলোর উদ্বেগ এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া। তাদের মতে, যুদ্ধ বিস্তৃত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে— ১. সীমিত যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সামরিক হামলা চলতে পারে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।   ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্ব এখন নজর রাখছে—এই সংঘাত কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: আইআরজিসির প্রভাব, বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা।পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় থাকা মোজতবা খামেনি  এখন দেশটির সর্বোচ্চ প্রধান।  ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................     মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরান-এ বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দেশটির সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এসেম্বলি অব এক্সপার্টস তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচিত রয়েছে যে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ও সমর্থন তার নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জন্ম ও শিক্ষাজীবন ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম নেন মোজতবা খামেনি। তিনি ছিলেন ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির সন্তান। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষকতাও করেন। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উত্থান মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর একজন প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাবার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি শক্তিশালী যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি ছিলেন ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘পাওয়ার ব্রোকার’। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। বিতর্ক ও সমালোচনা ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনি-এর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, তা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টে কোম সেমিনারির সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যমে তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সমালোচকদের মতে, প্রয়োজনীয় উচ্চতর ধর্মীয় পাণ্ডিত্য ও স্বীকৃতি ছাড়া এই উপাধি ব্যবহার ছিল তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পথ সুগম করার কৌশল। নতুন নেতৃত্ব, কঠিন সময় বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তার সামনে রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় থাকলেও, এবার তাকে প্রকাশ্য নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে আইআরজিসি ও ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার সমন্বয়ের ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
মশার ভয়াবহ বিস্তার
মশার ভয়াবহ বিস্তার: পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা

রাজধানী ঢাকায় মশার তীব্র উপদ্রব জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শহরের ঘরবাড়ি, সড়ক ও আবাসিক এলাকার প্রায় প্রতিটি স্থানে মশার ঘনত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মার্চে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির। গবেষণায় আরও জানা যায়, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বমান অনুযায়ী, ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই তা ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৮৫০-এ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। মশা বৃদ্ধির তিন প্রধান কারণ গবেষকদের মতে, এ বছর মশার প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে— ১. কম তীব্র শীত ও আগাম শীত বিদায় — ফলে মশার বংশবিস্তার দ্রুত শুরু হয়েছে। ২. নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা — অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রজননের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ৩. প্রশাসনিক দুর্বলতা ও তদারকির ঘাটতি — দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতায় মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত গত ৫ আগস্টের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতিতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে যায়। করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কিছুটা কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংসে তেমন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না। নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে মিরপুরের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, আগে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা মাঠপর্যায়ে তদারকি করতেন। এখন সেই জবাবদিহি না থাকায় মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বাড্ডার বাসিন্দা জুনায়েদ জানান, আগে মশারি ছাড়া ঘুমানো যেত, এখন স্প্রে করেও রেহাই মিলছে না। শেওড়াপাড়ার পারভিন তালুকদার বলেন, আগে সন্ধ্যায় মশা বেশি থাকত, এখন দিনভর উপদ্রব চলছে। দরজা-জানালা খোলা রাখার সুযোগ নেই। নতুন সরকারের নির্দেশনা নতুন নির্বাচিত সরকার ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত প্রশাসকদের মশক নিধন, বনায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালিত হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং ডিপো পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চলতি বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়— কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ খাল-নালার পরিষ্কার নির্মাণাধীন ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো এসব নিশ্চিত না হলে রাজধানীতে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। মার্চ মাস ঘনিয়ে আসছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাজধানীবাসীর জন্য সামনে অপেক্ষা করছে আরও দুর্বিষহ সময়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়াই সময়ের দাবি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
১০ উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ উপদেষ্টার দায়িত্ব বণ্টন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া ১০ উপদেষ্টার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে— মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (মির্জা আব্বাস) – রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান – রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ – রাজনৈতিক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ – জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর – অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে নিম্নরূপ— হুমায়ুন কবির – পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম – প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জাহেদ উর রহমান – পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক দায়িত্ব মাহ্দী আমিন – শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রেহান আসিফ আসাদ – ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা তাঁদের নির্ধারিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি রিপোর্ট করবেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমন্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
সরকারের বড় প্রশাসনিক রদবদল: ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, ৩ সচিব সংযুক্ত

দেশের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চুক্তি বাতিল হওয়া সচিবরা হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান এস এম আকমল হোসেন কাইয়ুম আরা বেগম বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। তিন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত এর আগে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। প্রশাসনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে চলমান সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে ধারাবাহিক রদবদল ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ঘটনা নজরে এসেছে। সর্বশেষ এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন সমন্বয় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
ঢাকা-খুলনা-সিলেটসহ ৬ সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের মোট ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশন-এ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশন-এ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন-এ মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন-এ প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শওকত হোসেন সরকার। অধ্যাদেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) অনুসারে করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন প্রশাসকরা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Admin ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0