Brand logo light

ইসরায়েল

ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা
হরমুজ থেকে হোয়াইট হাউস—এক বিস্তৃত সংঘাতের অদৃশ্য রেখাচিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট  মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা?  সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান,নিহত- ৪০

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সৌদি আরব ও লেবাননকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলীতে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুপুরের দিকে আকাশে চারটি অজ্ঞাত উড়োজাহাজ, কয়েকটি ড্রোন এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। একজন মুখপাত্র জানান, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সবগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে একই সময়ে লেবাননে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় জল, স্থল ও আকাশপথে সমন্বিত হামলায় ৪০ জনের বেশি হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনী অভিযান চালিয়ে হিজবুল্লাহর কয়েকটি সেল ধ্বংস করেছে। এছাড়া নৌবাহিনীও একটি অস্ত্র গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।  জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।  এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর  ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে।  লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।  বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।  বাংলাদেশ: চাপের মুখে  অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।  নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করল ইরান

ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বেসামরিক বিমানে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার-এর একটি বিমান নয়াদিল্লিতে মানবিক ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয়। তেহরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের দিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা—যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য ছিল—আনার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং তাদের বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স গোপনে ব্যবহার করত। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে সেগুলো সাধারণ বেসামরিক বিমান বলেই দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল আরও অভিযোগ করেছে, ইরান বাণিজ্যিক ফ্লাইট—বিশেষ করে মাহান এয়ারের মতো সংস্থা—ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৮ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার এটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইসরাইলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের হুঁশিয়ারি: একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে সেনাবাহিনী সংকটে

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, একাধিক ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধের চাপ ও চরম জনবল সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ার পথে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীরসহ একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে সেনাবাহিনী কাজ করছে, যেখানে দিন দিন সেনাসদস্যের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে জামির বলেন, “সামরিক বাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যার প্রধান কারণ চরম জনবলসংকট।” তিনি আরও বলেন, রিজার্ভ বাহিনী এই চাপ সহ্য করতে পারবে না। জামির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কট্টর অর্থোডক্স বা ‘হারেদি’ ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা সেনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বৈঠকে বলেন, “আমি ১০টি লাল পতাকা দেখাচ্ছি।” পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগে থেকেই চাপে থাকা সেনাদের ওপর আরও ধকল তৈরি করছে। জামির সতর্ক করে বলেন, এই চাপ অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী এমনকি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তাদের মিশনগুলো সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ফ্রন্টে চাপ বেড়ে যাওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও রিজার্ভ নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর জ্বালানি বাণিজ্যে বৈশ্বিক সংকট

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের অবরোধ, হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ভৌগোলিক অবস্থান, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক সুবিধা পারস্য উপসাগরের এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। এই ‘চোকপয়েন্ট’ পরিস্থিতি ইরানকে সহজে নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়। ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় শক্তি তার অপ্রচলিত সামরিক কৌশল। ড্রোন, দ্রুতগামী ছোট নৌযান, বিস্ফোরকবোঝাই মানববিহীন নৌযান এবং সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে তারা বড় নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জাহাজ থেকেও মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা বৃদ্ধি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নতুন করে ইসরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হিজবুল্লাহ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর এবং তেল আবিবের উত্তরে অবস্থিত একটি সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে চালানো হয়েছে। কিরিয়া অঞ্চলটি ইসরায়েলের সামরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দক্ষিণ লেবানন সীমান্তেও পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে পরেছে সম্ভাব্য বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলে সাইরেন আতঙ্ক
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক: ইরানের হামলা, লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে মানুষ

হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আতঙ্ক। মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে শুরু করেন। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্ত থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় অন্তত সাতটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে সম্ভাব্য রকেট হামলার প্রেক্ষিতে আরও ছয়টি সতর্ক সংকেত পাঠানো হয়। আইডিএফ জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অভেদ্য নয় এবং যেকোনো সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেল আবিব এলাকায় একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ বা ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চীন ইতোমধ্যে ইরানে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মঙ্গলবার চীন তাদের নাগরিকদের ইসরায়েল ত্যাগ করার নির্দেশও দিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, লেবানন ও গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ‘কোনো ধরনের সংযম ছাড়াই’ পাল্টা আঘাত হানা হবে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিন ও লেবাননে বেসামরিকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের ভাষায় ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’। তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলা অব্যাহত থাকলে উত্তর ইসরায়েল ও গাজা উপকূলীয় এলাকায় ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হবে এবং ভবিষ্যৎ অভিযানে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখা হবে না। এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মোহসেন রাজাই যুক্তরাষ্ট্রকেও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে মার্কিন নৌযানও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - ডোনাল্ড ট্রাম্প
খামেনিকে টার্গেট করে গোপন ফোনালাপ! ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক পরিকল্পনা ফাঁস

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গোপন এই আলোচনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা নেতৃত্ব ধ্বংসের পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।  গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার সুযোগ সূত্র অনুযায়ী, উভয় নেতা আগেই গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে জানতে পারেন—খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে একটি কমপ্লেক্সে বৈঠকে বসবেন। এতে তারা একসঙ্গে অবস্থান করায় হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন। তবে পরবর্তীতে নতুন গোয়েন্দা তথ্য জানায়, বৈঠকের সময় এগিয়ে আনা হয়, যা হামলার সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। নেতানিয়াহুর কৌশলগত যুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান—খামেনিকে হত্যার এমন সুযোগ আবার নাও আসতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পূর্বে ইরানের কথিত হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-এর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে।  ট্রাম্পের অবস্থান সূত্র বলছে, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ধারণায় সম্মতি দিলেও কখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও নেননি। তবে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছিল, যা সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।  হামলা ও খামেনির মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শুরু হয় প্রথম দফা বোমা হামলা। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল— ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস নৌবাহিনী অকার্যকর করা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রোধ  যুদ্ধের বিস্তার ও প্রতিক্রিয়া এর আগে জুন মাসে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়, পরে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা।  সিদ্ধান্তে প্রভাবক ঘটনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে— ভেনেজুয়েলায় সফল মার্কিন অভিযান ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয়।  ঝুঁকি ও পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্টকম সতর্ক করেছিল—খামেনিকে হত্যা করলে আরও কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই আশঙ্কা আংশিক সত্যি হয়েছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায়— মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হাজারো বেসামরিক হতাহত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি জ্বালানি সংকট  বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে। ইরানে রেভল্যুশনারি গার্ডের কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল শোধনাগার
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে শোধনাগারে পড়ে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত বছর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালেও হাইফার এই শোধনাগারটি হামলার শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে, কুয়েতেও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ তেল শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি)। এর আগে মিনা আল আহমাদি শোধনাগারেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র, যার একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিনের ব্যবধানে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি ‘জ্বালানি যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
ইরান যুদ্ধ: ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে ইসরায়েল, উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানি হামলার নিন্দা, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত  বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান
মার্কিন ঘাঁটিতে ৩ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে Iran। দেশটির দাবি, হাইপারসনিকসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরজিসির দাবি Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)–এর বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ৩৪তম দফায় এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা শব্দের গতির পাঁচ গুণেরও বেশি গতিতে ছুটতে সক্ষম। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল— Al Dhafra Air Base, আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটি Naval Support Activity Bahrain–এর কাছাকাছি জুফায়ার বিমান ঘাঁটি Ramat David Airbase, ইসরায়েলের সামরিক বিমান ঘাঁটি Haifa Airport, ইসরায়েলের বেসামরিক বিমানবন্দর ইরানের দাবি, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া এদিকে Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বাড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি,হরমুজ প্রণালীতে মাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। এই দুটি ঘটনা একত্রে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম “অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪”। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সামরিক হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল— হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী এটি তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রয়েছে— দেশের প্রধান তেল শোধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলআবিবের কাছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরান দাবি করেছে, তেলআবিবের কাছে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রও তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র সাধারণত ব্যবহৃত হয়— সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট ডেটা ট্রান্সমিশন গোয়েন্দা নজরদারি যদি সত্যিই এই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সম্ভাব্য সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই সংকীর্ণ জলপথ— পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বের তেল পরিবহনের প্রধান রুট বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়? বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব— ১. তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে ২. বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে ৩. শিপিং খরচ ও বীমা বেড়ে যেতে পারে ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বাধা তৈরি হতে পারে ইরানের নৌ কৌশল ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে— নৌমাইন ব্যবহার দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেন “অ্যাসিমেট্রিক নেভাল ওয়ারফেয়ার”। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে— বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি কাতারে বড় বিমানঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা রয়েছে। মূল কারণগুলো হলো— আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধের রূপ না নিলেও প্রায়ই প্রক্সি সংঘাত হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের সাম্প্রতিক টাইমলাইন ধাপ ১ ইরানের তেল ডিপোতে হামলার অভিযোগ ধাপ ২ ইরানের সামরিক প্রতিশোধের ঘোষণা ধাপ ৩ ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি ধাপ ৪ আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ধাপ ৫ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর খবর তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— সংঘাত বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে গালফ অঞ্চলের শিপিং রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে— ১. সীমিত সামরিক সংঘাত চলতে পারে ২. আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে   ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হাইফার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি, আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ— এই তিনটি ঘটনা একত্রে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা: ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি— ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার লক্ষ্য ছিল— ইসরায়েলের হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি মজুদ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনী বলছে, এই হামলা ছিল তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের শিল্প ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতেই এই প্রতিরোধমূলক সামরিক অভিযান।” ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোও দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কৌশলগত অবকাঠামো, বেসামরিক এলাকা নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে নাগরিক ও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত দেশটি এখনো পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন নৌমাইন স্থাপন করা হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে— বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় প্রতিদিন কয়েক কোটি ব্যারেল তেল ও গ্যাস ট্যাংকার চলাচল করে যদি এখানে মাইন পাতা হয় বা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তবে— বৈশ্বিক তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে গালফ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বিপ্লবী গার্ডের হুঁশিয়ারি গত সপ্তাহে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) এক সতর্কবার্তায় বলেছিল— “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো শত্রু জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিকে ধ্বংস করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু সামরিক হুমকি নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। ইরানের নৌ সক্ষমতা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী এবং বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তাদের কাছে রয়েছে— নৌমাইন দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে তারা খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে বড় ধরনের নৌ অবরোধ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে— গালফে মার্কিন নৌবহর কাতার ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি হরমুজ প্রণালীতে সংঘাত বাড়ে, তবে বৈশ্বিক তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো— আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি,জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত,শিপিং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া,গালফ অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা? বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তেজনা দ্রুত বাড়লেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি। তবে তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে— সরাসরি ইরান-ইসরায়েল সংঘাত গালফ রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলোচনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে— ১. সীমিত সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে পারে ২. কূটনৈতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. গালফ অঞ্চলে নৌ নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে তবে যদি হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
আল-আকসা মসজিদ
আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজে ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা

জেরুজালেম: ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে শুক্রবারের জুমা নামাজ বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখিয়ে এই নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দেশটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘আল মুনাসিক’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে বেসামরিক প্রশাসনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিশাম ইব্রাহিম জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেরুজালেমের ওল্ড সিটির সব পবিত্র স্থান শুক্রবার বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল (আল-বোরাক দেয়াল), টেম্পল মাউন্ট এবং চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার অন্তর্ভুক্ত। কোনো ধর্মাবলম্বী বা দর্শনার্থীকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইসরায়েলি শাসক সংস্থার প্রধান সাফ জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার ছাড়া সকলের জন্য প্রযোজ্য। গত শনিবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ওল্ড সিটিতে প্রবেশ সীমিত করেছে। আল-আকসার সিনিয়র ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবরি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, "দখলদার কর্তৃপক্ষ যেকোনো অজুহাতে আল-আকসা বন্ধ করার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।" যদিও ইসরায়েল বর্তমান যুদ্ধকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, রমজান মাসের শুরু থেকেই তারা আল-আকসায় নামাজ আদায়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছিল। এই সংঘাতের ফলে ইতিমধ্যেই দুই দেশে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ১০ জন নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ১,২৩0 জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
ট্রাম্প
ইরানের কৌশল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, ব্যয় বাড়ানো ও ট্রাম্পকে অপসারণের চেষ্টা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মোকাবিলায় ইরান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধ কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ অসহনীয় হয়ে ওঠে। ইরানের এই ‘অসম সহনশীলতা’ কৌশলের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো: যুদ্ধের পরিধি বিস্তৃত করা ইরান জানে যে সরাসরি সামরিক শক্তিতে তারা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়। তাই তাদের কৌশল হলো, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা: বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই পথটি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানো। বিমান চলাচল রুদ্ধ করা: বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ব্যাহত করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগে অচলাবস্থা তৈরি করা। অর্থনৈতিক চাপ ও মুদ্রাস্ফীতি ‘শেষ খেলা’ ইরানের লক্ষ্য হলো জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করা। এতে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, যা ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে। ইরানের ধারণা, আমেরিকান ক্যাজুয়ালটি (সেনা মৃত্যু) এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে ট্রাম্পের ‘এমএজিএ’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকরাই এই যুদ্ধের বিরোধিতা শুরু করবে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করা ইরান চায় তাদের সস্তা ড্রোন এবং মিসাইল ব্যবহার করে ইসরায়েল ও আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল ‘মিসাইল ইন্টারসেপ্টর’ (যেমন- থাড আয়রন ডোম বা প্যাট্রিয়ট) ভান্ডার খালি করে দিতে। এটি এক ধরনের ‘স্ট্যামিনা টেস্ট’ বা ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশ্লেষকদের অভিমত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যালি নাসরের মতে, ইরান গুণগতভাবে শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছে। তাই তাদের কৌশল হলো যুদ্ধ জটিল করে তোলা এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপদ বাড়িয়ে শত্রুর ইচ্ছাশক্তি পরীক্ষা করা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ভায়েজ বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিকের জন্য টিকে থাকাই হলো বিজয়, সেটির জন্য যত চড়া মূল্যই দিতে হোক না কেন।’

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
অত্যাধুনিক অস্ত্র
অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো এখনও ব্যবহার করেনি ইরান: রিপোর্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তারা তাদের সবচেয়ে উন্নত বা অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেনি বলে দাবি করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA)-র বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ করার এবং এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শত্রুপক্ষ যা পরিকল্পনা করেছে, তার চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা প্রথম কয়েক দিনেই আমাদের সব অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম মোতায়েন করার ইচ্ছা রাখি না।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এই বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। চলমান এই সংঘাতের চতুর্থ দিনে এসে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ইরান এখনো তাদের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ গোপন রেখেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ের মোকাবিলার জন্য তা সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫ আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

ইরানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে রোববার (১ মার্চ) ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ৫৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল রেড ক্রিসেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। এ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় শনিবার সকালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।   অন্যদিকে, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এরপর ইসরায়েলও লেবাননে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলা অব্যাহত রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে বলে জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে ইরান
মার্কিন ঘাঁটিই হামলার লক্ষ্য,প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয় : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ অবস্থায় নেই ইরান। আমাদের সামরিক হামলা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (মার্কিন ঘাঁটি) লক্ষ্য করে করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর উচিত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ দেওয়া।  যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক প্রতারণা করেছে অভিযোগ এনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন আলোচনা চলছিল তার মধ্যেও তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মিলিতভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে। অথচ সামরিক সংঘাত এড়ানোর জন্য এ আলোচনা করা হচ্ছিল। এসময় আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ার করে বলেন, উপসাগরীয় যে দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সে ঘাঁটিই ইরানের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাচ্ছি না, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছি। হোটেলে আশ্রয় নেওয়া মার্কিন সৈন্যদের আমাদের লক্ষ্যবস্তু থেকে বাঁচাবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল
হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা: আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ দাবি ইরানের, শতাধিক নিহতের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরানও অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্বিচারে আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা কিংবা সাংস্কৃতিক নিদর্শন—কোনোটিই রেহাই পাচ্ছে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং “আন্তর্জাতিক উদ্বেগের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের” শামিল। চলমান অন্যায়ের প্রতি উদাসীনতা মানবজাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রেড ক্রিসেন্ট ও আইসিআরসি’র অবস্থান ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-র প্রধান পির হোসেইন কোলিভান্দ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-এর প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে শিশু ও শিক্ষা-চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার স্পষ্ট নিন্দা এবং জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী নজরদারি ও সহায়তা কার্যক্রম সক্রিয় করার দাবি জানান। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ বলেন, “যুদ্ধের নিয়ম মানা বাধ্যবাধকতা—পছন্দের বিষয় নয়। হাসপাতাল, বাসাবাড়ি ও স্কুলের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চলবে না।” তেহরানে হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী তেহরান-এ রোববার বড় ধরনের হামলায় কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উত্তর তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল-এর প্রবেশপথে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। হাসপাতালের ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) বিভাগ ধ্বংস হয়েছে এবং সংরক্ষিত কোষ ও ভ্রূণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেন, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া খাতাম আল-আনবিয়া হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট। মোতাহারি ও ভালিয়াসর হাসপাতালেও আংশিক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে। প্রদেশজুড়ে হামলা ও হতাহতের দাবি পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজে অবস্থিত আবুজার শিশু হাসপাতালসহ পূর্ব আজারবাইজান, সিস্তান-বালুচিস্তান ও হামেদান প্রদেশের একাধিক জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। স্কুল ও ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলা তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় নারমাক এলাকার একটি উচ্চবিদ্যালয় বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অন্তত দুই শিশু নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণাঞ্চলের ফার্স প্রদেশের লামের্দে একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে হামলায় একাধিক হতাহতের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। দুই দিন তল্লাশি শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ১৬৫ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে—যাদের অধিকাংশই শিশু। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের বৈশ্বিক জোট এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “শিশু, শিক্ষক ও স্কুল কখনোই সামরিক লক্ষ্য হতে পারে না।” যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, স্কুলে বেসামরিক হতাহতের খবর তারা তদন্ত করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের কোনো হামলার তথ্য নেই। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বেসামরিক নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩, ২০২৬ 0
ইরান কালচারাল সেন্টার
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু: ঢাকায় শোকবই

ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনির স্মরণে শোকবই খোলা হয়েছে। এ বিষয়টি সোমবার (২ মার্চ) ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টার একটি বার্তায় জানিয়েছে। শোকবইয়ে শোকবার্তা লিখে স্বাক্ষর করার জন্য সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শোকবইতে অংশ নিতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।শুক্রবার ও শনিবার এটি বন্ধ থাকবে। শোকবই খোলার ঠিকানা: বাড়ি নম্বর ৭, রোড নম্বর ১১ (পুরাতন ৩২), ধানমন্ডি, ঢাকা-১২0৯। 🕊️ কেন শোকবই খুলা হলো? ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর আসে । এটা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান স্থায়ীভাবে প্রায় ৩৬ বছর রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশটির রাজনীতি, সামরিক ও নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ছিল তার হাতে। হামলাটি ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে তেহরানে পরিচালিত হয় এবং এতে খামেনির সাথে-সাথে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা নিহত হন। 🌍 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ৪০ দিনের শোক পালন ঘোষণা করেছে এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমবেদনা সভা ও শোক র্যালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগে এলোমেলো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিছু দেশে খামেনির মৃত্যুতে সমর্থন ও উদযাপন চলছে, আবার কিছু জায়গায় এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তেজনাপূর্ণ, এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ সমন্বয়ের আহ্বানও করা হচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0