ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মারা গেছেন। ইরানে ৭ দিনের ছুটি ও ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মেয়ে এবং নাতিও মারা গেছেন বলে জানা যাচ্ছে। চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে...............................
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের ওপর “ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা” শুরু করেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দেশজুড়ে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। উভয় দেশই বেসামরিক বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের একটি সার্ভিস সেন্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। রাজধানী মানামাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
তেহরানে এখন ভোরের সূর্য উঠছে, এর মধ্যেই গত কয়েক ঘণ্টা ধরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের রাজধানী শহরটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বোর্মা বর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
ঘণ্টা খানেক আগে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে দেখা যায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং সেগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।
ওই পোস্টে বলা হয়েছে: “নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমান্ড এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
ওদিকে, আইডিএফ সবশেষ বলেছে, “ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানজুড়ে ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের আওতায় থাকা ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, শাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টার্গেট এবং সামরিক কমান্ড সেন্টার।”
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার সকালে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময়েই নিহত হয়েছেন।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনা করে এর আগেই বিবিসি ভেরিফাই লিডারশিপ হাউজ কম্পাউন্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল।
এটিই তেহরানে খামেনির কার্যালয় ছিল।
ইসলামিক রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির সাথে যোগসূত্র আছে এমন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যেসব খবর দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’।
বিবিসি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর থেকে একটি বিবৃতি পেয়েছে, যেখানে সতর্ক করা হয়েছে যে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে হামলা চালাবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "অধিকৃত অঞ্চল এবং আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক আক্রমণাত্মক অভিযান আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হবে।"
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
কান্নাবিজড়িত কন্ঠে এক ঘোষণায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর মি. খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একটি বিবৃতি প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন যে ইরানের বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন।
তবে ওই বিবৃতিতে ৮৬ বছর বয়েসী মি. খামেনি কিভাবে মারা গেলেন এবং কে তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে সেসব নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে কে থাকবেন তা নির্ধারণ করেন বিশেষজ্ঞমণ্ডলী বা অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস নামে ৮৮ জন ধর্মীয় নেতার একটি পরিষদ।
ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতোল্লা আলি খামেনেই দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে আসীন দ্বিতীয় ব্যক্তি।
এই মণ্ডলীর সদস্যদের নির্বাচন করা হয় প্রতি আট বছর অন্তর। কিন্তু কারা গোষ্ঠীর সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন তা নির্ভর করে দেশটির গার্ডিয়ান কাউন্সিল নামে একটি কমিটির অনুমোদনের ওপর। আর এই গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচন করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাই ও নাতিও মারা গেছেন।
এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সাথে যোগসূত্র থাকা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির একজন পূত্রবধুও ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মি. খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানায়।
ওদিকে, বিবিসির মিডিয়া পার্টনার সিবিএস নিউজ গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, প্রায় ৪০ জন ইরানি কর্মকর্তা ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছে।
তবে, এটা পরিস্কার নয় যে ওই কর্মকর্তারা একাধিক জায়গায় নাকি একটি জায়গাতেই অবস্থান করছিলেন।
তারা দাবি করেছে মি. খামেনি ছাড়াও ইরানের বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হামলায় মারা গেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
কান্নাবিজড়িত কন্ঠে এক ঘোষণায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক দেশটিতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণার কথা জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর মি. খামেনি মারা গেছেন বলে দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ ছিলেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি ফার্সিকে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম তেহরানে নতুন করে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তাদের সংবাকর্মীরা তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরের দুটি এলাকায় এই মিসাইল হামলার খবর পাওয়া গেছে। বুশেহরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ তেহরানে নতুন বিস্ফোরণের খবরও দিয়েছে।
তবে, বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছে যার জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা শুরু করে।
ইরানের ইসলামি রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, কৌশলগত গুরুত্বের কথা চিন্তা করে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত একটি নৌ চলাচলের পথ বা চ্যানেল।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আইআরজিসির পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, যে কোন ধরনের জাহাজকে নতুন করে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন বা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, তারাও একাধিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই সর্তকবার্তার কথা জানতে পেরেছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টানেল। বিশ্বে উৎপাদিত তেল এবং গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই প্রণালি দিয়েই পরিবহণ করা হয়।

শনিবার সকালে তেহরানে ইসরায়েলি হামলার পর সেখানকার একটি স্যাটেলাইট ইমেজ সংগ্রহ করেছে বিবিসি ভেরিফাই।
যাতে দেখা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় বা লিডারশিপ হাউজের একটি অংশে বেশ ক্ষয়ক্ষিত হয়েছে।
হাই রেজুলেশনের এই ছবিটি ধারণ করেছে এয়ারবাস। এতে দেখা যায় ওই জায়গায় ভবনগুলো পোড়া অবস্থায় রয়েছে, ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।
ছবির অবস্থান সকালে তেহরানে ধারণ করা যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিল রয়েছে।
একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শনিবারের হামলায় ইরানের একাধিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।।
তিনি জানান, অভিযানের সময় একই সঙ্গে তিনটি স্থানে হামলা চালানো হয়, যেখানে ইরান সরকারের সদস্যরা জড়ো হয়েছিলেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এই হামলা চালায়।
ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রয়োজনে আবারো হামলা চালানোর জন্য প্রস্তত আছে আইডিএফ।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড বা আইআরজিসি নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আজকের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ইরানের ভেতরে প্রতিক্রিয়া ছিল নানামুখী; কোথাও আতঙ্ক ও ভয়ের দৃশ্য ধরা পড়েছে, আবার কোথাও সরকার পতনের সম্ভাবনায় আনন্দের প্রকাশও দেখা গেছে।
হামলা শুরু হতেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কিছু ভিডিও, যেখানে বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি লোকজনকে আতঙ্কে দৌড়াতে দেখা যায়; পেছনে শোনা যাচ্ছিল চিৎকার ও কান্নার শব্দ।
অন্যদিকে, সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই যে সরকার পরিবর্তন সম্ভব—এমন বিশ্বাস যাদের আছে, তাদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি— এমনকি আনন্দ ও উদযাপনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
অনেক ইরানি সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রত্যাশা করছিলেন, কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ভিন্নধর্মী।
একজন ইরানি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমি যদি মারা যাই, ভুলে যেও না যে আমরাও আছি— আমরা যারা যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করি, আমরা যারা কেবল হতাহতদের পরিসংখ্যানের সংখ্যায় পরিণত হব”।
আরেকজন লিখেছেন, “এই যুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ানো ইসলামি একনায়কতন্ত্র ধ্বংস হোক। আমরা তো ইতোমধ্যে তিনটি যুদ্ধ পাড়ি দিয়েছি”।
গত জানুয়ারিতে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী বেসামরিক দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা পাওয়া বহু ইরানি এখন বলছেন, তারা সরকার পরিবর্তনকে স্বাগত জানান— এমনকি তা যদি সামরিক হস্তক্ষেপ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমেও আসে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে কেবল বিমান হামলা দিয়ে হয়তো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না এবং সতর্ক করে দিচ্ছেন যে এতে সরকার টিকে গেলে নাগরিকদের প্রতি তার আচরণ আরও বর্বর হয়ে উঠতে পারে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন কর্মচারী সামান্য আহত হয়েছেন এবং টার্মিনাল একটি সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
তারা নিশ্চিত করেছে যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ জরুরি পদ্ধতি অনুসারে ঘটনাটি মোকাবিলা করেছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যাত্রী ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্ক সময় শনিবার বিকাল ৪টায়, তেহরানের সময় রোরবার দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে এই বৈঠক হতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস "মধ্যপ্রাচ্যে আজকের সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা" করার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
"এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে," মি. গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন।
তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার ইসরায়েলের হামলায় দু’য়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বেশিরভাগ ইরানি কর্মকর্তা এখনো নিরাপদ এবং জীবিত আছেন, তবে এর বাইরে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।
মি. আরাঘচি জানিয়েছেন যে, ইরানের কাছে এমন অস্ত্র রয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম এবং হামলা বন্ধ না হলে তারা শক্ত হাতে জবাব দেবে।
তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তাদের আলোচনা হয়েছে; এর পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং কুয়েতসহ আঞ্চলিক দলগুলির সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
আমরা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে একটি ছবি পেয়েছি যাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ফেয়ারমন্ট দ্য পাম হোটেলের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে দুবাইতে একটি হামলা চালানো হয়েছে। ইরান ঠিক কী লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়, তবে দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের একটি নতুন ঢেউকে বাধা দিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগেও শনিবার আরেক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে।
তখন কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যা দৃশ্যত এই অঞ্চলের বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছে।
তখন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে হামলায় কোনো ক্ষতি হয়নি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা ইরানি শাসনব্যবস্থার উপর "বড় ধরনের হামলা সম্পন্ন করেছে"।
"পশ্চিম ইরানের কেরমানশাহ এলাকায় অবস্থিত একটি উন্নত এসএ-৬৫ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে একটি হামলা পরিচালিত হয়েছিল," আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ইরানি আকাশসীমার উপর ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অভিযানের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও বাড়ানোর জন্য, আইআরজিসির (বিপ্লবী গার্ড) সক্ষমতা হ্রাস করার জন্য এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি প্রতিহত করার জন্য এই হামলা চালানো হয়েছিল"।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা ও সেনাপ্রধান নিহত হওয়ার যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদে আছেন বলে এক্স পোস্টে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন তার নির্বাহী ডেপুটি মো. জাফর কিয়ামফানা।
আর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে লিখেছেন, “এইবারও তাদের হত্যাচেষ্টা সফল হয়নি”।
ইরানের সেনাবাহিনী তাদের কমান্ডার আমির হাতেমির মৃত্যুর খবর প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কোয়ালিবাফ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিও অক্ষত আছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, তেহরানে তারা যে সব জায়গায় হামলা চালিয়েছে সেখানে সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তার জড়ো হয়েছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণকে "সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বেআইনি ও অবৈধ" বলে অভিহিত করেছেন।
এনবিসিকে দেওয়া তার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, ইরানের “প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন”।
মি. আরাঘচি বলেন, “আমরা সম্ভবত এক বা দুইজন কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু এটি কোনো বড় সমস্যা নয়"।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র মুজতবা খালিদি বলেছেন, ইরানের প্রায় ২০টি প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব হামলার পর আহতদের জন্য ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইরানের বিভিন্ন শহর থেকে ধোঁয়া ওঠা বা বিস্ফোরণের অসংখ্য ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে যে ইরানের উচিত "লক্ষ্যবিহীন" সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকা।
"আমরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বেসামরিক জীবনের সুরক্ষার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি," ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্টজ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন।
তারা আরও বলেছেন যে তারা ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চান।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য একটি জরুরি বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেতারা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য "মারাত্মক পরিণতি" বয়ে আনবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা হামলার পর ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ বিমানের এক বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি এই নির্দেশনা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, "বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, দুবাই, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের সকল গন্তব্যে বিমানের সকল ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে"।
বিজ্ঞপ্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলো গমন করতে ইচ্ছুক সকল যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ না করে বিমানবন্দরে না আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ১৩৬৩৬ নম্বরে কল করার অনুরোধ জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
ইরানের রাষ্ট্রীয় নিউজ এজেন্সি আইআরএনএ’র খবর অনুসারে, মেয়েদের একটি স্কুলে হামলার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তারা দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করেছে।
আলী ফরহাদি সংস্থাটিকে বলেছেন যে আজ স্কুলটি "তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু" ছিল। তিনি আরও বলেছেন যে হামলায় আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন।
মুখপাত্র আরও বলেছেন যে অন্যান্য সম্ভাব্য হতাহতদের সন্ধানের জন্য স্কুলটি ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হচ্ছে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব কাউন্টিতে মেয়েদের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হামলার শিকার হয়।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আল বুসাইদি, যিনি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন, শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ওয়াশিংটনকে এমন এক যুদ্ধে “আর জড়িত না হওয়ার” আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্স-এ পোস্ট করা বার্তায় তিনি বলেছেন, “আমি হতাশ। সক্রিয় ও গুরুতর আলোচনাগুলো আবারও দুর্বল হয়ে গেছে”।
তিনি আরও বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করছি আর বেশি জড়িত না হতে। এটি আপনাদের যুদ্ধ নয়”।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় ইরান–মার্কিন আলোচনার তৃতীয় দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “আমরা ভালো অগ্রগতি পেয়েছি” এবং “এটি ছিল মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আমাদের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে গুরুতর আলোচনা”।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, শনিবার সকালে আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
সেগুলোকে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। হামলার পরে ঘাঁটির পাশে কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।
দেশটির সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, সশস্ত্র বাহিনী কুয়েতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
সেনাবাহিনী কুয়েতের বাসিন্দাদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কোনো ধরনের হামলার হুমকি আছে এমন বস্তু দূরে থাকা এমন এমন কিছু নজরে আসলে সে বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী দেশ জর্ডান জানিয়েছে যে তাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আসা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
একজন কর্মকর্তা এএফপি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে কোনো রকম হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, কেবল বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন এবং ফোন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ–কে একজন স্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে শনিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব কাউন্টিতে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছে।
গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর বলেছেন, আরও ৪৮ জন আহত হয়েছে এবং শাজারে তাইয়্যেবা মেয়েদের স্কুলে হামলার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ছে।
বিবিসি স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি—কারণ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে ইরান সাধারণত ভিসা দেয় না, যা দেশটির অভ্যন্তরে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহকে কঠোরভাবে সীমিত করে।
এদিকে, ইরানে “প্রায় সম্পূর্ণ” ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে, এর আগে একটি সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মনে করিয়ে দেন যে ইউরোপীয়নরা ইতোমধ্যে ইরানের ‘হত্যাকারী’ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানাই। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।”
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও। তিনি ইরানের বেসামরিক জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
তিনি উত্তেজনা কমাতে মিত্র ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিস বলেন, তার দেশ সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে। ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করতে না পারে সেই প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। দেশটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে।
সোশাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত এবং রয়টার্স সংবাদ সংস্থার যাচাইকৃত এই ছবিগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, দেশটি আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় তার সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করবে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাঘচি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
তিনি তাদের জানিয়েছেন যে ইরান তার দেশের অখণ্ডতা সুরক্ষায় ও “বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের আওতায় সব প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক সক্ষমতা” ব্যবহার করবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আরাঘচি এসব দেশকে “তাদের স্থাপনাগুলো ও ভূখণ্ডকে” যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার “দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন”।
তেহরান থেকে আসা কিছু ভিডিও যাচাই করে ইরানের রাজধানীর আকাশে বড় বড় ধোয়ার কুন্ডলী দেখা যাচ্ছে।
একটি ব্যস্ত মোড়ে ধারণ করা একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে গাড়ি চলাচল ধীর হয়ে যাচ্ছে, আর চালক ও পথচারীরা আকাশের দিকে তাকাচ্ছে।
ভিডিও ফুটেজটিতে একজনকে বলতে শোনা গেছে, “তারা তীব্র আঘাত করেছে। কোথায় আঘাত করলো? তারা বলছে এটি খামেনির বাড়ি”।
এ ভিডিওটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় লিডারশিপ হাউজ থেকে এক কিলোমিটার দূর থেকে করা হয়েছে বলে আমরা শনাক্ত করেছি।
ভিডিওর কোণ থেকে এটি স্পষ্ট নয় যে ভবনটিকে সরাসরি আঘাত করা হয়েছে কি না।
যাচাই করা আরেকটি ছবিতে একই এলাকায় ঘন, কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী আবাসিক ভবন ও ছোট দোকানের ওপর দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া দেশজুড়ে আরও কিছু জায়গায় হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ থেকে যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রওনা হবেন, এমন যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
আজ শনিবার যে সব ফ্লাইট জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, দাম্মাম, শারজাহ, আবুধাবি, কুয়েত, দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করার কথা ছিল সেগুলোর যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের জেরুজালেম থেকে এক শিক্ষার্থী হামলার সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বিবিসির কাছে তুলে ধরেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেরুজালেমের আশ্রয় কেন্দ্র থেকে এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে জানিয়েছেন, “আমি বলে বোঝাতে পারবো না এই এটা কত ভয়াবহ একটা অনুভূতি। ভেবেছিলাম আমি বুঝি এই ভয়ের অনুভূতি কেমন, কিন্তু এবার অবাক হয়েছি কতটা ভীতিকর এটি”।
তিনি জানান, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর খবর ঘোষণার সময় সরকার যখন প্রথম সতর্কতা জারি করে, তখন থেকেই তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন।
এই সময় তিনি সাইরেনের শব্দ, একাধিক বিস্ফেরণ এবং মুহূমুর্হ বিমান চলাচলের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “এর আগেও এমন পরিস্থিতি হয়েছিল, তবে এবারের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। সেটি যে কতটা ভয়ঙ্কর তা বলে বোঝানো যাবে না। একেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আমাকে বা আমার প্রিয়জনকে হত্যা করতে পারে, বলে বোঝানো যাবে না আসলে এই পরিস্থিতির কথা”।
তিনি আরও বলেন, “আমি এখানে একটু আশ্রয় পেয়েছি, যা অনেক ইসরায়েলির নেই। তবে আমি জানি এই আশ্রয়কেন্দ্র সরাসরি আঘাতের ক্ষেত্রে আমাকে রক্ষা করতে পারবে না। তাই আমি ভাবছি, আমাকে কি অন্য পাবকিল আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হবে-কী না। যেটি এখন যেখানে আছি সেটির চেয়ে আরেকটু বেশি নিরাপদ”।
ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা আর এই সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার মনে হয় তারা নাগরিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে অন্য কারও স্বার্থে কাজ করছে। তারা নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।”
তিনি আরও বলেন, আমি খুব ক্ষুব্ধ ও ভীত সন্তস্ত্র। আমাদের আবারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কেন যেন মনে হচ্ছে এই ক্ষমতার বলি হচ্ছি আমরা”।
বার্তাসংস্থা এএফপি তাদের সংবাদদাতাদের বরাতে জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা বলেছেন, “আমি কমপক্ষে তিনটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। আমার বাড়ি কেঁপে উঠেছিল”।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইরান রেভ্যুলেশনারি গার্ড বা আইআরজিসি বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
এর পাশাপাশি ইসরায়েলে সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকবে।
দোহায় আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি, এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, যা দৃশ্যত এই অঞ্চলের বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছে।
দেশটিরস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে হামলায় কোনো ক্ষতি হয়নি।
আমরা আমাদের ফোনে জরুরি সতর্কতা পাচ্ছি যাতে লোকজনকে ঘরের ভেতরে থাকার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে। রাস্তায় এখনও যানজট রয়েছে, তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় কম।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে আমিরাত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর একজন নিহত হয়েছে।
বাহরাইনে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ঘোষণা করেছে যে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়।
ইরান আগেই ঘোষণা করেছিল, তাদের উপর আক্রমণ করা হলে এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাবে তারা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আজ জানিয়েছে যে রাজধানী আবুধাবিতে একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে একজন নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনা বা আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত প্রকাশ করেনি, যদিও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং এলাকাটি সুরক্ষিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বাহরাইন, কাতারের দোহার পর এ এবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বিষ্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে কাতারের রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম। সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত শোনা গেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই এবং তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে।
ওদিকে বিবিসি আরবি বিভাগ জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইসনা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ যেখানে তার আশেপাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে ‘প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সুস্থ রয়েছেন এবং কোনো সমস্যা নেই’। একই তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি ও ইসনা নিউজ এজেন্সি।
এএফপি জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সাধারণত জনবহুল এমন এলাকায় সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, তবে সেটি কি বিমান হামলার কারণে নাকি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।
তেহরানের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণ এবং বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত শোনা গেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, তারা দেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
একজন কাতারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
উল্লেখ্য, কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটিটি এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আজকের হামলার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের হামলা এমন সময়ে চালানো হয়েছে যখন “আমরা আবারও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি—ইরানি জাতির বৈধতা প্রমাণের জন্য”।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ইসলামিক রিপাবলিকের সশস্ত্র বাহিনী “আগ্রাসীদের কর্তৃত্বের সঙ্গে জবাব দেবে”।
শনিবার এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে যে তারা তেল আবিব এবং বৈরুতের ফ্লাইটগুলো বাতিল করছে।
এর পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের ফ্লাইট সূচী পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এয়ার ফ্রান্সের বিবৃতিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এয়ার ফ্রান্স বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কোম্পানি ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত তেল আভিভ ও বৈরুতগামী এবং সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়েছে, যেসব ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর।
তবে এসব হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
কাতারের রাজধানী দোহায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
বিবিসি আরবি সার্ভিস জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ বা ইন্টারসেপ্ট করার সময় এই শব্দ শোনা গেছে।
ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে ইন্টারনেট সেবা কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নেটওয়ার্ক ডেটা দেখে বোঝা যাচ্ছে ইরানে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট শাটডাউন রয়েছে।
নেটব্লকস আরো জানায়, গত বছর ইসরায়েলি হামলার সময় যেরকম ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল ঠিক একই রকম ভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাহরাইন নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে দেশটির ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (পঞ্চম ফ্লিট) সার্ভিস সেন্টার ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে’।
তবে কারা হামলা করেছে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণ জনগণকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে”।
বাহরাইনেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরের কিছু অংশজুড়ে এই নৌবহর কাজ করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দিক থেকে তাৎক্ষনিক কোনো মন্তব্য আসেনি।
তবে এর আগে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাব্য হুমকির প্রেক্ষিতে মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাহরাইন বলেছে তাদের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জরুরি সাইরেন শোনা যাচ্ছে বলে বারবার সতর্ক করার পর এটি ঘটেছে।
তারা জনসাধারণকে শান্ত থাকার ও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
এর আগে ইসরায়েলের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে।
ইসরায়েলের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে।
তারা বলে, ইরানের বিভিন্ন স্থানে আজকের হামলার পর, ইসরায়েলের উপর "ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা" শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরুর পরপরই ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তেহরানের বাইরে আরো কয়েকটি শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ইরানি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।
একটি ভিডিও বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানান যে, ইরানে চলমান তাদের ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে যেন তারা দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে।
তিনি বলেন, “যখন আমরা শেষ করব, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে। বহু প্রজন্মে এটাই সম্ভবত আপনাদের একমাত্র সুযোগ”।
তিনি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করে বলেন, তারা যদি অস্ত্র ফেলে না দেয়, তাহলে “নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি” হতে হবে, তবে অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের “মুক্তি” দেওয়া হবে।
চলতি জানুয়ারির শুরুতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ৬,৪৮০ জন নিহত হয়েছে—মানবাধিকার কর্মীদের এমন দাবির পর—ট্রাম্প ইরানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
তিনি সতর্ক করেছিলেন যে দায়ীদের “বড় মূল্য দিতে হবে”, এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন যে “সহায়তা পথে রয়েছে”।
তবে কয়েক দিন পর প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান সরকারের কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে “হত্যা বন্ধ হয়েছে” এবং তার দৃষ্টি সরে যায় দেশের পরমাণু কর্মসূচির দিকে—যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
ইরানের শেষ শাহ-এর (সম্রাট) নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “একটি নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্ত আমাদের সামনে রয়েছে”।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের সাহসী জনগণকে যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন এসে পৌঁছেছে। এটি একটি মানবিক হস্তক্ষেপ; এবং এর (হামলার) লক্ষ্য ইসলামিক রিপাবলিক, তাদের দমনযন্ত্র এবং হত্যাযন্ত্র—ইরানের মহান দেশ ও জাতি নয়”।
রেজা পাহলভি বলেছেন, “কিন্তু এই সহায়তা পৌঁছানোর পরও চূড়ান্ত জয় আমাদেরই হবে”।
তিনি আরও বলেন, “রাস্তায় ফেরার সময় ঘনিয়ে এসেছে”।
প্রিন্স রেজা পাহলভি সামরিক বাহিনী ও আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ইরানি জাতির সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল "ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর তৈরি করা হুমকি দূর করতে" একটি অভিযান শুরু করেছে।
“আমি আমাদের মহান বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ঐতিহাসিক নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ৪৭ বছর ধরে আয়াতুল্লাহ শাসকগোষ্ঠী ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিয়ে আসছে,” বলেছেন তিনি।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “তারা আমাদের রক্ত ঝরিয়েছে, বহু আমেরিকানকে হত্যা করেছে এবং নিজেদের জনগণকেও হত্যা করেছে। এই হত্যাকারী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেওয়া যাবে না- যা তাদের সমগ্র মানবজাতিকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। আমাদের যৌথ পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে নেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করবে”।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “সময় এসেছে ইরানের সব জনগোষ্ঠীর—পার্সিয়ান, কুর্দি, আজারি, বালুচি এবং আহওয়াজি—অত্যাচারের শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণ ইরান গড়ে তোলার। আমি ইসরায়েলের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করুন"।
"আগামী দিনগুলোতে ‘অপারেশন দ্য রোর অব দ্য লায়ন’-এ আমাদের সবার ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রয়োজন হবে। আমরা একসাথে দাঁড়াব, একসাথে লড়ব এবং একসাথে ইসরায়েলের চিরস্থায়িত্ব নিশ্চিত করব,” বলেন তিনি।
কাতার এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো শনিবার তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে।
একইসঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর ওই দেশগুলোতে বসবাসকারী আমেরিকান নাগরিকদেরও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই দূতাবাসগুলো দুটি পৃথক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে তারা "তাদের সকল কর্মীদের জন্য একটি আশ্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে"।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব আমেরিকান নাগরিককেও একই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তেহরানসহ কয়েকটি শহরে হামলার পর ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান এবং সেগুলো রুখে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের দিক থেকে আসা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তারা চিহ্নিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “অল্প কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাধারণ জনগণকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী হুমকি প্রতিহত ও প্রয়োজন হলে আঘাত হানার মাধ্যমে হুমকি নিষ্ক্রিয় করার জন্য কাজ করছে”।
এতে বলা হয়, “প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি নির্ভুল বা অপ্রবেশযোগ্য নয়, তাই জনগণের জন্য হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অব্যাহতভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে”।
তেহরান ও আরও কয়েকটি শহরে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করবে।
তিনি ইরানের জনগণের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের মুক্তির সময় নিকটে"।
বিস্তারিত আসছে...
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান সরকার হরমুজ প্রণালিতে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজের জন্য চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্দর অভিমুখে আসা জাহাজগুলো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে সরবরাহ হয়। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমতির মানে এই নয় যে প্রণালিটি সকল জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। বিশেষভাবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানি সচল রাখার উদ্দেশ্যেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে, ইরানের এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করা একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুবাই কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার সংঘটিত এই হামলার পরপরই নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোরে আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়। জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রু সদস্য সবাই নিরাপদ রয়েছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, ‘আল-সালমি’ নামের জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) জানিয়েছে, হামলার কারণে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন যে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে এক প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কেপিসি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।