Brand logo light

হরমুজ প্রণালী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: যুদ্ধ থেকে ‘সম্মানজনক’ প্রস্থান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চলমান উত্তেজনা থেকে একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থানের পথ খুঁজছে। তেহরানের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরানের সামরিক অবস্থান এখন শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী। তার দাবি, “শত্রু যুদ্ধের এক চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে।” এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের প্রস্তাব ও অবস্থান পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হবে। দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা এখন নজরে রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তার ভাষায়, “যার সাথেই প্রয়োজন হোক, আমরা কথা বলতে রাজি।” তিনি আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আহ্বান এলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সাড়া দেবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তাদের কৌশল তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ন্ত্রণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি: যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর নেপথ্যে

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই সামরিক চাপে পড়েছে, নাকি এটি কৌশলগত বিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের তথ্য এই বিতর্ককে আরও জোরালো করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ভবিষ্যতে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে দেশটি স্বল্পমেয়াদে অস্ত্র সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হামলার হুঙ্কার ছেড়ে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক রুদ্ধদার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে কি যুদ্ধাস্ত্রে টান পড়েছে বলেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প? এমন প্রশ্নই উঠছে বিশেষজ্ঞ মহলে।  সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত থাড সিস্টেমের অন্তত অর্ধেক এবং প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের প্রায় ৫০ শতাংশ খরচ হয়েছে। এছাড়া, পেন্টাগন-এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গেও এসব তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের আগে এবং পরে তুলনা করলে দেখা যায়, টমাহক মিসাইলের প্রায় ৩০ শতাংশ, জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের ২০ শতাংশের বেশি এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ মিসাইলের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন চুক্তি করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষক মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, অতিরিক্ত গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র থাকলেও, সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী, যেমন চীন-এর মোকাবিলায় বর্তমান মজুত যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষণে উলে­খ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো অস্ত্রের ঘাটতিতে ভুগছে না, যদিও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছেন।  পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কোনো সময় ও স্থানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা মার্কিন বাহিনীর হাতে রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগেই সামরিক নেতারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ওপর চাপ ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব অস্ত্র ইসরাইল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করতে ব্যবহৃত হয়। সেটিই এখন বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প নিজে থেকেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেকদের মতে, হামলা করে নিজেদের ক্ষমতার ঘাটতি দেখাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় বসার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যেই মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্র–জ বিমানঘাঁটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে শর্তাবলি বা রূপরেখা পাঠানো হয়েছিল, তার বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না আসায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আলোচনা কোনো একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে না যাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়াবেন না। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতিতে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন দাবি করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান কখনও যুদ্ধবিরতি চায়নি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান  যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধও করেনি ইরান। ট্রাম্পের এই ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর’ ঘোষণার কয়েকটি সম্ভাব্য অর্থ । ১. ট্রাম্প যুদ্ধটি হেরে গেছেন যুদ্ধ চলাকালীন সব ধরনের সম্ভাব্য কৌশল পরীক্ষা করেছেন ও প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন যুদ্ধের মাধ্যমে কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। তাই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই সবচেয়ে ভালো পথ হিসেবে দেখছেন। এমনকি যদি তিনি ভুল সিদ্ধান্তে যুদ্ধ চালিয়ে যান, তাতেও কোনো লাভ হবে না। ২. প্রতারণার আশ্রয় যদিও যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্জন করতে পারেনি। তবুও ট্রাম্প নানা ধরনের কৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা একটি হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করতে পারেন যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের একই ‘প্রশাসন’ বা তাদের আঞ্চলিক সহযোগী (ইসরাইল) আবারও ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালাতে পারে। তাসনিমের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাবনাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারা এটি হালকাভাবে নিচ্ছেন না। ৩. প্রক্সি যুদ্ধ চালাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে, কিন্তু ইসরাইল লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাতে। তবে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করা হয়েছে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইসরাইলকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দিতে পারবে না। ৪. নৌ অবরোধ মার্কিন বাহিনীর নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা মানেই শত্রুতার অব্যাহত থাকা। অবরোধ যতদিন থাকবে, ইরান অন্তত হরমুজ প্রণালী খুলবে না এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে। ৫. যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ‘ছায়া’ বজায় রাখতে চায় এবং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। ওয়াশিংটনের ধারণা, ইরানের পরিস্থিতি ১২ দিনের যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতোই আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের এই ছায়া বজায় রাখতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। ইরান ও রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যেসব দেশ তেল সংকটের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির বাজেট শুনানিতে এই ঘোষণা দেন। গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছিলেন যে, মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। তবে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নতুন করে ৩০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। বেসেন্ট জানান, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের সময় প্রায় ১০টি দেশের অর্থমন্ত্রী ও আর্থিক নেতারা তাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এসব দেশ ভয়াবহ তেল সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতার ফলে ইরান ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে বলে যে হিসাব প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি। বেসেন্ট এই তথ্যকে কল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি এর বিপরীতে ইরান প্রকৃতপক্ষে কত আয় করেছে, সেটির কোনও বিকল্প হিসাব দেননি তিনি।ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ সপ্তাহে। এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে এখন এক নতুন বিতর্ক দানা বাঁধছে। একদিকে হোয়াইট হাউসের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি, অন্যদিকে তেহরানের ‘টিকে থাকার’ রণকৌশল। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন যে, মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ কি ওয়াশিংটনকে আরেকটি ভিয়েতনাম বা ইরাকের মতো বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড এক নিবন্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছে, যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যা বলা জয়কে আরও কঠিন করে তোলে। ইতিহাসের প্রতিধ্বনি: ভিয়েতনাম ও ইরাকের ছায়া ইতিহাস সাক্ষী, ইরাক ও ভিয়েতনাম যুদ্ধে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চরম মূল্য দিতে হয়েছিল মার্কিনিদের। বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের সতর্কতা কানে তোলেননি। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, ইরান চাইলে হরমজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে; কিন্তু অতি-আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন বিশ্ব অর্থনীতি সেই ভুলের মাশুল দিচ্ছে। নিবন্ধে সতর্ক করে বলা হয়েছে, লিন্ডন জনসন বা জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো ট্রাম্পকেও হয়তো একদিন যুদ্ধ নিয়ে মিথ্যার জন্য ব্যক্তিগত মূল্য দিতে হবে। কারণ, যুদ্ধের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যখন হাজার হাজার সেনার জীবন এর সঙ্গে জড়িত। মইস্তাম্বুল জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর পরিচালক সামি আল-আরিয়ান মনে করেন, এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লক্ষ্য সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এই অসামঞ্জস্যই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার মূল কারণ। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে জায়নবাদী আধিপত্যের পথে বাধা হিসেবে পরিচিত ইরানকে পুরোপুরি নির্মূল করা। কৌশলগত পার্থক্য: ‘ধ্বংস’ বনাম ‘টিকে থাকা’ এর জন্য হয় ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে, না হয় অঞ্চলজুড়ে তাদের প্রভাব শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। এর বিপরীতে ইরানের লক্ষ্য অত্যন্ত সহজ। আল-আরিয়ান বলেন, “ইরানকে সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে হবে না, কিংবা ইসরায়েলের সরকারকে এই মুহূর্তে ক্ষমতাচ্যুত করারও প্রয়োজন নেই। ইরানের শুধু ‘টিকে থাকা’ প্রয়োজন।” যদি ইরানি রাষ্ট্র কাঠামো অক্ষত থাকে এবং তাদের আঞ্চলিক জোটগুলো সক্রিয় থাকে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অক্ষশক্তির মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। কৌশলগতভাবে যার লক্ষ্য যত সহজ, জয়ের সম্ভাবনা তার তত বেশি। যুদ্ধের কৌশলেও দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশপথের আধিপত্যে বিশ্বাসী। তারা মনে করে, বিধ্বংসী বোমা হামলা এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার মাধ্যমে শত্রুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে। অন্যদিকে ইরান বেছে নিয়েছে টিকে থাকার জন্য উত্তেজনার বিস্তৃতি। তারা সরাসরি আমেরিকার আকাশশক্তির মোকাবিলা না করে যুদ্ধের ময়দানকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের ভেতরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে চাপ সৃষ্টি এবং জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মাধ্যমে তারা এই সংঘাতকে একটি আঞ্চলিক সংকটে রূপান্তর করছে। পেন্টাগন ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও অঞ্চলের সামগ্রিক কৌশলগত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা: আকাশ বনাম বিস্তৃতি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সেথ জি জোনস মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জাপানে বা ফিলিপাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ইরানের মতো অন্যান্য প্রতিপক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামি আল-আরিয়ান আরও সতর্ক করে বলেছেন, এক অঞ্চলের সংকট অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ান প্রণালিতে কোনও ভুল পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের সংঘাত সামরিক বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না; বরং একপক্ষ যখন বুঝতে পারে যে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা অসম্ভব, তখনই এর সমাপ্তি ঘটে। আল-আরিয়ান বলেছেন, “ইরান যদি টিকে থাকে, তবেই তাদের জয়। ইসরায়েল হয়তো প্রমাণ করবে যে তারা ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু তারা কাউকে আত্মসমর্পণ করাতে পারে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ইরান
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: হরমুজ প্রণালী, জ্বালানি সংকট ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন শক্তির সমীকরণ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব এতদিন সৌদি আরবের হাতে থাকলেও কখনো কখনো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল। তবে সারা বিশ^কে অবাক করে দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় নতুন বস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছে ইসলামি দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ সামরিক-বেসামরিক শীর্ষ নেতারা। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান। জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে কর্তৃত্ব ধরে রেখে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে ইসলামিক দেশটি, তেল-গ্যাসের সংকটে ইরানের কাছে নতজানু তাবৎ দুনিয়া। ন্যাটো এবং ইউরোপীয় বন্ধুদেশগুলোর সমর্থন না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়েছে রণাঙ্গনে, দখলদার ইসরায়েলের প্ররোচনোয় ইরান আক্রমণ করে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব হারিয়ে এখন একেকবার একেক কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করে পাকিস্তান পক্ষ-প্রতিপক্ষ সব রাষ্ট্রের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ক’টনৈতিক চাপ, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর কঠিন প্রতিরোধ আর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়েছে গণহত্যায় অভিযুক্ত ইসরায়েল। আর হরমুজ প্রণালীতে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন নেতৃত্বে এখন ইরান। ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে কারিগরি আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল সোমবার বা মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় বসার কথা। সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষের কারিগরি দল ইসলামাবাদে মিলিত হবে। তাদের লক্ষ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সপ্তাহব্যাপী চলা সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান চূড়ান্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মধ্যপ্রাচ্যের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তারা একবার চুক্তির খসড়া তৈরি করে ফেললে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান চুক্তি সই করতে ইসলামাবাদে উড়ে আসবেন। ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি আঞ্চলিক আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও এই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। সূত্রগুলো আরও জানায়, ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পর থেকেই বিবদমান দুই পক্ষ ইসলামাবাদের মাধ্যমে একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার আগেই তারা একটি ‘সর্বোচ্চ বোঝাপড়ায়’ পৌঁছাতে চাইছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে কাগজে-কলমে বিশ্বেরর জ্বালানির ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হওয়ার তথ্য থাকলেও বাস্তবে এই প্রণালীর গুরুত্ব আরো বেশি। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ছাড়াও ইরানের নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলো থেকে সার রপ্তানি হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইরান থেকে অঘোষিতভাবে জ্বালানি এই পথ ধরে যায় চীনসহ অনেক গন্তব্যে। এই হরমুজ প্রণালী কর্তৃত্ব পুরো ইরানের হাতে। ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হরমুজ অবরোধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ১৫টি যুদ্ধ জাহাজ এবং তিনটি বৃহৎ বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করেছে। তারপরও ইরানের আধিপত্য ভাঙতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ইরান তার ইচ্ছামতো একবার হরমুজ খুলছে, একবার বন্ধ করছে। ইরানে মার্কিন হামলার শুরু পরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়ে মার্কিন মিত্র সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাক। এসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে গিয়ে আটকে পড়ে বহু দেশের জাহাজ ও নাবিকরা। যুদ্ধের সময় এসব নাবিক ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানোর শঙ্কায় ছিল। এইসব গুলো দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটির হাজার হাজার সেনাও মহাবিপদে পড়ে। অনেক হুমকি দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী চালু করতে পারেনি। পরে যুক্তরাষ্ট্রই হরমুজ অবরোধ করে বসে। এর মধ্যেই কিছু জাহাজ এই প্রণালী পার হয়। লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পরপরই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তারপরও মার্কিন অবরোধ বন্ধ না হওয়ায় পরে শনিবার আবার এই প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন দেশের জাহাজ ও সেসবে অবস্থানকারী নাবিকরা আবারো বিপদে পড়লো, মধ্যপ্রাচ্যের ৭টি দেশে অবস্থানকারী ৫০ হাজার মার্কিন সেনাও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে গত শনিবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়। একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে, গানবোটগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ‘সম্পৃক্ত’। অর্থাৎ হরমুজের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতে। এই শনিবারই ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। ছোট নৌযান ও দ্রুতগামী বোট ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে চাপে রাখছে তেহরান। উপকূলের গোপন কোনো স্থান বা এসব নৌকা থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে আইআরজিসি। এগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রণালীর কোথাও কোথাও ইরান মাইন পুঁতে রেখেছে বলে খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম এজেন্সি জানায়, যুদ্ধ চলাকালীন অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছিল। গার্ডস নৌবাহিনী এই হামলাগুলোর দায় খুব কমই স্বীকার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো সম্ভবত স্থলভাগ থেকে ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে ছোড়া ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল, যা শনাক্ত করা কঠিন। বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বোটগুলো প্রায়শই এতটাই ছোট যে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় না এবং এগুলো পাথুরে উপকূল বরাবর খনন করা গভীর গুহার ভেতরের জেটিতে নোঙর করা থাকে। এগুলো মিনিটের মধ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। তাদের অস্ত্রশস্ত্র উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি বড় হুমকি। ইরান আক্রমণকারী নৌকার জন্য কমপক্ষে ১০টি অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। শীর্ষ সব নেতাদের হারানোর পরও আজ ইরান এক আত্মবিশ্বাসী দেশ, সব হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে দেশটি মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে বদ্ধপরিকর। দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসতেও ইরান এখনো রাজি হয়নি। বিশ্বের পরাক্রমশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তারা বলছে, শর্তের পর শর্ত দিয়ে কোনো আলোচনা সফল হবে না, শুধুই সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশি কথা বলেন বলে অভিযোগ করে ইরান জানিয়েছে, অন্তত সাত বার তিনি মিথ্যা বলেছেন। সারা বিশে^র নজর এখন পাকিস্তানের দিকে ইরান সভ্যতা ধ্বংসের ঘোষণা দিয়েও ৮ এপ্রিল ইরানের ওপর পূর্বঘোষিত বড় ধরনের ‘বোমাবর্ষণ ও হামলা’ অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করতে রাজি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য তিনি স্থগিতে রাজি হন। ট্রাম্পের এই নাটকীয় ঘোষণার পেছনে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতা বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশ্য যুদ্ধবিরতির তিন দিনের মাথায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনও সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা প্রথম দফার আলোচনায় কোনো সাফল্য না এলেও দুপক্ষের মধ্যে অনেকটা অস্বস্তি কেটেছে। পাকিস্তান প্রবল প্রচেষ্টা চালানোর কারণেই আবারও নতুন বৈঠক হতে যাচ্ছে ইসলামাবাদে। একদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সফর করেন সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোতে। আর দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির ছুটে যান ইরানে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ পাকিস্তানের সামরিক- বেসামরিক প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টার ফলেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হতে যাচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। আলোচনায় ইরানের নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আলী আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুল নাসের হেমমাতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। দ্বিতীয় দফা আলোচনার মধ্য দিয়ে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের ব্যবস্থা করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ঝটিকা সফরে যান সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কে। ইরানে গিয়ে আসিম মুনিরও অনেকটা গুছিয়ে এনেছেন দ্বিতীয় দফার আলোচনা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি কূটনীতিক দলকে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী নিরাপত্তা পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দিয়েছিল। সেদিন ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়া মার্কিন কূটনীতিক দল একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন শেষে দ্রুত ইসলামাবাদ ছাড়ে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যর্থ আলোচনার পর ইরানের কূটনীতিকদের আশঙ্কা ছিল, দেশে ফেরার পথে ইসরায়েল তাদের হত্যা করার চেষ্টা করতে পারে। এরপর পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বড় বহর ইরানি কূটনীতিকদের বহন করা উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে দেশে পৌঁছে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুদের না পেলেও ইরানের পাশে ছিলো চীন-রাশিয়া ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে। এটি সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে শক্তিশালী সক্ষমতা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক অনুসন্ধানে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির বরাত দিয়ে এফটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সময়, স্থানাঙ্ক তালিকা, স্যাটেলাইট চিত্র ও কক্ষপথ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি করতে এই স্যাটেলাইট কাজে লাগিয়েছিলেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ওই সব জায়গার ছবি তোলা হয়েছিল। সিআইএর চীনবিষয়ক সাবেক প্রধান ডেনিস ওয়াইল্ডার বলেন, চীন ঐতিহাসিকভাবেই ইরানকে অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানকে চীনের দেওয়া অন্যান্য সম্ভাব্য সামরিক সহায়তা, যেমন কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও উদ্বিগ্ন। কাঁধে রেখে চালানো যায়, এমন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সম্প্রতি একটি মার্কিন এফ-১৬ বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো চীনা কোম্পানি এভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে পারে না। চীন ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। তবে নিজেদের সম্পৃক্ততা লুকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। আবার রাশিয়া নিয়মিতভাবেই ইরানে ড্রোন সরবরাহ করছে বলে খবর রয়েছে, যেমনটা রাশিয়ার ইউক্রেন হামলায় ইরান বিপুল সংখ্যাক শাহেদ ড্রোন পাঠিয়ে গেছে কয়েক বছর। সেই শাহেদ ড্রোনের আরো উন্নত সংস্করণ রাশিয়া এখন ইরানকে দিচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, মার্কিন চাপেও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ইরান যুদ্ধে সামিল হয়নি, যেমনটা তারা যুক্ত হয়েছিল ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমনে। অথচ ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত আছে। স্পেন তো সরাসরি ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধীতা করেছে। ইতালি ইসরায়েলের সঙ্গে করা সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র পরিবহন করার সময় একটি ফ্লাইট আটকে দিয়েছে বেলজিয়াম। জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া যুদ্ধ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে, যারা বহু বছর ধরে মার্কিন সেনা ও অস্ত্রে সুরক্ষিত হয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন এবং অন্যদিকে দাবি করছিলেন, তেহরান নিজেই বাঁচার জন্য শান্তিচুক্তি ভিক্ষা চাচ্ছে। কিন্তু পর্দার আড়ালের হোয়াইট হাউসই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল, যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে যুদ্ধ থামানোর ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। পাকিস্তান একটি মুসলিম দেশ এবং প্রতিবেশী হওয়ার কারণে ওয়াশিংটন মনে করেছিল, তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে ইরান সেটা সহজে মেনে নেবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এই গোপন তৎপরতা চালান। যার ফলে ৮ এপ্রিল রাতে দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। আসলে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ ছাড়া ইরান যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা-ও তাঁকে অবাক করে দিয়েছিল। ২১ মার্চ থেকেই ট্রাম্প মনে মনে যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া ছিলেন। আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘আমি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি। তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিকেল ৫টা (ইস্টার্ন টাইম) থেকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।’ এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ‘স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান লেবাননের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও; আর ইসরায়েল হামলা বন্ধ করলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম মুসাবি। লেবাননে নির্বিচার মানুষ হত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। এখন পর্যন্ত লেবাননের দক্ষিণে নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বহু জনপদ, হাজার হাজার ভবন। ইসরায়েল একাধারে জল-স্থল ও আকাশ থেকে আক্রমন চালিয়ে মেরে ফেলেছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি নারী ও শিশুরাও। ইসরায়েলের আক্রমণে প্রাণ গেছে লেবানিজ সেনাসদস্য, এমনকি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদেরও। ইন্দোনেশিয়ার শান্তিরক্ষীরা মারা গেছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের মধ্যে আর গত শনিবার যুদ্ধবিরতি মাঝে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ফ্রান্সের একজন শান্তিরক্ষী। এই ধ্বংসস্তূপ থেকেই প্রতিরোধ চালাচ্ছে ইরানপন্থি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা লেবানন দখলকারী সেনাদের ওপর যেমন হামলা চালাচ্ছে, তেমনি রকেট ছুড়ছে ইসরায়েলের ভূখন্ডেও। ট্রাম্প লেবানন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর লেবানিজরা তাদের বাড়ি-ঘরে ফিরতে শুরু করে সেদিনই। ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতেই তারা ফিরছে, কারণ সেটাই তাদের দেশ, জন্মভূমি। এমনকি লেবাননের সেনাবাহিনীর সতর্ক বার্তাও তাদের থামাতে পারেনি। লেবানন দখলকারী ইসরায়েলকে যেমন গুনায় ধরছে লেবানিজরা, তেমনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল- লেবানন যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলকে ডাকা হয়নি। দুটিই ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যে কারণে দেশের ভেতরেই রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আঞ্চলিক নেতৃত্বের পরিবর্তন? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি প্রবণতা স্পষ্ট: ইরান সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে সীমাবদ্ধতা অনুভব করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান নতুন কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ পার হচ্ছে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ

  ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। ‘শুজা ২’ নামে জাহাজটি বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী শহীদ রাজাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে এবং ভারতের কান্দলা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা স্বাধীনভাবে এই দাবিটি যাচাই করতে পারেনি, কিন্তু সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রদানকারী সংস্থা মেরিনট্র্যাফিকের সামুদ্রিক ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, জাহাজটি বর্তমানে প্রণালিটিতে চলাচল করছে। মেরিনট্র্যাফিকের মতে, শোজা ২ জাহাজটি ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এদিকে, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ১২ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচল করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, এই সময়ে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা ‘নেরো’ নামের কেবল একটি ট্যাংকার এই প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে এবং দুটি জাহাজ প্রবেশ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
‘বুর্জ আল আরব’ ১৮ মাসের জন্য বন্ধ
দুবাইয়ের বিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব ১৮ মাসের জন্য বন্ধ: উপসাগরে যুদ্ধের প্রভাব গভীর

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের বিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব পর্যটক কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য ১৮ মাসের জন্য বন্ধ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হোটেলের মালিক কর্তৃপক্ষ জুমেইরাহ জানায়, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে প্রায় ১৮ মাস ধরে চলবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, পারস্য উপসাগর ও চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব—এই তিনটি সূত্র ধরে একটি বিস্তৃত চিত্র ফুটে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে। পর্যটন, নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছুই এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।  দুবাইয়ের হোটেল বন্ধের আড়ালে কী? দুবাইয়ের আইকনিক স্থাপনা বুর্জ আল আরব —যা দীর্ঘদিন ধরে বিলাসবহুল পর্যটনের প্রতীক—বড় ধরনের সংস্কারের জন্য প্রায় ১৮ মাস বন্ধ রাখা হতে পারে। মালিক প্রতিষ্ঠান জুমেইরাহ গ্রুপ জানিয়েছে, সংস্কার কাজটি ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে এবং এর নেতৃত্ব দেবেন প্যারিসভিত্তিক স্থপতি ট্রিস্টান আউয়ার। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো সময় হোটেল বন্ধ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—সংস্কার চলাকালে কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং বুকিং করা অতিথিদের অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দুবাইয়ের পর্যটন খাতে ধাক্কা লেগেছে। মার্চ মাসে ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে হোটেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।  নিরাপত্তা সংকটের বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান ও তার সামরিক কার্যক্রম। ২৮ মার্চ পর্যন্ত আমিরাতের দিকে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যার মধ্যে রয়েছে: * পাম জুমেইরা * দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর * ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল এর ফলে, একসময় স্থিতিশীল ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।  অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক মাসের মধ্যে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার মূলধন উধাও হয়ে যায় এবং ১৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। তেলের দাম বৃদ্ধিতে যেখানে সৌদি আরব ও ওমান লাভবান হয়েছে, সেখানে পর্যটন ও সেবাখাতনির্ভর আমিরাত বড় ধরনের চাপে পড়েছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন ড্রোন রহস্য এই উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য উপসাগরে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। মার্কিন নৌবাহিনী নিশ্চিত করেছে, MQ-4C ট্রাইটন মডেলের ড্রোনটি ৯ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এটি ইতালির নৌ বিমান ঘাঁটি সিগোনেলা  থেকে উড্ডয়ন করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় রাডার সংযোগ হারায়। ড্রোনটি প্রথমে ‘৭৪০০’ সংকেত পাঠায়—যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত—এবং পরে ‘৭৭০০’ জরুরি সংকেত পাঠায়। এরপর এটি সম্পূর্ণভাবে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। ড্রোনটির নির্মাতা নর্থরপ গ্রুম্যান  একে বিশ্বের অন্যতম উন্নত গোয়েন্দা ড্রোন হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিটির মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ডলার। যুদ্ধবিরতির আশা, কিন্তু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে এই সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক পর্যায়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির-এর মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি। তবে মূল জটিলতা রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। * যুক্তরাষ্ট্র চায় ২০ বছরের জন্য কার্যক্রম স্থগিত * ইরান প্রস্তাব করেছে ৩–৫ বছরের বিরতি * ওয়াশিংটন চায় ইউরেনিয়াম দেশ থেকে সরানো হোক * তেহরান দাবি করছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার  হরমুজ প্রণালী: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী  এখনো উত্তেজনার কেন্দ্রে। ইরান কার্যত নিজেদের ছাড়া অন্য জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ জোরদার করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা কয়েকটি জাহাজ ফেরত পাঠিয়েছে—যা ইরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে—অবরোধ না সরালে তারা উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি একাধিক স্তরে অনিশ্চয়তায় ভরা: * পর্যটন খাতে আস্থার সংকট * সামরিক উত্তেজনা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি * পারমাণবিক ইস্যুতে অচলাবস্থা * বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে চাপ যদিও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতির আশা তৈরি হয়েছে, তবুও বাস্তবতা হলো—মধ্যপ্রাচ্য এখনো এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি ট্রাম্পের

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে’ দেওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে চীন ‘খুবই সন্তুষ্ট’ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী আর কখনও অবরুদ্ধ থাকবে না। ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি স্থায়ীভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছি। এতে চীন খুবই খুশি হবে। আমি এটা তাদের এবং বিশ্বের ভালোর জন্য করছি। এমন অচলাবস্থা আর কখনও ঘটবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, ইরানে সমরাস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে চীন সম্মত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পর চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’ জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি—সংঘাতের চেয়ে এটি কি ভালো নয়?” এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে শুধু লোহিত সাগর নয়, বরং পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর–সহ পুরো অঞ্চলে বাণিজ্য কার্যক্রম অচল করে দেওয়া হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
শামা ওবায়েদ
বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুরোধ ইরানকে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইরানকে অনুরোধ করেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচল সহজতর করতে। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল জাহানাবাদীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা-তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বিষয়াবলি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশগামী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিবেচনা করার অনুরোধ করেন এবং বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশে ইরানি রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়ে আছে এবং বাংলাদেশি জাহাজও তার মধ্যে রয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে ইরান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে এবং দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পার হতে পারবে। উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির পর জাহাজটি যাত্রা শুরু করলেও বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেস্তে গেল যে কারণে

প্রায় ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এটি ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংলাপগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার সকালে আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনা অচল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব দিয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। ভ্যান্স বলেন, আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন। তবে ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, এতে তার বিশেষ কিছু যায় আসে না। আলোচনায় প্রধান মতবিরোধের বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী-এর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগে অস্বীকৃতি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা আলোচনায় ‘যৌক্তিক প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও সংঘাতের কারণে এক দফা আলোচনায় সমঝোতা হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকৃতির ওপর। এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রেখে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এবং যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এখনো পরবর্তী দফার বৈঠকের সময় বা স্থান নির্ধারণ করা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
হরমুজ পাড়ি দিল একমাত্র তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বিশ্ব তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকটের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক কৌশলের জটিল সমন্বয়ে এই জলপথ এখন কার্যত অস্বাভাবিক এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে এটি শুধু জাহাজ চলাচলের সাময়িক স্থবিরতা মনে হলেও, গভীরে রয়েছে বড় ধরনের কৌশলগত পালাবদলের ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক নীরবতা: পরিসংখ্যান যা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন -এর জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিস্ময়কর চিত্র—তেহরান সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরো প্রণালী দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অতিক্রম করেছে। ‘ম্যাব ৫’ নামের এই ট্যাঙ্কারটির ওপর আবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—যা ঘটনাটিকে আরও ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১০৭টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত অচলাবস্থার সমান।   দৃশ্যমানের বাইরে অদৃশ্য বাস্তবতা মেরিন ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, কয়েকটি ছোট জাহাজ—ভারত ও পানামার পতাকাবাহী—এই পথ ব্যবহার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুরো চিত্র নয়। কারণ: অনেক জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের AIS (Automatic Identification System) বন্ধ রাখে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নজর এড়াতে এটি একটি প্রচলিত কৌশল ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সরকারি বা উন্মুক্ত ডেটার চেয়ে বেশি হতে পারে এই “ডিজিটাল অদৃশ্যতা” এখন সামুদ্রিক বাণিজ্যের এক নতুন বাস্তবতা।   যুদ্ধবিরতির পরও স্থবিরতা কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমলেও বাণিজ্যিক আস্থা এখনও ফেরেনি। কারণগুলো স্পষ্ট: নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বীমা খরচ বেড়েছে নৌপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়ে গেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে   অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্ববাজারে প্রতিক্রিয়া বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি সারের বাজারে অস্থিরতা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।   নতুন অর্থনৈতিক কৌশল: ডলারকে চ্যালেঞ্জ? এই সংকটের মধ্যেই ইরান এক নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি নিজস্ব মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে অবরোধ চলাকালে কিছু জাহাজকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ দিতে বলা হয়েছিল। আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ: ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য দুর্বল করা বিকল্প মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা চীন -এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা অবরোধের সময় অন্তত দুটি জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে—যা এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।   “টোল বুথ” কৌশল: সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীকে একটি “টোল বুথ” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার প্রদর্শন: কে চলাচল করবে কোন মুদ্রায় অর্থ দেবে কোন শর্তে নিরাপত্তা পাবে এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি কয়েকটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: স্বাভাবিকতায় ধীর প্রত্যাবর্তন — নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জাহাজ চলাচল বাড়বে বিকল্প রুটের ব্যবহার — দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা মুদ্রা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি — ডলার বনাম রিয়াল/ইউয়ান প্রতিযোগিতা স্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা — প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার   হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট কেবল একটি সামুদ্রিক সমস্যাই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার এক জটিল সংযোগস্থল। জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া হয়তো চোখে পড়ে, কিন্তু আসল গল্পটি লুকিয়ে আছে এর পেছনের শক্তির খেলায়—যেখানে প্রতিটি ট্যাঙ্কার, প্রতিটি মুদ্রা লেনদেন, এবং প্রতিটি নৌচলাচল সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে ভূরাজনীতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালীতে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন  হরমুজ প্রণালীর আকাশে নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। খবর এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়নের সময় হঠাৎ এটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত) পাঠায়। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।প্রচলিত বিমান থেকে ভিন্ন, এই ড্রোন দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ অঞ্চল বা ‘চোকপয়েন্ট’-এ টানা নজরদারির জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এটি প্রায়ই পি-৮এ টহল বিমানের জন্য উচ্চ আকাশ থেকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন মোতায়েন করা হয়ে থাকে। ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পেল ইরানের
ইরান হরমুজ প্রণালিতে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল অনুমোদন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান সরকার হরমুজ প্রণালিতে জরুরি পণ্যবাহী জাহাজের জন্য চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বন্দর অভিমুখে আসা জাহাজগুলো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে সরবরাহ হয়। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমতির মানে এই নয় যে প্রণালিটি সকল জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। বিশেষভাবে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানি সচল রাখার উদ্দেশ্যেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে, ইরানের এই নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ট্রাম্প
ট্রাম্প তোয়াক্কা করছেন না আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম-নীতি

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ‍রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী ‘শক্ত হাতে’ নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী গত প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার সরবরাহেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন বন্ধ হয়ে গেল হরমুজ প্রণালী? উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-এর সামরিক তৎপরতা, জাহাজে হামলা এবং সরাসরি হুমকির কারণে এই রুটে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অধিকাংশ শিপিং কোম্পানি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তার ভৌগোলিক অবস্থান ও অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল—বিশেষ করে ড্রোন, সামুদ্রিক মাইন ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে—এই সংকটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ভৌগোলিক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছে ইরান? হরমুজ প্রণালী সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২৪ মাইল চওড়া। জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট লেন আরও সংকীর্ণ হওয়ায় এটি একটি “চোকপয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকীর্ণতার কারণে জাহাজের পক্ষে পথ পরিবর্তন বা আক্রমণ এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে ইরানের জন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সহজ হয়ে যায়। ইরানের প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং পাহাড়ি ও দ্বীপঘেরা ভূপ্রকৃতি তাদের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গোপন রাখতে সাহায্য করছে। জাহাজগুলোর জন্য কী ধরনের হুমকি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলো হলো— সামুদ্রিক মাইন ড্রোন হামলা ছোট দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান বিস্ফোরক বোঝাই চালকহীন নৌকা এই পরিস্থিতিকে অনেক বিশ্লেষক “কিল জোন” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। যুক্তরাষ্ট্র কী করছে? ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজে নৌবাহিনীর এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া USS Tripoli সহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। ইরানের অর্থনৈতিক লাভ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের ফি আদায় করছে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতি অন্তত ১৯টি জাহাজে হামলার অভিযোগ প্রায় ২,০০০ জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা সীমিত কিছু জাহাজ এখনো পারাপার করছে বিশ্লেষকদের মতে, সম্পূর্ণ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। সামনে কী হতে পারে? পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ— উত্তেজনা কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্য নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ ঘাঁটি গুড়িয়ে দিল ইরান
ইরানের দাবি: পশ্চিম এশিয়ায় ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস, উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। শেখারচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, যেগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিতে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে দেশের ওপর কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, শত্রুর হুমকি সম্পূর্ণরূপে দূর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শেখারচি বলেন, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে ও নিরাপত্তার নামে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে ওয়াশিংটন। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে। এছাড়া, আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেখারচি আরও উল্লেখ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপে আইন আনছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। এ লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ফার্স ও তাসনিম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সংসদের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আইনসভা দলের মাধ্যমে সেটি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনার আওতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান ফি আদায় করবে।” তার মতে, বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য করিডোর ব্যবহার করলে যেমন শুল্ক দিতে হয়, তেমনি হরমুজ প্রণালীও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, তাই জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর শুল্ক প্রদান স্বাভাবিক।” বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে টোল আরোপের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলবাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে ইরান যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে, তার একটি হলো—হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপটে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতে ২২ দেশের উদ্যোগ, ইরানের পদক্ষেপের নিন্দা

হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে চায় ২০টিরও বেশি দেশ। যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও রয়েছে। খবর ডনের। প্রতিবেদন বলছে, ২০টিরও বেশি দেশ হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধের নিন্দা করেছে। প্রধানত ইউরোপীয় দেশগুলোসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন মিলে ২২টি দেশ বলেছে, ‘আমরা পারস্য উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানি বাহিনীর হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই।’ ‘প্রণালীটি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যথাযথ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে আমরা আমাদের প্রস্তুতি প্রকাশ করছি। যেসব দেশ প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনায় নিযুক্ত রয়েছে, আমরা তাদের অঙ্গীকারকে স্বাগত জানাই।’ তারা একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে। ‘তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলায় অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থগিতাদেশের আহ্বান জানাচ্ছি।’ দেশগুলো আরও যোগ করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
দ্বীপপুঞ্জ
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা: ইরানের হুঁশিয়ারি, উপসাগরে কি নতুন সংঘাতের সূচনা?

  পারস্য উপসাগরের কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী ঘিরে আবারও তীব্র হয়ে উঠছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরানের সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছে—তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যদি ইরানের নিয়ন্ত্রিত দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তাহলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এই হুঁশিয়ারি শুধু দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার ইঙ্গিতই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।  কী ঘটেছে? ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত আবু মুসা এবং গ্রেটার তুনব দ্বীপের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা সরাসরি যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী: সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানোর অনুমতি দেয়, তাহলে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে। এই হুঁশিয়ারিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে রাস আল খাইমাহ অঞ্চলের কথা, যা আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।  বিতর্কিত দ্বীপ: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আবু মুসা ও গ্রেটার তুনব—এই দুটি দ্বীপ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্র। মূল তথ্য: বর্তমানে দ্বীপগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে আমিরাত এগুলোর মালিকানা দাবি করে অবস্থান: হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখ এই দ্বীপগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ: 👉 বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয় 👉 আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট 👉 সামরিক নিয়ন্ত্রণ মানে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার আঞ্চলিক যুদ্ধ: উত্তেজনার পেছনের বড় কারণ এই উত্তেজনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করছে তেহরান। ইরানের অভিযোগ: উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিচ্ছে মার্কিন বাহিনী সেখান থেকে হামলা চালাচ্ছে এসব দেশের ভেতরে “মার্কিন স্বার্থ” লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে ইরান ইতোমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বলে দাবি করছে।  হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কেন গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার জ্বালানি নির্ভরতা বিকল্প রুট প্রায় নেই বললেই চলে যদি এই রুটে বিঘ্ন ঘটে: তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে সরবরাহ চেইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে  তেল বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়বে জ্বালানি সংকট তৈরি হতে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল। আমিরাতের অবস্থান: দ্বিধায় কূটনীতি সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন একটি জটিল অবস্থানে রয়েছে। একদিকে: তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ অন্যদিকে: ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের যেকোনো সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সামরিক ভারসাম্য: কার হাতে কত শক্তি? ইরান: শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ড্রোন যুদ্ধ সক্ষমতা আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক আমিরাত: আধুনিক পশ্চিমা অস্ত্র উন্নত বিমান বাহিনী আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা তবে সরাসরি সংঘাতে ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।  বিশ্লেষণ: কেন এখন এই হুঁশিয়ারি? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বার্তা তিনটি উদ্দেশ্যে দেওয়া: ভয় প্রদর্শন (Deterrence) আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করা মার্কিন প্রভাব কমানো এটি মূলত একটি কৌশলগত বার্তা—যুদ্ধের আগেই প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা।  সামনে কী হতে পারে? বর্তমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট: ১. সীমিত সংঘাত ছোট আকারের হামলা ও পাল্টা হামলা ২. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উত্তেজনা প্রশমিত ৩. বৃহত্তর যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া   হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তেজনা কেবল দুই দেশের বিরোধ নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে—এই উত্তেজনা কি কূটনীতির মাধ্যমে থামবে, নাকি নতুন এক সংঘাতের সূচনা করবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
People watch smoke rising from an Israeli attack in the central Beirut neighbourhood of Bashoura
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি, পাল্টা কঠোর সতর্কবার্তা তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ।কী আছে  তাদের ভাগ্যে ।        ব্রেকিং নিউজ জানতে চোখ রাখুন ইত্তেহাদ নিউজে............................       মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক তৎপরতার কারণে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা করা হয়, তাহলে “পুরো অঞ্চল আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে।” যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। লারিজানি বলেন, “যদি তারা এমন কিছু করে, তাহলে আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো অঞ্চল অন্ধকারে ডুবে যাবে এবং সেই অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকা মার্কিন সেনাদের খুঁজে বের করা সহজ হয়ে যাবে।” এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল যৌথ হামলা ও পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হুমকি: এক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করা সম্ভব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব দ্রুতই ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। মারিল্যান্ডে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের পুরো বিদ্যুৎ সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারি। এবং সেটি পুনর্গঠনে তাদের ২৫ বছর সময় লাগবে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে “প্রায় সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ” করে ফেলেছে। তার ভাষায়, “তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমান বাহিনী নেই, কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা নেই। আমরা সেই আকাশে মুক্তভাবে চলাচল করছি।” যুদ্ধের সূচনা: ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, গত ১২ দিনে ইরানে প্রায় ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে— ৯০টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এর মধ্যে ৬০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে ৩০টির বেশি মাইন বসানোর জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার বার্তা এই সংকটের মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম সরকারি বিবৃতি দেন। তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বলেন, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে। মোজতবা খামেনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বুঝতে হবে, আমাদের প্রতিরোধ চলবে।” হরমুজ প্রণালী: বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের কেন্দ্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হলো হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে— “ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ বজায় রাখতে আমরা এই পথ দিয়ে এক লিটার তেলও যেতে দেব না।” যদি এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তেলের বাজারে অস্থিরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে— হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের মন্তব্য: তেলের দাম বাড়লে লাভ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক। তাই তেলের দাম বাড়লে আমরা অনেক টাকা উপার্জন করি।” তবে তিনি আরও বলেন, মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তার ভাষায়, “আমাদের বড় লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়া।” মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে— ইসরাইল লেবাননের হিজবুল্লাহ ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া এই গোষ্ঠীগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব শক্তিগুলোর উদ্বেগ এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও রাশিয়া। তাদের মতে, যুদ্ধ বিস্তৃত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে— ১. সীমিত যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত সামরিক হামলা চলতে পারে। ২. আঞ্চলিক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ৩. কূটনৈতিক সমাধান আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।   ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আবারও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্ব এখন নজর রাখছে—এই সংঘাত কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের
ইরান যুদ্ধ: ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে পিছু হটছে ইসরায়েল, উপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা,উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানি হামলার নিন্দা, নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্যাপক বোমা হামলা সত্ত্বেও ইরানের অভ্যন্তরে প্রত্যাশিত গণ-অভ্যুত্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পরও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ অপরিবর্তিত রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের আশা পূরণ হয়নি সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, সামরিক চাপ ইরানের জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে। তবে সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তার অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। তিনি এখন বলছেন, ইসরায়েলের ভূমিকা কেবল ইরানি জনগণকে “সহায়তা করা”, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য পরিবর্তন আসলে বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে সামরিক হামলার পরও ইরানে কোনো গণবিদ্রোহ দেখা যায়নি। নতুন নেতৃত্বেও টিকে আছে শাসনব্যবস্থা যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পরও দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি -এর নেতৃত্বে ক্ষমতার কেন্দ্র দ্রুত পুনর্গঠিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যুদ্ধ দ্রুত শেষের ইঙ্গিত ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trumpও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ওয়াশিংটন এখনো যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার “৩৮তম ধাপ” শুরু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে— কুয়েতের আদিরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে আহত শতাধিক মানুষকে আল জাবের ও আল মুবারাক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কুয়েতের দুটি নৌঘাঁটি ও মার্কিন সেনাদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে বাহরাইনের মিনা সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে আইআরজিসি বলেছে, শত্রুর “পূর্ণ পরাজয়” না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে। জাতিসংঘে ইরানবিরোধী প্রস্তাব এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। তবে Russia ও China ভোটদান থেকে বিরত থাকে। প্রস্তাবে ইরানকে অবিলম্বে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং জর্ডানের ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে উদ্বেগ প্রস্তাবে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথ— Strait of Hormuz Bab el-Mandeb Strait এগুলোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে তা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের আপত্তি জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত  বলেন, প্রস্তাবটি “অসম ভারসাম্যহীন”, কারণ এতে ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি প্রস্তাবটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, এতে আগ্রাসনকারীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তেহরানের একটি ব্যাংকে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাংক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে— দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ভূপাতিত সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা প্রতিহত ইরাকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্য আঘাত হানলেও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে— হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি,হরমুজ প্রণালীতে মাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। এই দুটি ঘটনা একত্রে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলাগুলো তাদের সামরিক অভিযানের অংশ, যার নাম “অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪”। হাইফার তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার দাবি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন সামরিক হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল— হাইফা শহরের তেল ও গ্যাস শোধনাগার জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক তেলআবিবের কাছাকাছি একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী এটি তাদের সামরিক অভিযানের ৩৩তম ধাপ। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাইফার জ্বালানি অবকাঠামো হাইফা ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র। এই অঞ্চলে রয়েছে— দেশের প্রধান তেল শোধনাগার পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবকাঠামো বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের জ্বালানি সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। তেলআবিবের কাছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইরান দাবি করেছে, তেলআবিবের কাছে একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রও তাদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র সাধারণত ব্যবহৃত হয়— সামরিক যোগাযোগ স্যাটেলাইট ডেটা ট্রান্সমিশন গোয়েন্দা নজরদারি যদি সত্যিই এই স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে তা ইসরায়েলের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। পাল্টা হামলার যুক্তি ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তাদের তেল ডিপোতে ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে— “ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিরোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।” সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি ঘটনা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের বিরুদ্ধে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত প্রায় ৩টা ১৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে— দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সম্ভাব্য সব হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরেকটি খবর। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন বসানো শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— গত কয়েক দিনে কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে ইরানের মাইন স্থাপনকারী জাহাজের মাত্র ২০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে চাইলে হাজার হাজার মাইন বসানোর সক্ষমতা রয়েছে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ। এই সংকীর্ণ জলপথ— পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিশ্বের তেল পরিবহনের প্রধান রুট বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়। প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলবাহী ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করে। যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়? বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব— ১. তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে ২. বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে ৩. শিপিং খরচ ও বীমা বেড়ে যেতে পারে ৪. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় বাধা তৈরি হতে পারে ইরানের নৌ কৌশল ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড যৌথভাবে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের কৌশলের মধ্যে রয়েছে— নৌমাইন ব্যবহার দ্রুতগতির আক্রমণ নৌকা উপকূলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ মিসাইল বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন বোট এই কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলেন “অ্যাসিমেট্রিক নেভাল ওয়ারফেয়ার”। যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্বেগ গালফ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে— বাহরাইনে মার্কিন নৌবহরের ঘাঁটি কাতারে বড় বিমানঘাঁটি সৌদি আরব ও আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই কারণে হরমুজ প্রণালীতে কোনো সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা রয়েছে। মূল কারণগুলো হলো— আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব সরাসরি যুদ্ধের রূপ না নিলেও প্রায়ই প্রক্সি সংঘাত হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের সাম্প্রতিক টাইমলাইন ধাপ ১ ইরানের তেল ডিপোতে হামলার অভিযোগ ধাপ ২ ইরানের সামরিক প্রতিশোধের ঘোষণা ধাপ ৩ ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার দাবি ধাপ ৪ আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ার অভিযোগ ধাপ ৫ হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর খবর তেলের বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন— সংঘাত বাড়লে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে গালফ অঞ্চলের শিপিং রুট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। বিশেষ করে— ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্র গালফ সহযোগিতা পরিষদ তারা উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামনে কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে— ১. সীমিত সামরিক সংঘাত চলতে পারে ২. আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে ৩. বড় আকারের আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হতে পারে   ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হাইফার জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি, আমিরাত লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া এবং হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর অভিযোগ— এই তিনটি ঘটনা একত্রে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্যও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0