বিএনপি নেত্রী ও ব্রিটিশ নাগরিক জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে বর্তমানে এক নজিরবিহীন স্ক্যান্ডাল ও আইনি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগটি হলো—বিদেশে থাকাকালীন প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়েই ২০০৫ সালে বাংলাদেশে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হওয়া। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। শুধু ধর্মীয় বিধানই নয়, দেশের প্রচলিত আইন ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী এটি ৪৯৪ ধারার অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ। যেহেতু প্রথম বিবাহটি ব্রিটেনে আইনিভাবে নিবন্ধিত ছিল, তাই এর বিচ্ছেদও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু জেবা আমিনা সেই আইনি তোয়াক্কা না করেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটানোয় মুসলিম শরীয়াহ আইনের চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন বিএনপি নেত্রী জেবা আমিনা আহমেদ। এই সামাজিক ও ধর্মীয় চাপের মুখে অবশেষে দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামী নিয়াজ বিন করিমের সাথে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইনত ও ধর্মীয়ভাবে চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে যুগপৎ দুই স্বামীর ঘর করেছেন। তবে কেবল এই অবৈধ বিবাহই নয়, লন্ডনে অবস্থানকালেও তিনি জড়িয়েছিলেন বহুমুখী অনৈতিক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। বিলেতের মাটিতে দেউলিয়া ঘোষিত এই নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক প্রতারণা ও ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে বিএনপির এই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন নীতিহীন কর্মকাণ্ড ও চরম স্বার্থসংঘাতের জেরে বিএনপির এই নেত্রীর ঢাকার দ্বিতীয় সংসারটিও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। আবাসন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের সাথেও তার দাম্পত্য জীবনে চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়, যার পরিণতি ঘটে ২০১৭ সালের বিচ্ছেদের মাধ্যমে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্থলিপ্সা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসভঙ্গের মতো গুরুতর সব অভিযোগে এই সংসারটি ভেঙে যায়। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব নথি ও দালিলিক প্রমাণ বর্তমানে প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা এই রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবনের নৈতিক স্খলন ও স্বার্থান্বেষী আচরণের এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচন করে। অনুসন্ধানের গভীরতর তথ্যে উন্মোচিত হয়েছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার চিত্র। ব্রিটিশ বৈবাহিক আইন অনুযায়ী, নিয়াজ বিন করিম ও জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের সেই দাম্পত্য জীবন কাগজে-কলমে অটুট ছিল। অথচ চরম অনৈতিকতা ও আইনের তোয়াক্কা না করে, প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ ছাড়াই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এসে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ আইনত দুই স্বামীর স্ত্রী হিসেবে অবস্থান করা কেবল ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানের চরম অবমাননাই নয়, বরং এটি একটি দণ্ডনীয় জালিয়াতি। উল্লেখ্য, এখানে তার একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। গভীর অনুসন্ধানে ব্রিটিশ সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জেবা আমিনা আহমেদ জন্মসূত্রে বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। লন্ডনে অবস্থানকালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনি ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ (কোম্পানি নংঃ ০৩৭৭২২৩৮) নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে অতি দ্রুতই সেই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নানাবিধ অনৈতিক ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অংকের ঋণে নিমজ্জিত হয়ে পড়লে এবং ব্যবসায়িক সততা লঙ্ঘিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে তার এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চিরতরে বন্ধ করে দেয়। জেবা আমিনার এই নজিরবিহীন আর্থিক জালিয়াতি ও নীতিহীন ব্যবসায়িক অপতৎপরতা এতটাই প্রকট ছিল যে, ২০০৫ সালে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ তাকে নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিলেতের মাটিতে ঋণের পাহাড় আর প্রথম স্বামীর সঙ্গে চরম তিক্ততার জেরে সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব অবস্থায় বাংলাদেশে পাড়ি জমান জেবা আমিনা। দেশে ফিরেই তিনি চতুরতার আশ্রয় নিয়ে দেশের শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ী ও তৎকালীন কনকর্ডের পরিচালক মোকাররম হোসেন খানের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সম্পর্কের নেপথ্যে থাকা ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র ফুটে ওঠে রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খানের জবানবন্দিতে। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০০৫ সালে তিনি জেবা আমিনাকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় জেবা তার প্রথম স্বামী থেকে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরবর্তীকালে বেরিয়ে আসে এক বিস্ফোরক তথ্য—বিয়ের সময় নয়, বরং এর দুই বছর পর ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নংঃ ৩৪৬/১৭)। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জেবা আমিনা দ্বিমুখী প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। একদিকে বাংলাদেশে তিনি ২০০৫ সাল থেকে মোকাররম হোসেনের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ দেখিয়ে লন্ডনের আদালতে সম্পদের ভাগ চেয়ে মামলা ঠুকে দেন। আইনের চোখে ধুলো দিয়ে এবং চরম নীতিহীনতার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রথম স্বামীর বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিকানাও হাসিল করে নেন, যা তার সীমাহীন ধূর্ততা ও অর্থলিপ্সারই বহিঃপ্রকাশ। প্রথম স্বামীকে আইনত তালাক না দিয়ে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রো বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর দায়রা জজের সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মৌখিক দাবি বা অস্পষ্টতার সুযোগ নেই। যেহেতু আগের বিবাহটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত (রেজিস্ট্রি) ছিল, তাই তার বিচ্ছেদও অবশ্যই আইনি রেজিস্ট্রির মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রথম স্বামী বর্তমান থাকা অবস্থায় এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কেবল দেশের প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘হারাম’ এবং ব্যভিচারের শামিল। জেবা আমিনা আহমেদের এই কর্মকাণ্ডকে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনের চোখে এমন জালিয়াতি ও চারিত্রিক স্খলনের কোনো ক্ষমা নেই। বিচ্ছেদের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে মোকাররম হোসেন খান এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জেবা আমিনা যখন লন্ডন থেকে ফিরে তাকে বিয়ে করেন, তখন জেবা ছিল আকণ্ঠ দেনায় নিমজ্জিত—যা বিয়ের আগে সুকৌশলে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই জেবার আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে; মিথ্যা তথ্য ও সুনিপুণ প্রতারণার জালে জড়িয়ে তিনি মোকাররম হোসেনের মালিকানাধীন কোম্পানি থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন, যা পরবর্তীকালে আর ফেরত দেননি। তার এই চরম অর্থলোভ ও উগ্র আচরণের প্রভাব পড়ে পারিবারিক জীবনেও। মোকাররম হোসেনের সন্তানদের সাথে অমানবিক আচরণ এবং তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছায়। এই অস্থির সময়ের মধ্যেই জেবা আমিনা বিএনপিতে যোগ দিয়ে নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে মোকাররম হোসেনের কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে লিখে নিলেও তার বিপরীতে কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি, যার অকাট্য প্রমাণ কোম্পানির অডিট রিপোর্টে বিদ্যমান। প্রতারণার এখানেই শেষ নয়; বিচ্ছেদের পর তিনি উল্টো কোম্পানি কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়ে এবং ‘স্ট্যাটাস কো’ (স্থিতাবস্থা) আদেশের সুযোগ নিয়ে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট অবৈধভাবে দখল করে আছেন। নিজের দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি মোকাররম হোসেনের স্বাক্ষর জালিয়াতি (ফটোপেস্ট) করে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র আদালতে দাখিল করেন। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে থানায় একটি জিআর মামলা (মামলা নম্বরঃ ৩০(৮)১৭) দায়ের করা হয়, যা এই নেত্রীর সীমাহীন ধূর্ততা ও জালিয়াতির এক জীবন্ত দলিল। মোকাররম হোসেন খান জেবা আমিনার বিরুদ্ধে এক লোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, ‘আমি এক অত্যন্ত গুরুতর ও বর্বরোচিত ঘটনার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ২০২৫ সালের ২৭ শে জুন, ঈদুল আজহার ছুটিতে আমি যখন সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম, ঠিক সেই সুযোগে জেবা আমিনার প্রত্যক্ষ কমান্ডে হিজরাসহ ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও গুন্ডাবাহিনী আমার ভবনে তাণ্ডব চালায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারার বাসভবনে প্রবেশ করে আমার মূল বাসভবন (অ্যাপার্টমেন্ট ২০১) এবং আমার সন্তান মাহিরা হোসেন খান ও মেরাজ হোসেন খানের পরিবারসহ বসবাসের স্থান (অ্যাপার্টমেন্ট ৪০১)-এ জোরপূর্বক হানা দেয়। তারা পুরো ভবন দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। এবং তারা আলমারি ও লকার ভেঙে আমার বেশ কিছু দামি ঘড়ি, ল্যাপটপ, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার, ক্যাশ টাকা ও আরও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আমি বিদেশ থেকে ফিরে এসে একটা সংবাদ সম্মেলন করি এবং বিভিন্ন পেপার-পত্রিকা বিষয়টি ফলাও করে ছাপাও হয় এবং বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এরিয়াতে যারা বসবাস করে এবং বারিধারা সোসাইটিও বিষয়টি অবগত এবং ওই সময় আমি দেশে না থাকায় তারা আমাকে নানাভাবে সাহায্যও করেছিল। তিনি আরও জানান, এই সহিংসতা জেবা আমিনার জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০১৮ সালে তিনি একইভাবে অ্যাপার্টমেন্ট দুটি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় একটি মামলা (নং ১৩(১২)১৮) দায়ের করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও হামলার ঘটনায় মোকাররম হোসেন খান কেবল থানায় সাধারণ ডায়েরিই করেননি, বরং ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট সিআর মামলাও (নং ৩৫১৬/২৫) দায়ের করেছেন, যার পুলিশি প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বিদেশের মাটিতে দেউলিয়া এবং দেশে দখলদারিত্বের এমন ভয়ানক মিশেল এই নেত্রীর উগ্র ও অপরাধপ্রবণ মানসিকতাকেই নগ্নভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মোকাররম হোসেন খান জানান, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ভবনে তার নামে কোনো অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা না থাকলেও তিনি গায়ের জোরে একটি ফ্ল্যাট দখল করে আছেন। মূলত, একটি ‘কোম্পানি স্যুট’-এর আইনি মারপ্যাঁচে হাইকোর্ট থেকে প্রাপ্ত স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) আদেশের আড়ালে জেবা আমিনা এই দখলদারিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। আইনি এই জটিলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি প্রকৃত মালিকের অধিকার খর্ব করছেন। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও, মালিকানা ছাড়াই ফ্ল্যাটটি আঁকড়ে রাখার এই প্রবণতা তার দখলদারী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন। মোকাররম হোসেন খান বলেন, বিএনপি সর্বদা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। তাই জেবা আমিনা আহমেদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড, আইনি জালিয়াতি ও অপকর্মের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং ন্যায়ের স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুতর অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জেবা আমিনার সীমাহীন লোভ ও অনৈতিকতার শিকার হতে হয়েছে তার নিজ পরিবারকেও। গুলশান ২ নম্বরের ১০৮ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৭ নম্বর প্লটটি ছিল তার বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি, যা কনকর্ড আতিয়া নামে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে যে, প্লটটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে বহুতল ভবন নির্মাণের পর গত ১৫ বছর ধরে জেবা আমিনা ক্ষমতার দাপটে পুরো ভবনের মালিকানা এককভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। শরীয়াহ এবং উত্তরাধিকার আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি তার আপন তিন বোন—লাবিবা আহমেদ, দিবা আহমেদ ও আরবা আহমেদ এবং তার প্রয়াত ভাইয়ের দুই নাবালক সন্তান হেশাম ও হাসানের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের ন্যায্য ফ্ল্যাটগুলো অবৈধভাবে দখল করে রাখা শুধু নয়, বরং সেই ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দিয়ে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে একাই ভোগ করে আসছেন। প্রতারণার এই জাল পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও বিস্তৃত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেবা আমিনা একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দুইজন পৃথক ব্যক্তির কাছে সুকৌশলে বিক্রি করেছেন এবং উভয় ক্রেতার কাছ থেকেই বিক্রয়মূল্যের মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেছেন। শুধু আর্থিক জালিয়াতিই নয়, মোকাররম হোসেন খান তার বিরুদ্ধে এক চরম অমানবিক ও হৃদয়বিদারক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার বাবা আমি। কিন্তু জেবা আমিনা এতটাই নিষ্ঠুর যে, আমার সেই অসুস্থ মেয়েটির সঙ্গে আমাকে এবং ভাইবোনদের দেখাও করতে দেয় না।’ একজন গর্ভধারিণী মায়ের এমন প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ এবং আপনজনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাটি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত জেবা আমিনা খান ওরফে জেবা আলগাজীর জীবনকাহিনি যেন এক সুনিপুণ জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনের উপাখ্যান। অর্থের প্রতি তার মোহ তাকে এক নীতিহীন প্রতারকে পরিণত করেছে। সাহায্যের নামে মানুষের বিশ্বাস পুঁজি করে তিনি যে ঋণের পাহাড় গড়েন, যা শোধ করার কোনো সদিচ্ছা তার নেই। বরং অন্যের টাকায় বিলাসি জীবনযাপন করাই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তার জীবনের পরতে পরতে মিশে আছে প্রতারণার ছাপ। তার এ ধরনের ভয়াবহ জালিয়াতি ও বাড়ি দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেত্রীর এমন দ্বিমুখী জীবন ও নীতিহীনতা এখন জনমুখে আলোচনার প্রধান খোরাক। উল্লিখিত একাধিক অভিযোগের বিষয়ে মহিলা দলের সহ-সভাপতি জেবা আমিনা আহমেদ ওরফে জেবা আমিনা আলগাজী বলেন, ‘প্রথম স্বামীর সঙ্গে মৌখিক তালাকের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ইসলামী শরীআ অনুসারে কোনো নারীর তিন ইদ্দ্যত পার হলে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারেন- ইসলাম তাই বলে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে মৌখিকভাবে তালাক হলেও পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে ডিভোর্স হয়। এরপর সম্পদের অংশ পেতে মামলা করি। সেটিও নিষ্পন্ন হয়েছে।’ লন্ডনে কোম্পানি দেউলিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, ‘দেউলিয়া নয়; লিকুয়েডেশন করে ব্রিটিশ সরকার’। আর অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মিথ্যা দাবি করেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ ১৯৮৩ সালের ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে বলা হয়, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল।
অন্যদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এর মধ্যেই ২০০৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে এসে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেবা আমিনা আহমেদ বলেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার মৌখিক তালাক হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী,
“ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে মৌখিক তালাকের পর ইদ্দত পার হলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যায়। পরে ২০০৭ সালে লন্ডনে আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।”
জেবা আমিনা আহমেদের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান।
তার অভিযোগ, বিয়ের সময় জেবা আমিনা প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবি করলেও কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
মোকাররম হোসেন খান ঢাকার সিএমএম আদালতে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
তার দাবি, পরে জানা যায় যে বিয়ের সময় প্রথম স্বামীর সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ হয়নি।
মোকাররম হোসেন খানের অভিযোগ অনুযায়ী, জেবা আমিনা আহমেদ তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন এবং কিছু শেয়ার নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়া বারিধারা ডিপ্লোমেটিক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট দখল নিয়ে তাদের মধ্যে আইনি বিরোধ চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
মোকাররম হোসেনের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটের মালিকানা না থাকলেও আদালতের একটি ‘স্থিতাবস্থা’ আদেশের সুযোগ নিয়ে জেবা আমিনা সেখানে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ সংক্রান্ত মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
মোকাররম হোসেন খান আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৫ সালের ২৭ জুন ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে তার বারিধারার বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
তার দাবি, ১০-১৫ জনের একটি দল ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
জেবা আমিনা আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান এলাকার একটি পৈত্রিক সম্পত্তিতে তার বোন ও ভাতিজাদের অংশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তা এককভাবে ব্যবহার করছেন।
তবে এসব অভিযোগকেও তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে জেবা আমিনা আহমেদ তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস (ইউকে)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা পরে বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন,
“দেউলিয়া হয়নি, বরং কোম্পানিটি লিকুইডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে।”
জেবা আমিনা আহমেদকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে জেবা আমিনা আহমেদ দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং আদালতেই এর সত্যতা প্রমাণ হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ অনিয়ম, ভুয়া স্কিম এবং কাগুজে কাজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। অনেক ক্ষেত্রে কোনো কাজই না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান, দাপ্তরিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলায় একাধিক প্রকল্পে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। ‘ভূতুড়ে স্কিম’ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই ছাড়াই বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১২৮টি ভুয়া বা অস্তিত্বহীন স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প—CAFDARID-এর আওতায় আরও ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের বড় অংশের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে কোনো কাজের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি, অথচ কাগজে প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত দেখানো হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে যে সিন্ডিকেট দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অর্থ লোপাটের সঙ্গে এলজিইডির একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থ আত্মসাতে অংশ নেন। তদন্ত সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ ভাগিয়ে দেওয়া হতো। নিয়ম অনুযায়ী কাজের পরিমাপ বই (Measurement Book বা এমবি) প্রস্তুত ছাড়াই বিল অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন শেখ নুরুল ইসলাম। অনুসন্ধানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ তার কাছেও পৌঁছাত। দুদকের পৃথক অনুসন্ধান এদিকে, এলজিইডির জলবায়ু প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালেও শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক স্বাক্ষরিত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের এক অফিস আদেশে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে শেখ নুরুল ইসলামের সামগ্রিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, কেনাকাটায় স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ সময়জুড়ে শেখ নুরুল ইসলাম প্রভাবশালী অবস্থানে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সক্রিয় নেতৃত্বে থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান বজায় রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির ভেতরের কয়েকজন প্রকৌশলী অভিযোগ করেন, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ছিল। তবে প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে সেসব অভিযোগ দৃশ্যমান তদন্তে রূপ পায়নি। মামলা, কিন্তু পদে বহাল দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর ইতোমধ্যে শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গুরুতর এসব অভিযোগ ও মামলার পরও শেখ নুরুল ইসলাম এখনও স্বপদে বহাল থাকায় এলজিইডির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা লুটপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হবে। এখন নজর দুদকের তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে—এই অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না। আস্থার সংকটে উন্নয়ন ব্যবস্থা বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এ ধরনের অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও জনআস্থার জন্যও বড় হুমকি। কারণ, যেসব প্রকল্প গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো ও দুর্যোগ পুনর্বাসনের জন্য নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর অর্থ আত্মসাৎ হলে ভুক্তভোগী হয় সাধারণ মানুষই। এখন নজর আইনি প্রক্রিয়ার দিকে—দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
বরিশাল অফিস : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঝালকাঠি জেলার শতকোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়ন নিয়ে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী দোসর খ্যাত সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করে পছন্দসই ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। যদিও তাকে সম্প্রতি বরিশাল এলজিইডিতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো তিনি ঝালকাঠিতেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঝুলে থাকা ১২টি টেন্ডার ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার প্রায় ৩০টি গ্রুপের টেন্ডারের মধ্যে অধিকাংশের মূল্যায়ন শেষ হলেও এখনো ১২টি টেন্ডারের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়নি। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— আইবিআরপি প্রকল্পের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ জেপি (ঝালকাঠি-পিরোজপুর) প্রকল্প ভিআরআরপি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন বিডিআইআরডব্লিউএসপি প্রকল্প বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প সাইক্লোন আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (সিএএফডিআরআইআরপি) প্রায় ১০০ কোটি টাকার এসব প্রকল্পের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৬ জানুয়ারি ২০২৬। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যের কারণে তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এনওএ জারি, কার্যাদেশ আটকে এদিকে ১৮টি গ্রুপের টেন্ডারের মূল্যায়ন শেষে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) জারি করা হলেও এখনো কোনো কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেননি ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পিপিআর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলজিইডি সূত্র বলছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) বিধি ৪৮ অনুযায়ী প্রকিউরমেন্ট প্রসেসিং ও অনুমোদন কার্যক্রম চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু শিপলু কর্মকারের দায়িত্বে থাকা টেন্ডারগুলোতে সেই সময়সীমা বহু আগেই অতিক্রম করেছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ১২টি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অভিজ্ঞতার স্থানে অন্য ধরনের কাজের সনদ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদের বিভিন্ন অজুহাতে অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে শিপলু কর্মকার একক প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। “কমিশন ছাড়া কাজ সম্ভব নয়” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, এনওএ জারি থেকে শুরু করে কার্যাদেশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কমিশন ছাড়া কাজ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে কমিশন দিতে হবে—এমন কথা বলেও অর্থ দাবি করা হয়েছে। মূল্যায়নে বিলম্বের কারণে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের টেন্ডারের কার্যকারিতা মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে ঝালকাঠিতে যোগদানের পর থেকেই শিপলু কর্মকার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তিনি ছাড়া অন্য কাউকে কার্যত সম্পৃক্ত রাখা হয়নি। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঝালকাঠির প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের সময়কার প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন শিপলু কর্মকার। আগৈলঝাড়া ও ভোলায়ও ছিল বিতর্ক এলজিইডির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে অনুগত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ভোলা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানেও ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। “অদক্ষ ও অর্থলোভী কর্মকর্তা” এলজিইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, “শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কাজের তদারকিতে ঘাটতি এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।” তৎকালীন ভোলা জেলার দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলীর ভাষ্য, “তিনি মূলত অদক্ষ ও অর্থলোভী কর্মকর্তা। ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থেকে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন।” এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একজন প্রকল্প পরিচালকও অভিযোগের সুরে বলেন, “আওয়ামী সরকারের সময় গড়ে ওঠা বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।” আরেকজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “শিপলু কর্মকার একজন চরম বিতর্কিত প্রকৌশলী। ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কৌশলে অর্থ আদায়ই তার মূল লক্ষ্য।” বদলি নিয়েও প্রশ্ন সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় শহরের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তার পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিপলু কর্মকার যা বললেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার। তিনি বলেন, “এসব কাজের এস্টিমেট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের। আমি যোগদানের পর টেন্ডারগুলো আহ্বান করায় একটি সিন্ডিকেটের আক্রোশের শিকার হয়েছি। তারা সমঝোতার মাধ্যমে ব্রিজের কাজ নিতে চেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের পিপিআর অনুযায়ী কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। মূল্যায়নের সময়সীমা ১৫০ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে কারিগরি আপত্তি থাকায় মূল্যায়নে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষ হবে।” বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি আমাকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। তবে এখনো অফিসিয়াল চিঠি হাতে পাইনি। আমার বদলির সঙ্গে এই টেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই।” প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন বলেন, “মূল্যায়নের পুরো দায়িত্ব সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর। তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।” তিনি আরও জানান, “সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসকের সহায়তা চাওয়া হবে। একই সঙ্গে মিডিয়ার উপস্থিতিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা না থাকে।” অন্যদিকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঝালকাঠি জেলা থেকে ত্রুটিযুক্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকিউরমেন্ট ইউনিটের যাচাই শেষে তা আবার জেলায় ফেরত পাঠানো হবে। এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, ঝালকাঠির টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, শতকোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা, মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
গণপূর্তের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার তেজগাঁওয়ের এলেনবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্পদ বিভাগে টেন্ডার কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সম্পদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও ঠিকাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে। ‘সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে টেন্ডার’ অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুশান্ত দত্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্য, টেন্ডারের শর্ত ও প্রাক্কলন এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যরা কার্যত প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারে। এতে সাধারণ ঠিকাদারদের বড় একটি অংশ নিজেদের “জিম্মি অবস্থায়” পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারকারী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক জামাল হোসেনকে কাজ পাইয়ে দিতে বিভিন্ন টেন্ডারের শর্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতা ও কারিগরি শর্ত যুক্ত করা হয় যা কেবল নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই পূরণ করতে পারে। ‘সংস্কারের নামে কোটি টাকার অনিয়ম’ সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি বাসভবনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে প্রায় আট কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কাজ সম্পন্ন না হলেও বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে। সুইমিং পুল সংস্কার টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন চলতি মাসে আহ্বান করা কয়েকটি টেন্ডার নিয়েও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দুটি টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়। এতে প্রায় ২৫ জন ঠিকাদার কার্যত প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪ মে আহ্বান করা একটি সুইমিং পুল সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজটি পূর্বনির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলেনবাড়ি এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ভবনের সংস্কারের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, গত দুই বছরে সেখানে দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। আউটসোর্সিং নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ ১২ মে প্রকাশিত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগসংক্রান্ত টেন্ডার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠিকাদার মহলের অভিযোগ, নিবন্ধিত ঠিকাদারদের মধ্যে যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের কাজ দেওয়া হয় না—even প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য মেলেনি এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।